সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
৯ ভাদ্র ১৪৩৩

মসজিদের সোয়া তিন কোটি টাকা তুলে নেয়ার অভিযোগ নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে

মাহবুবুর রহমান, নোয়াখালী
প্রকাশিত
মাহবুবুর রহমান, নোয়াখালী
প্রকাশিত : ৬ ডিসেম্বর, ২০২৩ ১৮:২৩

নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মামুনুর রশিদ কিরণ মসজিদের দুটি ব্যাংক হিসাব থেকে সোয়া তিন কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কিরণ দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী।
রোববার ঋণখেলাপির দায়ে নোয়াখালী-৩ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সংসদ সদস্য মামুনুর রশিদ কিরণের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছেন নোয়াখালী জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা দেওয়ান মাহবুবুর রহমান। পরে ওই দিন রাতে এমপির অনুসারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ইসলামী ব্যাংকের একটি পে-অর্ডারের ছবি দিয়ে ঋণ পরিশোধের বিষয়টি প্রচার করেন। এতে দেখা যায়, গত ২৬ নভেম্বর মামুনুর রশিদ কিরণ ইসলামী ব্যাংকের একটি পে-অর্ডারে এএসটি ভেভারেজ কোম্পানির অ্যাকাউন্টে এক কোটি ৪০ লাখ টাকা ঋণ পরিশোধ করেছেন। আবার ওই দিনই ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের মসজিদের হিসাব থেকে এক কোটি ২০ লাখ টাকা এবং ২৩ নভেম্বর সাউথইস্ট ব্যাংক থেকে দুই কোটি তোলা হয়।
জানা যায়, বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী বড় জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি পদে সংসদ সদস্য মামুনুর রশিদ কিরণ ও সাধারণ সম্পাদক পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এমপি কিরণের অনুসারী সামছুল হক দায়িত্ব পালন করছেন। চৌমুহনী বড় মসজিদ কমপ্লেক্সের নামে সাউথইস্ট ব্যাংক ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের চৌমুহনী বাজার শাখায় দুটি হিসাব রয়েছে। দৈনিক বাংলার হাতে আসা ব্যাংক দুটির হিসাব বিবরণীতে দেখা যায়, এ বছরের ২৩ নভেম্বর সংসদ সদস্য মামুনুর রশিদ কিরনের ম্যানেজার মহিউদ্দিনের মাধ্যমে সাউথইস্ট ব্যাংক থেকে দুই কোটি এবং ২৬ নভেম্বর ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক থেকে এক কোটি ২০ লাখ টাকা তোলা হয়েছে ।
নোয়াখালী জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থিতার জন্য দাখিল করা সংসদ সদস্য মামুনুর রশিদ কিরণে মনোনয়নপত্রে দেখা যায়, প্রস্তাবকারী হিসেবে ওই মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক এবং সমর্থনকারী হিসেবে এমপি কিরণের ম্যানেজার মহিউদ্দিনের নাম ও স্বাক্ষর রয়েছে।
ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের মসজিদের হিসাব বিবরণী থেকে পাওয়া একটি মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলে নম্বরটি চৌমুহনী মিতালি বেকারির মালিক ও মসজিদ কমিটির সাবেক সেক্রেটারি হাজি মোহাম্মদ খলিলুর রহমানের। মুঠোফোনে তিনি দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমি ১৫ বছর ওই মসজিদের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। মসজিদের সভাপতি, সেক্রেটারি ও কোষাধ্যক্ষের যৌথ স্বাক্ষরে ব্যাংক হিসাব পরিচালনার প্রস্তাব করলেও এমপি সাহেবের ইচ্ছায় শুধু সভাপতি ও সেক্রেটারির স্বাক্ষরে ব্যাংক হিসাব পরিচালিত হয়। আমার ৮০ বছর বয়স। তাই এ বছরের শুরুতে দায়িত্ব ছেড়ে দিই। পরে শামসুল হককে দায়িত্ব দেন এমপি সাহেব। আমি দায়িত্ব ছাড়ার সময় দুটি ব্যাংকে মসজিদের নামে অ্যাকাউন্টে আনুমানিক চার থেকে সাড়ে চার কোটি টাকা ছিল। এখন ব্যাংক থেকে টাকা ওঠানোর বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন মুসল্লি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘মসজিদের টাকা ব্যাংকে সঞ্চয় করে রাখা হয়। টাকা উঠাতে হলে সদস্যদের প্রস্তাব ও রেজ্যুলেশনের মাধ্যমে কী কাজ করা হবে তা সুনির্দিষ্ট করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সেখানে কেউ সিগনেচার অথরিটি আছেন বিধায় পারসোনাল কাজে টাকা ওঠাবেন, এটা কোনো নিয়মের ভেতর পড়ে না- এটা নিন্দনীয়। একটি মসজিদের টাকা তছনছ করে তিনি অনৈতিক কাজ করেছেন।’
ব্যাংক থেকে টাকা ওঠানোর বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের ব্যবস্থাপক রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘চৌমুহনী বড় মসজিদের একটি অ্যাকাউন্ট এ ব্যাংকে আছে। মসজিদের সভাপতি এবং সেক্রেটারি রেগুলেশনের মাধ্যমে হিসাব পরিচালনা করেন। আদালতের অনুমতি ছাড়া আমি কোনো অ্যাকাউন্টের তথ্য দিতে পারি না। আপনিই বলেন আপনার নিজের অ্যাকাউন্টের কোনো তথ্য যদি কেউ জানতে চায়. তা আমি কি দিতে পারব?’
এ বিষয়ে জানতে সাউথইস্ট ব্যাংক চৌমুহনী শাখার ব্যবস্থাপক নুর উদ্দিন আবসার মুঠোফোনে বলেন, ‘ব্যাংক হিসাবের বিষয়ে মসজিদ কমিটি বলতে পারবে। আদালতের অনুমতি ছাড়া আমরা কোনো তথ্য দিতে পারব না।’
মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সামছুল হক মুঠোফোনে দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি আপনাকে বলব, আমি এখন ব্যস্ত আছি। মসজিদের সংস্কার কাজ চলছে। তারপর আপনি যখন জানতে চেয়েছেন আমি আপনাকে ফোন দেব। এখন রাজনৈতিক কারণে ব্যস্ত আছি।’
এমপি মামুনুর রশিদ কিরণের ম্যানেজার মহিউদ্দিনের মুঠোফোনে টাকা তুলে নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ‘এটা যারা চেক দিয়েছে তাদের জিজ্ঞেস করেন, কার নামে দিয়েছে’ বলে ফোন কেটে দেন।
এ বিষয়ে নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মামুনুর রশিদ কিরণ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘টাকাগুলো রেজ্যুলেশনের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিয়েছি। আমার বিরুদ্ধে কিছু লোক আছে যারা মসজিদে আসে না, মিটিংয়ে আসে না, মসজিদের উন্নতি চায় না। আমি তো কখনো মসজিদের ক্ষতি করিনি। যেকোনো কাজ করি নিঃস্বার্থভাবে। আমরা এস আলমের কাছে ফ্যাক্টরি বিক্রি করেছি, জানুয়ারিতে টাকা দেবে। তাদের (মসজিদ কমিটি) সঙ্গে আমার কথা হয়েছে ছয় মাস, ছয় মাস না আমরা দু-তিন মাসের মধ্যে টাকা দিয়ে দেব, আগামী মাসেই টাকা দিয়ে দেব। এগুলো আমরা হাওলাত নিয়েছি, তা পরিশোধ করে দেব,এটা এমন কী,এটা তো কোনো সমস্যা না।’
ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘একটা অনলাইন নিউজ পোর্টালে যা লিখেছে তা সঠিক নয়। আমাদেরকে এস আলম ১৫ কোটি টাকা দিয়েছে। ওখান থেকে বিভিন্ন ব্যাংকের পাওনা টাকা পে অর্ডার করে দিয়েছি।’


নির্বাচিত

যে ‘ওষুধের’ প্যাকেটেই প্রশ্ন, সেটিই ঢুকছে রোগীর প্রেসক্রিপশনে

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

চিকিৎসকের কাছে মানুষ যায় সুস্থ হওয়ার আশায়। অসুস্থ শরীর নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা আর ওষুধের ওপরই ভরসা রাখেন রোগী ও স্বজনরা। কিন্তু সেই প্রেসক্রিপশনের ওষুধ যদি হয় অনুমোদনহীন। তাহলে চিকিৎসার নিরাপত্তা কোথায়।

নওগাঁ শহরের কাজীর মোড় এলাকার হলিপ্যাথ ডিজিটাল ল্যাব নামরর বেসরকারি ডায়াগনস্টিকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের প্রেসক্রিপশনে এমন কিছু ওষুধ লেখার অভিযোগ উঠেছে, যেগুলোর বিষয়ে নওগাঁ ঔষধ প্রশাসন বলছে, এসব ওষুধে তাদের অনুমোদন নেই। এর মধ্যে রয়েছে Chole CF-3L নামের একটি পণ্য, যা প্রেসক্রিপশনে Vitamin D-3 Injection IP হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। পণ্যটির প্যাকেটের গায়ে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (MRP) ছাপানো না থেকে সাদা কাগজে হাতে লেখা রয়েছে ৪০০ টাকা।

শুধু তাই নয়, একইভাবে Cap. Zecap এবং Voligel Max নামের আরও দুটি পণ্যও প্রেসক্রিপশনে লেখার অভিযোগ রয়েছে। এসব পণ্যের গুণগত মান, বৈধতা, আমদানির উৎস এবং বাজারজাতকরণ প্রক্রিয়া নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন।

অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, চিকিৎসকের সহযোগী হিসেবে বসা মাহফুজ নামের এক ব্যক্তি রোগীদের প্রেসক্রিপশনে ওষুধ লিখে দিচ্ছেন। অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য অনুযায়ী, এসব পণ্য বাজারজাতকরণের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। ফলে চিকিৎসকের পরামর্শ, প্রেসক্রিপশন এবং ওষুধ সরবরাহ এই তিনটি বিষয়কে ঘিরে তৈরি হয়েছে স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্নও।

সরেজমিনে জানা যায়, নওগাঁ শহরের কাজীর মোড়ের হলিপ্যাথ ডায়াগনস্টিক ল্যাবে প্রতি শুক্রবার রোগী দেখেন এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এমডি (নিউরোমেডিসিন) বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মোঃ মাহবুবুর রহমান। সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান সিরাজগঞ্জের

শহীদ এম. এ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের। তিনি মূলত একজন স্নায়ুরোগ, ব্রেন, স্পাইন, স্ট্রোক, প্যারালাইসিস, মৃগী রোগ এবং মাথা ব্যথা বিশেষজ্ঞ।

সেখানে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের একটি অংশের প্রেসক্রিপশনে একই ধরনের কয়েকটি ওষুধ এবং একাধিক পরীক্ষা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বিশেষভাবে নজরে এসেছে Chole CF-3L। ওষুধটির প্যাকেটের গায়ে ভারতের একটি প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা ও ওয়েবসাইটের তথ্য রয়েছে। তবে অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে পণ্যটির বিষয়ে সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে বাংলাদেশে কোন আমদানিকারকের মাধ্যমে পণ্যটি এসেছে, তারও কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্যাকেটের গায়ে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদনসংক্রান্ত কোনো নম্বর এনওসি (অনাপত্তি পত্র বা নো অবজেকশন সার্টিফিকেট) দেখা যায়নি। বাজারমূল্যও মুদ্রিত না থেকে সাদা কাগজে হাতে লেখা।

নওগাঁ ঔষধ প্রশাসনের পরিদর্শক রিতা রায় বিষয়টি সম্পর্কে বলেন, এসব ওষুধে তাদের অনুমতি নেই। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঔষধ প্রশাসনের অনুমোদন থাকলে পণ্যের গায়ে সংশ্লিষ্ট অনুমোদনসংক্রান্ত তথ্য থাকার কথা। একই সঙ্গে কোনো পণ্যের MRP সাদা কাগজে বা হাতে লিখে দেওয়ার নিয়ম নেই।

অনুসন্ধানে আরও একটি বিষয় সামনে এসেছে। মাহফুজ নামের এক ব্যক্তি চিকিৎসকের পাশে বসে রোগীদের প্রেসক্রিপশনে ওষুধ লিখে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত বলে জানা গেছে। এবং তিনি নিজেও স্বীকার করেছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চিকিৎসক রোগী দেখে ওষুধের নাম বলে দিচ্ছেন এবং মাহফুজ তা প্রেসক্রিপশনে লিখছেন। কখনো কখনো মাহফুজ নিজেও কোনো ওষুধের নাম মনে করিয়ে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। চিকিৎসক পছন্দ করলে সেটি প্রেসক্রিপশনে যুক্ত হচ্ছে, আর পছন্দ না হলে অন্য ওষুধের নাম বলা হচ্ছে। এমন দৃশ্যেরও বর্ণনা পাওয়া গেছে।

প্রেসক্রিপশনে লেখা ওষুধগুলোর মধ্যে তার সম্পৃক্ততায় বাজারজাত হওয়া পণ্য রয়েছে কি না এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

মাহফুজের কাছে এসব ওষুধের অনুমোদন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাজারে এ ধরনের আরও অনেক পণ্য রয়েছে এবং হাজার হাজার পণ্য চলে। তিনি দাবি করেন, তারা শাহানুর নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে এসব পণ্য নেন।

Cap. Zecap প্রসঙ্গে তিনি এটিকে হারবাল পণ্য দাবি করে বলেন, তিনি প্রেসক্রিপশনে ওষুধ লিখে দেন। তবে চিকিৎসকের সিল তিনি দেন না।

এ বিষয়ে কথা বলতে শাহানুর নামের এক ব্যক্তি নিজেকে গুডলাইট কোম্পানির লোক হিসেবে পরিচয় দিয়ে ফোন করেন। তিনি বলেন, মাহফুজ কোম্পানির লোক এবং সে পণ্য সরবরাহ করতেই পারে। চিকিৎসক কোন পণ্য লিখেছেন, সে বিষয়ে চিকিৎসকের কাছেই জানতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নিজের পরিচয় সম্পর্কে শাহানুর বলেন, মাহফুজ ও তিনি প্রতিবেশী ভাই। পাশাপাশি তিনি ওষুধ কোম্পানির নওগাঁ জেলা সমিতির সেক্রেটারি বলেও জানান।

চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনে দেওয়া Chole CF-3L সেবনের পর অসুস্থ হয়ে পড়ার অভিযোগ করেছেন নওগাঁর বাসিন্দা সুনিতা রাণী। গত ১০ জুলাই ঘাড়ের ব্যথার চিকিৎসা নিতে তিনি ওই চিকিৎসকের কাছে যান। ৮০০ টাকা দিয়ে সিরিয়াল নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেন। প্রথমে তাকে এক্স-রে, সিবিসি ও ডায়াবেটিসের পরীক্ষা দেওয়া হয়। রিপোর্ট দেখানোর পর অন্যান্য ওষুধের সঙ্গে Chole CF-3L দেওয়া হয়। এক গ্লাস গরম দুধের সঙ্গে মিশিয়ে ওষুধটি খেতে বলা হয় এবং ২১ দিন পর একই নিয়মে আরও দুটি ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

সুনিতা রাণীর অভিযোগ, ওষুধটি খাওয়ার পর তার তীব্র গ্যাসের সমস্যা ও বমির উপসর্গ দেখা দেয়। তিনি বলেন, এমন অবস্থায় তিনি গলায় হাত দিয়ে বমি করার চেষ্টা করেন এবং প্রায় এক সপ্তাহ স্বাভাবিকভাবে কিছু খেতে পারেননি।

তার মেয়ে শিল্পী সরকার বলেন, বাড়ি ফেরার পর তার মাকে অস্বাভাবিক ও নার্ভাস মনে হচ্ছিল। রাতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ায় তারা ভয়ে ছিলেন এবং সারারাত ঘুমাতে পারেননি।

তবে ওই অসুস্থতার সঙ্গে নির্দিষ্ট ওষুধটির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিরপেক্ষ পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। কিন্তু রোগীর এমন অভিযোগ ওষুধটির নিরাপত্তা এবং অনুমোদনের বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাইয়ের দাবি রাখে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, কোনো ওষুধ বৈধ না অবৈধ তা দেখা তার বিষয় নয়। অনুমোদন না থাকলে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

একপর্যায়ে তিনি বলেন, অবৈধ ওষুধও আমি লিখতে পারব। প্রতিটি ওষুধেরই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রেসক্রিপশন লেখার ক্ষেত্রে মাহফুজের ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে চিকিৎসক বলেন, মাহফুজ তার সহকারী। তিনি ওষুধের নাম বলে দেন এবং মাহফুজ তা লিখে দেন।

নওগাঁ ঔষধ প্রশাসনের পরিদর্শক রিতা রায় বলেন, সংশ্লিষ্ট ওষুধগুলোতে তাদের অনুমতি নেই। অনুমোদিত ওষুধের প্যাকেটে প্রয়োজনীয় অনুমোদনসংক্রান্ত তথ্য থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, সাদা কাগজে বা হাতে লিখে কোনো পণ্যের MRP মূল্য দেওয়ার নিয়ম নেই।

নওগাঁর মানবাধিকার ও সমাজকর্মী নাইস পারভীন বলেন, একজন রোগী যখন চিকিৎসকের চেম্বারে প্রবেশ করেন, তখন তিনি চিকিৎসকের জ্ঞান, প্রেসক্রিপশন এবং ওষুধের নিরাপত্তার ওপর আস্থা রাখেন। তিনি সাধারণত জানেন না কোন ওষুধের অনুমোদন আছে, কোনটির নেই কোনটি নিবন্ধিত, কোনটি অনিবন্ধিত। কিংবা প্যাকেটে লেখা দামের সত্যতা কতটুকু। সেই অজ্ঞতার সুযোগে যদি কোনো অনুমোদনহীন পণ্য প্রেসক্রিপশনের মাধ্যমে রোগীর হাতে পৌঁছে যায়, তাহলে বিষয়টি কেবল একজন রোগীর পকেট কাটার অভিযোগে সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা-নিরাপত্তার প্রশ্নে পরিণত হয়।

তিনি বলেন, বিশেষ করে কোনো ওষুধের অনুমোদন না থাকলে তার উপাদান, মান, সংরক্ষণ, আমদানি ও উৎপাদনপ্রক্রিয়া, কার্যকারিতা এবং সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে নিয়ন্ত্রক সংস্থার যাচাই কতটা হয়েছে। সেই প্রশ্ন সামনে আসা স্বাভাবিক। একদিকে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন, অন্যদিকে চিকিৎসকের সহকারী হিসেবে বসা ব্যক্তির মাধ্যমে ওষুধ লেখা এবং একই ব্যক্তির ওই ওষুধের বাজারজাতকরণের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ। সব মিলিয়ে বিষয়টি আরও গভীর অনুসন্ধানের দাবি রাখে।

অন্যদিকে নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলাম বলেন, ঔষধ প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়া কোনো ওষুধ প্রেসক্রাইব করা উচিত নয়। নির্দিষ্টভাবে বিষয়টি জানানো হলে তদন্ত করে দেখা হবে কেন ওই ওষুধ লেখা হয়েছে। তবুও আপনি যেতে অবগত করলেন আমরা তদন্ত করে দেখবো।


নির্বাচিত

ফরিদপুর থেকে অপহরণ, টঙ্গীতে লাশ উদ্ধার

নিহত আকাশ সরদার। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের পরিত্যক্ত নালা থেকে আকাশ সরদার (২১) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল দশটার দিকে অর্ধগলিত লাশটি উদ্ধার করা হয়। আকাশ সরদার ফরিদপুর জেলার কোতোয়ালি থানার রহমত বেপারীপাড়া গ্রামের করিম সরদারের ছেলে।

পুলিশ জানায়, গত ২৭ আগস্ট চাকরি দেওয়ার কথা বলে আকাশকে ফরিদপুর থেকে ঢাকা নিয়ে আসে তার দুই বন্ধু মাজহারুল ইসলাম মিঠু ও অপু মিয়া। পরে আসামিদের যোগসাজশে ওই দিন সন্ধ্যায় আকাশের পরিবারের কাছে অপহরণের বিষয়টি জানানো হয়।

এরপর ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের হলে র‍্যাবের সহযোগিতায় আসামি মিঠুকে গ্রেফতার করা হয়। পরে আসামি মিঠুর দেওয়া তথ্য মতে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের একটি পরিত্যাক্ত নালা থেকে ভুক্তভোগী আকাশের অর্ধগলিত মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।

এবিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইয়ানুর রহমান বলেন, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে জন্য গাজীপুর মর্গে পাঠানোয় হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


নির্বাচিত

জয়পুরহাটে চাঁদা না দেওয়ায় হামলা-লুটপাট, গ্রেপ্তার ১

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জয়পুরহাট প্রতিনিধি

জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে চাঁদা না দেওয়ায় এক ব্যবসায়ীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর এবং লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ১৮ জনকে আসামি করে গত রোববার (২৩ আগস্ট) থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর বিকেলে মামলার প্রধান আসামি রাজুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ।

গত শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে আক্কেলপুর উপজেলার কৃষ্ণকোলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা দোকানের মালামাল ও বাড়ি থেকে নগদ টাকা লুট চারটি ট্র্যাক্টর, শ্যালো মেশিনসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ভাঙচুর করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই ব্যবসায়ী।

‎এ ঘটনায় রোববার (২৩ আগস্ট) আক্কেলপুর থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আল-আমিন ও আজাদের বাবা কাশেম আলী। মামলার এজাহারে নগদ ৭ লাখ টাকা লুট ও ছয় লাখ ৯০ হাজার টাকা মালামাল নষ্ট করার কথা বলা হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, আক্কেলপুর উপজেলার বুড়াপুকুর- বিষ্ণপুর গ্রামের সাগর হোসেন কয়েক মাস আগে ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকায় একটি ইজিবাইক কিনেছিলেন। গত ৯ আগস্ট রাতে তার বাড়ির তালা কেটে ইজিবাইকটি চুরি হয়। ইজিবাইকটি এখনো উদ্ধার হয়নি।

‎গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে বুড়াপুকুর এলাকায় কয়েকজন লোক চারজনকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখেন। পরে তাদের ধাওয়া করে তিনজনকে আটক করা হয়। একজন পালিয়ে যান। এসময় চাঁরদীঘি গ্রামের রাজু সেখানে গিয়ে আটক তিনজনকে রাতে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।‎ পরদিন শনিবার বুড়াপুকুর গ্রামের মসজিদের পাশে একটি ফাঁকা জায়গায় প্রকাশ্যে সালিস বসায় রাজু। এতে আটক তিন সন্দেহভাজনসহ প্রায় শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

‎এরপর রাজুর নেতৃত্বে আটক তিন ব্যক্তিকে কৃষ্ণকোলা গ্রামের ভাই-ভাই ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ ও মেশিনারিজের দোকানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বুড়াপুকুর-বিষ্ণপুর ও চাঁরদীঘি গ্রামে প্রায় তিন শতাধিক মানুষ জড়ো হন। একপর্যায়ে রাজু নেতৃত্বে লোকজন উত্তেজিত হয়ে দোকান ও পাশের বাড়িতে হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় ওয়ার্কশপে ভাঙচুর লুটপাট ও পিছনেই তাদের বাড়িতে হামলা এবং লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।

পরে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আটক তিন চোর সন্দেহভাজনকে থানায় নিয়ে যায়। তাদের ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। পরে ওই দিনই তারা জামিনে বের হয়ে আসেন।

‎ভুক্তভোগী ও মামলার বাদী ব্যবসায়ী আল-আমিন বলেন, প্রায় এক যুগ আগে তিনি ও তার ভাই আজাদ গ্রামে ওয়ার্কশপের ব্যবসা শুরু করেন। তারা সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করে আসছেন। কয়েক দিন আগে তিলেকপুর ইউনিয়নের চাঁরদীঘি গ্রামের রাজু তার লোকজন নিয়ে পিকনিকে যাওয়ার কথা বলে তাদের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা চান। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে রাজু তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন আল আমিন।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. আজাদ হোসেন বলেন, চোরাই ইজিবাইকের কেনার অভিযোগ তুলে ও গুজব ছড়িয়া আমাদের দোকান ও বাড়িতে হামলা চালানো হয়। ভাঙচুরের পাশাপাশি বাড়ি থেকে নগদ প্রায় ১০ লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার এবং দোকানের যন্ত্রাংশ মালামাল সহ প্রায় ১৪ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে। এ ঘটনায় আমি ও আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তারা যেকোনো সময় আমার ও আমার পরিবারে ক্ষতি করতে পারে।

তিনি আরও বলেন দীর্ঘদিন থেকে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি, কয়েকদিন আগে রাজু ও তার দলবল আমার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা চায়। আমি দিতে অস্বীকৃতি জানালে রাজু সহ তার দলবল এ হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটায়। আমি আর সুষ্ঠু বিচার চাই।

আক্কেলপুর থানার ওসি শাহীন রেজা বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। চোরাই ইজিবাইকের মালামাল ক্রয়-বিক্রয়ের অভিযোগ মিথ্যা গুজব ছরিয়ে প্রধান আসামি রাজু সহ তার লোকজন তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর করেছে। এ ঘটনায় রোববার বিকেলে ১৮ জনের নামে থানায় মামলা হয়েছে। এরমধ্যে প্রধান আসামি রাজুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


নির্বাচিত

সরকারি কোষাগারে ফেরত গেল ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা

ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবিতা সরকার
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার বিলডাকাতিয়াসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে গৃহীত খাল পুনঃখনন কার্যক্রমে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং স্বচ্ছতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়েছে। সঠিক তদারকি ও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে কাজের প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণ করে অব্যয়িত ১ কোটি ৩৬ লাখ ৩১ হাজার ১৯ টাকা সরকারের রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এটি প্রশাসনের সুশাসন ও জনস্বার্থ সুরক্ষার একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা দূর করতে সাহস ডোলডাঙ্গা খাল থেকে কাঠবুনিয়া বড় দোয়ানিয়া খাল হয়ে ভদ্রা নদী অভিমুখে খাল পুনঃখনন এবং সংলগ্ন আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ খাল পুনঃখনন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে প্রশাসনের সরেজমিন তদারকিতে কাজের বাস্তব চিত্র অনুযায়ী প্রাক্কলিত ব্যয়ের সম্পূর্ণ অর্থ না তুলে, কেবল সম্পন্ন কাজের প্রকৃত বিল পরিশোধ করা হয়। ফলে বেঁচে যাওয়া বড় অঙ্কের সরকারি অর্থ সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকে।

সাহস ডোলডাঙ্গা থেকে ভদ্রা নদী প্রকল্পে প্রাক্কলিত ব্যয় ১ কোটি ২৮ লাখ ৭৮ হাজার ৫৩৭ টাকা থাকলেও, কাজের সঠিক মূল্যায়ন করে ব্যয় হয় ৯০ লাখ ৫৪ হাজার ৩৬১ টাকা। ফলে অব্যয়িত ৩৭ লাখ ২৪ হাজার ১৭৬ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত যায়। অন্যদিকে কৃষ্ণনগর নিমতলা থেকে রংপুর সাড়াতলা প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ১ কোটি ৮০ লাখ ২৮ হাজার ২৩২ টাকা। এর মধ্যে প্রকৃত কাজের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ৮২ লাখ ২১ হাজার ৫৭৪ টাকা এবং অবশিষ্ট ৯৮ লাখ ৬০ হাজার ৬৫৮ টাকা নিরাপদে ফেরত দেওয়া হয়।

প্রশাসনের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করে ডুমুরিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আরিফ হোসেন জানান, প্রকল্প দুটির অব্যয়িত ১ কোটি ৩৬ লাখ ৩১ হাজার ১৯ টাকা অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবিতা সরকার ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জনস্বার্থে এবং সরকারি অর্থের অপচয় রোধে স্থানীয় প্রশাসন সবসময় এমন সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে বদ্ধপরিকর।


নির্বাচিত

নওগাঁয় ‘ব্যাড টাচ’, যুবক গ্রেপ্তার

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁ সরকারি কলেজের এক ছাত্রীকে ‘ব্যাড টাচ’ করার অভিযোগে কাজী আব্দুল্লাহ ওরফে ফুয়াদ (২২) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। পুলিশ সুপারের নির্দেশে তথ্যপ্রযুক্তি ও এআই ক্যামেরার ডাটা বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তকে শনাক্তের পর নওগাঁ ও বগুড়ার আদমদীঘি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও জব্দ করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। গ্রেপ্তার কাজী আব্দুল্লাহ ওরফে ফুয়াদ বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার শান্তাহার জনকলোনি এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ আগস্ট নওগাঁ সরকারি কলেজের মাস্টার্সের এক ছাত্রী টিউশনে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মেস থেকে বের হন। পথে এটিম মাঠের গলি দিয়ে জনৈক ইমরুল কায়েসের বাসার সামনে পৌঁছালে পেছন থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলের অজ্ঞাতনামা আরোহী তাকে যৌন হয়রানি করে দ্রুত পালিয়ে যায়।

ঘটনার কয়েকদিন পর ভুক্তভোগী ছাত্রী নওগাঁ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি জানান। পুলিশ সুপার তার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে শুনে দ্রুত অভিযুক্তকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য জেলা গোয়েন্দা শাখাকে নির্দেশ দেন।

এরপর ডিবি পুলিশের একটি দল টানা পাঁচ দিন তথ্যপ্রযুক্তি ও এআই ক্যামেরার ডাটা বিশ্লেষণ করে অভিযুক্ত যুবক ও ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি শনাক্ত করে। পরে নওগাঁ ও বগুড়ার আদমদীঘি এলাকায় অভিযান চালিয়ে শান্তাহার থেকে কাজী আব্দুল্লাহ ওরফে ফুয়াদকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘সড়কে কিংবা যেকোনো স্থানে নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের সহিংসতা বা যৌন হয়রানি জেলা পুলিশ কঠোরভাবে আইন অনুযায়ী দমন করবে। এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।’


নির্বাচিত

ডেঙ্গু রোধে মশক নিধন কার্যক্রমের উদ্বোধন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল এমপি’র নির্দেশনায় মহামারী ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও নগরবাসীর পাশে দাঁড়ানোর অংশ হিসেবে খুলনায় মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে মশক নিধন কার্যক্রমের উদ্বোধন হয়েছে।

গত রোববার (২৩ আগস্ট) বিকালে খুলনা নগরীর ২৬নং ওয়ার্ডের বিহারী কলোনী মোড় থেকে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

খুলনা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মিরাজুর রহমান মিরাজের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব ইসতিয়াক আহমেদ ইস্তির সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে মশক নিধন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও কেডিএ চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল আলম মনা।


নির্বাচিত

পর্যটন শিল্প বিকাশে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হবে: প্রতিমন্ত্রী হেলাল

ছবি: বাসস
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেছেন, পাহাড়ের পর্যটন শিল্প বিকাশে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হবে।

তিনি বলেন, পাহাড়ের প্রকৃতি ও পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এই অঞ্চলে দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা করতে হবে, যাতে পর্যটন শিল্প বিকাশের পাশাপাশি এখানকার প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য ঠিক থাকে।

তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের পর্যটন শিল্পকে আরো বেগবান করতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

গতকাল রোববার বিকেলে জেলার পর্যটন শিল্প বিকাশসহ কাপ্তাই লেকের নৈসর্গিক অপরুপ সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে শহরের রাঙ্গামাটি শিশু পার্কের ভিতরে দৃষ্টিনন্দন ওয়ার্চ টাওয়ারের উদ্বোধনকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এ সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ ছালেহ আহাম্মদ, রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য (অর্থ) সুমন বড়ুয়া, সদস্য (পরিকল্পনা) জাহিদ ইকবাল, রাঙ্গামাটি নির্বাহী প্রকৌশলী তুষিত চাকমাসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তুষিত চাকমা বাসস’কে জানান, রাঙ্গামাটির পর্যটন শিল্পকে আকর্ষণীয় করে তুলতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড রাঙ্গামাটিতে দৃষ্টি নন্দন এই ওয়ার্চ টাওয়ার প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

দৃষ্টি নন্দন এই ওয়ার্চ টাওয়ার উদ্বোধনের পর পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীসহ অন্যান্য অতিথিরা নবনির্মিত ওয়ার্চ টাওয়ারটি ঘুরে দেখেন।

দৃষ্টি নন্দন এই ওয়ার্চ টাওয়ার রাঙ্গামাটিতে ঘুরতে আসা পর্যটকদের মাঝে বিনোদনের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

ভৈরবে সাবেক পৌর কাউন্সিলরকে কুপিয়ে হত্যা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌর শহরের টিন বাজার এলাকায় দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন আল আমিন সৈকত (৪৩)। তিনি পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর এবং পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। গত রবিবার দিবাগত মধ্যরাতে এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত সৈকত স্থানীয় আড়াই ব্যাপারি বাড়ির মৃত জসিম উদ্দিনের পুত্র ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রাত ১২টার দিকে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলেন সৈকত। পথিমধ্যে তিন থেকে চারজন দুর্বৃত্ত তাঁর গতিরোধ করে অতর্কিতভাবে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে। গুরুতর জখম অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি ঘটলে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।

ঘটনার বিষয়ে নিহতের চাচাতো ভাই আরাফাত হোসেন বড় মিয়া বলেন, ‘আল আমিনের পারিবারিক দ্বন্দ্বের পাশাপাশি রাজনৈতিক শত্রুতাও থাকতে পারে। তবে কারা এবং কী কারণে তাকে হত্যা করেছে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।’ উল্লেখ্য, সৈকত ভৈরব বাজারের একজন সুপ্রতিষ্ঠিত সার ও ধান ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এবং ভৈরব চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন।

ভৈরব শহর ফাঁড়ির এসআই নুরুল হুদা জানান, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও সৈকতকে পাওয়া যায়নি। পরে তার মৃত্যুর খবর জানা গেছে। মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ ভৈরবে আনা হবে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ বর্তমানে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং আসামিদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।


নির্বাচিত

ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় এক পরিবারের ৪ জনকে হত্যা

* লাশ পড়েছিল ছাদে, সিঁড়িতে, ঘরে  * লাশের পাশে বাথরুম, গোসল, খাওয়া-দাওয়া * গ্রেপ্তার দুই যুবক, দায় স্বীকার
ছবি: হত্যাকাণ্ডের শিকার রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ১২ বছরের শিশুসন্তান প্রিয়ম চক্রবর্তী।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রংপুর প্রতিনিধি

ইয়াবা সেবনে বাধা দিতে গিয়ে প্রাণ হারালেন একই পরিবারের চারজন। রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় ঘটল এই নৃশংস ঘটনা। নিহতরা হলেন অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ১২ বছরের শিশুসন্তান প্রিয়ম চক্রবর্তী। বাড়ির ছাদে চেনা দুই তরুণকে ইয়াবা সেবন করতে দেখে ফেলে বাধা দেওয়াই ছিল এই খুনের মূল কারণ। পরিচয় প্রকাশ পাওয়ার ভয়ে ঘাতকরা পুরো পরিবারটিকে একে একে শ্বাসরোধে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের পর ঘাতকরা ওই বাড়িতেই পুরো রাত অবস্থান করে, গোসল করে, খাবার খায় এবং পুনরায় ইয়াবা সেবন করে স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায়।

রোববার (২৩ আগস্ট) এই ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তারের পর সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ ।

তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) গভীর রাতে মাছুয়াপাড়ার নবনির্মিত দোতলা বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬০) ও তার পরিবারের সদস্যরা। পাশের নির্মাণাধীন একটি ভবনের ছাদ দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে উঠে আসে দুই তরুণ—মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯)।

তারা দুজনেই স্থানীয়—একজন মাছের দোকানের কর্মী, অন্যজন স্বর্ণের কারিগর। তারা দুজনই ইয়াবা সেবনকারী। ছাদের কোণে বসে তারা যখন ইয়াবা সেবন করছিল, তখন শব্দ পেয়ে ঘুম ভেঙে যায় গণপতি চক্রবর্তীর।

ছাদে উঠে তিনি দেখতে পান চেনা দুই তরুণকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায়। তিনি এতে বাধা দেন। আর এই বাধাই তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। নিজেদের পরিচয় প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ভয়ে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। সঙ্গে থাকা গামছা দিয়ে পেঁচিয়ে ছাদেই নিঃশব্দে হত্যা করা হয় গণপতি চক্রবর্তীকে।

গণপতি চক্রবর্তীর গোঙানির শব্দ পেয়ে সিঁড়ি দিয়ে ছাদে ওঠার চেষ্টা করেন তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০)। ঘাতকরা তাকেও মুহূর্তের মধ্যে গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করে সিঁড়িতে ফেলে রাখে। মায়ের আকুতি শুনে ছুটে আসেন সরকারি কারমাইকেল কলেজ থেকে ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর শেষ করা মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫)।

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, আগামীকে হত্যা করতে ঘাতকদের সবচেয়ে বেশি সময় (৪-৫ মিনিট) লেগেছে। রশি ও কাপড় দিয়ে পেঁচিয়ে তার মুখ ও বুকে চাপ দেওয়া হয়, এতে তার চোয়াল ভেঙে যায়।

সবশেষে ঘরের খাটে শুয়ে ছিল ১২ বছরের শিশু আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়ম। প্রিয়ম রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিল। সে সিদ্ধার্থের ছোট ভাই অপূর্বের বন্ধু ছিল। ঘাতকদের চিনে ফেলায় শিশুটিকেও খাটের ওপর বালিশচাপা ও কাপড় পেঁচিয়ে নির্মমভাবে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। কয়েক মিনিটের ব্যবধানে পুরো পরিবারটিকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়।

সাধারণত অপরাধ করার পর অপরাধী দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু এই হত্যাকাণ্ডের পর ঘাতক মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ সেই বাসাতেই রাত কাটায়। তারা গণপতি চক্রবর্তীর বাথরুমে গিয়ে ধীরেসুস্থে গোসল করে। ডাইনিং টেবিলে রাখা শসা ও খেজুর খায়। চার লাশের মধ্যেই তারা পুনরায় ইয়াবা সেবন করে।

তদন্ত ভিন্ন খাতে ঘোরাতে ঘরের আলমারি চাবি দিয়ে খুলে ড্রয়ারের কাপড়-চোপড় তছনছ করে ছিটানো হয়, যাতে ঘটনাটিকে ডাকাতি মনে হয়। আঙুলের ছাপ (Fingerprint) ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে দুটি স্মার্টফোন ডিটারজেন্ট মেশানো পানিতে চুবিয়ে রাখা হয়। লুটে নেওয়া স্বর্ণালংকার আগুন দিয়ে পরীক্ষা করে ঘরের পাশে একটি পরিত্যক্ত জায়গায় মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়। পরদিন শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজের সময় রাস্তা ফাঁকা হলে তারা শান্তভাবে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতের পর থেকে পরিবারটির সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে শনিবার রাতে স্বজনরা পুলিশ নিয়ে গিয়ে তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। সেখান থেকে পচা ও ঝলসানো অবস্থায় চারটি লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত প্রীতিলতার ছোট বোন পূজা চক্রবর্তী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ভগ্নিপতি খুব ভালো ও শান্ত মানুষ ছিলেন। অনেক কষ্ট করে এই বাড়িটা বানিয়েছিলেন। তাদের সবাইকে এভাবে মেরে ফেলল! একটা পুরো পরিবারকে এভাবে শেষ করে দিল? আমরা কার কাছে নিরাপত্তা চাইব?

গণপতি চক্রবর্তীর অসুস্থ বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী আক্ষেপ করে বলেন, আমার ভাইয়ের পুরো পরিবারটাই শেষ। এই বংশে আর কেউ বেঁচে রইল না।

পাশের ভবনের বাসিন্দা ও প্রতিবেশীরা জানান, গণপতি চক্রবর্তী অত্যন্ত বিনয়ী মানুষ ছিলেন। কারো সঙ্গে তাদের কোনো বিরোধ ছিল না। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে মানববন্ধনে ঘাতকদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।

পুলিশের তৎপরতা ও আইনগত পদক্ষেপ: ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ ও সিআইডি যৌথ অভিযান চালিয়ে মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করে।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজনই ইয়াবা সেবনের কথা এবং তার জের ধরে চারজনকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। তাদের দেখিয়ে দেওয়া স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে খোয়া যাওয়া স্বর্ণালংকার। কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়েছে এবং দ্রুততম সময়ে আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হবে।

পুলিশ আরও জানায়, এই দুই তরুণকে ইয়াবা সরবরাহকারী খুশি ওরফে প্রশান্ত নামে অপর এক মাদক কারবারির নাম পাওয়া গেছে, তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

রংপুরের এই নির্মম হত্যাকাণ্ডটি দেশের আইনশৃঙ্খলা ও মাদকের সহজলভ্যতা নিয়ে মারাত্মক কিছু প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে। পাড়া-মহল্লায় মাদকের বিস্তার: আবাসিক এলাকার ভেতরে নির্মাণাধীন ভবনের ছাদে উঠে গিয়ে ইয়াবা সেবনের মতো পরিবেশ তৈরি হওয়া প্রমাণ করে এলাকায় মাদকের বিস্তার কতটা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

মানসিক বিকৃতি ও চরম সহিংসতা: ইয়াবা সেবনের ফলে সেবনকারীর মধ্যে স্বাভাবিক বিবেক-বিবেচনা বা ভয় কাজ করে না। সামান্য পরিচয় গোপন করার ভয়ে একটি অবোধ শিশুসহ চারজনকে হত্যা করা এবং খুনের পর একই বাড়িতে অবস্থান করা চরম মানসিক বিকৃতির পরিচয় দেয়।

নিরাপত্তাহীনতা: নিজ গৃহের অভ্যন্তরেও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার অভাব ফুটে উঠেছে এই ঘটনায়।

একসময়ের শান্ত ও নিরপরাধ শিক্ষক পরিবারের এই পরিণতি কেবল একটি অপরাধের খবর নয়, এটি ইয়াবার ছোবলে সমাজ কতটা ঝুঁকির মুখে পড়েছে—তারই এক স্পষ্ট প্রমাণ।


নির্বাচিত

এডমিরাল পদে পদোন্নতি পেলেন নৌবাহিনী প্রধান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান রোববার (২৩ আগস্ট) বিমান বাহিনী সদরদপ্তরে নৌবাহিনী প্রধানকে এডমিরাল র‍্যাংক পরিয়ে দেন। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

এডমিরাল পদে পদোন্নতি লাভ করেছেন নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম। রোববার (২৩ আগস্ট) বিমান বাহিনী সদরদপ্তরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান নৌবাহিনী প্রধানকে এডমিরাল র‍্যাংক পরিয়ে দেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী নৌবাহিনী প্রধানকে অভিনন্দন জানান। র‍্যাংক ব্যাজ পরিধানকালে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফ উদ্দিনসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম গত ২৩ জুলাই নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম ১৯৮৭ সালের ১লা জানুয়ারি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগদান করেন। তিনি রয়্যাল মালয়েশিয়ান নৌবাহিনী হতে বিশেষ কৃতিত্বের সঙ্গে নৌপ্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার পর ১ জুলাই ১৯৮৯ সালে এক্সিকিউটিভ ব্রাঞ্চে কমিশন লাভ করেন। তিনি তার ব্যাচে (৮৭-এ) জ্যেষ্ঠতা ও মেধায় প্রথম স্থান অধিকার করেন।

এডমিরাল আজীম বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) থেকে মেরিটাইম গভর্ন্যান্স বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়াও, তিনি এমফিল ডিগ্রির পাশাপাশি স্ট্র্যাটেজিক, ডিফেন্স এবং অপারেশনাল স্টাডিজ বিষয়ে দেশ ও বিদেশ হতে প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রথম শ্রেণিসহ তিনটি মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।


নির্বাচিত

ভবন নয়, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করুন: ডেপুটি স্পিকার

সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নেত্রকোণা প্রতিনিধি

নেত্রকোণার দুর্গাপুরে বৃত্তিপ্রাপ্ত ও এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। এ সময় শিক্ষার্থীদের জন্য শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে বিরিশিরি কালচারাল একাডেমির মিলনায়তনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে এবতেদায়ি ৫ম শ্রেণি, ৮ম শ্রেণি সমমান জুনিয়র বৃত্তিপ্রাপ্ত এবং এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘শিক্ষার মানোন্নয়নে শুধু নতুন ভবন নির্মাণ করলেই হবে না; শিক্ষার্থীরা যাতে প্রকৃত অর্থে মানসম্মত শিক্ষা পায়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।’

শিক্ষকদের আরও দায়িত্বশীল ও আন্তরিকভাবে পাঠদান করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশে প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন।

দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহমেদ সাদাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুনমুন জাহান লিজা, দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার সাকের আহমেদ এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহিরুল আলম ভূঁইয়া।

অনুষ্ঠানে এবতেদায়ি ৫ম শ্রেণি ও ৮ম শ্রেণি সমমান জুনিয়র বৃত্তিপ্রাপ্ত এবং এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী মোট ৭৬ জন শিক্ষার্থীকে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য সংবর্ধনা দেয়া হয়।

এ সময় বক্তারা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জনের পাশাপাশি দেশ ও সমাজের কল্যাণে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান।


নির্বাচিত

পাঁচ ধাপে হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: ড. মঈন খান

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জনগণের অভিপ্রায় অনুযায়ী স্থানীয় সরকার নির্বাচন ৫ ধাপে সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই নির্বাচন সম্পন্ন হবে বলে জানান তিনি।

রোববার (২৩ আগস্ট) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।

ড. মঈন খান বলেন, বিগত সরকার ঠিকমতো নির্বাচন দেয়নি। বিএনপি সরকার প্রতিটি স্তরে সঠিকভাবে নির্বাচন দেবে। আওয়ামী লীগ সরকার ধনিকশ্রেণির সেবা করেছে, কিন্তু বিএনপি সরকার বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তুলবে।

রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তনের আভাস দিয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী উল্লেখ বলেন, বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না, বরং আইনের নীতি ও সুশাসনে বিশ্বাসী। দেশে সত্যিকার অর্থে একটি টেকসই গণতান্ত্রিক পদ্ধতি ফিরিয়ে আনাই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

বিগত ১৭ বছরের অব্যবস্থাপনায় দেশের দরিদ্র মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দরিদ্র মানুষের উন্নয়নে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনে প্রতিমন্ত্রী ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সহযোগিতা নিয়ে জনগণের সেবা নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন মন্ত্রী। একই সঙ্গে এ কাজে গণমাধ্যমের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

এর আগে সকালে মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি সভায় অংশ নেন নবনিযুক্ত মন্ত্রী। সভায় মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও জনবান্ধব করার বিষয়ে কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।


নির্বাচিত

সাড়ে চার হাজার গাছ কাটার ঘটনা তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন

* সুনামগঞ্জ-সাচনা সড়কের গাছ কাটার বিষয়ে তদন্ত করবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তাপস শীলসহ ৩ জন
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জাহাঙ্গীর আলম, সুনামগঞ্জ

সুনামগঞ্জ-সাচনা সড়কের ১৯ কিলোমিটার এলাকায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জায়গায় থাকা প্রায় সাড়ে চার হাজার গাছ কাটার ঘটনায় ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সাথে সাচনা বাজার এলাকায় সব ধরনের গাছ কাটা স্থগিত ঘোষণা করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান।

জেলা প্রশাসক বলেন, এই সড়কে গাছ কাটার বিষয়ে এ সংক্রান্ত জেলা কমিটির সভায় কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে জেলা প্রশাসক গণমাধ্যমকর্মীদের এই বিষয়ে অবহিত করেন। এ ছাড়া গাছ কাটার বিষয়টি কোন প্রক্রিয়ায় হয়েছে, কী ধরনের গাছ কাটা হয়েছে এসব বিষয় যাচাইয়ের জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তাপস শীলকে আহ্বায়ক এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালককে সদস্য করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

সুনামগঞ্জ- সাচনা বাজার সড়কে গাছ কর্তন নিয়ে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হলে বন বিভাগ, সওজ এবং পরিবেশ আন্দোলনের প্রতিনিধিদের নিয়ে রোববার (২৩ আগস্ট) বৈঠক ও ভিডিও কনফারেন্স করা হয়। সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী এ সময় স্পষ্ট করেছেন, যে সেখানে সড়ক প্রশস্তকরণের কোনো প্রকল্প বা নির্দেশনা তাদের নেই। ফলে গাছ কাটার বিষয়টি স্থগিত রাখা হয়েছে এবং কেন অনুমতি ছাড়া গাছ কাটার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটিকে দ্রুত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, সুনামগঞ্জ- সাচনা বাজার সড়কে গাছ কাটা নিয়ে যে আলোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল, সে বিষয়ে জানার পর আমরা অবিলম্বে বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করি এবং তাদের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আসার আহ্বান জানাই।

সকালে আমার কার্যালয়ে এ বিষয়ে একটি যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাধারণ), পরিবেশ আন্দোলনের সভাপতি এবং বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে আমরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিস্তারিত পর্যালোচনা করি এবং সওজের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে জানতে চাই যে সাচনা বাজারের ওই গাছগুলো কর্তনের সাথে সড়ক প্রশস্তকরণের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না।

উত্তরে তিনি সকলের সামনে স্পষ্টভাবে জানান, ওই এলাকায় সওজের এই ধরনের কোনো সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প বা পরিকল্পনা নেই। যেহেতু সওজের কোনো প্রকল্প নেই, তাই সেখানে সড়ক প্রশস্ত করার অজুহাতে গাছ কাটার কোনো অবকাশই থাকতে পারে না। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর আমরা অবিলম্বে বন কর্মকর্তাকে সাচনা বাজারে সব ধরনের গাছ কাটা স্থগিত ও বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, জেলা কমিটি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে একটি সভা করেছিল এবং সেই সভার কার্যবিবরণীর সূত্র ধরেই গাছ কাটার বিষয়টি সূচিত হয়েছিল। তবে সাচনা বাজারের অংশটি কাটার ব্যাপারে জেলা কমিটির কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না, যা আমরা কার্যবিবরণী পর্যালোচনা করেই নিশ্চিত হয়েছি। এমনকি সওজ কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে কোনো সুপারিশের কথা অস্বীকার করেছে এবং বন বিভাগও কোনো বৈধ প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি।

তাই এই অসংগতিপূর্ণ ও অননুমোদিত গাছ কাটার কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রাখার পাশাপাশি-কারা, কোন উদ্দেশে এবং কেন জেলা কমিটির সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে গাছ কাটতে গিয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গঠিত তদন্ত কমিটি খুব দ্রুত ঘটনার মূল কারণ উদঘাটন করে জেলা প্রশাসনের কাছে তাদের প্রতিবেদন দাখিল করবে।

বিকেলে জেলা বন কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন বলেন, জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মহোদায় মৌখিক বা লিখিত কোনো আদেশ দিলে আমরা সেটি মানতে হবে। তিনি গাছ কাটা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন, আমরা সেটিই প্রতিপালন করব।

২০০৪ সালে সামাজিক বনায়নের আওতায় এই সড়কে প্রায় ২০ হাজার গাছ লাগানো হয়। পরিবেশকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ছায়াবৃক্ষগুলো পরিবেশ ও মানুষের জীবন রক্ষায় জরুরি। গত শনিবার ‘হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন’-এর ব্যানারে বৃক্ষ হত্যা বন্ধের দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ কর্মসূচি পালনকালে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল।


নির্বাচিত

banner close