নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মামুনুর রশিদ কিরণ মসজিদের দুটি ব্যাংক হিসাব থেকে সোয়া তিন কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কিরণ দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী।
রোববার ঋণখেলাপির দায়ে নোয়াখালী-৩ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সংসদ সদস্য মামুনুর রশিদ কিরণের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছেন নোয়াখালী জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা দেওয়ান মাহবুবুর রহমান। পরে ওই দিন রাতে এমপির অনুসারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ইসলামী ব্যাংকের একটি পে-অর্ডারের ছবি দিয়ে ঋণ পরিশোধের বিষয়টি প্রচার করেন। এতে দেখা যায়, গত ২৬ নভেম্বর মামুনুর রশিদ কিরণ ইসলামী ব্যাংকের একটি পে-অর্ডারে এএসটি ভেভারেজ কোম্পানির অ্যাকাউন্টে এক কোটি ৪০ লাখ টাকা ঋণ পরিশোধ করেছেন। আবার ওই দিনই ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের মসজিদের হিসাব থেকে এক কোটি ২০ লাখ টাকা এবং ২৩ নভেম্বর সাউথইস্ট ব্যাংক থেকে দুই কোটি তোলা হয়।
জানা যায়, বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী বড় জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি পদে সংসদ সদস্য মামুনুর রশিদ কিরণ ও সাধারণ সম্পাদক পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এমপি কিরণের অনুসারী সামছুল হক দায়িত্ব পালন করছেন। চৌমুহনী বড় মসজিদ কমপ্লেক্সের নামে সাউথইস্ট ব্যাংক ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের চৌমুহনী বাজার শাখায় দুটি হিসাব রয়েছে। দৈনিক বাংলার হাতে আসা ব্যাংক দুটির হিসাব বিবরণীতে দেখা যায়, এ বছরের ২৩ নভেম্বর সংসদ সদস্য মামুনুর রশিদ কিরনের ম্যানেজার মহিউদ্দিনের মাধ্যমে সাউথইস্ট ব্যাংক থেকে দুই কোটি এবং ২৬ নভেম্বর ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক থেকে এক কোটি ২০ লাখ টাকা তোলা হয়েছে ।
নোয়াখালী জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থিতার জন্য দাখিল করা সংসদ সদস্য মামুনুর রশিদ কিরণে মনোনয়নপত্রে দেখা যায়, প্রস্তাবকারী হিসেবে ওই মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক এবং সমর্থনকারী হিসেবে এমপি কিরণের ম্যানেজার মহিউদ্দিনের নাম ও স্বাক্ষর রয়েছে।
ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের মসজিদের হিসাব বিবরণী থেকে পাওয়া একটি মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলে নম্বরটি চৌমুহনী মিতালি বেকারির মালিক ও মসজিদ কমিটির সাবেক সেক্রেটারি হাজি মোহাম্মদ খলিলুর রহমানের। মুঠোফোনে তিনি দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমি ১৫ বছর ওই মসজিদের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। মসজিদের সভাপতি, সেক্রেটারি ও কোষাধ্যক্ষের যৌথ স্বাক্ষরে ব্যাংক হিসাব পরিচালনার প্রস্তাব করলেও এমপি সাহেবের ইচ্ছায় শুধু সভাপতি ও সেক্রেটারির স্বাক্ষরে ব্যাংক হিসাব পরিচালিত হয়। আমার ৮০ বছর বয়স। তাই এ বছরের শুরুতে দায়িত্ব ছেড়ে দিই। পরে শামসুল হককে দায়িত্ব দেন এমপি সাহেব। আমি দায়িত্ব ছাড়ার সময় দুটি ব্যাংকে মসজিদের নামে অ্যাকাউন্টে আনুমানিক চার থেকে সাড়ে চার কোটি টাকা ছিল। এখন ব্যাংক থেকে টাকা ওঠানোর বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন মুসল্লি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘মসজিদের টাকা ব্যাংকে সঞ্চয় করে রাখা হয়। টাকা উঠাতে হলে সদস্যদের প্রস্তাব ও রেজ্যুলেশনের মাধ্যমে কী কাজ করা হবে তা সুনির্দিষ্ট করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সেখানে কেউ সিগনেচার অথরিটি আছেন বিধায় পারসোনাল কাজে টাকা ওঠাবেন, এটা কোনো নিয়মের ভেতর পড়ে না- এটা নিন্দনীয়। একটি মসজিদের টাকা তছনছ করে তিনি অনৈতিক কাজ করেছেন।’
ব্যাংক থেকে টাকা ওঠানোর বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের ব্যবস্থাপক রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘চৌমুহনী বড় মসজিদের একটি অ্যাকাউন্ট এ ব্যাংকে আছে। মসজিদের সভাপতি এবং সেক্রেটারি রেগুলেশনের মাধ্যমে হিসাব পরিচালনা করেন। আদালতের অনুমতি ছাড়া আমি কোনো অ্যাকাউন্টের তথ্য দিতে পারি না। আপনিই বলেন আপনার নিজের অ্যাকাউন্টের কোনো তথ্য যদি কেউ জানতে চায়. তা আমি কি দিতে পারব?’
এ বিষয়ে জানতে সাউথইস্ট ব্যাংক চৌমুহনী শাখার ব্যবস্থাপক নুর উদ্দিন আবসার মুঠোফোনে বলেন, ‘ব্যাংক হিসাবের বিষয়ে মসজিদ কমিটি বলতে পারবে। আদালতের অনুমতি ছাড়া আমরা কোনো তথ্য দিতে পারব না।’
মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সামছুল হক মুঠোফোনে দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি আপনাকে বলব, আমি এখন ব্যস্ত আছি। মসজিদের সংস্কার কাজ চলছে। তারপর আপনি যখন জানতে চেয়েছেন আমি আপনাকে ফোন দেব। এখন রাজনৈতিক কারণে ব্যস্ত আছি।’
এমপি মামুনুর রশিদ কিরণের ম্যানেজার মহিউদ্দিনের মুঠোফোনে টাকা তুলে নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ‘এটা যারা চেক দিয়েছে তাদের জিজ্ঞেস করেন, কার নামে দিয়েছে’ বলে ফোন কেটে দেন।
এ বিষয়ে নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মামুনুর রশিদ কিরণ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘টাকাগুলো রেজ্যুলেশনের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিয়েছি। আমার বিরুদ্ধে কিছু লোক আছে যারা মসজিদে আসে না, মিটিংয়ে আসে না, মসজিদের উন্নতি চায় না। আমি তো কখনো মসজিদের ক্ষতি করিনি। যেকোনো কাজ করি নিঃস্বার্থভাবে। আমরা এস আলমের কাছে ফ্যাক্টরি বিক্রি করেছি, জানুয়ারিতে টাকা দেবে। তাদের (মসজিদ কমিটি) সঙ্গে আমার কথা হয়েছে ছয় মাস, ছয় মাস না আমরা দু-তিন মাসের মধ্যে টাকা দিয়ে দেব, আগামী মাসেই টাকা দিয়ে দেব। এগুলো আমরা হাওলাত নিয়েছি, তা পরিশোধ করে দেব,এটা এমন কী,এটা তো কোনো সমস্যা না।’
ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘একটা অনলাইন নিউজ পোর্টালে যা লিখেছে তা সঠিক নয়। আমাদেরকে এস আলম ১৫ কোটি টাকা দিয়েছে। ওখান থেকে বিভিন্ন ব্যাংকের পাওনা টাকা পে অর্ডার করে দিয়েছি।’
শেরপুর সদর থেকে গাজীরখামার হয়ে নালিতাবাড়ী উপজেলার সংযোগ সড়কটির বেহাল অবস্থায় ভোগান্তিতে পড়েছেন লাখো মানুষ। প্রধান সড়কের তুলনায় প্রায় ১০ কিলোমিটার কম হওয়ায় সময় ও জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য প্রতিদিন হাজারো যানবাহন এই পথ ব্যবহার করলেও দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শেরপুর-নালিতাবাড়ী প্রধান সড়ক দিয়ে যেতে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হয়। বিপরীতে শেখহাটি ও গাজীরখামার হয়ে দূরত্ব মাত্র ২০ কিলোমিটার। এ কারণে যাত্রীবাহী বাস, সিএনজিচালিত ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল এবং পণ্যবাহী যানবাহনের বড় অংশ এই সড়ক ব্যবহার করে।
তবে সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে বড় বড় গর্ত ও গভীর খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। সাম্প্রতিক পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিতে সড়কের ক্ষতি বেড়েছে জ্যামিতিক হারে। ফলে ছোট-বড় দুর্ঘটনার পাশাপাশি গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া।
স্থানীয় বাসিন্দা হাফিজুর রহমান বলেন, শেখহাটি বাজার, চৈতনখিলা বটতলা বাজার ও গাজীরখামার বাজার এলাকায় সড়কের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। অনেক জায়গায় কার্পেটিং উঠে ইট ও খোয়া বের হয়ে এসেছে।
পরিবহনচালক রহিম মিয়া ও জুয়েল মিয়ার ভাষ্য, আগে শেরপুর থেকে নালিতাবাড়ী যেতে ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট লাগলেও এখন প্রায় এক ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় লাগছে। প্রতিদিন যানবাহনের চাকা, সাসপেনশনসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ায় পরিচালনা ব্যয়ও বেড়ে গেছে।
স্থানীয় দোকানদার জুয়েল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। দ্রুত সড়কটি সংস্কার না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে শেরপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খন্দকার মাহমুদুল আশরাফ বলেন, ‘রুরাল কানেক্টিভিটি ইমপ্রুভমেন্ট’ নামে একটি বড় প্রকল্প চালু হলে সড়কটি সেখানে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সরকারি অর্থায়নেও সড়কটির সংস্কারের জন্য প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
নেত্রকোনা সদর উপজেলায় এক স্কুলছাত্রীকে (১৪) ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার প্রধান আসামি কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়াকে (৩৩) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার মহিষারন-অচিন্ত্যপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুপুরে র্যাব-১৪ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৪ সদর কোম্পানির একটি দল অভিযান চালিয়ে পলাতক আসামি রিপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে। পরে তাকে নেত্রকোনা মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রিপন বিভিন্ন সময় ভিডিও তৈরির অজুহাতে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করতেন। তিনি গত ৩০ জুলাই রাত ৮টার দিকে ছাত্রীটির বাড়িতে গিয়ে জরুরি কথা আছে বলে ডেকে মগড়া নদীর উত্তর পাড়ে নিয়ে যান এবং সেখানে ধর্ষণ করেন। ওই ঘটনা জানাজানি হলে গত সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে স্থানীয় একটি বাজারে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সালিশ বসে। সেখানে রিপন মিয়াকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা ও গ্রামছাড়া করার সিদ্ধান্ত হয়। জরিমানার অর্থ পরিশোধ ও গ্রাম ছাড়তে তাকে এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়। সালিশের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনায় আসে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে গত মঙ্গলবার রাতে নেত্রকোনা মডেল থানায় একটি মামলা করেন।
সালিশের কয়েকটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ৩০ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযোগ স্বীকার করে উপস্থিত সবার কাছে ক্ষমা চাইছেন রিপন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘ভুল করলেও করছি, না করলেও করছি। আমি, আফনেরার লগে থাহন লাগবো...! ভুল তো মানুষ করেই, আমি একটা ভুল কইরাইলছি।’
এ বিষয়ে নেত্রকোনা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃত রিপন মিয়াকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।’
প্রসঙ্গত, রিপন মিয়ার বাড়ি নেত্রকোনা সদর উপজেলার একটি গ্রামে। পেশায় তিনি কাঠমিস্ত্রি। ২০১৬ সাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও তৈরি করে পরিচিতি পান। ২০১৯ সালে খোলা তার ফেসবুক পেজে বর্তমানে প্রায় ১৯ লাখ অনুসারী রয়েছে।
টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কের বাঐখোলা এলাকায় অসহায় এক পথশিশুকে উদ্ধার করেছে বাসাইল থানা পুলিশ। পরে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শিশুটিকে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার মাধ্যমে নিরাপদ হেফাজতে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বাসাইল থানা পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাসাইল থানাধীন ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কের বাঐখোলা এলাকায় প্রায় ৯ বছর বয়সি এক পথশিশুকে একা ঘোরাফেরা করতে দেখে পুলিশের একটি টহল দল তাকে উদ্ধার করে। শিশুটি তার নাম মাসুদ বলে জানালেও তার বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজন কিংবা কোনো পরিচিত ব্যক্তির নাম-ঠিকানা বা মোবাইল নম্বর জানাতে পারেনি।
পুলিশের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলে শিশুটি জানায়, প্রায় পাঁচ-ছয় বছর আগে একটি সড়ক দুর্ঘটনার পর সাব্বির নামে এক ব্যক্তি তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে প্রায় দুই বছর থাকার পর তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর দীর্ঘদিন বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ানোর পর ঢাকার আব্দুল্লাহপুর বা টঙ্গীর কোনো এক এলাকায় রাস্তার পাশের একটি খাবার হোটেলে তার আশ্রয় হয়।
শিশুটির ভাষ্য অনুযায়ী, মহিবুল্লাহ নামে ওই হোটেলের মালিক তাকে সপ্তাহে ২০০ টাকা বেতনে কাজ দেন। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার বিকালে কাজ করার সময় তার হাত থেকে একটি কাঁচের প্লেট পড়ে ভেঙে গেলে ক্ষিপ্ত হয়ে হোটেল মালিক তাকে মারধর করেন এবং হোটেল থেকে বের করে দেন।
অসহায় মাসুদ পরে টঙ্গী বাসস্ট্যান্ড থেকে টাঙ্গাইলগামী একটি বাসে উঠে ২০০ টাকা ভাড়া দিয়ে বাসাইলের বাঐখোলা এলাকায় এসে নামে। রাত সাড়ে ১১টার দিকে মহাসড়কের পাশে একা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বাসাইল থানা পুলিশের টহল দল তাকে উদ্ধার করে নিরাপদ হেফাজতে নেয়।
পরে বিষয়টি বাসাইল উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে শিশুটিকে সমাজসেবা বিভাগের নিরাপদ হেফাজতে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে, শিশুটির প্রকৃত পরিবার বা স্বজনদের খুঁজে বের করতে তার ছবি ও তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশি বেশি শেয়ার করার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর কবির।
কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে পাঠদান নিশ্চিত করতে মানবিক উদ্যোগ নিয়েছেন কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকায় পাত্রপাড়া ও গোপসেনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অস্থায়ী টিনশেড শ্রেণিকক্ষ নির্মাণে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করেছেন তিনি।
গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) উপজেলার পাত্রপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গোপসেনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের হাতে চার বান করে টিন এবং টিনশেড নির্মাণের জন্য ১২ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা তুলে দেন ইউএনও।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয় দুটির ভবনের বিভিন্ন অংশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে এলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তার নির্দেশনায় অস্থায়ী টিনশেড ঘর নির্মাণ করে সেখানে পাঠদান চালিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন বলেন, ‘শিশুদের নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা যায় না। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকির বিষয়। তাই দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে টিনশেড ঘর নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য, কোনো শিক্ষার্থীর পড়াশোনা যেন ব্যাহত না হয় এবং তারা নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। ভবিষ্যতেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ও উন্নয়নে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’
পাত্রপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আমির হোসেন বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়ের ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা সবসময় উদ্বিগ্ন ছিলাম। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত টিন ও নগদ অর্থ সহায়তা দিয়েছেন। তার এই সময়োপযোগী ও মানবিক উদ্যোগের ফলে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে পাঠদান চালিয়ে যেতে পারবে। আমরা উপজেলা প্রশাসনের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’
গোপসেনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকও উপজেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘দ্রুত সহায়তা পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান নির্বিঘ্নভাবে চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।’
এ বিষয়ে পাত্রপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি আব্দুল জলিল বলেন, ‘বিদ্যালয়টি ঝুঁকিপূর্ণ, এই সহায়তা বিদ্যালয়ের জন্য খুব জরুরি ছিল।’
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে অটোরিকশা চালকের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। মানববন্ধনে অটোরিকশা চালকের স্ত্রী, শ্বশুর ও শ্বশুরবাড়ির অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ তোলেন নিহতের স্বজনরা।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নের কাশিপুর এলাকায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে তারা অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) নিহত অটোরিকশা চালকের মা সেলিনা বেগম বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযোগে তিনি দাবি করেন, পারিবারিক কলহের জেরে তার ছেলে আবু জুম্মান সজিবকে নির্যাতন করে হত্যার পর মরদেহ ঘরে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে প্রচারের চেষ্টা করা হয়। আবু জুম্মান সজিব প্রেমের সম্পর্কের পর আফসানাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল।
এ সময় স্ত্রী আফসানা, তার বাবা নুর হোসেন এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা বিভিন্ন সময় আবু জুম্মান সজিবকে হুমকি দিতেন বলেও অভিযোগ করেছেন নিহতের মা। গত বুধবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নের কাশিপুর এলাকায় লিটন মিয়ার ভাড়াটিয়া বাসা থেকে আবু জুম্মান সজিবের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নিহত অটো চালকের চাচা নজরুল ইসলাম, মা সেলিনা বেগম, এলাকাবাসী মো. শুভ আহমেদ, লিপি আকতার, মো. নাছির উদ্দিন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্বজনরা অভিযোগ করেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তারা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে হত্যাকারীদের বিচারের দাবি জানান।
নিহতের মা সেলিনা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে আমার বিশ্বাস। এর সঙ্গে তার স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন জড়িত। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। প্রশাসনের কাছে আমার আবেদন, প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে দায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হোক। আমি আমার ছেলের হত্যার বিচার চাই।’
মানববন্ধন শেষে এক বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয় । মিছিলটি কাঁচপুর ইউনিয়নের কাশিপুর এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
পটুয়াখালীর কুয়াকাটাসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে জেলের জালে ধরা পড়েছে প্রায় ১ কেজি ৭০০ গ্রাম ওজনের একটি রূপচাঁদা মাছ। মাছটি প্রতি কেজি ২ হাজার ২৫০ টাকা দরে মোট ৩ হাজার ৮২৫ টাকায় বিক্রি হয়। গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকালে মহিপুরে মনোয়ারা ফিশ গদিতে আনার পর মাছটি দেখতে ভিড় করেন জেলে, মাছ ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা। মাছটি এফবি জারিফ-১ নামের একটি মাছধরা ট্রলারে ধরা পড়ে।
মনোয়ারা ফিশের ম্যানেজার সগির বলেন, ‘এ ধরনের বড় আকারের রূপচাঁদা মাছ সচরাচর ধরা পড়ে না। মাছটির আকার ও গুণগত মান ভালো হওয়ায় বাজারে ভালো দাম পাওয়া গেছে।’
স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী সোহাগ বলেন, ‘গভীর সমুদ্রের বড় রূপচাঁদার চাহিদা সবসময়ই বেশি। মাছটির মান ভালো হওয়ায় কিনেছি। বাজার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে আরও ভালো দাম পাওয়া যেত। মাছটি ঢাকায় পাঠানো হবে।’
ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডব্লিউসিএস (WCS) ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, ‘রূপচাঁদা উচ্চমূল্যের সামুদ্রিক মাছ। এ মাছ সাধারণত গভীর সমুদ্রে বিচরণ করে এবং সুস্থ সামুদ্রিক পরিবেশের একটি ইতিবাচক নির্দেশক হিসেবে বিবেচিত হয়। বড় আকারের রূপচাঁদা ধরা পড়া সাগরের জীববৈচিত্র্যের জন্য ইতিবাচক দিক। তবে এ মাছের টেকসই আহরণ নিশ্চিত করা জরুরি।’
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ‘বঙ্গোপসাগরের রূপচাঁদা, একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক মাছ। সঠিকভাবে মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ করা গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের মূল্যবান মাছের উৎপাদন আরও বাড়বে। এতে জেলেদের আর্থিক লাভও বাড়বে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) আবাসিক ও অনাবাসিক নারী শিক্ষার্থীদের হল ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সর্ব মিত্র চাকমা।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি নারী শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনকে ন্যায্য ও সমঅধিকারভিত্তিক উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈষম্যমূলক নীতি ও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার কড়া সমালোচনা করেন।
বিবৃতিতে সর্ব মিত্র চাকমা বলেন, মুক্তচিন্তা ও জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তার অজুহাতে নারী শিক্ষার্থীদের চলাচল সীমিত করা অত্যন্ত হতাশাজনক এবং তা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অর্থ কোনো শিক্ষার্থীর মৌলিক স্বাধীনতা সংকুচিত করা নয়; বরং এমন এক পরিবেশ গড়ে তোলা উচিত যাতে ক্যাম্পাস ২৪ ঘণ্টা সবার জন্য নিরাপদ ও অবাধ যাতায়াতের উপযোগী থাকে। শিক্ষা ও গবেষণায় নারীদের অবদান অনস্বীকার্য উল্লেখ করে তিনি জানান, এই আন্দোলন কেবল নারী শিক্ষার্থীদের নয়, বরং সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রদায়ের অধিকার ও মর্যাদার প্রশ্ন।
শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের সমর্থনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানান সর্ব মিত্র চাকমা। যার মধ্যে রয়েছে নারী শিক্ষার্থীদের প্রতি বিদ্যমান বৈষম্যমূলক নীতি ও বিধিনিষেধের দ্রুত সংস্কার করা এবং বৈধ পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে সব নারী শিক্ষার্থীর জন্য ২৪ ঘণ্টা ক্যাম্পাসে অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করা।
একই সঙ্গে নিরাপত্তার নামে শিক্ষার্থীদের অধিকার সীমিত না করে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, সিসিটিভি নজরদারি ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। সার্বিকভাবে ঢাবিকে সব শিক্ষার্থীর জন্য একটি সমান, বৈষম্যহীন ও নিরাপদ শিক্ষাঙ্গনে পরিণত করতে প্রশাসনকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়।
বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের আয়োজনে এবং গ্রামীণফোনের সহযোগিতায় সেন্ট জোসেফ্স উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে শুক্রবার (৭ আগস্ট) অনুষ্ঠিত হলো দিনব্যাপী এক বর্ণাঢ্য পুরস্কার বিতরণ উৎসব।
উৎসবে খুলনা মহানগরীর ৪৬টি স্কুলের ৩ হাজার ২৬৯ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে তাদের কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রদান করা হয়।
পুরস্কার বিতরণ উৎসবে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (প্রশাসন) ও ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি (৩য় সংশোধিত) প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মু. বিল্লাল হোসেন খান, আর্কিটেক্ট, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির সাবেক ভিসি ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের অন্যতম ট্রাস্টি অধ্যাপক মুহাম্মাদ আলী নকী, খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ) ইরুফা সুলতানা, প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ এবং বিজ্ঞান সংগঠক অধ্যাপক ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা, খুলনা অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান, গ্রামীণফোন লিমিটেড খুলনার রিজিওনাল হেড ছানোয়ার হোসেন, সেন্ট জোসেফ্স উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলফ্রেড রণজিৎ মণ্ডল এবং সাবেক সচিব ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক খোন্দকার মো. আসাদুজ্জামান।
উল্লেখ্য, দিনব্যাপী এই উৎসবে ৪৬টি স্কুলের মোট ৩ হাজার ২৬৯ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে পুরস্কার প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ৩০ স্কুলের ২২৫৭ জন শিক্ষার্থীকে সরাসরি মঞ্চ থেকে এবং ১৬টি স্কুলের পুরস্কার সংশ্লিষ্ট স্কুলের সংগঠকের হাতে প্রদান করা হয়। পুরস্কার প্রাপ্তদের ২২৫৪ জন ‘শুভেচ্ছা’, ৯২৩ জন ‘অভিনন্দন’ এবং ৯২ জন ‘সেরা পাঠক’ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার লাভ করে। পুরস্কার প্রাপ্তদের ১১৪৬ জন ছেলে ও ২১২৩ জন মেয়ে।
এই উৎসবকে কেন্দ্র করে এ বছর প্রথমবারের মতো শিক্ষার্থীদের জন্য ‘অনলাইন সেফটি ফান্ডামেন্টালস’ শীর্ষক সচেতনতামূলক অনলাইন কোর্স চালু করা হয়। এর মাধ্যমে অভিভাবক ও শিশু-কিশোররা নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও সচেতন ইন্টারনেট ব্যবহারের মৌলিক জ্ঞান লাভ করবে। অনুষ্ঠানস্থলে ‘অনলাইন সেফটি কর্নার’-এ অভিভাবক ও শিক্ষকদের জন্য শিশুদের নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার ও দায়িত্বশীল ডিজিটাল আচরণ বিষয়ে সচেতনতামূলক তথ্য প্রদান করা হয়। দিনব্যাপী উৎসবের বিশাল আয়োজন ও পুরস্কারের বই স্পন্সর করেছে গ্রামীণফোন লিমিটেড।
পিরোজপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ‘বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬’-এর শুভ উদ্বোধন এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) পিরোজপুর জেলা প্রশাসন ও সামাজিক বন বিভাগ, বাগেরহাটের যৌথ উদ্যোগে পিরোজপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির সূচনা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন পিরোজপুর জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ।
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সংরক্ষিত মহিলা আসন-৪৯-এর সংসদ সদস্য সুলতানা জেসমিন। স্বাগত বক্তব্য দেন বাগেরহাট সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. শাহীন কবির।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী বলেন, "গাছ হলো পরিবেশের সবচেয়ে বড় বন্ধু এবং মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের জন্য এক অনন্য নেয়ামত। কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ করে রন্ধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গাছ আমাদের বাঁচিয়ে রাখার প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ করে।" এ সময় তিনি গাছ লাগানোর গুরুত্ব তুলে ধরে মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, "যদি তুমি নিশ্চিতভাবে জানতে পারো যে কিয়ামত সংঘটিত হচ্ছে, অথচ তোমার হাতে একটি গাছের চারা রয়েছে, তবে কিয়ামতের আগেই সেটি রোপণ করে ফেলো।"
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য সুলতানা জেসমিন বলেন, "গ্লোবাল ওয়ার্মিং তথা বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির পরিমাণ দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। ২০৫০ সালের মধ্যে পৃথিবীর বেশ কয়েকটি দেশ পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, যার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকার মানুষ হিসেবে আমাদের প্রতিনিয়ত প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হতে হয়।"
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ বলেন, "পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সরকার পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সারা দেশে এই কর্মসূচি সুবোদঘাটন করা হয়েছে।"
তিনি আরো বলেন, "নির্বিচারে বন ও জঙ্গল কেটে উজার করার কারণেই আজ প্রকৃতি তার স্বাভাবিক ভারসাম্য হারাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অনাবৃষ্টি, খরা, জলচ্ছাস ও বজ্রপাতের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খান, সদস্য সচিব এস এম ছাইদুল ইসলাম কিসমত এবং জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা শেখ আব্দুর রাজ্জাক।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) জুলাই-৩৬ আবাসিক হলের কয়েকজন ছাত্রীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি অনুমতি ছাড়া যুক্তরাজ্যপ্রবাসী এক ব্যক্তির কাছে পাঠানোর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রীকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার, ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ এবং তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী তোবাউল জান্নাতী ঐশী সরাসরি দায় স্বীকার করে বলেছেন, তিনি নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন এবং প্রশাসন যে শাস্তিই দেবে তা মেনে নেবেন।
অন্যদিকে প্রবাসী ওই ব্যক্তির দাবি, বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে তিনি অভিযুক্ত ছাত্রীর পেছনে অর্থ ব্যয় করেছেন। তার কাছ থেকেই বিভিন্ন ছাত্রীর ছবি পেয়েছেন।
অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর ভাষ্য, সহপাঠী ও রুমমেটদের কিছু ছবি তিনি অন্য একজনের কাছে পাঠিয়েছেন, তবে তা কোনো ব্যক্তিগত আক্রোশ, মানহানি বা আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে নয়। যাকে ছবি পাঠানো হয়েছে, সেই প্রবাসী ব্যক্তির সঙ্গে তার বান্ধবীদেরও পূর্ব পরিচয় ও যোগাযোগ ছিল। বিভিন্ন সময় আলাপচারিতার অংশ হিসেবে বা নিজের অবস্থান বোঝাতে সামনে থাকা ব্যক্তিদের ছবি পাঠিয়েছেন। তখন বিষয়টি যে অনুচিত বা বেআইনি হতে পারে, তা তিনি উপলব্ধি করেননি।
তিনি আরও বলেন, ‘রুমে স্বাভাবিক অবস্থায় থাকা সহপাঠীদের ছবি পাঠানো আমার উচিত হয়নি। এটি আমার ভুল এবং এজন্য আমি দুঃখিত। আমি আমার বান্ধবীদের কাছেও ক্ষমা চেয়েছি। এখন প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নেবে, আমি তা মেনে নেব। তবে ব্যক্তিগত আক্রোশ বা কারও ক্ষতি করার অভিযোগ অতিরঞ্জিত।’
অভিযুক্ত ছাত্রীর দাবি, যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ওই ব্যক্তির সঙ্গে তার বিয়ের আলোচনা থাকলেও তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিয়েতে সম্মতি দেননি। এর জের ধরেই ওই ব্যক্তি ক্ষুব্ধ হয়ে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও বন্ধুমহলে বিরূপ পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছেন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রবাসী ব্যক্তি তাকে বিভিন্ন সময় চাপ ও হুমকি দিয়েছেন।
টাকা লেনদেনের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রবাসী ব্যক্তি তাকে কিছু উপহার দিলেও তিনি কখনো অর্থ দাবি করেননি। তার পরিবার সচ্ছল এবং বাবা-মা দুজনেই শিক্ষক ও চাকরিজীবী বলে তিনি উল্লেখ করেন। অভিযুক্ত ছাত্রীর ভাষ্য, ‘আমার কোনো কিছুর অভাব নেই। আমি কারও কাছ থেকে অর্থ দাবি করিনি।’
এদিকে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলে প্রবাসী ওই ব্যক্তি জানান, বিয়ের আশ্বাসে তিনি অভিযুক্ত ছাত্রীর জন্য অর্থ ব্যয় করেছেন এবং এর কিছু লেনদেনের তথ্যও সংরক্ষিত রয়েছে। তার দাবি, বিভিন্ন ছাত্রীর ছবি তিনি চেয়ে নেননি; অভিযুক্ত ছাত্রী নিজ উদ্যোগেই সেসব ছবি পাঠাতেন। এমনকি তার আত্মীয়-স্বজনের ছবিও পাঠানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সম্প্রতি অভিযুক্ত ছাত্রীর সঙ্গে ওই প্রবাসী ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পর্কের অবনতি হলে তিনি কিছু ছবি সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগী ছাত্রীর কাছে পাঠিয়ে দেন। বিষয়টি জানাজানি হলে জুলাই-৩৬ আবাসিক হলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। পরে হল প্রশাসন ও প্রক্টরিয়াল বডি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জরুরি বৈঠক করে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে গঠন করা কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন অধ্যাপক ড. আরিফা আক্তার। অন্যরা হলেন সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. খাইরুল ইসলাম (সদস্য) এবং অধ্যাপক ড. মুহা. কামরুজ্জামান (সদস্যসচিব)।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত নিজেও কিছুটা স্বীকার করেছেন। তাই তাকে প্রাথমিকভাবে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। একইসঙ্গে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।’
এদিকে একাধিক সূত্র দাবি করেছে, ঐশী ওই প্রবাসী প্রেমিকের কাছ থেকে বিয়ে ও অন্যান্য প্রলোভনে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গেও সম্পর্কে জড়িত ছিলেন। সম্পর্কের এই অম্লমধুর টানাপোড়েন থেকেই প্রবাসী প্রেমিক ছবিগুলো ফাঁস করে দেন।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আরিফা আক্তার জানান, গঠিত তদন্ত কমিটির উপস্থিতিতে অভিযুক্তের দুটি মোবাইল ফোন হস্তান্তরিত হয়েছে। দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
‘জুলাই-৩৬’ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. শামছুল হক ছিদ্দিকী বলেন, “মধ্যরাতে অভিযোগ পেয়েই বিষয়টি মাননীয় উপাচার্যকে জানানো হয়। প্রাপ্ত প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে ওই শিক্ষার্থীকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে এবং আগামী রোববার পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ দেওয়ার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যার ভিত্তিতে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, সংশ্লিষ্ট ঘটনায় তিন সদস্যের কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে অধ্যাপক ড. আরিফা আক্তার, সদস্য হিসেবে সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহা. খাইরুল ইসলাম ও সদস্য সচিব হিসেবে অধ্যাপক ড. মুহা. কামরুজ্জামানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
দেশের গৌরবোজ্জ্বল চা শিল্পে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে ন্যাশনাল টি কোম্পানি লিমিটেড (এনটিসি)। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম চা নিলাম বাজারে নিজেদের অতীতের সব রেকর্ড চূর্ণ করে এক অনন্য ইতিহাস সৃষ্টি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ১২টি চা বাগানের উন্নতমানের চায়ের অভাবনীয় চাহিদা ও চড়া দাম অর্জনের মধ্য দিয়ে এই জয়যাত্রা নিবন্ধিত হলো।
গত সোমবার (৩ আগস্ট) অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম চা নিলামে এনটিসির ১ লাখ ৫১ হাজার ৫৬০ কেজি চা বিক্রি হয়। যেখানে প্রতি কেজি চায়ের গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে ২৮৬ টাকা ৫৯ পয়সা। সরকার নির্ধারিত ২৪৫ টাকার ফ্লোর প্রাইসের চেয়ে যা কেজিপ্রতি ৪১ টাকা ৫৯ পয়সা বেশি। এত বিপুল পরিমাণ চা এর আগে কখনও এত উচ্চ গড় মূল্যে বিক্রি হয়নি, যা কোম্পানির বাণিজ্যিক ইতিহাসে এক সোনালি অধ্যায়ের সূচনা করল। এই নিলামের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক ছিল সুষম গুণগত মান।
এনটিসির আওতাধীন ১২টি চা বাগানের প্রতিটি থেকেই সংগৃহীত চায়ের গড় বিক্রয়মূল্য কেজিপ্রতি ২৮০ টাকার কোটা অতিক্রম করেছে। একটি একক নিলামে একই সাথে সবকটি বাগানের এমন ঈর্ষণীয় অর্জনের নজির দেশে ইতোপূর্বে দেখা যায়নি। এই একক নিলাম থেকেই কোম্পানির পকেটে এসেছে ৪ কোটি ৪৭ লাখ ৭৩ হাজার ৭২২ টাকা।
শুধু নিলামেই নয়, মাঠপর্যায়ের উৎপাদনেও বইছে সাফল্যের বাতাস। চলতি বছরের ৩১ জুলাই পর্যন্ত গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এনটিসির মোট চা উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ। আধুনিক ও সুসংহত ব্যবস্থাপনা, সঠিক ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের ফলেই এই উল্লম্ফন সম্ভব হয়েছে।
প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, কাঁচা পাতা সংগ্রহের সময় ‘দুটি পাতা ও একটি কুঁড়ি’ নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি কারখানায় নিবিড় তদারকি ও আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণের ফলে উৎপাদিত চায়ের লিকারের গাঢ়ত্ব, চোখধাঁধানো রং, সুবাস ও স্বাদে এসেছে অসাধারণ বৈচিত্র্য—যা নিলামে ক্রেতাদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
এই অনন্য অর্জন প্রসঙ্গে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কোম্পানির সচিব এ. কে. আজাদ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল চায়ের আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করা। চা-প্রেমী ও ক্রেতাদের এই অভূতপূর্ব আস্থা আমাদের দায়বদ্ধতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ভবিষ্যতেও চায়ের গুণগত উৎকর্ষ বজায় রেখে দেশের চা শিল্পকে বিশ্ব দরবারে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে ন্যাশনাল টি কোম্পানি নিরলস কাজ করে যাবে।’
শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, ন্যাশনাল টি কোম্পানির এই অভূতপূর্ব সাফল্য স্থবিরতায় ভোগা চা খাতের জন্য এক নতুন আশার আলো। উৎপাদন বৃদ্ধি, গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ এবং পেশাদার ব্যবস্থাপনার এই সুষম সমন্বয় বাংলাদেশের চা শিল্পকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় অনেক দূর এগিয়ে নেবে।
কবি জীবনানন্দের বলনতা সেন, উত্তরা গণভবন, রানী ভবানীর রাজবাড়ি আর কাঁচাগোল্লার শহর নাটোর হবে টুরিস্ট হাব এমন মন্তব্য করেছেন বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম। শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে নাটোরের দিঘাপতিয়ায় উত্তরা গণভবন পরিদর্শন শেষে এই মন্তব্য করেন তিনি।
এসময় আফরোজা খানম আরও বলেন, উত্তরা গণভবন, রাজবাড়ী, হালতিবিল ও চলনবিল ঘিরে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এখানে এখনো তেমন আবাসন ও পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে উঠেনি। অনেক মানুষ নাটোরের ব্যাপারে বিস্তারিত জানেও না। তাই নাটোরের পর্যটনের এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও যোগাযোগেরও উন্নতি করে এখানে টুরিস্ট হাব গড়ে তোলা হবে।
এসময় নাটোর ২ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারইফতে খায়ের আলমসহ প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী পাটুল বিল পরিদর্শন শেষে এক সমাবেশে যোগ দেন।
এর আগে দুপুরে নাটোরের সার্কিট হাউজে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানমকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।
জীবিত পাখির মধ্যে সবচেয়ে বড় ডিম দেয় উটপাখি এ তথ্য অনেকেরই জানা। তবে বাস্তবে সেই বিশাল ডিম কাছ থেকে দেখার সুযোগ খুব কম মানুষেরই হয়। একইভাবে অস্ট্রেলিয়ার উড়তে-অক্ষম পাখি এমুর সবুজাভ-নীল রঙের ডিমও সচরাচর চোখে পড়ে না। সম্প্রতি মৌলভীবাজারের একটি বার্ড পার্কে উটপাখি ও এমু—দুই প্রজাতির পাখির ডিম দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শন করা হচ্ছে, যা দেখতে ভিড় করছেন নানা বয়সের মানুষ।
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের আজমেরু গ্রামে অবস্থিত বার্ড পার্ক অ্যান্ড ইকো ভিলেজে সম্প্রতি উটপাখির দুটি ও এমুর একটি ডিম সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা হয়েছে। দর্শনার্থীরা ডিমগুলো কাছ থেকে দেখার পাশাপাশি হাতে নিয়েও পর্যবেক্ষণের সুযোগ পাচ্ছেন। উটপাখির ধূসর রঙের একটি ডিমের ওজন প্রায় দেড় কেজি। অন্যদিকে এমুর সবুজাভ-নীলচে ডিমটিও আকারে বেশ বড় হওয়ায় সবার দৃষ্টি কাড়ছে।
পার্কে বর্তমানে দুটি উটপাখি ও দুটি এমু পৃথক খাঁচায় রাখা হয়েছে। দর্শনার্থীরা কাছে গেলে পাখিগুলো ধীরগতিতে চলাফেরা করে।
বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, উটপাখি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ও ভারী জীবিত পাখি। পূর্ণবয়স্ক একটি উটপাখির উচ্চতা প্রায় ৮-১০ ফুট এবং ওজন ৬৩-১৪৫ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। তবে ঘণ্টায় প্রায় ৭০ কিলোমিটার বেগে দৌড়াতে সক্ষম। একটি উটপাখির ডিমের ওজন দেড় কেজিরও বেশি হতে পারে, যা প্রায় ২৪টি মুরগির ডিমের সমান।
অন্যদিকে এমু পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম জীবিত পাখি। অস্ট্রেলিয়ার এ উড়তে অক্ষম পাখির উচ্চতা সাধারণত ৫-৬ ফুট এবং ওজন ৪০-৬০ কেজি পর্যন্ত হয়। এমু ঘণ্টায় প্রায় ৫০ কিলোমিটার গতিতে দৌড়াতে পারে। স্ত্রী এমু গাঢ় সবুজ বা নীলাভ-সবুজ রঙের বড় আকারের ডিম পাড়ে, যার ওজন সাধারণত ৫০০-৬০০ গ্রাম। উটপাখির ক্ষেত্রে স্ত্রী ও পুরুষ উভয়েই ডিমে তা দিলেও এমুর ক্ষেত্রে ডিমে তা দেওয়া এবং বাচ্চা লালনের দায়িত্ব মূলত পুরুষ পাখিই পালন করে।
বার্ড পার্ক অ্যান্ড ইকো ভিলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের উদ্যানে উটপাখি ও এমু ছাড়াও দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির পাখি, ময়ূর, টার্কি, ব্ল্যাক সোয়ান, চিত্রা হরিণ, রাজহাঁস, চীনাহাঁস, রঙিন মাছ, কৃত্রিম ঝরনা, বার্ড লার্নিং সেন্টার, কিডস জোন ও ইলিউশন মিউজিয়াম রয়েছে। ফলে প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণীপ্রেমীদের জন্য এটি একটি আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহেদ আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘ভবিষ্যতে এসব ডিম থেকে বাচ্চা ফুটবে বলে তারা আশাবাদী। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য ডিমগুলো সংরক্ষণ করে প্রদর্শনের ব্যবস্থাও রাখা হবে।’