সোমবার, ১ জুন ২০২৬
১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

মসজিদের সোয়া তিন কোটি টাকা তুলে নেয়ার অভিযোগ নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে

মাহবুবুর রহমান, নোয়াখালী
প্রকাশিত
মাহবুবুর রহমান, নোয়াখালী
প্রকাশিত : ৬ ডিসেম্বর, ২০২৩ ১৮:২৩

নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মামুনুর রশিদ কিরণ মসজিদের দুটি ব্যাংক হিসাব থেকে সোয়া তিন কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কিরণ দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী।
রোববার ঋণখেলাপির দায়ে নোয়াখালী-৩ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সংসদ সদস্য মামুনুর রশিদ কিরণের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছেন নোয়াখালী জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা দেওয়ান মাহবুবুর রহমান। পরে ওই দিন রাতে এমপির অনুসারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ইসলামী ব্যাংকের একটি পে-অর্ডারের ছবি দিয়ে ঋণ পরিশোধের বিষয়টি প্রচার করেন। এতে দেখা যায়, গত ২৬ নভেম্বর মামুনুর রশিদ কিরণ ইসলামী ব্যাংকের একটি পে-অর্ডারে এএসটি ভেভারেজ কোম্পানির অ্যাকাউন্টে এক কোটি ৪০ লাখ টাকা ঋণ পরিশোধ করেছেন। আবার ওই দিনই ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের মসজিদের হিসাব থেকে এক কোটি ২০ লাখ টাকা এবং ২৩ নভেম্বর সাউথইস্ট ব্যাংক থেকে দুই কোটি তোলা হয়।
জানা যায়, বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী বড় জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি পদে সংসদ সদস্য মামুনুর রশিদ কিরণ ও সাধারণ সম্পাদক পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এমপি কিরণের অনুসারী সামছুল হক দায়িত্ব পালন করছেন। চৌমুহনী বড় মসজিদ কমপ্লেক্সের নামে সাউথইস্ট ব্যাংক ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের চৌমুহনী বাজার শাখায় দুটি হিসাব রয়েছে। দৈনিক বাংলার হাতে আসা ব্যাংক দুটির হিসাব বিবরণীতে দেখা যায়, এ বছরের ২৩ নভেম্বর সংসদ সদস্য মামুনুর রশিদ কিরনের ম্যানেজার মহিউদ্দিনের মাধ্যমে সাউথইস্ট ব্যাংক থেকে দুই কোটি এবং ২৬ নভেম্বর ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক থেকে এক কোটি ২০ লাখ টাকা তোলা হয়েছে ।
নোয়াখালী জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থিতার জন্য দাখিল করা সংসদ সদস্য মামুনুর রশিদ কিরণে মনোনয়নপত্রে দেখা যায়, প্রস্তাবকারী হিসেবে ওই মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক এবং সমর্থনকারী হিসেবে এমপি কিরণের ম্যানেজার মহিউদ্দিনের নাম ও স্বাক্ষর রয়েছে।
ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের মসজিদের হিসাব বিবরণী থেকে পাওয়া একটি মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলে নম্বরটি চৌমুহনী মিতালি বেকারির মালিক ও মসজিদ কমিটির সাবেক সেক্রেটারি হাজি মোহাম্মদ খলিলুর রহমানের। মুঠোফোনে তিনি দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমি ১৫ বছর ওই মসজিদের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। মসজিদের সভাপতি, সেক্রেটারি ও কোষাধ্যক্ষের যৌথ স্বাক্ষরে ব্যাংক হিসাব পরিচালনার প্রস্তাব করলেও এমপি সাহেবের ইচ্ছায় শুধু সভাপতি ও সেক্রেটারির স্বাক্ষরে ব্যাংক হিসাব পরিচালিত হয়। আমার ৮০ বছর বয়স। তাই এ বছরের শুরুতে দায়িত্ব ছেড়ে দিই। পরে শামসুল হককে দায়িত্ব দেন এমপি সাহেব। আমি দায়িত্ব ছাড়ার সময় দুটি ব্যাংকে মসজিদের নামে অ্যাকাউন্টে আনুমানিক চার থেকে সাড়ে চার কোটি টাকা ছিল। এখন ব্যাংক থেকে টাকা ওঠানোর বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন মুসল্লি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘মসজিদের টাকা ব্যাংকে সঞ্চয় করে রাখা হয়। টাকা উঠাতে হলে সদস্যদের প্রস্তাব ও রেজ্যুলেশনের মাধ্যমে কী কাজ করা হবে তা সুনির্দিষ্ট করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সেখানে কেউ সিগনেচার অথরিটি আছেন বিধায় পারসোনাল কাজে টাকা ওঠাবেন, এটা কোনো নিয়মের ভেতর পড়ে না- এটা নিন্দনীয়। একটি মসজিদের টাকা তছনছ করে তিনি অনৈতিক কাজ করেছেন।’
ব্যাংক থেকে টাকা ওঠানোর বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের ব্যবস্থাপক রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘চৌমুহনী বড় মসজিদের একটি অ্যাকাউন্ট এ ব্যাংকে আছে। মসজিদের সভাপতি এবং সেক্রেটারি রেগুলেশনের মাধ্যমে হিসাব পরিচালনা করেন। আদালতের অনুমতি ছাড়া আমি কোনো অ্যাকাউন্টের তথ্য দিতে পারি না। আপনিই বলেন আপনার নিজের অ্যাকাউন্টের কোনো তথ্য যদি কেউ জানতে চায়. তা আমি কি দিতে পারব?’
এ বিষয়ে জানতে সাউথইস্ট ব্যাংক চৌমুহনী শাখার ব্যবস্থাপক নুর উদ্দিন আবসার মুঠোফোনে বলেন, ‘ব্যাংক হিসাবের বিষয়ে মসজিদ কমিটি বলতে পারবে। আদালতের অনুমতি ছাড়া আমরা কোনো তথ্য দিতে পারব না।’
মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সামছুল হক মুঠোফোনে দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি আপনাকে বলব, আমি এখন ব্যস্ত আছি। মসজিদের সংস্কার কাজ চলছে। তারপর আপনি যখন জানতে চেয়েছেন আমি আপনাকে ফোন দেব। এখন রাজনৈতিক কারণে ব্যস্ত আছি।’
এমপি মামুনুর রশিদ কিরণের ম্যানেজার মহিউদ্দিনের মুঠোফোনে টাকা তুলে নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ‘এটা যারা চেক দিয়েছে তাদের জিজ্ঞেস করেন, কার নামে দিয়েছে’ বলে ফোন কেটে দেন।
এ বিষয়ে নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মামুনুর রশিদ কিরণ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘টাকাগুলো রেজ্যুলেশনের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিয়েছি। আমার বিরুদ্ধে কিছু লোক আছে যারা মসজিদে আসে না, মিটিংয়ে আসে না, মসজিদের উন্নতি চায় না। আমি তো কখনো মসজিদের ক্ষতি করিনি। যেকোনো কাজ করি নিঃস্বার্থভাবে। আমরা এস আলমের কাছে ফ্যাক্টরি বিক্রি করেছি, জানুয়ারিতে টাকা দেবে। তাদের (মসজিদ কমিটি) সঙ্গে আমার কথা হয়েছে ছয় মাস, ছয় মাস না আমরা দু-তিন মাসের মধ্যে টাকা দিয়ে দেব, আগামী মাসেই টাকা দিয়ে দেব। এগুলো আমরা হাওলাত নিয়েছি, তা পরিশোধ করে দেব,এটা এমন কী,এটা তো কোনো সমস্যা না।’
ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘একটা অনলাইন নিউজ পোর্টালে যা লিখেছে তা সঠিক নয়। আমাদেরকে এস আলম ১৫ কোটি টাকা দিয়েছে। ওখান থেকে বিভিন্ন ব্যাংকের পাওনা টাকা পে অর্ডার করে দিয়েছি।’


তেঁতুলিয়ায় গোসল করতে গিয়ে ডাহুক নদীতে ডুবে কিশোরের মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
তেতুলিয়া (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় নানিবাড়ি বেড়াতে এসে ডাহুক নদীতে গোসল করতে গিয়ে,জলে ডুবে কিশোর মুন্নাফ (১৪) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (১ জুন) সকালে তেতুলিয়া উপজেলার ৪ নং শালবাহান ইউনিয়নের সানু বালবাড়ি গ্রামে ঘটে এ ঘটনাটি । নিহত কিশোর মোঃ মুন্নাফ তিরনইহাট ইউনিয়নের রওশনপুর এলাকার তজিমুল হকের ছেলে।

স্বজনরা জানান, মুন্নাফ তার বাবার সাথে ঢাকায় থাকতো। ঈদুল আজহা উপলক্ষে সানু বালবাড়ি গ্রামে নানির বাড়িতে বেড়াতে আসে, সকালে বন্ধুদের সাথে নদীতে গোসল করতে করতে যান। সে কিশোর সাঁতার না জানায় তলিয়ে যায় গভীর পানিতে।

স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তেঁতুলিয়া মডেল থানার ওসি লাইছুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এ ঘটনায় ওই এলাকাজুড়ে বইছে শোকের ছায়া । ঈদের আনন্দের মাঝে এই শোক যেন পাথর হয়ে নেমেছে পরিবারটির ওপর।


জয়পুরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২, আহত ১

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জয়পুরহাট প্রতিনিধি

জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে ঈদ উপলক্ষে আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন। সোমবার দুপুরে উপজেলার নিশ্চিন্তা-চাঁনপাড়া আঞ্চলিক সড়কের খড়িকাটা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, কালাই উপজেলার সরাইল গ্রামের তাজুল ইসলাম খন্দকারের ছেলে ইমন সরকার (৩০) ও তার শ্যালক হারুঞ্জা গ্রামের সামছুল ইসলামের ছেলে ফেরদৌস হোসেন (১২)। আহত হয়েছেন ইমনের স্ত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদ উপলক্ষে আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেলে করে রওনা হন ইমন সরকার, তার স্ত্রী ও শ্যালক ফেরদৌস। পথে খড়িকাটা এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে ছিঁটকে পড়ে যায়। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপ ভ্যানের চাকায় পিষ্ট হয়ে ইমন সরকার ও ফেরদৌস ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত হন ইমনের স্ত্রী।

স্থানীয়রা জানান, ধান কাটার মৌসুমে ওই আঞ্চলিক সড়কের বিভিন্ন স্থানে খড় ও ধান শুকানোর জন্য রাস্তার ওপর ছড়িয়ে রাখা হয়। সড়কে ছড়িয়ে থাকা খড়ের কারণে মোটরসাইকেলটি পিছলে নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তাদুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


'দ্রুত উদ্ধার না করলে যুদ্ধে পাঠাবে' রাশিয়া থেকে গোপালপুরের ৩ যুবকের আকুতি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গোপালপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে এবং ভালোভাবে জীবনযাপনের আশায় গত ৭ মে রাশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার মো. আমিনুল ইসলাম (৩০), পবিত্র চন্দ্র (৩৫) ও নজরুল ইসলাম (৪০)। রাশিয়ায় পৌঁছানোর পরপরই শেষবারের মতো পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করার সুযোগ পান তারা। এরপর তাদের মোবাইল ফোন নিয়ে জোরপূর্বক সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বলে ঈদের রাতে কৌশলে পরিবারকে জানান মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি আরও জানান, দ্রুত তাদের উদ্ধার না করা হলে যুদ্ধের ফ্রন্টলাইনে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

জানা যায়, রাজধানীর নিকুঞ্জ-২ এলাকায় অবস্থিত জাবাল-ই-নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড (রিক্রুটিং লাইসেন্স নং: ২৫০৫) এজেন্সির মাধ্যমে কনস্ট্রাকশন ভিসায় রাশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার দক্ষিণ পাথালিয়া গ্রামের মৃত কছর উদ্দিনের ছেলে মো. আমিনুল ইসলাম। তার পরিবারে রয়েছেন বৃদ্ধা মা, স্ত্রী ও তিনটি ছোট সন্তান।

একই দিনে মজিদপুর গ্রামের পরেশ চন্দ্র সূত্রধরের একমাত্র ছেলে পবিত্র চন্দ্র তার বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী ও দুই সন্তানকে রেখে যান। এছাড়া বীর নলহরা গ্রামের মৃত ইসমাইলের ছেলে নজরুল ইসলাম তার বৃদ্ধা মা, স্ত্রী ও চার সন্তানকে রেখে যান।

তারা সবাই নিজেদের শেষ সম্বল বিক্রি করে, সুদে টাকা নিয়ে এবং ঋণ করে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা এজেন্সিকে প্রদান করেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, জুলিয়া নামের এক নারীর মাধ্যমে ওই দিন ৩০ জনকে রাশিয়ায় পাঠানো হয়। সেখানে একটি হলরুমে রাশিয়ান আর্মির পক্ষ থেকে তাদের ব্রিফ করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া গেছে। ওই ভিডিওতে সেই নারীকে ব্রিফিংয়ে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।

সরেজমিনে তিনটি পরিবারের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ঈদের দিনেও প্রতিটি বাড়িতে কান্নার রোল পড়েছে। সব পরিবারের একই প্রশ্ন, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির কোনো ক্ষতি হলে তাদের সংসার কীভাবে চলবে, সন্তানদের দেখাশোনা করবে কে?

পরিবারগুলোর দাবি, সরকার দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে তাদের উদ্ধার করুক এবং প্রতিশ্রুত সঠিক কর্মস্থলে পাঠানোর ব্যবস্থা করুক।

এ ঘটনার পর থেকে এজেন্সিটির অফিস বন্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে এজেন্সির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান তাদের আর্মিতে দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে প্রতিবেদককে বলেন, আগামী মঙ্গলবারের মধ্যেই তাদের আর্মি থেকে ফিরিয়ে আনা হবে। এরপর তারা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। তিনি পরিবারগুলোকে উদ্বিগ্ন না হওয়ার অনুরোধ জানান।

এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ওয়েলফেয়ার সেন্টারের দায়িত্বরত কর্মকর্তা সাকিব মাহমুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ৩০ জনকে উদ্ধারের বিষয়ে কাজ চলছে।


মাধবপুরে ১২০ কেজি গাঁজাসহ পিকআপ ভ্যান আটক, গ্রেপ্তার ১

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

হবিগঞ্জের মাধবপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১২০ কেজি গাঁজাসহ একটি পিকআপ ভ্যান আটক করা হয়েছে। এ সময় মাদক পরিবহনের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মাধবপুর থানার এসআই প্রদীপের নেতৃত্বে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের মাধবপুর ডাকবাংলা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে একটি পিকআপ ভ্যান তল্লাশি করে পানির ফিল্টারের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১২০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার রাইচরণ দাশের ছেলে রিপন দাশ (৩২)।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাধবপুর উপজেলার পূর্বাঞ্চলের সৈয়দ মিয়ার বাড়ি এলাকা থেকে গাঁজার চালানটি পিকআপ ভ্যানে তোলা হয়েছিল। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদকসহ গাড়িটি আটক করা হয়।

মাধবপুর ওসি তদন্ত গোলাম মোস্তফা বলেন, “গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যানটি জব্দ করা হয়েছে এবং একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে । মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


খুলনা জেলা পরিষদের উদ্যোগে ৩০ মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে সাইকেল বিতরণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সৈকত মোঃ সোহাগ, খুলনা ব্যুরো

খুলনা জেলা পরিষদের উদ্যোগে ফুলতলা, ডুমুরিয়া, বটিয়াঘাটা ও কয়রা উপজেলার ৩০ জন মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীর মাঝে সাইকেল বিতরণ করা হয়েছে।

আজ সোমবার (০১ জুন)সকাল ১১:০০ টায় নিজস্ব অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজগর লবি। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমির এজাজ খান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খুলনা জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব ও খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পি।

বক্তারা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হয়ে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার আহ্বান জানান। তারা বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে জেলা পরিষদের এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

অনুষ্ঠান শেষে চার উপজেলার নির্বাচিত ৩০ জন মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সাইকেলের চাবি ও সাইকেল তুলে দেন অতিথিরা। এ সময় শিক্ষার্থী, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

এই সাইকেল বিতরণ কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত সহজ করার পাশাপাশি তাদের শিক্ষা কার্যক্রমে আরও উৎসাহ যোগাবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।


জীবননগরে মাদক মামলার ৪ আসামি গ্রেফতার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি 

জীবননগর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন মামলার ৪ আসামীকে গ্রেফতার করেছে। রোববার দিনগত রাতে জীবননগর উপজেলার পৌর এলাকায় পৃথক জায়গায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন, জীবননগর পৌরসভার গোপালনগর গ্রামের তাহাজ্জের হোসেনের ছেলে ফিরোজ হোসেন (২৯), একই গ্রামের আবু বক্করের ছেলে সাজ্জাদুল ইসলাম (৩৬), মৃত মাহাতাব উদ্দিনের ছেলে মশিয়ার রহমান (৪৫) ও কালীগঞ্জ থানার কাশিপুর গ্রামের মোজেয়ার চৌধুরীর ছেলে মিন্টুকে (৪২) জীবননগর হাসপাতাল পাড়া থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন, জীবননগরে মাদক নির্মুল করতে নিয়মিত অভিযান চলছে। অভিযানের অংশ হিসেবে গতরাতে ৪ আসামী গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার সকালে আসামীদেরকে চুয়াডাঙ্গা বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।


শাহজীবাজার বিদ্যুৎকেন্দ্র লাভের চেয়ে এখন লোকসানের বোঝা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
হবিগন্জ (মাধবপুর) প্রতিনিধি

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা অবস্থিত দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শাহজীবাজার বিদ্যুৎকেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে যান্ত্রিক ত্রুটি, অগ্নিকাণ্ড ও প্রযুক্তিগত জটিলতায় ভুগছে। কেন্দ্রটির একাধিক ইউনিট আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। এতে সরকারের সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৪০ হাজার কোটি টাকারও বেশি ছাড়িয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রটির দুটি প্রধান ইউনিটের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় প্রতিদিন প্রায় ১৮ কোটি টাকার সম্ভাব্য ক্ষতি হচ্ছে। দীর্ঘ ছয় বছরের অচলাবস্থা, উৎপাদন ঘাটতি ও মেরামত ব্যয় মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে।

২০১৭ সালে প্রায় ৮৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে শাহজীবাজারে ১০০ মেগাওয়াট গ্যাস টারবাইন বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২০ সালে উৎপাদনে যাওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পটি সম্পন্ন হয়নি। পরে পরীক্ষামূলক উৎপাদনের সময় টারবাইনের ব্লেড ভেঙে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। একাধিকবার মেরামতের পরও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। সর্বশেষ ২০২৪ সালের এপ্রিলে একই ধরনের ত্রুটি দেখা দিলে কেন্দ্রটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

সংশ্লিষ্টদের মতে, কেন্দ্রটি নিয়মিত চালু থাকলে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি টাকার বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হতো। কিন্তু গত ছয় বছরে এটি মাত্র ৬৭ দিন চালু ছিল। ফলে শুধু এই ইউনিট থেকেই সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

১০০ মেগাওয়াট কেন্দ্রের প্রকল্প ব্যবস্থাপক এ কে মফিজউদ্দিন আহমেদ জানান, প্রকল্পের মোট বিলের প্রায় ৭০ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ৬০০ কোটি টাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পরিশোধ করা হয়েছে। তবে কাজ সম্পূর্ণ না হওয়ায় প্রায় ৯০ কোটি টাকা আটকে রাখা হয়েছে।

তার ভাষ্য, ব্যবহৃত টারবাইনটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত হলেও এখানে কেন বারবার ত্রুটি দেখা দিচ্ছে, তা বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা করে দেখছেন।

তিনি জানান, যান্ত্রিক ত্রুটি নিরসনের কাজ চলছে। আগামী ২৭ জুনের মধ্যে কেন্দ্রটি পুনরায় চালুর আশা করা হচ্ছে। চালু হলে জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে।

অন্যদিকে প্রায় ২ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৩৩০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্রও বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। উদ্বোধনের আগেই একটি ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে যায়। পরে ২০২২ সালের ২৯ মে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আরও দুটি ট্রান্সফরমার পুড়ে গেলে কেন্দ্রটির উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

বর্তমানে কেন্দ্রটির একটি ইউনিট থেকে ১০০ থেকে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে প্রতিদিন প্রায় ৮ কোটি টাকার সাশ্রয় হচ্ছে। তবে বাকি ইউনিটগুলো বন্ধ থাকায় সম্ভাব্য আরও ১৬ কোটি টাকার সাশ্রয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

শাহজীবাজার বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান জানান, গত এক মাস ধরে একটি ইউনিট চালু রাখা সম্ভব হয়েছে। বাকি ইউনিটগুলো সচল করা গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

বর্তমানে শাহজীবাজার বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৪৯০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতার মধ্যে তিনটি ইউনিট আংশিকভাবে চালু রয়েছে। এসব ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে প্রায় ১৮৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রটির সব ইউনিট দ্রুত সচল করা না গেলে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। একই সঙ্গে জাতীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপও অব্যাহত থাকবে।


সুদের টাকা না পেয়ে গৃহবধূকে নির্যাতন, আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সাব্বির মির্জা, তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় সুদের পাওনা টাকা পরিশোধ করতে না পারায় তাহমিনা খাতুন নামের এক গৃহবধূকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল রবিবার (৩১ মে) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের সরাবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

​মুমূর্ষু অবস্থায় ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে প্রথমে তাড়াশ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে
স্থানান্তর করা হয়েছে।

​স্থানীয় ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে সরাবপুর গ্রামের বাসিন্দা আমিরুল ইসলামের কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা সুদের উপরে নেন গৃহবধূ তাহমিনা খাতুন। দীর্ঘদিন ধরে সেই সুদের টাকা পরিশোধ করে আসলেও সম্প্রতি আর্থিক সংকটের কারণে টাকা দিতে পারছিলেন না তিনি। গতকাল রবিবার রাতে আমিরুল ইসলাম বকেয়া সুদের টাকা আদায়ের জন্য তাহমিনার বাড়িতে যান। এ সময় টাকা দেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে আমিরুল ইসলাম ক্ষিপ্ত হয়ে গৃহবধূ তাহমিনাকে লাঠিসোঁটা দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর ও চরম নির্যাতন করেন। এতে তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

​ভুক্তভোগী গৃহবধূ তাহমিনা বলেন, আমি আমিরুলের কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা নিয়েছিলাম এবং অনেক টাকা সুদও দিয়েছি। কিন্তু ওনারা আসল টাকা আরও দাবি করে আসছিলেন। কাল রাতে হঠাৎ বাড়িতে এসে টাকার জন্য চাপ দেন। আমি আর কিছুদিন সময় চাইলে তিনি আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। প্রতিবাদ করায় আমাকে লাঠি দিয়ে নির্মমভাবে পেটানো হয়। আমি ওনার কঠোর বিচার চাই।

এ প্রসঙ্গে তাড়াশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো হাবিবুর রহমান জানান, সুদের টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে এক গৃহবধূকে মারধরের খবর পেয়েছি, তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে । তবে এই ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

​এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সুদের ব্যবসার নামে এভাবে গৃহবধূর ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় জড়িত আমিরুল ইসলামের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।


নাটোরের সিংড়ায় ট্রাক চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই যুবক নিহত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাটোর প্রতিনিধি

নাটোরের সিংড়ায় ট্রাক চাপায় জীবন রহমান ও মুক্তার হোসেন হিরা নামে মোটরসাইকেল আরোহী দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন সাইফুল ইসলাম নামে আরও একজন। সোমবার সকালে নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের আমতলী ব্রিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন সদর উপজেলার ইসলামবাড়িয়া গ্রামের মোতালেব হোসেনের ছেলে মুক্তার হোসেন হিরা এবং লালপুর উপজেলার সাজেদুর রহমানের ছেলে জীবন রহমান।

ঝলমলিয়া হাইওয়ে থানার ওসি মাহাবুর রহমান জানান, নাটোর থেকে তিন মামাতো-ফুফাতো ভাই একটি মোটরসাইকেলে যোগে সিংড়ার দিকে যাচ্ছিলেন। পথে নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের আমতলী ব্রিজ এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা আমবোঝাই একটি মিনি ট্রাক মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই জীবন ও হিরার মৃত্যু হয়। এ সময় আহত হন সাইফুল ইসলাম নামে অপরজন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আহত যুবককে উদ্ধার করে নাটোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য আহত সাইফুল ইসলামকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। মরদেহ দুটি হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

অপরদিকে, গত রাতে একই উপজেলার পাঙ্গাসিয়া বাজার এলাকায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় আসমা খাতুন নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।


চিকিৎসাধীন অবস্থায় হানিফ পরিবহনের মালিক কফিল উদ্দিনের মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি

বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, হানিফ এন্টারপ্রাইজের চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কফিল উদ্দিন আর নেই। ভারতের দিল্লির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার (৩১ মে) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

দেশের পরিবহন খাতের পরিচিত এই ব্যক্তিত্বের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মো. জোবায়ের মাসুদ।

কফিল উদ্দিনের আকস্মিক মৃত্যুতে দেশের পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর এই চলে যাওয়ায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি কফিল উদ্দিন আহমেদ, কার্যকরী সভাপতি এম এ বাতেন এবং মহাসচিব মো. সাইফুল আলম গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

এক যৌথ বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করার পাশাপাশি তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।


মেহেরপুরে এক রাতেই ৭টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মেহেরপুর প্রতিনিধি

মেহেরপুরের সদর উপজেলার চকশ্যামনগর গ্রামের মাঠের ৪টি এবং মুজিবনগর উপজেলার মোনাখালি মাঠ থেকে ৩ টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারের কয়েল চুরি হয়েছে।

এতে করে এই দুই উপজেলার প্রায় ৫০০ বিঘা জমির সেচকাজ বন্ধ হয়ে গেছে। গেল রাতের কোন এক সময় এ চুরির ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, চকশ্যামনগর মাঠে মেহেরপুর সদর ফিডারের আওতায় চারটি এবং একই মাঠের মুজিবনগর উপজেলার মোনাখালী অংশে বটতলা সংলগ্ন মুজিবনগর ফিডারের আওতায় আরো তিনটি ট্রান্সফর্মারের কয়েল চুরি হয়েছে।

রাতের আধারে অজ্ঞাত চোরেরা বৈদ্যুতিক পোল থেকে ট্রান্সফরমার খুলে ফেলে। ট্রান্সফরমারের উপরের কভার ভেঙ্গে ভেতরে থাকা কয়েল নিয়ে যায়।

এতে প্রায় ৫শতাধিক বিঘা জমির সেচ কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। পল্লী বিদ্যুত সমিতির নিয়মানুযায়ী ট্রান্সফরমার চুরি হলে নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপনের সব খরচ গ্রাহককে বহন করতে হবে।এতে চরম বিপাকে পড়েছেন সেচ পাম্প মালিকগণ।

মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুত সমিতির সদর সার্কেলের ডিজিএম শ্যামল কুমার মল্লিক জানান, এ বিষয়ে কৃষকদের সচেতন করা হচ্ছে। এছাড়া নিয়ম তান্ত্রিক উপায়ে আবেদন করলে নতুন ট্রান্সফর্মার লাগানো সম্ভব।

আর এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে চোর চক্রকে ধরার কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।


গজারিয়ায় তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনার রহস্য উন্মোচন করলো পিবিআই

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গজারিয়া ( মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় হালিমা আক্তার (১৯) নামের এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনার রহস্য উন্মোচন করেছে পিবিআই মুন্সীগঞ্জ। পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ এবং সামাজিক মর্যাদাহানির আশঙ্কায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

​ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন: আবু কালাম (৪৮), জামাল হোসেন (৪৪), রাসেল মিয়া (৪৪) এবং আল আমিন প্রধান (৫০)। তারা সবাই গজারিয়ার বড় ভাটেরচর এলাকার বাসিন্দা।

গত শুক্রবার (২৯ মে) সকালে গজারিয়ার ফুলদী নদী থেকে হালিমা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। মরদেহটি পচন ধরায় প্রাথমিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পিবিআই মুন্সীগঞ্জের একটি ক্রাইম সিন টিম তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ভিকটিমের পরিচয় শনাক্ত করে। নিহত হালিমা গজারিয়ার হোসেন্দী ইউনিয়নের জামালদী গ্রামের মহাসিন বেপারীর মেয়ে। এ ঘটনায় ভিকটিমের বোন হোসনেয়ারা আক্তার বৃষ্টি বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পিবিআই সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম হালিমা অভিযুক্ত আবু কালামের কাছে ২৫ হাজার টাকা এবং রাসেলের কাছে ১০ হাজার টাকা পেতেন। এছাড়াও অভিযুক্ত জামালের সাথে হালিমার শারীরিক সম্পর্ক ছিল। তাদের অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি জামালের এক আত্মীয় দেখে ফেলেছিলেন। এই বিষয়টি ফাঁস হয়ে এলাকায় সামাজিক সম্মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় অভিযুক্তরা হালিমাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন। ​

রবিবার বিকেলে মুন্সীগঞ্জের কোর্ট ইন্সপেক্টর সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং আমলী আদালত-৫ এর বিজ্ঞ বিচারক জিনিয়া ইসলামের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।

রবিবার সন্ধ্যায় প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পিবিআই মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসমা আরা জাহান জানান, ঘটনার ১৫ দিন আগেই অভিযুক্তরা হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে হালিমাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২৬ মে সন্ধ্যায় কৌশলে হালিমাকে বড় ভাটেরচর নদীর তীরে ডেকে আনা হয়। পরে নৌকায় করে নদীর ওপারে একটি ভুট্টা ক্ষেতের মাঝখানে নিয়ে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়। একপর্যায়ে হালিমার পরনের প্যান্ট দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। আসামিরা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।


ঈদের ছুটিতে মুখরিত লাউয়াছড়া, ৪ দিনে ৪ হাজার পর্যটক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জায়েদ আহমেদ, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

পবিত্র ঈদুল আজহার টানা ছুটিতে উপচে পড়া পর্যটকের ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠেছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে অবস্থিত দেশের অন্যতম প্রধান চিরসবুজ বন 'লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান'। ঈদের দিন থেকে শুরু করে আজ রবিবার (৩১ মে) পর্যন্ত মাত্র চার দিনে উদ্যানটিতে রেকর্ডসংখ্যক পর্যটকের সমাগম ঘটেছে। এর মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের রাজস্ব আদায় করেছে বন বিভাগ।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার ঈদের দিন থেকে আজ রবিবার পর্যন্ত চার দিনে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে মোট ৪ হাজার ১৮১ জন পর্যটক ভ্রমণ করেছেন। এর মধ্যে ২৭ জন বিদেশি পর্যটকও ছিলেন। পর্যটকদের প্রবেশ টিকিট বাবদ সরকারের মোট রাজস্ব আয় হয়েছে ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৮৫২ টাকা, যা এই স্বল্প সময়ে অন্যতম একটি রেকর্ড।

যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দূর করতে এবং প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে ঈদের ছুটিতে হাজারো মানুষ ছুটে এসেছেন এই চিরসবুজ বনে। তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের ভিড়ে মুখরিত ছিল পুরো উদ্যান এলাকা।


সরেজমিনে দেখা গেছে, ঈদের দিন থেকেই লাউয়াছড়ায় পর্যটকদের সমাগম ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে। বনের ভেতরের সুউচ্চ গাছপালা, চারপাশের সবুজ প্রকৃতি আর বন্যপ্রাণীর অবাধ বিচরণ দেখতে উদ্যানের ভেতরে ভিড় জমান দর্শনার্থীরা। বিশেষ করে বনের বানর, বিরল প্রজাতির উল্লুক আর চশমা পরা হনুমানের দেখা পেয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েন নানা বয়সী মানুষ।

উদ্যান কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতি বছরই ঈদের ছুটিতে লাউয়াছড়ায় মানুষের ঢল নামে। তবে এবার পর্যটকদের নিরাপত্তা ও বনের পরিবেশ রক্ষায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। ঈদের শুরুর দিকে পর্যটকের দেখা কিছুটা কম পাওয়া গেলেও, সময়ের সাথে সাথে তা অনেকাংশেই বেড়েছে। আজ রবিবার ছুটির শেষ দিন পর্যন্ত পর্যটকদের এই আনন্দঘন ও উপচে পড়া উপস্থিতি বজায় ছিল।



banner close