রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ২৪ ঘন্টার মাদকবিরোধী অভিযানে ৪১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ। মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত শুক্রবার ভোর ৬টা থেকে গতকাল শনিবার ভোর ৬ টা পর্যন্ত এই অভিযান চালানো হয়।
ডিএমপি মিডিয়ার ডিসি মো. ফারুক হোসেন জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ৪ হাজার ৯৫০ টি ইয়াবা, ১৩ কেজি ৫৫ গ্রাম গাঁজা, ৬ গ্রাম ৮৫ পুরিয়া হেরাইন ও ৩৪৩ বোতল ফেনসিডির উদ্ধার করা হয়।
এসব ঘটনায় সংশ্লষ্টি থানায় ৩১টি মামলা করা হয়েছে।
নওগাঁ শহরে দিনেদুপুরে ব্যাটারিচালিত রিকশাযাত্রী এক নারীর কানের স্বর্ণের দুল ছিনতাইয়ের সময় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে আসা তিন ছিনতাইকারী ও অজ্ঞান পার্টির সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) শহরের রুবীর মোড়ে জনগণের সহযোগিতায় তাদের প্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, ইউসুফ সর্দারের ছেলে মো: জামাল (৩৫), আব্দুর রবের ছেলে মো. ফরিদ (৩৩) এবং মাইনুদ্দিনের ছেলে মো: রবি (২৪)। তিনজনই নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার চনপাড়া এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম শাহানাজ আক্তার শিরিন নওগাঁ শহরের রজাকপুর এলাকা থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশায় করে শহরের স্টাফ কোয়ার্টারে যাওয়ার পথে রুবীর মোড় এলাকায় পৌঁছালে ওই তিন ছিনতাইকারী তাকে ধারালো চাকুর ভয় দেখিয়ে খুন-জখমের হুমকি দেয়। একপর্যায়ে তারা ভিকটিমের কানে থাকা পাঁচ আনা ওজনের স্বর্ণের দুল ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় ভিকটিমের আত্মচিৎকারে আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে আসেন।
একই সঙ্গে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল পেয়ে নওগাঁ সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় পুলিশ চাকুসহ তিন আটক করে। এ সময় উত্তেজিত জনতা তাদের গণপিটুনি দেয়। পরে পুলিশ তাদের হেফাজতে নিয়ে থানায় নিয়ে আসে।
এবিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, কেউ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করলে, ছাড় দেওয়া হবে না। পুলিশ সবসময় সাধারন মানুষের নিরাপত্তায় সজাগ ও তৎপর রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ছিনতাই মামলা রুজু করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যেকোনো সন্দেহজনক গতিবিধি দেখলেই পুলিশকে তাৎক্ষণিকভাবে জানানোর অনুরোধ জানান।
কোনো কোনো দিন ফজরের নামাজ পড়তে উঠে দেখি কলে সাপ্লাইয়ের পানি নাই -এ ছাড়াও সকাল ৭টার পর থেকে কলে পানি না থাকা এটা এখন আমাদের প্রতিদিনের ঘটনা-কথাগুলি বলছিলেন পটুয়াখালী পৌর এলাকার সদর রোডের বাসিন্দা গৃহবধূ জাহিদা খানম শিমুল। একই ধরনের কথা বলেন শহরের পুরান বাজার এলাকার বাসিন্দা গৃহবধূ মন্দিার দাস, শিমুলবাগ এলাকার বাসিন্দা গৃহবধূ মীম, নবাবপাড়ার এলাকার গৃহবধূ আফরোজা রুপা।
পটুয়াখালী পৌর এলাকার অধিকাংশ মানুষের জীবন যাত্রা পাল্টে গিয়েছে শুধু মাত্র পৌরসভার সাপ্লাইয়ের পানির অপ্রাপ্যতার উপর। শহরের অধিকাংশ এলাকায় বিশেষ করে গৃহবধূদের পানির এ ভোগান্তির কারণে নানা রকম বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে।
সকাল থেকে পনি না থাকায় রাত জেগে পানি ধরে রাখতে হচ্ছে তাদেরকে। অধিকাংশ বাসায় কাজের সহযোগী মহিলারা দিনের বেলায় কাজ করে যাওয়ায় বাসন -পত্র কোন রকম জমানো পানি দিয়ে ধোয়া-মোছার কাজ করা সম্ভব হলেও প্রতিটি বাড়িতেই কাপড় চোপড় ধোয়া নিয়ে বিড়ম্বন পোহাতে হচ্ছে মারাত্মকভাবে।
পটুয়াখালী পৌর এলাকায় বর্তমানে ৯৪৮২ জন গ্রাহকের বিপরীতে ১২টি পাম্প হাউজ দিয়ে ১৪টি উৎপাদক নলকূপের মাধ্যমে ১০৬ কিলোমিটার পাইপ লাইনের মাধ্যমে ১০,৩৩২ ঘন মিটার পানি উত্তোলন করা হয়ে থাকে। বর্তমানে পটুয়াখালী পৌরএলাকায় ৫৭২টি হস্তচালিত টিউবওয়েলের মাধ্যমে বিভিন্ন স্পটে পানি সরবরাহ করে থাকে।
স্বাধীনতার পরবর্তিতে পটুয়াখালী পৌর এলাকার বিভিন্ন স্পটে ও বাসাবাড়িতে প্রায় ১৮০০ থেকে ১৯০০ টিউবওয়েল বসানো ছিল,যেগুলো দিয়ে পটুয়াখালী পৌরএলাকার অধিবাসীদের পানির চাহিদা মেটানো হতো । যে গুলিতে ৮৫০ খেকে ৯০০ ফুট লেয়ারে সুপেয় পানি পাওয়া যেত। এমাগত জনসংখ্যা বৃদ্ধি সহ পৌর এলাকার সীমানা বৃদ্ধির পাশাপশি হাই রাইজ ভবন নির্মান করে তাতে পাম্প হাউজ স্থাপনের ফলে পানির লেয়ার এখন ১১০ ফুট থেকে ১২০০ ফুটে চলে যাওয়ায় সেই টিউবওয়েবগুলি এখন অচল হয়ে পরে রয়েছে।স্বাধীনতার পরবর্তী পটুয়াখালী মিউনিসিপ্যালিটির ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে সরসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে সীমিত সংখক এলাকায় পানি সরবরাহের কাজ শুরু করে। ২০০৪ সালে ডিপিএইচইড্যানিডা ওভার হেড ট্যাকিংর মাধ্যমে পানি সরবরাহ শুর করে যা বর্তমানে পৌর এলাকার ২৫ বর্গ কলোমিটার এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুজ্জামান বলেন, পটুয়াখালী পৌর এলাকার সীমানা বৃদ্ধির পাশাপাশি জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে পানির প্রাহকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় পৌরসভা কর্তৃক সরবরাহকৃত পানি দিয়ে চাহিদা পূরণ করা ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি অরোও জানান, সমস্যা নিরসনকল্পে সরকারের ২২টি পৌরসভায় পানি সরবরাহের প্রকল্প আওতায় সম্ভব্যতা যাচাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। সেখানে পটুয়াখালী পৌরসভার জন্য নতুন ৬টি উৎপাদক নলকূপ, ও ৭টি নতুন ওভার হেডট্যাংক নির্মাণসহ নতুন পাইপ লাইন নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। পরিকল্পনাটি মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পটুয়াখালী পৌরসভার পানি ও পয়:নিস্কাশন বিভাগের দায়িত্বপাপ্ত সহকারী প্রকৌশলী এম রিয়াজ উদ্দিন মজুমদার বলেন, বর্তমানে ১৪টি পাম্প হাউজের মাধ্যমে ১৮ ঘণ্টা পাম্প চালিয়ে ১০,৩৩২ ঘন মিটার পানি উত্তোলন করে তা গ্রাহকের মধ্যে সরবরাহ করে থাকি, সাম্প্রতিক সময়ের বিদুৎ এর ঘাটতির কারণে পাম্পগুলো থেকে নিরবিচ্ছিন্নভাবে পানি উত্তোলন করা ব্যাহত হচ্ছে। গ্রাহক বাড়ার সাথে সাথে পানির উপ চাপ বাড়ছে, প্রায় ১০ হাজার গ্রাহকের জন্য আরোও ১০ হাজার ঘন মিটার পানির চাহিদা রয়েছে।
এ দিকে পটুয়াখালী পৌরসভার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকট নিরসনে ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবকে চিঠি দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।
পটুয়াখালী-১ (১১১) আসনের সংসদ সদস্য এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলহাজ্ব আলতাফ হোসেন চৌধুরীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ ও ‘মাননীয় সংসদ সদস্যগণের প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন সমন্বয় সেল’-এর সদস্য সচিব মো. উজ্জ্বল হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে প্রকল্পের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং অগ্রগতি প্রতিবেদন পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়।
এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরী প্রধানমন্ত্রী বরাবর পটুয়াখালী পৌরসভার জন্য ৪৫ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে একটি আধা-সরকারি পত্র (ডিও) পাঠান।
সংকট নিরসনে প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় চারটি ওভারহেড ট্যাংক নির্মাণে ১৬ কোটি টাকা, ১০টি উৎপাদক নলকূপ স্থাপনে ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা, ১০টি টেস্ট টিউবওয়েল স্থাপনে ২০ লাখ টাকা এবং ১২টি পাম্প হাউস নির্মাণ, পাম্প, ট্রান্সফরমার ক্রয় ও বৈদ্যুতিক সংযোগ স্থাপনে ৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ ছাড়া ৩০ কেভি ক্ষমতাসম্পন্ন ২০টি থ্রি-ফেজ জেনারেটর স্থাপনে ৭ কোটি টাকা, ১৬০ মিলিমিটার ব্যাসের ২২ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপনে ৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা এবং ১১০ মিলিমিটার ব্যাসের ২০ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপনে ৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে।
প্রস্তাবিত প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন হলে পটুয়াখালী পৌরসভার দীর্ঘদিনের সুপেয় পানি সংকট অনেকটাই দূর হবে এবং নাগরিকদের নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কুমিল্লা সদর উপজেলার আমড়াতলী ইউনিয়নের ভুবনঘর আবুল হাসেম আব্বাসিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোটকেন্দ্র পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সামনে ভুবনঘর গ্রামের সহস্রাধিক নারী-পুরুষ জড়ো হয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা আগের স্থানেই ভোটকেন্দ্র পুনর্বহালের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং বক্তব্য রাখেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয়রা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভুবনঘর আবুল হাসেম আব্বাসিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ভোটগ্রহণ হয়ে আসছে। ওই কেন্দ্রে এলাকার প্রায় ৪-৫ হাজার লোক ভোটাধিকার প্রয়োগ করে আসছেন। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সেখানে বিভিন্ন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তাদের দাবি, আসন্ন নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রটি ভুবনঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে ভোটারদের দুর্ভোগ বাড়বে। বিশেষ করে বয়স্ক নারী-পুরুষসহ দূরের ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যাতায়াতে সমস্যা হতে পারে।
স্থানীয়রা আরও বলেন, আবুল হাসেম আব্বাসিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত কক্ষ, বড় ভবন ও বিশাল মাঠ রয়েছে। সেখানে ভোটারদের দাঁড়ানো, ভোটগ্রহণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব পালনের পর্যাপ্ত সুযোগ রয়েছে। বিপরীতে প্রস্তাবিত ভুবনঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জায়গা তুলনামূলক কম।
মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন আমড়াতলী ইউনিয়নের মোতালেব, ফিরোজ, কামাল হোসেন মেম্বার, মো. আবুল হোসেন, হাজী সফিক মেম্বার, মিনু বেগম, মর্জিনা আক্তার, মো. ইয়াছিন, মো. দুলাল মিয়া, জলিল মিয়া, বাবুল মিয়া, আলম মিয়া, হানিফ হোসেন, আক্তার, মাহবুব মিয়া, মানিক মিয়া প্রমুখ।
মানববন্ধন শেষে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপিতে ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগের স্বার্থে ভুবনঘর আবুল হাসেম আবাসিয়া উচ্চ বিদ্যালয়কে পুনরায় ভোটকেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণের দাবি জানানো হয়।
‘কারিগরি শিক্ষা নিন, বদলে যাবে আপনার দিন এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নীলফামারীতে দক্ষতা উন্নয়ন ও নিরাপদ অভিবাসনবিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে নীলফামারী কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) নীলাচল সভাকক্ষে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
টিটিসির অধ্যক্ষ মো. মাসুদ রানার সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মোহসিন।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, ‘বিদেশে যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা অত্যন্ত জরুরি। দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতারণা ও নানা ধরনের ঝুঁকি থেকে নিরাপদ থাকা সম্ভব।’
বক্তারা আরও বলেন, ‘দক্ষ জনশক্তি দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই বিদেশগামীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তোলা এবং নিরাপদ ও বৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।’
সেমিনারে বিভিন্ন দেশে গমনকারী ১৩০ জন নারী ও পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় বাংলাদেশেও চলছে সার সংকট। চলতি মরসুমে চুয়াডাঙ্গার বাজারেও রাসায়নিক সারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। চড়া দাম দিয়েও মিলছে না চাহিদা মতো সার। একদিকে রাসায়নিক সারের তীব্র সংকট, অন্যদিকে বাজারে আকাশছোঁয়া দাম। রাসায়নিকের এই চড়া বাজারে দিশেহারা চুয়াডাঙ্গার প্রান্তিক কৃষক। বাধ্য হয়ে বেশি দামে সার কিনে জমিতে অতিরিক্ত পরিমাণে ব্যবহার করছেন কৃষকরা। এতে একদিকে যেমন কৃষকের উৎপাদন খরচ লাগামহীনভাবে বাড়ছে, অন্যদিকে মারাত্মকভাবে নষ্ট হচ্ছে মাটির প্রাকৃতিক উর্বরতা শক্তি।
মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় রাসায়নিক সারের পাশাপাশি জৈব সার ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ। এতে রাসায়নিক সারের উপর যেমন চাপ কমবে, তেমনি মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা পাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এদিকে, রাসায়নিক সারের এই চরম সংকটের সময়ে মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কেরু এন্ড কোম্পানি। চিনিকলে আখ মাড়াইয়ের সময় বের হওয়া উচ্ছিষ্ট বর্জ্য (প্রেসমাড) আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক উপায়ে প্রক্রিয়াজাত করে সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে উন্নত মানের জৈব সার উৎপাদন করছে কেরু। গুণগত মান অত্যন্ত ভালো এবং বাজারে প্রচলিত অন্য সারের তুলনায় দাম কম হওয়ায় ইতোমধ্যে কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে কেরুর এই জৈব সার। রাসায়নিকের খরচ বাঁচিয়ে টেকসই ও লাভজনক কৃষির নতুন এক দিগন্ত উন্মোচন করছে সরকারি এই উদ্যোগ।
কেরু এন্ড কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, চিনি উৎপাদনের পর যে আখ মাড়াইয়ের উচ্ছিষ্ট বর্জ্য বা প্রেসমাড তৈরি হয়, তা একসময় পরিবেশের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ ছিল। তবে সেই বর্জ্যকেই এখন গবেষণার মাধ্যমে রূপান্তর করা হচ্ছে মূল্যবান জৈব সারে, যার ব্র্যান্ড নাম দেওয়া হয়েছে ‘সোনার দানা’। সম্পূর্ণ ভেজালমুক্ত ও প্রাকৃতিক উপাদান সমৃদ্ধ হওয়ায় এই সার মাটির পানি ধারণক্ষমতা বাড়ায় এবং অণুজীবের কার্যকারিতা সচল রাখে।
দাম কম হওয়ায় ইতোমধ্যেই ব্যাপক সাড়া ফেলেছে সরকারিভাবে উৎপাদিত কেরুর এই জৈব সার। গুণগত মানে অনন্য হওয়ায় কেরুর জৈব সার খুব দ্রুতই জয় করে নিয়েছে কৃষকদের আস্থা। এই জৈব সার ব্যবহারে বেড়েছে ফসল উৎপাদন ও ফলন।
আকুন্দবাড়িয়া গ্রামের কৃষক আশাদুল হক বলেন, বাজারে ইউরিয়া, টিএসপি বা ডিএপি সারের জন্য যখন ডিলারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হচ্ছে, তখন কেরুর জৈব সার তাদের বড় ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক বস্তা রাসায়নিক সার কিনতে গেলে ২ হাজার ৫০০ টাকা বা ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। কিন্তু কেরুর জৈব সারের দাম কম। ৯০০ টাকা বস্তা। বিঘা প্রতি ২ বস্তা দিলেই যথেষ্ট। জমিতে এই জৈব সার ব্যবহারের ফলে রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরশীলতা আগের চেয়ে অনেক কমেছে। ফলে সংকটের এই সময়েও চাষাবাদের খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে।
একই গ্রামের কৃষক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, রাসায়নিক সারের পাশাপাশি কেরুর জৈব সার ব্যবহারের ফলে চাষাবাদ খরচ অনেক কমেছে। কেরুর জৈব সার জমিতে দেওয়ার পর শাকসবজি ও ফসলের ফলন বেশ ভালো হচ্ছে। রাসায়নিক সার বেশি ব্যবহার করলে অনেক সময় ফসলের ক্ষতি হয়। তবে, কেরুর জৈব সারের কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই।
কেরু এন্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান বলেন, কেরুর জৈব সার ইতোমধ্যে কৃষকদের আস্থা অর্জন করতে পেরেছে। মিলস গেটে এক কেজির প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে ২৩ টাকায় আর ৫০ কেজির বস্তা বিক্রি হচ্ছে ৯০০ টাকায়। ২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন জৈব সার উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে কেরুর। এ বছর প্রায় ৪ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। আগামী বছর ৫ হাজার মেট্রিকটন উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য কাজ করা হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষি বিভাগ বলছে, মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাসায়নিক সারের পাশাপাশি জৈব সার ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, বছরের পর বছর শুধু রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে দেশের অধিকাংশ অঞ্চলের মাটির ‘অর্গানিক ম্যাটার’ বা জৈব পদার্থের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য কেরুর জৈব সার একটি চমৎকার ও টেকসই বিকল্প। জমিতে এই সার ব্যবহারে রাসায়নিক সারের ওপর যেমন বাড়তি চাপ কমবে, তেমনি রক্ষা পাবে মাটির চিরন্তন স্বাস্থ্য ও পরিবেশ।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নূরুল ইসলাম বলেন, মাটির উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে রাসায়নিকের পাশাপাশি জৈব সার ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এতে রাসায়নিক সারের ওপর যেমন চাপ কমবে, তেমনি রক্ষা পাবে মাটির টেকসই গুণাগুণ।
দেশে রাসায়নিক সার সংকটে স্বল্প দামের কেরুর জৈব সার যেন এক আশির্বাদ। সংকট মোকাবিলায় ও পরিবেশবান্ধব কৃষির প্রসারে কেরুর জৈব সারের উৎপাদন ও সরবরাহ দেশব্যাপী আরও গতিশীল করার দাবি কৃষকদের।
উপআঞ্চলিক স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া সমিতির উদ্যোগে ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে খুলনা জিলা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার মো: আবদুল্লাহ হারুন।
প্রধান অতিথি বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি একটি মেধাবী ও সুস্থ জাতি গঠনে শিক্ষার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে ক্রীড়া ও স্বাস্থ্য শিক্ষা। শারীরিক সুস্থতা ও সুন্দর দেহ গঠনের পাশাপাশি মানুষের মন এবং মস্তিষ্ককে সচল ও প্রাণবন্ত রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। তাই তরুণ সমাজকে সুনাগরিক ও আগামী দিনের যোগ্য নেতা হিসেবে গড়ে তুলতে পড়ালেখার পাশাপাশি মাঠের ক্রীড়াঙ্গনে তাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই প্রতিযোগিতায় খুলনা বিভাগের ১০টি জেলার বাছাইকৃত ক্রীড়াবিদরা অংশ নিয়েছেন। এখান থেকে যারা সফল ও বিজয়ী হবেন, তারা পরবর্তীতে জাতীয় পর্যায়ের মূল প্রতিযোগিতায় খেলার যোগ্যতা অর্জন করবেন। খুলনা অঞ্চল ক্রীড়াবিদ তৈরির একটি উর্বর ভূমি। এখানে অনেক দক্ষ ক্রীড়াবিদ রয়েছেন এবং এই আয়োজন থেকে আগামীতে দেশের জন্য আরও বড় বড় ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব বেরিয়ে আসবে। একই সাথে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া সকল ক্রীড়াবিদকে নিজেদের সর্বোচ্চ নৈপুণ্য ও প্রতিভা প্রকাশ করার আহবান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, জেলা শিক্ষা অফিসার এস এম ছায়েদুর রহমান ও জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ফারুকুল ইসলাম। এতে সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা খুলনা অঞ্চলের উপপরিচালক মো: কামরুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে খুলনা বিভাগের ১০ জেলার জেলা শিক্ষা অফিসার, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। বিভাগের ১০ জেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক পর্যায়ের বিদ্যালয় থেকে বাছাইকৃত শিক্ষার্থীরা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।
মাগুরায় জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট -২০২৬ উপলক্ষ্যে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে মাগুরা জেলা প্রশাসক মোতাকাব্বীর আহম্মেদের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( সার্বিক) আব্দুল কাদের, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মোাঃ আরিফুল ইসলাম সরদার, মাগুরা প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক সাইদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক, জেলা ক্রীড়া অফিসার বিএম সাজিন ইসরাত, ফুটবল কোচ ইউনুস আলী ও বাংলাদেশ বেতারের ধারাভাষ্যকার প্রদ্যুৎ কুমার রায় প্রমুখ।
সভায় মাগুরা জেলা প্রশাসক মোতাকাব্বীর আহাম্মেদ বলেন, আনন্দ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে আগামী ২ অক্টোবর শুক্রবার দুপুর আড়াইটায় মাগুরা জেলা স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ এর উদ্বোধন হবে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী এ টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করবেন বলে সম্মতি প্রদান করেছেন।
পাশাপাশি এ টুর্নামেন্টে বিশেষ অতিথি থাকবেন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খানসহ অন্যরা। টুর্নামেন্ট উপলক্ষে আমাদের সকল প্রস্তুতি চলমান। টুর্নামেন্টে মাগুরা সদর উপজেলা, মোহাম্মদপুর উপজেলা, শ্রীপুর উপজেলা, শালিখা উপজেলা, মাগুরা পৌরসভা ও মাগুরা জেলা পুলিশ এ ৬ টি দল অংশ নেবে।
টুর্নামেন্টকে সফল করতে চার উপজেলার হাট বাজারে মাইকিং এর সাহায্যে প্রচার প্রচারণা চলমান রয়েছে। পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন স্থানে ব্যানার ফেস্টুন দেওয়া হয়েছে। আগামী ৯ অক্টোবর শুক্রবার এ টুর্নামেন্টের সমাপনী ঘটবে। জেলা ক্রীড়া সংস্থার ব্যবস্থাপনায় ডিএফএ মাগুরার সহযোগিতায় জেলা প্রশাসন মাগুরা এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছে।
মাগুরায় মাত্র ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে এক আবাসিক গ্রাহককে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকার অবাস্তব ও ভৌতিক বিল পাঠানোর ঘটনায় মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপককে (জিএম) তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার পর ভুক্তভোগী গ্রাহককে ব্যক্তিগতভাবে ফোন করে অনাকাঙ্ক্ষিত এই মারাত্মক ভুলের জন্য আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী আলেয়া খাতুনের নামে ‘এলটি-এ (আবাসিক)’ ক্যাটাগরিতে সেপ্টেম্বর মাসের এই বিদ্যুৎ বিলটি ইস্যু করা হয়েছিল। বিলের কপিতে দেখা যায়, ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচের বিপরীতে ডিমান্ড চার্জ দেখানো হয়েছে ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা, ভ্যাট ২৪ কোটি ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৭১ টাকা এবং মিটার ভাড়া ১০ টাকা যুক্ত করে মোট বিল নির্ধারণ করা হয় ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা; যা নির্ধারিত সময় পার হলে বিলম্ব মাশুলসহ ৫৩০ কোটি ৯৬ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ টাকায় পৌঁছাত। অথচ প্রকৃত হিসাব অনুযায়ী গ্রাহকের মোট বিল হওয়ার কথা ছিল মাত্র ১ হাজার ৯৬৩ টাকা।
ভৌতিক এই বিল হাতে পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে গ্রাহক আলেয়া খাতুন বলেছিলেন, ‘এটা শুধু ভুতুড়ে বিল নয়, আজগুবিও। বিদ্যুৎ বিভাগের খামখেয়ালিপনার কারণে গ্রাহকের দুশ্চিন্তা ও ভোগান্তি বাড়ছে। এ ধরনের ভুলের প্রতিকার হওয়া জরুরি।’ এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানায়, সম্প্রতি ওই গ্রাহকের মিটার পরিবর্তনের পর নতুন মিটারের সিল নম্বরটি অসাবধানতাবশত ডিমান্ড চার্জের ঘরে টাইপ করায় কম্পিউটারের হিসাবে এই বিপুল অঙ্কের বিল তৈরি হয়। পরে অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই বিলটি সংশোধন করে দেওয়া হয় এবং গ্রাহক সংশোধিত অর্থ ব্যাংকে জমা দেন। তবে দায়িত্বে চরম অবহেলা ও জনভোগান্তি সৃষ্টির দায়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
মাগুরায় মাত্র ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে এক আবাসিক গ্রাহককে ৫০৬ কোটি ৮০ লাখ ১১ হাজার ৯৫৯ টাকার অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল পাঠানোর ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কম্পিউটার ডেটা এন্ট্রির মারাত্মক ভুলের কারণে এমন ভৌতিক বিল তৈরি হয়েছিল বলে নিশ্চিত করেছে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। এ ঘটনায় দায়িত্বে চরম অবহেলা ও গাফিলতির দায়ে সংশ্লিষ্ট জোনাল কার্যালয়ের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজারসহ (ডিজিএম) চার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
শোকজপ্রাপ্তরা হলেন আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. রেজাউল করিম, বিলিং সুপারভাইজার সীমা রানী, বিলিং সহকারী সুমা রানী ঘোষ এবং মিটার রিডার কাম মেসেঞ্জার তোরাব আলী। তাঁদের সবাইকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে নোটিশের জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, মাগুরা সদর উপজেলার কেচুয়াডুবি গ্রামের বাসিন্দা মোছা. আলেয়া খাতুনের নামে সেপ্টেম্বর মাসের এই বিদ্যুৎ বিলটি ইস্যু করা হয়েছিল, যেখানে ২৩৫ ইউনিটের বিপরীতে ৫০৬ কোটি টাকার বেশি পরিশোধযোগ্য দেখানো হয়।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) গ্রাহক আলেয়া খাতুন বিলটি সংশোধনের জন্য শালিখা উপজেলার আড়পাড়া জোনাল অফিসে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মহিতুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি ওই গ্রাহকের মিটার পরিবর্তন করা হয়েছিল এবং বিল তৈরির সময় অসাবধানতাবশত ডিমান্ড চার্জের ঘরে নতুন মিটারের সিল নম্বরটি টাইপ করায় এ অস্বাভাবিক বিলটি তৈরি হয়। পরবর্তীতে বিলটি যাচাই-বাছাই শেষে দ্রুত সংশোধন করে প্রকৃত পাওনা ১ হাজার ৯৩৮ টাকা নির্ধারণ করা হলে গ্রাহক তা ব্যাংকে জমা দেন। তবে সাধারণ গ্রাহকদের বিল তৈরিতে এমন দায়িত্বহীন ভুলের ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অর্থাভাবে চিকিৎসকের কাছে যেতে পারেন না, প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনাও যাদের জন্য কঠিন—ভোলার এমন অসহায়, দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ। তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে ভোলা সদর উপজেলার নয়টি ইউনিয়নে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ করা হয়েছে। গত ১৯ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন ধাপে পরিচালিত এ কর্মসূচিতে কমপক্ষে ১০ হাজার মানুষ চিকিৎসাসেবা পেয়েছেন। রোগীদের চিকিৎসা দিতে ঢাকা থেকে আনা হয়েছিল দেশের স্বনামধন্য নয়জন চিকিৎসককে।
আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল অর্থাভাবে যেন কোনো মানুষ প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা ও মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত না হন। প্রত্যন্ত এলাকার নারী-পুরুষ, শিশু, মধ্যবয়সী ও প্রবীণ রোগীরা চিকিৎসকের পরামর্শের পাশাপাশি বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ পেয়েছেন। চিকিৎসার খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকা অনেক পরিবারের কাছে এই উদ্যোগ হয়ে উঠেছে স্বস্তির উপলক্ষ।
চিকিৎসা পেয়ে আবেগাপ্লুত রোগীরা: গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ভোলা সদর উপজেলার উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নে আয়োজিত মেডিকেল ক্যাম্পে সকাল থেকেই রোগীদের ভিড় বাড়তে থাকে। কারও হাতে ছিল পুরোনো ব্যবস্থাপত্র, কারও মুখে দীর্ঘদিনের অসুস্থতার ছাপ। কেউ নিজের চিকিৎসার জন্য এসেছেন, কেউ আবার পরিবারের অসুস্থ সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে হাজির হয়েছেন। চিকিৎসকের সামনে বসে নিজের শারীরিক সমস্যার কথা বলা এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ পাওয়াই যেন অনেকের কাছে বড় স্বস্তি হয়ে উঠেছিল।
ওই দিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ক্যাম্পে কথা হয় উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নের ষাটোর্ধ্ব অসুস্থ নারী রহিমা বেগমের সঙ্গে। বিনামূল্যে চিকিৎসা নিয়ে ওষুধের প্যাকেট হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, ‘অসুস্থ শরীর নিয়ে অনেকদিন কষ্ট করেছি। টাকার অভাবে ডাক্তার দেখাইতে পারতামনা। আজ আমাগো ছেলে পার্থ’র উছিলায় বিনামূল্যে ডাক্তার দেখাইতে পারছি। এমন ব্যবস্থা করার জন্য আল্লায় বাজানরে ভালা রাখুক।’
একই গ্রামের সত্তরোর্ধ্ব ছলেমান মাঝিও চিকিৎসাসেবা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমার এ জীবনে বহু নেতা দেখছি; ভোটের আগে আমাগরে আদর করে; মিষ্টি কতা কয়, তহন কিছু টেকা দেয়। ভোট হ-য়া গেলে আর কোনোদিন চোহে দেহিনা নেতাগোরে। কিন্তু আমরা মানুষের সেবা করতে একসময় পাইছিলাম গরিবের বন্ধু মঞ্জু মিয়ারে; এহন পাইলাম তার ছেলে পার্থ মিয়াকে।’
ছলেমান মাঝি আরও বলেন, মানুষের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে এসে পার্থ তাদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে মিশেছেন। তার ভাষায়, ‘আমাগো শরীর স্বাস্থ্যের খোঁজ নিতে আইসা এ মানুষটা নিজেরে বিলায়া দিছেন; কোনো অহঙ্কার নাই, দেমাগ নাই; পার্থ যেনো আমাগো মতই একজন সাদাসিদা মানুষ। কি সুন্দর কইরা কতা কয়; আমাগোরে জরায়া ধরে; মাথায় হাত বুলায়া দেয়, তহন যেন পরানডা জুড়ায়া যায়।’
রহিমা বেগম ও ছলেমান মাঝির মতো একই গ্রামের ছাদেক মাঝি, অজুফা খাতুন, মনোয়ারা বেগম, কানাই লাল, সম্ভূনাথ গোয়ালা এবং অসুস্থ মাদরাসাশিক্ষক মো. আব্দুর রহমানসহ অনেকেই এই ক্যাম্প থেকে চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। তাদের অভিজ্ঞতায়, বিনামূল্যের এই আয়োজন কেবল চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ নয়; বরং অসুস্থতা ও আর্থিক সংকটের সময়ে পাশে কাউকে পাওয়ার একটি উপলক্ষ।
নয় ইউনিয়নে তিন ধাপে চিকিৎসাসেবা: মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজক বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) ভোলা জেলা সভাপতি মো. আমিরুল ইসলাম রতন বলেন, ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ পারিবারিকভাবেই মানবসেবায় বিশ্বাসী। তার বাবা মরহুম নাজিউর রহমান মঞ্জুর মতো পার্থও সারা বছর মানুষের জন্য মৌলিক সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
তিনি জানান, চিকিৎসকেরা রোগীদের শুধু ব্যবস্থাপত্র ও ওষুধ দেননি; রোগের কারণ, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ সেবনের নিয়ম এবং স্বাস্থ্যসচেতনতা সম্পর্কেও পরামর্শ দিয়েছেন। এর ফলে রোগীরা নিজেদের শারীরিক সমস্যা সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার পাশাপাশি পরবর্তী চিকিৎসার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও পেয়েছেন।
গত শনিবার ছিল মেডিকেল ক্যাম্পের তৃতীয় ধাপ। ওই দিন সদর উপজেলার আলীনগর, উত্তর দিঘলদী ও দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নে একযোগে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সকাল থেকে আয়োজিত এসব ক্যাম্পে তিন ইউনিয়নের কয়েক হাজার নারী-পুরুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, প্রয়োজনীয় ওষুধ, স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভোলা জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক মোতাসিম বিল্লাহসহ দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারা।
মেডিকেল ক্যাম্পে দায়িত্ব পালন করা চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, পুরুষ রোগীদের মধ্যে পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া অনেক রোগী ডায়াবেটিস, অ্যালার্জি এবং প্রোস্টেটের সমস্যাসহ বিভিন্ন ধরনের শারীরিক জটিলতা নিয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছেন।
ক্যাম্পের চিকিৎসক ডা. জান্নাতুল মাওয়া জানান, গ্রামের নারীদের মধ্যে নানা ধরনের স্বাস্থ্যসমস্যা দেখা গেছে। কেউ গর্ভধারণজনিত জটিলতায় ভুগছেন, কেউ নানা শারীরিক সমস্যা নিয়ে এসেছেন, আবার কেউ বার্ধক্যজনিত রোগের কারণে এসেছেন। এসব সমস্যা গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে। বিশেষ করে যাদের পক্ষে নিয়মিত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া কিংবা প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনা কঠিন, তাদের জন্য এ ধরনের উদ্যোগ চিকিৎসা নেওয়ার একটি সুযোগ তৈরি করেছে।
এ বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ সাংবাদিকদের বলেছেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই এ ধরনের উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। অর্থের অভাবে যেন কোনো মানুষ প্রয়োজনীয় মৌলিক অধিকার ও প্রাথমিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্যেই বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি জানান, ইতোমধ্যে ভোলা সদর উপজেলার নয়টি ইউনিয়নের মানুষ এই কর্মসূচির আওতায় চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ পেয়েছেন। পর্যায়ক্রমে ভোলা পৌরসভাসহ আরও তিনটি ইউনিয়নে এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।
নিজের উদ্যোগের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে পার্থ বলেন, মানুষের জন্য এ ধরনের সেবামূলক কার্যক্রমের পেছনে রয়েছে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের প্রত্যাশা। এখানে শুধু ওষুধ বিতরণ করা হয়নি; মানুষের কষ্টকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ানোরও চেষ্টা করা হয়েছে।
ভোলার সিভিল সার্জন ডা. মনিরুল ইসলাম বলেছেন, একজন দরিদ্র মানুষের হাতে বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ পৌঁছে দেওয়া কেবল ওষুধ বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে আশার আলো। অসুস্থ মায়ের মুখে স্বস্তি, বৃদ্ধ বাবার চোখে কৃতজ্ঞতা কিংবা অসহায় পরিবারের মনে কিছুটা নিশ্চিন্ত হওয়ার অনুভূতি—এসবের মধ্যেই মানবিকতার প্রকৃত সৌন্দর্য প্রকাশ পায়।
দেশে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ১০৪টি শিশু মারা গেছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ১ হাজার ৩টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে ১০১টি শিশু।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ১০১টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ২৫৫ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৯০ হাজার ৫১০, আর পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৩৯২ জনে।
এছাড়া, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৬৮ হাজার ৬৫৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৬১ হাজার ৭৯৮ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার কাশীপুরে একটি মহিলা মাদ্রাসায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দগ্ধ পাঁচ শিক্ষার্থীর মধ্যে আতিয়া আক্তার রিমা (১১) নামের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত আতিয়া নাটোর সদর উপজেলার আতাউর রহমান ও নাসিমা বেগমের মেয়ে।
আতিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন মো. সুলতান মাহমুদ সিকদার। তিনি বলেন, ‘আতিয়ার শরীরের ৪৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। দগ্ধ আরও দুই শিক্ষার্থীর অবস্থা আশঙ্কাজনক।’
জানা যায়, গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার দিকে ফতুল্লার কাশীপুরের একটি মহিলা মাদ্রাসায় বৈদ্যুতিক তার বিচ্ছিন্ন হয়ে পাঁচ নারী শিক্ষার্থী বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দগ্ধ হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।
দগ্ধ অন্য শিক্ষার্থীরা হলো- জিদনী (১৪), লামিয়া (১৩), সুমাইয়া (১৩) ও আছিয়া (১২)। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দগ্ধদের মধ্যে জিদনীর শরীরের ৮২ শতাংশ, লামিয়ার ৫৫ শতাংশ, সুমাইয়ার ১৩ শতাংশ এবং আছিয়ার ৭ শতাংশ পুড়ে গেছে।
ইতালিতে ভালো ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখিয়ে বাংলাদেশ থেকে মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হতো লাখ লাখ টাকা। কিন্তু তাদের নিয়ে যাওয়া হতো শ্রীলঙ্কা, মিসর বা অন্য কোনো দেশে। সেখানে আটকে রেখে করা হতো অকথ্য নির্যাতন, বাধ্য করা হতো দেহব্যবসায়। অবশেষে আন্তর্জাতিক এই মানবপাচার চক্রের অন্যতম মূলহোতা মোহাম্মদ আরজু রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এসআরবি-৪ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান এ তথ্য জানান।
এর আগে গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর বনানীর সি ব্লক এলাকা থেকে এসআরবি-৪ ও এসআরবি-১ এর যৌথ অভিযানে আরজুকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এসআরবি জানায়, ঘটনার সূত্রপাত গত ১৬ জুলাই। মিসর থেকে কামরুন নাহার ফাতেমা নামের এক ভুক্তভোগী এনএসআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি জানান, ইউরোপে নেওয়ার কথা বলে তাকে মিসরে আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে এসআরবি জানায়, ফাতেমা ও তার পরিবারের মোট পাঁচজন সদস্যকে ইতালি নিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিয়ে ৮৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় আরজু। প্রথমে বলা হয় বাংলাদেশ থেকে সরাসরি ভিসা পাওয়া সম্ভব নয়, তাই তাদের শ্রীলঙ্কায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের ওপর নির্যাতন শুরু হলে কোনোমতে পালিয়ে দেশে ফেরত আসেন পরিবারের তিন পুরুষ সদস্য। কিন্তু আটকা পড়েন ফাতেমা ও আঞ্জুমান আরা নামের দুই নারী।
আঞ্জুমান আরা শ্রীলঙ্কাতেই পালিয়ে কোনোমতে আত্মগোপনে থাকেন, আর ফাতেমাকে ইতালির মিসরীয় দূতাবাস থেকে ভিসা করানোর মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে মিসরে নিয়ে যাওয়া হয়। মিসরে নিয়ে যাওয়ার পর ফাতেমার ওপর নেমে আসে চরম নির্যাতন। সেখানে তাকে বাধ্য করা হয় দেহব্যবসায়ে। তিনি এতে রাজি না হওয়ায় শরীরে সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়াসহ চালানো হয় ভয়াবহ শারীরিক অত্যাচার।
১২ বছরে ২ হাজার মানুষকে পাচার: এসআরবি জানায়, গ্রেপ্তার আরজু গত ১২ বছর ধরে এই পাচারকাজের সঙ্গে যুক্ত এবং সে এ পর্যন্ত দুই হাজারেরও বেশি সরল-সহজ মানুষকে ইউরোপের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন দেশে পাচার ও বিক্রি করে দিয়েছে। সে ‘আরজু ইমিগ্রেশন লিমিটেড’ ও ‘নাফিস এয়ার ইমিগ্রেশন লিমিটেড’ নামের ভুয়া নাম ব্যবহার করত, যদিও তার নিজস্ব কোনো বৈধ লাইসেন্স নেই। আরজুর ব্যবহৃত মোবাইলে পাওয়া ব্যাংক স্টেটমেন্টে গত এক বছরে প্রায় এক কোটি ৭০ লাখ টাকার বেশি আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
দীর্ঘদিন ধরে মিসরে অবস্থান করা আরজু ৩-৪ দিন আগে বাংলাদেশে আসে এবং অতি সম্প্রতি পুনরায় মিসরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিল। এনএসআই ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ট্র্যাকিং এবং গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বনানী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শ্রীলঙ্কা থেকে পালিয়ে আসা তিন ভুক্তভোগী ইতোমধ্যে ভাটারা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। সেই মামলায় আরজুকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ভাটারা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়া ভুক্তভোগীরা যোগাযোগের পর দেশের বিভিন্ন থানায় আরজুর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ দায়ের করেছেন বলেও জানিয়েছে এসআরবি।
এসআরবি-৪ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান জানান, শ্রীলঙ্কায় আত্মগোপনে থাকা আঞ্জুমান আরা এবং মিসরে থাকা কামরুন নাহার ফাতেমাকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।