রোববার, ৩ মার্চ ২০২৪

শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ডিভাইস ব্যবহারে আটক ৪

ছবি: দৈনিক বাংলা
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
প্রকাশিত
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ৮ ডিসেম্বর, ২০২৩ ১৫:৪৫

ঠাকুরগাঁওয়ে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় কেন্দ্রে ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করার অভিযোগে চার যুবককে আটক করেছ পুলিশ।

শুক্রবার পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে আটক হন তারা।

আটকরা হলেন, রাণীশংকৈল উপজেলার বাজে বকশা গ্রামের শ্রী টংকনাথ বর্মণ। তিনি পুলিশ লাইন স্কুল এন্ড কলেজ থেকে আটক হন। একই উপজেলার আলশিয়া গ্রামের সোহানুর রহমান। তিনি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে আটক হন। বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার আলোকসিপি আনোয়ার খালিদ সরকারি কলেজ কেন্দ্র থেকে আটক হন। পীরগঞ্জ উপজেলার পাটুয়া পাড়া গ্রামের ওমর ফারুক কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজ থেকে আটক হন।

এছাড়াও পরীক্ষা কেন্দ্রে অবৈধভাবে ও এমআর সিট নিয়ে প্রবেশ করায় তিন নারী পরীক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ।

ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ কবির এসব তথ্য নিশ্চিৎ করেছেন।

তারা হলেন, পীরগঞ্জ উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামের মোছা: আর্জিনা। বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার হরিণমারি গ্রামের হাসনা হেনা ও সদর উপজেলার রুহিয়া মধুপুর গ্রামের একজন একই কেন্দ্র থেকে আটক হন।

ওসি জানান, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় চারজন ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার ও অবৈধভাবে ওএমআর সিট নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ ও ব্যবহার করার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ তাদের পুলিশে সোপর্দ করে। বিষয়টি নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

বিষয়:

ড. ইউনূসকে ৫০ কোটি টাকা কর জমা দিয়ে আপিল করতে হবে : হাইকোর্টের রায়

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৪:৫৬
বাসস

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ টেলিকম ট্রাস্টকে ৫০ কোটি টাকা জমা দিয়ে ২০১১ থেকে ২০১৩ করবর্ষের আয়কর আপিল দায়ের করার নির্দেশ দিয়ে রায় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের স্বাক্ষরের পর ২৪ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশ করা হয়েছে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ইউনূসের গ্রামীণ টেলিকম ট্রাস্টকে ৫০ কোটি টাকা জমা দিয়ে ২০১১ থেকে ২০১৩ করবর্ষের আয়কর আপিল দায়ের করার নির্দেশ দেন হাইকোর্টের এই ডিভিশন বেঞ্চ।

২০২০ সালের নভেম্বরে ২০১১ থেকে ২০১৩ দুই বছরের প্রায় ২৫০ কোটি টাকা আয়কর দাবি করে গ্রামীণ কল্যাণ ট্রাস্টকে নোটিশ পাঠায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। গ্রামীণ টেলিকম এই নোটিশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন। রিটের শুনানি নিয়ে নোটিশ কেন বেআইনি বলা হবে না- এ প্রশ্নে রুল জারি করেন উচ্চ আদালত।

সহকারী এটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার তাহমিনা পলি জানান, ২০২০ সালে নভেম্বরে ২০১১ থেকে ২০১৩ দুই বছরের প্রায় ২৫০ কোটি টাকা আয়কর দাবি করে গ্রামীণ কল্যাণ ট্রাস্টকে নোটিশ পাঠায় এনবিআর। এরপর এনবিআর এর কাছে গ্রামীণ কল্যাণ ট্রাস্ট অর্থ নেই বলে মওকুফ চায়। ওই আবেদন এনবিআর নাকচ করার পর তারা আয়করের টাকা মওকুফ চেয়েছিলেন। কিন্তু তখন তাদের একটি অ্যাকাউন্টেই প্রায় ৩৫০ কোটি থেকে ৪০০ কোটি টাকার মতো ছিল। কিন্তু অ্যাকাউন্টে অর্থ রয়েছে জানিয়ে এনবিআর অর্থ চেয়ে নোটিশ করে। কিন্তু গ্রামীণ টেলিকম সেই নোটিশ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করে। রিটের শুনানি নিয়ে নোটিশ কেন বেআইনি বলা হবে না, এ নিয়ে রুলও জারি করেন আদালত। এরপর গত তিন বছরে বিভিন্ন আদালত ঘুরে মামলাটি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে আসে। সেটি শুনানি শেষে গ্রামীণ টেলিকমের রিট আবেদন খারিজ করেন উচ্চ আদালত। সেই সঙ্গে গ্রামীণ টেলিকমকে আদেশ দেন নিয়ম অনুযায়ী দাবি করা আয়করের ২৫ শতাংশ টাকা আগে জমা দিয়ে এরপর এনবিআরের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করতে।

বিষয়:

পিকে হালদারদের মামলার শুনানি ফের পেছালো

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশের রায়ের কপি ভারত না পেলে এগোবে না পিকের মামলা ভারতে বন্দি প্রশান্ত কুমার (পিকে) হালদারদের মামলার শুনানি ফের পেছালো। পিকের আইনজীবী মিলন মুখার্জি অনুপস্থিত থাকার কারণে হালদারদের পরবর্তী শুনানি ১৫ মার্চ ধার্য করেছে, সিবিআই -১ কক্ষের বিচারক প্রসন্ন মুখোপাধ্যায়।

বুধবার পিকে সহ ৬ অভিযুক্তদের কলকাতার ব্যাঙ্কশাল কোর্টে নির্দিষ্ট সময় তোলা হয়। বিচারক ও ইডির আইনজীবীও উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও মিলন মুখার্জী আদালত কক্ষে উপস্থিত হতে পারেননি। পরে মিলনের সহকারী আইনজীবী বিশ্বজিত মান্না বিচারকে পরবর্তীত দিনের অনুরোধ করে। সবশুনে বিচারক ১৫ মার্চ পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন।

যদিও ইডির আইনজীবী অরিজিত চক্রবর্তী এদিন বলেন, অভিযুক্তর আইনজীবীর অনুপস্থিতের চেয়ে বড় বিষয় হলো, এ মামলার গতিপ্রকৃতি নির্ভর করছে বাংলাদেশের রায়ের কপির উপরে। যতদিন তা ভারতের আদলতে না আসছে ততদিন মমলা বিলম্ব হতেই থাকবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে মামলার অর্ডার হয়েছে। কিন্তু, রায়ের আনুষ্ঠানিক (ডিক্রি কপি) সিদ্ধান্ত হয়নি। যে কারণে, কলকাতায় বিলম্ব হচ্ছে পিকের আনুষ্ঠানি বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যেতে। মূলত, ডিক্রি কপির উপরই আসামিকে সাজা দেওয়া হয়ে থাকে। ওই নথি না থাকলে আসামিকে সাজা দেওয়া যায় না। সেই ডিক্রি কপি বাংলাদেশে হয়নি। এবং সে কারণে কপির প্রতিলিপি ভারতে এসে পৌছায়নি। যা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

কিন্তু পিকে গ্রেপ্তার হয়েছে ভারতীয় তদন্তকারীর হাতে। হালদাররা বন্দি আছেন ভারতে জেল হেফাজতে। তাহলে বাংলাদেশের রায়ের ওপর কেন নির্ভর করতে হচ্ছ? উত্তরে অরিজিত বলেছেন, তাদের বিরুদ্ধে 'প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট-২০০২’ অর্থাৎ অবৈধভাবে অর্থপাচার এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে আওতায় ছ’জনকে গ্রেফতার করেছিল ইডি। এবং আদালতে প্রমাণিত সে অর্থ বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে আনা হয়েছে। পাশাপাশি পিকে বাংলাদেশি নাগরিক, তাও আদালতে প্রমাণিত এবং তাদের বাংলাদেশে সাজার অর্ডার হয়েছে। ফলে সেই কপি আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের কোন গ্রাউন্ডে বাংলাদেশ সাজা ঘোষণা করছে। এটা আমাদের কাছে জরুরি।

এ বিষয়ে সহমত প্রকাশ করেছে, হালদারদের আইনজীবী বিশ্বজিৎ মান্না। তিনি বলেন, এ কপি উপর আমাদেরও অনেকখানি নির্ভর করছে।

ফলে ভারতে মামলার গতিপ্রকৃতি অনেকটাই নির্ভর করছে বাংলাদেশের রায়ের কপির উপরে। যদিও ইডি সূত্রে জানা যাচ্ছে, হালদারদের ভারতে যে মামলা দেওয়া হয়েছে, তাতে সর্বোচ্চ সাত বছরের সাজা হতে পারে। সেক্ষেত্রে পিকেদের দু'বছর জেল হেফাজতে কেটেই গেছে। বাকি থাকলো পাঁচ বছর। সেই মেয়াদ শেষ হলেই বাংলাদেশে তাদের পুশব্যাক করা হতে পারে। কারণ এটা প্রমাণিত যে তারা বাংলাদেশি।

২০২২ সালের ১৪ মে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার বৈদিক ভিলেজ থেকে হালদারদের গ্রেফতার করে ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এরপর থেকে সেখানেই বন্দি রয়েছেন হালদাররা। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে অর্থপাচার এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে আওতায় ছ’জনকে গ্রেফতার করেছিল ইডি। বর্তমানে পিকে হালদার ও ৫ সহযোগীকে রাখা হয়েছে কলকাতার প্রেসিডেন্সি জেলে এবং নারী সহযোগী আমিনা সুলতানা আছেন কলকাতার আলিপুর সংশোধনাগারে।


১৪ বছরের কারাদণ্ড বহালই থাকল ডিআইজি মিজানের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৪:২১
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

গত বছরের ২১ জুন জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় বরখাস্ত হওয়া পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। পরে এ রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন ডিআইজি মিজান। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের সেই মামলায় বরখাস্ত হওয়া পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানের ১৪ বছরের কারাদণ্ড বহালই রেখেছেন হাইকোর্ট।

আজ বুধবার বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। আদালতে দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান। এ ছাড়া এই মামলায় মিজানুর রহমানের স্ত্রী, ভাই ও ভাগনেকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬-এর বিচারক মঞ্জুরুল ইমাম এ রায় ঘোষণা করেন।


বিচারককে মন ও মননে স্বাধীন হতে হবে : বিচারপতি বোরহান উদ্দিন

আপডেটেড ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৭:৩৯
বাসস

সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি বোরহান উদ্দিন বলেছেন, ‘স্বাধীনভাবে বিচারকার্য পালনের জন্য বিচারককে মন ও মননে স্বাধীন হতে হবে।’

আপিল বিভাগের ১ নম্বর বিচারকক্ষে এক বিদায়ী সংবর্ধনায় আজ এ কথা বলেন বিচারপতি বোরহান উদ্দিন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সংবিধান দেশের সর্বোচ্চ আইন। নির্বাহী বিভাগ, আইনসভা ও বিচার বিভাগ একে অপরের পরিপূরক। তা সত্ত্বেও বিচার বিভাগের দায়িত্ব সংবিধানের অভিভাবক হিসেবে অনন্য। কারণ, আইনসভা প্রণীত কোনো আইন সংবিধানের সঙ্গে অসামঞ্জস্য কি না, তা দেখার অধিকার বিচার বিভাগের। পাশাপাশি নির্বাহী বিভাগের কোনো কার্যকলাপ সংবিধানের তৃতীয় ভাগে বর্ণিত মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, তা দেখার ক্ষমতা বিচার বিভাগের। এ কারণেই বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অপরিহার্য।’

বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘সুশাসন তথা আইনের শাসন নিশ্চিত করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা। একই সঙ্গে এ কথাও অত্যন্ত ঠিক যে বিচারিক স্বাধীনতা অনেকাংশে নিশ্চিত করে বিচারকের অন্তরের স্বাধীনতা। স্বাধীনভাবে বিচারকার্য পালনের জন্য বিচারককে মন ও মননে স্বাধীন হতে হবে। বিচারককে নিজের স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখতে হবে।’

সাংবিধানিক আদালতকে দেশের সর্বোচ্চ আদালত হিসেবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর হতে হবে বলেও মন্তব্য করেন বিচারপতি বোরহান উদ্দিন।

বিদায়ী সংবর্ধনায় আইনজীবীদের উপস্থিতিতে আদালতকক্ষ কানায় কানায় পূর্ণ ছিল। প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও আপিল বিভাগের অপর চার বিচারপতি এ সময় বেঞ্চে ছিলেন।

আপিল বিভাগে বসে আজ শেষ দিনের মতো বিচারকাজে অংশ নিয়েছেন বিচারপতি বোরহান উদ্দিন। আপিল বিভাগের এজলাস কক্ষে তাকে এটর্নি জেনারেল কার্যালয় ও সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেয়া হয়।

৬৭ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী বিচারিক জীবন শেষে অবসরে যাচ্ছেন বিচারপতি বোরহান উদ্দিন। ২০২২ সালের ৯ জানুয়ারি বিচারপতি বোরহান উদ্দিনকে আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।

এর আগে ২০০৮ সালের ১৬ নভেম্বর হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। দুই বছর পর ২০১০ সালের ১১ নভেম্বর হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারক হন বিচারপতি বোরহান উদ্দিন।

বিষয়:

মামলা চলবে পরীমনির

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চিত্রনায়িকা পরীমনি ওরফে শামসুন্নাহার স্মৃতির বিরুদ্ধে করা মাদক মামলা বাতিল প্রশ্নে জারি করা রুল পর্যবেক্ষণসহ নিষ্পত্তি করে দিয়েছে হাইকোর্ট। এর ফলে পরীমনির বিরুদ্ধে বিচারিক আদালতে মামলা চলতে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ রায় দেয়।

আদালতে পরীমনির পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না ও শাহ মনজুরুল হক।

পরীমনির বাসা থেকে এলএসডিসহ নানা ধরনের মাদক জব্দ করা হয়েছিল, পাওয়া যায় অ্যালকোহলও। তবে অ্যালকোহল সেবনের লাইসেন্স ছিল এই চিত্রনায়িকার।

বৃহস্পতিবারের রায়ে বলা হয়েছে, এলএসডিসহ জব্দ অন্য মাদকের বিচার চলবে। আর অ্যালকোহল সম্পর্কে মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ে উল্লেখ করা হবে।

আদালত জানায়, তার ঘর থেকেই এই মাদক উদ্ধার করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।

এ বিষয়ে পরীমনির আইনজীবী বলেন, ‘মামলা বাতিল প্রশ্নে জারিকৃত রুল পর্যবেক্ষণসহকারে নিষ্পত্তি করে এ রায় দিয়েছে উচ্চ আদালত। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হলে বিস্তারিত বোঝা যাবে।’

২০২১ সালের ৪ আগস্ট বিকেলে রাজধানীর বনানীর ১২ নম্বর সড়কে পরীমনির বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব। এ সময় ওই বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় আনা মামলায় কারাবরণ করে জামিনে মুক্তি পান এই নায়িকা। মামলায় অপর দুই আসামি হলেন-পরীমনির সহযোগী আশরাফুল ইসলাম দিপু ও মো. কবীর হাওলাদার।

একই বছরের ৪ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক কাজী গোলাম মোস্তফা পরীমনিসহ তিনজনের নামে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের সংশ্লিষ্ট থানার জিআর শাখায় চার্জশিট জমা দেন। মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়।

২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০-এর বিচারক নজরুল ইসলাম তিনজনের অভিযোগ গঠন করে আদেশ দেন। পরে মামলা বাতিলে হাইকোর্টে আবেদন করেন পরীমনি।

গত বছরের ১ মার্চ আবেদনের শুনানি নিয়ে মামলা কেন বাতিল করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে হাইকোর্ট। পাশাপাশি মামলার কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দেয় উচ্চ আদালত।


বমি পার্টির 'গুরু' চোরা স্বপন গ্রেপ্তার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর তেজগাঁও থেকে ছিনতাইয়ের অভিযোগে মো. স্বপন ওরফে চোরা স্বপন (৫২) নামে এক ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার ফার্মগেট খামারবাড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে একটি ছুরি এবং ছিনতাই করা ৮০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
বাসে উঠে যাত্রীদের ওপর কৃত্রিম বমি করে যারা ছিনতাই করে তাদের কাছে 'গুরু স্বপন' নামে পরিচিত চোরা স্বপন। তার বাড়ি বরিশালের কাজিরহাট থানার সন্তোষপুর গ্রামে।
বুধবার তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন দৈনিক বাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার স্বপন চিহ্নিত ছিনতাইকারী। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে ১০ টি মামলা রয়েছে। তিনি একসময় চুরি করতেন। চুরির অভিযোগে বেশ কয়েকবার আটকও হয়েছেন। এ কারণে তাকে গ্রামে সবাই চোরা স্বপন নামেই চিনে। গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় এসে তিনি ছিনতাই শুরু করেন। প্রথমে অন্য দলের সাথে থাকলেও পরে তিনি নিজেই 'বমি পার্টি' তৈরী করেন।
ওসি বলেন, তার দলের সদস্যরা বিভিন্ন বাসে উঠেন। বাসে প্রথমে কৃত্রিম জটলা তৈরি করেন। এরপর কেউ একজন কৃত্রিম বমি করেন। বমি করার পর বাসের মধ্যে হৈ-হুল্লোড় শুরু হয়। এই সুযোগে গ্রুপের অন্য সদস্যরা যাত্রীর মোবাইল, মানিব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যান। তারা যে বমি করেন তা কৃত্রিম। চকলেট ও পানির বিশেষ মিশ্রণে এই কৃত্রিম বমি করা হয়। কৃত্রিম এই বমি সবাই করতে পারে না। এই বমি করার প্রশিক্ষণ দেন স্বপন। তাই তাকে ছিনতাইকারী দলের সদস্যরা গুরু স্বপন নামে ডাকেন।
মোহাম্মদ মহসীন আরও বলেন, গত মঙ্গলবার ফার্মগেট এলাকায় একটি বাসে স্বপন তার দলের দুই সদস্য নিয়ে উঠেন। পরে তারা বমি করে ছিনতাইয়ের চেষ্টা করলে যাত্রীরা দেখে ফেলেন। এসময় দুইজন পালিয়ে গেলেও স্বপনকে আটক করা হয়। পরে পুলিশ আটক স্বপনের কাছ থেকে একটি ছুরি ও ৮০ হাজার টাকা উদ্ধার করে।


শিশু আয়ানের মৃত্যু: তদন্তে নতুন কমিটি গঠন করে দিলো হাইকোর্ট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাসস

রাজধানীর সাতারকুলে ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সুন্নতে খৎনার জন্য অজ্ঞান করা শিশু আয়ান আহমেদের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে নতুন কমিটি গঠন করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. আতাবুল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ আজ এ আদেশ দেন।

কমিটিতে তিনজন চিকিৎসক, দুইজন সিভিল সোসাইটির ব্যক্তি ও একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপককে রাখা হয়েছে। কমিটি এক মাসের মধ্যে আয়ানের মৃত্যুর পুরো ঘটনা তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করবে। শিশু আয়ানের মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসকদের অবহেলা আছে কি না, তার মৃত্যুর ঘটনায় কারা দায়ী, এই কমিটি তা খুঁজে বের করবে।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়। রিটের পক্ষে ছিলেন এডভোকেট এ বি এম শাহজাহান আকন্দ মাসুম। ইউনাইটেড হাসপাতালের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র এডভোকেট সাঈদ আহমেদ রাজা।

এডভোকেট সাঈদ আহমেদ রাজা আদালতের আদেশের বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান।

তিনি বলেন, ‘ইউনাইটেড হাসপাতাল গুলশান ও সাতারকুল ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল দুটি প্রতিষ্ঠান। রিট পিটিশনার গুলশান ইউনাইটেড হাসপাতালকেও মামলায় পার্টি করেছেন। আমরা আজ ইউনাইটেড হাসপাতাল গুলশানের পক্ষে ওকালতনামা দাখিল করে আদালতে শুনানি করেছি। আজ আমরা আট সপ্তাহ সময় প্রার্থনা করে সব পক্ষকে শুনে আদালতের কাছে আদেশ প্রার্থনা করেছিলাম। আদালত বিষয়টি নিয়ে আরও একটি তদন্ত কমিটি করে আদেশ দিয়েছেন। নতুন এই কমিটি বিষয়টি তদন্ত করে আগামী ২০ মার্চ আদালতের সামনে প্রতিবেদন দাখিল করবেন।’

এর আগে সুন্নতে খৎনা করাতে গিয়ে রাজধানীর বাড্ডার ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশু আয়ান আহমেদের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তদন্ত কমিটির রিপোর্ট লোক দেখানো (আইওয়াশ) ও হাস্যকর বলে মন্তব্য করেন হাইকোর্ট।

শিশু আয়ান আহমেদের মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারকে কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট এ বি এম শাহজাহান আকন্দ মাসুম। পরে শিশু আয়ানের বাবা রিটে পক্ষভুক্ত হন। নতুন করে রিটে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়। স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের রিটে বিবাদী (রেসপনডেন্ট) করা হয়।

গত ৮ জানুয়ারি রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে মারা যায় শিশু আয়ান। এর আগে তাকে বাড্ডার সাতারকুলের ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সুন্নাতে খৎনা করানোর জন্য নেয়া হয়েছিল। সেখানে অজ্ঞান করার পর তার আর জ্ঞান ফেরেনি। সাত দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর মারা যায় শিশুটি।


মির্জা ফখরুল-খসরুর জামিন: কারামুক্তিতে বাধা নেই

আপডেটেড ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৬:৩৯
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

গত বছরের ২৮ অক্টোবর মহাসমাবেশ চলাকালে বিএনপির সঙ্গে সংঘর্ষের সময় প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলা ও নাশকতার অভিযোগে রমনা থানার মামলায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

আজ বুধবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক ফয়সাল আতিক বিন কাদেরের আদালত এ শুনানি এ আদেশ দেন।

ফখরুল-খসরুর বিরুদ্ধে আর কোনো মামলা না থাকায় কারামুক্তিতে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তাদের আইনজীবী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবাহ।

এর আগে এ মামলায় ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর হয়। ওই আদেশের বিরুদ্ধে মহানগর দায়রা জজ আদালতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি জামিনের আবেদন করেন তাদের আইনজীবী। আদালত শুনানির জন্য ১৪ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন।

গত ২৮ অক্টোবর মির্জা ফখরুলের গুলশানের নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। এরপর তাকে প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুরের মামলায় আদালতে হাজির করা হলে আদালত তার জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এদিকে গত ২ নভেম্বর দিনগত রাত ১টার দিকে গুলশানের একটি বাসা থেকে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে আটক করে ডিবি। পরদিন ৩ নভেম্বর সমাবেশ চলাকালীন সংঘর্ষে পুলিশ সদস্য নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। মামলায় তার ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ড শেষে ৯ নভেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

গ্রেফতারের পর মির্জা ফখরুল বিরুদ্ধে ১১ মামলা ও আমির খসরুর বিরুদ্ধে দশ মামলা দায়ের করা হয়। এ মামলা ছাড়া তারা সব মামলাই জামিনে রয়েছেন।


হাইকোর্টে হেরে গেলেন ড. ইউনূস

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনুসের গ্রামীণ টেলিকম ট্রাস্টকে ৫০ কোটি টাকা জমা দিয়ে ২০১১ থেকে ১৩ করবর্ষের আয়কর আপিল ফাইল করার আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার তার আবেদন খারিজ করে বিচারপতি মো. খুরশীদ আলম সরকার ও বিচারপতি রাশেদ জাহাঙ্গীরের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার তাহমিনা আক্তার বলেন, ২০২০ সালের নভেম্বরে গ্রামীণ টেলিকম ট্রাস্টের কাছে ২৫০ কোটি টাকা আয়কর দাবি করে নোটিশ পাঠায় এনবিআর। ২০১১ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত দুই অর্থবছরে গ্রামীণ টেলিকম ট্রাস্টের কাছে তাদের এই পাওনা বলে দাবি করে রাজস্ব বোর্ড। কিন্তু নোটিশ পাঠানোর পরই তা চ্যালেঞ্জ করে বসে গ্রামীণ টেলিকম। এনবিআরের নোটিশ বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়। ওই নোটিশ কেন বেআইনি বলা হবে না এ নিয়ে রুলও জারি করে আদালত।

এরপর গত তিন বছরে বিভিন্ন আদালত ঘুরে মামলাটি আসে বিচারপতি মো. খুরশীদ আলম সরকার ও বিচারপতি রাশেদ জাহাঙ্গীরের হাইকোর্ট বেঞ্চে। এরপর শুনানি করে গ্রামীণ টেলিকমের রিট খারিজ করে দেওয়া হয়।

একই সঙ্গে নিয়ম অনুযায়ী এনবিআরের দাবি করা আয়করের ২৫ শতাংশ অর্থাৎ ৫০ কোটি টাকা আগে জমা দিয়ে তারপর আপিল দায়ের করতে গ্রামীণ টেলিকমকে বলা হয়।

এর আগে গত ২৮ জানুয়ারি বেলা ১১টায় আদালতে উপস্থিত হয়ে শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় শ্রম আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেন ড. ইউনূস ও গ্রামীণ টেলিকমের অন্য তিন শীর্ষ কর্মকর্তা।

ওই দিন ড. ইউনূসের আইনজীবী আবদুল্লাহ-আল-মামুন জানান, নিম্ন আদালতের আদেশে এক মাসের জামিন দেওয়া হয়েছিল। সেটিও বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছেন তারা। তার আগের দিন ২৭ জানুয়ারি তিনি জানান, রায়ের বিরুদ্ধে ২৫ থেকে ৩০টি পয়েন্টসহ একটি পিটিশন জমা দেবেন তারা।

গত ১ জানুয়ারি ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতের চেয়ারম্যান শেখ মেরিনা সুলতানা এক মামলায় গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ড. ইউনুস এবং এর পরিচালক আশরাফুল হাসান, নুরজাহান বেগম ও এম শাহজাহানকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন।

একই সঙ্গে তাদের চারজনকেই ৩০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ২৫ দিন কারাদণ্ড দেন আদালত। আর রায়ের পরই পৃথক জামিন আবেদন করলে তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চারজনকেই জামিন দেন আদালত।

এর আগে, গত ১৬ নভেম্বর মামলাটিতে তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করে রাষ্ট্রপক্ষ। তারও আগে গত বছরের ৬ জুন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হলে রাষ্ট্রপক্ষের চার সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতে শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন বিভাগের শ্রম পরিদর্শক (সাধারণ) এস এম আরিফুজ্জামান। নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১৬ আগস্ট আইএফইডি কর্মকর্তারা রাজধানীর মিরপুরে গ্রামীণ টেলিকমের অফিস পরিদর্শন করে শ্রম আইনের সঙ্গে কিছু লঙ্ঘন দেখতে পান।


বিচারক সোহেল রানার সাজা থেকে অব্যাহতি দিলেন আপিল বিভাগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাসস

আদালত অবমাননার দায়ে কুমিল্লার সাবেক চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (বর্তমানে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত) মো. সোহেল রানার সাজার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল পর্যবেক্ষণসহ নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

একইসঙ্গে তাকে সাজা থেকে অব্যাহতি দিয়েছে সব্বোর্চ আদালত।

প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে ৫ বিচারপতির আপিল বিভাগ বেঞ্চ আজ এ রায় দেন।

সিনিয়র এডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হক রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালতে বিচারকের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রবীর নিয়োগী, শাহ মঞ্জুরুল হক। সঙ্গে ছিলেন এডভোকেট রাফিউল ইসলাম ও ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ।

আদালত অবমাননার দায়ে কুমিল্লার সাবেক চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (বর্তমানে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত) মো. সোহেল রানার সাজার রায়ের বিরুদ্ধে গত ৬ ডিসেম্বর আপিলের শুনানি শেষ হয়। মো. সোহেল রানা আপিল বিভাগে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

ক্ষমার আবেদনে তিনি বলেছেন, ‘আমাকে ক্ষমা করে সাজা থেকে অব্যাহতি দিয়ে একজন ভালো বিচারক হওয়ার সুযোগ দিন।’

গত ১২ অক্টোবর মো. সোহেল রানার সাজার রায় ২০ নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করেন আপিল বিভাগের চেম্বার কোর্ট। একইসঙ্গে বিষয়টি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। সে অনুযায়ী বিষয়টি আপিল বিভাগে শুনানি হয়।

আদালত অবমাননার দায়ে বিচারক মো. সোহেল রানাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন বিচারপতি মো. বদরুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম মাসুদ হোসেন দোলনের সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ। একই দিনে হাইকোর্টের একই বেঞ্চ তাকে জামিন দেন।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনে মামুন চৌধুরী ও রিয়া আক্তার দম্পতির বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ২৭ মার্চ কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা হয়। মামলার কার্যক্রমের বৈধতা নিয়ে মামুন-রিয়া দম্পতির করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর হাইকোর্ট রুল দেন। একইসঙ্গে মামলার কার্যক্রম চার মাসের জন্য স্থগিত করেন হাইকোর্ট। ২০১৯ সালের ৬ মার্চ রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেন হাইকোর্ট। এ স্থগিতাদেশ সত্ত্বেও কুমিল্লার তৎকালীন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল রানা গত ১০ এপ্রিল সংশ্লিষ্ট মামলায় অভিযোগ গঠন করেন।

উচ্চ আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে মামলার কার্যক্রম চালানো এবং অভিযোগ গঠন করায় বিচারক সোহেল রানার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে অভিযোগ করেন আসামি মামুন চৌধুরী। গত ১৪ আগস্ট হাইকোর্ট এক আদেশে বিচারক সোহেল রানাকে তলব করেন। উচ্চ আদালতের আদেশ অমান্য করার বিষয়ে অবস্থান ব্যাখ্যা করতে ২১ আগস্ট তাকে হাইকোর্টে হাজির হতে বলা হয়। ধার্য তারিখে তিনি হাইকোর্টে হাজির হন। পরবর্তী সময়ে জবাব দাখিল করেন। তবে জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় গত ২৮ আগস্ট সোহেল রানার প্রতি আদালত অবমাননার স্বপ্রণোদিত রুল দেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি ৯ অক্টোবর তাকে হাইকোর্টে হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালত অবমাননার রুলের পর গত ৩১ আগস্ট বিচারক সোহেল রানা কুমিল্লার সেই মামলার অভিযোগ গঠনের আদেশ প্রত্যাহার করেন। হাইকোর্টের ধার্য তারিখে হাজির না হয়ে তিনি সময়ের আবেদন জানান। হাইকোর্ট ১২ অক্টোবর পরবর্তী তারিখ ঠিক করেন। সে অনুযায়ী বিচারক সোহেল রানা হাইকোর্টে হাজির হন এবং আদালত অবমাননার বিষয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তার ক্ষমা প্রার্থনা গ্রহণ না করে হাইকোর্ট কারাদণ্ড দেন এবং জরিমানা করেন।


ড. ইউনূসকে অহেতুক কারাগারে পাঠানোর পরিকল্পনা নেই: আইনমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অহেতুক গ্রেপ্তার বা কারাগারে পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক।

রোববার সহকারী জজ ও সমপর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের বুনিয়াদি ও প্রশিক্ষণ কোর্স অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

তবে আদালত ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে যে রায় দেবেন তা বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব সরকারের সংশ্লিষ্টদের বলেও জানান আইনমন্ত্রী।

রাজধানীর বিচার, প্রশাসন ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত সহকারী জজ/সমপর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের ৪৯তম বুনিয়াদি ও প্রশিক্ষণ কোর্স শুরু হয়েছে ৩ ফেব্রুয়ারিতে, যা চলবে ১ জুন পর্যন্ত।

প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিচার, প্রশাসন ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ও আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা। বিশেষ অতিথি ছিলেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. গোলাম সারোয়ার।

এদিকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ৬ মাসের সাজা শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে স্থগিতের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে আদালতের অনুমতি ছাড়া যেন তিনি বিদেশে যেতে না পারেন, সে আবেদনও করা হয়েছে। রোববার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের পক্ষে অ্যাডভোকেট মো. খুরশীদ আলম খান এ আবেদন করেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের জানান, বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদারের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে এ আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে।

গত ২৮ জানুয়ারি শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে জামিন চেয়েছিলেন ড. ইউনূস। সেই সঙ্গে শ্রম আইন লঙ্ঘন মামলার রায়ে ৬ মাসের সাজার বিরুদ্ধে ২৫টি যুক্তি দেখিয়ে খালাস চেয়ে আপিলও করেছিলেন তিনি। ওই দিন সকালে শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে আপিল করেন ড. ইউনূস।


ড. ইউনূসের সাজা স্থগিতের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাসস

শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ছয় মাসের সাজা শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে স্থগিতের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছে।

হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের পক্ষে অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান এ আবেদন দায়ের করেছেন।

বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদারের নেতৃত্বে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চে এ আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে। আদালতের অনুমতি ছাড়া ড. ইউনূস যেন বিদেশ যেতে না পারেন, সে আবেদনও করা হয়েছে।

শ্রম আইন লঙ্ঘনের দায়ে দন্ডিত ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ চারজনকে গত ২৮ জানুয়ারি জামিন দেন শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করা হয়। সেদিন শ্রম আদালতের দেয়া সাজা স্থগিত করেন শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল।

এর আগে শ্রম আইন লঙ্ঘন মামলার রায়ে ছয় মাসের সাজার বিরুদ্ধে ২৫টি যুক্তি দেখিয়ে খালাস চেয়ে আপিল করেন আসামিগণ।

শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় গত ১ জানুয়ারি ৬ মাসের সাজা হয় ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ চার আসামির। রায় প্রদানকারী বিচারক শেখ মেরিনা সুলতানার স্বাক্ষরের পর ৮৪ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশ করা হয়।

পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে, আসামিরা শ্রম আইন ২০০৬ এর ধারা ৪(৭) (৮), ১১৭, ২৩৪ এর বিধান লঙ্ঘন করে আইনের ৩০৩(৫) ও ৩০৭ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। তা প্রমাণিত হওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন। এ অবস্থায় আসামি গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইউনূস, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশরাফুল হাসান, পরিচালক নূরজাহান বেগম ও মো. শাহজাহানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ধারা ৪(৭) (৮), ১১৭, ২৩৪ ও বিধি ১০৭ লঙ্ঘনের জন্য ৩০৩(৩) ও ৩০৭ ধারার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাদের ওই আইনের ৩০৩ (৩) ধারার অপরাধে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও পাঁচ হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে দশ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ৩০৭ ধারার অপরাধে পঁচিশ হাজার টাকা অর্থদন্ড ও অনাদায়ে অতিরিক্ত পনেরো দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেয়া হয়।

তবে আপিল করার শর্তে ড. ইউনূসসহ আসামিদের রায়ের পরপরই এক মাসের জামিন দেয়া হয়।


ড. ইউনূসসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে দুদক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান নোবেলজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার দুদকের ঢাকার সমন্বিত জেলা কার্যালয় ১-এ চার্জশিট দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান। সেখান থেকে আদালতে চার্জশিট দাখিল করবেন দুদক কর্মকর্তারা।

অভিযোগপত্রে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে ২৬ কোটি ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের কথা বলা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসামিরা ২৬ কোটি ২২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ ছাড়াও অবৈধভাবে রূপান্তর-স্থানান্তর করায় মানি লন্ডারিং ধারাও দেখানো হয়েছে অভিযোগপত্রে। মামলায় দুদক ১৩ জনকে আসামি করলেও অভিযোগপত্রে আরও একজনের নাম যুক্ত করা হয়।

ড. ইউনূস ছাড়াও আসামিরা হলেন গ্রামীণ টেলিকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল ইসলাম, সাবেক এমডি আশরাফুল হাসান, ৫ পরিচালক পারভীন মাহমুদ, নাজনীন সুলতানা, শাহজাহান, নূরজাহান বেগম ও এস এম হাজ্জাতুল ইসলাম লতিফী, আইনজীবী ইউসুফ আলী ও জাফরুল হাসান শরীফ, গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি কামরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ মাহমুদ হাসান এবং গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের প্রতিনিধি মাইনুল ইসলাম। অ্যাডভোকেট মো. ইউসুফ আলী, অ্যাডভোকেট জাফরুল হাসান শরীফ, গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. কামরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ মাহমুদ হাসান ও প্রতিনিধি মো. মাইনুল ইসলামকেও আসামি করা হয়েছে।

দুদক সচিব মো. মাহবুব হোসেন গতকাল বিকেলে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের জানান, ‘তদন্ত শেষে দণ্ডবিধি ও মানি লন্ডারিং আইনে ২৬ কোটি ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে স্থানান্তর ও হস্তান্তরের অভিযোগে গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে এই চার্জশিট বা অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।’

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূস, ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল ইসলামসহ বোর্ডের সদস্যদের উপস্থিতিতে ২০২২ সালের ৯ মে অনুষ্ঠিত ১০৮তম বোর্ডের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ঢাকা ব্যাংকের গুলশান শাখায় হিসাব খোলা হয়। গ্রামীণ টেলিকমের কর্মচারীদের পাওনা লভ্যাংশ বিতরণের জন্য গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন এবং গ্রামীণ টেলিকমের সঙ্গে সেটেলমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্ট চুক্তি হয় ওই বছরের ২৭ এপ্রিল।

গ্রামীণ টেলিকমের বোর্ড সভার হিসাব খোলার সিদ্ধান্ত ৯ মে হলেও হিসাব খোলা হয় এক দিন আগে ৮ মে। সেটেলমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্টেও ৮ মে ব্যাংক হিসাব দেখানো আছে, যা বাস্তবে অসম্ভব। এ রকম ভুয়া সেটেলমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্টের শর্ত অনুযায়ী ও ১০৮তম বোর্ডের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ২০২২ সালের ১০ মে গ্রামীণ টেলিকমের ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের মিরপুর শাখা থেকে ঢাকা ব্যাংকের গুলশান শাখায় ৪৩৭ কোটি ১ লাখ ১২ হাজার ৬২১ টাকা স্থানান্তর করা হয়।

পরবর্তী সময়ে ২২ জুন অনুষ্ঠিত গ্রামীণ টেলিকমের ১০৯তম বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অ্যাডভোকেট ফি হিসেবে অতিরিক্ত ১ কোটি ৬৩ লাখ ৯১ হাজার ৩৮৯ টাকা প্রদানের বিষয়টি অনুমোদন দেওয়া হয়। অন্যদিকে, ঢাকা ব্যাংকের গুলশান শাখার হিসাব থেকে গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন নামীয় ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের লোকাল অফিসের হিসাব থেকে তিন দফায় মোট ২৬ কোটি ২২ লাখ ৬ হাজার ৭৮০ টাকা স্থানান্তর করা হয়।

কিন্তু কর্মচারীদের লভ্যাংশ বিতরণের আগেই তাদের প্রাপ্য অর্থ তাদের না জানিয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে ২০২২ সালের মে ও জুন মাসের বিভিন্ন সময়ে সিবিএ নেতা মো. কামরুজ্জামানের ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মিরপুর শাখার হিসাবে মোট ৩ কোটি টাকা, সিবিএ নেতা মাইনুল ইসলামের হিসাবে ৩ কোটি ও সিবিএ নেতা ফিরোজ মাহমুদ হাসানের ডাচ্-বাংলা ব্যাংক মিরপুর শাখার হিসাবে ৩ কোটি টাকা স্থানান্তর করা হয়।

একইভাবে অ্যাডভোকেট মো. ইউসুফ আলীর কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলনের ধানমন্ডি শাখার হিসাবে ৪ কোটি টাকা ও দ্য সিটি ব্যাংকের গুলশান শাখার হিসাবে ৫ কোটি টাকা এবং অ্যাডভোকেট জাফরুল হাসান শরীফ ও অ্যাডভোকেট মো. ইউসুফ আলীর স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের গুলশান নর্থ শাখায় যৌথ হিসেবে ৬ কোটি স্থানান্তর করা হয়, যা তাদের প্রাপ্য ছিল না।


banner close