বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

দিনেদুপুরে ব্যাংক ডাকাতির চেষ্টা, আটক ১

আপডেটেড
১০ ডিসেম্বর, ২০২৩ ১৭:১৯
নোয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশিত
নোয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১০ ডিসেম্বর, ২০২৩ ১৭:১৩

নোয়াখালীর চাটখিলে ছুরি দেখিয়ে ব্যাংক ডাকাতির চেষ্টার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।

রোববার দুপুরে উপজেলার রামনারায়নপুর কৃষি ব্যাংক শাখায় এ ঘটনা ঘটে। আটক আব্দুল মজিদ (৫০) একই উপজেলার শাহাপুর ইউনিয়নের মমিনপুর গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে।

কৃষি ব্যাংক রামনারায়নপুর শাখা ম্যানেজার অলোক কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘দুপুর দেড়টার দিকে এক ব্যক্তি টুপি মাথায় মুখে মাস্ক পরে ব্যাংকে ঢুকে কাশিয়্যারকে ছুরি দেখিয়ে টাকা লুটের চেষ্টা করে। এসময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে নিরাপত্তা প্রহরী শাহ আলমকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা ধাওয়া করে তাকে আটক করে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে তাকে থানায় নিয়ে যায়। আহত নিরাপত্তা প্রহরী চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন।’

চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমদাদুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘গ্রাহক সেজে ব্যাংকে ঢুকে টাকা ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টার অভিযোগে মজিদকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় ব্যাংক কতৃপক্ষ এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

বিষয়:

৩৪ কূটনীতিক রামুর রাংকুট বৌদ্ধ বিহার ঘুরে দেখলেন 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কক্সবাজার প্রতিনিধি

কক্সবাজারের রামুর ঐতিহাসিক রাংকুট বৌদ্ধ বিহার পরিদর্শন করলেন কক্সবাজারে সফরে আসা বিভিন্ন দেশের ৩৪ কূটনীতিক। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের নেতৃত্বে ২৪টি দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার মিশন প্রধানসহ ৩৪ জন কূটনীতিক গতকাল মঙ্গলবার রেলে চড়ে কক্সবাজারে যান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অ্যাম্বাসেডরস আউটরিচ প্রোগ্রামের আওতায় যেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রাশিয়া, চীন, কোরিয়া, ইতালি, ডেনমার্ক, কসোভো, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভিয়েতনাম, ভ্যাটিকান, ভুটান, স্পেন, আর্জেন্টিনা, লিবিয়া, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, মিসর, ফ্রান্স এবং এফএও, আইইউটি, একেডিএন আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ২৪ জন মিশন প্রধানসহ ৩৪ জন কূটনীতিক দুই দিনের চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সফরে যান।

আজ বুধবার সকালে রাংকুট বৌদ্ধ বিহারে এসে পৌঁছালে কূটনীতিকদের স্বাগত জানান বিহারাধক্ষ্য জ্যোতিসেন মহাথেরো।

জ্যোতিসেন মহাথেরো জানান, ২ হাজার ৩০০ বছরের পুরোনো মহামতি বুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত এই স্থান দেখে মুগ্ধ হন অতিথিরা। সেই সঙ্গে সম্রাট অশোক, চীনা পর্যটক হিউয়েন সেনের আবক্ষ মূর্তিসহ বৌদ্ধ পুরাকীর্তি দেখে অভিভূত হন তারা। কূটনীতিকরা বিহারের বিভিন্ন দিক ঘুরে দেখেন। তারা বলেন, কক্সবাজারে অঞ্চলের বৌদ্ধ ইতিহাস, স্থাপনা ও সমুদ্র সৈকত সব মিলিয়ে অপার পর্যটন সম্ভাবনাকে তুলে ধরা হবে।

পরিদর্শনকালে কূটনীতিকদের সম্মানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় এবং ঐতিহ্যবাহী পিঠা পুলি দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। পরে কূটনীতিকরা সমুদ্র সৈকতের লাবনীর ট্যুরিস্ট মার্কেটে যান। সেখানে তারা ঝিনুকের দোকানসহ অন্যান্য হস্তজাত পণ্যের দোকান পরিদর্শন করেন। এসময় জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বুধবার দিনভর দর্শনীয় স্থান সমূহ পরিদর্শন শেষে বিকালে বিমানে করে কূটনীতিকদের ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।


ভাসানচরে রোহিঙ্গা আশ্রয়ন প্রকল্পে আগুনে মৃত্যু বেড়ে ৪

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

নোয়াখালীর ভাসানচরে রোহিঙ্গা আশ্রয়ন প্রকল্পে গ্যাস সিলিন্ডারের আগুনে দগ্ধ আরও এক শিশু চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।

সোহেল নামের সাড়ে পাঁচ বছর বয়সী ছেলেটি বুধবার সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু আইসিইউ বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় বলে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম আহসান জানান।

চার দিন আগে ভাসানচরের ওই ঘটনায় দগ্ধ নয়জনের মধ্যে এ পর্যন্ত চারজনের মৃত্যু হল। তিনজন এখনও চট্টগ্রাম মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন।

বার্ন ইউনিটের প্রধান ডা. রফিক উদ্দিন আহমেদ বলেন, সোহেলের ৫২ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল এবং শ্বাসনালী ক্ষতিগ্রস্ত ছিল।

পুলিশ জানায়, ভাসানচরের আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা রোহিঙ্গারা বিভিন্ন এনজিওর সরবরাহ করা সিলিন্ডারের গ্যাসে রান্নার কাজ করেন। আশ্রয়ণ প্রকল্প ৩ এর ৮১ নম্বর ক্লাস্টারের বাসিন্দা সফি আলম গত শনিবার তার খালি সিলিন্ডার জমা দেওয়ার আগে বারান্দায় বসে মুখ খুলে দেখছিলেন। তখন সিলিন্ডারের নিচে জমা গ্যাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে।

সফির প্রতিবেশীর ঘরে তখন রান্না চলছিল। ফলে বাতাসে ছড়িয়ে পড়া গ্যাসে আগুন ধরে যায়। তাতে ৫ শিশু, দুজন নারী এবং দুজন পুরুষ দগ্ধ হন।

তাদের মধ্যে সাতজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হলে রাসেল নামের তিন বছর বয়সী একটি শিশুকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

বাকিদের মধ্যে সাড়ে ৩ বছর বয়সী মোবাশ্বেরা সোমবার সকালে এবং ৫ বছর বয়সী রুবি আলম সেদিন বিকালে মারা যায়।

যে তিনজন এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তাদের মধ্যে আমেনা খাতুনের (২৬) শরীরের ৮ শতাংশ, জুবাইদার (২৫) শরীরের ২৫ শতাংশ, রুশমিনার (৩) শরীরের ৫০ শতাংশ পুড়ে গেছে।


মাদারীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই যুবক নিহত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৪:১৯
মাদারীপুর প্রতি‌নি‌ধি

মাদরীপুরের সদর উপজেলায় নসিমনের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন দুই যুবক। গতকাল মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার পাখিরা এলাকায় আসমত আলী খান টোল প্লাজার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত যুবকেরা হলেন, উপজেলার ছিলারচর এলাকার রিফাত বালী (১৯) ও মারুফ সরদার (৩০)।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আনুমানিক রাত ১১ টার দিকে মাদারীপুর সদরের দিকে যাচ্ছিলেন ওই দুই মোটরসাইকেল আরোহী। তারা মাদারীপুর-শরিয়তপুর মহাসড়কে পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি নসিমনের সঙ্গে তাদের সংর্ঘষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে নিহত হন দুজন।

মাদারীপুর জেলা ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা নরূর মোহাম্মদ জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান। ওই সময় তারা মরদেহ রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখেন।

তিনি আরও জানান, নিহতদের পকেটে থাকা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। নসিমনটির আর কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দীন জানান, এ ঘটনার আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

বিষয়:

পরিবহন ধর্মঘট চলছে সিলেটে 

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৩:০৯
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

গ্যাস সংকট নিরসনসহ পাঁচ দফা দাবিতে সিলেট জেলায় আজ বুধবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন ধর্মঘট পালন করছেন পরিবহন শ্রমিকরা।

সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন গত রোববার এক সমাবেশে পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয় এবং মঙ্গলবার দিনব্যাপী ধর্মঘটের প্রচার চালায়।

ভোর ৬টা থেকে পরিবহন ধর্মঘটের মধ্যে সিলেট জেলার আঞ্চলিক ও জাতীয় মহাসড়কে কোনো যানবাহন চলাচল করতে দিচ্ছেন না শ্রমিকরা। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি ময়নুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, 'সিলেটের সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনগুলোতে প্রতি মাসের ২০/২২ তারিখ থেকে গ্যাস সংকট দেখা দেয়। আমাদের বলা হয় মাসিক গ্যাস সরবরাহের লিমিট শেষ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় গ্যাস সংকটে ভোগান্তিতে পড়েন পরিবহন শ্রমিকরা।'

তিনি বলেন, '২০২১ সালে পরিবহন শ্রমিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মামলা, রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার নেতাকর্মীদের জামিন ইত্যাদিসহ পাঁচ দফা দাবিতে আমরা এ ধর্মঘট পালন করছি।'

বিষয়:

হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধ সংস্কারে ধীরগতির অভিযোগ

ছবিটি নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুরী উপজেলার হাওর অঞ্চল থেকে তোলা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নেত্রকোনা প্রতিনিধি

নেত্রকোনায় হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধ সংস্কারে ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে। এদিকে সময়মতো কাজ শেষ না হলে আগাম বন্যায় কৃষকের বোরো ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নেত্রকোনার সাত উপজেলার ১৩৪টি হাওরে এবারও হুমকির মুখে রয়েছে বোরো ফসল। চলতি বছরের ২৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ফসলরক্ষা বাঁধ সংস্কারের কাজ শেষ করার কথা থাকলেও কোনো কোনো স্থানে এখনো শুরুই হয়নি কার্যক্রম।

নিয়মানুযায়ী বাঁধ সংস্কারের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) কাজে সরাসরি জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে যুক্ত করা হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নসহ তদারকিতে জেলা প্রশাসককে সভাপতি ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নেত্রকোনার নির্বাহী প্রকৌশলীকে সদস্যসচিব করে জেলা কমিটি করা হয়। এ ছাড়া উপজেলা পর্যায়ে নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) সভাপতি ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) একজন কর্মকর্তাকে সদস্যসচিব করে উপজেলা কমিটি গঠন করা হয়। মূলত উপজেলা কমিটি প্রকল্প নির্ধারণ ও পিআইসি গঠন করে জেলা কমিটিতে পাঠায়। পরে জেলা কমিটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। প্রতিটি প্রকল্পের জন্য প্রকৃত কৃষক ও স্থানীয় সুবিধাভোগীদের নিয়ে পাঁচ থেকে সাত সদস্যের একটি পিআইসি থাকে। একটি পিআইসি সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকার কাজ করতে পারে।

পাউবো সূত্র জানায়, হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের নির্মাণকাজ ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে শুরু এবং ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার কথা। এর আগে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে পিআইসি গঠন এবং ৩০ অক্টোবরের মধ্যে প্রকল্প নির্ধারণের কাজ চূড়ান্ত হওয়ার কথা। কিন্তু পানি ধীরগতিতে নামায় প্রকল্প নির্ধারণের কাজ চূড়ান্ত করতে দেরি হয়। পিআইসি গঠিত হলেও পানির কারণে সব বাঁধের কাজ এখনো শুরু করা সম্ভব হয়নি।

পাউবো নেত্রকোনা জেলা অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় পাউবোর অধীন প্রায় ৩৬৫ কিলোমিটার ডুবন্ত (অস্থায়ী) বাঁধ রয়েছে। এসব বাঁধের ওপর স্থানীয় কৃষকদের প্রায় ৪২ হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল নির্ভর করে। এ ফসলের ওপর নির্ভর করে কৃষকদের সারা বছরের সংসার খরচ চলে।

নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুরী, মোহনগঞ্জ, মদন, কলমাকান্দা, দুর্গাপুর, বারহাট্টা, আটপাড়া উপজেলায় রয়েছে ছোট বড় ১৩৪টি হাওর। এ ছাড়া অন্যান্য এলাকার তুলনায় পূর্বধলা উপজেলায় পরিমাণে কম জলাশয় রয়েছে। এর মধ্যে খালিয়াজুরীতে ৮৯টি হাওর রয়েছে। আর এখানে রয়েছে ১৮০ কিলোমিটার ডুবন্ত অস্থায়ী বাঁধ। এর মধ্যে ১১০টি প্রকল্পের মাধ্যমে ৯২ কিলোমিটার বাঁধ সংস্কার করা হচ্ছে।

বিভিন্ন তথ্য সূত্রে জানা যায়, খালিয়াজুরী উপজেলায় ১০৮টি প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২০ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, মদনের ২৫টি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ ধরা হয় ৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকা, মোহনগঞ্জে ২৬টি পিআইসি প্রকল্পের জন্য ৪ কোটি ৪১ লাখ টাকা, কলমাকান্দায় ৭টি প্রকল্পের জন্য ব্যয় ধরা হয় ১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, বারহাট্টায় ৯টি প্রকল্পের জন্য ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা, পূর্বধলায় ২টি প্রকল্পের জন্য ৪৫ লাখ টাকা, আটপাড়ায় একটি প্রকল্পের জন্য ১১ লাখ টাকা। এর মধ্যে এ বছরে বরাদ্দ পাওয়া গেছে ১৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা।

জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার কীর্তনখলা হাওরের একাধিক কৃষক বলেন, তারা ঋণ করে বোরোর আবাদ করছেন। বাঁধের কাজ এ বছর ঠিক সময়ে শুরু হয়নি। এ কারণে সময়মতো কাজ শেষ হওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তারা। আগাম বন্যার পানিতে ফসল নষ্ট হলে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে।

খালিয়াজুরী হাওর রক্ষা পরিষদের সভাপতি স্বাগত সরকার শুভ বলেন, জাতীয় নির্বাচনের কারণে এবার স্থানীয় প্রশাসনের তদারকি অনেকটা কম ছিল। ফলে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজের তেমন অগ্রগতি হয়নি। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হলে পুরো হাওরের বোরো ফসল হুমকিতে থাকবে।

পাউবো নেত্রকোনা জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী সারওয়ার জাহান বলেন, ‘দ্রুতগতিতে কাজ হচ্ছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংস্কারকাজ শেষ করা সম্ভব হবে।’ তিনি আরও জানান, গত বছর জেলায় ৩৭ কোটি ৮১ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০৬টি পিআইসি গঠন করা হয়েছিল। এ বছর বাঁধের ক্ষতি কম হওয়ায় ২৮টি পিআইসি কম করা হয়েছে। ১৫৬ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণে গঠিত ১৭৮টি পিআইসির জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। জাতীয় নির্বাচন ও তীব্র শীতের কারণে কাজ শুরু করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হবে।

বিষয়:

বিশাল অঙ্কের টাকায় রফাদফায় আবার চালু হাসপাতাল

আলো জেনারেল হাসপাতাল। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ০০:০৩
ইমরোজ খন্দকার বাপ্পি,পাবনা প্রতিনিধি

পাবনার ঈশ্বরদীতে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগে বন্ধ হয়ে যাওয়া আলো জেনারেল হাসপাতাল আবারও খুলে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কোনো প্রকার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই রোগীর স্বজন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে হাসপাতালটি চালু করে দেওয়া হয়েছে। তবে রফাদফার বিষয়টি রোগীর স্বজনরা স্বীকার করলেও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা অস্বীকার করেছেন।

চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি ঈশ্বরদী পৌর এলাকার ফজলে রাব্বির অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী অন্তরা খাতুনকে আলো জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই দিনই সন্ধ্যায় হাসপাতালের স্বত্বাধিকারী ডা. মাসুমা আঞ্জুমা ডানা এবং তার স্বামী ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা ডা. শফিকুল ইসলাম শামীমের তত্ত্বাবধানে সিজার অপারেশন করা হয়। এ সময় রোগীর অবস্থা আশঙ্কজনক হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসকদের ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে। বিচার চেয়ে গত ১০ জানুয়ারি বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন তারা। হাসপাতালের সামনে ওই মানববন্ধনে আব্দুল্লাহ আল মামুন নামে এক কর্মচারীর নেতৃত্বে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের লোকজন তাদের ওপর হামলা করেন এবং মারধর করেন।

পরে ঈশ্বরদী থানা ও ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন তারা। ওই দিনই বিষয়টি নজরে এলে হাসপাতালটি বন্ধ ঘোষণা করেন পাবনা সিভিল সার্জন ডা. শহীদুল্লাহ দেওয়ান। সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে গঠন হওয়া পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি ওই ঘটনায় কর্তৃপক্ষের গাফিলতির প্রমাণ পায়। তদন্ত প্রতিবেদন ইতোমধ্যেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

এরই মধ্যে বন্ধ ঘোষণার মাত্র দেড় মাসের মাথায় এক সপ্তাহ আগে হাসপাতালটি আবার খুলে দেওয়া হয়। অপারেশন ছাড়া সব কার্যক্রমই চলছে সেখানে। আদালতে মামলা দায়েরের মাত্র এক মাস পরেই আবার মামলা তুলে নেওয়া এবং কোনো প্রকার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই হাসপাতালটি খুলে দেওয়ায় নানা প্রশ্ন উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি বলেন, মাঝেমধ্যেই এই হাসপাতালের বিরুদ্ধে রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। এবার হাসপাতালটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আশপাশের লোকজন স্বস্তি পেয়েছিল। কিন্তু মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই আবার চালু হয়ে গেছে। হাসপাতালের লোকজন বলছে, অনেক টাকা-পয়সা খরচ করে হাসপাতালটি চালু করা হয়েছে। টাকা-পয়সা নেওয়ার কথা প্রকাশ্যে স্বীকারও করছেন রোগীর স্বজনরা।

বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধনের মাধ্যমে মামলা দায়েরের পর কেন মামলা তুলে নিলেন এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি মামলার বাদী মৃত রোগীর শাশুড়ি জান্নাতুল ফেরদৌস রুনু। তবে রফাদফার বিষয়টি স্বীকার করেন মৃত রোগীর স্বামী ফজলে রাব্বি। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ নানান ব্যক্তিরা চাপ দিচ্ছিল। নানান কারণে নানা ঝামেলা মনে করে মীমাংসা করেছি। আমার শাশুড়িকে ৫ লাখ টাকা দিয়েছে আর হাসপাতালের ৪০% আমার মেয়ের নামে লিখে দেবে।’

এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে হাসপাতালটিতে গেলেও কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। পরে অভিযুক্ত ডা. শফিকুল ইসলাম শামীমের কার্যালয়ে গেলে সাংবাদিকদের ধাক্কা দিয়ে তিনি দ্রুত সেখান থেকে সটকে পড়েন। মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও স্থানীয় সংসদ সদস্য গালিবুর রহমান শরীফের মন্তব্য নেওয়াও সম্ভব হয়নি।

এদিকে টাকা লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন পাবনা সিভিল সার্জন ডা. শহীদুল্লাহ দেওয়ান। তিনি বলেন, ‘ঘটনা তদন্ত করে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন স্বাস্থ্য বিভাগের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখায় জমা দেওয়া হয়েছে। আর হাসপাতালটি সাময়িকভাবে যে বন্ধ রেখেছিল সেটা খোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ওই ডাক্তারদের অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। আর বলে দেওয়া হয়েছে, তারা কোন কোন কাজ করতে পারবে আর পারবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘কিছু সমস্যা তো আছেই, তা না হলে তো আর অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হতো না, ওদের গাফিলতি ছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া তো আর আমার হাতে থাকে না। ওগুলো স্বাস্থ্য বিভাগ দেখবে। লেনদেনের বিষয়টা মিথ্যা আর অভিযোগকারী নারীর মামলা তুলে নেওয়ার স্ট্যাম্প আমাদের কাছে আছে। মামলা কেন তুলে নিলেন এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি বাদী।’


এমপির ঘোষণায়ও বন্ধ হয়নি চাঁদাবাজি

অবৈধ অটোরিকশা স্ট্যান্ড ইজারা দিতে বিজ্ঞপ্তি
প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ০৩:২২
খোরশেদ আলম, সোনাইমুড়ী (নোয়াখালী) প্রতিনিধি

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে অবৈধ অটোরিকশা যততত্র পার্কিং করায় বাড়ছে যানজট। এতে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন পথচারী ও সাধারণ মানুষ। এসব অটোরিকশার মাধ্যমে দুর্ঘটনা বা অপরাধ সংঘটিত হলে রেজিস্ট্রেশন নম্বর না থাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা শনাক্ত করতে পারে না।

পৌরবাসী জানিয়েছেন, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি পৌরসভা কর্তৃপক্ষ অবৈধ অটোরিকশা স্ট্যান্ড ইজারা দিতে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। সোনাইমুড়ী বি এস আর সড়কের কলেজগেট থেকে বাইপাস সড়কের মধ্যে সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা রাখা স্ট্যান্ডগুলো ইজারা দিতে উল্লেখ করা হয়।

সম্প্রতি সোনাইমুড়ীতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে নোয়াখালী-১ (চাটখিল সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য এইচ এম ইব্রাহিম ঘোষণা দেন, ‘আগামীকাল থেকে কোনো অটোরিকশা থেকে কেউ চাঁদা নিলে এর দায় দায়িত্ব প্রশাসনকে নিতে হবে। নিরীহ মানুষদের অন্যায় অত্যাচার করা হচ্ছে। তা বন্ধ না করলে আমি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য হব।’

সাংসদ বলেন, ‘আমি আপনাদের প্রতিনিধি। এখানে যে দলের লোক সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজি করবে আমি আপনাদের কথা দিয়ে গেলাম তাদেরকে আশ্রয়-পশ্রয় দিব না।’

সোনাইমুড়ী আংশিক সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য এইচ এম ইব্রাহিম এমপি তার এলাকায় যানবাহনে সব ধরনের চাঁদাবাজি বন্ধের ঘোষণা দিলেও চাঁদাবাজি বন্ধ হচ্ছে না।

সূত্রে আরও জানা যায়, সোনাইমুড়ী উপজেলা পরিষদের বিগত মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় অটোরিকশাসহ বিভিন্ন চাঁদাবাজির বিষয়ে কয়েকবার অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়।

গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে সোনাইমুড়ী পৌর এলাকার বিভিন্ন স্পট ঘুরে দেখা যায়, স্প্রিংপোল, জেলা সুপার মার্কেটের সামনে, বাইপাস, চৌরাস্তা, ছাতারপাইয়া রোড, ডিগ্রি কলেজ রোড, চাটখিল সড়কসহ প্রতিটি রোডে অবাধে চলছে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও অটোরিকশা। এসব যানবাহন থেকে প্রকাশ্যে রশিদ দিয়ে চাঁদার টাকা আদায় করা হচ্ছে। ইজিবাইক থেকে ২০ টাকা, অটোরিকশা থেকে ১০ টাকা ও প্যাডেলচালিত রিকশা থেকে ১০ টাকা করে প্রতিদিন চাঁদা আদায় করা হয়। চাঁদার টাকা না দিলে লাইনম্যান এসব বাহন আটক করাসহ চালকদের ওপর নির্যাতন চালায় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

শুধু তাই নয়, যানবাহন রাস্তায় দাঁড়িয়ে আটক করে রাখে এসব চাঁদাবাজরা। লাখ টাকা চাঁদাবাজি জিইয়ে রাখতেই সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্র নিষিদ্ধ ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও অটোরিকশা সচল রেখেছে।

পৌর এলাকার ব্যস্ততম রাস্তা দখল করে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে অবৈধ ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও অটোরিকশা স্ট্যান্ড। এতে তীব্র যানজটের কারণে ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারীরা।

নিজেদের মতো করে রশিদ ছাপিয়ে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। রশিদে লেখা আছে, সোনাইমুড়ী পৌরসভাধীন দৈনিক টোল আদায় রশিদ। মিশুক দৈনিক ১০ টাকা। রশিদে আদায়কারী হিসেবে লাইনম্যান ফয়েজের স্বাক্ষর রয়েছে।

তবে এ বিষয়ে লাইনম্যান ফয়েজ বলেন, ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় লোকের নির্দেশে তিনি রশিদ ছাপিয়ে চাঁদা নিচ্ছেন। এ টাকা তারা ভাগ- বাঁটোয়ারা করে নেন।

অটোরিকশাচালক আব্দুর রহিম হাবিবুর রহমান অভিযোগ করে জানান, প্রতিদিন গাড়ি নিয়ে বের হলে ১০ টাকা করে চাঁদা দিতে হচ্ছে। টাকা না দিলে গাড়ি আটক করে সড়কে মারধর করে। তাই তারা নিরুপায় হয়ে চাঁদা দিতে বাধ্য হন।

সোনাইমুড়ী পৌরসভার নামে টোল আদায়ের রশিদ ছাপিয়ে চাঁদাবাজির বিষয়ে মেয়র নুরুল হক চৌধুরী জানান, ‘অটোরিকশা নিষিদ্ধ। পৌরসভা থেকে কোনো ইজারা দেওয়া হয়নি। তবু কারা এ ধরনের কাজ করছে। এম পি এইচ এম ইব্রাহিম একটি অনুষ্ঠানে এ ধরনের চাঁদাবাজির বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। কয়েক দিন আগে পৌর এলাকায় হাটবাজার ইজারা দিতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। এ বিজ্ঞপ্তিতে ভুলবশত রিক্সা স্ট্যান্ড উল্লেখ করা হয়েছে। পুনরায় সংশোধনী বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে।’

সোনাইমুড়ী থানার ওসি বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরীর বলেন, এমপি এইচ এম ইব্রাহিম এ ধরনের চাঁদাবাজি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


নেত্রকোণায় আগুনে প্রাণ গেল ৮ গরুর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৮:০০
নেত্রকোণা প্রতিনিধি

নেত্রকোণায় এক কৃষকের গোয়াল ঘরে আগুন লেগে আটটি গরু পুড়ে মারা গেছে। এ ঘটনায় জমি নিয়ে পূর্ব বিরোধ থাকা প্রতিবেশীদের দায়ী করছেন গরুর মালিক।

সোমবার রাতে জেলার বারহাট্টা উপজেলার আসমা গ্রামে এ আগুন লাগার ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, আসমা গ্রামের শেখ হাবিবুর রহমান ও শেখ আতিকুর রহমান দুই ভাই। তাদের আটটি গরু একই গোয়াল ঘরে রাখেন। রাতে হঠাৎ করে গোয়ালে আগুন দেখে চিৎকার দেন তারা। চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। তবে গোয়ালে শুকনো খড় থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসেন। ততক্ষণে গোয়াল ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে গোয়ালে থাকা আটটি গরু পুড়ে মারা যায়।

জেলার বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রতিবেশী যাদের সঙ্গে পূর্ববিরোধ রয়েছে এ ঘটনায় তাদের হাত আছে বলে সন্দেহ করছেন ভুক্তভোগীরা। যদি এমনটা হয় তাহলে তাদেরকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নেত্রকোণা জেলার বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আক্তার ববি বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের শুকনো খাবার ও কম্বল দেওয়া হয়। এছাড়াও আর্থিক সহায়তার বিষয়ে সুবিবেচনা করা হবে।’

বিষয়:

নওগাঁয় পর্নোগ্রাফি সংরক্ষণ ও বিক্রি চক্রের ৩ জন আটক

আপডেটেড ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৭:৩৫
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁর ধামইরহাট থেকে পর্নোগ্রাফি সংরক্ষণ ও বিক্রয় চক্রের তিন সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাব।

মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার মঙ্গলবাড়ী বাজার এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

র‌্যাব-৫ জয়পুরহাট থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

আটকরা হলেন, ধামইরহাট উপজেলার মুকুন্দপুর গ্রামের নিত্য সরকার (২৪) এবং জয়পুরহাট জেলার সদর উপজেলার বিল্লা গ্রামের শহিদ হোসেন (২২) ও দোগাছী গ্রামের সিফাত হোসেন (১৮)।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ধামইরহাট উপজেলার মঙ্গলবাড়ী বাজারে পর্নোগ্রাফি সংরক্ষণ করে টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন ইলেকট্রিক ডিভাইসের মাধ্যমে কম্পিউটারের দোকান থেকে স্থানীয় কিশোর ও স্কুল পডুয়া ছাত্রদের কাছে পর্নোগ্রাফি ভিডিও সরবরাহ করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অশ্লীল সিনেমা ও গানের ভিডিও ক্লিপ আপলোড ব্যবসার পাশাপাশি পর্নোগ্রাফি সরবরাহের বিষয়টি তদন্ত শুরু করে এবং তদন্তে এর সত্যতা পায় র‌্যাব-৫ গোয়েন্দা দল। মঙ্গলবার ভোরে অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাব-৫ জয়পুরহাট এর সদস্যরা। এসময় নিত্য সরকার, শহিদ হোসেন ও সিফাত হোসেনকে তাদের দোকান থেকে আটক করা হয়। তারা তাদের নিজস্ব কম্পিউটারের হার্ডডিস্কে অশ্লীল সিনেমা ও গানের ভিডিও ক্লিপ আপলোডের ব্যবসা করত। আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে ধামইরহাট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।’

বিষয়:

শীতল পাটির ঐতিহ্য ধরে রেখেছে একটি পরিবার

আপডেটেড ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৬:৪১
মো. রুবেল আহমেদ, গোপালপুর (টাঙ্গাইল)

বাঙালির প্রাচীনতম ও ঐতিহ্যবাহী এক শিল্প হলো শীতল পাটি। মুর্তাগাছের বেত দিয়ে নয়নাভিরাম বুননের মাধ্যমে তৈরি হয় মসৃণ এই মাদুর।

একটা সময় সর্বত্র ব্যাপক জনপ্রিয় ছিল এই শীতল পাটি। শীতল পাটি ছাড়া গ্রামের বিয়ে ছিল কল্পনাতীত। তীব্র গরমে এই পাটি পেতে ঘুমানো ছিল পরম প্রশান্তির। কালের পরিক্রমায়, আধুনিক চাকচিক্যের আড়ালে শীতল পাটির জনপ্রিয়তায় খানিকটা ভাটা পড়েছে। পাশাপাশি পৃষ্ঠপোষকতা ও পরিচর্যার অভাবে টাঙ্গাইলের গোপালপুরে হুমকির মুখে পড়েছে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পটি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যারা পাটি বানাতেন তাদের স্থানীয়ভাবে বলা হতো পাইততা। নগদা শিমলা ইউনিয়নের বাইশকাইল গ্রামে প্রায় ২৫০টি হিন্দু পাইততা পরিবারের বসবাস ছিল। তারাই মূলত ছিল শীতল পাটির কারিগর।

স্থানীয়রা জানান, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাইশকাইলের পাইততা পাড়ায় গণহত্যা চালায়। যে কজন বেঁচে ছিল, তারাও আতঙ্কে দেশ ছাড়ে চলে যায়।

সেই পাইততা পাড়ায় এখন বৃদ্ধ নরেশ চন্দ্র চন্দ (৮৫) কেবল পূর্ব-পুরুষের পাটি বানানোর পেশা ধরে রেখেছেন। আর এ পাটি বুননের কাজে তাকে সহায়তা করেন স্ত্রী কমলা রানী (৮০)। সেই পাটি হাট-বাজারে বিক্রি করেন তাদের একমাত্র ছেলে মন্তোস চন্দ্র চন্দ (৪৫)। একটি শীতল পাটি বানাতে সময় লাগে ৬-৭ দিন। এগুলো দুই হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা যায়। এই একটি পরিবারের হাত ধরেই এখানে টিকে আছে শীতল পাটির গৌরব। তবে তারাও যেকোনো সময় অন্যত্র চলে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা জানান।

বৃদ্ধা কমলা রানী বলেন, ‘আমরা একটি পরিবার হওয়ায় বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। উৎসব, পূজা, পার্বণ একাই করতে হয়। কেউ মারা গেলে দাহ করার মানুষ পাই না। আমাদের অনেক জমি বেদখল হয়ে আছে, কিছুদিন আগে গণভবনে গিয়েছিলাম। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা হয়নি, তবে লিখিত আবেদন দিয়ে এসেছি।’

বৃদ্ধ নরেশ চন্দ্র চন্দ বলেন, ‘সরাসরি আমাদের কেউ কিছু না বললেও, এখানকার একমাত্র হিন্দু পরিবার হওয়ায় বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। বাড়ির সীমানা নিয়েও বিভিন্নভাবে আমাদের মানসিক চাপে রাখা হয়। আমাদের সমস্যার সমাধান হলে আমরা এখানেই থাকতেই চাই।’

গোপালপুর বাজারের ব্যবসায়ী প্রবীর চন্দ্র চন্দ বলেন, ‘বাইশকাইল গ্রামে আমাদের পূর্ব-পুরুষের বাড়ি ছিল। গণহত্যার পর থেকেই মূলত হিন্দু পরিবারগুলো বিভিন্ন স্থানে যেতে থাকে। আমরাও গোপালপুর চলে আসি। ওই পরিবারটি একা হয়ে যাওয়ায় সমস্যা হয়ে গেছে। গোপালপুর উপজেলায় একটিমাত্র পরিবার পূর্ব-পুরুষের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। তারা চলে গেলে গোপালপুরে পাটি বানানোর ঐতিহ্য পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। ঐতিহ্যটি টিকিয়ে রাখতে এবং গণহত্যার স্থানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানাই।’

বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের গোপালপুর শাখার সভাপতি হরিপদ দেব মঙ্গল বলেন, পরিবারটি একা হয়ে যাওয়ায় ওখানে টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে গেছে। তাদের জমিজমা-সংক্রান্ত একটি মামলা আদালতে চলমান। তাই এখন পর্যন্ত তারা সেখানে রয়েছে।

নগদা শিমলা ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান সোহেল বলেন, ডিজিটালের ছোঁয়ায় পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পাটির চাহিদা কমে যাওয়ায় মূলত বিভিন্ন পেশায় স্থানান্তরিত হয়েছে শীতল পাটির কারিগররা। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নরেশ চন্দ্রের পরিবারটিকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়। সরকার যদি ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পের ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে আলাদাভাবে কোনো সহযোগিতা করে, তবে তা অবশ্যই তাদের নিকট পৌঁছানো হবে।

উপজেলার সমাজসেবা কর্মকর্তা এখলাছ মিয়া বলেন, ‘প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য আমাদের উপজেলায় কোনো প্রকল্প চালু নেই। নরেশ চন্দ্র চন্দকে বয়স্ক ভাতার আওতায় এনে ভাতা দেওয়া হচ্ছে।’

ইউএনও সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা বলেন, ‘এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে পরে বিস্তারিত জানাব।’

বিষয়:

দেড় দশকে কমেছে প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৬:০৮
গোলাম মোস্তফা রুবেল, সিরাজগঞ্জ

মাছচাষ অধিক লাভজনক হওয়ায় উত্তরবঙ্গের শস্যভাণ্ডারখ্যাত সিরাজগঞ্জে পুকুর কাটার হিড়িক পড়েছে। যে জমিতে বছরে তিনবার ফসল ফলত, সে জমিও এখন কেটে পুকুর বানিয়ে ফেলা হচ্ছে।

জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ধানের আবাদ হয় তাড়াশে। এই উপজেলায় এক্সকাভেটর দিয়ে জমি কেটে পুকুর খনন করার ফলে প্রতি বছর আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। এতে বছর শেষে ফসলি জমির পরিমাণ ভয়ংকরভাবে হ্রাস পাবে।

এ জেলায় প্রচুর পরিমাণ ধান, গম, খিরা, শসা, পাট, বেগুন, ডাল, রসুন, কাঁচা মরিচ, আখসহ বিভিন্ন রকমের ফসল উৎপাদিত হয়, যার উদ্বৃত্ত অংশ দেশের অন্যত্র বিক্রি হয়। কিন্তু অচিরেই খাদ্যে উদ্বৃত্ত এই জেলায় খাদ্য সংকট দেখা দেবে। এর প্রভাব পড়বে সারা দেশেও।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সিরাজগঞ্জে ২ হাজার ৫৩৯টি পুকুর খনন করা হয়েছে। এই দেড় দশকে ১ হাজার ৯২০ হেক্টর আবাদি জমি কমেছে। শুধু কৃষি জমিই নষ্ট হচ্ছে না, মাটি বহনকারী ডাম ট্রাক ও ট্রাক্টর চলাচলের কারণে সড়ক-মহাসড়কেরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জেল-জরিমানা করেও পুকুর খনন বন্ধ করা যাচ্ছে না। এ অবস্থা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে ধানের উৎপাদন কমে আসবে। দ্রুত এর অবসান না হলে জলাবদ্ধতাসহ পরিবেশে বিরূপ প্রভাব পড়বে।

স্থানীয়রা জানান, সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া গ্রামে ফসলি জমিতে পুকুর খনন করছেন হাজি বাবু নামে একজন। ভায়াট গ্রামের আলামিন জমি ইজারা নিয়ে পুকুর খনন করছেন। লালুয়া মাঝিড়া গ্রামের উত্তর মাঠে একটি বড় পুকুর খনন করছেন খোকা নামে এক ব্যক্তি। সরকারি অফিসের অসৎ কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এ রকম অধিকাংশ গ্রামে রাতের আঁধারে কৃষিজমির এমন ধ্বংসযজ্ঞ চলছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চললেও কৃষিজমিসহ নদী ও খাসজমি দখল করে চলছে পুকুর খনন।

বাঁশবাড়িয়া গ্রামের পুকুর খননকারী হাজি বাবু ও আলামিন জানান, কয়েক বছর ধরে তাড়াশের বিভিন্ন স্থানে পুকুর খনন করা হচ্ছে। তাই তারাও করছেন। সবারটা বন্ধ হলে তারাও আর খনন করবেন না।

কালিদাসনিলি গ্রামের তারিকুল ইসলাম, শাজাহান আলী ও আখতার হোসেন জানান, হাজি বাবু বাঁশবাড়িয়া গ্রামে আবাদযোগ্য জমিতে ৪৫ থেকে ৫০ বিঘা জমিতে একটি পুকুর খনন করছেন। পুকুরটির খনন শেষ হলে উত্তর ও দক্ষিণের মাঠের পানি নামতে পারবে না। তখন জমিতে জলাবদ্ধতা দেখা দেবে।

একই ইউনিয়নের জহুরুল ইসলাম নামের এক মাদ্রাসা শিক্ষক বলেন, ‘আমার ১০ কাঠা জমি ছিল। সলঙ্গা থানার কুমার গাইলজানি গ্রামের সাচ্চু নামের একজন মাঠের ১৫ জন কৃষকের জমি ইজারা নিয়েছেন পুকুর খননের জন্য। শেষমেশ আমিও দিতে বাধ্য হই। নয়তো আমার ওইটুকু জমি পুকুরের এক কোণায় পানিতে তলিয়ে থাকত।’

তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, ভূমি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা লঙ্ঘন করে পুকুর খনন করার অপরাধে গত এক মাসে জমির মালিকদের বিরুদ্ধে ২০টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ বাদী হয়ে ৮টি, ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ১০টি এবং সাধারণ কৃষকরা বাদী হয়ে ২টি মামলা করেছে।

তাড়াশ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খালিদ হাসান বলেন, পুকুর খননের তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক অভিযান চালানো হচ্ছে। এ পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালতে বেশ কয়েকজনকে জেল ও জরিমানা করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, তাড়াশের বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে বছরে তিন ফসলিসহ বিভিন্ন জাতের ধান ও রবিশস্যের আবাদ হয়। তারপরও কৃষকরা তাদের জমি কেটে পুকুর খনন করছেন। মূলত মধ্যস্বত্বভোগী একটি চক্র কৃষকের সব দায়ভার নিয়ে পুকুর খনন করে দিতে উৎসাহিত করছেন।

সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (উপ-পরিচালক) বাবলু কুমার সূত্রধর বলেন, এই জেলার মতো উর্বর এবং তিন থেকে চার ফসলি জমি দেশের খুব কম এলাকায় আছে। সে কারণে সিরাজগঞ্জ জেলা শস্যভাণ্ডার হিসেবে খ্যাত। ভবিষ্যতে সেই সুনাম ধরে রাখা সম্ভব হবে না। মানুষ বুঝতে চাচ্ছে না, আবাদি জমি কমে গেলে তাদের জীবন সংকটাপন্ন হবে। ফসলি জমিতে পুকুর খনন বা শিল্পায়ন কঠোর হাতে দমন করা জরুরি।

বিষয়:

শ্রীমঙ্গলে মাটিবোঝাই ট্রাক চলাচলে সড়কের অচলাবস্থা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৫:৪৭
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি আবাসিক এলাকায় মাটি বোঝাই ট্রাক চলাচলের ফলে কাঁচা সড়কের বেহাল অবস্থা। ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে এ সড়কের পাশে সরকারিভাবে নির্মিত গাইড ওয়ালটিও বিভিন্ন জায়গায় হেলে পড়েছে ও ভেঙে গেছে।

উপজেলার ৩নং শ্রীমঙ্গল ইউনিয়নের সবুজবাগ এলাকার সরকারপাড়া থেকে হাইল হাওর যাওয়ার সড়কে এমনটাই দেখা যায়। এ বিষয়ে গতকাল ২৫ ফেব্রুয়ারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সরকারপাড়া থেকে হাইল হাওরে যাওয়ার পথে পীযুষ পালের বাড়ির উঠোন ও একটি জলাশয় ভরাট করার জন্য গত ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ট্রাকে করে মাটি নিয়ে যাচ্ছিল। মাটি বোঝাই ট্রাকের কারণে চলাচলের রাস্তাটির বিভিন্ন জায়গায় গর্ত ও কাদামাটি তৈরি হওয়ায় স্থানীয়রা ট্রাকচালক ও মাটি ভরাটের কাজের ঠিকাদার ধিরু মালাকারকে এই সড়ক নষ্ট না করার জন্য অনুরোধ জানায়; কিন্তু ঠিকাদার বলের, তিনি নাকি প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই কাজ করছেন। সড়কের কোথাও যদি কোনো সমস্যা হয় তাহলে পুরো সড়কটি তিনি ঠিক করে দেবেন। মাটির সড়কের ওপর মাটি বোঝাই ট্রাক চালানোর ফলে এখন সড়কের পাশের সরকারিভাবে নির্মিত গাইড ওয়ালটির বিভিন্ন জায়গায় ভেঙে গেছে ও হেলে পড়েছে। সড়কের অনেক গর্ত তৈরি হয়েছে। এখন এই সড়ক ব্যবহার করে কেউ হাঁটাচলা করতে পারছে না। কোনো রোগী অসুস্থ হলে বাসা থেকে বের করা খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানে ঠিকাদার এলেই প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে রাস্তা নষ্ট করে জলাশয় ভরাট করেছে কি না সেটা স্থানীয়দের জানা নেই।

এ ব্যাপারে জানতে অভিযুক্ত ঠিকাদার ধিরু মালাকারকে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ফোন ধরেননি।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সন্দ্বীপ তালুকদার অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমি ঠিকাদার ধিরু মালাকারকে একাধিকবার ফোন দিয়েছি। তিনি ফোন ধরেননি। আমরা বিষয়টি দেখছি। আমাদের লোকজন ঘটনাস্থলে যাবে; প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’


কক্সবাজারে ভাইয়ের হা‌তে ভাই খুন

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৬:০৭
কক্সবাজার প্রতিনিধি

কক্সবাজারের উখিয়ায় পূর্ব বিরোধের জেরে চাচাত ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরকীয়ার জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের উত্তর নিদানিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানান উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হোসেন।

নিহত ছৈয়দ করিম (৪৫) জালিয়াপালং ইউনিয়নের উত্তর নিদানিয়া গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে। তবে ঘটনায় অভিযুক্ত ছালামত উল্লাহকে (৩৮) এখনো আটক করা সম্ভব হয়নি বলে জানান ওসি।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে মো. শামীম হোসেন বলেন, ‘সকালে উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের উত্তর নিদানিয়া গ্রামের স্থানীয় স্টেশন থেকে ছৈয়দ করিম বাড়ী ফিরছিলেন। পথিমধ্যে তেতুলতলা নামক স্থানে পৌঁছলে আপন চাচাত ভাই ছালামত উল্লাহ আকস্মিক তার উপর হামলে পড়ে। এক পর্যায়ে ছৈয়দ করিমের বুকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে স্বজনরা তাৎক্ষনিক তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে। এসময় হাসপাতালে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

ওসি বলেন, ‘কী কারণে এ খুনের ঘটনা ঘটেছে পুলিশ তা নিশ্চিত নয়। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ছালামত উল্লাহর স্ত্রীর সঙ্গে ছৈয়দ করিমের পরকীয়া রয়েছে এমন সন্দেহে এ ঘটনা ঘটেছে।’

নিহতের ছোট ভাই মিজানুর রহমান বলেন, ‘একটা সময় তার বাবা ও চাচার মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। পরে তা সামাজিক সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়ে যায়। এ নিয়ে তার বাবার প্রতিপক্ষরা মনে মনে ক্ষুদ্ধ ছিল। এই ক্ষুদ্ধতাবশত গত ২-৩ বছর আগেও তাকে (মিজানুর) মাথায় ছুরিকাঘাত করেছিল ছালামত উল্লাহ। পূর্ব শত্রুতার জেরে তার ভাইকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে।’

ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে রয়েছে বলে জানান ওসি শামীম হোসেন।

তিনি আরও জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।


banner close