নোয়াখালীতে পিকআপ ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে ফখরুল ইসলাম (৫৫) নামে এক যাত্রী নিহত হয়েছেন।
রোববার সকালে সদর উপজেলার নোয়াখালী ইউনিয়নের সোনাপুর-রামগতি সড়কের মান্নান নগর চৌরাস্তা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ফখরুল লক্ষীপুরের রামগতি উপজেলার বড়খেরী ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের মৃত আলম মিয়ার ছেলে।
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহেদুল হক রনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়দের বরাতে তিনি বলেন, ‘সকাল ১০টার দিকে একটি অটোরিকশায় রামগতি থেকে সোনাপুরের উদ্দেশে যচ্ছিলেন ফখরুল। মন্নান নগর চৌরাস্তা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা আহত অবস্থায় ফখরুলকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’
ওসি আরও বলেন, ‘মরদেহ নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি।’
পঞ্চগড়ে সবুজ চা পাতার মূল্য বৃদ্ধি করে প্রতি কেজি ২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত সবুজ চা পাতার মূল্য নির্ধারণী সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসক পঞ্চগড়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় জেলার চা শিল্প সংশ্লিষ্ট চাষি, কারখানা মালিক ও অন্যান্য অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি কেজি সবুজ চা পাতার সর্বনিম্ন মূল্য ২৫ টাকা, সর্বোচ্চ চা ২৮ টাকা করা হয়। পাশাপাশি চা চাষিদের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা কৃষি অফিসারের মাধ্যমে এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ইউনিয়ন কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় আগামী দুই মাসের মধ্যে সব চা চাষিদের নিবন্ধন সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সভায় আরও জানানো হয়, কোনো চা চাষি নিবন্ধন না করলে তিনি সরকারি সার সুবিধা পাবেন না। একই সঙ্গে অনিবন্ধিত চাষিদের উৎপাদিত সবুজ চা পাতা কোনো কারখানা কিনতে পারবে না এবং তারা সরকারি প্রশিক্ষণ থেকেও বঞ্চিত হবেন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সবুজ চা পাতার কর্তন শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে, নির্ধারিত সময়ের পর কোনো কারখানা সবুজ চা পাতা কিনতে পারবে না। নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট কারখানার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থ নেওয়া হবে বলে সভায় জানানো হয়।
এছাড়াও পঞ্চগড়ের সবুজ চা পাতার মূল্য নির্ধারণী কমিটিকে বাংলাদেশ চা বোর্ডের অনুমোদন নিতে হবে। নীতিমালায় উল্লিখিত প্রেসক্রাইবড কমিটি গঠন করে তা বাংলাদেশ চা বোর্ডে প্রেরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সভায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রায় ৫০০ কোটি টাকার পঞ্চগড়ের চা শিল্প রক্ষায় জেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকবে। চা চাষি, কারখানা মালিক ও শ্রমিক-সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এই শিল্প রক্ষায় কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
তবে মাঠপর্যায়ে এসব সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও সবুজ চা পাতা কেনাবেচা গত ৩১ ডিসেম্বর হলেও কিছু কিছু কারখানা পাতা কিনছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানী চাষিদের দাবি, আমাদের উৎপাদিত পাতা ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে মুনাফা লোভীদের কাছে মজুত থাকা পাতা চুক্তি ভিত্তিকভাবে কারখানায় সরবরাহ করা হচ্ছে, যা নিয়মবহির্ভূত।
চা চাষিরা বলছেন, এই অনিয়ম বন্ধ না হলে ন্যায্যমূল্য ও নীতিমালার সুফল কৃষকদের কাছে পৌঁছাবে না। দ্রুত কার্যকর তদারকি ও সিদ্ধান্তের কঠোর বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।
নর্থ বেঙ্গল চা ফ্যাক্টরীর ম্যানেজার মোঃ সোহাগ জানান ৩১ তারিখে চা পাতা কেনার শেষ সময় ছিল কিন্তু কিছু কৃষক শ্রমিক না পেয়ে চাপাতা কাটতে পারেনি। শ্রমিক সংগ্রহ করে তারা বর্তমানে চা পাতা কেটে নিয়ে আসতেছে। আমরা যদি চা পাতা গুলো না নিয়ে থাকি তাহলে কৃষকদের চা পাতা গুলো ফেলে দেওয়া ছাড়া কোন উপায় থাকবে না। কৃষকরা অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। সেইদিক বিবেচনা করে চাপাতা ক্রয় করতেছি।
পঞ্চগড়ের বাংলাদেশ চা বোর্ডের উন্নয়ন কর্মকর্তা হলেন মোঃ আমির হোসেন জানান, আনঅফিশিয়াল ভাবে ক্রয় করতে পারে সেটা আমার জানা নেই, তবে অফিসিয়াল ভাবে চা পাতা ক্রয় বন্ধ করা হয়েছে।
গত ২০২৫ সালে হঠাৎ করেই চায়ের পাতার দাম উর্ধমুখি হয়ে ওঠে। শুরুর দিকে ২৬ থেকে ২৮ টাকা কেজি দরে কারখানায় চা পাতা বিক্রি হতে থাকে। এখন সেই চায়ের পাতা ৪০ টাকায় ওঠে। হতাশার চক্র থেকে প্রাণ ফিরে পায় চা চাষীরা।
এদিকে, গত ২৭ ডিসেম্বর পঞ্চগড় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সবুজ চা পাতার মূল্য নির্ধারণ সংক্রান্ত এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক পঞ্চগড়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলার চা শিল্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বলা হয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে চা চাষিদের নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। ইউনিয়ন পর্যায়ে ইউনিয়ন কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তার সহযোগিতায় আগামী দুই মাসের মধ্যে সব চা চাষির বাধ্যতামূলক নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। কোনো চা চাষি নিবন্ধন না করলে তিনি সরকারি সার পাবেন না। অনিবন্ধিত চাষিদের কাছ থেকে কোনো কারখানা সবুজ চা পাতা ক্রয় করতে পারবে না। এছাড়া অনিবন্ধিত চা চাষিদের কোনো ধরনের প্রশিক্ষণও প্রদান করা হবে না। আরো বলা হয়, পঞ্চগড়ের সবুজ চা পাতার মূল্য নির্ধারণী কমিটিকে বাংলাদেশ চা বোর্ডের অনুমোদন নিতে হবে। নীতিমালায় উল্লেখিত প্রেসক্রাইবড কমিটি গঠন করে তা বাংলাদেশ চা বোর্ডে প্রেরণ করতে হবে।
মনোহরনগর গ্রামের অজিত মন্ডলের বাড়িতে দেখা যায়, উঠানে কোমর সমান পানি। এখন বিল সেচ চলছে, পানিও বাড়ছে। বাগডাঙ্গা-মনোহরনগর খাল দিয়ে পানি নিষ্কাশিত হতে না পেরে গ্রামের মধ্যে ঢুকে পড়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। গত সাত মাস তারা পানিবন্দী অবস্থায় আছেন। স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের পড়াশুনার পরিবেশও নেই বাড়িতে।
আসন্ন বোরো মওসুমে যশোরের কেশবপুরের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৩ ইউনিয়নের ২৭ বিলের পানি শতাধিক সেচ পাম্প দিয়ে নিষ্কাশন চালিয়ে যাচ্ছে ঘের মালিক ও কৃষকেরা। কিন্তু শ্রী নদীর নাব না থাকার পাশাপাশি ব্রিজ, কালভাটের মুখ বন্ধ করে অপরিকল্পত মাছের ঘেরের বেড়িবাঁধ করায় বিলের পানি নদীতে নিষ্কাশনে বাধা পেয়ে ঢুকে পড়ছে লোকালয়ে। পানির চাপে এরইামধ্যে ১০/১২ গ্রাম তলিয়ে ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় রূপ নিচ্ছে। জলাবদ্ধতার কারণে গ্রামের মানুষের চলাচলে প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে ডিঙি নৌকা ও বাঁশের সাঁকো।এতে ভেঙে পড়েছে গ্রামীণ অবকাঠামো। জানা গেছে, উপজেলার পাঁজিয়া, সুফলাকাটি ও গৌরীঘোনা ইউনিয়নসহ ২৭ বিলের বর্ষার অতিরিক্ত পানি ডায়ের খাল দিয়ে শ্রী নদীতে নিষ্কাশন হয়। ৯০'র দশকে পাউবোর সুইস গেটের পাশাপাশি ২০০০ সালের দিকে এলাকার প্রভাবশালী ঘের মালিকেরা ব্রিজ, কালভাটের মুখ বন্ধ ও অপরিকল্পত মাছের ঘেরের বেড়িবাঁধ করায় বর্তমান বিলের পানি শ্রী নদীতে নিষ্কাশন হচ্ছে না। ঘের মালিকেরা প্রতি শুষ্ক মৌসুমে ভূগর্ভস্থ পানি তুলে বিলগুলো ভরাট করে। ফলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষাকালে যেনতেন বৃষ্টিতেই পানি মানুষের বসতবাড়িতে উঠে যায়। এলাকায় দেখা দেয় কৃত্রিম জলাবদ্ধতা। প্রায় সারা বছরই বাগডাঙ্গা, মনোহরনগর, নারায়নপুর, কালিচরণপুর, আড়য়া, ময়নাপুর, সানতলাসহ ১০/১২ গ্রামের মানুষের বসতভিটায় পানি থাকে। ঘেরের কারণে জেলেরা বাধ্য হয় পেশা বদল করতে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) বাগডাঙ্গা, মনোহরনগর ও কালিচরণপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, মানুষের বাড়িতে এখনো পানি থই থই করছে। আষাঢ়-শ্রাবণ মাস থেকে মানুষজনের বাড়িতে পানি। মাঝে পানি কিছুটা কমে গিয়েছিল। কিন্তু গত ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে প্রতিদিনই পানি বাড়ছে। গরু ছাগল হাঁস মুরগি নিয়ে পড়তে হচ্ছে মহাবিপাকে। জলাবদ্ধতা সমস্যার নিরসণের দাবি করা হলেও তা কেউ আমলে নিচ্ছে না।
মনোহরনগর গ্রামের অজিত মন্ডলের বাড়িতে দেখা যায়, উঠানে। উঠানে কোমর সমান পানি। । এখন বিল সেচ চলছে, পানিও বাড়ছে। বাগডাঙ্গা-মনোহরনগর খাল দিয়ে পানি নিষ্কাশিত হতে না পেরে গ্রামের মধ্যে ঢুকে পড়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। গত সাত মাস তারা পানিবন্দী অবস্থায় আছেন। স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের পড়াশুনার পরিবেশও নেই বাড়িতে।
২৭ বিল বাঁচাও আন্দোলন কমিটির আহ্বায়ক বাবর আলী গোলদার বলেন, শ্রী নদীসহ তিন নদী ও সংযোগ খালের খনন কাজ চলছে। এতে সাময়িক জলাবদ্ধতার নিরসন হবে, কিন্তু স্থায়ী সমাধান হবে না। নদীর প্রবাহ ঠিক রাখতে শ্রীনদী, হরিহর, আপারভদ্রা, বুড়িভদ্রা নদী খননসহ ভবদহ অঞ্চলের যেকোনো একটি বিলে টিআরএম চালু করা না হলে এ সমস্যার সমাধান হবে না।
কেশবপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ফিরোজ আহমেদ বলেন, সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নদীর খনন কাজ চলছে। তারাই এটা দেখভাল করছে। আমাদের করার কিছুই নেই।
ডিএনএ প্রোফাইলিং এবং ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করার পর জুলাই অভ্যুত্থানের অজ্ঞাত আট শহীদের নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাজধানীর রায়েরবাজার কবরস্থানে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) আয়োজিত ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে অজ্ঞাত শহীদদের মরদেহ পরিচয় শনাক্তকরন অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ।
এ সময় মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বীর প্রতীক, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান বক্তব্য রাখেন।
এছাড়া জুলাই গণঅভ্যূত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য দেন।
শনাক্তকৃত শহীদরা হলেন- ময়মনসিংহের ফুলপুর থানার ফুলপুর গ্রামের গাজী মামুদ এবং জোসনা বেগমের ছেলে মো. মাহিন মিয়া (২৫)। তিনি ১৮ জুলাই, ২০২৪ সালে মারা যান।
শেরপুরের শ্রীরবদীর আব্দুল মালেক এবং আয়েশা বেগমের ছেলে আসাদুল্লাহ। তিনি ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মারা যান।
চাঁদপুরের মতলব থানার বারোহাতিয়া গ্রামের সবুজ বেপারী ও শামসুন্নাহারের ছেলে পারভেজ বেপারী। তিনি ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মারা যান।
রফিকুল ইসলাম, সাতকাছিমা গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বার সিকদারের ছেলে, নাজিরপুর থানা, পিরোজপুর। তিনি ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মারা যান।
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং-এর মো. লাল মিয়া ও রাশেদা বেগমের ছেলে সোহেল রানা। তিনি ২০২৪ সালের জুলাই মাসে মারা যান।
রফিকুল ইসলাম, ফেনী সদর, ফেনীর মৃত খোরশেদ আলমের ছেলে। তিনি ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মারা যান।
ফয়সাল সরকার, কাচিমারা গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে, দেবিদ্বার থানা, কুমিল্লা। তিনি ২২ জুলাই, ২০২৪ সালে মারা যান।
কাবিল হোসেন (৫৮), ঢাকার মুগদা থানা লেনের বাসিন্দা মৃত বুলু মিয়া এবং শামেনা বেগমের ছেলে। তিনি ২ আগস্ট, ২০২৪ সালে মারা যান।
রাজধানীর মোহাম্মদপুর রায়েরবাজার কবরস্থান থেকে এ পর্যন্ত ১১৪ জনের অজ্ঞাত মরদেহ উত্তোলন, ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ সম্পন্ন করা হয়।
কবর শনাক্তের পর আটটি পরিবারের কাছে তা বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অনেক অজ্ঞাত মরদেহ দাফন করা হয়। পরিবারের সদস্যরা এতদিন জানতেন না নিহতদের কবর কোথায়।
১৮ মাস পর নিহতের কবর দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। এ সময় এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং আদালতের নির্দেশে পরিচালিত এই কার্যক্রমের আওতায় ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৯টি ভুক্তভোগী পরিবারের দেওয়া নমুনার ভিত্তিতে ৮ জন শহীদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। অবশিষ্ট একটি মরদেহের পরিচয় শনাক্তকরণ প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
এর আগে অজ্ঞাত নিহতদের শনাক্ত করার জন্য রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের অংশ হিসেবে রায়েরবাজার কবরস্থান থেকে মৃতদেহ উত্তোলন করা হয়েছে।
সিআইডির তথ্যমতে, নয়টি পরিবারের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল, যার ফলে আটজন শহীদের শনাক্তকরণ সফলভাবে করা সম্ভব হয়েছে। বাকি মৃতদেহের শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া চলছে।
সিআইডি জানিয়েছে যে পুরো অভিযানটি আইন, মানবাধিকার নীতি এবং আন্তর্জাতিক মান মেনে পরিচালিত হয়েছে, যা মর্যাদা, স্বচ্ছতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করেছে।
এ উদ্যোগ নিখোঁজ শহীদদের পরিবারের অনিশ্চয়তা দূর করতে সাহায্য এবং ভবিষ্যতের বিচারিক কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ফরেনসিক প্রমাণ সংরক্ষণ করেছে।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকার বিভিন্ন স্থানে নিহত বেশ কয়েকজন পুরুষ ও নারী শহীদের লাশ প্রাথমিকভাবে রায়েরবাজার কবরস্থানে দাফন করা হয়েছিল। সরকারের সিদ্ধান্তের পর, তাদের পরিচয় নির্ধারণে পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ পুলিশের সিআইডিকে এই কর্মসূচির সার্বিক তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব দিয়েছে। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ড. মরিস টিডবল-বিঞ্জ দুই দিনের কর্মশালার মাধ্যমে সিআইডি ফরেনসিক, ডিএনএ এবং মেডিকেল টিমকে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের সহায়তায় এবং মিনেসোটা প্রোটোকল অনুসারে আরেক আন্তর্জাতিক ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ড. লুইস ফন্ডেব্রিডারের নেতৃত্বে মৃতদেহ উত্তোলন এবং শনাক্তকরণ প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হয়।
মোহাম্মদপুর থানায় দায়ের করা একটি সাধারণ ডায়েরি শেষে আদালতের অনুমতি পাওয়ার পর, মোট ১১৪টি মৃতদেহ উত্তোলন, ময়নাতদন্ত এবং ডিএনএ বিশ্লেষণের জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়। রায়েরবাজার কবরস্থানে একটি অস্থায়ী মর্গ স্থাপন করা হয়। যেখানে ৭ ডিসেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ পর্যন্ত ফরেনসিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
সিআইডি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য সকল নিহতের হিসাব না পাওয়া এবং মর্যাদার সাথে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত বাকি শহীদদের শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।
কক্সবাজারের রামুর ঈদগড়ের গহীন পাহাড়ে অস্ত্র তৈরির একটি কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে। সেই কারখানায় অভিযান চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি তৈরির বিপুল সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে কক্সবাজার জেলা পুলিশের জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও বিশেষ শাখার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অলক বিশ্বাস এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে অভিযান টের পেয়ে পালিয়ে যান তিন থেকে চারজন ব্যক্তি। এতে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১১টি এয়ারগান উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৯)। গত রোববার রাতে উপজেলার সাতগাঁও ইউনিয়নের লছনা এলাকায় চা-কন্যা ভাস্কর্যের পাশের ঝোপঝাড় থেকে এসব এয়ারগান উদ্ধার করা হয়।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধানে ও অস্ত্র উদ্ধারে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা অবৈধ অস্ত্র কারখানার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। খবর কক্সবাজার ও শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধির।
কক্সবাজারের ঘটনায় অতিরিক্ত পলিশ সুপার অলক বিশ্বাস বলেন, সোমবার সকালে রামুর ঈদগড়ের গহীন পাহাড়ী এলাকায় সংঘবদ্ধ চক্রের কতিপয় লোকজন অবৈধ কারখানা স্থাপন করে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির খবর পায় পুলিশ। পরে পুলিশের একটি দল বিশেষ অভিযান চালায়। এক পর্যায়ে পুলিশ গহীন পাহাড়ের আবু আহম্মদঘোনা ফাতেমাছড়া এলাকায় গড়ে তোলা সন্দেহজনক একটি ঝুপড়ি ঘর ঘিরে ফেলে। এতে পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে ৩/৪ জন সন্দেহজনক লোক পালিয়ে যায়। পরে ঝুপড়ি তল্লাশি চালিয়ে পাওয়া যায় ২টি রাইফেলের গুলি, ৪ টি গুলির খোসা, ২টি বন্দুকের বাট, ৩টি বন্দুকের ট্রিগার বক্স, ৬টি বন্দুকের নল, ২টি বন্দুক তৈরির যোগান, ১টি হাওয়ার মেশিন, ২টি বাটাল, ৫টি আড়িব্লেড, ১টি আড়িব্লেডের ফ্রেম, ১টি করাত, ১টি হাতুড়ী, ১টি প্লাস, ৭টি ছোট-বড় রেথ, ১টি শান দেয়ার মেশিন এবং ১টি বানান নালীসহ বেশ কিছু অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামাদি।
অলক বিশ্বাস জানান, অভিযানে পলাতক দুর্বৃত্তদের পাশাপাশি সন্ধান পাওয়া অস্ত্রের কারখানার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে পুলিশ খোঁজ-খবর নিচ্ছে।
রামু থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, অপরাধ প্রতিরোধের অংশ হিসেবে অস্ত্র উদ্ধারে গর্জনিয়া ও ঈদগড় এলাকয় অভিযান পরিচালনা করে একটি অবৈধ অস্ত্র তৈরির কারখার সংবাদ পাই এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। সরঞ্জামগুলো পরীক্ষা করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
শ্রীমঙ্গলের ঘটনায় র্যাব-৯-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মিডিয়া অফিসার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অস্ত্র উদ্ধার সংক্রান্ত বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে র্যাব-৯-এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে শ্রীমঙ্গলের সাতগাঁও ইউনিয়নের লছনা এলাকায় চা-কন্যা ভাস্কর্যের উত্তর পাশে ঝোপঝাড়ে এয়ারগান লুকিয়ে রাখার তথ্য পায়। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। একপর্যায়ে ঝোপের ভেতরে রাখা দুটি প্লাস্টিকের বস্তা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১১টি এয়ারগান উদ্ধার করা হয়।
র্যাব জানায়, উদ্ধার করা এয়ারগানগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাউকে তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত বা আটক করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, উদ্ধার হওয়া এয়ারগানগুলো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হতে পারে।
উদ্ধার এয়ারগানগুলো শ্রীমঙ্গল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাব-৯-এর গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রায়েরবাজার কবরস্থানে অজ্ঞাত পরিচয়ে শায়িত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা।
ডিএনএ প্রোফাইলিং এবং ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করার পর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আট শহীদের নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাজধানীর রায়েরবাজার কবরস্থানে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) আয়োজিত ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে অজ্ঞাতনামা শহীদদের মরদেহের পরিচয় শনাক্তকরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এ সময় বক্তব্য রাখেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বীর প্রতীক, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বীর প্রতীক বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে নিহত অনেক নারী ও পুরুষের মৃতদেহ অজ্ঞাত পরিচয়ে রায়েরবাজার কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
শহীদদের পরিচয় উদঘাটনে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুসারে সিআইডির ওপর দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এই কঠিন কাজটি সম্পন্ন করতে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছে।
আজ আমরা ঘোষণা করছি যে, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ৯টি পরিবারের সংগৃহীত ডিএনএ নমুনার মাধ্যমে ইতোমধ্যে আটজন অজ্ঞাতনামা শহীদের পরিচয় সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।
এই শনাক্তকরণের ফলে শহীদের পরিবারগুলো অন্ততপক্ষে জানতে পারছে যে, তাদের প্রিয়জনের ভাগ্যে কী ঘটেছে বা তারা ঠিক কোন স্থানে শায়িত আছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘উত্তাল সময়ে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে নিহত অনেক নারী ও পুরুষের মৃতদেহ রায়েরবাজার কবরস্থানে অজ্ঞাত পরিচয়ে দাফন করা হয়েছিল। তখন তাদের পরিচয় এবং মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করাকে রাষ্ট্র তার একটি নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব হিসেবে মনে করে। সেই গুরু দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবেই অজ্ঞাতনামা শহীদদের পরিচয় শনাক্তকরণে একটি পরিকল্পিত ও বিজ্ঞানভিত্তিক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই কঠিন ও সংবেদনশীল কাজটি সম্পন্ন করতে সিআইডি ফরেনসিক, ডিএনএ ও মেডিকেল টিমগুলো অত্যন্ত পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছে।’
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, ‘আমি মনে করি এটা রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনের একটি অংশ। এই শহীদ পরিবারের কাছে আমাদের কৃতজ্ঞতা স্বীকার করার কোনো ভাষা নেই।’
গত ২৩ দিনে দেশব্যাপী অভিযান চালিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ১৪ হাজার ৫৬৯ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার এবং ২০১টি আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ জব্দ করেছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ১৯তম সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত পরিচালিত অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২-এর আওতায় এসব লোককে গ্রেপ্তার ও অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে।’
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, এসব অভিযানে ২০১টি আগ্নেয়াস্ত্র, ১৫৪১ রাউন্ড গুলি, ৫৬৬ রাউন্ড কার্তুজ, ১৬৫টি দেশীয় অস্ত্র, গ্রেনেড, মর্টারের গোলা, গান পাউডার, আতশবাজি ও বোমা তৈরির উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে।
এ সময় মামলা ও ওয়ারেন্টমূলে ১৯ হাজার ২৩৫ জনসহ ৩৩ হাজার ৮০৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ডেভিল হান্ট ফেইজ-২-এর অংশ হিসেবে চেকপোস্ট ও টহলের সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ ছাড়া দুষ্কৃতকারীরা যাতে রেহাই না পায়, সে জন্য অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার অভিযান আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
উপদেষ্টা বলেন, ‘দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশব্যাপী গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম আরও জোরদার করা ও সকল বাহিনীর গোয়েন্দা তথ্য-উপাত্ত সমন্বয় করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘গত ডিসেম্বর মাসে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর দেশব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযানে ৬৫৮টি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছে এবং ১,৬১৩টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময়ে গ্রেপ্তারকৃত আসামির সংখ্যা ২,৩৭৫ জন। এ সময় বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে।
ভোলার বোরহানউদ্দিনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ প্রতিরোধ অভিযান পরিচালনাকালে তেতুলিয়া নদীর বাগমারা এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অপরাধে তিনটি লোড ড্রেজার মেশিন সহ ৫ জনকে আটক করেছে বোরহানউদ্দিন উপজেলা প্রশাসন।
বোরহানউদ্দিন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রনজিৎ চন্দ্র দাস জানান, রোববার (৪ জানুয়ারি) রাত ৮ টার দিকে বোরহানউদ্দিন উপজেলার তেতুলিয়া নদীর বাগমারা এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় ৫ জনকে ৩টি লোড ড্রেজার সহ হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। পরে জব্দ ড্রেজার তিনটি ভোলা নদী বন্দরের সহকারী পরিচালকের (বন্দর ও পরিবহণ) জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে। আটকতরা হলেন, ভোলা সদর উপজেলার মো. মোকছেদ, মো. মনির, দুলারহাট উপজেলার মো. আলমগীর, বরগুনা সদর উপজেলার মো. মিরাজ, বরিশাল সদর উপজেলার মো. হাসান বেপারী।
এ বিষয়ে বোরহানউদ্দিন থানায় নিয়মিত মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অভিযানে সহযোগিতা করে বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশ।
তীব্র শীতে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বেড়েছে শীতকালীন রোগের প্রার্দুভাব, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে শিশু ও বৃদ্ধ রোগীদের ভীড় বাড়ছে। প্রতিদিনই জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগ নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন রোগীরা। এদের বেশির ভাগই প্রত্যন্ত ও গ্রাম অঞ্চল এলাকা থেকে আসা।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গত এক সপ্তাহ ধরে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে বেড়েছে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা। গ্রাম ও শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শিশু-বৃদ্ধসহ নানান বয়সের মানুষ ভর্তি হচ্ছেন হাসপাতালে। সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত বইছে হিমেল বাতাস, তার সাথে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। এতে জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়া রোগ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন রোগীরা। এছাড়া ঠান্ডাজনিত রোগের বাইরে কারও কারও দেখা দিয়েছে ডায়রিয়া ও চর্মরোগ। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বহির্বিভাগেও রোগীর চাপ। এমতাবস্থায় কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগী ও স্বজনেরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গড়ে প্রতিদিন শুধুমাত্র উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে অন্তঃবিভাগ ও বহির্বিভাগে হাজার মানুষ স্বাস্থ্যসেবা নিচ্ছেন। এছাড়া আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি) হাসপাতালে ৪৪ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। তাদের মধ্য বেশিরভাগই নিউমোনিয়া, ডায়রিয়াসহ ঠান্ডা জনিত রোগী।
পাশ্ববর্তী কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতি গ্রাম থেকে ৩ বছরের ছেলে সন্তানকে নিয়ে ভৈরব উপজেলা কমপ্লেক্সে হাসপাতালে আসেন দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, দুদিন যাবত আমার সন্তান ঠান্ডা জনিত সমস্যায় ভুগছেন। তাই চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে নিয়ে আসছি। ডাক্তার পরীক্ষা নিরীক্ষা করে কয়েকটি ঔষধ লিখে দিয়েছে বলেছেন কয়েকদিন খাওয়ালে সেরে উঠবেন।
সন্তানের ঠান্ডা জনিত সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে আসেন তারেক মিয়া। তিনি বলেন, এখন যে শীত পড়েছে। এতে সকল বাচ্চারাই অসুস্থ হয়ে পড়ছে। আমার বাচ্চাটাও কয়েকদিন ধরে ঠান্ডা জনিত সমস্যায় ভুগছেন। ডাক্তারকে দেখালাম তারা হাসপাতালে ভর্তি করতে বলেছেন।
নরসিংদীর জেলার রায়পুরা উপজেলার মাহমুদাবাদ এলাকার ইতি বেগম বলেন, আমার সন্তানকে চিকিৎসার জন্য ডাক্তারকে দেখাতে গেলে তিনি জানান আমার সন্তানের নিউমোনিয়া হয়েছে। তারপর সরকারি হাসপাতালে এসে ভর্তি হয়ে তিন দিন যাবত সন্তান চিকিৎসাধীন রয়েছে। এখন তার সন্তানের শরীর কিছুটা ভালোর দিকে বলে তিনি জানান।
এবিষয়ে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতাল স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা.কিশোর কুমার ধর জানান, এই বছরে অন্যান্য বছরের তুলনায় শীতের তীব্রতা বেশি থাকায় শিশু ও বৃদ্ধ বয়সের মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছে৷ প্রতিদিনই হাসপাতালের বহি:বিভাগ থেকে ঠান্ডা জনিত সমস্যা নিয়ে হাজারো রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন । তাছাড়াও যাদের অবস্থা গুরুতর সেসব রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি করানো হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, সেবা নিতে আসা রোগীদের সাধ্যমত চিকিৎসা সেবা প্রদান করছে চিকিৎসক ও নার্সরা। শীত মৌসুমে এই রোগ থেকে বাঁচতে গরম পোশাকের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি অপ্রয়োজনে বাইরে না বের হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
নওগাঁয় দিনব্যাপী ক্রিকেট প্রতিযোগিতা হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে জেলা স্টেডিয়ামে বার্ষিক ক্রীড়া কর্মসূচির আওতায় জেলা ক্রীড়া অফিস এই খেলার আয়োজন করে।
ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অনুর্ধ্ব-১৪, ১৬ ও ১৮ বছর বয়সের খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে যমুনা, আত্রাই, তুলসীগঙ্গা ও নাগর নদীর নামে ৪টি দল গঠন করে এক অপরের বিপক্ষে অংশগ্রহণ করে।
চুড়ান্ত খেলায় নাগরনদী দল আত্রাই নদী দলকে ৮ উইকেটে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়। পরে চ্যাম্পিয় ও রানার্সআপ দলে মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এছাড়াও খেলোয়াড়দের মাঝে জার্সি বিতরণ করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা ক্রীড়া অফিসার আরিফুজ্জামান, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য আবুল কালাম আজাদ, এনামুল হকসহ ক্রীড়া সংগঠকরা।
আয়োজকরা জানান তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসারের মাধ্যমে তারুণ্যের বিকাশ ঘটানো মূল উদ্দেশ্যে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সক্রিয় যোদ্ধা তাহমিনা জান্নাত সুরভীর জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে তার মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ওই পোস্টে জানানো হয়, আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত তার জামিন আবেদন গ্রহণ করেছেন।
এর আগে গত ২৫ ডিসেম্বর রাতে টঙ্গী পূর্ব থানার গোপালপুর টেকপাড়া এলাকার নিজস্ব বাসভবন থেকে তাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত বছরের জুলাই-আগস্ট মাসে আন্দোলনের সময় গুলশান ও বাড্ডা এলাকায় সংঘটিত বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নাম জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে দফায় দফায় অর্থ আদায়ের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ তিনি আদালত থেকে জামিন লাভ করেন।
প্রকৃতিতে এখন শীতের তীব্রতা। আর এ শীতের সকালে এক গ্লাস রসের স্বাদ নিতে কার না ভাল লাগে। শীত আসলেই খেজুর রস খেতে শিশির ভেজা সকালে দূরদূরান্তে বিভিন্ন অঞ্চলে ছুটে যায় রস ভোজন প্রেমীরা। শীতকে উপেক্ষা করেই ভোর সকাল কিংবা রাতে খেজুর বাগানে ছুটে যান রসের স্বাদ নিতে। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় আর ইট-পাথরের নগরে এখন রসও প্রায় না পাওয়ার মতো। রসপ্রেমী বিশুদ্ধ রস খুঁজে ফেরে। তেমনি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে রসপ্রেমীরা আসেন বিশুদ্ধ রস পান করতে। আর মো. শহিদ মোল্লা নামের এক গাছি রস প্রেমীদের রসের চাহিদা মেটাচ্ছেন। তার বাগানের রসের টানে বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এসে ভিড় করছেন। অথচ তিনি মানুষের চাহিদা অনুযায়ী রস দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন বলে জানান।
শহিদ মোল্লা বয়স ৪৬। ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার মৃত বজলুর রহমান মোল্লা ছেলে তিনি। তিনি গত ৭/৮ বছর ধরে বিভিন্ন জেলায় ঘুরে ঘুরে খেজুর বাগান ক্রয় করে খেজুর রসের মৌসুমি ব্যবসা করে যাচ্ছেন। এ বছর তিনি সোনারগাঁওয়ের বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হামছাদী এলাকার ১০ শতাংশ জমির খেজুর বাগান ক্রয় করেছেন। ৫০ হাজার টাকায় এ বাগান কেনেন। মৌসুমি চুক্তিতে ক্রয়কৃত বাগানটিতে ২৭টি গাছ রয়েছে। সেই গাছগুলো থেকে প্রতিদিন প্রায় ৬০-৬৫ লিটার রস নামিয়ে ক্রেতাদের নিকট বিক্রি করেন। তার এ বাগানে প্রতি লিটার রস বিক্রি করছেন ১৫০-১৬০ টাকায়।
শহীদ মোল্লার খেজুর বাগানে গিয়ে দেখা যায় রস প্রেমীরা তার রস কিনতে ভীড় করছেন। জানা যায়, ভোরে ক্রেতারা মটর সাইকেল যোগে এসে তার বাগান থেকে টাটকা বিশুদ্ধ রস কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। রস কিনতে আসেন মোগড়াপাড়া চৌরাস্তার এলাকার ইমরান হোসেন জানান, আধুনিক যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে দিনে দিনে বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছ বিলুপ্তি হয়ে যাচ্ছে। আমাদের হামছাদি গ্রামে এমন খেজুর রস পাওয়া যাবে সেটা ভাবিনি। এখানের রসটা অনেক মজা। আর কোন প্রাণী যেন রসে মুখ না দিতে পারে তারা সেই ব্যবস্থাও তারা করেছে দেখলাম। চোখের সামনেই রস সংগ্রহ করায় তারা বিশুদ্ধতার বিষয়টি নিশ্চিত থাকেন। সেই সঙ্গে বাদুড়ের উপদ্রব থেকে রক্ষা পেতে প্রতিটি হাঁড়ি ঢেকে রাখা হয়।
বন্ধুদের নিয়ে সঙ্গে নিয়ে রস পান করতে এসে না পেয়ে ফিরে যাচ্ছিলো যুবক রাকিবুল। তিনি জানান, সোনারগাঁওয়ে রস পাওয়া যাবে খবর নিয়ে রায়েরবাগ থেকে এসেছিলাম। তবে আমরা অবেলায় আসার কারণে আজ পাইনি। অন্য কোন একদিন সময় অনুযায়ী আবারও আসবো।
গাছি মো. শহিদ মোল্লা জানান, হামছাদী এলাকার স্থানীয় রাকিব নামের এক ব্যক্তির সহযোগিতায় তার সঙ্গে পার্টনারশিপ চুক্তিতে ৫০ হাজার টাকায় খেজুর বাগানটি কিনেছি। ডিসেম্বর হতে রস নামানো শুরু করে এখন পর্যন্ত ২ লাখ টাকার মতো বিক্রি হয়েছে। আরও ১ লাখ বিক্রি করতে পারবো বলে আশা করছি। প্রতিদিন ২ বেলা গাছ থেকে রস নামাই। ভোর সকাল আর রাত ৯ টায়। প্রতি লিটার ১৫০-১৬০ টাকা দামে বিক্রি করি।
তিনি জানান, আমাদের বাগানে দূরদূরান্ত থেকে অনেক মানুষ রসের জন্য আসেন। কিন্তু আমি তাদের চাহিদা মতো রস দিতে পারছি না। এখানে খেজুর বাগান সংখ্যা কম থাকায় ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, রসের ব্যবসা মাত্র তিন মাসের। পুরো বছর এই তিন মাসের মৌসুমের অপেক্ষায় থাকি। ডিসেম্বর হতে গাছের পরিচর্যায় আমি এবং আমার পার্টনার কাজ করছি।
কৃষি কাজের জন্য উপজেলা কৃষি অফিস হতে সাহায্য কিংবা পরামর্শ পেয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কৃষি অফিসের কাউকে চিনি না এবং তাদের সঙ্গে যোগাযোগও করতে পারিনি।
সোনারগাঁও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সাইদ তারেক জানান, আমরা নিয়মিত খেজুর বাগানের কৃষকদের খোঁজখবর নিচ্ছি। মূলত বর্তমানে প্রনোদনা কম কম রয়েছে। তবুও আমরা কৃষকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি।
‘শান্তিশৃঙ্খলা উন্নয়ন নিরাপত্তা সর্বত্র আমরা’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে মুন্সীগঞ্জে আনসার ও ভিডিপি দিবস পালিত হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার জেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়ের আয়োজনে জেলা কমান্ড্যান্টের নেতৃত্বে জেলা কমান্ড্যান্টের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। র্যালিটি মুন্সীগঞ্জ শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়।
জেলা সার্কেল অ্যাডজুটেন্ট অজিত কুমার দাসের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- জেলা আনসার ও ভিডিপি কমান্ড্যান্ট বিউটি আক্তার।
অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সদর উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা মো. আলমগীর চৌধুরী, শ্রীনগর আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান, টঙ্গীবাড়ী উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান মৃধাসহ উপজেলা, ইউনিয়নের সকল ভিডিপি, দলনেত্রী ও আনসার সদস্য।
এ সময় জেলা কমান্ড্যান্ট বিউটি আক্তার বলেন, ‘আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।’ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ভিডিপি সদস্যদের দায়িত্বশীলতা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন এবং নির্বাচনকালীন সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
জিলাপি, পিয়াজু আর সিঙ্গাড়া বিক্রি করে মাসে আয় করেন ৪০ হাজার টাকা। তরুণ এই উদ্যোক্তার নাম আসাদ আলী (২৮)। বাড়ি নাটোরের সিংড়া উপজেলার ২নং ডাহিয়া ইউনিয়নের বিয়াশ গ্রাম। সিংড়া-বারুহাস রাস্তা-সংলগ্ন বিয়াশের চার মাথায় আছে তার দোকান। এখানেই বিক্রি করেন মুখরোচক খাবার জিলাপি, পিয়াজু ও সিঙ্গাড়া।
প্রতিদিন দোকানেই তৈরি করেন এসব খাবার। খাবারের গুণগত মান ভালো ও খেতে সুস্বাদু হওয়ায় অনেক দূরের ক্রেতারা আসেন এখানে। মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠানসহ সামাজিক যেকোনো অনুষ্ঠানে আসাদের জিলাপি এখন সবার কাছে পরিচিত নাম।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিয়াশের চার মাথার দক্ষিণ পাশে একটা লম্বা টেবিল, দুটো বেঞ্চ, ১টা চেয়ার, ১টা মাটির চুলা আর মাথার ওপরে কালো পলিথিনের ছাউনি। এই হলো সাদামাটা আসাদ আলীর দোকান। এখানেই মাটির চুলোয় গরম তেলে জিলাপি ভাজেন আসাদ। সকালে ভাজেন জিলাপি আর বিকালে ভাজেন পিয়াজু ও সিঙ্গাড়া। প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত টানা ১২ ঘণ্টা সাদামাটা ও জরাজীর্ণ এই দোকানেই বেচাকেনা হয় আসাদের সেই মুখরোচক খাবার জিলাপি, পিয়াজু ও সিঙ্গাড়া। এ সময় কথা হয় তার সঙ্গে।
আসাদ বলেন, ‘আগে শ্রমিকের কাজ করতাম। চার বছর ধরে এই ব্যবসা করছি। সব কিছু নিজের হাতেই তৈরি করি। তবে সিঙ্গাড়া ও পিয়াজুর চেয়ে বেশি বিক্রি হয় জিলাপি। মূলত জিলাপি থেকেই আমার আয় হয় বেশি।’ আসাদ জানান, ১ কেজি জিলাপি তৈরি করতে খরচ পড়ে ৯০ টাকা। বিক্রি করি ১৪০ টাকায়। খরচ বাদে কেজিপ্রতি লাভ থাকে ৫০ টাকা। জিলাপির পাশাপাশি সিঙ্গাড়া ও পিয়াজু বিক্রি করি। সব মিলিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৭ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকার বিক্রি হয়। খরচ বাদে প্রতিদিন আয় ১,৫০০ থেকে ১,৮০০ টাকা।
আসাদ জানান, ছুটিছাটা বাদে মাসে গড়ে আয় হয় ৪০ হাজার টাকার ওপরে। ছোট ব্যবসা নিয়ে আল্লাহর রহমতে ভালো আছি।
আসাদের দোকানে জিলাপি কিনতে আসা তানজিল ইসলাম ও মনতাজুর রহমান নামের দুই ক্রেতা বলেন, ‘আমরা কোম্পানিতে জব করি। প্রায় দিনই মার্কেট শেষ করে এখানে গরম গরম জিলাপি খাই। আসাদ ভাইয়ের জিলাপি যেমন মচমচে তেমনি সুস্বাদু।’
বিয়াশ চার মাথার ব্যবসায়ী মৃদুল হাসান জানান, আসাদ আগে শ্রমিকের কাজ করত। তিন কী চার বছর আগে এ ব্যবসা শুরু করছেন তিনি। সকাল-বিকাল অনেক ক্রেতার ভিড় লেগে থাকে তার দোকানে। খাবারের গুণগত মানও ভালো। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। এ জন্য তার দোকানের খাবার সবাই পছন্দ করেন।