রংপুর সিটি করপোরেশন ঘোষণার পরই জমিজমার দাম বেড়ে যায়। তখন থেকে ভূমিদস্যুদের তৎপরও শুরু হয়। এই ভূমিদস্যুর কবলে পড়ে দুটি পরিবার আজ হুমকির মুখে। এ বিষয়ে এখনো ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন। সম্প্রতি সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী অন্যের জমি অবৈধভাবে দখল করলে ৭ বছরের জেলের বিধান রেখে ভূমি অপরাধ ও প্রতিকার আইন-২০২৩ পাস হলেও আইনটিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জাল দলিল তৈরি করে জোর করে জমি দখল করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, রংপুর সিটি করপোরেশন এলাকার ১৭নং ওয়ার্ডের পীরজাবাদ নামক গ্রামে রিপন মিয়া ও রফিকুল ইসলামের সম্পত্তি নিয়ে ঘটনাটি ঘটে। ভূমিদস্যুরা প্রভাবশালী হওয়ার কারণে ভুক্তভোগীরা তাদের ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে দিনাতিপাত করছেন। অবশেষে জমির মূল কাগজপত্র ভুক্তভোগীর নামে থাকা সত্ত্বেও ভূমিদস্যুরা জাল দলিল বানিয়ে জমির প্রকৃত মালিকদের বিরুদ্ধে রংপুর আদালতে মামলা দায়ের করেন।
ভুক্তভোগীরা বর্তমানে বিভিন্নভাবে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ভূমিদস্যুর মূলহোতা পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার ভূমি অফিসের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মনোয়ার হোসেন, আনারুল ইসলাম। তারা জোর করে ভুক্তভোগী রিপন মিয়া ও রফিকুল ইসলামের কাছ থেকে জমি দাবি করে সহকারী জজ আদালত, রংপুরে মামলা দায়ের করেন। মামলায় ভূমিদস্যুরা হেরে গিয়ে ভুক্তভোগীর বাসার নির্মাণকাজে বাধা দেয় এবং বিভিন্নভাবে রাজমিস্ত্রিসহ অন্য নির্মাণ শ্রমিকদের হুমকি দেয়, তারা যেন কাজ ছেড়ে চলে যায়। বর্তমানে ভুক্তভোগীরা অনেক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, ভূমিদস্যুরা তাদের ক্ষমতা ও পুলিশের ভয় দেখিয়ে নাজেহাল করছে ভুক্তভোগীদের।
এলাকাবাসী জানায়, ভুক্তভোগী রিপন মিয়া ও রফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে এ জমিতে বসবাস করে আসছে। আরও জানা যায়, ভুক্তভোগী রিপন মিয়া ও রফিকুল ইসলামের পূর্বপুরুষরা এ জমিতে ঘরবাড়ি তৈরি করে বসবাস করে আসছিলেন, যা আদি নিবাস বলে পরিচিত ছিল; কিন্তু জমির মূল মালিক মারা যাওয়ার পর থেকে ভূমিদস্যুরা জাল দলিল ও কাগজপত্র তৈরি করে রিপন মিয়া ও রফিকুল ইসলামকে নানাভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের ঘরবাড়ি ছাড়ার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। এ ব্যাপারে রফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ জমিতে বসবাস করে থাকার পরও তারা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালায়। তাই আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে প্রতি মুহূর্তে আতঙ্কে জীবনযাপন করছি। ভুক্তভোগী আরও বলেন, ‘আমাদের পরিবারের নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ প্রশাসন থেকে শুরু করে উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তার কাছে আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মনোয়ার হোসেনের মোবাইলে যোগাযোগ করা হয়। তবে তার কোনো বক্তব্য জানা যায়নি।
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন জালিয়াতির ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন শাখা।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার দৈনিক বাংলা পত্রিকায় ‘গর্ভ ছাড়াই জন্ম, ৪৫ দিন পর মৃত্যু, ১১৫ সনদে উঠে এলো ভয়ংকর তথ্য’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। বিডিআরআইএস সিস্টেমে ১১৫ অস্তিত্বহীন শিশুর জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে ভুয়া জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন করার স্থানীয় সরকার বিভাগের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় থেকে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন শাখার সহকারী রেজিস্ট্রার জেনারেল সামিউল ইসলাম রাহাদ ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের নিবন্ধক মো. রফিকুল ইসলাম চৌধুরী ও সহকারী নিবন্ধক হাজেরা খাতুনের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশনা দিয়েছেন। গত শনিবার এ সংক্রান্ত একটি চিঠি ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আসছে।
সূত্রে জানা গেছে, ভুয়া জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন করে সরকার কর্তৃক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো হিসেবে ঘোষিত বি ডি আর আই এস সিস্টেমের তথ্য শুদ্ধাতা নষ্ট করেছেন। লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে গিয়ে ১১৫ জন অস্তিত্বহীন শিশুর ৪৫ দিনের মধ্যে মৃত উল্লেখ করে ভুয়া জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন করা হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম চৌধুরী।
প্রশাসনিক কর্মকর্তা হাজেরা খাতুন দাবি করেছেন, ভুয়া জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন করায় তিনি অবগত না। কাজটি করেছেন ইউনিয়নের উদ্যোক্তা আশরাফুল ইসলাম চৌধুরী। ইউপি চেয়ারম্যান ও সচিবের নিবন্ধক ও সহকারী নিবন্ধকের ক্ষমতা প্রত্যাহার করে বিধি মোতাবেক অন্য কোনো ব্যক্তিকে নিবন্ধক ও নিবন্ধন সহকারী দায়িত্ব প্রদান করতে বলা হয়েছে। সরকারি কর্মচারী দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও অসদাচরণের জন্য নিবন্ধন সহকারী হাজেরা খাতুনের বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) কর্মচারী চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী ২০১১ এর ৩৪ বিধি মোতাবেক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন শাখার সহকারী রেজিস্ট্রার জেনারেল সামিউল ইসলাম রাহাদ।
ফুলবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম সোহাগ জানিয়েছেন, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন জালিয়াতির ঘটনায় স্থানীয় সরকার বিভাগের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় থেকে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গত শনিবার একটি চিঠি এসেছে। আমাকে অনুলিপি দেওয়া হয়েছে। অফিসিয়ালি পাইনি, পেলেই পরবর্তী আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে হাসিনা হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন এবং ঘটনায় জড়িত মাহাবুলকে (৩২) আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। শনিবার ভোরে দেবীগঞ্জ উপজেলার ভাউলাগঞ্জ বাজার থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক মাহাবুল হক দেবীগঞ্জ উপজেলার বালাপাড়া বাজার মধ্যপাড়া গ্রামের সামিয়ারের ছেলে। পরে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সন্ধ্যায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায় জেলা পুলিশ।
পরে জিজ্ঞাসাবাদে মাহাবুল হক প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেন যে, তিনি এই হত্যাকাণ্ডের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। ভিকটিম তার প্রতিবেশী ভাবী। হাসিনা বয়সে তার চেয়ে বড়। প্রায় ৫/৬ মাস পূর্ব থেকে হাসিনার সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরি হয়।
পরে তাদের মধ্যে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক হয়। ঘটনার দিন ২৪ সেপ্টেম্বর রাত ১১টায় হাসিনা মাহাবুলের মোবাইল ফোনে কল করেন। মাহাবুল তার কলটি কেটে দিয়ে, পরে তাকে কলব্যাক করে কথা বলেন। হাসিনা তার স্বামীকে ভাত খেতে দিয়ে পাশের বাড়িতে খাৎনা অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা বলে, সে পাশের ধানক্ষেতের আইলের কাছে মাহাবুলের জন্য অপেক্ষা করবে বলে সে আসতে বলেন। ঘটনাস্থল ধান ক্ষেতের আইলে গিয়ে মাহাবুল হাসিনাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে। পরে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয়।
সেখানে হাসিনার শরীর ভালো লাগছে না এবং তার মাথায় পানি দিতে বলে। মাহাবুল হাসিনার মাথায় দুই হাত দিয়ে সোজা করে শোয়ানোর সময় ঘাড় ভেঙ্গে যায়। হাসিনার মুখ নাক দিয়ে লালা বের হলে মাহাবুল হাত দিয়ে মুছে দেয়। মাথায় পানি দেয়, বুক হাত পা ডলাডলি করে। দেখে হাসিনা মারা গেছে। পরে হাসিনার মোবাইল বের করে মাহাবুলের করা ডায়াল নম্বর ডিলিট করে দিয়ে তার ম্যাক্সির পকেটে রেখে দেয়।
এর আগে শুক্রবার সকালে দেবীগঞ্জ উপজেলার চিলাহাটি ইউপির মধ্যপাড়া গ্রামের বালাপাড়া ধানক্ষেতের আইল থেকে নুরবানু ওরফে হাসিনার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সে বালাপাড়া বাজার, মধ্যপাড়ার নুর রশিদের স্ত্রী।
পঞ্চগড় গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তা আবু হোসেন বলেন, ১২ ঘন্টার মধ্যেই এ চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উন্মোচন করে মূল আসামীকে গ্রেপ্তার করেছি। তাদের মধ্যে পরকিয়ার সম্পর্ক ছিল। ওই নারীর কিভাবে মৃত্যু হয়েছে তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের পর আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে।
নদী-চরবেষ্টিত মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলা। উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের বড় অংশই পদ্মা নদীর চরাঞ্চল ও নদীভাঙনপ্রবণ এলাকা। বর্ষা মৌসুমে এসব এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। কোথাও নৌযানই একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম, আবার নদীভাঙন ও বন্যায় অনেক সময় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে জনপদ।
এমন ভৌগোলিক বাস্তবতায় হরিরামপুরকে দুর্গম এলাকা হিসেবে সরকারি গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্গম ভাতা দেওয়ার দাবি উঠেছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমের আওতায় হরিরামপুরকে দুর্গম এলাকা হিসেবে বিবেচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গেজেটভুক্ত দুর্গম এলাকার তালিকায় হরিরামপুরের নাম না থাকায় ক্ষোভ রয়েছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম উপলক্ষে দেশের ২৩ জেলার ৭৫টি উপজেলাকে দুর্গম এলাকা হিসেবে বিবেচনার জন্য নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী (নি:স:-২) স্বাক্ষরিত একটি চিঠি ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল মহাপরিচালক, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ, ঢাকা বরাবর পাঠানো হয়। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি, নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমে দুর্গম এলাকা হিসেবে বিবেচিত হলেও হরিরামপুরকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট গেজেটে দুর্গম উপজেলা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে একই ধরনের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য থাকা সত্ত্বেও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দুর্গম ভাতার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সরকারি নথি পর্যালোচনায় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মানিকগঞ্জের দৌলতপুর ও হরিরামপুরকে গ-শ্রেণির উপজেলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে দৌলতপুরকে চর উপজেলা হিসেবে দুর্গম এলাকার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হলেও হরিরামপুরকে একইভাবে তালিকাভুক্ত করা হয়নি। এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হরিরামপুরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
তাদের ভাষ্য, দৌলতপুরের মতো হরিরামপুরেরও বড় একটি অংশ চরাঞ্চল। উপজেলার আজিমনগর, লেছরাগঞ্জ ও সুতালড়ি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা পদ্মা নদী ও চরাঞ্চলঘেরা। নদীভাঙন, নৌপথনির্ভর যোগাযোগ, বর্ষায় প্লাবন এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে এসব এলাকায় সরকারি দায়িত্ব পালন করতে বাড়তি সময়, শ্রম ও ঝুঁকি নিতে হয়।
দুর্গম ভাতার দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন: দুর্গম এলাকা হিসেবে গেজেটভুক্ত করার দাবিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর হরিরামপুর উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাক্ষরিত একটি আবেদন মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া হয়েছে।
আবেদনের অনুলিপি দেওয়া হয়েছে মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য, হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং হরিরামপুর উপজেলা প্রেসক্লাব বরাবর।
আবেদনকারীদের দাবি, ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগব্যবস্থা, নদীভাঙন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বিবেচনায় হরিরামপুরকে দুর্গম উপজেলা হিসেবে সরকারি গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।
তাদের দাবি, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিয়মিত বেতন-ভাতার পাশাপাশি দুর্গম এলাকার জন্য প্রযোজ্য ২০ শতাংশ ভাতা পাওয়ার সুযোগ চান। তবে এই ভাতা চালুর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সরকারি নীতিমালা ও কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।
উপজেলার আজিমনগর, লেছরাগঞ্জ ও সুতালড়ি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা চরাঞ্চল হিসেবে পরিচিত। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই তিন ইউনিয়নে মোট ১৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে সুতালড়ি রামচন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম বর্তমানে নেই বলে দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া এসব বিদ্যালয়ের কয়েকটিতে প্রধান শিক্ষক নেই এবং একাধিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থার কারণে শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়মিত যাতায়াত ও পদায়ন নিয়েও নানা সমস্যা দেখা দেয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
নদীভাঙনের কারণে বিদ্যালয়ের অবস্থান পরিবর্তন, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা এবং বর্ষায় নৌপথের ওপর নির্ভরশীলতা শিক্ষা কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করছে। একই ধরনের পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন হারাকান্দি চরাঞ্চলের বাসিন্দারাও।
স্থানীয়দের ভাষ্য, চরাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজ ও নদীনির্ভর জীবিকার সঙ্গে যুক্ত। ফলে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি এবং অভিভাবকদের শিক্ষাবিষয়ক সম্পৃক্ততাও অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় থাকে না।
স্থানীয়দের মতে, বিদ্যুৎ, ইন্টারনেটসহ আধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তির সুবিধাও চরাঞ্চলের সব এলাকায় সমানভাবে পৌঁছেনি। ফলে সরকারি তথ্য সংগ্রহ, ভোটার তালিকা হালনাগাদ, বিভিন্ন জরিপ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাড়তি ভোগান্তি পোহাতে হয়।
নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন কার্যক্রমে দুর্গম এলাকার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার নজির রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের সময় দুর্গম এলাকায় কর্মরতদের অতিরিক্ত ভাতা দেওয়ার সুযোগ অতীতেও ছিল বলে দাবি তাদের।
কেন গেজেটভুক্তি প্রয়োজন:
হরিরামপুরকে দুর্গম উপজেলা হিসেবে গেজেটভুক্ত করার দাবিদারদের যুক্তি, শুধু নদী বা চরাঞ্চল থাকা নয়—একটি এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার বাস্তবতা এবং জনগণের মৌলিক সেবা পাওয়ার সুযোগও দুর্গমতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
তাদের দাবি, হরিরামপুরের দুর্গম চরাঞ্চলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দায়িত্ব পালন করছেন। অথচ দুর্গম এলাকার স্বীকৃতি না থাকায় তারা প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এ কারণে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমে দুর্গম হিসেবে বিবেচিত হওয়ার বিষয়টি পর্যালোচনা করে হরিরামপুরকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি দিন দিন জোরালো হচ্ছে।
হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার বলেন, চর ভাতার বিষয়ে ডিসি স্যার বরাবর একটা আবেদন দেয়া হয়েছে, এটার বিষয়ে লেখাও হয়েছে। মিনিস্ট্রি থেকে আমরা এখনো কেন ফিডব্যাক পাইনি। ডিসি স্যার ওইটা তাদেরকেও অবহিত করা হয়েছে।
মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার বক্তব্যের জন্য মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোন রিসিভ করেনি।
কৃষিনির্ভর মেহেরপুরের বাণিজ্যিক এলাকা খ্রেত গাংনী উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বামন্দী-কাজীপুর সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ। কিছু স্থানের গর্তের গভিরতা এক থেকে দেড় ফিট পর্যন্ত হবে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এতে প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে সড়কটির এমন বেহাল দশা হলেও সংস্কারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না সড়ক বিভাগকে। ফলে সময় গড়িয়ে যাওয়ার সাথে সাথে সড়কটি যেন এখন মরণফাঁদে পরিণত হচ্ছে। তবে উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর বলছে, বরাদ্দ না থাকায় সংস্কারকাজ করতে বিলম্ব হচ্ছে তাদের।
স্থানীয়রা জানান, বামন্দী-কাজীপুর সড়কটি গাংনী উপজেলার অন্যতম ব্যস্ত সড়ক। এই সড়কটি দুটি জেলার মানুষের সংযোগ সড়ক হিসেবেও পরিচিত। এ পথে বাস, ট্রাক, নসিমন, অটোরিকশা, পাখিভ্যান ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কের অধিকাংশ জায়গায় বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বৃষ্টির সময় গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কোথায় গর্ত আর কোথায় সমতল, তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে এসড়কটি একটি দুর্ঘটনার ফাঁদে রূপ নিয়েছে।
পথচারী গৃহবধূ শারমিন আক্তার বলেন, ‘এ সড়কটি দিয়ে আমাদের জেলা ও উপজেলা শহরে যাওয়া লাগে। এত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কটি, অথচ এই সড়কে চলাচল করা যায় না। কেন কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিচ্ছে না, সেটাও বুঝতে পারছি না। এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনের চালকরা সব সময় আতঙ্কে থাকেন কখন গাড়ি গর্তে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমার এক চাচাতো বোনের বাচ্চা নিয়ে যাওয়ার সময় গাড়ি উল্টে তার হাত ভেঙে গেছে। একটু বৃষ্টি হলে সড়কটিতে পানিতে ডুবে যায়।’
পাখিভ্যানচালক টিটু হোসেন বলেন, ‘আমি ভ্যানে করে ইটসহ আড়তের মালামাল নিয়ে ভাড়ায় যায়। বর্তমানে এই রাস্তায় ভাড়া ধরতেও মন চায় না। পরিবারের মুখে একমুঠো ভাত তুলে দেওয়ার জন্য বাধ্য হয়ে এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হয়। অনেক সময় যা আয় হয়, গাড়ি নষ্ট হলে তার চেয়ে বেশি খরচ হয়। সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা দরকার। আর কোনোমতে আটকে গেলে পাঁচজন মিলে ধাক্কা দেওয়া লাগে।’
নসিমনচালক আক্কাস আলী বলেন, ‘আমি প্রতিদিন চাউল লোড করে গাংনী যায়। গাংনী উপজেলায় এর চেয়ে খারাপ রাস্তা চোখে পড়ে না। আমাদের গাড়ি প্রায়ই নষ্ট হয়। মেরামত করতে বাড়তি খরচ গুণতে হয়। অনেক দুর্ঘটনাও দেখেছি। বড় কোনো দুর্ঘটনার আগেই সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’
স্কুলশিক্ষক ফারুক আহমদ বলেন, ‘আমাদের বাচ্চাদের স্কুল-কলেজ যাওয়ার প্রধান সড়ক এটি। অথচ বতর্মান সময়ে এই সড়কটি দিয়ে চলাচল করা একদম অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আমাদের অনেক শিক্ষার্থী এই সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় কাদা-পানি লেগে পোশাক নষ্টের পাশাপাশি শারীরিকভাবেও ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। তাই এটি দ্রুত সংস্কারের জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের গাংনী উপজেলা প্রকৌশলী রোকনুজ্জামান বলেন, ‘বামন্দী-কাজীপুর সড়ক মেরামতের জন্য ঊর্ধ্বতনদের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ আসলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।’
মেহেরপুর-৭৪/২ (গাংনী) আসনের সংসদ সদস্য মো. নাজমুল হুদা বলেন, ‘সড়কটি অত্যন্ত বেহাল অবস্থায় রয়েছে। এই সড়কসহ উপজেলার অন্যান্য সড়কের বিষয়ে ঊর্ধ্বতনদের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়া হয়েছে।’
কক্সবাজারের টেকনাফে অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক ও বিভিন্ন সরঞ্জামসহ তিন রোহিঙ্গাকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রোববার হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় অস্ত্র ও সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ইজিবাইক জব্দ করা হয়েছে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন- উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পের রুবালির ছেলে মো. উসমান বেলাল, একই ক্যাম্পের ইউনুসের ছেলে মো. আনসার আলী এবং টেকনাফের মোচনি ক্যাম্পের ফয়েজ আহমদের ছেলে মো. মুসলিম।
টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিজিবি সূত্র জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে খবর পাওয়া যায়, লেদা বাজার হয়ে একটি ভারী অস্ত্রের চালান রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থানরত একটি সশস্ত্র দলের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে লেদা বাজার এলাকায় বিজিবির একটি দল সন্দেহজনক একটি ইজিবাইক থামায়। পরে মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে ইজিবাইকে থাকা বস্তার ভেতর ধাতব পদার্থের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়।
এরপর ইজিবাইকসহ তিনজনকে লেদা বিওপিতে নিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় আলুর বস্তার ভেতর লুকানো অবস্থায় অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক ও বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
বিজিবি জানায়, উদ্ধার করা মালামালের মধ্যে রয়েছে দুটি জি-৩ রাইফেল, দুটি দেশীয় একনলা বন্দুক, ৪২ রাউন্ড গুলি, তিনটি টেজার, ছয়টি ওয়াকিটকি সেট, একটি ম্যাগাজিন, চার কেজি বিস্ফোরক, ২৫টি জর্দার কৌটা, ২৫টি লাল স্কচটেপ, দুটি অ্যান্ড্রয়েড ও একটি বাটন মোবাইল ফোন। এ ছাড়া অস্ত্র পরিবহনে ব্যবহৃত ইজিবাইকটিও জব্দ করা হয়েছে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাশে অস্ত্র-গোলাবারুদের একটি চালান হস্তান্তরের সময় তিন রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সীমান্ত এলাকায় অস্ত্র, বিস্ফোরকসহ সব ধরনের সংঘবদ্ধ অপরাধ প্রতিরোধে বিজিবি সতর্ক ও তৎপর রয়েছে। অবৈধ অস্ত্রের চালান প্রতিহত ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোয়েন্দা নজরদারি, নিয়মিত টহল এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
দিনাজপুর ফুলবাড়ী উপজেলায় শুরু হয়েছে আগাম জাতের আমন ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ। চলতি মৌসুমে ভালো ফলন হলেও বাজারে প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। বিঘাপ্রতি উৎপাদন খরচের চেয়ে বিক্রয়মূল্য কম হওয়ায় আর্থিক লোকসানের সম্মুখীন হতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ফুলবাড়ীতে ১৮ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে আগাম জাতের ধানের আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে, যা থেকে আনুমানিক ৮ হাজার ৪১৫ টন ধান উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। ৯০ থেকে ১১০ দিনে পেকে যাওয়া এই ধান কাটার পর ওই জমিতে আলু এবং পরবর্তীতে ভুট্টা চাষ করে থাকেন স্থানীয় কৃষকরা।
উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি মৌসুমে সার, বীজ, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতি বিঘা জমিতে ধান উৎপাদনে খরচ হয়েছে ২০ হাজার টাকার বেশি। বিঘাপ্রতি ১৮ থেকে ২২ মণ ফলন পাওয়া গেলেও স্থানীয় বাজারে বর্তমানে প্রকারভেদে ধান বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৯০০ টাকা মণ দরে। এতে প্রতি বিঘা জমি থেকে চাষিদের আয় আসছে ১৭ থেকে ১৯ হাজার টাকা, যা উৎপাদন খরচের তুলনায় বিঘা প্রতি প্রায় ২ থেকে ৩ হাজার টাকা কম।
কৃষকরা জানান, আগাম শীতকালীন সবজি ও আলু চাষের প্রস্তুতি নিতে এবং সমিতি বা মহাজনের নেওয়া কৃষিঋণ পরিশোধ ও সংসারের দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে কম দাম সত্ত্বেও তারা ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
বাজারের এমন নিম্নমুখী আচরণের বিষয়ে ফুলবাড়ী বাজারের ধান আড়তদার ও চাউল কল মালিক সমিতির প্রতিনিধিরা জানান, গত কয়েক সপ্তাহে প্রতি মণ ধানের দাম ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। চালের সার্বিক সুষম সরবরাহ এবং আমদানিকৃত চালের উপস্থিতির কারণে বাজারে দেশীয় ধানের চাহিদা ও দামে এই প্রভাব পড়েছে বলে ব্যবসায়ীদের ধারণা।
ধানের বাজারদর প্রসঙ্গে উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহানুর রহমান জানান, ধানের বাজারমূল্য নির্ধারণ বা নিয়ন্ত্রণ করা কৃষি বিভাগের এখতিয়ারভুক্ত নয়। তবে উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনতে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার সহায়াতাসহ প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রাঙামাটির পর্যটনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ৩৩৫ ফুট দীর্ঘ ঝুলন্ত সেতু। কাপ্তাই হ্রদের নীল জলরাশির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এই সেতু বছরের পর বছর ধরে জেলার পর্যটনের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। তবে বর্ষা এলেই কাপ্তাই হ্রদের পানি বেড়ে সেতুটির পাটাতন পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে পর্যটন কার্যক্রম। এতে একদিকে কাঙ্ক্ষিত আকর্ষণটি দেখতে না পেরে হতাশ হয়ে ফিরছেন পর্যটকরা, অন্যদিকে কমে যাচ্ছে বোট চালকসহ পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ীদের আয়-রোজগার।
এবারও গত ২৯ আগস্ট থেকে পানিতে তলিয়ে যায় রাঙামাটির এই পর্যটন আইকন। পরে হ্রদের পানি কিছুটা কমে গত ৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে সেতুটির অধিকাংশ অংশ ভেসে উঠলে গত ৫ সেপ্টেম্বর পর্যটকদের জন্য সেতুটি খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু উজান থেকে নেমে আসা পানিতে হ্রদের পানি আবারও বেড়ে যাওয়ায় গত ১১ সেপ্টেম্বর বিকেলে সেতুর পাটাতন পুনরায় পানিতে তলিয়ে যায়। পরিস্থিতি বিবেচনায় ঝুঁকি এড়াতে সেতুতে পর্যটকদের প্রবেশ ও চলাচলে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করে কর্তৃপক্ষ।
এর আগে গত ২৯ আগস্ট টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানি দ্রুত বেড়ে গেলে সেতুটি পানিতে তলিয়ে যায়। ওই দিন দুপুর থেকেই পর্যটকদের প্রবেশ ও চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। পরে পানি কমে গেলে সেতুটির অধিকাংশ অংশ ভেসে ওঠে এবং গত ৫ সেপ্টেম্বর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে পর্যটকদের জন্য তা খুলে দেওয়া হয়।
আশির দশকে রাঙামাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে শহরের শেষ প্রান্তে দুটি দ্বীপকে সংযুক্ত করতে নির্মাণ করা হয় ৩৩৫ ফুট দীর্ঘ এই ঝুলন্ত সেতু। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি হয়ে ওঠে রাঙামাটির পর্যটনের প্রতীক, পরিচিতি পায় ‘সিম্বল অব রাঙামাটি’ হিসেবে।
তবে সেতুটি নির্মাণের সময় কাপ্তাই হ্রদের পানির সর্বোচ্চ স্তর ও রুলকার্ভের বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি বলে সংশ্লিষ্টদের মত। ফলে বর্ষা মৌসুমে হ্রদের পানি বাড়লেই প্রতি বছর একই সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, প্রতি বছর কেন একইভাবে পানিতে তলিয়ে যাবে রাঙামাটির এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্থাপনা? এর স্থায়ী সমাধানই বা কী?
শুধু পর্যটকদের হতাশাই নয়, ঝুলন্ত সেতু পানিতে তলিয়ে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়ছে পর্যটননির্ভর মানুষের আয়-রোজগারেও। সেতুকে ঘিরে প্রতিদিন বোট নিয়ে পর্যটকদের আনা-নেওয়া করেন বহু চালক। সেতু বন্ধ থাকায় পর্যটকের আগ্রহ কমে যাচ্ছে, কমছে বোটের ট্রিপও। একইভাবে পর্যটনকেন্দ্রের আশপাশের ছোট-বড় ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
ঢাকা থেকে রাঙামাটি ভ্রমণে আসা পর্যটক শুভ্র নীল বলেন, ‘সত্যিকার অর্থে আমরা জানতাম না যে ঝুলন্ত সেতু পানিতে তলিয়ে গেছে। তারপরও অনেকে পানির ওপর দিয়ে হাঁটছেন। যেহেতু সেতুটি প্রতি বছর পানির নিচে তলিয়ে যায়, তাই এটি সংস্কার করা খুবই জরুরি।’
রাঙামাটি পর্যটন নৌ-যান ঘাটের টোল আদায়কারী মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতি বছর বর্ষাকালে উজানের পানি নেমে সেতুর পাটাতন ডুবে যায়। এতে সেতু দেখতে পর্যটক কম আসে রাঙামাটিতে। ঝুলন্ত সেতুটিকে আধুনিকায়ন করা গেলে রাঙামাটিতে পর্যটক আরও বাড়বে।’
সংশ্লিষ্টদের মতে, সেতুটিকে বর্তমান অবস্থান থেকে অন্তত পাঁচ ফুট উঁচু করা গেলে প্রতি বছর পানিতে ডুবে যাওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। বর্তমানে সেতুটি প্রায় ১০৫ ফুট লেভেল বিবেচনায় নির্মিত। এটিকে পাঁচ ফুট উঁচু করা হলে উচ্চতা দাঁড়াবে প্রায় ১১০ ফুটে। অন্যদিকে কাপ্তাই হ্রদের সর্বোচ্চ পানির স্তর ধরা হয়েছে ১০৯ ফুট। ফলে সামান্য উচ্চতা বাড়ানো গেলে ভবিষ্যতে পানিতে তলিয়ে যাওয়ার সমস্যা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা।
এদিকে রাঙামাটি পর্যটন করপোরেশন জানিয়েছে, তাদের আবেদনের পর পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড নতুন একটি আধুনিক ঝুলন্ত সেতু নির্মাণের জন্য ডিপিপি প্রণয়ন করে পাঠিয়েছে। প্রস্তাবিত আধুনিক ঝুলন্ত সেতুটি নির্মাণে প্রাথমিকভাবে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ কোটি টাকা।
রাঙামাটি পর্যটন করপোরেশনের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা বলেন, ‘প্রতি বছর ঝুলন্ত সেতু ডুবে যাওয়ার কারণে আমরা ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। সরকারও রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’
আলোক বিকাশ চাকমা আরও জানান, উজানের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গত ১১ সেপ্টেম্বর থেকে পুনরায় সেতুটি পানিতে ডুবে যায়। বর্তমানে সেতুটির পাটাতন প্রায় ৮-১০ ইঞ্চি পানির নিচে রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডে নির্বাহী প্রকৌশলী তুষিত চাকমা বলেন, ‘প্রকল্পটির যাচাই কমিটির সভা পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক ডিপিপি পুনর্গঠন করে মন্ত্রণালয়ে ডিপিপি প্রেরণ করা হবে।’
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, শুধু বর্ষা এলেই সেতু বন্ধ রাখা নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে। কাপ্তাই হ্রদের পানির ওঠানামার সঙ্গে যাতে রাঙামাটির পর্যটনের এই আইকনকে বারবার হারিয়ে যেতে না হয়, সে জন্য দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি তাদের।
কারণ, একটি সেতু শুধু দুই প্রান্তকে যুক্ত করে না। রাঙামাটির ক্ষেত্রে এই ঝুলন্ত সেতুটি যুক্ত করেছে পর্যটন, বোট ব্যবসা, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং জেলার অর্থনীতির একটি বড় অংশকে। তাই প্রতি বছর বর্ষায় সেতুটি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার সমস্যার স্থায়ী সমাধান এখন সময়ের দাবি।
কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে কটিয়াদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল আমিন রুহুল সরকার (৫০) মারা গেছেন।
তার পরিবারের অভিযোগ, শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধ না পাওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে। তবে কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, হঠাৎ শ্বাসকষ্ট দেখা দেওয়ার পর তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল।
শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩ টার দিকে ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার বড় ভাই নুরুল আমিন।
নুরুল আমিন বলেন, তার ভাই আগে থেকেই মাঝেমধ্যে বুকে ব্যথায় ভুগতেন। কারাগারে থাকার সময় কয়েক দিন ধরে তিনি অসুস্থ ছিলেন। গত দুই দিন তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধ সময়মতো পাননি।
তিনি আরও বলেন, অবস্থার অবনতি হলে শনিবার তাকে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আইনি প্রক্রিয়ায় কয়েক ঘণ্টা বিলম্ব হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হলে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
নুরুল আমিনের দাবি, সময়মতো চিকিৎসা পেলে তার ভাইকে বাঁচানো সম্ভব ছিল। তিনি জানান, গত সাত-আট বছর ধরে রুহুল সরকার সক্রিয় রাজনীতিতে ছিলেন না। সম্প্রতি ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফেরার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ওমরাহ শেষে দেশে ফেরার কয়েক দিনের মধ্যে গত ৮ সেপ্টেম্বর কটিয়াদী মডেল থানার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের ডেপুটি জেলার সেলিনা আক্তার রেখা বলেন, শ্বাসকষ্ট দেখা দেওয়ায় প্রথমে তাকে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে পুলিশি ব্যবস্থাপনায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে আবারও জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পরিবারের অসুস্থতার অভিযোগ প্রসঙ্গে ডেপুটি জেলার বলেন, কারাগার কর্তৃপক্ষ আগে থেকে তার অসুস্থতার বিষয়ে অবগত ছিল না। মৃত্যুর আগে হঠাৎ করেই তার শ্বাসকষ্ট তীব্র আকার ধারণ করলে ১০ মিনিটের মধ্যে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
উদ্বোধনী ফলকে নিজের নাম দেখে নতুন একাডেমিক ভবনের উদ্বোধন না করেই অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেছেন কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। শনিবার বিকেলে নিজ নির্বাচনী এলাকার রাধানগর উচ্চ বিদ্যালয়ে ভবন উদ্বোধন ও বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।
রোববার ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় ও আয়োজক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, রাধানগর উচ্চ বিদ্যালয়ে নতুন একাডেমিক ভবন উদ্বোধন এবং বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন হাসনাত আবদুল্লাহ।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে নতুন ভবনের নামফলক উন্মোচনের সময় সেখানে নিজের নাম খোদাই করা দেখতে পান সংসদ সদস্য। এরপর তিনি নামফলকে ব্যক্তির নাম ব্যবহারের বিষয়ে আপত্তি জানান। পরে ভবনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন না করেই অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন।
ঘটনাস্থলে আয়োজকদের উদ্দেশে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, জনগণের করের টাকায় নির্মিত কোনো সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক স্থাপনায় ব্যক্তিবিশেষের নাম ব্যবহারের রাজনৈতিক সংস্কৃতি তিনি সমর্থন করেন না। জনপ্রতিনিধি বা রাজনৈতিক নেতাদের আত্মপ্রচারের জন্য উন্নয়নকাজের নামফলকে ব্যক্তির নাম ব্যবহারের চর্চা বন্ধ হওয়া উচিত বলেও তিনি মত দেন।
পরে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, প্রথাগত রাজনৈতিক ব্যক্তিপূজা বা আত্মপ্রচারের সংস্কৃতি তিনি ‘নতুন বাংলাদেশে’ দেখতে চান না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জনগণের অর্থে উন্নয়নকাজ বাস্তবায়িত হয়। তাই এসব স্থাপনার নামফলকে ব্যক্তিবিশেষের নাম না রেখে দেশের নাম কিংবা প্রতিষ্ঠানের ঐতিহাসিক তথ্য রাখা যেতে পারে।
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে তাঁর নির্বাচনী এলাকার কোনো উন্নয়নমূলক কাজের ফলকে যেন তাঁর নাম ব্যবহার করা না হয়, সে বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাধানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু সাঈদ। তিনি জানান, নামফলকে সংসদ সদস্যের নাম ব্যবহার করার বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে হয়েছে। সংসদ সদস্যের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত নামফলকটি পরিবর্তন করে পুনঃস্থাপন করা হবে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আয়োজনে নতুন একাডেমিক ভবন উদ্বোধনের পাশাপাশি বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণের কর্মসূচিও ছিল। অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
শনিবারের ঘটনার ভিডিও রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে নামফলকে নিজের নাম দেখে হাসনাত আবদুল্লাহর আপত্তি জানানোর এবং পরে ভবন উদ্বোধন না করে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করার দৃশ্য দেখা যায়।
ঘটনাটি এমন সময়ে সামনে এলো, যখন দেবিদ্বারে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে হাসনাত আবদুল্লাহ জনপ্রতিনিধিদের আচরণ, জনস্বার্থ এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন। শনিবারই দেবিদ্বার সরকারি রেয়াজ উদ্দিন পাইলট মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সবাইকে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে এমন নয়; তবে যে পেশাতেই থাকুক, সবার আগে ভালো মানুষ হওয়া জরুরি এবং মাদক থেকে দূরে থাকা উচিত।
রাধানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত।
নামফলক পরিবর্তনের পর ভবনটির উদ্বোধন কবে এবং কার মাধ্যমে করা হবে, সে বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো কর্মসূচি জানানো হয়নি।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের আসন্ন উপনির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা কামরুল ইসলামের কাছে তিনি এ মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
মনোনয়নপত্র জমাদানের সময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ এবং সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন তুহিনসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, ‘ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে ভোটাররা আমাকেই নির্বাচিত করবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে তিনি কাজ করতে চান। নির্বাচনে দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।’
নির্বাচনি প্রস্তুতির সর্বশেষ তথ্য তুলে ধরে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, ‘এখন পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. দেলোয়ার হোসেন ও বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। আজ বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় রয়েছে। এখন পর্যন্ত পাঁচজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।’
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর দাখিলকৃত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে এবং সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ একই পরিবারের চারজনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া তিনজন হলেন- সজিব, সামিয়া ও শিশু সামিন। তবে তাদের বাবা হেলাল উদ্দিন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তাকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌপুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার বৈদ্যারবাজার এলাকায় আল-মোস্তফা কোম্পানির সামনে মেঘনা নদীতে ভাসমান অবস্থায় তিনজনের মরদেহ দেখতে পেয়ে উদ্ধার করেন ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশের সদস্যরা।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে কুমিল্লার শ্রীমন্দী গ্রামের বাসিন্দারা সোনারগাঁয়ের সোনাময়ী গ্রামে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ট্রলারে করে রওনা হন। ট্রলারটিতে গরু-ছাগলসহ মোট ১৩ জন যাত্রী ছিলেন। বৈদ্যারবাজারের কাছাকাছি মেঘনা নদীর মাঝপথে পৌঁছালে হঠাৎ ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি। একপর্যায়ে সেটি উল্টে নদীতে ডুবে যায়।
ট্রলারডুবির পর স্থানীয়দের সহায়তায় আটজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। একই ঘটনায় রাশিদা নামে এক নারীকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এরপর একই পরিবারের হেলাল উদ্দিন, তার ছেলে সজিব, মেয়ে সামিয়া ও শিশু ছেলে সামিন নিখোঁজ ছিলেন।
দুই দিন ধরে নদীতে উদ্ধার অভিযান চালানোর পর গতকাল শনিবার সকালে একই পরিবারের তিন সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এতে স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এখন পরিবারের একমাত্র নিখোঁজ সদস্য হেলাল উদ্দিনকে উদ্ধারে অভিযান চালানো হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, নিখোঁজ চারজনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি একজনকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও সংশ্লিষ্টরা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
সাহস ও বীরত্ব প্রদর্শন, সেবায় অনন্য নজির স্থাপন, গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্ত এবং উদ্ভাবনীমূলক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতিস্বরূপ ৯২ জন পুলিশ সদস্যকে পুলিশ পদক দেওয়া হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ তাদের হাতে এসব পদক তুলে দেন। ‘পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬’-এর পদক প্রদান অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলাম।
গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে পদকপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১ মার্চ থেকে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বীরত্ব প্রদর্শন, সেবায় অনন্য নজির স্থাপন, গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্ত এবং অন্য উদ্ভাবনীমূলক কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ ৪টি ক্যাটাগরিতে এসব পদক দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)’ পেয়েছেন ১২ জন এবং ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)-সেবা’ পেয়েছেন ১৮ জন। এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) পেয়েছেন ১৮ জন এবং রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম)-সেবা ক্যাটাগরিতে পদক পেয়েছেন ৪৪ জন পুলিশ সদস্য।
গেজেটে প্রকাশিত তালিকায় পদকপ্রাপ্তদের নাম, পরিচিতি নম্বর, পদবি এবং বর্তমান কর্মস্থলের উল্লেখ রয়েছে।
আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরকে ২০২৫ সালের জন্য ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)’ প্রদান করা হয়েছে।
এছাড়া অতিরিক্ত আইজিপি ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর প্রধান মো. মোস্তফা কামাল, অতিরিক্ত আইজিপি ও নৌ-পুলিশ প্রধান মো. রেজাউল করিম, ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মোহাম্মদ শামসুল হক এবং তৎকালীন র্যাব (বর্তমানে এসআরবি)-এর লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী ২০২৫ সালের জন্য ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)-সেবা’ পদক পেয়েছেন।
অন্যদিকে, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির এবং রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মু. মাহবুবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)-সেবা পদক প্রদান করা হয়েছে।
গতকালের অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী জানান, ১৯৭৬ সালে পুলিশ পদকের প্রবর্তন করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালনে সাহসিকতা, বীরত্ব ও বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ পদক দেওয়া হয়ে আসছে।
পুরো কক্সবাজার নিয়ে বিপদের মধ্যে আছি জানিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, এখানে একটি সংস্থা আছে। কক্সবাজার পর্যটন নগরীকে সুন্দরভাবে সাজানোর জন্য সরকার যতবার চেষ্টা করে ততবার তারা অন্যায়ভাবে উচ্চ আদালতে গিয়ে রিট করে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আসে। তাহলে এই সুন্দর নগরীর ডেভোলপমেন্ট আমরা করবো কীভাবে?
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) কক্সবাজারের উখিয়ার ৪ নম্বর বর্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে এ কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র পরিদর্শনের কারণ জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমি এই প্রকল্পটি দেখতে এসেছি। একটি বৈঠকে আমরা প্রকল্পটির কথা জানিয়েছিলাম। তিনি সরেজমিনে দেখে আসতে বলেছেন। এখন পর্যন্ত আমার কাছে প্রকল্পটি কার্যকর ও যুক্তিসংগত মনে হচ্ছে। তবে কিছু বিষয় হয়তো সংযোজন-বিয়োজন করতে হবে। বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বসে সেগুলো পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
কক্সবাজার পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কক্সবাজার পৌরসভার একটি প্রকল্প আমি গতকাল পরিদর্শন করেছি। সেখানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজটি এখনো স্বয়ংক্রিয় নয়, ম্যানুয়ালি করা হচ্ছে। এটি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। আমাদের যে পদ্ধতি, সেখানে যন্ত্রপাতির মাধ্যমে প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হবে। বাকি কিছু কাজ বাইরে থেকে ম্যানুয়ালি করতে হতে পারে।’
কক্সবাজারে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাবনাও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে পর্যালোচনা করা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে চীনের সিএমইসি নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইতোমধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, সেখানে প্রতিদিন ৩ হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে প্রায় ৪৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনেও চীনের উইমীম নামে একটি প্রতিষ্ঠান সম্ভাব্যতা যাচাই করছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনেও যুক্তরাজ্যের একটি প্রতিষ্ঠান বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজ করবে। গাজীপুর সিটি করপোরেশনে ফিনল্যান্ডের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে।