সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
১৭ কার্তিক ১৪৩৩

বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা, প্রধান আসামী গ্রেপ্তার

বৃদ্ধ হত্যা মামলার প্রধান আসামী কাজিম উদ্দিন (৫৫)কে হরিয়াখালী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে (র‌্যাব-১৪)। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
২৫ ডিসেম্বর, ২০২৩ ২১:৪৭
ময়মনসিংহ ব্যুরো
প্রকাশিত
ময়মনসিংহ ব্যুরো
প্রকাশিত : ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৩ ২১:৪৬

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় বাড়ীর সীমানা নিয়ে বিরোধের কারণে উমর আলী (৭০) নামে এক বৃদ্ধ হত্যা মামলার প্রধান আসামী একই উপজেলার কাজিম উদ্দিন (৫৫)কে হরিয়াখালী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান (র‌্যাব-১৪)।

সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ময়মনসিংহ র‌্যাব-১৪ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

ময়মনসিংহ র‌্যাব-১৪‘র উপ-পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘গ্রামের কয়েকজনের সঙ্গে উমর আলীর দীর্ঘদিন যাবৎ বসতবাড়ীর সীমানা নিয়ে বিরোধ ছিল। যার জেরে উমর ও তার পরিবারের লোকদের খুন করার হুমকি দিচ্ছিল একটি চক্র। গত ১৬ ডিসেম্বর সকাল ১০টার দিকে সিরাজুল ইসলাম, ইসরাফিল, কাজিম উদ্দিনসহ পাঁচ থেকে সাতজন দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসহ উমর আলীর বাড়ীর ভেতর ‍প্রবেশ করে তার পরিবারের লোকজনদের পেটাতে শুরু করেন। পরে তিনি তা থামাতে গেলে তাকে পিটিয়ে হত্যা করে ওই দুর্বিৃত্তরা।’

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় নিহতের ছেলে শহিদ মিয়া বাদী হয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে আসামীরা কৌশলে পলাতক ছিলেন। সোমবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় মামলার প্রধান আসামী কাজিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

বিষয়:

পাবনার কাশিনাথপুরে বর্ণাঢ্য উপস্থিত বক্তৃতা ও কুইজ প্রতিযোগিতা সম্পন্ন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পাবনা প্রতিনিধি:

‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার কাশিনাথপুরে পালিত হয়েছে জাতীয় যুব দিবস। তরুণ প্রজন্মকে সৃজনশীল ও মননশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে দিনটিজুড়ে ছিল নানা ব্যতিক্রমী ও উদ্দীপনামূলক কর্মসূচি।

স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'প্রয়াস যুব উন্নয়ন সংঘ'-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় বৃহত্তর কাশিনাথপুর এলাকার ৮টি স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৭০ জন শিক্ষার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয়।

শিক্ষার্থীদের মেধা ও মনন বিকাশের লক্ষ্যে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় প্রবন্ধ বা বক্তব্যের বিষয়বস্তু হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল অত্যন্ত সমসাময়িক ও গুরুত্বপূর্ণ কিছু সামাজিক ও জাতীয় ইস্যু। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল—
মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলন
জুলাই গণঅভ্যুত্থান
রক্তদান আন্দোলন (ব্লাড ডোনেশন)
মাদকাসক্তি ও বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ
বইপড়া আন্দোলন ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার

এছাড়া সাধারণ জ্ঞান ও বিবিধ বিষয়ের উপর একটি আকর্ষণীয় কুইজ প্রতিযোগিতাও অনুষ্ঠিত হয়, যা পুরো আয়োজনে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।
অতিথিদের মূল্যায়ন ও অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও প্রধান বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেড়া উপজেলার প্রাইমারি এডুকেশন ট্রেনিং সেন্টারের ইনস্ট্রাক্টর ড. মো. হাফিজুর রহমান।

প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণের সময় তিনি বলেন,
"যুবসমাজকে নিয়ে এ ধরনের সৃজনশীল ও মননশীল অনুষ্ঠান আয়োজন নিঃসন্দেহে অত্যন্ত প্রশংসার দাবিদার। পড়াশোনার পাশাপাশি কিশোর ও যুবকদের এ ধরনের সৃষ্টিশীল কাজে সম্পৃক্ত রাখতে পারলে তাদের সহজে বিপথগামিতা থেকে রক্ষা করা সম্ভব। প্রতিযোগিতামূলক ও কল্যাণমুখী কার্যক্রমে যুবশক্তিকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে সমাজ ও দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত হবে।"

সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও কর্মমুখী উদ্যোগ:
প্রয়াস যুব উন্নয়ন সংঘের সভাপতি এস এম মহিরউদ্দিন কলি দেশের উন্নয়নে যুবসমাজের ভূমিকা তুলে ধরে তাদের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে বলেন:

"দেশ ও সমাজের উন্নয়নে যুবকদের ভূমিকা সর্বদা অগ্রগণ্য। দেশের কর্মোদ্যম যুবশক্তিকে যত বেশি সঠিকভাবে কাজে লাগানো যাবে, জাতি তত বেশি সমৃদ্ধি অর্জন করবে। আমরা চাই কেবল বড় বড় শহর নয়, গ্রামের তরুণেরাও যেন সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে অগ্রণী ভূমিকা রাখে।"

তিনি আরও যোগ করেন, সংগঠনটির পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই পাবনার বেকার যুবকদের নানামুখী কর্মমুখী প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কেবল খেলাধুলা বা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সময় ক্ষেপণ না করে, সংগঠনের উদ্যমী তরুণদের নিয়ে এমন সব বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে যা তাদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী করে তুলবে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনায় দেশের এই যুবশক্তিকে সমাজ ও জাতির সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও শক্তিশালী সম্পদে রূপান্তর করা হবে ইনশাআল্লাহ।

সবশেষে, দিনব্যাপী এই আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে একটি বিশেষ শপথ ও দৃঢ় প্রত্যয়ের মাধ্যমে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ, আয়োজক সংগঠনের সদস্য এবং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষার্থী মাদক প্রতিরোধ এবং একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও প্রগতিশীল সমাজ গঠনে সম্মিলিতভাবে হাতে হাত রেখে কাজ করে যাওয়ার দৃঢ় আশা ও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।


বাকৃবির কৃষি অনুষদের নবনিযুক্ত ডিনকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাকৃবি প্রতিনিধি

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি অনুষদের নবনিযুক্ত ডিন অধ্যাপক ড. মাসুম আহমাদকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বরণ করে নিয়েছেন কৃষি অনুষদের বিভিন্ন লেভেলের প্রতিনিধিরা। ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে তাকে নতুন দায়িত্বে স্বাগত জানান শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা। রোববার দুপুরে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে কৃষি অনুষদের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় কৃষি অনুষদের সিনিয়র শিক্ষার্থী প্রতিনিধি মো. সানাউল্লাহ শেখ নবনিযুক্ত ডিনকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পাশাপাশি তিনি শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অনুষদের একাডেমিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নসংক্রান্ত বিভিন্ন দাবি ও প্রত্যাশা তুলে ধরেন।

শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে সেশনজট কমিয়ে একাডেমিক কার্যক্রম গতিশীল করা, করিম ভবনের প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে অচল শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্র (এসি) সচল করা, পর্যাপ্ত মাল্টিমিডিয়া ও প্রজেক্টরের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, শিক্ষার্থীদের জন্য স্থায়ী পার্কিং গ্যারেজ নির্মাণ এবং বিশুদ্ধ পানির ফিল্টারগুলো সার্বক্ষণিক সচল রাখা।

এ সময় সানাউল্লাহ শেখ বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম নির্বিঘ্ন ও গতিশীল করতে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান জরুরি। বিশেষ করে সেশনজট নিরসন, শ্রেণিকক্ষের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি উন্নত ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। আমরা আশা করি, নবনিযুক্ত ডিন মহোদয়ের নেতৃত্বে এসব যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।’

এ সময় শিক্ষার্থী প্রতিনিধি দিগন্ত বলেন, ‘কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যাণ ও অনুষদের উন্নয়নে আমরা নবনিযুক্ত ডিন মহোদয়ের পাশে থেকে কাজ করতে চাই। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি ও প্রত্যাশাগুলো বাস্তবায়নে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।’ একই সঙ্গে অনুষদের শিক্ষা, গবেষণা ও শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশের উন্নয়নে তার গৃহীত ইতিবাচক উদ্যোগগুলোতে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কৃষি অনুষদকে আরও সমৃদ্ধ ও গতিশীল করা সম্ভব।’

নবনিযুক্ত ডিন অধ্যাপক ড. মাসুম আহমাদ বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি ও প্রত্যাশাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে কৃষি অনুষদের শিক্ষা ও অবকাঠামোগত পরিবেশের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।’


হলুদের জমিতে লেবুর সাম্রাজ্য আয় হবে ১০০ কোটি টাকা

# ৭৫৪ হেক্টর জমিতে চাষ হচ্ছে লেবু, ভাগ্যবদলের আশা কৃষকদের
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আল-আমিন, ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ)

উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দক্ষিণে এনায়েতপুর ইউনিয়ন। ছয়টি গ্রাম নিয়ে গঠিত সীমান্তবর্তী এ ইউনিয়নের কৃষকরা গত দেড় যুগ আগেও প্রচুর পরিমাণে হলুদ ও শাক-সবজি আবাদ করতেন। লেবুর কদরে গ্রামগুলোতে কৃষকরা হলুদ ছেড়ে ঝুঁকে পড়েন লেবু চাষে। কৃষকদের আগ্রহে ধীরে ধীরে হলুদের পরিবর্তে শুরু হয় লেবুর বিস্তার। গ্রামগুলোর যে দিকে যতদূর চোখ যাবে একের পর এক লেবুর বাগান দেখা যায়। ঘরে ঘরেই লেবুর চাষ। এনায়েতপুরের অধিকাংশ কৃষকরা প্রতিদিন বাগান থেকে লেুব তুলে বিক্রি করেন। সারা বছরই এ গ্রামে লেবু পাওয়ায় স্থানীয়দের কাছে এ গ্রাম লেবুর সাম্রাজ্য হিসেবে পরিচিত।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়ির আশপাশ জমিতে লেবুর চারা রোপণ করা। অনেকেই লেবুর বাগান গড়েছেন। একই ইউনিয়নের সোয়াইতপুর গ্রামের মাসুদ তালুকদার গত তিন বছর আগে ৬ একর জমিতে সিডলেস ও কলম্বো জাতের লেবুর বাগান করেছেন। গত মৌসুমে তিনি ২০ লাখ টাকার লেবু বিক্রি করেন। চলতি মৌসুমে বাজার দর ভালো হলে প্রায় ৩০ লাখ টাকার লেবু বিক্রি করতে পারবেন। চলতি মৌসুমে শত কোটি টাকার লেবু বিক্রি করার আশা প্রকাশ করেছেন কৃষকরা।

ফুলবাড়িয়া উপজেলায় এ বছর ৭৫৪ দশমিক ৮ হেক্টর জমিতে লেবুর আবাদ হয়েছে। তার মধ্যে এনায়েতপুর ইউনিয়নে লেবুর বাগান রয়েছে ৫৫০ হেক্টর। দেশের বড় লেবুর হাট বসে এনায়েতপুর বাজারে। প্রতিদিন দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কৃষক এ হাটে লেবু বেচাকেনা হয়। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এনায়েতপুর গ্রামের লেবু ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, উপজেলায় লেবুর বাগান রয়েছে ৭৫৪ দশমিক ৮ হেক্টর জমিতে। কলম্বো ৪৫৩ হেক্টর, সিডলেস ২৮৩ হেক্টর, কাগজী ১৫ হেক্টর ও জারা লেবু ৩ দশমিক ৮ হেক্টর জমিতে। প্রতি হেক্টরে কলম্বো জাতের লেবু পানি (পলিথিন) বস্তা হয় ৫৬০ বস্তা। ৪৫৩ হেক্টর জমিতে ২ লাখ ৫৩ হাজার ৬৮০ বস্তা লেবু হয়। প্রতি বস্থা কলম্বো লেবু গড়ে ২ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি করলে কৃষক ৬৩ কোটি ৪২ লাখ টাকা বিক্রি করতে পারবেন। সিডলেজ জাতের লেবু প্রতি হেক্টরে ৫০০ বস্তা হয়। ২৮৩ হেক্টর জমিতে ১ লাখ ৪১ হাজার ৫০০ বস্তা সিডলেস লেবু হবে। গড়ে প্রতি বস্তা লেবু ২ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হলে ৩১ কোটি ১৩ লাখ টাকা বিক্রি করবেন কৃষক। ১৫ হেক্টর জমিতে কাগজী লেবুর আবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ৫ বস্তা লেবু হয়। ৫ হাজার টাকা বস্তা বিক্রি করলে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা লেবু বিক্রি করবেন। চলতি মৌসুমে ফুলবাড়িয়া উপজেলা থেকে কৃষক প্রায় ৯৫ কোটি টাকা লেবু বিক্রি করবেন।

রোববার দেখা যায়, ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা, পাবনা ও সিরাগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকাররা এসেছেন এনায়েতপুর লেবুর হাটে। প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২২ লাখ টাকার লেবু বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষক ও পাইকাররা। কলম্বো জাতের প্রতিবস্তা লেবু (৪৫০ থেকে ৫০০ পিস) বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা। সীডলেজ লেবু বিক্রি হচ্ছে প্রতিবস্তা (৪৫০ থেকে ৫০০ পিস) ২ হাজার ২০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা। কাগজী লেবু প্রতি বস্তা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা।

এনায়েতপুর গ্রামের কৃষক সাখাওয়াত রাব্বী ভ্যান গাড়িতে করে এনায়েতপুর লেবুর হাটে ১০ বস্তা সিডলেস লেবু বিক্রি করতে আনেন। প্রতি বস্তা লেবু ২ হাজার ৩০০ টাকা দরে বিক্রি করেন। একই গ্রামের কৃষক শহিদ মিয়া ৪ বস্তা কলম্বো জাতের লেবু নিয়ে আসছেন হাটে। ৪ বস্তা লেবু ১০ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন।

এনায়েতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. বুলবুল হোসেনের ভাষ্য, এনায়েতপুর ইউনিয়নের কৃষকের প্রধান অর্থকরী ফসল এখন লেবু। প্রতিটি কৃষকের লেবুর বাগান রয়েছে। প্রতিদিন ৭০০ থেকে ৮০০ বস্তা লেবু বিক্রি করতে আনেন কৃষক। প্রতি বস্তা লেবু ২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা বিক্রি করছেন। কাঁচামাল হওয়া বাজার দর উঠানামা করে। তারপরও গড়ে প্রতিদিন ২০ লাখ টাকার লেবু বিক্রি করছেন। রমজান মাসে প্রতিদিন প্রায় কোটি টাকার লেবু বিক্রি হবে।

ফুলবাড়িয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুকান্ত ধর বলেন, ‘এ উপজেলায় লেবুর বাগান রয়েছে ৭৫৪ দশমিক ৮ হেক্টর জমিতে। কলম্বো ৪৫৩ হেক্টর, সিডলেস ২৮৩ হেক্টর, কাগজি ১৫ হেক্টর ও জারা লেবু ৩ দশমিক ৮ হেক্টর। লেবুর ফলন ভালো হয়েছে। বাজার দর ভালো থাকলে চলতি মৌসুমে কৃষক প্রায় ১০০ কোটি টাকার লেবু বিক্রি করবেন বলে ধারণা করছি।’


সার পাচার ঠেকাতে সেন্টমার্টিনে কোস্ট গার্ডের অভিযান

# ১০ টন সারসহ ৯ পাচারকারী আটক
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

চোরাচালানবিরোধী অভিযানে কক্সবাজারের টেকনাফের সেন্টমার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব গভীর সমুদ্র এলাকায় মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশে নেওয়া বিপুল পরিমাণ ইউরিয়া সারসহ ৯ জনকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এ সময় পাচারকাজে ব্যবহৃত একটি বোটও জব্দ করা হয়েছে।

কোস্ট গার্ডের দাবি, আটক বোটটিতে অবৈধভাবে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশে বহন করা হচ্ছিল প্রায় ১০ হাজার কেজি ইউরিয়া সার, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। রোববার কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, রোববার রাত আনুমানিক ২টার দিকে সেন্টমার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব গভীর সমুদ্র এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে অপারেশন সার সুরক্ষায় নিয়োজিত কোস্ট গার্ডের একটি জাহাজ। অভিযান চলাকালে সমুদ্র এলাকায় একটি সন্দেহজনক বোটের গতিবিধি কোস্ট গার্ডের নজরে আসে। পরে বোটটিকে থামার সংকেত দেওয়া হলে সেটি সংকেত অমান্য করে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় কোস্ট গার্ডের আভিযানিক দল সন্দেহজনক বোটটির পিছু নেয়। একপর্যায়ে গভীর সমুদ্র এলাকায় ধাওয়া করে বোটটি আটক করতে সক্ষম হয় কোস্ট গার্ড সদস্যরা।

পরে আটক বোটে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ইউরিয়া সার উদ্ধার করা হয়। কোস্ট গার্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা সারগুলো অবৈধভাবে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশে বোটটিতে বহন করা হচ্ছিল। অভিযানে ১০ হাজার কেজি ইউরিয়া সার, পাচারকাজে ব্যবহৃত একটি বোট এবং বোটে থাকা ৯ জনকে আটক করা হয়।

এ ঘটনায় পাচারকাজে জড়িত নয়জনকে আটক করা হয়েছে। তারা হলেন চট্টগ্রামের পটিয়া, কক্সবাজার চকরিয়া, লক্ষ্মীপুর এলাকার বাসিন্দার মো. ফুরকান (৬০), আ. সৈয়দ নূর (৩২), তৌফিক ইসলাম (৩৪), মো. সাদ্দাম হোসেন (৩৪), মো. ইকবাল হোসেন (৩৫), আ. শাহজাহান (৪৪), আলাউদ্দিন (৪৪), মো. আব্বাস (৪৭) ও মো. রফিক আহমেদ (৬০)।

কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযানে জব্দ করা ১০ হাজার কেজি ইউরিয়া সার, পাচারকাজে ব্যবহৃত বোট এবং আটক ৯ ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


সিরাজগঞ্জ-পাবনা-রাজবাড়ীর ৬৫ চরমপন্থির আত্মসমর্পণ

# পুনর্বাসনের আশ্বাসে এসআরবির কাছে আত্মসমর্পণ
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

একসময় সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলাতে সর্বহারা চরমপন্থিদের অবাধ বিচরণে আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছিল। চাঁদাবাজি, ডাকাতি, ছিনতাই আর খুন ছিল নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা। সময়ের ব্যবধানে সেই জেলাগুলো এখন অনেকটাই চরমপন্থামুক্ত হয়েছে। দফায় দফায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে চরমপন্থি সংগঠনের সদস্যরা। এরই ধারাবাহিকতায় এই তিন জেলার আরও প্রায় ৬৫ জন চরমপন্থি সর্বহারা আলোর পথে ফিরে আসলেন।

সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলার ৬৫ জন চরমপন্থি আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসলেন। আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। রোববার বেলা সাড়ে ১২টায় চরমপন্থি সর্বহারা দলের সদস্যদের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এমপি।

এ ছাড়াও সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসন, পুলিশ, এসআরবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন ।

সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ীসহ আশপাশের জেলাগুলোতে মার্কস-লেলিন ও মাওবাদী আদর্শের নামে ১৪টি চরমপন্থি সংগঠন সক্রিয় ছিল। এরমধ্যে পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি এম এল (লাল পতাকা), পূর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টি (এমবিআরএম) ও পূর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টি (জনযুদ্ধ) অন্যতম। ১৯৬৮ সাল থেকে এসব সংগঠন বিস্তৃত হতে থাকে।

তরুণ সমাজকে ভুল বুঝিয়ে দলে ভেড়াতে থাকে চরমপন্থিদের শীর্ষ নেতারা। আশি-নব্বইয়ের দশকে ব্যাপক বিস্তার লাভ করে চরমপন্থি সংগঠনগুলো। সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে প্রকাশ্যে সশস্ত্র মহড়া দিয়ে আলাদা রাজত্ব কায়েম করতে থাকে তারা। হত্যা করা হয় কয়েক হাজার মানুষকে। পরবর্তীতে আধিপত্য বিস্তার ও নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়ে বিভিন্ন দল-উপদলে বিভক্ত হতে থাকে তারা। একে অপরকে হত্যা করতে থাকে। এতে সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়।

এ অবস্থায় ১৯৯৮ সালে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়াত মোহাম্মদ নাসিমের হাতে অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন চরমপন্থিদলের শীর্ষ নেতাসহ শতাধিক সদস্য। এরপর ২০১৯ সালের ৯ এপ্রিল পাবনায় পুলিশের কাছে ৫৯৬ জন চরমপন্থি সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। ২০২৩ সালের ২১ মে সিরাজগঞ্জে তৎকালীন র‌্যাব-১২ কার্যালয়ে ৭ জেলার আরও ৩২৩ জন চরমপন্থি আত্মসমর্পণ করেন।

এরই ধারাবাহিকতায় রোববার সিরাজগঞ্জের ৬ জন পাবনার ৫৪ জন ও রাজবাড়ীর ১৩ জন সর্বহারা চরমপন্থি আত্মসমর্পণ করেন এসআরবির কাছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যে সোশ্যাল কন্ট্রাকটির মাধ্যমে তাদেরকে যে অধিকার দেওয়ার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছে, সে অধিকার যেন আমরা তাদেরকে পৌঁছে দিতে পারি।

আসলে সর্বহারা একা হয় না, যারা বিপ্লবকে অন্য অর্থে ব্যবহার করবে সে দায়িত্বটা আমাদের, এটা রাষ্ট্রের, একটি সরকারের। আপনারা সকলেই জানেন, বর্তমান সরকার একটি পরিবর্তিত বাংলাদেশ গড়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছে। আপনারা আজ থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন। আপনাদের কী প্রয়োজন, সেটা বর্তমান সরকার ব্যবস্থা করবে।’

এ ছাড়াও অতিরিক্ত ডিআইজি এসআরবি-১২ এর অধিনায়ক মো. আতিকুল রহমান মিয়ার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এসআরবি মহাপরিচালক আহসান হাবিব পলাশ, সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম আলিম, রাজশাহী রেঞ্জ অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ, রাজশাহী অতিরিক্ত কমিশনার (উন্নয়ন) শাহানা আখতার জাহান, এসআরবির অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন্স) কর্ণেল ইফতেখার আহমেদ।


মিঠামইনে নববধূকে নিয়ে ফেরার পথে হামলা, আটক ১

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে বিয়েবাড়ি থেকে নববধূকে নিয়ে ফেরার পথে হামলার ঘটনায় গোলাপ মিয়া (৩৫) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে উপজেলার কাটখাল এলাকার সাহেবনগর থেকে তাকে আটক করা হয়।

আটক গোলাপ মিয়া কাটখাল ইউনিয়নের চরকাটখাল এলাকার মৃত কালাচানের ছেলে।

এর আগে শনিবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে উপজেলার কাটখাল গরুর হাট এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে এক পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। এ সময় কনের পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের মারধরের পাশাপাশি তাদের টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের অভিযোগ ওঠে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার মিঠামইন উপজেলার কেওয়ারজোড় ইউনিয়নের রানীগঞ্জ এলাকার স্বপন মিয়ার সঙ্গে বৈরাটি ইউনিয়নের মাইজচর গ্রামের জোনাকি আক্তারের বিয়ে হয়। শনিবার দুপুরে বিয়েবাড়িতে খাওয়া-দাওয়া শেষে নবদম্পতিকে নিয়ে কনের স্বজনেরা বাড়ি ফিরছিলেন। পথে কাটখাল গরুর হাট এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে চরকাটখাল এলাকার অটোরিকশাচালক দয়াল মিয়া তাদের সঙ্গে থাকা এক স্বজনকে ধাক্কা দেন। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে দয়াল মিয়া ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন অটোরিকশাচালক তাদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে কনের পরিবারের ১৪ জন আহত হন।

খবর পেয়ে কাটখাল পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। এ সময় হামলাকারীরা পুলিশের ওপরও হামলা চালালে মো. কাউসার মিয়া নামে এক পুলিশ সদস্য আহত হন। তিনি কাটখাল পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত।

বৈরাটি ইউনিয়নের মাইজচর গ্রামের বাচ্চু মিয়া অভিযোগ করেন, অটোরিকশাচালক দয়াল মিয়া মূলত গরুর হাট এলাকার অটোরিকশাস্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণ করেন। এ কারণে এলাকায় প্রভাব খাটান তিনি। তার নেতৃত্বেই কনের স্বজনদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এ সময় তাদের টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালঙ্কারও লুট করে নেওয়া হয়েছে। আহত ব্যক্তিদের মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দয়াল মিয়ার স্ত্রী রূপ নাহার। তার দাবি, বিয়েবাড়ি থেকে ফেরার পথে সাইড দেওয়ার জন্য তার স্বামী অটোরিকশার হর্ন বাজান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাইজচরের লোকজন তার স্বামীর ওপর হামলা চালান। বর্তমানে তার স্বামীকেও হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।

কাটখাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুল গাফফার বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। একপর্যায়ে দয়াল মিয়া ও তার লোকজন পুলিশের ওপরও হামলা করেন। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে রাতেই অভিযান শুরু করে পুলিশ। পরে সাহেবনগর এলাকা থেকে গোলাপ মিয়াকে আটক করা হয়। অন্যদের আটকে অভিযান চলছে। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

বিষয়:

গাজীপুরে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ, ৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক
    সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পাঁচ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন গাজীপুরের কালিয়াকৈর এলাকার পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। চলমান এ শ্রম অসন্তোষের মুখে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি প্রতিরোধ এবং শিল্পাঞ্চলের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পাঁচ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।

রবিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভের সূচনা করেন শ্রমিকেরা। অল্প সময়ের মধ্যেই সফিপুর, রতনপুর ও সংলগ্ন বিভিন্ন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা দলে দলে এসে মহাসড়কের বিক্ষোভে যুক্ত হতে থাকেন। এর ফলে ব্যস্ততম এ মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে চরম অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়।

উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে গাজীপুরের কোনাবাড়ী, মৌচাক, সফিপুর, চন্দ্রা, পল্লী বিদ্যুৎ, নাওজোড় ও ভোগড়া বাইপাস এলাকায় বিজিবি সদস্যদের নামানো হয়েছে। গাজীপুরের শিল্প পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন জানান, শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদারে রবিবার সকাল থেকেই বিজিবি সদস্যরা মাঠে নেমেছেন এবং আপাতত পাঁচ প্লাটুন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি আরও জানান, সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষা ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে শিল্প পুলিশের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে বিজিবি এবং মাঠপর্যায়ের প্রয়োজনীয়তা সাপেক্ষে এ বাহিনীর উপস্থিতি আরও বৃদ্ধি করা হতে পারে।

বিষয়:

দিনভর উত্তাল শিল্পাঞ্চল, ৩৫টির বেশি কারখানায় ছুটি

* আজ মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা * মিরপুরে দিনভর বিক্ষোভ * গাজীপুরে মহাসড়ক অবরোধ * আশুলিয়ায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ; উদ্ধার হাতবোমাসদৃশ বস্তু
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, শ্রমিক ছাঁটাই ও কালো তালিকাভুক্তি বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চল। শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুরের কালিয়াকৈর ও সাভারের আশুলিয়ায় পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ, কর্মবিরতি ও সড়ক অবরোধে ব্যাপক জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। কোথাও মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে, কোথাও শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গাজীপুর ও আশুলিয়ার অন্তত ৩৫টির বেশি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। আশুলিয়ায় একটি কারখানার সামনে থেকে উদ্ধার করা হয়েছে হাতবোমাসদৃশ তিনটি বস্তু।

শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্যে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। আজ রোববার এ বোর্ড গঠনের কথা জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি আগামী ৭ নভেম্বরের মধ্যে বকেয়া বেতন পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন মন্ত্রী।

মিরপুরে দিনভর বিক্ষোভ, যান চলাচলে স্থবিরতা: শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা পৌনে ১১টার দিকে রাজধানীর মিরপুরের বিভিন্ন পোশাক কারখানার কয়েকশ শ্রমিক রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। মিরপুর-১০, মিরপুর-১১, মিরপুর-১২, প্রশিকা মোড়, মিরপুর সাড়ে ১১ ও কালশী সড়কে তাদের আন্দোলনের প্রভাব পড়ে। শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নেওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

পল্লবী থানার ওসি মো. জালাল উদ্দিন জানান, সকাল থেকে শ্রমিকেরা বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করেন। পুলিশ তাদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরানোর চেষ্টা করে। দুপুর আড়াইটার দিকে মিরপুর-১০ গোলচত্বর থেকে শ্রমিকেরা সরে গেলে প্রায় চার ঘণ্টা পর ওই এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে বিকেল পর্যন্ত মিরপুর সাড়ে ১১ ও কালশী সড়কে বিক্ষোভ চলছিল।

ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর ট্রাফিক বিভাগও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এসব এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার তথ্য জানায়।

গাজীপুরে মহাসড়ক অবরোধ, সংঘর্ষে উত্তেজনা: গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় দুপুরের পর শ্রমিক অসন্তোষ তীব্র আকার ধারণ করে। প্রথমে ইন্টারস্টপ কারখানার শ্রমিকেরা কাজে যোগ না দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে আশপাশের কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা তাদের সঙ্গে যোগ দেন। একপর্যায়ে তারা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেন।

শ্রমিকেরা মহাসড়কে অবস্থান নেওয়ায় উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় সাত কিলোমিটার এলাকায় যানজট তৈরি হয়। আটকে পড়ে দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়ি। পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় পল্লী বিদ্যুৎ ও আশপাশের ১০ থেকে ১২টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।

বিকেল সাড়ে ৪টার পরও অবরোধ চলছিল বলে জানান কালিয়াকৈর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম। পরে শ্রমিকদের সরানোর চেষ্টা এবং পুলিশের সঙ্গে তাদের উত্তেজনার একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে।

আশুলিয়ায় সংঘর্ষ, ২৫ কারখানায় ছুটি: গাজীপুরের পাশাপাশি সাভারের আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলেও শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল থেকে কাঠগড়া, জিরাবো, নিশ্চিন্তপুর, নরসিংহপুর ও আমতলা এলাকায় বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ শুরু করেন।

নিউ এইজ, কন্টিনেন্টাল, এআর জিন্স, সিডব্লিউএ, আল-মুসলিম ও নাঈম সোয়েটারসহ কয়েকটি কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেয়। এ সময় কয়েকটি কারখানায় ভাঙচুর ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের নিশ্চিন্তপুর এলাকায় অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন।

পুলিশ তাদের সরানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। এতে ছয় পুলিশ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

আন্দোলনের কারণে কাঠগড়া, জিরাবো, নরসিংহপুর ও আশপাশের এলাকায় ২৫টি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়।

এদিকে নিশ্চিন্তপুর এলাকায় নিউ এইজ কারখানার সামনে থেকে হাতবোমাসদৃশ তিনটি বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। শিল্প পুলিশ-১-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সৈয়দ ফয়সল ইসলাম জানান, কে বা কারা বস্তুগুলো সেখানে রেখে গেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি আশুলিয়া থানাকে জানানো হয়েছে।

শ্রমিকদের ক্ষোভের কারণ: আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবি, বর্তমান বেতন দিয়ে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বাসাভাড়া, খাবার, চিকিৎসা ও সন্তানদের শিক্ষার ব্যয় মেটাতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ অবস্থায় ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এর পাশাপাশি অন্যায়ভাবে শ্রমিক ছাঁটাই, কালো তালিকাভুক্তি বন্ধ এবং ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু বলেন, বর্তমান বাজারদরে একজন শ্রমিকের পক্ষে প্রচলিত ন্যূনতম ১২ হাজার ৫০০ টাকা বেতনে সংসার চালানো সম্ভব হচ্ছে না। মজুরি বোর্ড গঠন ও নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণার বিষয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বিলম্ব হওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ বেড়েছে।

আজ মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা: শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যে শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর বিজয়নগরে শ্রম ভবনে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। বৈঠক শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি রোববার নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেন।

মন্ত্রী বলেন, শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বোর্ডে শ্রমিক প্রতিনিধিও রাখা হয়েছে। এ ছাড়া আগামী ৭ নভেম্বরের মধ্যে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধের বিষয়ে মালিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

তিনি শ্রমিকদের কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কারখানা বন্ধ ও উৎপাদন ব্যাহত হলে পোশাকশিল্পের রপ্তানি এবং শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ—দুই ক্ষেত্রেই সমস্যা তৈরি হতে পারে।

এদিকে গাজীপুর ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ ও শিল্প পুলিশের সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে সড়ক থেকে তাদের সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। প্রতিবেদনটি তৈরি সহায়তা করেছেন, আমাদের গাজীপুর ও আশুলিয়া (ঢাকা) প্রতিনিধি।


মিঠামইনে নববধূকে নিয়ে ফেরার পথে হামলা, পুলিশ সদস্যসহ আহত ১৫

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে নববধূকে নিয়ে বিয়েবাড়ি থেকে ফেরার পথে অটোরিকশাচালকদের হামলায় এক পুলিশ সদস্যসহ ১৫ জন আহত হয়েছেন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার কাটখাল গরুর হাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত পুলিশ সদস্যের নাম মো. কাউসার মিয়া। তিনি কাটখাল পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত। তবে প্রাথমিকভাবে অন্যান্য আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। এ সময় কনের পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের মারধরের পাশাপাশি টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের অভিযোগও উঠেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) মিঠামইন উপজেলার কেওয়ারজোড় ইউনিয়নের রানীগঞ্জ এলাকায় স্বপন মিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় বৈরাটি ইউনিয়নের মাইজচর গ্রামের জোনাকি আক্তারের। শনিবার দুপুরে বিয়েবাড়িতে খাওয়া-দাওয়া শেষে নবদম্পতিকে নিয়ে কনের স্বজনেরা বাড়ি ফিরছিলেন। পথে সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে কাটখাল গরুর হাট এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে চরকাটখাল এলাকার অটোরিকশাচালক দয়াল মিয়া তাদের সঙ্গে থাকা এক স্বজনকে ধাক্কা দেন। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে দয়াল মিয়া ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন অটোরিকশাচালক তাদের ওপর হামলা চালান। এতে কনের পরিবারের ১৪ জন আহত হন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

খবর পেয়ে কাটখাল পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। এ সময় হামলাকারীরা পুলিশের ওপরও হামলা চালালে কাউসার মিয়া নামে এক পুলিশ সদস্য আহত হন।

বৈরাটি ইউনিয়নের মাইজচর গ্রামের বাচ্চু মিয়া অভিযোগ করে বলেন, অটোরিকশাচালক দয়াল মিয়া মূলত গরুর হাট এলাকার অটোরিকশা স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণ করেন। এ কারণে এলাকায় প্রভাব খাটান তিনি। তার নেতৃত্বেই তাদের স্বজনদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

এ সময় স্বজনদের টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালঙ্কারও লুট করে নেওয়া হয়েছে। আহত ১৪ স্বজনকে মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হচ্ছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেছেন অভিযুক্ত দয়াল মিয়ার স্ত্রী রূপ নাহার। দয়াল মিয়ার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন। রূপ নাহার বলেন, মাইজচরের লোকজন বিয়েবাড়ি থেকে ফেরার পথে সাইড দেওয়ার জন্য তার স্বামী অটোরিকশার হর্ন বাজান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা তার স্বামীর ওপর হামলা চালান। বর্তমানে তার স্বামীকেও হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।

কাটখাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুল গাফফার মুঠোফোনে বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। একপর্যায়ে দয়াল মিয়া ও তার লোকজন পুলিশের ওপরও হামলা করেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


দুই উৎসের বর্জ্য নিয়ন্ত্রণে কমতে পারে হালদার ৮০ শতাংশ দূষণ

* গত প্রজনন মৌসুমে ডিম সংগ্রহ কমেছে ৮ হাজার কেজি * ৪৮টি মাছের নমুনার শতভাগে মিলেছে মাইক্রোপ্লাস্টিক
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

বিষাক্ত শিল্পবর্জ্য, অপরিশোধিত গৃহস্থালি বর্জ্য, কৃষিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক এবং বিভিন্ন উৎসের দূষণে ক্রমেই বিপন্ন হয়ে পড়ছে দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক কার্পজাতীয় মাছের প্রজননক্ষেত্র হালদা নদী। নদীটির বিভিন্ন শাখা খাল দিয়ে চট্টগ্রাম নগরী ও আশপাশের এলাকার বর্জ্য সরাসরি মিশছে পানিতে। এর প্রভাবে হুমকির মুখে পড়েছে মা-মাছের প্রজনন, নদীর জীববৈচিত্র্য ও স্থানীয় মানুষের জীবিকা।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবার দূষণের দুটি বড় উৎস- নগরীর অনন্যা আবাসিক এলাকা হয়ে আসা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার বর্জ্য এবং বাহির সিগন্যাল শিল্প এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন গবেষকরা। তাদের ধারণা, এই দুই উৎসের বর্জ্যপ্রবাহের কার্যকর সমাধান করা গেলে হালদার প্রায় ৮০ শতাংশ দূষণ কমানো সম্ভব। তবে দূষণমুক্তির সুনির্দিষ্ট সময়সীমা এখনো নির্ধারিত হয়নি। ফলে সম্ভাব্য সমাধানের পাশাপাশি নদী রক্ষায় কার্যকর বাস্তবায়ন, নজরদারি ও বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

হালদা নদীর দূষণের উৎস চিহ্নিত করার লক্ষ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরির যৌথ মাঠ পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্টরা এসব তথ্য জানান।

হালদা গবেষক অধ্যাপক ড. মঞ্জুরুল কিবরিয়া বলেন, ‘নদীটির দূষণের অন্যতম প্রধান উৎস অনন্যা আবাসিক এলাকা হয়ে আসা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার বর্জ্য এবং বাহির সিগন্যাল শিল্প এলাকার বর্জ্য। এই দুটি উৎসের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কার্যকর সমাধান করা গেলে হালদার প্রায় ৮০ শতাংশ দূষণ কমানো সম্ভব হবে। দূষণের উৎস চিহ্নিত এবং সমাধানের পথ বের করতেই পরিবেশ অধিদপ্তর ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারের পক্ষ থেকে যৌথ মাঠ পরিদর্শন করা হয়েছে।’

তিনি জানান, এর আগে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে হালদার প্রায় ৬০ শতাংশ দূষণ প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে বলে তাদের মূল্যায়ন। দূষণের উৎসকে নির্দিষ্ট ও অনির্দিষ্ট-এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট উৎসের মধ্যে এশিয়ান পেপার মিল ও হাটহাজারী পিকিং পাওয়ার প্ল্যান্টের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করা গেছে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় তামাক চাষও প্রতিরোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে নদীটির প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ দূষণ এখনো রয়ে গেছে বলে জানান তিনি।

তার মতে, এর বড় অংশের জন্য দায়ী অনির্দিষ্ট ও দূরবর্তী উৎস থেকে আসা বর্জ্য। চট্টগ্রাম নগরী ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকার বর্জ্য একাধিক শাখা খাল দিয়ে হালদায় গিয়ে পড়ছে। কৃষ্ণখালী, খন্দকিয়া, কাটাখালী, মাদারী ও বোয়ালিয়া খালসহ বিভিন্ন জলপথ দিয়ে শিল্পকারখানা, আবাসিক এলাকা ও বাজারের বর্জ্য নদীতে মিশছে। এ ছাড়া বামনশাহী ও কুয়েশ খালসহ বিভিন্ন খালের মাধ্যমে ক্যান্টনমেন্ট, চৌধুরী হাট ও বড়দীঘির পাড় এলাকার বর্জ্যও নদীতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। অক্সিজেন থেকে কুলগাঁও পর্যন্ত বিস্তৃত শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং বহুতল ভবনের অপরিশোধিত বর্জ্যও ড্রেন ও খাল দিয়ে নদীতে মিশছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাউজানের মায়াবী হালদা নামে একটি বিনোদনকেন্দ্রের বর্জ্য, ফটিকছড়ির বিভিন্ন এলাকার বর্জ্য এবং উজানে তামাক চাষে ব্যবহৃত কীটনাশক ও রাসায়নিক পদার্থের দূষণ।

গবেষকদের মতে, এসব বর্জ্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ এবং দূষিত পানি নদীতে প্রবেশ বন্ধ করা গেলে হালদার পানির গুণগত মান উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে। তবে শুধু দুটি উৎসের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নয়, অন্য উৎসগুলো থেকেও দূষণ কমাতে হবে। এ জন্য বর্জ্যের উৎপত্তিস্থল শনাক্ত, বর্জ্য শোধন এবং নদীতে দূষিত পানি প্রবেশের পথ বন্ধ করার মতো পদক্ষেপ জরুরি।

দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হালদায় কার্পজাতীয় মাছের প্রজনন নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। নদীটিতে রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালিবাউশ মাছের প্রজনন মৌসুম সাধারণত এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত। এ সময়ে পাহাড়ি ঢল, বজ্রসহ বৃষ্টি ও নদীতে অনুকূল স্রোত তৈরি হলে মা-মাছ ডিম ছাড়ে। কিন্তু সময়মতো বৃষ্টি না হওয়া এবং পরিবেশগত সংকটের কারণে সর্বশেষ মৌসুমে প্রত্যাশিত ডিম পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট তথ্যানুযায়ী, ২০২০ সালে হালদা থেকে রেকর্ড প্রায় ২৫ হাজার ৫৩৬ কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়েছিল। ২০২১ সালে সংগ্রহ হয় প্রায় ৮ হাজার ৫০০ কেজি। ২০২২ সালে এ পরিমাণ ছিল প্রায় ৬ হাজার ৫০০ কেজি; কিছু হিসাবে ৭ হাজার ২০০ কেজি। ২০২৩ সালে সংগ্রহ হয় প্রায় ১৪ হাজার ৬৬৪ কেজি এবং ২০২৪ সালে প্রায় ১ হাজার ৬৮০ কেজি। ২০২৫ সালে সংগ্রহের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৪ হাজার কেজি। সর্বশেষ প্রজনন মৌসুমে তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ হাজার কেজিতে।


বাড়িতে ডিজে পার্টি, পুলিশের অভিযান: সেই অতিরিক্ত ডিআইজি বরখাস্ত

বরখাস্ত হওয়া অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির। ফাইল ছবি
আপডেটেড ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:৫৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর খিলক্ষেতে নিজের ভাড়া দেওয়া বাড়িতে ডিজে পার্টির অভিযোগের ভিত্তিতে চালানো অভিযানে মাদক উদ্ধার ও ৮৪ জনকে আটকের ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরকে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে ‘পুলিশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হওয়া এবং জনসম্মুখে পুলিশের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ণ’ হওয়ায় তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ আদেশ ২৫ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

একইসঙ্গে সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার সময়কালে পুলিশের এই কর্মকর্তাকে রাঙামাটির বেতবুনিয়ায় পুলিশ স্পেশাল ট্রেনিং স্কুলে (পিএসটিএস) সংযুক্ত করা হয়েছে।

এর আগে ১৯ অক্টোবর ভোর রাতে খিলক্ষেতে পুলিশ হাউজিং আবাসিক এলাকায় ওই কর্মকর্তার ভাড়া দেওয়া বাড়িতে অভিযান চালায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল।

পরদিন পুলিশ সদর দপ্তরের রিঅ্যার অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স শাখায় কর্মরত জহিরকে সদর দপ্তরে সংযুক্ত করার আদেশ দেওয়া হয়।

আলোচনায় আসা এ অভিযানের পর ডিবি বাড়িটিতে মাদক সেবন ও ডিজে পার্টি চলছিল বলে জানায়। অভিযানে গাঁজা, ইয়াবা, মদ ও ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম জব্দ এবং ২৬ জন নারীসহ মোট ৮৪ জনকে আটকের তথ্যও দেয় ডিবি।

এমন প্রেক্ষাপট তুলে ধরে অতিরিক্তি এ ডিআইজিকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশে শনিবার (৩১ অক্টোবর) বলা হয়, ‘যার (অভিযান ও খবর প্রকাশিত হওয়ার পর) ফলে জনমনে পুলিশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হয়েছে এবং জনসম্মুখে পুলিশের ভাবমূর্তি ‘‘চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে’’।’

অতিরিক্ত ডিআইজি জহিরের এ কর্মকাণ্ডকে ‘শিষ্টাচারবহির্ভূত, অকর্মকর্তাসুলভ এবং বিভাগীয় নিয়ম-শৃঙ্খলা পরিপন্থি’ বলে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে।

এসব কারণে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী ‘অসদাচরণের’ শাস্তিযোগ্য অপরাধে তাকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে তুলে ধরা হয়।

সাময়িক বরখাস্তকালীন ওই কর্মকর্তা বিধি অনুযায়ী এ সময়ে খোরপোষ ভাতা পাবেন বলে একই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে। পুলিশের ওই কর্মকর্তা এয়ারবিএনবির মাধ্যমে বাড়িটি ভাড়া দিয়েছিলেন। এ নিয়ে আলোচনার মধ্যে সেদিন বিকালে পুলিশ সদর দপ্তরের রিঅ্যার অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স শাখায় কর্মরত অতিরিক্ত ডিআইজি জহিরকে সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছিল। এর ৫ দিনের মাথায় সাময়িক বরখাস্ত করল মন্ত্রণালয়।


আগামী বছর প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ, জেলা-উপজেলায় আধুনিক স্টেডিয়াম গড়ে তোলা হবে: আমিনুল হক

শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে রংপুর স্টেডিয়াম পরিদর্শন শেষে সংবাদ সম্মেলনে যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী আমিনুল হক। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী বছর দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্টেডিয়াম গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী আমিনুল হক। একই সঙ্গে দেশের বিদ্যমান স্টেডিয়ামগুলো সংস্কার ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে রংপুর স্টেডিয়াম পরিদর্শনে এসে এসব কথা বলেন যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী।

এ সময় আমিনুল হক বলেন, ‘বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর খেলাধুলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। সমাজব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে এবং রাষ্ট্রীয় পরিবর্তনের ধারায় খেলাধুলাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার। খেলাধুলাকে পেশাদারত্বের পর্যায়ে নিয়ে যেতে পরিকল্পিতভাবে কাজ করা হচ্ছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘ইতোমধ্যে ‘‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’’-এর প্রথম আসর সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।’ আগামী ৫ নভেম্বর খুলনা থেকে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় একযোগে অনলাইনের মাধ্যমে দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এ আয়োজনে সবাইকে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান তিনি।

প্রথম আসরে নতুন কুঁড়ির ৩০৬ জন প্রতিযোগীর মধ্য থেকে ৪০ জনকে বাছাই করা হয়েছে। তাদের খেলাধুলার মাধ্যমে গ্র্যাজুয়েশন পর্যায় পর্যন্ত সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এভাবেই খেলাধুলাকে আরও সুসংগঠিত ও পেশাদার হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

দেশের ক্রীড়াঙ্গনের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিটি জেলা ও বিভাগীয় স্টেডিয়াম সংস্কার এবং আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রংপুরের আবু সাঈদ স্টেডিয়াম, সুইমিং পুল ও অন্যান্য ক্রীড়া সরঞ্জামের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বিভাগীয় স্টেডিয়ামগুলোকে সর্বোচ্চ আধুনিকায়নের মাধ্যমে খেলাধুলার মান উন্নয়নে এসব পরিকল্পনা যথাসময়ে বাস্তবায়ন করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের প্রতিটি ক্রীড়া সংস্থার মাধ্যমে খেলাধুলার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। নতুন কুঁড়িসহ হকি, শুটিং ও অন্যান্য খেলায় জেলা ক্রীড়া সংস্থার কমিটি গঠনের পর সাধারণ সম্পাদকদের মাধ্যমে বার্ষিক ক্রীড়া ক্যালেন্ডার তৈরি করে তা বাস্তবায়ন করা হবে।

ক্রীড়া সংগঠনে দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে আমিনুল হক বলেন, ‘ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঢাকা ফুটবল ও ক্রিকেট বোর্ডসহ বিভিন্ন ফেডারেশনের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ এসেছে। এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন কাজ করছে। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ও তদন্ত করছে। যারা ক্রীড়া সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে দুর্নীতি করেছেন, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।’

পরিদর্শনকালে বিভিন্ন স্কাউটের সদস্য, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান সামু, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী ডন এবং দলের জেলা ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


রাজধানীর ছয় রুটে রোববার থেকে চলবে ছয় কোম্পানির বাস

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে ‘এক রুট, এক কোম্পানি’ নীতিতে বাস পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রোববার (০১ নভেম্বর) থেকে রাজধানীর ছয়টি প্রধান রুটে পরীক্ষামূলকভাবে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক বাস চলাচল শুরুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ছয়টি রুটে পৃথক কোম্পানির অধীনে সমন্বিতভাবে বাস পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে পাঁচটি নন-এসি ও একটি এসি রুটে প্রায় ৮১৬টি বাস পরিচালনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

নতুন ব্যবস্থায় একই সড়কে একাধিক পরিবহন কোম্পানির বাসের অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ, নির্ধারিত স্টপেজে যাত্রী ওঠানামা, কাউন্টারভিত্তিক টিকিট ব্যবস্থা এবং বাস চলাচলে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে।

ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত ৩২টি প্রধান রুটের মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ছয়টি রুটকে এ কার্যক্রমের আওতায় আনা হচ্ছে। গত ১৮ অক্টোবর ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় রুট, বাস পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান, বাসের সংখ্যা ও স্টপেজ নিয়ে আলোচনা হয়।

ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের-ডিটিসিএ’র নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে রাজধানীর গণপরিবহনের শৃঙ্খলা ফেরাতে ঢাকা মহানগরীতে ৩২ রুটে বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতি ও ২৫ রুটে চক্রাকার বাস সার্ভিস চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে আজ পহেলা নভেম্বর থেকে প্রাথমিকভাবে ৬ রুটে কোম্পানিভিত্তিক বাস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া তিনটি রুটে চক্রাকার বাস সার্ভিস চালু করা হবে। একটি রুটে একটি কোম্পানির বাস চলাচল করবে। প্রতিটি রুটের বাসের রং পৃথক থাকবে। এ ছাড়া পলাশী-আজিমপুর, পলাশী-মোহাম্মদপুর-বসিলা ও দিয়াবাড়ী-পঞ্চবটি রুটে চক্রাকার বাস সার্ভিস চালু করা হবে।’ এ বাস সার্ভিসগুলো পরীক্ষামূলক চালানো হবে। পরে পর্যালোচনা করে স্থায়ীভাবে বাস রুট হিসেবে চালু করা হবে বলে জানান তিনি।

প্রাথমিক পর্যায়ে যেসব রুটে নতুন ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, সেগুলো হলো-

১. গাজীপুর চৌরাস্তা ঢাকেশ্বরী মন্দির: শিববাড়ী থেকে টঙ্গী, বিমানবন্দর, মহাখালী ও নিউমার্কেট হয়ে বাস চলাচল করবে। এ রুটে বিকাশ পরিবহন, বিকাশ সেবা ও ডিভাইস পরিবহনের কার্যক্রম সমন্বয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। ২. গাবতলী ডেমরা : শ্যামলী, মহাখালী, গুলশান-১ ও রামপুরা হয়ে বাস চলবে। এ রুটে আলিফ এন্টারপ্রাইজ, বৈশাখ পরিবহন ও রয়েল পরিবহনের বাস সমন্বিতভাবে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৩. দুয়ারীপাড়া সদরঘাট : শ্যামলী, সায়েন্স ল্যাব ও আজিমপুর হয়ে বাস চলাচল করবে। এ রুটে দিশারী পরিবহন, তানজিল পরিবহন, মেট্রো লিংক ও ট্রান্স সিলভা সংশ্লিষ্ট থাকবে।

৪. ঘাটারচর ডেমরা : মোহাম্মদপুর, শাহবাগ ও রামপুরা হয়ে বাস চলবে। এ রুটে রমজান, মালঞ্চ, মিডলাইন ও রজনীগন্ধা পরিবহনের কার্যক্রম সমন্বয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।

৫. ঘাটারচর কাঁচপুর : শাহবাগ, পল্টন ও সাইনবোর্ড হয়ে বাস চলাচল করবে। এ রুটেও রমজান, মালঞ্চ, মিডলাইন ও রজনীগন্ধা পরিবহনের বাস সমন্বিতভাবে পরিচালিত হওয়ার কথা। ৬. মিরপুর-১২ মাওয়া : ফার্মগেট, শাহবাগ, গুলিস্তান ও কেরানীগঞ্জ হয়ে বাস চলবে। এ রুটে স্বাধীন পরিবহন, বিহঙ্গ পরিবহন, বিকল্প পরিবহন ও শিকড় পরিবহনের বাস সমন্বয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব রুটে বর্তমানে চলাচলকারী পরিবহন কোম্পানিগুলোকে একক পরিচালন কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ একাধিক কোম্পানির বাস থাকলেও পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা হবে রুটভিত্তিক সমন্বিত কোম্পানির মাধ্যমে। ডিটিসিএয়ের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে অনুমোদিত বাস রুটের সংখ্যা ৪১৮টি। তবে বাস্তবে বাস চলাচল করছে মাত্র ৯৮টি রুটে। এসব রুটে প্রায় ৭ হাজার ৫০০ বাস পরিচালনা করছে ৬৬টি পরিবহন কোম্পানি।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বর্তমানে চালু থাকা ৯৮টি রুটকে পুনর্বিন্যাস করে ৩২টি প্রধান রুটে নিয়ে আসা হবে। প্রস্তাবিত রুটগুলোর প্রায় ৭০ শতাংশ বিদ্যমান সড়কপথ অনুসরণ করবে। ফলে কিছু যাত্রীকে গন্তব্যে পৌঁছাতে মাঝপথে বাস পরিবর্তন করতে হতে পারে। এ ছাড়া রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতে ২৫টি চক্রাকার বা সার্কুলার রুটের পরিকল্পনা রয়েছে।


banner close