আবারও বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের ভেতরে গোলাগুলি শুরু হয়েছে। আজ শনিবার দুপুরের দিকে মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলি বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে এসে পড়েছে। কারও কারও দাবি, গুলির পাশাপাশি গোলাও পড়েছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বিশ্বস্ত সূত্র বলেছে, ভারী অস্ত্রের একটি গুলি বিজিবি ক্যাম্পের খুব কাছে পড়েছে।
এর আগে ২ অক্টোবর বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্তে শূন্যরেখায় পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে নিহত হয় এক রোহিঙ্গা কিশোর। তার দুই মাস আগে থেকেই মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে তুমুল সংঘর্ষ চলছে। সীমান্তের ওপারে বিদ্রোহীদের সঙ্গে দেশটির বাহিনীর এই সংঘর্ষে মর্টারশেল, গোলাগুলিসহ নানা ভারী অস্ত্রের আওয়াজে এ-পারে বান্দরবানের ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু ও বাইশপারী এলাকার মানুষ দিন কাটাচ্ছে আতঙ্কে। গোলার আওয়াজ উখিয়া-টেকনাফ সীমান্ত এলাকায়ও শোনা যায়।
শুধু তা-ই নয়, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের পাহাড় থেকে ছোড়া মর্টারশেল বেশ কয়েকবার বাংলাদেশের ভূখণ্ডে এসে পড়েছে। দেশটির সামরিক বাহিনীর হেলিকপ্টার বেশ কয়েকবার আকাশসীমাও লঙ্ঘন করেছে। এ নিয়ে দফায় দফায় ঢাকায় মিয়ানমারের কূটনীতিককে তলব ও প্রতিবাদ জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি।
স্থানীয় সূত্র বলেছে, গত শুক্রবার রাত থেকেই বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির দৌছড়ি ইউনিয়নের বাহিরমাঠ এলাকার কাছে সীমান্ত পিলারের ঠিক ওপারে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বিজিপি ও সে দেশের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে প্রচণ্ড গোলাগুলি শুরু হয়েছে। গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাংলাদেশে একটি গুলি এসে পড়ে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, গুলির পাশাপাশি দুটো গোলাও পড়েছে সীমান্তের এ-পারে।
নাইক্ষ্যংছড়ির দৌছড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ইমরান দৈনিক বাংলাকে বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দৌছড়ির বাহিরমাঠে সীমান্ত পিলারের কাছাকাছি মিয়ানমার বাহিনী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে গোলাগুলি বেড়ে যায়। গুলি ও মর্টার শেলের বিকট শব্দে এ-পারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বলেন, ‘গোলাগুলি চলা অবস্থায় সীমান্তের এ-পারে ভারী অস্ত্রের গুলি এসে পড়েছে। সীমান্তে বসবাসরত ২০০ পরিবারকে নিরাপদ জায়গায় সরে যেতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ফলে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।’
স্থানীয় আব্দু শুক্কুর বলেন, ‘সকালে ধানখেতে কাজ করার সময় হঠাৎ মিয়ানমারে প্রচণ্ড গোলাগুলির আওয়াজ শুনতে পাই। ধানখেত থেকে সরে আসার পরপরই দুটি গোলা এসে পড়ে এ দেশের ভূখণ্ডে।’
এদিকে একটি বিশ্বস্ত সূত্র বলেছে, মিয়ানমার ভূখণ্ডে গোলাগুলিতে একটি ভারী অস্ত্রের গুলি লেমুছড়ি বিজিবি ক্যাম্পের প্রায় ৩০০ গজ দূরে এসে পড়েছে।
এ ব্যাপারে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার উপপরিদর্শক মিঠুন সিংহ বলেন, ‘একটি মামলা তদন্ত করতে সদর ইউনিয়নের ভালুকখায়া এলাকায় গিয়েছিলাম। সেখানে গোলাগুলির বিকট আওয়াজ শোনা গেছে।’
রাজধানীতে অপারেশন ‘ডেভিল হান্ট ফেইজ-২’ এর আওতায় গত একদিনে ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।
গুলশান, সূত্রাপুর, মোহাম্মদপুর, খিলগাঁও, পল্টন, কলাবাগান, যাত্রাবাড়ী, কদমতলী ও হাতিরঝিল থানায় এই অভিযান চালানো হয়। এর মধ্যে গুলশান থানা একজন, সূত্রাপুর থানা চারজন, মোহাম্মদপুর থানা একজন, খিলগাঁও থানা তিনজন, পল্টন থানা পাঁচজন, কলাবাগান থানা একজন, যাত্রাবাড়ী সাতজন, কদমতলী থানা তিনজন ও হাতিরঝিল থানা একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
গুলশান থানার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় অপারেশন ডেভিল হান্ট এর অংশ হিসেবে দিনব্যাপী অভিযান পরিচালনা করে একজনকে গ্রেপ্তার করে। তার নাম মো. ইব্রাহিম।
অপরদিকে সূত্রাপুর থানার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় অপারেশন ডেভিল হান্ট এর অংশ হিসেবে দিনব্যাপী অভিযান পরিচালনা করে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরা হলো- রাব্বি হাসান, মাসুম ইফাদ, মুন শিকদার ও সাগর দে।
মোহাম্মদপুর থানা সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় অপারেশন ডেভিল হান্ট এর অংশ হিসেবে দিনব্যাপী অভিযান পরিচালনা করে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার নাম কবির হোসেন ওরফে হুমায়ুন কবির ওরফে হুমা।
খিলগাঁও থানা সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় অপারেশন ডেভিল হান্ট এর অংশ হিসেবে দিনব্যাপী অভিযানে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরা হলো- ফজলে রাব্বী, সাইদুল ইসলাম ও মাহতিন ইসলাম শাকিল।
পল্টন থানার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় অপারেশন ডেভিল হান্ট এর অংশ হিসেবে দিনব্যাপী অভিযানে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরা হলো- মো. বিল্লাল হোসেন, রকি মিয়া, ইয়াছিন মিয়া, মোহাম্মদ আলী ও ইসমাইল হোসেন।
কলাবাগান থানার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় অভিযান চালিয়ে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার নাম মো. সেলিম ওরফে রহিম।
যাত্রাবাড়ী থানার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এআর হলো- গোলাম রাব্বী, নাসির খান ওরফে নাসির, সাজ্জাদ, মো. জালাল, হাসান আলী ওরফে আলম, রানা প্রধান ও রেনু বেগম।
কদমতলী থানার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরা হলো মো. অভি, মো. সালেহ আহাম্মেদ ফয়সাল ও মো. রনি।
এছাড়া হাতিরঝিল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করে। তার নাম হাসিব। সবাইকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
পাবনার বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবায় বাধা সৃষ্টি ও রোগীদের হয়রানির অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরেন মায়িশা খান এই অভিযান পরিচালনা করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, আটককৃত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের নির্দিষ্ট কোম্পানির ওষুধ লিখতে চাপ প্রয়োগ করে আসছিলেন। এছাড়া তারা রোগী ও চিকিৎসকদের মাঝে ‘মিডলম্যান’ বা দালাল হিসেবে কাজ করে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে প্রত্যক্ষভাবে বিঘ্ন ঘটাচ্ছিলেন।
অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিকে বাংলাদেশ দণ্ডবিধি আইন, ১৮৬০ এর ২৯১ ধারায় মোট ১২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরেন মায়িশা খান জানান, "অভিযুক্তদের পারিবারিক ও আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে জরিমানার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হবে না মর্মে দুইজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে মুচলেকা প্রদান করেছেন। জনস্বার্থে এবং হাসপাতালের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, ভবিষ্যতে একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে জনহয়রানিমূলক যেকোনো উপদ্রব বন্ধে উপজেলা প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে।
অভিযান চলাকালীন বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তাহমিনা সুলতানা নিলা, এবং বেড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিতাই চন্দ্র সরকার উপস্থিত ছিলেন।
সারাদেশব্যাপী কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে মাগুরায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন জেলা প্রশাসন, মাগুরার কর্মচারীরা।
সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচির আয়োজন করেন জেলা প্রশাসন, মাগুরার কর্মচারীরা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বর্তমান দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির কারণে কর্মচারীরা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এই পরিস্থিতিতে অবিলম্বে বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সর্বনিম্ন বেতন ৩৫ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা নির্ধারণ করে বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। তারা আরও দাবি জানান, ২০১৫ সালের পে-স্কেলের গেজেটে হরণকৃত তিনটি টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল, বেতন জ্যেষ্ঠতা রক্ষা, পেনশন প্রবর্তন এবং গ্রাচুইটির হার ৯০ শতাংশের পরিবর্তে ১০০ শতাংশ নির্ধারণ করতে হবে।
বক্তারা বলেন, পে-কমিশন যে প্রস্তাব সরকারে প্রেরণ করেছে, তা নির্বাচন পূর্বেই গেজেট আকারে প্রকাশ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় কর্মচারীরা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মো. সাকির আহমেদ, অমৃত কুমার বিশ্বাস, মো. শফিকুল ইসলাম, যুধিষ্ঠির বিশ্বাস, মো. মাসুম রেজা ও মো. নবীর হোসেন।
বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই ৯ম পে-স্কেলের গেজেট জারি না হলে সারাদেশব্যাপী কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
মানববন্ধন চলাকালে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।
কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস ও আশপাশের দোকানপাটে অভিযান চালিয়ে ২০ জন দালালকে আটক করেছে র্যাব। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে আটককৃতদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। পরে র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহ মোহাম্মদ জুবায়ের অভিযুক্তদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আটককৃতরা দোষ স্বীকার করায় এবং তাদের অপরাধের প্রকৃতি বিবেচনায় বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এই কর্মকর্তা বলেন, অভিযান চলাকালে এমনও দেখা গেছে, দালালরা আমাদের সিভিল ফোর্সের সদস্যদের কাছেও অর্থ দাবি করেছে। এভাবেই তারা দীর্ঘদিন ধরে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। এই অভিযানের ফলে পাসপোর্ট অফিসে জনভোগান্তি অনেকাংশে কমবে বলে আমরা আশা করছি।
তিনি আরও জানান, অভিযুক্তদের মধ্যে সর্বোচ্চ এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং সর্বনিম্ন সাত দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পাসপোর্ট অফিসের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্তে কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে, তিনি যেই হোন না কেন আইনের আওতায় আনা হবে।
দীর্ঘদিন ধরে দালালদের তৎপরতা ও সম্ভাব্য যোগসাজশের বিষয়টি নজরদারিতে ছিল বলেও জানান তিনি। গতকাল রোববার থেকে দালালদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
নরসিংদীর বেলাব উপজেলায় নিখোঁজের ৩ দিন পর ডোবা থেকে আজিমুল কাদের ভূঁইয়া (৪০) নামের এক সাবেক ছাত্রলীগ নেতার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে মুরগি বিক্রির চোরাই নগদ ৪ লাখ টাকা এবং নিহতের ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
গত শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাত এ তথ্য জানান নরসিংদী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মো. আবুল কায়েস আকন্দ। নিহত আজিমুল কাদের ভূঁইয়া ওই এলাকার মৃত মান্নান ভূঁইয়ার ছেলে। তিনি বেলাব উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বাজনাব ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পাশাপাশি তিনি একজন পোল্টি খামারের ব্যবসা করতেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, নেত্রকোনা জেলার মদন থানার ফতেপুর গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে প্রমন তালুকদার ওরফে প্রিমন (২১) এবং কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদি থানার কায়েস্থ পল্লী গ্রামের মৃত হেলাল উদ্দিনের ছেলে আবুল কালাম (৪৫)। গোয়েন্দা পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাতে আজিমুল কাদের ভূঁইয়া নিজ এলাকার পোলট্রি খামার থেকে বের হওয়ার পর তিনি নিখোঁজ হন। এরপর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। নিখোঁজের পরদিন ২৮ জানুয়ারি নিহতের ভাগিনা উমর ফারুক বাদী হয়ে বেলাব থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার বাজনাব ইউনিয়নের বীর বাঘবের গ্রামের একটি ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে এ ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তদন্তে নামে গোয়েন্দা পুলিশ। গত শুক্রবার দুপুরে ডিবির এসআই মোবারক হোসেনের নেতৃত্বে কিশোরগঞ্জ জেলার সদর থানার এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রমন তালুকদার ও আবুল কালামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের হেফাজত থেকে চোরাই মুরগি বিক্রির নগদ ৪ লাখ টাকা ও নিহত আজিমুল কাদের ভূঁইয়ার ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে নিখোঁজের প্রায় ১৫ দিন আগে পোলট্রি খামারে গ্রেপ্তারকৃত দুই শ্রমিক নিয়োগ দিয়েছিলেন আজীমুল। আজীমুল নিখোঁজের পর থেকে প্রমন তালুকদার ও আবুল কালাম লাপাত্তা ছিল। পাশাপাশি খামারের সব মুরগিও উধাও হয়ে গিয়ে ছিল। নরসিংদী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মো. আবুল কায়েস আকন্দ বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, খামারের মুরগি বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ করতেই আজীমুলকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা দুজনকে গ্রেপ্তার করে বেলাব থানায় হস্তান্তর করেছি। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সপ্তাহের ব্যবধানে খুলনার বাজারে কমেছে সবজির দাম। মাছের বাজারও রয়েছে স্থিতিশীল। তবে গত সপ্তাহ থেকে বেড়েছে মুরগিরর দাম। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) খুলনার নিউ মার্কেট বাজার, রূপসা বাজার ও মিস্ত্রিপাড়া বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সবজির বাজার ঘুরে দেখা যায়, পালংশাক ২০ টাকা, ফুলকপি ২৫-৩০ টাকা কেজি, লাউ ৩০ টাকা প্রতি পিস, কুমড়া ৪০ টাকা কেজি, ঢ্যাঁড়স ৪০-৫০ টাকা, টমেটো ৬০-৮০ টাকা কেজি, শিম ২০-৩০ টাকা কেজি, কাঁচামরিচ দাম কমে ৫০-৬০ টাকা কেজিতে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে পেঁয়াজ ৭০-৮০ টাকা দরে এবং রসুন ৭০-৮০ টাকা কেজি দরে এবং আলু ১৮-২৩ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে ব্রয়লার মুরগি ১৭০-১৮০ টাকা কেজি দরে, সোনালি ২৩০ টাকা কেজি দরে ও লেয়ার ২২০-২৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৭৫০ টাকা কেজি দরে এবং খাসির মাংস ১১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারে রুই আকারভেদে ২২০-২৫০ টাকা, ভেটকি মাছ আকারভেদে ৫০০-৬০০ টাকা কেজি, চিংড়ি ৫০০-৮০০ টাকা পর্যন্ত কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তেলাপিয়া ১৩০-১৬০ টাকা, পাবদা ৩০০-৩৫০ টাকা দরে, পাঙাশ ১৬০-১৮০ টাকা, কাতল ২৪০-২৫০ টাকা কেজি এবং ছোট মাছ ৩০০-৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারের খুচরা সবজি ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে গত সপ্তাহ থেকে সবজির সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়াতে দাম কমেছে। কাঁচামরিচ, সিম, ফুলকপির দাম আবারো কমে গেছে। আলু, পেঁয়াজ ও রসুনের দামও কয়েক দফা কমেছে।
মুরগি ব্যবসায়ী সত্তার মিয়া বলেন, গত সপ্তাহ থেকে মুরগীর কেজিতে ১০-১৫ টাকা বেড়েছে। মুরগি বেশি দামে কিনতে হচ্ছে পাইকারি, এ জন্য বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। আমরা খুচরা বিক্রি করি সামান্য লাভে। আমাদের হাতে দাম নিয়ন্ত্রনের কোন বিষয় নেই।
নিউ মার্কেট বাজারে আসা লিপু শিকদার বলেন, বাজারে সবজি ও মাছের দাম অনেক কম রয়েছে। বাড়তি দাম না থাকায় অনেকটা স্বাভাবিক রয়েছে বাজার। কিন্তু মাংসের দাম কিছুটা বেড়েছে।
অন্য একজন ক্রেতা বেলাল হাওলাদার বলেন, বাজারে এ সপ্তাহে ২০-২৫ টাকায় অনেক সবজি পাওয়া যাচ্ছে। গত সপ্তাহে দাম কিছুটা বাড়তি পেয়েছি। বিশেষ করে শীতকালীন সবজির দাম অনেকটা কমেছে।
খুচরা বিক্রেতা কামাল বলেন, ৩০-৪০ টাকার মধ্যেই বেশিরভাগ সবজি পাওয়া যাচ্ছে। আগে অনেক সবজির দাম ৬০-৭০ টাকায় উঠেছিল। সরবরাহ বাড়ায় তখন দাম কমেছিল।
খুচরা সবজি বিক্রেতারা জানান, শীতকালীন সবজির সরবরাহ বেশি থাকায় দামে একটু কম। সামনে আর বেশি দাম কমার সম্ভাবনা কম বলেও তারা মনে করছেন।
গল্লামারি বাজারে আসা ক্রেতা মামুন হোসেন বলেন, গত সপ্তাহের চেয়ে এ সপ্তাহে সবজির দাম অনেকটা কম। এ সপ্তাহে আবার কেজিতে ৫-১০ টাকা কমেছে। তেবে, মুরগির দামও কিছুটা বেড়েছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ উপলক্ষে ঠাকুরগাঁও জেলার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের উদ্যোগে গণমাধ্যমে অপসাংবাদিকতা প্রতিরোধ ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ঠাকুরগাঁও সার্কিট হাউসের কনফারেন্স রুমে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা। বক্তব্যে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আব্দুল হামিদ বলেন।
সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা যেমন একটি মৌলিক অধিকার, তেমনি তা আইনের মধ্যেই চর্চা করতে হবে। অধিকার ও আইনের সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নিশ্চিত করা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রেস কাউন্সিলের সচিব আব্দুস সবুর এবং ঠাকুরগাঁও জেলার পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, তথ্য অফিসার শাহাজান মিয়া। কর্মশালায় ঠাকুরগাঁও জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সাংবাদিকরা আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।
বৈষম্য মুক্ত নবম পে-স্কেল এর গেজেট ঘোষণার দাবিতে বাগেরহাটে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ করেছে বিচার বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের কর্মচারীরা। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। আজ সোমবার ও কাল মঙ্গলবারও একই কর্মসূচি পালন করা হবে।
আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, সরকারি কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলন করে আসছেন। এ লক্ষ্যে সরকার একটি কমিশন গঠন করে, যে কমিশনের রিপোর্ট সরকারের হাতে ইতোমধ্যে চলে এসেছে। কিন্তু গেজেট প্রকাশের গড়িমসির কারণে এবং সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টা যখন বলেছেন, এই সরকার কমিশন বাস্তবায়ন করবে না, তখন ক্ষোভের আগুনে জ্বলে উঠেছেন সরকারি কর্মচারীরা।
এ কর্মবিরতির কারণে জনগণ ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হন। এ বিষয়ে কর্মচারীরা বলছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করেছেন। কিন্তু সরকার তাদের পেটের ক্ষুধা নিবারণের জন্য ন্যূনতম বেতনটুকু যদি না দেয়, তাহলে তারা কতদিন আর ধৈর্য ধারণ করবেন? তাই বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমেছেন বলে জানিয়েছেন।
সরকার দাবি বাস্তবায়ন করলে সাথে সাথে কাজে ফিরে যাবেন বলে তারা জানিয়েছেন। মৌলিক চাহিদা পূরণের ন্যূনতম বেতন দেওয়ার জন্য তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, গত ৩০ জানুয়ারি ‘বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের’ পক্ষ থেকে ১ থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩ দিন দুই ঘণ্টা করে অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এর মধ্যে দাবি আদায় না হলে ৬ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখী ভুখা মিছিল করার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তৃতা করেন বিচার বিভাগ কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অমিত রায়, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন, দপ্তর সম্পাদক ইমতিয়াজ শাওন, প্রচার সম্পাদক মতিউর রহমান, মিজানুর রহমান মুকুল ও কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফিরোজুল ইসলাম, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মারুফুর রহমান, হাবিবুর রহমান। এ সযয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মচারী এই বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দেয়।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, দেশীয় শুটার গান ও গুলিসহ পদ্মার চরের শীর্ষ সন্ত্রাসী রাখী বাহিনির এক সদস্যকে আটক করা হয়েছে।
আটক যুবকের নাম আজিজুল ইসলাম (৩০)। তিনি দৌলতপুর থানার ইসলামপুর গ্রামের তায়েজ উদ্দিনের ছেলে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ভোররাতে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর অধীন বাগোয়ান বেস ক্যাম্পের একটি টহল দল এ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের আবেদের ঘাট এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
বিজিবি সূত্র জানায়, সন্দেহভাজন হিসেবে আজিজুল ইসলামকে আটক করার পর তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড গুলি এবং একটি দেশীয় শুটার গান উদ্ধার করা হয়। আটক আসামি ও উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্র আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দৌলতপুর থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দৌলতপুরের সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে তিন প্লাটুন বিজিবি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র চোরাচালান রোধে বিজিবি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
দৌলতপুর থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, আটক যুবককে রাতেই থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি।
উল্লেখ্য, গেল জানুয়ারি মাসে দৌলতপুরের বিভিন্ন এলাকায় বিজিবি, পুলিশ ও র্যাবের যৌথ অভিযানে মোট সাতটি আগ্নেয়াস্ত্র, ১৪ রাউন্ড গুলি, ১০টি ম্যাগাজিন ও একটি এয়ারগান উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে বিজিবি চারটি বিদেশি পিস্তল, আট রাউন্ড গুলি এবং আটটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করেছে।
গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় ইলিয়াস (২৫) নামের এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বাহাদুরসাদী ইউনিয়নের কোরুইল্লার টেক ব্রিজ এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত ইলিয়াস জামালপুর ইউনিয়নের ছৈলাদি এলাকার শরীফের ছেলে। তিনি পেশায় একজন দিনমজুর ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাহাদুরসাদী ইউনিয়নের দক্ষিণভাগ থেকে ছৈলাদি সড়কের কোরুইল্লার টেক ব্রিজের নিচে পানিতে একটি লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, নিহত ইলিয়াস এলাকায় বখাটে যুবকদের সঙ্গে মেলামেশা করতেন এবং মাদক সেবনের অভিযোগ রয়েছে। গত শনিবার রাতে একই সড়কে দালান বাজারের এক তেল ব্যবসায়ী দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন। দক্ষিণভাগ এলাকার নাসির কাজীর ছেলে হানিফ কাজী বাড়ি ফেরার পথে একদল দুর্বৃত্ত তার ওপর হামলা চালায়। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে প্রাণ রক্ষা করতে সক্ষম হন।
তবে ওই হামলার ঘটনায় দুর্বৃত্তদের দলে নিহত ইলিয়াস ছিলেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয়দের ধারণা, ইলিয়াসও হয়তো দুর্বৃত্তদের হাতে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে থাকতে পারেন।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ওসি মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। দ্রুতই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।
নেত্রকোনা সদর থানাদিন পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের থানার মোড় ব্রিজ সংলগ্ন নাগড়া এলাকায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)-এর ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক খুঁটির টানার তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একটি অন্তঃসত্ত্বা গাভির মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি এলাকাজুড়ে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। নিহত গাভিটির মালিক পিন্টু চৌধুরী জানান, প্রতিদিনের ন্যায় গাভিটিকে ঘাস খাওয়ার জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়।
গত শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে গাভিটি গোয়ালঘরে ফিরে না আসায়, পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। তবে দীর্ঘ সময় অনুসন্ধানের পরও গাভিটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে আজ ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখ সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে স্থানীয় কয়েকজন পথচারী থানার মোড় ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় একটি গাছের সঙ্গে বাঁধা পিডিবির বিদ্যুৎ খুঁটির টানার তারের সঙ্গে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট অবস্থায় গাভিটিকে মৃত দেখতে পান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, টানার তারটি একটি গাছের সঙ্গে বাঁধা ছিল এবং সেখানে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হচ্ছিল।
এ বিষয়ে পিডিবির একজন কর্মকর্তা জানান, বিদ্যুৎ খুঁটির পিলার থেকে লিকেজ হয়ে টানার তারে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হচ্ছিল, যার ফলে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। গাভিটির মালিক আরও জানান, নিহত অন্তঃসত্ত্বা গাভিটির আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এতে তিনি মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। ঘটনাটি এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—পিডিবির এই ধরনের অবহেলার কারণে যদি কোনো মানুষ, বিশেষ করে কোনো শিশু প্রাণ হারাত, তবে এর দায়ভার কে নিত? সর্বমহল থেকে দাবি জানানো হয়েছে, পিডিবির সকল ত্রুটিপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক তার দ্রুত সংস্কার করে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত গাভির মালিককে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক।
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব দুবাইভিত্তিক বিদেশি অপারেটর ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’-কে হস্তান্তরের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে দ্বিতীয় দিনের মতো উত্তাল রয়েছে বন্দর এলাকা। ‘বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’-এর ডাকে আজ রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া ৮ ঘণ্টার এই কর্মবিরতির ফলে দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রমে নজিরবিহীন অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। জেটিগুলোতে কনটেইনার ও খোলা পণ্য ওঠানামা বন্ধ থাকার পাশাপাশি বন্দর থেকে পণ্য ডেলিভারি নেওয়ার কার্যক্রমও পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ধর্মঘটের কারণে বন্দরের বিভিন্ন জেটিতে জাহাজ থেকে মালামাল খালাসের কাজ বন্ধ রেখেছেন শ্রমিকরা। বন্দরের ভেতরে পণ্য পরিবহনের জন্য নিয়োজিত কোনো কভার্ড ভ্যান, লরি কিংবা ট্রেলার প্রবেশ করতে পারছে না। জেটিগুলোতে কোনো শ্রমিকের দেখা মিলছে না, যার ফলে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বার্থ অপারেটরদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজ কোনো জেটিতে কাজ করার জন্য শ্রমিক বুকিং দেওয়া সম্ভব হয়নি, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে জাতীয় সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর।
আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও শ্রমিক দল নেতা হুমায়ুন কবির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, শ্রমিক-কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই কর্মবিরতি পালন করছেন। এনসিটির মতো একটি লাভজনক টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেশ ও শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী। তিনি জানান, সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে এবং বিকেলে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হতে পারে। তবে আইনি ব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আজ কোনো ধরনের মিছিল বা প্রকাশ্য সমাবেশ করা হচ্ছে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে, শ্রমিকদের এই অনড় অবস্থানের বিপরীতে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। প্রথম দিনের ধর্মঘটের প্রেক্ষাপটে আন্দোলনের সাথে যুক্ত চারজন কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বদলি করা হয়েছে। পাশাপাশি এই কর্মবিরতির ফলে সরকারের কী পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে, তা নিরূপণে ছয় সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বন্দর প্রশাসন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, আদালতের নির্দেশনা ও সরকারি সিদ্ধান্ত অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে আরও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) কর্তৃপক্ষও বিশেষ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। শনিবার রাত ১২টা থেকে পরবর্তী এক মাসের জন্য বন্দর ও এর আশপাশের এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল এবং জমায়েত নিষিদ্ধ করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। পুলিশের এই নিষেধাজ্ঞার কারণে আজ আন্দোলনকারীরা বন্দরে কাজের বিরতি দিলেও কোনো প্রকাশ্য মহড়া পরিচালনা করেনি। প্রশাসনের এমন মারমুখী অবস্থানে শ্রমিক মহলে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিকেলে সংগ্রাম পরিষদের পরবর্তী ঘোষণার ওপরই এখন নির্ভর করছে বন্দরের আগামীর কর্মচঞ্চলতা। মূলত এনসিটি লিজ ইস্যুকে কেন্দ্র করে সরকার ও শ্রমিকদের মধ্যকার এই সংঘাত বড় ধরনের অর্থনৈতিক ঝুঁকির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বাংলাদেশে যে কথা কেউ সাহস করে বলে না, সংসদে গিয়ে সেই সত্য কথাই বলতে চান বলে মন্তব্য করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান।
শনিবার বিকেলে মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নে বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। তফসিল ঘোষণার পর এটি ছিল তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা।
পথসভায় ফজলুর রহমান বলেন, “সংসদে যাওয়ার অর্থ হলো সত্য কথা বলার একটি বাতি সবসময় জ্বালিয়ে রাখা।” ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রামের মানুষ তাঁকে ভোট দিলে তিনি নিজেকে গৌরবান্বিত মনে করবেন বলে উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, উত্তরে ধনপুর থেকে দক্ষিণে বাঙালপাড়া পর্যন্ত প্রায় ৬০ কিলোমিটার বিস্তৃত হাওরাঞ্চলকে একটি ‘সোনার সংসার’ হিসেবে গড়ে তুলতে চান।
এর আগে গত ২২ জানুয়ারি ভৈরবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জনসভায় যোগ দিতে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন ফজলুর রহমান। সেদিন তাঁকে বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৪ জানুয়ারি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অসুস্থতার কারণে তিনি এতদিন নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারেননি। সুস্থ হয়ে শনিবার ঢাকা থেকে সরাসরি পথসভায় যোগ দেন তিনি।
সভায় বক্তব্যে ফজলুর রহমান সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, দেশের প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশকে ‘চোর-বাটপারের দেশ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা লজ্জাজনক। তিনি বলেন, “ঘরের মালিক যদি নিজের সন্তানদের চোর বলে, সেটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।”
তিনি ভোটারদের উদ্দেশে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জামায়াত কিন্তু দুই নম্বর দল। এই পৃথিবীতে একটি মাত্র মুনাফেকের দল আছে, যারা ইসলামের নাম ব্যবহার করে, তাদের নাম জামায়াত।”
হেফাজতে ইসলামের আমিরের একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, “হেফাজত ইসলামের আমির বলেছেন, কাফের ক্ষমতায় গেলে ইসলাম আবার ফিরে আসতে পারে, কিন্তু জামায়াত ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশে আর ইসলাম ফিরে আসবে না।”
নিজের বয়সের প্রসঙ্গ টেনে ফজলুর রহমান বলেন, তাঁর বয়স এখন ৭৮ বছর। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আর কোনো মুক্তিযোদ্ধার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। ভোটাররা চাইলে তাঁর জীবনের শেষ সময়ে একজন মুক্তিযোদ্ধাকে ভোট দিয়ে সম্মানিত করতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ঘাগড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নাজমুল হাসান ভূঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য দেন ফজলুর রহমানের সহধর্মিণী অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম রেখা, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক মো. ইব্রাহিম, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আফতাব উদ্দিন ভূঞা, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল্লাহ মিয়া, বিএনপি নেতা আলমগীর সিকদার, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন রুবেল, মিঠামইন বণিক সমিতির সভাপতি শাহীরিল আলম তপন, ঘাগড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব মিয়াসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।