মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিপি) সঙ্গে সেদেশের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) সংঘাতের কারণে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে ৫৫ পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা চৌকির দখল নিয়ে আরাকান আর্মির সঙ্গে বিজিপির সংঘর্ষের কারণে প্রচণ্ড গোলাগুলির শব্দে সীমান্ত এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
আজ রোববার সকাল পর্যন্ত নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়ন থেকে ৩০টি এবং দৌছড়ি ইউনিয়ন থেকে ২৫টি পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
একাধিক সূত্র জানায়, বিজিপির সঙ্গে আরাকান আর্মির সংঘর্ষের ধারাবাহিকতায় নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের ৪৩ থেকে ৫০ পিলারজুড়ে গতকাল শনিবার গভীর রাতে দফায় দফায় ভারী অস্ত্রের বিকট শব্দ ভেসে আসছিল। এর মধ্যে মর্টারের গোলার আওয়াজও শোনা যায়। সেই বিকট শব্দে প্রকম্পিত হতে থাকে সীমানার এপাশের জনপদ। এতে বাংলাদেশ সীমানার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আজ রোববার ভোরেও সীমান্তের ওপার থেকে ফের গোলাগুলির শব্দ ভেসে আসে। তবে বিকেলের দিকে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।
নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের ৪৪ পিলার এলাকার বাসিন্দা আবদুর রহমান ও মোহাম্মাদ হাশেম জানান, শনিবারের গোলাগুলির ঘটনার পর আশপাশের অনেক পরিবার গবাদি পশুসহ পালিয়ে দূরের স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। তবে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ সীমানায় কোনো হতাহতের খবর মেলেনি।
নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূরুল আবছার ইমন বলেন, গত শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার পর থেকে মিয়ানমার সীমান্তের অভ্যন্তরে তাদের বিদ্রোহী গ্রুপের সঙ্গে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যকার চৌকি দখল নিয়ে প্রচণ্ড গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। পরক্ষণে বেশ কয়েকটা গুলি আমাদের ভূখণ্ডে এসে পড়লে সীমান্তে বসবাসরত ৩০টি পরিবারকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে আসি।
দৌছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ইমরান বলেন, গত শনিবার দুপুরে সীমান্ত পরিস্থিতি খারাপ হলে তখন বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের (বিজিবি) সহযোগিতায় কাছাকাছি এলাকায় বসবাসরত ২৫টি পরিবারের লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা হয়।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীসহ নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘাতে লিপ্ত আরাকান আর্মি (এএ)। এই সংঘাতে বিজিপি নিজেদের নিরাপত্তা চৌকি ছেড়ে পিছু হটেছিল। তবে গত শনিবার তারা সেই চৌকি পুনর্দখলের লড়াই শুরু করে। আগামী কয়েকদিনে এ নিয়ে সংঘাত আরও মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।
৪৫ নম্বর পিলার এলাকার ইউপি মেম্বার ছাবের আহমদ জানান, তার এলাকার ওপারে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর সীমান্ত চৌকি পুনর্দখলে নিয়ে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে বলে তিনি ধারণা করছেন।
৫০ নম্বর পিলার এলাকার বাসিন্দা রাসেল বলেন, শনিবার দুপুরে অনেক গোলাগুলি হয়েছে সীমান্ত ওপারে। বেশ কয়েকটি গুলি আমাদের ভূখণ্ডে এসে পড়েছে। কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে সেখানে কিছু একটা হচ্ছে।
এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালমা ফেরদৌস বলেন, সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার অংশে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। আতঙ্কিত কিছু লোক সীমান্ত থেকে পালিয়ে আসার খবর পেয়ে তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয় শিবির খোলা হয়েছে।
একটি সূত্র জানায়, বিজিবি নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সতর্কাবস্থায় রয়েছে এবং সীমান্তে টহলও জোরদার করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম নগরের বানৌজা ঈসা খান সংলগ্ন বন্দরটিলা এলাকায় নবনির্মিত বাংলাদেশ নৌবাহিনী মেডিকেল কলেজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান। চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকায় অবস্থিত আধুনিক এ মেডিকেল কলেজটি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে গড়ে ওঠা একটি চিকিৎসাবিষয়ক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যা আধুনিক অবকাঠামো ও উন্নত প্রশিক্ষণ সুবিধার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) নীতিমালা ও মানদণ্ড অনুসরণ করে ইতোমধ্যে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে চলতি শিক্ষাবর্ষে ৫০ জন বেসামরিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ৫ বছর মেয়াদি চিকিৎসা শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হলো।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নৌবাহিনী প্রধান বলেন, চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলে আধুনিক চিকিৎসাবিষয়ক শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণের সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠিত এ মেডিকেল কলেজ স্বাস্থ্যখাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।
দক্ষ, নৈতিক ও পেশাদার চিকিৎসক তৈরির মাধ্যমে এটি সশস্ত্র বাহিনীর চিকিৎসা সক্ষমতা বাড়াবে এবং একইসঙ্গে দেশের সাধারণ জনগণের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
নেভি মেডিকেল কলেজের মূল লক্ষ্য হলো স্বাস্থ্যখাতের জন্য দক্ষ চিকিৎসক তৈরি করা, যারা সমাজের সব স্তরে সব পরিস্থিতিতে কার্যকর চিকিৎসা দিতে সক্ষম হবে। পাশাপাশি দুর্যোগকালীন চিকিৎসা এবং সংক্রামক রোগ ব্যবস্থাপনায় গবেষণা ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
এর মাধ্যমে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় স্বনির্ভরতা অর্জন এবং উপকূলীয় দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলে চিকিৎসাসেবায় দক্ষ জনবল গড়ে তোলা হবে।
প্রতিষ্ঠানটিতে আধুনিক ল্যাবরেটরি, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, উন্নত শ্রেণিকক্ষ এবং অভিজ্ঞ শিক্ষকমণ্ডলীর সমন্বয়ে মানসম্মত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের সুদক্ষ শিক্ষক ও প্রশিক্ষিত জনবল দ্বারা একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
এ কার্যক্রমে নৌবাহিনীর সংশ্লিষ্ট সদস্যদের শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের সমন্বয়ে পরিচালিত নেভি মেডিকেল কলেজ, চট্টগ্রাম দেশের স্বাস্থ্যখাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।
দেশের জ্বালানি জগতের প্রথিতযশা ব্যক্তিত্ব ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) প্রাক্তন শীর্ষ কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার এম এ ওয়াদুদ খান আর নেই। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে ‘হজকিন লিম্ফোমায়’ ভুগছিলেন।
ইঞ্জিনিয়ার এম এ ওয়াদুদ খান তাঁর দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে সততা, অসামান্য দক্ষতা এবং বলিষ্ঠ নেতৃত্বের জন্য সর্বমহলে সমাদৃত ছিলেন। তিনি ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড, পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড, যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড, মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড এবং এলপি গ্যাস কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিপিসির অধীনে থাকা গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ পদে থেকে তিনি দেশের জ্বালানি খাতের উন্নয়নে অনবদ্য ভূমিকা রেখে গেছেন। তাঁর সহকর্মী ও পরিচিতজনদের কাছে তিনি একজন পরোপকারী ও অত্যন্ত মানবিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই কন্যা, জামাতা এবং তিন নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। পারিবারিক সূত্রে জানানো হয়েছে যে, মরহুমের নামাজে জানাজা আগামী বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বাদ আসর রাজবাড়ীতে অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে তাঁকে রাজবাড়ীতেই অবস্থিত পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে। স্বজনরা তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় দেশবাসীর নিকট দোয়া প্রার্থনা করেছেন। এম এ ওয়াদুদ খানের প্রয়াণ দেশের জ্বালানি খাতের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
সংসারের কিছু জিনিস বিক্রি করে ও বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে গরুগুলো লালন পালন করছিল জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার সীমান্তবর্তী ভীমপুর গ্রামের আফজাল হোসেন। সেই আফজাল হোসেনের গোয়াল ঘরের সিঁধ কেটে চারটি গরু চুরি হয়েছে।
গত মঙ্গলবার গভীর রাতে ইটের তৈরি গোয়াল ঘরের দেওয়াল ভেঙে বিদেশি জাতের তিনটি গাভী ও একটি বাছুর চুরি করে নিয়ে যায় চোর চক্র।
আফজাল হোসেনের বড় ভাই বলেন, ‘প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে রাত ৩টার সময় ঘুম ভেঙে যায়। টিউবওয়েলে যেতেই দেখতে পাই গোয়াল ঘরের দেওয়াল অনেক খানি ভাঙা এবং গোয়ালে একটি গরুও নেই। এ সময় বাড়ির সকলকে ঘুম থেকে জাগায় ও গরু চুরি হয়ে যাওয়ার বিষয়টি অবগত করি।’
আফজাল হোসেন বলেন, ‘রাতে যখন ঝড়বৃষ্টি হচ্ছিল তখন বাড়ির বারান্দায় বসেই ছিলাম। ঝড়বৃষ্টি থেমে গেলে ঘুমিয়ে পড়লে চোরচক্র এ সময় হয়তো আমার গোয়াল ঘরের দেওয়াল ভেঙে গরু চারটি চুরি করে নিয়ে যায়। গরু ৪টির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৭ লাখ টাকা। গরুগুলো চুরি হওয়ায় আমার সংসারের অনেক ক্ষতি হয়ে গেল।’
গরু চুরির বিষয়টি নিশ্চিত করে পাঁচবিবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজ মো. রায়হান বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনো কেউ অভিযোগ করে নাই। তবে, চুরি হওয়া গরু উদ্ধারে চেষ্টা চলছে।’
জীবননগর উপজেলায় দিগন্ত জুড়ে ফসলের মাঠ ভরে আছে পাকা ধানে। বোরো ধান পেকে সোনালী রং ধারন করেছে। ধানের ফলন ভালো হলেও বৈরী আবহাওয়ায় পাকা ধান কাটা, মাড়ায় করা ও শুকানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চাষিরা।
মাঠের অধিকাংশ ধান কাটার উপযুক্ত হলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে ধান কাটতে পারছেন না কৃষক। যেসকল কৃষক ধান কেটে রেখেছেন তারাও আছেন দুশ্চিন্তায়। জীবননগর উপজেলার উথলী ইউনিয়নে সম্প্রতি ঝড়-বৃষ্টিতে বোরোধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সরজমিনে মাঠে গিয়ে দেখা গেছে ঝড়ে পাকা ধান গাছ মাটিতে নুইয়ে পড়েছে। নিচু জমিতে কেটে রাখা ধান পানিতে ভাসছে। অনেকেই কেটে রাখা ধানের শীষের আগা কেটে নিয়ে যাচ্ছে।
উথলী গ্রামের ধানচাষি শুকুর আলী জানায়, দুইদিন আগে প্রচণ্ড রোদ দেখে ধান কেটে রেখেছিলাম। এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আবহাওয়ার খবরে জানতে পারছি এমন আবহাওয়া আরও কয়েকদিন থাকবে। তাই কেটে রাখা ধানের আগা কেটে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছি। এতে উৎপাদন খরচ বেশি হয়ে যাচ্ছে।
সাজ্জাদ হোসেন নামের আরেক চাষি বলেন, মাঠের ধান পেকে কাটার উপযুক্ত হয়ে গেছে। কিন্তু আবহাওয়া খারাপ থাকার কারনে কাটতে পরছিনা। ধান বেশি পেকে গেলে ঝরে পড়ে যায় ও ফলন অনেক কম হয়। এদের মত অনেক চাষি বৈরী আবহাওয়ার কারণে মাঠে পাকা ধান রেখে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। আকাশে মেঘ দেখা দিলে চাষিদের কপালে পড়ছে চিন্তার ভাজ।
জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানায়, এ বছর উপজেলায় মোট ৭ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। এখনো ধান কাটার কাজ পুরোদমে শুরু হয়নি। ৮০ শতাংশ ধান পেকে গেলে কেটে ফেলার জন্য বলা হয়েছে।
তবে বৈরী আবহাওয়ার কারনে কৃষকদের ধান কাটা ও মাড়ায় করতে অসুবিধা হচ্ছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস সম্পর্কে তথ্য দিয়ে কৃষকদের সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করা হচ্ছে।
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একই পরিবারের সাতজনকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে উপজেলার আমুচিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ সর্দার পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন- সদীপ সর্দার (৫০), পূর্ণিমা সর্দার (৪৮), নিলয় সর্দার (১৭), দীপন সর্দার (২৬), চুমকি সর্দার (৩৪), সুজন সর্দার (৩৭) ও খোকন সর্দার (৩৭)।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জায়গা-সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সদীপ সর্দারের সঙ্গে তার ভাই সুধীর সর্দারের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সুধীর সর্দার, তার স্ত্রী পলি সর্দার ও ভাতিজা রিপন সর্দার ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাদের আহত করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা রুপন সর্দার বলেন, ‘এক ভাইয়ের ঘরের চালা থেকে বৃষ্টির পানি অন্য ভাইয়ের ঘরে পড়া নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার বিপ্লব চৌধুরী জানান, আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় মোতালেব হোসেন (৫৫) নামের এক কৃষককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার মঠবাড়ী ইউনিয়নের রায়মনি বামনাখালী মধ্যপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মোতালেব ওই এলাকার মৃত সাইফুল্লাহর ছেলে।
নিহতের সঙ্গে থাকা বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও মুঠোফোন অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে, যা হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি করেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) মাগরিবের নামাজের আগে নিজের চাষকৃত ধান ক্ষেত দেখতে বাড়ি থেকে বের হন মোতালেব হোসেন। পরে ধান ক্ষেতে তার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখতে পান তার স্বজনরা। রাত ৮টা ২৪ মিনিটে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
নিহতের ছেলে আলী হোসেন জানান, বাবা প্রতিদিনই জমি দেখতে যেতেন। এদিনও গিয়েছিলেন; কিন্তু ফিরেছেন লাশ হয়ে। ঘাতকরা আমার বাবাকে কুপিয়ে হত্যা করলেও তার কোমরে থাকা কাপড়ের থলেতে রাখা ৩৮ হাজার ৬৪৫ টাকা এবং মোবাইল ফোনটি নেয়নি। সবকিছু মরদেহের পাশেই পড়ে ছিল।’
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, নিহতের ঘাড়, মাথা ও হাতের আঙুলে ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অপরাধীদের শনাক্ত এবং এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে ত্রিশাল থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিবি পুলিশ কাজ শুরু করেছে।
ত্রিশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সবুজ জানান, এ ঘটনায় নিহতের ছেলে আলী হোসেন বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে ‘নতুন কুঁড়ি’ খেলোয়াড় বাছাই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) বেলা ১১টায় দেবীগঞ্জ মিনি স্টেডিয়াম মাঠে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত প্রতিভাবান শিশু-কিশোররা এতে অংশগ্রহণ করে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবুজ কুমার বসাক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ বীন জিয়া, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল গনী বসুনিয়া, দেবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন কবির রাজু বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ক্রীড়াবিদরা।
আয়োজকরা জানান, খেলাধুলার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের প্রতিভা বিকাশ ও তাদের সুস্থ ধারায় গড়ে তুলতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বক্তারা বলেন, ‘এ ধরনের আয়োজন তরুণদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রেখে ক্রীড়ামুখী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে জংশন স্টেশনে এক রোমহর্ষক ও অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী হলেন শত শত যাত্রী। চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে যাওয়া সন্তানকে বাঁচাতে নিচে ঝাঁপিয়ে পড়েন বাবা। ট্রেনের আটটি বগি তাদের ওপর দিয়ে চলে গেলেও অলৌকিকভাবে অক্ষত রয়েছেন বাবা ও শিশু সন্তান।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে ভৈরব রেলওয়ে জংশনের ১নং প্ল্যাটফর্মে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে ওই ব্যক্তির বাড়ি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুরি গ্রামের ওরিয়াদর বাজারে বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা অভিমুখী ‘তিতাস কমিউটার’ ট্রেনটি ভৈরব স্টেশনে যাত্রাবিরতি শেষে ছেড়ে দিচ্ছিল। এ সময় এক দম্পতি তাদের এক বছরের শিশু সন্তান নিয়ে চলন্ত ট্রেন থেকে নামার চেষ্টা করেন। নামার মুহূর্তে বাবার হাত ফসকে শিশুটি ট্রেনের নিচে পড়ে যায়। চোখের সামনে সন্তান ট্রেনের নিচে পড়ে গেলে মুহূর্তের সিদ্ধান্তে বাবাও ট্রেন থেকে নিচে লাফ দেন। সন্তানকে বুকে জড়িয়ে নিয়ে তিনি প্ল্যাটফর্মের পাশঘেঁষে নিথর হয়ে শুয়ে পড়েন। একের পর এক ট্রেনের আটটি বগি তাদের ওপর দিয়ে চলে যায়। প্লাটফর্মে থাকা যাত্রীরা তখন ভয়ে ও আতঙ্কে চিৎকার শুরু করেন।
ট্রেনটি পুরোপুরি চলে যাওয়ার পর উপস্থিত জনতা দেখতে পান, বাবা ও ছেলে দুজনই অক্ষত অবস্থায় পড়ে আছেন। শরীরে সামান্য আঁচড় লাগলেও বড় কোনো আঘাত ছাড়াই তারা বেঁচে ফেরেন। এই দৃশ্য দেখে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা একে সৃষ্টিকর্তার অলৌকিক দান বলে অভিহিত করেছেন।
উপস্থিত একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম বাবা-ছেলে কেউই আর বেঁচে নেই। কিন্তু ট্রেন যাওয়ার পর যখন দেখলাম তারা নড়াচড়া করছেন, বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। এটি সত্যি মিরাকল!’
এ বিষয়ে ভৈরব রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাঈদ আহমেদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, ‘চলন্ত ট্রেনে ওঠানামা করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং আইনত দণ্ডনীয়। সামান্য অসচেতনতা বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটাতে পারত।’ যাত্রীদের প্রতি অনুরোধ, নিরাপদ ভ্রমণের জন্য সর্বদা সতর্ক থাকুন এবং রেললাইন পারাপারে ওভারব্রিজ ব্যবহার করার জন্য বলেন তিনি।
ঢাকা-কুয়াকাটা আঞ্চলিক মহাসড়ক আমতলীর কল্যাণপুর নামক স্থানে একটি অজ্ঞাত বাস মোটরসাইকেলটিকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মো. নুরুল আমিন (৪৭) নিহত হয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে।
নিহত বিমান বাহিনীর সদস্য মোটরসাইকেল আরোহী নুরুল আমিন বরগুনা সদর উপজেলার জেলখানা এলাকার আবুল কালাম মেলকারের ছেলে।
পুলিশ ও স্বজন সূত্রে জানা গেছে, নিহত নুরুল আমিন নিজ মোটরসাইকেলযোগে বরগুনা থেকে কলাপাড়া যাচ্ছিলেন পথিমধ্যে সন্ধ্যায় ঢাকা-কুয়াকাটা আঞ্চলিক মহাসড়ক আমতলীর কল্যাণপুর নামক স্থানে পৌঁছালে কুয়াকাটা থেকে ছেড়ে আসা একটি দ্রুতগতির অজ্ঞাত পরিচয় বাস তার মোটরসাইকেলটিকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়।
এ সময় ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। তখন বাহিরে বৃষ্টি হচ্ছিল। পরে স্থানীয়রা সড়কে মরদেহ পরে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসনাইন পারভেজ বলেন, ‘অজ্ঞাত একটি বাসের চাপায় নিহত নুরুল আমিনের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। বাসটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে। পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।’
জ্বালানি সংকট ও তীব্র লোডশেডিংয়ের মধ্যে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে চরম দুর্ভোগে পড়েছে রোগীরা। বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইটের আলোয় চিকিৎসাসেবা দিতে বাধ্য হচ্ছেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা।
মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হওয়া ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির কারণে কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে। এর আগেও গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এলাকায় তীব্র লোডশেডিং চলছিল। ফলে হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাসপাতালটিতে কোনো জেনারেটর নেই। আইপিএস থাকলেও তা প্রায়ই বিকল হয়ে পড়ে এবং বর্তমানে সেটিও অচল। ফলে বিদ্যুৎ চলে গেলেই পুরো হাসপাতাল অন্ধকার হয়ে যায়।
মঙ্গলবার দুপুরে বিদ্যুৎ না থাকায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগসহ বিভিন্ন ওয়ার্ড অন্ধকারে ঢেকে যায়। এ সময় চিকিৎসকেরা নিজেদের মোবাইলের টর্চ লাইট জ্বালিয়ে রোগীদের সেবা দেন। জরুরি বিভাগে আগত রোগীদের ক্ষত পরীক্ষা, ড্রেসিং এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা কার্যক্রমও সম্পন্ন করা হয় মোবাইলের আলোয়। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রে নোট লেখার কাজেও একই আলো ব্যবহার করতে হয়।
হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগী ও তাদের স্বজনরা অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে এবং বাড়ছে ভোগান্তি।
চিকিৎসাসেবা নিতে আসা বদিউল আলম নামের এক রোগী বলেন, এই হাসপাতালে বিদ্যুৎ এক বড় সমস্যা। জেনারেটর নেই, আইপিএসও নষ্ট থাকে। এখন আবার ভয়াবহ লোডশেডিং। বাধ্য হয়ে এখানে আসতে হয়। কিন্তু এসব বিষয়ে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায় না।
এ বিষয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সামিয়া ইসলাম নিপুণ জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় সারাদিন অন্ধকারে কাজ করতে হয়। মোবাইলের ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে হাসপাতালে রাউন্ড দিতে হচ্ছে। কষ্ট হলেও রোগীদের সেবা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জেনারেটর থাকলেও জ্বালানির অভাবে সেগুলো চালু রাখা যাচ্ছে না।
চট্টগ্রামের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার জানান, জ্বালানির চাহিদা বৃদ্ধির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে।
লক্ষ্মীপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে সরকারি হাসপাতালগুলোতে ৭৩ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালেই ৫৮ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। শয্যা সংকটে এসব রোগীকে হাসপাতালের মেঝে, বারান্দা ও সিঁড়ির পাশে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে হাম রোগীর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, সদরসহ ৫টি সরকারি হাসপাতালে বুধবার পর্যন্ত প্রায় ৩ মাসে ৪১১ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে। এছাড়া রোগীদের মধ্যে ৩৩৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। এর মধ্যে ১৯ জন রোগীর হাম শনাক্ত হয়। এছাড়া রামগঞ্জে হামে আক্রান্ত এক শিশু ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
এদিকে বর্তমানে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালগুলোতে ৭৩ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে সদরে হাসপাতালে ৫৮ জন, কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬ জন, রায়পুরে ৭ জনও রামগতিতে ২ জন চিকিৎসাধীন আছে। গত ২৪ ঘণ্টায় একজন রোগীরও হাম শনাক্ত হয়নি।
অন্যদিকে সদর হাসপাতালটি ১০০ শয্যা হলেও প্রায় ৩০০-৩৫০ রোগী ভর্তি থাকে সবসময়। বর্তমানে অতি সংক্রামক হাম রোগের উপসর্গ নিয়ে ৫৮ জন রোগীই ভর্তি রয়েছে। শয্যা সংকটে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে হাসপাতালের মেঝে, বারান্দা ও সিঁড়ির পাশে পাতানো বিছানায়।
চিকিৎসকদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। কোনো শিশুর ৫-৭ দিন ধরে জ্বর, শরীরে চুলকানি, ঘন ঘন কাশি ও বমিভাব দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতাল বা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। হাম রোগে সাধারণত ৪ মাস থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুরা বেশি আক্রান্ত হলেও বড় শিশুরাও ঝুঁকির বাইরে নয়।
শিশু বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক ডা. মোরশেদ আলম হিরু বলেন, এ মুহূর্তে হাম নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। যে রোগীগুলো ভর্তি হয়েছে, তারা মোটামুটি আতঙ্ক মুক্ত। তাদের চিকিৎসা চলছে।
১০০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অরূপ পাল বলেন, সময়মতো চিকিৎসা ও সঠিক যত্ন নিলে এই রোগ থেকে সুস্থ হওয়া সম্ভব। টিকাদান কেন্দ্রে টিকার কার্যক্রম চলছে। শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে।
লক্ষ্মীপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবু হাসান শহীন বলেন, হাম রোগীদের চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে ১০ শয্যার একটি আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু রয়েছে। সদরসহ আমাদের ৪টি হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ৭৩ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় একজনেরও হাম শনাক্ত হয়নি।
কিশোরগঞ্জে টানা অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় শত শত একর জমির পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কোথাও ভাসমান ধান কেটে নিচ্ছেন কৃষকরা, আবার অনেক জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। যে ধান কয়েক দিনের মধ্যেই ঘরে তোলার কথা ছিল, তা এখন পানির নিচে ডুবে রয়েছে।
নদী ভরাট ও উজানের ঢলের কারণে সৃষ্ট এ জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষকরা। হাঁটু থেকে কোমর পানিতে নেমে কষ্ট করে ধান কাটলেও অনেকেই আশা ছেড়ে দিয়েছেন। পানির কারণে বাড়তি শ্রমিক লাগায় উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। ফলে লাভ তো দূরের কথা, মূলধন নিয়েই শঙ্কায় রয়েছেন তারা।
অষ্টগ্রাম উপজেলার খয়েরপুর-আবদুল্লাপুর ইউনিয়নের কলিমপুর গ্রামের কৃষক ইকবাল হোসেন জানান, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও উজানের পানিতে কলিমপুর হাওরের বেশিরভাগ জমির ফসল তলিয়ে গেছে। জমিতে পানি জমে থাকায় হার্ভেস্টার ব্যবহার করা যাচ্ছে না, ফলে বাড়তি খরচে শ্রমিক দিয়ে ধান কাটতে হচ্ছে।
একই এলাকার কৃষক হযরত আলী বলেন, উজানের পানি নামলেই হাওরে পানি ঢুকে পড়ে। শিবপুর এলাকার খোয়াই নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় প্রতিবছরই জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এতে শ্রমিকের চাহিদা ও মজুরি দুটোই বেড়ে যায়।
কৃষক কামরুল ইসলাম বলেন, ফসল ভালো হয়েছিল, কিন্তু সব পানিতে তলিয়ে গেছে। এখন ঋণ কীভাবে শোধ করবো, সেই চিন্তায় আছি। সার ও কীটনাশকের উচ্চমূল্যের সঙ্গে এখন বাড়তি কাটার ও পরিবহন খরচ যোগ হওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়েছে। বাজারে ভেজা ধানের চাহিদাও কম।
স্থানীয় বাসিন্দা বেলাল ভূইয়ার অভিযোগ, খোয়াই নদী ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণেই এ ভয়াবহ জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। আগেই প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
কৃষক রতন মিয়া বলেন, ঋণ নিয়ে ১০ একর জমিতে চাষ করেছি, কিন্তু ফসল কাটতেই পারলাম না। এখন পরিবার নিয়ে কীভাবে চলবো বুঝতে পারছি না।
আরেক কৃষক এংরাজ মিয়া বলেন, পুরো ফসল পানির নিচে। পচে যাওয়া ধানও কেটে নিতে হচ্ছে, না হলে একেবারেই কিছু থাকত না।
ইটনা উপজেলার এলংজুরী ইউনিয়নের ছিলনী গ্রামের কৃষক হারুন অর রশিদ জানান, তাদের পাশ্ববর্তী এলাকার কাকটেংগুর হাওরেও নদীর পানি ঢুকে পড়েছে। অনেক জমির ধান এখনো কাটা হয়নি, ফলে এসব ফসল নিয়ে কৃষকদের আশা প্রায় শেষ।
কাকটেংগুর গ্রামের কৃষক ফেরদৌস মিয়া বলেন, সারাবছরের খোরাকের জন্য এক একর জমিতে চাষ করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ পানি বাড়ায় সব তলিয়ে গেছে। এখন ঋণের বোঝা আর সংসারের চিন্তায় দিশেহারা তারা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. সাদিকুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে ক্ষতির পরিমাণ বলা যাচ্ছে না। খুব শিগগিরই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে, যার মধ্যে হাওরাঞ্চলে ১ লাখ ৪ হাজার ৫৮১ হেক্টর। এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ধান কর্তনে ধীরগতি নেমে এসেছে।
কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, এখনো হাওরের পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি, তবে টানা বৃষ্টিতে নদ-নদীর পানি বাড়ছে। আগাম বন্যার ঝুঁকি এড়াতে ৮০ শতাংশ পাকলেই ধান কেটে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
হাম ও হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা) দেশে আরও ৯ শিশু মারা গেছে। এর মধ্যে তিন শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছিল। হামের উপসর্গ ছিল ছয় শিশুর। এ সময়ে সারা দেশে আরও ১ হাজার ২৭৬টি শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। হাম শনাক্ত হয়ে তিন শিশুই ঢাকায় মারা গেছে।
আর হাম উপসর্গে বরিশালে দুটি, ঢাকায় দুটি, রাজশাহীতে একটি ও সিলেটে একটি শিশু মারা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে দেশে ২২৬ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে। এ সময়ে হাম শনাক্তের পর মারা গেছে ৪৭ শিশু।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৩৪ হাজার ৬৬২ শিশুর। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২৩ হাজার ৩৪৮ শিশু। তবে এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ১৯ হাজার ৯৯১ শিশু বাড়ি ফিরেছে।
গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে ৪ হাজার ৮৫৬ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।