ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের তাণ্ডবে বিদ্যুৎহীন কুমিল্লা। রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং কুমিল্লা-সিলেট সড়কের বিভিন্ন অংশে গাছ পড়ে যান চলাচল ব্যাহত হয়। জেলার দেবিদ্বার, সদর উপজেলার জামবাড়িসহ অন্যান্য উপজেলায় বেশ কিছু কাঁচা বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলার হেশাখালে গাছ পড়ে একই পরিবারের তিনজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গতকাল সোমবার রাত ৯ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। হেশাখাল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইকবাল বাহার মজুমদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহতরা হলেন, ওই এলাকার নিজাম উদ্দিন, তার স্ত্রী সাথি আক্তার ও তাদের মেয়ে লিজা।
চেয়ারম্যান ইকবাল বাহার মজুমদার বলেন, ঝড়ের তাণ্ডব চলতে থাকায় ঘটনাস্থলে যেতে পারিনি। শুনেছি ঘরে একজন এবং হাসপাতালে নেয়ার পর দুজন মারা গেছে।
রাতে হাইওয়ে জোনের কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. রহমতউল্লাহ জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার ৮টি অংশে গাছ উপড়ে পড়েছে। ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় গাছগুলো সরানো হচ্ছে। গাড়ির চাপ কম থাকায় যানজট নেই। কুমিল্লা-সিলেট সড়কেও গাছ উপড়ে পড়ে আছে। সেখানে উদ্ধার কাজ চলছে। ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে পুলিশ সদস্যরা।
কুমিল্লা ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মো. জাকির হোসেন জানান, সোমবার বিকেল থেকে রাত ১১ টা পর্যন্ত কুমিল্লার বিভিন্ন সড়কে উপড়ে পড়া গাছ অপসারণের কাজ চলছে। যেখান থেকে খবর আসছে, সেখানেই ছুটছে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, রাত ১১ টা পর্যন্ত কুমিল্লার বিভিন্ন সড়কে গাছ উপড়ে পড়ে থাকার খবর পেয়েছি। আমরা হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সমন্বয় করে কাজ করছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে যেখানে সমস্যা সেখানে সমাধানের লক্ষ্য কাজ করছি।
সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে উপকূলে আঘাত করে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং-এর অগ্রভাগ। ঘণ্টায় ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার গতির বাতাসের শক্তি নিয়ে বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের মাঝামাঝি এলাকায় উপকূল অতিক্রম করতে শুরু করে। ভারী বর্ষণ ও স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে কয়েক ফুট বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসকে সঙ্গী করে শক্তিশালী এই ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম শুরু করে।
সোমবার মধ্যরাতে আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড়টি বর্তমানে স্থল নিম্নচাপ আকারে ঢাকা–কুমিল্লা–ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় অবস্থান করছে। রাতেই সিলেট হয়ে ভারতে প্রবেশ করবে।
কিশোরগঞ্জে জেলা বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রসঙ্গে কড়া বক্তব্য দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বলেন, “ডিসেম্বরে নয়, বুকের পাটা থাকলে এখনই আসেন। ফাঁসির কাষ্ঠে ঝোলার জন্য আসেন।”
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শহরের কালিবাড়ী মোড়ে জেলা বিএনপি আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল-পরবর্তী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে রথখলা এলাকায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশস্থলে গিয়ে শেষ হয়।
সমাবেশে ইয়াসের খান চৌধুরী অভিযোগ করেন, দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী শক্তি বাংলাদেশে গণতন্ত্র নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্র করছে। তিনি বলেন, বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সেই ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করবে এবং কোনো অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে দেবে না।
সম্প্রতি দুটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাসে আগুন দিয়ে বা ভয়ভীতি সৃষ্টি করে জনগণকে দমিয়ে রাখা যাবে না। তিনি এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারিও দেন।
বিচারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চাই না। যারা অপরাধ করেছে, তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
সমাবেশে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম এবং কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জালাল উদ্দিন বক্তব্য দেন। এতে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মাগুরা জেলা কার্যালয় কর্তৃক শ্রীপুর উপজেলার নাকোল বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে সার, কীটনাশক, বীজ ও মুদি দোকান সহ অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের প্রতিষ্ঠান তদারকি করে নানা অনিয়মের দায়ে মেসার্স মা ট্রেডার্স নামক একটি প্রতিষ্ঠানকে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পরিচালিত এ অভিযানে মাগুরা শ্রীপুর উপজেলার নাকোল পুরাতন বাজারে মেসার্স মা ট্রেডার্স নামক বিএডিসি সার ও বীজ ডিলার প্রতিষ্ঠানে পুর্বে সতর্ক করা স্বত্তেও বিভিন্ন সার সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অধিক দামে বিক্রি করছিলেন দোকান মালিক লিটন কুমার সাহা।
সরকারের নির্ধারিত ডিএসপি সারের দাম ১০৫০ টাকা হলেও ১৪৫০ টাকায় বিক্রয়ের প্রমাণ পাওয়া যায়, অর্থাৎ বস্তা প্রতি ৪০০ টাকা বেশি নেয়া হয়। অধিক দামে সার বিক্রয় করলেও সার বিক্রয়ের কোন ভাউচার প্রদান করা হয়নি। এমনকি বিক্রয় রেজিস্টারেও তা লিপিবদ্ধ করা হয়নি। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি থেকে প্রচুর মেয়াদ উত্তীর্ণ বীজ ও কীটনাশক পাওয়া যায় এবং বিভিন্ন মেয়াদ উত্তীর্ণ ও ড্যামেজ পণ্য প্যাকেট খুলে খোলা বাজারে বিক্রয় করছিলেন।
পূর্বে সতর্ক করা সত্ত্বেও পুনরায় কৃষকের সাথে প্রতারণা ও একই অপরাধ করার কারণে প্রতিষ্ঠানটির মালিক লিটন কুমার সাহাকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয় এবং ভবিষ্যতে এমন আইন অমান্যকারী কার্যকলাপ না করার ব্যাপারে সতর্ক করা হয়। আইন মেনে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রয়ের বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়।
অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মাগুরা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সজল আহম্মেদ।
সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন মাগুরার কৃষি বিপণন অফিসার মো: আলমগীর হোসেন এবং মাগুরা জেলা পুলিশের একটি টিম।
কুমিল্লায় হত্যাকাণ্ডের শিকার ১৩ বছর বয়সী স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়ানোর অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তাঁর মা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির একটি প্রতিনিধি দল কোটবাড়ির গন্ধমতি এলাকায় অপ্রতিমের বাসায় গিয়ে তাঁর বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানাতে গেলে তিনি আইনজীবীদের কাছে এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
আইনজীবীদের সামনে শোকার্ত মা ড. নাহিদা বেগম বলেন, "আমার ছেলেকে বিভিন্ন আইডি থেকে ব্লেইম করা হচ্ছে। আমার ছেলে কিছু বোঝে? আমার দুধের শিশুকে অপরাধী বানাতে চাইলে আমি এটা কখনোই মেনে নেব না।" নিজের অতীত প্রশাসনিক দায়িত্বের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, "আমার ছেলেকে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে নানা উপায়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ২০২৫ সালের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্ব পালনকালে আমি অনেক মাদকসেবী ও মাদক কারবারিকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি। ওই ঘটনার কারণে যদি আমার ছেলেকে টার্গেট করা হয়ে থাকে, তাহলে এটা আমি মেনে নেব না।"
সন্তানের নির্মম হত্যাকাণ্ডে ভেঙে পড়ে তিনি আরও বলেন, "আমার কোনো দোষ থাকলে আমাকে শাস্তি দেওয়া হোক। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যদি আমার অপরাধ হয়ে থাকে, তাহলে তার শাস্তি আমি পাব। আমার ছেলে কেন এর শাস্তি পাবে? আমার ছেলেকে কেন মেরে ফেলা হলো? আমার ছেলেকে তাদের সঙ্গে জড়িয়ে বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, সেও তাদেরই একজন। অথচ আমার ছেলে নিষ্পাপ, ছোট বাচ্চা। সে এসবের কিছুই বোঝে না।" ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, "আমি শুধু আমার ছেলের জন্য বিচার চাই না। যারা আমার ছেলেকে হত্যা করেছে, তারা জেল থেকে বের হলে আরও কত বাচ্চার জীবন নেবে, কত বাচ্চার জীবন ধ্বংস করবে— সেটা নিয়েও আমি চিন্তিত। আমি চাই, এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার হোক।"
সাক্ষাৎকালে কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু, সরকারি আইন কর্মকর্তা (জিপি) অ্যাডভোকেট তারেক আবদুল্লাহ, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শহীদ উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহাবুবুল হক খন্দকার এবং সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট শরীফুল ইসলামসহ জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। আইনজীবীরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা জানানোর পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের বিষয়ে আশ্বাস দেন। এর আগে একই প্রতিনিধি দল বিকেলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গেও এ বিষয়ে একটি বিশেষ বৈঠকে মিলিত হয়।
কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বলেছেন, তার এলাকায় দুর্গাপূজার কোনো মণ্ডপে পুলিশ মোতায়েনের প্রয়োজন হবে না। প্রয়োজন হলে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করা হবে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে ইটনা উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় ফজলুর রহমান বলেন, আমার এলাকায় দুর্গাপূজার মণ্ডপে পুলিশ লাগবে না। আমি এটা উদাহরণ তৈরি করতে চাই। আমি নিজে এলাকায় উপস্থিত থাকব, দেখবেন কোনো পূজামণ্ডপে কোনো সমস্যা হবে না। প্রয়োজন হলে দলীয় নেতাকর্মীদের দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল তৈরি করে দেব।
তিনি আরও বলেন, মুসলমানদের নামাজ বা ঈদের জামাতে যদি পুলিশ না লাগে, তাহলে পূজা করতে ঘরে ঘরে পুলিশ দিতে হবে কেন? আমার এলাকার কোনো পূজামণ্ডপে পুলিশ লাগবে না। আমি নিজে এলাকায় থাকব এবং আমাদের নেতাকর্মীরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।
মতবিনিময় সভায় ইটনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল বৃদ্ধি, চিকিৎসকদের আবাসনের ব্যবস্থা, হাওরের শিক্ষার্থীদের জন্য নৌকার ব্যবস্থা, ইটনা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়কে মহিলা কলেজে উন্নীত করা এবং নিরাপদ পানির জন্য টিউবওয়েল স্থাপনের প্রস্তাব তুলে ধরেন কর্মকর্তারা। জবাবে সংসদ সদস্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নয়নকাজে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সভায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম রেখা, ইটনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস.এম. কামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুজ্জামান ঠাকুর স্বপন, সিনিয়র সহ-সভাপতি মনির উদ্দিন, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. পলাশ রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো. তারিকুল ইসলাম জুয়েলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মনোরঞ্জন রাজবংশী (৫০) নামে এক কারাবন্দি হাজতির মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক মো. সেলিম হোসেন বলেন, ‘মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।’
কারা সূত্রে জানা যায়, ধামরাই থানার একটি মামলায় বন্দি ছিলেন মনোরঞ্জন রাজবংশী। তার গ্রামের বাড়ি ঢাকার ধামরাইয়ের কায়েতপাড়া গ্রামে। তার বাবার নাম নারায়ন রাজবংশী।
বৈশাখ আসে আনন্দ আর নতুন ফসলের স্বপ্ন নিয়ে, কিন্তু হাওরপাড়ের কৃষকদের জন্য গত বৈশাখ বয়ে এনেছিল নিঃস্ব হওয়ার বার্তা। ফসল কাটার ঠিক পূর্ব মুহূর্তে অতিবৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা আগাম পাহাড়ি ঢলে মুহূর্তেই তলিয়ে গিয়েছিল দিগন্তজোড়া বোরো ধানের মাঠ। চোখ বুজে ভেসে যাওয়া ফসলের দিকে তাকিয়ে থাকার উপায় ছিল না; পরিবার পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকার তাগিদে জীবনবাজি রেখে বুক সমান পানিতে নেমে ধান কাটতে বাধ্য হন কৃষকরা। তবে সেই হাড়ভাঙা চেষ্টার পর ঘরে ওঠে স্বাভাবিক উৎপাদনের অর্ধেকেরও কম ফসল।
সেই অর্ধেকের কম ধানের গল্পটাও কম করুণ নয়। বুক সমান পানি থেকে তোলা ধানের অনেকটাই ছিল কাঁচা ও আধপাকা। এরপর টানা বর্ষণ আর স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় দিনভর লড়াই করে রোদের অভাবে কষ্ট করে শুকাতে হয়েছে সেই ধান। দীর্ঘ সময় জমে থাকা ভেজা ভাবের কারণে ধানের স্বাভাবিক সোনালি রঙ নষ্ট হয়ে ধরেছে ময়লাটে ভাব, আর ছড়াচ্ছে কিছুটা দুর্গন্ধ। এখন কষ্টের সেই ফসল নিয়ে বাজারে গিয়ে নতুন করে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। ধানের রং নষ্ট হওয়ার অজুহাত দেখিয়ে বেপারি ও আড়তদাররা পানির দরে ধান কিনতে চাচ্ছেন, অনেক ক্ষেত্রে কিনতেই রাজি হচ্ছেন না।
মাঠের এই নির্মম বাস্তবতা নিয়ে চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন অষ্টগ্রাম সদরের কৃষক ফয়জুল হক (৫৮)। দীর্ঘশ্বাস ফেলে তিনি বলেন, ‘পানি যখন হুরহুর কইরা আইতাছিল, তখন বুক পানিতে নাইম্যা আধপাকা ধানগুলা কাইট্টা তুলছিলাম। ভাবছিলাম পোলাপান লইয়া অন্তত খাইয়া পইরা বাঁচমু। কিন্তু মেঘ-বৃষ্টির লাইগ্যা ধান ঠিকমতো হুকাইতে পারি নাই, রং কালা হয়া গেছে। এহন বাজারে নিলে পাইকাররা ছোঁয়ই না, আর যারা নিতে চায় তারা পানির দরে দাম কয়। বিঘা প্রতি যে খরচ অইছে, এই দামে ধান বেচলে চাল কেনার টেহাও উঠব না। আমডা এহন কি খাইয়া বাঁচমু?’
প্রকৃতির এই আঘাতের পর আবার নতুন করে চেপে বসেছে মূল্যবৃদ্ধির ভারী বোঝা। এরই মধ্যে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে, আর লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছে জ্বালানি তেলের দাম। ফলে আগামী মৌসুমে জমিতে সেচ দেওয়া, পাওয়ার টিলার দিয়ে চাষ করা এবং ধান মাড়াইয়ের খরচও বহুগুণ বেড়ে যাবে। নতুন ফসলের জন্য জমিতে কৃষককে এখন গুনে গুনে মোটা অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করতে হচ্ছে।
এর ওপর নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম এখন আকাশচুম্বী। শাকসবজি, মাছ, তরিতরকারিসহ বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সবকিছুর দামই এখন লাগামহীন। ফসল হারিয়ে কৃষকের হাতে এমনিতেই কোনো টাকা নেই, যার ফলে এসব নিত্যপণ্য কেনা তাদের সাধ্য ও ক্রয়ক্ষমতার একদম বাইরে চলে গেছে।
আগামী মৌসুমের প্রস্তুতি ও সংসার চালানোর সংকট নিয়ে কাস্তুল ইউনিয়নের কৃষক নূর মোহাম্মদ (৪৫) বলেন, ‘হাওরের ধানই আমডার সব। সেই ধান বেচতে পারতাছি না, ঘরে টেহা নাই। তার ওপর তেলের দাম এক ধাক্কায় ২০ টেহা বাড়াইয়া দিল, বিদ্যুতের দামও বেশি। সামনে জমিত সেচ দেওয়া আর জমি চাষ দেওয়ার খরচ দ্বিগুণ অইয়া যাইব। বাজারে গেলে তরি-তরকারি কিংবা চাল-ডাল কেনার সাধ্য নাই। এনজিওর কিস্তি আর মহাজনের ঋণের চিন্তায় রাইতে ঘুম আসে না। সরকারের থাইকা যদি সরাসরি ধান না কেনে বা আমডারে সাহায্য না করে, তবে আগামীতে জমিতে নামার ক্ষমতাও আমডার থাকব না।’
একদিকে আগাম বন্যায় অর্ধেকের বেশি ফসল নদীগর্ভে বিলীন, রক্ষা করা ধানের বাজারমূল্য শূন্যের কোঠায়, অন্যদিকে জ্বালানি-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি আর বাজার খরচের তীব্র চাপ—সব মিলিয়ে কৃষকের অবস্থা এখন চরম নাভিশ্বাসে গিয়ে ঠেকেছে। দিন দিন তাদের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও করুণ হয়ে উঠছে। প্রকৃতির মার, ক্রমবর্ধমান উৎপাদন খরচ আর আকাশচুম্বী বাজারদরের নির্মম জাঁতাকলে পড়ে হাওরপাড়ের কৃষিভিত্তিক পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে এক অন্ধকার ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ।
ঢাকার কেরানীগঞ্জে জুয়েলারি ব্যবসায়ী ও তার ফুপাতো ভাইকে গুলি করে স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার হযরতপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ দুজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহতরা হলেন- মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার আটিপাড়া এলাকার অন্তর সরকার (২৫) ও তার ফুপাতো ভাই রাজিব সরকার (২০)। তাদের দুজনেরই পায়ে গুলি লেগেছে।
আহত অন্তর সরকার জানান, হযরতপুর বাজারে তাদের একটি জুয়েলারি দোকান রয়েছে। প্রতিদিনের মতো সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় দোকান বন্ধ করে তিনি, তার বাবা মিতাই সরকার ও ফুপাতো ভাই রাজিব সরকার স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে একটি অটোরিকশায় করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন।
রাত সাড়ে ৭টার দিকে হযরতপুর এলাকায় পৌঁছালে তিনটি মোটরসাইকেল ও একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় আসা কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাদের অটোরিকশার গতিরোধ করে।
তিনি বলেন, ‘কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুর্বৃত্তরা এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে।’ এতে তিনি ও রাজিব গুলিবিদ্ধ হন। পরে হামলাকারীরা স্বর্ণালংকার রাখা একটি টিফিনবাক্স ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। ওই বাক্সে প্রায় ২০ থেকে ২৫ ভরি স্বর্ণ ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পালিয়ে যাওয়ার সময় দুর্বৃত্তরা আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পরপর কয়েকটি বোমাসদৃশ বস্তু বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, গুলিবিদ্ধ দুই যুবককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জরুরি বিভাগে তাদের চিকিৎসা চলছে।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ছিনতাইয়ে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকার শেষে উপকূলে ফেরার পথে প্রচণ্ড ঢেউয়ের কবলে পড়ে বরগুনার তালতলী উপজেলার ‘এফবি জান্নাত-জুনায়েদ’ নামে একটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে গেছে। দুর্ঘটনার পর অন্য একটি মাছ ধরার ট্রলার এগিয়ে গিয়ে সাগরে ভাসতে থাকা ১১ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করেছে। তবে ট্রলারের কেবিনে থাকা দুই জেলে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতীশ সরকার।
এর আগে মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত এলাকা থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে বঙ্গোপসাগরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
উদ্ধার হওয়া জেলে ও ট্রলারের মালিক মো. আল-আমিন জানান, প্রচণ্ড ঢেউয়ের তোড়ে হঠাৎ ট্রলারটি উল্টে যায়। এ সময় ১১ জন সাঁতরে ট্রলার থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হন। তবে কেবিনের ভেতরে দুই জেলে আটকা পড়েন।
তিনি বলেন, সাগরে ভাসতে থাকা অবস্থায় অন্য একটি মাছ ধরার ট্রলার তাদের দেখতে পেয়ে এগিয়ে আসে এবং ১১ জনকে উদ্ধার করে। পরে ওই ট্রলারেই তারা নিরাপদে উপকূলে ফিরে আসেন। তবে সাগর উত্তাল থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে কেবিনে আটকে পড়া দুই জেলেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
নিখোঁজ দুই জেলে হলেন—তালতলী উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের বড় ভাইজোড়া এলাকার মো. মনির হোসেনের ছেলে মো. রাকিব (১৯) এবং নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের পাওয়াপাড়া এলাকার হরমুজ আলী হাওলাদারের ছেলে মো. নবী হোসেন (৪৫)।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তালতলী উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের সওদাগর পাড়া এলাকার আল-আমীন ও গোলাম রাব্বির যৌথ মালিকানাধীন ‘এফবি জান্নাত-জুনায়েদ’ ট্রলারটি পটুয়াখালীর মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র থেকে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে ১৩ জন জেলেকে নিয়ে বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে যায়।
সোমবার সাগরের আবহাওয়া খারাপ হয়ে উত্তাল হয়ে উঠলে জেলেরা ট্রলার নিয়ে উপকূলের দিকে ফিরতে শুরু করেন। মঙ্গলবার সকালে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত এলাকা থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে পৌঁছালে প্রচণ্ড ঢেউয়ের তোড়ে ট্রলারটি উল্টে ডুবে যায়।
উদ্ধার হওয়া ১১ জেলের মধ্যে ছয়জন তালতলী উপজেলার বাসিন্দা, চারজন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার এবং একজন খুলনা জেলার বাসিন্দা।
তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অতীশ সরকার বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে। নিখোঁজ দুই জেলেকে উদ্ধারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উদ্ধার হওয়া জেলেদেরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে খোঁজখবর রাখা হচ্ছে।
তিনি জানান, নিখোঁজ জেলেদের সন্ধানে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে বাংলাদেশ মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, খবর পাওয়ার পর নিখোঁজ দুই জেলেকে উদ্ধারে সমিতির পক্ষ থেকে দুটি ট্রলার পাঠানো হয়েছে। তবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ডুবে যাওয়া ট্রলার ও নিখোঁজ দুই জেলের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
উত্তাল সাগরের কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। নিখোঁজ দুই জেলের সন্ধানে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, ‘গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের প্রাণিসম্পদ খাতকে এগিয়ে নিতে বিজ্ঞানীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাদের উদ্ভাবন ও গবেষণালব্ধ অর্জনের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হবে। কারণ বিজ্ঞানীরা তাদের মেধা, শ্রম, সময় ও নিষ্ঠা ব্যয় করে নতুন প্রযুক্তি ও জ্ঞান সৃষ্টি করেন। এসব কাজের স্বীকৃতি না পেলে ভবিষ্যতে গবেষণার প্রতি আগ্রহ কমে যেতে পারে।’
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) পরিচালনা বোর্ডের ৪৯তম সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে সভায় সভাপতিত্ব করেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘প্রাণিসম্পদ খাতের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ, উন্নত জাত উদ্ভাবন, নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ উৎপাদন এবং রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। গবেষণা কার্যক্রমকে আরও ফলপ্রসূ ও বাস্তবমুখী করতে হবে, যাতে এর সুফল সরাসরি খামারি ও উদ্যোক্তারা পান।’ গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি মাঠপর্যায়ে দ্রুত সম্প্রসারণের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, ‘দেশের প্রাণিসম্পদ খাত আজ যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তার পেছনে গবেষকদের দীর্ঘদিনের নিরলস পরিশ্রম রয়েছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর ও যুগোপযোগী করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে উদ্ভাবনী গবেষণাকে উৎসাহিত করতে বিজ্ঞানীদের জন্য প্রণোদনা ও স্বীকৃতির সুযোগ বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।’
সভায় উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেন, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) মো. মাহমুদুল হোসাইন খান, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুছ ছালাম, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, বিএলআরআইয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ছাদেক আহমেদ, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ আবদুস সামাদ, বোর্ডের সদস্য ডা. মো. সফিউল আহাদ সরদার এবং বোর্ডের সদস্য সচিব ও বিএলআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুকসহ পরিচালনা বোর্ডের সদস্যরা।
সভায় বিএলআরআইয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক, আর্থিক ও গবেষণাসংক্রান্ত বিষয় পর্যালোচনা করা হয় এবং প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে প্রাণ হারানো তিন শিক্ষার্থীর শোকার্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান। নিহতদের পরিবারগুলোকে গভীর সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি তাদের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার বিকালে উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বাড়িমজলিশ এলাকায় নিহত শিক্ষার্থীদের নিজ বাড়িতে গিয়ে এমপি মান্নান শোকাহত স্বজনদের সাথে সাক্ষাৎ করেন।
এ সময় সাংসদ আজহারুল ইসলাম মান্নান বলেন, ‘এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় কোমলমতি তিন শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যু আমাদের হৃদয়কে গভীরভাবে বেদনার্ত করেছে। পুরো দেশবাসী আজ এই শোকের অংশীদার। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কঠিন সময়ে আপনাদের পাশে রয়েছেন। দল ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে তার ত্রাণ তহবিল থেকে আপনাদের জন্য এই সামান্য আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হলো।’ তিনি মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং সৃষ্টিকর্তা যেন তাদের জান্নাত নসিব করেন সেই দোয়া কামনা করেন।
পরিবারগুলোর সাথে সাক্ষাৎকালে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক নিজাম উদ্দিন, প্রচার সম্পাদক সেলিম হোসেন দিপু, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কাউসার আহমেদ, যুবদল নেতা রাকিব হাসান, সোহেল রানা, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা বাবুসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
উল্লেখ্য, গত রোববার সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের ভাটিবন্দর এলাকায় স্কুল ফাঁকি দিয়ে মেঘনা নদীতে গোসল করতে নামে তিন শিক্ষার্থী। এ সময় নদীর স্রোতে তলিয়ে গিয়ে একই পরিবারের জমজ দুই ভাইসহ তাদের প্রতিবেশী ৩ জন শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক সলিল সমাধি ঘটে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৭২ কেজি ৯০০ গ্রাম ওজনের কষ্টিপাথরের একটি মূর্তি উদ্ধার করেছে বিজিবি। এ ঘটনায় মূর্তি পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়েছে। গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার বিহারপুর গ্রামে এ অভিযান চালানো হয়।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় জয়পুরহাট ২০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজিবির দেওয়া তথ্যানুযায়ী, স্থানীয় সূত্রের খবরের ভিত্তিতে ২০ বিজিবি ও এসআরবির সদস্যরা বিহারপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের বাড়িতে যৌথ অভিযান চালিয়ে মূর্তিসহ মুকুল চন্দ্র মণ্ডল (৩৮) ও কামাল হোসেনকে (৬০) আটক করা হয়। পরে আটক দুজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হামিদুর রহমান (৬২) ও জাকির হোসেনকে (৫০) আটক করা হয়।
আটক হামিদুর রহমান আক্কেলপুর গ্রামের, জাকির হোসেন অনন্তপুর গ্রামের, মুকুল চন্দ্র মণ্ডল জালালপুর গ্রামের এবং কামাল হোসেন বিহারপুর গ্রামের বাসিন্দা।
বিজিবির দাবি, আটক চারজন নিজেদের পাচারকারী দলের সক্রিয় সদস্য বলে জানিয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে মূর্তিটি ভারতে পাচারের উদ্দেশে মজুত করার অভিযোগ রয়েছে। উদ্ধার করা মূর্তিটির সিজার মূল্য প্রায় ৭২ লাখ ৯০ হাজার টাকা।
বিরোধী দল নেতারা সংসদে এক কথা বলে, বাইরে আরেক কথা বলে দ্বিচারিতা করছে বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
তিনি আরো বলেন, বিরোধী দলের নেতারা গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে, নইলে গদি ছেড়ে দে- বলে দেশের স্বাভাবিক পরিস্থিতিকে স্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। মাগুরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাগুরা জেলার আইন-শৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রম সহ সার্বিক সরকারি কার্যাবলী তদারকি ও সমন্বয়ের লক্ষ্যে বিভিন্ন দপ্তর প্রধান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এমপির সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মাগুরার জেলা প্রশাসক মোতাকাব্বীর আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এমপি।
এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন, সংরক্ষিত ৩০৫ আসনের এমপি নেওয়াজ হালিমা আরলী, পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, জেলা বিএনপির আহবায়ক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক আলী আহমেদ, সিভিল সার্জন ডাক্তার মো. শামীম কবির, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শাশ্বতি শীল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক আব্দুল কাদের, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতির এডভোকেট মিজানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শাহেদ হাসান টগর, মাগুরা প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক সাইদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক সহ জেলার সরকারি সকল দপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় জেলার আইনশৃঙ্খলা সহ জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রম সার্বিক তদারকি করেন মাগুরা জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
নরসিংদী জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট ইসরাত জাহান কেয়া বলেছেন, সকলের আন্তরিক সহযোগিতা পেলে নরসিংদীকে সারাদেশের মধ্যে একটা সুন্দর ও রোল মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তোলব ইনশাল্লাহ।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে নরসিংদী জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জন কার্যালয় কর্তৃক আয়োজিত জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে নরসিংদী জেলায় সমন্বিত ডেঙ্গু প্রতিরোধ, চিকিৎসা ব্যবস্থাপণ্য-পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেনতামূলক কর্মপরিকল্পনা ২০২৬ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখতে গিয়ে একথা বলেন।
সবার আগে দেশ-সকলের চেষ্টায় ডেঙ্গু করব শেষ। এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন-নরসিংদীর সিভিল সার্জন ডা. মো. বুলবুল কবির, নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আবু তাহের মো: সামসুজ্জামান, নরসিংদী জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এম.এ আউয়াল, নরসিংদী জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. মিজানুর রহমান, নরসিংদী জেলা তথ্য কর্মকর্তা মো. ওবায়দুল কবির মোল্লা, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মো. মোস্তাফিজুর রহমান, নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. সজীব শাহরীন, নরসিংদী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান নাহিদ, নরসিংদী শহর বিএনপির সভাপতি একেএম গোলামা কবির কামাল, সাধারণ সম্পাদক মো. ফারুক উদ্দিন ভুঞা, ঘোড়াশাল পৌরসভা বিএনপির সভাপতি মো. আলম মোল্লা ও নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা জাহান সরকার প্রমুখ। এছাড়া সভায় বিভিন্ন দপ্তরের জনপ্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে ইসরাত জাহান কেয়া আরো বলেন, আগামী এক মাসের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে একটি দৃশ্যমান পরিবর্তন নিয়ে আসবো ইনশাল্লাহ। আর সেই জন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, আমাদের পরিকল্পনাগুলো মানুষের জানা দরকার, আর এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম। তাই সাংবাদিকদের তাদের লিখনীর মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা গড়ে তোলার জন্য আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (উপসচিব) মো. সফিউল্লাহ।