রংপুর বিভাগের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু শৈত্যপ্রবাহ আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এমন বার্তা জানানো হয়।
আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থা সম্পর্কে আবহাওয়া অধিদপ্তর বলে, ‘উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ বিহার ও তার আশেপাশের এলাকায় অবস্থান করায় মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।’
সংস্থাটি আরও জানায়, অস্থায়ীভাবে আকাশ আংশিক মেঘলাসহ সারা দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্য এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। তাপমাত্রার পূর্বাভাসে বলা হয়, ‘সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।’
রাজধানীর কুড়িল থেকে রামপুরা পর্যন্ত সড়কের অসহনীয় যানজট কমাতে একটি নতুন বাইপাস সড়ক সংস্কার ও নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজধানীর ১০০ ফিট সড়ক থেকে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হয়ে সানভ্যালী আবাসিক প্রকল্পের ভেতর দিয়ে আফতাবনগর হয়ে রামপুরা পর্যন্ত ডাবল লেনের একটি সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে চায় সরকার। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) প্রস্তাবিত এই সড়কপথটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) চেয়ারম্যান, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার।
প্রকল্পটির ব্যয় কমাতে এবং দ্রুত বাস্তবায়নে তিন পক্ষ মিলে কাজ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন জানান, অতিরিক্ত অর্থ খরচ কমাতে সমন্বিত উদ্যোগে কাজ করা হবে। প্রকল্পটিকে মূলত তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি অংশের কাজ করবে রাজউক। দ্বিতীয় অংশের দায়িত্বে থাকবে উত্তর সিটি করপোরেশন এবং বাকি অংশের কাজ শেষ করবে সানভ্যালী হাউসিং সোসাইটি।
পরিদর্শন শেষে রাজউক চেয়ারম্যান জানান, বাইপাস সড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক করতে প্রাথমিকভাবে একটি ব্রিজ এবং ডাবল লেনের সড়কের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এই রুটটি সচল হলে কুড়িল থেকে রামপুরা এবং বনশ্রী এলাকার ট্রাফিক চাপের বড়ো একটি অংশ এই বাইপাস দিয়ে চলে যাবে।
ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক বলেন. প্রধানমন্ত্রীর সব অঙ্গীকারকে আমরা বাস্তবে রূপ দিতে চাই। তাই যানজট নিরসনে আফতাবনগর বাইপাস সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রের অর্থ যেন অযথা ব্যয় না হয়, তাই সমন্বয় করে কাজটি করা হবে। প্রয়োজনীয় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উদ্যোগও নেওয়া হবো।
সড়কটি নির্মিত হলে বাড্ডার মূল সড়কের ওপর গাড়ির চাপ উল্লেখযোগ্য হারে কমবে বলে মনে করেন ডিএমপি কমিশনার মো. সরওয়ার। পরিদর্শনকালে তিনি এই রুটের যানজট নিরসনে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন কারিগরি দিক ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই বিকল্প সংযোগ সড়কটি চালু হলে পূর্ব ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে এবং বিশেষ করে অফিসগামী মানুষের দীর্ঘ সময়ের যানজট ভোগান্তি লাঘব হবে।
যশোরের শার্শা উপজেলার উলাসী-যদুনাথপুর খাল, যা একসময় এ অঞ্চলের কৃষি ও অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিল, আজ দীর্ঘদিনের অবহেলায় প্রায় মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে। ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে এই খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল খননে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন, যা পরবর্তীতে একটি সফল গণউদ্যোগ হিসেবে পরিচিতি পায়। ভিত্তি পোস্তরে এখনো লেখা আছে "আমাদের হাত কোটি হাতিয়ার অঙ্গীকার আমাদের দেশ গড়বার " মেজর জিয়াউর রহমান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খালটি খননের আগে উত্তর শার্শার পাচটি বড় বিলের পানি ঠিকমতো নিষ্কাশন হতো না। ফলে প্রায় ২২ হাজার একর জমি বছরের বেশিরভাগ সময় পানির নিচে ডুবে থাকত এবং কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতো। খালটি চালু হওয়ার পর বিলগুলোর পানি সহজে বেতনা নদীতে নেমে যেতে শুরু করে। এতে করে জমি আবাদযোগ্য হয়ে ওঠে এবং কৃষি উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি খালের পানি ব্যবহার করে সেচ ব্যবস্থাও উন্নত হয়, যা এ অঞ্চলে বোরো ধানের চাষ বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে সময়ের ব্যবধানে খালটি এখন তার সেই গৌরব হারিয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় খালের বিভিন্ন অংশ পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। শুষ্ক মৌসুমে খালে পানি থাকে না বললেই চলে, আর বর্ষাকালেও পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে কৃষকরা আবারও আগের মতো সমস্যার মুখে পড়ছেন। খালের পাড়ে স্থাপিত ঐতিহাসিক ফলক ও ভবনগুলোর অবস্থাও একইভাবে জরাজীর্ণ। ফলকের লেখা মলিন হয়ে গেছে, আর খালের পাশে থাকা পুরনো ভবনটি এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। একসময় যেখানে উন্নয়ন কার্যক্রম ও কৃষকদের সমাবেশ হতো, সেখানে এখন আগাছা আর নীরবতা।
স্থানীয় প্রবীণরা জানান, খাল খননের সময় মানুষের মধ্যে যে উদ্দীপনা ও অংশগ্রহণ ছিল, তা আজও তাদের স্মৃতিতে জ্বলজ্বল করছে। তাদের মতে, এই খাল শুধু পানি নিষ্কাশনের মাধ্যম ছিল না, এটি ছিল এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের একটি প্রতীক। ১১৪ বছর বয়সী বৃদ্ধ আব্দুল বারেক মন্ডল জানান, আমাদের দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে আমাদের এলাকায় কৃষি জমি থাকলেও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকার কারণে চাষাবাদ ঠিকমতো হত না। ফসল ঠিকমত না হওয়াযর কারণে প্রতিটা পরিবারের মধ্যে অভাব অনটন লেগেই থাকতো।
১৯৭৬ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আমাদের এলাকায় আসেন। আমাদের এখানকার মানুষের সাথে আলোচনা করেন কিভাবে ফসল ফলানো যায় এবং খাদ্যের স্বয়ংসম্পূর্ণতা আনা যায়। আলোচনা একপর্যায়ে উঠে আসে খাল খনন করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করলে আমাদের এখানে ভালো ফসল ফলবে এবং খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা আসবে। সে অনুযায়ী ১ নভেম্বর থেকে উলাশি যদুনাথপুর থেকে খাল খননের কাজ শুরু হয়। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তখন কোদাল দিয়ে নিজে মাটিতে কোপ দিয়ে খান খননের কাজ উদ্বোধন করেন। এই খাল খনন কাজ হয় স্বেচ্ছাস্রমের মাধ্যমে । সে সময় কোন পারিশ্রমিক দেয়া হয়নি । আমাদেরকে রুটি আর গুড় খেতে দিত । আমরা বিনা পারিশ্রমিকেই খাল-কাননের কাজ শুরু করি। এই খাল ৪ কিলোমিটার লম্বা। এই খাল মিশেছে শার্শার বেতনা নদীতে।
খাল খলনের পর পানি নিষ্কাশরের সুব্যবস্থা হওয়ায় আমাদের এখানে ফসলাদি ভালো হতে লাগলো এবং আমাদের এলাকার খাদ্য অভাব দূর হয়ে যায় । আমাদের এলাকায় এই খাল 'জিয়া 'খাল নামে পরিচিত। সে সময় জিয়াউর রহমান খাল খনন উদ্বোধন করার পর আমার ভাইয়ের মাথার একটি টোকাও নিয়ে যান। আজ সেই খাল শুকিয়ে গেছে। এই খাল দিয়ে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না হওয়ায় এখন প্রতিবছর আমাদের বর্ষা মৌসুমে ফসল ডুবে যায়। এজন্য পুনরায়খালটি কাটানো উচিত বলে তিনি মনে করেন। বর্ষা মৌসুমী পানির নিষ্কাশন ব্যবস্থা হলে ফসলাদই ভালো হবে।
উলাশী গ্রামের শফিকুল ইসলাম জানান, এলাকার মানুষের উপকারের জন্য তৎকালীন সরকার প্রধান প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান খাল খনন করলে ও সেই খাল এখন নর্দমায় পরিণত হয়েছে। এই খাল দিয়ে এখন আর পানি নিস্কাশন হচ্ছে না। গ্রামের মানুষ তাদের ঘরবাড়ির ময়লা আবর্জনা ও বাজারের সকল ময়লা আবর্জনা এই খালেই এখন ফেলছে। ময়লা আবর্জনা খালে ফেলার কারণে খাল দিয়ে পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে গেছে। তাছাড়া জিয়াউর রহমান মারা যাওয়ার পরে এই খাল কোন সরকার আর সংস্কার করেনি।
যেহেতু আবারও খাল খননের কাজ শুরু করেছেন জিয়াউর রহমানের ছেলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এজন্য আমাদের দাবি প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যখন প্রথম খাল খননের কাজ এখান থেকেই শুরু করেন তাই আমরাও চাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও যেন এখান থেকেই খাল খননের কাজ শুরু করবেন। শার্শা উপজেলা একটি কৃষি প্রধান এলাকা। এই এলাকায় জিয়ার খালটি পুনরায় খনন করলে আমরা আবারও কৃষিতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে পারব।
শার্শা উপজেলা যুবদল নেতা এমদাদুর রহমান ইমদা জানান, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পুত্র তারেক রহমান আমাদের দেশের এখন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাবার পথেই হাঁটতে শুরু করেছেন। তিনি ইতিমধ্যে খাল খননের কাজ উদ্বোধন করেছেন। আমরা আশা করছি খুব শিগগিরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদের এই উপজেলার উলাশী জিয়া খাল পুনরায় খননের কাজ শুরু করবেন।
কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সমন জারি করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলা আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সুমন ভূঁইয়া এই সমন জারি করেন। সিরাজগঞ্জ জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর শাকিল মোহাম্মদ শরিফুল হায়দার ওরফে রফিক সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বৃহস্পতিবার সকালে কুষ্টিয়া-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে মামলাটি করেন সিরাজগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর হুমায়ুন কবির কর্নেল। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী আখ্যা দেওয়ার অভিযোগে মামলাটি করা হয়।
সিরাজগঞ্জ জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর শাকিল মোহাম্মদ শরিফুল হায়দার বলেন, ‘জ্বালানিমন্ত্রীকে নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী বলায় সকালে হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। আদালত সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে হাজির হতে সমন জারি করেছেন। আমি এই মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী।’
উল্লেখ্য, একই অভিযোগে মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে গত ৩০ মার্চ সিরাজগঞ্জের আদালতে ১০০ কোটি টাকার মানহানির আরেকটি মামলা দায়ের হয়। ওই মামলার বাদী জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম নাজমুল ইসলাম।
পাবনা জেলা পুলিশের আয়োজনে অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে ‘রাজশাহী রেঞ্জ আন্তঃজেলা ক্রিকেট টুর্নামেন্ট-২০২৬’। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে পাবনা পুলিশ লাইন্স মাঠে বেলুন উড়িয়ে এই টুর্নামেন্টের জমকালো উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পাবনার পুলিশ সুপার (এসপি) আনোয়ার জাহিদ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, পুলিশের পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক উৎকর্ষ সাধনে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। এই টুর্নামেন্ট জেলা পুলিশ সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করবে।
টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশ দল বনাম সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ দল। দুই দলের খেলোয়াড়দের উপস্থিতিতে মাঠজুড়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
এ সময় বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মশিউর রহমান মন্ডল এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শরিফুল ইসলাম। এছাড়াও পাবনা পুলিশ লাইন্সের আরআইসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং অংশগ্রহণকারী দলসমূহের খেলোয়াড়রা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রাজশাহী রেঞ্জের বিভিন্ন জেলা পুলিশ দলের অংশগ্রহণে এই টুর্নামেন্ট কয়েক দিনব্যাপী চলবে। প্রতিযোগিতামূলক এই আয়োজনে বিজয়ী হওয়ার লক্ষ্যে দলগুলো তাদের সেরা নৈপুণ্য প্রদর্শনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে কুষ্টিয়ায় সড়ক ও রেললাইন অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে নিহতের স্বজনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল ১০টায় শহরের মজমপুর গেটে বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। ঘণ্টাব্যাপী চলা এ কর্মসূচিতে সড়কের দুপাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।
এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘প্রায় এক মাস হয়ে হয়ে এখনও সংশ্লিষ্ট আসামিদের গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ। শুধু ফজলুকে (প্রধান আসামি) গ্রেফতার দেখিয়ে অন্য আসামিদের পার করে দিচ্ছে প্রশাসন। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও সহযোগিতা করছেন না। খুনিদের গ্রেপ্তার ও বিচার না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে।’
পরবর্তীতে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করে দাবিদাওয়া পেশ করেন পুলিশ সুপারকে। পুলিশ কর্মকর্তাদের আশ্বাসে এলাকা ত্যাগ করেন তারা।
নিহত রুনার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান ও তার বড় মেয়ে তাইবা বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে আলাপ শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে নিহতের স্বামী বলেন, ‘আমরা পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলেছি, উনারা আশ্বস্ত করছেন। কিন্তু আমাদের মনে হলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অসহযোগিতা করছেন। দ্রুত বিচার না পেলে পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি ভবন ঘেরাও কর্মসূচি দেওয়া হবে।’
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া প্রধান আসামির ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। দ্রুত জিজ্ঞেসাবাদ শেষ হলে প্রকৃত ঘটনা উন্মোচিত হবে। অন্যান্য আসামিদের ব্যাপারেও তদন্ত সাপেক্ষে গ্রেপ্তারের অভিযান চলমান।
উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ বিকেলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের প্রধান আসমা সাদিয়া রুনা তার নিজ অফিস কক্ষে খুন হন। এসময় ওই কক্ষ থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনহাজিরার কর্মচারী ফজলুর রহমানকে। আহত অবস্থায় উদ্ধার করে দু’জনকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিলে আসমা সাদিয়া রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। এ হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফজলু রহমানের চিকিৎসা শেষে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকি তিন আসামি সমাজ কল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার ও সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান এবং সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস এখনো অধরা রয়েছে।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ৩ হাজার ২০০ লিটার ডিজেল ও ৩ হাজার লিটার পেট্রোল জব্দ করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল সাড়ে নয়টায় পৌর শহরের ফেরিঘাট সংলগ্ন আন্ধারমানিক নদীতে নোঙর করা একটি ট্রলার থেকে এসব জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়।
পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদীক ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন। এ সময় অবৈধভাবে তেল সরবারহের দায়ে বিসমিল্লাহ ফিলিং স্টেশনের মালিককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং জব্দ তেল সরকারি কোষাগারে জমা রাখা হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদীক বলেন, ফিলিং স্টেশন থেকে অবৈধভাবে তেল নিয়ে ট্রলারটি কলাপাড়া থেকে রাঙ্গাবালীর উদ্দেশে রওয়ানা দেয়। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ট্রলার থেকে ৩১ ব্যারেল ডিজেল ও ৩০ ব্যারেল পেট্রোল জব্দ করা হয়। তেল মজুতদার ও অবৈধ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
শরীয়তপুরে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এখন থেকে মোটরসাইকেল চালকরা দিনে মাত্র একবার জেলার একটি ফিলিং স্টেশন থেকে তেল নিতে পারবেন। দ্বিতীয়বার তেল নিতে গেলে বিশেষ একটি অ্যাপস স্বয়ংক্রিয়ভাবে সতর্কবার্তা দিচ্ছে। ফলে অতিরিক্ত তেল মজুতের সুযোগ থাকছে না।
জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে চালু করা এই ডিজিটাল অ্যাপসে পাম্পে তেল নিতে গেলে আগে পূরণ করতে হচ্ছে একটি নির্দিষ্ট ফরম। সেখানে পাম্পের নাম, মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর, জ্বালানির ধরন ও পরিমাণ উল্লেখ করতে হচ্ছে। তথ্যগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে জেলার সব পেট্রোল পাম্পে শেয়ার হয়ে যাচ্ছে। ফলে একাধিক পাম্প ঘুরে ঘুরে তেল সংগ্রহ করার সুযোগ আর থাকছে না অসাধুচক্রের।
ফিলিং স্টেশন মালিক ও জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর জেলায় মোট ছয়টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। প্রতিদিন এসব স্টেশনে ৪০ হাজার লিটার ডিজেল, ১৫ হাজার লিটার পেট্রোল ও ১২ হাজার লিটার অকটেনের চাহিদা থাকে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে প্রয়োজন অনুযায়ী তেল না পাওয়ায় সংকট তৈরি হয়েছে। এতে বেশ কিছুদিন ধরে বিভিন্ন পেট্রোলিয়াম কোম্পানির ডিপো থেকে স্টেশনগুলোতে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে না। সেই সুযোগে একটি অসাধু চক্র বিভিন্ন পাম্পে ঘুরে ঘুরে প্রয়োজনের তুলনায় অধিক তেল সংগ্রহ করে মজুত রাখছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা প্রশাসন চালু করেছে বিশেষ অ্যাপস-ভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা। যেখানে পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করতে গেলে অ্যাপসের মাধ্যমে পূরণ করতে হচ্ছে জ্বালানি তথ্য ফর্ম। আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে এ তথ্য চলে যাচ্ছে জেলার প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে। এতে পাম্প ঘুরে ঘুরে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করে মজুতের সুযোগ মিলছে না অসাধু চক্রের। ফলে প্রকৃত গ্রাহকরা তেল পাচ্ছেন স্বাচ্ছন্দ্যে।
পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে এসে বিকাশের সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ মো. ফয়সাল বলেন, আগে অনেকেই প্রয়োজন না থাকলেও বিভিন্ন পাম্পে ঘুরে ঘুরে ১০ থেকে ১৫ লিটার পর্যন্ত তেল সংগ্রহ করে মজুত করতেন। এখন অ্যাপসের কারণে সেটা সম্ভব হচ্ছে না। তেল সিন্ডিকেট ঠেকাতে এটি খুবই কার্যকর উদ্যোগ। আমরা জেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই।
আরেক বাইকচালক রুবেল হোসাইন বলেন, একজন বাইকার দিনে একবার তেল নিলে সারাদিন চলে যায়। কেউ যদি একাধিকবার নেয়, তাহলে অন্যরা বঞ্চিত হয়। এখন যেহেতু অ্যাপসের মাধ্যমে একবার তেল নেওয়ার ব্যবস্থা করেছে, এটি ভালো উদ্যোগ। এখন আর কেউ অতিরিক্ত তেল নিতে পারবে না।
মেসার্স গ্লোরী ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মেহেদী হাসান বলেন, এটি সুন্দর একটি অ্যাপস। অ্যাপসে পাম্পের নাম, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও জ্বালানির ধরন এন্ট্রি করা হয়। কেউ অন্য পাম্পে গিয়ে আবার তেল নিতে চাইলে সঙ্গে সঙ্গে সেটি ধরা পড়ে। এই ব্যবস্থা চালু থাকলে ভবিষ্যতে আর কেউ অতিরিক্ত তেল নিয়ে মজুত করতে পারবে না।
শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, আমরা তথ্য পেয়েছি, কিছু ব্যক্তি একাধিক পাম্প থেকে তেল নিয়ে মজুত করছিল। এতে প্রকৃত গ্রাহক তেল পাচ্ছিল না। এতে করে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছিল। তাই আমরা এই সংকট ঠেকাতে গুগলের মাধ্যমে একটি বিশেষ অ্যাপস তৈরি করেছি। যেখানে সকল পাম্পের তালিকা ও তেল নেওয়ার জন্য তিনটি অপশন পূরণ করতে হবে। এতে একজন বাইকার দিনে একটি পাম্প থেকে একবার তেল সংগ্রহ করতে পারবে। কেউ আর বেশি করে তেল নিয়ে মজুত করতে পারবে না। আমরা অ্যাপসটি ট্যাগ অফিসারের মাধ্যমে সব সময় মনিটরিং করছি।
জেলা প্রশাসনের এই প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগে স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ বাইকারদের মধ্যে। অনেকেই বলছেন, এমন ব্যবস্থা চালু থাকলে ভবিষ্যতে আর কৃত্রিম তেল সংকট তৈরি করা সহজ হবে না।
ঘোলা জলের একটা অগভীর ডোবা। সেখানে একটি হাতির শাবকের মরদেহ পড়ে আছে। মরদেহের বেশির ভাগ অংশই পানিতে ডুবে আছে। তার পাশেই ডোবার জলে অর্ধেক শরীর ডুবিয়ে দাঁড়িয়ে আছে মা হাতি। মা হাতির অল্প দূরে ডোবার কিনারে ঠায় দাঁড়িয়ে একটি পুরুষ হাতিও। তিন দিন ধরেই হাতি দম্পতি মৃত শাবকের জন্য এভাবে শোক জানাচ্ছে। দূরে দাঁড়িয়ে এই দৃশ্য দেখে অশ্রুসিক্ত হয়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ আর বন বিভাগের কর্মকর্তারা।
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের বটতলা মুসলিমপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। গত মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) থেকে এলাকার একটি টিলার পাদদেশের ডোবার মধ্যে হাতি দম্পতিকে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখছেন এলাকাবাসী। মৃত শাবকের পাশ থেকে নড়ছে না হাতি দুটি। পুরুষ হাতিটি রাতে খাবার খেতে জঙ্গলে ঢুকছে। ফিরে আসছে আবার। এরপর মা হাতিও খাবার খেয়ে সন্তানের পাশে এসে অপেক্ষা করছে। মঙ্গলবার থেকে তিন দিন ধরে একটিবারও হাতির দম্পতি মৃত শাবকটিকে একা রেখে যায়নি বলে জানিয়েছেন বন বিভাগের কর্মকর্তারা।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে নাইক্ষ্যংছড়ি-ঘুমধুম সড়কে বটতলা মুসলিমপাড়ার অবস্থান। এলাকাটির অবস্থান বান্দরবানে হলেও এখানকার বনাঞ্চলটি কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের রাজারকুল রেঞ্জের অধীনে।
তিন দিন ধরে বন বিভাগের কর্মকর্তারা হাতি দম্পতির বিষয়টিতে নজর রাখছেন। নাইক্ষ্যংছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক গতকাল বৃহস্পতিবার বলেন, আপাতত হাতি দম্পতিকে বিরক্ত করা হবে না। তারা শোকে কাতর। শোকের ধকল না কমা পর্যন্ত কিছুই করা যাবে না।
সোনাইছড়ি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মিলন তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, মঙ্গলবার বিকেল থেকে হঠাৎ হাতি দম্পতির এই করুণ দশা দেখতে পাই। হাতির শাবকটি অসুস্থ হয়ে মায়ের দুধ পান করতে না পেরে মারা গেছে বলে এলাকাবাসীর ধারণা।
কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মনিরুল ইসলাম জানান, নাইক্ষ্যংছড়ির সোনাইছড়ি হয়ে মিয়ানমারে চলাচলের হাতির একটি রুট আছে। ওই রুটে মিয়ানমার থেকে আসার অথবা এদিক থেকে যাওয়ার সময় হাতির শাবকটি টিলা থেকে ডোবায় পড়ে মারা গেছে ধারণা করা হচ্ছে। বাচ্চাটির বয়স ছয়-সাত মাস হতে পারে। শোকাহত হাতির দম্পতির পাশে বন বিভাগের লোকজন সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। শোকে কাতর মা হাতিটি কোনোমতে বাচ্চার মরদেহ ছেড়ে যেতে চাইছে না। তাড়িয়ে দেওয়াও যাচ্ছে না। মানসিক অভিঘাত কাটিয়ে চলে গেলে শাবকের মরদেহ উদ্ধার করা হবে। অসুস্থ হয়ে নাকি পাহাড় থেকে পড়ে শাবকের মৃত্যু তা হয়েছে, ময়নাতদন্তের মাধ্যমে জানার চেষ্টা করা হবে।
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এক নারীকে গলা কেটে হত্যা মামলায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গত বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার লক্ষ্যারচর ইউনিয়ন থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার দুজনের একজন ওই নারীর ছেলে, আরেকজন পুত্রবধূ। এরা হলেন বাঁশখালী উপজেলার পূর্ব বৈলছড়ি এলাকার মোজাফফর আহমেদের ছেলে মো. কাশেম (২৮) ও তার স্ত্রী নারগিছ আক্তার(২৫। নিহত রেহেনা বেগম (৬২) কাশেমের মা।
র্যাব জানায়, রেহেনা বেগম বড় ছেলে প্রবাসী মো. বেলাল, ছোট ছেলে কাশেম ও তার স্ত্রীর সঙ্গে বসবাস করতেন। প্রবাসী ছেলে বেলাল মায়ের চিকিৎসা ও ওষুধের জন্য স্ত্রীর মাধ্যমে কাশেমের কাছে টাকা পাঠাতেন। তবে কাশেম সেই টাকা মায়ের কাছে না দিয়ে নিজেই রেখে দিতেন। এ নিয়ে প্রায়ই তাদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ লেগে থাকত।
এর জেরে গত বছরের ৫ জুন কাশেম ও তার স্ত্রী নারগিছ মিলে রেহেনা বেগমকে গলা কেটে হত্যা করেন। ঘটনার পর থেকে তারা আত্মগোপনে ছিলেন। এ ঘটনায় নিহত রেহেনার ভাই মো. মোক্তার আহমদ বাঁশখালী থানায় মামলা করেন। পরে র্যাবের একটি দল অভিযান চালিয়ে চকরিয়া থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে।
র্যাব-৭–এর সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, গ্রেপ্তার দুজনকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাঁশখালী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
নেত্রকোনার হাওর অঞ্চলে তলিয়ে যাচ্ছে কৃষকের স্বপ্নের ফসল আকস্মিক পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় । বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের নবনিযুক্ত ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমন দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন । বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেলে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার বড়খাপন ইউনিয়নের কাউয়ার বাড়ি খাল ও তৎসংলগ্ন প্লাবিত এলাকা আকস্মিক পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং হাওর অঞ্চলের পানিবদ্ধতা নিরসনে বিগত সরকারের অনিয়ম ও দুর্নীতিকে দায়ী করেছেন। পরিদর্শনকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম, সহকারি কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল হাসান, কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিদ্দিক হোসেন, ডেপুটি স্পিকারের একান্ত সচিব সাইফুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুর রহমান ভূইয়া, বড়খাপন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম শফিক, কলমাকান্দা প্রেসক্লাব সভাপতি শেখ শামীমসহ স্থানীয় প্রশাসন ও বিএনপি এবং এর অঙ্গ সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী। এসময় সাধারণ কৃষকরা তাদের দুর্দশার কথা ডেপুটি স্পিকারের কাছে তুলে ধরেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের উদ্দেশ্যে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, “এখানকার জনবসতির একমাত্র উপার্জন হচ্ছে কৃষি। হঠাৎ পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে তাদের জমির ফসল। কেউ হয়তো কিছু ফসল পাবে, কেউ পাবে না- এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। আপাতত প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাঁধের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং কৃষকদের জন্য অনুদান দেওয়া হয়েছে। আমি নিজেও একজন কৃষকের সন্তান। কৃষকের সুবিধার্থে এবং তাদের উৎপাদিত ফসল যেন ঘরে তুলতে পারে, তার জন্য যা করণীয় আমরা তা করবো ইনশাআল্লাহ।”হাওরের করুণ এই অবস্থার জন্য পূর্ববর্তী সরকারের অব্যবস্থাপনাকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেন ডেপুটি স্পিকার।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গত ১৫-২৫ বছর ধরে এ অঞ্চলে কোনো নদী বা খাল খনন হয়নি। উল্টো বিভিন্ন জায়গায় বাঁধ দিয়ে বিগত সরকারের দলীয় নেতাকর্মীরা মাছ চাষ করে অর্থ উপার্জন করেছে। নদীর সাথে খালের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছিল। আমরা নতুন বাংলাদেশে এমন অনিয়মের ন্যায়বিচার চাই।”
তিনি আরও জানান, বর্তমান সরকার সারা বাংলাদেশেই খাল ও নদী খননের বৃহৎ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় হাওর অঞ্চলের খালগুলোও খনন করা হবে বলে তিনি কৃষকদের আশ্বস্ত করেন। নেত্রকোনার হাওর অঞ্চলের ৪২ হাজার হেক্টর জমির ফসল বর্তমানে ঝুঁকির মুখে রয়েছে উল্লেখ করে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
তিনি বলেন, “পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনেক গাফিলতি ও স্বজনপ্রীতি রয়েছে। আমি এখান থেকেই পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, সচিব এবং সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ারদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, তারা যেন অনতিবিলম্বে হাওর অঞ্চলে এসে কৃষকদের সাথে কথা বলে কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সরকার যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো একটু সক্রিয় হলেই আমরা সেই দিকে এগিয়ে যেতে পারবো।”
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের দেওড়াছড়া চা বাগানে অন্তঃসত্ত্বা এক নারী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে। চিকিৎসা সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল থেকে বাগানের শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করে বিক্ষোভ করেন।
নিহত রিয়া বেগম (২২) দেওড়াছড়া চা বাগানের স্থায়ী শ্রমিক ছাব্বির মিয়ার স্ত্রী। শ্রমিকদের অভিযোগ, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লে রিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে বাগান ব্যবস্থাপকের কাছে চিকিৎসা সহায়তা চাওয়া হয়। কিন্তু কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে দীর্ঘ চিকিৎসার পর বুধবার (১ এপ্রিল) মধ্যরাতে সিলেটের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন বাগানের শ্রমিকরা। তারা দাবি করেন, অর্থের অভাবে ও সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় রিয়া বেগমের মৃত্যু হয়েছে। এ দায় এড়াতে পারে না বাগান কর্তৃপক্ষ। এর প্রতিবাদে শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করে বাগান ব্যবস্থাপকের পদত্যাগ দাবি করেন।
বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি সুবোধ কুর্মি, নাজির আহমদ, সঞ্জয় কানু, পলাশ কর্মকার, ছালু মিয়া, লক্ষী নারায়ন, ইব্রাহিম মিয়া, সুভাষ ভৌমিজ, বাবুলাল ভৌমিজ, অজয় ভৌমিক, সেলিম মিয়া, জসিম মিয়া, বায়না মিয়া, শুকুর মিয়াসহ অনেকে।
কর্মবিরতির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান কমলগঞ্জ থানার এসআই আমির হোসেন, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের মনু-দলই ভ্যালির সভাপতি ধনা বাউরী এবং রহিমপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিতাংশু কর্মকার।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিতাংশু কর্মকার বলেন, ‘ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে শ্রমিকরা কাজে ফিরবেন, নাকি আন্দোলন অব্যাহত রাখবেন।’
এ বিষয়ে দেওড়াছড়া চা বাগানের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক জহিরুল হকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বান্দরবানের আলীকদমে কাজ না করেই টিআর, কাবিখা ও কাবিটাসহ বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা আত্নসাতের অভিযোগ উঠেছে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, ১নম্বর আলীকদম সদর ইউনিয়নের কলার ঝিরি পাকা রাস্তা থেকে চৈক্ষ্যং খালমুখী সড়ক সংস্কার নামে একটি প্রকল্পের অনুকুলে ১০.২৫ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেখানো হয়।যা
অনেক আগেই কাঠ ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনে নিজেদের টাকায় সংস্কার করা হয়েছিল। অপরদিকে ২ নম্বর চৈক্ষ্যং ইউপির ১৫ কিলো এলাকায় বরই গাছ থেকে তুলা পাড়া পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার প্রকল্পেও পুরাতন রাস্তাকে নতুন প্রকল্পের আওতায় দেখানো হয়েছে। যা বাস্তবে করেননি। বরং এরুপ একাধিক সড়ককে নতুন প্রকল্পের আওতায় দেখিয়ে কাজ না করেই সরকারি টাকা আত্নসাৎ করেছেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউপি সদস্য জানান, ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি কাজের প্রতিটি বিল উত্তোলনের সময় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কমিশন দিতে হয় তাকে। কমিশন না দিলে বিল হয়রানির শিকার হতে হয়।
এমনকি এক নারী ইউপি সদস্যকে প্রকল্পের সভাপতি বানিয়ে ওই প্রকল্পের কাজ নিজেই করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সংবাদকর্মীরা জানান, অনিয়মের তথ্য পেয়ে এবিষয়ে পিআইও কার্যালয়ে গেলে নোটিশ বোর্ডে প্রকল্পের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ টাঙানো তালিকা দেখা যায়। প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ তালিকা চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তা দিতে অস্বীকৃতি জানান।
অফিস সুত্রে জানা যায়, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার প্রকল্পের আওতায় দুর্যোগ ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে মোট ২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, ৯৫.৩৯ মেট্রিক টন চাল এবং ৯৫.৩৯ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) খাতে ৮৭ লাখ ৬২ হাজার টাকা এবং কাবিটা খাতে ১ কোটি ৫৭ লাখ ৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল।
এবিষয়ে জানতে আলীকদম উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) কে এম নজরুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিক বার কল দিলেও বন্ধ পাওয়া যায়।
আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুর আলম বলেন, অভিযোগ প্রাপ্ত প্রকল্প গুলোর মধ্যে প্রথম ধাপের ৩টি প্রকল্পের অনুকুলে ৭০ শতাংশ বিল দেয়া হয়েছে।তবে অভিযোগ প্রাপ্ত সকল প্রকল্প গুলো তদন্ত স্বাপেক্ষে আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান তিনি।
নীলফামারী জেলা পরিষদের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জেলা পরিষদ চত্বরে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাড. মিজানুর রহমান চৌধুরী ।
এসময় তিনি বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। একটি সবুজ, বাসযোগ্য জেলা গড়তে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা বাস্তবায়নে জেলা পরিষদ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল পারভেজ, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য জোটের সভাপতি প্রফেসর ড. সৈয়দ খলিলুর রহমান, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মশগুল ইসলাম এবং যুবদলের সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম মুকুলসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।