রোববার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
২১ চৈত্র ১৪৩২

তুমব্রুতে আরও একটি মর্টারশেল উদ্ধার, চরম অনিশ্চয়তায় এসএসসি পরীক্ষার্থীরা

আপডেটেড
১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ২৩:৩০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ২৩:২৯

বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে জান্তা বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহীদের ভয়াবহ সংঘর্ষের প্রভাব পড়ছে এপাড়ে কক্সবাজারের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউপির তুমব্রু সীমান্তে। তুমব্রু থেকে গত তিনদিনে দুটি অবিস্ফোরিত মর্টার শেল উদ্ধারের পর আজও আরেকটি অবিস্ফোরিত মর্টার শেল উদ্ধার করেছে বিজিবি। এ ঘটনায় আতঙ্কে আছেন স্থানীয় বাংলাদেশিরা। যদিও গত দুদিন ধরে রাখাইনে গোলাগুলির শব্দ কিছুটা কমলেও, তবে দূরে যে যুদ্ধ হচ্ছে তার প্রমাণ এই উড়ে আসা মর্টার শেল। এদিকে এমন পরিস্থিতিতে প্রাথমিকসহ বিদ্যালয়গুলো বন্ধ থাকলেও ৩ দিন পর এসএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ায় আতঙ্কে আছে স্থানীয় পরীক্ষার্থীরা। আতঙ্কের প্রথম কারণ উড়ে আসা গুলি ও মর্টার শেলে প্রাণ হারানোর ভয়, দ্বিতীয় কারণ গুলি ও অস্থিরতার কারণে পড়ায় মন না বসা, তৃতীয় কারণ সীমান্ত লাগোয়া স্থানীয় ঘুমধুম বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে কি না তা প্রশাসন থেকে এখনো সঠিকভাবে শিক্ষার্থীদের না জানানো।

এদিকে অস্ত্রসহ ঢুকে পড়া ২৩ মিয়ানমারের নাগরিককে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

কক্সবাজার ও টেকনাফ প্রতিনিধি জানান, শনিবার সকাল ৯টার দিকে তুমব্রু সড়কের ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় অক্ষত অবস্থায় মর্টার শেলটি উদ্ধার করা হয়। এই পযর্ন্ত ঘুমধুম সীমান্ত থেকে তিন দিনে ৩টি তাজা মর্টারশেল উদ্ধার হলো।

স্থানীয়রা জানান, সকালে তুমব্রু পশ্চিমকুল এলাকার ব্রিজের পাশে অবিস্ফোরিত মর্টার শেল দেখতে পায় স্থানীয়রা। পরে বিজিবিকে খবর দিলে মর্টার শেলটি উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে রাখা হয়।

এ নিয়ে ঘুমধুম সীমান্ত থেকে প্রায় ৩টি থেকে একটি নিষ্ক্রিয় করা হলেও অবিস্ফোরিত অপর দুটি মর্টার শেল নিরাপদ স্থানে রেখেছে তুমব্রু বিওপি।

স্থানীয় ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম বলেন, সকালে ব্রিজ সংলগ্ন মর্টার শেলটি দেখে বিজিবিকে খবর দেয়া হয়। পরে সেই মর্টার শেল উদ্ধার করে তারা নিরাপদ স্থানে নিয়ে গেছে।

এ বিষয়ে ঘুমধুম ইউনিয়র পরিষদ চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, ঘুমধুম সীমান্ত পরিস্থিতি এখন অনেকটাই শান্ত। তবে বিভিন্ন স্থানে পরিত্যক্ত অবস্থায় অবিস্ফোরিত মর্টারসেলের গোলা পড়ে থাকায় স্থানীয়রা কিছুটা আতঙ্কিত ।

প্রসঙ্গত নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের নয়াপাড়া থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া একটি মর্টার শেল গত শুক্রবার সেনাবাহিনী ও বিজিবির বোমা বিশেষজ্ঞ দল সফলতার সঙ্গে নিষ্ক্রিয় করেছে।

এদিকে কেন্দ্র অনিশ্চয়তায় ঘুমধুমের এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় দেশের বৃহত্তম পাবলিক পরীক্ষায় ঘুমধুমের পরীক্ষার্থীরা নিজ বিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিতে পারবে কিনা তা নিযে এখনো রয়েছে অনিশ্চয়তা।

শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, নাইক্ষ্যংছড়ির বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতো ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয়ে। তবে গত বছরও সীমান্তের পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় শেষ মুহূর্তে এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র পাল্টে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল কুতুপালং উচ্চবিদ্যালয়ে। এবার কুতুপালং উচ্চ বিদ্যালয়কেও বিবেচনায় রাখছে না প্রশাসন।

বান্দরবানের জেলা প্রশাসক শাহ মুজাহিদ উদ্দিন বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্র সরিয়ে নেওয়া হবে। তবে এবার কুতুপালং নয়, অন্য বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্র সরিয়ে নেওয়া হবে।

ঘুমধুমের এসএসসি পরীক্ষার্থীরা জানান, তাদের গত সপ্তাহ কেটেছে গোলাগুলি, বোমা, মর্টার শেলের বিকট আওয়াজ আতঙ্কে। গোলাগুলি কিছুটা কমলেও গত তিনদিন ধরে সীমান্তে একের পর এক মিলছে অবিস্ফোরিত মর্টার শেল। এ নিয়ে তারা আতঙ্কে আছে।

শিক্ষার্থীরা বলছে, গুলির শব্দের কারণে কোনোভাবেই মনোযোগ দেওয়া যায় না লেখাপড়ায়। আতঙ্কে তারা নিজেরাই বাড়িতে থাকতে পারছে না। পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হলেও মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশের সদস্যদের ধুমধুম উচ্চ বিদ্যালয়ে রাখা হয়েছে। ফলে শেষ মুহূর্তের কোচিং ও ক্লাসও বন্ধ হয়ে গেছে। প্রাণভয় আর আতঙ্গের পামাপাশি কেন্দ্র নিয়ে অনিশ্চয়তায় তারা কেমন করে এসএসসি পরীক্ষা দেবে সেটােই ভেবে পাচ্ছে না।

অস্ত্রসহ আটক ২৩ মিয়ানমার নাগরিককে কারাগারে পাঠানোর আদেশ

এদিকে সীমান্ত থেকে আটক অস্ত্রধারী ২৩ মিয়ানমার নাগরিককে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করেছে বিজিবি। গতকাল শনিবার সকালে উখিয়া থানা থেকে আটককৃতদের কক্সবাজার আদালতে আনা হয়। পুলিশ তাদের ১০ দিনের রিমান্ড চাইলে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম ফাহমিদা সাত্তারের আদালত তা নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।

উখিয়া থানার ওসি মো. শামীম হোসেন বলেন, বাংলাদেশ অবস্থিত শরণার্থী শিবিরের তালিকাভুক্ত এই রোহিঙ্গারা কী কারণে, কীভাবে মিয়ানমারে গিয়েছিলেন তা জানার চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, গত মঙ্গলবার ভোর ও রাতে সীমান্ত দিয়ে এই অস্ত্রধারী রোহিঙ্গারা অনুপ্রবেশ করার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় লোকজন তাদের আটক করে বিজিবির কাছে সোপর্দ করে।

পরে শুক্রবার দুপুরে উখিয়া থানায় বিজিবির এক সদস্য বাদী হয়ে ওই রোহিঙ্গাদের আসামি করে মামলা করেন এবং তাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। স্থানীয়রা বলছেন, পালিয়ে আসা এই ব্যক্তিরা আরাকান রোহিঙ্গা আর্মির (এআরএ) সদস্য। সশস্ত্র এই বিচ্ছিন্নতাবাদী দলটির প্রধান হচ্ছেন নবী হোসেন।

বিজিবির তথ্য বলছে, এই নবী হোসেন সীমান্তে মাদক ও অস্ত্র পাচারসহ নানা অপরাধের হোতা, যাকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করা আছে।

রাখাইনে জান্তার সর্বশেষ ঘাঁটি দখলের দাবি আরাকান আর্মির

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী গ্রুপ আরাকান আর্মির যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাখাইনে সামরিক জান্তার সর্বশেষ শক্ত ঘাঁটি মরাউক ইউ শহর নিজেদের দখলে নেওয়ার দাবি করেছে আরাকান আর্মি। তাদের দাবি, সম্প্রতি এই যুদ্ধে তারা জান্তাবাহিনীর তিনটি নৌ ‘ল্যান্ডিং ক্রাফট’ ডুবিয়ে দিয়েছে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য ইরাবতি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসে বিদ্রোহীরা রাখাইনের বিভিন্ন নদীতে আরও কমপক্ষে সাতটি নৌযান ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বৃহস্পতিবার মরাউক ইউতে পুলিশ ব্যাটালিয়ন ৩১ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে আরাকান আর্মি। এর অর্থ হলো ওই শহরটি এখন আরাকান আর্মির পুরো নিয়ন্ত্রণে।

রাখাইনের গণমাধ্যমের বরাতে ইরাবতি বলছে, মিনবাইয়া এবং কাইউকতোয়া শহর আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে এসব রিপোর্ট নিরপেক্ষ সূত্র থেকে যাচাই করতে পারেনি ইরাবতি। এই যুদ্ধ মনিটরিং করছেন এমন একজন রাখাইন অধিকারকর্মী বলেছেন, ওই তিনটি শহর থেকে সামরিক জান্তার সেনাদের একেবারে তাড়িয়ে দেওয়া গেছে- এমনটা এত তাড়াতাড়িই বলা যাবে না। শুক্রবারও রামরি শহর এবং এর আশপাশের গ্রামে সেনাবাহিনী কমপক্ষে ২৫টি গোলা নিক্ষেপ করেছে একটি নৌযান থেকে।

একই দিনে ওই শহরে অবস্থিত থেইন টাউং কোনে প্যাগোডায় জান্তার একটি আউটপোস্টেও গোলা নিক্ষেপ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাথেডাং শহরে কোয়ে টান কাউক সীমান্ত আউটপোস্টে হামলা করেছে আরাকান আর্মি। একই এলাকায় সামরিক জান্তা বাহিনীর বিরুদ্ধেও হামলা হয়েছে।

রামরি এবং রাথেডাংয়ের অধিবাসীরা শুক্রবার বলেছেন, যুদ্ধ অব্যাহত আছে। জান্তাবাহিনী আকাশপথে অব্যাহত হামলা চালাচ্ছে। এর জবাবে আরাকান আর্মি বিবৃতি দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক লোকজনকে হত্যা ও তাদের ওপর হামলা করছে সামরিক জান্তা। এটা জেনেভা কনভেনশনের সরাসরি লঙ্ঘন। এর মধ্য দিয়ে তারা যুদ্ধাপরাধ করছে।


জ্বালানি সংকটে ভোলা বিসিক শিল্প নগরীর দুই কারখানা বন্ধের মুখে

আপডেটেড ৪ এপ্রিল, ২০২৬ ২১:০৫
ভোলা প্রতিনিধি

জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে ভোলা বিসিক শিল্প নগরীর দুটি পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এতে প্রায় দুই শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

‎শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ভোলার খেয়াঘাট সড়কে অবস্থিত বিসিক শিল্প নগরীতে নিজ কারখানার সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন মেসার্স খান ফ্লাওয়ার মিল ও জেকে ট্রেডার্সের মালিক মো. জামাল উদ্দিন খান।

‎তিনি জানান, উৎপাদন ও পরিবহন খাতে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল না পাওয়ায় তার প্রতিষ্ঠান দুটির কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ইতোমধ্যে মজুদ থাকা সব ডিজেল শেষ হয়ে গেছে এবং বর্তমানে কোনো ধরনের জ্বালানি মজুদ নেই। জামাল উদ্দিন খান বলেন, “আমাদের নিকটবর্তী নদীঘাট থেকে গুদামে গম পরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয় যানবাহন চালাতে ডিজেল দরকার, কিন্তু তা পাওয়া যাচ্ছে না। একইভাবে উৎপাদিত ময়দা, ভূষি ও মুড়ি ভোলার দক্ষিণ আইচা থেকে ইলিশা ফেরিঘাটসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।”

‎তিনি আরও বলেন, “আজ থেকেই যদি ডিজেল সরবরাহ না পাই, তাহলে চরফ্যাশন, লালমোহনসহ বিভিন্ন উপজেলায় পণ্য পৌঁছানো বন্ধ হয়ে যাবে। এতে উৎপাদন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়বে এবং বাধ্য হয়ে প্রতিষ্ঠান দুটি বন্ধ করতে হতে পারে।”

‎সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে খোঁজ নিয়েও ডিজেল সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় শিল্প প্রতিষ্ঠান দুটিকে টিকিয়ে রাখতে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

‎এসময় প্রতিষ্ঠান দুটিতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও উপস্থিত ছিলেন এবং তারাও দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান।


রাজধানীতে দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবদল নেতা গুলিবিদ্ধ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর কোতোয়ালি এলাকায় দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলিতে রাসেল (৩১) নামে যুবদলের এক সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাত পৌনে ৯টার দিকে কোতোয়ালি থানার নয়াবাজার পার্ক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধ রাসেল কোতোয়ালি থানা যুবদলের সদস্য। তিনি রাজধানীর শ্যামপুরের আরসিং গেট এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে। বর্তমানে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে।

রাসেলের বন্ধু রিপন দাস জানান, রাতে নয়াবাজার পার্ক এলাকায় অবস্থানকালে হঠাৎ একদল দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় একটি গুলি তার বুকের বাম পাশে বিদ্ধ হয়। এরপর দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

পরে রাসেলকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রাতে নয়াবাজার এলাকা থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়। তার বুকের বাম পাশে গুলির আঘাত ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসার পর স্বজনরা তাকে বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান।


নওগাঁর পোরশায় ডাকাতি: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৪ ডাকাত আটক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁর পোরশা উপজেলায় সড়ক অবরোধ করে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় লুণ্ঠিত মালামাল এবং ডাকাতিতে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় নওগাঁ পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, নওগাঁ সদর থানার দোগাছী (দক্ষিণপাড়া) গ্রামের মৃত আবু তালেবের ছেলে গোলাম মোস্তফা শ্যামল (৫৫), মহাদেবপুর থানার শিবরামপুর গ্রামের মৃত কফিল উদ্দিনের ছেলে মোস্তাক আহমেদ জাহিদুল (৪৬), এবং সাপাহার থানার খোট্টাপাড়া গ্রামের মৃত কালু মন্ডলের ছেলে আবু তাহের (৫৬) ও তার ছেলে কামাল হোসেন (২৩)।

পুলিশ সুপার জানান, গত ৩১ মার্চ রাত আনুমানিক ৮টার দিকে পোরশা থানার সরাইগাছী-খাট্টাপাড়া সড়কের ফকিরের মোড় সংলগ্ন একটি ব্রিজের ওপর রশি টানিয়ে সড়ক অবরোধ করে ডাকাতরা। এ সময় মোটরসাইকেলে করে যাওয়া তিনজন আরোহী ডাকাতদের কবলে পড়েন। কিছুক্ষণ পর আরও একটি মোটরসাইকেলে থাকা তিনজন আরোহীকেও একইভাবে জিম্মি করা হয়। পরে তাদের পাশের একটি আমবাগানে নিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলে রাখা হয়।

ডাকাতরা ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে নগদ ৬০ হাজার টাকা, একটি স্মার্টফোন, তিনটি বাটন ফোন এবং ১২৫ সিসির দুটি ডিসকভার মোটরসাইকেল লুট করে নিয়ে যায়।

ঘটনার পর ভুক্তভোগীরা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে মাত্র ১৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন করে এবং প্রযুক্তির সহায়তায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বগুড়া, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট ও নওগাঁ জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ডাকাত চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করে। একই সঙ্গে লুণ্ঠিত মালামাল ও ডাকাতিতে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সুপার আরও জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি সড়কপথে চলাচলের সময় জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।


টিসিবির লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে বাগবিতণ্ডা, যুবককে কুপিয়ে জখম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মুলাদী (বরিশাল) প্রতিনিধি

বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে টিসিবির লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে বাগবিতণ্ডার জেরে মেহেদী হাসান (২৫) নামের এক যুবককে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ ওঠেছে। গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার কাজিরহাট থানার বিদ্যানন্দপুর ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয় এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আহত মেহেদী হাসান ওই ইউনিয়নের চরমাধব রায় গ্রামের মো. মাসুদ রানার ছেলে। এই ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- একই গ্রামের তিন ভাই রাশেদ, কাউসার ও ফয়সাল।

জানা গেছে, টিসিবির পণ্য ক্রয়ের লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে একই গ্রামের রাশেদ, কাউসার ও ফয়সাল তাকে কুপিয়ে জখম করেন। ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। এই ঘটনায় আহত যুবকের বাবা মাসুদ রানা বাদী হয়ে কাজিরহাট থানায় একটি হত্যাচেষ্টার মামলা করেন।

মাসুদ রানা বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেলে বিদ্যানন্দপুর ৯ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় টিসিবির পণ্য বিক্রি হয়। ওই সময় লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে মেহেদীর সঙ্গে রমজান ও রাশেদের কথা-কাটাকাটি হয়। সন্ধ্যায় মেহেদী বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে ভূমি অফিস এলাকায় পৌঁছালে রাশেদ, কাউসার ও ফয়সাল মিলে তার পথ আটকান। তারা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মেহেদীকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করেন। মেহেদীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে এবং অভিযুক্ত রাশেদ, কাউসার ও ফয়সালকে আটক করে। খবর পেয়ে কাজিরহাট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।’

কাজিরহাট থানার পরিদর্শক দীপঙ্কর রায় বলেন, ‘যুবককে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার যুবকদের শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’


বাগেরহাটে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পে সেবা পেলেন ৫ হাজার মানুষ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাগেরহাট প্রতিনিধি 

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার পেড়িখালী মডেল উচ্চবিদ্যালয় চত্বরে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প হয়েছে শুক্রবার (৩ এপ্রিল)। দিনভর এ চক্ষুশিবিরে প্রায় ৫ হাজার মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। এ সময় রোগীদের চাহিদামতো ওষুধ বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া চোখের ছানি ও নেত্রনালি অপারেশনের জন্য রোগী বাছাই করা হয়েছে। তাদের ঢাকায় নিয়ে চোখের অপারেশন করিয়ে দেওয়া হবে বলে জানান আয়োজকরা। বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পেয়ে খুশি দরিদ্র ব্যক্তিরা।

সকালে নিজ নির্বাচনী এলাকায় চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, ‘মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য এ প্রত্যয় নিয়ে আমরা এই আয়োজন করেছি। অন্ধত্ব প্রতিরোধ করুন—এ স্লোগানে আমাদের এই চক্ষু ক্যাম্প। এই জনপদের প্রতিটি মানুষ যারা বৃদ্ধ হয়েছেন, যৌবনে তারা জীবন-জীবিকা ও সমাজ-সভ্যতা টিকিয়ে রাখতে অনেক ভূমিকা রেখেছেন। তাদের প্রতি সমাজের দায়বদ্ধতা আছে, দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে আমাদের তাদের পাশে থাকা উচিত। এ মানুষগুলো যাতে সুন্দরভাবে দেখতে পান, সে ব্যবস্থা করার জন্যই আমাদের এই আয়োজন।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ ১৭ বছর আমরা রামপালে নিয়মিত বিনামূল্যে চক্ষুক্যাম্পের আয়োজন করেছি। এ সময়ে অন্তত ১০ হাজার মানুষের চোখের অপারেশন এবং লক্ষাধিক মানুষকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন থাকবে।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রামপাল উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাফিজুর রহমান তুহিনসহ দলের নেতা-কর্মী ও উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।


বনদস্যু আতঙ্কে থমকে আছে মধু সংগ্রহ কার্যক্রম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

সুন্দরবনে আনুষ্ঠানিকভাবে মধু আহরণ মৌসুম শুরু হলেও বনদস্যুদের আতঙ্কে কার্যত থমকে গেছে মধু সংগ্রহ কার্যক্রম। পহেলা এপ্রিল থেকে মৌসুম শুরু হলেও পূর্ব বনবিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ থেকে প্রথম দিনে কোনো মৌয়াল বা নৌকা বনে প্রবেশ করেনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একাধিক দস্যু বাহিনীর অগ্রিম চাঁদা দাবির কারণে অনেক মৌয়াল প্রস্তুতি নিয়েও বনে যেতে সাহস পাচ্ছেন না। জীবন ও সম্পদের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে তারা মধু সংগ্রহ থেকে বিরত থাকছেন। এতে করে চলতি মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ মধু ও মোম আহরণ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

শরণখোলা স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) মো. খলিলুর রহমান জানান, এ পর্যন্ত মাত্র ৮টি নৌকার বিএলসি (বোট লাইসেন্স সার্টিফিকেট) ইস্যু করা হয়েছে। যেখানে গত বছর একই সময়ে বিএলসির সংখ্যা ছিল প্রায় ৬০টি এবং মৌসুমের প্রথম দিনেই ২০টি নৌকায় দুই শতাধিক মৌয়াল বনে গিয়েছিলেন। এ বছর দস্যু আতঙ্কে একটি নৌকাও শরণখোলা থেকে বনে প্রবেশ করেনি।

তিনি আরও জানান, মৌয়ালদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বনবিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পাস গ্রহণ করলে মৌয়ালদের নৌকাবহরকে বনরক্ষীদের এসকর্ট দিয়ে বনে প্রবেশ করানো হবে।

অন্যদিকে, পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জ থেকে কিছুটা ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) দীপন চন্দ্র দাস জানান, চাঁদপাই ও ঢাংমারী স্টেশন থেকে মোট ৩২টি নৌকার বিএলসি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দিন ১৭টি নৌকায় দেড় শতাধিক মৌয়াল বনে প্রবেশ করেছেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বনদস্যুদের তৎপরতার কারণে এ বছর মৌয়ালের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ঝুঁকি এড়াতে মৌয়ালদের দলবদ্ধভাবে মধু সংগ্রহের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডপ্রবণ ভোলা নদীসংলগ্ন ২৪, ২৫ ও ২৬ নম্বর কমপার্টমেন্ট এলাকায় না যাওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব সুন্দরবনে প্রায় ১ হাজার ৩০০ জন পেশাদার মৌয়াল রয়েছেন। প্রতিবছর তারা মধু সংগ্রহে অংশ নিলেও এ বছর দস্যু আতঙ্কে পরিস্থিতি ভিন্ন। চলতি মৌসুমে ৭০০ কুইন্টাল মধু ও ২০০ কুইন্টাল মোম আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ খাত থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা রাজস্ব আদায়ের আশা করা হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে শুধু রাজস্ব ঘাটতিই নয়, মৌয়াল পরিবারগুলোও বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়তে পারে।


গারো পাহাড়ে হাতি-মানুষের দ্বন্দ্বের শেষ কোথায়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি

বৃহত্তর ময়মনসিংহের বিস্তীর্ণ গারো পাহাড়ে বিচরণ রয়েছে বন্যহাতির। একই সাথে গারো পাহাড়ের ঢালে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও সাধারণ মানুষের বসবাস। দুই যুগেরও অধিক সময় ধরে গারো পাহাড়ে পাশাপাশি হাতি ও মানুষের বসবাস। হাতির আক্রমণে মানুষের মৃত্যু, আবার হাতি হত্যাও এই অঞ্চলের মানুষের নিয়মিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

ভারত সীমান্তঘেঁষা শেরপুরের নালিতাবাড়ী, শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট এবং নেত্রকোনা ও জামালপুর পাহাড়ি এলাকায় হাতি মানুষের দ্বন্দ্ব অব্যাহত থাকলেও নেই স্থায়ী সমাধান।

সূত্র জানায়, ১৯৯৫ সালে ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে ২৫-৩০টির একটি হাতির পাল গারো পাহাড়ে প্রবেশ করে। সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া আর বিএসএফের বাধায় হাতিগুলো আর ফিরে যেতে পারেনি। সবশেষ গত দুই বছরে আরো অর্ধশতাধিক হাতি শাবকের জন্ম হয়ে গারো পাহাড়ে বর্তমানে হাতির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই শতাধিক।

একসময় পাহাড়ে যথেষ্ট খাদ্য থাকলেও বর্তমানে খাবার সংকটে পড়েছে বন্যহাতির দল। প্রতিনিয়তই মানুষের পাহাড় দখলের কারণে এই সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। পাহাড়ে খাবার না পেয়ে লোকালয়ে নেমে আসছে বন্যহাতির দল। নিজেদের খাদ্য সংগ্রহে নষ্ট করছে মানুষের ফসল, গাছপালা, বসতবাড়ি। হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে মারা পড়ছে মানুষ। ফসল রক্ষায় মানুষের দেওয়া বৈদ্যুতিক তারে জরিয়ে মৃত্যু হচ্ছে হাতিরও।

১৯৯৬ সালে প্রথম শেরপুরের ঝিনাইগাতী, নালিতাবাড়ী ও শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্তে প্রায় ৪০ কিলোমিটার পাহাড়ি এলাকাজুড়ে থাকা ৫০ গ্রামে শুরু হয় বন্যহাতির তাণ্ডব। এসব পাহাড়ি গ্রামে গারো, হাজং, কোচ, বানাই বর্মন, হিন্দু-মুসলিমসহ বিভিন্ন জাতিগোত্র মিলে লক্ষাধিক লোকের বসবাস। এরা সিংহভাগ শ্রমজীবী ও কৃষির ওপর নির্ভরশীল। এসব অঞ্চলে ক্রমেই হাতির আক্রমণ বেড়ে চলছে। আতঙ্ক নিয়েই দিন কাটছে এসব এলাকায় বসবাসকারী জনগোষ্ঠীদের।

ভুক্তভোগীরা জানান, প্রায় দেড় শতাধিক হাতির পাল দিনে গভীর অরণ্যে থাকে। সন্ধ্যা হলেই খাদ্যের সন্ধানে নেমে আসে লোকালয় ও ফসলি জমিতে। কৃষকরা ক্ষেতের ফসল ও জানমাল রক্ষার্থে রাত জেগে পাহারা দিয়েও রক্ষা করতে পারেন না সোনার ফসল। ঢাকঢোল পিটিয়ে, পটকা ফুটিয়ে, মশাল জ্বালিয়ে হাতি তাড়ানোর ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। কিন্তু যতই হাতি তাড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে ততই হাতির পাল পালাক্রমে তাণ্ডব চালাচ্ছে ঘরবাড়িতে।

পোড়াগাঁও ইউনিয়নের বুরুঙ্গা কালাপানি গ্রামের বাসিন্দা উকিল উদ্দিন, এরশাদ আলম ও বাদশা মিয়াসহ স্থানীয় কৃষকেরা জানান, ফসলের ক্ষতিপূরণের টাকা পেতে ভীষণ ঝামেলা পোহাতে হয়। পাহাড়ি অঞ্চলের বেশির ভাগ জমি ‘খ’ তফসিলভুক্ত। যা শত্রু সম্পত্তি ছিল। ক্ষতিগ্রস্ত জমি রেকর্ডীয় না হলে ক্ষতিপূরণও দেওয়া হয় না।

শেরপুর জেলা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ বিভাগ জানায়, ময়মনসিংহের গারো পাহাড়ে ২০১৪ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত হাতির আক্রমণে ৪২ জন মানুষ মারা গেছে। আহত হয়েছে কয়েকশ মানুষ। একই সময়ে বিভিন্ন কারণে ৩৩টি বন্যহাতির মৃত্যু হয়েছে।

বন বিভাগ জানায়, হাতি মানুষের দ্বন্দ্বে জানমালের ক্ষতি কমিয়ে আনতে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে তারা। ১০ জন করে সদস্য নিয়ে ২৫টি এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি) গঠন করেছে বন বিভাগ। হাতির আক্রমণে কেউ নিহত হলে ৩ লাখ, আহত হলে ১ লাখ ও ফসল নষ্ট হলে ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়।

বন বিভাগের মধুটিলা রেঞ্জ কর্মকর্তা দেওয়ান আলী বলেন, ‘হাতি-মানুষের দ্বন্দ্বের কোনো স্থায়ী সমাধান নেই। হাতির খাদ্যের সংকট না হয় এবং লোকালয়ে যেন না আসে সে জন্য বিপুল পরিমাণে কলাগাছসহ বিভিন্ন গাছ পাহাড়ে রোপণ করা হচ্ছে।

হাতি তৃণভোজী প্রাণীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রাণী। একটি হাতি দিনে ১৫০ কেজি ঘাস এবং ১৯০ লিটার পানি পান করে। এ কারণে খাদ্য ও পানীয়ের জন্য বড় একটা এলাকা হাতিকে ঘুরে বেড়াতে হয়। হাতিকে রক্ষা করতে না পারলে একটা সময় এই ধীর প্রজননের প্রাণীটির অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনিরুল এইচ খানের ভাষ্যমতে, হাতি ও মানুষের মধ্যে সংঘাত দিন দিন বাড়ছে, কারণ মানুষ আবাসস্থল দখল করে নিচ্ছে। হাতি রক্ষায় প্রথমে হাতির প্রাকৃতিক আবাসস্থলগুলো সুরক্ষিত করতে হবে। যেসব জায়গায় হাতি চলাচল করে সেসব জায়গায় মানুষের বসতি কমিয়ে মসলা জাতীয় ফসলের চাষ করতে হবে।


বরগুনায় হামের প্রকোপ বেড়েছে, আক্রান্ত ২৬

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরগুনা প্রতিনিধি

বরগুনা জেলায় হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) পর্যন্ত উপসর্গ নিয়ে আসা ৯৮ জনের মধ্যে ২৬ জনের শরীরে হাম এবং একজনের শরীরে রুবেলা শনাক্ত হয়েছে, যা স্থানীয় জনমনে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

জেলা সদরসহ আমতলী, পাথরঘাটা ও বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২টি করে এবং বেতাগীতে ১টি করে আলাদা শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলায় বর্তমানে ৩০টির বেশি শয্যা প্রস্তুত থাকলেও রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

জানা যায়, বরগুনা ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে হাম সন্দেহে নতুন করে ৩ জন বৃদ্ধসহ বেশ কয়েকজন ভর্তি রয়েছেন। সংক্রমণের মাত্রা নির্ধারণে ৬২ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু) ডা. মেহেদী পারভেজ জানান, গত এক মাস ধরে জেলায় এই প্রকোপ চলছে এবং প্রতিদিন বহির্বিভাগে গড়ে ২০ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে আসছেন। গুরুতর রোগীদের ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং জটিলতা দেখা দিলে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হচ্ছে বলে তিনি জানান।

জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন কামাল বলেন, হাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়লেও তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে। গ্রাম পর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করা জরুরি। বরগুনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি হাসান ঝন্টু বলেন, স্বাস্থ্যসেবায় ঘাটতির কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। তবে তিনি আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দেন।

আক্রান্ত শিশুদের স্বজনরা জানান, তীব্র জ্বর, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট, খাবারে অনীহা এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে শিশুরা। অনেক ক্ষেত্রে মুখে ক্ষতও দেখা দিচ্ছে।

জেলার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। আক্রান্তদের চিকিৎসার পাশাপাশি নমুনা পরীক্ষা ও টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তিনি সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং শিশুদের নিয়মিত এমআর (হাম-রুবেলা) টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।


ফেনীর সাদিয়া মার্কিন আকাশের দায়িত্বে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফেনী প্রতিনিধি  

ফেনী পৌরসভার রামপুর আহম্মেদ আলী পাটোয়ারী বাড়ির কৃতি সন্তান সাদিয়া আফরোজ তুরাগ প্রথম বাংলাদেশি আমেরিকান নারী হিসাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আকাশপথ নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জিং দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনিই প্রথম বাংলাদেশি আমেরিকান নারী, যিনি লাল সবুজের পতাকাকে সর্বোচ্চ সম্মানিত করেছেন।

সাদিয়া আফরোজ তুরাগ ফেনী শহরের রামপুর আহম্মেদ আলী পাটোয়ারী বাড়ির সমাজসেবক ও আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাসরত হারুন উর রশিদ ও তাবেন্দা হারুনের মেয়ে।

মেয়ের এমন সাফল্যে গর্বিত বাবার আবেগময় ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু দেওয়া হলো:

আজ আমাদের জীবনের এক অত্যন্ত গর্বের দিন। আলহামদুলিল্লাহ।

আমাদের মেয়ে সাদিয়া আফরোজ তুরাগ যুক্তরাষ্ট্রের FAA (Federal Aviation Administration) এর Air Traffic Controller হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। আমাদের জানা মতে, তুরাগ ইতিহাসে প্রথম বাংলাদেশি-আমেরিকান মেয়ে যে এই সম্মানজনক দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেল।

শুধু তাই নয়, তুরাগ তার পড়াশোনায় গোল্ড মেডেল নিয়ে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছে। সেই দিন থেকেই আমরা বাবা-মা হিসেবে তার জন্য অনেক বড় স্বপ্ন দেখতে শুরু করি। কিন্তু আজ বুঝতে পারছি, এই স্বপ্ন শুধু আমাদের নয়, তার নিজের কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য আর দৃঢ় ইচ্ছাশক্তির ফল।

এই জায়গায় পৌঁছানোর জন্য তুরাগ অনেক পরিশ্রম করেছে, অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে। একজন বাবা ও মা হিসেবে আমরা তার জন্য খুবই গর্বিত এবং কৃতজ্ঞ।

সবার কাছে আমাদের মেয়ের জন্য দোয়া চাই, যেন সে সততা, দক্ষতা ও দায়িত্বের সাথে তার কাজ করতে পারে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য অর্জন করতে পারে।


কুমিল্লায় হাসপাতালে একসাথে তিন সন্তান প্রসব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা (দক্ষিণ) প্রতিনিধি

কুমিল্লার সিডি প্যাথ হাসপাতালে একসাথে তিন সুস্থ নবজাতকের সফল ডেলিভারি সম্পন্ন হয়েছে। এ ঘটনায় হাসপাতালজুড়ে আনন্দের পরিবেশ বিরাজ করছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মা ও তিন নবজাতকই বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এটি ছিল একটি জটিল ও সংবেদনশীল ডেলিভারি, যা অত্যন্ত দক্ষতা, সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়। সফল এই ডেলিভারিটি সম্পন্ন করেন হাসপাতালের অভিজ্ঞ চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক ডা. জাহানারা সুলতানা মজুমদার (লুনা) এবং তার সহযোগী দক্ষ নার্সিং টিম।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, মা ও নবজাতকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা এবং সার্বক্ষণিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট টিম অত্যন্ত আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে। চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধান এবং নার্সিং টিমের সেবায় মা ও নবজাতকরা সুস্থভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ সময় পার করেছেন।

এমন একটি আনন্দঘন মুহূর্তের অংশ হতে পেরে সিডি হসপিটাল কর্তৃপক্ষ গর্ব প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি মা ও তিন নবজাতকের সুস্থ, সুন্দর ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা।


সামাজিক ব্যাধি রোধে সংস্কৃতি চর্চায় শিশুদের এগিয়ে নেয়ার বিকল্প নেই: কায়সার কামাল

নেত্রকোনায় সরকারি সফরে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নেত্রকোনা প্রতিনিধি

সামাজিক ব্যাধি রোধে সংস্কৃতি চর্চায় শিশুদের এগিয়ে নেয়ার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

আজ শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে নিজ নির্বাচনী এলাকা নেত্রকোনার কলমাকান্দায় জনতা কালচারাল একাডেমির বার্ষিক পরীক্ষা সনদ ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এসময় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্দ্যেশ্যে তিনি আরও বলেন, শিশুদের ছোটবেলা থেকেই সংস্কৃতিচর্চায় সম্পৃক্ত করা গেলে তারা ভবিষ্যতে মাদকসহ নানা সামাজিক ব্যাধি থেকে দূরে থাকবে। আর এ জন্য শিশুদের মধ্যে মানবিকতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা গড়ে তুলতে হবে। এটা পারলেই তারা কিশোর বয়সেই সঠিক পথে চলতে শিখবে এবং একটি সুন্দর সমাজ বিনির্মাণ সম্ভব হবে।

এছাড়াও তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতা কেবল ভূখণ্ড বা পতাকার জন্য নয়; বরং অর্থনৈতিক মুক্তি, সাংস্কৃতিক বিকাশ ও গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এ দেশ স্বাধীন হয়েছিল। সেই প্রত্যাশা পূরণে এখনো অনেক পথ অতিক্রম করা বাকি রয়েছে।

কলমাকান্দার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ উপজেলাকে অবহেলিত অবস্থা থেকে বের করে একটি মডেল এলাকায় রূপ দিতে হলে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। দল, মত বা ধর্ম নয়—মানুষের মেধা ও মননই হওয়া উচিত মূল বিবেচ্য।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম এবং জনতা কালচারাল একাডেমির নির্বাহী পরিচালক আফরোজা বেগম শিমু।

অনুষ্ঠান ছাড়াও ডেপুটি স্পিকার সরকারি সফরে নিজ এলাকার বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেন।


দেশে তেল আমদানি ও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, তেলের আমদানি ও সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে টাঙ্গাইল শহরের মাহমুদুল হাসান চাঁদ বাজার পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার আগাম তিন মাসের পরিকল্পনা নিয়েছে এবং জ্বালানি সাশ্রয়ে কিছু নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বাজার বন্ধ রাখা এবং মন্ত্রী ও সচিবদের ব্যয় ৩০ শতাংশ কমানোর বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “বিগত ১৭ বছরে শুধু উন্নয়নের বুলি শোনা গেছে, তবে বাস্তবে দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি।”

মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে সেই বাস্তব চিত্র এখন স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

টাঙ্গাইলের পার্ক বাজারের অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে ইতোমধ্যে জেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, জরুরি ভিত্তিতে সড়ক ও বাজার উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করা হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামানসহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা।


হাজারীবাগে ঢাবি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার, মুখে ‘বিষাক্ত দ্রব্য’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকায় একটি বাসা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থীর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্বজনদের দাবি, তার মুখে বিষাক্ত কোনো পদার্থের গন্ধ পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাত দেড়টার দিকে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত শিক্ষার্থীর নাম সাইদুল আমিন ওরফে সীমান্ত (২৫)। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। হাজারীবাগের মনেশ্বর রোডের একটি পাঁচতলা ভবনের নিচতলায় মেসে বসবাস করতেন তিনি।

সীমান্তের চাচা রুহুল আমিন জানান, হাজারীবাগের একটি বাসায় সাবলেট থাকতেন সীমান্ত। তার রুমমেট জানান, রাত ৯টার পর সীমান্ত তার রুমের দরজা বন্ধ করে রেখেছিলেন। বেশ কিছু সময় পেরিয়ে গেলেও তার কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে বিষয়টি বাড়ির মালিককে জানানো হয়। পরে বাসার মালিক দরজা ভেঙে সীমান্তকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরও বলেন, "সীমান্তকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় তার মুখ থেকে বিষাক্ত দ্রব্যের গন্ধ বের হচ্ছিল। এতে ধারণা করছি ওই বিষাক্ত দ্রব্য খেয়েই সীমান্ত আত্মহত্যা করেছে। তবে কেন এই কাজটি করেছে তা কিছুই বলতে পারবো না।"

নিহতের গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার বীরগাঁও গ্রামে। তার বাবার নাম সদরুল আমিন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে।


banner close