পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুরে ৪ টন সরকারি পাঠ্যবইসহ একটি ট্রাক জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। গত রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মোয়াজ্জেমপুর সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা-সংলগ্ন সড়ক থেকে এসব বই জব্দ করে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কৌশিক আহমেদ। জব্দকৃত বইয়ের বাজারমূল্য প্রায় ৫ লাখ টাকা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতের আঁধারে এসব পাঠ্যবই ঝিনাইদহ এলাকায় নিয়ে বিক্রি করতে চেয়েছিল। পরে ট্রাকে করে বইগুলো নিয়ে যাওয়ার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বইগুলো জব্দ করে উপজেলা প্রশাসন।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, ট্রাকসহ বইগুলো জব্দ করা হয়েছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্তে স্বর্ণ পাচারের চেষ্টাকালে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে মনিরুল ইসলাম মনির (২৬) নামে এক চোরাকারবারী আহত হয়েছেন। পরে তাকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) আটক করে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে গেছেন। আহত মনিরুল ইসলামকে ভারতের কৃষ্ণনগর জেলার শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে একটি সুত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের মেদিনীপুর সীমান্তের ৬১/১-এস সীমান্ত পিলার হতে ২০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে কাঁটাতারের বেড়ার নিকট এ ঘটনা ঘটে। আহত মনিরুল ইসলাম হরিহরনগর গ্রামের লিয়াকত ইসলাম ওরফে নেংটের ছেলে।
স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭ টার দিকে মনিরুল ইসলামসহ ৭ জন ভারতে স্বর্ণ পাচারের উদ্দেশ্যে ডিঙ্গি নৌকায় করে সীমান্তের কাঁটাতারের কাছাকাছি এলাকায় যান। এ সময় ভারতের ৩২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের টুঙ্গি ক্যাম্পের টহলরত বিএসএফ সদস্যরা তাদেরকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। এতে মনিরুল ইসলাম ডান পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন এবং মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে বিএসএফ সদস্যরা আহত মনিরুল ইসলামকে আটক করে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যান। এ সময় মনিরুল ইসলামের সাথে থাকা অন্যরা পার্শ্ববর্তী খালের পানিতে ঝাঁপ দিয়ে সাতরিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন।
মনিরুল ইসলামের সঙ্গে থাকা পালিয়ে আসা অন্যরা হলেন, একই গ্রামের কামাল উদ্দিনের ছেলে রাশেদ (৩২), তৈয়ব আলীর ছেলে আনিছ (৩৫), বগের ছেলে সোহান (২৫), কিনার উদ্দিনের ছেলে শাওন (২৬), মৃত বদরুদ্দিনের ছেলে মিন্টু (৩৮) এবং মতেহার হোসেনের ছেলে মশিয়ার (৪০)।
এ বিষয়ে জীবননগর থানার ওসি সোলায়মান শেখ জানান, প্রশাসনিকভাবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে মহেশপুর-৫৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (ভারপ্রাপ্ত) মেজর তোয়াসীন হাবীব হাসান জানান, মেদিনীপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকার মেইন পিলার ৬১/১-এস-এর নিকট শূন্য লাইন থেকে প্রায় ২০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে কাঁটাতারের বেড়ার সন্নিকটে গুলির শব্দ শোনা যায়। এ সময় মেদিনীপুর ক্যাম্পের বিজিবি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সীমান্তবর্তী জনসাধারণের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তারাও পাল্টা গুলি ছোড়ে। ঘটনার পরপরই সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে বারোমাসিয়া (বাণিদাহ) নদীর ওপর নির্মিত প্রায় ৩০০ ফুট দীর্ঘ বাঁশের সাঁকোর অর্ধেকের বেশি ভেঙে গেছে। এতে দুই পাড়ের অন্তত আট গ্রামের হাজারো মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। বিকল্প পথ না থাকায় কেউ বুকসমান পানিতে হেঁটে, কেউ সাঁতরে আবার কেউ ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা সাঁকো দিয়ে নদী পারাপার হচ্ছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দুই থেকে তিন মাস ধরে সাঁকোটি ভাঙা অবস্থায় পড়ে থাকলেও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, নারী, শিশু ও বয়স্করা। ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত, কৃষিপণ্য পরিবহন ও দৈনন্দিন বাজারসদাই।
জানা গেছে, উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কিশামত শিমুলবাড়ী এলাকায় নবিউলের ঘাট নামে পরিচিত স্থানে সাঁকোটির অবস্থান। দক্ষিণ পাশের মাঝামাঝি প্রায় ১৫০ ফুট অংশ ভেঙে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবে চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় চার দশক ধরে এ নদী পারাপারে ছোট ডিঙি ও মাঝারি নৌকা ব্যবহার করা হতো। করিমের ঘাট ও নবিউলের ঘাটে ইজারাদারের মাধ্যমে নৌকায় পারাপার হতেন দুই পাড়ের মানুষ। পরে নদীর প্রশস্ততা কমে এলে স্থানীয়দের উদ্যোগে সেখানে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়। প্রায় দেড় যুগ ধরে এটি দুই পাড়ের মানুষের চলাচলের প্রধান মাধ্যম।
তারা আরও জানান, প্রতি বছর বর্ষার আগে স্থানীয়ভাবে সাঁকোটি মেরামত করা হতো। তবে এবার প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়ায় বাঁশের পাটাতন ও কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে দুই থেকে তিন মাস আগে বিভিন্ন স্থানে ভেঙে যায়।
সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কিশামত শিমুলবাড়ী, চরগোরকমন্ডল, ঝাউকুটি, পশ্চিম ফুলমতি, নাওডাঙ্গা ও শিমুলবাড়ী এলাকার হকবাজার এবং লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়নের চরখারুয়া ও খারুয়া গ্রামের মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মিনতি রানী বলেন, ‘দুই-তিন মাস ধরে কষ্ট করে নদী পার হতে হচ্ছে। ছেলে-মেয়েদেরও ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যেতে হয়। এত দিনেও কেউ খোঁজ নিতে আসেনি। দ্রুত সাঁকোটি মেরামত করা প্রয়োজন।’
মুদি ব্যবসায়ী আকাশ মাহমুদ ও কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘এ পথ দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের বালারহাট বাজারে যাতায়াত করেন। দেড় থেকে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী নাওডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বালারহাট আদর্শ স্কুল, বিভিন্ন মাদ্রাসা ও ফুলবাড়ী কলেজে পড়াশোনা করে। সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় তাদের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হচ্ছে। দ্রুত সংস্কার না হলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটবে।’
বিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থী সুমন মিয়া, শাকিব ও সবুজ মিয়া এবং কলেজশিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম, আব্দুল জব্বার ও মঈনুদ্দিন জানায়, বিকল্প রাস্তা না থাকায় কখনো সাঁতরে, কখনো ভাঙা সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হচ্ছে। পারাপারের সময় অনেকে পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন। দ্রুত সাঁকোটি মেরামতের দাবি জানায় তারা।
নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ও স্থানীয় মৎস্য খামারি আতাউর রহমান রতন বলেন, ‘দুই পাড়ের মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা এই সাঁকো। এটি ভেঙে যাওয়ায় বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হচ্ছে।’
নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাছেন আলী বলেন, ‘সাঁকোটি পুনর্নির্মাণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে। এটি নির্মিত হলে দুই পাড়ের মানুষের দুর্ভোগ কমবে।’
ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহিদ হাসান বলেন, ‘সাঁকো ভেঙে স্থানীয়দের দুর্ভোগের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। দ্রুত সেখানে একটি টেকসই বাঁশের সাঁকো নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ১০জন। শনিবার (৭ নভেম্বর) বেলা ১২টার দিকে উপজেলা সদরের থানা ভবনের সামনের সড়কে এই ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে জামালগঞ্জ উপজেলা সদরে পৃথক দুটি মিছিল বের করে স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষ। মিছিল দুটি থানার সামনের সড়কে মুখোমুখি হয়। এ সময় এক পক্ষ আরেক পক্ষকে রাস্তা ছেড়ে দিতে রাজি হয়নি। এতে দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। পুলিশ এসে থামানোর চেষ্টা করে। এর মধ্যেই দুই পক্ষের ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। পড়ে লাঠিসোটা নিয়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে অন্তত ১০জন আহত হন। এর মধ্যে পাচঁজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা বিএনপির এক পক্ষে আছেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক শফিকুর রহমান, সদস্য মোহাম্মদ শাহজাহান, জুলফিকার চৌধুরীসহ অন্য স্থানীয় নেতাকর্মীরা। অন্য পক্ষে আছেন যুগ্ম আহবায়ক মাসুম মাহমুদ তালুকদার, যুগ্ম আহবায়ক আবদুল মালিকসহ অন্যরা।
মাসুম মাহমুদ তালুকদার বলেন, আমাদের মিছিল শান্তিপূর্ণ ছিল। চারজন যুগ্ম আহবায়কসহ বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদলের অসংখ্য নেতাকর্মী ছিলেন। তারা আমাদের মিছিলের পথরোধ করে লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালিয়েছে। এতে আমাদের তিন-চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
অপর পক্ষের উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য জুলফিকার চৌধুরী বলেন, তারা মিছিল শেষে উপজেলা পার্কে সমাবেশ করছিলেন। তখন প্রতিপক্ষের লোকজন এসে সেখানে মিছিল-স্লোগান দিতে শুরু করে। এতে উত্তেজনা এবং পরে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে অনেকেই আহত হয়েছেন।
জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বন্দে আলী বলেন, মূলত দুটি মিটিল মুখোমুখি হওয়ার পরই পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও মারামারি হয়েছে। এখনো দুই পক্ষ দুই জায়গায় অবস্থান করছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে আছে।
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে রেললাইনে আটকে পড়া বালুবাহী ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় লাল পতাকা উড়িয়ে ট্রেনটি থামিয়ে দেন রেলওয়ের গেটম্যান। এতে প্রাণে বেঁচে যান ট্রেনের হাজারো যাত্রী।
শনিবার (৭ নভেম্বর) বেলা ১১টা ১৫ মিনিটের দিকে কালিহাতী উপজেলার সল্লা বাসস্ট্যান্ড রেলক্রসিংয়ে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, যমুনা সেতু পার হয়ে আসা বালুবাহী ট্রাকটি সল্লা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বালু আনলোড করতে যাচ্ছিল। রেললাইন পার হওয়ার সময় হঠাৎ ট্রাকটির সামনের চাকার এক্সেল ভেঙে যায়। এতে ট্রাকটি ক্রসিংয়ের ওপর আটকে পড়ে।
ঠিক তখনই উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনটি ওই পথে আসছিল। বিষয়টি দেখে মুহূর্ত দেরি না করে স্থানীয়দের সহযোগিতায় সামনে এগিয়ে গিয়ে লাল পতাকা উড়িয়ে ট্রেন থামান গেটম্যান মিজান। তার এই তৎপরতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায় ট্রেনটি।
এরপর অন্য একটি ট্রাক দিয়ে টেনে আটকে পড়া ট্রাকটি সরানোর চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। একপর্যায়ে কাছেই মাটি কাটার কাজে থাকা একটি ভেকু (খননযন্ত্র) এনে ধাক্কা দিয়ে ট্রাকটি রেললাইন থেকে সরানো হয়।
এ বিষয়ে সল্লা বাসস্ট্যান্ডের গেটম্যান মিজান জানান, দুপুর ১২টার দিকে ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এ ঘটনায় রেললাইনের কোনো ক্ষতি হয়নি।
বাইরে থেকে দেখলে সাধারণ একটি বাড়ি। কিন্তু সেই বাড়ির আড়ালেই দীর্ঘদিন ধরে চলছিল নকল সার ও ভেজাল কীটনাশক তৈরির কারবার। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি এসব নিম্নমানের কৃষি উপকরণ বাজারজাত করে প্রতারণার শিকার হচ্ছিলেন স্থানীয় কৃষকরা। অবশেষে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সন্ধান মিলেছে এমনই একটি অবৈধ কারখানার।
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার শিবগঞ্জ দরিয়াপাড়া গ্রামের ‘এসডি এগ্রোভেট’ নামের কারখানাটিতে অভিযান চালিয়ে মালিককে ২ লাখ টাকা জরিমানা এবং তার ছোট ভাইকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে কারখানাটি সিলগালা করে কয়েক টন নকল সার, কীটনাশক ও ভেজাল পণ্য তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) সাড়ে ১০টার দিকে পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন মহাদেবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুল নাঈম বিনতে আজিজ। অভিযানে এনএসআই, এসআরবি ও পুলিশের একটি দল অংশ নেয়।
অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে লোকচক্ষুর আড়ালে গ্রামের ভেতরে অবস্থিত একটি বিশাল বাড়িতে পরিচালিত হচ্ছিল এই অবৈধ কারবার। সেখানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি করা হতো নিম্নমানের ও ভেজাল জৈবসার এবং নকল কীটনাশক। কৃষিকাজে ব্যবহারের জন্য এসব পণ্য বাজারজাত করা হলেও সেগুলোর মান ও কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। প্রয়োজনীয় মান নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপদ উৎপাদনব্যবস্থার তোয়াক্কা না করেই কারখানাটিতে এসব পণ্য তৈরি করা হচ্ছিল বলে অভিযানসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
কৃষিনির্ভর এ অঞ্চলে সার ও কীটনাশক ফসল উৎপাদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। কৃষকরা জমিতে ভালো ফলনের আশায় কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় করে এসব উপকরণ কেনেন। কিন্তু সেই সার বা কীটনাশক যদি হয় ভেজাল কিংবা নিম্নমানের, তাহলে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া তো দূরের কথা, উল্টো ফসলের ক্ষতি ও আর্থিক লোকসানের আশঙ্কা তৈরি হয়। এমনকি ক্ষতিকর রাসায়নিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার মাটি ও পরিবেশের জন্যও ঝুঁকির কারণ হতে পারে। ফলে কারখানাটির অবৈধ কর্মকাণ্ড নিয়ে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগের বিষয়টি সামনে এসেছে।
অভিযান চলাকালে প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে কারখানার মূল মালিক শাহীনূর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। তবে তার অনুপস্থিতিতেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া অবৈধ কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার অভিযোগে তার ছোট ভাই দেলোয়ার হোসেনকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।
অভিযান শেষে কারখানাটির সব কার্যক্রম বন্ধ করে সম্পূর্ণ সিলগালা করে দেওয়া হয়। এ সময় সেখান থেকে কয়েক টন নকল সার ও কীটনাশক ছাড়াও ভেজাল পণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম ও ক্ষতিকর রাসায়নিক জব্দ করা হয়।
মহাদেবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুল নাঈম বিনতে আজিজ বলেন, ‘কৃষি উপকরণের নামে ভেজাল পণ্যের উৎপাদন ও বিপণন শুধু একজন কৃষকের আর্থিক ক্ষতির কারণ নয়। এটি সামগ্রিক কৃষি উৎপাদন, খাদ্যনিরাপত্তা এবং পরিবেশের জন্যও উদ্বেগজনক। তাই কৃষকদের প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা করতে অবৈধ সার ও কীটনাশক উৎপাদন, মজুত এবং বাজারজাতের বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি করা হবে।’
পিরোজপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে প্রায় ৪৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। গত শুক্রবার (৬ নভেম্বর) পিরোজপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে এসব উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, এমপি।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, পিরোজপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. জহিরুল ইসলাম জানান, সারা দেশের ২৩টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পিরোজপুরে এই কাজগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে। গত ৫ আগস্টের পর থেকে প্রকল্পের প্রাথমিক প্রস্তুতি ও মালামাল সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে এবং ঠিকাদাররা ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় মালামাল মজুত করেছেন। এখন থেকে পুরোদমে নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।
ইনস্টিটিউটে ১৪ কোটি ৮১ লাখ টাকা ব্যয়ে সিঙ্গেল পাইল ফাউন্ডেশনসহ ৬ তলা ভিত বিশিষ্ট ৬ তলা ওয়ার্কশপ ভবন, ১১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে পাইল ফাউন্ডেশনসহ ৬ তলা প্রশাসনিক ভবন এবং ১৪ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে পাইল ফাউন্ডেশনসহ ৬ তলা একাডেমিক ভবন নির্মিত হবে। এছাড়া ৩ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে পিরোজপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের রিটেইনিং ওয়াল, বাউন্ডারি ওয়াল ও মূল গেট নির্মাণ করা হবে।
নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম আরও জানান, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন এবং শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সার্বিক তদারকি ও প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই মানসম্মতভাবে কাজগুলো সম্পন্ন করা হবে।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও ফলক উন্মোচন শেষে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এ সময় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুরের সম্মানিত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ গোলাম রব্বানী, পিরোজপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাইদুল ইসলাম কিসমত, স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, প্রকল্পের ঠিকাদারগণ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় মহিলা সার্জারি রোগীদের জন্য নির্ধারিত ওয়ার্ডে পুরুষদের অবাধ যাতায়াত ও রাত্রিযাপনের অভিযোগ উঠেছে। এতে নারী রোগীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, নিরাপত্তা ও চিকিৎসার স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দ্বিতীয় তলায় মহিলা সার্জারি রোগীদের থাকার কথা থাকলেও সেখানে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পুরুষের সমাগম ঘটছে। রোগীদের আত্মীয়স্বজন বা নিকটজন হিসেবে অনেক পুরুষ তাঁদের রোগীদের দেখতে এসে চলে যাওয়ার পরিবর্তে দীর্ঘসময় অবস্থান করছেন। এমনকি তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ রাতেও মহিলা ওয়ার্ডে রোগীদের সঙ্গে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডে নারী রোগীদের চিকিৎসা, বিশ্রাম ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সার্জারি রোগীদের শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় তাঁদের জন্য নিরিবিলি ও নিরাপদ পরিবেশ প্রয়োজন। সেখানে পুরুষদের অবাধ প্রবেশ ও রাত্রিযাপনের কারণে নারী রোগীরা অস্বস্তিতে পড়তে পারেন। পাশাপাশি নারী রোগীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়টিও প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
সচেতন মহলের দাবি, হাসপাতালে রোগীর সঙ্গে স্বজনের থাকা প্রয়োজন হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম ও নিয়ন্ত্রণ থাকা জরুরি। বিশেষ করে মহিলা ওয়ার্ডে কারা প্রবেশ করবেন, কতক্ষণ অবস্থান করবেন এবং রাতে কারা রোগীর সঙ্গে থাকতে পারবেন, সে বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা প্রয়োজন।
সচেতন মহলের মতে, মহিলা ওয়ার্ডে পুরুষদের অবাধ যাতায়াত ও রাত্রিযাপন নিয়ন্ত্রণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। প্রয়োজনে নারী রোগীদের নিরাপত্তা ও সেবার মান নিশ্চিত করতে নারী অ্যাটেনডেন্টের ব্যবস্থা, প্রবেশপথে নজরদারি এবং নির্দিষ্ট পরিচয়পত্র বা অনুমতিপত্রের মাধ্যমে স্বজনদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নার্স জানান, আমরা যখন কেনুলা করি তখন মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে রোগীর পুরুষ স্বজনরা অবস্থান করেন সেসব পুরুষরা মহিলা রোগীদের ইনজেকশন দেওয়ার সময় তাকিয়ে থাকে। আমরা ও দায়িত্বরত আনসারগণ উপস্থিত থাকলেও তারা বের হয়না ফলে রোগীরা যেমন বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে আমরাও বিব্রত হই
আধুনিক সদর হাসপাতাল পঞ্চগড় সিভিল সার্জন কাম তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মোঃ মিজানুর রহমান জানান দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান হচ্ছেনা, আমাদের দিক থেকে বিভিন্নভাবে বোঝানোর পরও রোগীর স্বজনরা মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে দীর্ঘসময় অবস্থান করেন এবং রাত্রিযাপন করেন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট, মতিঝিল ডিভিশনের উপকমিশনার আবু হানিফ মোহাম্মদ আবদুল আহাদ-এর বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং চাঁদাবাজির মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরও তিনি স্বপদে বহাল থাকায় তীব্র সমালোচনা ও তোলপাড় শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস থেকে শুরু করে রাজধানীর পোস্তগোলার আইরিশ পাব এন্ড রেস্টুরেন্ট, আখাউড়া স্থলবন্দর এবং সর্বশেষ ঢাকা ভ্যাট জোন—যেখানেই এই কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেছেন, সেখানেই সৃষ্টি হয়েছে নানা নজিরবিহীন সব বিতর্ক।
এনবিআর―এর এই কর্মকর্তা ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর কর্মস্থল ছেড়ে বিদেশ পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে হওয়া বিভাগীয় মামলা থেকে রহস্যজনকভাবে অব্যাহতি পাওয়াকে ঘিরেও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী মহল ও কাস্টমসের সাধারণ অংশীজনদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
চট্টগ্রাম কাস্টমসে শুরু ও সিঅ্যান্ডএফ কর্মীদের তোপ
আবু হানিফ মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ ২০১৭ সালে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে সহকারী কমিশনার হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন প্রথম বড় ধরনের বিতর্কে জড়ান। সেখানে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স ও নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ সিঅ্যান্ডএফ কর্মীদের সঙ্গে তার তীব্র বিরোধের সৃষ্টি হয়। তার বিরুদ্ধে হয়রানি ও অনৈতিক সুবিধা দাবির অভিযোগ এনে ক্ষুব্ধ সিঅ্যান্ডএফ কর্মীরা তাকে কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করেন এবং তার নামফলক ভাঙচুর করেন। পরবর্তীতে কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) এজেন্ট ও কর্মীদের তীব্র দাবির মুখে ও পরিস্থিতি শান্ত করতে কর্তৃপক্ষ তাকে তাৎক্ষণিকভাবে চট্টগ্রাম থেকে বদলি করতে বাধ্য হয়।
রাজস্ব বোর্ডের ওয়েবসাইটে দেওয়া বদলির আদেশে বলা হয়, ‘সার্বিক কাজকর্ম সন্তোষজনক মর্মে পরিলক্ষিত না হওয়ায় সুশাসন ও আধুনিক ব্যবস্থাপনা কাঠামোর জিরো টলারেন্স নীতির আওতায়’ তাঁকে বদলি করা হয়েছে। বদলি হওয়া কর্মকর্তাকে কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমিতে পদায়ন করা হয়েছে। ওই আদেশে ‘বদলি কর্মকর্তার দাপ্তরিক আচার-আচরণ ও নৈতিকতা, সেবাধর্মী মানসিকতা গঠন এবং ব্যক্তিত্বের বিকাশের বিষয়ে উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে সামগ্রিক উন্নতির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংশোধনের পদক্ষেপ গ্রহণের’ জন্য একাডেমির মহাপরিচালককে বলা হয়।
আইরিস বার অভিযান ও নৈতিকতা স্খলন
রাজধানীর পোস্তগোলা এলাকার একটি বারে ২০২১ সালের ২৩ মার্চ অভিযানে যায় কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সদস্যরা। সেখানেই তাদের মদপানের দৃশ্য ধরা পড়ে প্রতিষ্ঠানটির সিসিটিভির ফুটেজে। বারটিতে অভিযানে প্রায় ৩০ জনের দলকে নেতৃত্বে দেন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের তখনকার সহকারি পরিচালক আবু হানিফ মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ। ঘটনাস্থলে এসময় বারটির দেশি-বিদেশি মদ উদ্ধারে যেমন ব্যস্ত ছিলেন দলটির সদস্যরা অন্যদিকে মদপানেও ব্যস্ত ছিলেন অনেকে।
সিসি টিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষনে দেখা যায়, অভিযান পরিচালনাকারী দলের একজন আনসার সদস্য নিজে মদপান করেন। পরে তার কাছ থেকে নিয়ে শুল্ক গোয়েন্দার সদস্যরাও মদপান করতে দেখা য়ায়। ঐ অভিযানে বারটিতে কর্মরতর্ম কয়েকজন স্টাপকেও মারধর করে বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযানে গিয়ে মদ্যপান কতোটুকু যৌক্তিক এমন প্রশ্নের বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে আবু হানিফ মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, “আমার কাছে মনে হয়েছে তারা কিছু একটা খেয়েছে। আমি একদিকে বসে ছিলাম। তবে সেরকম যদি কিছু ঘটে থাকে তা তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযান এবং বৈধ মালামাল জব্দের ভিডিও চিত্র পরবর্তীতে দেশের শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলে সম্প্রচারিত হয়েছিল।
আখাউড়া স্থলবন্দর: কোটি টাকার মালামাল জব্দ ও চাঁদার মামলা
আইরিস রেস্টুরেন্টের ঘটনার পর আহাদকে আখাউড়া স্থলবন্দরে বদলি করা হয়। সেখানে দায়িত্ব পালনকালেও তার বিরুদ্ধে কাস্টমসের ক্ষমতা অপব্যবহারের চরম নজির দেখা যায়। অভিযোগ রয়েছে, বন্দর থেকে নিলামে কেনা ব্যবসায়ীদের কোটি টাকার বৈধ মালামাল সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে জব্দ করে নিয়ে যান এই কর্মকর্তা। শুধু তাই নয়, গত ২০২৪ সালের জুনে তার বিরুদ্ধে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে এক ব্যবসায়ী মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী রাশেদুল হককে দীর্ঘদিন ধরে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন আহাদ। চাঁদা না দিলে ব্যবসা বন্ধ এবং মামলা দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। এই ঘটনা স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
৫ আগস্টের পর পলায়ন ও বিতর্কিত পুনর্বাসন
সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পতিত আওয়ামী আমলজুড়ে ডিসি আহাদ ঢাকা-৪ আসনের সাবেক এমপি সানজিদা খানমকে ‘বড় বোন’ ডেকে প্রভাব বিস্তার করতেন। পাশাপাশি সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত তোফায়েল আহমেদ এবং সাবেক আইন মন্ত্রী আনিসুল হকের সঙ্গে সুসম্পর্কের সুযোগ নিয়ে একের পর এক অপকর্ম করেও পার পেয়ে গেছেন এই আহাদ।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সাবেক এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা রহমাতুল মুনিমের ঘনিষ্ঠ ও আজ্ঞাবহ হিসেবে পরিচিত এই কর্মকর্তা আইনি ঝামেলা এড়াতে অবৈধভাবে কর্মস্থল ত্যাগ করে বিদেশে পালিয়ে যান। দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার কারণে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হলেও চলতি বছরের ৫ মার্চ অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে রহস্যজনকভাবে 'অসদাচরণ ও কর্মস্থল থেকে পলায়ন'-এর গুরুতর অভিযোগ থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি দিয়ে পুনরায় স্বপদে বহাল করা হয়।
জানা গেছে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি অংশকে বড় উৎকোচ দিয়ে স্বপদে ফিরেন এই আহাদ। কেউ কেউ বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জামায়াত নেতাদের সঙ্গে তদবির করে এই আহাদ পলায়নের পর কর্মস্থলে ফেরেন। কিন্তু কর্মস্থলে ফিরে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর রাতারাতি রং বদলে বিএনপির বিভিন্ন নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ রেখে নিজেকে ‘এক্সট্রিম বিএনপি-পন্থী’ সাজার কুট কৌশল অবলম্বন করেছেন।
একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টার সাবেক শিক্ষার্থী হওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে এনবিআরের অধীনস্থ ভ্যাট, ট্যাক্স, কাস্টমস গোয়েন্দা, সিআইসি ও শুল্ক গোয়েন্দার কর্মকর্তাদের মধ্যে ওই উপদেষ্টার ঘনিষ্টজন পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন। এমনকি আহাদ ওই উপদেষ্টার এপিএস হচ্ছেন বলে এনবিআর’র গুঞ্জন ছড়ানো হচ্ছে।
আহাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক আইডি পর্যালোচনা করে স্পষ্ট ধারনা পাওয়া যায় যে, নিজের অতীত অপকর্ম ধামাচাপা দিতে তিনি রাতারাতি বিএনপিপন্থী কর্মকর্তা সেজে কাজ করছেন।
গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে এই ধরণের একজন বিতর্কিত কর্মকর্তার পুনর্বাসন সাধারণ কাস্টমস কর্মকর্তাদের মাঝে ক্ষোভ এবং ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের মাঝে নতুন করে প্রতিশোধের আতঙ্ক তৈরি করেছে।
ঢাকা প্রেস ক্লাবে মানববন্ধন ও দুদকের দ্বারস্থ সংক্ষুব্ধরা
আবু হানিফ মোহাম্মদ আব্দুল আহাদের এই বিতর্কিত পদায়ন এবং অতীতের সব দুর্নীতির বিচারের দাবিতে গত ১৩ অক্টোবর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সাধারণ নাগরিক সমাজের ব্যানারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তারা তাকে অনতিবিলম্বে বরখাস্ত করে তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির হিসাব ও দুর্নীতির তদন্ত করার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রতি জোর দাবি জানান।
ইতিমধ্যেই ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসিন্দা মো. করিম আব্দুল হাইসহ বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ব্যবসায়ী হয়রানির সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণসহ দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
সার্বিক অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আবু হানিফ মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, একটি মহল তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আর আগের বিষয় নিয়ে তিনি কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।
শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে বাজারে আসতে শুরু করেছে নতুন মৌসুমের সবজি। ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম ও বিভিন্ন ধরনের শাকের সরবরাহ বাড়ায় কিছু পণ্যের দাম কমেছে। ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের বাজারেও রয়েছে মোটামুটি স্থিতিশীলতা। তবে এই স্বস্তি পুরো বাজারে ছড়িয়ে পড়েনি। মাছ-মাংসের উচ্চমূল্য, পেঁয়াজের দামের ওঠানামা এবং চাল, তেল ও ডালের ব্যয় মিলিয়ে নিত্যপণ্যের বাজারে এখনো চাপের মুখে সাধারণ ক্রেতা। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজারের পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়লেও সব পণ্যের দাম সমানভাবে কমেনি। বিশেষ করে মাছ ও মাংস কিনতে গিয়ে ক্রেতাদের বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। ফলে বাজারে পণ্যের প্রাপ্যতা থাকলেও স্বস্তিতে কেনাকাটা করতে পারছেন না অনেক পরিবার।
সবজিতে মৌসুমি স্বস্তি, দাম এখনো চড়া: যাত্রাবাড়ী ও কাপ্তানবাজারের পাইকারি ও খুচরা বাজারে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) শিম বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, বেগুন ৬০ থেকে ৮০ টাকা। ফুলকপি প্রতি পিস ৩০ থেকে ৫০ টাকা এবং বাঁধাকপি ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
নতুন আলু কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ৯০ টাকা হলেও পুরোনো আলুর দাম ছিল ২০ থেকে ৩০ টাকা। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং কাঁচামরিচ ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি।
লালশাকের আঁটি ১৫ টাকা এবং লাউ ৪০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়লেও সব পণ্যের দাম এখনো ক্রেতাদের প্রত্যাশার তুলনায় বেশি।
ব্যবসায়ীদের মতে, শীতের সবজির সরবরাহ আরও বাড়লে বাজারে দাম কমার সুযোগ তৈরি হবে। তবে উৎপাদন এলাকা থেকে সরবরাহ, পরিবহন ব্যয় এবং চাহিদার ওপর নির্ভর করে প্রতিদিন দামের পরিবর্তন হচ্ছে।
পেঁয়াজে বাড়তি চাপ, চালের বাজারে মিশ্র পরিস্থিতি: নিত্যপণ্যের বাজারে পেঁয়াজের দাম নিয়ে ক্রেতাদের উদ্বেগ রয়েছে। সাম্প্রতিক বাজার প্রতিবেদনে রাজধানীতে পেঁয়াজের দাম দুই সপ্তাহে কেজিপ্রতি প্রায় ৩০ টাকা বেড়ে ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রির তথ্য উঠে এসেছে। স্থানীয় পেঁয়াজের মজুত কমে আসা এবং আমদানি সরবরাহ সীমিত থাকাকে এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ব্যবসায়ীরা।
তবে বাজারভেদে পেঁয়াজের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে আলাদা। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) যাত্রাবাড়ীর বাজারে দেশি পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে। ফলে একই দিনে বিভিন্ন বাজারে দামের ব্যবধান থাকায় ক্রেতাদের একাধিক দোকানে খোঁজ নিতে হচ্ছে।
চালের বাজারে মোটা চাল কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, মাঝারি চাল ৫৬ থেকে ৬৫ টাকা এবং সরু চাল ৭০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় এসব চালের দামে বড় পরিবর্তন নেই। তবে সুগন্ধি চালের খোলা বাজারে কিছুটা দরপতন দেখা গেছে।
মসুর ডাল, মুগ ডাল ও অন্যান্য ডালের দামও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে স্থিতিশীল রয়েছে। ফলে চাল-ডালের বাজারে বড় ধরনের স্বস্তি না থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যাচ্ছে না।
মুরগি ও ডিমে স্থিতিশীলতা, মাছ-মাংসে বাড়তি ব্যয়: প্রাণিজ আমিষের বাজারে মুরগি ও ডিমের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও মাছ-মাংসের বাজারে ক্রেতাদের বাড়তি ব্যয় করতে হচ্ছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) কাপ্তানবাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। যাত্রাবাড়ীতে ব্রয়লারের দাম ছিল ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকা।
কাপ্তানবাজারে লাল ডিমের ডজন ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা এবং সাদা ডিম ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। হাঁসের ডিমের ডজন ছিল ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকা।
অন্যদিকে মাছের বাজারে রুই কেজিপ্রতি ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, কাতলা ৩০০ থেকে ৫৫০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পাবদা ও শিং মাছের দাম ছিল ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা।
গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৭৮০ থেকে ৮১০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ফলে মাছ-মাংসের বাজারে পরিবারের প্রয়োজন অনুযায়ী কেনাকাটা করতে গিয়ে ক্রেতাদের হিসাব কষতে হচ্ছে।
আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে হিমশিম পরিবার: বাজারে কিছু পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকলেও সামগ্রিক ব্যয়ের চাপ কমছে না। শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ায় ক্রেতারা কিছুটা সুবিধা পাচ্ছেন। কিন্তু মাছ, মাংস, পেঁয়াজ ও অন্য প্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় সেই সুবিধার বড় অংশ কমিয়ে দিচ্ছে।
নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর জন্য প্রতিদিনের বাজার এখন শুধু পণ্য কেনার বিষয় নয়, বরং কোন পণ্য কতটুকু কেনা যাবে, তা নির্ধারণের হিসাব। মাছ-মাংসের পরিমাণ কমিয়ে সবজি দিয়ে খাবারের ব্যবস্থা করছেন অনেকে। আবার প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে গিয়ে অন্য খাতে ব্যয় কমাতে হচ্ছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়লে আগামী দিনগুলোতে কিছু পণ্যের দাম আরও কমতে পারে। তবে পেঁয়াজের ক্ষেত্রে নতুন উৎপাদন বাজারে আসা এবং আমদানি সরবরাহের পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একইভাবে মাছ-মাংসের বাজারে চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য না ফিরলে ক্রেতাদের ব্যয় কমার সম্ভাবনা সীমিত থাকবে।
সব মিলিয়ে শুক্রবারের বাজারে স্বস্তি ও চাপ—দুই পরিস্থিতিই পাশাপাশি দেখা গেছে। সবজি, মুরগি ও ডিমের বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা থাকলেও মাছ-মাংস এবং পেঁয়াজের উচ্চমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতাকে চাপে রাখছে।
মৌসুমি সবজির সরবরাহ বাড়ার ইতিবাচক প্রভাব পুরো বাজারে ছড়িয়ে পড়লে এবং প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও স্থিতিশীল হলে তবেই সাধারণ ক্রেতারা প্রকৃত স্বস্তি পাবেন।
নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করে রাশিয়া থেকে আনা ইউরেনিয়ামের পঞ্চম চালান পৌঁছেছে পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে। গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলন ও সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে এবার প্রচলিত পথের পরিবর্তে সম্পূর্ণ বিকল্প রুট ব্যবহার করা হয়েছে। ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে, পদ্মা সেতু, ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও কুষ্টিয়া হয়ে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টায় পারমাণবিক জ্বালানিবাহী তিনটি লরি প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায়।
সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পরিচালিত এই পরিবহনে পুলিশ, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা যুক্ত ছিলেন। ঢাকা থেকে ঈশ্বরদী পর্যন্ত পুরো সড়কপথে বহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।
প্রথমবারের মতো ইউরেনিয়াম পরিবহনে এই বিকল্প রুট ব্যবহার করা হয়েছে। এর আগে প্রতিটি চালান ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক, বঙ্গবন্ধু সেতু, নাটোরের বনপাড়া ও পাবনার ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া হয়ে রূপপুর প্রকল্পে নেওয়া হতো।
নিরাপত্তা বিবেচনায় বিকল্প রুট: রূপপুর প্রকল্পের সাইট ইনচার্জ কে. বি. এম. রুহুল কুদ্দুস জানান, গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলন এবং সম্ভাব্য সংঘাতের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিরাপত্তাজনিত কারণে এবার বিকল্প পথে পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহন করা হয়েছে।
নতুন রুটে রাজধানী থেকে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে পদ্মা সেতু পার হয় গাড়িবহর। এরপর ফরিদপুরের ভাঙ্গা, রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া ও পাকশীর লালন শাহ সেতু হয়ে রূপপুর প্রকল্পে পৌঁছায় ইউরেনিয়ামবাহী লরিগুলো।
পরিবহনের পুরো সময়জুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে পারমাণবিক জ্বালানির চালান প্রকল্প এলাকায় পৌঁছানো হয়।
পাঁচ চালানে পৌঁছাল পারমাণবিক জ্বালানি: এ পর্যন্ত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য অতিরিক্ত ইউরেনিয়ামের একটি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য চারটি চালানসহ মোট পাঁচটি চালান প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে।
রাশিয়া থেকে আনা এসব পারমাণবিক জ্বালানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নির্ধারিত নিরাপত্তা ও কারিগরি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে জ্বালানি পরিবহন ও প্রকল্পের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত করার প্রস্তুতি: প্রকল্প কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে ইতোমধ্যে ‘পাওয়ার স্টার্টআপ স্টেজ-সি’ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে নভেম্বরের শেষ দিকে অথবা ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।
এ লক্ষ্যে প্রথম ইউনিটের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদনের মধ্য দিয়ে জাতীয় গ্রিডে রূপপুরের বিদ্যুৎ যুক্ত করার প্রস্তুতি আরও এক ধাপ এগোবে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের আশা, নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী কার্যক্রম এগিয়ে গেলে চলতি বছরের শেষ দিকে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।
মাদক কারবারের বিস্তার ও পরিবহনে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে দাবি করেছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘মাদক একটি সমাজ ও জাতিকে ধ্বংস করে দিতে পারে। তাই মাদক কারবারে জড়িত রাজনীতিবিদদের রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, শিক্ষক, অভিভাবক ও ধর্মীয় নেতাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’ শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ: চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইশরাক হোসেন এসব কথা বলেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, ‘মাদক পরিবহন ও বিস্তারের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া কোনোভাবেই এটি সম্ভব নয়। সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশের পর তা দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দিতে একাধিক সিন্ডিকেট কাজ করে। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যও জড়িত হয়ে পড়েন।’ তবে কোনো একটি সংস্থার সবাই জড়িত, এমনটা তিনি বলছেন না।
তিনি বলেন, ‘মাদক অন্য অপরাধের মতো নয়। এটি সমাজ ও জাতিকে ধ্বংস করে দেওয়ার ভূমিকা রাখে। রাজনীতিবিদরা জনগণের বিশ্বাস নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পান। সেই রাজনীতিবিদদের কেউ মাদক কারবারের সঙ্গে যুক্ত হলে তাদের রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই।’
মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু আলোচনা ও সভা-সেমিনারে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন সংসদ সদস্য ইশরাক। তিনি বলেন, ‘২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত একটি জাতীয় গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, দেশে আনুমানিক ৮২ লাখ অবৈধ মাদক ব্যবহারকারী রয়েছেন, যা জনসংখ্যার প্রায় ৫ শতাংশ। উল্লেখযোগ্য একটি অংশ ২৫ বছর বয়সের আগেই মাদকের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাচ্ছে। দেশের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।’
মাদক সরবরাহের উৎস ও পরিবহনব্যবস্থার ওপর নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে ইশরাক বলেন, ‘মাদকের চাহিদা থাকলে সরবরাহও থাকবে। পৃথিবীর কোনো দেশেই শতভাগ মাদক নির্মূল করা সম্ভব হয়নি। তবে সরবরাহব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে এনে মাদকের বিস্তার ঠেকাতে হবে।’
মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ইশরাক বলেন, ‘ছিন্নমূল ও ঠিকানাহীন মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্র ও সমাজকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক নেতা ও সামাজিক নেতাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
ইশরাক জানান, ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণের সঙ্গে মিলে তারা একটি অলাভজনক সংগঠন গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছেন। সংগঠনটির নাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ সংগঠনের মাধ্যমে সারা দেশে আলোচনা সভা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
গোপাল হাজরার (৭৫) বাড়ি নড়াইল সদর উপজেলার মুলিয়া ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে। দারিদ্র্যের কষাঘাতে বেড়ে ওঠা এই মানুষটি ছিলেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান আমলে দক্ষিণবঙ্গের একজন নাম করা ফুটবল খেলোয়াড়। খেলার মাঠে তার পজিশন ছিল ব্যাক। অর্থাৎ তিনি ছিলেন ডিফেন্সের খেলোয়াড়। তখন এবং বর্তমান সময়ে ক্রীড়াঙ্গনে তার সমকক্ষ খেলোয়াড় দেখা পাওয়া ভার। খেলায় প্রতিপক্ষ দলের আক্রমণগুলো ঠাণ্ডা মাথায় প্রতিহত করতে সিদ্ধহস্ত ছিলেন তিনি। তার দুই পা, মাথা চলত বিদ্যুৎগতিতে।
৫ ফুট ৬ ইঞ্চি উচ্চতার এই মানুষটি পায়ে কখনো বুট, হুজ, অ্যাংক্লেট, সেফগার্ড পড়তেন না। খালি পায়েই ফুটবল খেলতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। তবে তিনি শাড়ি কাপড়ের দুই পাশের পাইর কেটে তৈরি করতেন ব্যান্ডেজ। সেই ব্যান্ডেজ দুই পায়ের পাতা ও গিড়ায় পেঁচিয়ে মাঠে নামতেন। আজব এবং সাহসী এই ফুটবলারের বাবা ছিলেন বিহারী লাল হাজরা, মা কাঞ্চন বালা। দুজনেই বেশ আগে গঙ্গা পেয়েছেন।
ফুটবল জীবনের স্মৃতিকথা বলতে গিয়ে গোপাল হাজরা বলেন, ‘ছোটবেলায় ছোলম লেবু দিয়ে বল খেলা শিখেছি। খাটি দুপুরের সময় পরের গাছ থেকে ছোলম লেবু চুরি করে পাড়তাম। নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজিয়েট স্কুলে ক্লাস সিক্সে পড়ার সময় চামড়ার বলে খেলার সুযোগ হয়।’ তিনি বলেন, ‘ক্লাস সিক্স থেকেই আমি ইন্টার স্কুলে ফুটবল খেলতে থাকি। ১৯৬৯ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান আমলে বৃহত্তর যশোর জেলার অন্তর্গত নড়াইল মহকুমা (বর্তমানে জেলা) ইন্টার স্কুল ফুটবল প্রতিযোগিতায় এবং ঢাকায় অনুষ্ঠিত জাতীয় পর্যায়ে নড়াইল ভিক্টোরিয়া স্কুল চ্যাম্পিয়ন হলে দেশব্যাপী সাড়া পড়ে যায়।’
তিনি বলেন, ‘ওই দলের সদস্য হয়ে ফুটবল খেলেছিলেন গোলকিপার আব্দুস ছাত্তার, ডিফেন্সে গোপাল হাজরা, নকুল সরকার, আব্দুল হামিদ, রকিব, আক্রমণভাগে যশোরের সাচ্চু, কায়জার, খুলনার রঘুরাম, মুনছুরসহ অনেকে। এদের মধ্যে বেশিরভাগ খেলোয়াড় পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন।’
এর আগে ১৯৬৮ সালে নড়াইল মডেল স্কুল (বর্তমানে সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়) ইন্টার স্কুল ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে প্রথমে মহকুমা চ্যাম্পিয়ন, পরে বৃহত্তর যশোর জেলা চ্যাম্পিয়ন, তারপরে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। তখন ভিক্টোরিয়া কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন মো. মোসলেম উদ্দীন।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) গণিত বিভাগের আয়োজনে বাংলাদেশ গণিত সমিতি এবং এ এফ মুজিবুর রহমান ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে খুলনা অঞ্চলের স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘১৭তম জাতীয় স্নাতক গণিত অলিম্পিয়াড-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ফুটবল মাঠে খুলনা অঞ্চলের ৪টি বিশ্ববিদ্যালয় ও ১১টি কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এই গণিত অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়।
অলিম্পিয়াডে অংশ নেয় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭টি বিভাগের শিক্ষার্থীসহ খুলনা অঞ্চলের বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা।
অলিম্পিয়াডের আহ্বায়ক ইবি’র বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক এবং জাতীয় গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. মো. মনিরুল আলম সরকার।
আয়োজকরা জানান, সকল প্রতিযোগীর জন্য থাকছে টি-শার্ট ও সনদপত্র। বিজয়ীদের জন্য থাকছে ক্রেস্ট ও সনদপত্র। এ ছাড়াও, চূড়ান্ত পর্বে সেরা ১০ জন প্রতিযোগীর জন্য রয়েছে আকর্ষণীয় অর্থ পুরস্কার। সুযোগ পাবে দেশের সেরা ৩ জন প্রতিযোগী। তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এ এফ মুজিবুর রহমান ফাউন্ডেশন আর্থিক সহযোগিতা এবং বাংলাদেশ গণিত সমিতি সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করবে।
উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন বলেন, ‘১৯৯৪ সালে কায়কোবাদের হাত দিয়ে গণিত অলিম্পিয়াডের যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, সেটা আজকে আমাদের দেশের সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে অনেকটাই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। গণিতকে উপস্থাপন করা হতো পিচ্ছিল বাঁশের উপরে বানরকে উঠানো আর নামানোর মতো, এটাকে সহজভাবেই উপস্থাপন করা যেত। সেই জায়গা থেকে গণিতকে আমাদের শিক্ষার্থীদের মাঝে সহজ বোধগম্য করে তোলার জন্যই গণিত অলিম্পিয়াডের আয়োজন করা হয়েছে।’
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ‘ডিজিটালাইজেশন ও এআই’র যুগে আজকের এই সেশনে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আপনাদের উপস্থিতি সত্যিই চমৎকার ও গুরুত্বপূর্ণ। গণিত কেবল একটি একাডেমিক বিষয় বা ক্যালকুলাস নয়; এটি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও যৌক্তিক যুক্তির মূল ভিত্তি। একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়তে গণিতের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করা জরুরি।’