শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
১৮ বৈশাখ ১৪৩৩

মিয়ানমারে গুলিবিদ্ধ হয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ রোহিঙ্গা নারীর

শনিবার বিকেলে কক্সবাজারের টেকনাফ শাহপরীরদ্বীপ সীমান্তে ছোট নৌকায় করে অনুপ্রবেশ করেন গুলিবিদ্ধ রোহিঙ্গা নারী ও নৌকার মাঝিরা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৯:০৪
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশিত
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৯:০৩

মিয়ানমার থেকে এক গুলিবিদ্ধ নারীসহ পাঁচজন রোহিঙ্গা শাহপরীরদ্বীপ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে। শনিবার বিকেল ৫টার দিকে কক্সবাজারের টেকনাফ শাহপরীরদ্বীপ সীমানন্তে ছোট নৌকায় করে তারা অনুপ্রবেশ করেন।

স্থানীয় এক জেলে জানান, বিকেল ৫টার দিকে টেকনাফ শাহপরীরদ্বীপ সীমান্তের ওপার থেকে ছোট নৌকায় এক গুলিবিদ্ধ নারী চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশে আসেন। তার সঙ্গে আরও দু’জন ছিলেন। অন্যরা নৌকার মাঝি।

টেকনাফ-২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘আমরা তাদেরকে প্রতিহত করছি এবং রাতের মধ্যে তাদেরকে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। তবে আমরা সীমান্তে টহল আরও জোরদার করা অব্যাহত রেখেছি।’

টেকনাফ শাহপরীরদ্বীপ ৯ নম্বার ওর্য়াডের ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম বলেন, ‘বিকেলে একটি ডিঙি নৌকায় মিয়ানমার থেকে ৫ রোহিঙ্গা এসে জেটি ঘাটে পৌঁছায়। খবর পেয়ে বিজিবি ঘটনাস্থলে আসে। শুনেছি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি ও সশস্ত্র বাহিনী যুদ্ধের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তারা এখানে চিকিৎসা নিতে এসেছেন।’


দীর্ঘ এক বছর পর সচল হলো টেকনাফ স্থলবন্দর, মিয়ানমার থেকে কাঠ বোঝাই ট্রলার এলো স্থলবন্দরে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি 

দীর্ঘ এক বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু হল। শুক্রবার দুপুরে মিয়ানমার থেকে একটি কাঠ বোঝাই ট্রলার টেকনাফ স্থল বন্দরে পৌঁছার মধ্যে দিয়ে বনএরর কার্যক্রম সচল হয়েছে।

শুক্রবার (১ মে) সকালে আরাকান আর্মি নিয়ন্ত্রিত মিয়ানমারের মংডু এলাকা ট্রলারটি টেকনাফের উদ্দেশ্যে রওনা হয় এবং দুপুর দেড় টার দিকে ট্রলারটি টেকনাফ স্থলবন্দরের ঘাটে এসে পৌঁছে বলে নিশ্চিত করেন বন্দরের পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্ট লিমিটেড-এর টেকনাফ শাখার মহাব্যবস্থাপক (হিসাব) মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন চৌধুরী।তিনি জানান,“একটি কাঠের বোট বন্দরে পৌঁছেছে।”

এর আগে গত ১৪ এপ্রিল কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দর পরিদর্শন করেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ওই সময় তিনি বন্দরের কার্যক্রম সচল করার ঘোষণা দেন।

ঘোষণার প্রেক্ষিতে বন্দর চালু হয়েছে জানিয়ে টেকনাফ স্থলবন্দরের শ্রমিকদের নেতা (মাঝি) শামসুল আলম বলেন,“দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় পর একটি কাঠের বোট বন্দরে এসেছে। এতে বন্দরের কার্যক্রম ফের চালু হওয়ায় শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।”

জানা যায়, শুক্রবার (১ মে) সকালে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণাধীন মিয়ানমারের মংডুর হায়েনখালী খাল থেকে বোটটি টেকনাফের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। টেকনাফের ব্যবসায়ী মো. ফারুকের কাছে বোটটি এসেছে।

উল্লেখ্য, দেড় বছর ধরে চলমান সংঘাতের কারণে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের প্রায় ২৭০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা বর্তমানে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এর ফলে নাফ নদী-এর মিয়ানমার অংশে নৌযান চলাচলও তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।

গত বছরের এপ্রিল মাসের শুরুতে পণ্যবাহী জাহাজ থেকে কমিশন (চাঁদা) দাবিকে কেন্দ্র করে আরাকান আর্মির বাধার মুখে মিয়ানমারের জান্তা সরকার সীমান্ত বাণিজ্য কার্যত বন্ধ ঘোষণা করে। এতে শতাধিক আমদানি-রপ্তানিকারক বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েন। পাশাপাশি প্রায় ৫০০ কোটি টাকার রাজস্ব হারায় বাংলাদেশ সরকার। তবে দীর্ঘ অচলাবস্থার পর এই কাঠের বোটের আগমন সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালুর সম্ভাবনার একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।


কুষ্টিয়ায় হত্যা, রাজশাহী থেকে এজাহার ভুক্ত আসামী গ্রেপ্তার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি 

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পীর পরিচিতি পাওয়া আব্দুর রহমান শামিম (৬৫) হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি রাজীব মিস্ত্রিকে (৩২) রাজশাহী থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দিবাগত রাতে ১১ টার দিকে রাজশাহীর গোদাগাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার রাজীব মিস্ত্রি ফিলিপনগর ইউনিয়নের পশ্চিম দক্ষিণ ফিলিপনগর গ্রামের গাজী মিস্ত্রির ছেলে এবং তিনি মামলার ৩ নম্বর আসামি।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে কুষ্টিয়া র‍্যাব-১২ এর কোম্পানি কমান্ডার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত সরকারের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, র‍্যাব-৫ রাজশাহী ও র‍্যাব-১২ কুষ্টিয়ার যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, পীর হত্যা, আস্তানায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলা এবং বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে জড়িতদের শনাক্ত করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার রাজিব কে আজকে দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।

এর আগে, গত রোববার ও সোমবার দিবাগত গভীর রাতে একই ইউনিয়নের পশ্চিম-দক্ষিণ ফিলিপনগর ও ইসলামপুর এলাকা থেকে বিপ্লব হোসেন (২৬), আলিফ ইসলাম (২৩) এবং দশম শ্রেণির ছাত্র আলঙ্গীর হোসেন (১৬)-কে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল কোরআন অবমাননার অভিযোগ তুলে আব্দুর রহমান শামিমকে তাঁর আস্তানার ভেতরে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ১৩ এপ্রিল নিহতের বড় ভাই, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।


নারায়ণগঞ্জে পুলিশ কর্মকর্তাসহ দুজনকে কুপিয়ে অস্ত্র ছিনতাইয়ের ঘটনায় আটক ৩

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে পুলিশের কর্মকর্তা সহ দুজনের ওপর হামলা চালিয়ে কুপিয়ে জখম করেছে একদল দুর্বৃত্ত। এ সময় পুলিশের শটগান ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে অভিযান চালিয়ে ছিনতাই হওয়া অস্ত্রটি উদ্ধার করে পুলিশ।

শুক্রবার (১ মে) ভোরে বন্দর উপজেলার চৌধুরী বাড়ী সাকিনস্থ হাবিব নগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। সেই সাথে তিনজনকে আটক করা হয়।

আহত দুই জন হলেন, মদনগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সোহেল রানা ও কনস্টেবল ফয়সাল হোসেন। তাদের মধ্যে কনস্টেবল ফয়সাল হোসেন অবস্থা গুরুতর হাওয়ায় তাকে ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৩০ এপ্রিল দিবাগত রাতে বন্দর থানায় ছিনতাইয়ের অভিযোগ পেয়ে থানার ডিউটি অফিসার বন্দরের মদনগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায় দায়িত্বরত এএসআই মোঃ সোহেল রানাকে বিষয়টি অবগত করে। পরবর্তী এএসআই মোঃ সোহেল রানা সংগীয় ফোর্সসহ অভিযোগকারীদের সঙ্গে নিয়ে বন্দর থানাধীন চৌধুরী বাড়ী সাকিনস্থ হাবিব নগর রোডস্থ জনৈক গুলু মিয়ার বাড়ীতে গেলে পুলিশের উপস্থিত টের পেয়ে অজ্ঞাতনামা ১৪-১৫ জন দুস্কৃতিকারী দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র দিয়ে পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে কনস্টেবল

ফয়সাল হোসেনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথারী কুপিয়ে গুরুত্বর রক্তাক্ত জখম করে। এসময় তার কাছ থেকে সরকারী শর্টগান ছিনিয়ে নেয়। আর এএসআই সোহেল রানার ডান পায়ে হাটুর নিচে কুপিয়ে জখম করে।

পরে খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে ও বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। তবে উন্নত চিকিৎসার জন্য কনস্টেবল ফয়সাল হোসেনকে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে নেওয়া হয় ।

পরবর্তীতে বন্দর থানা ও মদনগঞ্জ ফাঁড়ির পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে ভোরে বন্দর চৌধুরী বাড়ী এলাকায় জনৈক গুলু মিয়া বাড়ীর ভাড়াটিয়া সোহান এর টিন সেট ঘরের পিছন থেকে ছিনতাই হওয়া শর্টগানটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। এই ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসাবে তিনজনকে আটক করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বলেন, পুলিশের অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন তিন জনকে আটক করা হয়েছে।


ফরিদপুরে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যা, গ্রেফতার তিন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফরিদপুর প্রতিনিধি

ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে ফরিদপুরে ৭ বছরের শিশু আইরিন আক্তার কবিতাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মাদকাসক্ত যুবক ইসরাফিল। একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে এমন তথ্য জানিয়েছে ঘাতক ইসরাফিল। এ ঘটনায় ৩ জনকে আটক করা হয়েছে।

ইসরাফিল ফরিদপুর সদর উপজেলার গেরদা ইউনিয়নের বাখুন্ডা পূর্বপাড়ার ইবাদত মৃধার ছেলে। নিহত শিশু কবিতা একই এলাকার বাকা বিশ্বাস এর মেয়ে। সে স্থানীয় বোকাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেনীতে পড়ত।

ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় আজ শুক্রবার (১ মে) সকাল ১১টায় এক প্রেস বিফিং এ সদর সার্কেল এর সহকারী পুলিশ সুপার আজমীর হোসেন জানান, শিশুটি নিখোঁজ এর পর থানায় সাধারণ ডায়েরি করে তার পিতা। গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) শিশুটির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে সন্দেহভাজন আসামী ইসরাফিলকে আটক করে পুলিশ।

তিনি জানান, গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে ইসরাফিল জানায়, ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় সে ইয়াবা সেবন করে। পরে সে ওই শিশু কবিতাকে চকলেট খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে বাখুন্ডা আশ্রয়ন কেন্দ্রে আশিক এর পরিত্যাক্ত ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে সে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। ধর্ষনে ব্যর্থ হয়ে ইসরাফিল শিশুটির গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করে মরদেহ পাশেই নাছিমা বেগম এর বাড়ির টয়লেট এর ট্যাংকিতে ফেলে দেয়।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ট্যাংকি থেকে গন্ধ বের হলে নাসিমা ঢাকনা তুলে লাশ দেখতে পেয়ে ভীত হয়ে পড়ে। শিশু হত্যার দায় তাদের উপর চাপতে পারে এই ভয়ে নাসিমা তার ছেলে আমিন ও রহমান মরদেহটি একটি প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে বাড়ির অদুরে নিয়ে একটি কলা বাগানে ফেলে রাখে। ৩০ এপ্রিল কলা বাগানে কাজ করার সময় স্থানীয় দু'জন মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। জিজ্ঞাসাবাদে ইসরাফিল একাই শিশুটিকে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে।

পুলিশ ঘাতক ইসরাফিলকে ও লাশ গোপন করার অভিযোগে নাসিমা বেগম ও তার ছেলে আমিনকে গ্রেফতার করেছে। নাসিমা একই এলাকার মৃত আবুল কালাম আজাদ এর স্ত্রী। প্রেস বিফিং এ কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ ঘটনায় নিহত শিশুর পিতা বাকা বিশ্বাস বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে।


কিস্তি পরিশোধ না করার গৃহবধূ গ্রেফতার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করার অভিযোগে জান্নাতি খাতুন (২৫) নামের এক গৃহবধূকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার মাগুড়াবিনোদ ইউনিয়নের নাদোসৈয়দপুর পাটগাড়ীপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। জান্নাতি খাতুন স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী এবং তাঁদের আড়াই বছর বয়সী একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে আদালতের নির্দেশে জান্নাতি খাতুনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান এক গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় তাকে গ্রেফতার করে প্রথমে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছিল। আজ দুপুরে আদালতে পাঠালে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।”

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জান্নাতি খাতুনের স্বামী আব্দুর রাজ্জাক ইতিপূর্বে টিএমএসএসের নাটোরস্থ গুরুদাসপুর শাখায় কর্মরত ছিলেন। চাকরির সময় তিনি প্রায় ২৪ হাজার ৮০০ টাকা জামানত হিসেবে জমা রাখেন এবং স্ত্রীর নামে ৫০ হাজার টাকা ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে চাকরি ছেড়ে দিলেও তিনি কিস্তির মাধ্যমে ঋণের অর্ধেক টাকা পরিশোধ করেছিলেন। তবে বাকি পাওনা অর্থ তাঁর পূর্বের গচ্ছিত জামানত থেকে সমন্বয় করার জন্য এনজিও কর্তৃপক্ষকে বারবার অনুরোধ জানালেও সংস্থাটি তা প্রত্যাখ্যান করে জান্নাতি খাতুনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

এ বিষয়ে জান্নাতি খাতুনের স্বামী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘৫০ হাজার টাকা ঋণের প্রায় ২৫ হাজার টাকা কিস্তির মাধ্যমে পরিশোধ করেছি। অবশিষ্ট চাকরির জামানতের টাকা ঋণের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য সংস্থার সুপারভাইজারকে বারবার অনুরোধ করেছি। কিন্তু তারা সেটা শুনে আমার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।


দুই স্ত্রী আর পাওনা টাকার দ্বন্দে আপন ভাইকে খুন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার সোনারং গ্রামের দুই ইতালি প্রবাসী ভাইয়ের পারিবারিক বিরোধ শেষ পর্যন্ত রক্তক্ষয়ী পরিণতিতে গড়িয়েছে। ইতালির লেচ্চে শহরে বড় ভাই হুমায়ুন ফকিরের (৩৫) ছুরিকাঘাতে ছোট ভাই নয়ন ফকির (২৫) নিহত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। নিহতের পরিবার এ ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছে।

নিহত নয়ন ফকির ও অভিযুক্ত হুমায়ুন ফকির টঙ্গীবাড়ী উপজেলার পশ্চিম সোনারং এলাকার দেলোয়ার ফকিরের ছেলে।

শুক্রবার (১ মে) দুপুরে দেলোয়ার ফকিরের বাড়িতে গেলে তিনি এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) স্থানীয় সময় রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ইতালির লেচ্চে শহরে বড় ভাই হুমায়ুন ফকির উত্তেজিত হয়ে ছোট ভাই নয়ন ফকিরকে ধারালো ছুরি দিয়ে পেছন থেকে উপর্যুপরি আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই নয়নের মৃত্যু হয়।

ছোট ভাইকে হত্যার পর হুমায়ুন ভিডিও কলের মাধ্যমে দেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করেন। সেই ভিডিও কলে তিনি নয়ন ফকিরের রক্তাক্ত মরদেহ স্বজনদের দেখান এবং নিজেই তাকে খুন করেছেন বলে স্বীকারোক্তি দেন। স্বজনরা মোবাইলের স্ক্রিনে নয়নের নিথর দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। মুহূর্তেই পুরো এলাকায় এই খবর ছড়িয়ে পড়ে।

শুক্রবার (১ মে) সরেজমিনে সোনারং গ্রামে নিহত নয়নের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো পরিবেশ। বাড়িতে ভিড় করছেন উৎসুক এলাকাবাসী ও স্বজনেরা।

পরিবারের সদস্যরা জানান, হুমায়ুন ও নয়ন দুই ভাই। তাঁদের একমাত্র বোন দিলারা আক্তার। ৮-৯ বছর আগে অবৈধপথে লিবিয়া হয়ে ইতালিতে যান হুমায়ুন। পরে চার বছর আগে প্রায় ১৩ লাখ টাকা খরচ করে ছোট ভাই নয়নকে একইভাবে ইতালিতে নিয়ে যান।

সম্প্রতি বাবা-মায়ের ভরণপোষণের জন্য বিভিন্ন সময়ে দেওয়া ১৬ লাখ টাকার অর্ধেক, অর্থাৎ ৮ লাখ টাকা নয়নের কাছে দাবি করেন হুমায়ুন। নয়ন সেই টাকা দিতেও রাজি ছিলেন। এর মধ্যেই হুমায়ুনের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে পরিবারে নতুন করে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়।

স্বজনেরা জানান, হুমায়ুন দ্বিতীয় বিয়ে করার পর তাঁর বাবা দেলোয়ার ফকির নতুন স্ত্রীকে বাড়িতে তোলার বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি। একপর্যায়ে ক্ষোভে হুমায়ুনের ঘরের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন তিনি। পরিবার মনে করছে, এসব বিষয় নিয়েই হুমায়ুন ক্ষুব্ধ ছিলেন।

নিহতের বোন দিলারা আক্তার বলেন, নয়ন সব টাকা পরিশোধ করেছিল। এমনকি আরও ৮ লাখ টাকা দিতেও রাজি ছিল। কিন্তু দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকেই হুমায়ুনের সঙ্গে পরিবারের বিরোধ বাড়তে থাকে। হত্যার দিন আগে থেকেই ছুরি নিয়ে ওঁত পেতে ছিল সে। নয়ন সাইকেল চার্জ দিতে গেলে পেছন থেকে পিঠে এবং পরে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়।

হুমায়ুনের প্রথম স্ত্রী আমেনা আফরিন বলেন, প্রায় তিন বছর আগে আমাদের বিয়ে হয়। দেড় বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। বিয়ের আগ থেকেই হুমায়ুনের নিজের এক আত্মীয় নারীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। পরে দেশে এসে সেই নারীকে দ্বিতীয় বিয়ে করে আবার ইতালিতে চলে যান। সে আমাকে ঠিকমতো ভরণপোষণ দিত না। বিভিন্ন সময় মানসিক নির্যাতন করত। বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে চাপ দিত। বলত, মামলা না করলে কাবিনের ৫ লাখ টাকা দেবে এবং ছেলের জন্য প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা পাঠাবে। ১৫ দিনের মধ্যে চলে যাওয়ার শর্তে আমি সম্প্রতি তাকে তালাক দিতে রাজি হই।

হুমায়ুনের মা বিউটি বেগম বলেন, হুমায়ুন নয়নকে ইতালি নেওয়ার সময় টাকা খরচ করেছিল। কিন্তু নয়ন পরে তার চেয়ে বেশি টাকা দিয়েছে। এরপরও বাবা-মায়ের জন্য দেওয়া টাকার অর্ধেক চাইছিল। নয়ন তাতেও রাজি ছিল। কিন্তু দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে পারিবারিক ঝামেলার জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

অভিযুক্ত হুমায়ুন ফকিরের দ্বিতীয় স্ত্রী তায়েবা আক্তার বলেন, আমার সাথে তার বিয়ের আগ থেকেই প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। তাই আমরা ৮-৯ মাস আগে বিয়ে করেছি। তবে দুই ভাইয়ের দ্বন্দ পাওনা টাকা নিয়ে।

টঙ্গিবাড়ী থানা-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দুই দিন আগে ইতালি থেকে থানায় ফোন করেছিলেন হুমায়ুন। তিনি দাবি করেন, ছোট ভাইয়ের কাছে তাঁর ১৩ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে এবং এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেন। পুলিশ তাঁকে জানায়, লিখিত অভিযোগ ছাড়া ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়। পরে তাঁর প্রথম স্ত্রীকে দিয়ে পরিবারের কয়েকজনের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ করানো হয়।

পুলিশের ধারণা, দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে হুমায়ুনের পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। প্রথম স্ত্রীকে বাড়ি ছাড়তে চাপ দেওয়াকে কেন্দ্র করেও উত্তেজনা তৈরি হয়। এসব বিষয় নিয়ে তিনি পরিবার ও ভাইয়ের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন।

টঙ্গীবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুল ইসলাম ডাবলু বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ওই বাড়িতে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছে। পারিবারিক দ্বন্দ্বে এক ভাইয়ের হাতে আরেক ভাই ইতালিতে খুন হয়েছে, এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে কোন অভিযোগ পেলে পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখবে।’


চুয়াডাঙ্গায় খরগোশ হত্যা ও শিকারের অপরাধে চারজনের কারাদণ্ড

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি


চুয়াডাঙ্গায় বন্যপ্রাণি খরগোশ হত্যা ও শিকারের অপরাধে চারজনকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় উদ্ধার করা হয়েছে ৬টি মৃত ও ৫টি জীবিত খরগোশ।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ গ্রামের কেরু এন্ড কোম্পানির মাঠে বৃহস্পতিবার রাতে ওই ঘটনা ঘটে। কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন-ঝিনাইদহ জেলার সাধুহাটি গ্রামের মনোরঞ্জন বিশ্বাসের ছেলে উজ্জ্বল কুমার বিশ্বাস, একই জেলার এনায়েতপুর গ্রামের মৃত তোয়াজ আলী ছেলে সাদগার আলী, একই গ্রামের সাধু মন্ডলের ছেলে সুকুমার মন্ডল ও মোহন কুমার বিশ্বাসের ছেলে সুধাংশু কুমার বিশ্বাস।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে বন্যপ্রাণি শিকার করতে তিতুদহ গ্রামের কেরু এন্ড কোম্পানির মাঠে আসেন ১৪-১৬ জন। এসময় কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে মাঠে খরগোশ শিকারের জন্য ফাঁদ পাতেন তারা। ফাঁদে ছয়টি খরগোশ আটকা পড়লে সেগুলো দেশীয় অস্ত্র দা দিয়ে কুপিয়ে মেরে ফেলা হয়। একই সাথে পাঁচটি জীবিত খরগোশ আটকে রাখা হয়।

বিষয়টি জানতে পারেন প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক আহসান হাবীব শিপলু। বিষয়টি সদর উপজেলা বন বিভাগকে অবহিত করেন তিনি। পরে সেখানে অভিযান চালায় বন বিভাগ, স্থানীয় বাংলাদেশ ওয়ার্ল্ডলাইফ এন্ড নেচার ইনিশিয়েটিভের সদস্যরা ও পুলিশ। এসময় অন্যরা পালিয়ে গেলেও চার শিকারিকে আটক করা হয়।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা বন কর্মকর্তা আবুল খায়ের আতা জানান, ঘটনাটি সন্ধ্যার পর চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল ইসলামকে জানানো হয়। রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন তিনি। পরে বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ আইনে চার জনকে দশ দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এসময় জীবিত উদ্ধারকৃত পাঁচটি খরগোশ বনে অবমুক্ত করা হয়। মৃত খরগোশগুলো মাটিতে পুঁতে রাখা হয়। সাজা প্রাপ্তদের রাতেই পুলিশ প্রহরায় চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


গোয়ালন্দে এক‌ই পরিবারে চারজন প্রতিবন্ধী, জরাজীর্ণ ঘর-মানবেতর জীবনযাপন 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজবাড়ী প্রতিনিধি

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর মৈজদ্দিন মন্ডল পাড়া গ্রামে এক‌ই পরিবারে চারজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস সহ মানবেতর জীবনযাপন করছে।

পরিবারটি উজানচর ৩ নং ওয়ার্ড মৈজদ্দিন মন্ডল পাড়া গ্রামের মোঃ আকবর মোল্লার বড় ছেলে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মোঃ আতিয়ার মোল্লা (৪২) , তার সহধর্মিণী মোছাঃ রহিমা বিবি (৩৯), তাদের গর্ভে জন্ম নেয়া বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মেয়ে আশা আক্তার (২০), ছেলে মোঃ বাদল মোল্লা (১৬)।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জরাজীর্ণ ঘর এবং সেই ঘরে নেই তেমন কোনো আসবাবপত্র। রয়েছে একটি কাঠের চৌকি। ঠিদ্র ও বিভিন্ন স্থানে জং পরে যাওয়া টিনের চাল দিয়ে বৃষ্টির পানি ঝরছে। বৃষ্টির পানি ঘরের অধিকাংশ জায়গায় জমে আছে । সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে নাবালক সন্তান দুজনকে নিয়েই এক‌ই চোকিতে থাকতে হয় তাদের। প্রতিবন্ধী আতিয়ার মোল্লাকে প্রশ্ন করতে গেলে গেলে তিনি অধিকাংশ প্রশ্নের জবাব দিতে পারেন না। এমনকি অধিকাংশ কথা বুঝতে পারেন না তিনি। পরিবারের বাকি তিনজনের অবস্থা এক‌ই রকম।

প্রতিবন্ধী আতিয়ারের পিতা আকবর মোল্লা জানান, আতিয়ার জন্মের সময় থেকেই কানে একটু কম শুনতো। বড় হ‌ওয়ার পর বুঝতে পারলাম ওর বুদ্ধিও কম। আতিয়ার ছোট বেলা থেকেই মাঝে মধ্যে বাড়ি থেকে কোথাও চলে যেতো। অনেক খোঁজাখুঁজি করে বাড়ি আনতে হতো। আবার অনেক সময় একা একাই চলে আসতো। তিনি আরো জানান, নাবালক হ‌ওয়ার পর মনে করলাম ওকে বিয়ে দিলে হয়তো ঠিক হয়ে যাবে। বিয়ে দিয়ে পরলাম আর এক বিপদে ! যার সাথে বিয়ে দিয়ে আনলাম সে ওর থেকেও আরো বেশি বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। ওদের গর্ভে জন্ম নেয়া দুটি সন্তান‌ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী।

প্রতিবেশী রেজাউল করিম ও সহিতন বেগম জানান, পরিবারের চারজনের বুদ্ধি কম থাকায় কেউ ওদের কাজে নিতে চাই না। কাজ না থাকায় পরিবারটি মানবেতর জীবনযাপন করছে। প্রতিবেশীরা যা দেয়, তাই খেয়েই জীবন-যাপন পার করছেন পরিবারটি।

স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা মোঃ মাহফুজুর রহমান জানান, আমি বেশ কয়েক বছর এই এলাকায় ইমামতি করার সুবাদে এই পরিবার সম্পর্কে সব জানি। পরিবারের সবাই প্রতিবন্ধী। মসজিদের পাশেই ওদের বাড়ি হ‌ওয়ায় আতিয়ারের দুটি সন্তান আমার কাছে আরবি পড়তে আসতো। বুদ্ধি কম থাকায় পড়াশোনা করতে পারেনি। পরিবারের কেউই উপার্জন করতে পারে না। মাঝে মধ্যে আমিও আমার খাবার থেকে ওদের খেতে দেয়। পরিবারটির থাকার ঘরটি জরাজীর্ণ। এখন বৃষ্টির দিন তাদের থাকার ঘরটি মেরামতের প্রয়োজন। সেইসাথে সরকারিভাবে পরিবারের চারজনের প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট সকলের অনুরোধ জানাচ্ছি। তিনি পরিবারটির সহযোগিতা করার জন্য উপজেলা প্রশাসন, প্রবাসী ও স্থানীয় বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেন। পরিবারটিকে সহযোগিতা করার জন্য প্রতিবন্ধী আতিয়ারের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী নারগিস পারভীন ০১৯৫৪১৩৮৪০৬ বিকাশ পার্সোনাল নাম্বারে যোগাযোগের অনুরোধ জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাস বলেন, পরিবারটির বিষয়ে আমি শুনেছি। যত দ্রুত সম্ভব উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো হবে। প্রাথমিকভাবে জরাজীর্ণ ঘর নতুন টিন দিয়ে মেরামত করা হবে। তিনি প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানান।


হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস বিশেষ খাদ্য সহায়তা দেবে সরকার: অনিন্দ্য ইসলাম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
যশোর প্রতিনিধি

হাওর অঞ্চলে অতিবৃষ্টির কবলে পড়ে ফসল হারানো কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে সরকারের পক্ষ থেকে আগামী তিন মাস বিশেষ খাদ্য সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। শুক্রবার মহান মে দিবস উপলক্ষে যশোর জেলা প্রশাসন আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও পরবর্তী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

দেশের সমৃদ্ধি অর্জনে কৃষক ও শ্রমিকদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন যে, সরকার কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড প্রবর্তনের মাধ্যমে শ্রমজীবী পরিবারগুলোর আর্থিক সচ্ছলতা নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে। কৃষকদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে তিনি বলেন, “সরকার কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে শ্রমিকদের পরিবারে আরও একটু সচ্ছলতা আনার চেষ্টা করছে। কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করে দিয়েছে সরকার।”

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শ্রমজীবী মানুষের আত্মত্যাগের কথা বিশেষভাবে স্মরণ করে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা শাহাদাতবরণ করেছেন তার অধিকাংশই শ্রমিক। তাই আমাদের অঙ্গীকার রয়েছে শ্রমিকদের কাজ ফিরিয়ে দেওয়ার। কর্মসংস্থান সংকটের সমাধান এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারি কলকারখানাগুলো পুনরায় চালুর বিষয়ে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। সরকার চেষ্টা করছে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার।”

সমাবেশে আলোচনার শুরুতে প্রতিমন্ত্রী বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে মহান মে দিবসের শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন। র‍্যালিটি যশোরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে সমাপ্ত হয়। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক রফিকুল হাসান, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু ও সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকনসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।


জামায়াত মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি, এটা প্রতিষ্ঠিত সত্য হয়ে গেছে: আইনমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

জাতীয় সংসদে নতুন আইন পাসের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতে ইসলামীর বিরোধী শক্তির ভূমিকা একটি প্রতিষ্ঠিত সত্যে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। শুক্রবার সকালে ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলায় পৌর শ্রমিক দল আয়োজিত মহান মে দিবসের এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

আইনমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, সম্প্রতি পাস হওয়া ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল সংশোধন আইন- ২০২৬’ এর মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের যে সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে, সেখানেই জামায়াতের তৎকালীন অবস্থান স্পষ্ট হয়ে গেছে। তিনি দাবি করেন, বিলটি পাসের সময় জামায়াতে ইসলামী কোনো প্রতিবাদ না করায় তাদের সেই সময়কার ভূমিকা তারা পরোক্ষভাবে স্বীকার করে নিয়েছে। এ প্রসঙ্গে জামায়াতের নৈতিক অবস্থানের ওপর প্রশ্ন তুলে মন্ত্রী বলেন, “তাদের পূর্বসূরীরা মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের বিরোধিতা করেনি- সেইটা বলার আর কোনো নৈতিক দায়িত্ব জামায়াতের নেই। কেন নেই? এই সংসদে আমরা একটা আইন পাস করেছি। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল সংশোধন আইন- ২০২৬। সেই আইনের মধ্যে একটা সংজ্ঞা আছে। ধারা ২ এর উপধারা ১০ এ বলা আছে। মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা নির্ধারণ করতে গিয়ে বলা হয়েছে- বাংলাদেশে যারা ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং তাদের এ দেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর, আলসামস, তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নিজামী ইসলামী পার্টির বিরুদ্ধে বাংলাদেশকে স্বাধীন করার জন্য যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিলো তারাই মুক্তিযোদ্ধা।”

মন্ত্রী আরও জানান, এই আইনটি পাসের সময় এনসিপি লিখিতভাবে সরকারের পক্ষ অবলম্বন করেছিল এবং জামায়াতের নীরবতা মূলত সম্মতিরই বহিঃপ্রকাশ। এই বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তির কোনো অবকাশ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি গত পরশুদিন সংসদে বলেছি। গতকাল আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন- এরপর আর এই সাবজেক্টে আর কথা হবে না। ১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি- এটা প্রতিষ্ঠিত সত্য হয়েছে পার্লামেন্টে এই বিল পাশের মধ্য দিয়ে।”

শৈলকূপা পৌর শ্রমিক দলের এই সভায় স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মুস্তাফিজুর রহমান তুর্কি প্রমুখ।


নারায়ণগঞ্জে পুলিশ সদস্যদের কুপিয়ে অস্ত্র ছিনতাই: ৩ অভিযুক্ত আটক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে দুই পুলিশ সদস্যের ওপর নৃশংস হামলা চালিয়েছে একদল দুর্বৃত্ত। দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাঁদের গুরুতর জখম করার পাশাপাশি একটি সরকারি শটগান ছিনিয়ে নেয় হামলাকারীরা। তবে পরবর্তীকালে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ছিনতাই হওয়া অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়েছে এবং এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে বন্দর থানার অন্তর্গত পুরান বন্দর চৌধুরী বাড়ি এলাকার হাবিবনগরে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন—মদনগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সোহেল রানা ও কনস্টেবল ফয়সাল হোসেন। তাঁদের মধ্যে কনস্টেবল ফয়সালের আঘাত অত্যন্ত গুরুতর হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় কয়েকজনের ছিনতাইয়ের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। সিফাত ওরফে টুটুল, শাহারিয়া তানভীর ও আবু সুফিয়ান ওরফে চমক নামের তিন ব্যক্তি নগদ অর্থ ও মোবাইল ছিনতাইয়ের অভিযোগ জানালে থানা থেকে বিষয়টি এএসআই সোহেল রানাকে তদন্ত করতে বলা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে সোহেল রানা সঙ্গীয় ফোর্সসহ হাবিব নগর রোডের গুলু মিয়ার বাড়িতে প্রাথমিক তদন্তে গেলে ওত পেতে থাকা ১৪-১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল তাঁদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কনস্টেবল ফয়সালের পেট ও হাতের আঙুলে কুপিয়ে তাঁকে রক্তাক্ত করে এবং সরকারি শটগানটি ছিনিয়ে নেয়। এ সময় এএসআই সোহেল রানার পায়েও কোপ দেয় দুর্বৃত্তরা।

পরবর্তীতে খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। এরপর রাতভর সাড়াশি অভিযান চালিয়ে ভোরবেলা শটগানটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পুলিশ এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করেছে।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এ ঘটনায় সন্দেহভাজন তিন জনকে আটক করা হয়েছে। বাকি অপরাধীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।’ বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং অন্যান্য অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশের তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।


ইতালিতে ছোট ভাইকে খুনের পর ভিডিও কলে লাশ দেখালেন বড় ভাই

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

ইতালিতে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে আপন ছোট ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন বড় ভাই। শুধু তাই নয়, হত্যার পর ভিডিও কলে দেশে থাকা স্বজনদের ভাইয়ের রক্তাক্ত মরদেহও দেখিয়েছেন তিনি। বুধবার (২৯ এপ্রিল) স্থানীয় সময় রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ইতালির লেইজ শহরে এ ঘটনা ঘটে। পরে ইতালির স্থানীয় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। নিহত ও অভিযুক্ত উভয়ই মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার বাসিন্দা।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দুই প্রবাসী ভাইয়ের মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে বড় ভাই হুমায়ুন ফকির উত্তেজিত হয়ে ছোট ভাই নয়ন ফকিরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই নয়ন ফকিরের মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর অভিযুক্ত হুমায়ুন ফকির ভিডিও কলে দেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ভিডিও কলে তিনি নিহত ছোট ভাইয়ের রক্তাক্ত মরদেহ স্বজনদের দেখান এবং নিজেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে স্বীকার করেন।

এ দৃশ্য দেখে পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যেই এই মর্মান্তিক ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ইতালির স্থানীয় পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত হুমায়ুন ফকিরকে গ্রেফতার করে।

বর্তমানে নিহতের মরদেহ ইতালির একটি মর্গে রাখা হয়েছে। মরদেহটি দেশে পাঠানোর জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনার বিষয়ে টঙ্গীবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল হক ডাবলু বলেন, “ঘটনাটি ইতালিতে ঘটেছে। প্রবাসী নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।”


নারায়ণগঞ্জে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করল র‍্যাব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছয়টি ওয়ান শুটারগান এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করেছে র‍্যাব-১১। শুক্রবার সকালে সংস্থাটির কম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার নাঈম উল হক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সাফল্যের তথ্য প্রকাশ করা হয়।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের কাঁচপুর সেতুর পশ্চিম দিকের পিলারের খাদ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় এসব আগ্নেয়াস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে ছয়টি দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ওয়ান শুটারগান ও একটি শর্টগানের গুলির পাশাপাশি অস্ত্র নির্মাণের বিপুল উপকরণ পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।

র‍্যাবের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, কাঁচপুর ব্রিজের পশ্চিম পার্শ্বে বালুরগদি সংলগ্ন পিলারের নিচে একটি সন্দেহভাজন প্লাস্টিকের ব্যাগ পড়ে থাকার গোপন খবর পায় আভিযানিক দল। তাৎক্ষণিকভাবে র‍্যাবের টহল দল সেখানে উপস্থিত হয়ে ব্যাগটি উদ্ধার করে এবং তল্লাশি চালিয়ে অবৈধ অস্ত্র ও সরঞ্জাম জব্দ করে। পরবর্তীতে এসব আলামত পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।


banner close