বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
৪ ভাদ্র ১৪৩৩

এক কেন্দ্রে ৫৯ ভুয়া দাখিল পরীক্ষার্থী বহিষ্কার

আপডেটেড
২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৭:০৩
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশিত
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৭:০২

নওগাঁর সাপাহারের সরফতুল্লাহ ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্র থেকে মঙ্গলবার সকালে আরবী ২য় পত্র পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ৫৯ জন ভুয়া দাখিল পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। প্রথমে তাদের আটক করা হলেও পরবর্তীতে আটককৃতদের বয়স ১৮ বছরের নিচে হওয়ায় তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছেন সাপাহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওই মাদ্রাসার প্রধানদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন।

ভূয়া পরীক্ষার্থী দিয়ে পরীক্ষা দেওয়ানো মাদ্রাসাগুলো হলো, সাপাহারের সিমুলডাঙা দাখিল মাদ্রাসা (সদ্য এমপিওভুক্ত), মানিকুড়া দাখিল মাদ্রাসা (সদ্য এমপিওভুক্ত), বলদিয়াঘাট দাখিল মাদ্রাসা (সদ্য এমপিওভুক্ত), পলাশডাঙা দাখিল মাদ্রাসা, দেওপাড়া দাখিল মাদ্রাসা, আলাদিপুর দাখিল মাদ্রাসা, তুলসিপাড়া দাখিল মাদ্রাসা, আন্ধারদীঘি দাখিল মাদ্রাসা। এরমধ্যে সদ্য এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা ৩টি এবং ননএমপিওভুক্ত মাদ্রাসা ৫টি।

কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে আরবী ২য় পত্র বিষয়ে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে কিছু ভূয়া পরীক্ষার্থী এই কেন্দ্রে দিচ্ছেন সচিবের এমন নির্দেশে কক্ষ পরিদর্শকগণ খাতা স্বাক্ষর করার সময় বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে কেন্দ্র সচিবকে জানান। সেই তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্র সচিব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানালে সাথে সাথেই তিনি কেন্দ্রে অভিযান চালান। এসময় শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র, রেজিষ্ট্রেশন কার্ড, ছবিসহ প্রয়োজনীয় সবকিছু যাচাই-বাছাই করেন। যাচাই-বাছাই শেষে এই ৫৯ জন ভুয়া পরীক্ষার্থীকে শনাক্ত করেন।

তারা আরও বলেন, এই কেন্দ্রে ৪০টি মাদ্রাসার পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এখানে ৮৯৮ জন পরীক্ষার্থী এবারে পরীক্ষা দিচ্ছেন। এরমধ্যে সিমুলডাঙা দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১১ জন, পলাশডাঙা দাখিল মাদ্রাসা থেকে ৮ জন, দেওপাড়া সিংপাড়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ৩ জন, আলাদিপুর দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১ জন, তুলসিপাড়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৪ জন, বলদিয়াঘাট দাখিল মাদ্রাসা থেকে ২ জন, আন্ধারদীঘি দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৭ জন, মানিকুড়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ৩ জন ভূয়া পরীক্ষার্থী কেন্দ্রে এসে পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। পরবর্তীতে তাদের ছেড়ে দিলেও প্রকৃত পরীক্ষার্থীদের বহিষ্কার করা হয়েছে।

এবিষয়ে কেন্দ্র সচিব মো. মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, ‘আমি গোপন সূত্রে জানতে পেরে তাৎক্ষণিক ভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করি। এরপর ইউএনও স্যার ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা স্যার এসে কক্ষ পরিদর্শকদের সহায়তায় এই ৫৯ জন ভুয়া পরীক্ষার্থীদের সনাক্ত করেন। এরপর তাদের বয়স ১৮ বছরের নিচে হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের নিকট হস্তান্তর করা হয় এবং ওই ৮টি মাদ্রাসার প্রধানের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। সেই মামলা দায়ের করার বিষয়টি এখন প্রক্রিয়াধীন।’

এবিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন বলেন, ‘যাচাইয়ের পর ৫৯ জন ভূয়া পরীক্ষার্থী পাওয়ায় তাদের কক্ষ পরিদর্শক বহিষ্কার করেছেন এবং ওই ৮টি প্রতিষ্ঠান প্রধানের বিরুদ্ধে কেন্দ্র সচিব নিয়মিত মামলা দায়ের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

বিষয়:

শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে ক্রীড়া-সংস্কৃতির চর্চা বাড়াতে হবে : সড়ক প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রেলপথ মন্ত্রণালয় ও সড়ক পরিবহন এবং মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেছেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননশীলতার বিকাশে পড়াশোনার পাশাপাশি ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের চর্চা বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু ভালো ফলাফল অর্জন করলেই হবে না, তাদেরকে নৈতিক মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম ও মানবিক গুণাবলিতে সমৃদ্ধ হতে হবে। এ জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সৃজনশীল কার্যক্রমের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর নবীয়াবাদ ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার বার্ষিক মেধা তালিকা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান-২০২৬-এর প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের পাশাপাশি তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলাবোধ, নেতৃত্বের গুণাবলি ও পারস্পরিক সহযোগিতার মানসিকতা তৈরি করে। একইভাবে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড তাদের সৃজনশীলতা ও মননশীলতা বিকশিত করে।

তিনি বলেন, শিক্ষা জাতির ভবিষ্যৎ গঠনের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের দেশ পরিচালনা করবে। তাই তাদেরকে আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক ও মানবিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশ ও সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ সৃষ্টি করতে শিক্ষক ও অভিভাবকদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

অনুষ্ঠানে মাদরাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বার্ষিক পরীক্ষায় মেধা তালিকায় স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার ও সনদ দেওয়া হয়।

পুরস্কার বিতরণকালে প্রতিমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পাওয়া যেমন আনন্দের, তেমনি অংশগ্রহণ করাটাও গুরুত্বপূর্ণ। যারা এবার পুরস্কার পেয়েছে, তাদের আরও ভালো করার চেষ্টা করতে হবে। আর যারা পুরস্কার পায়নি, তাদের হতাশ না হয়ে আগামী দিনের জন্য আরও বেশি করে প্রস্তুতি নিতে হবে।

তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা করার পাশাপাশি শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মাদক, সন্ত্রাস, অপরাধ ও বিভিন্ন ধরনের নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থেকে নিজেদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার পরামর্শ দেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জনের জন্য কাজ করে না; বরং শিক্ষার্থীদের সৎ, যোগ্য, দায়িত্বশীল ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে। নবীয়াবাদ ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি তাদের প্রতিভা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

পরে প্রধান অতিথি মেধা তালিকায় স্থান অর্জনকারী এবং ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার ও সনদ তুলে দেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও অনুষ্ঠিত হয়।


ঢাকায় পাল্টেছে ডেঙ্গুর ধরন, বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক  

দেশব্যাপী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলছে। বিশেষ করে ঢাকাতে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা চোখে পড়ার মতো। এ বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশব্যাপী মৃত্যুর ৭৪ জনের মধ্যে ঢাকাতেই ৩৪ জন। আক্রান্তের সংখ্যাও ছাড়িয়েছে ১০ হাজার। এরই মধ্যে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) বলেছে, বিগত চার বছর ধরে দেশে ডেঙ্গু ভাইরাসের ধরন (সেরোটাইপ) ছিল ডেন-২। কিন্তু ঢাকাসহ দেশের কয়েকটি জেলায় এবার ডেন-৩ পাওয়া গেছে।

এদিকে দেশে নতুন করে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৬৭১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বুধবার (১৯ আগস্ট) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

এতে বলা হয়, ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও খুলনা বিভাগে দুইজন মারা গেছেন। এ নিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে সারাদেশে ৭৬ জন মারা গেছেন। তাদের মধ্যে ৪৪ জন নারী ও ৩২ জন পুরুষ। আর আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬ হাজার ২৭২ জনে।

ঢাকায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়া ৭১ জনের নমুনা বিশ্লেষণ করে ৯১ দশমিক ৫ শতাংশে ডেন-৩ ও ৮ দশমিক ৫ শতাংশে ডেন-২ পাওয়া গেছে। এর ফলে এবার ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছেন রোগতত্ববিদ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

সম্প্রতি আইইডিসিআরের একদল গবেষক দেশের বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গুর নমুনা সংগ্রহ করে একেক স্থানে একেক ধরনের সেরোটাইপের দেখা পেয়েছেন।

গবেষণা দলের একাধিক সদস্য জানান, এবার ঢাকাতে ডেঙ্গুর ধরন পুরোপুরি পাল্টে গেছে। গত বছর যেখানে ডেন-২ ছিল ৪৮ শতাংশ এবং ডেন-৩ ছিল ৩৫ শতাংশ। বিশেষ করে গত দুই বছর ধরে ডেঙ্গুর সেরোটাইপের আচরণগত পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। কিন্তু এবার পুরোপুরি ডেন-৩-তে শিফট করেছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলাতেও ডেন-২ থেকে ডেন-৩-তে রূপ নিচ্ছে। কিন্তু ঢাকার মতো এভাবে শিফট করছে না।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গুর সেরোটাইপে এমন পরিবর্তন বড় ধরনের প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। কারণ, আগে ডেন-২-এ আক্রান্ত হয়ে যাদের শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়েছিল, তারা এখন ডেন-৩-এ নতুন করে আক্রান্ত হতে পারেন। দ্বিতীয়বার ডেঙ্গু হলে রোগের জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন দেশে ডেন-২-এর আধিপত্য থাকায় অনেক মানুষের শরীরে ওই সেরোটাইপের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এখন ডেন-৩ বেশি ছড়ালে সেই অ্যান্টিবডি সুরক্ষা দিতে পারবে না। ফলে এবার মৃত্যুঝুঁকির আশঙ্কা বেশি করা যাচ্ছে। একই সঙ্গে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নভেম্বর-ডিসেম্বর পর্যন্ত গড়াতে পারে। তাই ডেঙ্গু মোকাবিলা করার জন্য জনসচেতনতার বিকল্প নেই। যদি এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা সম্ভব হয়, তাহলে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

এ বিষয়ে আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. কাজী আহমেদ জাকী বলেন, এবার ডেন-৩ সেরোটাইপের কারণে রোগীদের মধ্যে দ্রুত ডেঙ্গু শক সিনড্রোমের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। এর ফলে ডেঙ্গুতে মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। আমরা আশঙ্কা করেছি, আগামী মাস থেকে দেশব্যাপী ডেঙ্গু ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। বৃষ্টির পরিমাণ কমলেই বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানিতে মশার লার্ভার পরিমাণ বেড়ে যায়। তাই ডেঙ্গু মোকাবিলা করার জন্য জনসচেতনতার বিকল্প নেই। যদি এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা সম্ভব হয়, তাহলে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। আর কারও জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিতে হবে।

এদিকে ডেঙ্গু দেশের ৬৪ জেলায় আক্রান্ত হয়েছে। জেলা বিবেচনায় পিরোজপুরে সংক্রমণ বেশি দেখা যাচ্ছে। এ জেলায় বেশি হওয়ার পেছনে আইইডিসিআরের এক গবেষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমরা যখন পিরোজপুরে নমুনা সংগ্রহে যাই, সেখানকার প্রত্যন্ত এলাকায় কাটা সুপারি গাছের গোড়ায় গর্ত হয়ে সেখানে জমে থাকা পানিতে প্রচুর লার্ভা পাই। এরকম বিভিন্ন স্থানে গিয়ে একই ধরনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে আমরা গেছি। সেখানকার মানুষদের কাছে ডেঙ্গু সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা এ সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে জানান। তিনি বলেন খুব শিগগিরই আমাদের গবেষণাপত্রটি প্রকাশ হবে তখন বিস্তারিত জানানো হবে।

আইইডিসিআরের কর্মকর্তারা বলছেন, ডেন-৩-এর বিস্তারের কারণে দ্রুত ডেঙ্গু শক সিনড্রোমের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নভেম্বর-ডিসেম্বর পর্যন্ত গড়ানোর আশঙ্কাও রয়েছে।

আইইডিসিআরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে ডেঙ্গুর সেরোটাইপের আধিপত্য সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে। ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ডেন-১ ও ডেন-২ বেশি ছিল। ২০১৯ সালে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাবের সময় আক্রান্তের প্রায় ৯০ শতাংশের শরীরে ডেন-৩ শনাক্ত হয়েছিল। এরপর ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ঢাকায় আবার ডেন-২ সবচেয়ে বেশি প্রচলিত ছিল। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে পরীক্ষিত নমুনার প্রায় ৭০ শতাংশে ডেন-২ পাওয়া যায়। ২০২৫ সালে তা কমে ৪৮ শতাংশে নামে।


হামে  আক্রান্ত শিশুদের ৬৫ শতাংশ ভুগছে পুষ্টিহীনতায়

* আরও ৪ জনের মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

হামে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ১২ শতাংশ তীব্র অপুষ্টি ও ৫৩ শতাংশ শিশুর শরীরে মাঝারি ধরনের পুষ্টিহীনতা ছিল; অর্থাৎ ৬৫ শতাংশ শিশু অপুষ্টিতে ভুগছিল বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, হামে আক্রান্ত ৩৮ শতাংশ শিশু জন্মের পর প্রথম ছয় মাস পরিপূর্ণ বুকের দুধ পায়নি। গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত শিশুদের মধ্যে যারা মারা গেছে, তাদের মধ্যে ৮২ শতাংশ শিশুই পরিপূর্ণ বুকের দুধ পায়নি।

বুধবার (১৯ আগস্ট) বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। গবেষণাটি যৌথভাবে পরিচালনা করে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট এবং আইসিডিডিআর,বি। এতে হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি ৩৫৪ শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

এদিকে, দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হাম-সংক্রান্ত রোগে এখন পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯২২ জনে। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে হাম-সংক্রান্ত এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিশ্চিত হামে নতুন করে কারও মৃত্যু না হলেও সন্দেহজনক হামে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৯৯ এবং সন্দেহজনক হাম রোগে ৮২৩ জন শিশু মারা গেছে।

নতুন করে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৮৭ জনের। একই সঙ্গে নতুন সন্দেহজনক হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে এক হাজার ১৮ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগী পাওয়া গেছে এক লাখ ৪৫ হাজার ৭১১ জন। অন্যদিকে, একই সময়ে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৮ হাজার ৭৬ জন।

গবেষণায় উঠে এসেছে, ৪৩ শতাংশ শিশু ৩ মাস থেকে ৯ মাসের মধ্যে হামে আক্রান্ত হয়েছে। গবেষকরা বয়স ও টিকা নেওয়ার ভিত্তিতে ৩৪১ শিশুকে চারটি দলে ভাগ করেন। নিয়মিত টিকা পাওয়ার বয়স হয়নি এমন—৯ মাসের কম বয়সী ১৪৬ শিশুর মধ্যে ১৪২ জন, অর্থাৎ ৯৭ দশমিক ৩ শতাংশের হাম শনাক্ত হয়। টিকা নেওয়ার বয়স হলেও কোনো ডোজ না পাওয়া এমন ১২৬ শিশুর মধ্যে ১২২ জন, অর্থাৎ ৯৭ শতাংশের পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়। ১ ডোজ টিকা পাওয়া ৪৮ শিশুর মধ্যে ৪৪ জন বা ৯২ শতাংশ এবং সুপারিশকৃত ২ ডোজ টিকা পাওয়া ২১ শিশুর মধ্যে ১৬ জন বা ৭৬ শতাংশের হাম শনাক্ত হয়।

গবেষকরা বলেন, এর অর্থ এই নয় যে, পূর্ণ ২ ডোজ টিকা পাওয়া সব শিশুর ৭৬ শতাংশই হাম আক্রান্ত হচ্ছে। অনুসন্ধানে অংশ নেওয়া সব শিশুই সন্দেহভাজন হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। ৭৬ শতাংশের হিসাবটি কেবল শিশু হাসপাতালভিত্তিক অনুসন্ধানে অন্তর্ভুক্ত ২ ডোজ টিকা পাওয়া ২১ সন্দেহভাজন রোগীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

তাদের মতে, দুই ডোজ টিকা পাওয়া ১৬ শিশুর হাম নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টি আরও অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সব ভাইরাসই বি৩ উপশাখার অন্তর্ভুক্ত (সাবক্লেড) এবং অন্যান্য দেশে শনাক্ত হওয়া বি৩ ভাইরাসের সঙ্গে এগুলোর মিল রয়েছে। গবেষকেরা ভাইরাসের এইচ প্রোটিনের অ্যান্টিবডি শনাক্ত করতে পারে এমন অংশ বা এপিটোপ অঞ্চলে ৪টি পরিবর্তন বা মিউটেশনও শনাক্ত করেছেন।


মহাসড়কে নামছে ৬০ অত্যাধুনিক অ্যাম্বুলেন্স

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক  

সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য দেশের মহাসড়কগুলোতে শিগগিরই ৬০টি অত্যাধুনিক বেসিক লাইফ সাপোর্ট (বিএলএস) অ্যাম্বুলেন্স নামানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান।

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সড়ক ভবনের প্রধান কার্যালয়ে নিজ দপ্তরে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি একথা জানান।

সওজের প্রধান প্রকৌশলী বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে এই অ্যাম্বুলেন্সগুলো দিয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক করিডরে পাইলট কার্যক্রম শুরু করা হবে। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় কল সেন্টারের মাধ্যমে সবচেয়ে কাছের অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পাঠানো হবে। পাশাপাশি মহাসড়কের পাশে নির্দিষ্ট দূরত্বে প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক বা ‘বাইস্ট্যান্ডার কেয়ার’ কর্মী রাখার পরিকল্পনাও করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা গেলে প্রাণহানি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। কিন্তু অনেক সময় দুর্ঘটনার পর অ্যাম্বুলেন্স পেতে দেরি হয়, আবার দুর্ঘটনাস্থল থেকে হাসপাতালে নেওয়ার আগ পর্যন্ত আহত ব্যক্তির জন্য প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থাও থাকে না। এ কারণে মহাসড়কে একটি সমন্বিত জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মো. মনিরুজ্জামান বলেন, দুর্ঘটনার পর ‘গোল্ডেন আওয়ার’ কাজে লাগানোই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। অ্যাম্বুলেন্স দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাবে, আহত ব্যক্তিকে বেসিক লাইফ সাপোর্ট দেবে এবং দ্রুততম সময়ে নিকটস্থ উপযুক্ত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে। পুরো পরিকল্পনার আওতায় দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক করিডরে অত্যাধুনিক বেসিক লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি জানান, একসঙ্গে পুরো ব্যবস্থাটি চালু না করে প্রথমে সীমিত পরিসরে পাইলটিং করা হবে। এজন্য ৬০টি অ্যাম্বুলেন্সকে প্রাথমিকভাবে নির্দিষ্ট করিডরে মোতায়েন করা হচ্ছে। পাইলট কার্যক্রমের আওতায় গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মহাসড়ক করিডর নির্বাচন করা হয়েছে। এর মধ্যে চন্দ্রা-এলেঙ্গা হয়ে রংপুর পর্যন্ত হাইওয়ে করিডর, হাটিকুমরুল থেকে নাটোর হয়ে রাজশাহীর কাটাখালী পর্যন্ত করিডর এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক রয়েছে।

সওজের প্রধান প্রকৌশলী বলেন, এসব করিডরে অ্যাম্বুলেন্সগুলো কৌশলগতভাবে অবস্থান করবে। নির্দিষ্ট অংশে প্রায় ১০ কিলোমিটার পরপর অ্যাম্বুলেন্স রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে কোনো দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর দূরবর্তী কোনো স্থান থেকে অ্যাম্বুলেন্স আসার অপেক্ষা করতে হবে না। নিকটস্থ অ্যাম্বুলেন্স দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারবে।

তিনি বলেন, চন্দ্রা-এলেঙ্গা হয়ে রংপুর পর্যন্ত হাইওয়ে করিডরে প্রতি ১০ কিলোমিটারে অ্যাম্বুলেন্স থাকবে। একইভাবে হাটিকুমরুল থেকে নাটোর হয়ে রাজশাহীর কাটাখালী পর্যন্ত করিডর এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কের নির্ধারিত অংশেও অ্যাম্বুলেন্স থাকবে।

অ্যাম্বুলেন্স সেবাকে কার্যকর করতে একটি কেন্দ্রীয় কল সেন্টার স্থাপন করা হচ্ছে। এ কল সেন্টার ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহের সাত দিন চালু থাকবে। সড়কে দুর্ঘটনা ঘটলে নির্ধারিত হটলাইন নম্বরে ফোন করার পর সেই কল সরাসরি কেন্দ্রীয় কল সেন্টারে চলে যাবে।

প্রধান প্রকৌশলী জানান, কল সেন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্তরা দুর্ঘটনার সংবাদদাতার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবেন। ফোনকারীর অবস্থান শনাক্ত করার পাশাপাশি দুর্ঘটনাস্থলের অবস্থান ও আহতের সংখ্যা সম্পর্কে তথ্য নেওয়া হবে। এরপর কেন্দ্রীয় কল সেন্টার থেকে সবচেয়ে কাছের অ্যাম্বুলেন্সকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হবে।

তিনি বলেন, কল সেন্টার কলারের লোকেশন শনাক্ত করবে। তার কাছ থেকে যে তথ্য পাওয়া যাবে, সেই তথ্যের ভিত্তিতে সবচেয়ে কাছের অ্যাম্বুলেন্সকে সেখানে মোতায়েন করা হবে। এতে দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর অ্যাম্বুলেন্স পাঠাতে সময় কমবে বলে মনে করেন তিনি।

মো. মনিরুজ্জামান বলেন, একই সঙ্গে কল সেন্টার থেকে দুর্ঘটনাস্থলের স্থানীয় প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকদের কাছেও তথ্য পাঠানো হবে। অ্যাম্বুলেন্সে সার্বক্ষণিক চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য প্রযুক্তিবিদ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি অ্যাম্বুলেন্সে তিনজন করে স্বাস্থ্য প্রযুক্তিবিদ থাকবেন। তারা আট ঘণ্টা করে পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করবেন। ফলে ২৪ ঘণ্টাই অ্যাম্বুলেন্সে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী পাওয়া যাবে। একইভাবে চালকদেরও শিফটভিত্তিক দায়িত্ব থাকবে। ফলে দিন বা রাত যেকোনো সময় দুর্ঘটনার খবর পেলে অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হতে পারবে।

স্বাস্থ্য প্রযুক্তিবিদদের যোগ্যতার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান সওজের প্রধান প্রকৌশলী।

তিনি বলেন, তারা সংশ্লিষ্ট পেশাগত প্রশিক্ষণ ও যোগ্যতা সম্পন্ন এবং বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের নিবন্ধনসহ প্রয়োজনীয় যোগ্যতা পূরণ করবেন। এসব অ্যাম্বুলেন্সকে আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। এগুলো মূলত বেসিক লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স। তবে দুর্ঘটনায় আহত রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে জরুরি বেসিক লাইফ সাপোর্ট দেওয়ার জন্য অক্সিজেন বোতলসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকবে।

প্রধান প্রকৌশলী জানান, জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সেবাটি দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তির জন্য বিনামূল্যে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। রোগীকে প্রথমে নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা জেনারেল হাসপাতাল কিংবা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল- যে প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে উপযুক্ত হবে সেখানে নেওয়া হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঢাকায় নেওয়ার প্রয়োজন হলে সেই ব্যবস্থাও করা হবে। পুরো সার্ভিসটি বিনামূল্যে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত সময়কে কাজে লাগাতে ‘বাইস্ট্যান্ডার কেয়ার’ ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। এ ব্যবস্থার আওতায় মহাসড়কের পাশে বসবাসকারী স্থানীয় মানুষকে প্রশিক্ষণ দিয়ে দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার উপযোগী করে তোলা হবে।

প্রধান প্রকৌশলী বলেন, মহাসড়কে দুর্ঘটনা ঘটলে আশপাশের মানুষই সাধারণত সবার আগে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা দোকানদার, পথচারী, স্থানীয় বাসিন্দা কিংবা অন্য যেকোনো ব্যক্তি হতে পারেন। কিন্তু প্রশিক্ষণ না থাকায় অনেক সময় তারা কীভাবে আহত ব্যক্তিকে সহায়তা করবেন, তা জানেন না। কখনো ভুলভাবে রোগীকে সরাতে গিয়ে ক্ষতিও হতে পারে। এ কারণে মহাসড়কের নির্দিষ্ট অংশে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, নির্ধারিত হাইওয়ে করিডরে প্রতি ২০০ থেকে ৩০০ মিটার পরপর দুজন করে স্বেচ্ছাসেবককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা বা ফার্স্ট এইড বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এসব স্বেচ্ছাসেবক বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করবেন। তাদের প্রত্যেককে ফার্স্ট এইড বক্স দেওয়া হবে এবং আলাদা পোশাক বা পরিচিতিমূলক ড্রেস থাকবে।

সওজের প্রধান প্রকৌশলী জানান, শুরুতেই বড় পরিসরে পুরো ব্যবস্থাটি চালু না করে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তব অভিজ্ঞতা নেওয়া হবে। কারণ পরিকল্পনা করার সময় যে বিষয়টি কার্যকর মনে হয়, মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের সময় সেখানে কিছু সমস্যা বা ঘাটতি দেখা দিতে পারে। পাইলটিংয়ের মূল উদ্দেশ্যই হলো এসব সমস্যা চিহ্নিত করা। বাস্তবে কোনো ব্যবস্থাপনা কাজ না করলে সেটি দ্রুত সংশোধন করা হবে।

মো. মনিরুজ্জামান বলেন, দুর্ঘটনা ঘটার পর প্রথম কয়েক মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাম্বুলেন্স আসার আগেই যদি প্রশিক্ষিত স্থানীয় মানুষ আহত ব্যক্তিকে সঠিকভাবে প্রাথমিক সহায়তা দিতে পারেন এবং একই সময়ে কেন্দ্রীয় কল সেন্টারের মাধ্যমে নিকটস্থ অ্যাম্বুলেন্সকে ঘটনাস্থলে পাঠানো যায়, তাহলে পুরো উদ্ধার প্রক্রিয়াটি দ্রুত করা সম্ভব হবে।

তিনি জানান, ৬০টি অ্যাম্বুলেন্সের পাইলটিং সফল হলে এর অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সেবাটি আরও বিস্তৃত করা হবে। পর্যায়ক্রমে মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ করিডরগুলোকে এই ব্যবস্থার আওতায় এনে সারা দেশে অত্যাধুনিক বেসিক লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স পরিচালনার লক্ষ্য রয়েছে।


কুমিল্লায় জেএমবির দুই সদস্যের ২০ বছর করে কারাদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দায়ের করা আলোচিত একটি মামলার প্রায় ২০ বছর পর রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। মামলায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে দুই আসামিকে ২০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক নারী আসামিকে ৮ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-৬) আদালতের বিচারক খাইরুন নেছা এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—নওগাঁর মো. মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে মিন্টু, ওরফে সামাদ, ওরফে রাজীব এবং গাজীপুরের শ্রীপুর থানার চকপাড়া এলাকার মোহাম্মদ দুরুল হুদা ওরফে হাসান। অপর দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি দুরুল হুদার স্ত্রী খালেদা আক্তার রানী।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালের ১৩ মার্চ কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৪/৬ ধারায় মামলা নম্বর-২১ দায়ের করা হয়। মামলার জিআর নম্বর-১০৬/০৬ এবং এসটি মামলা নম্বর-১৩৭/০৬

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০৬ সালের মার্চে কুমিল্লার বিষ্ণুপুর এলাকায় র‍্যাব-৭ অভিযান চালায়। একটি বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিভিন্ন বিস্ফোরক ও রাসায়নিক পদার্থ, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধারের কথা মামলার এজাহার ও জব্দ তালিকায় উল্লেখ করা হয়।

উদ্ধার করা আলামতের মধ্যে ছিল সোডিয়াম সালফেট, লিড নাইট্রেট, সোডিয়াম নাইট্রেট, পটাসিয়াম ক্লোরাইড, সালফিউরিক অ্যাসিড, সালফার পাউডার, পটাসিয়াম ক্লোরেট ও অ্যালুমিনিয়াম পাউডার। এছাড়া ইলেকট্রিক ডেটোনেটর, ব্যাটারি, বৈদ্যুতিক তার, সার্কিট ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি জব্দের কথাও মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

মামলার নথিতে আরও বলা হয়, তৎকালীন র‍্যাবের হেফাজতে থাকা শায়খ আবদুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিষ্ণুপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল।

মামলার বিচারিক কার্যক্রমে বাদী ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের উপস্থিতিতে মোট ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষীদের জবানবন্দি, আসামিদের বক্তব্য, জব্দ তালিকা ও অন্যান্য নথি পর্যালোচনা শেষে আদালত তিন আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করেন।

রায়ে মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও মোহাম্মদ দুরুল হুদাকে ২০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দুরুল হুদার স্ত্রী খালেদা আক্তার রানীকে দেওয়া হয় ৮ বছর সশ্রম কারাদণ্ড।

রায় নির্ধারণের ক্ষেত্রে খালেদা আক্তার রানীর তিন সন্তান থাকা, তার স্বামী কারাগারে থাকা এবং তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা না থাকার বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে মামলার রায়সংক্রান্ত তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।

রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানামূলে তিন আসামিকে পুলিশ পাহারায় প্রিজন ভ্যানে করে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০০৬ সালের বিষ্ণুপুরের অভিযান ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা আলোচিত মামলাটির নিষ্পত্তি হলো বুধবার।


কারা মহাপরিদর্শক মোতাহের হোসেনকে প্রত্যাহার

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোহাম্মদ মোতাহের হোসেন
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক 

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোহাম্মদ মোতাহের হোসেনকে কারা মহাপরিদর্শকের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে পুনরায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে বদলি করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বুধবার (১৯ আগস্ট) এ বদলির আদেশ দিয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর (সেনাবাহিনী) কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোহাম্মদ মোতাহের হোসেনকে তার বর্তমান প্রেষণ পদ কারা মহাপরিদর্শক, কারা অধিদপ্তর থেকে প্রত্যাহার করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার চাকরি সংশ্লিষ্ট বিভাগ অর্থাৎ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ নূর-এ-আলম স্বাক্ষরিত এ প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বদলির এই আদেশ জনস্বার্থে এবং অবিলম্বে কার্যকর হবে।


টাঙ্গাইলে যমুনা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, ৩ জনের অর্থদণ্ড

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করে আসছিল প্রভাবশালী একটি মহল। এতে নদীভাঙনের শিকার ও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল নদীপাড়ের মানুষ।

বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে স্থানীয়দের এমন অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের সিরাজকান্দী এলাকার বাগানবাড়ী নামক অবৈধ বালু ঘাটে ভ্রাম্যমাণ আদালতে অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব হাসান।

এ সময় যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে ৩ শ্রমিককে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে মোট সাড়ে ৪ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয় এবং অনাদায়ে প্রত্যেককে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রমে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

তারা হলেন- উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের পলশিয়া গ্রামের ছালাম (৪৫), পুনবার্সন গ্রামের চান মিয়া (৪০), কাওয়াখোলা গ্রামের রফিক (৪৮)। অভিযানে ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম রেজাউল করিম, উপপরিদর্শক (এসআই) লাল মিয়াসহ স্থানীয় নৌপুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব হাসান বলেন— যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করায় সিরাজকান্দি এলাকার বাগানবাড়ী নামক অবৈধ বালু ঘাটে অভিযান চালিয়ে ৩ জনকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে প্রত্যেককে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। জনস্বার্থ এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।


খুলনা নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থার তাগিদ

কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জুর। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

খুলনা শহরের জলবায়ু সহনশীলতা কৌশল, পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি (ওয়াশ) নিয়ে দিনব্যাপী পরামর্শ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) নগরীর সিএসএস আভা সেন্টারে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জুর সভাপতিত্বে কর্মশালায় সম্মানিত অতিথি ছিলেন খুলনা ওয়াসার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান। কেসিসির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ‘জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজিত নগর উন্নয়ন (সিসিএইউডি)’ প্রকল্পের আওতায় পরামর্শক সংস্থা এএমসি এ কর্মশালার আয়োজন করে।

কর্মশালায় কেসিসি, খুলনা ওয়াসা, কেডিএ, ডিপিএইচই, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট), খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বাংলাদেশ সরকার, জার্মান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ও কেসিসি যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

সভাপতির বক্তব্যে কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জলাবদ্ধতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলতি বর্ষায় বিভিন্ন উদ্যোগে সাময়িকভাবে জলাবদ্ধতা কমানো গেলেও স্থায়ী সমাধানের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা প্রয়োজন।’ নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসস্থলে নিরাপদ পানির ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে তিনি খুলনা ওয়াসার প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি পানির এটিএম বুথ স্থাপন এবং মৌসুমভেদে পানির লবণাক্ততার পরিবর্তন সম্পর্কে নগরবাসীকে আগাম সতর্ক করার ওপর গুরুত্ব দেন।

প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়িয়ে নগরবাসীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা। ২০২২ সালের নভেম্বরে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। এর আওতায় প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন কৌশল প্রণয়নে গবেষণা সংস্থা সানেমকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

কর্মশালায় খুলনা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফিরোজ শাহ, কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খানসহ সংশ্লিষ্টরা বক্তব্য দেন।


দৌলতপুরে নদীভাঙনের হুমকিতে ২০০ বসতবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 দৌলতপুর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি

গত কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণে ও যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায় ভয়াবহ নদীভাঙন শুরু হয়েছে। উপজেলার বাচামারা ইউনিয়নের বাকসাইষ্টা, চরভারেঙ্গা, সুবুদদিয়া, চরবাচামারা, জিয়নপুর ইউনিয়নের আমতলী হাট, আমতলী ফেদু সেক উচ্চবিদ্যালয়, আমতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আবু ডাংগা, বড়টিয়া, বৈন্যা এলাকায় প্রায় ৩০০টি বসতবাড়ি, তিন শতাধিক দোকানসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীভাঙনের হুমকিতে রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা বিএনপি নেতা ও আমতলী হাটের ইজারদার আশরাফ আলী জানান, যমুনা নদীর একটি শাখা নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে গত কয়েক দিন ধরে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে বৈন্যা গ্রামের অন্তত ১০ থেকে ১২টি পরিবারের বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভিটেমাটি হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত জিয়নপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহসভাপতি ছায়েদুর রহমান বলেন, ‘নদীভাঙনে আমরা দিশেহারা। চোখের সামনে বাপ-দাদার শেষ স্মৃতিটুকু রক্ষা করতে পারছি না। সাবেক মেম্বারের স্ত্রী ছকিনা বেগম বলেন, ‘পরিবার নিয়ে কোথায় যাব, কী করব—কিছুই বুঝতে পারছি না।’ নদীভাঙন রোধে দ্রুত জিওব্যাগ ফেলে বৈন্যা গ্রামের মানুষ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো রক্ষা করার দাবি জানিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম বলেন, ‘জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধ করা না হলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আমতলী হাট, ফেদু সেক উচ্চবিদ্যালয় ও আমতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বৈন্যা গ্রামের বহু পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়তে পারে।’

স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাবেক ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান হবি বলেন, ‘প্রায় ৫০০ ফুট এলাকায় জিওব্যাগ ফেলা হলে প্রায় ২০০ পরিবারকে নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব। এতে আমতলী হাট ও দুটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও রক্ষা পাবে। নদী থেকে মাত্র প্রায় ২০০ গজ দূরে থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুটির দিকে যেভাবে ভাঙন এগোচ্ছে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সেগুলো নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

সংরক্ষিত ইউপি সদস্য সুফিয়া বেগম বলেন, ‘আর কয়েক দিন এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে আমার বাড়িঘরও নদীভাঙনের মুখে পড়বে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাটবাজার ও বসতভিটাসহ সবকিছু রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’

জিয়নপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতোয়ার রহমান জানান, নদীভাঙনের ভয়াবহ পরিস্থিতি সম্পর্কে উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলে সাময়িক প্রতিরোধের পাশাপাশি পরবর্তীতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানানো হয়েছে। বিষয়টি মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীরকেও অবহিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিলভিয়া স্নিগ্ধা বলেন, ‘বিষয়টি আমি অবগত আছি। জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীকে বিষয়টি মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

নদীপাড়ের মানুষের দাবি, দ্রুত জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর পাশাপাশি স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। তা না হলে গুরুত্বপূর্ণ হাট-বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও শত শত পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


বৃহস্পতিবার বিএনপির সাবেক মহাসচিবের ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী

বিএনপির সাবেক মহাসচিব প্রয়াত ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদার। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে অন্যতম ও বিএনপির সাবেক সফল মহাসচিব ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদারের ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট)। ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদার ১৯৩৬ সালের ৪ নভেম্বর জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার মুলবাড়ী গ্রামের তালুকদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা রিয়াজ উদ্দিন তালুকদার জামালপুর জেলার মধ্যে একজন দানশীল ও ধার্মিক ব্যক্তি ছিলেন।

ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদার বিএনপির মহাসচিব, সরকারের এলজিআরডিমন্ত্রী ও বাংলাদেশের একজন আইনজীবী এবং রাজনীতিবিদ ছিলেন। এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অনেক দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। তিনি ছিলেন চারদলীয় ঐক্যজোটের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং সফলতার সাথে চারদলীয় লিঁয়াজো কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় ও আবদুস সাত্তারের মন্ত্রিসভায় আইন ও বিচার প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় ও ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে জামালপুর-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৯৯ সালের ২০ আগস্ট হার্টের বাইপাস সার্জারি করানোর জন্য সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার পথে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) তার ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সরিষাবাড়ী উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠন তার কবর জিয়ারত, দোয়া মাহফিল, শোক র‌্যালি, আলোচনা সভা ও কাঙ্গালী ভোজের আয়োজন করেছে। ওই অনুষ্ঠানগুলোতে উপস্থিত থাকবেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও মরহুম ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদারের ভাতিজা এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য ফরিদুল কবির তালুকদার শামিম এমপি।


ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ-মাদ্রাসাছাত্র সংঘাত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা পুলিশের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মাদ্রাসাছাত্রদের বাধা দেওয়া ও পরে পুলিশের লাঠিপেটা ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে জেলা পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মঙ্গলবার রাতে পুলিশ লাইন্সে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটিকে জেলা পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। ঘটনার প্রাথমিক পর্যায়ে পুলিশ লাইন্সের গেট ও কম্পাউন্ডে দায়িত্ব পালনে বিচ্যুতির অভিযোগে তিন পুলিশ সদস্যকে সব ধরনের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।

ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ওবায়দুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইন্সে জেলা পুলিশের আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসাছাত্রদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরীর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আগমন উপলক্ষে পুলিশ লাইন্সে ওই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ডিআইজি অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করার পরও অনুষ্ঠান চলছিল। এ সময় উচ্চ শব্দে গান বাজানোর প্রতিবাদ জানিয়ে পাশের জামিয়া দারুল আরকাম আল-ইসলামিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা পুলিশ লাইন্সে যান।

এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে শতাধিক শিক্ষার্থী পুলিশ লাইন্সের ভেতরে ঢুকে পড়লে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিপেটা করে। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হন বলে জানা যায়।


পাটের পর আমন ধান চাষে ব্যস্ত শিবচরের কৃষকরা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি

পাট কাটার পর এবার আমন ধান নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন মাদারীপুরের শিবচরের কৃষকরা। পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদীর অববাহিকায় অবস্থিত এ উপজেলার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় পুরোদমে শুরু হয়েছে আগাম রোপা আমন ধানের চাষ। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে চলছে জমি প্রস্তুত ও ধানের চারা রোপণের কর্মযজ্ঞ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে কৃষকরা ব্যস্ত আমন চাষে। কেউ জমিতে হালচাষ করে কাদাময় করে রোপণের উপযোগী করছেন, কেউ বীজতলা থেকে চারা তুলছেন, আবার কেউ সারিবদ্ধভাবে জমিতে চারা রোপণ করছেন।

শিরুয়াইল, বহেরাতলা, নিলখী, দত্তপাড়া, বন্দরখোলা, মাদবরেরচর, সন্যাসিরচর ও কুতুবপুর ইউনিয়নসহ উপজেলার বিভিন্ন মাঠ এখন আমন চাষের ব্যস্ততায় মুখর। পাট কাটার পর একই জমিতে আমন চাষ করে বাড়তি ফসল ঘরে তুলতে চান কৃষকরা।

কৃষক আলকাছ মোল্লা বলেন, ‘পাট চাষ শেষ হওয়ার পর আমন ধান আমাদের জন্য একটি বাড়তি ফসল। পাট চাষে লোকসান হলেও আমন ধান চাষ করে কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারব, ইনশাআল্লাহ।’

সন্যাসিরচর ইউনিয়নের কৃষক সামাদ মুন্সি বলেন, ‘প্রতি বছরই পাট কাটার পর রোপা ও রিলে আমন চাষ করি। এ বছরও প্রায় ৩ বিঘা জমিতে আমন ধানের চাষ করছি। আবহাওয়া ভালো থাকলে এবং কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ভালো ফলন পাব বলে আশা করছি।’

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, শিবচরে রোপা আমন, বোনা আমন ও রিলে আমন মিলিয়ে এবার মোট ৬ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ করা হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে বাম্পার ফলনের আশা করছে কৃষি বিভাগ।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আলিমুজ্জামান খান জানান, কৃষকদের সহায়তায় চলতি মৌসুমে উপজেলার প্রায় ১ হাজার ২০০ কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে ১০ কেজি করে বীজধান ও ২০ কেজি করে সার বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

কৃষকেরা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হলে আমনের ভালো ফলন হবে। এতে পাটের লোকসান কিছুটা কাটিয়ে উঠে কৃষকের মুখে হাসি ফুটবে—এমনটাই প্রত্যাশা তাদের।


হাওরের স্ট্রোক-প্রসবের রোগীর একমাত্র ভরসা নৌকা, দ্রুত চান নৌ-অ্যাম্বুলেন্স

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অষ্টগ্রাম (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম এই তিন হাওর উপজেলা এখন দেশের উন্নয়নের চমৎকার উদাহরণ। অলওয়েদার রোডের কল্যাণে এখন আর বছরের ১২ মাস যাতায়াতের চিন্তা করতে হয় না। কিন্তু এই আধুনিক সড়কের চাকচিক্য ঢাকা দিয়ে রেখেছে এখানকার করুণ এক বাস্তবতা। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো’র জনশুমারি অনুযায়ী এই তিন উপজেলার জনসংখ্যা সাড়ে চার লাখের বেশি হলেও বর্তমানে তা পাঁচ লাখ ছাড়িয়েছে। অথচ এই বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য আধুনিক চিকিৎসাসেবা বলতে কার্যত কিছুই নেই।

যখন কোনো মানুষের হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক হয়, কিংবা কোনো প্রসূতি মায়ের প্রসব বেদনা শুরু হয় তখনই এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা থমকে দাঁড়ায়। চারদিকের থৈ থৈ জলরাশি আর হাসপাতালের সংকট মিলে এই জনপদকে পরিণত করেছে এক ‘মরণফাঁদে’।

ইটনা, মিঠামইন বা অষ্টগ্রামের কোথাও হৃদরোগ বা স্ট্রোকের রোগীর জীবন বাঁচানোর কোনো ব্যবস্থা নেই। স্ট্রোকের পর রোগীর জীবন রক্ষায় যে ‘গোল্ডেন আওয়ার’ প্রয়োজন, তা হাওরের দীর্ঘ নৌপথের ধস্তাধস্তিতেই শেষ হয়ে যায়। যথাসময়ে হাসপাতালে পৌঁছাতে না পেরে বহু স্ট্রোক রোগীর মৃত্যু হয়েছে, আবার অনেকে বেঁচে থাকলেও পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। বর্ষায় উত্তাল হাওর পাড়ি দিয়ে জেলা সদরে পৌঁছানো অত্যন্ত দুরূহ। এখানে রোগীকে রেফার করার অর্থ মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া, কারণ মাঝপথে জীবন বাঁচানোর কোনো আধুনিক ব্যবস্থা নেই।

হাওর অঞ্চলের প্রসূতি মায়েদের পরিস্থিতি আরও শোচনীয়। সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে সিজারিয়ান সেকশন বা প্রসবকালীন উন্নত সেবার সরঞ্জাম থাকলেও সেবা নেই বললেই চলে। প্রসব বেদনায় ছটফট করা মাকে নিয়ে জেলা সদরে ছোটার পথে দীর্ঘ ঝাঁকুনিপূর্ণ যাতায়াতে সিএনজি বা নৌকায় ডেলিভারি হয়ে যাওয়ার ঘটনা নতুন নয়। এমন অনিরাপদ পরিস্থিতিতে অনেক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। সিজারের জন্য রোগীকে দূরে পাঠানো বা নরমাল ডেলিভারির অনিশ্চয়তা এই দুইয়ের মাঝে পিষ্ট হচ্ছে হাজারো পরিবার।

উন্নত চিকিৎসাসেবা বা এয়ার অ্যাম্বুলেন্স তো দূরে থাক, জীবন রক্ষাকারী একটি নৌ-অ্যাম্বুলেন্সেরও দেখা মেলে না এই হাওরে। সংকটাপন্ন রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে চাইলে একমাত্র ভরসা সাধারণ ট্রলার কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ স্পিডবোট। উত্তাল ঢেউয়ের বুকে এই জলযানগুলোতে রোগী তোলার পর প্রতিটি মুহূর্ত কাটে চরম উৎকণ্ঠায়। ন্যূনতম চিকিৎসা সরঞ্জামবিহীন এসব জলযানে রোগীর অবস্থা আরও শোচনীয় হয়ে পড়ে।

প্রশ্ন উঠেছে, হাওরে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের সাথে সাথে কেন স্বাস্থ্যখাতে এই উপেক্ষার দেয়াল? উপজেলাগুলোতে অবকাঠামো থাকলেও নেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, গাইনি ও অ্যানেস্থেসিয়া ডাক্তার কিংবা অপারেশন থিয়েটার পরিচালনার সক্ষমতা। হাওরে অলওয়েদার রোড হলেও বর্ষায় একটি অ্যাম্বুলেন্স দ্রুতগতিতে জেলা সদরে রোগী নিয়ে যেতে পারে না, কারণ সংযোগ ও ফেরি ব্যবস্থা জরুরি সেবার উপযোগী নয়।

এই করুণ দশা থেকে উত্তরণে অবিলম্বে সুনির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের জন্য একটি ‘ট্রমা সেন্টার’ এবং অন্তত একটি উপজেলায় সিজার ও হৃদরোগের প্রাথমিক চিকিৎসাসম্পন্ন ‘পূর্ণাঙ্গ আধুনিক হাসপাতাল’ স্থাপন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। পাশাপাশি বর্ষায় জরুরি রোগীদের দ্রুত পরিবহনের জন্য সরকারি উদ্যোগে লাইফ সাপোর্টযুক্ত দ্রুতগতির নৌ-অ্যাম্বুলেন্স নিশ্চিত করতে হবে।

হাওরবাসী আর কতকাল অবহেলায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বে? উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রামের এই উন্নয়ন এক অসম্পূর্ণ গল্প হয়েই থেকে যাবে।


banner close