শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬
৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩

এক কেন্দ্রে ৫৯ ভুয়া দাখিল পরীক্ষার্থী বহিষ্কার

আপডেটেড
২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৭:০৩
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশিত
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৭:০২

নওগাঁর সাপাহারের সরফতুল্লাহ ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্র থেকে মঙ্গলবার সকালে আরবী ২য় পত্র পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ৫৯ জন ভুয়া দাখিল পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। প্রথমে তাদের আটক করা হলেও পরবর্তীতে আটককৃতদের বয়স ১৮ বছরের নিচে হওয়ায় তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছেন সাপাহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওই মাদ্রাসার প্রধানদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন।

ভূয়া পরীক্ষার্থী দিয়ে পরীক্ষা দেওয়ানো মাদ্রাসাগুলো হলো, সাপাহারের সিমুলডাঙা দাখিল মাদ্রাসা (সদ্য এমপিওভুক্ত), মানিকুড়া দাখিল মাদ্রাসা (সদ্য এমপিওভুক্ত), বলদিয়াঘাট দাখিল মাদ্রাসা (সদ্য এমপিওভুক্ত), পলাশডাঙা দাখিল মাদ্রাসা, দেওপাড়া দাখিল মাদ্রাসা, আলাদিপুর দাখিল মাদ্রাসা, তুলসিপাড়া দাখিল মাদ্রাসা, আন্ধারদীঘি দাখিল মাদ্রাসা। এরমধ্যে সদ্য এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা ৩টি এবং ননএমপিওভুক্ত মাদ্রাসা ৫টি।

কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে আরবী ২য় পত্র বিষয়ে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে কিছু ভূয়া পরীক্ষার্থী এই কেন্দ্রে দিচ্ছেন সচিবের এমন নির্দেশে কক্ষ পরিদর্শকগণ খাতা স্বাক্ষর করার সময় বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে কেন্দ্র সচিবকে জানান। সেই তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্র সচিব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানালে সাথে সাথেই তিনি কেন্দ্রে অভিযান চালান। এসময় শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র, রেজিষ্ট্রেশন কার্ড, ছবিসহ প্রয়োজনীয় সবকিছু যাচাই-বাছাই করেন। যাচাই-বাছাই শেষে এই ৫৯ জন ভুয়া পরীক্ষার্থীকে শনাক্ত করেন।

তারা আরও বলেন, এই কেন্দ্রে ৪০টি মাদ্রাসার পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এখানে ৮৯৮ জন পরীক্ষার্থী এবারে পরীক্ষা দিচ্ছেন। এরমধ্যে সিমুলডাঙা দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১১ জন, পলাশডাঙা দাখিল মাদ্রাসা থেকে ৮ জন, দেওপাড়া সিংপাড়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ৩ জন, আলাদিপুর দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১ জন, তুলসিপাড়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৪ জন, বলদিয়াঘাট দাখিল মাদ্রাসা থেকে ২ জন, আন্ধারদীঘি দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৭ জন, মানিকুড়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ৩ জন ভূয়া পরীক্ষার্থী কেন্দ্রে এসে পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। পরবর্তীতে তাদের ছেড়ে দিলেও প্রকৃত পরীক্ষার্থীদের বহিষ্কার করা হয়েছে।

এবিষয়ে কেন্দ্র সচিব মো. মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, ‘আমি গোপন সূত্রে জানতে পেরে তাৎক্ষণিক ভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করি। এরপর ইউএনও স্যার ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা স্যার এসে কক্ষ পরিদর্শকদের সহায়তায় এই ৫৯ জন ভুয়া পরীক্ষার্থীদের সনাক্ত করেন। এরপর তাদের বয়স ১৮ বছরের নিচে হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের নিকট হস্তান্তর করা হয় এবং ওই ৮টি মাদ্রাসার প্রধানের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। সেই মামলা দায়ের করার বিষয়টি এখন প্রক্রিয়াধীন।’

এবিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন বলেন, ‘যাচাইয়ের পর ৫৯ জন ভূয়া পরীক্ষার্থী পাওয়ায় তাদের কক্ষ পরিদর্শক বহিষ্কার করেছেন এবং ওই ৮টি প্রতিষ্ঠান প্রধানের বিরুদ্ধে কেন্দ্র সচিব নিয়মিত মামলা দায়ের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

বিষয়:

নির্বাচিত

কোস্ট গার্ডের অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ঢাকার শোয়ারি ঘাট ও পোস্তগোলা ব্রিজে কোস্ট গার্ডের পৃথক দুটি অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘ঢাকার শোয়ারি ঘাটসংলগ্ন এলাকায় গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাত ২টায় কোস্ট গার্ড স্টেশন পাগলা কর্তৃক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন ওই এলাকায় সন্দেহজনক তিনটি ভ্যানে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৩০ লাখ টাকা মূল্যের ২ হাজার কেজি অবৈধ পলিথিন জব্দ করা হয়। এ সময় প্রকৃত মালিক না পাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

অপরদিকে ঢাকার পোস্তগোলা ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল ৬টা থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত কোস্ট গার্ড স্টেশন পাগলা কর্তৃক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আরও একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযান চলাকালীন ওই এলাকায় সন্দেহজনক একটি কাভার্ড ভ্যানে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ২৪ লাখ টাকা মূল্যের ১ হাজার ৬০০ কেজি অবৈধ পলিথিন জব্দ করা হয়। এ সময় কাভার্ড ভ্যানচালক ও হেল্পারের মুচলেকা নিয়ে কাভার্ড ভ্যানসহ ছেড়ে দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, ‘জব্দকৃত পলিথিনের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’


নির্বাচিত

রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলবে অঞ্চলভিত্তিক: ডিএসসিসি প্রশাসক

ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানী ঢাকা শহরের যানজটের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ানো ব্যাটারিচালিত রিকশাসহ গণপরিবহন ব্যবস্থাকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে অঞ্চলভিত্তিক রিকশা চলাচল ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম সম্প্রতি নগর ভবনে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

ডিএসসিসি প্রশাসক এ প্রসঙ্গে আরও বলেন, ‘ঢাকা শহরকে কয়েকটি অঞ্চলে ভাগ করে নির্দিষ্ট এলাকার রিকশা ওই এলাকার মধ্যেই চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে। এক এলাকার রিকশা অন্য এলাকায় গিয়ে যাতে যানজট সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী দিন ও সড়কভিত্তিক চলাচলের বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘রিকশার সমস্যাটা কোথা থেকে আসল, কীভাবে আসল- সেটা বের করে সমাধান করতে হবে। এই সমস্যাটাও আমাদেরই, আমাদেরই সমাধান করতে হবে। সিটি করপোরেশনকেই সমাধান করতে হবে।’

আব্দুস সালাম বলেন, ‘ঢাকা শহরের রাস্তায় বর্তমানে এদিক-সেদিক, উল্টো দিকসহ বিভিন্নভাবে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করছে। এসব রিকশাচালকদের অনেকেই ট্রাফিক আইন ও চলাচলের শৃঙ্খলা মানছে না। ফলে নগরীর বিভিন্ন সড়কে অযাচিত যানজট আরও বাড়ছে।’ রিকশা ব্যবস্থাপনাকে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে আনতে রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ‘বন্যা, নদীভাঙনসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ জীবিকার সন্ধানে ঢাকায় এসে ফুটপাত ও অন্যান্য উন্মুক্ত স্থানে অবস্থান নিচ্ছে। কেউ রিকশা চালাচ্ছে, আবার কেউ ভ্যান নিয়ে সবজি বা অন্যান্য পণ্য বিক্রি করছে। এভাবে অনিয়ন্ত্রিতভাবে মানুষের ঢাকামুখী প্রবেশ নগরের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।’

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ‘গত ৫ আগস্টের পর দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশা ঢাকায় প্রবেশের প্রবণতা বেড়েছে। এসব রিকশাকে একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থার মধ্যে আনা হবে। এ জন্য ঢাকা শহরকে কয়েকটি অঞ্চলে ভাগ করে অঞ্চলভিত্তিক রিকশা চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘লাইসেন্স ছাড়া কেউ ঢাকা শহরে রিকশা চালাতে পারবে না। কেরানীগঞ্জ থেকে ঢাকায় এসে চলাচল করা কিংবা ডেমরা থেকে নদী পার হয়ে রিকশা নিয়ে অন্য এলাকায় চলে আসার কোনো সুযোগ থাকবে না। একইভাবে উত্তর সিটির রিকশাও নির্বিচারে এই এলাকায় চলাচল করতে পারবে না।’

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের ব্যবস্থা কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় আইন ও বিধিবিধান প্রণয়নের প্রক্রিয়া চলছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে আইন প্রণয়ন করে সিটি করপোরেশনের কাছে পাঠানোর পর তা বাস্তবায়ন করা হবে।’


নির্বাচিত

মির্জাপুরে বসতঘর থেকে মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বসতঘর থেকে মা ও চার বছরের মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুরের দিকে উপজেলার আনাইতারা ইউনিয়নের ধুপুরিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, ধুপুরিয়া গ্রামের রাজমিস্ত্রি রাজীব হোসেনের স্ত্রী কনিকা আক্তার (২২) ও তাদের চার বছরের মেয়ে রাজিয়া।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ছয় বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে রাজীব ও কনিকার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজীব হোসেন সিলেটে বেড়াতে যান। শুক্রবার সকালে কনিকা তার মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। পথে শ্বশুর নাজিমউদ্দিন ও শাশুড়ি তাকে বাবার বাড়িতে যেতে বাধা দেন বলে জানা গেছে। পরে তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। বাড়িতে ফিরে কনিকা মেয়েকে নিয়ে বসতঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। তাদের আর কোনো সারা শব্দ না পেয়ে পরে দরজা ভেঙে কনিকাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা এবং একই কক্ষের মেঝেতে শিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে গিয়ে মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পারিবারিক কলহের জেরে মেয়েকে হত্যা করে কনিকা আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘শ্বশুড়ের সাথে অভিমান করে তার ছেলের বউ কন্যাশিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং পরে নিজেই আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে সুরতহালে তাই মিলেছে। তবুও আরও কোনো কারণ থাকতে পারে কি না সে বিষয়েও তদন্ত চলছে। লাশের ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন।


নির্বাচিত

ঝিনাইদহে বৃক্ষমেলায় উপচে পড়া ভিড়

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহে বৃক্ষমেলায় উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। শহরের পুরাতন ডিসি কোর্ট চত্বরে গত ৩১ জুলাই শুরু হওয়া এ মেলায় প্রতিদিন দুপুরের পর থেকেই ভিড় করছেন নানা শ্রেণিপেশার মানুষ। কেউ গাছের চারা দেখছেন, কেউ পছন্দের গাছ কিনছেন, আবার কেউ ঘুরে দেখছেন মেলায় থাকা নানা পণ্য।

জেলা বন বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ বৃক্ষমেলায় বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি মেলায় স্থান পেয়েছে ফুলের গাছসহ নানা ধরনের গাছ ও কৃষি সংশ্লিষ্ট পণ্য। গাছের বৈচিত্র্য ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামে চারা পাওয়ায় ক্রেতাদের আগ্রহও বেশ দেখা গেছে।

মেলায় ঘুরতে আসা এক আশরাফ আলী নামের এক দর্শনার্থী বলেন, ‘প্রতি বছরই বৃক্ষমেলায় আসি। এখানে অনেক ধরনের গাছ একসঙ্গে পাওয়া যায়। নিজের বাড়ির জন্য কয়েকটি ফল ও ফুলের গাছ কিনেছি। গাছ লাগানোর পাশাপাশি পরিবারের অন্যদেরও গাছ লাগাতে উৎসাহিত করছি।’

ফারুক হোসেন নামের আরেক দর্শনার্থী বলেন, ‘মেলায় এসে অনেক নতুন জাতের গাছ দেখলাম। পরিবেশের জন্য গাছ লাগানো খুবই জরুরি। তাই পছন্দের কয়েকটি চারা কিনে নিয়েছি। মেলার মাধ্যমে মানুষ গাছ লাগানোর প্রতি আরও আগ্রহী হবে বলে মনে করি।’

সামাজিক বন বিভাগ ঝিনাইদহের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, ‘বৃক্ষমেলার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের মধ্যে বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা তৈরি করা। মেলায় বিভিন্ন প্রজাতির চারা রাখা হয়েছে। মানুষ যাতে সহজে ভালো মানের চারা সংগ্রহ করে বাড়ির আঙিনা, রাস্তার পাশে ও খালি জায়গায় গাছ লাগাতে পারেন, সে বিষয়টিও আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বৃক্ষরোপণের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ানো এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার উদ্দেশ্যে বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হয়েছে।’

গত ৩১ জুলাই শহরের পুরাতন ডিসি কোর্ট চত্বরে এ মেলার উদ্বোধন করেন আইনমন্ত্রী অ্যাড. মো. আসাদুজ্জামান, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন, জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন, সামাজিক বন বিভাগ যশোর অঞ্চলের বিভাগীয় কর্মকর্তা অমিতা মণ্ডল, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাড. এম এ মজিদ।


নির্বাচিত

সরকার দেশের ১৮ কোটি জনগণের উন্নয়নে কাজ করছে: নাটোরে প্রতিমন্ত্রী পুতুল

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাটোর প্রতিনিধি

বর্তমান সরকার ১৮ কোটি জনগণের উন্নয়নে কাজ করছে। বিগত দিনগুলোতে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটিকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে গিয়েছে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকার। এই জায়গা থেকে উত্তরণের জন্য বর্তমান সরকার দিন-রাত কাজ করছে। একটি দেশের মেরুদণ্ড ধ্বংস করতে এবং পরনির্ভরশীল করতে যা যা করা দরকার, তার সব করে গিয়েছে বিগত সরকার। বিএনপি সরকার বিদ্যুৎ, গ্যাস, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে নিরলস কাজ করে দেশকে পরনির্ভরশীলতা থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে নাটোরের সিংড়া উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধিত ক্যাপিটেশন গ্র্যান্টপ্রাপ্ত বেসরকারি ১৪টি এতিমখানা ও ৭টি সমাজকল্যাণ সংস্থার সরকারি অনুদানের ৩০ লাখ টাকার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল এসব কথা বলেন।

এ সময় পুতুল আরও বলেন, ‘দেশে এখন পর্যন্ত ৭০ হাজার মানুষকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে। এখানে কোনো রাজনৈতিক বিবেচনায় ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার সুযোগ নেই। যোগ্য ব্যক্তিরাই ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসবেন।’ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের ১৮০ দিনে অর্জন- বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বের হয়ে আসতে পেরেছে। সরকার পরিবর্তন হলেও পথে পথে আতঙ্ক আর নাম বদল শুরু হতো। প্রতিষ্ঠান দখল হতো। কিন্তু ৫ আগস্টের পরে বিএনপি দেশে পাহারা দিয়েছে, যেন আর কোনো লাশ না পড়ে। বর্তমান সরকার একটি দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের চেষ্টা করছে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাটোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম আনু। এ ছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল রিফাত, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক নূর মোহাম্মদ, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান আসাদ, যুগ্ম আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান চৌধুরী, বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার ইউসুফ আলী, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব অধ্যাপক শারফুল ইসলাম, সিংড়া থানার ওসি রফিকুল ইসলাম, শহর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শাহাদত হোসেন, সাবেক ভিপি শামীম হোসেন, উপজেলা বিএনপির সদস্য রফিকুল ইসলাম বুলেট, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহাদত হোসেন মিন্টুসহ অন্যান্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্যাসের তীব্র সংকট, চরম দুর্ভোগে মানুষ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মনিরুজ্জামান পলাশ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

এলএনজি সংকট ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গত বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুর থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ার পাশাপাশি অনেক এলাকায় পুরোপুরি গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহকরা।

গ্যাস সংকটের কারণে জেলার ৫টি সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও ১৭টি গ্যাসনির্ভর শিল্পকারখানা বন্ধ রয়েছে। বাসাবাড়িতেও গ্যাসের সরবরাহ না থাকায় অনেক এলাকায় মাটির চুলা ও সিলিন্ডার গ্যাসের মাধ্যমে রান্না করতে হচ্ছে। হঠাৎ করে গ্যাস সরবরাহে এমন বিপর্যয় দেখা দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

জেলা বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিডিসিএল) আওতাধীন এলাকায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক মিলিয়ে প্রায় ২৬ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। তাদের মধ্যে অধিকাংশ আবাসিক গ্রাহকই বর্তমানে গ্যাস সংকটে ভুগছেন।

কলেজপাড়ার বাসিন্দা মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘গত বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুর থেকেই বাসায় গ্যাস নেই। রান্নাবান্না নিয়ে চরম সমস্যায় পড়েছি। বাধ্য হয়ে সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করতে হচ্ছে। হঠাৎ করে গ্যাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবারের সবাইকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’

পাইকপাড়ার বাসিন্দা সালমা আক্তার বলেন, ‘সকাল থেকে চুলায় গ্যাসের চাপ নেই। নাশতা ও রান্না করতে খুব সমস্যা হচ্ছে। সিলিন্ডার গ্যাস কিনে রান্না করতে হচ্ছে। এতে বাড়তি খরচও হচ্ছে। কতদিন এ সমস্যা থাকবে, তা বুঝতে পারছি না।’

এদিকে গ্যাস না থাকায় বিপাকে পড়েছেন সিএনজি অটোরিকশাচালকরাও। মো. সোহেল মিয়া নামে এক সিএনজিচালক বলেন, ‘গ্যাসের জন্য ফিলিং স্টেশনে এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও গ্যাস পাচ্ছি না। গাড়ি চালাতে না পারলে আমাদের আয়ও বন্ধ হয়ে যায়। এভাবে চলতে থাকলে পরিবার নিয়ে বিপদে পড়ে যাব।’

একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘গ্যাসের চাপ না থাকায় স্টেশনে গাড়িতে গ্যাস দেওয়া যাচ্ছে না। অনেক গাড়ি এসে গ্যাস না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে। স্টেশন বন্ধ থাকায় আমাদেরও কাজ বন্ধ।’

গ্যাসনির্ভর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও পড়েছে সংকটে। স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ী মো. আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘গ্যাস না থাকায় রান্না করতে পারছি না। ব্যবসা প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে আমাদের বড় ধরনের লোকসান গুনতে হবে।’

বিজিডিসিএল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উপমহাব্যবস্থাপক (বিক্রয়) প্রকৌশলী মো. শফিকুল হক বলেন, ‘জেলায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক মিলিয়ে প্রায় ২৬ হাজার গ্রাহক রয়েছে। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ার কারণে বাণিজ্যিক পর্যায়ে পুরোপুরি গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। আবাসিক পর্যায়ে কিছু কিছু এলাকায় গ্যাস থাকলেও বেশিরভাগ জায়গায় সরবরাহ নেই। কখন নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।’
প্রসঙ্গত, গত বুধবার (১২ আগস্ট) বিজিডিসিএলের এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এলএনজি টার্মিনাল (FSRU) থেকে এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। ফলে জাতীয় পর্যায়ে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ অনাকাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে হ্রাস পেয়েছে। এর প্রভাবে বিজিডিসিএলের বিতরণ এলাকার কুমিল্লা, নোয়াখালী, চাঁদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করছে।

হঠাৎ সৃষ্ট এ গ্যাস সংকটে আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প খাতের গ্রাহকদের দুর্ভোগ বেড়েছে। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।


নির্বাচিত

রানীনগরে ভর্তুকির সারেও বাড়তি দাম, আমন চাষে শঙ্কায় কৃষকরা

* অভিযানের পরেও কমছে না সারের বাড়তি দাম * ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ১৯ হাজার ৭০ হেক্টর জমি
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সবুজ হোসেন, নওগাঁ

সরকার কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমাতে ভর্তুকি দিয়ে সার সরবরাহ করলেও নওগাঁর রানীনগরে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের দাবি, ডিলারের দোকানে সার থাকলেও নির্ধারিত দামে তা মিলছে না। বস্তাপ্রতি ৩৫০ থেকে সাড়ে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। এতে চলতি আমন মৌসুমে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।

কৃষকদের অভিযোগ, সার উত্তোলন থেকে শুরু করে বাজারজাত পর্যন্ত যথাযথ নজরদারি না থাকায় একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দাম বাড়ানো হচ্ছে। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করা হলেও কার্যকরভাবে তা বন্ধ করা যাচ্ছে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান ও জরিমানা করা হলেও অভিযানের পরদিনই আবার আগের দামে সার বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি আমন মৌসুমে রানীনগরে ১৯ হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। জমি প্রস্তুত ও ধানের চারা রোপণের শুরুতেই সারের বাড়তি দাম কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। উৎপাদন খরচ বাড়লে অনেক কৃষক আগামী মৌসুমে চাষাবাদ কমিয়ে দিতে পারেন বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রানীনগর উপজেলায় বিসিআইসির ১১ জন এবং বিএডিসির ১৯ জন সার ডিলার রয়েছেন। চলতি আগস্ট মাসে বিএডিসির মাধ্যমে প্রায় ৬০০ মেট্রিক টন সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিসিআইসির ডিলাররাও বিশেষ বরাদ্দ পেয়েছেন। ফলে সরকারি হিসাবে সারের পর্যাপ্ত মজুত ও বরাদ্দ থাকার পরও কেন কৃষকদের বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

গত বুধবার (১২ আগস্ট) উপজেলার আবাদপুকুর বাজারের মুন্না ট্রেডার্স থেকে সার কেনা এক কৃষক বলেন, ‘তিনি পাঁচ বস্তা সার কিনেছেন। দোকান থেকে ৫ হাজার ৭৫০ টাকার মেমো দেওয়া হলেও তার কাছ থেকে ৬ হাজার ৪০০ টাকা নেওয়া হয়েছে।’ অভিযান হওয়ার পরও বেশি দাম নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

কৃষকদের অভিযোগ, টিএসপি ১ হাজার ৬৮০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা, ঝুরা পটাশ ১ হাজার ১২০ টাকা এবং ডিএপি ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা কিনলে দাম আরও বেশি নেওয়া হচ্ছে। সরকারি দামের সঙ্গে বাজারদরের এই ব্যবধান কৃষকদের জন্য বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে।

খানপুকুর বাজারের মেসার্স সোনার বাংলা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী সবুজ হোসেন বলেন, ‘চায়না ডিএপি ১ হাজার ৪৪০, দেশি ডিএপি ১ হাজার ৩৮০, পটাশ ১ হাজার ১৩০ এবং ইউরিয়া ১ হাজার ৩৫০ থেকে ১ হাজার ৩৬০ টাকায় কিনতে হচ্ছে।’ তিউনেশিয়ার টিএসপি ১ হাজার ৯০০ এবং মরক্কোর টিএসপি ১ হাজার ৭২০ টাকায় কিনতে হয় বলেও জানান তিনি। তিনি নিজেকে সাব-ডিলার দাবি করে বলেন, ‘কীটনাশক বিক্রির পাশাপাশি কৃষকদের চাহিদার কারণে সার রাখতে হয়। এতে তেমন লাভ হয় না।’

আবাদপুকুর বগারবাড়ি এলাকার এক সাব-ডিলার জানান, আবাদপুকুর থেকে সার আনার সময় প্রতি বস্তায় প্রায় ২০ টাকা গাড়ি ভাড়া পড়ে। ১০ টাকা লাভে সার বিক্রি করেন তিনি। অনেক সময় কেনা দামেই সার বিক্রি করতে হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে রানীনগরের ফটিক ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী শহিদুল ইসলাম ফটিক বলেন, ‘উপজেলায় সারের সংকট নেই। তবে বাইরে থেকে সার কেনার কারণে কিছুটা বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।’ তিনি ডিএপি ১ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি করছেন বলে জানান।

রানীনগর উপজেলা বিএডিসি সার ডিলার সমিতির সভাপতি রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির সুযোগ নেই।’ তিনি সব ডিলারকে সরকারি মূল্যে সার বিক্রির নির্দেশ দিয়েছেন।’ কোনো ডিলার বেশি দামে বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলেও জানান তিনি।

রানীনগর উপজেলা বিসিআইসি সার ডিলার সমিতির সভাপতি আব্দুস ছাত্তার শাহ এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা জাহিদ কামাল বলেন, ‘উপজেলায় সারের কোনো সংকট নেই। কেউ বেশি দামে সার বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে একাধিক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনজুর রহমান বলেন, ‘রানীনগরে পর্যাপ্ত সার বরাদ্দ রয়েছে। সারের কোনো সংকট নেই।’ কৃষকদের বিসিআইসি ও বিএডিসি ডিলারের কাছ থেকে মেমো নিয়ে সার কেনার পরামর্শ দেন তিনি। কোনো ডিলার বেশি দাম নিলে কৃষকদের কৃষি বিভাগে অভিযোগ করার আহ্বান জানান।

সরকারি নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী প্রতি বস্তা ইউরিয়া ১ হাজার ৩৫০, টিএসপি ১ হাজার ৩৫০, ডিএপি ১ হাজার ৫০ এবং এমওপি ১ হাজার টাকা। কৃষকদের দাবি, শুধু অভিযান বা জরিমানা নয়, নিয়মিত বাজার তদারকি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা হলে সরকারি ভর্তুকির সুফল সরাসরি কৃষকদের কাছে পৌঁছাবে।


নির্বাচিত

জয়পুরহাটে ৬০০ সুবিধাবঞ্চিত নারী ও প্রতিবন্ধীর মাঝে গরু বিতরণ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
​জয়পুরহাট প্রতিনিধি

জয়পুরহাটে আয় বৃদ্ধিমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে কৃষক, প্রতিবন্ধী, সুবিধাবঞ্চিত বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা নারীদের মাঝে গরু বিতরণ করা হয়েছে।

​পাঁচবিবির বটতলী বাজারে বেসরকারি সংস্থা এসডিএসের কার্যালয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং বেসরকারি সংস্থা এসডিএস’ (SDS)-এর যৌথ উদ্যোগে মোট ৬০০ জন উপকারভোগীর মাঝে এসব গরু হস্তান্তর করা হয়।

অনুষ্ঠানে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপি সিনিয়র যুগ্ন আহ্বায়ক মাসুদ রানা প্রধান, বিশেষ অতিথি বক্তব্য রাখেন, জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের ট্রেনিং অফিসার ডা. এসএম খুরশিদ আলম, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক, সাহাদাত হোসেন, এসডিএস সংস্থার সভাপতি গুলশান আরা গ্যালিন, জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব মনজুরে মওলা পলাশসহ অন্যান্য নেতারা।

​অনুষ্ঠানে আয়োজকরা জানান, গরু পালনের মাধ্যমে উপকারভোগীরা নিজেদের পরিবারের আয় বৃদ্ধি ও আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবেন। মূলত কৃষক, প্রতিবন্ধী, সুবিধাবঞ্চিত বিধবা এবং স্বামী পরিত্যক্তা নারীদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়িয়ে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করাই এই বিশেষ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।


নির্বাচিত

দুর্ঘটনায় আহত সাংবাদিক তুহিনের পাশে বিএনপির নেতা রহমাতুল্লাহ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরিশাল ব্যুরো

সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে ঢাকায় চিকিৎসা অবস্থায় রয়েছেন মোহনা টেলিভিশনের রিপোর্টার এবং দৈনিক বাংলা বরিশাল বিভাগীয় প্রধান তারিকুল ইসলাম তুহিন। দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতা পেশায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসা এই সংবাদকর্মীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে হাসপাতালে ছুটে যান বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ।

জানা গেছে, গত মাসের ২১ জুলাই রাতে ভাটিখানায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে যাওয়ার পথে বাইকের সামনে বৃদ্ধ একলোককে বাঁচাতে গিয়ে মোটরসাইকেলে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি।

পরে গুরুতর আহত তুহিনকে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে বরিশাল শেরই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর)-এ স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ আহত সাংবাদিক তুহিনের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে সর্বশেষ চিকিৎসা পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের সান্ত্বনা ও সাহস জোগান। পাশাপাশি চিকিৎসা কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ বলেন, ‘সাংবাদিক তারিকুল ইসলাম তুহিন একজন মেধাবী, দায়িত্বশীল ও প্রতিশ্রুতিশীল সংবাদকর্মী। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই তিনি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। আমরা সবাই তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। তার পরিবারের এই কঠিন সময়ে আমরা পাশে আছি এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘একজন কর্মরত সাংবাদিকের অসুস্থতা শুধু তার পরিবারের নয়, পুরো গণমাধ্যম পরিবারের জন্যই উদ্বেগের বিষয়। তাই মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই তার চিকিৎসা ও সুস্থতার খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে।’

পরিবারের সদস্যরাও দেশবাসীর কাছে তার সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়েছেন। তারা জানান, চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং ইতিবাচক অগ্রগতির আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে সবার দোয়া ও সহযোগিতা তাদের মানসিক শক্তি জোগাচ্ছে।


নির্বাচিত

জীবননগরে ১০ গ্রামের মানুষের চরম ভোগান্তি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়ার তিন রাস্তার মোড়ে গত চার বছর ধরে বিরাজ করছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা। বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের কোনো সুব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিন হাঁটু সমান নোংরা পানি মাড়িয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন অন্তত ১০টি গ্রামের হাজারও মানুষ।

বছরের পর বছর জমে থাকা পচা পানিতে সড়কটি নষ্ট হয়ে এখন প্রায় সম্পূর্ণ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ​স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণপাড়াসহ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোর প্রাত্যহিক যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এই সড়কটি। তবে দীর্ঘদিনের এই জলাবদ্ধতা দৈনন্দিন যাতায়াতকে রূপ দিয়েছে চরম দুর্ভোগে। শিক্ষার্থীদের কষ্ট ও স্বাস্থ্যঝুঁকি

​জলাবদ্ধতার কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা। নোংরা পানি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যেতে গিয়ে প্রায়শই তাদের জামাকাপড় ও বই-খাতা ভিজে নষ্ট হচ্ছে। মনোহরপুর দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা আব্দুর রশিদ আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন,

​দীর্ঘ ৪ বছর ধরে আমরা এক প্রকার পানিবন্দী হয়ে পড়েছি। জলাবদ্ধতার পানি দূষিত হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে রোগজীবাণু। এতে শরীরে চুলকানিসহ বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগ ও ঘা-পঁচড়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন এলাকার মানুষ।

​স্থানীয় বাসিন্দা বাবলু বিশ্বাস জানান, শিশুদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে অভিভাবকরা সবসময় শঙ্কিত থাকেন। অনেকেই সন্তানদের একা স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। অন্যদিকে, স্থানীয় ব্যবসায়ী খমেনি বলেন, দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার কারণে তারা নিজেদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য সময়মতো বাজারে নিয়ে যেতে পারছেন না, ফলে চরম অর্থনৈতিক লোকসানের মুখে পড়ছেন।

​এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘ চার বছরের এই স্থায়ী দুর্ভোগ নিরসনে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে বারবার ধরনা দেওয়া হলেও আজ পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি যেমন ধ্বসে পড়ছে, তেমনি যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন পথচারীরা। ​জরুরি ভিত্তিতে উপযুক্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ করে এই দীর্ঘ অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে উপজেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আশু হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী গ্রামবাসীরা।

​সড়কটির করুণ দশা ও জনগণের দুর্ভোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবহিত হয়েছেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশ্বাস দেন তিনি।


নির্বাচিত

চলতি অর্থবছরেই ৫ স্তরে স্থানীয় নির্বাচন: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গলে পরিবেশ সুরক্ষা ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। শহরের বাইরে নিরাপদ স্থানে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট স্থাপন করে বর্জ্য থেকে জৈব সার ও নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। একই সঙ্গে চলতি অর্থবছরের মধ্যেই দেশের পাঁচটি স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শ্রীমঙ্গল পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ও এলাকা পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা জানান।

পরিদর্শনকালে তিনি শ্রীমঙ্গল ভিক্টোরিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠ, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য নির্মাণাধীন ভবন এবং শহরের তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে দীর্ঘদিন ধরে থাকা পৌরসভার ময়লার ভাগাড় সরেজমিনে ঘুরে দেখেন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে থাকা ময়লার ভাগাড় দ্রুত স্থানান্তরের ওপর জোর দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শ্রীমঙ্গলের ময়লা ফেলার জন্য শহরের বাইরে খাস বা সরকারি জমি খোঁজা হচ্ছে। সেখানে একটি আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট স্থাপন করা হবে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে মন্ত্রণালয়ের একজন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ শ্রীমঙ্গলে আসবেন। তাঁর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, চলতি অর্থবছরের মধ্যেই সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ এই পাঁচ স্তরের নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।

তিনি জানান, এসব নির্বাচন আয়োজনে আনুমানিক সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে এবং এই অর্থ বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে। প্রস্তুতি চূড়ান্ত হলে নির্বাচন কমিশন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও অর্থ বিভাগ যৌথ বৈঠকে বসে নির্বাচনের সময়সূচি ও অগ্রাধিকার নির্ধারণ করবে।

পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী, মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক সরফরাজ আহমেদ সরফু, শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান, শ্রীমঙ্গল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম এবং শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরে আলম সিদ্দিকীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।


নির্বাচিত

সীতাকুণ্ডে শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাস লিকেজে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৪ আগস্ট, ২০২৬ ১৬:১১
চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে ট্যাংক থেকে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮ জন। এ ঘটনায় অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও কয়েকজন। আজ শুক্রবার সকালে উপজেলার ভাটিয়ারী এলাকায় অবস্থিত ‘ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজ’ নামক কারখানায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে।

কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফেরদৌস ওয়াহিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কাজ চলাকালীন জাহাজের একটি ট্যাংক থেকে গ্যাস নির্গত হতে দেখে সেফটি টিমের সদস্যরা তা পরীক্ষা করতে যান। এ সময় আকস্মিকভাবে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়লে সেখানে উপস্থিত শ্রমিকরা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএফই) চট্টগ্রামের উপমহাপরিদর্শক মাহবুবুল হাসান প্রাথমিকভাবে একজন শ্রমিকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন এবং বাকিদের অবস্থা পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। দুর্ঘটনার কারণ এবং ইয়ার্ডে শ্রমিকদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে বারবার এমন প্রাণহানির ঘটনায় স্থানীয় শ্রমিকদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


নির্বাচিত

সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা কারখানায় বিস্ফোরণ, নিহত ৩

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি জাহাজভাঙা কারখানায় (শিপইয়ার্ড) স্ক্র্যাপ জাহাজ কাটার সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে এখন পর্যন্ত ৩ জন শ্রমিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং অন্তত ১০ জন শ্রমিক গুরুতরভাবে দগ্ধ ও আহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ভাটিয়ারী স্টেশন রোড সংলগ্ন সাগর উপকূলে অবস্থিত মো. লোকমানের মালিকানাধীন ‘ফেরদৌস স্টিল’ নামক শিপইয়ার্ডে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। কুমিরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ আল মামুন এই মর্মান্তিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, স্ক্র্যাপ জাহাজের অভ্যন্তরে তেলের ট্যাংকি পরিষ্কার করার জন্য শ্রমিকরা নিচে নামলে হঠাৎ সেখানে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে ঘটনাস্থলেই কয়েকজন হতাহত হন। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) প্রেরণ করা হয়েছে। উদ্ধারকর্মীদের আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও শ্রমিক আটকা পড়ে থাকতে পারেন, যার ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম এই বিস্ফোরণের বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান যে, খবর পাওয়ার পরপরই সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অবহিত করা হয়েছে এবং ঘটনাস্থলে জরুরি ভিত্তিতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে এবং উদ্ধার তৎপরতা তদারকি করতে স্থানীয় প্রশাসন কাজ শুরু করেছে। আহত শ্রমিকদের সঠিক নাম-পরিচয় এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি। বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের বিশেষ দল তদন্ত শুরু করেছে।


নির্বাচিত

banner close