বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬
৯ মাঘ ১৪৩২

এক কেন্দ্রে ৫৯ ভুয়া দাখিল পরীক্ষার্থী বহিষ্কার

আপডেটেড
২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৭:০৩
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশিত
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৭:০২

নওগাঁর সাপাহারের সরফতুল্লাহ ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্র থেকে মঙ্গলবার সকালে আরবী ২য় পত্র পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ৫৯ জন ভুয়া দাখিল পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। প্রথমে তাদের আটক করা হলেও পরবর্তীতে আটককৃতদের বয়স ১৮ বছরের নিচে হওয়ায় তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছেন সাপাহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওই মাদ্রাসার প্রধানদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন।

ভূয়া পরীক্ষার্থী দিয়ে পরীক্ষা দেওয়ানো মাদ্রাসাগুলো হলো, সাপাহারের সিমুলডাঙা দাখিল মাদ্রাসা (সদ্য এমপিওভুক্ত), মানিকুড়া দাখিল মাদ্রাসা (সদ্য এমপিওভুক্ত), বলদিয়াঘাট দাখিল মাদ্রাসা (সদ্য এমপিওভুক্ত), পলাশডাঙা দাখিল মাদ্রাসা, দেওপাড়া দাখিল মাদ্রাসা, আলাদিপুর দাখিল মাদ্রাসা, তুলসিপাড়া দাখিল মাদ্রাসা, আন্ধারদীঘি দাখিল মাদ্রাসা। এরমধ্যে সদ্য এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা ৩টি এবং ননএমপিওভুক্ত মাদ্রাসা ৫টি।

কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে আরবী ২য় পত্র বিষয়ে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে কিছু ভূয়া পরীক্ষার্থী এই কেন্দ্রে দিচ্ছেন সচিবের এমন নির্দেশে কক্ষ পরিদর্শকগণ খাতা স্বাক্ষর করার সময় বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে কেন্দ্র সচিবকে জানান। সেই তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্র সচিব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানালে সাথে সাথেই তিনি কেন্দ্রে অভিযান চালান। এসময় শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র, রেজিষ্ট্রেশন কার্ড, ছবিসহ প্রয়োজনীয় সবকিছু যাচাই-বাছাই করেন। যাচাই-বাছাই শেষে এই ৫৯ জন ভুয়া পরীক্ষার্থীকে শনাক্ত করেন।

তারা আরও বলেন, এই কেন্দ্রে ৪০টি মাদ্রাসার পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এখানে ৮৯৮ জন পরীক্ষার্থী এবারে পরীক্ষা দিচ্ছেন। এরমধ্যে সিমুলডাঙা দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১১ জন, পলাশডাঙা দাখিল মাদ্রাসা থেকে ৮ জন, দেওপাড়া সিংপাড়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ৩ জন, আলাদিপুর দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১ জন, তুলসিপাড়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৪ জন, বলদিয়াঘাট দাখিল মাদ্রাসা থেকে ২ জন, আন্ধারদীঘি দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৭ জন, মানিকুড়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ৩ জন ভূয়া পরীক্ষার্থী কেন্দ্রে এসে পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। পরবর্তীতে তাদের ছেড়ে দিলেও প্রকৃত পরীক্ষার্থীদের বহিষ্কার করা হয়েছে।

এবিষয়ে কেন্দ্র সচিব মো. মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, ‘আমি গোপন সূত্রে জানতে পেরে তাৎক্ষণিক ভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করি। এরপর ইউএনও স্যার ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা স্যার এসে কক্ষ পরিদর্শকদের সহায়তায় এই ৫৯ জন ভুয়া পরীক্ষার্থীদের সনাক্ত করেন। এরপর তাদের বয়স ১৮ বছরের নিচে হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের নিকট হস্তান্তর করা হয় এবং ওই ৮টি মাদ্রাসার প্রধানের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। সেই মামলা দায়ের করার বিষয়টি এখন প্রক্রিয়াধীন।’

এবিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন বলেন, ‘যাচাইয়ের পর ৫৯ জন ভূয়া পরীক্ষার্থী পাওয়ায় তাদের কক্ষ পরিদর্শক বহিষ্কার করেছেন এবং ওই ৮টি প্রতিষ্ঠান প্রধানের বিরুদ্ধে কেন্দ্র সচিব নিয়মিত মামলা দায়ের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

বিষয়:

ফাঁদ পেতে বন্যপ্রাণী শিকার, হুমকির মুখে জীববৈচিত্র্য

মেছো বিড়াল উদ্ধার করল কুষ্টিয়ার পুলিশ ও বন বিভাগ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ায় ফাঁদ পেতে ধরা একটি মেছো বিড়াল (মেছো বাঘ) উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ভোরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানাধীন মনোহারদিয়া ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামের নিশানের বাড়ি থেকে বাঁশের তৈরি ফাঁদে আটক একটি বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণী মেছো বিড়াল উদ্ধার করেছে পুলিশ ও বন বিভাগ।

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানাধীন মনোহারদিয়া ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামের নিশানের বাড়ি থেকে বাঁশের তৈরি ফাঁদে আটক একটি বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণী মেছো বিড়াল উদ্ধার করেছে পুলিশ ও বন বিভাগ।

স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ভোর রাতে নিশানের বাড়িতে বাঁশ দিয়ে তৈরি ফাঁদে একটি বন্যপ্রাণী আটকা পড়তে দেখে এলাকাবাসী প্রথমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পরে বন্যপ্রাণীটি মেছো বিড়াল বলে শনাক্ত হলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে মনোহারদিয়া পুলিশ ক্যাম্পের একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফাঁদে আটকে থাকা মেছো বিড়ালটিকে উদ্ধার করে নিরাপদে পুলিশ ক্যাম্পে নিয়ে যায়। এ সময় প্রাণীটিকে উদ্ধারে স্থানীয়রা পুলিশকে সহযোগিতা করেন।

পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে বিভাগীয় বন বিভাগ কুষ্টিয়ার একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশের কাছ থেকে মেছো বিড়ালটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝে নেয় এবং বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে আসে। সেখানে প্রাথমিকভাবে তার শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করা হয়।

এ বিষয়ে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল আলম বলেন, ‘উদ্ধারকৃত মেছো বিড়ালটি বর্তমানে সুস্থ রয়েছে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে বড় কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ শেষে আজ রাতেই তাকে নিরাপদ প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মেছো বিড়াল বাংলাদেশে সংরক্ষিত বন্যপ্রাণীর তালিকাভুক্ত। বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী মেছো বিড়াল শিকার, আটক বা ফাঁদ পাতা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পরিবেশকর্মী শাহাবউদ্দিন মিলন বলেন, ‘মেছো বিড়াল একটি বিরল প্রজাতির প্রাণী। এসব প্রাণী সাধারণত বড় জলাশয়, পুকুর ও হাওর অঞ্চলে বসবাস করে। এদের মূল খাবারই হলো মাছ। তবে বিভিন্ন সময় খাদ্যের সন্ধানে কিংবা প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংকুচিত হয়ে পড়ায় মেছো বিড়াল প্রায়ই লোকালয়ে চলে আসছে। এতে অনেক সময় অসচেতন মানুষ ফাঁদ পেতে এসব প্রাণী শিকারের চেষ্টা করে থাকে, যা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। বন বিভাগ ও প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতা ছাড়া বন্যপ্রাণী রক্ষা সম্ভব নয়।’

বন্যপ্রাণী গবেষক সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থাগুলোর সংগঠন আইইউসিএন মেছো বিড়ালকে সংকটাপন্ন প্রাণী হিসেবে লাল তালিকাভুক্ত করেছে। প্রাণীটি বাংলাদেশেও বিপন্ন। এগুলো আকারে গৃহপালিত বিড়ালের চেয়ে অনেকটা বড়। শরীর ঘন, পুরু লোমে আবৃত। গায়ের রং ধূসর, সঙ্গে বাদামি আভা আছে। পেটের নিচের রং সাদাটে। শরীরজুড়ে ছোপ ছোপ কালো দাগ আছে। চোখের ওপরে কপাল থেকে কানের দিকে কালো দুটি রেখা উঠে গেছে। গাল দুটি হালকা সাদাটে। এগুলোর নাক কিছুটা চওড়া, দাঁত বড়, কান গোলাকার ও অপেক্ষাকৃত ছোট। মেছো বিড়াল জলে-স্থলে সমান শিকারি। সাধারণত খাল, বিল, নদী, পুকুর ও জলাভূমিসংলগ্ন স্থানে বসবাস করে। এগুলো মাছ, সাপ, ব্যাঙ, ইঁদুর, পাখি, খরগোশ, গুইসাপসহ মাঝারি আকারের অনেক প্রাণী শিকার করে। পানিসংলগ্ন ঝোঁপ, কচুরিপানার ভেতরে এগুলো ঘণ্টার পর ঘণ্টা চুপ করে শিকারের আশায় বসে থাকতে পারে।

এদিকে ১৫ জানুয়ারি দিনব্যাপী সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী রক্ষায় বন বিভাগের অভিযানে সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের আওতাধীন কলাগাছিয়া, চুনকুড়ি ও মুন্সীগঞ্জ বন টহল ফাঁড়ির বিভিন্ন এলাকা থেকে হরিণ শিকারের জন্য রাখা ২৪৬টি অবৈধ ফাঁদ জব্দ করা হয়।

পরদিন ১৬ জানুয়ারি বন বিভাগ থেকে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বনরক্ষীরা সুন্দরবনের অভ্যন্তরে বিশেষ অভিযান চালান। অভিযানে হরিণ শিকারের উদ্দেশ্যে পাতা দড়ির তৈরি ফাঁদগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। তবে অভিযানের খবর পেয়ে শিকারিরা আগেই পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

উদ্ধার করা ফাঁদের মধ্যে কলাগাছিয়া বন টহল ফাঁড়ির ফুলখালী খাল এলাকা থেকে ২০০টি, চুনকুড়ি বন টহল ফাঁড়ির চালতেবাড়ি খাল এলাকা থেকে ১৭টি এবং মুন্সীগঞ্জ বন টহল ফাঁড়ির ভুতোশিং ও কলুখালী এলাকা থেকে ২৯টি ফাঁদ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে মোট উদ্ধার ফাঁদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪৬টি।


মিধিলিতে নিখোঁজ বরগুনার ১৭ জেলে জীবিত, গুজরাটের কারাগারে সন্ধান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরিশাল প্রতিনিধি

২০২৩ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় মিধিলি―র সময় বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ হওয়া বরগুনার ১৭ জেলের সন্ধান মিলেছে ভারতের গুজরাটের একটি কারাগারে। দুই বছর আগে যাদের মৃত ভেবে শোক পালন করেছিলেন স্বজনরা, সেই জেলেরা জীবিত আছেন এই খবরে উপকূলজুড়ে বইছে আনন্দের জোয়ার। একই সঙ্গে তাদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন পরিবারগুলো।

জানা গেছে, ২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় মিধিলির প্রলয়ঙ্করী প্রভাবে সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে এফবি এলাহী ভরসা নামের একটি ট্রলারসহ নিখোঁজ হন বরগুনার ১৭ জন জেলে। দীর্ঘ সময় কোনো খোঁজ না পাওয়ায় একপর্যায়ে স্বজনরা আশা ছেড়ে দেন এবং তাদের মৃত্যু হয়েছে বলেই ধরে নেন।

দীর্ঘ দুই বছর পর সম্প্রতি জানা যায়, নিখোঁজ ওই জেলেরা জীবিত রয়েছেন এবং ভারতের গুজরাটের একটি কারাগারে বন্দি অবস্থায় আছেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই জেলেদের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে।

জেলেদের স্বজনরা আবেগভরে জানান,আল্লাহ যেন ওদের দিল নরম করে দেয়। আমাদের তো এত টাকা নেই যে নিজেরা খুঁজে গিয়ে এনে ফেলবো। সরকার যেন বিষয়টা গুরুত্ব দিয়ে দেখে। তারা দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে প্রিয়জনদের দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।

তবে বরগুনা জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত নিখোঁজ জেলেদের পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো লিখিত অভিযোগ বা আবেদন জমা দেওয়া হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করা হলে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত তাদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান জেলা মৎস্য কর্মকর্তা।

বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন বলেন, সঠিক প্রক্রিয়ায় আবেদন না পাওয়ায় আমরা সরাসরি কাজ শুরু করতে পারিনি। পরিবারগুলো যদি জিডির কপি, জাতীয় পরিচয়পত্র ও এফআইডি কার্ডসহ আবেদন করে, তাহলে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিষয়টি দ্রুত এগিয়ে নিতে পারবো।

সম্প্রতি মৎস্য অধিদপ্তরের ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প থেকে বরগুনা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখায় (এসবি) তথ্য আসে যে, নিখোঁজ জেলেরা গুজরাটের একটি কারাগারে আটক রয়েছেন। পরে তালিকা অনুযায়ী জেলেদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়।

বরগুনা জেলা পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা জানান, বিষয়টি জানার পর এসবির মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, গুজরাটের একটি কারাগারে ১৭ জন জেলে থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। বিস্তারিত যাচাই শেষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন,জেলেরা যেন দ্রুত দেশে ফিরতে পারেন, সে জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। কাগজপত্র ও আইনি জটিলতার কারণে অনেক সময় বিষয়গুলো দীর্ঘসূত্রতা পায়, তবে সরকার দ্রুত সমাধানে কাজ করছে।

উল্লেখ্য, ইলিশ মৌসুম এলেই উপকূলীয় এলাকায় নিম্নচাপ ও ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি বেড়ে যায়। প্রতিবছর উত্তাল সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে বহু জেলে নিখোঁজ হন। উপার্জনক্ষম মানুষ হারিয়ে দারিদ্র্য ও অনিশ্চয়তায় পড়ে উপকূলের অসংখ্য জেলে পরিবার। বরগুনার ১৭ জেলের জীবিত থাকার খবরে সেই দুঃসহ অপেক্ষার অবসান হলেও এখন সবার একটাই প্রত্যাশা প্রিয়জনদের নিরাপদে দেশে ফিরে পাওয়া।


ময়মনসিংহে বিবাদ ভুলে এক মঞ্চে বিএনপি-জামায়াতসহ ৬ দল: সহিংসতার বিরুদ্ধে শান্তির ডাক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ময়মনসিংহে রাজনৈতিক সম্প্রীতির এক অনন্য নজির স্থাপিত হয়েছে। ‘সহিংসতা নয়, শান্তিই মানুষের দাবি’—এই স্লোগানকে ধারণ করে ময়মনসিংহ-৪ আসনে শুরু হয়েছে চার দিনব্যাপী বহুদলীয় শান্তি ও সম্প্রীতি প্রচারণা। মাল্টিপার্টি এডভোকেসি ফোরাম, সম্প্রীতি টিম এবং ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে এক মঞ্চে উপস্থিত হয়ে শান্তির পক্ষে নিজেদের অবস্থান ঘোষণা করেছেন বিবদমান বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। এই ব্যতিক্রমী আয়োজনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন এবং গণফোরামের নেতৃবৃন্দ ও প্রার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই ময়মনসিংহ-১, ময়মনসিংহ-৮ এবং ময়মনসিংহ-৯ সহ আশপাশের বেশ কয়েকটি আসনে নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এসব এলাকায় ভাঙচুর, সংঘর্ষ এবং প্রাণহানির মতো ঘটনা সাধারণ ভোটারদের মনে গভীর আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভোটাররা নিরাপত্তার অভাবে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে ভোটারদের আস্থা ফেরাতে এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে এই বহুদলীয় প্রচারণার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী চার দিন ধরে জেলার ১১টি আসনেই এই সম্প্রীতি ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ময়মনসিংহের মানুষ রাজনীতি সচেতন এবং তারা ভোটের গুরুত্ব বোঝেন, কিন্তু তারা আতঙ্কের রাজনীতি চান না। ভিন্ন ভিন্ন মত ও রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকলেও তা যেন কোনোভাবেই প্রতিহিংসা বা সহিংসতায় রূপ না নেয়, সে বিষয়ে প্রার্থীরা একমত পোষণ করেছেন। ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে ময়মনসিংহ-৪ আসনের প্রার্থী ও রাজনৈতিক নেতারা জনগণের উদ্দেশ্যে ছয়টি সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এর মধ্যে রয়েছে—নির্বাচনী সময়ে কোনো প্রকার সহিংসতা বা উসকানিমূলক আচরণ না করা, পারস্পরিক সম্মান ও রাজনৈতিক সৌজন্য বজায় রাখা, সংঘাতের ঝুঁকি দেখা দিলে দ্রুত যোগাযোগের মাধ্যমে তা প্রশমিত করা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সব ক্ষেত্রে শান্তি ও ঐক্যের বার্তা প্রচার করা। এছাড়া নারীদের প্রতি অনলাইন ও অফলাইন সহিংসতা প্রতিরোধ এবং নির্বাচনী আইন মেনে চলার বিষয়েও তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হন।

এই প্রচারণা কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পাড়া-মহল্লা, চায়ের দোকান এবং তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি নিরপেক্ষ এবং দৃশ্যমান ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে মানুষের মনে আস্থা ফিরে আসে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে ময়মনসিংহ যেন সহিংসতার জন্য নয়, বরং একটি শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দৃষ্টান্ত হিসেবে পরিচিতি পায়, সেই লক্ষ্যেই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয় এই সম্প্রীতি সমাবেশ থেকে।


আমতলীতে পুকুরে ডুবে দুই বছরের শিশুর মৃত্যু

আপডেটেড ২২ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৮:১৮
আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি

বরগুনার আমতলী উপজেলায় পুকুরে ডুবে জামিলা (২) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত জামিলা আমতলী উপজেলার শারিকখালী গ্রামের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. জাহিদুল প্যাদার মেয়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরের দিকে পরিবারের সদস্যরা বাড়ির সামনের একটি পুকুরে শিশুটিকে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান। পরে দ্রুত উদ্ধার করে তাকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আমতলী থানার পুলিশ জানায়, নিহত শিশুর মরদেহ বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করা হয়নি।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পরিবারের অগোচরে খেলতে গিয়ে শিশুটি পুকুরে পড়ে পানিতে ডুবে মারা যায়।

এ মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


প্রাথমিকে নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৯২৬৫

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। এতে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থী। বুধবার (২১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১টি জেলায় (তিন পার্বত্য জেলা বাদে) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাজস্ব খাতভুক্ত সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর লিখিত পরীক্ষা হয়।

এই পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে শর্তসাপেক্ষে মোট ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।


মাস্তান ও মেরুদণ্ডহীন শিক্ষকদের সমন্বয় ভীতিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে: শিক্ষক নেটওয়ার্ক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক 

চাপের মুখে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের (ইউএপি) দুই শিক্ষককে বরখাস্ত করার প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। এ ঘটনাকে ‘মাস্তান ও মেরুদণ্ডহীন শিক্ষকদের সমন্বয়’ হিসেবে দেখার কথা জানিয়েছে সংগঠনটি। তারা বলেছে, এভাবে চললে শিক্ষকদের আর স্বাধীনভাবে শিক্ষা কার্যক্রম চালানো সম্ভব হবে না।

ইউএপির দুই শিক্ষক লায়েকা বশীর ও এ এস এম মোহসীনকে চাকরিচ্যুত করার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে। সম্মেলন থেকে দুই শিক্ষককে চাকরিতে পুনর্বহালসহ চারটি দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক নেটওয়ার্কের পক্ষে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা সুলতানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌমিত জয়দ্বীপ ও তানভীর সোবহান।

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া কাজ করছে না। এর আগে দলীয়ভাবে নিয়োজিত প্রশাসন সন্ত্রাসী ছাত্রসংগঠনের কথায় ওঠবস করত, একইভাবে এখনকার প্রশাসনেরও মেরুদণ্ড খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

‘এর আগে মাস্তান শিক্ষার্থী ও মেরুদণ্ডহীন শিক্ষকদের সমন্বয় দেখেছিলাম আমরা। এখন আবার মাস্তান ও মেরুদণ্ডহীন শিক্ষকদের সমন্বয় আমাদের জন্য ভীতিকর ও আতঙ্কজনক হয়ে দাঁড়িয়েছে,’ বলেন তিনি।

বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষার্থীদের স্বার্থে এ অবস্থার বিরুদ্ধে শক্তভাবে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, জুলাই অভ্যুত্থান–উত্তর বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মৌলিক ধারণাকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে একটি গোষ্ঠী। এরা ধর্মকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে ভিন্নমত দমনের পাশাপাশি আগ্রাসী পথে ক্ষমতায়িত হতে উদ্‌গ্রীব। এ কাজে তারা ব্যবহার করছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোকে। এ প্রবণতারই সর্বশেষ শিকার হচ্ছেন ইউএপির দুই শিক্ষক।

লায়েকা বশীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যে কমিটি গঠন করে, সেখানে অভিযোগ নেওয়া হয়েছিল গুগল ফর্মে। একই ব্যক্তি একাধিক অভিযোগ করেছেন কি না, তা শনাক্তের উপায় ছিল না। তদন্ত কমিটির চিঠিতে লিখিত উত্তর দেওয়ার জন্য লায়েকা বশীরকে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। তবে এর আগেই তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।

এ বিষয়টি তুলে ধরার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নে অধ্যাপক সামিনা লুৎফা বলেন, গুগল ফর্মে যেভাবে অভিযোগ নেওয়া হয়েছে, সেটার প্রক্রিয়া নিয়ে তারা আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলেছেন। আইনজীবী তাদের জানিয়েছেন, এভাবে অভিযোগ গ্রহণ করে ব্যবস্থা নেওয়ার নজির নেই।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, কোনো তদন্ত কমিটি করার আগেই চাকরিচ্যুত করা হয়েছে শিক্ষক মোহসীনকে, যা বেআইনি ও নীতিবিরুদ্ধ। তাকে ‘আওয়ামী লীগের সমর্থক’ ট্যাগ দিয়ে চাকরিচ্যুত করা হাস্যকর ও নিন্দনীয়।

সংবাদ সম্মেলনে চাকরিচ্যুত দুই শিক্ষককে পুনর্বহালের পাশাপাশি এ ঘটনার প্রতিবাদকারী ইউএপির অন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের হয়রানি বন্ধ করা, শিক্ষাবিরোধী অপতৎপরতা বন্ধ এবং দঙ্গলবাজদের শাস্তি, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক–কর্মকর্তা–কর্মচারীদের কথায় কথায় চাকরিচ্যুতি বন্ধ, বিদ্যায়তনিক শৃঙ্খলা ও স্বাধীনতা রক্ষা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মৌলিক ধারণাকে সমন্নুত রাখার দাবি জানানো হয়।

শিক্ষক নেটওয়ার্কের এই সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কামাল চৌধুরী, কাজলি শেহেরীন ইসলাম ও সামিও শীশ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শ্যামলী শীল উপস্থিত ছিলেন। দর্শক সারিতে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের মধ্যে ছিলেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, আইনজীবী মানজুর আল মাতিন, পরিবেশকর্মী আমিরুল রাজীব, অধিকারকর্মী ফেরদৌস আরা রুমী, স্থপতি ফারহানা শারমিন ইমু, বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সীমা দত্ত প্রমুখ।


অনিয়ম, কৃত্রিম সংকট বা মূল্য কারসাজি বরদাশত করা হবে না: খাদ্য উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ায় জেলার সার্বিক খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা পর্যালোচনা ও বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে পর্যবেক্ষণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন খাদ্য ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার।

তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের উৎপাদন, মজুত ও সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো ধরনের অনিয়ম, কৃত্রিম সংকট বা মূল্য কারসাজি বরদাশত করা হবে না। বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত মনিটরিং জোরদার করা হবে। এ সময় তিনি প্রয়োজন অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নির্দেশনা দেন। বুধবার (২১ জানুয়ারি) বেলা ১২টায় কুষ্টিয়া সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত সভায় কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক মো. ইকবাল হোসেনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মো. জসীম উদ্দিন।

সভাপতি জেলা প্রশাসক মো. ইকবাল হোসেন বলেন, সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা স্বচ্ছ ও কার্যকর রাখতে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় আসন্ন রমজানসহ গুরুত্বপূর্ণ সময়কে সামনে রেখে খাদ্যশস্যের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করা, পরিবহন ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন রাখা এবং সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে সময়মতো বিতরণ কার্যক্রম জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভায় বাংলাদেশ চালকল মিল মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রশিদ, দেশ এগ্রোর পরিচালক আব্দুল খালেক, কুষ্টিয়া দ্য চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আবু জাফর মোল্লা, ফুহাদ রেজা ফাহিম, আবু মনি জুবায়েদ রিপন, জাহিদুজ্জামান জিকু সহ জেলা জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, খাদ্য বিভাগ, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় অংশগ্রহণ করেন।


দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবিতে আল্টিমেটাম ইবি বৈছাআ―র

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) সংঘটিত পূর্বের সকল ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়মের পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবিতে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ইবি শাখা। বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুর ৩ টার দিকে সংগঠনটির আহ্বায়ক এস এম সুইট স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিটি উপাচার্যের কাছে প্রদান করেছে বলে জানা গেছে।

এ সময় স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ইবি বৈছাআ’র পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত দুর্নীতি ও অনিয়মসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করা হয়েছিল। তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও স্মারকলিপির ৪ নম্বর দাবি- ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত সকল ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়মের পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশ বিষয়ে এখনো কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, নিয়োগ প্রক্রিয়া, উন্নয়ন প্রকল্প, আর্থিক লেনদেন ও অবকাঠামোগত কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এসব অভিযোগের স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য সমাধানের জন্য একটি তথ্যভিত্তিক ও জনসম্মুখে প্রকাশযোগ্য শ্বেতপত্র প্রকাশের বিকল্প নেই বলে দাবি করেন তারা।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত পূর্বের সকল ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়মের বিস্তারিত তথ্যসম্বলিত পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে শিক্ষার্থী সমাজ শান্তিপূর্ণ কিন্তু কঠোর কর্মসূচি গ্রহণে বাধ্য হবে। এক্ষেত্রে উদ্ভূত পরিস্থিতির সম্পূর্ণ দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গঠিত অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির পৃষ্ঠপোষকতাকারীদের চিহ্নিতকরণ সংক্রান্ত কমিটিকে বহন করতে হবে বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।


জাতিসংঘের ৮০তম বার্ষিকীতে সহ-আয়োজক সোনাইমুড়ীর মোস্তফা-হাজেরা ফাউন্ডেশন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সোনাইমুড়ী (নোয়াখালী) প্রতিনিধি

গণতন্ত্রের প্রাণকেন্দ্র সেন্ট্রাল হল, ওয়েস্টমিনস্টারে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মানবিক নেতৃত্বের এক অনন্য ও গৌরবোজ্জ্বল স্বীকৃতি হিসেবে জাতিসংঘের ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সহ-আয়োজকের মর্যাদা অর্জন করেছে নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী ড. মোস্তফা হাজেরা ফাউন্ডেশন। মানবতা, শান্তি ও বৈশ্বিক সহযোগিতার প্রতি অবিচল অঙ্গীকারের স্বীকৃতিস্বরূপ এই ঐতিহাসিক অংশগ্রহণ বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ও মানবিক নেতৃত্বের মানচিত্রে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

জানা যায়, জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠার ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এ আন্তর্জাতিক আয়োজন বিশ্বব্যাপী শান্তি, মানবাধিকার, টেকসই উন্নয়ন ও বৈশ্বিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই আয়োজনে সহ-আয়োজক হিসেবে ড. মোস্তফা হাজেরা ফাউন্ডেশনের অন্তর্ভুক্তি বাংলাদেশের মানবিক কার্যক্রম ও আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার প্রতি বিশ্বসম্প্রদায়ের আস্থার প্রতিফলন।

ড. মোস্তফা হাজেরা ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানবিক সহায়তা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করে আসছে। জাতিসংঘের এই গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ফাউন্ডেশনটি বৈশ্বিক মানবিক উদ্যোগে বাংলাদেশের সক্রিয় ও দায়িত্বশীল অবস্থানকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরেছে।

ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান উপদেষ্টা এম এইচ গ্লোবাল গ্রুপের চেয়ারম্যান ক্যেপ্টেন গোলাম কিবরিয়া জানানো হয়, এই স্বীকৃতি কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের অর্জন নয়; এটি বাংলাদেশের মানবিক মূল্যবোধ, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রতি অঙ্গীকারের সম্মিলিত স্বীকৃতি।

এই ঐতিহাসিক অর্জনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে বিশ্বব্যাপী মানবতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের ভূমিকা আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।

এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং ব্রিটিশ রাজপরিবারের সম্মানিত সদস্য ডাচেস অব এডিনবরো।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন- জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি আনালেনা বেয়ারবক, যুক্তরাজ্য পার্লামেন্টের সিনিয়র সদস্যরা, হাউস অব লর্ডসের প্রতিনিধিরা এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত আন্তর্জাতিক নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা এবং বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন ডাক্তার মোস্তফা হাজেরা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা উপদেষ্টা এবং এম এইচ গ্লোবাল গ্রুপের চেয়ারম্যান ক্যেপ্টেন গোলাম কিবরিয়া (CIP) এবং ফাউন্ডেশনের যুব প্রতিনিধি ক্যাপ্টেন গোলাম কিবরিয়ার সুযোগ্য দুই কন্যা জান্নাতুন নূর এবং জান্নাতুন নাঈম। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, এই আয়োজনে ৫৩টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন—যা অনুষ্ঠানটির বৈশ্বিক গুরুত্ব ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতাকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

প্রায় ৮০ বছর আগে, এই সেন্ট্রাল হল, ওয়েস্টমিনস্টার থেকেই জাতিসংঘ তার ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু করেছিল।

ঠিক সেই একই স্থানে জাতিসংঘের ৮০তম বার্ষিকী উদযাপন আজ নতুন করে বিশ্বশান্তি, মানবতা এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার প্রতি বিশ্বের সম্মিলিত আশার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

এই ঐতিহাসিক আয়োজনে অংশগ্রহণের জন্য ইউএনএ–ইউকে (UNA-UK)-এর পক্ষ থেকে বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেন কিনিনমন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ক্যাপ্টেন এ. কে. এম. গোলাম কিবরিয়া এবং Dr. Mostafa Hazera Foundation-কে—এই স্মরণীয় ও ঐতিহাসিক মুহূর্তের অংশ হওয়ার জন্য। ডাক্তার মোস্তফা হাজেরা ফাউন্ডেশন দেশের গন্ডি পেরিয়ে বেশকিছু দিন থেকে জাতিসংঘের সাথে যৌথ ভাবে বিশ্বব্যাপী পাঁচশূন্যের অভিযান নিয়ে দেশে-বিদেশে মানুষের জীবন মান উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ ছাড়াও ১৫ দেশে ডাক্তার মোস্তফা হাজেরা ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে, ফাউন্ডেশনের মানোবিক কাজের মূলয়ায়ন হিসেবে সাম্প্রতিক অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্লোবাল হিউম্যানটিরিয়ান অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা ক্যাপ্টেন গোলাম কিবরিয়া আন্তজার্তিক অঙ্গনে মানোবিকতা চড়িয়ে দিতে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন ক্যাপ্টেন গোলাম কিবরিয়া।


সীমান্ত ও ভোটকেন্দ্রে আরও কঠোর নজরদারিতে থাকবে বিজিবি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার, চোরাচালান দমন এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিজিবির যশোর রিজিয়নের গত এক বছরের সাফল্য এবং নির্বাচনী নিরাপত্তা পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, যশোর রিজিয়নের আওতাধীন কুষ্টিয়া থেকে সাতক্ষীরা সীমান্ত পর্যন্ত এলাকায় গত ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত চোরাচালানবিরোধী অভিযানে ৩৭৭ কোটি ৪৬ লাখ ৭৫ হাজার ৬২০ টাকা মূল্যের বিভিন্ন পণ্য জব্দ করা হয়েছে।

জব্দকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে ৫৮ কেজি স্বর্ণ, ১২৪ কেজি রৌপ্য, ২৭টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ১৫২ রাউন্ড গুলি। এ সময় ৩৮০ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর মধ্যে এককভাবে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) ১০৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা মূল্যের মাদক ও চোরাচালানি পণ্য জব্দসহ ১৩৯ জন আসামিকে আটক করেছে। উল্লেখযোগ্য জব্দের তালিকায় রয়েছে ২৩ কেজি হেরোয়িন, ৭০ হাজার পিস ইয়াবা এবং ১৫টি আগ্নেয়াস্ত্র।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যশোর রিজিয়নের অধীনে ১৫টি জেলার ৫১টি সংসদীয় আসনে বিজিবি মোতায়েন করা হবে। এ লক্ষ্যে ১৮০ প্লাটুন বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৭৯টি অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করা হবে।

এ ছাড়া সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করবে বিজিবি।

এর মধ্যে কুষ্টিয়া ও রাজবাড়ী জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে অন্তত ১৪ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। বিশেষ নজরদারির অংশ হিসেবে এই প্রথম ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি ১০টি অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্প এবং গুরুত্বপূর্ণ ২২টি স্থানে চেকপোস্ট স্থাপন করা হবে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী দৌলতপুর উপজেলায় গ্রহণ করা হয়েছে অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা।

সংবাদ সম্মেলনে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানান, ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ও এলাকা চিহ্নিত করে বিস্তারিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সীমান্ত সুরক্ষিত থাকলে দেশ সুরক্ষিত থাকবে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিজিবি সর্বদা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।’

নির্বাচনী পরিবেশ স্থিতিশীল রাখা এবং যেকোনো ধরনের নাশকতা প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ।’


ঝালকাঠিতে নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতাবিষয়ক প্রশিক্ষণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝালকাঠি প্রতিনিধি

ঝালকাঠি ও পিরোজপুর জেলার সাংবাদিকদের নিয়ে ‘নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতাবিষয়ক’ দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর উদ্যোগে বুধবার (২১ জানুয়ারি) ঝালকাঠি সার্কিট হাউসের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত প্রশিক্ষণে দুই জেলার মোট ৫০ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করছেন। আসন্ন সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে সহায়তা করা এই প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য।

প্রশিক্ষণের প্রথম দিনে ‘নির্বাচনের অংশীজন’ হিসেবে রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, নির্বাচন পর্যবেক্ষক এবং গণমাধ্যমের সমন্বিত ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এরপর ‘গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬: সরকার, প্রশাসন ও সাংবাদিকতা বিষয়ে আলোকপাত করা হয়।

এ ছাড়া নির্বাচনী আইন লঙ্ঘন, অনিয়ম ও অপরাধ প্রতিরোধের উপায়সহ গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশু ১৯৭২ এবং এর সাম্প্রতিক সংস্কারগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়।

নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় সাংবাদিকদের দায়িত্ব এবং ‘রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা-২০২৫’ বিষয়ে সেশন পরিচালনা করেন জাতীয় দৈনিকের ডেপুটি এডিটর সুলতান মাহমুদ।

এর আগে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. কাওছার হোসেন। ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেটের আককাস সিকদার, পিআইবির ট্রেইনার গোলাম মোর্শেদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দুই দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ, রিপোর্টিং কৌশল এবং সাংবাদিকদের শারীরিক ও ডিজিটাল নিরাপত্তার মতো সমসাময়িক ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।


ক্ষমতার ভারসাম্য ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অঙ্গীকার উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেনের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন দেশে স্বৈরাচারী ব্যবস্থা রোধে প্রধানমন্ত্রীর একক ক্ষমতা কমিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ক্ষমতার ভারসাম্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের মির্জা রুহুল আমিন মিলনায়তনে আসন্ন গণভোট ও সংসদ নির্বাচন বিষয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই সংস্কারের প্রস্তাব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর একক ক্ষমতা নয়, ক্ষমতা হবে কেবিনেট, ক্ষমতা ভাগাভাগি হবে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে। এখন রাষ্ট্রপতির কাছে হাজার ধরনা দিলেও তিনি কিছু করতে পারেন না। কারণ ওনার কোনো ক্ষমতা নেই, ওনার ক্ষমতা শুধু বিভিন্ন দিবসে ফুল দেওয়া। রাষ্ট্রপতির কোনো ক্ষমতা নেই, ক্ষমতা দেওয়া হলে প্রধানমন্ত্রী স্বৈরাচারী হতো না।”

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সীমাবদ্ধতা এবং একটি নির্বাচিত কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে ড. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “নির্বাচিত সরকার যেভাবে দেশ পরিচালনা করে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দ্বারা সেভাবে দেশ পরিচালনা করা সম্ভব নয়। আমাদের কোনো এমপি নেই, কোনো উপজেলা চেয়ারম্যান নেই। যা কাজ করছি তা আমাদের সরাসরি করতে হচ্ছে। দেশ পরিচালনা করার জন্য যেসব কাঠামো দরকার তার জন্য এই নির্বাচন করা।” তিনি আরও দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেন যে, ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে অর্জিত এই নতুন বাংলাদেশে আর কোনো কলঙ্কিত নির্বাচন হবে না। উপদেষ্টার ভাষায়, “আমরা চাই একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। কারণ, এই নির্বাচনের জন্য অসংখ্য মানুষ জীবন দিয়েছে। আমরা আগের মতো কোনো নির্বাচন এ দেশে হতে দেবো না।”

বিগত সরকারের দমনমূলক শাসনব্যবস্থার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, “স্বৈরাচারীর থেকেও এক ধাপ উপরে ছিল, আমরা যেটিকে ফ্যাসিবাদ বলছি। পার্লামেন্ট, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, নির্বাহী বিভাগ সবকিছুকে কুক্ষিগত করা হয়েছিল। দ্বিমত হলে আয়নাঘর আর গুম, খুন করা হতো। ইয়াং জেনারেশনর বুকের রক্ত দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একটাই কারণ, এই অবস্থা থেকে পরিবর্তনের জন্য।” দেশের স্থায়ী পরিবর্তন এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে তিনি নাগরিকদের সচেতন হয়ে আসন্ন গণভোটে “হ্যাঁ” ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় তিনি জনগণকে সতর্ক করে বলেন, “এই এরকম সুযোগ সবসময় পাবেন না। গণভোটের বিষয়ে যারা অপপ্রচার চালাচ্ছে, তাদের প্রতিবাদ করবেন।” উক্ত মতবিনিময় সভায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব দেলোয়ারা বেগমসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


সুনামগঞ্জে যৌথ অভিযানে অস্ত্র-গোলাবারুদ ও মাদক উদ্ধার, গ্রেফতার ৪

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি অস্ত্র, গোলাবারুদ ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ১৭ পদাতিক ডিভিশনের অধীনস্থ ইউনিট মঙ্গলবার থেকে বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকাল পর্যন্ত জগন্নাথপুর, দোয়ারাবাজার, ছাতক, শান্তিগঞ্জ, বিশ্বম্ভরপুর ও সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় এ অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ১৭ পদাতিক ডিভিশনের অধীনস্থ ইউনিটের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. সালেহ আল হেলাল।

অভিযানকালে চারজন চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় একটি বিদেশি পিস্তল, রাইফেল, পাইপ গান, স্টান গান, কার্তুজ, সাউন্ড বোমাসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় ও বিদেশি মদ, গাঁজা এবং ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।


banner close