খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, অবৈধ মজুত করে যারা ক্রাইসিস তৈরি করে তারা দেশের শত্রু।
শুক্রবার বিকেলে নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের রাধানগরে শিবনদীর উপরে ১৯২ মিটার দীর্ঘ নবনির্মিত সেতুর চলমান কার্যক্রম পরিদর্শন ও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
অবৈধ মজুতকারীরা বিএনপির দোসর উল্লেখ করে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তারা শেখ হাসিনাকে উৎখাত করতে চায়-বেকায়দায় ফেলতে চায়। আমাদের দেশকে রক্ষা করতে হবে। আপনারা যে ভোট দিয়েছেন তার মর্যাদা রক্ষা করতে হবে।’
নির্বাচনের দুই দিন আগে হঠাৎ করে অসৎ ব্যবসায়ীরা চালের দাম ৮/১০ টাকা বাড়িয়ে দেয়। তারা মনে করেছিল অন্য কেউ খাদ্যমন্ত্রী হলে বুঝতে বুঝতে একমাস পার হয়ে যাবে। যখন তারা দেখেছে মন্ত্রী সাধন মজুমদার হয়েছে তখন তারা বেকায়দায় পড়েছে, আমাদেরও বেকায়দায় ফেলেছে। চালের বাজার ঠিক রাখতে জেলায় জেলায় বৈঠক করতে হয়েছে। মজুতবিরোধী অভিযানও চালাতে হয়েছে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাস করে। ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে জনগণ সে চেতনার পক্ষে রায় দিয়ে শেখ হাসিনাকে আবারো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করেছেন।
সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, রাধানগর সেতু রাজশাহী ও নওগাঁ জেলার মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হবে সড়ক যোগাযোগ ক্ষেত্রে। গ্রামের সঙ্গে শহুরের মানুষের যোগাযোগ সহজ ও দ্রুততর হওয়ার ফলে কৃষক সহজেই তার পণ্য বাজারজাত করতে পারবে।
চট্টগ্রাম ও রাজধানী ঢাকায় গ্যাসের বিস্ফোরণে সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ১৩ জন দগ্ধ হয়েছেন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহরে একটি বাসার বিস্ফোরণে শিশুসহ ৯ জন দগ্ধ হয়েছেন। বিস্ফোরণে দগ্ধ নয়জনের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তার নাম নুরজাহান বেগম রানি (৪০)।
অন্যদিকে ঢাকার রায়েরবাজার এলাকার একটি বাসায় ‘গ্যাস লাইন লিকেজ থেকে’ আগুনে এক পরিবারের চারজন দগ্ধ হয়েছেন।
জানা গেছে- চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহরে একটি বাসার রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাসের বিস্ফোরণে শিশুসহ ৯ জন দগ্ধ হয়েছেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের সবার অবস্থাই আশঙ্কাজনক। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে হালিশহর এইচ ব্লকের ‘হালিমা মঞ্জিল’নামের একটি ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলায় এ ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ভোর সাড়ে চারটার দিকে হালিমা মঞ্জিল নামের একটি ছয় তলা ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পরপরই ঘরটিতে আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে তাদের পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় বাসিন্দারা দগ্ধ ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী আলমগীর হোসেন জানান, ওই বাসায় এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করা হতো না; সেখানে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির সরবরাহকৃত গ্যাসের সংযোগ ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চুলা থেকে গ্যাস লিক হয়ে রান্নাঘরে জমে যায়। পরে সেই জমে থাকা গ্যাসের বিস্ফোরণেই দগ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটে।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ জানায়, ভোরে ওই বাসার রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাসের বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘরে থাকা নারী ও শিশুসহ কয়েকজন দগ্ধ হন। দগ্ধদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান চিকিৎসক রফিক উদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, দগ্ধদের সবারই শ্বাসতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তাদের অবস্থা
বার্ন ইউনিট সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে রানী ও পাখি নামে দুই নারী এবং সাখাওয়াত নামের এক ব্যক্তির শরীর শতভাগ পুড়ে গেছে। এছাড়া একজনের ৮০ শতাংশ, একজনের ৪৫ শতাংশ এবং বাকিদের শরীর ২০ থেকে ২৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
অন্যদিকে, ঢাকার রায়েরবাজার এলাকার একটি বাসায় ‘গ্যাস লাইন লিকেজ থেকে’ আগুনে এক পরিবারের চারজন দগ্ধ হয়েছেন। দগ্ধরা হলেন মো. রোমান (৪০), তার স্ত্রী পিংকি (৩৫), এই দম্পতির সন্তান মায়ান (৩) ও পিংকির ভাই অপু (২২)।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর পৌনে ৫টার দিকে দগ্ধ অবস্থায় তাদের জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান।
শাওন বিন রহমান বলেন, রোমানের শরীরের ২৫ শতাংশ, পিংকির ৭৫ শতাংশ, মায়ানের ২৪ শতাংশ ও অপু ৭ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাদের চিকিৎসা চলছে।
জানা গেছে, রায়েরবাজার এলাকার একটি ছয় তলার ভবনের নিচ তলায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে পরিবারটি। রাত পৌনে ৪টার দিকে হঠাৎ আগুন লেগে বাসায় থাকা চারজনই দগ্ধ হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। রোমানের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোণার খালিয়াজুরী থানার মোহাম্মদপুর এলাকায়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার চরলাপাং এলাকায় মেঘনা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে গ্রামবাসীর বাধার মুখে হামলা ও ছররা গুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী ও কিশোরসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৭ জন গুলিবিদ্ধ বলে জানা গেছে।
গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নের চরলাপাং-সংলগ্ন মেঘনা নদীর তীর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে চরলাপাং মৌজার মেঘনা নদীতে একাধিক ড্রেজার দিয়ে দিন-রাত বালু উত্তোলন চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, নাছিরাবাদ বালু মহালের সীমানা অতিক্রম করে নদীর তীরঘেঁষে অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছিল, ফলে নদীভাঙন, ফসলি জমি বিলীন ও পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দেয়।
এ অবস্থায় স্থানীয় গ্রামবাসী বারবার নিষেধ করলেও বালু উত্তোলন বন্ধ না হওয়ায় গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে শতাধিক এলাকাবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে ড্রেজার এলাকায় গিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধের চেষ্টা করেন। এ সময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তরা গ্রামবাসীর ওপর হামলা চালায় এবং এলোপাতাড়ি ছররা গুলি ছোড়ে।
গুলিবিদ্ধদের মধ্যে নূরুল আমীন (৪০), রূপা মিয়া (৪৫), স্বপন মিয়া (৫০), ইব্রাহীম খলিল (৩০), জুলহাস মিয়া (৫০), সাকাল মিয়া (৪০) ও সিয়াম আহমেদ (১৬) রয়েছেন। এ ছাড়া সংঘর্ষে নারীসহ আরও অন্তত ১৫ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে গুরুতর আহতদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
আহত ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নজরদারি এড়িয়ে নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন করে আসছিল। প্রতিবাদ করায় তাদের ওপর বর্বরোচিত হামলা ও গুলি চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক দুই পক্ষের কিছু নেতা-কর্মীর সম্পৃক্ততার কথাও শোনা যাচ্ছে।
অভিযুক্তদের মধ্যে সাখাওয়াত হোসেন পায়েলের নাম স্থানীয়ভাবে উল্লেখ করা হলেও তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, গুলি চালানোর খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। বর্তমানে পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘বিষয়টি জেলাপর্যায়ের বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্থানীয় সাংসদ অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান বলেন, ‘নবীনগরে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। অবৈধ বালু মহাল বন্ধ ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
সাতক্ষীরা জেলা রেকর্ড রুমের দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সিল ও স্বাক্ষর জালিয়াতির করে প্রায় ৭ কোটি টাকার সরকারি জমি আত্মসাত। শ্যামনগর উপজেলার গোপালপুর গ্রামের মৃত মেঘনাথ গাইনের ছেলে মলয় কুমার ও কুমারেন্দ্র নাথ এবং ভোলানাথ গাইনের ছেলে অরবিন্দু নাথ এমন ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ।
ইতোমধ্যে রেকর্ডরুম শাখা কর্তৃক তদন্তে জালিয়াতির ঘটনায় প্রমাণিত হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের নির্দেশে মামলা হয়েছে। শ্যামনগর সদর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা এসএম ফজলুল রহমান বাদী হয়ে গত ১১ ফেব্রুয়ারি শ্যামনগর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। তবে মামলা দায়ের পর প্রায় ১৫ দিন অতিবাহিত হলেও অদ্যাবধি আসামিরা গ্রেপ্তার হয়নি। বরং অর্থ সম্পদের পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তারা গ্রেপ্তার এড়ানোসহ বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায় গোপালপুর মৌজার এসএ ২১, ২৪, ২৫ ও ২৬ খতিয়ানের ৪ একর ৩২ শতক জায়গা ১৯৮১ সালে জাল দলিল তৈরি করে মলয় কুমার ও তার দুই ভাই দখল করে নেয়। এ সময় তারা প্রায় তিন দশক আগে ভারতে চলে যাওয়া জনৈক ক্ষেত্র দাস দিং দের দাতা সাঁজিয়ে প্রায় ৭ কোটি টাকা মূল্যের ওই সম্পত্তি জবর দখল করেন। পরবর্তীতে ওই জমির অনুকুলে জাল খতিয়ান তৈরিসহ সৃজনকৃত সেসব কাগজমূলে নামপত্তনসহ যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।
আরও অভিযোগ রয়েছে পরবর্তীতে অর্পিত ঐ সম্পত্তির মালিকানার দাবিতে মলয় ও তার দুই ভাই বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ আদালতে (সাতক্ষীরা) ১৮/২০০৫ নং মামলা করেন। এ সময় তারা তারা দাবির সমর্থনে জেলা রেকর্ডরুমের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সিল স্বাক্ষর সম্বলিত এসএ ২১, ২৪, ২৫, ২৬ নং খতিয়ানের কপি দাখিল করেন।
জানা যায় সম্প্রতি তাদের জালিয়াতির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। যার প্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর ব্রহ্মশাসন গ্রামের মো. মুজিবুল হক বিষয়টি তদন্তে জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত জানান। একপর্যায়ে রেকর্ড রুমের তদন্তে প্রমানিত হয় যে মলয় কুমার দিং দের সরবরাহকৃত যাবতীয় কাগজ ভূয়া। যার প্রেক্ষিতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের নির্দেশে শ্যামনগর সদর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা এসএম ফজলুর রহমান বাদি হয়ে মলয়সহ ৩ জনের বিরুদ্ধে পেনাল কোড ১৮৬০ অনুযায়ী ৪১৯, ৪২০, ৪৬৮, ও ৪৭১ ধারায় ওই মামলা করেন।
এ বিষয়ে মলয় কুমার জানান, তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
শ্যামনগর থানার ওসি খালেদুর রহমান জানান, মামলার তদন্তদভার উপপরিদর্শক মোরছালিনের ওপর দেওয়া হয়েছে।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে নিরালা পুঞ্জিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে শ্রীমঙ্গল–বড়লেখা প্রেসবিটারিয়ান মো.খ্রিস্টীয় মণ্ডলীর ৫৫তম বার্ষিক ধর্মীয় সভা। তিন দিনব্যাপী এ আধ্যাত্মিক আয়োজন গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে সমবেত প্রার্থনা ও বিদায়ী সংগীতের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
নিরালা পুঞ্জি এলাকায় আয়োজিত এ ধর্মীয় সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয় নিরালা খাসিয়া পুঞ্জি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠে। এতে সহযোগিতা করে শ্রীমঙ্গল–বড়লেখা প্রেসবিটারি ও সিলেট প্রেসবিটারিয়ান সিনড। আয়োজন করে নিরালা প্রেসবিটারিয়ান মণ্ডলী।
গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) শুরু হওয়া এই ধর্মীয় সভায় সভাপতিত্ব করেন মডারেটর পালক রেভা. এবরিসন পতাম। সম্মেলনের প্রধান আকর্ষণ ছিল খাসিয়া সম্প্রদায়ের প্রায় পাঁচ হাজার ভক্তের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। প্রার্থনা, ধর্মীয় উপদেশ ও সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে পুরো এলাকা উৎসবমুখর পরিবেশে রূপ নেয়।
ধর্মীয় আলোচনায় বিশেষ অতিথি তেনজিং ঘোষ যিশুখ্রিষ্টের প্রেম, ত্যাগ ও প্রার্থনার গুরুত্ব তুলে ধরে ভক্তদের নৈতিক ও আত্মিক জীবন গঠনে আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পালক রেভা. জি. রাজমুসেন, রেভা. এব্রিংটন পি. লং, মণ্ডলীর ডিকন সামুয়েল ধার, আরন মানার, শাকিল পামথেত, লবিং সাআট এবং খাসি প্রেসবিটারিয়ান ট্রাস্টের সম্পাদক লুকাস রংসাইসহ মণ্ডলীর অন্যান্য নেতারা।
ধর্মীয় আলোচনার পাশাপাশি ১০টি সাংস্কৃতিক দলের পরিবেশনায় সংগীত সভায় ভিন্নমাত্রা যোগ করে। ভক্তদের অংশগ্রহণে প্রার্থনা ও গানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন।
সমাপনী বক্তব্যে নিরালা পুঞ্জি প্রেসবিটারিয়ান মণ্ডলীর পক্ষ থেকে এলভিস পতাম আগত অতিথি ও ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। শেষে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় বিশেষ প্রার্থনার মধ্য দিয়ে ৫৫তম বার্ষিক ধর্মীয় সভার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
গাজীপুরের টঙ্গীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিতর্কিত পোস্ট করাকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি হামলায় ৬ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকে রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল পর্যন্ত এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে।
এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৬ জন আহত হয়। একপর্যায়ে গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ফাঁকা গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটলে এলাকা জুড়ে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এ ঘটনায় আহতরা হলেন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী শাহাদাত হোসেন (২৮), ফিরোজ মিয়া (২৭),পথচারী রোহান (২১), রবিউল ইসলাম (৩৬), নয়ন ইসলাম রাজ (৩৩) ও সাফি মিয়া (৩২)।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গত কয়েকদিন আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি বিতর্কিত পোস্টকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। তারই ধারাবাহিকতায় গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় কয়েকজন যুবকের ওপর হামলা চালায় একটি পক্ষ। এতে আহত হন রবিউল, সাফি ও নয়ন নামে তিন যুবক আহত হন। এই ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের এর পর গত রোববার দুপুরে ওই দোকানে আবারও হামলা চালায় একদল দুর্বৃত্ত। এ সময় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালিয়ে দুই ব্যবসায়ীসহ অন্তত তিন জনক আহত করে দুর্বৃত্তরা। একপর্যায়ে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে তারা। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে। তবে হামলাকারীদের সনাক্ত করতে পারেনি ভুক্তভোগীরা।
পুলিশ জানায়, গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে সংঘটিত একটি মারামারির ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। তার ধারাবাহিকতায় গত রোববার বিকেলে হামলার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারী তদন্ত করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ প্রেরণ করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ার খবর পাওয়া গেছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে।
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় নারীসহ ৪ জনকে মারধর ও কুপিয়ে আহত করার অভিযোগ ওঠেছে। আহতদের মধ্যে সবুজ মিয়া (৫০) গুরুতর আহত অবস্থায় ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্য আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার ধীতপুর ইউনিয়নের দেয়ালিয়াপাড়া এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত সবুজ মিয়া ভালুকা মডেল থানায় দায়ের করা অভিযোগে উল্লেখ করেন, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা চললেও তিনি এর প্রতিবাদ করে আসছিলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে একই এলাকার আলাল উদ্দিন (৪৫), দুলাল মিয়া (৫০), শাকিল মিয়া (২২), রবিন মিয়া (২০) সহ অজ্ঞাত পরিচয়ে আরও কয়েকজন তার ওপর হামলা চালায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় সবুজ মিয়াকে একা পেয়ে অভিযুক্তরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। তার চিৎকারে পরিবারের সদস্যরা ছুটে এলে হামলাকারীরা তাদেরও মারধর করে, এতে নারীসহ আরও কয়েকজন আহত হন।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
ভালুকা মডেল থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
শেরপুরের নকলায় অবৈধভাবে পাচারকালে বাংলাদেশ রাসায়নিক শিল্প করপোরেশন বা বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) ৯৮০ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ।
গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার উত্তর বাজারে পৃথক দুই স্থানে সৃজন এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স খন্দকার শহীদুল ইসলাম নামের ডিলার পয়েন্ট থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুই ট্রাক অবৈধ সার জব্দ করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে তাৎক্ষণাত উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াহেদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। উপস্থিত হয়ে অবৈধ সার ভর্তি ট্রাক নকলা থানা পুলিশের সহায়তায় আটকের নির্দেশ দেয়।
অভিযুক্ত ডিলাররা বলেন, আমরা সার ক্রয় বাবদ ডিও করেছি, যার প্রেক্ষিতে ঝিনাইগাতী বাফার জোন সার প্রেরণ করেছে, কোথা থেকে প্রেরণ করেছে আমরা জানতাম না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, আশুগঞ্জ যমুনা সার কারখানা থেকে সার ভর্তি ট্রাক শেরপুর বাফার জোন ঝিনাইগাতী পয়েন্ট মজোত হওয়ার কথা ছিল কিন্তু ঝিনাইগাতী বফার জোনের ইনচার্জ এর যুকসাজসে নকলা ডিলার পয়েন্ট সার স্থানান্তরের উদ্দ্যোগ নেয়, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। যার প্রেক্ষিতে সার ভর্তি ট্রাক নকলা থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার হাড়াভাঙ্গা গ্রামে ইফতারি শেষ করার পর ১৫ বছর বয়সী রুবাইয়া খাতুন নামের এক স্কুল শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে।
গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি নিজ কক্ষে সিলিং ফ্যানে ওড়না পেচিয়ে গলায় ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
নিহত রুবাইয়া খাতুন গাংনী উপজেলার কাজিপুর ইউনিয়নের হাড়াভাঙ্গা গ্রামের আবুল কালাম আজাদের মেয়ে এবং হাড়াভাঙ্গা ডিএইচএস সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার ৯ম শ্রেণির ছাত্রী।
জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জেরে ইফতার ও মাগরিবের নামাজের পর তিনি আত্মহত্যা করেন।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বামন্দী ক্লিনিকে নিয়ে যান।
পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. বিডি দাস জানান, হাসপাতালে পৌছানোর আগেই রুবাইয়া খাতুনের মৃত্যু হয়।
গাংনী থানার ওসি উত্তম কুমার দাস জানান, খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
চট্টগ্রাম বোয়ালখালীতে কৃষকদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন বিষয়ক উঠান-বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে সারোয়াতলি ইউনিয়নের খিতাপচর এলাকায় বৈঠকে ২০ জন কৃষাণ-কৃষাণী অংশ নেন।
উপস্থিত কৃষকদের পুষ্টি বাগান স্থাপন, সঠিক পরিচর্যা ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার বিষয়ে কারিগরি পরামর্শ দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহানুর ইসলাম। তিনি জানান, পুষ্টিকর শাকসবজি ও ফলমূল উৎপাদনের মাধ্যমে পরিবারের পুষ্টি চাহিদা পূরণ এবং বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি সম্ভব। এ ধরনের সরকারি উদ্যোগ প্রান্তিক কৃষকদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলবে।
বৈঠকে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শিবু কান্তি নাথ ও লক্ষণ কুমার কারণ উপস্থিত ছিলেন।
দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে প্রত্যেক মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় স্থান পেয়েছেন গাজীপুরের গর্বিত সন্তানরা। কিন্তু স্বাধীনতার পর এবারই প্রথম রাজধানীর অদূরে শিল্পঅধ্যুষিত গুরুতপূর্ণ জেলা গাজীপুর থেকে মন্ত্রিসভায় কারও স্থান হয়নি। দেশ স্বাধীন, অর্থনীতি, রাজনীতি ও শিল্প খাতে অত্যন্ত গুরুতপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী এ জেলার কারও সদ্য মন্ত্রিসভায় স্থান না থাকায় ক্ষোভ ও হতাশায় ভুগছেন বাসিন্দারা। এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও।
গাজীপুরবাসী, দলীয় নেতা-কর্মী ও জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭১ সালে ১৯ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতার বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা ও বাঙালি সৈনিকরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গাজীপুর থেকে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। আর স্বাধীনতা অর্জনের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন গাজীপুরের কাপাসিয়ার গর্বিত সন্তান তাজউদ্দিন আহমদ। শুধু মুক্তিযুদ্ধই নয়, রাজধানীর অদূরে শিল্পঅধ্যুষিত জেলা গাজীপুর দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি, শিল্প খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তৈরি পোশাকশিল্প, ভারী ও মাঝারি শিল্পকারখানা, কৃষি উৎপাদন ও দ্রুত বর্ধনশীল নগরায়ণের কারণে জাতীয়ভাবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে এই জেলা। স্বাধীনতার পর সব সময় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে গাজীপুরের ৫টি আসনের কেউ না কেউ প্রতিনিধিত্ব করেছেন। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদেও জেলার অনেক বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ দায়িত্ব পালন করেছেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন চৌধুরী তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী। বেগম খালেদা জিয়ার আমলে গাজীপুর থেকে আ স ম হান্নান শাহ ও এম এ মান্নান মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। এমনকি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় একজন মন্ত্রী ও একজন প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেছেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের আমলেও মন্ত্রিসভায় স্থান ছিল এ জেলার একাধিক প্রতিনিধি। অতীতে বিভিন্ন সরকারের আমলে গাজীপুর থেকে অন্তত একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেছেন। এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুরের পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটিতে জয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। বিএনপির জয়ী প্রার্থীরা হলেন- গাজীপুর-১ (কালিয়াকৈর ও সিটির একাংশ) আসনে মেয়র মজিবুর রহমান, গাজীপুর-২ (সদর ও টঙ্গী) আসনে এম মঞ্জুরুল করিম, গাজীপুর-৩ (শ্রীপুর ও সদরের একাংশ) আসনে এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু ও গাজীপুর-৫ (কালিগঞ্জ ও সদরের একাংশ) আসনে এ কে এম ফজলুল হক মিলন। কিন্তু এবার বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের পর মন্ত্রিসভায় তাদের কারও স্থান হয়নি। এদের মধ্যে গাজীপুর-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মেয়র মজিবুর রহমানের নাম মন্ত্রিসভায় গুঞ্জন ওঠলেও মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী তালিকায় তারও নাম নেই। এদিকে গুরুত্বপূর্ণ জেলা গাজীপুর থেকে মন্ত্রিসভায় কারও নাম না থাকায় জেলা-উপজেলা, মহানগর, পৌর বিএনপির নেতা-কর্মী ও সাধারণ বাসিন্দাদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শুধু তাই নয়, মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ এ জেলার কেউ না থাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও।
তাদের ভাষ্য, মন্ত্রিসভা গঠনে আঞ্চলিক ভারসাম্য, অভিজ্ঞতা ও দলীয় কৌশল বিবেচনায় নেওয়া হয়। সে ক্ষেত্রে গাজীপুরের মতো শিল্পসমৃদ্ধ ও জনবহুল জেলা থেকে কাউকে অন্তর্ভুক্ত না করায় আলোচনা তৈরি হওয়াটা স্বাভাভিক। মন্ত্রী হওয়া শুধু রাজনৈতিক পদ নয়, এটি উন্নয়নের একটি মাধ্যম। গাজীপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলা সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ায় বাসিন্দারা হতাশ হয়েছেন। তাই মন্ত্রী হলে এখানকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হতো। তবে উন্নয়নের লক্ষ্যে গাজীপুরের কাউকে মন্ত্রিসভায় রাখার দাবি জানিয়েছেন দলীয় নেতা-কর্মীসহ এখানকার সর্বস্তরের মানুষ।
গাজীপুর জজকোর্টের সিনিয়র আইনজীবি ও কালিয়াকৈর পৌর বিএনপির সাবেক আইনবিষয়ক সম্পাদক ছানোয়ার হোসেন খাঁন বলেন, ‘গাজীপুরে পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটি আসনে বিএনপির প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। এদের মধ্যে গাজীপুর-১ আসন থেকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন বিএনপি প্রার্থী মেয়র মজিবুর রহমান। আমরা আশা করেছিলাম, মন্ত্রিসভায় তার ডাক পড়বে। কিন্তু ঘোষিত মন্ত্রিসভায় গাজীপুর থেকে কারও নাম নেই। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আমাদের দাবি, তিনি যেন গাজীপুরবাসীর এ প্রত্যাশা পূরণ করেন।’
এ ব্যাপারে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা বিভাগ) কাজী ছায়েদুল আলম বাবুল বলেন, ‘দল সরকার গঠন করেছে, এতে আমরা আনন্দিত। কিন্তু গাজীপুর থেকে কেউ মন্ত্রিসভায় না থাকায় তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে এক ধরনের আক্ষেপ কাজ করছে। আমরাও করছি, ভবিষ্যতে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ হলে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিষয়টি বিবেচনায় নেবেন।’
কক্সবাজারের চকরিয়ায় তামাক খেত থেকে এক মাংস ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে উপজেলার কাকারা শাহ ওমর মাজার-সংলগ্ন ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো সামনে তামাক খেত থেকে এই লাশ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়রা উদ্ধার করে আহতদের চকরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মুজিবুর রহমান নামে একজনকে মৃত ঘোষণা করেন। সরেজমিনে নিহত আব্দুল মজিদের বাড়িতে পরিবার ও স্বজনদের আহাজারিতে ভারী ওঠার দৃশ্য দেখা যায়। এ সময় অশ্রুসিক্ত নয়নে দাড়িয়ে থাকতে দেখা যায় নিহত আব্দুল মজিদের দুই শিশুপুত্র আট বছরের আব্দুর রহমান ও ছয় বছরের মোহাম্মদ মাহিমের সাথে।
একটু এগিয়ে তাদের সাথে কথা বলতে গিয়ে তাদের চোখের কোনে জমে থাকা পানি মুছে কাছে আসল। জানতে চাইলাম তাদের পিতাকে কে মেরেছে?! কান্না জড়িতকণ্ঠে শিশুপুত্র আব্দুর রহমান বললেন, ‘ইফতারের পর আমার বাবা বের হয়েছিল। কিছুক্ষণ পর খবর আসে বাবাকে মেরে ফেলেছে। কারা মেরেছে জানতে চাইলে শিশু মাহিম বলে ওঠে; জানি না। যারা মেরেছে তাদের ফাঁসি চাই, শাস্তি চাই আমার বাবা আমাদের কাল নতুন কাপড় নিয়ে দেবে বলেছিল। এখন আমার বাবা মারা গেছে নতুন পাঞ্জাবি কে নিয়ে দেবে? কে নিয়ে দিবে নতুন কাপড়? এ কথা বলতেই চোখে পানি চলে আসে তাদের।’
নিহত মাংস ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমান (৪২) চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের ফকির আহমদের ছেলে। তিনি সংসার জীবনে পাঁচ মেয়ে দুই সন্তানের জনক। টানাপোড়েনের এই সংসারের হাল ধরবে কে বলে বিলাপ ধরতে দেখা যায় তার স্ত্রীকে।
নিহত মুজিবের স্ত্রী আনোয়ারা জানান, প্রতিবেশী আরিফ ইফতারের আগে বাডি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে নিহত মুজিব বাড়ি ফেরার পথে ডাকাতদের কবলে পড়ে এবং তাকেসহ আরও কয়েকজনকে মারধর করে তামাক খেতে ফেলে দেয়। ঘটনায় যে জড়িত থাকুকনা কেন আমি তার শাস্তি চাই। আমার এই টানাপোড়েনের সংসার এখন কে দেখবে?
অভিযুক্ত আরিফুল ইসলাম (২২) ওই এলাকার জহির আহমদের ছেলে। আরিফকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চকরিয়া থানা পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। আরিফের মা শারমিনা আক্তার (৪৮) বলেন, ‘আমার ছেলে ঘটনাস্থলের পাশে স্ত্রী নিয়ে ঘর করে থাকছে কিছুদিন ধরে। সে বাড়িতে আসার পথে মুজিবসহ কয়েকজনকে হাতমুখ বাঁধা অবস্থায় দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে। পরবর্তীতে তাদের পরিবারকে খবর দেয়। নিহত আব্দুল মজিদের সাথে আট বছর আগে আমাদের পারিবারিক দ্বন্দ্ব ছিল। আমার ছেলে যদি হত্যাকারী হতো তাহলে সে বাড়িতে বসে থাকত না পালিয়ে যেত। আমার ছেলে তাদের উদ্ধার করেছে এখন পূর্ব শত্রুতার জেরে আমার ছেলে হত্যাকারী বানানোর চেষ্টা করছে। আমি আইনের কাছে সঠিক তদন্ত অনুযায়ী বিচার চাই।’
ঘটনায় আহত মোজাম্মেল হক (৪৮) বলেন, ‘আব্দুল মজিদসহ আমরা কয়েকজন একটা দাওয়াতে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ করে তামাক খেত থেকে ওঠে এসে ১৫-২০ জন লোক আমাদের ওপর হামলা করে হাত পা বেঁধে ফেলে রাখে। প্রায় ১৫ মিনিট পর আরিফ আমাদের হাত পা খোলে দিয়ে উদ্ধার করে। আমি তাকে হত্যাকারী বলতে পারব না। তবে যেই হোক সঠিক তদন্তে আসল অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার দাবি রইল প্রশাসনের প্রতি।’
ওসি মনির হোসেন বলেন, ‘নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের কার্যক্রম শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
পার্বত্য জেলা বান্দরবানে পাহাড়ি-বাঙালিসহ সর্বস্তরের জনসাধারণের সম্প্রীতি ও জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে চিংসা প্রু কেসিকে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নিযুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন বান্দরবানের অধিকাংশ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য এ জেলায় অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতের সম্প্রসারণ এবং দুর্গম এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে কার্যকর ও দূরদর্শী নেতৃত্ব প্রয়োজন। তাদের মতে, চিংসা প্রু কেসি সামাজিক কর্মকাণ্ড, শিক্ষাবিস্তারে ভূমিকা এবং পাহাড়ি-বাঙালি জনগোষ্ঠীর অধিকার নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতার কারণে এ দায়িত্ব পালনে সক্ষম হবেন।
বান্দরবানের সার্বিক উন্নয়নে এমন একজন চেয়ারম্যান প্রয়োজন, যিনি পাহাড়-সমতল সব সম্প্রদায়ের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তুলতে পারবেন। তারা মনে করি, চিংসা প্রু কেসি সেই যোগ্যতা রাখেন।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, ‘ব্যক্তি নয়—যোগ্যতা, সততা ও উন্নয়নমুখী চিন্তাধারাই হওয়া উচিত নেতৃত্ব নির্বাচনের মূল মানদণ্ড।’ তারা আশা করছেন, বান্দরবানের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে একটি গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত আসবে।’
দলিয় সূত্রে জানা যায়, চিংসা প্রু কেসি বান্দরবান জেলা বিএনপির একজন ত্যাগী নেতা। যিনি, ১৯৯২ সাল থেকে শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শে বান্দরবান জেলা বিএনপির অবিসংবাদিত নেতা জেলা বিএনপির বর্তমান আহ্বায়ক রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী এমপির ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থেকে জেলা বিএনপির অর্থ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২০০৯ সালে সাচিং প্রু জেরীর নির্দেশনায় রোয়াংছড়ি, রুমা এবং থানছি উপজেলায় বিএনপির রাজনৈতিক ভিত্তি মজবুত করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। এ সমস্ত, ত্যাগ, তিতিক্ষার করেও তাকে সদ্য ঘোষিত বান্দরবান জেলা বিএনপির ৪৬ বিশিষ্ট কমিটি হতে বঞ্চিত করা হয়েছে।
দলের ত্যাগী নেতার মূল্যায়নের দাবিতে এই নেতাকে আগামী জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নিযুক্ত করার জোর দাবি জানান তারা।
এ ছাড়া তিনি একসময় সফলভাবে জেলা পরিষদের সদস্য পদে দায়িত্ব পালন করেছে বলে জানায় স্থানীয়রা। বান্দরবান দুর্নীতি দমন কমিটির সভাপতি অং চ মং জানান, বান্দরবান জেলার সকল জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে জেলা পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ পালন করে থাকে। এই পরিষদের চেয়ারম্যান পদে বিএনপির পক্ষ থেকে চিংসা প্রু কেসিকে নির্বাচিত করা হলে জনগণ সুফল পাবেন বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।
সমাজকর্মী মং ক্য শৈ নেভী বলেন, ‘জনকল্যাণে নিজেকে নিযুক্ত রাখবেন এমন চেয়ারম্যান আদিষ্ট হোক সকলেরই প্রত্যাশা। এরই পরিপ্রেক্ষীতে আগামীতে দলীয় ও সামাজিক আলোচনায় বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে আসার সম্ভাব্য যে বা যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তাদের মধ্যে চিংসা প্রু কেসিকে নির্বাচিত করা হলে জনগণের প্রত্যাশা অনেকটাই পূরণ হবে’ বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।
এবিষয়ে চিংসা প্রু কেসি মন্তব্য করতে রাজি না হলেও দলীয় সিদ্ধান্ত ও জনগণের প্রত্যাশাকে মূল্যায়ন করবেন বলে জানান তিনি।
তিস্তা নদীর নাব্যতা রক্ষা ও পাড়ের মানুষের জানমাল রক্ষায় কোনো ধরনের বিচ্ছিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হবে না। একটি পূর্ণাঙ্গ ও সমন্বিত মহাপরিকল্পনার আওতায় নদীর শাসন ও খনন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু সোমবার দুপুরে রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় এ কথা জানান। রংপুর বিভাগের আট জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। মন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে, অতীতে তিস্তা অববাহিকায় বিক্ষিপ্তভাবে নেওয়া নানা প্রকল্পের কারণে এই অঞ্চলের মানুষ কাঙ্ক্ষিত সুফল পায়নি। তাই নতুন করে যেন কোনো বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ না নেওয়া হয়, সে বিষয়ে তিনি শুরু থেকেই জোরালো অবস্থান গ্রহণ করেছেন।
রংপুর অঞ্চলের উন্নয়ন ও বাজেটে বৈষম্য নিরসনে নিজের বিশেষ দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, বিগত সরকারের সময় এই অঞ্চলের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ করা হয়েছে। এই বৈষম্যের কারণে স্থানীয় মানুষের মনে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। রংপুরের সন্তান হিসেবে তিনি আগামী বাজেটে এই বিভাগের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবেন। এই অঞ্চলের প্রতিটি প্রকল্প যেন ন্যায্যতার ভিত্তিতে বাস্তবায়িত হয় এবং রংপুর বিভাগ যেন উন্নয়নের মূলধারায় শামিল হতে পারে, সে বিষয়ে তিনি সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেন। সরকারি দপ্তরগুলোতে বিদ্যমান কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়েও সভায় আলোচনা করা হয়।
আসন্ন পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে মাঠ প্রশাসনকে তিনটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দ্রব্যমূল্য কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখাই এখন প্রশাসনের প্রধান চ্যালেঞ্জ। সাধারণ মানুষের জনজীবন যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের নির্দেশ প্রদান করেন মন্ত্রী। একই সঙ্গে বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করার মাধ্যমে অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। মানুষের চাহিদামাফিক প্রশাসনিক সেবা পৌঁছে দিতে কর্মকর্তাদের আরও বেশি আন্তরিক হওয়ার পরামর্শ দেন মন্ত্রী।
মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনরায় ব্যক্ত করেন আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি মনে করেন, সমাজ থেকে এসব ব্যাধি নির্মূল করতে না পারলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন। আজকের এই মতবিনিময় সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন পরিস্থিতি পরবর্তীতে নিয়মিত তদারকি বা ফলোআপ করা হবে। এর আগে মন্ত্রী তাঁর দুই দিনের সরকারি সফরের প্রথম দিনে লালমনিরহাটে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বর্তমান সরকারের সংস্কার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মাঠ পর্যায়ের এই প্রশাসনিক তৎপরতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।