রোববার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪

অনিয়ম-অব্যবস্থাপনায় চলছে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েল, কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ)
প্রকাশিত
মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েল, কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ)
প্রকাশিত : ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১১:১৭

১০০ শয্যাবিশিষ্ট গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অবকাঠামোর উন্নয়ন দেখলে মনে হবে ভেতরে বেশ ভালোই চলছে এর চিকিৎসাসেবা। তবে সেখানে যারা চিকিৎসা নিতে আসছেন, তাদের বেশিরভাগ বাড়ি ফিরছেন মুখ ভার করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনী এলাকার এসব রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য সরকার চিকিৎসা সরঞ্জামসহ সবকিছুর জোগান দিলেও দায়িত্বরত চিকিৎসকদের উদাসীনতা, সময়মতো না আসা, অনিয়মিতভাবে ডিউটি করার কারণে রোগীরা ঠিকমতো চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না। এ ছাড়াও রয়েছে দালালদের দৌরাত্ম্য। যন্ত্রপাতি থাকলেও এখানে হয় না প্যাথলজির পরীক্ষা। কোটি টাকা দিয়ে সরকারের কিনে দেওয়া ডিজিটাল এক্সরে মেশিন আছে বাক্সবন্দি, একই অবস্থা কোটি টাকার অত্যাধুনিক জেনারেটর মেশিনটিরও- সেটিও রয়েছে বাক্সবন্দি অবস্থায়। হাসপাতালে রোগীদের টয়লেটের অবস্থা নাজুক। দুটি টয়লেট তালাবদ্ধ রাখায় একটিতেই যেতে হচ্ছে নারী-পুরুষ রোগীদের। রোগীদের দুর্দশা ও ভোগান্তির যেন শেষ নেই।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যার হাসপাতাল চালু করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকার হওয়ায় হাসপাতালটিতে বরাদ্দ দেওয়া হয় চিকিৎসার সব আধুনিক সরঞ্জামাদি। অন্যান্য ১০০ শয্যা হাসপাতাল থেকে জনবলও এখানে অনেক বেশি। ধাপে ধাপে চিকিৎসক বাড়িয়ে এখন কর্মরত রয়েছেন ২৪ জন চিকিৎসক। উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র হলেও আছেন কার্ডিওলজি, চর্ম ও যৌন, মেডিসিন, গাইনি, শিশু বিভাগের চিকিৎসকসহ অ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ। আছেন দাঁতের চিকিৎসক। কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে সরেজমিন কোটালীপাড়া হাসপাতাল পরিদর্শন করে দেখা গেছে, ২৪ জন চিকিৎসকের মধ্যে ৮ থেকে ১০ জন দায়িত্ব পালন করছেন। বাকি চিকিৎসকদের এক সপ্তাহেও দেখা পাওয়া যায়নি। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির দুই-তৃতীয়াংশ চিকিৎসক একসঙ্গে কী করে অনুপস্থিত থাকেন, মেলেনি তার কোনো সদুত্তর।

চিকিৎসা নিতে গিয়ে রোগীরা অসহায় : গত রোববার সকালে সরেজমিনে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের লেবার ওয়ার্ডে গিয়ে কথা হয় আঁখি ঢালী নামে এক সন্তানসম্ভবা রোগীর সঙ্গে। তার বাড়ি উত্তর কোটালীপাড়ার জহরেরকান্দি গ্রামে। এর দুদিন আগে শুক্রবার সকালে গর্ভকালীন জটিলতা ও অন্যান্য শারীরিক সমস্যা নিয়ে কোটালীপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন তিনি। দুদিন ধরে চিকিৎসকের সাক্ষাৎ না পেয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিছানায় কাতরাচ্ছিলেন। আঁখির স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তির তিন দিন অতিবাহিত হলেও কোনো ডাক্তারের সাক্ষাৎ পাননি। তারা বলেন, শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় বাধ্য হয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অবস্থান করে হাসপাতালের বাইরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. ঝুমা পালের অধীনে চিকিৎসা নিচ্ছেন তারা।

একই অভিযোগ করেছেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের লেবার ওয়ার্ডে ভর্তি কোটালীপাড়ার শুয়াগ্রামের চম্পা মজুমদারের স্বামী বিভূতি বল্লভ। তিনি বলেন, ডাক্তাররা ওয়ার্ডে আসেন না। কোনো সমস্যা দেখা দিলে রোগীদের নিচতলায় জরুরি বিভাগে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ করে গত শনিবার ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি চলে যান উপজেলার বান্ধাবাড়ী গ্রামের খাদিজা বেগম। খাদিজা বেগমের স্বামী গাউস গোলদার জানান, দুদিন হলো ভর্তি হয়েছি। তেমন কোনো সেবা পাচ্ছি না। ওষুধ ও টেস্ট সব বাইরে থেকে করতে হচ্ছে। তেমন কোনো উন্নতিও হচ্ছে না। হাসপাতালে ভর্তি থেকে কী লাভ? তাই নিজেরাই নাম কেটে চলে যাচ্ছি।

গত রোববার দুপুর সোয়া ১টার দিকে সাংবাদিক আসার খবর পেয়ে গাইনি ওয়ার্ডে ছুটে আসেন দায়িত্বপ্রাপ্ত গাইনি বিশেষজ্ঞ জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. রাজিব রায়। তবে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি।

হাসপাতালটিতে কর্মরত ৩২ জন নার্স। বেশিরভাগ নার্সই ঠিকমতো ডিউটি করেন না বলে অভিযোগ রোগীদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষিকা বলেন, নার্সদের ডাকলেও সময়মতো পাওয়া যায় না। একাধিকবার ডাকলে তারা বিরক্তি প্রকাশ করেন।

চিকিৎসাসেবায় মানা হচ্ছে না সময়সূচি

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সকাল আটটা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত আউটডোরে রোগী দেখার নিয়ম থাকলেও সাড়ে নয়টার আগে খোলা হয় না টিকিট কাউন্টার। ডাক্তাররাও আসেন আরও পরে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে ২৪ জন চিকিৎসক কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে একজন চিকিৎসককে (জুনিয়ার কনসালট্যান্ট মেডিসিন) ডেঙ্গুকালীন সময়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন হাসপাতালে প্রেষণে পাঠানো হয়। রোববার সরেজমিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেখা যায় মাত্র ৫-৬ জন চিকিৎসককে রোগী দেখার কাজে নিয়োজিত। রোগীর চাপ থাকায় এসব চিকিৎসককে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রেখে চিকিৎসা দিতে বেগ পেতে হচ্ছিল। কোটালীপাড়ায় ১১টি ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে দূরবর্তী ৮টি কেন্দ্রে চিকিৎসক পদায়ন আছে। কিন্তু ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পদায়নকৃত চিকিৎসকরা কখনও যান না। ইউনিয়নের কেউ কখনও ওইসব উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে স্বাস্থ্যসেবা পান না বলে ইউনিয়নবাসী অনেকের অভিযোগ।

একটি সূত্র জানিয়েছে, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে চিকিৎসকরা কেবল কাগজে-কলমে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্তব্য পালন করছেন বলে দেখাচ্ছেন। বাস্তবে তারা এসব উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বরাবরই অনুপস্থিত থাকেন।

শুয়াগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান যজ্ঞেশ্বর বৈদ্য অনুপ অভিযোগ করে বলেন, ইউনিয়নে উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র আছে কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা সেখানে আসেন না। পদায়নকৃত চিকিৎসকরা স্ব স্ব উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসে চিকিৎসা দিলে দরিদ্র অসহায় মানুষদের দূর-দূরান্ত থেকে অর্থ ব্যয় ও কষ্ট করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসার নামে হয়রানির শিকার হতে হতো না।

এসব বিষয়ে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নন্দা সেন গুপ্তের কাছে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।

আধুনিক যন্ত্রপাতি রয়েছে বাক্সবন্দি

সরেজমিনে দেখা গেছে, এক যুগ আগের এনালগ এক্সরে মেশিনে সনাতনি পদ্ধতিতে নামমাত্র চলছে এক্সরের যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা। তবে রোগীদের অভিযোগ, প্রায় সময় নষ্ট থাকে মেশিনটি। কোনো রিপোর্ট দেওয়া হয় না। রোগীদের ধরিয়ে দেওয়া হয় শুধু এক্সরে ফিল্ম। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য সরকার বরাদ্দ দিয়েছে কোটি টাকা মূল্যের পোর্টেবল ডিজিট্যাল এক্সরে মেশিন। সেই অত্যাধুনিক মেশিনটি ৬-৭ বছর ধরে বাক্সবন্দি অবস্থায় রয়েছে, যা কোনো কাজে লাগছে না। এক্সরে করার জন্য নিয়োজিত রয়েছে ২ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (রেডিও অ্যান্ড ইমেজিং)। একই অবস্থা ডিজিটাল জেনারেটর মেশিনেরও। কোটি টাকা মূল্যের জেনারেটর মেশিনটি ব্যবহার না করে বাক্সবন্দি অবস্থায় রাখা হয়েছে বছরের পর বছর। এ কারণে বিদ্যুৎ চলে গেলে পুরো হাসপাতালে ভুতুড়ে অবস্থার সৃষ্টি হয়। হাসপাতালের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সহকারী কর্মচারীর অভিযোগ, তার ধারণা- জেনারেটর ব্যবহার না করলেও ভুয়া ভাউচার দেখিয়ে তেলের বিল তোলা হচ্ছে। তবে এর সপক্ষে কোনো প্রমাণ তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ডেন্টাল ইউনিটটি তেমনভাবে কার্যকর নয়। ডেন্টাল সার্জন ডা. নাজিয়া ইয়াসমিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন ভবনে যন্ত্রপাতিহীন একটি ফাঁকা কক্ষে বসে চিকিৎসা দেন। অথচ পুরাতন ভবনে দাঁতের চিকিৎসার জন্য যন্ত্রপাতি সমৃদ্ধ একটি ডেন্টাল ইউনিট রয়েছে। তবে সেটি বর্তমানে স্টোর রুম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

বন্ধ রয়েছে প্যাথলজি পরীক্ষা

১০০ শয্যার হাসপাতাল হিসেবে প্যাথলজি পরীক্ষার যন্ত্রপাতিসহ সব উপকরণ থাকলেও বন্ধ রয়েছে এই সেবা। শুধু থেরোলজি কিছু পরীক্ষা হচ্ছে নামমাত্র। যেকোনো রোগীর রোগ নির্ণয়ের জন্য প্যাথলজির সিবিসি, আরবিএস, এইচবিএস এজি, ইউরিন আরই, ভিডিআরএল, ক্রস ম্যাচিংয়ের মতো নরমাল রোগ নির্ণয় পরীক্ষাও এখানে না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন রোগীরা। এখানে সব সুবিধা থাকার পরও তা কার্যকর না থাকায় প্যাথলজির সব টেস্ট হাসপাতালের সামনের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে করতে হচ্ছে। অথচ এখানে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) হিসেবেও ৩ জন টেকনিশিয়ান কর্মরত রয়েছেন।

এ ব্যাপারে এখানে কর্মরত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) কনিকা রায় বলেন, আসবাবপত্রের অভাবে রোগীদের রোগ নির্ণয়ের জন্য প্যাথলজির সরঞ্জামাদি স্থাপন করতে না পারায় বন্ধ রয়েছে এই সেবা। তবে রোগীদের অভিযোগ, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সঙ্গে যোগসাজশ করে এই সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে।

নামমাত্র চলে অপারেশন থিয়েটার

গাইনি ও অ্যানেসথেসিয়া কনসালট্যান্ট থাকলেও তারা নিয়মিত অফিস করেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। তথ্যানুযায়ী জানা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সপ্তাহে দুই দিন ওটি করা হয়। জানুয়ারি মাসে ৯টি সিজারিয়ান অপরেশন ও ২৭টি নরমাল ডেলিভারি করা হয়। সাধারণ দরিদ্র রোগীরা হাসপাতালে ওটির সুযোগ পান না। সাধারণত বিশেষ শ্রেণির মানুষ ও হাসপাতালে কর্মরত ব্যক্তিদের পরিচিতজনরা এ সুবিধা পেয়ে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক রোগীর স্বামী জানান, অনেক চেষ্টা করেও এখানে সিজার করাতে পারেননি। বাধ্য হয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে তার স্ত্রীকে সিজার করাতে হয়েছে।

এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক বলেন, হাসপাতালের এক কিলোমিটারের মধ্যে ১৪টি প্রাইভেট ক্লিনিক রয়েছে। এসব ক্লিনিকে গড়ে প্রতিমাসে প্রায় ২০০-এর অধিক সিজার অপারেশন হয়। হাসপাতালের কর্মকর্তার যোগসাজশ ও দালালদের দৌরাত্ম্যের ফলে রোগীরা হাসপাতালে সিজার অপারেশনের সুযোগ পায় না বলে অভিযোগ করেন রোগীরা।

রোগীদের টয়লেটের বেহাল দশা

হাসপাতালের নতুন ভবনের ৪ তলায় রয়েছে পুরুষ, মহিলা ও শিশু ওয়ার্ড। এই ৩ ওয়ার্ডের রোগীদের জন্য রয়েছে ৪টি টয়লেট। তবে ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায় দুটি টয়লেট রয়েছে স্থায়ী তালাবদ্ধ। একটি টয়লেট হাসপাতালের স্টাফরা ব্যবহার করেন। এটিও তালাবদ্ধ থাকে। অপর ১টি মাত্র টয়লেট পুরুষ-মহিলা সব রোগীকে একসঙ্গে ব্যবহার করতে দেখা যায়। রোগীদের ব্যবহারের টয়লেটটি ময়লা-আবর্জনায় ভরপুর দেখা যায়। মনে হবে একটি ডাস্টবিনের ভাগাড়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহিলা রোগী আক্ষেপ করে বলেন, অনেক মহিলা পর্দা করেন। তারা পুরুষদের সঙ্গে একই টয়লেটে কীভাবে যাবে? তাছাড়া টয়লেটটি ঠিকমতো পরিষ্কার না থাকায় দুর্গন্ধে যাওয়া যায় না। তাই অনেক মহিলা রোগী বাধ্য হয়ে হাসপাতালের বাইরে বিভিন্ন বাড়িতে যায়।

এ ব্যপারে ডিউটিরত একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স জানান, দুই মাস ধরে টয়লেট দুটি বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি ইউএইচএফপিও ম্যাডাম বলতে পারবেন।

রোগীদের টয়লেট তালাবদ্ধ থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালপ্রধান (ইউএইচএফপিও) ডা. নন্দা সেন গুপ্তা বলেন, রোগীরা ঠিকমতো টয়লেট ব্যবহার করতে জানে না। টয়লেট দুটি তাই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে গেছে। এখনো এগুলো পরিষ্কার করতে না পারার কারণে ২ মাস ধরে বন্ধ রাখা হয়েছে।

ডিজিটাল মাধ্যমে রয়েছে অনিয়ম

সরকারি নিয়ম অনুসারে হাসপাতালের সব বিল অটোমেশন পদ্ধতিতে হওয়ার কথা। তবে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মানা হচ্ছে না সে নিয়ম। শুধু রোগীদের টিকিট অটোমেশন পদ্ধতিতে হলেও রোগীদের কেবিন ভাড়া, এক্সরে, আলটাসনোগ্রাফি, ইসিজি ইত্যাদি পরীক্ষার বিল নেওয়া হয় হাতে লেখা রশিদের মাধ্যমে। এ ছাড়া হাসপাতালের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সুবিধার জন্য ডিজিটাল হাজিরা মেশিনে ১৫ মিনিট সময় কমিয়ে রাখা হয়েছে এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে।

কোটালীপাড়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ দাড়িয়া অভিযোগ করে বলেন, ২০২৩ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করেন। এরপর ধাপে ধাপে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ ও আধুনিক ইকুইপমেন্ট সরবরাহ করা হয়। ১০০ শয্যায় উন্নীত হওয়ায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আগের থেকে রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়েছে। কিন্তু সবকিছু থাকার পরও চিকিৎসকদের উদাসীনতার কারণে রোগীরা সেবা না পেয়ে বিভিন্ন ক্লিনিকে ও জেলা শহরে গিয়ে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যারা আছেন তারা বাসা ও প্রাইভেট ক্লিনিকে প্র্যাকটিস নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। অনেক রোগী জানেন না, কোটালীপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আছেন। হৃদরোগের একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আছেন- আমি নিজেও জানি না। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সব ব্যবস্থা করলেও এ যেন কাজির গরু কিতাবে আছে, কিন্তু গোয়ালে নেই এমন অবস্থা। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তার অদক্ষতাকে এ জন্য দায়ী করেন তিনি। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিজ নির্বাচনী এলাকায় ২টি ১০০ শয্যার হাসপাতাল। একটি টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় অন্যটি কোটালীপাড়া উপজেলায়। টুঙ্গিপাড়া ১০০ শয্যা হাসপাতালে ওখানকার রোগীরা যে সেবা পাচ্ছে, আমরা তার ছিটেফোঁটাও পাই না। অথচ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার ভোটারদের চিকিৎসাসেবার জন্য কোটালীপাড়া হাসপাতালে পর্যাপ্ত সংখ্যক ডাক্তার, নার্স ও স্টাফ দিয়েছেন। শুধু একজন স্বেচ্ছাচারী ও অদক্ষ কর্মকর্তার কারণে সাধারণ রোগীরা বঞ্চিত রয়েছেন সঠিক চিকিৎসা সেবা থেকে।

এসব অভিযোগের বাইরে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নন্দা সেন গুপ্তা বলেন, জনবল সংকটের কারণে কিছু সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যার বিষয়ে ইতোমধ্যে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। ডিজিটাল এক্সরে মেশিনটি বাক্সবন্দি থাকার কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে দুদকে মামলা চলমান থাকার কথা উল্লেখ করেন তিনি। রোগীদের অভিযোগ ও গণমাধ্যমের পর্যবেক্ষণ পাত্তা দিতে নারাজ তিনি।

কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এসব অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিষয় অবগত রয়েছেন কি না জানতে চাইলে গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. জিল্লুর রহমান জানান, কোটালীপাড়া হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম ও হাসপাতালপ্রধানের দুর্নীতির বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি।

বিষয়:

বঙ্গবন্ধু সেতুতে ২৪ ঘণ্টায় ৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা টোল আদায়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

ঈদের আর মাত্র বাকি দুইদিন। ঈদের আনন্দ পরিবারের সাথে ভাগাভাগি করার জন্য নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে মানুষ। এর ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। মহাসড়কে যানজটেরও সৃষ্টি হয়েছে। মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধির ফলে বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে যানবাহন পারাপার ও টোল আদায় স্বাভাবিকের তুলনায় দ্বিগুণ বেড়েছে।

বঙ্গবন্ধু সেতু সাইট অফিস সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল ৬ টা থেকে মঙ্গলবার ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে ৪৩ হাজার ৪২৭টি যানবাহন পারাপার হয়েছে এবং যার মোট টোল আদায় হয়েছে তিন কোটি ৩৬ লাখ ৬ হাজার ৮৫০ টাকা।

এরমধ্যে টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব অংশে ২৭ হাজার ২৩২টি যানবাহন পারাপার হয়। এতে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৭১ লাখ ৪ হাজার ৯৫০ টাকা এবং সিরাজগঞ্জের সেতু পশ্চিম অংশে ১৬ হাজার ১৯৫ টি যানবাহন পারাপার হয়। এতে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৩২ লাখ ৬১ হাজার ৯০০ টাকা।

বঙ্গবন্ধু সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবীর পাভেল জানান, যানজট নিরসনে সেতুর উভয় অংশে ৯টি করে ১৮টি টোল বুথ স্থাপনসহ মোটরসাইকেলের জন্য চারটি বুথ স্থাপন করা হয়েছে। যানবাহনের চাপ বেড়েছে।

এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (ওসি) মীর সাজেদুর রহমান জানান, মহাসড়কে প‌রিবহনের খুব চাপ রয়েছে। এতে পরিবহনগুলো খুবই ধীরগ‌তিতে চলাচল করছে। এ ছাড়া সেতুর উপর এক‌টি বাস নষ্ট হওয়ায় পাঁচ মি‌নিট বন্ধ ছিল প‌রিবহন চলাচল। পরিবহনগুলো রাস্তায় দাঁড়িয়ে যাত্রী তোলার কারণেও অন‌্য প‌রিবহনগুলোতে ধীরগ‌তির সৃ‌ষ্টি হয়েছে। প‌রিবহন চলাচল স্বাভাবিক রাখ‌তে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দা‌য়িত্ব পালন কর‌ছেন।

বিষয়:

বাগেরহাটে কালবৈশাখী ঝড়ে নিহত ১, আহত ৩

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৭ এপ্রিল, ২০২৪ ১৫:৪৮
বাগেরহাট প্রতিনিধি

বাগেরহাটে হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের সময় গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে জেলার কচুয়া উপজেলা চরসোনাকুড় গ্রামে মো. আরিফুল ইসলাম (৩৫) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া বাগেরহাট শহরের বাসস্টান্ড এলাকায় বিলবোর্ড ভেঙ্গে যাত্রীবাহী বাসের উপর পড়ে বাসের চালকসহ ৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

রোববার সকাল সাড়ে ৯টার এ ঘূর্ণিঝড়ে জেলার শরণখোলা, মোড়েলগঞ্জ, রামপাল, কচুয়া ও বাগেরহাট সদর উপজেলার কয়েক হাজার গাছ উপড়ে পড়েছে। সেই সাথে বিধ্বস্ত কয়েক শত কাঁচা ও আধা কাঁচা বাড়িঘর। ঝড়ে গাছ পড়ে ও বিদ্যুৎতের খুটি উপড়ে পড়ায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বিদ্যুৎ সংযোগ।

বাগেরহাট জেলা প্রশাসক মো. খালিদ হোসেন বলেন, ‘কালবৈশাখী ঝড়ে জেলা সদরসহ অন্যান্য উপজেলাগুলোতে গাছপালা উপড়ে পড়ার পাশাপাশি কিছু বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। ঝড়ে গাছ পড়ে ও বিদ্যুৎতের খুটি উপড়ে পড়ায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে পুরো জেলার বিদ্যুৎ সংযোগ।’

তিনি বলেন, ‘জেলার প্রতিটি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাদের ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৮ লাখ টাকা ও ৬শ মেট্রিকটন চাল বরাদ্ধ করা হয়েছে।’

বিষয়:

ঘরের স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে দুই শতাধিক গৃহহীন পরিবারের

গঙ্গাচড়া উপজেলার মর্ণেয়া ইউনিয়নের ভাঙ্গাগড়া এলাকায় নির্মাণ হচ্ছে দুই শতাধিক বাড়ি। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মীর আনোয়ার আলী, রংপুর

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় মুজিববর্ষের ৪র্থ ধাপে ভূমি ও গৃহহীনদের জন্য ঘর নির্মাণ কাজ চলছে দ্রুত গতিতে। দেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না- প্রধানমন্ত্রীর এমন অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দেশের সব ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের বাসস্থান নিশ্চিত করা হচ্ছে। সারা দেশের ন্যায় গঙ্গাচড়া উপজেলার মর্ণেয়া ইউনিয়নের ভাঙ্গাগড়া এলাকায় গৃহ নির্মাণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের নির্মাণ কাজ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ইউএনও নাহিদ তামান্না মর্ণেয়া ইউনিয়নের ভাঙ্গাগড়া এলাকায় ২১০ টি ভূমি ও গৃহহীন পরিবারের জন্য মুজিব শতবর্ষের ঘর নির্মাণ কাজ তদারকি করছেন। প্রতিটি পরিবারের জন্য ২ শতাংশ জমির ওপর ২টি সেমি পাকা ঘর, ১টি রান্না ঘর ও ১টি টয়লেট নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রতিটি পরিবারের জন্য ঘর নির্মাণ কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। এতে করে ২১০টি পরিবারের ঘর নির্মাণ করতে মোট ব্যয় হবে ৫ কোটি ৯৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা। ঘরগুলোর প্রায় ৮০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ইউএনও।

সরেজমিনে উপজেলার মর্ণেয়া ইউনিয়নের ভাঙ্গাগড়া গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, প্রবেশদ্বারে লাগানো রয়েছে প্রকল্পের তথ্য সম্বলিত সাইনবোর্ড। উঁচু জমিতে অত্যন্ত মনোরম পরিবেশে বাড়িগুলোর নির্মাণ কাজ চলছে। এরই মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশের বেশি কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রশংসা করে জানান, প্রকল্পের ঘরগুলো এখন মানসম্মতভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে। ঘর তৈরিতে উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সব সময় তদারকি করছেন, কাজের নির্মাণ সামগ্রী এবং নির্মাণ কাজ মানসম্মত। এক সাথে অনেকগুলো আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণ করায় প্রকল্পটির সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে, যা দৃষ্টিনন্দন হয়েছে। ছোট ছোট ঘর নির্মাণে উন্নত সামগ্রী ব্যবহার করায় দীর্ঘস্থায়ী হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। অসহায় মানুষগুলো তাদের দুঃখ কষ্ট ভুলে গিয়ে রঙিন এ ঘরে বসবাস করার যে স্বপ্ন দেখছিলেন তা বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) নয়ন কুমার সাহা বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল দেশের কোন মানুষ গৃহহীন বা না খেয়ে থাকবে না, তাই তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের ঘোষণা অনুযায়ী সারা দেশের ন্যায় গঙ্গাচড়া উপজেলায় ঘর নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।’

গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ তামান্না বলেন, ‘ঘর নির্মাণ কমিটি নির্মাণ কাজ বাস্তবায়নে নিয়জিত আছেন। আমি কাজগুলো সব সময় তদারকি করছি। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মনিটরিং অফিসার এসে নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করে গেছেন। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহারের ঘরগুলো খুবই কঠোরভাবে মনিটরিং করা হয় এবং সচিত্র প্রতিবেদন রাখা হয়। প্রকল্পের কাজ নিয়মানুযায়ী সুন্দরভাবে সম্পন্ন হবে।’

বিষয়:

নানার বাড়ির পাশে মিলল শিশুর লাশ, মাথায় আঘাতের চিহ্ন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে নিখোঁজের এক দিন পর সাকিব সিকদার (১০) নামে এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পুলিশ ধারণা করছে, শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে।

শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার সাতগ্রাম ইউনিয়নের পাচঁরুখী গ্রামে নানা বাড়ির পাশ থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত সাকিব রুপগঞ্জের গোলাকান্দাইল এলাকার জিকু সিকদারের ছেলে।

আড়াইহাজার থানার ওসি মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ জানান, ১৭-১৮ দিন আগে শিশুটি তার মায়ের সঙ্গে উপজেলার পাঁচরুখী গ্রামে নানাবাড়িতে বেড়াতে আসে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার সকালে তার মা তাকে ব্লেড আনতে বাজারে পাঠান। এরপর থেকে সে আর বাড়ি ফিরেনি। এদিকে শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে তার নানাদের নতুন বাড়ির পাশে শিশুটির লাশ পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করে। সে সামান্য বাকপ্রতিবন্ধী ছিল।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়া তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।


ফেনীতে ট্রাক-ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ২

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার মুহুরীগঞ্জে আজ সকালে রেলপথ পারাপারের সময় বালুবোঝাই ট্রাকে ট্রেনের ধাক্কায় ২ জন নিহত হয়েছেন। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মুহুরীগঞ্জ ব্রিজ সংলগ্ন বালুমহাল এলাকায় চট্টগ্রামগামী মেইল ট্রেনের ধাক্কায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের একজন বরিশালের উজিরপুর উপজেলার কাউয়ারাকা গ্রামের আবুল হাওলাদারের ছেলে ট্রাকচালক মো. মিজান (৩২)। অপর নিহত ট্রেনযাত্রীর নাম-পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশ সুপার জাকির হাসান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ট্রেনের ধাক্কায় ট্রাকটি অন্তত ১০০ মিটার সামনে গিয়ে পড়ে। গেইটম্যান মো. সাইফুল ট্রেন অতিক্রম করার সময় সেখানে ছিলেন না।

ফেনী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক শাহ আলম জানান, রেললাইনের উপর পড়ে থাকা দুর্ঘটনা কবলিত ট্রাক সরিয়ে নিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এরপর ছাগলনাইয়া থানা পুলিশ নিহতদের লাশ ময়না তদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছেন।

ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান ইমাম ট্রেন দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, লাশ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ সুপার মো. জাকির হাসান জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং তদন্তসাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিষয়:

বিদ্যুতের খুঁটিতে মোটরসাকেলের ধাক্কা: স্বামী-স্ত্রী নিহত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ময়মনসিংহ ব্যুরো

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে বিদ্যুতের খুঁটিতে মোটরসাকেলের ধাক্কায় স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার লক্ষ্মীকুড়া বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, কুড়িগ্রামের রৌমারির জনাব আলীর ছেলে সাইদুর রহমান (২৮) ও তার স্ত্রী সোনিয়া আক্তার (২২)।

বিষয়টি দৈনিক বাংলাকে নিশ্চিত করেছেন হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুল হক।

তিনি বলেন, ‘ভোরে ঈদের ছুটিতে সাইদুর তার স্ত্রীকে মোটরসাইকেলে নিয়ে জেলার ঈশ্বরগঞ্জ থেকে নিজ বাড়ি কুড়িগ্রামের রৌমারিতে যাচ্ছিলেন। সকাল ৮টার দিকে হালুয়াঘাটের লক্ষ্মীকুড়া বাজার এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে দ্রুত গতির মোটরসাইকেলটি ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় সাইদুর। পরে আশপাশের লোকজন সোনিয়াকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।’

মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর প্রক্রিয়াধীন এবং এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হবে বলেও জানিয়েছেন ওসি মো. মাহবুবুল হক।

বিষয়:

ঈদযাত্রা: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচলে ধীর গতি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি

ঈদে ঘরমুখো মানুষের যানবাহনের অত্যাধিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে। ফলে গজারিয়া অংশে ১৩ কিলোমিটার জুড়ে যান চলাচলে ধীরগতি দেখা গেছে। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ এবং কুমিল্লার দাউদকান্দি অংশেও এমন অবস্থা রয়েছে বলে জানা গেছে।

সরেজমিনে শুক্রবার সকাল ১০টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গজারিয়া অংশের বাউশিয়া পাখির মোড় এবং তেতৈতলা হাঁস পয়েন্ট এলাকায় গিয়ে দেখা যায় ঢাকামুখী লেনে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও কুমিল্লামুখী লেনে ধীর গতিতে যান চলাচল হচ্ছে। গজারিয়া অংশের ১৩ কিলোমিটার এলাকায় যানজট রয়েছে।

খবর নিয়ে জানা গেছে, মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি এবং নারায়ণগঞ্জের অংশেও যানজট রয়েছে।

ফেনীগামী প্রাইভেটকারচালক নুরুল হক বলেন, ‘কাঁচপুর থেকেই জ্যামে পড়ি আমরা। কাঁচপুর থেকে গজারিয়ার ভবেরচরে আসতে ২ ঘণ্টার বেশি সময় লেগে গেল। রাস্তায় কোথাও এক্সিডেন্ট হয়েছে বা গাড়ি নষ্ট হয়েছে এরকম কিছু দেখলাম না কিন্তু রাস্তায় প্রচুর যানবাহন।’

গজারিয়া ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘যানজট নয়, তবে যানবাহনের ধীর গতি রয়েছে। মহাসড়কে একটি গাড়ি বিকল হয়েছিল তা আমরা সরিয়ে দিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘মূলত ঈদযাত্রা শুরু হওয়ায় যানবাহনের অত্যাধিক চাপই ধীরগতির কারণ। হাইওয়ে পুলিশ যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’


রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ডাকাতির চেষ্টা, আহত ৫

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাগেরহাট প্রতিনিধি

বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ডাকাতির চেষ্টায় দূর্বৃত্তের হামলায় দুই আনসার সদস্যসহ ৫ জন নিরাপত্তাকর্মী আহত হয়েছেন। আত্মরক্ষার্থে আনসার সদস্যরা ফাঁকা গুলি ছুড়লে ডাকাত দল পালিয়ে যায়।

বুধবার রাত ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের আবাসিক ভবনের গেটে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উপ-মহা ব্যবস্থাপক আনোয়ারুল আজিম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রাত ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার দিকে ৫০-৬০ জনের একটি সশস্ত্র দল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আবাসিক ভবনের গেট দিয়ে ডাকাতির উদ্দেশ্যে প্রবেশের চেষ্টা করে। বাঁধা দিলে অস্ত্রধারীরা গেটে থাকা নিরাপত্তাকর্মীদের উপর হামলা করে। এসময় নিরাপত্তাকর্মীদের ডাক চিৎকারে আনসার সদস্যরা ছুটে গেলে তাদের উপরও হামলা করে ডাকাত দল। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আনসার সদস্যরা কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়লে ডাকাল দলটি পালিয়ে যায়। ডাকাত দলের হামলায় দুই আনসার সদস্যসহ ৫ জন নিরাপত্তাকর্মী আহত হয়েছে। তাদের হামলায় দুই আনসার সদস্যসহ ৫ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে ২ জনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ৩ জনকে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোমেন দাস বলেন, ‘অস্ত্রধারীদের হামলায় ৫ জন আহত হওয়ার খবর পেয়েছি। পুলিশ হামলাকারীদের শনাক্ত ও আটকে অভিযান শুরু করেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

বিষয়:

গজারিয়ায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় পথচারী নিহত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৩ এপ্রিল, ২০২৪ ১৬:১১
গজারিয়া ( মুন্সীগঞ্জ ) প্রতিনিধিঃ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া অংশের ভিটিকান্দি এলাকায় রাস্তা পার হবার সময় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় এক পথচারী নিহত হয়েছেন।

বুধবার সকাল ৯টার দিকে ভিটিকান্দি বাস স্ট্যান্ড এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন মোটরসাইকেলের চালক, গুরতর অবস্থায় তাকে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে।

নিহতের নাম মো. ইব্রাহিম (৬০)। তিনি গজারিয়া উপজেলার ভিটিকান্দি গ্রামের হাবু শিকদারের ছেলে বলে জানা গেছে। মোটরসাইকেল চালকের নাম মাহবুব (২৮)। তিনি গজারিয়া উপজেলার বালুয়াকান্দি ইউনিয়নের মুদারকান্দি গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাস স্ট্যান্ড এলাকা দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন পথচারী ইব্রাহীম। এসময় ঢাকা থেকে কুমিল্লাগামী একটি মোটরসাইকেলকে পেছন থেকে একটি প্রাইভেটকার ধাক্কা দিলে সেটি পথচারী ইব্রাহিমকে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। আহত হয় মোটরসাইকেল চালক মাহবুব। তাকে উদ্ধার করে গজারিয়া উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়েছেন স্থানীয়রা।

গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আশরাফুল ইসলাম বলেন, সকাল ৯টার দিকে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত মোটরসাইকেল চালক মাহবুবকে আমাদের হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আমরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছি।

গজারিয়া হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আহত মোটরসাইকেল চালককে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। ঘাতক প্রাইভেট কারটিকে সনাক্তের করার চেষ্টা চলছে।’


জানালার গ্রিল কেটে পৌরভবনের টাকা চুরি

আপডেটেড ২ এপ্রিল, ২০২৪ ১৭:৩৮
কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লার চান্দিনা পৌরসভা ভবনে চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরচক্র ভবনের দুই পাশের জানালার গ্রিল কেটে স্টিলের আলমারি ও ফাইল কেবিনেট ভেঙ্গে নগদ ছয় লাখ টাকা চুরি করেছে বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার অফিসের কর্মচারীরা এ ঘটনা দেখতে পান।

নৈশ প্রহরী খোরশেদ আলম বলেন, ‘আমি সোমবার সারারাত ভবনেই ছিলাম। সকালে বিশেষ কাজে এতবারপুর যাওয়ার পর অফিস থেকে ফোন করে জানান অফিসে চুরি হয়েছে! কিভাবে কী হয়েছে আমি কিছুই জানি না।’

পৌর সভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সচিব) মো. ইউসুফ আলী বলেন, ‘মঙ্গলবার সকালে পাম্প চালক ইব্রাহীম খলিল মজুমদার অফিসে এসে এ ঘটনা দেখেন এবং অন্যান্য কর্মচারীরা নিজ নিজ কক্ষে প্রবেশ করে এ ঘটনা দেখেন। এতে হিসাব রক্ষকের কক্ষ, বাজার শাখা, কর ও লাইসেন্স শাখার কক্ষের সাতটি স্টিলের আলমারি ভেঙ্গে ছয় লাখ ১০ হাজার টাকা লুটে নেয় চোররা। সোমবার দিনগত রাতের কোনো এক সময়ে ওই চুরির ঘটনা ঘটে।’

চান্দিনা পৌরসভার মেয়ে মো. শওকত হোসেন ভূইয়া বলেন, ‘তদন্ত সাপেক্ষে চোর চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশকে অনুরোধ করেছি।’

চান্দিনা থানার ওসি আহাম্মদ সনজুর মোরশেদ বলেন, ‘আমাদের টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পান। এ ঘটনায় পৌরসভা পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বাদী হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

বিষয়:

ভোলায় ২০৫ মণ মাছ জব্দ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভোলা উপজেলা সদরের ভেদুরিয়া ফেরিঘাট এলাকা থেকে ২ শ ৫ মণ মাছ জব্দ করেছে কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের একটি দল। সোমবার রাত ৯টার দিকে ফেরিঘাট এলাকার একটি মিনি ট্রাক থেকে ২’শ মণ পোয়া ও ৫ মন ইলিশ জব্দ করা হয়। তবে এ সময় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট বিএন এইচ এম এম হারুন-অর-রশিদ আজ সকালে বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা জানতে পারি সদর উপজেলার তুলাতুলি এলাকা থেকে মাছ নিয়ে ফেরিঘাটের দিকে আসে ট্রাকটি। এটি বরিশালের উদ্দেশে যাচ্ছিল।’

অভিযান চালিয়ে মাছ উদ্ধারের পর মুছলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় ট্রাক ড্রাইভারকে।

তিনি আরও বলেন, ‘জব্দ করা মাছ রাতেই স্থানীয় এতিমখানা, মাদ্রাসা ও দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করা হয়।’

ইলিশ সম্পদের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে মার্চ ও এপ্রিল এ দুই মাস ভোলার মেঘনা এবং তেতুলিয়া নদীর ১৯০ কিলোমিটার এলাকার দুটি অভয়শ্রমে ইলিশসহ সব ধরনের মৎস্য শিকারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার।

বিষয়:

কলমাকান্দায় পিকআপ-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে যুবক নিহত 

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নেত্রকোণা প্রতিনিধি

নেত্রকোণা জেলার কলমাকান্দা উপজেলায় পিকআপের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে এক যুবক নিহত হয়েছেন।

সোমবার দুপুরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জহিরুল ইসলাম সবুজ মারা যান।

নিহত যুবকের নাম জহিরুল ইসলাম সবুজ (২৮)। সে পেশায় একজন ভাড়ায় মোটরসাইকেলচালক। নিহত সবুজ নেত্রকোণা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি গ্রামের হেলাল উদ্দিনের ছেলে।

সোমবার সকালে কলমাকান্দা উপজেলার রাজাপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে জহিরুল মোটরসাইকেল করে তিন বস্তা চিনি নিয়ে কলমাকান্দা সদরে আসছিল। পথে রাজাপুর এলাকায় আসামাত্রই বিপরীত দিক থেকে আসা সাদা রংয়ের একটি পিকআপ গাড়ির সঙ্গে মোটরসাইকেলটির ধাক্কা লাগে। এতে করে জহিরুল পিকআপ গাড়ির নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে সেখান থেকে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি দেখে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সুমন পাল তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

এ বিষয়ে নেত্রকোণা জেলার কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লুৎফুল হক বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পিকআপ গাড়িটি পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে।’

বিষয়:

আত্মহত্যা করতে যাওয়া গৃহবধূকে বাঁচাতে গিয়ে কলেজছাত্রের মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধা সন্তানসহ রেললাইনে আত্মহত্যা করতে যাওয়া এক গৃহবধূকে বাঁচাতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় এক কলেজছাত্রসহ দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এসময় গৃহবধুর হাত থেকে ছিটকে গুরতর আহত হওয়া সন্তানকে পাঠানো হয়েছে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

সোমবার সকালে গাইবান্ধা জেলা শহরের মাঝিপাড়া এলাকার রেললাইনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত কলেজছাত্রের নাম নাজিউল ইসলাম। তার বাড়ি জেলার সাঘাটা উপজেলায় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এছাড়া নিহত গৃহবধু মাঝিপাড়া এলাকার আনোয়ারের স্ত্রী বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, সোমবার সকালে সন্তানকে নিয়ে আত্মহত্যার উদ্দ্যেশ্যে ওই গৃহবধূ মাঝিপাড়া এলাকার রেললাইনে অপেক্ষা করছিলেন। এর এক পর্যায়ে যখন ট্রেন আসা দেখেও লাইন থেকে সরছিলেন না, তখন কলেজছাত্র নাজিউল তাকে লাইনের ওপর থেকে নামাতে হাত ধরে টানাটানি করতে থাকে। পরে জোরাজুরির এক পর্যায়ে ট্রেন চলে এলে ধাক্কায় দুজনেরই মৃত্যু হয়। এ সময় গৃহবধূর কোলে থাকা দুবছর বয়সের শিশু সন্তনটি লাইনের বাইরে ছিটকে পড়ে গুরতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রথমে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে চিকিৎসকরা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বোনারপাড়া (গাইবান্ধা) রেলওয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘সন্তানসহ এক গৃহবধূকে বাঁচাতে গিয়ে এক কলেজছাত্রসহ দুজনেরই মৃত্যু হয়েছে। ওই নারীর কোল থেকে ছিটকে পড়ে আহত শিশু সন্তানকে চিকিৎসার জন্য রংপুর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

তিনি বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরকর্তীতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিষয়:

banner close