সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
৬ মাঘ ১৪৩২

চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগ কমিটিতে সভাপতি-সম্পাদক পদ প্রত্যাশী ১৪০০ জন

চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশিত
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশিত : ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ২৩:৪৪

চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটি। এরই মধ্যে গঠন প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। কমিটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আসতে আগ্রহীদের কাছ থেকে জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। এ দুটি পদে জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন ১৪০০ জন। তারা পদে আসতে নানাভাবে চেষ্টা তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন।

গত ১ ফেব্রুয়ারি নগর ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে পদপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে জীবনবৃত্তান্ত আহ্বান করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে জীবনবৃত্তান্ত গ্রহণ করা হয়। ১৬ ফেব্রুয়ারি ছিল শেষদিন। পরে সময় বাড়িয়ে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত করা হয়।

জানা গেছে, প্রায় দুই দশক ধরে নগর ছাত্রলীগ কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ এমইএস এবং সিটি কলেজ বলয়কেন্দ্রিক হয়ে পড়ে। এবারও নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে এই দুটি কলেজের ছাত্রদের আধিক্য বেশি। তবে এবার নতুন কমিটির শীর্ষ দুটি পদের একটি এই দুই কলেজের বলয়ের বাইরে যেতে পারে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবার ১৪০০টি জীবনবৃত্তান্ত জমা পড়লেও আলোচনায় আছে ১৫ থেকে ২০ জন। এদের মধ্যে থেকেই শীর্ষ পদে আসতে পারেন। তাদের বেশির ভাগই নগরের এমইএস, সিটি ও ইসলামিয়া কলেজকেন্দ্রিক ছাত্রলীগ নেতা। তবে এবার তিন কলেজকে ডিঙিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে চট্টগ্রাম কলেজ ও হাজী মুহাম্মদ সরকারি মহসীন কলেজ। ১৯৮২ সাল থেকে সাড়ে তিন দশক ধরে ছাত্রশিবিরের দখলে ছিল চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসীন কলেজ। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে শিবিরের দখলমুক্ত করে নগর ছাত্রলীগ। এরপর থেকে ছাত্রলীগের কার্যক্রম শক্তভাবে চলে আসছে। এ কারণে এ দুই কলেজকে প্রাধান্য দেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, নগর ছাত্রলীগের কমিটির জন্য পদপ্রত্যাশী নেতা-কর্মীরা মূলত দুটি বলয়ে বিভক্ত। তাদের একটি পক্ষ হচ্ছে প্রয়াত সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী। এই পক্ষ বর্তমানে মহিউদ্দিনপুত্র শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীর অনুসারী বলে নিজেদের পরিচয় দেন। অন্য পক্ষটি হলো নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলয়ের।

ছাত্রলীগের নতুন কমিটির পদ ভাগিয়ে নিতে নওফেল ও নাছির অনুসারীদের মধ্যে স্নায়ু লড়াই চলছে। নগর যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটির শীর্ষ পদ ভাগিয়ে নিয়েছেন নওফেল অনুসারীরা। ছাত্রলীগের কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকও কী নওফেল অনুসারীরা প্রাধান্য পাবে- তা এখন বেশি উচ্চারিত হচ্ছে।

চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি এবং নগর কমিটির সভাপতি পদপ্রত্যাশী মাহমুদুল করিম বলেন, ‘আমি সিভি জমা দিয়েছি। চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসিন কলেজ শিবিরমুক্ত করতে আমরা কি করেছি সেটা সবাই জানে।

আমাদের প্রত্যাশা, ত্যাগী ও কর্মঠ কর্মীদের মূল্যায়ন করা হবে।’

নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু বলেন, ‘নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের জানিয়েছি। তারা সবকিছু যাচাই-বাছাই করেই দ্রুত কমিটি ঘোষণা করবেন বলে আশা করি।’

নগর ছাত্রলীগের শীর্ষ পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, চান্দগাঁও থানা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. নূরুন নবী সাহেদ, ডবলমুরিং থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিব হায়দার, কোতোয়ালি থানা ছাত্রলীগের সভাপতি অনিন্দ্য দেব, চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল করিম, মহসিন কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পলাশ, মহসিন কলেজের মায়মুন উদ্দীন, ওমরগণি এমইএস কলেজ ছাত্রলীগের জাহিদুল ইসলাম, মোহাম্মদ হানিফ, সরকারি সিটি কলেজ ছাত্রলীগের আশীষ সরকার, মুহাম্মদ তাসিন, ইসলামিয়া কলেজ ছাত্রলীগের মীর মুহাম্মদ ইমতিয়াজ, শাহাদাত হোসেন হীরা, ইমন হোসেন, আজিজুর রহমান, মিজানুর রহমান, নগর ছাত্রলীগের উপ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রাশেদ চৌধুরী, উপ-ছাত্রবৃত্তিবিষয়ক সম্পাদক এস এম হুমায়ন কবির আজাদ, নগর ছাত্রলীগ নেতা ফাহাদ আনিস ও খালেকুজ্জামান, কলেজ ছাত্রলীগ নেতা বোরহান উদ্দিন প্রমুখ।

এই ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি এম এ আহাদ চৌধুরী রায়হান বলেন, চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের শীর্ষ পদে স্থান পেতে ১ হাজার ৪০০ বায়োডাটা জমা পড়েছে। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতারা যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেবেন কি করা যায়। কেন্দ্রের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সেটা সিদ্ধান্ত নেবেন।

২০১৩ সালের ৩০ অক্টোবর ইমরান আহমেদ ইমুকে সভাপতি ও নুরুল আজিম রনিকে সাধারণ সম্পাদক করে নগর ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। ২০১৮ সালের ১৯ এপ্রিল সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ করেন নুরুল আজিম রনি। সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীরকে।


ঝিনাইদহের নবগঙ্গা নদীর পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও নদী পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে ঝিনাইদহের নবগঙ্গা নদীর পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে শহরের নবগঙ্গা নদীর ক্যাসেল ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ৩ দিনব্যাপী এই পরিচ্ছন্ন অভিযানের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ। সেসময় স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক রথীন্দ্রনাথ রায়, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান, ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার দাস, উপ-সহকারী প্রকৌশলী কাজী মহসিন উদ্দিন, ঝিনাইদহ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মুন্তাছির রহমান, ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লিটনসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের আয়োজন এ অভিযান চলবে আগামী ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত। শহরের ক্যাসেল ব্রিজ ত্রিমোহনা থেকে চাকলাপাড়া ব্রীজ পর্যন্ত নদীর দুই পাড় পরিস্কার, কচুরিপানা অপসারণ করা হবে বলে জানিয়েছে আয়োজকরা।


মাগুরায় নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা বিষয়ক দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাগুরা প্রতিনিধি

মাগুরা ও রাজবাড়ী জেলার সাংবাদিকদের জন্য নির্বাচনকালীন দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা বিষয়ক দুই দিনব্যাপী বিশেষ প্রশিক্ষণ মাগুরায় সোমবার (১৯ জানুয়ারি) থেকে শুরু হয়েছে।

প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) এর উদ্যোগে এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় আয়োজিত এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা মাগুরা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে হচ্ছে।

প্রথম দিনের কর্মসূচিতে সকাল ৯টায় নিবন্ধন ও পরিচয় পর্বের মধ্য দিয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের শুভসূচনা হয়। পরে ‘গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬: সরকার, প্রশাসন ও সাংবাদিকতা’—বিষয়ক আলোচনায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, জনগণের ভোটাধিকার, নির্বাচনকালীন প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার ভূমিকা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন প্রশিক্ষক হিসাবে শারমীন রিনভী নির্বাচন রিপোর্টিং বিশেষজ্ঞ ও সাবেক সভাপতি ইআরএফ।

প্রশিক্ষণে সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা, বিশেষত নির্বাচন কাভারেজে নির্ভুলতা, স্বচ্ছতা ও বস্তুনিষ্ঠতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন পিআইবির প্রশিক্ষক শাহ আলম সৈকত, তথ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম সজীব, মাগুরা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. সাইদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক, রাজবাড়ী প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী আব্দুল কুদ্দুস বাবু, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম হিরন।

প্রশিক্ষণে মাগুরা ও রাজবাড়ী জেলার ৫০ জন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ অংশ নেয়।


শীতার্ত মানুষের পাশে কমলগঞ্জ প্রেসক্লাব, দুই শতাধিক শীতার্ত পেল কম্বল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজর) প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে অসহায় ও শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে কমলগঞ্জ প্রেসক্লাব। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবের আয়োজনে প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এই শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শীতার্তদের হাতে কম্বল তুলে দেন কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান। শীতবস্ত্র বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। সংবাদ পরিবেশনের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে কমলগঞ্জ প্রেসক্লাব যেভাবে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে, তা অত্যান্ত প্রশংসনীয়। সমাজের বিত্তবান ও বিভিন্ন সংগঠন এভাবে এগিয়ে এলে কোনো মানুষই শীতে কষ্ট পাবে না।’

কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসহাবুজ্জামান শাওনের সভাপতিত্বে ও সাংবাদিক নির্মল এস পলাশের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন, কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আহমেদুজ্জামান আলম।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) গোলাম মোস্তফা, অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সাংবাদিক বিশ্বজিৎ রায়, প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ, শাব্বীর এলাহী, পিন্টু দেবনাথ প্রমুখ।

এসময় কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ জানান, কনকনে শীতে গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র মানুষগুলো কষ্টে আছেন। তাদের সামান্য উষ্ণতা দিতেই এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। আগামীতেও সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে প্রেসক্লাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।


গঙ্গাচড়ায় ভারতীয় ফেনসিডিলসহ ট্রাক আটক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি

রংপুরের গঙ্গাচড়া এলাকায় লালমনিরহাট জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও গঙ্গাচড়া মডেল থানার যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্যসহ একটি ট্রাক আটক করা হয়েছে। অভিযানে মোট ৮৮৫ বোতল ফেনসিডিল এবং ‘এস্কাপ’ ও ‘ফেয়ারডিল’ নামের অন্যান্য নিষিদ্ধ ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকা ব্যবহার করে একটি সংগঠিত চক্র ভারত থেকে এসব মাদক বাংলাদেশে পাচার করে আসছিল। লালমনিরহাট জেলা ডিবি পুলিশ ট্রাকের গতিবিধি অনুসরণ করে অভিযান শুরু করে। ধাওয়ার একপর্যায়ে ট্রাকটি রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া এলাকায় প্রবেশ করলে গঙ্গাচড়া মডেল থানার সহযোগিতায় তা আটক করা সম্ভব হয়।

রংপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরীফ মোহাম্মদ ফারুকুজ্জান বলেন, ধাওয়ার পর ট্রাকটি গঙ্গাচড়ায় আটক করা হয়েছে। মামলাটি লালমনিরহাট জেলায় রুজু করা হবে, এবং তদন্ত পরিচালনা করবে গঙ্গাচড়া মডেল থানার পুলিশ। উদ্ধার মাদকদ্রব্যের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১০ লক্ষ টাকা। তিনি আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে এসব মাদক দেশের বিভিন্ন জেলায় বিতরণের উদ্দেশে পাচার করা হচ্ছিল। মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য তদন্ত কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা হয়েছে। সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে সীমান্তবর্তী ও অভ্যন্তরীণ এলাকায় অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতেও ভারতীয় ফেনসিডিলসহ সব ধরনের মাদক পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


নন্দীগ্রামে সরিষা ফুলের খাঁটি মধু সংগ্রহের ধুম, বাড়ছে ফলন ও আয়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন চোখ ধাঁধানো হলুদের সমারোহ। প্রকৃতি যেনো সেজেছে নতুন সাজে। সকালের নরম রোদ আর শীতল আবহাওয়ার মাঝে সরিষা ফুলের সৌন্দর্য মুগ্ধ করছে পথচারী ও দর্শনার্থীদের। এই অপরূপ সৌন্দর্যের মাঝেই চলছে আরেক ব্যস্ত কর্মযজ্ঞ মধু সংগ্রহ। প্রতি বছরের মতো এবারো সরিষা মৌসুমে নন্দীগ্রামে ছুটে এসেছেন বিভিন্ন জেলার মৌখামারিরা। নন্দীগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন মাঠে সরিষা ক্ষেতের পাশের ফাঁকা জমিতে সারি সারি করে সাজানো হয়েছে শত শত মৌবাক্স। দূর থেকেই শোনা যায় মৌমাছির ভু ভু গুঞ্জন। সরিষা ফুলে বসে মৌমাছিরা মধু আহরণ করছে। মুখ ভর্তি মধু নিয়ে মৌমাছি ফিরে আসছে মৌবাক্সে। সেখানে মধু জমা করে আবার ছুটে যাচ্ছে ফুলের মাঝে। এভাবেই দিনভর চলতে থাকে মৌমাছিদের নিরবচ্ছিন্ন মধু সংগ্রহ। মৌমাছি সরিষা ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়িয়ে মধু সংগ্রহ করায় সরিষা ফুলের পরাগায়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

মৌখামারিরা জানান, একটি মৌবাক্সে সাধারণত ৮ থেকে ১০টি মোম দিয়ে তৈরি চাকের ফ্রেম রাখা হয়। মৌবাক্সের ভিতরে রাখা হয় একটি রাণী মৌমাছি। রাণী মৌমাছির উপস্থিতির কারণেই শ্রমিক মৌমাছিরা ওই বাক্সে অবস্থান করে এবং ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে চাকের ভেতরে জমা করে। মৌবাক্সের নিচের দিকে রাখা ছোট ছিদ্র দিয়ে মৌমাছিরা নিয়মিত আসা-যাওয়া করে। একটি মৌবাক্সের চাকে সম্পূর্ণভাবে মধু ভরতে সময় লাগে প্রায় ১০ থেকে ১২দিন। এরপর বিশেষ মেশিনের সাহায্যে চাকের ফ্রেম থেকে মধু সংগ্রহ করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় মধুর স্বাভাবিক গুণাগুণ অক্ষুণ্ন থাকে। নড়াইল সদর উপজেলার চিলগাছা রঘুনাথপুর গ্রাম থেকে আসা মৌখামারি চাঁন মিয়া বলেন, আমরা ২৫ ডিসেম্বর নন্দীগ্রাম পৌর এলাকার কুচাইকুড়ি সরিষা ক্ষেতে সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহের জন্য এসেছি। এখানকার পরিবেশ ও ফুলের ঘনত্ব মধু সংগ্রহের জন্য খুবই উপযোগী। আশা করছি এবার ভালো পরিমাণ মধু পাবো। তিনি আরো জানান, গত ৭ বছর ধরে মধু সংগ্রহ ও বিক্রয়ের সঙ্গে যুক্ত আছি। বর্তমানে আমার প্রায় ২০০টি মৌবাক্স রয়েছে। ১০ থেকে ১২দিন পরপর মধু সংগ্রহ করা হয়। বাজারে প্রতিমন মধু ১১ থেকে ১২ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। নন্দীগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন মাঠে এখন সরিষা ফুল থেকে মৌমাছির মাধ্যমে মধু সংগ্রহ করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গাজীউল হক জানান, যেসব সরিষা ক্ষেতে মৌমাছির মাধ্যমে মধু সংগ্রহ করা হচ্ছে সেসব জমিতে অন্যান্য জমির তুলনায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বেশি ফলন পাওয়া যাবে। মৌমাছি সরিষা ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়িয়ে মধু সংগ্রহের কারণে সরিষা ফুলে পরাগায়নে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখছে। তিনি আরো বলেন, মৌচাষের কারণে একদিকে যেমন সরিষার উৎপাদন বাড়ছে, অন্যদিকে এলাকাবাসীও অল্প মূল্যে খাঁটি মধু পাচ্ছেন। এতে কৃষক ও মৌখামারিরা লাভবান হচ্ছে।


ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে সামাজিক অবদানই সফলতার মাপকাঠি: শিক্ষা উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার সোমবার (১৯ জানুয়ারি) চট্টগ্রামে আয়োজিত চট্টগ্রাম ইন্ডিপেন্ডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে কনভোকেশন চেয়ারের বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত সফলতার স্বরূপ ব্যাখ্যা করে বলেন, "সমাজকে আমরা কী দিচ্ছি, সেটাই হবে জীবনের প্রকৃত সফলতার মাপকাঠি।" শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য কেবল সার্টিফিকেট অর্জন নয় বরং নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতা অর্জন উল্লেখ করে তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, "ডিগ্রি মানুষকে সুযোগ দেয়, কিন্তু শিক্ষা মানুষকে দায়িত্ববোধ শেখায়।"

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে অর্জিত জ্ঞানকে দেশ ও দশের কল্যাণে ব্যবহারের তাগিদ দিয়ে তিনি আরও বলেন, "অর্জন দিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য কী করা হচ্ছে, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।" জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে তিনি মন্তব্য করেন, "জুলাই শহীদদের মহান ত্যাগের কারণে জাতি আজ অধিকারবঞ্চিত প্রজা থেকে মর্যাদাসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পেরেছে।"

তরুণ প্রজন্মের প্রতি বিশেষ নির্দেশনা দিয়ে অধ্যাপক আবরার বলেন যে, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়াই বর্তমান সমাজের তরুণদের প্রধান দায়িত্ব। সমাবর্তন পাওয়া শিক্ষার্থীদের জীবনের এই নতুন যাত্রাকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, "আজকের দিনটি আপনাদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।"

ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে মানবকল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং বিবেক ও যুক্তি দিয়ে সত্য-মিথ্যা নির্ণয়ের সামর্থ্য অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া সন্তানদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার পেছনে অভিভাবকদের ত্যাগ এবং শিক্ষকদের নিষ্ঠার প্রতি রাষ্ট্রীয় কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি জলবায়ু পরিবর্তনসহ বৈশ্বিক ও জাতীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণদের সাহসী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।


নির্বাচনকালীন ১ লাখ সেনাসহ থাকবে ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ৮ লাখ ৯৭ হাজার ১১৭ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ২০তম সভায় সভাপতিত্ব শেষে তিনি জানান, এই বিশাল নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সেনাবাহিনীর ১ লাখ, নৌ-বাহিনীর ৫ হাজার, বিমান বাহিনীর ৩ হাজার ৭৩০, পুলিশের ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৪৩, আনসারের ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৩১৪, বিজিবির ৩৭ হাজার ৪৫৩, কোস্ট গার্ডের ৩ হাজার ৫৮৫, র‍্যাবের ৭ হাজার ৭০০ এবং ফায়ার সার্ভিসের ১৩ হাজার ৩৯০ জন সদস্য নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় থাকবেন। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে তিনি বলেন, "দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা; আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন, নির্বাচনী সমন্বয় সেল, নির্বাচনকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ, গ্রহণযোগ্য ও উৎসবমুখর করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২ এর অগ্রগতি পর্যালোচনা; অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার কার্যক্রম; মাদকবিরোধী অভিযানসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ, গ্রহণযোগ্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানে বদ্ধপরিকর। সেজন্য জাতীয় নির্বাচনে জনআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ আমাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আর এ লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।"

নিরাপত্তা পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরে উপদেষ্টা জানান, বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে "ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার"–এর আওতায় সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা হবে এবং ভোটকেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তার অংশ হিসেবে ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৭ দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সরাসরি দায়িত্ব পালন করবে। এবারের নির্বাচনে প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে তিনি আরও বলেন, ৪১৮টি ড্রোন এবং ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার কর্তৃক প্রস্তুতকৃত "নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ-২০২৬" আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ও তাৎক্ষণিক অভিযোগ নিষ্পত্তিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপনসহ অধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ২৫ হাজার বডি ওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহারের প্রস্তুতিও চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে তিনি জানান। এছাড়া দুর্গম ও চরাঞ্চলে নির্বাচনী সামগ্রী এবং জনবল পরিবহনে বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমনের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, "এবারের জাতীয় নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর বা নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার যেকোনো অপতৎপরতা প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন।"

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর থেকে চালু হওয়া অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২ অভিযানে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৯ হাজার ৮৫৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাছাড়া এ অভিযানে ৩৪৬টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২১৯১ রাউন্ড গুলি, ৭২২ রাউন্ড কার্তুজ, ৬৯৪টি দেশীয় অস্ত্র, গ্রেনেড, মর্টারের গোলা, গান পাউডার, আতশবাজি, বোমা তৈরির উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় মামলা ও ওয়ারেন্টমূলে ৩৩ হাজার ৫১৩ জনসহ ৫৩ হাজার ৩৬৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডেভিল হান্ট ফেইজ-২ এর অংশ হিসেবে চেকপোস্ট ও টহলের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে যাতে সন্ত্রাসী ও দুষ্কৃতকারীরা পার না পেয়ে যায় এবং অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার আরও বৃদ্ধি পায়।


কালিয়াকৈরে জুয়া ও মাদকের আস্তানায় ভাংচুর শেষে আগুন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে মাদক ব্যবসায়ীদের হামলায় মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তারা আহত হওয়ার পর অবশেষে জুয়া ও মাদকের আস্তানা ভাংচুর করে আগুনে পুড়ালেন গ্রামবাসী। বরিবার (১৮ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার টান-কালিয়াকৈর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর ওই এলাকা থেকে গা ঢাকা দিয়েছেন মাদক ব্যবসায়ীরা। এর প্রভাব উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পড়বে বলে মনে করছেন ওই গ্রামবাসী। তবে গ্রামবাসীদের দাবি এ বিষয়ে কেন? নিরব পুলিশ।

এলাকাবাসী ও মাদক বিরোধী কমিটি সূত্রে জানা গেছে, কালিয়াকৈর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার আনাচে-কানাচে মাদকের ব্যাপক বিস্তার লাভ করেছে। মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ছেন শিশু শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেনী ও পেশার বিভিন্ন বয়সের মানুষ। আর মাদকের যোগান পেতে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীরা। সব সময় তাদের ছোবলের আতঙ্কে থাকেন মানুষ।

মাদকের বিস্তার কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে বিভিন্ন সময় হামলা ও মারধরের শিকার হচ্ছেন মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের লোকজনসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও। শুধু আইন শৃঙ্খলা বাহিনীই নয়, মাদক নিয়ন্ত্রণে উপজেলার টান-কালিয়াকৈর এলাকার মানুষ মাদক বিরোধী কমিটি করেন। তারপরও মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবীদের নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে সর্বশেষ গত১২ জানুয়ারী সন্ধ্যার পর উপজেলার টান-কালিয়াকৈর এলাকায় হামলা ও মারধরের শিকার হন গাজীপুর মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

হামলা চালিয়ে আটক হাবিব নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে ছিনিয়ে নেয় তার সহচররাও। এর পূর্বে মাদকবাহীনীর হামলায় গাজীপুর মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন, এসআই বাকের, এসআই আরিফসহ টিমের সাতজন আহত হন। খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ওইদিন রাতেই গাজীপুর মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর দু'দিন পর মঙ্গলবার রাতে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে শাহ আলম, তার স্ত্রী শায়লা বেগম ও তাদের সন্তান শাকিলকে গ্রেপ্তার করে থানা পুলিশ।

পরে গ্রেপ্তারকৃতদের জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। তারপরও যেন অবাধে বিচরণ করছে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবীরা। তারা ওই এলাকার ঘাটাখালী নদীর তীরে ঝুপে তাবু টানিয়ে আস্তানা তৈরি করে। দিনে-রাতে সেখানে জুয়া খেলে ও মাদক সেবন করা থেকে শুরু করে কেনা-বেচা হয় মাদক। বিষয়টি টের পেয়ে গত রবিবার রাতে ওই আস্তানা ভাংচুর ও আগুন দিয়ে তাবু, তাসসহ মাদক পুড়িয়ে দেয় গ্রামবাসী। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। কিন্তু এরপর গা ঢাকা দিয়েছেন ওই এলাকার মাদক ব্যবসায়ীরা। এর প্রভাব উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পড়বে বলে মনে করছেন ওই গ্রামবাসী।

ওই মাদক বিরোধী কমিটির দায়িত্বরত একজন সদস্য ও কালিয়াকৈর পৌর যুবদলের সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান শিপলু জানান, কিছুদিন আগে অভিযানের সময় হামলার শিকার হন প্রশাসনের লোকজন। এ বিষয় নিয়ে ওইদিন সাবেক দুই কাউন্সিলর মহসিন উজ্জামান ও মাসুম আলীসহ আমরা এলাকাবাসী বসেছিলাম। পরে সবাই মিলে ওই আস্তানা আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। তবে সবাই এগিয়ে এলে শুধু মাদকের বিরুদ্ধেই নয়, বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকান্ড প্রতিহত করা সম্ভব।

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন জানান, শুনেছি আগুন দিয়ে মাদকের আস্তানা পুড়ানো হয়েছে। খুব দ্রুত ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হবে। এর আগে গত মাসেও মাদকের বিষয়ে তিনটি অভিযান চালানো হয়েছে। সে বিষয়ে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে মাদকের বিষয়ে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।


৯ম পে-স্কেল প্রজ্ঞাপনে আলটিমেটাম, কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ৯ম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি না হলে কঠোর আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জোটের প্রধান নেতা অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজীজি এই আলটিমেটাম দিয়ে জানান, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রজ্ঞাপন না হলে ৫ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। দীর্ঘ ১১ বছর ধরে নতুন পে-স্কেল না হওয়ায় প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "এই অবহেলা ও দীর্ঘসূত্রতায় প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার ব্যাহত হয়েছে।"

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, মূল্যস্ফীতির এই বাজারে বর্তমান বেতন দিয়ে টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে, অথচ প্রজ্ঞাপন বিলম্বিত করতে নানামুখী চক্রান্ত চলছে। ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, "পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারির বিরুদ্ধে নানা মহল থেকে ষড়যন্ত্র চলছে। যাদের এ বিষয়ে মত দেওয়ার এখতিয়ার নেই, তারাও অহরহ নেতিবাচক মন্তব্য করে পরিবেশ বিভ্রান্ত করছে।"

অধ্যক্ষ আজীজি আরও বলেন, বেতন কমিশন গঠিত হলেও এর বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা জনমনে ক্ষোভের সঞ্চার করেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের সাম্প্রতিক মন্তব্যের সমালোচনা করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি। সম্মেলনে জানানো হয়, অর্ধকোটি মানুষের জীবনমান এই বেতন কাঠামোর সঙ্গে জড়িত, তাই বর্তমান সরকারের মেয়াদেই এটি কার্যকর করা জরুরি।

একইসঙ্গে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিকে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে জোটের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মতিউর রহমান, মো. নুরুল আমিন হেলালী, মো. মিজানুর রহমান এবং মো. হাবিবুল্লাহ রাজুসহ অন্যান্য শিক্ষক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে গিয়াস উদ্দিন তাহেরীকে শোকজ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে হবিগঞ্জ-৪ আসনের বাংলাদেশ ইসলামি ফ্রন্টের প্রার্থী ও আলোচিত ইসলামী বক্তা মো. গিয়াস উদ্দিন তাহেরীকে শোকজ করেছে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফিন ১৯ জানুয়ারি বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান যে, একই আসনে বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ ফয়সলকেও একই অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যান মো. রবিউল হাসান স্বাক্ষরিত ওই নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী ভোটগ্রহণের তিন সপ্তাহ আগে সব ধরনের প্রচারণা নিষিদ্ধ। তবে গিয়াস উদ্দিন তাহেরীর প্রায় ৭ লাখ ৭০ হাজার ফলোয়ার সমৃদ্ধ ‘The Speech’ নামক ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে নির্বাচনী প্রচারণামূলক ভিডিও প্রচার করা হয়েছে, যা স্পষ্টত বিধিমালা পরিপন্থী।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আগামী ২০ জানুয়ারি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী ও সৈয়দ ফয়সলকে নিজে অথবা প্রতিনিধির মাধ্যমে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী পরিবেশ ও আচরণবিধি বজায় রাখার স্বার্থেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।


বরিশালের হিজলায় অজ্ঞাত যুবকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরিশাল ব্যুরো

বরিশালের হিজলা উপজেলার মেঘনা নদীর তীরে এক অজ্ঞাত যুবকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে হিজলা নৌ পুলিশ। উদ্ধারকৃত যুবকের পরিচয় এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ এবং সিআইডি তদন্ত শুরু করেছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনের রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
সোমবার ( ১৯ জানুয়ারী) ভোর রাতে বড় জালিয়া ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের আজিজ সিকদারের মাছঘাট সংলগ্ন এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। হিজলা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক গৌতম চন্দ্র মণ্ডল জানিয়েছেন, ভোর রাতে স্থানীয়দের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত অবস্থায় নৌকায় পড়ে থাকা যুবককে উদ্ধার করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পরিদর্শক গৌতম জানান, নিহত যুবকের বয়স ও পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে ঘটনাস্থল থেকে একটি জেলে নৌকা জব্দ করা হয়েছে। পুলিশ আশা করছে, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকারীদের চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।
প্রতক্ষ্যদর্শী জেলে জালাল রাঢ়ী বলেন, রাত প্রায় ১২টায় মাছ শিকার শেষে নদীর ঘাটে ফিরছিলাম। তখন গলাকাটা অবস্থায় এক যুবক বসে ছিল। রক্ত অঝোরে ঝরছিল। দেখে আমি অচেতন হয়ে পড়ি। এরপর কী হয়েছে, জানি না।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রাতে ওই এলাকায় একটি স্পিডবোটের শব্দ শোনা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, অন্য কোথাও থেকে যুবককে আনা হয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হতে পারে। নিহতের মরদেহ মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।


বরিশালে প্রতিদিন গড়ে ৯ ডিভোর্স, বিচ্ছেদের পথে এগিয়ে নারীরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০

বরিশালে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা। গত দুই বছরে নিবন্ধিত বিয়ের তুলনায় তালাকের সংখ্যা চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নগরীতে প্রতিদিন গড়ে নয়টি করে বিবাহবিচ্ছেদ হচ্ছে। এসব বিচ্ছেদের আবেদনে পুরুষদের তুলনায় নারীরাই এগিয়ে রয়েছেন।
সমাজ বিশ্লেষকরা বলছেন, সংসার জীবনে আস্থা ও সহনশীলতার অভাব, স্বামীর বেকারত্ব, মাদকাসক্তি, অনলাইন জুয়ার প্রতি ঝোঁক এবং পরকীয়ার মতো বিষয়গুলো সংসার ভাঙনের বড় কারণ হয়ে উঠছে। তুচ্ছ বিষয় নিয়েও মনোমালিন্য তৈরি হচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত তালাকের পথে গড়াচ্ছে বহু পরিবার।
বরিশাল মহানগরীর নথুল্লাবাদ এলাকার এক ব্যবসায়ী জানান, দাম্পত্য জীবনে আস্থা হারিয়ে তিনি একসময় আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। পরিবারে কলহ ও অবিশ্বাস তাকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছিল। যদিও পরে তিনি বেঁচে ফেরেন, তবে তার অভিজ্ঞতা বর্তমান সামাজিক সংকটেরই প্রতিচ্ছবি। অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় থেকে বিয়ে হলেও তা স্থায়ী হচ্ছে না। যৌতুকের চাপ, শারীরিক নির্যাতন ও পারিবারিক বিরোধে ভেঙে যাচ্ছে সম্পর্ক। এক তরুণী জানান, পরিবারের অমতে প্রেমের বিয়ে করেছিলেন তিনি। শুরুতে সব ঠিক থাকলেও পরে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন শুরু হয়। এক বছরের মধ্যেই বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন তিনি।
নারীদের অভিযোগ, স্বামীর বেকারত্ব, মাদকাসক্তি ও অনলাইন জুয়ার আসক্তির কারণে সংসারে অশান্তি বাড়ছে। অনেকেই নিয়মিত নির্যাতনের শিকার হয়ে শেষ পর্যন্ত বাবার বাড়িতে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে বরিশালে মোট ১৮ হাজার ৬৪৪টি বিয়ের বিপরীতে বিচ্ছেদ হয়েছে ৬ হাজার ৩৫২টি। ২০২৩ সালে ৯ হাজার ৬৬৬টি বিয়ের মধ্যে ভেঙেছে ৩ হাজার ৫টি সংসার। ২০২৪ সালে ৮ হাজার ৯৭৮টি বিয়ের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়েছে ৩ হাজার ৩৪৭টি।

আইন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আদালতে বিবাহবিচ্ছেদ ও নারী নির্যাতন সংক্রান্ত মামলার সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। অধিকাংশ অভিযোগের পেছনে রয়েছে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, মাদকাসক্তি ও পারিবারিক সহিংসতা।
সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা মনে করেন, ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ থেকে সরে আসা এবং পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হয়ে পড়াই এই সংকটকে তীব্র করছে। তারা বলছেন, পরিবার ও সমাজভিত্তিক সচেতনতা বাড়াতে না পারলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানান, তালাকের ক্ষেত্রে নারীদের আবেদন তুলনামূলক বেশি। ২০২৫ সালে এই প্রবণতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


নওগাঁয় সরিষা ক্ষেত থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় সরিষা ক্ষেত থেকে আশরাফুল (৩০) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলার জাবারীপুরহাট এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত ওই যুবক পার্শ্ববর্তী জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর থানার সরদারপাড়া গ্রামের সেকেন্দার আলীর ছেলে।

থানা-পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে কয়েকজন কৃষক মাঠে কাজ করতে যাচ্ছিলেন। এসময় তারা সরিষা ক্ষেতে মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান বলেন, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারন জানা যাবে।


banner close