শিক্ষকের প্রত্যাশা পূরণে সরকার আন্তরিক বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি বলেছেন, শিক্ষকের কাছ থেকে প্রত্যাশা করব কিন্তু তাদের প্রত্যাশা পূরণ করব না সেটা হয় না। আমাদের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠে শিক্ষকের আর্থিক, সামাজিক নিরাপত্তা ও সম্মানের ব্যবস্থা করতে হবে। শিক্ষকের প্রত্যাশা পূরণে বর্তমান সরকার সবসময় আন্তরিক।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষায় ভালো কিছু চাইলে অবকাঠামো উন্নয়ন যেমন জরুরি, তার চেয়ে বেশি জরুরি ভালো পরিবেশ তৈরি করা। সেই পরিবেশ শুধু ইট-কাঠ-বালুর অবকাঠামো দিয়ে হয় না, সেই পরিবেশ শুধুমাত্র প্রযুক্তি দিয়ে হবে না। আমার শিক্ষকের মনে যদি প্রশান্তি থাকে, আমার শিক্ষকের মনে যদি উৎসাহ থাকে, তাহলে শিক্ষার পরিবেশ সত্যিই যথার্থ হয়ে উঠবে। কাজেই আমরা সেই জায়গায় পৌঁছাতে চাই। সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে চেষ্টা করছি।
দীপু মনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থা থেকে আমরা প্রশ্নফাঁসের মতো আপদগুলো দূর করার চেষ্টা করছি। তারপরও দুয়েকটি জায়গায় কিছু শিক্ষক নামধারী ব্যক্তি এই কাজটি করার চেষ্টা করেন। এসব শিক্ষকরা কিন্তু সমগ্র শিক্ষক সমাজের প্রতিনিধিত্ব করেন না। কিন্তু তার দায় সবাইকে নিতে হয়। সে কারণে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। কোথাও যদি শিক্ষক মনে করেন যে আমার ছাত্র, আমার প্রতিষ্ঠানকে আরও বেশি ভালো ফলাফল করতে হবে, তাহলে সেটি শিক্ষকের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করে। শিক্ষার মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, একজন শিক্ষার্থী কত নম্বর পেল, শুধু সেই নম্বর দিয়ে যেন তাকে বিচার না করি। শুধু নম্বর পাওয়াই যথেষ্ট নয় কিংবা শুধু নম্বর পাওয়াই একমাত্র উদ্দেশ্য নয়। সে আসলে কতটা শিখল, সে কতটা মূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষ হলো সেটিই বিবেচ্য বিষয়। এই বিষয়কে মাথায় রেখে আমাদের নতুন শিক্ষাক্রম তৈরি করেছি। এর মাধ্যমে আমাদের শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে বাস্তবতার আলোকে নিজেকে গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।
শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, আমাদের দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের লিখতে পারা, বলতে পারা, গুণতে পারার দক্ষতা পুরো দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি। সেটা সম্ভব হয়েছে আমাদের শিক্ষকদের কারণে। খুব নিদারুন কষ্টের মধ্য দিয়ে ছাত্রদের পড়িয়েছেন। মাধ্যমিক শিক্ষায় আমরা আমরা অনেক দেশের তুলনায় অনেক এগিয়ে আছি। সেখানে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ আমাদের শিক্ষকদের নিষ্ঠা, আন্তরিকতা এবং দক্ষতা।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবু বকর ছিদ্দিক, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আমিনুল ইসলাম, রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিনের এক্সিকিউটিভ এমবিএ (ইএমবিএ) প্রোগ্রামের ফান্ড থেকে প্রায় ১৮ লাখ ৮৮ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত সহকারী রেজিস্ট্রার ইউসূফ রায়হানকে সাময়িকভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অভিযোগ ওঠার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। অভিযুক্ত কর্মকর্তা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ফায়েকুজ্জামানের ভাগ্নে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. এসএম মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিনের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে প্রাথমিকভাবে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সাময়িক অব্যাহতির আদেশে বলা হয়েছে, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এবং দাপ্তরিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরাকি ভাতা পাবেন।
জানা গেছে, ইউসূফ রায়হান ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিনের ইএমবিএ প্রোগ্রামের আর্থিক কার্যক্রম দেখাশোনা করতেন। অভিযোগ রয়েছে, ডিসিপ্লিন প্রধান ও কোর্স কো-অর্ডিনেটরের স্বাক্ষর জাল করে তিনি ব্যাংক থেকে ইএমবিএ প্রোগ্রামের টাকা উত্তোলন করেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া সেমিস্টার ও পরীক্ষার ফির অর্থও ব্যাংকে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে গত সোমবার (১১ মে), যখন ইএমবিএ শিক্ষার্থীরা সেমিস্টার রেজিস্ট্রেশনের তথ্য যাচাই করতে গিয়ে দেখতে পান, তাদের জমা দেওয়া ফি বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাবে প্রদর্শিত হচ্ছে না। পরে অনুসন্ধানে জানা যায়, কয়েকটি ব্যাচের শিক্ষার্থীদের জমা দেওয়া অর্থ ব্যাংকে জমা হয়নি।
প্রসঙ্গত, ইউসূফ রায়হান ২০১৭ সালে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ পান। তার নিয়োগের সময়ও স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল।
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার সরকারি খাদ্য গুদামে অভ্যন্তরীণ বোরো মৌসুমের ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে ফুলবাড়িয়া মাছ বাজার সংলগ্ন খাদ্য গুদামে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই সংগ্রহ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মু. কামরুল হাসান মিলন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা ধান-চাল সংগ্রহ মনিটরিং কমিটির সভাপতি শহিদুল ইসলাম সোহাগ এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কামরুল হাসান মিলন এমপি বলেছেন, কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার আন্তরিক ভাবে কাজ করছে। কোন কৃষক যেনো হয়রানির শিকার না হয় সেদিকে সকলকে খেয়াল রাখার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ব্যাপারেও অনুরোধ করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কৃষিবিদ শাহনাজ পারভীন,খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ ছাইদুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ ,উপ সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার মো: আবু রায়হান,আলম এশিয়া প্রাঃ লিঃ এর চেয়ারম্যান এস এম শাহজাহান,ব্যবসায়ি আবুল কালাম সরকার, বুলবুল প্রমুখ।
ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ জানান, এবার বোরো মৌসুমে ফুলবাড়িয়া খাদ্যগুদামে
৩ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন চাল এবং ২ হাজার ৯০ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রতি কেজি চাল ৪৯ টাকা এবং প্রতি কেজি ধান ৩৬ টাকা দরে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে কেনা হবে। এই সরকারি ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত দেশব্যাপী একযোগে চলবে।
পাবনার সাঁথিয়ায় উপজেলা ভূমি অফিসের আয়োজনে ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৯ মে) বর্ণাঢ্য র্যালি ও জনসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
র্যালিটি উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসিফ রায়হানের সভাপতিত্বে উপজেলা পরিষদ হলরুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিজু তামান্না।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম, সাঁথিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা মোখলেছুর রহমান, সাঁথিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল করিম, সাঁথিয়া উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মোস্তফা কামাল মানিক, সাঁথিয়া প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক মীর নজমুল বারী নাহিদ, সাবেক সভাপতি মানিক মিয়া রানা, জয়নুল আবেদীন রানা, সহ-সভাপতি জালাল উদ্দিন, সাবেক সম্পাদক আবুল কাশেম, কোষাধ্যক্ষ আবু ইসহাক, সাংবাদিক মনোয়ার পারভেজ মানিকসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় জনবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর ভূমি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘ভূমিসেবা মেলা-২০২৬’। ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় ডুমুরিয়া উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা ভূমি অফিসের যৌথ উদ্যোগে ১৯ মে থেকে ২১ মে পর্যন্ত এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল ১০টায় উপজেলা ভূমি অফিস প্রাঙ্গণে বেলুন উড়িয়ে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। পরে অনুষ্ঠিত হয় জনসচেতনতামূলক আলোচনা সভা।
ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ সবিতা সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী আসগার লবী।
তিনি বলেন, ডুমুরিয়ায় ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবায় জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং কোনোভাবেই সাধারণ মানুষকে হয়রানির শিকার হতে দেওয়া যাবে না।
তিনি আরও বলেন, “ভূমি অফিসে কোনো ধরনের দালালচক্র, সন্ত্রাসী বা চাঁদাবাজদের প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। সাধারণ মানুষ যেন নামজারি, খতিয়ান, ভূমি উন্নয়ন কর প্রদানসহ সকল সেবা সহজে ও হয়রানিমুক্তভাবে পেতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।”
সরকারের ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করে সংসদ সদস্য বলেন, অনলাইন ও প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে জনগণের সময় ও অর্থ দুই-ই সাশ্রয় হচ্ছে। প্রান্তিক জনগণ যেন ঘরে বসেই বা সহজে সেবা কেন্দ্র থেকে স্বচ্ছতার সঙ্গে সেবা নিতে পারেন, সে বিষয়ে কর্মকর্তাদের আরও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, “আমার জীবন থাকতে এলাকার কোনো মানুষকে হয়রানি হতে দেব না। ভালো মানুষ বা খারাপ মানুষ যে দলেরই হোক না কেন, ডুমুরিয়ার মাটিতে সাধারণ মানুষকে ঠকানো বা হয়রানি করা সহ্য করা হবে না।”
সভায় বক্তব্য দেন ডুমুরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত কুমার বিশ্বাস, ডুমুরিয়া থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ আছের আলী, খুলনা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও ডুমুরিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি চেয়ারম্যান মোল্লা মোশাররফ হোসেন মফিজ, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান গাজী আব্দুল হালিম, খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য সরোয়ার হোসেন, শেখ শাহিনুর রহমান, শেখ ফহরাদ হোসেন, ডুমুরিয়া উপজেলা কানুনগো মোঃ জাকির হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা নূরুন নবী খোকা, ডুমুরিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর আলম, সাধারণ সম্পাদক শেখ মাহতাব হোসেন, থুকড়া ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন, মুফতি আব্দুল মালেক ও সজিব কুমার বিশ্বাস।
মেলায় অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) প্রদান, ই-নামজারি সহায়তা, ই-পর্চা ও ডিজিটাল মৌজা ম্যাপ সেবা, ডিসিআর ও খতিয়ান সংগ্রহ, স্মার্ট ভূমি রেকর্ড বিতরণ এবং অভিযোগ প্রতিকার ও গণশুনানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এছাড়া মেলায় প্রজেক্টরের মাধ্যমে সচেতনতামূলক ভিডিও প্রদর্শন করা হচ্ছে এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের হটলাইন ১৬১২২ ও land.gov.bd পোর্টালের ব্যবহার হাতে-কলমে শেখানো হচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সকল নাগরিককে মেলায় এসে আধুনিক ও হয়রানিমুক্ত ভূমিসেবা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সদর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মোঃ নূরুল ইসলাম।
বাজেটে নারীদের জন্য জেলায় জেলায় ডে কেয়ার সেন্টার, পাবলিক টয়লেট, কর্মজীবী নারী হোস্টেল ও মা ও শিশু হাসপাতাল নির্মাণে পৃথক বরাদ্দ রাখার দাবি জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম। পাশাপাশি গৃহস্থালি কাজের আর্থিক মূল্য নির্ধারণ ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবিও জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল ১১টায় বরিশাল অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তারা বলেন, বাজেট শুধু অর্থনৈতিক দলিল নয়, এটি সরকারের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলনও।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি মাফিয়া বেগম। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ বরিশাল জেলা শাখার সমন্বয়ক ও সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী।
এছাড়া বক্তব্য দেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন খোকন, বাসদ বরিশাল জেলা শাখার সদস্য শহিদুল ইসলাম, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম বরিশাল জেলা শাখার ক্রীড়া সম্পাদক খুকুমণি, খান সন্স টেক্সটাইল শ্রমিক ইউনিয়নের সহকারী সাধারণ সম্পাদক রিজিয়া বেগম, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বরিশাল মহানগর শাখার আহ্বায়ক সুজন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক ফারজানা আক্তার এবং চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বরিশাল জেলার সংগঠক লামিয়া সায়মন।
বক্তারা বলেন, দেশের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী হলেও বাজেটে তাদের অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়িত হয় না। তারা জানান, গৃহস্থালি ও পরিচর্যামূলক কাজের বড় অংশ নারীরা করলেও তা অর্থনৈতিক হিসেবে গণনায় আসে না। ২০২১ সালের তথ্য উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে নারীদের অবৈতনিক গৃহস্থালি ও পরিচর্যা কাজের আর্থিক মূল্য প্রায় ৬ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের জিডিপির প্রায় ১৮.৯ শতাংশ।
তারা আরও বলেন, সন্তান পালন ও গৃহস্থালি দায়িত্বের কারণে নারীরা কর্মক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়েন। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ হিসেবে ডে কেয়ার সেন্টার, নিরাপদ গণপরিবহন, কর্মজীবী নারী হোস্টেল, স্বাস্থ্যসম্মত পাবলিক টয়লেট এবং মা ও শিশু হাসপাতাল নির্মাণ জরুরি। নারীর সমঅধিকার নিশ্চিত করতে হলে বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখতে হবে এবং এসব পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।
আপনারা যা দেখলেন, আমিও তাই দেখলাম। এ ধরনের অভিযান চলবে এমন হুশিয়ারী দিলেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান।
মঙ্গলবার (১৯ মে ) সকালের দিকে কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই বরিশালের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে আকস্মিক পরিদর্শনে যান তিনি। পরে তিনি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ বিআইডব্লিউটিএ বরিশাল দপ্তরে যান।
পরিদর্শনে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী দেখতে পান, দপ্তরে কোনো কর্মকর্তা উপস্থিত নেই। তবে কয়েকজন কর্মচারী দায়িত্ব পালন করছিলেন। কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতিতে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দপ্তরের সার্বিক কার্যক্রম ও উপস্থিতি বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
দপ্তরের বিভিন্ন কক্ষ ঘুরে দেখেন তিনি এবং উপস্থিতি সংক্রান্ত তথ্য নথিভুক্ত করেন। এ সময় সরকারি সেবা কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রতিমন্ত্রী।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের রাজীব আহসান জানান,আপনারা যা দেখলেন, আমিও তাই দেখলাম। এ ধরনের অভিযান চলবে। সরকারি দপ্তরে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আকস্মিক পরিদর্শন নিয়মিতভাবে চালিয়ে যাওয়া হবে।
পরিদর্শন শেষে তিনি স্পিডবোটে করে মেহেন্দীগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ইব্রাহিমপুর সুফিয়াবাদ ফাজিল মাদ্রাসার নবম শ্রেণির ছাত্র মো. জুনায়েদ আহমেদ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ পার করছে। মেধাবী এই ছাত্রের চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে তার পরিবার।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, কয়েক মাস আগে জুনায়েদের শারীরিক অসুস্থতা দেখা দিলে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ক্যান্সার ধরা পড়ে। এরপর থেকেই চলছে ব্যয়বহুল চিকিৎসা। চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে পরিবারের সব সঞ্চয় শেষ হয়ে গেছে। দিনমজুর পিতা মো. দুলাল মিয়ার পক্ষে এখন ছেলের চিকিৎসার ব্যয় বহন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জুনায়েদের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলেটা বাঁচতে চায়। কিন্তু টাকার অভাবে ঠিকমতো চিকিৎসা করাতে পারছি না। সমাজের বিত্তবান মানুষ যদি একটু সাহায্যের হাত বাড়ান, তাহলে হয়তো আমার ছেলেটা আবার সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসবে।”
স্থানীয়রা জানান, জুনায়েদ অত্যন্ত ভদ্র, নম্র ও মেধাবী ছাত্র। তার এমন করুণ অবস্থায় এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তারা সমাজের হৃদয়বান ব্যক্তি, প্রবাসী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইব্রাহিমপুর সুফিয়াবাদ ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি মো. এনামুল হক কুতুবী বলেন, “জুনায়েদের চিকিৎসার জন্য সমাজের দানশীল ব্যক্তি, মানবিক সংগঠন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। সবার সহযোগিতা পেলে হয়তো এই মেধাবী শিক্ষার্থীকে নতুন জীবন ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।”
বরিশাল বিভাগে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনকভাবে বাড়তে থাকায় নতুন করে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশু দুটির মৃত্যু হয়।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, মৃত শিশুদের একজন পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার দুর্গাপুর এলাকার সোহাগ খানের দুই বছর বয়সী ছেলে জিহাদ এবং অন্যজন ভোলার চরফ্যাশনের উত্তর চর আইচা গ্রামের হাসানের সাত মাস বয়সী কন্যাশিশু হাবিবা।
চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, হামজনিত জটিলতা থেকে মারাত্মক নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মশিউল মুনীর জানান, হাম থেকে সৃষ্ট শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ার কারণে শিশু দুটির শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে।
হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা গেছে, হাবিবা গত ১৩ মে হাসপাতালে ভর্তি হয় এবং কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৮ মে সকালে মারা যায়। অন্যদিকে জিহাদকে ১৯ মে ভোরে হাসপাতালে আনার কিছু সময় পরই তার মৃত্যু হয়।
চলতি বছরে শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল-এ হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ জনে। একই সময়ে হাসপাতালে মোট ভর্তি হয়েছে ২ হাজার ২৮৬ জন রোগী। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছে ৫২ জন এবং ছাড়পত্র পেয়েছে ৪৬ জন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১৯৮ জন রোগী।
এদিকে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় জানিয়েছে, বিভাগজুড়ে হামের সংক্রমণ এখনো আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মোহাম্মদ লোকমান হাকিম জানান, বরিশাল বিভাগে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে ৩৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হাম রোগে মারা গেছে আরও তিনজন।
স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন করে ১৪৭ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৪০ জন রোগী।
চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে মোট সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৯৫০ জনে। এর মধ্যে ১৭৫ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে।
জেলাভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, পটুয়াখালীতে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ২৮৮ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া ভোলায় ৪৫৮ জন, বরিশালে ৩৬৭ জন, বরগুনায় ৫৩১ জন, পিরোজপুরে ৩৩৭ জন এবং ঝালকাঠিতে ২৫৫ জন রোগী পাওয়া গেছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, হাম প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি শিশুদের জ্বর, শরীরে ফুসকুড়ি, কাশি বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
জীবননগরে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও সুসংহত ও কার্যকর করতে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমিন। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে দশটায় থেকে উপজেলা সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা কমিটির পাশাপাশি আদালত সহায়তা, সন্ত্রাস ও নাশকতা প্রতিরোধ, মানব পাচার প্রতিরোধ, চোরাচালান নিরোধ সমন্বয় কমিটি, অনিষ্পন্ন চোরাচালান মামলাসমূহ বিষয়ে মনিটরিং সেল, জেলা সড়ক নিরাপত্তা কমিটি এবং সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতদের নির্ভুল ও সমন্বিত পরিসংখ্যান প্রণয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সৈয়দ আব্দুল জব্বার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ফাহমিদা আক্তার রুনা, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জুয়েল শেখ, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জাকির উদ্দিন মোড়ল, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান খোকন, সাধারণ সম্পাদক শাহাজাহান খান, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন, সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, থানার এস আই খুরশিদ আলমসহ স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ।
এ সময় বক্তারা সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, নিয়মিত মনিটরিং এবং আন্তঃদপ্তর সমন্বয় জোরদারের নির্দেশনা প্রদান করেন।
গাজীপুরের কালীগঞ্জে “জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ভূমি সেবা মেলা ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও জনসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে ২০২৬) সকাল ১০টায় কালীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিস প্রাঙ্গণে এ সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কালীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাকিয়া সরওয়ার লিমা।
গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যস্ত থাকায় তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তাঁর অনুপস্থিতিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম কামরুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ হুমায়ুন কবির মাস্টার।
সভায় বক্তারা বলেন, দেশে ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা দীর্ঘদিনের সমস্যা। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে সরকার ভূমি ব্যবস্থাপনায় অনলাইন সেবা চালু করেছে। ডিজিটাল ভূমি সেবার মাধ্যমে জনগণ এখন ঘরে বসেই বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করতে পারছে, ফলে সময় ও হয়রানি দুটোই কমছে।
বক্তারা আরও বলেন, ভূমি সপ্তাহ উপলক্ষে জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে যদি সাধারণ মানুষের একটি অংশও উপকৃত হয়, তাহলেই এ আয়োজন সফল ও সার্থক হবে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
‘জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা’ প্রতিপাদ্যে নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায় তিনদিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলা-২০২৬ উপলক্ষে র্যালি ও জনসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে সারাদেশে একযোগে আয়োজিত ‘ভূমিসেবা মেলা-২০২৬’-এর উদ্বোধন করা হয়। এ উপলক্ষে উপজেলা ভূমি অফিসের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি র্যালি বের করা হয়। পরে পরিষদ মিলনায়তনে জনসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা সহজীকরণ, ডিজিটাল পদ্ধতিতে নামজারি, খতিয়ান উত্তোলন, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধসহ নাগরিক সেবা বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা বলেন, ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আরও স্বচ্ছ, দ্রুত ও জনবান্ধব করতে সরকারের অটোমেশন কার্যক্রম সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেকাংশে কমিয়েছে।
সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেবাশীষ বসাক, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. রবীন্দ্রনাথ রায়, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস. এম. মাহমুদুল হাসান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোশারফ হোসেন এবং উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমানসহ বিভিন্ন ইউপি চেয়ারম্যান, দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, গণমাধ্যমকর্মী, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি)-এ এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রামের ৫ম ব্যাচের গবেষকদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন বিভাগের রিসার্চ ডিগ্রি ইউনিটের উদ্যোগে সোমবার সকাল ১০:০০টায় কেন্দ্রীয় সম্মেলন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের লেকচার গ্যালারিতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান। উপাচার্য বলেন, “বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় দেশের প্রান্তিক, শ্রমজীবী ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য শিক্ষা বিস্তারের মহান লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে দূরশিক্ষণের মাধ্যমে সেই দায়িত্ব সফলভাবে পালন করে যাচ্ছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টি শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি গবেষণাকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে এবং ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে এমফিল ও পিএইচডি কার্যক্রম চালুর মাধ্যমে নতুন জ্ঞান সৃষ্টির পথে অগ্রসর হয়েছে। তিনি বলেন, গবেষণা কেবল ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যম নয়; বরং জ্ঞানভান্ডারে নতুন সংযোজন, মানবকল্যাণ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে অবদান রাখাই গবেষণার মূল উদ্দেশ্য। গবেষকদের নিষ্ঠা, সৃজনশীলতা ও নৈতিকতার সঙ্গে গবেষণা পরিচালনার আহ্বান জানিয়ে তিনি প্লেজিয়ারিজম ও গবেষণায় অনৈতিক চর্চা থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন”।
উপাচার্য আরও বলেন, ‘গবেষণার মানোন্নয়নে গবেষণা পদ্ধতি বিষয়ে নিয়মিত কর্মশালা, গবেষক ফেলোশিপ, গবেষণাবান্ধব পরিবেশ, পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ এবং আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিকে আরও সমৃদ্ধ ও গবেষকবান্ধব করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বাউবিকে বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলতে গবেষণার বিকল্প নেই। এজন্য শিক্ষক, তত্ত্বাবধায়ক ও গবেষকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি গবেষণানির্ভর প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। তিনি গবেষকদের মানসম্পন্ন গবেষণা প্রবন্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জার্নালে প্রকাশের আহ্বান জানান এবং গবেষকদের বাউবির “ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর” হিসেবে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন’।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাননীয় প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন। সভাপতি তাঁর বক্তব্যে বাউবিকে গবেষণার জন্য একটি অনন্য বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি শিক্ষার্থীবান্ধব গবেষণা পরিবেশ, সুপারভাইজারদের আন্তরিক সহযোগিতা, প্লেজারিজম চেক ব্যবস্থা চালু এবং সহজ নীতিমালা প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সফলভাবে ডিগ্রি সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সাঈদ ফেরদৌস। বিশেষ অতিথি তাঁর বক্তব্যে গবেষণাকে শুধু ডিগ্রি বা পদোন্নতির মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং মৌলিক জ্ঞান সৃষ্টির দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি মানসম্মত গবেষণার জন্য গবেষক ও সুপারভাইজারদের আন্তরিকতা, দায়িত্বশীলতা এবং পরিশ্রমের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি বাউবিতে গবেষণার মানোন্নয়নে শক্তিশালী গবেষণা কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন।
ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, স্কুল অব বিজনেস এর ডিন অধ্যাপক ড. মোঃ মঈনুল ইসলাম, সামাজিক বিজ্ঞান, মানবিক ও ভাষা স্কুল এর ডিন অধ্যাপক তানভীর আহসান, ওপেন স্কুলের ডিন অধ্যাপক ড. মোছাঃ শিরিন সুলতানা, স্কুল অব এডুকেশ এর ডিন অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম, কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন স্কুল এর ডিন অধ্যাপক ড. মোঃ সিরাজুল ইসলাম, স্কুল অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজির ডিন অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুল মজিদ মন্ডল ও স্কুল অব ল এর ডিন অধ্যাপক ড. নাহিদ ফেরদৌসী। এছাড়াও বিভিন্ন স্কুলের ৫ম ব্যাচের পিএইচডি গবেষকদের মধ্য থেকে ৩ জন গবেষক বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা গবেষণার গুণগত মান উন্নয়ন, মৌলিক গবেষণা পরিচালনা এবং উচ্চশিক্ষা ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে গবেষকদের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা গবেষকদের নিষ্ঠা, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বাউবির রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) টি.এম আহমেদ হুসেইন।
ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসির পরিচালক, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং ৫ম ব্যাচের এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রামের ৪১ জন গবেষক উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন প্রশাসন বিভাগের রিসার্চ ডিগ্রি ইউনিটের যুগ্ম-পরিচালক এমএস তাসলিমা খানম।
নড়াইলে বোরো ধানের ভালো ফলন হলেও বাজারে ন্যায্যমূল্য না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। উৎপাদন খরচ বেড়ে গেলেও সে অনুপাতে ধানের দাম না পাওয়ায় লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন তারা।
জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, এবার নড়াইলে ৫০ হাজার ২৯৭ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৬২৩ মেট্রিক টন। এ পর্যন্ত জেলার প্রায় ৯০ শতাংশ জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে।
সোমবার (১৯ মে) নড়াইল সদর উপজেলার তুলারামপুর ও মাইজপাড়া হাট ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা ভ্যান, ট্রলি ও গরুর গাড়িতে করে উৎপাদিত ধান হাটে নিয়ে আসছেন। কৃষক ও ধান ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জেলার বৃহত্তম পাইকারি ধানের মোকামে এবার মোটা, মাঝারি ও চিকন জাতের ধানের ব্যাপক আমদানি হয়েছে।
মোটা জাতের মধ্যে হাইব্রিড হীরা, ব্রি ধান-৭৪ ও রড মিনিকেট, মাঝারি জাতের মধ্যে সুবর্ণালতা, ছক্কা ও এসএল-৮এইচ এবং চিকন জাতের মধ্যে ব্রি ধান-৫০, ৮৯ ও তেজগোল্ড ধান বেশি এসেছে।
বর্তমানে মোটা ধান প্রতি মণ ১ হাজার ১৫০ টাকা এবং চিকন ধান ১ হাজার ১৭০ থেকে ১ হাজার ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ গত সপ্তাহেও এসব ধান প্রতি মণে প্রায় ১০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হয়েছিল।
ফসল ঘরে তুলতেই ধানের বাজারদর কমে যাওয়ায় হতাশ কৃষকরা। চলতি মৌসুমে বোরো ধানের দাম মণপ্রতি ৪০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। কৃষকদের অভিযোগ, ডিজেল, সার, সেচ, শ্রমিক ও কীটনাশকের দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচ অনেক বেড়েছে। কিন্তু ধানের বাজারদর সেই অনুযায়ী বাড়েনি।
সদর উপজেলার মুলিয়া ইউনিয়নের সীতারামপুর গ্রামের কৃষক গনেশ বিশ্বাস বলেন, “এবার বোরো আবাদ করতে গিয়ে অনেক বেশি খরচ হয়েছে। ডিজেল, সার, শ্রমিক ও কীটনাশকের দাম সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় ধানের দাম বাড়েনি।”
কৃষক পাগল বিশ্বাস ও রসময় বিশ্বাস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ধান চাষ করতে ধার-দেনা ও বিভিন্ন সমিতি থেকে চড়া সুদে ঋণ নিতে হয়েছে। ফলন ভালো হলেও ধানের দাম কম থাকায় লাভ তো দূরের কথা, ঋণ শোধ করাই কঠিন হয়ে পড়বে।”
লোহাগড়া উপজেলার লাহুড়িয়া ইউনিয়নের কৃষক দাউদ মোল্যা বলেন, “পাকা ধান ঘরে তোলার সময় বৃষ্টিতে কিছু ধানের ক্ষতি হয়েছে। জমিতে কাদা-পানি থাকায় ট্রলি বা গরুর গাড়িতে ধান আনা যাচ্ছে না। এজন্য অতিরিক্ত শ্রমিক নিতে হচ্ছে, ফলে খরচ আরও বেড়ে গেছে।”
কালিয়া উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়নের বিঞ্চুপুর গ্রামের কৃষক মো. ফুল মিয়া শেখ বলেন, “আমাদের মতো নিম্নবিত্ত কৃষক পরিবার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গ্রামের অনেকেই সুদে টাকা এনে ধান চাষ করেছে। এখন শুনছি হাটে ধানের দাম কম, এতে আমরা আরও বিপাকে পড়েছি।”
তুলারামপুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মো. জিল্লুর রহমান বিশ্বাস বলেন, “কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। কৃষকের উন্নয়ন ছাড়া কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।”
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান বলেন, “ফসলের উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বাজারদর নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে উৎপাদন খরচ কমাতে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে কৃষি বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে।”