বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
৭ কার্তিক ১৪৩৩

হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধ সংস্কারে ধীরগতির অভিযোগ

ছবিটি নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুরী উপজেলার হাওর অঞ্চল থেকে তোলা। ছবি: দৈনিক বাংলা
নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত
নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১০:২৫

নেত্রকোনায় হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধ সংস্কারে ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে। এদিকে সময়মতো কাজ শেষ না হলে আগাম বন্যায় কৃষকের বোরো ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নেত্রকোনার সাত উপজেলার ১৩৪টি হাওরে এবারও হুমকির মুখে রয়েছে বোরো ফসল। চলতি বছরের ২৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ফসলরক্ষা বাঁধ সংস্কারের কাজ শেষ করার কথা থাকলেও কোনো কোনো স্থানে এখনো শুরুই হয়নি কার্যক্রম।

নিয়মানুযায়ী বাঁধ সংস্কারের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) কাজে সরাসরি জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে যুক্ত করা হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নসহ তদারকিতে জেলা প্রশাসককে সভাপতি ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নেত্রকোনার নির্বাহী প্রকৌশলীকে সদস্যসচিব করে জেলা কমিটি করা হয়। এ ছাড়া উপজেলা পর্যায়ে নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) সভাপতি ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) একজন কর্মকর্তাকে সদস্যসচিব করে উপজেলা কমিটি গঠন করা হয়। মূলত উপজেলা কমিটি প্রকল্প নির্ধারণ ও পিআইসি গঠন করে জেলা কমিটিতে পাঠায়। পরে জেলা কমিটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। প্রতিটি প্রকল্পের জন্য প্রকৃত কৃষক ও স্থানীয় সুবিধাভোগীদের নিয়ে পাঁচ থেকে সাত সদস্যের একটি পিআইসি থাকে। একটি পিআইসি সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকার কাজ করতে পারে।

পাউবো সূত্র জানায়, হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের নির্মাণকাজ ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে শুরু এবং ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার কথা। এর আগে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে পিআইসি গঠন এবং ৩০ অক্টোবরের মধ্যে প্রকল্প নির্ধারণের কাজ চূড়ান্ত হওয়ার কথা। কিন্তু পানি ধীরগতিতে নামায় প্রকল্প নির্ধারণের কাজ চূড়ান্ত করতে দেরি হয়। পিআইসি গঠিত হলেও পানির কারণে সব বাঁধের কাজ এখনো শুরু করা সম্ভব হয়নি।

পাউবো নেত্রকোনা জেলা অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় পাউবোর অধীন প্রায় ৩৬৫ কিলোমিটার ডুবন্ত (অস্থায়ী) বাঁধ রয়েছে। এসব বাঁধের ওপর স্থানীয় কৃষকদের প্রায় ৪২ হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল নির্ভর করে। এ ফসলের ওপর নির্ভর করে কৃষকদের সারা বছরের সংসার খরচ চলে।

নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুরী, মোহনগঞ্জ, মদন, কলমাকান্দা, দুর্গাপুর, বারহাট্টা, আটপাড়া উপজেলায় রয়েছে ছোট বড় ১৩৪টি হাওর। এ ছাড়া অন্যান্য এলাকার তুলনায় পূর্বধলা উপজেলায় পরিমাণে কম জলাশয় রয়েছে। এর মধ্যে খালিয়াজুরীতে ৮৯টি হাওর রয়েছে। আর এখানে রয়েছে ১৮০ কিলোমিটার ডুবন্ত অস্থায়ী বাঁধ। এর মধ্যে ১১০টি প্রকল্পের মাধ্যমে ৯২ কিলোমিটার বাঁধ সংস্কার করা হচ্ছে।

বিভিন্ন তথ্য সূত্রে জানা যায়, খালিয়াজুরী উপজেলায় ১০৮টি প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২০ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, মদনের ২৫টি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ ধরা হয় ৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকা, মোহনগঞ্জে ২৬টি পিআইসি প্রকল্পের জন্য ৪ কোটি ৪১ লাখ টাকা, কলমাকান্দায় ৭টি প্রকল্পের জন্য ব্যয় ধরা হয় ১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, বারহাট্টায় ৯টি প্রকল্পের জন্য ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা, পূর্বধলায় ২টি প্রকল্পের জন্য ৪৫ লাখ টাকা, আটপাড়ায় একটি প্রকল্পের জন্য ১১ লাখ টাকা। এর মধ্যে এ বছরে বরাদ্দ পাওয়া গেছে ১৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা।

জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার কীর্তনখলা হাওরের একাধিক কৃষক বলেন, তারা ঋণ করে বোরোর আবাদ করছেন। বাঁধের কাজ এ বছর ঠিক সময়ে শুরু হয়নি। এ কারণে সময়মতো কাজ শেষ হওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তারা। আগাম বন্যার পানিতে ফসল নষ্ট হলে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে।

খালিয়াজুরী হাওর রক্ষা পরিষদের সভাপতি স্বাগত সরকার শুভ বলেন, জাতীয় নির্বাচনের কারণে এবার স্থানীয় প্রশাসনের তদারকি অনেকটা কম ছিল। ফলে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজের তেমন অগ্রগতি হয়নি। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হলে পুরো হাওরের বোরো ফসল হুমকিতে থাকবে।

পাউবো নেত্রকোনা জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী সারওয়ার জাহান বলেন, ‘দ্রুতগতিতে কাজ হচ্ছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংস্কারকাজ শেষ করা সম্ভব হবে।’ তিনি আরও জানান, গত বছর জেলায় ৩৭ কোটি ৮১ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০৬টি পিআইসি গঠন করা হয়েছিল। এ বছর বাঁধের ক্ষতি কম হওয়ায় ২৮টি পিআইসি কম করা হয়েছে। ১৫৬ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণে গঠিত ১৭৮টি পিআইসির জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। জাতীয় নির্বাচন ও তীব্র শীতের কারণে কাজ শুরু করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হবে।

বিষয়:

দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ঘটনা ছাড়াই দুর্গোৎসব হলো: মীর শাহে আলম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, ‘দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ঘটনা ছাড়াই সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণভাবে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। বাংলাদশের ৫৫ বছরের ইতিহাসে কোনো প্রধানমন্ত্রী ঢাকার বাইরে রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রামের তিনটি আলাদা অঞ্চলে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে গেছেন।’

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বগুড়ার হোটেল মম-ইনের অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ প্রতিদিন আয়োজিত ‌‘উত্তরাঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র বগুড়ার উন্নয়ন সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক লোটন একরাম।

মীর শাহে আলম বলেন, ‘বিগত নির্বাচনে একটি গোষ্ঠী হিন্দুধর্মের ভাইদের পকেটের লোক মনে করত। সেখান থেকে তারা বের হয়ে এসে আমাদের প্রতি আস্থা রেখে ভোট দিয়েছে, আমাদের বিশ্বাস করেছে। সেই বিশ্বাসের প্রতিফলন হিসেবে সারা দেশে হাজারো (৩৩,৮৫১টি) পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব পালন হয়েছে। এটা আমাদের জন্য কাঙ্ক্ষিত বিষয়। তারা আমাদের প্রতি আস্থা রেখেছে, বিশ্বাস রেখেছে। সেই আস্থা ও বিশ্বাসের মূল্য তারেক রহমানের জনগণের সরকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের আমরা দিতে পেরেছি।’

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রশাসন এবং বিএনপির লোকজন একসঙ্গে পূজামণ্ডপগুলো পাহারা দিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তাদের এ বড় উৎসবকে আমরা সমাপ্ত করতে পেরেছি।’


আগামী ১০ বছরেও হাসিনার দেশে ফেরা সম্ভব না: স্পিকার

ভোলা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ১০ বছরেও শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা দেখছেন না জানিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কোনো নির্বাচনই সুষ্ঠু হয়নি। বর্তমান সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের বক্তব্য থেকে অনুধাবন করা যায়, আগামী নির্বাচন অবশ্যই সুষ্ঠু হবে। নির্বাচনগুলো নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হওয়া উচিত।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভোলা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ মানুষের সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সরাসরি যোগাযোগ থাকে। অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এসব নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের ওপরও তার আস্থা রয়েছে। ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অতীতের যেকোনো নির্বাচনের চেয়ে সুষ্ঠু হয়েছে।

এর আগে বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় নিজের সংসদীয় আসনে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ‘সমাজের নিকৃষ্ট যে লোকটা, সেটাই এমপি-মন্ত্রী হয়’ বলে মন্তব্য করেছিলেন স্পিকার। বৃহস্পতিবার ওই বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে তিনি এসব কথা বলেছেন। তাদের আমলে এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছিল, যাতে সমাজের ভালো মানুষের পক্ষে নির্বাচনে অংশ নেওয়া সম্ভব হয়নি।

স্পিকার আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ অবস্থার অবসান হবে। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল, কিন্তু তা নেওয়া হয়নি। তবে নির্বাচন ব্যবস্থায় আমূল সংস্কার প্রয়োজন। সমাজের গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে নির্বাচন কমিশনকে একটি পদ্ধতি নির্ধারণের পরামর্শ দেন তিনি।

এ ছাড়া দ্বীপজেলা ভোলার প্রাকৃতিক গ্যাসসম্পদ নিয়েও কথা বলেন স্পিকার। তিনি বলেন, আপাতদৃষ্টিতে দেশের মোট গ্যাসের মজুতের সমপরিমাণ গ্যাস ইতোমধ্যে ভোলায় পাওয়া যাচ্ছে। তার আশা, সেখানে আরও বিপুল গ্যাসের ভাণ্ডার রয়েছে।

স্পিকার বলেন, ভোলার গ্যাস কীভাবে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে সরকার এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। এ বিষয়ে সরকার বিদেশে যোগাযোগ করছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সহজ বিকল্প ভোলাতেই রয়েছে। ভোলার গ্যাস ভোলাবাসীর ন্যায্য অধিকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ সময় ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ কাওছার, জেলা পরিষদের প্রশাসক গোলাম নবী আলমগীর ও ভোলা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রাইসুল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


ফরিদগঞ্জের এসিল্যান্ডকে আদালতের শোকজ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চট্টগ্রাম ব্যুরো

আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না করা এবং এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা না দেওয়ায় চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে (এসিল্যান্ড) কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আগামী ৯ নভেম্বর ২০২৬ তারিখের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ও বিলম্বের কারণ ব্যাখ্যা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ বর্ধন এ নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির ফখরুদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন ১৭ তারিখ এই আদেশ দেন।

আদালতের আদেশ সূত্রে জানা যায়, একটি মামলায় ছয়জনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। মামলাটির সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আদালত গত ২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ফরিদগঞ্জ থানার সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে তদন্ত করে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় আদালত গত ১৬ জুন ২০২৬ তারিখে পুনরায় সময় দেন। এরপরও প্রতিবেদন না পাওয়ায় ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে আবারও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়।

আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়, মামলার বাদী আদালতে উপস্থিত হয়ে একটি দরখাস্তের মাধ্যমে তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তনের আবেদন করেন। আবেদনে তিনি অভিযোগ করেন, তদন্তের অগ্রগতি জানতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তাঁর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং তদন্ত করতে পারবেন না বলে জানান।

পরবর্তী সময়ে আদালত তদন্তকারী কর্মকর্তাকে ১২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেন। এ-সংক্রান্ত আদেশের অনুলিপিও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়। কিন্তু নির্ধারিত তারিখে তিনি আদালতে উপস্থিত হননি এবং তদন্ত প্রতিবেদনও দাখিল করেননি।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, বারবার সময় দেওয়ার পরও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না করা এবং এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা না দেওয়া আদালতের আদেশের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন ও আদালতের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শনের শামিল। এতে বিচারপ্রার্থীর দ্রুত বিচার পাওয়ার অধিকারও ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে আদালত উল্লেখ করেন।

এ অবস্থায় ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ৪৮৫ ধারার বিধান অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কেন আইনানুগ আদেশ দেওয়া হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিষয়:

ভোটের পাঁচ দিন আগে স্থগিত বাইশিমাসের নির্বাচন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির (বাইশিমাস) ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন আকস্মিকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। আগামী ২৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে এই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে ভোটের মাত্র পাঁচ দিন আগে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ ছাড়াই সব নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্য সংগঠনের নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষ মুহূর্তে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ ভোটার ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, আসন্ন দুর্গাপূজার সরকারি ছুটি শুরুর ঠিক আগের শেষ কার্যদিবসের রাতে নির্বাচন স্থগিতের নোটিশ জারি করা হয়। নোটিশে নির্বাচন বন্ধের পেছনে কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা বা যৌক্তিক কারণ তুলে ধরা হয়নি। সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও প্রার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর ভোটের চূড়ান্ত মুহূর্তে কোনো নিয়মনীতি না মেনে একতরফাভাবে এই স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে, যা বাণিজ্য সংগঠন আইনের পরিপন্থি এবং একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার স্পষ্ট অপচেষ্টা।

নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিতের এই সিদ্ধান্তের পর তাৎক্ষণিক তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন সমিতির সাধারণ সদস্য ও প্রার্থীরা। তাঁরা ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে লিখিত প্রতিবাদপত্র জমা দিয়েছেন এবং অবিলম্বে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। প্রার্থীদের মতে, দীর্ঘ প্রস্তুতি ও প্রচার-প্রচারণার পর একেবারে শেষ মুহূর্তে নির্বাচন বন্ধ করার এই সিদ্ধান্ত দেশের অন্যতম বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী এই ব্যবসায়ী সংগঠনের ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে।

দেশের অর্থনীতি ও উৎপাদনমুখী খাতের অন্যতম মূল চালিকাশক্তি হলো হালকা প্রকৌশল (লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং) শিল্প। এ খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, বাইশিমাসের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় বাণিজ্য সংগঠনের নির্বাচন এভাবে স্থগিত হওয়ায় সংগঠনের সুশাসন, প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতা ও নেতৃত্ব নির্বাচন বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে উদ্ভূত সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং অবিলম্বে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


মাসে ২২ ডিজে পার্টি, অংশ নিতেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী-ব্যাংকাররাও

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (রিপেয়ার অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) আব্দুল্লাহ আল জহিরের ভাড়া দেওয়া বাড়িতে প্রতি মাসে ২০ থেকে ২২টি ডিজে পার্টির আয়োজন করা হতো। ২০২৫ সাল থেকে এসব আয়োজন চলছিল। বুধবার (২১ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইলিয়াস কবির এ তথ্য জানান।

ইলিয়াস কবির বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পাওয়া গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। ভবনটিতে প্রবেশের পর ডিজে পার্টির আয়োজন দেখতে পান তারা। সেখানে প্রায় ২২টি গাড়ি ছিল। ভেতরে উচ্চ শব্দে গান বাজছিল। সিসা সেবনের কারণে পুরো পরিবেশ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ছিল।’

ডিসি ইলিয়াস কবির আরও দাবি করেন, পার্টিতে উপস্থিত তরুণ-তরুণীদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ব্যাংকারও ছিলেন।

তিনি বলেন, ‘সেখানে ২৬ জন তরুণী ছিলেন। তাদের অধিকাংশের বয়স ২০ থেকে ২২ বছরের মধ্যে। সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রীও সেখানে ছিলেন।’

ডিসি ইলিয়াস কবির বলেন, ‘এয়ারবিএনবি ও ট্রাভেলা নামের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এসব আয়োজন করা হতো। অনলাইন নিবন্ধনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা পার্টিতে যোগ দিতেন।’

প্রতি মাসে ২০ থেকে ২২টি আয়োজন হতো। একটি আয়োজনের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে জনপ্রতি প্রায় ৬০০ টাকা নেওয়া হতো বলে জানান তিনি। এ ছাড়া বাড়ি ভাড়া বাবদও অর্থ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

ওই বাড়ি থেকে আটক ৮৫ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা সম্পর্কে এই কর্মকর্তা জানান, ছেলেদের এক মাসের কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও ১৫ দিন কারাভোগের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, মেয়েদের ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও তিনদিন কারাভোগের আদেশ দেওয়া হয়েছে।


গর্ভের সন্তান বিক্রি করতে চাওয়া সেই আঁখির পাশে প্রধানমন্ত্রী

গর্ভবতী নারী আঁখি। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

‘গর্ভের সন্তান বিক্রি করতে চান আঁখি’ সম্প্রতি এই শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ হয় গণমাধ্যমে। এতে ফুটে ওঠে গর্ভবতী নারী আঁখির অসহায়ত্ব। সেখানে বলা হয়- ওই নারী তৃতীয়বারের মতো মা হতে চলেছেন। তার স্বামী অসুস্থ। অভাবের তাড়নায় তিনি অনাগত সন্তানকে ‘বিক্রি’ করতে চান। পরে প্রকাশিত সংবাদটি নজরে আসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।

প্রতিবেদনটি প্রকাশের দিনই তিনি মানবিকভাবে বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট পরিবারটির খোঁজ নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে নির্দেশ দেন। নির্দেশনার পরই আঁখি ও তার পরিবারের সন্ধান করা হয়। মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে পরিবারটির সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

জানা যায়, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আঁখির স্বামী দীর্ঘদিন ধরে রোগে আক্রান্ত। স্বামীর চিকিৎসা ও সংসারের ব্যয় নির্বাহ করতে গিয়ে পরিবারটি ঋণের বোঝায় জর্জরিত। সেই ঋণের টাকা পরিশোধের অসহায় চেষ্টা থেকেই আঁখি তার গর্ভের সন্তান ‘বিক্রি’ করার মতো কঠিন ও হৃদয়বিদারক সিদ্ধান্তের কথা ভাবতে বাধ্য হন।

বিষয়টি জানার পর পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন তারেক রহমান। এরই ধারাবাহিকতায় গত রোববার আঁখি ও তার পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ডাকা হয়। সেখানে পরিবারের হাতে এক লাখ টাকার একটি চেক তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি সন্তান প্রসবের সমস্ত খরচ বহনসহ কর্মসংস্থানেরও আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।


যুব উন্নয়নের প্রশ্নফাঁস; বিএআরসির সহকারী পরিচালক গ্রেপ্তার

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) সহকারী পরিচালক সোহাগ ফকির গ্রেপ্তার। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় করা মামলায় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) সহকারী পরিচালক সোহাগ ফকিরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দিবাগত রাতে মাদারীপুরের রাজৈর থানার বদরপাশা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের বিশেষ পুলিশ সুপার (সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশনস) মো. জাহিদুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় করা মামলায় সোহাগ ফকিরের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার পর রাজৈর থানা-পুলিশের সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারের সময় সোহাগ ফকিরের কাছ থেকে দুটি স্মার্টফোনসহ বেশ কিছু আলামত জব্দ করা হয়েছে।


ইঞ্জিন বিকল, সোয়া ৩ ঘণ্টা পর ছাড়ল কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

ইঞ্জিন বিকল হয়ে কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে সোয়া তিন ঘণ্টা আটকে থাকার পর ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেন।

বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে ট্রেনটি স্টেশন ছেড়ে যায়।

এর আগে, বিকেল ৪টায় ট্রেনটির ঢাকা অভিমুখে যাত্রা শুরুর কথা ছিল। কিন্তু ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে যাত্রা শুরু করতে পারেনি ট্রেনটি। এতে স্টেশনে আটকে থেকে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।

বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশনমাস্টার খলিলুর রহমান।

তিনি জানান, ট্রেনটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়ায় সেটি প্ল্যাটফর্মে সোয়া তিন ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ছিল। পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থেকে উদ্ধারকারী আরেকটি ইঞ্জিন এনে ট্রেনটির যাত্রা শুরু করা হয়।


দুর্নীতি বন্ধে আগে নেতাদের দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে: আইনমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

দেশে কার্যকরভাবে দুর্নীতি বন্ধ করতে হলে সবার আগে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও নেতাদের নিজেদের দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান। বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে ঝিনাইদহের শৈলকুপায় স্থানীয় শিক্ষক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। আইনমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, দুর্নীতি নির্মূলের প্রথম শর্ত হলো যারা মুখে দুর্নীতি বন্ধের কথা বলছেন, সেই রাজনৈতিক নেতৃত্বের সততা নিশ্চিত করা; তা না হলে এ সংক্রান্ত যাবতীয় রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।

সভায় শিক্ষকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মানসিকতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া শিক্ষকদের জন্য দিন দিন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। তরুণ সমাজের একটি অংশ মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে শিক্ষকদের গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে নতুন আঙ্গিকে ভাবতে হবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে শিক্ষকদেরই সময়োপযোগী ও সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ নিতে হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগে যেকোনো ধরনের আর্থিক লেনদেনের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন আইনমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার টাকা-পয়সার লেনদেনের তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতিদের স্বেচ্ছাচারিতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি কর্তৃক প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে কোনো ধরনের দুর্ব্যবহার বা অসৌজন্যমূলক আচরণ বরদাশত করা হবে না।

তবে কেবল ব্যবস্থাপনা কমিটি নয়, শিক্ষকদেরও নিজেদের পেশাগত দায়িত্বশীলতার বিষয়ে সতর্ক করেন মন্ত্রী আসাদুজ্জামান। তিনি উল্লেখ করেন, কোনো প্রধান শিক্ষক বা দায়িত্বশীল ব্যক্তি যদি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করে কোনো ধরনের আর্থিক অনিয়ম বা লুটপাটে জড়ান, তবে সেটিও কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না। শৈলকুপার এই মতবিনিময় সভায় উপজেলার বিভিন্ন বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষক এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।


ফরিদপুরে কথিত দুই ‘জিনের বাদশা’ গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফরিদপুর প্রতিনিধি

কখনো ‘জিনের বাদশা’, কখনো তান্ত্রিক-কবিরাজ, আবার কখনো পরিচিত ব্যবসায়ীর মোবাইল নম্বর ক্লোন করে বিশ্বাস অর্জনের মাধ্যমে মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এক প্রতারক চক্রের মূল হোতাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে ফরিদপুর পিবিআই কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন থানার মূলপাইততন গ্রামের মো. রাজিব (২৮) এবং একই থানার ফুলকাচিয়া গ্রামের মো. সুমন (২৬)। গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) বোরহানউদ্দিনের কুঞ্জেরহাট বাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পিবিআই জানায়, ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর রাজবাড়ী সদর থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলার সূত্র ধরে দীর্ঘ আট মাস প্রযুক্তিগত তদন্ত চালিয়ে এই চক্রটিকে শনাক্ত করা হয়। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৫ মার্চ রাজবাড়ীর বিনোদপুর এলাকার চাল ব্যবসায়ী রশিদুল ইসলামের পরিচিত এক ব্যবসায়ী বিজয় বাবুর মোবাইল নম্বর ক্লোন করে চক্রটি। এরপর জরুরি আর্থিক প্রয়োজনের কথা জানিয়ে সুলভ মূল্যে ৩৩ টন চাল বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হয়। পূর্বপরিচয়ের সূত্রে বিশ্বাস করে রশিদুল ওই দিন দুপুরে আটটি বিকাশ ও নগদ নম্বরে দফায় দফায় মোট ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পাঠান। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পর বিজয় বাবুর মূল অফিসে যোগাযোগ করে রশিদুল নিশ্চিত হন যে তিনি একটি সংঘবদ্ধ চক্রের প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

ঘটনার পর রাজবাড়ী সদর থানা পুলিশ কোনো আসামি গ্রেপ্তার ছাড়াই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিলে আদালতের নির্দেশে চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি তদন্তের দায়িত্ব পায় ফরিদপুর পিবিআই। তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মাজিদুল হক খান গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারেন, এই চক্রের সদস্যরা সারাদেশেই সক্রিয়। বিশেষ করে টাকা সংগ্রহের জন্য চক্রটি সুমন নামের এক পা হারানো শারীরিক প্রতিবন্ধী যুবককে ব্যবহার করত। ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চালানোর আড়ালে ক্রাচে ভর দিয়ে বিভিন্ন এলাকার বিকাশ ও নগদ ক্যাশ আউট পয়েন্ট থেকে টাকা সংগ্রহ করতেন তিনি, যেন শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা স্থানীয়রা সহজে সন্দেহ না করে।

গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার জানান, চক্রটির প্রতারণার কৌশল ছিল বহুবিধ ও সুপরিকল্পিত। গভীর রাতে তারা বিশেষ করে নারীদের ফোন করে ‘জিনের বাদশা’ পরিচয় দিত এবং ফোনের পাশে অদ্ভুত শব্দ বাজিয়ে এক ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করত। এরপর পরিবারের সদস্য হারানো বা চরম বিপদের আতঙ্ক তৈরি করে তা থেকে উদ্ধারের নামে ভয় দেখিয়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ আদায় করত। এর বাইরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নামকরা তান্ত্রিক ও কবিরাজ সেজে বিজ্ঞাপন দিয়ে কঠিন বা গোপন রোগমুক্তি, প্রেমে সফলতা এবং পারিবারিক সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিত তারা।

সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই নিশ্চিত করেছে যে গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম আরও জানান, এই প্রতারক চক্রে মোট পাঁচজন সক্রিয় সদস্য জড়িত রয়েছে। গ্রেপ্তার দুজন ছাড়াও চক্রের বাকি তিন সদস্যের পরিচয় ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


আগামী গ্রীষ্মের আগেই তিন-চার হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের আশা বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর

যশোর জেলা বিএনপি অফিসে সৌর বিদ্যুৎ স্থাপনের উদ্বোধনকালে সাংবাদিকদের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম আমিত। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম আমিত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই ইতিবাচক সাড়ার কারণে আগামী গ্রীষ্মের আগেই এ খাত থেকে তিন থেকে চার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, জনগণের আগ্রহের প্রেক্ষিতে সরকারও নীতিগত সহায়তা দিচ্ছে, যার ফলে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে দেশের প্রথম কোনো রাজনৈতিক কার্যালয় হিসেবে যশোর জেলা বিএনপি অফিসে সৌর বিদ্যুৎ স্থাপনের উদ্বোধনকালে সাংবাদিকদের প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

উদ্বোধনকালে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত নীতি মেনে যশোর জেলা বিএনপি কার্যালয়ে ৬ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌর প্যানেল বসানো হয়েছে, যা দেশের কোনো রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রথম।

সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে স্থাপিত এই প্যানেলের ব্যবহারের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের সুবিধা রয়েছে এবং আগামী ৩ থেকে সাড়ে ৩ বছরের মধ্যে এর খরচ উঠে আসবে। এই উদ্যোগ দেখে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোও উৎসাহিত হবে বলে তিনি আশা করেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, পর্যায়ক্রমে সেচ পাম্পগুলোকেও সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনা হবে। এর ফলে ডিজেল ও সাধারণ বিদ্যুতের ওপর চাপ কমবে এবং কৃষকদের উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকনসহ যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


গরু-ছাগল ও জমানো টাকার লোভে নওগাঁয় বৃদ্ধাকে হত্যা: পুলিশ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

কানের স্বর্ণের দুল, জমানো টাকা ও গবাদিপশুর প্রতি লোভ। এর সঙ্গে মাদকের কারবারে বাধা দেওয়া এবং জমিজমা নিয়ে পুরোনো বিরোধ। এসব ক্ষোভ ও স্বার্থের দ্বন্দ্ব থেকে ৬৫ বছর বয়সি হালিমা বেগমকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। নওগাঁর ধামইরহাটে নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডে নিহতের ছোট ভাই ও তার স্ত্রীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যার পর হালিমার কানের স্বর্ণের দুল ছিনিয়ে নিতে তার এক কানের লতি কেটে এবং অন্য কানের লতি ছিঁড়ে ফেলা হয় বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- নিহত হালিমা বেগমের ছোট ভাই মজনু রহমান (৫৬), তার স্ত্রী হোসনে আরা (৪২), রবিউল ইসলাম (৩৯), হামিদুর রহমান (৫৫) ও মোশারফ হোসেন (৪৫)। তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রশি ও ওড়না জব্দ করা হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নওগাঁর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত ১৯ অক্টোবর সকালে ধামইরহাট উপজেলার ছিলিমপুর (তালবোনা) গ্রামের একটি বাঁশঝাড়ের পাশে ধানক্ষেতের আলে হালিমা বেগমের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল করে। এ সময় বৃদ্ধার একটি কানের লতি কাটা এবং অন্য কানের লতি ছেঁড়া অবস্থায় দেখতে পায় পুলিশ। ঘটনার পরপরই এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করে ধামইরহাট থানা-পুলিশ।’

এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের পর অভিযান চালিয়ে প্রথমে মজনু রহমান ও তার স্ত্রী হোসনে আরাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আলমপুর ও ছিলিমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে রবিউল ইসলাম, হামিদুর রহমান ও মোশারফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হালিমা বেগম ছিলেন নিঃসন্তান ও স্বামী পরিত্যক্তা। বাবার বাড়িতে ছোট ভাই মজনু রহমানের ঘরের পেছনে একটি ছাপড়াঘরে বসবাস করতেন তিনি। মানুষের বাড়িতে কাজ করার পাশাপাশি গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগি পালন করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কষ্টের উপার্জনে কিছু টাকা জমিয়েছিলেন তিনি। তার জমানো টাকা ও গবাদিপশুর প্রতি লোভ ছিল ছোট ভাই মজনু ও তার স্ত্রী হোসনে আরার।

অন্যদিকে স্থানীয়ভাবে মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় রবিউল ইসলাম এবং জমিজমা নিয়ে পুরোনো বিরোধের কারণে হামিদুর রহমান ও মোশারফ হোসেন হালিমার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এসব বিরোধ ও স্বার্থের দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডের প্রায় পাঁচ দিন আগে পাঁচজন মিলে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ১৮ অক্টোবর রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে হামিদুর রহমান কৌশলে হালিমা বেগমকে ঘর থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে আসেন। এ সময় অন্য আসামিরা তার মুখ চেপে ধরেন। পরে তাকে প্রায় ২০০ গজ দূরে একটি খড়ের পালার পেছনে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে হালিমার হাত রশি দিয়ে বেঁধে তার পরনের ওড়না গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে জানায় পুলিশ। এরপর তার কানে থাকা স্বর্ণের দুল খুলে নেওয়ার জন্য হামিদুর রহমান নৃশংসভাবে একটি কানের লতি কেটে এবং অন্য কানের লতি ছিঁড়ে ফেলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

হত্যার পর মরদেহটি বাঁশঝাড়ের আড়ালে ফেলে রেখে পালিয়ে যান আসামিরা। পরে কানের স্বর্ণের দুল দুটি নিজেদের মধ্যে ভাগবাঁটোয়ারা করে নেন তারা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন এবং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


তান্ত্রিক-কবিরাজ সেজে প্রতারণা, পিবিআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার ২

তান্ত্রিক, কবিরাজ ও জীনের বাদশা সংঘবদ্ধ চক্র গ্রেপ্তার । ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহবুব পিয়াল, ফরিদপুর

মানুষের বিশ্বাসকে পুজি করে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের নম্বর ক্লোন করে নানা কৌশলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া তান্ত্রিক, কবিরাজ ও জীনের বাদশা সংঘবদ্ধ চক্রের ২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই ফরিদপুর।

আসামিরা হলো ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন থানা মুলপাত্তম গ্রামের রমজান শেখের ছেলে মো. রাজিব (২৮) ও ফুলকাচিয়া গ্রামের মৃত মোসলেম হাওলাদারের ছেলে সুমন হাওলাদার (২৬)। বুধবার (২১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় পিবিআই ফরিদপুর জেলা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে ঘটনা বর্ণনা করেন।

পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম জানান, ২০২৪ সালের ২৫ মার্চ সকাল ১০ টার দিকে বিজয় বাবুর মোবাইল নম্বর ক্লোন করে রাজবাড়ী জেলার বিনোদপুর বাজারের চাল ব্যবসায়ী রশিদুল ইসলামকে ফোন করে এই চক্রে সদস্যরা। সুলভ মূল্যে ৩৩ টন চাল কেনার অফার দিলে ব্যবাসায়িক লেনদেনের বিশ্বস্ততায় তিনি চাল কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেন। বিকেল ৪টার মধ্যে চাল পৌঁছে যাবে বলে বিজয় বাবুর ফোন নম্বর থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়। এ সময় রশিদুলকে দ্রুত টাকা পাঠাতে বলা হয়। প্রথমে একটি বিকাশ নম্বরে ৫০ হাজার টাকা ও পরে বেশ কয়েকটি বিকাশ ও নগদ নম্বরে মোট ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পরিশোধ করে চাল ব্যবসায়ী রশিদুল ইসলাম।

বিকেল পর্যন্ত চাল না আসায় বিজয় বাবুর কাছে গেলে তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বললে। ভুক্তভোগী রশিদুল প্রত্যারণার স্বীকার হয়েছে বুঝতে পারেন। এই ঘটনায় চাল ব্যবসায়ী রশিদুল রাজবাড়ী সদর থানায় বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘থানা-পুলিশ এই মামলার কোনো কুলকিনারা করতে না পারায় বাদীর দাবির পরিপেক্ষিতে আট মাস পরে পিবিআইর নিকট মামলাটি হস্তান্তর করা হয়। গোয়েন্দা তথ্য, বিশ্বস্ত সূত্র ও তথ্যপ্রযুক্তির সহযোগিতায় গত ১৯ অক্টোবর রাতে ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন থানার কুঞ্জেরহাট থেকে প্রথমে সুমন ও পরে রাজিবকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই পুলিশ।

কঠিন ও গোপন রোগের সমাধান, প্রেমে সফলতা, দাম্পত্য জীবনে অসুখীসহ নানা সমস্যার সমাধানের প্রলোভন দেখাত আসামিরা। কখনো জিনের বাদশা আবার কখনো তান্ত্রিক-কবিরাজের ছদ্দবেশে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রত্যারণার মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ করত। এই সকল অপরাধের বিস্তারিত বর্ণনাসহ তাদের দোষ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয় আসামিরা।


banner close