বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১ আশ্বিন ১৪৩৩

হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধ সংস্কারে ধীরগতির অভিযোগ

ছবিটি নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুরী উপজেলার হাওর অঞ্চল থেকে তোলা। ছবি: দৈনিক বাংলা
নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত
নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১০:২৫

নেত্রকোনায় হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধ সংস্কারে ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে। এদিকে সময়মতো কাজ শেষ না হলে আগাম বন্যায় কৃষকের বোরো ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নেত্রকোনার সাত উপজেলার ১৩৪টি হাওরে এবারও হুমকির মুখে রয়েছে বোরো ফসল। চলতি বছরের ২৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ফসলরক্ষা বাঁধ সংস্কারের কাজ শেষ করার কথা থাকলেও কোনো কোনো স্থানে এখনো শুরুই হয়নি কার্যক্রম।

নিয়মানুযায়ী বাঁধ সংস্কারের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) কাজে সরাসরি জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে যুক্ত করা হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নসহ তদারকিতে জেলা প্রশাসককে সভাপতি ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নেত্রকোনার নির্বাহী প্রকৌশলীকে সদস্যসচিব করে জেলা কমিটি করা হয়। এ ছাড়া উপজেলা পর্যায়ে নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) সভাপতি ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) একজন কর্মকর্তাকে সদস্যসচিব করে উপজেলা কমিটি গঠন করা হয়। মূলত উপজেলা কমিটি প্রকল্প নির্ধারণ ও পিআইসি গঠন করে জেলা কমিটিতে পাঠায়। পরে জেলা কমিটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। প্রতিটি প্রকল্পের জন্য প্রকৃত কৃষক ও স্থানীয় সুবিধাভোগীদের নিয়ে পাঁচ থেকে সাত সদস্যের একটি পিআইসি থাকে। একটি পিআইসি সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকার কাজ করতে পারে।

পাউবো সূত্র জানায়, হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের নির্মাণকাজ ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে শুরু এবং ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার কথা। এর আগে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে পিআইসি গঠন এবং ৩০ অক্টোবরের মধ্যে প্রকল্প নির্ধারণের কাজ চূড়ান্ত হওয়ার কথা। কিন্তু পানি ধীরগতিতে নামায় প্রকল্প নির্ধারণের কাজ চূড়ান্ত করতে দেরি হয়। পিআইসি গঠিত হলেও পানির কারণে সব বাঁধের কাজ এখনো শুরু করা সম্ভব হয়নি।

পাউবো নেত্রকোনা জেলা অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় পাউবোর অধীন প্রায় ৩৬৫ কিলোমিটার ডুবন্ত (অস্থায়ী) বাঁধ রয়েছে। এসব বাঁধের ওপর স্থানীয় কৃষকদের প্রায় ৪২ হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল নির্ভর করে। এ ফসলের ওপর নির্ভর করে কৃষকদের সারা বছরের সংসার খরচ চলে।

নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুরী, মোহনগঞ্জ, মদন, কলমাকান্দা, দুর্গাপুর, বারহাট্টা, আটপাড়া উপজেলায় রয়েছে ছোট বড় ১৩৪টি হাওর। এ ছাড়া অন্যান্য এলাকার তুলনায় পূর্বধলা উপজেলায় পরিমাণে কম জলাশয় রয়েছে। এর মধ্যে খালিয়াজুরীতে ৮৯টি হাওর রয়েছে। আর এখানে রয়েছে ১৮০ কিলোমিটার ডুবন্ত অস্থায়ী বাঁধ। এর মধ্যে ১১০টি প্রকল্পের মাধ্যমে ৯২ কিলোমিটার বাঁধ সংস্কার করা হচ্ছে।

বিভিন্ন তথ্য সূত্রে জানা যায়, খালিয়াজুরী উপজেলায় ১০৮টি প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২০ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, মদনের ২৫টি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ ধরা হয় ৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকা, মোহনগঞ্জে ২৬টি পিআইসি প্রকল্পের জন্য ৪ কোটি ৪১ লাখ টাকা, কলমাকান্দায় ৭টি প্রকল্পের জন্য ব্যয় ধরা হয় ১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, বারহাট্টায় ৯টি প্রকল্পের জন্য ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা, পূর্বধলায় ২টি প্রকল্পের জন্য ৪৫ লাখ টাকা, আটপাড়ায় একটি প্রকল্পের জন্য ১১ লাখ টাকা। এর মধ্যে এ বছরে বরাদ্দ পাওয়া গেছে ১৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা।

জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার কীর্তনখলা হাওরের একাধিক কৃষক বলেন, তারা ঋণ করে বোরোর আবাদ করছেন। বাঁধের কাজ এ বছর ঠিক সময়ে শুরু হয়নি। এ কারণে সময়মতো কাজ শেষ হওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তারা। আগাম বন্যার পানিতে ফসল নষ্ট হলে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে।

খালিয়াজুরী হাওর রক্ষা পরিষদের সভাপতি স্বাগত সরকার শুভ বলেন, জাতীয় নির্বাচনের কারণে এবার স্থানীয় প্রশাসনের তদারকি অনেকটা কম ছিল। ফলে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজের তেমন অগ্রগতি হয়নি। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হলে পুরো হাওরের বোরো ফসল হুমকিতে থাকবে।

পাউবো নেত্রকোনা জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী সারওয়ার জাহান বলেন, ‘দ্রুতগতিতে কাজ হচ্ছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংস্কারকাজ শেষ করা সম্ভব হবে।’ তিনি আরও জানান, গত বছর জেলায় ৩৭ কোটি ৮১ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০৬টি পিআইসি গঠন করা হয়েছিল। এ বছর বাঁধের ক্ষতি কম হওয়ায় ২৮টি পিআইসি কম করা হয়েছে। ১৫৬ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণে গঠিত ১৭৮টি পিআইসির জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। জাতীয় নির্বাচন ও তীব্র শীতের কারণে কাজ শুরু করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হবে।

বিষয়:

নির্বাচিত

মানবিক নেতৃত্বে প্রশংসিত ইউএনও সম্রাট হোসেন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:০৩
মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি

জনসেবা শুধু দায়িত্ব নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানোও যে একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার কাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সম্রাট হোসেনের কর্মকাণ্ডে তারই প্রতিফলন দেখা গেছে। প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানবিকতা, জনসেবা, উন্নয়ন তদারকি ও আইন প্রয়োগে সক্রিয় ভূমিকা রেখে ইতোমধ্যে স্থানীয় মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি।

গত ২০২৫ সালের ২ ডিসেম্বর মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সমস্যা ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন তিনি। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও প্রত্যন্ত এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে মানুষের খোঁজখবর নেওয়া, উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম তদারকি তার নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে অসহায়, দরিদ্র, প্রতিবন্ধী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে তার উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে আলোচনায় এসেছে। শীতার্তদের শীতবস্ত্র, অসহায় রোগীদের চিকিৎসা সহায়তা, দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের হুইলচেয়ার, অসহায় নারীদের সেলাই মেশিন এবং দরিদ্র কৃষকদের কৃষি উপকরণ দেওয়ার মতো বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যক্তিগত অর্থও মানুষের কল্যাণে ব্যয় করেছেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা যায়।

এ ছাড়া পৌর শহরের সড়ক ও যান চলাচলের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মুরগির দোকানগুলো স্থানান্তরের উদ্যোগও নেয় উপজেলা প্রশাসন। পৌরসভাসংলগ্ন এলাকা ও থানার উত্তর পাশের মুরগির দোকানগুলো নতুন স্থানে স্থানান্তরের ফলে দুর্গন্ধ, বর্জ্য ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ কমার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিবেশও আগের তুলনায় স্বস্তিদায়ক হয়েছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন। সম্প্রতি প্রশাসনের উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে দখলে থাকা খাস জমি উদ্ধারের ঘটনাটিও স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রায় তিন দশক পর সরকারি জমি উদ্ধারের উদ্যোগে প্রশাসনের দৃশ্যমান তৎপরতা সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। সরকারি সম্পত্তি রক্ষা ও জনস্বার্থে তা ব্যবহারের উদ্যোগকে স্থানীয়রা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।


নির্বাচিত

ছয় দিন নিখোঁজের পর মরদেহ উদ্ধার, মারিয়া মাহির মৃত্যু নিয়ে রহস্য

# ৯ আসামির ৮ জনই জামিনে #সুরতহাল, সিসিটিভি ও পোস্টমর্টেমে ভিন্ন প্রশ্ন
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:০৮
মোস্তাক আহমেদ, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ)

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে সাহরাইল উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মারিয়া মাহি (১৪) মৃত্যু রহস্য নিয়ে ধূম্রজাল কাটছে না। ৯ জন গ্রেপ্তারের পর ৮ জন জামিনে মুক্তি পেলেও ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন?

জানা গেছে, মারিয়া মাহি গত ১৫ জুন স্কুল থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়। ছয় দিন পর ২১ জুন চন্দননগর এলাকার একটি কবরস্থানসংলগ্ন ঝোপ থেকে গাছের ডালে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের নিচের অংশ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়ায় ঘটনাটি দ্রুত হত্যাকাণ্ড হিসেবে আলোচনায় আসে। পরদিন তার মা কামরুন্নাহার বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর প্রধান শিক্ষকসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ওই মামলায় এজাহারভুক্ত আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মারিয়ার মৃত্যুর কারণ আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি এখনো প্রকাশ করেনি। সিংগাইর থানার ওসি মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে আত্মহত্যা এসেছে। তবে ‘ময়নাতদন্তে আত্মহত্যা’—এই তথ্যটি এখনো পুলিশ তদন্তের স্বার্থে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে নারাজ। একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ওঠেছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন ঘিরে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, সুরতহাল প্রতিবেদনে মরদেহে দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন বা হত্যার স্পষ্ট কোনো আলামতের উল্লেখ পাওয়া যায়নি। বিপরীতে পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহের নিচের অংশ বিচ্ছিন্ন থাকার বিষয়টিকে হত্যার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, মরদেহটি কয়েক দিন ঝুলন্ত থাকায় টানা বৃষ্টিতে ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়েছে। এই দুই ভিন্ন ব্যাখ্যার মধ্যে কোনটি সঠিক, তার উত্তর মিলতে পারে ফরেনসিক ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণেই।

ছায়া তদন্তকারী সংস্থা পিবিআইয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, আশপাশের বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় এমন তথ্য পাওয়া গেছে যে, মারিয়া ঘটনাস্থলের দিকে একাই গিয়েছিল। সেখানে আর অন্য কারো যাওয়ার তথ্য মেলেনি।

১০ জুন সাহরাইল উচ্চবিদ্যালয়ের একটি কক্ষে মারিয়া ও দশম শ্রেণির ছাত্র আলিফের সাথে ‘ঘনিষ্ঠ অবস্থায়’ দেখার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি কয়েক দিন স্কুলে আলোচনার পর শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ১৫ জুন প্রধান শিক্ষকের কাছে অভিযোগ যায়। স্কুল কর্তৃপক্ষ সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। অভিভাবকদের ডেকে মুচলেকা নেওয়া হয় এবং তাদের টিসি দেওয়া হয়। এরপরই স্কুল থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হয় মারিয়া মাহি। ছয় দিন পর তার মরদেহ উদ্ধার হয়।

আইসিটি শিক্ষক ও সাংবাদিক ইয়াকুবের দাবি, ২১ জুন রাতে তিনি সিংগাইর প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. সোহরাব হোসেন, সাধারণ সম্পাদক রকিবুল হাসান বিশ্বাসসহ কয়েকজন সাংবাদিককে নিয়ে আশুরা উপলক্ষে তার বাড়ির বার্ষিক আয়োজনের বিষয় থানার ওসিকে অবগত করার পর অন্য সাংবাদিকরা বেরিয়ে যান। মোটরসাইকেল বের করতে কিছুটা সময় লাগায় আরেক সহকর্মী সাংবাদিক হাবিবুর রহমানকে নিয়ে ইয়াকুব থানায় ছিলেন। তার অভিযোগ, এ সময় তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. আব্দুল মোমিন তাকে ‘কথা আছে’ বলে বসিয়ে রাখেন। পরে তাকে মামলায় হত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে আসামি করা হয় এবং রিমান্ড চাওয়া হয়।

মামলা হওয়ার আগের রাতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলামকেও থানায় নিয়ে রাতভর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সিরাজুল দাবি করেন, বিদ্যালয়ে তার নেওয়া প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী। গণ্যমান্যদের উপস্থিতিতে অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছিল এবং নিয়ম অনুযায়ী টিসি দেওয়া হয়েছিল। তার অভিযোগ, পরবর্তীতে তাকে থানায় ডেকে এনে হত্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে।

এদিকে নিহতের মরদেহ উদ্ধারের পর থেকে হত্যার বিচারের দাবিতে সাহরাইল উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে মানববন্ধনও হয়। ঘেরাও করা হয় থানা। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে।

ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হওয়া নয়জনের মধ্যে আটজন জামিনে মুক্তি পেয়ে হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

অন্যদিকে মারিয়ার পরিবার শুরু থেকেই হত্যার অভিযোগ করে আসছে। সে অনুযায়ী তার মা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। নিহত স্কুলছাত্রী মারিয়া মাহির বাবা মিজানুর রহমান দেওয়ান বলেন, ‘পুলিশ বলেছে ডাক্তারি রিপোর্ট অনুযায়ী আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। আমি বিশ্বাস করি না। কারণ আমার মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর কয়েকজন আমার পরিবারের কাছে টাকা ও দাবি করেছে।’ শিক্ষকদের মামলায় জড়ানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি প্রকাশ না করতে আমার মেয়ে প্রধান শিক্ষকের পা পর্যন্ত ধরেছিল শুনেছি। প্রধান শিক্ষক ঘটনাটি সামনে না আনলে হয়তো আমার মেয়ের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটত না।’

জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম বলেন, ‘মারিয়া মাহি হত্যা মামলার পোস্টমর্টেম রিপোর্টে আত্মহত্যা করে মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে স্টাডি করছি।’ মামলা তদন্তে শতভাগ ইনসাফ হবে বলেও পুলিশ সুপার জানান।


নির্বাচিত

পাবনায় নিখোঁজের ৭ দিন পর শিশুর খণ্ডবিখণ্ড লাশ উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পাবনা প্রতিনিধি

পাবনা সদর উপজেলায় নিখোঁজের সাত দিন পর কামরুন্নাহার কলি (১০) নামে এক শিশুর বস্তাবন্দি টুকরো করা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার সকালে উপজেলার দোগাছী কুলোনিয়া গ্রামের বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত কলি কুলোনিয়া গ্রামের কামাল প্রামাণিকের মেয়ে। মর্মান্তিক এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে এবং ঘাতকদের বিচারের দাবিতে হাজারো উৎসুক জনতা সেখানে ভিড় জমান।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বাবার সঙ্গে স্থানীয় শ্রীপুর বাজারে যায় কলি। বাজার থেকে ফিরে কেনাকাটার ব্যাগ মায়ের কাছে পৌঁছে দিয়ে বাড়ির বাইরে বের হয় সে। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি। স্বজনরা অনেক খোঁজাখুঁজি করে বাড়ি থেকে মাত্র ২০০ গজ দূরে তার ব্যবহৃত স্যান্ডেল দেখতে পান। পরে সম্ভাব্য সব জায়গায় সন্ধান না পেয়ে পাবনা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন শিশুটির বাবা।

কলির সন্ধানে গত এক সপ্তাহ ধরে স্বজন ও স্থানীয়রা বিভিন্নভাবে আকুতি জানিয়ে আসছিলেন। এমনকি গত মঙ্গলবারও পাবনা জেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে শিশুটির সহপাঠী ও স্বজনরা।

নিহত শিশুর বাবা কামাল প্রামাণিক কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার নিষ্পাপ মেয়েটাকে কারা এভাবে হত্যা করল? আমাদের এত বড় সর্বনাশ যারা করেছে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে ফাঁসির দাবি জানাচ্ছি।’

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম জানান, স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে ডোবা থেকে বস্তাবন্দি খণ্ডবিখণ্ড মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন ও ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশ। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।


নির্বাচিত

নালা বানিয়ে ৩০ কোটি টাকা খরচ দুই বছরেই আবারও নকশা বদল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
‎জয়পুরহাট প্রতিনিধি

৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার নালা নির্মাণ করা হয়েছিল। শুরুতে নালাগুলো ছিল তুলনামূলক উঁচু। পরে সড়ক উঁচু করায় নালার উচ্চতা কিছুটা কমে যায়। তাতেও জয়পুরহাট শহরের কেন্দ্রীয় মসজিদ মার্কেটের সামনে মানুষের চলাচলের সমস্যা কাটেনি। নির্মাণের দুই বছর না যেতেই এখন ওই অংশের প্রায় ৩০ মিটার নালা ভেঙে আরও নিচু করা হয়েছে। একই নালার বিভিন্ন স্থানে সড়কের পানি ঢোকাতে দেয়াল কেটে ছিদ্রও করা হয়েছে। এতে নালাটির পরিকল্পনা ও নকশা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

‎‎জয়পুরহাট শহরের রেলগেট থেকে হাড়াইল পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করার প্রকল্পের অংশ হিসেবে সড়কের দুই পাশে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার নালা নির্মাণ করা হয়। কাজ শেষ হয় ২০২৪ সালের জুনে। নওগাঁর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আমিনুল হক ট্রেডার্স নালা নির্মাণের কাজ করে। এ কাজের বরাদ্দ ছিল ৩০ কোটি টাকা।

‎নালা নির্মাণের সময় বিভিন্ন স্থানে এর উচ্চতা ছিল প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন ফুট। পরে সড়ক প্রশস্ত ও উঁচু করার কাজ হলে নালার তুলনামূলক উচ্চতা কমে যায়। ২০২৫ সালের শুরুর দিকে সড়ক উন্নয়নের কাজ শেষ হলেও পাঁচুর মোড়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ ও মসজিদ মার্কেটের সামনে চলাচলের সমস্যা থেকে যায়।

‎সরেজমিনে দেখা যায়, কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে প্রায় ৩০ মিটার নালা ভেঙে উচ্চতা কমানোর কাজ প্রায় শেষ। নালাটি এখন প্রায় এক ফুট উঁচু রাখা হয়েছে। তবে সড়কের সমতলে নামানো হয়নি। শ্রমিকরা জানান, তারা সড়ক ও জনপথ বিভাগের হয়ে কাজ করছেন।

‎পাঁচুর মোড়ের এ এলাকায় কেন্দ্রীয় মসজিদ, মসজিদ মার্কেটসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, উঁচু নালার কারণে মসজিদ ও মার্কেটে যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছিল। অনেকে নালা পার হওয়ার জন্য দোকানের সামনে কাঠের সিঁড়ি তৈরি করেছিলেন।

‎স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মসজিদের সামনে মানুষের চলাচলের বিষয়টি নালা নির্মাণের সময়ই বিবেচনায় নেওয়া উচিত ছিল। এখন দুই বছর পর নালা ভেঙে আবার উচ্চতা কমাতে হচ্ছে। আগে পরিকল্পনায় বিষয়টি রাখা হলে এই ভাঙাগড়ার প্রয়োজন হতো না।’

‎মসজিদ মার্কেটের ব্যবসায়ী রাসেল আহম্মেদ বলেন, ‘উঁচু নালার কারণে দোকানে আসা-যাওয়া ও মুসল্লিদের চলাচলে সমস্যা হচ্ছিল। এখন উচ্চতা কমানোয় কিছুটা সুবিধা হবে। তবে নালা সড়কের সমতলে নামানো হলে আরও ভালো হতো।’

‎শহরের বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘নালা এক ফুট উঁচু থাকায় আগের চেয়ে চলাচলে সুবিধা হবে। তবে পুরোপুরি সমান করা হলে মসজিদের সামনের জায়গা আরও প্রশস্ত হতো।’

‎সড়কের পানি নালায় যায় না, ‎নালাটি নির্মাণের পর পানি নিষ্কাশন নিয়েও সমস্যা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, অনেক স্থানে সড়কের পানি নালায় নামছে না। এ কারণে নালার দেয়াল কেটে বিভিন্ন জায়গায় ছিদ্র করা হয়েছে।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, নালা নির্মাণের সময় পানি নিষ্কাশন ও ব্যস্ত এলাকাগুলোতে মানুষের চলাচলের বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। এ কারণে নির্মাণের পর নালার বিভিন্ন স্থানে পরিবর্তন আনতে হয়েছে।

‎সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, রেলগেট থেকে হাড়াইল পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নে ২৮ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। সড়ক প্রশস্ত কাজ শেষ হয় ২০২৫ সালের শুরুর দিকে।

‎কেন্দ্রীয় মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে নালার উচ্চতা কমানোর জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগে আবেদন করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই মসজিদ মার্কেটের সামনে অংশটি ভেঙে নিচু করা হয়েছে।

‎জয়পুরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাজস খান বলেন, ‘কেন্দ্রীয় মসজিদ কমিটির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নালার উচ্চতা কমানো হয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগই কাজটি করছে। নকশা মেনেই নালা নির্মাণ করা হয়েছিল।’


নির্বাচিত

একাদশ শ্রেণির ভর্তির প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথম ধাপে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। বুধবার রাত পৌনে ৮টার দিকে একযোগে এ ফল প্রকাশ করা হয়।

শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তাদের ফলাফল দেখতে পারবে। প্রথম ধাপে কোন শিক্ষার্থী কোন কলেজে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছে, তা অনলাইনে প্রকাশিত ফলাফলে জানা যাবে।

এদিকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরুর তারিখ এক দিন পিছিয়ে ২৪ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। বুধবার এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে ২৩ সেপ্টেম্বর দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এক দিনের ছুটি থাকবে। এ কারণে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরুর তারিখ এক দিন পিছিয়ে ২৪ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।

ফলে ভর্তির প্রথম ধাপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি-সংক্রান্ত পরবর্তী কার্যক্রম শেষ করে নির্ধারিত তারিখে একাদশ শ্রেণির ক্লাসে অংশ নিতে হবে।

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির পুরো কার্যক্রম অনলাইনের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। প্রথম ধাপের ফল প্রকাশের মধ্য দিয়ে ভর্তি প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ সম্পন্ন হলো।


নির্বাচিত

ডেঙ্গুর ছোবলে প্রাণ গেল অন্তঃসত্ত্বা কলেজছাত্রীর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:৪১
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

কোলজুড়ে সন্তান আসার অপেক্ষা ছিল। আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরই প্রথম সন্তানের মুখ দেখার কথা ছিল নূর জাহানের। কিন্তু সেই অপেক্ষা আর শেষ হলো না। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের এই শিক্ষার্থী। মৃত্যুকালে তিনি ছিলেন ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। মায়ের মৃত্যুর সঙ্গে অনাগত সন্তানকেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টার দিকে ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (পিজি হাসপাতাল) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নূর জাহান শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

নূর জাহানের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার কোম্পানিগঞ্জ মৌছাগাছা এলাকায়। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দেড় বছর আগে জোবায়ের হোসেনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। আগামী মাসেই তাদের প্রথম সন্তানের জন্ম হওয়ার কথা ছিল। সন্তানকে ঘিরে পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও ছিল আনন্দের প্রস্তুতি।

নূর জাহানের স্বামী জোবায়ের হোসেন জানান, গত শুক্রবার মুরাদনগরের নিজ বাড়িতে অবস্থানকালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন নূর জাহান। শুরুতে চিকিৎসা নেওয়া হলেও পরে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে।

পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। পরে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।

নূর জাহান ছিলেন ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। ফলে তার শারীরিক অবস্থার অবনতির পাশাপাশি গর্ভের শিশুটিকেও নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত মা ও অনাগত সন্তান—দুজনকেই হারাতে হলো পরিবারকে।

নূর জাহানের মৃত্যুতে পরিবার-স্বজনের পাশাপাশি শোক নেমে এসেছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজেও। সহপাঠী ও শিক্ষকদের কাছে তিনি ছিলেন মেধাবী, সৃজনশীল ও আন্তরিক একজন শিক্ষার্থী।

ভিক্টোরিয়া কলেজ সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ও বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মারুফ জানান, নূর জাহান ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ৬১তম আবর্তনের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বিভাগের বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতেন।

তার অকালমৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সহপাঠীদের মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া। যে শিক্ষার্থীকে ঘিরে ছিল ভবিষ্যতের নানা স্বপ্ন, হঠাৎ করেই তার জীবন থেমে যাওয়ায় সহপাঠী ও পরিচিতজনদের মধ্যে তৈরি হয়েছে গভীর বেদনা।

নূর জাহানের মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান ভূঞা।

তিনি বলেন, নূর জাহান অত্যন্ত আন্তরিক ও মেধাবী একজন শিক্ষার্থী ছিলেন। বিভাগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল। তার এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত এবং তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।

নূর জাহানের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে একটি পরিবারের স্বপ্ন যেমন থেমে গেল, তেমনি সন্তান জন্মের অপেক্ষায় থাকা একটি দম্পতির জীবনেও নেমে এলো অপূরণীয় শূন্যতা। মা ও অনাগত সন্তানের একসঙ্গে চলে যাওয়ার এই ঘটনায় শোকাহত পরিবার, স্বজন, সহপাঠী ও শিক্ষকরা।


নির্বাচিত

মুরাদনগরে বোন-ভাতিজা হত্যা মূল আসামিসহ ৩ জন গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লার মুরাদনগরে জায়গাসংক্রান্ত বিরোধের জেরে বোন ও ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মূল আসামি মোস্তাক আহমেদ আবু মিয়াসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গ্রেপ্তার অন্য দুজন হলেন আবু মিয়ার স্ত্রী হনুফা বেগম ও পালিত কন্যা ইতি। বুধবার দুপুরে কুমিল্লা জেলা পুলিশের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান।

পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে জায়গাসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে নিহত খালেদা আক্তার ও তার ভাই মোস্তাক আহমেদ আবু মিয়ার পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর জেরে সোমবার সন্ধ্যায় খালেদা আক্তার ও তার ভাতিজা মনজুরুল আলম তুতুর ওপর হামলা চালান আবু মিয়া। একপর্যায়ে দা দিয়ে কুপিয়ে তাদের হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতদের স্বজন নাসিম হায়দার সুজন বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে মুরাদনগর থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলা দায়েরের পর মঙ্গলবার দুপুরে কুমিল্লা নগরীর বাদশা মিয়া বাজার এলাকা থেকে আবু মিয়ার স্ত্রী হনুফা বেগম ও পালিত কন্যা ইতিকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।

পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলস্টেশন এলাকায় একটি ট্রেন থেকে মামলার মূল আসামি মোস্তাক আহমেদ আবু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আসামিরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে। পরে গ্রেপ্তার তিনজনকে কুমিল্লার আদালতে পাঠানো হয়েছে।


নির্বাচিত

কিশোরগঞ্জে হাতকড়াসহ আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় মামলা, ওসি ক্লোজড

ছবি: ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিন
আপডেটেড ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:১৭
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে পুলিশের হেফাজত থেকে হাতকড়াসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা রেনু মিয়াকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। মামলায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। একই ঘটনায় কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিনকে শোকজ ও প্রশাসনিক কারণে ক্লোজড করা হয়েছে।
রেনু মিয়া উপজেলার ছয়সূতি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং মাধবদী এলাকার মৃত ইল্লাল মিয়ার ছেলে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশের এজাহার সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারের পর রেনু মিয়ার হাতে হাতকড়া পরানো হলে তার পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন। একপর্যায়ে তারা পুলিশকে ঘেরাও করে ধস্তাধস্তির মাধ্যমে তাকে ছিনিয়ে নেন। এ সময় উপপরিদর্শক (এসআই) শরাফিন মিয়া, কনস্টেবল বাবলু মিয়া ও কনস্টেবল সোহেল রানা আহত হন। পরে তারা কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।
ঘটনার পর একাধিক দল নিয়ে অভিযান চালিয়ে সোমবার রাত আনুমানিক ৯টা ৫০ মিনিটে মাধবদী এলাকা থেকেই রেনু মিয়াকে হাতকড়াসহ পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় পুলিশের কাজে বাধা, হামলা ও গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এসআই শরাফিন মিয়া বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ১৮৬, ৩৩২, ২২৪, ২২৫, ৩৫৩ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
রেনু মিয়াকে আটকের পর তার পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনসহ সাত নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে চারজনকে মামলায় আসামি করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি তিনজনের বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ভৈরব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুসা শেখ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “মব সৃষ্টি করে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, ঘটনার পরপরই প্রশাসনিক কারণে কুলিয়ারচর থানার ওসিকে ক্লোজড করা হয়েছে।


নির্বাচিত

প্রভোস্টের পদত্যাগ দাবিতে চবির আলাওল হলে তালা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:০৩
চবি প্রতিনিধি

আবাসিক হলের নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, আসন বণ্টনে অস্বচ্ছতাসহ নানা অভিযোগ নিয়ে প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আলাওল হল সংসদের নেতৃত্বে প্রভোস্টকে নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে প্রভোস্ট রুমে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার দুপুর ১টায় আলাওল হল সংসদ প্রতিনিধিদের নেতৃত্বে সাধারণ শিক্ষার্থীরা হল প্রভোস্টের রুম এবং হল অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেয়।

শিক্ষার্থীরা জানায়, হল সংসদের সাথে সমন্বয়হীনতা, হল সংসদের স্বাভাবিক কাজে বিঘ্ন ঘটানো, শিক্ষার্থীদের সাথে দুর্ব্যবহার, উন্নয়নমূলক কাজে দীর্ঘসূত্রতা, দীর্ঘ দিন ধরে হলের সিট বণ্টনে অস্বচ্ছতা, শিক্ষার্থীদের সাংবাদিক পরিচয়ে হুমকি এবং জরুরি সংস্কার কাজ থমকে থাকার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা এই পদক্ষেপ নেন। হল সংসদের নেতাদের অভিযোগ, একাধিকবার মৌখিক ও লিখিত আবেদন জানানো হলেও হল প্রশাসন সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রভোস্টের দায়িত্বে অবহেলা এবং শিক্ষার্থীদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেন, কার্ড জমা নিয়ে রাখে, সব সময় নিজ মনমতো কাজ করে, হল সংসদকেও সমন্বয় করেন তিনি। এ ছাড়া প্রশাসনিক কাজে ঢিলেঢালাভাবের কারণে হলের সার্বিক পরিবেশ বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা হল কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং একপর্যায়ে প্রভোস্টকে ভেতরে থাকা অবস্থায় প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন।

হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি তাদের কল্যাণেই আমাদের কাজ করতে হয়, হল প্রভোস্টের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের নানা অভিযোগ রয়েছে এগুলো আপনারাও জানেন, শিক্ষার্থীরা উনার পদত্যাগ চায় তাই আমরা তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আজ (মঙ্গলবার) হল প্রভোস্টের রুমে তালা দিয়েছি।’

রাজনীতি বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী শাহিন বলেন, ‘প্রভোস্ট শিক্ষার্থীদের সাথে স্বৈরাচারী আচরণ করে আসছিল, এ জন্য শিক্ষার্থীরা তার বিরুদ্ধে আন্দোলন করতেছে। তার পদত্যাগ চাই আমরা।’


নির্বাচিত

ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুন, মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা

# মৃত্যু নিয়ে হাসপাতাল ও স্বজনদের ভিন্ন দাবি
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ময়মনসিংহ ও ফুলবাড়ীয়া প্রতিনিধি

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগুন লাগার ঘটনায় আতঙ্কে হুড়োহুড়ি করে নামার সময় পদদলিত হয়ে মৃত্যুর অভিযোগ করেছেন নিহতদের স্বজনরা। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও বিভাগীয় কমিশনারের দাবি, আগুনের ঘটনায় কেউ পদদলিত হয়ে মারা যাননি; দুজনের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।

এ ঘটনায় ফুলবাড়ীয়া উপজেলার পল্লিচিকিৎসক শাহজাহান মোল্লা ও সিএনজিচালক রমজান আলী মারা গেছেন। তাদের পরিবারের দাবি, আগুনের ঘটনায় সৃষ্ট আতঙ্ক ও হুড়োহুড়ির কারণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।

শাহজাহান মোল্লার বাড়ি ফুলবাড়ীয়া উপজেলার রাঙামাটিয়া ইউনিয়নের বিষ্ণুরামপুর গ্রামে। গত সোমবার তার মরদেহ সেখানে নেওয়া হলে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। পরিবারের সদস্যরা জানান, আগুন লাগার পর শাহজাহানকে কাঁধে করে সিঁড়ি দিয়ে নামানোর সময় পেছন থেকে ধাক্কা দিলে তারা পড়ে যান। পরে মানুষের চাপের মধ্যে পদদলিত হন শাহজাহান।

শাহজাহানের স্ত্রী হারিছা বেগম বলেন, সন্ধ্যায় আগুন লাগার পর তিনি ও তার বড় বোন জাহানারা কাঁধে করে শাহজাহানকে সিঁড়ি দিয়ে নামাচ্ছিলেন। এ সময় পেছন থেকে ধাক্কা দিলে তারা সিঁড়িতে পড়ে যান। এরপর মানুষ তাদের ওপর দিয়ে চলে যায়। তিনি নিজেও আঘাত পেয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। পরে জানতে পারেন, শাহজাহান মারা গেছেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের সমালোচনা করে হারিছা বেগম বলেন, কর্তৃপক্ষ মিথ্যা বলছে। তারা ঘটনাটি দেখেনি, তিনি সেখানে ছিলেন।

অন্যদিকে রমজান আলী বেশ কিছুদিন ধরে বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তার স্ত্রী খাদিজা আক্তার বলেন, আগুন লাগার পর আতঙ্কে রমজান সিঁড়ি দিয়ে নামার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়ে যান। কয়েকজন তাকে ওপরে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন।

রমজান আলীর স্ত্রী খাদিজা আক্তার জানিয়েছেন, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে অনেকটা সুস্থ হয়ে উঠে। হাসপাতালে আগুন লাগার খবরে আতঙ্কে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় সিঁড়িতেই আমার বুকে মৃত্যু হয় তার।

খাদিজা আক্তারের দাবি, আগুনের ঘটনা না ঘটলে এবং আতঙ্ক সৃষ্টি না হলে তার স্বামী হয়তো বেঁচে যেতেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে এখন তারা সর্বস্বান্ত।

তার মা বিবি হওয়া জানিয়েছেন, সোমবার বিকালে সর্বশেষ তার সাথে কথা হয়েছে ছেলের। দোয়া চেয়েছে, চিন্তা করতে না করেছে। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবে। সেই ছেলে রাতে লাশ হয়ে বাড়ি ফিরছে।

এদিকে আগুনের ঘটনায় আতঙ্কে হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে নিহত ফুলবাড়ীয়ার শাহজাহান ও রমজান আলী এবং তারাকান্দার কুলসুম বেগমের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও বিভাগীয় কমিশনারের বক্তব্য অনুযায়ী, আগুনের ঘটনায় কেউ পদদলিত হয়ে মারা যাননি। যে দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, তারা স্বাভাবিকভাবে মারা গেছেন।

এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তবে লিফট ব্যবস্থাপনায় অবহেলার অভিযোগ ওঠা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ দুজনকে তদন্ত কমিটিতে রাখায় কমিটির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, কমিটির প্রধান করা হয়েছে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক গোলাম রহমান ভূঁইয়াকে। তিনি নিজেই সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া গণপূর্ত অধিদপ্তরের দুজন এবং ফায়ার সার্ভিসের একজন প্রতিনিধি আছেন।

ডা. মাইন উদ্দিন খান আরও বলেন, এতে তদন্তে কোনো প্রভাব পড়বে না।

মাইনউদ্দিন খান বলেন, লিফটে আগুন লাগার ক্ষেত্রে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তদন্ত কমিটি তা খতিয়ে দেখবে। ঘটনায় কারও গাফিলতি থাকলে তা চিহ্নিত করা হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সুপারিশ করা হবে। তদন্তে অন্য কোনো বিষয় উঠে এলে সেগুলোও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অর্ণব বিশ্বাস বলেন, অতিরিক্ত চাপের কারণে লিফটে দুর্ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে আগুনের ঘটনার পর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। আতঙ্কে হাসপাতাল ছেড়ে যাওয়া রোগী ও স্বজনরা সকাল থেকে আবার ওয়ার্ডে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে আগুনের ভয়াবহতা দেখা রোগী ও স্বজনদের মধ্যে এখনো আতঙ্ক কাটেনি। হুড়োহুড়িতে পদদলিত হয়ে আহত অনেকেই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতাল পরিদর্শন করেন ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদার। তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি আগুনের ঘটনার প্রকৃত কারণ বের করবে।

তবে নাগরিক নেতারা অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন।


নির্বাচিত

কিশোরগঞ্জে হাতকড়াসহ আসামি ছিনতাই, ওসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

ছবি: দৈনিকবাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে পুলিশের হেফাজত থেকে হাতকড়াসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা রেনু মিয়াকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। মামলায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় কুলিয়ারচর থানার ওসি কাজী আরিফ উদ্দিনকে ক্লোজড করা হয়েছে।


রেনু মিয়া উপজেলার ছয়সূতি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং মাধবদী এলাকার মৃত ইল্লাল মিয়ার ছেলে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় গত সোমবার দুপুরে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।


পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর রেনু মিয়ার হাতে হাতকড়া পরানো হলে তার পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন। একপর্যায়ে তারা পুলিশকে ঘেরাও করে ধস্তাধস্তির মাধ্যমে তাকে ছিনিয়ে নেন। এ সময় উপপরিদর্শক (এসআই) শরাফিন মিয়া, কনস্টেবল বাবলু মিয়া ও কনস্টেবল সোহেল রানা আহত হন। পরে তারা কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।


ঘটনার পর একাধিক দল নিয়ে অভিযান চালিয়ে গত সোমবার রাত ১০টার দিকে মাধবদী এলাকা থেকেই রেনু মিয়াকে হাতকড়াসহ পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়।এ ঘটনায় পুলিশের কাজে বাধা, হামলা ও গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এসআই শরাফিন মিয়া বাদী হয়ে মামলা করেন। রেনু মিয়াকে আটকের পর তার পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনসহ সাত নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে চারজনকে মামলায় আসামি করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি তিনজনের বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।


ভৈরব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুসা শেখ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘মব সৃষ্টি করে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার পরপরই প্রশাসনিক কারণে কুলিয়ারচর থানার ওসিকে ক্লোজড করা হয়েছে।’


নির্বাচিত

কুমিল্লায় দুই হত্যার রহস্য উদঘাটন, সিরিয়াল কিলার মানিক গ্রেপ্তার

ছবি: দৈনিকবাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট ও মনোহরগঞ্জে পৃথক দুটি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের পাশাপাশি ‘সিরিয়াল কিলার’ হিসেবে পরিচিত আব্দুল ওয়াদুদ ওরফে মানিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।


গ্রেপ্তার মানিকের বয়স ২৫ বছর। তিনি মনোহরগঞ্জ উপজেলার নাথেরপেটুয়া ইউনিয়নের গনিপুর গ্রামের আমিনুল ইসলাম ওরফে দুলালের ছেলে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান।


পুলিশ জানায়, গত ১২ আগস্ট নাঙ্গলকোট থানার আটিয়াবাড়ি এলাকায় একটি অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করে জানা যায়, নিহত ব্যক্তি ১৮ বছর বয়সি মো. মেহেদী। তিনি অটোরিকশাচালক ছিলেন।


এ ঘটনায় নাঙ্গলকোট থানা-পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা তদন্তে নামে। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আব্দুল ওয়াদুদ ওরফে মানিক, শাহেদ, ফাহিম ও সেলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তারা মেহেদীকে হত্যা ও তার অটোরিকশা ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করেন। এ ঘটনায় মানিক আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।


এরপর গত ২৪ আগস্ট নাঙ্গলকোটে অটোরিকশাচালক মো. আরমান হোসেন (১৫) নিখোঁজ হন। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পরে একটি অটোরিকশা কাটা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মো. জোবায়ের হোসেন সুজন, নূর আলম ও মো. গিয়াস উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।


পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা আরমানকে অপহরণ করে হত্যার তথ্য দেন। পরে মানিককে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনিও আরমানকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মনোহরগঞ্জ উপজেলার বিনয়ঘর এলাকার একটি পুকুর থেকে আরমানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।


পুলিশ জানায়, দুটি হত্যাকাণ্ডের পেছনেই অটোরিকশা ছিনতাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। পুলিশ আরও জানায়, ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশে শাহজাহান ওরফে সাইমন (১৭) নামে এক কিশোরকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন মানিক। ওই হত্যা মামলাটিও বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।


নির্বাচিত

খুলনায় ডেঙ্গু বাড়ছেই নতুন ওষুধেও মরেনি ১৫% লার্ভা

# ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৩, আক্রান্ত ২৯০ # মশক নিধন ওষুধ ফেরত পাঠিয়েছে কেসিসি
ছবি: দৈনিকবাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সৈকত মো. সোহাগ, খুলনা

বর্ষা মৌসুমের আগে থেকে অতিবৃষ্টির কারণে খুলনায় ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিদিন গড়ে ২০০ রোগী জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। আর সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাস খুলনায় ডেঙ্গুর জন্য অধিকতর ঝুঁকিপূর্ণ। মহানগরীর ১০টি ওয়ার্ড, রূপসা ও পাইকগাছা উপজেলাকে লাল তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

জনস্বাস্থ্যবিদরা মন্তব্য করেছেন গত আড়াই দশকে বিজ্ঞানসম্মতভাবে মশা নিয়ন্ত্রণ না করায় ডেঙ্গুর প্রকোপ প্রতি বছর বাড়ছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৬২ ভাগ পুরুষ এবং ৩৮ ভাগ নারী। মৃত্যুর তালিকায় দেশের মধ্যে খুলনা বিভাগ শীর্ষে রয়েছে।

এদিকে সরকারি হিসাব মতে খুলনায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ১০ হাজারের কাছাকাছি চলে গেছে। তবে প্রকৃতপক্ষে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা আরও বেশি। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন করে ২৯০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এদিকে মশক নিধনে নতুন ক্রয়কৃত ওষুধে ১৫ শতাংশ মশার লার্ভাও না মরায় ওই ওষুধ ফেরত পাঠিয়েছে খুলনা সিটি করপোরেশন। পাশাপাশি নতুন ওষুধ কেনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন করে ২৯০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যার মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ২১৭ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ৭৩ জন চিকিৎসা নিতে ভর্তি হন।

এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন করে ৩ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে এবং ফলে চলতি বছরে খুলনায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ জনে।

তিনি জানান, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত খুলনা বিভাগে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৯ হাজার ৩৯৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৮ হাজার ৮১ জন এবং বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১ হাজার ৬০ জন রোগী। এ ছাড়া উন্নত চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন জেলা থেকে মোট ২২৫ জনকে অন্যত্র রেফার্ড করা হয়েছে।

এদিকে খুলনা সিটি করপোরেশনে (কেসিসি) মশক নিধনের জন্য আনা ওষুধ পরীক্ষামূলক প্রয়োগে ১৫ শতাংশ মশার লার্ভাও মরেনি। কাজেই সেই ওষুধ ফেরত পাঠানো হয়েছে।

কেসিসি থেকে জানা গেছে, খুলনা মহানগরীতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিপদজনক পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ায় মশক নিধন কর্মসূচি জোরদার করে কেসিসি। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে মশার লার্ভা নিধনের জন্য নতুন করে ১৫৫ জন শ্রমিক নিয়োগ করা হয়েছে। নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে ৫ জনকে করে শ্রমিক প্রতিদিন ড্রেন, বদ্ধ জলাশয়সহ প্রয়োজনীয় স্থানে মশার লার্ভা নিধনে কাজ করছে।

এ ছাড়া কেসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের শ্রমিকরা ৩১টি ওয়ার্ডে একযোগে ফগার মেশিন দিয়ে উড়ন্ত মশা নিধন এবং ওয়াসার ম্যানহোলে লাইট ডিজেল অয়েল বা কালো তেল ছেটাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি শনিবার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন অভিযানের উদ্বোধন করা হয়েছে।

সূত্রটি জানায়, আগামী সপ্তাহে এই কার্যক্রম আরও জোরদারের পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। এ অবস্থায় মশক নিধনের জন্য তিন হাজার লিটার অ্যাডাল্টি সাইট এবং দুই হাজার লিটার লার্ভি সাইট ওষুধ কেনা হয়।

কেসিসির ওই সূত্রটি আরও জানায়, গত শনিবার কীটতত্ত্ববিদ, সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সামনে মশার ওষুধের মান পরীক্ষা করেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। ওইদিন একটি পাত্রে মশার লার্ভার ওপর ওষুধ প্রয়োগ করে বদ্ধ ঘরে ৪৮ ঘণ্টা রাখা হয়।

একই সঙ্গে নতুন কেনা ওষুধ পরীক্ষার জন্য দেশের খ্যাতনামা তিনটি পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। গত সোমবার দুপুরে সেই পাত্র পরীক্ষা করে দেখা যায়, ১৫ শতাংশ লার্ভা মারা যায়নি।

ফলে মান যাচাইয়ের প্রাথমিক পরীক্ষায় ফেল করেছে খুলনা সিটি করপোরেশনে (কেসিসি) মশক নিধনের জন্য আনা ওষুধ। পরীক্ষামূলক প্রয়োগে নতুন ওষুধে ১৫ শতাংশ মশার লার্ভাও মরেনি।

ফলে তাৎক্ষণিতভাবে ওই ওষুধ ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। পাশাপাশি কীটতত্ত্ববিদদের সহযোগিতা নিয়ে দ্রুত নতুন ওষুধ কেনার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

জানতে চাইলে কেসিসি প্রশাসক বলেন, ‘২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বেশিরভাগ লার্ভা মারা যাওয়ার কথা। কিন্তু ৪৮ ঘণ্টা পর ১৫ শতাংশ লার্ভা মরেনি। ওই ওষুধের চালান ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

একই সঙ্গে কীটতত্ত্ববিদদেরও সহযোগিতায় জরুরিভিত্তিতে কীভাবে আরও ভালো ওষুধ কেনা যায় এ জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রশাসক মঞ্জু।


নির্বাচিত

banner close