নেত্রকোনায় হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধ সংস্কারে ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে। এদিকে সময়মতো কাজ শেষ না হলে আগাম বন্যায় কৃষকের বোরো ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নেত্রকোনার সাত উপজেলার ১৩৪টি হাওরে এবারও হুমকির মুখে রয়েছে বোরো ফসল। চলতি বছরের ২৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ফসলরক্ষা বাঁধ সংস্কারের কাজ শেষ করার কথা থাকলেও কোনো কোনো স্থানে এখনো শুরুই হয়নি কার্যক্রম।
নিয়মানুযায়ী বাঁধ সংস্কারের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) কাজে সরাসরি জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে যুক্ত করা হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নসহ তদারকিতে জেলা প্রশাসককে সভাপতি ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নেত্রকোনার নির্বাহী প্রকৌশলীকে সদস্যসচিব করে জেলা কমিটি করা হয়। এ ছাড়া উপজেলা পর্যায়ে নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) সভাপতি ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) একজন কর্মকর্তাকে সদস্যসচিব করে উপজেলা কমিটি গঠন করা হয়। মূলত উপজেলা কমিটি প্রকল্প নির্ধারণ ও পিআইসি গঠন করে জেলা কমিটিতে পাঠায়। পরে জেলা কমিটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। প্রতিটি প্রকল্পের জন্য প্রকৃত কৃষক ও স্থানীয় সুবিধাভোগীদের নিয়ে পাঁচ থেকে সাত সদস্যের একটি পিআইসি থাকে। একটি পিআইসি সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকার কাজ করতে পারে।
পাউবো সূত্র জানায়, হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের নির্মাণকাজ ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে শুরু এবং ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার কথা। এর আগে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে পিআইসি গঠন এবং ৩০ অক্টোবরের মধ্যে প্রকল্প নির্ধারণের কাজ চূড়ান্ত হওয়ার কথা। কিন্তু পানি ধীরগতিতে নামায় প্রকল্প নির্ধারণের কাজ চূড়ান্ত করতে দেরি হয়। পিআইসি গঠিত হলেও পানির কারণে সব বাঁধের কাজ এখনো শুরু করা সম্ভব হয়নি।
পাউবো নেত্রকোনা জেলা অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় পাউবোর অধীন প্রায় ৩৬৫ কিলোমিটার ডুবন্ত (অস্থায়ী) বাঁধ রয়েছে। এসব বাঁধের ওপর স্থানীয় কৃষকদের প্রায় ৪২ হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল নির্ভর করে। এ ফসলের ওপর নির্ভর করে কৃষকদের সারা বছরের সংসার খরচ চলে।
নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুরী, মোহনগঞ্জ, মদন, কলমাকান্দা, দুর্গাপুর, বারহাট্টা, আটপাড়া উপজেলায় রয়েছে ছোট বড় ১৩৪টি হাওর। এ ছাড়া অন্যান্য এলাকার তুলনায় পূর্বধলা উপজেলায় পরিমাণে কম জলাশয় রয়েছে। এর মধ্যে খালিয়াজুরীতে ৮৯টি হাওর রয়েছে। আর এখানে রয়েছে ১৮০ কিলোমিটার ডুবন্ত অস্থায়ী বাঁধ। এর মধ্যে ১১০টি প্রকল্পের মাধ্যমে ৯২ কিলোমিটার বাঁধ সংস্কার করা হচ্ছে।
বিভিন্ন তথ্য সূত্রে জানা যায়, খালিয়াজুরী উপজেলায় ১০৮টি প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২০ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, মদনের ২৫টি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ ধরা হয় ৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকা, মোহনগঞ্জে ২৬টি পিআইসি প্রকল্পের জন্য ৪ কোটি ৪১ লাখ টাকা, কলমাকান্দায় ৭টি প্রকল্পের জন্য ব্যয় ধরা হয় ১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, বারহাট্টায় ৯টি প্রকল্পের জন্য ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা, পূর্বধলায় ২টি প্রকল্পের জন্য ৪৫ লাখ টাকা, আটপাড়ায় একটি প্রকল্পের জন্য ১১ লাখ টাকা। এর মধ্যে এ বছরে বরাদ্দ পাওয়া গেছে ১৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা।
জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার কীর্তনখলা হাওরের একাধিক কৃষক বলেন, তারা ঋণ করে বোরোর আবাদ করছেন। বাঁধের কাজ এ বছর ঠিক সময়ে শুরু হয়নি। এ কারণে সময়মতো কাজ শেষ হওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তারা। আগাম বন্যার পানিতে ফসল নষ্ট হলে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে।
খালিয়াজুরী হাওর রক্ষা পরিষদের সভাপতি স্বাগত সরকার শুভ বলেন, জাতীয় নির্বাচনের কারণে এবার স্থানীয় প্রশাসনের তদারকি অনেকটা কম ছিল। ফলে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজের তেমন অগ্রগতি হয়নি। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হলে পুরো হাওরের বোরো ফসল হুমকিতে থাকবে।
পাউবো নেত্রকোনা জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী সারওয়ার জাহান বলেন, ‘দ্রুতগতিতে কাজ হচ্ছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংস্কারকাজ শেষ করা সম্ভব হবে।’ তিনি আরও জানান, গত বছর জেলায় ৩৭ কোটি ৮১ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০৬টি পিআইসি গঠন করা হয়েছিল। এ বছর বাঁধের ক্ষতি কম হওয়ায় ২৮টি পিআইসি কম করা হয়েছে। ১৫৬ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণে গঠিত ১৭৮টি পিআইসির জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। জাতীয় নির্বাচন ও তীব্র শীতের কারণে কাজ শুরু করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হবে।
যে বয়সে শিশুর কান্না থামে মায়ের আদরে, আর হাসি ফুটে ওঠে বাবার কোলজুড়ে—সে বয়সে খেলাধুলার আনন্দ নয়, ছোট্ট আমির হামজার কপালে জুটল নিথর স্তব্ধতা। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের লালপুর গুচ্ছগ্রামে ১১ মাসের অবোধ শিশু আমির হামজার এই করুণ পরিণতি কেবল একটি পরিবারকেই ধ্বংস করে দেয়নি, কাঁদিয়েছে পুরো এলাকাকে।
সোমবার সকালে প্রতিদিনের মতোই আদরের সন্তানকে ঘুমন্ত অবস্থায় বাবার পাশে রেখে গিয়েছিলেন মা সাবিকুন নাহার। ভেবেছিলেন, একটু পর সন্তান জেগে উঠে তার কাছেই কোল বাড়াবে। কিন্তু মা যখন ফিরলেন, দেখতে পেলেন বিছানা খালি। কোলে নেওয়ার মতো সেই অবোধ শিশুটি আর নেই। শুরু হয় চারদিকে মাতম আর আকুল খোঁজ।
কয়েক ঘণ্টার উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার পর যখন শিশুটির সন্ধান মিলল, ততক্ষণে সব শেষ। বাড়ি থেকে প্রায় ১১০ ফুট দূরে ঢাকনাবিহীন এক সেপটিক ট্যাংকির জমাট অন্ধকারে ভেসে উঠল ১১ মাসের ফুটফুটে শিশুটির নিথর দেহ।
‘আমার সোনা তো হাঁটতেও শেখেনি সঠিকভাবে, সে কীভাবে এতদূরে যাবে? কে আমার কোল খালি করল?’— বুকচাপা কান্নায় এ প্রশ্নই বারবার করছিলেন শোকস্তব্ধ মা সাবিকুন নাহার।
মাত্র ১১ মাসের একটি অবোধ শিশু একা একা এতটা পথ পাড়ি দিয়ে সেপটিক ট্যাংকিতে পড়তে পারে না—এ সত্য বুঝে নিতে কোনো বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের আকুল দাবি, এটি স্রেফ কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং কোনো হিংস্রতার নির্মম বলি হয়েছে এই শিশুটি। শিশুর বাবা সাব্বির হোসেন জানান, অতীতে তাদের পরিবারে আগুন দেওয়া এবং হুমকির মতো নানা ঘটনা ঘটেছে। সেপটিক ট্যাংকির খোলা ঢাকনা কি তবে শুধু অসাবধানতা, নাকি কোনো অপরাধ ঢাকবার নির্মম সুযোগ?
ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে এবং প্রাথমিক তদন্তের জন্য চারজনকে হেফাজতে নিয়েছে।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিচার হয়তো আইনের নিয়মে হবে, আসামিরাও হয়তো সাজা পাবে, কিন্তু লালপুর গুচ্ছগ্রামের সেই কুঁড়েঘরে যে ফুটফুটে হাসিটি চিরতরে মুছে গেল—তা কি আর কখনো ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব? অবোধ শিশু আমির হামজার এই মর্মান্তিক মৃত্যু আমাদের সমাজের নিরাপদে বেঁচে থাকার আকুতির ওপর এক বিষণ্ণ প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়ে গেল।
রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও নিরাপদ বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে মাছ আহরণের ওপর চলমান নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও ১০ দিন বৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১০ আগস্ট মধ্যরাত পর্যন্ত হ্রদে সব ধরনের মাছ আহরণ ও বাজারজাতকরণ বন্ধ থাকবে। ১১ আগস্ট থেকে কাপ্তাই হ্রদে পুনরায় মাছ আহরণ শুরু হবে। সোমবার সকালে রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে কাপ্তাই হ্রদ থেকে মৎস্য আহরণ ও বাজারজাতকরণ সংক্রান্ত বিএফডিসির কাপ্তাই হ্রদ মৎস্য উন্নয়ন কেন্দ্রের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএফডিসির কাপ্তাই হ্রদ মৎস্য উন্নয়ন কেন্দ্রের কমান্ডার মো. ফয়েজ আল করিম, জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা এবং মৎস্য ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।
সভায় জানানো হয়, মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিত করতে গত ২৪ এপ্রিল দিবাগত মধ্যরাত থেকে কাপ্তাই হ্রদে সব ধরনের মাছ আহরণের ওপর তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়, যা ৩১ জুলাই পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হ্রদের পানি আশানুরূপ বৃদ্ধি না পাওয়া এবং মাছের প্রজনন কার্যক্রম সন্তোষজনক পর্যায়ে না পৌঁছানোয় নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও ১০ দিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মৎস্য ব্যবসায়ীদের নেতারা বলেন, কাপ্তাই হ্রদের পানির বর্তমান পরিস্থিতি এবং মাছের বংশবৃদ্ধির স্বার্থ বিবেচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে হ্রদের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে সরকার, জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সবাই উপকৃত হবেন।
লাইসেন্স নবায়নসহ স্বাস্থ্য সেবায় নানা অনিয়মের কারণে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানে মাগুরায় ৩টি ক্লিনিকে অভিযান চালিয়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার দুপুরে মাগুরা শহরের হাসপাতাল পাড়া ও পিটিআই পাড়ায় অবস্থিত ইবনে সিনা ক্লিনিক, পলি ক্লিনিক এবং সাইন্স ল্যাব ক্লিনিকে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
সিভিল সার্জন ডা. শামীম কবির এবং এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
মাগুরা সিভিল সার্জন শামীম কবির সাংবাদিকদের বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সারাদেশে অবৈধ ক্লিনিকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় মাগুরায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। জনস্বার্থে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করতে এবং অনিয়ম রোধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনার কথা জানিয়েছে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ।
বাগেরহাটের চাঞ্চল্যকর সাবেক ছাত্রদল নেতা ও এপিপি অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন শান্ত হত্যাকাণ্ডের ৫০ ঘন্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি সহ চারজনকে আটক করেছে বাগেরহাট জেলা পুলিশ। সোমবার বিকাল তিনটায় বাগেরহাট জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার।
বাগেরহাট জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে এদের সনাক্ত করে আটক করতে সক্ষম হয়। আটককৃতদের একজন হত্যাকাণ্ডের আগের থেকেই নিহত শান্তর সঙ্গে মোটরসাইকেলে ছিলো। আটককৃতদের বাড়ী বাগেরহাট সদরের মির্জাপুর এলাকায়।
উল্লেখ্য, গত শনিবার গভীর রাতে অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন শান্ত চেম্বার থেকে বাড়িতে ফেরার পথে বাগেরহাট শহরের হাড়িখালী তেঁতুলতলা এলাকায় একদল দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেলের গতি রোধ করে ছুরি দিয়ে উপর্যুপুরি কুপিয়ে ফেলে রাখে, পরবর্তীতে পুলিশ এসে উদ্ধার করে বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে গত রোববার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যরা।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ‘জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে নাটোরে পথচারীদের মাঝে দুই হাজার গাছের চারা উপহার দেওয়া হয়েছে এবং জলবায়ু সচেতনতামূলক কর্মসূচি হয়েছে। সোমবার সকালে নাটোরের কানাইখালি এলাকায় এসআরআই ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এই কর্মসূচি হয়। অনুষ্ঠানে সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং এসআরআই ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা জিল্লুর রহমান খান চৌধুরী বাবুল।
এসআরআই ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং কমনওয়েলথ স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের ভিপি শেখ রিফাদ মাহমুদের পরিচালনায় এতে প্রধান অতিথি ছিলেন, নাটোর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান আসাদ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুল হক ডিউক।
সভাপতির বক্তব্যে জিল্লুর রহমান খান চৌধুরী বাবুল বলেন, ‘তীব্র দাবদাহ থেকে রক্ষা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। আসুন, আমরা প্রত্যেকে অন্তত একটি করে গাছ লাগাই এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর, সবুজ ও নিরাপদ নাটোর গড়ে তুলি। পরিবেশ রক্ষায় তরুণের পাশাপাশি সকল স্তরের নাগরিকদের সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।’
ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শেখ রিফাদ মাহমুদ জানান, এসআরআই ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দশ হাজার বৃক্ষরোপণ ও বিতরণ কর্মসূচি চলমান রয়েছে।
বিনামূল্যে মানসম্পন্ন চারা পেয়ে পথচারী, রিকশাচালক ও পথচারী সাধারণ মানুষ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং চারাগুলোর সঠিক পরিচর্যা করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে এসআরআই ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
চলতি বর্ষা মৌসুমে টানা বৃষ্টিপাতের প্রভাবে নষ্ট হয়ে গেছে অধিকাংশ সবজি ক্ষেত। বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে সব ধরনের সবজির দাম এখন আকাশ ছোঁয়া। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেগুনের দাম বেড়েছে দ্বিগুণ। তিনগুণ ঝাঁঝ বেড়েছে কাঁচা মরিচের। তাছাড়াও প্রতিটি সবজির দাম কেজি প্রতি ২০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে। স্বস্তি নেই মাছ ও মুরগির মাংসের দোকানেও। এতে চরম বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ।
জীবননগর উপজেলার উথলী বাসস্ট্যান্ডে সাপ্তাহিক কাঁচা বাজারে গিয়ে একই চিত্র চোখে পড়ে। সবজির দাম বেড়ে যাওয়াতে কমে গেছে ক্রেতাদের সংখ্যা। বাজার ঘুরে দেখা যায় বেগুন ৬০-৭০ টাকা কেজি থেকে বেড়ে হয়েছে ১২০ টাকা। কাঁচামরিচের দাম তিনগুণ বেড়ে ৩০০-৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে পটল ও ধেড়সের দাম ২০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৬০ টাকা, ৪০ টাকার শশার দাম বেড়ে হয়েছে ৮০ টাকা, কলা ও মিষ্টিকুমড়ার দাম কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকা, পেপে ১০ টাকা কেজি থেকে বেড়ে হয়েছে ২৫ টাকা, রসুনের দাম কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকা, কচু বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি, ছোট সাইজের লাউ ৫০-৬০ টাকা পিচ বিক্রি হচ্ছে, তাছাড়াও শাকের আঁটিতে ১০ টাকা করে দাম বেড়েছে।
তবে আলু, পেঁয়াজ, আমড়া, করোলা, ওলসহ কিছু সবজির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
মাছের বাজারে তেলাপিয়া মাছ ১৭০-১৮০ টাকা থেকে বেড়ে ২২০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। পাঙ্গাশ, রুই, কাতলা, মৃগেল, পোনা মাছ কেজিতে ৩০-৪০ টাকা বেড়েছে। দেশি প্রজাতির মাছগুলো ৮০০-১০০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
মুরগির মাংসের দোকানে গিয়ে দেখা যায় বয়লার মুরগীর দাম ১৬০-১৭০ টাকা কেজি থেকে বেড়ে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লেয়ার মুরগি ৪০০ ও সোনালী মুরগি ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতারা জানান, টানা বৃষ্টিপাতের প্রভাবে হঠাৎ করে বাজারে সবজির সরবরাহ অনেক কমে গেছে। যার কারনে দাম কিছুটা বেড়ে গেছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে বাজারও স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
ক্রেতারা অস্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, এক সপ্তাহের ব্যবধানে সব ধরনের সবজির দাম লাগামহীনভাবে বেড়ে গেছে। কিন্তু সেই তুলনায় আমাদের আয় রোজগার বাড়েনি। সবজির বাজারে আসলে পকেটের টাকা ফুরিয়ে গেলেও বাজারের ব্যাগ ভর্তি হচ্ছে না। বাজারে এসে সব টাকা সবজি কিনতে চলে গলে মুদি মালামাল কিনব কিভাবে?
অধিকাংশ ক্রেতারা সবজির দাম বৃদ্ধিতে বাজার সিন্ডিকেটকে দায়ী করে প্রশাসনকে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করার দাবি জানান।
২৩০০ একরের সবুজ ক্যাম্পাস চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। পাহাড়ঘেরা এই ক্যাম্পাস দিন দিন যেন সমতলে রূপান্তর হচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়াই নতুন ভবন নির্মাণের জন্য পাহাড় কাটছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন দপ্তরের পাশেই কাটা হচ্ছে পাহাড়। দোতলা ভবন নির্মাণের জন্য শ্রমিকরা সেখানে কাজ করছেন। পাশেই পড়ে আছে উপড়ে ফেলা গাছের শিকড় এবং নির্মাণযন্ত্র।
জানা যায়, চলতি বছরের ১ এপ্রিল দপ্তরের নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স’ ভবনটি নির্মাণ করছে। প্রথম ধাপে প্রায় ১১ হাজার বর্গফুট এলাকাজুড়ে ভবনের একটি অংশ নির্মাণ করা হবে। এ ধাপের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা। আগামী বছরের মার্চের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে প্রায় ২২ হাজার বর্গফুট এলাকায় তিনতলা ভবন নির্মাণ করা হবে।
বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন (১৯৯৫) অনুযায়ী, পাহাড়ি জায়গা বা টিলার আয়তন যাই হোক না কেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের পূর্বানুমতি ছাড়া পাহাড় বা টিলা কাটা বা মোচন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ব্যক্তিগত, সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত—যেকোনো মালিকানাধীন পাহাড়ই এই আইনের আওতাভুক্ত। এ ছাড়া পাহাড় না কেটে কেবল পাহাড়ি জমিতে ভবন নির্মাণ করতে চাইলেও ৫,০০০ বর্গমিটারের বেশি আয়তনের প্রকল্পের ক্ষেত্রে ‘পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ’ (EIA) করে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল আহাদ বলেন, ‘পরিবেশ অধিদপ্তরকে আমরা চিঠি দিয়ে অবগত করেছি, তারপর কাজ শুরু করেছি। ৫ হাজার বর্গমিটারের কম হওয়াতে আমরা অনুমতির প্রয়োজন মনে করছি না।’
তবে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক জমির উদ্দিন জানান, পাহাড় কাটতে হলে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। অনুমতি ছাড়া পাহাড় কাটা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবেশ ও প্রকৃতি নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘গ্রিন ভয়েস’-এর সভাপতি অনিক সরকার বলেন, ‘পাহাড় কেটে প্রশাসন খুবই বাজে কাজ করেছে। প্রশাসন যথাযথ জবাবদিহি না করলে আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ করব।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ আল-ফোরকানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এখানে পাহাড় কাটা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় পুরোটাই পাহাড়ঘেরা, ভবন নির্মাণ করতে হলে কিছুটা তো ছাঁটতেই হয়। তবে আমরা পরিবেশ রক্ষায় সচেতন আছি এবং সুরক্ষার জন্য পাশে একটি দেয়াল নির্মাণ করব।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা পরিবেশ অধিদপ্তরকে চিঠি দিয়েছি। আর ৫ হাজার বর্গমিটারের কম জায়গায় ভবন করলে আলাদা অনুমতির প্রয়োজন নেই।’
প্রশাসনের এই কর্মকাণ্ডে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থী আদিল বলেন, ‘পাহাড় কেটে ভবন নির্মাণ করা মোটেও উচিত হচ্ছে না। এমনিতেই চবিতে প্রায়ই পাহাড় ধস হচ্ছে, এমনকি কাটা পাহাড়ের দিকেও সম্প্রতি পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। প্রশাসনের উচিত বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী ও পরিবেশবিদদের সাথে আলোচনা করে টেকসই সিদ্ধান্ত নেওয়া।’
গাইবান্ধার সাঘাটা ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় বাঙালী নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে করা ড্রেজিং প্রকল্পের বিপুল পরিমাণ উত্তোলিত বালু এখন খোলা আকাশের নিচে হরিলুটের শিকার হচ্ছে। জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের চরম উদাসীনতা, আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা এবং রহস্যজনক অকর্মণ্যতার সুযোগে দিনে-দুপুরে ও রাতের আঁধারে গায়েব হয়ে যাচ্ছে রাষ্ট্রীয় এই সম্পদ। ফলে একদফা নদী ড্রেজিংয়ের সুফল যেমন ভেস্তে যেতে বসেছে, অন্যদিকে সরকারি কোষাগার হারাচ্ছে কোটি টাকার রাজস্ব।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘বাঙালি-করতোয়া-ফুলজোর-হুরাসাগর নদীর সিস্টেম ড্রেজিং/পুনঃখননসহ তীর সংরক্ষণ’ শীর্ষক মেগা প্রকল্পের অধীনে ২০১৯ সালে সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও গাইবান্ধায় মোট ২১৭ কিলোমিটার নদী খনন কার্যক্রম শুরু হয়। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড। ২১৭ কিলোমিটারের মধ্যে গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা ও গোবিন্দগঞ্জ অংশ কেটে বাঙালি নদীর ২৪ কিলোমিটার সফলভাবে ড্রেজিং সম্পন্ন করা হয়।
খননকালে নদীর তলদেশ থেকে উত্তোলিত বালু ও মাটি তীরবর্তী এবং দূরবর্তী বিভিন্ন পয়েন্টে বিশাল বিশাল ‘ডাইক’ বানিয়ে সংরক্ষণ করা হয়। ড্রেজিং কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট বিভাগ উত্তোলিত এসব বালু পর্যায়ক্রমে স্থানীয় জেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করে। উদ্দেশ্য ছিল, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নিলামে বিক্রি করে রাষ্ট্রীয় রাজস্ব আদায় করা।
আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও নিলামে স্থবিরতা: সরকার নির্ধারিত বালু বিক্রি এবং দরপত্র প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ৭ সদস্যের একটি ‘জেলা মাটি/বালি নিলাম কমিটি’ পুনর্গঠন করা হয়। এই শক্তিশালী কমিটির আহ্বায়ক করা হয় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)-কে এবং সদস্য সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয় গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীকে। এছাড়াও কমিটিতে এলজিইডি, সড়ক ও জনপথ, সেনাবাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সদস্য হিসেবে রয়েছেন।
নথি অনুযায়ী, এই নিলাম কমিটি ২০২৩ সালের ১৭ জুলাই থেকে ধারাবাহিকভাবে নিলাম আহ্বান করে সরকারের বিপুল রাজস্ব অর্জনে সফল হয়েছিল। তবে বিপত্তি ঘটে ২০২৫ সালের ২২ মে তারিখের পর। উক্ত তারিখের পর রাজস্ব শাখার ৬৩৮ নম্বর স্মারকে ঘোষিত নিলাম বিজ্ঞপ্তির অবশিষ্ট থাকা ৯টি প্যাকেজ এবং সেনাবাহিনী থেকে নতুন করে হস্তান্তর করা ৩টিসহ মোট ১২টি প্যাকেজ সম্পূর্ণ থমকে যায়। এরপর আর কোনো অজানা কারণে নিলাম দরপত্র আলোর মুখ দেখেনি।
সম্প্রতি সাঘাটা ও গোবিন্দগঞ্জের ডাইক এলাকাগুলো সরজমিনে ঘুরে যে চিত্র দেখা গেছে, তা এক কথায় ভয়াবহ। উন্মুক্ত স্থানে কোনো প্রহরা বা তদারকি না থাকায় পুরো এলাকা এখন স্থানীয় বালু খেকো সিন্ডিকেটের দখলে।
বিলুপ্ত ডাইক: সাঘাটার দোহাইল-১ ও দোহাইল-২ ডাইকের শতভাগ বালু লুট হয়ে গেছে। সরেজমিনে গিয়ে সেখানে ডাইক বা সরকারি বালুর কোনো চিহ্নও খুঁজে পাওয়া যায়নি।
ট্রাক্টরে করে লুটপাট: দাঙাবাড়ী ও কিংকরপুর ডাইক থেকে প্রতিদিন ‘কাকড়া’ (স্থানীয় ট্রাক্টর) বোঝাই করে অবাধে বিক্রি করা হচ্ছে সরকারি বালু। স্থানীয়রা জানান, দিনের আলোতেও কোনো ভয়ডর ছাড়া এসব বালু নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
প্রকৃতির পেটে কোটি টাকা: সাঘাটার পাকুরতলা, কিংকর এবং গোবিন্দগঞ্জের পারসোনাইডাঙা ডাইকগুলো নদী তীরবর্তী হওয়ায় চলতি বর্ষায় অতিবৃষ্টি ও নদীর তীব্র তোড়ে কোটি কোটি টাকার বালু পুনরায় নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
অবৈধ দখলের পাঁচতারা: কোনো কোনো খালি বা আংশিক খালি ডাইকে ইতোমধ্যে স্থানীয় প্রভাবশালীরা গাছপালা রোপণ ও ঘাস চাষ শুরু করেছে। এমনকি তারা ডাইকের জমিকে নিজস্ব মালিকানাধীন দাবি করে স্থায়ী দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে।
অভিযোগের তীর মূলত জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রাজস্ব শাখার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আল মামুনের দিকে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, পাউবো কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীরা একাধিকবার নিলামের প্রক্রিয়া সচল করার অনুরোধ নিয়ে এডিসির (রাজস্ব) দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। এমনকি ঊর্ধ্বতন সচিব পর্যায়ের রেফারেন্স দেওয়া সত্ত্বেও তিনি কোনো কর্ণপাত করেননি, উল্টো তটস্থ করে রেখেছেন সংশ্লিষ্টদের।
কমিটির ভেতরের চরম সমন্বয়হীনতার রূপ স্পষ্ট হয় অন্য সদস্যদের বক্তব্যে। এলজিইডিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি যোগদানের পর বালু নিলাম সংক্রান্ত কোনো সভাতেই আহ্বান পাননি। একই সুর সাঘাটা ইউএনও আশরাফুল কবীরের কণ্ঠেও।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত এডিসি (রাজস্ব) আল মামুনের ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জুম মিটিংয়ের অজুহাতে সংযোগ কেটে দেন এবং পরবর্তীতে ক্ষুদে বার্তা ও কার্যালয়ে উপস্থিত হয়েও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় কৃষক মোনারুল ইসলাম বলেন, ট্রাক্টর ভরে দিন-রাত বালু তুলে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা বাধা দিলে আমাদেরই ভয় দেখানো হয়। প্রশাসন সব দেখেও অন্ধ সেজে আছে। ড্রেজিং করে লাভ কী হলো যদি বালুই চুরি হয়ে নদী আবার ভরাট হয়ে যায়?
বিষয়টি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
সংসদ সদস্য (গাইবান্ধা-৫) আব্দুল ওয়ারেস বলেন, ‘সরকারি সম্পদ এভাবে হরিলুট হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এটি সরাসরি দায়িত্বশীলদের অবহেলার প্রমাণ। এর পেছনে কারা জড়িত তা কঠোরভাবে খতিয়ে দেখা দরকার।
গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান মোল্লা আশ্বস্ত করে বলেন, সরকারি সম্পদ চুরির পেছনে যারাই দায়ী থাকুক, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেন নিলাম বন্ধ রাখা হলো তা গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।
নদী বাঁচানোর নামে শত কোটি টাকা খরচে উত্তোলিত বালু যদি সিন্ডিকেটের পকেটে যায় কিংবা পুনরায় নদীতে ভেঙে পড়ে, তবে তার চেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় অপচয় আর হতে পারে না। গাইবান্ধাবাসীর দাবি—অবিলম্বে আমলাতান্ত্রিক চক্রান্ত ভেঙে অবিক্রীত ১২টি প্যাকেজের দ্রুত উন্মুক্ত পুনঃনিলাম করতে হবে এবং লোপাট হওয়া কোটি টাকার বালু উদ্ধারে নিরপেক্ষ বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।
খুলনার বটিয়াঘাটায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে রেজাউল শেখ হত্যার দায়ে তিন আসামিকে মৃত্যুদন্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাদের প্রত্যেকেই ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অপরদিকে এ মামলার অপর এক আসামিকে খালসা দিয়েছেন আদালত। সোমবার দুপুরে খুলনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৪ আদালতের বিচাররক মো. খুরশীদ আলম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. শাহ আলম।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- খুরশিদ আলম, সালাম ও খায়রুল। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৩১ মার্চ সকাল ৮টার দিকে রেজাউল শেখ উপজেলার ঝালবাড়ি গ্রামের বাজারে নিজের দোকানের কাছাকাছি ঘোরাঘুরির সময় পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা চার দুর্বৃত্ত বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে। এর পর তিনি মাটিতে পড়ে গেলে তারা একাধিক আঘাত করতে থাকে। রেজাউলের ছোট ভাই ঠেকাতে এলে তাকেও তারা আঘাত করে। পরবর্তীতে তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সূত্রটি আরও জানায়, এ ঘটনার দিন সন্ধ্যায় নিহতের ছোটভাই মেঝবাহ উদ্দিন বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। এতে তিনি ঝালবাড়ি এলাকার বাসিন্দা কলম বক্সের ছেলে আ: ছালাম ও ছালাম শেখের দুই ছেলে মো. খুরশিদ আলম (৩৫) ও মো. খায়রুল শেখ (২৮) এবং একই এলাকার কালাবাবুর ছেলে এরশাদকে আসামি করেন।
সূত্রটি আরও জানায়, পৈর্তৃক সম্পত্তি তথা দোকানঘর উঠানোকে কেন্দ্র করে পূর্ব বিরোধের সূত্র ধরে খুরশীদ আলম শেখ ও খায়রুল শেখ বাঁশের লাঠি ও কাঠের বাতা দিয়ে রেজাউলের মাথার পেছনে ও শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাত করে। এ সময় রেজাউল মাটিতে পড়ে গেলে আব্দুস সালাম ও এরশাদ শেখ বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করে।
গত ২০১৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআইয়ের পুলিশ পারিদর্শক গোলাম রসুল উল্লিখিতদের আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
কুমিল্লা আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসে ভুয়া কর পরিদর্শক পরিচয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধন করতে এসে দুই প্রতারক আটক হয়েছেন। পরে তাদেরকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে কুমিল্লা আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসে এ ঘটনা ঘটে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—চান্দিনা উপজেলার বামতিয়া গ্রামের আবুল কালাম আজাদ এবং দেবিদ্বার উপজেলার ইউসুফপুর গ্রামের শামছুল হক।
কুমিল্লার সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শেখ মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান জানান, আবুল কালাম আজাদ নিজেকে কর পরিদর্শক পরিচয় দিয়ে অন্য এক ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের জন্য নির্বাচন অফিসে আসেন। অন্যদিকে শামছুল হক জাল সনদ ব্যবহার করে তার এক স্বজনের জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের চেষ্টা করেন।
তিনি আরও জানান, তাদের কথাবার্তা ও আচরণে সন্দেহ হলে নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে তারা প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে তাদেরকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে ‘Dream for Higher Study Abroad: Higher Study Seminar & Guidance Session’ শীর্ষক সেমিনার হয়েছে। গত রোববার এতে প্রধান অতিথি ছিলেন আ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. হাফিজুর রহমান। সেমিনারের রিসোর্স পারসন ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার আরএমআইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক মো. মঞ্জুরুল ইসলাম।
সেমিনারে বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন, আবেদন প্রক্রিয়া, স্কলারশিপ অর্জনের কৌশল, গবেষণার সম্ভাবনা এবং উচ্চশিক্ষার জন্য নিজেকে দক্ষভাবে প্রস্তুত করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয় এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে সেমিনারটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
আয়োজকরা জানান, উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য সেমিনারটি ছিল তথ্যবহুল, বাস্তবমুখী ও অনুপ্রেরণাদায়ক। শিক্ষার্থীদের আন্তরিক অংশগ্রহণ এবং প্রাণবন্ত প্রশ্নোত্তর পর্বের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
যশোরের কেশবপুর উপজেলার লক্ষ্মীনাথকাটী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ঘিরে সম্প্রতি সৃষ্ট বিরোধ ও শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, অভিভাবক ও শিক্ষা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষের আপত্তি থেকে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত লক্ষ্মীনাথকাটী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রাথমিক শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ২০১৩ সালের ১ জুলাই বিদ্যালয়টি সরকারি করা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে প্রধান শিক্ষকসহ মোট পাঁচজন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। প্রধান শিক্ষক মোঃ আবু মুসা (এমএ/সমমান কামিল), সহকারী শিক্ষক মোছাঃ দেলারা পারভীন (স্নাতক), মোঃ আতিয়ার রহমান (স্নাতক), মোছাঃ সাবিনা ইয়াসমিন (এমএ) এবং লাবনী চৌধুরী লিমা (এমএ) দক্ষতার সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।
সোমবার (২৭ জুলাই) সরেজমিনে বিদ্যালয় এলাকায় গিয়ে কয়েকজন অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি বিরোধ সৃষ্টি করছেন। এর প্রভাব শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসার ওপরও পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, কিছু অভিভাবককে বিভ্রান্ত করে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে কেশবপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন,
আমার কাছে একটি অভিযোগ আসে। অভিযোগের ভিত্তিতে আমি সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার দুলাল চন্দ্র সরকারকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ে যাই এবং শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করি। আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি আরও বলেন,
কোনো শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ে আসতে বাধা দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করে এমন কোনো কর্মকাণ্ড গ্রহণযোগ্য নয়। সকল পক্ষকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোঃ শাহিনুর রহমান বলেন,লক্ষ্মীনাথকাটী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে এলাকার কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি অযথা সমস্যার সৃষ্টি করছেন। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসতে বাধা দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি এবং এটি কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আবু মুসা বলেন,
বিদ্যালয়ে কমিটি করা কে নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি হয়, আমি অভিভাবকদের ডেকে সকলের সহযোগিতার মাধ্যমে কমিটি করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তাদের নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে সমস্যা সৃষ্টি হয়।
অভিভাবক নিলুফা বেগম, হাফিজা খাতুন ও দেলারা বেগম জানান, বিদ্যালয়ের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করেই মূলত বিরোধের সূত্রপাত হয়েছে। তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পরিবেশ নষ্ট হোক আমরা চাই না। দ্রুত সমস্যার স্থায়ী সমাধান হওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থের দ্বন্দ্ব শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিকর। তারা বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নির্বিঘ্নে পাঠদান কার্যক্রম নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের অভিমত, দীর্ঘদিনের সুনামধন্য এই বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও শিক্ষার মান ধরে রাখতে সকল পক্ষের উচিত মতভেদ ভুলে শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া। কারণ একটি বিদ্যালয়ের মূল শক্তি তার শিক্ষার্থী, আর তাদের শিক্ষা গ্রহণের অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্র, সমাজ ও অভিভাবক সবার দায়িত্ব।
আজ দুপুরের মধ্যে দেশের ১০টি জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আজ সোমবার (২৭ জুলাই) আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
উদ্ভূত আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতির কারণে দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আজকের আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করে জানানো হয়েছে যে, "দুপুরের মধ্যে দেশের ১০ জেলার ওপর দিয়ে পশ্চিম কিংবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘন্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।"