নেত্রকোনায় হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধ সংস্কারে ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে। এদিকে সময়মতো কাজ শেষ না হলে আগাম বন্যায় কৃষকের বোরো ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নেত্রকোনার সাত উপজেলার ১৩৪টি হাওরে এবারও হুমকির মুখে রয়েছে বোরো ফসল। চলতি বছরের ২৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ফসলরক্ষা বাঁধ সংস্কারের কাজ শেষ করার কথা থাকলেও কোনো কোনো স্থানে এখনো শুরুই হয়নি কার্যক্রম।
নিয়মানুযায়ী বাঁধ সংস্কারের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) কাজে সরাসরি জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে যুক্ত করা হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নসহ তদারকিতে জেলা প্রশাসককে সভাপতি ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নেত্রকোনার নির্বাহী প্রকৌশলীকে সদস্যসচিব করে জেলা কমিটি করা হয়। এ ছাড়া উপজেলা পর্যায়ে নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) সভাপতি ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) একজন কর্মকর্তাকে সদস্যসচিব করে উপজেলা কমিটি গঠন করা হয়। মূলত উপজেলা কমিটি প্রকল্প নির্ধারণ ও পিআইসি গঠন করে জেলা কমিটিতে পাঠায়। পরে জেলা কমিটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। প্রতিটি প্রকল্পের জন্য প্রকৃত কৃষক ও স্থানীয় সুবিধাভোগীদের নিয়ে পাঁচ থেকে সাত সদস্যের একটি পিআইসি থাকে। একটি পিআইসি সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকার কাজ করতে পারে।
পাউবো সূত্র জানায়, হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের নির্মাণকাজ ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে শুরু এবং ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার কথা। এর আগে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে পিআইসি গঠন এবং ৩০ অক্টোবরের মধ্যে প্রকল্প নির্ধারণের কাজ চূড়ান্ত হওয়ার কথা। কিন্তু পানি ধীরগতিতে নামায় প্রকল্প নির্ধারণের কাজ চূড়ান্ত করতে দেরি হয়। পিআইসি গঠিত হলেও পানির কারণে সব বাঁধের কাজ এখনো শুরু করা সম্ভব হয়নি।
পাউবো নেত্রকোনা জেলা অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় পাউবোর অধীন প্রায় ৩৬৫ কিলোমিটার ডুবন্ত (অস্থায়ী) বাঁধ রয়েছে। এসব বাঁধের ওপর স্থানীয় কৃষকদের প্রায় ৪২ হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল নির্ভর করে। এ ফসলের ওপর নির্ভর করে কৃষকদের সারা বছরের সংসার খরচ চলে।
নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুরী, মোহনগঞ্জ, মদন, কলমাকান্দা, দুর্গাপুর, বারহাট্টা, আটপাড়া উপজেলায় রয়েছে ছোট বড় ১৩৪টি হাওর। এ ছাড়া অন্যান্য এলাকার তুলনায় পূর্বধলা উপজেলায় পরিমাণে কম জলাশয় রয়েছে। এর মধ্যে খালিয়াজুরীতে ৮৯টি হাওর রয়েছে। আর এখানে রয়েছে ১৮০ কিলোমিটার ডুবন্ত অস্থায়ী বাঁধ। এর মধ্যে ১১০টি প্রকল্পের মাধ্যমে ৯২ কিলোমিটার বাঁধ সংস্কার করা হচ্ছে।
বিভিন্ন তথ্য সূত্রে জানা যায়, খালিয়াজুরী উপজেলায় ১০৮টি প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২০ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, মদনের ২৫টি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ ধরা হয় ৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকা, মোহনগঞ্জে ২৬টি পিআইসি প্রকল্পের জন্য ৪ কোটি ৪১ লাখ টাকা, কলমাকান্দায় ৭টি প্রকল্পের জন্য ব্যয় ধরা হয় ১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, বারহাট্টায় ৯টি প্রকল্পের জন্য ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা, পূর্বধলায় ২টি প্রকল্পের জন্য ৪৫ লাখ টাকা, আটপাড়ায় একটি প্রকল্পের জন্য ১১ লাখ টাকা। এর মধ্যে এ বছরে বরাদ্দ পাওয়া গেছে ১৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা।
জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার কীর্তনখলা হাওরের একাধিক কৃষক বলেন, তারা ঋণ করে বোরোর আবাদ করছেন। বাঁধের কাজ এ বছর ঠিক সময়ে শুরু হয়নি। এ কারণে সময়মতো কাজ শেষ হওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তারা। আগাম বন্যার পানিতে ফসল নষ্ট হলে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে।
খালিয়াজুরী হাওর রক্ষা পরিষদের সভাপতি স্বাগত সরকার শুভ বলেন, জাতীয় নির্বাচনের কারণে এবার স্থানীয় প্রশাসনের তদারকি অনেকটা কম ছিল। ফলে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজের তেমন অগ্রগতি হয়নি। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হলে পুরো হাওরের বোরো ফসল হুমকিতে থাকবে।
পাউবো নেত্রকোনা জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী সারওয়ার জাহান বলেন, ‘দ্রুতগতিতে কাজ হচ্ছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংস্কারকাজ শেষ করা সম্ভব হবে।’ তিনি আরও জানান, গত বছর জেলায় ৩৭ কোটি ৮১ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০৬টি পিআইসি গঠন করা হয়েছিল। এ বছর বাঁধের ক্ষতি কম হওয়ায় ২৮টি পিআইসি কম করা হয়েছে। ১৫৬ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণে গঠিত ১৭৮টি পিআইসির জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। জাতীয় নির্বাচন ও তীব্র শীতের কারণে কাজ শুরু করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হবে।
জেলার কাপ্তাই লেকের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় আজ শনিবার বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট আংশিক খুলে পানি নিষ্কাশনের প্রস্তুতি নিয়েছে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ।
উজান ও ভাটির পানি ব্যবস্থাপনা এবং সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
গত বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) রাতে কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) মাহমুদ হাসান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয় ।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টায় কাপ্তাই লেকের পানির উচ্চতা ছিল ১০৩ দশমিক ৯১ ফুট এমএসএল। লেকের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল। সাম্প্রতিক ভারি বৃষ্টিপাতে ক্যাচমেন্ট এলাকায় পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় লেকের পানি দ্রুত বাড়ছে।
এ পরিস্থিতিতে আগামী শনিবার (১৮ জুলাই) বেলা ১১টার পর যেকোনো সময় স্পিলওয়ের ১৬টি গেট ৬ ইঞ্চি করে খুলে পানি নিষ্কাশন শুরু করা হতে পারে। প্রাথমিকভাবে এতে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হবে।
এ বিষয়ে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) মাহমুদ হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘লেকের পানির উচ্চতা, উজান থেকে আসা পানির প্রবাহ (ইনফ্লো) এবং বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতির পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি করে স্পিলওয়ে খোলার সময় এগিয়ে বা পিছিয়ে দেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে ইনফ্লো আরও বৃদ্ধি পেলে পর্যায়ক্রমে গেট আরও বেশি খুলে পানি নিষ্কাশনের পরিমাণ বাড়ানো হবে।’
তিনি আরও জানান, বর্তমানে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট চালু রয়েছে। এসব ইউনিটের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে।
এদিকে স্পিলওয়ে খোলার সম্ভাব্য ঘোষণায় কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে বিউবো।
বান্দরবানের থানচি উপজেলার সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের অভিযোগে মিয়ানমারের দুই নারী নাগরিক ও তাদের এক বাংলাদেশি সহযোগীকে আটক করে থানচি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আটক তিনজনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ জুলাই) এ ঘটনায় থানচি থানায় একটি মামলা দায়ের করে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আটককৃতরা হলেন- মিয়ানমারের মংডু এলাকার বাসিন্দা মা তুন যং ম্রো (২০), মা তুন ইয়াং ম্রো (২১) এবং তাদের সহযোগী বান্দরবানের থানচি উপজেলার সদর ইউনিয়নের ওয়াক চাক্কুপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মুয়ই ম্রো (৪৬)।
থানচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কানন সরকার জানান, সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও এ সংক্রান্ত অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
সীমান্তবর্তী বংকুপাড়া বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) মিয়ানমারের দুই নারী নাগরিক ও তাদের বাংলাদেশি এক সহযোগীকে আটক করেন। পরে তাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যা মামলার সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে মিঠামইন সদরের হেলিপ্যাড মাঠে জাহাঙ্গীরের জানাজা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে জুমার নামাজের পর হেলিপ্যাড মাঠে জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
শরীফুল আলম বলেন, “জাহাঙ্গীর দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত কর্মী ছিলেন। প্রায় ১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। বাড়িঘর ছেড়ে কঠিন সময় পার করেও সুসময়ে এসে এভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হবেন, তা কল্পনাও করা যায় না। তার এই অকাল মৃত্যু আমাদের গভীরভাবে শোকাহত করেছে।”
শরীফুল আলম আরও বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং দলের উচ্চপর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। কারা ইন্দনদাতা সেটিও দেখছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। তিনি বলেন, ভাড়াটে খুনি এনে হত্যাকাণ্ড হাওরে বিরল ঘটনা। এর পিছনে যারাই জড়িত, তারা যতই শক্তিশালী হোক কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বলেন, জাহাঙ্গীর দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন এবং প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাকে গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশকে ধন্যবাদ জানাই। তবে শুধু হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করলেই হবে না, হত্যার নেপথ্যে থাকা পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা ও মদদদাতাদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জাহাঙ্গীর শুধু রাজনৈতিক সহকর্মী ছিলেন না, দলের একজন নিবেদিতপ্রাণ সৈনিক ছিলেন। তার মৃত্যু বিএনপির জন্য বড় ক্ষতি। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
জানাজায় কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, জেলা ও উপজেলা বিএনপি এবং বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিপুলসংখ্যক স্থানীয় মানুষ অংশ নেন।
রাজধানীর ডেমরা পুলিশ লাইনস ভবন থেকে মো. সাইদুল ইসলাম (২১) নামে এক পুলিশ কনস্টেবলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে সহপাঠীরা উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, পারিবারিক কলহ থেকে হতাশা এবং তারপর গলায় ফাঁস দিয়ে মৃত্যু হয়েছে তার।
নিহত সাইদুল ইসলাম ফেনী সদর উপজেলার লেমুয়া উত্তর চাঁদপুর গ্রামের মো. সাদেকের ছেলে। তার পুলিশ বিপি নম্বর: ০৭২৬২৬৬৪৬৫। তিনি ডেমরা পুলিশ লাইনের ২০ তলা ভবনের নবম তলার একটি কক্ষে থাকতেন। মাত্র ৯ মাস আগে তিনি পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরিতে যোগদান করেছিলেন।
তার চাচা মো. সোহাগ জানান, পারিবারিক কলহের জেরে সাইদুল কিছুদিন ধরে চরম বিষণ্ণতায় ভুগছিলেন। গত রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে ডেমরা পুলিশ লাইনের ওই ভবনের সপ্তম তলায় নিজের রুমে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে বিছানার চাদর পেঁচিয়ে ফাঁস দেন। পরে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয় বলে চিকিৎসকরা জানান।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে এবং পুলিশ এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে। এদিকে মৃত্যুর পূর্বে নিজের ফেসবুকে এক পোস্টে সাইদুল লেখে গেছেন হতাশার কথা।
রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের কারবালার মোড় এলাকার আঁছওয়ালা ঘাটে জুতার কারখানায় লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিটের প্রায় ৩৮ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেল ৩টা ১২ মিনিটে কারখানাটিতে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস।
ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, বিকেল ৩টা ১২ মিনিটে জুতার কারখানায় আগুন লাগার সংবাদ পাওয়ার পরপরই হাজারীবাগ ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দেয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে বিকেল ৩টা ৪৯ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছেন তারা।
তাৎক্ষণিকভাবে আগুনের সূত্রপাত, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কিংবা হতাহতের কোনো তথ্য জানা যায়নি। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে তদন্ত চলছে বলে জানানো হয়েছে।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) আনিসুজ্জামান বলেছেন, "আমি নিজেও ছাত্রদল করেছি। আপনার বহু আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল করে এসেছি। তবে রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে কথা বলতে হবে।"
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।
সভায় কুমিল্লা মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফখরুল ইসলাম মিঠু অভিযোগ করে বলেন, কুমিল্লায় এসপি হিসেবে আনিসুজ্জামান দায়িত্ব নেওয়ার পর ‘ফ্যাসিস্টরা’ সক্রিয় হয়ে উঠেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
এর জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক মঞ্চ নয়। অভিযোগ করতে হলে তথ্য-প্রমাণসহ করতে হবে। ভিত্তিহীন মন্তব্য বা রাজনৈতিক বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়।
নিজের ছাত্রজীবনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, "ছাত্রদল আমি নিজেও করেছি। আপনার বহু আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল করে এসেছি।"
পুলিশের বিরুদ্ধে ঢালাও অভিযোগ না তোলার আহ্বান জানিয়ে এসপি বলেন, "আমরা নিজের শত্রুকে কেন ধরতে যাব? যাকে আপনার পছন্দ হয় না, তাকেই ফ্যাসিস্ট বানিয়ে দেন। মামলায় কাকে গ্রেপ্তার করা হবে, তা আইন অনুযায়ী নির্ধারণ হবে। ওসি কাকে গ্রেপ্তার করবে, সেই নির্দেশ আপনারা দিতে পারেন না।"
তিনি আরও বলেন, একটি বাহিনী সম্পর্কে মন্তব্য করার আগে বাস্তবতা জানা জরুরি। "৫ আগস্টের পর এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যখন কোথাও পুলিশ ছিল না। সেই নড়বড়ে অবস্থা থেকে পুলিশ আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে।"
পুলিশ সুপার বলেন, গত ১৭ বছরে দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার মাত্র চার মাস আগে দায়িত্ব নিয়েছে। তাই সরকারকে কাজ করার জন্য যথেষ্ট সময় দেওয়া উচিত।
বিচারহীনতার অভিযোগ প্রসঙ্গে আনিসুজ্জামান বলেন, "বিচার হয় না—এ কথা মোটেই ঠিক নয়। বিভিন্ন আলোচিত মামলায় আদালত রায় দিয়েছেন, অনেকের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে এবং অনেক মামলার বিচার প্রক্রিয়া এখনও চলমান। আমি নিজেও অনেক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছি এবং চার্জশিট দাখিল করেছি।"
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছে এবং ভবিষ্যতেও নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগ অব্যাহত থাকবে।
সোনার মূর্তি ও মূল্যবান পুরোনো মুদ্রা (কয়েন) পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঠাকুরগাঁও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছয়টি সোনালি রঙের মূর্তি, পাঁচটি কয়েন ও একটি পিতলসদৃশ পুরোনো কলস জব্দ করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ খোদাদাদ হোসেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন জেলার রানীশংকৈল উপজেলার লেহেম্বা ইউনিয়নের কোচল (কাঁঠালডাঙ্গী) গ্রামের বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর আলম (৩৬) ও তার ফুফাতো বোন মোছা. সীমা বেগম (৩২)।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাতে দিনাজপুরের কোতোয়ালি এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুল আজিম ডিবি পুলিশকে জানান, স্বর্ণের মূর্তি ও পুরোনো কয়েন বিক্রির কথা বলে একটি চক্র তার কাছ থেকে তিন লাখ টাকা নিয়েছে। ওই দিন বাকি টাকা পরিশোধের বিনিময়ে তাকে মূর্তি ও কয়েন দেওয়ার কথা ছিল।
এ তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি দল রানীশংকৈল উপজেলার কোচল গ্রামের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে জাহাঙ্গীর আলম ও সীমা বেগমকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ির বারান্দার পাশে মাটির নিচ থেকে ছয়টি সোনালি রঙের গোপাল ঠাকুরের মূর্তি, পাঁচটি সাদা রঙের কয়েন এবং প্রায় দেড় কেজি ওজনের একটি পিতলসদৃশ পুরোনো কলস উদ্ধার করা হয়। সেগুলো জব্দ করেছে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খোদাদাদ হোসেন বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে সোনার মূর্তি ও মূল্যবান পুরোনো মুদ্রা পাইয়ে দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করে প্রতারণা করে আসছিলেন।’ থানার নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সীমা বেগমের বিরুদ্ধে একই ধরনের প্রতারণার অভিযোগে আগেও একটি মামলা রয়েছে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে রানীশংকৈল থানায় মামলা হয়েছে। চক্রটির অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি রেঞ্জের অধীন আদমপুর বিটের কালিন্জি বসতি এলাকায় সংরক্ষিত বনভূমি দখলমুক্ত করতে বন বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন ও কমলগঞ্জ থানার সমন্বয়ে গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) যৌথ উচ্ছেদ অভিযানে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দখল করে কৃষিকাজের আওতায় আনা প্রায় ৫ একর সংরক্ষিত বনভূমি উদ্ধার করে।
অভিযানে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিয়াজ মাহমুদ সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তদারকি এবং উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনায় নেতৃত্ব দেন। বন বিভাগের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি কমলগঞ্জ থানার পুলিশ সদস্যরাও অভিযানে অংশ নেন।
বন বিভাগ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র সংরক্ষিত বনভূমি জবরদখল করে সেখানে মাল্টা, আনারস, লেবু ও সুপারি বাগান গড়ে তোলে এবং বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ চালিয়ে আসছিল। যৌথ অভিযানে এসব অবৈধ চাষাবাদ সম্পূর্ণরূপে উচ্ছেদ করা হয় এবং দখলকৃত বনভূমি পুনরুদ্ধার করা হয়।
অভিযান চলাকালে অবৈধভাবে নির্মিত ২টি বাঁশ ও পলিথিনের শেড এবং ১টি ওয়াচার শেড ভেঙে ফেলা হয়। পাশাপাশি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের একটি প্রাকৃতিক জলাশয়ে বাঁধ দিয়ে তৈরি করা অবৈধ পুকুরের পাড় কেটে জলাশলের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ পুনঃস্থাপন করা হয়, যা বনাঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
বন বিভাগ জানায়, সংরক্ষিত বনভূমি অবৈধ দখলমুক্ত করে বনাঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ, বন্য প্রাণীর আবাসস্থল ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে। বনভূমি পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে নতুন করে কেউ অবৈধ দখল করতে না পারে, সে লক্ষ্যে নিয়মিত নজরদারি জোরদার করা হবে।
রাজকান্দি রেঞ্জ কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) প্রীতম বড়ুয়া বলেন, ‘অভিযানে উদ্ধার হওয়া বনভূমি পুনরায় বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত বন আইন অনুযায়ী পি.ও.আর. (POR) বন মামলা দায়েরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’ বনভূমি দখল ও ধ্বংসের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে এ ধরনের যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
এ ছাড়াও তিনি বলেন, ‘দখলমুক্ত স্থানে ‘৫ বছরে ২৫ কোটি’ বৃক্ষরোপণের আওতায় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের মাধ্যমে বনায়ন সৃজন করা হবে।’
মাদারীপুরের কালিকিনি উপজেলার শিকারমঙ্গল রাশদিয়া আলীম মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে কৃষককার্ড বিতরণের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকালে প্রধান অতিথি হিসেবে উক্ত কর্মসূচির উদ্বোধন করেন কালকিনি-মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সহগণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন এমপি।
এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালকিনি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক (প্রস্তাবিত) মো. মাহাবুব মুনসীসহ এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সুবিধাভোগী কৃষক ও গণমাধ্যমকর্মী। এ ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন মাদ্রসাটির প্রিন্সিপালসহ গভর্নিং বডির অন্যান্য সসদ্য ও কালকিনি উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
এ সময় প্রধান অতিথি এমপি খোকন তালুকদার বলেন, ‘কৃষিনির্ভর বাংলাদেশে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটলেই বাংলাদেশ হাসে, বাংলাদেশের অর্থনীতি সচল হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এক মাসের মাথায় দেশের চালিকাশক্তি কৃষকদের মাঝে কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু করেছেন এবং তারই ধারাবাহিকতায় আজ আপনাদের মাঝে আমরা তা পৌঁছে দিতে পারছি, এর সুবিধা আপনারা ভোগ করবেন এবং এর মাধ্যমে বিএনপি ও আমাদের সরকার নির্বাচনি ওয়াদা পূরণ করছে, পর্যায়ক্রমে দেশের সকল কৃষক এই কার্ড পাবেন।’
এ সময় তিনি উপস্থিত কৃষকদের সরকারি আরও অন্যান্য সুবিধাদি পর্যায়ক্রমে পৌঁছানোর আশ্বাস দিয়ে কৃষক কার্ডের যাতে অপব্যবহার না হয় সেদিকে সজাগ থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক করে দেন।
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে প্রতিবেশীর পোষা কুকুরের ফেলে দেওয়া বিস্কুট খাওয়ার পর জলাতঙ্কে (রেবিস) আক্রান্ত হয়ে রবিউল মিয়া (৪) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় শিশুটির মা রুনা বেগমও জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তিনি বর্তমানে ঢাকার মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহত রবিউল ভৈরব পৌরসভার কালিপুর দক্ষিণ পাড়া এলাকার বাসিন্দা। সে ওই এলাকার মিজান মিয়ার ছেলে।
জানা যায়, গত ২৮ জুন বাড়ির সামনে খেলছিল রবিউল। এ সময় প্রতিবেশী মুসা মিয়ার স্ত্রী তাদের পোষা কুকুরকে বিস্কুট খেতে দেন। কুকুরটি বিস্কুটের একটি অংশ খেয়ে বাকিটা ফেলে রেখে যায়। পরে শিশুটি অজ্ঞতাবশত ওই ফেলে দেওয়া বিস্কুটটি কুড়িয়ে খেয়ে ফেলে। এর কিছুদিন পর থেকেই তার শরীরে অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দেয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রথমে রবিউলকে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন না থাকায় তাকে আশুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয় এবং সেখানে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। কিন্তু গত বুধবার তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে এবং পরে বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে ঢাকায় নেওয়ার পথে নরসিংদী এলাকায় শিশুটি মারা যায়। এদিকে শিশুটির মা রুনা বেগমের মধ্যেও জলাতঙ্কের উপসর্গ দেখা দিলে তাকে দ্রুত ঢাকার মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
শিশুটির বাবা মিজান মিয়ার অভিযোগ, প্রতিবেশীরা নিয়মিত আমাদের বাড়ির সামনের খোলা জায়গায় তাদের পোষা কুকুরকে খাবার দিত। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার নিষেধ করলেও তারা গুরুত্ব দেয়নি। তাদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণেই আজ আমার শিশুসন্তানকে হারাতে হয়েছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যার প্রায় ৭ দিন পর চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে পানি নেমে গেছে। তবে বন্যার পানি সরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্পষ্ট হয়ে উঠছে দুর্যোগের ভয়াল ক্ষতচিহ্ন। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় সড়ক, কালভার্ট, স্লুইস গেট, কৃষিজমি, মাছের খামার ও বসতবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দীর্ঘদিন পানিবন্দি থাকা মানুষ এখন ঘরবাড়ি পরিষ্কার, কাদা সরানো এবং নতুন করে জীবিকা গড়ে তোলার কঠিন সংগ্রামে নেমেছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান শুরু করতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পৌরসভার উত্তর রামপুর, হাঙরমুখ, গাটিয়াডেঙ্গা ও সামিয়ারপাড়া এলাকায় ডলু নদীর ভয়াবহ ভাঙনে কয়েকশ মিটার সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে এসব এলাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। নলুয়া-চৌধুরীহাট সড়কের একটি অংশও ভেঙে গেছে।
অন্যদিকে সাঙ্গু নদীর ভাঙনে বাজালিয়া ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া এলাকায় কয়েকটি বসতঘর, একটি মসজিদ এবং সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ছদাহা-দস্তিদারহাট সড়কের প্রায় ২০০ মিটার অংশ বন্যার তোড়ে বিলীন হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা ফকিরহাটের উত্তর পাশে সড়কের ওপর অস্থায়ী সাঁকো নির্মাণ করে চলাচল করছেন।
সামিয়ারপাড়ার বাসিন্দা এনামুল হক বলেন, ‘পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে ডলু নদীর পাশের সামিয়ারপাড়ার প্রধান সড়কটি একাধিক স্থানে ভেঙে গেছে। এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া বন্যার পানিতে একাধিক বসতবাড়ি সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।’
উপজেলা কৃষি অফিসের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ৬০ হেক্টর আমনের বীজতলা, ৯৯৫ হেক্টর আউশ ধান, ৭৪০ হেক্টর শাকসবজি, ৮ হেক্টর পান, ১৬ হেক্টর পেঁপে বাগান এবং ৮০ হেক্টর অন্যান্য ফসলসহ মোট এক হাজার ৮৯৯ হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ২০ হাজারেরও বেশি কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কৃষি খাতে প্রাথমিকভাবে ৫০-৬০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে এক হাজার ৮৯৯ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রণোদনা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
অবকাঠামো খাতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র উঠে এসেছে। উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) জানিয়েছে, সাতকানিয়ায় মোট ৪০টি সড়কের ২৫ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাঁচটি। ছয়টি সড়ক পুরোপুরি মাঝখান থেকে ভেঙে গিয়ে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী সবুজ কুমার দে জানান, এখনও পুরোপুরি জরিপ শেষ হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের সংখ্যা আরও বাড়বে। এখন পর্যন্ত আনুমানিক ১৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
মৎস্য খাতও বন্যার বড় ধাক্কা সামলাচ্ছে। উপজেলা মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ৫৭৫ হেক্টর আয়তনের তিন হাজার ৫৫০টি পুকুর ও দিঘি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার পানিতে ৮০৬ মেট্রিক টন পিন ফিস, প্রায় ১০ লাখ মাছের পোনা এবং বিপুল পরিমাণ চাষের মাছ ভেসে গেছে। এতে অবকাঠামো, মাছ ও পোনাসহ প্রায় ৩৭ কোটি ২৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ঢেমশা ইউনিয়নের মাছচাষি মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘মাহালিয়ায় আমার প্রজেক্টের সব মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। সরকারি সহায়তা না পেলে আবারও মাছ চাষ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়বে।’
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) তানবীর আহসান বলেন, ‘এটি প্রাথমিক হিসাব। পানি পুরোপুরি নেমে গেলে পুনরায় মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এরপর চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করে ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি সহায়তার জন্য সুপারিশ করা হবে।’
বন্যার পানি ধীরে ধীরে সরে গেলেও সাতকানিয়ার মানুষের দুর্ভোগ এখনও কাটেনি। বিধ্বস্ত অবকাঠামো, কৃষি ও মৎস্য খাতের বিপুল ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি হাজারো পরিবার এখন ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে নেমেছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও অবকাঠামো সংস্কার এবং কৃষক ও মৎস্যচাষিদের জন্য জরুরি সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা না হলে এ দুর্যোগের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব থেকে উত্তরণ কঠিন হয়ে পড়বে।
এদিকে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন মানবিক সংগঠনের সদস্যরা ত্রাণসামগ্রী নিয়ে সাতকানিয়ায় ছুটে আসছেন। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় খাদ্যসামগ্রী, বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপকতার কারণে দুর্গত মানুষের চাহিদার তুলনায় সহায়তা আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বন্যাকবলিত মানুষের খোঁজখবর নিতে সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী এবং ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুসহ সরকারের একাধিক মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তারা দুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন এবং ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তার আশ্বাস দেন।
মায়ের কোলে নিশ্চুপ হয়ে বসে আছে পাঁচ বছরের জান্নাতুল মাওয়া আফরা। কখনো মায়ের মুখের দিকে, কখনো ঘরে আসা মানুষের দিকে তাকাচ্ছে। প্লে শ্রেণির এই শিশুটি এখনো বুঝে উঠতে পারেনি, যে বাবা প্রতিদিন হাত ধরে তাকে স্কুলে নিয়ে যেতেন, সন্ধ্যা হলেই যার ফেরার অপেক্ষায় দরজার দিকে তাকিয়ে থাকত, সেই মানুষটি আর কখনো ফিরবেন না।
আফরার বাবা দিদারুল আলম (৩২) চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর কনফিডেন্স সল্ট লিমিটেড কারখানার বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তার মৃত্যুর পর স্ত্রী শারমিন আক্তার ও একমাত্র কন্যাকে নিয়ে নেমে এসেছে অনিশ্চয়তা।
শারমিন আক্তার জানান, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালটা ছিল অন্য দিনের মতোই। মেয়ে আফরার পরীক্ষা থাকায় দিদারুল কিছুটা দেরিতে কাজে যাওয়ার কথা বলেছিলেন। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নাশতা শেষে তিনি মেয়েকে নিয়ে স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। তখন দিদারুল বলেছিলেন, 'তুমি যাও, মেয়ের পরীক্ষা শেষ করে আসো। আমি বাসায় আছি।' এটাই ছিল তাদের শেষ স্বাভাবিক কথা।
স্কুলে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পর একটি ফোন পান শারমিন। অপর প্রান্ত থেকে জানানো হয়, কারখানায় বিস্ফোরণ ঘটেছে। তখনও তিনি ধারণা করেছিলেন, স্বামী বাসায় আছেন। পরে জানতে পারেন, দিদারুল ইতোমধ্যে কারখানায় গিয়েছিলেন এবং বিস্ফোরণের সময় ঘটনাস্থলেই ছিলেন।
খবর পেয়ে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ছুটে যান। সেখানে চিকিৎসকরা জানান, দিদারুলের শরীরের প্রায় ৯৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। জীবন বাঁচাতে সব চেষ্টা চালানো হলেও বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
স্বামীর শেষ মুহূর্তের স্মৃতি তুলে ধরে শারমিন বলেন, 'শেষবার শুধু বলেছিল, আমাকে মাফ করে দিও। আমার মেয়েটাকে দেখে রেখো। তখন বুঝিনি, এটাই ওর শেষ কথা।'
ছয় বছরের সংসারে আফরাই ছিল তাদের একমাত্র সন্তান। দিদারুল চার বোনের একমাত্র ভাই। মা আগেই মারা গেছেন। বৃদ্ধ বাবা অসুস্থ। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি।
গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বোয়ালখালী উপজেলার পশ্চিম গোমদণ্ডী এলাকায় কনফিডেন্স সল্ট লিমিটেড কারখানায় আগুন ও বিস্ফোরণে ১১ শ্রমিক দগ্ধ হন। গুরুতর আহতদের মধ্যে দিদারুল আলমের শরীরের ৯৫ শতাংশ পুড়ে যায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
দিদারুল পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বদন আলীর বাড়ির বাসিন্দা এবং রুহুল আমিনের ছেলে। পরিবারের চার বোনের একমাত্র ভাই ছিলেন তিনি।
আমার বুকের ধন, আমার চোখের মনি, কোথায় চলে গেলিরে তুই! আমার বুকে আর কোনো দিন ফিরে আসবে না আমার সোনার ছেলে। রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত ডুবুরি সাদিক হোসেন শুভর পদক বুকে নিয়ে এভাবেই আহাজারি করছেন সাদিকের মা।
সাদিকের মা কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) আমার বুকের ধন সাদিক ওর বাবার কাছে ফোন করে ৫ হাজার টাকা চেয়েছিল। সাদিকের সাথে আমার তিন দিন আগে কথা হয়েছিল। সামনে সপ্তাহে বাড়িতে আসবে বলে জানিয়েছিল। আমার সোনার ছেলে আর মা বলে আমাকে ডাকবে না, আমি কি নিয়ে বেঁচে থাকব। আমার ছেলে এভাবে চলে যাবে আমি তা মেনে নিতে পারছি না। আমি আমার ছেলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।’
নিহত সাদিক রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড কুমড়াকান্দি গ্রামের আশরাফ আলী শেখের ছেলে। দুই ভাই, দুই বোনের মধ্যে সাদিক মেজো। ডুবুরি হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে ফায়ার সার্ভিস পদক পাওয়া সাদিক চমৎকার ফুটবলও খেলতেন।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যার দিকে নারায়ণগঞ্জ কেরোসিন ঘাট এলাকা থেকে নিখোঁজের ৮ ঘণ্টা পর নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স সদস্যরা সাদিকের মরদেহ উদ্ধার করেন। এর আগে বেলা ১১টার দিকে নগরীর নিতাইগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর ফায়ার ঘাট এলাকায় পন্টুনের সামনে কচুরিপানা পরিষ্কার করতে গিয়ে স্পিডবোট থেকে পড়ে নিখোঁজ হন সাদিক। নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের একজন প্রশিক্ষিত ডুবুরি ছিলেন তিনি। পানিতে ডুবে নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধার করাই ছিল তার কাজ। তিনি সেরা ডুবুরি হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে ফায়ার সার্ভিস পদক পেয়েছিলেন।
গোয়ালন্দ ফুটবল একাডেমির চেয়ারম্যান মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘সাদিক চমৎকার ফুটবল খেলতেন। গোয়ালন্দ ফুটবল একাডেমিসহ গোয়ালন্দের অনেক ফুটবল দলের গোলরক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। সাদিক একজন নম্র-ভদ্র ও ভালো ছেলে। সাদিকের অকাল মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।’
ঢাকা ফায়ার সার্ভিসের প্রধান কার্যালয়ে জুম্মার নামাজ শেষে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তার মরদেহ বাড়িতে এনে সন্ধ্যার পর জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়। তার মৃত্যুতে রহস্য লুকিয়ে আছে। প্রকৃতভাবে তদন্ত করে বিষয়টি পরিষ্কার করতে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।