বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধ সংস্কারে ধীরগতির অভিযোগ

ছবিটি নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুরী উপজেলার হাওর অঞ্চল থেকে তোলা। ছবি: দৈনিক বাংলা
নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত
নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১০:২৫

নেত্রকোনায় হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধ সংস্কারে ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে। এদিকে সময়মতো কাজ শেষ না হলে আগাম বন্যায় কৃষকের বোরো ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নেত্রকোনার সাত উপজেলার ১৩৪টি হাওরে এবারও হুমকির মুখে রয়েছে বোরো ফসল। চলতি বছরের ২৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ফসলরক্ষা বাঁধ সংস্কারের কাজ শেষ করার কথা থাকলেও কোনো কোনো স্থানে এখনো শুরুই হয়নি কার্যক্রম।

নিয়মানুযায়ী বাঁধ সংস্কারের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) কাজে সরাসরি জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে যুক্ত করা হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নসহ তদারকিতে জেলা প্রশাসককে সভাপতি ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নেত্রকোনার নির্বাহী প্রকৌশলীকে সদস্যসচিব করে জেলা কমিটি করা হয়। এ ছাড়া উপজেলা পর্যায়ে নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) সভাপতি ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) একজন কর্মকর্তাকে সদস্যসচিব করে উপজেলা কমিটি গঠন করা হয়। মূলত উপজেলা কমিটি প্রকল্প নির্ধারণ ও পিআইসি গঠন করে জেলা কমিটিতে পাঠায়। পরে জেলা কমিটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। প্রতিটি প্রকল্পের জন্য প্রকৃত কৃষক ও স্থানীয় সুবিধাভোগীদের নিয়ে পাঁচ থেকে সাত সদস্যের একটি পিআইসি থাকে। একটি পিআইসি সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকার কাজ করতে পারে।

পাউবো সূত্র জানায়, হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের নির্মাণকাজ ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে শুরু এবং ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার কথা। এর আগে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে পিআইসি গঠন এবং ৩০ অক্টোবরের মধ্যে প্রকল্প নির্ধারণের কাজ চূড়ান্ত হওয়ার কথা। কিন্তু পানি ধীরগতিতে নামায় প্রকল্প নির্ধারণের কাজ চূড়ান্ত করতে দেরি হয়। পিআইসি গঠিত হলেও পানির কারণে সব বাঁধের কাজ এখনো শুরু করা সম্ভব হয়নি।

পাউবো নেত্রকোনা জেলা অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় পাউবোর অধীন প্রায় ৩৬৫ কিলোমিটার ডুবন্ত (অস্থায়ী) বাঁধ রয়েছে। এসব বাঁধের ওপর স্থানীয় কৃষকদের প্রায় ৪২ হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল নির্ভর করে। এ ফসলের ওপর নির্ভর করে কৃষকদের সারা বছরের সংসার খরচ চলে।

নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুরী, মোহনগঞ্জ, মদন, কলমাকান্দা, দুর্গাপুর, বারহাট্টা, আটপাড়া উপজেলায় রয়েছে ছোট বড় ১৩৪টি হাওর। এ ছাড়া অন্যান্য এলাকার তুলনায় পূর্বধলা উপজেলায় পরিমাণে কম জলাশয় রয়েছে। এর মধ্যে খালিয়াজুরীতে ৮৯টি হাওর রয়েছে। আর এখানে রয়েছে ১৮০ কিলোমিটার ডুবন্ত অস্থায়ী বাঁধ। এর মধ্যে ১১০টি প্রকল্পের মাধ্যমে ৯২ কিলোমিটার বাঁধ সংস্কার করা হচ্ছে।

বিভিন্ন তথ্য সূত্রে জানা যায়, খালিয়াজুরী উপজেলায় ১০৮টি প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২০ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, মদনের ২৫টি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ ধরা হয় ৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকা, মোহনগঞ্জে ২৬টি পিআইসি প্রকল্পের জন্য ৪ কোটি ৪১ লাখ টাকা, কলমাকান্দায় ৭টি প্রকল্পের জন্য ব্যয় ধরা হয় ১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, বারহাট্টায় ৯টি প্রকল্পের জন্য ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা, পূর্বধলায় ২টি প্রকল্পের জন্য ৪৫ লাখ টাকা, আটপাড়ায় একটি প্রকল্পের জন্য ১১ লাখ টাকা। এর মধ্যে এ বছরে বরাদ্দ পাওয়া গেছে ১৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা।

জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার কীর্তনখলা হাওরের একাধিক কৃষক বলেন, তারা ঋণ করে বোরোর আবাদ করছেন। বাঁধের কাজ এ বছর ঠিক সময়ে শুরু হয়নি। এ কারণে সময়মতো কাজ শেষ হওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তারা। আগাম বন্যার পানিতে ফসল নষ্ট হলে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে।

খালিয়াজুরী হাওর রক্ষা পরিষদের সভাপতি স্বাগত সরকার শুভ বলেন, জাতীয় নির্বাচনের কারণে এবার স্থানীয় প্রশাসনের তদারকি অনেকটা কম ছিল। ফলে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজের তেমন অগ্রগতি হয়নি। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হলে পুরো হাওরের বোরো ফসল হুমকিতে থাকবে।

পাউবো নেত্রকোনা জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী সারওয়ার জাহান বলেন, ‘দ্রুতগতিতে কাজ হচ্ছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংস্কারকাজ শেষ করা সম্ভব হবে।’ তিনি আরও জানান, গত বছর জেলায় ৩৭ কোটি ৮১ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০৬টি পিআইসি গঠন করা হয়েছিল। এ বছর বাঁধের ক্ষতি কম হওয়ায় ২৮টি পিআইসি কম করা হয়েছে। ১৫৬ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণে গঠিত ১৭৮টি পিআইসির জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। জাতীয় নির্বাচন ও তীব্র শীতের কারণে কাজ শুরু করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হবে।

বিষয়:

নির্বাচিত

সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে ধকরাহাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়

* প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনে নতুন গতি
ধকরাহাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মো. তোজাম্মেল হক। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মিজানুর রহমান, পঞ্চগড়

অবকাঠামোগত সংকট, কম শিক্ষার্থী এবং দীর্ঘদিন ধরে চলা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি কাটিয়ে নতুন উদ্যমে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে ধকরাহাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়। গত ১৬ মার্চ বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মো. তোজাম্মেল হক। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও সময়োপযোগী উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে।

উদ্যমী এই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব নেওয়ার আগে বিদ্যালয়টি ছিল নানা সমস্যায় জর্জরিত। দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক অগোছালো অবস্থার কারণে ব্যাহত হচ্ছিল স্বাভাবিক শিক্ষাকার্যক্রম, যার ফলে আশঙ্কাজনকভাবে কমে গিয়েছিল শিক্ষার্থীর সংখ্যা। শুধু একাডেমিক ক্ষেত্রে নয়, অবকাঠামোগত দিক থেকেও পিছিয়ে ছিল প্রতিষ্ঠানটি। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে ছিল বিদ্যালয়ের জমির খারিজ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনি কাজ।বিদ্যালয়ের একাডেমিক স্বীকৃতি, ৫ আগষ্ট ২০২৪-এর পর পরিচালনা কমিটি, উন্মুক্ত সীমানা, নামফলক বা সাইনবোর্ড না থাকা, ভাঙাচোরা চেয়ার-টেবিল, বেঞ্চ ও পরিত্যক্ত আসবাবপত্রের স্তূপের কারণে শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ ছিল অনুপস্থিত।

তবে তোজাম্মেল হক দায়িত্ব নেওয়ার পর পর্যায়ক্রমে জটিল সমস্যাগুলো সমাধানের সাহসী উদ্যোগ নেন। তিনি ইতিমধ্যে বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি, পরিচালনা কমিটি,জমির খারিজ এবং খাজনা সংক্রান্ত কাজ দ্রুত শেষ করেন।শিক্ষক সমাবেশ করেন কয়েক দফা, ২০২৭ সালের এসএসসি শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের সাথে মতবিনিময় সভা, নিরাপত্তার স্বার্থে সম্পূর্ণ ক্যাম্পাসকে সিসি ক্যামেরার আওতাভুক্ত করা হয়েছে এবং তৈরি করা হয়েছে এক পার্শ্বের সীমানা প্রাচীর এবং ফুলের বাগান। একই সাথে প্রতিষ্ঠানে নতুন সাইনবোর্ড স্থাপন, ভাঙাচোরা আসবাবপত্র সংস্কার ও প্রয়োজনীয় নতুন বেঞ্চ-টেবিল, আলমিরার ব্যবস্থা করে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) তোজাম্মেল হক বলেন, ‘বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন যে অবস্থায় ছিল, তা থেকে উত্তরণ ঘটানো ছিল আমার প্রথম চ্যালেঞ্জ। আমি মাত্র কাজ শুরু করেছি। বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতে একপার্শ্বের সীমানা প্রাচীর, সিসি টিভি স্থাপন এবং আসবাবপত্র সংস্কারের মাধ্যমে একটি নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই ধকরাহাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় এলাকাটির অন্যতম সেরা ও আধুনিক মডেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।’


নির্বাচিত

ব্যাটারি ছাড়াই বায়ুশক্তি ব্যবহারে হবে বিদ্যুৎ উৎপাদন

* নওগাঁয় ১০৬ উদ্ভাবন নিয়ে ৪ শতাধিক শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রদর্শন
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:২৬
নওগাঁ প্রতিনিধি

বিজ্ঞানের কৌতূহল, প্রযুক্তির নতুন ভাবনা আর উদ্ভাবনের স্বপ্ন। সব মিলিয়ে নওগাঁয় অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা। মেলায় নিজেদের সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার প্রকাশ ঘটিয়েছে চার শতাধিক শিক্ষার্থী। তাদের তৈরি ১০৬টি প্রকল্পে উঠে এসেছে বিজ্ঞানের নানা প্রয়োগ, প্রযুক্তিনির্ভর চিন্তা এবং আগামীর সম্ভাবনার কথা। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বেলা ১১টায় নওগাঁর বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে এ মেলার উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ মেলায় প্রতিষ্ঠানটির চার শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নিজেদের পরিকল্পনা, গবেষণাধর্মী চিন্তা ও উদ্ভাবনী ধারণা কাজে লাগিয়ে তারা উপস্থাপন করে ১০৬টি প্রকল্প। উদ্বোধনের পর মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন জেলা প্রশাসক। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবন সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

মেলায় শিক্ষার্থীদের প্রকল্পগুলোর মধ্যে বিশেষ আগ্রহ তৈরি করে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাতেমা জান্নাতের ‘উইন্ড পাওয়ার এলইডি চার্জিং সিস্টেম’। বায়ুশক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ধারণা নিয়ে কাজ করেছে সে। জ্বালানির বিকল্প উৎস অনুসন্ধানের ভাবনা থেকেই তার এ উদ্যোগ।

ফাতেমা জান্নাত নামের শিক্ষার্থী বলেন, বাংলাদেশে জ্বালানি সংকট একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ পরিস্থিতিতে বিকল্প উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চিন্তা থেকেই আমাদের এ প্রকল্প। ব্যাটারি ছাড়াই বায়ুশক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ধারণা তুলে ধরেছি আমরা। বিজ্ঞান মেলায় অংশ নিয়ে নিজেদের মেধা ও সৃজনশীলতাকে উদ্ভাবনী কাজে লাগানোর সুযোগ পাচ্ছি।

নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আদিত্য চৌধুরী বলেন, বিজ্ঞান মেলা তাদের প্রচলিত চিন্তার বাইরে নতুন কিছু ভাবতে এবং নিজেদের ধারণা সবার সামনে তুলে ধরতে উৎসাহিত করে। এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত অব্যাহত থাকলে শিক্ষার্থীরা আরও নতুন নতুন উদ্ভাবনে আগ্রহী হবে।

বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শরিফুর রহমান বলেন, প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় এবারও বিজ্ঞান মেলার আয়োজন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে থাকা সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটানো এবং তাদের চিন্তা ও উদ্ভাবনী ধারণা সবার সামনে তুলে ধরাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। মেলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের সৃজনশীলতা প্রকাশের পাশাপাশি নতুন কিছু করার অনুপ্রেরণা পাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ানো এবং তাদের উদ্ভাবনী চিন্তাকে উৎসাহিত করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছি। পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানকে বাস্তবমুখী চিন্তার সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ও নতুন কিছু আবিষ্কারের আগ্রহও বাড়ে। নওগাঁয় আয়োজিত এ বিজ্ঞান মেলা শিক্ষার্থীদের সেই সম্ভাবনা তুলে ধরার একটি ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে বলে মনে করছি।


নির্বাচিত

ভবন নির্মাণে আইনবহির্ভূত কাজ করলে আইনের আওতায় আনা হবে: গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভবন নির্মাণের সময় কেউ আইনবহির্ভূত কাজ করলে তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে রাজশাহী মহানগরীর ১ নম্বর ওয়ার্ডের সড়ক নম্বর সংবলিত পিলারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘সম্প্রতি রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় অনেকেই বাধা প্রদান করছেন। সরকারের এ ধরনের কাজে যারা বাধা দিচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

এদিন সকাল থেকে রাজশাহী নগরীতে চলমান এবং উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ঘুরে দেখেন মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। দুপুরে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর তিনি ‘আরডিএ প্রান্তিক আবাসিক এলাকা’র উদ্বোধন করেন এবং সেখানকার একটি পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।

এছাড়াও নাটোর রোড (রুয়েট) থেকে রাজশাহী বাইপাস রোড পর্যন্ত সংযোগ সড়ক ও ফ্লাইওভারের উদ্বোধন শেষে সেখানে বৃক্ষরোপণ করেন মন্ত্রী। এ সময় আরডিএ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট, আরডিএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট তার বক্তব্যে বলেন, ‘উন্নত বিশ্বের শহরগুলোর মতো রাজশাহীর প্রতিটি ওয়ার্ডের প্রতিটি সড়কে নম্বর প্রদান করে নম্বর সংবলিত পিলার তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। অচিরেই পুরো নগরীতে এই কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।’


নির্বাচিত

কুমিল্লায় নিখোঁজ চার স্কুলছাত্রী উদ্ধার, মোবাইল বিক্রি করে যায় ঢাকায়

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লা থেকে নিখোঁজ হওয়া চার স্কুলছাত্রীকে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ছেলের সঙ্গে পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতার সূত্র ধরে বাড়ি ছাড়ে তারা। পরিবারের ব্যবহৃত একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন বিক্রি করে পাওয়া টাকা নিয়ে প্রথমে ঢাকায় যায়। পরে সেখান থেকে ঝুমুরের দাদাবাড়ি হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে চলে যায় তারা।

উদ্ধার হওয়া চার শিক্ষার্থী হলো কুমিল্লা পুলিশ লাইন্স সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহিন আক্তার (১২), ঝুমুর (১২), সোনিয়া (১৩) এবং তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাত (৮)। জান্নাত মাহিনের ছোট বোন।

গত সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয় তারা। তবে স্কুলে উপস্থিত হয়নি কেউই। বিকেলে বিষয়টি স্কুল কর্তৃপক্ষের নজরে এলে পুলিশকে জানানো হয়। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। গত

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।

তিনি জানান, বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং দেশের বিভিন্ন থানায় বার্তা পাঠানোর পর হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানা পুলিশের সহায়তায় চার ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, শিক্ষার্থীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিক্রি করা মোবাইল ফোন ও অন্যান্য আলামত উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ ঘটনায় অভিভাবকদের সন্তানদের অনলাইন কার্যক্রম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।


নির্বাচিত

মাগুরায় ৫০০ নারী-পুরুষ পেলেন বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাগুরা প্রতিনিধি

মাগুরায় ব্র্যাকের উদ্যোগে বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা ও চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রায় ৫০০ নারী-পুরুষকে চক্ষু পরীক্ষা, চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি বিনামূল্যে চশমা প্রদান করা হয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) মাগুরা সদর উপজেলার ১৭ নম্বর বারাশিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। ‘দৃষ্টি ফিরে পাওয়ার পথ—গ্রামীণ চক্ষু সেবার উদ্যোগ’ প্রতিপাদ্যে ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচির মাগুরা সদর অফিস এ উদ্যোগ গ্রহণ করে। চিকিৎসাসেবা দেয় ফরিদপুরের ইসলামী চক্ষু হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল।

ক্যাম্পে আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে রোগীদের চোখ পরীক্ষা করা হয়। পাশাপাশি প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়। নিকটদৃষ্টির সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বিনামূল্যে চশমা দেওয়া হয়।

আয়োজকরা জানান, গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অনেক মানুষ আর্থিক অসচ্ছলতা, সচেতনতার অভাব এবং চিকিৎসাসেবার সীমিত সুযোগের কারণে সময়মতো চোখের চিকিৎসা নিতে পারেন না। বিশেষ করে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ছানি, দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া ও চোখের অন্যান্য সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় চক্ষু চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ক্যাম্পে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাকের রিজিওনাল ম্যানেজার ফারহানা বিনতে সেলিম, আবু মুছা আশয়ারী, সাউথইস্ট ডিভিশনের ডিভিশনাল কো-অর্ডিনেটর (লিড জেনারেশন) মো. জামির আলী, মাগুরার পারনান্দুয়ালী শাখার কর্মকর্তা মো. তানভীর হোসেন, মাগুরা সদর শাখার ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক ও ইয়াং প্রফেশনাল অভিষেক রায়, রিজিওনাল কো-অর্ডিনেটর মো. নজরুল ইসলাম এবং সুনীল মিস্ত্রি।

এ সময় ইসলামী চক্ষু হাসপাতাল, ফরিদপুরের চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও সহকারী সার্জন ডা. মো. আরাফাত হোসেন এবং আশীষ কুমার সাহা উপস্থিত থেকে চিকিৎসাসেবায় সহযোগিতা করেন।

সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে চক্ষুস্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়বে এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষ সহজে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাবেন।


নির্বাচিত

ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ বিনষ্ট করলে ছাড় নয়: এমপি জাহান্দার আলী

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাদারীপুর প্রতিনিধি

জনপ্রিয় মোবাইল কোম্পানি ‘ভিভো’ এর নারায়ণগঞ্জ ‘রিজনের’ তৃতীয় ব্রাঞ্চ মাদারীপুরের প্রধান ব্যবসায়িক কেন্দ্র পুরান বাজারে উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে এর উদ্বোধন করেন মাদারীপুর সদর-২ আসনের সংসদ সদস্য, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য জাহান্দার আলী মিয়া (এমপি)। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উক্ত কোম্পানির চায়না ডেলিগেট মি. ডুক্সিন, মি. এ্যান্ড্রু, মাদারীপুর বণিক সমিতির সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন (শফিক খান), বিএনপি নেতা মর্তুজা আলম ঢালি, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোস্তাক আহম্মেদ, কাজী লিপু, নান্নু গৌড়াসহ ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও গণমাধ্যম কর্মীরা।

উদ্বোধনকালে এক বক্তব্যে এমপি জাহান্দার আলী মিয়া বলেন, ‘বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের উদার ও উন্মুক্ত বাণিজ্যনীতির পরিবেশ তৈরিতে বদ্ধ পরিকর। বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল করে দেশ ও জনসাধারণকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করার পাশাপাশি কৃষি-শিক্ষা-শিল্প, খেলাধুলা, সবুজ বনায়ন, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, প্রবাসী কার্ড, খাল খনন, কৃষি ভর্তুকি, মাদকে জিরো টলারেন্স, চাঁদাবাজ- দুর্নীতিবাজ দমন, কিশোরগ্যাং ও মবের মতো বেআইনি কার্যকলাপ বন্ধে কঠোর ভূমিকায় রয়েছেন বর্তমান সরকারপ্রধান। ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ বিনষ্ট করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’ এ ছাড়াও তিনি বলেন, ‘দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী ব্যবসায়ী সমাজ- যারা দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখছেন, মাদারীপুরের ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করে ব্যবসায়ীদের নিরাপদ-নির্বিঘ্ন রাখা আমাদের নৈতিক কর্তব্য, সরকারের উদারনীতি হলো- তাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বিধান। কেননা, স্বৈরাচারী আমলে ঝিমিয়ে পড়া ও বর্তমানতা ক্রমবর্ধমান সচল হওয়া ব্যবসা কেন্দ্র যেকোনো মূল্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।’ ‘ভিভো’ মাদারীপুরের নতুন ব্রাঞ্চের কর্ণধার ও ডিলার আল মামুন এক সাক্ষাৎকারে রাজনীতিবিদ, প্রশাসন, ব্যবসায়ী, সুশীল সমাজ, সাধারণ মানুষ, গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ সর্বস্তরের মানুষের কাছে তাদের ব্যবসা প্রসারে সহযোগিতা চেয়ে সাশ্রয়ী মূল্যের বিশ্বমানের এই অত্যাধুনিক প্রোডাক্টস ব্যবহারের আমন্ত্রণ জানান।


নির্বাচিত

চাঁদপুরে মা ইলিশ সংরক্ষণে কোস্ট গার্ডের জনসচেতনতামূলক অভিযান

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দেশের সুবিশাল সমুদ্র, উপকূলীয় এবং নদী তীরবর্তী অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি মৎস্য সম্পদ রক্ষায় জাটকা নিধন প্রতিরোধ, মা ইলিশ সংরক্ষণ এবং সমুদ্রে মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে গুরুত্বসহকারে দায়িত্ব পালন করে আসছে।

মা ইলিশ সংরক্ষণে চাঁদপুরে নিয়মিত অভিযানসহ জনসচেতনতামূলক এই কার্যক্রম পরিচালনা করে কোস্ট গার্ড। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ‘মা ইলিশ’ সংরক্ষণ ও নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিতকল্পে গত ০৮ অক্টোবর থেকে আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহণ, মজুদ, বাজারজাতকরণ ও ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। এ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে কোস্ট গার্ড তার দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত টহল, বিশেষ অভিযান ও কঠোর নজরদারি কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

‘মা ইলিশ সংরক্ষণ-২০২৬’ সফলভাবে বাস্তবায়ন ও সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে কোস্ট গার্ড কর্তৃক নদী ও সমুদ্র উপকূলে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং সার্বক্ষণিক টহল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি জেলেদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ও আলোচনা সভার মাধ্যমে সকলকে আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে। একই সাথে জেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মা ইলিশ সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনা করে আইনভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি “আজকের সংরক্ষণই আগামী দিনের প্রাচুর্য”। আসুন, সবাই মিলে নিষেধাজ্ঞা মেনে চলি এবং মা ইলিশ রক্ষার মাধ্যমে সুনীল অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে সহায়তা করি।

মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনসহ যেকোনো অনিয়মের তথ্য জানাতে কোস্ট গার্ডের জরুরি সেবা নম্বর ১৬১১১-এ কল করার জন্য সর্বসাধারণকে আহ্বান জানাচ্ছি।


নির্বাচিত

অষ্টগ্রামে পূজা মণ্ডপের অর্থ সংক্রান্ত বিরোধের অবসান, সমঝোতায় উপ-কমিটি গঠন

অষ্টগ্রামে পূজা ঘিরে উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও পূজা কমিটির সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় সমঝোতার মাধ্যমে একটি উপ-কমিটি গঠন। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
​মো. নজরুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ (অষ্টগ্রাম-মিঠামইন) প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে পূজা মণ্ডপের অর্থ সংক্রান্ত বিরোধ ও প্রকাশিত সংবাদের জেরে উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে অবসান ঘটেছে। এ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও পূজা কমিটির সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় সমঝোতার মাধ্যমে একটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে।

​উপজেলা সম্প্রসারিত প্রশাসনিক ভবন মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাথী দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মজনু মিয়া, উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মুকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শাহীন, উপজেলা প্রেস ক্লাব সভাপতি নজরুল ইসলাম সাগর, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ অষ্টগ্রাম শাখার আহবায়ক দেবেশ চন্দ্র দাস, সদস্য সচিব জীবন ময় শীল, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট অষ্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক অজিত দত্ত ও বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট অষ্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক অসীম বনিকসহ বিভিন্ন মণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকগণ উপস্থিত ছিলেন।

​সভায় উভয় পক্ষের বক্তব্য ও সাক্ষীদের কথা শুনে উদ্ভূত সমস্যার সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাধান করা হয়। পূজা পরিচালনা ও অনুদানের অর্থ সুষ্ঠুভাবে ব্যয়ের লক্ষ্যে সর্বসম্মতিক্রমে জীবন ময় শীলকে আহ্বায়ক এবং অজিত দত্ত, অসীম বনিক, নজরুল ইসলাম সাগর, হেমচন্দ্র ঋষি দাস ও সুকুমার চন্দ্র দাসকে সদস্য করে ৬ সদস্যবিশিষ্ট একটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়।


নির্বাচিত

নির্বাচনি পরিবেশ ভালো, ঠাকুরগাঁওয়ে সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন হবে না: নির্বাচন কমিশনার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করার কোনো প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সাধারণ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এই উপনির্বাচনে প্রায় তিন গুণ বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে নির্বাচনী পরিবেশ অত্যন্ত সন্তোষজনক রয়েছে। ভোটকেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের পাশাপাশি পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে।

বুধবার সকাল ১০টায় ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভাকক্ষে উপনির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল, ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

সভায় নির্বাচন কমিশনার একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ উপনির্বাচন সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার কঠোর নির্দেশ দেন। এছাড়া নির্বাচনী আচরণবিধি শতভাগ প্রতিপালন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং ভোটাররা যেন কোনো ধরনের ভীতি ছাড়াই নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।

উক্ত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। সভাপতিত্ব করেন ঠাকুরগাঁও জেলার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম।

সভায় উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা, নির্বাচনী পরিবেশ সমুন্নত রাখা এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যকার পারস্পরিক সমন্বয় জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের এই উপনির্বাচন সম্পূর্ণ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের তাগিদ দেওয়া হয়।


নির্বাচিত

টঙ্গীতে ওষুধ কারখানায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

গাজীপুরের টঙ্গীর চেরাগ আলী এলাকায় রাষ্ট্রীয় ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড’-এর কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

আজ বুধবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে ওই ওষুধ কারখানায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে দ্রুত টঙ্গী ফায়ার স্টেশনের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট সংখ্যা আরও বাড়ানো হয়।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এছাড়া অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবরও পাওয়া যায়নি। আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে।


নির্বাচিত

কিস্তি শোধেই শেষ আয়ের বড় অংশ, ঋণচক্রে দরিদ্র পরিবার

* ক্ষুদ্রঋণের প্রকৃত সুদ ২৭ শতাংশ * মহাজনি ঋণে ৫০–৬০ শতাংশ * কৃষিযন্ত্র কিনতেও বাড়ছে ঋণনির্ভরতা
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসার আশায় ঋণ নিচ্ছেন গ্রামের অসচ্ছল মানুষ। কিন্তু সেই ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতেই ফুরিয়ে যাচ্ছে আয়ের বড় অংশ। সংসারের খাবার, সন্তানের শিক্ষা, চিকিৎসা কিংবা উৎপাদনশীল কাজে ব্যয়ের জন্য হাতে থাকছে সীমিত অর্থ। ফলে ঋণ নিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার বদলে অনেক পরিবার জড়িয়ে পড়ছে ঋণ পরিশোধের এক অন্তহীন চক্রে। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) এক গবেষণায় উঠে এসেছে গ্রামীণ দরিদ্র পরিবারের এমন উদ্বেগজনক চিত্র।

গবেষণায় দেখা গেছে, হতদরিদ্র পরিবারের ৭৯ শতাংশ তাদের আয়ের ৪০ শতাংশের বেশি ব্যয় করে বিভিন্ন ক্ষুদ্রঋণ সংস্থা ও স্থানীয় মহাজনদের ঋণের কিস্তি পরিশোধে। ২০১০ সালে এ ধরনের পরিবারের হার ছিল ৪৯ শতাংশ। অর্থাৎ, এক দশকের বেশি সময়ে ঋণের কিস্তির চাপে থাকা হতদরিদ্র পরিবারের অনুপাত উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

গত সোমবার বিআইডিএস ও আন্তর্জাতিক খাদ্যনীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইএফপিআরআই) আয়োজিত এক কর্মশালায় গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়। ‘দ্য স্ট্রাকচারাল ট্রান্সফরমেশন অব বাংলাদেশ’স রুরাল ক্রেডিট মার্কেট সিন্স ২০০০: এভিডেন্স ফ্রম ন্যাশনালি রিপ্রেজেন্টেটিভ সার্ভেজ’ শীর্ষক গবেষণায় গ্রামীণ ঋণবাজারের পরিবর্তন, ঋণের উৎস এবং কৃষিতে অর্থায়নের চিত্র বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

বিআইডিএসের গবেষণা পরিচালক কাজী ইকবাল জানান, সব ঋণগ্রহীতার মধ্যে আয়ের ৪০ শতাংশের বেশি কিস্তি পরিশোধে ব্যয় করেন এমন মানুষের হার ২০১০ সালের ২২ শতাংশ থেকে বেড়ে বর্তমানে ৪১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে দুই বা তার বেশি ঋণ নেওয়া পরিবারের হার ২৭ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৩৩ শতাংশ।

গবেষকের ভাষ্য, এ প্রবণতা দরিদ্র মানুষের ঋণনির্ভরতা বাড়ার ইঙ্গিত দেয়। তবে ঋণের বোঝা বৃদ্ধির পেছনে কোন কোন কারণ কতটা ভূমিকা রাখছে, তা এই গবেষণায় সরাসরি অনুসন্ধান করা হয়নি।

ঋণ সহজলভ্য, কিন্তু খরচ কমছে না: গ্রামীণ ঋণবাজারে ক্ষুদ্রঋণ সংস্থাগুলোর প্রভাব এখন ব্যাপক। গবেষণা অনুযায়ী, গ্রামীণ এলাকার প্রতি চারটি ঋণের তিনটিই আসে এনজিও বা ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান থেকে। ঋণদাতার সংখ্যা ও ঋণ পাওয়ার সুযোগ বাড়লেও ঋণের প্রকৃত খরচ কমেনি উল্লেখযোগ্যভাবে।

গবেষণায় ক্ষুদ্রঋণের প্রকৃত সুদের হার প্রায় ২৭ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো কাগজে-কলমে ১৫ শতাংশ সুদের কথা বললেও ঋণের প্রকৃত খরচ হিসাব করলে হারটি বেড়ে যায়। তুলনায় ব্যাংকঋণের সুদের হার প্রায় ১০ শতাংশ। অন্যদিকে, স্থানীয় মহাজনদের কাছ থেকে ঋণ নিলে সুদের হার ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

কাজী ইকবালের মতে, ঋণদাতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়লেও ক্ষুদ্রঋণের প্রকৃত সুদ কমানোর ক্ষেত্রে তা কার্যকর হয়নি। তার ভাষ্য, উচ্চ সুদেও ঋণের চাহিদা ব্যাপক থাকায় সুদের হার কমছে না।

ঋণের খরচ কমাতে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটিকে (এমআরএ) আরও কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তার মতে, বড় ও জাতীয় পর্যায়ের এনজিওগুলো চাইলে সুদের হার কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

কৃষিতে ঋণের ব্যবহার কমছে: গবেষণায় গ্রামীণ ঋণের ব্যবহারে পরিবর্তনের চিত্রও উঠে এসেছে। আগে গ্রামীণ ঋণের বড় অংশ কৃষিতে ব্যয় হলেও এখন এ খাতে ঋণের ব্যবহার ২৫ শতাংশ থেকে কমে ১৬ শতাংশে নেমেছে। গবেষকেরা একে অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তনের একটি লক্ষণ হিসেবে দেখছেন।

কৃষিঋণের অর্থ মূলত সার, বীজ, গবাদি পশু কেনা এবং জমি ভাড়ার খরচ মেটাতে ব্যবহৃত হয়। আধুনিক কৃষিযন্ত্র কেনার ক্ষেত্রে এর ব্যবহার তুলনামূলক কম। নগদ টাকায় জমি ভাড়া নিয়ে চাষ করেন এবং বর্গাচাষি—এমন কৃষকেরাই বেশি ঋণ নেন। তবে ব্যাংকঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে জমির মালিকানা এখনো গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।

কৃষিযন্ত্র কিনতেও ঋণের চাপ: কর্মশালায় আইএফপিআরআইয়ের আরেক গবেষণায় কৃষিযন্ত্র কেনার অর্থায়নসংকটের চিত্র তুলে ধরা হয়। এতে দেখা যায়, কৃষিযন্ত্র কেনার ক্ষেত্রে ব্যাংক মাত্র ২ থেকে ৭ শতাংশ অর্থায়ন করে। কম্বাইন হারভেস্টর মালিকদের মাত্র ৫ শতাংশ ব্যাংকঋণ নিয়ে যন্ত্রটি কিনেছেন। অন্যদের মধ্যে ৩২ শতাংশ আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে, ২৭ শতাংশ এনজিও বা ক্ষুদ্রঋণ সংস্থা থেকে এবং ৮ শতাংশ স্থানীয় মহাজনদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছেন। তবে অর্থায়নের প্রধান উৎস যন্ত্রপাতি বিক্রয়কারী ডিলাররা। তারা হারভেস্টরের মোট দামের প্রায় ৫৭ শতাংশ পর্যন্ত বাকিতে কেনার সুযোগ দেন, যা ১৮ মাসের মধ্যে পরিশোধ করতে হয়। জামানত হিসেবে অনেক ক্ষেত্রে ডিলাররা সই করা ফাঁকা চেক রাখেন।

যন্ত্র মেরামতের খরচও মালিকদের জন্য বড় চাপ। হারভেস্টর মালিকদের এক-তৃতীয়াংশ মেরামতের অর্থ জোগাতে ঋণ নেন। তাদের বড় অংশ আত্মীয়স্বজন বা মহাজনদের দ্বারস্থ হন। উদ্বেগের বিষয়, এসব মেরামতসংক্রান্ত ঋণের প্রায় অর্ধেকই পরিশোধ করা সম্ভব হয় না।

এ ছাড়া হারভেস্টর মালিকদের আয়ের প্রায় ৬৪ শতাংশ আসে এপ্রিল থেকে জুন মাসে। ফলে বছরের বাকি নয় মাস তাঁদের অনেককেই অর্থসংকট সামলাতে হয়। আয় ও কিস্তি পরিশোধের সময়ের এই অসামঞ্জস্য ঋণ পরিশোধকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৃষিযন্ত্রকে জামানত হিসেবে বিবেচনা করে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা বা ‘মেশিনারি-ব্যাকড লোন’ চালুর পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকেরা। পাশাপাশি ফসলের মৌসুমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কিস্তি নির্ধারণ এবং অন্তত তিন বছরের দীর্ঘমেয়াদি ঋণ পরিশোধের সুযোগ দেওয়ার সুপারিশ করেছেন তাঁরা। অন্যের জমিতে যন্ত্র দিয়ে কৃষিসেবা দেওয়াকেও কৃষিকাজ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে কৃষিঋণের প্রচলিত নিয়ম সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছেন গবেষকেরা।

ঝুঁকি ভাগাভাগিতে পশুপালনের উদ্যোগ: কর্মশালায় আইএফপিআরআই ও উইগ্রোর আরেকটি গবেষণায় গবাদি পশু পালনে ঝুঁকি ভাগাভাগির একটি মডেল পর্যালোচনা করা হয়। এ ব্যবস্থায় উইগ্রো গরু কেনার পুরো অর্থ দেয় এবং লাভের এক-তৃতীয়াংশ নেয়। বাকি দুই-তৃতীয়াংশ পান কৃষক। কোনো কারণে লাভ না হলে কৃষককে উইগ্রোকে অর্থ পরিশোধ করতে হয় না। এ ধরনের ব্যবস্থা কৃষকের প্রাথমিক পুঁজি ও লোকসানের ঝুঁকি কমাতে পারে কি না, তা গবেষণার বিষয় ছিল।

কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন কৃষি সচিব মো. সেলিম খান, এমআরএর নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের। এতে সভাপতিত্ব করেন বিআইডিএসের মহাপরিচালক অধ্যাপক এ কে এনামুল হক।

গবেষণার তথ্য বলছে, শুধু ঋণ পাওয়ার সুযোগ বাড়ালেই দরিদ্র মানুষের আর্থিক অবস্থার উন্নতি নিশ্চিত হয় না। ঋণের প্রকৃত খরচ, আয় ও কিস্তির সময়ের সামঞ্জস্য এবং উৎপাদনশীল খাতে অর্থায়নের সুযোগও গুরুত্বপূর্ণ। এসব ক্ষেত্রে কার্যকর পরিবর্তন না এলে ঋণ অনেক পরিবারের জন্য দারিদ্র্য থেকে উত্তরণের পথ না হয়ে আর্থিক চাপের স্থায়ী উৎস হয়ে থাকতে পারে।


নির্বাচিত

চাকরির প্রলোভনে মানবপাচার, এক মাসে গ্রেপ্তার ১৮

* ইতালি পাঠানোর কথা বলে লিবিয়ায় পাচার * ভুয়া ভিসায় লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ * মালয়েশিয়ায় আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক 

বিদেশে চাকরি ও উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে প্রতারণা, মানবপাচার এবং মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত আলোচিত পাঁচটি ঘটনায় মোট ১৮ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে মালয়েশিয়াগামী নৌযান থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের ঘটনায় ১৩ জন, লিবিয়ায় পাচারের অভিযোগে দুজন এবং ইউরোপে পাঠানোর প্রলোভনে প্রতারণার অভিযোগে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সর্বশেষ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) মালয়েশিয়ায় কাজের প্রলোভনে নিয়ে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন মাসুদ করিম (৫০)।

মালয়েশিয়ায় আটকে রেখে মুক্তিপণ: মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর পল্টনের পলওয়েল মার্কেট এলাকা থেকে মাসুদ করিমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। অভিযোগ, দুই ব্যক্তিকে ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় মালয়েশিয়ায় পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভিজিট ভিসায় নেওয়া হয়। পরে বিমানবন্দরের বাইরে তাদের আটকে রেখে স্বজনদের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে দুই লাখ টাকা আদায়ের তথ্য পেয়েছে সিআইডি। মাসুদ করিমের মালিকানাধীন তাহসিন ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের বিরুদ্ধেও অর্থ পাচারের অভিযোগে মামলা হয়েছে।

ইতালির স্বপ্ন দেখিয়ে লিবিয়ায় পাচার: ৬ অক্টোবর সিআইডি ঢাকার আশকোনা এলাকা থেকে মো. আতিকুর রহমান থমাস (৩২) ও মো. বদিউল আলম ভূঁইয়া ওরফে বেলালকে (৫৪) গ্রেপ্তার করে। অভিযোগ, এক যুবককে ইতালিতে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের কাছ থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রায় ১২ লাখ ৬৭ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। লিবিয়ায় তাকে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগও করেন ভুক্তভোগী। দেশে ফিরে মামলা করার পর তদন্তে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ইউরোপে পাঠানোর নামে লাখ লাখ টাকা: ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার বনানী থেকে মোহাম্মদ আরজুর রহমানকে (৪৭) গ্রেপ্তার করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। ইউরোপে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ ও মানবপাচারের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে; কোনো কোনো ক্ষেত্রে অর্থের পরিমাণ ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত। তার একটি ব্যাংক হিসাবে এক বছরে প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ ৭৫ হাজার টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। চক্রটির মাধ্যমে দুই হাজারের বেশি বাংলাদেশি প্রতারণা বা পাচারের শিকার হয়ে থাকতে পারেন বলে প্রাথমিক ধারণা দিয়েছে এসআরবি।

জাল ভিসায় ইতালি পাঠানোর অভিযোগ: গত সোমবার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কামাল হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। তিনজনকে জাল ভিসায় ইতালি পাঠানোর অভিযোগে করা মামলায় এর আগে ১৬ জুন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের গ্রাউন্ড অফিসার আকলাসুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

মালয়েশিয়াগামী নৌযান থেকে উদ্ধার ৭৬ জন: ৩০ সেপ্টেম্বর সেন্ট মার্টিনের কাছাকাছি সাগরে একটি নৌযান থেকে ৭৬ জনকে উদ্ধার করে নৌবাহিনী। প্রথমে ১১ জনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হলেও পরবর্তী তদন্তে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৬৩ জনকে পাচারের শিকার হিসেবে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে; তাদের মধ্যে ১৪ জন রোহিঙ্গা। জনপ্রতি আড়াই লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।


নির্বাচিত

ঢাকা-কুমিল্লায় হচ্ছে নতুন উড়াল রেলপথ

* চট্টগ্রামের দূরত্ব কমবে ৮০ কিমি * ব্যয় প্রায় ৮৪ হাজার কোটি টাকা
ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক    

ঢাকার শ্যামপুর থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত ৮১ কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন ‘কর্ডলাইন’ বা বিকল্প পথ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবিত এই রেলপথের পুরোটাই হবে উড়াল (এলিভেটেড)। এটি বাস্তবায়ন হলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের রেলপথে দূরত্ব কমবে ৮০ কিলোমিটার এবং যাতায়াতের সময় কমবে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে সরকারের কার্যক্রম সম্পর্কে জানাতে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান এ তথ্য জানান। লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমেও সাংবাদিকদের বিষয়টি অবহিত করা হয়।

জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৩ হাজার ৯০১ কোটি টাকা। জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হওয়ার পর প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সময় লাগবে চার বছর। তবে প্রস্তাবিত এই রেলপথটি পুরোপুরি উড়াল হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে রেলপথ মন্ত্রণালয় উড়াল রেলপথ নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে। ৫ অক্টোবর এ–সংক্রান্ত প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপন করা হয়।

তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, পুরো রেলপথ উড়াল কাঠামোয় নির্মিত হলে প্রায় ৩২২ একর জমি সাশ্রয় হবে। মাটির বাঁধ ও উড়াল কাঠামোর মিশ্রণে রেলপথটি তৈরি করা হলে ব্যয় হতো প্রায় ৭৩ হাজার ৫৭৭ কোটি টাকা। অন্যদিকে সম্পূর্ণ উড়ালপথ বেছে নেওয়ায় অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১০ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা।

প্রকল্পের কারিগরি দিক তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এই পথে ভবিষ্যতে বৈদ্যুতিক ট্রেন পরিচালনা করা সম্ভব হবে। ডাবল ট্র্যাকের ব্রডগেজ এই রেলপথ ২৫ টন ‘এক্সেল লোড’ বহনে সক্ষম হবে। এর নকশাগত সর্বোচ্চ গতি হবে ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার এবং পরিচালনগত সর্বোচ্চ গতি ধরা হয়েছে ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার।


নির্বাচিত

banner close