সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
১৮ কার্তিক ১৪৩৩

হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধ সংস্কারে ধীরগতির অভিযোগ

ছবিটি নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুরী উপজেলার হাওর অঞ্চল থেকে তোলা। ছবি: দৈনিক বাংলা
নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত
নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১০:২৫

নেত্রকোনায় হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধ সংস্কারে ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে। এদিকে সময়মতো কাজ শেষ না হলে আগাম বন্যায় কৃষকের বোরো ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নেত্রকোনার সাত উপজেলার ১৩৪টি হাওরে এবারও হুমকির মুখে রয়েছে বোরো ফসল। চলতি বছরের ২৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ফসলরক্ষা বাঁধ সংস্কারের কাজ শেষ করার কথা থাকলেও কোনো কোনো স্থানে এখনো শুরুই হয়নি কার্যক্রম।

নিয়মানুযায়ী বাঁধ সংস্কারের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) কাজে সরাসরি জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে যুক্ত করা হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নসহ তদারকিতে জেলা প্রশাসককে সভাপতি ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নেত্রকোনার নির্বাহী প্রকৌশলীকে সদস্যসচিব করে জেলা কমিটি করা হয়। এ ছাড়া উপজেলা পর্যায়ে নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) সভাপতি ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) একজন কর্মকর্তাকে সদস্যসচিব করে উপজেলা কমিটি গঠন করা হয়। মূলত উপজেলা কমিটি প্রকল্প নির্ধারণ ও পিআইসি গঠন করে জেলা কমিটিতে পাঠায়। পরে জেলা কমিটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। প্রতিটি প্রকল্পের জন্য প্রকৃত কৃষক ও স্থানীয় সুবিধাভোগীদের নিয়ে পাঁচ থেকে সাত সদস্যের একটি পিআইসি থাকে। একটি পিআইসি সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকার কাজ করতে পারে।

পাউবো সূত্র জানায়, হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের নির্মাণকাজ ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে শুরু এবং ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার কথা। এর আগে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে পিআইসি গঠন এবং ৩০ অক্টোবরের মধ্যে প্রকল্প নির্ধারণের কাজ চূড়ান্ত হওয়ার কথা। কিন্তু পানি ধীরগতিতে নামায় প্রকল্প নির্ধারণের কাজ চূড়ান্ত করতে দেরি হয়। পিআইসি গঠিত হলেও পানির কারণে সব বাঁধের কাজ এখনো শুরু করা সম্ভব হয়নি।

পাউবো নেত্রকোনা জেলা অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় পাউবোর অধীন প্রায় ৩৬৫ কিলোমিটার ডুবন্ত (অস্থায়ী) বাঁধ রয়েছে। এসব বাঁধের ওপর স্থানীয় কৃষকদের প্রায় ৪২ হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল নির্ভর করে। এ ফসলের ওপর নির্ভর করে কৃষকদের সারা বছরের সংসার খরচ চলে।

নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুরী, মোহনগঞ্জ, মদন, কলমাকান্দা, দুর্গাপুর, বারহাট্টা, আটপাড়া উপজেলায় রয়েছে ছোট বড় ১৩৪টি হাওর। এ ছাড়া অন্যান্য এলাকার তুলনায় পূর্বধলা উপজেলায় পরিমাণে কম জলাশয় রয়েছে। এর মধ্যে খালিয়াজুরীতে ৮৯টি হাওর রয়েছে। আর এখানে রয়েছে ১৮০ কিলোমিটার ডুবন্ত অস্থায়ী বাঁধ। এর মধ্যে ১১০টি প্রকল্পের মাধ্যমে ৯২ কিলোমিটার বাঁধ সংস্কার করা হচ্ছে।

বিভিন্ন তথ্য সূত্রে জানা যায়, খালিয়াজুরী উপজেলায় ১০৮টি প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২০ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, মদনের ২৫টি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ ধরা হয় ৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকা, মোহনগঞ্জে ২৬টি পিআইসি প্রকল্পের জন্য ৪ কোটি ৪১ লাখ টাকা, কলমাকান্দায় ৭টি প্রকল্পের জন্য ব্যয় ধরা হয় ১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, বারহাট্টায় ৯টি প্রকল্পের জন্য ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা, পূর্বধলায় ২টি প্রকল্পের জন্য ৪৫ লাখ টাকা, আটপাড়ায় একটি প্রকল্পের জন্য ১১ লাখ টাকা। এর মধ্যে এ বছরে বরাদ্দ পাওয়া গেছে ১৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা।

জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার কীর্তনখলা হাওরের একাধিক কৃষক বলেন, তারা ঋণ করে বোরোর আবাদ করছেন। বাঁধের কাজ এ বছর ঠিক সময়ে শুরু হয়নি। এ কারণে সময়মতো কাজ শেষ হওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তারা। আগাম বন্যার পানিতে ফসল নষ্ট হলে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে।

খালিয়াজুরী হাওর রক্ষা পরিষদের সভাপতি স্বাগত সরকার শুভ বলেন, জাতীয় নির্বাচনের কারণে এবার স্থানীয় প্রশাসনের তদারকি অনেকটা কম ছিল। ফলে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজের তেমন অগ্রগতি হয়নি। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হলে পুরো হাওরের বোরো ফসল হুমকিতে থাকবে।

পাউবো নেত্রকোনা জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী সারওয়ার জাহান বলেন, ‘দ্রুতগতিতে কাজ হচ্ছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংস্কারকাজ শেষ করা সম্ভব হবে।’ তিনি আরও জানান, গত বছর জেলায় ৩৭ কোটি ৮১ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০৬টি পিআইসি গঠন করা হয়েছিল। এ বছর বাঁধের ক্ষতি কম হওয়ায় ২৮টি পিআইসি কম করা হয়েছে। ১৫৬ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণে গঠিত ১৭৮টি পিআইসির জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। জাতীয় নির্বাচন ও তীব্র শীতের কারণে কাজ শুরু করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হবে।

বিষয়:

নির্বাচিত

গাজীপুরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ১২০ কারখানা বন্ধ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ১২০টি শিল্পকারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টা থেকে জেলার ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কোনাবাড়ী, নাওজোড়, মৌচাক, কালিয়াকৈরের পল্লী বিদ্যুৎ ও হরিণহাটিসহ বিভিন্ন এলাকায় ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে আন্দোলনে নামেন শ্রমিকেরা। এ সময় তারা মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে দেন। পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার পাশাপাশি শতাধিক যানবাহন ভাঙচুর করা হয়। এতে শিল্পাঞ্চলে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এ পরিস্থিতিতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সকাল থেকেই এসব এলাকার ১২০টি কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে আগামীকাল থেকে কারখানাগুলো চালু হতে পারে বলে জানা গেছে।

এদিকে, গুরুত্বপূর্ণ এই শিল্পাঞ্চলে কারখানা বন্ধ থাকায় উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপরও।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন বলেন, কারখানাগুলোর নিরাপত্তার স্বার্থে সেগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। শ্রমিকেরা চালু থাকা কারখানাগুলোকে লক্ষ্য করেই হট্টগোল সৃষ্টি করেন।

তিনি আরও বলেন, সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে একদল শ্রমিক ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় অবস্থান নেন। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শিল্প পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যান চলাচল স্বাভাবিক করা ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ শুরু করেন।

বেলা ১২টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেন। এরপর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।


নির্বাচিত

মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে বাধার প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কি‌শোরগঞ্জ প্রতি‌নি‌ধি

কিশোরগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বি‌ক্ষোভ করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে জেলা শহরের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম চত্বরে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

‘বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, কিশোরগঞ্জ জেলা কমান্ড’-এর ব্যানারে আয়োজিত এ মানববন্ধনে জেলার ১৩ উপ‌জেলার মু‌ক্তি‌যোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা পি‌রোজপু‌রের মু‌ক্তি‌যোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানান। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মানিক পশারী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। নিজের জীবন বাজি রেখে যিনি দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছেন, তার গার্ড অব অনার, জানাজা ও দাফন নিয়ে এমন পরিস্থিতি অত্যন্ত দুঃখজনক। স্বাধীন বাংলাদেশে এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা এ ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধনে বক্তব্য দেন কি‌শোরগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য সচিব মো. হাবিবুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা বসির উদ্দিন ফারুকী, গিয়াস উদ্দিন, করিমগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান দুলাল শিকদার, হোসেনপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম, পাকুন্দিয়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য সচিব দেলোয়ার হোসেন মজলু, সদর উপজেলা মু‌ক্তি‌যোদ্ধা সংসদের সদস্য সচিব মুক্তিযোদ্ধা নূরুল হক, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মো. আসাদউল্লাহ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সভাপতি সারওয়ার আলম মাসুদ, সহসভাপতি শরিফ মিয়া ও উপদেষ্টা জামিল আনসারী প্রমুখ।

মানববন্ধন শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অংশগ্রহণে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, ‘একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী। ওই মামলায় সাঈদীর আমৃত্যু কারাদণ্ড হয়েছিল। ২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট রাতে কারা হেফাজতে চিকিৎসা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

বক্তাদের অভিযোগ, সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার বিষয়টি কেন্দ্র করে ক্ষোভের জেরে স্থানীয় জামায়াতের নেতা-কর্মীরা মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা, গার্ড অব অনার ও দাফনে বাধা দেন।


নির্বাচিত

সচেতনতা তৈরিতে তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে ঝিনাইদহে হয়েছে সচেতনতামূলক প্রামাণ্য অনুষ্ঠান ‘তারুণ্যের কণ্ঠ’। বাংলাদেশ বেতারের জনসংখ্যা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেলের আয়োজনে কাঞ্চননগর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা শহরের কাঞ্চন নগর স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রামাণ্য অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ মজিদ।

বাংলাদেশ বেতারের উপস্থাপক সজীব দত্তের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক মোহা. মোজাম্মেল করিম, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার (ক্লিনিক) ডা. মাহবুবা আখতার তাবীয়া, কাঞ্চননগর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রদীপ কুমার বিশ্বাসসহ সাংবাদিক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী ও অতিথিরা বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক, এর সামাজিক প্রভাব এবং প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে আলোচনা করেন। বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক সমস্যা। এটি প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সবাইকে সচেতন হতে হবে। এ ক্ষেত্রে তরুণ প্রজন্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বাল্যবিবাহমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।


নির্বাচিত

মাগুরায় নৌকা বাইচ ঘিরে মধুমতীর তীরে লাখো মানুষের ঢল

* ঐতিহ্যবাহী প্রতিযোগিতা ঘিরে দুদিনের মেলা * উৎসবে মেতে উঠল দুই পাড়ের মানুষ
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাগুরা প্রতিনিধি

মধুমতী নদীর বুকে বৈঠার ছন্দ, মাঝিদের গান আর দর্শনার্থীদের করতালিতে মুখর হয়ে উঠেছিল মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার এলাংখালী ঘাট এলাকা। ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা দেখতে নদীর দুই তীরে সমবেত হন লাখো মানুষ। গ্রামীণ ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও উৎসবের মেলবন্ধনে দিনব্যাপী এ আয়োজন পরিণত হয় এক বিশাল মিলনমেলায়। গত রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে মধুমতী নদীতে শুরু হয় বর্ণিল এই নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা। এতে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা সুসজ্জিত ১১টি নৌকা অংশ নেয়। রঙিন টি-শার্ট পরা মাঝিরা বাদ্যের তালে তালে গান গেয়ে বৈঠার ছন্দে নৌকা এগিয়ে নিতে থাকেন।

প্রতিযোগিতাকে ঘিরে নদীর দুই পাড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। এক পাশে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা, অন্য পাশে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলা। দুই উপজেলার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে নদীর দুই তীর পরিণত হয় জনসমুদ্রে। করতালি ও উল্লাসে মাঝিদের উৎসাহিত করেন দর্শনার্থীরা।

নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে দুই দিন আগে থেকেই মধুমতীর তীরে বসে বিশাল গ্রামীণ মেলা। শত শত অস্থায়ী দোকানে ছিল ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের ভিড়। মেলায় মিষ্টি, জিলাপি, বাতাসা, কদমা, বিভিন্ন ধরনের সন্দেশ ও পিঠাপুলির পাশাপাশি শিশুদের জন্য ছিল রঙিন বেলুন, কাঠের খেলনা এবং বাঁশ-বেতের তৈরি কুটির শিল্পসামগ্রী। মাটির তৈরি নানা শৌখিন পণ্যের দোকানও ছিল মেলার অন্যতম আকর্ষণ।

নৌকা বাইচ উপভোগ করতে দূরদূরান্ত থেকে আসেন বৃদ্ধ, তরুণ, নারী ও শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ। প্রতিবছর এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে মহম্মদপুর উপজেলার বিভিন্ন বাড়িতে আত্মীয়স্বজনের সমাগম ঘটে। অনেক পরিবারের কাছে দিনটি ঈদের আনন্দের মতোই বিশেষ। এ উপলক্ষে পুরো উপজেলায় তৈরি হয় উৎসবের আমেজ। বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম সামাল দিতে নেওয়া হয় বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বলেন, নদী আমাদের জীবন। নদীর প্রবাহের সঙ্গে আমাদের জীবনের প্রবাহ জড়িত। তাই নদীকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। নদী বেঁচে থাকলে আমাদের সংস্কৃতিও বেঁচে থাকবে।

তিনি আরও বলেন, গ্রামীণ মেলা, লাঠিখেলা ও নৌকা বাইচ বাংলার ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এসব আয়োজন ধরে রাখা আমাদের দায়িত্ব। গ্রামবাংলার সংস্কৃতি আমাদের শেকড়ের পরিচয় বহন করে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মাগুরা জেলা পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন (পিপিএম-সেবা), মাগুরা জেলা পরিষদের প্রশাসক আলী আহম্মেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আব্দুল কাদের, মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেদবতী মিস্ত্রী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদমান আকিব, মহম্মদপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মৈমুর আলী মৃধা, কাজী সালিমা হক মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এসএম ইউনুস আলী সরদার, মাগুরা জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক সাইদুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক এবং মহম্মদপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আজিজুর রহমান টুটুলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

রাতে প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এ আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে। ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে মধুমতীর তীরে মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আবারও তুলে ধরে গ্রামবাংলার সংস্কৃতি ও লোকজ ঐতিহ্যের প্রতি মানুষের গভীর ভালোবাসা।


নির্বাচিত

বর্জ্য দূষণে বিপর্যস্ত ভৈরবের মেঘনা, হুমকিতে জলজ প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য

ছবি: ভৈরব নদীর তীরে ময়লার স্তূপ।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

হাওরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত কিশোরগঞ্জের ভৈরব। মেঘনা নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই বন্দরনগরী দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র। তবে অপরিকল্পিত নগরায়ণ, জনসচেতনতার অভাব এবং যথাযথ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় দিন দিন দূষিত হচ্ছে ভৈরবের মেঘনা নদী। বিভিন্ন ধরনের ময়লা-আবর্জনা, প্লাস্টিক ও অপচনশীল বর্জ্য নদীতে ফেলার কারণে নষ্ট হচ্ছে পানির স্বাভাবিক গুণাগুণ। এতে হুমকির মুখে পড়ছে নদীর জলজ প্রাণী, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য।

আয়তনে ছোট হলেও ভৈরব একটি ঘনবসতিপূর্ণ জনপদ। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বর্জ্যের পরিমাণ। কিন্তু সেই অনুপাতে গড়ে ওঠেনি আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অবকাঠামো। শহরের বিভিন্ন স্থানে নদীর তীর ঘেঁষে দেখা যায় ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। কোথাও সরাসরি নদীতে ফেলা হচ্ছে পৌরসভার বর্জ্য। আবার কোথাও নদীর পাড়ে জমে থাকা প্লাস্টিক ও অন্যান্য আবর্জনা বৃষ্টির পানি এবং নদীর স্রোতের সঙ্গে মিশে পানিতে গিয়ে পড়ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে অপরিকল্পিত পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে দূষিত পানি নদীতে মিশছে। ফলে নদীর পানি দূষণের পাশাপাশি আশপাশের পরিবেশেও বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা এহসানুল হক পিন্টু বলেন, নদীকে কেন্দ্র করেই আজকের আধুনিক ভৈরব শহরের বিকাশ ঘটেছে। অথচ পরিকল্পনার অভাব ও জনসচেতনতা না থাকায় নদীর সঙ্গে যুক্ত খাল-বিলগুলো অবাধে ভরাট করা হচ্ছে। বাড়তি জনসংখ্যার আবাসন তৈরির জন্য একটি চক্র এসব জলাশয় ভরাট করছে। এতে নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, নদীতে সরাসরি পৌরসভার পয়োনিষ্কাশন লাইনের পানি এবং মানুষের ফেলা অপরিকল্পিত বর্জ্য মিশছে। এতে নদীর পানি দূষিত হচ্ছে এবং জলজ প্রাণীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

স্থানীয় স্কুলশিক্ষক নজরুল ইসলাম রিপন বলেন, নদীর জীববৈচিত্র্য রক্ষায় শুধু সাময়িক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম যথেষ্ট নয়। এ জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। নদী দূষণ রোধে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। নদীর তীর ও আশপাশের এলাকায় নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

এ বিষয়ে ভৈরব পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম মামুনুর রশীদ বলেন, পৌরসভার পক্ষ থেকে নিয়মিত ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়। তবে ভৈরবে নিজস্ব ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় বিপুল পরিমাণ বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে।

তিনি বলেন, নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা এবং নদীর পাশে ব্যবসা পরিচালনাকারীদের অনেকেই আশপাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলেন। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে পৌরসভার পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি নদীমাতৃক বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ এই সম্পদ রক্ষায় করণীয় নির্ধারণ এবং নজরদারি বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

পরিবেশসংশ্লিষ্টদের মতে, মেঘনা নদীর দূষণ রোধে পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন স্থাপন, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নদীর তীর দখল ও দূষণ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। একই সঙ্গে খাল-বিলের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা এবং জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া না হলে ভৈরবের অর্থনীতি, পরিবেশ ও নদীকেন্দ্রিক জীববৈচিত্র্যের ওপর দূষণের প্রভাব আরও বাড়তে পারে।


নির্বাচিত

খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রাজিবুল করিম

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুকৃবি) ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার পরিচালক মো. রাজিবুল করিম।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে গত রোববার জারি করা এক অফিস আদেশে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়। আদেশ অনুযায়ী, সোমবার (২ নভেম্বর) থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিনি নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন করবেন।

একই অফিস আদেশে উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক রেজাউল ইসলামকে রেজিস্ট্রারের চলতি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

অফিস আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, দায়িত্ব পালনকালে রাজিবুল করিম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক প্রাপ্য যাবতীয় ভাতাদি পাবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমের গতিশীলতা, দাপ্তরিক সমন্বয় ও প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এ দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।

উল্লেখ্য, রাজিবুল করিম বর্তমানে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।


নির্বাচিত

গৃহবধূর গোপন ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি, ইমাম গ্রেপ্তার

মুন্সিগঞ্জে গৃহবধূকে ব্ল্যাকমেলের অভিযোগে ইমাম গ্রেপ্তার
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি

মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ীতে এক গৃহবধূর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও গোপনে ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ও ব্ল্যাকমেলের অভিযোগে নূর আলম শেখ (৩২) নামের এক ইমামকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার সকালে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে রবিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে জেলার শ্রীনগর উপজেলার একটি মাদ্রাসায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনটিও জব্দ করা হয়েছে। চার সন্তানের জনক নূর আলমের বিরুদ্ধে এ ঘটনায় টঙ্গিবাড়ী থানায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, নূর আলম শেখ বিগত প্রায় দেড় বছর ধরে টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বালিগাঁও এলাকার একটি জামে মসজিদে ইমামতি করছিলেন। পাশাপাশি স্থানীয় এক শিশুর বাড়িতে গিয়ে ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে পাঠদান করতেন। এই সুবাদে শিশুটির মায়ের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে অসৎ উদ্দেশ্যে তিনি গোপনে ওই গৃহবধূর ব্যক্তিগত মুহূর্তের দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করেন।

ঘটনাটি প্রায় এক মাস আগে জানাজানি হলে স্থানীয় মসজিদ পরিচালনা কমিটি তাঁকে ইমামতির দায়িত্ব থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অব্যাহতি দেয় এবং তিনি এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন। এলাকা ত্যাগ করলেও অভিযুক্ত নূর আলম ওই গৃহবধূকে অনৈতিক সম্পর্কের জন্য অব্যাহতভাবে চাপ ও নানা মাধ্যমে হুমকি দিতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি ওই আপত্তিকর ভিডিও ফুটেজ গৃহবধূর পরিবারের এক সদস্যের কাছে পাঠিয়ে দেখা করার জন্য বাধ্য করার চেষ্টা করেন এবং দেখা না করলে ভিডিওটি অন্তর্জালে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখান।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক অর্জুন কুমার দাশ জানান, ভুক্তভোগী পক্ষের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পরপরই শ্রীনগরে অভিযান পরিচালনা করে মোবাইলসহ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই তিনি অপরাধের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা অকপটে স্বীকার করেছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বিষয়:

নির্বাচিত

মিরপুর, আশুলিয়া ও গাজীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভ, দফায় দফায় সংঘর্ষ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মিরপুর এবং নিকটবর্তী শিল্পাঞ্চল সাভারের আশুলিয়া ও গাজীপুরে বিভিন্ন দাবিতে রাজপথে নেমে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আশুলিয়া ও মিরপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে শ্রমিকদের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও টিয়ারশেল ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকাল ১০টার পর থেকে আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কের নরসিংহপুর ও নিশ্চিন্তপুর এলাকায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘাতের রূপ নেয়। আন্দোলনকারীরা শুরুতে স্থানীয় অনন্ত ও পরবর্তীতে হা-মীম কারখানার সামনে অবস্থান নিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন এবং সড়ক অবরোধের চেষ্টা চালান। এ সময় পুলিশ বাধা দিতে গেলে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালালে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের খবর না পাওয়া গেলেও পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। শিল্প পুলিশ-১-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপস অ্যান্ড ইন্টেল) শোয়েব আহম্মেদ জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাঠে পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।

অন্যদিকে সকাল সোয়া ৯টার দিকে রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর মোড়ে শ্রমিকেরা জড়ো হয়ে মূল সড়ক অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ তাঁদের রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিলে শ্রমিকদের দিক থেকে ইটপাটকেল ছোড়া হয়। জবাবে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে দ্রুত আন্দোলনকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘শ্রমিকরা রাস্তা অবরোধ করতে এসেছিল, আমরা তাদের সরিয়ে দিয়েছি।’

এ ছাড়া সকাল সাড়ে ৮টা থেকেই গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ ও মৌচাক মোড় এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন পোশাক কারখানার কর্মীরা। শ্রমিকদের অনড় অবস্থানের কারণে মহাসড়কের প্রায় ১০ কিলোমিটার জুড়ে তীব্র যানজট তৈরি হয়ে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ থমকে যায়। সার্বিক নিরাপত্তা ও উদ্ভূত পরিস্থিতির মুখে কর্তৃপক্ষ মৌচাক, পল্লী বিদ্যুৎ, সুফিপুর ও হরিণঘাটী এলাকার পোশাক কারখানাগুলোতে সাময়িক ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে। কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে পুলিশ ও বিজিবিসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।


নির্বাচিত

গাজীপুরে আজও মহাসড়ক অবরোধ, ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকায় উন্নীত করাসহ বিভিন্ন দাবিতে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ অব্যাহত
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২ নভেম্বর, ২০২৬ ১০:৩২
গাজীপুর প্রতিনিধি

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকায় উন্নীত করাসহ বিভিন্ন দাবিতে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকেরা। এতে গুরুত্বপূর্ণ এ মহাসড়কটিতে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, যার ফলে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকালে সীমিত সংখ্যক শ্রমিক পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় সড়কের ওপর অবস্থান নেওয়ার পর মুহূর্তের মধ্যেই আশপাশের বিভিন্ন কারখানা থেকে কয়েক হাজার শ্রমিক এসে তাঁদের সাথে সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভে যোগ দেন। গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, সকালে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক সড়কে অবস্থান নেওয়ায় যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে শিল্প পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে দায়িত্ব পালন করছে।

এদিকে শিল্পাঞ্চলের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সামাল দিতে গাজীপুরে ১০ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সোমবার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নূরুল করিম ভূঁইয়া জানান, ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা জেলার বিভিন্ন সংবেদনশীল শিল্প এলাকায় টহল ও নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। আন্দোলনের আড়ালে যাতে রাষ্ট্রীয় সম্পদ কিংবা সাধারণ মানুষের জানমালের কোনো ক্ষতি না ঘটে, তা নিশ্চিত করতেই বিজিবি মাঠে অবস্থান নিয়েছে এবং অন্যান্য বাহিনীও সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।

উল্লেখ্য, মজুরি বাড়ানোর দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরেই গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক বন্ধ করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শ্রমিকেরা। চলমান এ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে এর আগে পুলিশের গাড়িতে আগুন, পুলিশ বক্স ও কারখানার গুদামে ভাঙচুর এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসব সংঘাতে পুলিশ ও শ্রমিকসহ বহু ব্যক্তি আহত হন এবং বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়। উদ্ভূত অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মুখে জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে জেলার অসংখ্য পোশাক কারখানায় সাময়িক ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।


নির্বাচিত

পাবনার কাশিনাথপুরে বর্ণাঢ্য উপস্থিত বক্তৃতা ও কুইজ প্রতিযোগিতা সম্পন্ন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পাবনা প্রতিনিধি:

‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার কাশিনাথপুরে পালিত হয়েছে জাতীয় যুব দিবস। তরুণ প্রজন্মকে সৃজনশীল ও মননশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে দিনটিজুড়ে ছিল নানা ব্যতিক্রমী ও উদ্দীপনামূলক কর্মসূচি।

স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'প্রয়াস যুব উন্নয়ন সংঘ'-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় বৃহত্তর কাশিনাথপুর এলাকার ৮টি স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৭০ জন শিক্ষার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয়।

শিক্ষার্থীদের মেধা ও মনন বিকাশের লক্ষ্যে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় প্রবন্ধ বা বক্তব্যের বিষয়বস্তু হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল অত্যন্ত সমসাময়িক ও গুরুত্বপূর্ণ কিছু সামাজিক ও জাতীয় ইস্যু। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল—
মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলন
জুলাই গণঅভ্যুত্থান
রক্তদান আন্দোলন (ব্লাড ডোনেশন)
মাদকাসক্তি ও বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ
বইপড়া আন্দোলন ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার

এছাড়া সাধারণ জ্ঞান ও বিবিধ বিষয়ের উপর একটি আকর্ষণীয় কুইজ প্রতিযোগিতাও অনুষ্ঠিত হয়, যা পুরো আয়োজনে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।
অতিথিদের মূল্যায়ন ও অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও প্রধান বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেড়া উপজেলার প্রাইমারি এডুকেশন ট্রেনিং সেন্টারের ইনস্ট্রাক্টর ড. মো. হাফিজুর রহমান।

প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণের সময় তিনি বলেন,
"যুবসমাজকে নিয়ে এ ধরনের সৃজনশীল ও মননশীল অনুষ্ঠান আয়োজন নিঃসন্দেহে অত্যন্ত প্রশংসার দাবিদার। পড়াশোনার পাশাপাশি কিশোর ও যুবকদের এ ধরনের সৃষ্টিশীল কাজে সম্পৃক্ত রাখতে পারলে তাদের সহজে বিপথগামিতা থেকে রক্ষা করা সম্ভব। প্রতিযোগিতামূলক ও কল্যাণমুখী কার্যক্রমে যুবশক্তিকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে সমাজ ও দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত হবে।"

সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও কর্মমুখী উদ্যোগ:
প্রয়াস যুব উন্নয়ন সংঘের সভাপতি এস এম মহিরউদ্দিন কলি দেশের উন্নয়নে যুবসমাজের ভূমিকা তুলে ধরে তাদের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে বলেন:

"দেশ ও সমাজের উন্নয়নে যুবকদের ভূমিকা সর্বদা অগ্রগণ্য। দেশের কর্মোদ্যম যুবশক্তিকে যত বেশি সঠিকভাবে কাজে লাগানো যাবে, জাতি তত বেশি সমৃদ্ধি অর্জন করবে। আমরা চাই কেবল বড় বড় শহর নয়, গ্রামের তরুণেরাও যেন সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে অগ্রণী ভূমিকা রাখে।"

তিনি আরও যোগ করেন, সংগঠনটির পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই পাবনার বেকার যুবকদের নানামুখী কর্মমুখী প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কেবল খেলাধুলা বা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সময় ক্ষেপণ না করে, সংগঠনের উদ্যমী তরুণদের নিয়ে এমন সব বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে যা তাদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী করে তুলবে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনায় দেশের এই যুবশক্তিকে সমাজ ও জাতির সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও শক্তিশালী সম্পদে রূপান্তর করা হবে ইনশাআল্লাহ।

সবশেষে, দিনব্যাপী এই আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে একটি বিশেষ শপথ ও দৃঢ় প্রত্যয়ের মাধ্যমে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ, আয়োজক সংগঠনের সদস্য এবং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষার্থী মাদক প্রতিরোধ এবং একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও প্রগতিশীল সমাজ গঠনে সম্মিলিতভাবে হাতে হাত রেখে কাজ করে যাওয়ার দৃঢ় আশা ও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।


নির্বাচিত

বাকৃবির কৃষি অনুষদের নবনিযুক্ত ডিনকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাকৃবি প্রতিনিধি

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি অনুষদের নবনিযুক্ত ডিন অধ্যাপক ড. মাসুম আহমাদকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বরণ করে নিয়েছেন কৃষি অনুষদের বিভিন্ন লেভেলের প্রতিনিধিরা। ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে তাকে নতুন দায়িত্বে স্বাগত জানান শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা। রোববার দুপুরে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে কৃষি অনুষদের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় কৃষি অনুষদের সিনিয়র শিক্ষার্থী প্রতিনিধি মো. সানাউল্লাহ শেখ নবনিযুক্ত ডিনকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পাশাপাশি তিনি শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অনুষদের একাডেমিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নসংক্রান্ত বিভিন্ন দাবি ও প্রত্যাশা তুলে ধরেন।

শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে সেশনজট কমিয়ে একাডেমিক কার্যক্রম গতিশীল করা, করিম ভবনের প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে অচল শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্র (এসি) সচল করা, পর্যাপ্ত মাল্টিমিডিয়া ও প্রজেক্টরের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, শিক্ষার্থীদের জন্য স্থায়ী পার্কিং গ্যারেজ নির্মাণ এবং বিশুদ্ধ পানির ফিল্টারগুলো সার্বক্ষণিক সচল রাখা।

এ সময় সানাউল্লাহ শেখ বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম নির্বিঘ্ন ও গতিশীল করতে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান জরুরি। বিশেষ করে সেশনজট নিরসন, শ্রেণিকক্ষের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি উন্নত ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। আমরা আশা করি, নবনিযুক্ত ডিন মহোদয়ের নেতৃত্বে এসব যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।’

এ সময় শিক্ষার্থী প্রতিনিধি দিগন্ত বলেন, ‘কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যাণ ও অনুষদের উন্নয়নে আমরা নবনিযুক্ত ডিন মহোদয়ের পাশে থেকে কাজ করতে চাই। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি ও প্রত্যাশাগুলো বাস্তবায়নে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।’ একই সঙ্গে অনুষদের শিক্ষা, গবেষণা ও শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশের উন্নয়নে তার গৃহীত ইতিবাচক উদ্যোগগুলোতে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কৃষি অনুষদকে আরও সমৃদ্ধ ও গতিশীল করা সম্ভব।’

নবনিযুক্ত ডিন অধ্যাপক ড. মাসুম আহমাদ বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি ও প্রত্যাশাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে কৃষি অনুষদের শিক্ষা ও অবকাঠামোগত পরিবেশের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।’


নির্বাচিত

হলুদের জমিতে লেবুর সাম্রাজ্য আয় হবে ১০০ কোটি টাকা

# ৭৫৪ হেক্টর জমিতে চাষ হচ্ছে লেবু, ভাগ্যবদলের আশা কৃষকদের
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আল-আমিন, ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ)

উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দক্ষিণে এনায়েতপুর ইউনিয়ন। ছয়টি গ্রাম নিয়ে গঠিত সীমান্তবর্তী এ ইউনিয়নের কৃষকরা গত দেড় যুগ আগেও প্রচুর পরিমাণে হলুদ ও শাক-সবজি আবাদ করতেন। লেবুর কদরে গ্রামগুলোতে কৃষকরা হলুদ ছেড়ে ঝুঁকে পড়েন লেবু চাষে। কৃষকদের আগ্রহে ধীরে ধীরে হলুদের পরিবর্তে শুরু হয় লেবুর বিস্তার। গ্রামগুলোর যে দিকে যতদূর চোখ যাবে একের পর এক লেবুর বাগান দেখা যায়। ঘরে ঘরেই লেবুর চাষ। এনায়েতপুরের অধিকাংশ কৃষকরা প্রতিদিন বাগান থেকে লেুব তুলে বিক্রি করেন। সারা বছরই এ গ্রামে লেবু পাওয়ায় স্থানীয়দের কাছে এ গ্রাম লেবুর সাম্রাজ্য হিসেবে পরিচিত।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়ির আশপাশ জমিতে লেবুর চারা রোপণ করা। অনেকেই লেবুর বাগান গড়েছেন। একই ইউনিয়নের সোয়াইতপুর গ্রামের মাসুদ তালুকদার গত তিন বছর আগে ৬ একর জমিতে সিডলেস ও কলম্বো জাতের লেবুর বাগান করেছেন। গত মৌসুমে তিনি ২০ লাখ টাকার লেবু বিক্রি করেন। চলতি মৌসুমে বাজার দর ভালো হলে প্রায় ৩০ লাখ টাকার লেবু বিক্রি করতে পারবেন। চলতি মৌসুমে শত কোটি টাকার লেবু বিক্রি করার আশা প্রকাশ করেছেন কৃষকরা।

ফুলবাড়িয়া উপজেলায় এ বছর ৭৫৪ দশমিক ৮ হেক্টর জমিতে লেবুর আবাদ হয়েছে। তার মধ্যে এনায়েতপুর ইউনিয়নে লেবুর বাগান রয়েছে ৫৫০ হেক্টর। দেশের বড় লেবুর হাট বসে এনায়েতপুর বাজারে। প্রতিদিন দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কৃষক এ হাটে লেবু বেচাকেনা হয়। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এনায়েতপুর গ্রামের লেবু ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, উপজেলায় লেবুর বাগান রয়েছে ৭৫৪ দশমিক ৮ হেক্টর জমিতে। কলম্বো ৪৫৩ হেক্টর, সিডলেস ২৮৩ হেক্টর, কাগজী ১৫ হেক্টর ও জারা লেবু ৩ দশমিক ৮ হেক্টর জমিতে। প্রতি হেক্টরে কলম্বো জাতের লেবু পানি (পলিথিন) বস্তা হয় ৫৬০ বস্তা। ৪৫৩ হেক্টর জমিতে ২ লাখ ৫৩ হাজার ৬৮০ বস্তা লেবু হয়। প্রতি বস্থা কলম্বো লেবু গড়ে ২ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি করলে কৃষক ৬৩ কোটি ৪২ লাখ টাকা বিক্রি করতে পারবেন। সিডলেজ জাতের লেবু প্রতি হেক্টরে ৫০০ বস্তা হয়। ২৮৩ হেক্টর জমিতে ১ লাখ ৪১ হাজার ৫০০ বস্তা সিডলেস লেবু হবে। গড়ে প্রতি বস্তা লেবু ২ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হলে ৩১ কোটি ১৩ লাখ টাকা বিক্রি করবেন কৃষক। ১৫ হেক্টর জমিতে কাগজী লেবুর আবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ৫ বস্তা লেবু হয়। ৫ হাজার টাকা বস্তা বিক্রি করলে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা লেবু বিক্রি করবেন। চলতি মৌসুমে ফুলবাড়িয়া উপজেলা থেকে কৃষক প্রায় ৯৫ কোটি টাকা লেবু বিক্রি করবেন।

রোববার দেখা যায়, ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা, পাবনা ও সিরাগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকাররা এসেছেন এনায়েতপুর লেবুর হাটে। প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২২ লাখ টাকার লেবু বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষক ও পাইকাররা। কলম্বো জাতের প্রতিবস্তা লেবু (৪৫০ থেকে ৫০০ পিস) বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা। সীডলেজ লেবু বিক্রি হচ্ছে প্রতিবস্তা (৪৫০ থেকে ৫০০ পিস) ২ হাজার ২০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা। কাগজী লেবু প্রতি বস্তা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা।

এনায়েতপুর গ্রামের কৃষক সাখাওয়াত রাব্বী ভ্যান গাড়িতে করে এনায়েতপুর লেবুর হাটে ১০ বস্তা সিডলেস লেবু বিক্রি করতে আনেন। প্রতি বস্তা লেবু ২ হাজার ৩০০ টাকা দরে বিক্রি করেন। একই গ্রামের কৃষক শহিদ মিয়া ৪ বস্তা কলম্বো জাতের লেবু নিয়ে আসছেন হাটে। ৪ বস্তা লেবু ১০ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন।

এনায়েতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. বুলবুল হোসেনের ভাষ্য, এনায়েতপুর ইউনিয়নের কৃষকের প্রধান অর্থকরী ফসল এখন লেবু। প্রতিটি কৃষকের লেবুর বাগান রয়েছে। প্রতিদিন ৭০০ থেকে ৮০০ বস্তা লেবু বিক্রি করতে আনেন কৃষক। প্রতি বস্তা লেবু ২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা বিক্রি করছেন। কাঁচামাল হওয়া বাজার দর উঠানামা করে। তারপরও গড়ে প্রতিদিন ২০ লাখ টাকার লেবু বিক্রি করছেন। রমজান মাসে প্রতিদিন প্রায় কোটি টাকার লেবু বিক্রি হবে।

ফুলবাড়িয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুকান্ত ধর বলেন, ‘এ উপজেলায় লেবুর বাগান রয়েছে ৭৫৪ দশমিক ৮ হেক্টর জমিতে। কলম্বো ৪৫৩ হেক্টর, সিডলেস ২৮৩ হেক্টর, কাগজি ১৫ হেক্টর ও জারা লেবু ৩ দশমিক ৮ হেক্টর। লেবুর ফলন ভালো হয়েছে। বাজার দর ভালো থাকলে চলতি মৌসুমে কৃষক প্রায় ১০০ কোটি টাকার লেবু বিক্রি করবেন বলে ধারণা করছি।’


নির্বাচিত

সার পাচার ঠেকাতে সেন্টমার্টিনে কোস্ট গার্ডের অভিযান

# ১০ টন সারসহ ৯ পাচারকারী আটক
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

চোরাচালানবিরোধী অভিযানে কক্সবাজারের টেকনাফের সেন্টমার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব গভীর সমুদ্র এলাকায় মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশে নেওয়া বিপুল পরিমাণ ইউরিয়া সারসহ ৯ জনকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এ সময় পাচারকাজে ব্যবহৃত একটি বোটও জব্দ করা হয়েছে।

কোস্ট গার্ডের দাবি, আটক বোটটিতে অবৈধভাবে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশে বহন করা হচ্ছিল প্রায় ১০ হাজার কেজি ইউরিয়া সার, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। রোববার কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, রোববার রাত আনুমানিক ২টার দিকে সেন্টমার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব গভীর সমুদ্র এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে অপারেশন সার সুরক্ষায় নিয়োজিত কোস্ট গার্ডের একটি জাহাজ। অভিযান চলাকালে সমুদ্র এলাকায় একটি সন্দেহজনক বোটের গতিবিধি কোস্ট গার্ডের নজরে আসে। পরে বোটটিকে থামার সংকেত দেওয়া হলে সেটি সংকেত অমান্য করে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় কোস্ট গার্ডের আভিযানিক দল সন্দেহজনক বোটটির পিছু নেয়। একপর্যায়ে গভীর সমুদ্র এলাকায় ধাওয়া করে বোটটি আটক করতে সক্ষম হয় কোস্ট গার্ড সদস্যরা।

পরে আটক বোটে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ইউরিয়া সার উদ্ধার করা হয়। কোস্ট গার্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা সারগুলো অবৈধভাবে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশে বোটটিতে বহন করা হচ্ছিল। অভিযানে ১০ হাজার কেজি ইউরিয়া সার, পাচারকাজে ব্যবহৃত একটি বোট এবং বোটে থাকা ৯ জনকে আটক করা হয়।

এ ঘটনায় পাচারকাজে জড়িত নয়জনকে আটক করা হয়েছে। তারা হলেন চট্টগ্রামের পটিয়া, কক্সবাজার চকরিয়া, লক্ষ্মীপুর এলাকার বাসিন্দার মো. ফুরকান (৬০), আ. সৈয়দ নূর (৩২), তৌফিক ইসলাম (৩৪), মো. সাদ্দাম হোসেন (৩৪), মো. ইকবাল হোসেন (৩৫), আ. শাহজাহান (৪৪), আলাউদ্দিন (৪৪), মো. আব্বাস (৪৭) ও মো. রফিক আহমেদ (৬০)।

কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযানে জব্দ করা ১০ হাজার কেজি ইউরিয়া সার, পাচারকাজে ব্যবহৃত বোট এবং আটক ৯ ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


নির্বাচিত

banner close