বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধ সংস্কারে ধীরগতির অভিযোগ

ছবিটি নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুরী উপজেলার হাওর অঞ্চল থেকে তোলা। ছবি: দৈনিক বাংলা
নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত
নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১০:২৫

নেত্রকোনায় হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধ সংস্কারে ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে। এদিকে সময়মতো কাজ শেষ না হলে আগাম বন্যায় কৃষকের বোরো ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নেত্রকোনার সাত উপজেলার ১৩৪টি হাওরে এবারও হুমকির মুখে রয়েছে বোরো ফসল। চলতি বছরের ২৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ফসলরক্ষা বাঁধ সংস্কারের কাজ শেষ করার কথা থাকলেও কোনো কোনো স্থানে এখনো শুরুই হয়নি কার্যক্রম।

নিয়মানুযায়ী বাঁধ সংস্কারের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) কাজে সরাসরি জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে যুক্ত করা হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নসহ তদারকিতে জেলা প্রশাসককে সভাপতি ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নেত্রকোনার নির্বাহী প্রকৌশলীকে সদস্যসচিব করে জেলা কমিটি করা হয়। এ ছাড়া উপজেলা পর্যায়ে নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) সভাপতি ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) একজন কর্মকর্তাকে সদস্যসচিব করে উপজেলা কমিটি গঠন করা হয়। মূলত উপজেলা কমিটি প্রকল্প নির্ধারণ ও পিআইসি গঠন করে জেলা কমিটিতে পাঠায়। পরে জেলা কমিটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। প্রতিটি প্রকল্পের জন্য প্রকৃত কৃষক ও স্থানীয় সুবিধাভোগীদের নিয়ে পাঁচ থেকে সাত সদস্যের একটি পিআইসি থাকে। একটি পিআইসি সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকার কাজ করতে পারে।

পাউবো সূত্র জানায়, হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের নির্মাণকাজ ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে শুরু এবং ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার কথা। এর আগে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে পিআইসি গঠন এবং ৩০ অক্টোবরের মধ্যে প্রকল্প নির্ধারণের কাজ চূড়ান্ত হওয়ার কথা। কিন্তু পানি ধীরগতিতে নামায় প্রকল্প নির্ধারণের কাজ চূড়ান্ত করতে দেরি হয়। পিআইসি গঠিত হলেও পানির কারণে সব বাঁধের কাজ এখনো শুরু করা সম্ভব হয়নি।

পাউবো নেত্রকোনা জেলা অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় পাউবোর অধীন প্রায় ৩৬৫ কিলোমিটার ডুবন্ত (অস্থায়ী) বাঁধ রয়েছে। এসব বাঁধের ওপর স্থানীয় কৃষকদের প্রায় ৪২ হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল নির্ভর করে। এ ফসলের ওপর নির্ভর করে কৃষকদের সারা বছরের সংসার খরচ চলে।

নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুরী, মোহনগঞ্জ, মদন, কলমাকান্দা, দুর্গাপুর, বারহাট্টা, আটপাড়া উপজেলায় রয়েছে ছোট বড় ১৩৪টি হাওর। এ ছাড়া অন্যান্য এলাকার তুলনায় পূর্বধলা উপজেলায় পরিমাণে কম জলাশয় রয়েছে। এর মধ্যে খালিয়াজুরীতে ৮৯টি হাওর রয়েছে। আর এখানে রয়েছে ১৮০ কিলোমিটার ডুবন্ত অস্থায়ী বাঁধ। এর মধ্যে ১১০টি প্রকল্পের মাধ্যমে ৯২ কিলোমিটার বাঁধ সংস্কার করা হচ্ছে।

বিভিন্ন তথ্য সূত্রে জানা যায়, খালিয়াজুরী উপজেলায় ১০৮টি প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২০ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, মদনের ২৫টি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ ধরা হয় ৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকা, মোহনগঞ্জে ২৬টি পিআইসি প্রকল্পের জন্য ৪ কোটি ৪১ লাখ টাকা, কলমাকান্দায় ৭টি প্রকল্পের জন্য ব্যয় ধরা হয় ১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, বারহাট্টায় ৯টি প্রকল্পের জন্য ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা, পূর্বধলায় ২টি প্রকল্পের জন্য ৪৫ লাখ টাকা, আটপাড়ায় একটি প্রকল্পের জন্য ১১ লাখ টাকা। এর মধ্যে এ বছরে বরাদ্দ পাওয়া গেছে ১৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা।

জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার কীর্তনখলা হাওরের একাধিক কৃষক বলেন, তারা ঋণ করে বোরোর আবাদ করছেন। বাঁধের কাজ এ বছর ঠিক সময়ে শুরু হয়নি। এ কারণে সময়মতো কাজ শেষ হওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তারা। আগাম বন্যার পানিতে ফসল নষ্ট হলে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে।

খালিয়াজুরী হাওর রক্ষা পরিষদের সভাপতি স্বাগত সরকার শুভ বলেন, জাতীয় নির্বাচনের কারণে এবার স্থানীয় প্রশাসনের তদারকি অনেকটা কম ছিল। ফলে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজের তেমন অগ্রগতি হয়নি। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হলে পুরো হাওরের বোরো ফসল হুমকিতে থাকবে।

পাউবো নেত্রকোনা জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী সারওয়ার জাহান বলেন, ‘দ্রুতগতিতে কাজ হচ্ছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংস্কারকাজ শেষ করা সম্ভব হবে।’ তিনি আরও জানান, গত বছর জেলায় ৩৭ কোটি ৮১ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০৬টি পিআইসি গঠন করা হয়েছিল। এ বছর বাঁধের ক্ষতি কম হওয়ায় ২৮টি পিআইসি কম করা হয়েছে। ১৫৬ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণে গঠিত ১৭৮টি পিআইসির জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। জাতীয় নির্বাচন ও তীব্র শীতের কারণে কাজ শুরু করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হবে।

বিষয়:

নির্বাচিত

৫০৭ কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল: গ্রাহককে মন্ত্রীর দুঃখপ্রকাশ, জিএম বরখাস্ত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:৫৭
অনলাইন ডেস্ক

মাগুরায় মাত্র ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে এক আবাসিক গ্রাহককে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকার অবাস্তব ও ভৌতিক বিল পাঠানোর ঘটনায় মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপককে (জিএম) তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার পর ভুক্তভোগী গ্রাহককে ব্যক্তিগতভাবে ফোন করে অনাকাঙ্ক্ষিত এই মারাত্মক ভুলের জন্য আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী আলেয়া খাতুনের নামে ‘এলটি-এ (আবাসিক)’ ক্যাটাগরিতে সেপ্টেম্বর মাসের এই বিদ্যুৎ বিলটি ইস্যু করা হয়েছিল। বিলের কপিতে দেখা যায়, ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচের বিপরীতে ডিমান্ড চার্জ দেখানো হয়েছে ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা, ভ্যাট ২৪ কোটি ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৭১ টাকা এবং মিটার ভাড়া ১০ টাকা যুক্ত করে মোট বিল নির্ধারণ করা হয় ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা; যা নির্ধারিত সময় পার হলে বিলম্ব মাশুলসহ ৫৩০ কোটি ৯৬ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ টাকায় পৌঁছাত। অথচ প্রকৃত হিসাব অনুযায়ী গ্রাহকের মোট বিল হওয়ার কথা ছিল মাত্র ১ হাজার ৯৬৩ টাকা।

ভৌতিক এই বিল হাতে পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে গ্রাহক আলেয়া খাতুন বলেছিলেন, ‘এটা শুধু ভুতুড়ে বিল নয়, আজগুবিও। বিদ্যুৎ বিভাগের খামখেয়ালিপনার কারণে গ্রাহকের দুশ্চিন্তা ও ভোগান্তি বাড়ছে। এ ধরনের ভুলের প্রতিকার হওয়া জরুরি।’ এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানায়, সম্প্রতি ওই গ্রাহকের মিটার পরিবর্তনের পর নতুন মিটারের সিল নম্বরটি অসাবধানতাবশত ডিমান্ড চার্জের ঘরে টাইপ করায় কম্পিউটারের হিসাবে এই বিপুল অঙ্কের বিল তৈরি হয়। পরে অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই বিলটি সংশোধন করে দেওয়া হয় এবং গ্রাহক সংশোধিত অর্থ ব্যাংকে জমা দেন। তবে দায়িত্বে চরম অবহেলা ও জনভোগান্তি সৃষ্টির দায়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।


নির্বাচিত

২৩৫ ইউনিট বিদ্যুতের বিল ৫০৬ কোটি টাকা, চার কর্মকর্তাকে শোকজ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

মাগুরায় মাত্র ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে এক আবাসিক গ্রাহককে ৫০৬ কোটি ৮০ লাখ ১১ হাজার ৯৫৯ টাকার অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল পাঠানোর ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কম্পিউটার ডেটা এন্ট্রির মারাত্মক ভুলের কারণে এমন ভৌতিক বিল তৈরি হয়েছিল বলে নিশ্চিত করেছে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। এ ঘটনায় দায়িত্বে চরম অবহেলা ও গাফিলতির দায়ে সংশ্লিষ্ট জোনাল কার্যালয়ের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজারসহ (ডিজিএম) চার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

শোকজপ্রাপ্তরা হলেন আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. রেজাউল করিম, বিলিং সুপারভাইজার সীমা রানী, বিলিং সহকারী সুমা রানী ঘোষ এবং মিটার রিডার কাম মেসেঞ্জার তোরাব আলী। তাঁদের সবাইকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে নোটিশের জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, মাগুরা সদর উপজেলার কেচুয়াডুবি গ্রামের বাসিন্দা মোছা. আলেয়া খাতুনের নামে সেপ্টেম্বর মাসের এই বিদ্যুৎ বিলটি ইস্যু করা হয়েছিল, যেখানে ২৩৫ ইউনিটের বিপরীতে ৫০৬ কোটি টাকার বেশি পরিশোধযোগ্য দেখানো হয়।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) গ্রাহক আলেয়া খাতুন বিলটি সংশোধনের জন্য শালিখা উপজেলার আড়পাড়া জোনাল অফিসে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মহিতুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি ওই গ্রাহকের মিটার পরিবর্তন করা হয়েছিল এবং বিল তৈরির সময় অসাবধানতাবশত ডিমান্ড চার্জের ঘরে নতুন মিটারের সিল নম্বরটি টাইপ করায় এ অস্বাভাবিক বিলটি তৈরি হয়। পরবর্তীতে বিলটি যাচাই-বাছাই শেষে দ্রুত সংশোধন করে প্রকৃত পাওনা ১ হাজার ৯৩৮ টাকা নির্ধারণ করা হলে গ্রাহক তা ব্যাংকে জমা দেন। তবে সাধারণ গ্রাহকদের বিল তৈরিতে এমন দায়িত্বহীন ভুলের ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।


নির্বাচিত

তথ্যমন্ত্রীর উদ্যোগ, ভোলায় বিনামূল্যে চিকিৎসা পেলেন ১০ হাজার মানুষ

* চিকিৎসা পেয়ে আবেগাপ্লুত অসহায় পরিবারের রোগীরা * ৯ ইউনিয়নে তিন ধাপে সেবা; পর্যায়ক্রমে পৌরসভা ও আরও    তিন ইউনিয়নে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভোলা প্রতিনিধি

অর্থাভাবে চিকিৎসকের কাছে যেতে পারেন না, প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনাও যাদের জন্য কঠিন—ভোলার এমন অসহায়, দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ। তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে ভোলা সদর উপজেলার নয়টি ইউনিয়নে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ করা হয়েছে। গত ১৯ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন ধাপে পরিচালিত এ কর্মসূচিতে কমপক্ষে ১০ হাজার মানুষ চিকিৎসাসেবা পেয়েছেন। রোগীদের চিকিৎসা দিতে ঢাকা থেকে আনা হয়েছিল দেশের স্বনামধন্য নয়জন চিকিৎসককে।

আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল অর্থাভাবে যেন কোনো মানুষ প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা ও মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত না হন। প্রত্যন্ত এলাকার নারী-পুরুষ, শিশু, মধ্যবয়সী ও প্রবীণ রোগীরা চিকিৎসকের পরামর্শের পাশাপাশি বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ পেয়েছেন। চিকিৎসার খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকা অনেক পরিবারের কাছে এই উদ্যোগ হয়ে উঠেছে স্বস্তির উপলক্ষ।

চিকিৎসা পেয়ে আবেগাপ্লুত রোগীরা: গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ভোলা সদর উপজেলার উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নে আয়োজিত মেডিকেল ক্যাম্পে সকাল থেকেই রোগীদের ভিড় বাড়তে থাকে। কারও হাতে ছিল পুরোনো ব্যবস্থাপত্র, কারও মুখে দীর্ঘদিনের অসুস্থতার ছাপ। কেউ নিজের চিকিৎসার জন্য এসেছেন, কেউ আবার পরিবারের অসুস্থ সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে হাজির হয়েছেন। চিকিৎসকের সামনে বসে নিজের শারীরিক সমস্যার কথা বলা এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ পাওয়াই যেন অনেকের কাছে বড় স্বস্তি হয়ে উঠেছিল।

ওই দিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ক্যাম্পে কথা হয় উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নের ষাটোর্ধ্ব অসুস্থ নারী রহিমা বেগমের সঙ্গে। বিনামূল্যে চিকিৎসা নিয়ে ওষুধের প্যাকেট হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, ‘অসুস্থ শরীর নিয়ে অনেকদিন কষ্ট করেছি। টাকার অভাবে ডাক্তার দেখাইতে পারতামনা। আজ আমাগো ছেলে পার্থ’র উছিলায় বিনামূল্যে ডাক্তার দেখাইতে পারছি। এমন ব্যবস্থা করার জন্য আল্লায় বাজানরে ভালা রাখুক।’

একই গ্রামের সত্তরোর্ধ্ব ছলেমান মাঝিও চিকিৎসাসেবা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমার এ জীবনে বহু নেতা দেখছি; ভোটের আগে আমাগরে আদর করে; মিষ্টি কতা কয়, তহন কিছু টেকা দেয়। ভোট হ-য়া গেলে আর কোনোদিন চোহে দেহিনা নেতাগোরে। কিন্তু আমরা মানুষের সেবা করতে একসময় পাইছিলাম গরিবের বন্ধু মঞ্জু মিয়ারে; এহন পাইলাম তার ছেলে পার্থ মিয়াকে।’

ছলেমান মাঝি আরও বলেন, মানুষের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে এসে পার্থ তাদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে মিশেছেন। তার ভাষায়, ‘আমাগো শরীর স্বাস্থ্যের খোঁজ নিতে আইসা এ মানুষটা নিজেরে বিলায়া দিছেন; কোনো অহঙ্কার নাই, দেমাগ নাই; পার্থ যেনো আমাগো মতই একজন সাদাসিদা মানুষ। কি সুন্দর কইরা কতা কয়; আমাগোরে জরায়া ধরে; মাথায় হাত বুলায়া দেয়, তহন যেন পরানডা জুড়ায়া যায়।’

রহিমা বেগম ও ছলেমান মাঝির মতো একই গ্রামের ছাদেক মাঝি, অজুফা খাতুন, মনোয়ারা বেগম, কানাই লাল, সম্ভূনাথ গোয়ালা এবং অসুস্থ মাদরাসাশিক্ষক মো. আব্দুর রহমানসহ অনেকেই এই ক্যাম্প থেকে চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। তাদের অভিজ্ঞতায়, বিনামূল্যের এই আয়োজন কেবল চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ নয়; বরং অসুস্থতা ও আর্থিক সংকটের সময়ে পাশে কাউকে পাওয়ার একটি উপলক্ষ।

নয় ইউনিয়নে তিন ধাপে চিকিৎসাসেবা: মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজক বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) ভোলা জেলা সভাপতি মো. আমিরুল ইসলাম রতন বলেন, ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ পারিবারিকভাবেই মানবসেবায় বিশ্বাসী। তার বাবা মরহুম নাজিউর রহমান মঞ্জুর মতো পার্থও সারা বছর মানুষের জন্য মৌলিক সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

তিনি জানান, চিকিৎসকেরা রোগীদের শুধু ব্যবস্থাপত্র ও ওষুধ দেননি; রোগের কারণ, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ সেবনের নিয়ম এবং স্বাস্থ্যসচেতনতা সম্পর্কেও পরামর্শ দিয়েছেন। এর ফলে রোগীরা নিজেদের শারীরিক সমস্যা সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার পাশাপাশি পরবর্তী চিকিৎসার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও পেয়েছেন।

গত শনিবার ছিল মেডিকেল ক্যাম্পের তৃতীয় ধাপ। ওই দিন সদর উপজেলার আলীনগর, উত্তর দিঘলদী ও দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নে একযোগে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সকাল থেকে আয়োজিত এসব ক্যাম্পে তিন ইউনিয়নের কয়েক হাজার নারী-পুরুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, প্রয়োজনীয় ওষুধ, স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভোলা জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক মোতাসিম বিল্লাহসহ দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারা।

মেডিকেল ক্যাম্পে দায়িত্ব পালন করা চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, পুরুষ রোগীদের মধ্যে পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া অনেক রোগী ডায়াবেটিস, অ্যালার্জি এবং প্রোস্টেটের সমস্যাসহ বিভিন্ন ধরনের শারীরিক জটিলতা নিয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছেন।

ক্যাম্পের চিকিৎসক ডা. জান্নাতুল মাওয়া জানান, গ্রামের নারীদের মধ্যে নানা ধরনের স্বাস্থ্যসমস্যা দেখা গেছে। কেউ গর্ভধারণজনিত জটিলতায় ভুগছেন, কেউ নানা শারীরিক সমস্যা নিয়ে এসেছেন, আবার কেউ বার্ধক্যজনিত রোগের কারণে এসেছেন। এসব সমস্যা গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে। বিশেষ করে যাদের পক্ষে নিয়মিত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া কিংবা প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনা কঠিন, তাদের জন্য এ ধরনের উদ্যোগ চিকিৎসা নেওয়ার একটি সুযোগ তৈরি করেছে।

এ বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ সাংবাদিকদের বলেছেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই এ ধরনের উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। অর্থের অভাবে যেন কোনো মানুষ প্রয়োজনীয় মৌলিক অধিকার ও প্রাথমিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্যেই বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিনি জানান, ইতোমধ্যে ভোলা সদর উপজেলার নয়টি ইউনিয়নের মানুষ এই কর্মসূচির আওতায় চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ পেয়েছেন। পর্যায়ক্রমে ভোলা পৌরসভাসহ আরও তিনটি ইউনিয়নে এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

নিজের উদ্যোগের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে পার্থ বলেন, মানুষের জন্য এ ধরনের সেবামূলক কার্যক্রমের পেছনে রয়েছে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের প্রত্যাশা। এখানে শুধু ওষুধ বিতরণ করা হয়নি; মানুষের কষ্টকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ানোরও চেষ্টা করা হয়েছে।

ভোলার সিভিল সার্জন ডা. মনিরুল ইসলাম বলেছেন, একজন দরিদ্র মানুষের হাতে বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ পৌঁছে দেওয়া কেবল ওষুধ বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে আশার আলো। অসুস্থ মায়ের মুখে স্বস্তি, বৃদ্ধ বাবার চোখে কৃতজ্ঞতা কিংবা অসহায় পরিবারের মনে কিছুটা নিশ্চিন্ত হওয়ার অনুভূতি—এসবের মধ্যেই মানবিকতার প্রকৃত সৌন্দর্য প্রকাশ পায়।


নির্বাচিত

দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ১০৪টি শিশু মারা গেছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ১ হাজার ৩টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে ১০১টি শিশু।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ১০১টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ২৫৫ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৯০ হাজার ৫১০, আর পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৩৯২ জনে।

এছাড়া, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৬৮ হাজার ৬৫৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৬১ হাজার ৭৯৮ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।


নির্বাচিত

মাদ্রাসায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দগ্ধ ৫ শিক্ষার্থীর একজনের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার কাশীপুরে একটি মহিলা মাদ্রাসায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দগ্ধ পাঁচ শিক্ষার্থীর মধ্যে আতিয়া আক্তার রিমা (১১) নামের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত আতিয়া নাটোর সদর উপজেলার আতাউর রহমান ও নাসিমা বেগমের মেয়ে।

আতিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন মো. সুলতান মাহমুদ সিকদার। তিনি বলেন, ‘আতিয়ার শরীরের ৪৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। দগ্ধ আরও দুই শিক্ষার্থীর অবস্থা আশঙ্কাজনক।’

জানা যায়, গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার দিকে ফতুল্লার কাশীপুরের একটি মহিলা মাদ্রাসায় বৈদ্যুতিক তার বিচ্ছিন্ন হয়ে পাঁচ নারী শিক্ষার্থী বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দগ্ধ হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।

দগ্ধ অন্য শিক্ষার্থীরা হলো- জিদনী (১৪), লামিয়া (১৩), সুমাইয়া (১৩) ও আছিয়া (১২)। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দগ্ধদের মধ্যে জিদনীর শরীরের ৮২ শতাংশ, লামিয়ার ৫৫ শতাংশ, সুমাইয়ার ১৩ শতাংশ এবং আছিয়ার ৭ শতাংশ পুড়ে গেছে।


নির্বাচিত

ইতালির কথা বলে নিয়ে যেত অন্য দেশে, বাধ্য করত দেহব্যবসায়: এসআরবি

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) প্রেসব্রিফিংয়ে এসআরবি-৪ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান: ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইতালিতে ভালো ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখিয়ে বাংলাদেশ থেকে মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হতো লাখ লাখ টাকা। কিন্তু তাদের নিয়ে যাওয়া হতো শ্রীলঙ্কা, মিসর বা অন্য কোনো দেশে। সেখানে আটকে রেখে করা হতো অকথ্য নির্যাতন, বাধ্য করা হতো দেহব্যবসায়। অবশেষে আন্তর্জাতিক এই মানবপাচার চক্রের অন্যতম মূলহোতা মোহাম্মদ আরজু রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এসআরবি-৪ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান এ তথ্য জানান।

এর আগে গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর বনানীর সি ব্লক এলাকা থেকে এসআরবি-৪ ও এসআরবি-১ এর যৌথ অভিযানে আরজুকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এসআরবি জানায়, ঘটনার সূত্রপাত গত ১৬ জুলাই। মিসর থেকে কামরুন নাহার ফাতেমা নামের এক ভুক্তভোগী এনএসআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি জানান, ইউরোপে নেওয়ার কথা বলে তাকে মিসরে আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে এসআরবি জানায়, ফাতেমা ও তার পরিবারের মোট পাঁচজন সদস্যকে ইতালি নিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিয়ে ৮৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় আরজু। প্রথমে বলা হয় বাংলাদেশ থেকে সরাসরি ভিসা পাওয়া সম্ভব নয়, তাই তাদের শ্রীলঙ্কায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের ওপর নির্যাতন শুরু হলে কোনোমতে পালিয়ে দেশে ফেরত আসেন পরিবারের তিন পুরুষ সদস্য। কিন্তু আটকা পড়েন ফাতেমা ও আঞ্জুমান আরা নামের দুই নারী।

আঞ্জুমান আরা শ্রীলঙ্কাতেই পালিয়ে কোনোমতে আত্মগোপনে থাকেন, আর ফাতেমাকে ইতালির মিসরীয় দূতাবাস থেকে ভিসা করানোর মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে মিসরে নিয়ে যাওয়া হয়। মিসরে নিয়ে যাওয়ার পর ফাতেমার ওপর নেমে আসে চরম নির্যাতন। সেখানে তাকে বাধ্য করা হয় দেহব্যবসায়ে। তিনি এতে রাজি না হওয়ায় শরীরে সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়াসহ চালানো হয় ভয়াবহ শারীরিক অত্যাচার।

১২ বছরে ২ হাজার মানুষকে পাচার: এসআরবি জানায়, গ্রেপ্তার আরজু গত ১২ বছর ধরে এই পাচারকাজের সঙ্গে যুক্ত এবং সে এ পর্যন্ত দুই হাজারেরও বেশি সরল-সহজ মানুষকে ইউরোপের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন দেশে পাচার ও বিক্রি করে দিয়েছে। সে ‘আরজু ইমিগ্রেশন লিমিটেড’ ও ‘নাফিস এয়ার ইমিগ্রেশন লিমিটেড’ নামের ভুয়া নাম ব্যবহার করত, যদিও তার নিজস্ব কোনো বৈধ লাইসেন্স নেই। আরজুর ব্যবহৃত মোবাইলে পাওয়া ব্যাংক স্টেটমেন্টে গত এক বছরে প্রায় এক কোটি ৭০ লাখ টাকার বেশি আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

দীর্ঘদিন ধরে মিসরে অবস্থান করা আরজু ৩-৪ দিন আগে বাংলাদেশে আসে এবং অতি সম্প্রতি পুনরায় মিসরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিল। এনএসআই ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ট্র্যাকিং এবং গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বনানী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শ্রীলঙ্কা থেকে পালিয়ে আসা তিন ভুক্তভোগী ইতোমধ্যে ভাটারা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। সেই মামলায় আরজুকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ভাটারা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়া ভুক্তভোগীরা যোগাযোগের পর দেশের বিভিন্ন থানায় আরজুর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ দায়ের করেছেন বলেও জানিয়েছে এসআরবি।

এসআরবি-৪ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান জানান, শ্রীলঙ্কায় আত্মগোপনে থাকা আঞ্জুমান আরা এবং মিসরে থাকা কামরুন নাহার ফাতেমাকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।


নির্বাচিত

জয়পুরহাটে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় একজনের যাবজ্জীবন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জয়পুরহাট প্রতিনিধি

জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে ১৩ বছরের (৮ম শ্রেণি) এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে জয়পুরহাট শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আব্দুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।

​দণ্ডপ্রাপ্ত হামিদুল শেখ (৫৬) পাঁচবিবি উপজেলার শন্তাদিগর গ্রামের মৃত সামছুদ্দিন শেখের ছেলে।

​মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ দুপুরে শন্তাদিগর গ্রামের ওই ছাত্রী নিজ বাড়ির আঙিনায় ঝাড়ু দিচ্ছিল। সে সময় বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে প্রতিবেশী চাচা হামিদুল শেখ জোরপূর্বক মুখে ওড়না চাপা দিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে ভয়ভীতি দেখিয়ে হামিদুল একাধিকবার তাকে ধর্ষণ করে।

​ঘটনার প্রায় ৫ মাস পর ওই ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং সে গর্ভবতী হয়ে পড়লে পরিবার ঘটনাটি জানতে পারে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে ২০২৫ সালের ১৯ আগস্ট পাঁচবিবি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

​মামলা তদন্তের পর একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মাসুম। বিচারপ্রক্রিয়ায় উপযুক্ত সাক্ষী ও প্রমাণাদি উপস্থাপন শেষে আদালত এ রায় প্রদান করেন।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন, স্পেশাল পিপি, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের আইনজীবী রিনাত ফেরদৌসি রিনি। আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট হেনা কবীর।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের স্পেশাল পিপি, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের আইনজীবী রিনাত ফেরদৌসি রিনি জানান, দীর্ঘ শুনানি শেষে বিচারক মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) এই রায় প্রদান করেন। এই রায়ে তিনি সন্তুষ্ট।


নির্বাচিত

ময়মনসিংহে ভর্তি পরীক্ষা চান শিক্ষার্থী-অভিভাবকেরা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সারোয়ার জাহান জুয়েল, ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে লটারির মাধ্যমে ভর্তি প্রক্রিয়া বাতিল করে মেধাভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষা চালুর দাবিতে মানববন্ধন করেছেন শত শত শিক্ষার্থী ও অভিভাবক। তাদের দাবি, লটারির মাধ্যমে ভর্তি হওয়ায় শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন হচ্ছে না। তাই লটারির পরিবর্তে পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করার সুযোগ দিতে হবে। গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) থেকে নগরীর ফিরোজ-জাহাঙ্গীর চত্বরে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীরা কঠোর পরিশ্রম করে প্রস্তুতি নেয়। ভালো ফলাফল করার পাশাপাশি তারা ভর্তি পরীক্ষার জন্যও প্রস্তুতি গ্রহণ করে। কিন্তু লটারির মাধ্যমে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের সেই পরিশ্রম ও মেধার যথাযথ মূল্যায়ন হচ্ছে না।

অভিভাবকেরা অভিযোগ করে বলেন, একজন শিক্ষার্থী বছরের পর বছর পড়াশোনা করে ভালো ফলাফল করলেও শুধুমাত্র লটারিতে কাঙ্ক্ষিত বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ না পাওয়ায় তার মধ্যে হতাশা তৈরি হয়। অন্যদিকে অপেক্ষাকৃত কম প্রস্তুত থাকা কোনো শিক্ষার্থীও কেবল ভাগ্যের কারণে কাঙ্ক্ষিত বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেতে পারে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেধা ও পরিশ্রমের প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘লটারির মাধ্যমে নয়, শিক্ষার্থীর মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে।’ তারা বলেন, ভর্তি পরীক্ষা থাকলে শিক্ষার্থীরা নিজেদের মেধা, যোগ্যতা ও প্রস্তুতির মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব তৈরি হবে এবং পড়াশোনার প্রতি আগ্রহও বাড়বে। মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরাও তাদের ক্ষোভ ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে।

ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা তাদের দাবি বাস্তবায়নের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে কর্মসূচি শেষ করেন।


নির্বাচিত

পাহাড়ে স্থায়ী শান্তিতে ‘শান্তিচুক্তি’ পুনর্মূল্যায়নের দাবি পিসিএনপির

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 বিজয় ধর, রাঙামাটি

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক সম্প্রতি গঠিত তিনটি উচ্চপর্যায়ের জাতীয় কমিটিকে সাধুবাদ জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি)। একই সঙ্গে পাহাড় থেকে সন্ত্রাস নির্মূল, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি পুনর্মূল্যায়ন, সশস্ত্র সংগঠনগুলোকে নিষিদ্ধ ঘোষণা এবং পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় নতুন করে শান্তি প্রক্রিয়া শুরুর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাঙামাটি শহরের কাঁঠালতলীর পিসিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পিসিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য হাবীব আজমের সঞ্চালনায় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পিসিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান কাজী মজিবর রহমান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পিসিএনপি রাঙামাটি জেলা সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক, সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম, সহসাধারণ সম্পাদক মাওলানা ইব্রাহিম, মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মোরশেদা আক্তার, যুব পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুর হোসেন, পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা সভাপতি তাজুল ইসলাম তাজ, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনসহ পিসিএনপি, পিসিসিপি, পিসিজেপি ও পিসিএমপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

লিখিত বক্তব্যে কাজী মজিবর রহমান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, নীতি নির্ধারণ ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সরকার গঠিত তিনটি উচ্চপর্যায়ের জাতীয় কমিটি পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং পাহাড়ি-বাঙালির সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা করছেন।

তবে পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরের দীর্ঘ সময় পরও পাহাড়ে সশস্ত্র সংঘাত, চাঁদাবাজি ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জেএসএসের বিভিন্ন বক্তব্যেরও সমালোচনা করা হয়। পিসিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন, জেএসএস এখনো অস্ত্র ও সশস্ত্র কর্মকাণ্ড থেকে সরে আসেনি। সংগঠনটির দাবি, পাহাড়ে অবৈধ সশস্ত্র অবস্থান ও চাঁদাবাজি অব্যাহত রেখে শান্তিচুক্তির কথা বলা বিভ্রান্তিকর। একই সঙ্গে জেএসএসের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিবাদ জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলালকে স্বপদে বহাল রাখার দাবিও জানানো হয়। পিসিএনপি নেতারা বলেন, পাহাড়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও সব জনগোষ্ঠীর সুষম উন্নয়নে তার ভূমিকা অব্যাহত থাকা প্রয়োজন।

এ ছাড়া পার্বত্য চুক্তি পুনর্মূল্যায়ন করে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন করে শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি জেএসএস, ইউপিডিএফ ও কেএনএফকে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণার আহ্বান জানায় সংগঠনটি।

পিসিএনপির অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে পাহাড়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে লিগ্যাল টাস্কফোর্স গঠন, পার্বত্য জেলা পরিষদের কাছে ন্যস্ত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ বিভাগগুলো পুনরায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফিরিয়ে নেওয়া, ১ শতাংশ উপজাতীয় কোটার পরিবর্তে পিছিয়ে পড়া সব জনগোষ্ঠীর জন্য ‘অনগ্রসর কোটা’ চালু এবং পার্বত্য জেলা পরিষদ ও আঞ্চলিক পরিষদে জনসংখ্যার অনুপাত অনুযায়ী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।

এ ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামে বিদেশি এনজিওগুলোর প্রকল্প ও কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে তদারকির দাবিও জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পিসিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সরকার গঠিত তিনটি জাতীয় কমিটির যেকোনো গঠনমূলক উদ্যোগে সংগঠনটি সহযোগিতা করবে।


নির্বাচিত

নির্বাচনী কোনো কলঙ্ক ঘাড়ে নেবে না সরকার: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আইন-শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় প্রধান অতিথি এলডিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:০৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী জানুয়ারি থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলডিআরডি) প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ স্থানীয় নির্বাচন উপহার দিতে চায়। নির্বাচনী কোনো কলঙ্ক বর্তমান সরকার ঘাড়ে নেবে না।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আইন-শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার উন্নয়ন সমন্বয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মীর শাহে আলম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো রংপুর সফরে এসেছেন। সকালে রংপুরের পীরগঞ্জে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাত করে খোঁজখবর নেন তিনি। এ সময় প্রতিমন্ত্রী শহীদ আবু সাঈদের বাড়িতে নতুন ঘর নির্মাণ, তার বাবা-মায়ের থাকার ব্যবস্থা এবং কবরস্থানের সৌন্দর্যবর্ধনে এক কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণা দেন।

পরে পীরগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি স্কুল-কলেজ পরিদর্শন ও শিক্ষার্থীদের মতবিনিময় শেষে বড়দরগাহ থেকে ভেন্ডাবাড়ি জিসি সড়কের উন্নয়নমূলক কাজ পরিদর্শন করে রংপুরের কর্মসূচিতে অংশ নেন।

জেলা প্রশাসন আয়োজিত সভায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, অবহেলিত রংপুরের উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। জেলার বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে সব সমস্যার সমাধান করা হবে।

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আজকের সভা থেকে আমরা প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়ে যাব। আগামী মাসের সভায় যদি পরিস্থিতির উন্নতি না হয়, তাহলে দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সারা দেশে সুষম উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সারা দেশে সুষম উন্নয়নের ধারায় রংপুরেও উন্নয়ন করা হবে। ইতোমধ্যে রংপুর জেলার ছয়টি আসনে ১২৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও রংপুর বিভাগের জন্য প্রায় ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাব একনেকে পাঠানো হয়েছে।

সভায় জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহানের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, রংপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রব্বানী, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রেজেকা সুলতানা ফেন্সী, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন, জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।

এছাড়াও জেলার সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্মকর্তাসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

ট্রাক্টরের যুগে সিরাজগঞ্জে ঘোড়া দিয়ে জমিতে হচ্ছে হাল চাষ, বাড়ছে চাহিদা

ঘোড়া দিয়ে জমি চাষ ও মই দেওয়ার দৃশ্য। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গোলাম মোস্তফা রুবেল, সিরাজগঞ্জ

ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলারের দাপটে কৃষিকাজ থেকে গরু-মহিষের হাল প্রায় হারিয়ে গেছে। ঘোড়া দিয়ে জমি চাষ ও মই দেওয়ার দৃশ্যও এখন খুব একটা চোখে পড়ে না। তবে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার কয়েকটি গ্রামে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। সেখানে ঘোড়া দিয়ে জমি চাষ ও মই দেওয়াকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন কয়েকজন। বাড়তি জ্বালানি খরচ এড়াতে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও ঘোড়ার হাল ও মইয়ের চাহিদা তৈরি হয়েছে।

গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) তাড়াশ উপজেলার তালম ইউনিয়নের গোন্তা গ্রামের পাশের মাঠে দেখা যায়, ঘোড়া দিয়ে জমিতে মই দিচ্ছেন কৃষক শফিকুল ইসলাম। কাদামাটির জমিতে ঘোড়াটিকে নিয়ন্ত্রণ করে জমির উঁচু-নিচু অংশ সমান করছিলেন তিনি।

শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রায় পাঁচ বছর আগে ২৪ হাজার টাকা দিয়ে ঘোড়াটি কিনেছিলেন। এরপর থেকে বিভিন্ন কৃষকের জমি চাষ ও মই দেওয়ার কাজে ঘোড়াটি ব্যবহার করছেন। বর্তমানে এটিই তার আয়ের অন্যতম মাধ্যম।

তিনি জানান, প্রতি বিঘা জমিতে মই দেওয়ার জন্য ২৫০ টাকা নেন। দিনে প্রায় পাঁচ বিঘা জমিতে মই দিতে পারেন। এতে দৈনিক আয় হয় প্রায় ১ হাজার ২৫০ টাকা। আমন ও বোরো দুই মৌসুমে ঘোড়া দিয়ে প্রায় ৫০-৬০ হাজার টাকা আয় হয়। বীজতলা তৈরির কাজেও ঘোড়াটি ব্যবহার করেন তিনি।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, তাড়াশে গরুর জোয়াল-মই এখন প্রায় নেই। কোথাও কোথাও মহিষ দিয়ে মই দেওয়া হলেও প্রয়োজনের সময় ট্রাক্টর বা পাওয়ার টিলার পাওয়া যায় না। আবার আধুনিক যন্ত্রে চাষের খরচও তুলনামূলক বেশি। এ কারণে কম খরচে ঘোড়ার হাল ও মইয়ের দিকে ঝুঁকছেন কেউ কেউ।

কৃষকদের ভাষ্য, ঘোড়ার মই দিয়ে জমির মাটি ভালোভাবে সমান করা যায়। প্রয়োজন অনুযায়ী একই জায়গায় কয়েকবার ঘোরানো সম্ভব হওয়ায় জমির উঁচু-নিচু অংশও ঠিকভাবে সমান হয়। এতে সেচের পানি জমিতে সমভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

তালম ইউনিয়নের জন্তিপুর গ্রামের আয়জদ্দি ফকির আগে ঘোড়ার গাড়িতে ধান ও বিভিন্ন মালামাল পরিবহন করতেন। পরে ঘোড়া দিয়ে জমিতে মই দেওয়ার কাজ শুরু করেন। এখন তার নাতি আশরাফুল ইসলামও এ কাজ করছেন।

আরিফুল ইসলাম বলেন, প্রায় চার বছর আগে বোরো মৌসুমে তার নানা তাড়াশে ঘোড়ার জোয়াল-মইয়ের কাজ শুরু করেন। পরে আরও কয়েকজন এ কাজকে পেশা হিসেবে নেন। তিনিও আমন ও বোরো মৌসুমে ঘোড়া দিয়ে মই দেন। দিনে কমপক্ষে ১০ বিঘা জমিতে মই দেওয়া যায়। প্রতি বিঘায় ২০০ টাকা করে পাওয়া যায়।

তাড়াশের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী সিংড়া ও গুরুদাসপুর উপজেলাতেও কয়েকজন ঘোড়া দিয়ে জমিতে মই ও হাল দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

সিংড়ার মোখলেছুর রহমান বলেন, শুরুতে ঘোড়ার গাড়িতে মালামাল পরিবহন করতেন। পরে আরও একটি ঘোড়া কিনে প্রশিক্ষণ দিয়ে জমি চাষ শুরু করেন। এখন প্রতিদিন তিন থেকে সাড়ে তিন বিঘা জমি চাষ করতে পারেন। এতে আয় হয় ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা। তবে দুটি ঘোড়ার খাবার বাবদ প্রতিদিন প্রায় ৪০০-৫০০ টাকা খরচ হয়।’

মোখলেছুর রহমানের দাবি, ঘোড়ার হালে জমি তুলনামূলক ভালোভাবে চাষ হয়। ইরি-বোরো মৌসুমে এ কাজের চাহিদা আরও বাড়ে। অনেক কৃষক এখন পাওয়ার টিলারের পরিবর্তে ঘোড়ার হাল দিয়ে জমি চাষ করাচ্ছেন।

কৃষক হযরত আলী বলেন, এলাকায় গরুর হাল নেই। আবার প্রয়োজনের সময় পাওয়ার টিলারও পাওয়া যায় না। তাই কম খরচে ঘোড়ার হাল দিয়ে জমি চাষ করাচ্ছেন তারা।

ট্রাক্টরচালক সেরাজুল বলেন, তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় জমি চাষের খরচও আগের তুলনায় বেড়েছে। এতে বিঘাপ্রতি চাষাবাদে কৃষকদের বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। ফলে খরচ কমাতে অনেক কৃষক ট্রাক্টরের পরিবর্তে ঘোড়া দিয়ে জমি চাষ করছেন। ঘোড়া দিয়ে চাষে জ্বালানি খরচ না থাকায় ব্যয় তুলনামূলক কম পড়ে।

তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সেন গুপ্তা বলেন, ‘আধুনিক কৃষিযন্ত্রের ব্যবহারের কারণে বর্তমানে ঘোড়া দিয়ে জমি চাষের ঘটনা সচরাচর দেখা যায় না। তবে প্রয়োজন ও বাড়তি আয়ের জন্য উপজেলার কিছু কৃষক ঘোড়া দিয়ে জমি চাষ ও মই দেওয়ার কাজ করছেন। কৃষি বিভাগ কৃষকদের আধুনিক ও উন্নত কৃষিযন্ত্র ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকে।

ট্রাক্টর-পাওয়ার টিলারের যুগে তাড়াশের মাঠে ঘোড়ার হাল যেন পুরোনো কৃষিচিত্রেরই এক ঝলক। তবে সেই পুরোনো পদ্ধতিই এখন কয়েকজনের জীবিকার পাশাপাশি কম খরচে চাষাবাদের বিকল্প হয়ে উঠেছে।


নির্বাচিত

কিশোরগঞ্জে ৬ কেজি গাঁজাসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অষ্টগ্রাম-মিঠামইন (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে অভিযান চালিয়ে ৬ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুকুনুজ্জামান সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

​গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন; ঢাকার মিরপুরের বদরুজ্জামানের ছেলে মো. লিমন মিয়া (২২), নাটোরের সিংধার সাইদুল ইসলামের ছেলে মো. শাওন ইসলাম (২২) এবং হবিগঞ্জের মরুড়ার মনু মিয়ার ছেলে মো. রূপন মিয়া (২৩)।

​পুলিশ জানায়, গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) অস্টগ্রাম থানার এসআই (নিঃ) অনিক কুমার সাহা সঙ্গীয় ফোর্সসহ সরকারি গাড়ীযোগে ডিউটি করার সময় পারেন, অস্টগ্রাম থানাধীন পূর্বঅস্টগ্রাম ইউনিয়নের ইকরদিয়া ঘাট সংলগ্ন আনফর আলীর চায়ের দোকানের সামনে পাকা রাস্তার উপর কতিপয় ব্যক্তি মাদকদ্রব্য কেনাবেচা করছে। প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনজন ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করেন এবং পরবর্তীতে পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় তাদের আটক করা হয়।

আটককৃতদের দেহ তল্লাশি করে লিমন মিয়ার কাছ থেকে ৪ কেজি, শাওন ইসলামের কাছ থেকে ১ কেজি এবং রূপন মিয়ার কাছ থেকে ১ কেজি— সর্বমোট ৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজার মূল্য ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা। ​এ ঘটনায় ধৃত আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে অস্টগ্রাম থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।


নির্বাচিত

হুইপ বকুলের কণ্ঠ নকল করে সাড়ে ৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ, আটক ৪

* ১২ লাখ টাকা উদ্ধার, প্রধান আসামির ১৬৪ ধারায স্বীকারোক্তি
ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সৈকত মো. সোহাগ, খুলনা ব্যুরো

ডিজিটাল ডিভাইস হোয়াটসঅ্যাপ এর মাধ্যমে সাইবার স্পেস ব্যবহার করে জাতীয় সংসদের হুইপ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুলের কণ্ঠ নকল করে ব্যবসায়ির কাছ থেকে সাড়ে ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মামলায় চারজনকে আটক করা হয়েছে। এরমধ্যে মামলার প্রধান আসামি এজাজ আহমেদ রাজা আদালতে ১৬৪ ধারায় সীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া উদ্ধার হয়েছে ১২ লাখ টাকা। হুইপের কণ্ঠ নকল করে এমন জালিয়াতি ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনসহ সর্বত্র তোলপাড় শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।

নগরীর পশ্চিম টুটপাড়া এলাকার ব্যবসায়ি জি,এম আজিজুর রহমানের কাছ থেকে প্রতারণা করে দুই দফায় সাড়ে তিন কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় গত ১৮ সেপ্টেম্বর সাইবার সুরক্ষা আইনে খুলনা সদর থানায় মামলা দায়ের করেন ওই ব্যবসায়ি। মামলাটি ডিবির কাছে হস্তান্তর হওয়ার পর এ পর্যন্ত ৪ জনকে আটক করা হয়েছে।

মামলায় দেবেন বাবু রোডের এজাজ আহমেদ রাজা (৪৬), একই এলাকার শেখ মাহাবুবুর রহমান মামুনের (৪৯) নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জনকে আসামি করা হয়।

এজাহারে জি,এম আজিজুর রহমান উল্লেখ করেন যে- আমার বড় ভাই জিএম মফিজুর রহমান টিকু বর্তমানে আমেরিকা প্রবাসী। আমার বড় ভাইকে সাবেক খুলনা মহানগর ছাত্র দলের সভাপতি আরিফ জানান হুইপ বকুল ভাই আপনার সাথে কথা বলতে চাচ্ছে, এবং সে প্রেক্ষিতে আমার বড় ভাইকে +১(৯২৯)২২৩-০৪২৭ নম্বরটি বকুল সাহেবের নাম্বার বলে প্রদান করেন এবং বকুল সাহেবের সাথে ওই নাম্বারে হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলেন। +১(৯২৯)২২৩-০৪২৭ নম্বরের হোয়াটসঅ্যাপে তিনি নিজেকে বকুল সাহেব বলে পরিচয় দেন।

এই পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৯ জুলাই খুলনা সদর থানাধীন পশ্চিম টুটপাড়া আমার বাসায় অবস্থান করাকালে আমার ভাই আমাকে বকুল সাহেবের সাথে গ্রুপ কলে যুক্ত করেন। উক্ত গ্রুপ কলে প্লাটিনাম জুট মিলের পুরাতন যন্ত্রাংশ ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা হয়।

একপর্যায়ে বকুল মালামাল ক্রয়ের পূর্বে অগ্রিম পেমেন্ট ক্লিয়ার করার বিষয়ে বলেন এবং আমাকে বলেন যে সকালে পেমেন্ট করতে পারবে কিনা। আমি বকুল সাহেবের কথায় সকালে পেমেন্ট করতে পারব বলে জানাই এবং বলে সকালে একজন লোক তোমার সাথে দেখা করবে।

এই ধারাবাহিকতায় গত ২৯ জুলাই শেখ মাহাবুবুর রহমান মামুন (৪৯) এর মোবাইল নম্বর -০১৭১১-০৬৬০৫৯ আমার নিকট আসার কথা থাকলেও ২নং আসামি নিজে না এসে ১নং আসামি এজাজ আহমেদ রাজাসহ অজ্ঞাত আর একজন আসামিকে খুলনা সদর থানাধীন ২৫ স্যার ইকবাল রোডস্থ আলফি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল আমার অফিসে পাঠান।

সেখানে প্লাটিনাম জুট মিলের পুরাতন যন্ত্রাংশ ক্রয়ের পেমেন্ট বাবদ আমি ১নং আসামি এজাজ আহমেদ রাজাকে নগদ ২ কোটি টাকা প্রদান করি। পরবর্তীতে আবারও +১(৯২৯)২২৩-০৪২৭ নম্বরের হোয়াটসঅ্যাপে বকুল সাহেবের সাথে কথা হয় এবং আমাকে জানান যে, হার্ডবোর্ড মিল নিতে পারব কিনা।

আমি জানাই এই মুহূর্তে এত টাকা অ্যারেঞ্জ করতে পারব না এবং মিলটা আগে আমার দেখা লাগবে। এক পর্যায়ে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী বাবু নাম্বার প্রদান করে এবং অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী বাবু ভাইকে আমার নাম্বার প্রদান করেন।

অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী বাবু ভাই আমাকে গত ৩০ জুলাই ভোরে হোয়াটসঅ্যাপে একটি মেসেজ প্রদান করে এবং জানান যে বকুল ভাই আপনার নাম্বার দিয়েছে হার্ডবোর্ড মিল ও প্লাটিনাম মিল কখন দেখবেন।

এই ধারাবাহিকতায় গত ৩০ জুলাই দুপুরের মধ্যে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী বাবু আমাকে সঙ্গে নিয়ে প্লাটিনাম জুট মিলে যাই এবং সেখানে পুরাতন মেশিনারী ও লোহার যন্ত্রাংশ সরেজমিনে দেখি।

হার্ডবোর্ড মিলে জিএম না থাকায় আমি প্লাটিনাম জুট মিল সরেজমিনে পরিদর্শন করি এবং সেখানকার পুরাতন যন্ত্রাংশ পছন্দ হওয়ায় পরবর্তীতে গত ২ আগষ্ট আরও ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা ১নং আসামি এজাজ আহমেদ রাজা ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিকে প্রদান করি। এভাবে সর্বমোট ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা প্রদান করার পরও আমি সংশ্লিষ্ট বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য নিয়মিত যোগাযোগ করতে থাকি।

কিন্তু বকুল সাহেব আমাকে আজ বা কাল দেখা করবে বা কথা বলবে বলে জানাই। পরবর্তীতে গত ২৯ আগষ্ট কথা বলার কথা থাকলেও বকুল সাহেব আমার সাথে কথা বলেনি। গত ১ সেপ্টেম্বর বিএনপি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে হুইপ বকুল সাহেব খুলনায় আসলে আমি তার সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করি এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো জানাই।

তখন তিনি আমাকে জানান যে, উক্ত বিষয় সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না এবং এ ঘটনা সম্পর্কে তিনি অবগত নন।

এদিকে প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়েরের পর পুলিশ প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের এস আই সাইদুর রহমান বলেন, ৪ জনকে আটক করা হয়েছে ও গত রোববার বয়রা রায়েরমহল এলাকা থেকে জাকিয়া সুলতানাসহ দুইজনকে আটক করা হয়। এদিকে গত সোমবার বিকালে মামলার প্রধান আসামি এজাজ আহমেদ রাজাকে খুলনা মেট্রেপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট-(১) মো. আসাদুরজামানের আদালতে হাজির করা হলে সে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

খুলনার ডিবি উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া বলেন, মামলাটি খুবই স্পর্শ কাতর মামলা। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না।


নির্বাচিত

banner close