নোয়াখালীর ভাসানচরে রোহিঙ্গা আশ্রয়ন প্রকল্পে গ্যাস সিলিন্ডারের আগুনে দগ্ধ আরও এক শিশু চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।
সোহেল নামের সাড়ে পাঁচ বছর বয়সী ছেলেটি বুধবার সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু আইসিইউ বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় বলে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম আহসান জানান।
চার দিন আগে ভাসানচরের ওই ঘটনায় দগ্ধ নয়জনের মধ্যে এ পর্যন্ত চারজনের মৃত্যু হল। তিনজন এখনও চট্টগ্রাম মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন।
বার্ন ইউনিটের প্রধান ডা. রফিক উদ্দিন আহমেদ বলেন, সোহেলের ৫২ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল এবং শ্বাসনালী ক্ষতিগ্রস্ত ছিল।
পুলিশ জানায়, ভাসানচরের আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা রোহিঙ্গারা বিভিন্ন এনজিওর সরবরাহ করা সিলিন্ডারের গ্যাসে রান্নার কাজ করেন। আশ্রয়ণ প্রকল্প ৩ এর ৮১ নম্বর ক্লাস্টারের বাসিন্দা সফি আলম গত শনিবার তার খালি সিলিন্ডার জমা দেওয়ার আগে বারান্দায় বসে মুখ খুলে দেখছিলেন। তখন সিলিন্ডারের নিচে জমা গ্যাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে।
সফির প্রতিবেশীর ঘরে তখন রান্না চলছিল। ফলে বাতাসে ছড়িয়ে পড়া গ্যাসে আগুন ধরে যায়। তাতে ৫ শিশু, দুজন নারী এবং দুজন পুরুষ দগ্ধ হন।
তাদের মধ্যে সাতজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হলে রাসেল নামের তিন বছর বয়সী একটি শিশুকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
বাকিদের মধ্যে সাড়ে ৩ বছর বয়সী মোবাশ্বেরা সোমবার সকালে এবং ৫ বছর বয়সী রুবি আলম সেদিন বিকালে মারা যায়।
যে তিনজন এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তাদের মধ্যে আমেনা খাতুনের (২৬) শরীরের ৮ শতাংশ, জুবাইদার (২৫) শরীরের ২৫ শতাংশ, রুশমিনার (৩) শরীরের ৫০ শতাংশ পুড়ে গেছে।
কুমিল্লার গোমতী নদীর পানি কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও বন্যার কোনো আশঙ্কা নেই। তবে ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার পুরনো ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ছড়িয়ে পড়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন গোমতীপাড়ের বাসিন্দারা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসন গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
সরেজমিনে শুক্রবার (১০ জুলাই) কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার চিকারচর, জগন্নাথপুর এবং বুড়িচং উপজেলার কামারখাড়া, বালিখাড়া ও ভান্তি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নদীর চরে পানি প্রবেশ করলেও তা এখনো বেড়িবাঁধের ৬ থেকে ৮ ফুট নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কোথাও কোথাও চরাঞ্চলের নিচু জমি তলিয়ে গেলেও বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, গোমতী নদীর পানির উচ্চতা ১১ দশমিক ৩০ ফুটে পৌঁছালে বিপৎসীমা ধরা হয়। বর্তমানে নদীর পানি সেই সীমার অনেক নিচে রয়েছে। টানা ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল না হলে বন্যার আশঙ্কা নেই।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব ভিডিও ও ছবি ছড়ানো হচ্ছে, সেগুলো ২০২৪ সালের বন্যার সময়কার বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এদিকে কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মিজানুর রহমান জানান, জানিয়েছে, নদীর পানি বাড়ায় চরাঞ্চলের প্রায় ৬ হেক্টর জমির আগাম সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বৃষ্টিপাত না বাড়লে ক্ষতির পরিমাণ আর বাড়বে না।
কুমিল্লা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছৈয়দ আরিফুর রহমান জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। আগামী দুই দিনও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদী থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ এবং ভাঙনের কবল থেকে বসতবাড়ি, কবরস্থান ও কৃষিজমি রক্ষার দাবিতে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নদী তীর রক্ষা বাঁধ ও স্থাপনা সংরক্ষণের দাবিতে শুক্রবার (১০ জুলাই) কমলগঞ্জ পৌর এলাকায় এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উক্ত কর্মসূচিতে উত্তর আলেপুর, চণ্ডীপুর ও দক্ষিণ কুমড়াকাপন গ্রামের প্রায় পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ ব্যানার-ফেস্টুন হাতে অংশ নেন। এতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, কৃষক ও ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ সংহতি প্রকাশ করেন।
মানববন্ধন শেষে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহল নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ড্রেজার মেশিন দিয়ে ধলাই নদীর তলদেশ থেকে বাণিজ্যিকভাবে বালু উত্তোলন করছে। বিশেষ করে নদীর তীর সংলগ্ন এলাকা থেকে অবাধে বালু তোলার কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নষ্ট হচ্ছে এবং তলদেশের ভারসাম্য বজায় থাকছে না। ফলে উত্তর আলেপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের বসতবাড়ি, বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, কবরস্থান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
সমাবেশে বক্তব্য দেন স্থানীয় ব্যবসায়ী আবুল হোসেন, জমসেদ মিয়া, আজাদ মিয়া, মহরম মিয়া, মনাই মিয়া, মন্নান মিয়া, নজরুল মিয়া, আলাল মিয়া, নূরুল ইসলাম, শিবলু এবং নজরুল ইসলাম বুলবুলসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। সমাবেশে আন্দোলনকারীরা আমরা বৈধ ইজারার বিরোধী নই, তবে তীর ঘেঁষে ড্রেজার বসানো বন্ধ করতে হবে।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান, ধলাই নদীর পাশের বাঁধগুলোর অবস্থা আসলেই নাজুক। ইজারাদারদের সঙ্গে কথা বলে নদী তীরসংলগ্ন এলাকা থেকে বালু উত্তোলন বন্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ নদীতীর রক্ষা বাঁধ দ্রুত সংস্কার ও নতুন বাঁধ নির্মাণের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে বলেও আশ্বাস দেন এই কর্মকর্তা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন দক্ষিণবঙ্গে আগমনকে ঘিরে মাদারীপুরে ব্যাপক প্রস্তুতিসভা অনুষ্ঠিত হচ্ছো। শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে মাদারীপুরের কেন্দুয়া, মস্তফাপুর, ঘটমাঝি, ঝাউদি ও খোয়াজপুর এই ০৫ ইউনিয়নের বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী-সমর্থক, সাধারণ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের নিয়ে মস্তফাপুর চাতালে এই প্রস্তুতি সভার আয়োজন করা হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন কালকিনি-মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটিসহ গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন এমপি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি নেতা ও জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মর্তুজা আলম ঢালী, বিএনপি নেতা লেলিন ভূইয়া, স্বেচ্ছাসেবক দল জেলা শাখার সেক্রেটারী এডভোকেট মাসুদ পারভেজ, যুবদল জেলা শাখার আহবায়ক ফারুক বেপারী, ছাত্রদল জেলা শাখার আহবায়ক কামরুল ইসলাম সহ অঙ্গসংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও কর্মী সমর্থক।
এসময় প্রধান অতিথি এমপি আনিসুর রহমান প্রস্তুতি সভায় নেতা-কর্মী-সমর্থক ও ৫ টি ইউনিয়ন থেকে আগত গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা, শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন।
তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের দক্ষিণবঙ্গে আগমন আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার আগমনে দক্ষিণবঙ্গবাসীর উন্নয়নের দুয়ার খুলে যাবে। তাই আমাদের দলে-দলে তার জনসভায় যোগদান করতে হবে, যাতে তিনি এই অঞ্চলের মানুষের গণজোয়ার দেখে অবহেলিত দক্ষিণবঙ্গবাসীর সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়নে তার উদারহস্ত প্রসার করে দেন।
অনুষ্ঠান থেকে বক্তারা প্রধানমন্ত্রীর পথ নিরাপত্তায় ভূমিকা রাখাসহ ব্যাপক সংখ্যক জনসমাগমের আশ্বাস দেন।
সরকারি সহায়তা বিতরণে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি বা পক্ষপাতিত্ব করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি বলেন, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ও সহায়তা পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের হাতেই সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিতে হবে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) বেলা ১১টায় পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার সোনাহার ইউনিয়নের মল্লিকাদহ চৌধুরীপাড়া এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ১৭টি পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ ও ঢেউটিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, সরকারি সহায়তা বিতরণে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি বা পক্ষপাতিত্ব করা যাবে না। যারা প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ও সহায়তা পাওয়ার যোগ্য, তাদের হাতেই সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিতে হবে।
তিনি বলেন, আমি দল-মত নির্বিশেষে সবার প্রতিনিধি। তাই সরকারি সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা উচিত নয়। আগুন লাগার সময় তো আগুন দেখেনি কে বিএনপি, কে জামায়াত কিংবা কে অন্য কোনো দলের।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমি তালি দেওয়ার কিংবা তালি পাওয়ার জন্য রাজনীতি করি না। আমি রাজনীতি করি জনগণের জন্য। আপনাদের প্রয়োজনে, আপনাদের দুর্দিনে পাশে থাকার রাজনীতি করি। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলার কোনো মসজিদ, মন্দির কিংবা গির্জা আমার অনুদানের বাইরে থাকবে না। বর্তমান সরকারের আমলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এ অঞ্চলের কোনো কাঁচা রাস্তা থাকবে না। সব রাস্তা পর্যায়ক্রমে পাকাকরণ করা হবে। নদীভাঙন প্রতিরোধে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এক ছটাক জমিও যেন নদীগর্ভে বিলীন না হয়, সে লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে যা যা করণীয়, আমরা তা করব।
অনুষ্ঠানে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ১৭টি পরিবারের মাঝে সরকারি সহায়তা হিসেবে ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়। এ সময় দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ সাহা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
বিআইডব্লিউটিএ’র আরিচা অঞ্চলের আওতাধীন রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ও আরিচা লঞ্চ ঘাটের খোলা পন্টুনে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ যাত্রী ও ষ্টাফরা।
বিষয়টি ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে আধুনিকায়নের জন্য একটি প্রস্তাবনা নৌপরিবহন মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগীরা দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
সরেজমিন দেকা যায়, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া এবং দৌলতদিয়া-আরিচা নৌ-রুটের তিনটি লঞ্চ ঘাটের পন্টুনে সাধারণ যাত্রী ও স্টাফরা প্রতিনিয়ত নানাভাবে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। খোলামেলা পন্টুনগুলোতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সাধারণ যাত্রী ও পন্টুনে কর্মরত কর্মচারীদের বৈরী পরিবেশ মোকাবিলা করে কাজ করতে হয়। সাধারণ যাত্রীদের আশ্রয় নেয়ার মতো কোন ব্যবস্থা নেই। নেই টয়লেট ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা।
আরিচা লঞ্চ মালিক সমিতির দৌলতদিয়া ঘাট প্রতিনিধি মফিজুল ইসলাম বলেন, দৌলতদিয়া লঞ্চঘাটটি একটা সময় মূল নদী থেকে ভেতরের দিকে অবস্থিত ছিল। অনেকটা পোতাশ্রয় প্রকৃতির ছিল। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে ঘাটের উজানে বিশাল এলাকা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় ঘাটটি বর্তমানে মূল নদীর মুখে পড়েছে। যে কারনে বৈরী আবহাওয়ায় তীব্র ঢেউ,স্রোত ও ঝড়ের আঘাত সরাসরি পন্টুনের উপর এসে পড়ে। শীতকালে ঘন কুয়াশা এবং শৈত্য প্রবাহেও পন্টুনে অবস্হান করা দুরুহ হয়ে ওঠে।
এমতাবস্থায় পন্টুনের দুইপাশে দুইটি আধুনিক সেবা সমৃদ্ধ শেড করে দিলে সাধারণ যাত্রী এবং তাদের অনেক উপকার হতো।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস বলেন, দৌলতদিয়া লঞ্চ ঘাট পরিদর্শনকালে খোলা পন্টুনে যাত্রী ভোগান্তির বিষয়টি তার নজরে এসেছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊধ্বর্তন কতৃ©পক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছি।
আরিচার বন্দর কর্মকর্তা সুব্রত পলাশ রায় জানান, গত ঈদুল আজহার আগে নৌমন্ত্রণালয়ের সচিব দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ঘাট পরিদর্শনে আসলে তখনই খোলা পন্টুনে বিষয়টি অবহিত এবং আধুনিকায়নের জন্য একটি লিখিত প্রস্তাবনাও পাঠানো হয়। আশা করছি দ্রুত পন্টুনে যাত্রী সেবা বাড়ানোর কাজটি অনুমোদন পাবে। আধুনিক রুপ পাবে এ অঞ্চলের তিনটি লঞ্চ ঘাটের পন্টুন।
সাতক্ষীরার শ্যামনগরের রমজাননগর ইউনিয়নের সুন্দরবনসংলগ্ন টেংরাখালীতে প্রায় ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি পাকা সেতুর সংযোগ সড়ক না থাকায় এলাকাবাসীর কোনো কাজে আসছে না। ফলে পাঁচ গ্রামের মানুষ ও শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করে পারাপার হচ্ছেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অর্থায়নে উপজেলার ৬ নম্বর রমজাননগর ইউনিয়নের টেংরাখালী গ্রামের দাউদ গাজীর বাড়ির সামনের খালের উপর প্রায় ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। কাজটি বাস্তবায়ন করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরিফ এন্টারপ্রাইজ।
সরেজমিনে দেখা যায়, এক মাস আগে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলেও দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। ফলে সেতুটি কার্যত পানিবেষ্টিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। টেংরাখালী, পার্শ্বেখালী, মিরগাং, কালিঞ্চী ও ঠাকুরঘেরী গ্রামের হাজারো মানুষ এখনো ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে খাল পারাপার হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতু নির্মাণের সময় সংযোগ সড়কের জন্য নির্ধারিত স্থান থেকে ভেকু মেশিন দিয়ে বিপুল পরিমাণ মাটি উত্তোলন করে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এতে সড়কের দুই পাশ গভীর খাদে পরিণত হয়েছে এবং সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য এখন প্রয়োজনীয় মাটি পাওয়া যাচ্ছে না।
রমজাননগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল হামিদ লাল্টু বলেন, ‘বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও পিআইওকে জানানো হয়েছে। তারা সরেজমিনে এসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।’
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিরাজ হোসেন বলেন, ‘ঠিকাদারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। বৃষ্টি কমলেই সংযোগ সড়কের কাজ শুরু করা হবে।’
টাঙ্গাইলের মধুপুর বনাঞ্চলে সড়ক পারাপারের সময় বন্যপ্রাণীর মৃত্যু কমাতে পাঁচটি রোপওয়ে (রজ্জুপথ) নির্মাণ করেছে বন বিভাগ। গাছের সঙ্গে বিশেষভাবে স্থাপন করা এসব রোপওয়ে ব্যবহার করে বানর, হনুমানসহ গাছে বসবাসকারী প্রাণীরা এখন নিরাপদে মহাসড়ক পার হতে পারছে।
বন বিভাগের তথ্যসূত্রে, টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়ক মধুপুরের বনাঞ্চলকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে। খাবারের সন্ধানে এক পাশ থেকে অন্য পাশে যেতে গিয়ে প্রায়ই যানবাহনের চাপায় বানর, হনুমান, মেছোবিড়াল, গন্ধগোকুলসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী মারা যায়। এ পরিস্থিতি কমাতে মধুপুর জাতীয় উদ্যান সদর রেঞ্জ এলাকায় টাঙ্গাইল-মময়মনসিংহ মহাসড়কের পাঁচটি স্থানে রোপওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল বাস মিনিবাস মালিক সমিতির আহ্বায়ক শফিকুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, ‘এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন দিন-রাত চব্বিশ ঘণ্টাই গাড়ি চলাচল করে। বনের এখানে পর্যটক ও পথচারীদের দেওয়া খাবারের আশায় প্রায়ই বানর-হনুমান মহাসড়কে নেমে আসে। এতে হঠাৎই দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এখন থেকে রোপওয়ের ব্যবহার বাড়লে এ ধরনের মৃত্যু কমবে বলে আশা করি।’
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান ড. এ এস এম সাইফুল্লাহ বলেন, ‘মধুপুর বনাঞ্চলের দুর্লভ মুখপোড়া হনুমান উঁচু গাছে বিচরণ করে এবং খাবারের সন্ধানে এক গাছ থেকে অন্য গাছে চলাচল করে। বনাঞ্চলের মধ্য দিয়ে থাকা উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুৎলাইন তাদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। নিরাপদ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে প্রাণীগুলোর মৃত্যু কমবে এবং প্রজননও স্বাভাবিক থাকবে। পরিবেশও ভালো থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও বন্যপ্রাণীর নিরাপদ চলাচলের জন্য রোপওয়ে করিডোর ব্যবহৃত হচ্ছে এবং সেখান থেকে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে।’
মধুপুর জাতীয় উদ্যান সদর রেঞ্জের ডেপুটি রেঞ্জার মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে মধুপুর শালবন বনপ্রতিষ্ঠা প্রকল্পের আওতায় পঁচিশ মাইল থেকে রসুলপুর বাজার পর্যন্ত পাঁচটি রোপওয়ে করিডোর নির্মাণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বানর, হনুমান, সিভেটসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী নিরাপদে চলাচল করতে পারবে এবং যানবাহনের নিচে পিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি কমবে।’ তিনি জানান, প্রকল্পটি ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৮ সালের মার্চ পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হবে।
সহকারী বন সংরক্ষক রানা দেব বলেন, ‘রোপওয়ে সড়ক দুর্ঘটনা কমানোর পাশাপাশি বন্যপ্রাণীর অবাধ চলাচল, আবাসস্থলের বিভাজন রোধ এবং প্রজননে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তা ছাড়া আমরা রোপওয়েগুলো বৈদ্যুতিক লাইন থেকে যথেষ্ট দূরে রাখার চেষ্টা করেছি। আশাকরি পশুপাখিদের সমস্যা হবে না।’
বন বিভাগের তথ্যানুযায়ী জানা যায়, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে রোপওয়ে করিডোর নির্মাণের পর গাছে বসবাসকারী প্রাণীর দুর্ঘটনা কমেছে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই মধুপুর বনাঞ্চলে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. আবু নাসের মোহাম্মদ মহসীন বলেন, ‘বনাঞ্চলের এ অংশ দিয়ে রাস্তা পারাপারের সময় প্রায়ই বানর-হনুমান ও নিশাচর প্রাণী মারা যায়। ধীরগতিতে গাড়ি চালানোর জন্য সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড থাকলেও অনেক চালক তা মানেন না। তাই গাছে বিচরণকারী প্রাণীদের নিরাপদ চলাচলের জন্য রোপওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে।’
জানা যায়, একসময় প্রায় ৬২ হাজার একরজুড়ে বিস্তৃত মধুপুর বনাঞ্চলের বড় একটি অংশ ইতোমধ্যে উজাড় হয়ে গেছে। বন উজাড়, আবাসস্থল সংকুচিত হওয়া এবং খাদ্যসংকটের কারণে বহু বন্যপ্রাণী অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে।
কর্মকর্তারা আরও জানান, আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে পাঁচটি রোপওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। এগুলোর কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করা হবে। ফল ইতিবাচক হলে ভবিষ্যতে বনাঞ্চলের আরও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় একই ধরনের করিডোর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিবেশবিদদের মতে, বনাঞ্চলসংলগ্ন মহাসড়কগুলোতে এ ধরনের বন্যপ্রাণীবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলা গেলে শুধু সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানিই কমবে না, বরং দেশের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সংশ্লিষ্টদের আশা, রোপওয়ে নির্মাণের পাশাপাশি বন সংরক্ষণ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে মধুপুরের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে আজ যথাযোগ্য মর্যাদায় ও নানা আয়োজনে পালিত হচ্ছে বীর তরুণ ও ‘জলযোদ্ধা’ মো. ছাবিকুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী। নিজের জীবনের পরোয়া না করে দুই শিশুর প্রাণ বাঁচিয়ে বীরত্ব ও মানবতার এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছিলেন এই তরুণ। তার এই আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং তরুণ প্রজন্মের মাঝে তার বীরত্বগাথা ছড়িয়ে দিতে অষ্টগ্রামে সাড়ে চার কিলোমিটার এবং ১৪ কিলোমিটারের একটি বিশেষ ম্যারাথন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে শুরু হওয়া এই ম্যারাথন প্রতিযোগিতায় উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নানা বয়সি মানুষ অংশগ্রহণ করে।
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের বরাতীর কান্দি গ্রামের জলযোদ্ধা মো. ছাবিকুল ইসলামের জন্ম ১৯৯৬ সালের ১৩ জুন। ২০২৩ সালের ১০ জুলাই তিনি এক মর্মান্তিক অথচ গৌরবোজ্জ্বল ঘটনার মধ্য দিয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
সেদিন হাওরে একটি নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটলে ছাবিকুল তাৎক্ষণিকভাবে প্রবল স্রোতের মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়েন। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাঁতরে গিয়ে তিনি ডুবন্ত নৌকাটি থেকে ২টি শিশুকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে স্বজনদের হাতে তুলে দেন। কিন্তু সবাইকে বাঁচাতে পারলেও প্রবল স্রোতের কারণে তিনি নিজে আর তীরে ফিরতে পারেননি। পানির তীব্র টানে তিনি তলিয়ে যান এবং পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজন অনেক চেষ্টার পর তার মৃতদেহ উদ্ধার করেন।
ম্যারাথনে অংশ নেওয়া প্রতিযোগীরা জানান, ছাবিকুল আমাদের হাওরাঞ্চলের গর্ব। তিনি যেভাবে নিজের জীবন দিয়ে দুটি নিষ্পাপ শিশুর প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন, তা আমাদের সবসময় মানবিক হওয়ার অনুপ্রেরণা জোগায়। তার মৃত্যুবার্ষিকীতে এই ম্যারাথন আয়োজন সুস্থ জীবনচর্চার পাশাপাশি তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানোর একটি চমৎকার মাধ্যম।
উপস্থিত সুধীজন ও এলাকাবাসী ছাবিকুলের স্মৃতি রক্ষার্থে এবং তার পরিবারের সহায়তায় প্রশাসনসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। ম্যারাথন শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
বর্ষার নতুন পানি আসার সঙ্গে সঙ্গেই চলনবিল অঞ্চলে মেতে উঠেছে একশ্রেণির অসাধু মৎস্য শিকারী। নিষিদ্ধ ‘রিং জাল’ (চায়না দুয়ারী) ও কারেন্ট জাল দিয়ে অবাধে নিধন করা হচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মা ও পোনা মাছ। এর ফলে চলনবিলে জীববৈচিত্র্য ও মৎস্য সম্পদ চরম হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আষাঢ়-শ্রাবণের নতুন পানিতে চলনবিলে মাছ ডিম ছাড়তে শুরু করেছে। এই সুযোগে তাড়াশসহ চলনবিল অঞ্চলের বিভিন্ন পয়েন্টে অবাধে পেতে রাখা হচ্ছে সূক্ষ্ম ছিদ্রযুক্ত রিং জাল। এই জালে রেণু পোনা থেকে শুরু করে ডিম্বোলা মা মাছ—কোনো কিছুই রক্ষা পাচ্ছে না। হাট-বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে এসব নিষিদ্ধ জাল ও পোনা মাছ।
এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো নাসির উদ্দীন জানান, নিষিদ্ধ রিং জাল ও চায়না দুয়ারী জাল দেশের মৎস্য সম্পদের জন্য এক বড় অভিশাপ। তিনি আরও বলেন, নতুন পানি আসার পর থেকেই চলনবিলে দেশীয় প্রজাতির মাছের বংশবৃদ্ধির মোক্ষম সময়। এই সময়ে একশ্রেণির অসাধু জেলে আইন অমান্য করে রিং জাল ব্যবহার করছেন। আমরা ইতোমধ্যেই মাঠ পর্যায়ে তদারকি শুরু করেছি। মৎস্য সম্পদ রক্ষায় আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না।
চলনবিলে রিং জালের ব্যবহার এবং পোনা মাছ নিধনের বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান তিনি বলেন, চলনবিলের মৎস্য ঐতিহ্য রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। নিষিদ্ধ রিং জাল দিয়ে মা ও পোনা মাছ ধ্বংস করা দণ্ডনীয় অপরাধ। আমরা খুব দ্রুতই চলনবিলের বিভিন্ন পয়েন্টে এবং হাট-বাজারগুলোতে মোবাইল কোর্ট (ভ্রাম্যমাণ আদালত) পরিচালনা করব। যারা এই অবৈধ জাল তৈরি, বিক্রি বা মাছ শিকারে ব্যবহার করছেন, তাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।
স্থানীয় পরিবেশবাদী ও সচেতন মহলের মতে, শুধু অভিযান চালিয়ে এই ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ করা সম্ভব নয়। এর জন্য জেলেদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং রিং জাল বিক্রির উৎসগুলো বন্ধ করা জরুরি। তা না হলে অদূর ভবিষ্যতে চলনবিল এক সময় দেশীয় মাছ শূন্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন নালিতাবাড়ী উপজেলায় দিনব্যাপী শিক্ষা, অবকাঠামো, সমাজসেবা, জনসেবা ও উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন। গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) এসব কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন তিনি।
তিনি প্রথমে উপজেলার উত্তর নাকসি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করে সেখানে শিক্ষার্থীদের মাঝে ফুটবল বিতরণ করেন। পরে নালিতাবাড়ী-গাজীরখামার সড়কের গোল্লারপাড় এলাকায় চেল্লাখালী নদীর ভাঙনকবলিত অংশ পরিদর্শন করেন। সড়ক ও নদীভাঙন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শেষে পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং উপজেলা প্রকৌশলীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন।
এরপর জেলা প্রশাসক নালিতাবাড়ী থানা পরিদর্শন করেন। পরে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ভিক্ষুক পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান কর্মসূচি’-এর আওতায় ছয়জন ভিক্ষুকের মধ্যে পুনর্বাসন সামগ্রী বিতরণ করেন। এর মধ্যে তিনজনকে পাঁচটি করে ছাগল এবং অপর তিনজনকে চা ও মনোহারি দোকান পরিচালনার উপকরণ দেওয়া হয়। এছাড়া তিনজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির হাতে হুইলচেয়ার তুলে দেন।
একই দিনে ‘০৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপজেলা পরিষদ চত্বরে একটি গাছের চারা রোপণ করেন তিনি।
পরে জেলা প্রশাসক উপজেলা পরিষদ পরিদর্শন শেষে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও সুধীজনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল মালেকের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবু সায়েমের সঞ্চালনায় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন নালিতাবাড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডা. জুনায়েদ আব্দুল কাইয়ুম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মশিউর রহমান, উপজেলা বিআরডিবির চেয়ারম্যান এমএ রায়হান, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান লিটন, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আরিফ রব্বানী, প্রেসক্লাব নালিতাবাড়ীর উপদেষ্টা এম.এ হাকাম হীরা, সামেদুল ইসলাম তালুকদার, সাবেক সেক্রেটারি মনিরুল ইসলাম প্রমুখ। দিনব্যাপী সফরের শেষ পর্যায়ে তিনি উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের লক্ষীকুড়া গ্রামের বাসিন্দা মোছা. রুপা বেগমের নির্মাণাধীন ঘর পরিদর্শন করেন। এ সময় পরিবারের সদস্যদের জন্য নতুন পোশাক ও শুকনা খাবার প্রদান করেন এবং গৃহনির্মাণ কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ নেন।
যশোরের কেশবপুরে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় বিশেষায়িত চক্ষু চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে দিনব্যাপী একটি বিনামূল্যের চক্ষু ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) স্বেচ্ছাসেবী উন্নয়ন সংস্থা সমাধান-এর প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এ ক্যাম্পে ব্যাপক সাড়া পড়ে। শতাধিক মানুষ বিনামূল্যে চোখ পরীক্ষা, চিকিৎসা ও পরামর্শ গ্রহণ করেন।
সমাধানের ব্যবস্থাপনায়, অরবিস ইন্টারন্যাশনাল-এর অর্থায়নে এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ও খুলনা বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এ ক্যাম্প পরিচালনা করেন খুলনা বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের অ্যাসিস্ট্যান্ট সার্জন ডা. মোঃ মুস্তাফিজুর রহমান ও তাঁর সহকারী চিকিৎসক দল।
ক্যাম্পে সমাধান সংস্থার বিভিন্ন শাখাভুক্ত সমিতির সদস্যদের পাশাপাশি সাধারণ চক্ষুরোগীদেরও উন্মুক্তভাবে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এ ক্যাম্পে মোট ১৭৮ জন রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। এর মধ্যে ৭৭ জন ছানি রোগী এবং ৮ জন অন্যান্য জটিল চক্ষুরোগী শনাক্ত হন। তাদেরকে তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান সংস্থার নিজস্ব পরিবহনে খুলনার শিরোমণি বাদামতলা অবস্থিত খুলনা বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালে বিনামূল্যে অপারেশনের জন্য পাঠানো হয়। অপারেশন শেষে আজ ১১ জুলাই একই ব্যবস্থাপনায় তাদের নিরাপদে কেশবপুরে ফিরিয়ে আনা হবে।
সমাধান সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মোঃ রেজাউল করিম বলেন, দৃষ্টিশক্তি মানুষের জীবনের অন্যতম মূল্যবান সম্পদ। অর্থাভাবে যেন কোনো মানুষ প্রয়োজনীয় চক্ষু চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন, সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছি। অরবিস ইন্টারন্যাশনাল, পিকেএসএফ ও খুলনা বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের সহযোগিতায় এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে।
সমাধান সংস্থার প্রশিক্ষণ সমন্বয়কারী মোঃ মুনছুর আলী বলেন, একজন মানুষ যখন দৃষ্টিশক্তি ফিরে পান, তখন শুধু তাঁর চোখেই আলো ফেরে না—আলোকিত হয় একটি পরিবারও। এই চক্ষু ক্যাম্পের মাধ্যমে রোগীদের বিনামূল্যে পরীক্ষা, অপারেশন এবং যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে অর্থনৈতিক কারণে কেউ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন। মানুষের কল্যাণে সমাধান ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে।
চক্ষু ক্যাম্প চলাকালে উপস্থিত ছিলেন সমাধান সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মোঃ রেজাউল করিম, পরিচালক শাহাদাৎ হোসেন, প্রশিক্ষণ সমন্বয়কারী মোঃ মুনছুর আলীসহ সংস্থার অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়নের খাজরা বাজার থেকে আমাদী খেয়াঘাট পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকায় সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ।
দীর্ঘ ১২ কিঃমিঃ সড়কের মধ্যে ৩ কিঃমিঃ সড়ক কাচা হওয়ায় খানাখন্দে ভরা, কাদা আর জলাবদ্ধতায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন পথচারী, শিক্ষার্থী, কৃষক,ব্যবসায়ী ও যানবাহনের চালকরা। বর্ষার শুরুতেই পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ায় দ্রুত সংস্কারের দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ,বছরের পর বছর ধরে সড়কটির স্থায়ী সংস্কার না হওয়ায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। খাজরা বাজার,আমাদী খেয়াঘাট এবং আশপাশের কয়েকটি গ্রামের হাজার হাজার মানুষের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম এই সড়ক। সামান্য বৃষ্টিতেই এটি পরিণত হয় কাদাময় জলাশয়ে। ফলে প্রায়ই মোটরসাইকেল,ভ্যান ও ইজিবাইক দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী,রোগী ও কর্মজীবী মানুষ।
দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগের প্রতিবাদে স্থানীয় যুবক ও শিক্ষার্থীরা ভাঙাচোরা সড়কের কাদার মধ্যে ধানের চারা রোপণ করে ব্যতিক্রমী কর্মসূচি পালন করেন। তাদের এ অভিনব প্রতিবাদ মুহূর্তেই স্থানীয়দের দৃষ্টি কাড়ে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। প্রতিবাদকারীরা বলেন,"যে রাস্তা দিয়ে হাঁটা যায় না,সেখানে ধান চাষই তো করা যায়।" তারা দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়ে হুঁশিয়ারি দেন,দাবি উপেক্ষিত হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
খাজরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য পদপ্রার্থী মিজানুর রহমান গাইন বলেন, এ সড়কটি শুধু একটি রাস্তা নয়,এটি হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে জড়িত। দীর্ঘদিন ধরে মানুষের দুর্ভোগ চললেও কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। দ্রুত সংস্কার এখন সময়ের দাবি।
মাওলানা আব্দুর রশিদ বলেন, "সড়কটি সংস্কার অত্যন্ত জরুরি। স্কুল,কলেজ, মাদরাসাগামী শিক্ষার্থী,পথচারীদের যাতায়াতে খুবই সমস্যা হচ্ছে। ডেলিভারীসহ মুমূর্ষ রোগীদেরকে আশাশুনি ও জায়গীর মহল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। জনগণ সুযোগ দিলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত কাজ বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। "তিনি রাস্তাটির কাজ দ্রুত শুরুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
খাজরা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, এটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের সড়ক। "সড়কটির বেহাল অবস্থার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইদুজ্জামান হিমু স্যারের সঙ্গেও একাধিকবার কথা বলেছিলাম। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।"
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী অনিন্দ্য দেব সরকারকে তার অফিসে গিয়ে পাওয়া যায়নি এবং একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, জনস্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা না হলে বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও ভয়াবহ রূপ নেবে। তাই আর আশ্বাস নয়, দ্রুত দৃশ্যমান সংস্কারকাজ শুরুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
রাজনীতি কেবল ক্ষমতা উপভোগের মাধ্যম নয়, বরং এটি সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের একটি পবিত্র প্রক্রিয়া বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, গণতান্ত্রিক লক্ষ্য অর্জনে সরকারের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠনগুলোর ভূমিকাও অনস্বীকার্য।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বীর উত্তম শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের আসন্ন বরিশাল সফর প্রসঙ্গে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমানের এবারের বরিশাল সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পরিবেশ রক্ষা ও সবুজায়নের বার্তা ছড়িয়ে দিতে এ সফরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তারেক রহমানের এবারের বরিশাল সফরের মূল কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। তবে সফরকালে তিনি দক্ষিণাঞ্চলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। পাশাপাশি এ অঞ্চলের উন্নয়ন, সম্ভাবনা এবং জনগণের বিভিন্ন প্রত্যাশা নিয়েও আলোচনা করবেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রকাশ্য সমাবেশ ও অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যেও এবার বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পরিবেশ রক্ষা ও সবুজায়নের মাধ্যমে একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলাই এর অন্যতম লক্ষ্য। জনগণের কল্যাণে বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে পরিবারভিত্তিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড এবং বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত আলেম, ইমাম ও মোয়াজ্জিনদের জন্য বিশেষ কার্ড প্রদান করা হয়েছে। মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, এ অঞ্চলের উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা, উন্নয়নের সম্ভাবনা এবং প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের পক্ষ থেকে আমরা প্রধানমন্ত্রীর আগমনের জন্য অত্যন্ত আগ্রহ ও প্রত্যাশা নিয়ে অপেক্ষা করছি। তাঁর আগমন এ অঞ্চলের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে নতুন গতি সৃষ্টি করবে বলে আমরা আশাবাদী।
পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, একটি গাছ শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে না, এটি মানুষের জীবন রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই প্রত্যেক নাগরিককে বৃক্ষরোপণ ও গাছের পরিচর্যায় দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। দক্ষিণাঞ্চল জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হওয়ায় পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার এবং বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন।
অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিকে ধারণ করে পরিবেশ রক্ষার এই উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বৃক্ষরোপণের মতো জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। নগর ও পরিবেশ রক্ষায় পরিকল্পিত সবুজায়ন প্রয়োজন। সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে বৃক্ষরোপণে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পরে অতিথিরা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।