রংপুরের বদরগঞ্জে দুই নদীর ৪০ কিলোমিটার অংশে অন্তত ২৫টি পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতা না থাকায় বেপরোয়া হয়ে উঠছেন বালুখেকোরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বদরগঞ্জ উপজেলার ঢোলাই ঘাট থেকে নাগেরহাট পর্যন্ত টানা ৪০ কিলোমিটার যমুনেশ্বরী ও চিকলী নদীর জেগে ওঠা চরে অন্তত ২৫টি পয়েন্ট খুলে বালু উত্তোলন করেছেন শতাধিক বালু ব্যবসায়ী।
সম্প্রতি বদরগঞ্জ উপজেলা শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে নাগেরহাট এলাকায় দেখা যায়, যমুনেশ্বরী নদীর জেগে ওঠা চর থেকে ১০-১২টি ট্রাক্টরে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এই বালু উত্তোলনের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে নাগেরহাট, মাদাই খাবার, সোনাপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার অন্তত ২০ কোটি টাকার ব্রিজ। এ ছাড়া হুমকির মুখে রয়েছে কৃষকের আবাদি জমি। বালু ব্যবসায়ীরা প্রভাবশালী হওয়ায় এলাকার মানুষ মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেন না।
ট্রাক্টর চালক আব্দুল হক বলেন, ‘এখান থেকে ৩০০ টাকা দরে বালু কিনছি। কার কাছ থেকে কিনছি, সেটা বলা যাবে না।’ তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এলাকার ফোকলা জামান, কেমি, সন্দেশ, তুষার, হাবিবুর, জান্টুসহ অর্ধশত মানুষ ওই এলাকায় বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
বালু উত্তোলনে ব্রিজ ও আবাদি জমি হুমকির মুখে পড়ছে উল্লেখ করে কুতুবপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত ভূমি কর্মকর্তা আনারুল ইসলাম গত ৪ জানুয়ারি ১৩ জন বালু ব্যবসায়ীর নাম উল্লেখসহ ৮-১০ জনকে আসামি করে বদরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। দুই মাস অতিবাহিত হলেও মঙ্গলবার পর্যন্ত অভিযোগটি থানায় নথিভুক্ত হয়নি। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজির হোসেন দাবি করছেন, অভিযোগটি থানায় নথিভুক্ত হয়েছে।
এদিকে মধুপুর ইউনিয়নের রাজরামপুর নাওপাড়া এলাকায় যমুনেশ্বরী নদীর জেগে ওঠা চর থেকে প্রতিদিন পাঁচ শতাধিক ট্রাক্টরে বালু ও মাটি বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটায়। এতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এলাকার প্রভাবশালী মোয়াজ্জেমসহ কয়েকজন। এলাকার মানুষ কয়েকবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে অভিযোগ দিলেও বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি। এই বালু উত্তোলনে হুমকির মুখে রয়েছে নাওপাড়া গ্রাম, মধুপুর ইউনিয়ন পরিষদ ও আবাদি জমি। প্রতিদিন গাড়ি চলাচলে সেখানে কাঁচা রাস্তার বেহাল অবস্থা হয়েছে। ধুলো-বালুর কারণে রাস্তায় বের হতে পারছেন না এলাকার মানুষ। তারা জোটবদ্ধ হয়ে বুধবার রাস্তায় খুঁটি দিয়ে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেন। গৃহবধূ দুলালী বেগম বলেন, ‘খুঁটি দিয়ে রাস্তা বন্ধ করায় প্রভাবশালীরা মারতে আসছিলেন। আমরা গ্রামের মানুষ হাতে লাঠি ও ঝাড়ু নিয়ে বের হইলে তারা পিছু হটেন।’
ওই এলাকার রুবেল ও রিয়াজুল বলেন, ‘রাস্তা বন্ধ করেছি, এটা যে বেশিদিন ধরে রাখতে পারব মনে হয় না। কারণ আগেও রাস্তা বন্ধ করেছিলাম, বালুখেকোরা প্রশাসনের মাধ্যমে রাস্তা থেকে খুঁটি তোলার ব্যবস্থা করেন।’
মধুপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুর আলম বলেন, ‘আমার ইউনিয়ন পরিষদের সামনে দিয়ে বালুর গাড়িগুলো চলাচল করছে। গাড়ির শব্দে পরিষদে থাকা যায় না। পুলিশ প্রশাসনের তৎপরতা না থাকায় বালু ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া হয়ে উঠছেন।’
তবে সেখান থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগ অস্বীকার করে মোয়াজ্জেম বলেন, ‘আমি আগে বালু তুলছিলাম, এখন তুলছি না। এখানে প্রায় ২৫টি ইটভাটা রয়েছে। সেই ভাটার মালিকরা নদীর পাশের জমি কিনে মাটি ও বালু তুলছেন।’
অন্যদিকে পাঠানের হাট এলাকার চিকলী নদী থেকে প্রতিদিন অবৈধভাবে শতাধিক ট্রাকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এই বালু উত্তোলনের এলাকার ইউপি সদস্য মেনহাজুল ইসলাম নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে মেনহাজুল বলেন, ‘আমার নিজের একটি ইটভাটা রয়েছে। কিছুদিন আগে সেই ইটভাটার জন্য নদী থেকে বালু তুলেছি। তবে এখন বালু তুলছি না।’
এ ছাড়া বালু উত্তোলন করা হচ্ছে দামোদরপুর ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া, জেলেপাড়া, বখসীপাড়া, হাটখোলাপাড়া, চম্পাতলী, কালিরহাট, বালাপাড়া ও রাধানগর ইউনিয়নের মাদারগঞ্জ হাট, ঢোলাইঘাট এলাকার চিকলী নদীর কয়েকটি পয়েন্ট থেকে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই বালু ব্যবসায়ীদের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় নেতা-কর্মী। কখনো পুলিশ প্রশাসন এই বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চাইলেও রাজনৈতিক নেতাদের কারণে পিছু হটতে হয় তাদের।
বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজির হোসেন বলেন, ‘এসিল্যান্ড এতদিন ট্রেনিংয়ে থাকায় বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। তবুও নাগের হাট এলাকায় বালু উত্তোলন করায় কয়েক জনের নামে থানায় মামলা দেওয়া হয়েছে।’
ছদ্দবেশে দোকান ঘর থেকে ৫ বস্তা মাদকদ্রব্য গাঁজা উদ্ধারসহ জাকির হোসেন (৩২) নামের এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে ভৈরব র্যাব ক্যাম্প সদস্যরা। সে বাজিতপুর উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের বাজেরগাও এলাকার বীরমুক্তিযোদ্ধা বদিউর রহমানের ছেলে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে বাজিতপুর উপজেলার পিরোজপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদকসহ কারবারিকে আটক করা হয়েছে।
র্যাব ক্যাম্প সুত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে সড়ক পথে মাদকের একটি বড় চালান আসছে। তারই সুত্র ধরে ভৈরব র্যাব ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের বাজেরগাও এলাকার জাকির হোসেন নামের এক কুখ্যাত মাদক কারবারির বসতবাড়িতে ছদ্দবেশে গোয়েন্দা নজরদারি চালায়। পরে মাদক কারবারির দোকান ঘরের ভিতরে খুঁড়খুটো দিয়ে ঢেকে রাখা অবস্থায় ৫ বস্তা (১১৬ কেজি) মাদকদ্রব্য গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এসময় মাদক কারবারি জাকির হোসেনকে আটক করা হয়।
এবিষয়ে ভৈরব র্যাব ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার তপন সরকার জানান, কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গরুর হাটসহ বিভিন্ন দায়িত্বে ব্যস্ত থাকার সুযোগে সড়কপথে একটি চক্র সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মাদকদ্রব্য সরবরাহ করছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে আমরা ছদ্দবেশ ধারণ করে গোয়েন্দা নজরদারিতে কুখ্যাত মাদক কারবারি জাকির হোসেনের দোকান ঘর থেকে ৫ বস্তায় ১১৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় কারবারিকে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হবে তিনি জানান।
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে কিছু টাকা জমানোর আশায় রাতভর কাজ করছিলেন ১৭ বছরের তরুণ মোহাম্মদ রাসেল। কিন্তু পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর সেই স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল কারখানার মেশিনেই। চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলায় ফিড মিলের সাইলোতে ঢুকে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে তার।
মঙ্গলবার (২৬ মে) ভোর দেড়টার দিকে উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ সোনাপাহাড় এলাকায় অবস্থিত নাহার এগ্রো ফিড মিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রাসেল একই এলাকার মোহাম্মদ আলমগীরের একমাত্র ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইলেকট্রিকের কাজের পাশাপাশি ঈদের আগে বাড়তি আয় করতে গত কয়েকদিন ধরে নাহার ফিড মিলে রাতের শিফটে কাজ করছিলেন রাসেল। সোমবার রাতেও কয়েকজন যুবকের সঙ্গে কারখানায় কাজ করছিলেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ রাব্বি জানান, কাজ করার সময় হঠাৎ করে রাসেল ফিডমিলের ভুট্টা রাখার সাইলোতে তলিয়ে যায়। তিনি বলেন, ‘আমি তাকে টেনে তোলার চেষ্টা করেছি, কিন্তু পারিনি। পরে অন্যদের খবর দিলে সবাই মিলে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাই।’
পরে গুরুতর অবস্থায় রাসেলকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মস্তাননগর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নাহার এগ্রো ফিড মিলের ম্যানেজার মো. ফাহিম উদ্দিন বলেন, ‘রাতে কয়েকজন স্থানীয় শ্রমিক কাজ করছিল। এ সময় একজন মেশিনে আটকে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, মধ্যরাতে দুর্ঘটনায় আহত অবস্থায় এক যুবককে হাসপাতালে আনা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মেশিনের ভেতরে দম বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।
বকেয়া বেতন ভাতার দাবিতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে পোশাক শ্রমিকরা। এসময় তারা মহাসড়কের অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে। এতে মহাসড়কে তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন চালক ও যাত্রীরা।
মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার মহাসড়কের পাশে টিপরদি এলাকায় চৈতি গার্মেন্টসের শ্রমিকরা এ অবরোধ করে। অবরোধে মহাসড়কের দুই পাশে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এতে সোনারগাঁয়ের এক প্রান্তে মেঘনা টোলপ্লাজা ও অপর প্রান্তে কাঁচপুর পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার যানজট ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়েন ঈদ যাত্রায় ঘরমুখো মানুষ।
খবর পেয়ে সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসিফ আল জিনাত, সোনারগাঁ থানার ওসি মো. গোলাম সারোয়ার, পরিদর্শক তদন্ত জামালউদ্দিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে বুঝিয়ে সরিয়ে দিতে চাইলে পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। এসময় শ্রমিকরা পুলিশের ওপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। এক পর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। এদিকে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধের কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
জানা যায়, উপজেলার টিপুরদী এলাকায় চৈতি কম্পোজিটের শ্রমিকরা বেতন-ভাতার দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে নামে। এতে মহাসড়কের টিপুরদী থেকে মেঘনা টোলপ্লাজা ও অপরদিকে মদনপুর পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পৌঁছে অবরোধকারীদের বুঝিয়ে মহা সড়ক থেকে সরানোর প্রচেষ্ঠা চালায়। তবে,বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা মহাসড়ক ছাড়তে অপরাগতা প্রকাশ করলে উত্তেজনা তৈরি হয়। বিষয়টি ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। একপর্যায়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারগ্যাস রাবার বুলেট ছোড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়।
আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবি, এপ্রিল মাসের বকেয়াসহ চলতি মে মাসের বেতন ঈদের আগে পরিশোধ করতে হবে। তাদের ভাষ্য, কারখানা মালিকপক্ষ পুরো বেতন দিতে অপরাগতা প্রকাশ করায় ক্ষোভে আন্দোলন শুরু করেছেন। তবে এপ্রিল মাসের বেতন ও ঈদ বোনাস পরিশোধ করলেও মে মাসের বেতন পুরো না দিয়ে প্রত্যেক শ্রমিককে ৬ হাজার টাকা করে প্রদান করে। বাকি টাকা ঈদের পর দেবেন বলে জানিয়েছেন।
যানজটে বসে থাকা তিশা বাসের যাত্রী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দুপুরে মদনপুর এলাকায় পৌঁছতেই যানজটে আটকা পড়ি মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায়। এখন গাড়ি একটুও সামনে এগোচ্ছে না।
ট্রাকচালক রজ্জব মিয়া বলেন, হঠাৎ এমন যানজট কেন হলো কিছুই বুঝতে পারছি না। সকালেও মহাসড়কে যানজট দেখিনি। চৈতি কম্পোজিটের জিএম মিজানুর রহমান বলেন, শ্রমিকরা অযুক্তিক দাবি করেছেন। তারপরও তাদের এপ্রিল মাসের বেতন ও ঈদ বোনাসের সাথে চলতি মাসের বেতন থেকে ৬ হাজার টাকা করে পরিশোধ করা হয়েছে। তারা চলতি মাস শেষ না হতেই পুরো মাসের বেতন চাচ্ছেন। তারপরও বিষয়টি আমরা বিবেচনা করবো।
কাচপুর হাইওয়ে থানার ওসি মো. শামীম শেখ বলেন, মঙ্গলবার দুপুর থেকে চৈতি গার্মেন্টসের শ্রমিকরা বেতন ও বোনাসের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন শুরু করে। এতে সড়কের একটি লেনে যানজটের সৃষ্টি হয়। সেই যানজট মেঘনা টোল প্লাজার দিকে গিয়ে ঠেকেছে। শ্রমিকদের বুঝিয়ে শুনিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
সোনারগাঁ থানার ওসি গোলাম সারোয়ার বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে দুই রাউন্ড টিয়ারগ্যাস ছোড়া হয়েছে। কোনো গুলি চালানো হয়নি। বর্তমানে গাড়ি চলাচল করছে।
ঈদুল আজহার ১৯৯তম জামাত আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে। সকাল ৯টায় দেশের অন্যতম বৃহৎ এ ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
দূর-দূরান্ত থেকে আগত মুসল্লিদের সুবিধার্থে এবারও বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
মঙ্গলবার (২৬ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে প্রস্তুতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম বলেন, ঈদুল ফিতরের মতো এবারও শোলাকিয়ার মুসল্লিরা নির্বিঘ্নে নামাজ আদায় করে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারবেন। জেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত মুসল্লিদের থাকা-খাওয়াসহ প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি সবার জন্য ঈদুল আজহার শুভেচ্ছাও জানান।
জেলা প্রশাসক ও শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন বলেন, ঐতিহ্য অনুযায়ী এবারও সকাল ৯টায় জামাত শুরু হবে। এতে ইমামতি করবেন কিশোরগঞ্জ শহরের বড়বাজার জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মুফতি আবুল খায়ের মো. ছাইফুল্লাহ।
তিনি জানান, মুসল্লিদের যাতায়াত সহজ করতে ভৈরব ও ময়মনসিংহ থেকে দুটি বিশেষ ট্রেন চালানো হবে। ভৈরব থেকে ট্রেনটি সকাল ৬টায় ছেড়ে কিশোরগঞ্জ পৌঁছাবে সকাল ৮টায়। অন্যদিকে ময়মনসিংহ থেকে ট্রেন ছাড়বে ভোর সাড়ে ৫টায় এবং কিশোরগঞ্জ পৌঁছাবে সকাল ৮টা ১০ মিনিটে। ঈদ জামাত শেষে দুপুর ১২টায় ট্রেন দুটি কিশোরগঞ্জ স্টেশন থেকে ফিরতি যাত্রা করবে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, মুসল্লিদের অজুর জন্য মাঠসংলগ্ন পুকুর প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য থাকবে মেডিকেল টিম ও অ্যাম্বুলেন্স। সুপেয় পানির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এ ছাড়া কিশোরগঞ্জ শহরের সরযূ বালা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে সকাল ৮টায় নারীদের জন্য পৃথক ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, দেশের বৃহত্তম ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুরো ঈদগাহ ও আশপাশের এলাকাকে কয়েকটি সেক্টরে ভাগ করে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। মাঠে পুলিশ, র্যাব, আনসার ও সাদা পোশাকের গোয়েন্দা সদস্যদের পাশাপাশি অ্যান্টি-টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) দায়িত্ব পালন করবে। পুরো এলাকা থাকবে সিসিটিভি ক্যামেরা ও ড্রোন নজরদারির আওতায়।
তিনি বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে মুসল্লিদের শুধু জায়নামাজ সঙ্গে আনার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। ছাতা, ব্যাগ, লাঠি বা কোনো ধরনের ধাতব বস্তু বহন না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তল্লাশি কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে মুসল্লিদের নির্ধারিত সময়ের আগেই মাঠে উপস্থিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
১৮২৮ সালে যাত্রা শুরু করা শোলাকিয়া ঈদগাহ দেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহত্তম ঈদ জামাতের স্থান হিসেবে পরিচিত। প্রতিবছর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় লাখো মুসল্লির সমাগম ঘটে এই ঐতিহাসিক ঈদগাহে।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে অতর্কিত হামলা ও নির্মাণাধীন একটি ক্যাম্প এক্সক্যাভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
সোমবার {২৫ মে} রাতে সীতাকুণ্ড থানায় ৪৩ জনের নাম উল্লেখ করে এই মামলাটি করা হয়। সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আলমগীর হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ফৌজদারহাট পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক সোহেল রানা বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন।
মামলায় ঘটনাস্থল থেকে ইতিমধ্যে আটক হওয়া পাঁচজনসহ নামীয় ৪৩ জন এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনশ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, উসকানি দিয়ে সরকারি সম্পত্তির বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি সাধন, পুলিশের সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি ও বিস্ফোরণ ঘটানোসহ সুনির্দিষ্ট বিভিন্ন ধারায় এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে রোববার দিবাগত রাত ১টার দিকে জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর স্কুলে অবস্থিত যৌথ বাহিনীর একটি অস্থায়ী ক্যাম্পে একদল সন্ত্রাসী অতর্কিতভাবে গুলিবর্ষণ শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও আত্মরক্ষার্থে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও পাল্টা গুলি চালালে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা এই তীব্র গোলাগুলির মাঝেই সন্ত্রাসীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি নির্মাণাধীন ক্যাম্প ভাঙচুর করে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়।
শুধু তাই নয়, যৌথ বাহিনীর যাতায়াত ও অভিযান ঠেকাতে সন্ত্রাসীরা সলিমপুরের মূল সড়কের বিভিন্ন অংশের রাস্তা কেটে চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী করে তোলে। এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং জড়িতদের গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে রাজধানী থেকে ঘরে ফেরা মানুষের যাত্রা নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। মঙ্গলবার সকাল থেকে মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিজিবি নারায়ণগঞ্জ ব্যাটালিয়ন-৬২ এর সদস্যদের বিশেষ টহল কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মূলত মহাসড়কে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড যেন না ঘটে, সে লক্ষ্যে সরকারের নির্দেশনায় এই বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
বিজিবি সূত্র জানিয়েছে, ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানবাহনের পাশাপাশি যাত্রীদের চাপও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে দেশের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের মানুষ এই রুট ব্যবহার করে নিজ গন্তব্যে পৌঁছান। এমন জনবহুল সময়ে মহাসড়কে চুরি, ছিনতাই এবং ডাকাতির মতো অপরাধ সংঘটনের আশঙ্কা থাকে। যাত্রীদের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি থেকে সুরক্ষা দিতেই নারায়ণগঞ্জের মেঘনা টোল প্লাজা ও কাঁচপুর সেতুসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিজিবির সশস্ত্র টহল জোরদার করা হয়েছে।
মাঠ পর্যায়ের এই কার্যক্রমে মেঘনা টোল প্লাজা এলাকায় নায়েব সুবেদার মো. আতাউর রহমানের নেতৃত্বে এবং কাঁচপুর সেতু এলাকায় হাবিলদার মো. আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। টহল দেওয়ার পাশাপাশি তারা যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচলে সহযোগিতার ওপর জোর দিচ্ছেন। ঈদযাত্রাকে নিরাপদ রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য ইউনিটের পাশাপাশি বিজিবির এই সক্রিয় অবস্থান সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ও আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ বিজিবি ব্যাটালিয়ন-৬২ এর অধিনায়ক মির্জা মোহাম্মদ আরাফাত এই টহল কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ঈদযাত্রাকে নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ৮ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ যেন কোনো অপরাধের শিকার না হয়ে নিরাপদে পরিবারের কাছে পৌঁছাতে পারেন, সেজন্য বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আগামী দিনগুলোতে টহল ও নজরদারির পরিধি আরও বাড়ানো হবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।
সামগ্রিকভাবে, ঈদযাত্রাকে আনন্দময় ও নিরাপদ রাখতে বিজিবির এই ভূমিকা অত্যন্ত কার্যকর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মহাসড়কের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও ট্রাফিক সিগন্যালে বিজিবি সদস্যদের এই নিয়মিত উপস্থিতি কেবল নিরাপত্তা বৃদ্ধি করবে না, বরং পরিবহন সংশ্লিষ্টদের আইন মানার ক্ষেত্রেও সজাগ রাখবে। সরকারের এই সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলে এবার যাত্রীরা একটি সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশে ঈদ উদযাপনে বাড়ি ফিরতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে কোরবানির পশুর হাটে মহিষের আক্রমণে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৫ মে) সন্ধ্যায় জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মজিবুর রহমানের মৃত্যু হয়।
গত রবিবার (২৪ মে) উপজেলার চর আমখাওয়া ইউনিয়নের সানন্দবাড়ী কোরবানির পশুর হাটে একটি মহিষের আক্রমণে রুহুল আমিন নামে একজন নিহত হন। একই ঘটনায় আরো কয়েকজন আহত হন।
নিহত মজিবুর রহমান সানন্দবাড়ী এলাকার চর মাদার গ্রামের মৃত নুর মোহাম্মদের ছেলে। অপরজন রুহুল আমিন রাজিবপুর উপজেলার জাউনিয়ার কড়াইডাঙ্গীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার স্থানীয় আকন্দপাড়া গ্রামের এক ব্যক্তি বিক্রির উদ্দেশ্যে কয়েকটি মহিষ নিয়ে সানন্দবাড়ী হাটে আসেন। হাটে আনার পর একটি মহিষ হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে ওঠে এবং নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
একপর্যায়ে মহিষটি হাটজুড়ে ছোটাছুটি শুরু করে এবং সামনে থাকা লোকজনকে আক্রমণ করতে থাকে। মহিষের আক্রমণ থেকে বাঁচতে হাটে থাকা মানুষজন আতঙ্কে দৌড়াদৌড়ি শুরু করেন।
এ সময় রুহুল আমিনসহ অন্তত ছয়জন আহত হন। গুরুতর আহত রুহুল আমিনকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
অপরদিকে আহত মজিবুর রহমানকে প্রথমে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সন্ধ্যায় তিনি মারা যান।
দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, হঠাৎ মহিষের আক্রমণে আহত মজিবুর রহমান চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুজনের মৃত্যু হয়েছে।
তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ করেনি।
ময়মনসিংহ নগরীর ঘুন্টি এলাকায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা জামালপুরগামী কমিউটার ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে অজ্ঞাত এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আরও আহত হয়েছেন দুই যুবক। আহতদের ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ময়মনসিংহ জিআরপি থানার ওসি আখতারুজ্জামান জানান, মঙ্গলবার (২৬ মে) বেলা সাড়ে ১১টার সময় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ময়মনসিংহ হয়ে জামালপুরগামী কমিউটার ট্রেন যাওয়ার পথে ময়মনসিংহ নগরীর ঘুন্টি এলাকায় ট্রেনের ছাদে থাকা তিন যুবক নিচে পড়ে যান।
তিনি আরও জানান তাদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে অজ্ঞাত এক যুবককে কর্মরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত যুবকের নাম পরিচয় জানা যায়নি। বাকি আহত দুই জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ আব্দুল্লাহ হীল বাকি (২৩) নামে এক ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১। রোববার (২৫ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাং রোড এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালান চক্রের একজন সক্রিয় সদস্য বলে র্যাব কর্মকর্তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিশ্চিত করেছেন।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, আটক আব্দুল্লাহ হীল বাকি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সেপাহিজালা জেলার বৈশকালা এলাকার আব্দুল কাশেমের ছেলে। তিনি বৈধ ভ্রমণ ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিলেন। তবে ভ্রমণের আড়ালে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত দিয়ে মাদক চোরাচালান ও সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে গোয়েন্দা তথ্যে উঠে এসেছে।
জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ওই ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশে এসে কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থান করতেন এবং সেখান থেকে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করতেন। পরবর্তীতে বিশেষ কৌশলে এসব মাদক নারায়ণগঞ্জ, ঢাকাসহ এর আশেপাশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ ও বিক্রি করতেন তিনি। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে ৭৬০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে, যা তিনি বিক্রির উদ্দেশ্যে ওই এলাকায় নিয়ে এসেছিলেন।
র্যাব-১১ এর অপারেশন অফিসার ক্যাপ্টেন রওনক এরফান খান এই অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন যে একজন আন্তর্জাতিক মাদক কারবারি ইয়াবার একটি বড় চালান নিয়ে চিটাগাং রোড এলাকায় অবস্থান করছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, ভ্রমণ ভিসার অপব্যবহার করে যারা এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছে, তাদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামীকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং এই চক্রের সাথে স্থানীয় আর কারা জড়িত আছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই ধরনের আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালান রুখতে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।
চাঁদপুর লঞ্চঘাটে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে দ্রুত ভিড়তে গিয়ে দুটি যাত্রীবাহী লঞ্চের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দুপুর ২টার দিকে ঘটা এই দুর্ঘটনায় অন্তত ১০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ঢাকা থেকে আসা ‘ঈগল-৭’ ও ‘ময়ূর-২’ নামের লঞ্চ দুটির মধ্যে এই সংঘর্ষ ঘটে। ঝড়ের কবলে পড়ে লঞ্চ দুটি নিয়ন্ত্রণ হারালে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে, যার ফলে লঞ্চ দুটির একাংশ বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দুর্ঘটনার সময় ঈগল-৭ লঞ্চটি ঘাটে ভেড়ার পর যাত্রীরা নামার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে তীব্র বাতাসের কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ময়ূর-২ লঞ্চটি সজোরে সেটিকে ধাক্কা দেয়। আকস্মিক এই ধাক্কায় লঞ্চের ভেতরে থাকা যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। এদের মধ্যে কয়েকজনকে গুরুতর অবস্থায় চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঝড়ের সময় লঞ্চঘাট এলাকায় এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রবল বাতাস ও ঢেউয়ের কারণে যাত্রীরা প্রায় দুই ঘণ্টা ঘাটে আটকা পড়ে থাকেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। তারা দীর্ঘ প্রচেষ্টায় আতঙ্কিত যাত্রীদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সক্ষম হন। লঞ্চ মালিকদের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, ঝড়ের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে তারা অতীতে এমন পরিস্থিতি খুব কমই দেখেছেন।
বিআইডব্লিউটিএ চাঁদপুরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ঝড়ের কবলে পড়ে লঞ্চ দুটির সংঘর্ষে ঘাটের চারটি পন্টুনের মধ্যে তিনটিই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে বিকেলের পর থেকে লঞ্চ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পন্টুনগুলো দ্রুত সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় পদ্মা নদীতে ট্রলারডুবির এক মর্মান্তিক ঘটনায় ২৩টি কোরবানির গরুসহ আইয়ুব আলী (৪৫) নামে এক ব্যবসায়ী নিখোঁজ হয়েছেন। সোমবার দুপুরে পদ্মা সেতুর ১৫ নম্বর পিলারের সামনে ঝড়ের কবলে পড়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ ব্যবসায়ী আইয়ুব আলী ফরিদপুরের চরভদ্রাসনের সালিপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রহমান মিস্ত্রির ছেলে বলে শনাক্ত করা হয়েছে। এই ঘটনায় ট্রলারে থাকা অন্যান্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুরের চরভদ্রাসন এলাকা থেকে ২০ জন ব্যবসায়ী মোট ২৮টি কোরবানির গরু নিয়ে ঢাকার কেরানীগঞ্জের হাটের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। দুপুর আড়াইটার দিকে ট্রলারটি যখন পদ্মা সেতুর নিচে পৌঁছায়, তখন হঠাৎ তীব্র ঝড় শুরু হয়। বৈরী আবহাওয়ার তোড়ে ট্রলারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তলিয়ে যায়। ট্রলারে থাকা ২০ জনের মধ্যে ১৯ জন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও ব্যবসায়ী আইয়ুব আলী নদীর স্রোতে নিখোঁজ হন।
দুর্ঘটনা কবলিত ট্রলারে থাকা ২৮টি গরুর মধ্যে মাত্র পাঁচটিকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাকি ২৩টি গরু তীব্র স্রোতে নদীতে ভেসে গেছে। মাওয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ইলিয়াস জানিয়েছেন, ঝড়ের তীব্রতা এবং নদীতে প্রচণ্ড ঢেউ থাকায় ট্রলারটি দ্রুত ডুবে যায়। নিখোঁজ ব্যবসায়ীর পাশাপাশি ডুবে যাওয়া ট্রলারটিরও এখন পর্যন্ত কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এই ঘটনায় ব্যবসায়ীরা চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
উদ্ধার অভিযানের বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পরপরই লৌহজং থেকে একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে পদ্মা নদীর বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত প্রতিকূল। প্রচণ্ড বাতাস এবং উত্তাল ঢেউয়ের কারণে ডুবুরি দল তাদের কার্যক্রম শুরু করতে পারছে না। নদীর স্রোত ও আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নৌ-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আবহাওয়া পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেই নিখোঁজ ব্যবসায়ীর সন্ধানে এবং ডুবে যাওয়া ট্রলারটি শনাক্ত করতে পুনরায় অভিযান শুরু করা হবে। বর্তমানে দুর্ঘটনাস্থল ও এর আশেপাশে নৌ-পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। কোরবানির ঈদের আগ মুহূর্তে এমন দুর্ঘটনায় নিখোঁজ ব্যবসায়ীর পরিবার এবং অন্যান্য ব্যবসায়ীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বরিশালের হিজলায় মেঘনার শাখা নদীতে আকস্মিক ঝড়ের কবলে পড়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ডুবে গেছে। এ ঘটনায় বাবা-ছেলেসহ ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
সোমবার বিকেল ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজরা ব্যক্তিরা হলেন, হিজলা উপজেলার ধূলখোলা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. নুর ইসলাম (৪৫), তার ছেলে মো. ইব্রাহিম (১২) এবং মো. হারুন বিশ্বাস (৪৫)।
বিষয়টি নিশ্চিত করে হিজলা নৌ-পুলিশ ফাড়ির ইনচার্য পরিদর্শক গৌতম চন্দ্র মন্ডল জানান, জেলে কার্ডের চাল নিয়ে আলিগঞ্জ খেয়াঘাট থেকে ধুলখোলা খেয়াঘাটের উদ্দেশ্যে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা রওনা দেয়। মাঝ নদীতে যাওয়ার পর আকস্মিক ঝড় শুরু হলে নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডুবে যায়।
নৌকায় থাকা ৮ জনের মধ্যে ৫ জন যাত্রী পাশ দিয়ে যাওয়া অপর একটি ট্রলারে উঠে প্রাণে রক্ষা পান। তবে ৩ জন নিখোঁজ হয়ে যান।
তিনি আরো জানান, নিখোঁজদের সন্ধানে স্থানীয়রা নদীতে জাল ফেলে উদ্ধারের চেষ্টা করছেন। এছাড়াও উদ্ধার অভিযানে নৌ-পুলিশের সাথে ফায়ার সার্ভিস ও কোস্ট গার্ড সদস্যরাও অংশ নিয়েছেন।
নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিদর্শক গৌতম চন্দ্র মন্ডল।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ না পাওয়ায় চরম অর্থ সংকটে পড়েছে দেউন্দি টি কোম্পানি লিমিটেড। এর জের ধরে কোম্পানিটির অধীনে থাকা মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের মিরতিংগা এবং হবিগঞ্জের লালচান্দ, নোয়াপাড়া ও দেউন্দিসহ মোট চারটি চা-বাগানের শ্রমিকদের সাপ্তাহিক মজুরি (তলব) প্রদান বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর প্রতিবাদে এবং বকেয়া মজুরি পরিশোধের দাবিতে সোমবার (২৫ মে) সকাল থেকে ৪টি বাগানে একযোগে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন সাধারণ শ্রমিকরা। পবিত্র ঈদুল আজহার ঠিক আগ মুহূর্তে মজুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা আর হতাশায় দিন কাটছে বাগানগুলোর শতাধিক মুসলিম শ্রমিক পরিবারের।
মিরতিংগা চা-বাগানের ম্যানেজার ও ডেপুটি ম্যানেজারের সই করা এক লিখিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কৃষি ব্যাংক লোন না দেওয়ায় ২১ মে থেকে শ্রমিকদের সাপ্তাহিক তলব বন্ধ থাকবে। পরবর্তী তলব ব্যাংকের ঋণের ওপর নির্ভর করছে। একই সঙ্গে, যতদিন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ তলব দিতে পারবে না, ততদিন শ্রমিকদের কোনো প্রকার স্ববেতন বা মজুরি বহন করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ মে (বৃহস্পতিার) শ্রমিকদের সাপ্তাহিক মজুরি ও স্টাফদের বেতন-ভাতা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু লোন না পাওয়ার অজুহাতে কর্তৃপক্ষ আকস্মিকভাবে তা বন্ধ করে দেয়। বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে দৈনিক মাত্র ১৮৭.৪৩ টাকা মজুরিতে চা-শ্রমিকদের এমনিতেই ‘নুন আনতে পান্তা ফুরায়’ অবস্থা। তার ওপর সারা সপ্তাহ হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে ঈদের মুখে এসে মজুরি না পেয়ে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন শ্রমিকরা। পূর্বঘোষিত আল্টিমেটাম অনুযায়ী সোমবার সকাল থেকে মিরতিংগা চা-বাগানের ফ্যাক্টরির সামনে জড়ো হয়ে কাজ বন্ধ রেখে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন তারা।
মিরতিংগা চা-বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি মন্টু অলমিকের সভাপতিত্বে এই কর্মবিরতি ও আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের মনু-ধলই ভ্যালির সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি সদস্য ধনা বাউরি, চা-ছাত্র যুব পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মানিক প্রসাদ পাল, সিরাজুল ইসলাম জব্বার, রামনারাইন কৈরী, ইমরান নাজির এবং মহিলা দফার সর্দার নিয়তি রাজগৌড় প্রমুখ।
শ্রমিক নেতা ধনা বাউরী বলেন,"ঈদের ঠিক আগ মুহূর্তে পূর্ণ মজুরি না পাওয়ায় শ্রমিকরা বাধ্য হয়ে কাজ বন্ধ করেছেন। মিরতিংগা বাগানেই শতাধিক মুসলিম শ্রমিক পরিবার রয়েছে, যারা এই মজুরির ওপরই নির্ভরশীল। এখন তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।"
এদিকে চা-বাগানের এই অচলাবস্থায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চা-শ্রমিক সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শ্যামল অলমিক ও সাধারণ সম্পাদক হরিনারায়ন হাজরা। এক যুক্ত বিবৃতিতে তারা বলেন, শ্রমিকদের কেবল এই সপ্তাহের মজুরিই আটকে নেই, ২০২২ সালের এরিয়ার বকেয়া ৪ হাজার টাকাও এখনো পরিশোধ করা হয়নি। এছাড়াও প্রভিডেন্ট ফান্ডের (পিএফ) চাঁদা নিয়মিত জমা না করা এবং ন্যূনতম চিকিৎসা সেবা না মেলার অভিযোগও তোলেন তারা। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে বকেয়া পরিশোধ করে দ্রুত বাগান চালুর বিষয়ে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে মিরতিংগা চা-বাগানের ডেপুটি ব্যবস্থাপক রেজাউল হায়াত খান (ইমন) বলেন, "বাগানে শ্রমিকদের কোনো বকেয়া নেই। ব্যাংক থেকে গত বৃহস্পতিবার টাকা উত্তোলন করা যায়নি বলে সাময়িক সমস্যা হয়েছে। আমরা শ্রমিকদের ‘হাফ পেমেন্ট’ (অর্ধেক মজুরি) দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তারা তা গ্রহণ না করে আন্দোলন শুরু করেছে।"
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে হবিগঞ্জের নয়াপাড়া চা-বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি কমেট নায়েক জানিয়েছেন, বাগান কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক চলছে। তবে চূড়ান্ত কোনো সুরাহা এখনো হয়নি। বকেয়া মজুরি ও ঈদের বোনাস নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সাধারণ শ্রমিকরা।