পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন (এমপি) বলেছেন, গত ২৬ তারিখ প্রেসক্লাবে কলামিস্টদের একটি অনুষ্ঠানে আমি যে বক্তব্য দিয়েছি, ১৭টি গণমাধ্যম তা নিয়ে যে হেড লাইন করেছে তার সাথে আমার বক্তব্যের কোনো ধরনের সম্পর্ক নাই। সেখানে আমি না-কি আমেরিকাকে যুদ্ধবাজ বলেছি! ১৭টি গণমাধ্যমই মিথ্যা, বানোয়াট ও কাল্পনিক তথ্য দিয়েছে।
আজ শনিবার দুপুরে সাবেক রাষ্ট্রদূতদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ফরমার বিসিএস (এফএ) অ্যাম্বাসেডর্স (এওফা) এর সদস্যদের নিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি সংবাদিকদের দুর্বল ও অপরিপক্ক উল্লেখ করে বলেন, ‘আমাদের দেশে সাংবাদিকতা যারা করেন তাদের মধ্যে দুর্বলতা আছে। এদের পরিপক্কতা দরকার। সাংবাদিকরা যারা এটা করেছেন তাদের জন্য এটা লজ্জার বিষয়। আর আপনাদের জন্য দুঃখের বিষয়। আপনাদের সহকর্মিরা এ ধরনের বানোয়াট কথা বলে।’
মন্ত্রী অভিযোগ করেন যে, ‘সাংবাদিকরা হয় বাংলা বোঝেন না অথবা উদ্দেশ্যমূলকভাবে এ ধরনের মিথ্যা প্রচারণা করেছেন। মিথ্যা প্রচারণার ফলে যেটা অসুবিধা হয়েছে তা হলো, যুক্তরাষ্ট্র সরকার মনে করবে আমরা তাদের শক্রু।’ বিষয়টি খুবই দুঃখজনক ও লজ্জাজনক উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘এই জন্য সাংবাদিকদের গবেষণা করা উচিত।’
এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে সাবেক রাষ্ট্রদূতদের নিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। পরে তারা বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের শহীদ সদস্যদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।
এ সময় অ্যাম্বাসেডর-অ্যাট-লার্জ মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন ও পররাষ্ট্র সচিব (সিনিয়র সচিব) মাসুদ বিন মোমেন, অ্যাসোসিয়েশন অব ফরমার বিসিএস (এফএ) অ্যাম্বাসেডর্স (এওফা) এর প্রেসিডেন্ট শমসের মবিন চৌধুরী, সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল্লাহ আল হাসান এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাসহ গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদের নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান মুন্সি আতিয়ার রহমান, জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা, টুঙ্গিপাড়া পৌরসভার মেয়র শেখ তোজাম্মেল হক টুটুল উপস্থিত ছিলেন।
দেশের জ্বালানি সংকট কার্যকরভাবে মোকাবেলায় টেকসই বায়োগ্যাস প্রযুক্তি প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত বায়োগ্যাস প্লান্ট ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) কক্সবাজারের লিংক রোড সংলগ্ন এলাকায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় কর্তৃক আয়োজিত বায়োগ্যাস প্লান্ট উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হক। বর্তমানে স্বল্প পরিসরে বাস্তবায়িত এই কার্যক্রমকে আগামীতে দেশব্যাপী ব্যাপক রূপ দেওয়া হবে বলে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠান থেকে বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনে উদ্বুদ্ধ করতে ২ জন খামারিকে ১.৫ লক্ষ টাকা করে ঋণ প্রদান করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বায়োগ্যাসের সুবিধা ও প্রত্যক্ষ উপকারিতা সাধারণ মানুষের কাছে সহজবোধ্য করতে একটি বুকলেট তৈরি করা হবে, যা মাঠ পর্যায়ে বিতরণ করে খামারিদের অনুপ্রাণিত করা হবে। যুবদের শক্তির ওপর গভীর আস্থা প্রকাশ করে তিনি বলেন, তরুণ সমাজই দেশের প্রকৃত চালিকাশক্তি এবং তারাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দিয়ে দেশের সার্বিক পরিবর্তন ও উন্নয়ন নিশ্চিত করবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, যুগের চাহিদা বিবেচনায় যুব উন্নয়ন কেন্দ্রের ট্রেডগুলোকে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। এখন থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ফ্রিল্যান্সিং, কেয়ার গিভিং ও মোবাইল সার্ভিসিংয়ের মতো যুগোপযোগী খাতে প্রশিক্ষণ ও সহজ শর্তে ঋণ সহায়তার মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হচ্ছে। নিজের গৃহস্থালি চাহিদা মিটিয়ে কীভাবে বাণিজ্যিকভাবে বায়োগ্যাস উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়ানো যায়, সে পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। যুব উন্নয়নের প্রতিটি সেবা দেশের একেবারে প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
যশোরের শার্শায় প্রায় ৪ কোটি টাকা বাজার মূল্যের ১৮টি স্বর্ণের বার ও একটি সুজুকি মোটরসাইকেলসহ আলাউদ্দিন নামে এক পাচারকারীকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে নাভারণ-সাতক্ষীরা মহাসড়কের দক্ষিণ বুরুজবাগান এলাকার একটি ইটভাটা সংলগ্ন স্থান থেকে তাকে আটক করা হয়।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নাভারণ-সাতক্ষীরা মহাসড়কের দক্ষিণ বুরুজবাগান এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় সন্দেহভাজন আলাউদ্দিনকে আটক করে তার কাছ থেকে ১৮টি স্বর্ণের বার ও একটি সুজুকি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা স্বর্ণের বারগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আটক আলাউদ্দিন শার্শা উপজেলার হাড়িখালী-যদুনাথপুর গ্রামের মৃত গোলাম রসুলের ছেলে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে শার্শা থানার প্রেস কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্বর্ণের বার উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন নাভারণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আরিফ হোসেন। এ ঘটনায় চোরাচালান-সংক্রান্ত আইনে মামলা করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিকে আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি চলছে।
মাগুরা পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাকের হোসেন কে মাথায় গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ময়না তদন্তে তার মাথা থেকে রিভালবারের একটি গুলি বের করা হয়েছে। হত্যার কারণ এবং জড়িতদের বিষয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে তাৎক্ষণিকভাবে যুবদল ছাত্রদল শহরে মিছিল বের করে। বাস টার্মিনালে তাৎক্ষণিক বিএনপির প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খান। বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোর ৬টার দিকে মাগুরা বাস টার্মিনালের রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টার থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মাথার পেছনে একটি ছিদ্রের চিহ্ন পাওয়া যায়। স্বজনদের দাবির মুখে পুলিশ তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার ডাক্তার কৃষ্ণ দাস বিশ্বাস জানান, দুপুর দেড়টার দিকে ময়না তদন্তে তার মাথার মধ্য থেকে একটি ছোট সাইজের গুলি বের করা হয়েছে। এটি পিস্তল বা রিভলভারের গুলি হতে পারে যা অধিক তদন্ত শেষে নির্দিষ্ট করে বলা যাবে।
নিহত সাকের হোসেন মাগুরা শহরের পারনান্দুয়ালী বেপারীপাড়া এলাকার মৃত কুতুব উদ্দিনের ছেলে। তিনি পৌর যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। পাশাপাশি মাগুরা বাস টার্মিনালের রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টারে কাউন্টার মাস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
স্থানীয়রা জানায়, বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোরে রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টারে সাকের হোসেনকে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে তারা তাকে উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় তার মাথার পেছনে একটি ছিদ্রের চিহ্ন দেখতে পান চিকিৎসক। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।
মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মাইনুল হাসান জানান, বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোরে কয়েকজন ব্যক্তি সাকের হোসেনকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা যায়, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। তার মাথার পেছনে ছিদ্রের চিহ্ন পাওয়ায় পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
নিহত সাকের হোসেনের বড় ভাই রাজমীর হোসেন জানান, পরিকল্পিত ভাবে তার ভাইকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তবে কে বা কারা তাকে হত্যা করেছে তাৎক্ষণিকভাবে নির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি তিনি।
মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন বলেন, পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট দিলে বিস্তারিত জানা যাবে। পুলিশ ইতিমধ্যে প্রযুক্তি এবং ম্যানুয়ালি এই হত্যাকাণ্ডের মোটিভ এবং জড়িতদের বিষয়ে জোরালোভাবে কাজ শুরু করেছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যেই ভালো খবর দিতে পারবো।
জয়পুরহাটের কালাই থানার ভেতরে কাঠের বাটাম নিয়ে প্রবেশ করে তিন পুলিশ সদস্যের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে আসলাম হোসেন (৩০) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলিতে চারটি সেলাই দিতে হয়েছে। আসলাম কালাই পৌর শহরের থুপসাড়া গ্রামের মুনসুর রহমানের ছেলে।
গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে কালাই থানা চত্বরের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। পরে পলাতক ওই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) জয়পুরহাট বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
থানায় দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, দুর্গাপূজার দায়িত্ব পালনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন পুলিশ সদস্যরা। এ সময় হাতে কাঠের বাটাম নিয়ে থানায় প্রবেশ করেন আসলাম। পুলিশ সদস্যরা তার পরিচয় ও থানায় আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি কনস্টেবল মো. মাহমুদুল হাসান রকিকে লক্ষ্য করে আঘাত করেন। রকি সরে যাওয়ায় আঘাতটি তার বাম চোয়ালে লাগে। এতে তিনি রক্তাক্ত জখম হন। পরে তাকে আটকানোর চেষ্টা করলে আসলাম ড্রাইভার কনস্টেবল মাসুদ রানার পিঠে আঘাত করেন। এ সময় আরেক পুলিশ সদস্য তাকে আটকাতে গেলে তার ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলিতে গুরুতর জখম হয়। পরে অন্য পুলিশ সদস্যরা এগিয়ে এলে কাঠের বাটাম ফেলে দৌঁড়ে থানা চত্বর থেকে পালিয়ে যান আসলাম।
আহত পুলিশ সদস্যদের কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে। এজাহারে আসলাম হোসেনের বিরুদ্ধে মাদক ও জুয়া আইনে একাধিক মামলা থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
কালাই থানার ওসি সাইদুল আলম বলেন, থানায় ঢুকে এক যুবক পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা করেন। ঘটনার সময় তিনি প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের ডিউটিতে ছিলেন। পরে অভিযান চালিয়ে আসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রাজধানী ঢাকা থেকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের অতিরিক্ত জ্বালানি ইউরেনিয়ামের দ্বিতীয় চালান পৌঁছেছে।
বুধবার সকাল ১০টা ৩ মিনিটে বিশেষ সুরক্ষায় ইউরেনিয়ামবাহী গাড়িবহরটি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। এর আগে ভোর ৪টা ৫৬ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঈশ্বরদীর উদ্দেশে রওনা হয়েছিল এই বহর।
ইউরেনিয়াম পরিবহনকালে সেনাবাহিনী, এসআরবি ও পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে মহাসড়কে গড়ে তোলা হয় কড়া নিরাপত্তা বলয়। ঢাকা থেকে পাবনা পর্যন্ত সড়কপথে সাধারণ যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের নির্ভরযোগ্য সূত্র জ্বালানি পৌঁছানোর খবর নিশ্চিত করেছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি; ফলে রাশিয়া থেকে বিমানযোগে চালানটি ঠিক কখন ঢাকায় অবতরণ করেছিল, তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, গত ৩ অক্টোবর একই প্রক্রিয়ায় কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে প্রথম ইউনিটের জন্য অতিরিক্ত ইউরেনিয়ামের প্রথম চালানটি ঈশ্বরদীতে নেওয়া হয়েছিল। প্রকল্পের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, চলতি বছরের ভেতরেই দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য আরও সাতটি ইউরেনিয়ামের চালান পর্যায়ক্রমে রূপপুরে এসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
রাজশাহী মহানগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১০৩টি তাজা ককটেল উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে ওই থানার আদুবুড়ি উপরিমাঠ এলাকার একটি লিচুবাগানে তল্লাশি চালিয়ে এসব বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়।
বুধবার সকালে এসআরবি-৫-এর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সুনির্দিষ্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গভীর রাতে লিচুবাগানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। তল্লাশির একপর্যায়ে সেখানে পরিত্যক্ত একটি সিমেন্টের বস্তার ভেতর থেকে হাতে তৈরি ১০৩টি তাজা ককটেল পাওয়া যায়। পরবর্তীতে সেগুলো জব্দ করেন অভিযানকারী দলের সদস্যরা।
এসআরবি জানিয়েছে, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অংশ হিসেবে উদ্ধারকৃত ককটেলগুলো কাশিয়াডাঙ্গা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ময়মনসিংহের ভালুকায় মাদক মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে স্থানীয়দের হামলার শিকার হয়েছেন পুলিশের দুই সদস্য। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার রাজৈ ইউনিয়নের সজনগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন ভালুকা মডেল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রাহিদুল ইসলাম ও কনস্টেবল বাকিরুল ইসলাম। ঘটনার পর তাঁদের উদ্ধার করে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, মাদক মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি আবদুল কদ্দুসকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশে তাঁর সজনগাঁওয়ের বাড়িতে অভিযানে যায় পুলিশের একটি দল। সেখানে যাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট গ্রেপ্তারি পরোয়ানাটি আদালত থেকে প্রত্যাহার বা রিকল করার কাগজপত্র প্রদর্শন করা হলে পুলিশ সদস্যরা আসামিকে ছেড়ে দিয়ে ফিরে আসার উদ্যোগ নেন। ঠিক সেই মুহূর্তে আসামির পরিবারের লোকজন অতর্কিতভাবে পুলিশ সদস্যদের ওপর আক্রমণ চালায়, যাতে দুই সদস্য আহত হন।
পরবর্তীতে খবর পেয়ে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অবরুদ্ধ ও আহত সহকর্মীদের উদ্ধার করে রাত ৯টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পরোয়ানাভুক্ত এক আসামিকে আটক করতে গিয়ে পুলিশের দুই সদস্য শারীরিক হামলার শিকার হন। তাৎক্ষণিকভাবে অতিরিক্ত পুলিশ পাঠিয়ে তাঁদের উদ্ধার করা হয়েছে এবং সরকারি কাজে বাধা ও হামলার এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে, নির্মাণকাজের অগ্রগতি ৯৭ শতাংশ। বাকি মাত্র ৩ শতাংশ কাজ শেষ হলেই চালু হওয়ার কথা ছিল বিশেষায়িত বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) সেবা। কিন্তু ১৪ বছরের অপেক্ষার পর সেই প্রকল্পের মূল পরিকল্পনা থেকে সরে আসছে সরকার। বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত নির্মিত বিআরটি করিডরকে সাধারণ যানবাহন চলাচলের উপযোগী মহাসড়কে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২০১২ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০১৮ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কয়েক দফায় মেয়াদ ও ব্যয় বাড়লেও চালু হয়নি কাঙ্ক্ষিত সেবা। সর্বশেষ অনুমোদিত ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ২৬৮ কোটি ৩২ লাখ টাকা। দীর্ঘদিন নির্মাণকাজের ভোগান্তি শেষে আধুনিক গণপরিবহন চালুর অপেক্ষায় থাকা গাজীপুরের বাসিন্দাদের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের গত সোমবারের (১৯ অক্টোবর) সিদ্ধান্তপত্র অনুযায়ী, গত রোববার মন্ত্রিসভার বৈঠকে গাজীপুর-এয়ারপোর্ট বিআরটি প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিআরটি করিডরের দুই লেনকে তিন প্লাস তিন লেনবিশিষ্ট সাধারণ মহাসড়কে রূপান্তরের প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি দুটি দুই লেনের ওভারপাসকে চার লেনের ওভারপাসে রূপান্তরের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। তবে অবকাঠামো পরিবর্তনে অতিরিক্ত কত অর্থ ব্যয় হবে, কত দিনে কাজ শেষ হবে এবং নির্মিত স্থাপনাগুলোর কোন অংশে পরিবর্তন আনতে হবে, তা সিদ্ধান্তপত্রে উল্লেখ নেই।
‘গ্রেটার ঢাকা সাসটেইনেবল আরবান ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্ট’ নামের এই প্রকল্পের আওতায় বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ২০ কিলোমিটার করিডর নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রায় ১৬ কিলোমিটার সমতলের সড়ক এবং সাড়ে চার কিলোমিটার উড়ালপথ। নির্মাণ করা হয়েছে তুরাগ নদের ওপর ১০ লেনের সেতু, ছয়টি উড়ালপথ, ছয়টি এলিভেটেড বাসস্টেশন, ফুটপাত, নিকাশিব্যবস্থা ও বাস রাখার ডিপো।
গাজীপুরের নাগরিক সংগঠন গাজীপুর ঐতিহ্য ও উন্নয়নের দাবি, প্রকল্পে সরকারি অর্থ ও বৈদেশিক ঋণ মিলিয়ে প্রায় দুই হাজার ৮০০ কোটি থেকে তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। অবশিষ্ট কাজ শেষ করে বিআরটি চালুর সম্ভাবনা যাচাই না করে অবকাঠামোর ব্যবহার পরিবর্তন করলে সরকারি অর্থের অপচয় বাড়তে পারে।
বিআরটি প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)। সংগঠনটির মতে, বিশেষায়িত গণপরিবহনের অবকাঠামোকে সাধারণ মহাসড়কে রূপান্তর টেকসই, জ্বালানি-সাশ্রয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবহন পরিকল্পনার পরিপন্থি। এতে ব্যক্তিগত গাড়িনির্ভর যাতায়াত উৎসাহিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিআইপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মু. মোসলেহ উদ্দীন হাসান এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এ সিদ্ধান্ত গাজীপুর ট্রান্সপোর্ট মাস্টার প্ল্যান এবং ঢাকার সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনার প্রস্তাবনার সঙ্গেও অসংগতিপূর্ণ।’ সংগঠনটি সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা, বিআরটি ও এমআরটির পরিচালনায় সমন্বিত সংস্থা গঠন এবং বৃহত্তর ঢাকা অঞ্চলের পরিবহন পরিকল্পনায় ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষকে নেতৃত্বদানকারী সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছে।
প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতার অন্যতম কারণ হিসেবে সরকারি তিন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতার কথা উঠে এসেছে। প্রকল্পের বিভিন্ন অংশের দায়িত্ব ছিল সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ওপর। আলাদা সংস্থার অধীনে কাজ চলায় বিভিন্ন অংশের নির্মাণকাজ ভিন্ন সময়ে শেষ হয়েছে।
এ ছাড়া সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, নকশা, বাস্তব ট্রাফিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ পরিবহন চাহিদা যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একটি মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বর্তমান নকশায় বিআরটি চালু করলে যানজট ও জনভোগান্তি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল। বিকল্প হিসেবে উন্নত মহাসড়ক নির্মাণ ও রেলভিত্তিক গণপরিবহন জোরদারের সুপারিশও উঠে এসেছিল।
অন্যদিকে, বিআরটি চালুর পক্ষে থাকা পরিকল্পনাবিদ ও নাগরিকদের বক্তব্য, নকশা ও পরিচালনায় সমস্যা থাকলে তা সংশোধন করে সেবা চালুর সম্ভাবনা যাচাই করা উচিত।
গাজীপুর ঐতিহ্য ও উন্নয়নও মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা, অবকাঠামো অপসারণের কার্যক্রম স্থগিত, অবশিষ্ট কাজ শেষ করে বিআরটি চালুর সময়সীমা ঘোষণা এবং স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে। দীর্ঘ বিলম্ব ও প্রকল্পের ত্রুটির জন্য দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বানও জানিয়েছে সংগঠনটি।
দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ অবস্থা কাটিয়ে সংস্কার ও উন্নয়নের ছোঁয়ায় বদলে যেতে চলেছে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা প্রশাসনিক ভবন ও চত্বর। বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনমূলক কাজের ফলে প্রশাসনিক পরিবেশে এসেছে ইতিবাচক পরিবর্তন। এতে পরিচ্ছন্ন ও দৃষ্টিনন্দন পরিবেশে সেবা নিতে এসে স্বস্তি প্রকাশ করছেন সেবাপ্রত্যাশীরা। তবে উপজেলা চত্বরে চারপাশের ভাঙাচোরা সীমানাপ্রাচীর পুনর্নির্মাণ, উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো দ্রুত সংস্কার করা হলে পুরো চত্বরের সৌন্দর্য ও পরিবেশ আরও উন্নত হবে। যারফলে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক এলাকার সামগ্রিক চিত্রও আরও আধুনিক ও নান্দনিক হয়ে উঠবে বলে জানিয়েছেন সচেতন এলাকাবাসী।
জানা যায়, ১৯৮৩ সালে আদমদীঘি উপজেলা প্রতিষ্ঠিত হয়। জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে উপজেলা পর্যায়ে প্রশাসনিক ভবনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তর স্থাপন করা হয়। ফলে সাধারণ মানুষ সহজেই নিজ এলাকার নিকটবর্তী দপ্তর থেকে প্রশাসনিক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সেবাগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন। এ কারণে উপজেলা জনসাধারণের কাছে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক স্তর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে উপজেলা প্রশাসনিক চত্বরের বিভিন্ন ভবন ও অবকাঠামো জরাজীর্ণ ও অন্ধকারাচ্ছন্ন অবস্থায় ছিল। বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অন্যান্য উপজেলার তুলনায় এই উপজেলা উন্নয়নের ক্ষেত্রে বেশি অবহেলিত ছিল। ফলে দৃশ্যমান উন্নয়নমূলক কাজ তেমন চোখে পড়েনি। পটপরিবর্তনের পর উপজেলা প্রশাসনিক এলাকায় একাধিক দৃশ্যমান উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়িত হয়েছে।
এর মধ্যে উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে আধুনিক মানের গেট নির্মাণ ও উভয় পাশে প্রাচীর নির্মাণ, অভ্যন্তরীণ কিছু সড়ক সংস্কার, পরিত্যক্ত পুরোনো ভবন অপসারণ করে নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাংলোর অভিমুখী সড়ক আরসিসিকরণ, কৃষি অফিসের সামনের সড়ক আরসিসিকরণ এবং হলরুমের সামনে ইউনিব্লক স্থাপনের কাজ উল্লেখযোগ্য।
এ ছাড়া দীর্ঘদিন সংস্কারহীন অবস্থায় থাকা স্টাফদের আবাসিক যমুনা ও রূপসা ভবন সংস্কার করে বসবাসের উপযোগী করা হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে আনসার সদস্যদের ব্যারাক নির্মাণের কাজ চলছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, মহিলাবিষয়ক দপ্তরের জরাজীর্ণ ভবন এবং ট্রেনিং সেন্টারের জন্য পুরোনো ভবনসহ ছয়টি কক্ষ সংস্কার ও নির্মাণকাজও করা হচ্ছে। পাশাপাশি উপজেলা পরিষদের জরাজীর্ণ বাউন্ডারি ওয়াল চারপাশে পুনর্নির্মাণ এবং পুরো চত্বরে জলাবদ্ধতা নিরসনে উন্নতমানের ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে দায়িত্বরত উপজেলা প্রশাসন। এসব উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন হলে উপজেলা পরিষদ চত্বরের সার্বিক পরিবেশ ও সৌন্দর্যে আমূল পরিবর্তন আসবে বলে প্রত্যাশা করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা বেগমসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা বেগম বলেন, ‘প্রকল্পের কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। তবে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ এখনো অসম্পন্ন রয়েছে। এসব কাজ শেষ করতে অতিরিক্ত বরাদ্দ প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অতিরিক্ত বরাদ্দের চাহিদাপত্র পাঠানো হবে। বরাদ্দ পাওয়াসাপেক্ষে উপজেলা পরিষদের সীমানাপ্রাচীর, অভ্যন্তরীণ ড্রেন, নতুন কোয়ার্টার নির্মাণসহ অবশিষ্ট কাজগুলো সম্পন্ন করা হবে।’
‘আপনারা বলেন হরিজন, আসলে সবাই আমরা মানুষ। আর এটাই সবচেয়ে বড় বিষয়।’—সামাজিক সম্প্রীতি, মানবিক মর্যাদা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের প্রত্যয় ব্যক্ত করে এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) রাশেদ মাহমুদ আল তিতুমীর।
তিনি বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে সবাই অংশগ্রহণ করতে পারবেন। সবার মধ্যে সম্প্রীতি ও দেশপ্রেম বজায় থাকবে। সবাইকে সঙ্গে নিয়েই আমরা কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।’
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার বিভিন্ন দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি উপজেলা পৌঁছালে উপজেলা প্রশাসন তাকে ফুলের বনসাই গাছ উপহার দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী একটি দার্শনিক ভিত্তির কথা বলেন—সবার আগে বাংলাদেশ, সবাইকে নিয়ে বাংলাদেশ এবং সবার জন্য বাংলাদেশ।’
ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে রাশেদ মাহমুদ আল তিতুমীর বলেন, ‘আপনারা দেখছেন, আমাদের সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত ও বৌদ্ধ ভিক্ষুদের সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে। আমরা চাই, সমাজে পুরোহিতসহ ধর্মীয় নেতারা তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করুন।
আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তারিফ উল হাসান, জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়া, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল হুদা, ঘাট থানার ওসি সফিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি নিজাম উদ্দিন শেখ, সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ আহম্মেদ, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব সানোয়ার আহম্মেদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আবু সাইদ মণ্ডলসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের অন্যান্য নেতারা।
নারী ফুটবলের উচ্ছ্বাসে মুখরিত টাঙ্গাইলের গোপালপুর। হেমনগর জমিদার বাড়ি মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে মরহুম ফরহাদ হোসেন তালুকদার স্মৃতি ফুটবল একাডেমী ও ময়মনসিংহের কলসিন্দুর নারী ফুটবল দলের প্রীতি ম্যাচ।
হেমনগর স্পোর্টিং ক্লাব ও হক পল্লী ফাউন্ডেশনের যৌথ আয়োজনে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় এ খেলা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রথমার্ধের খেলায় মরহুম ফরহাদ হোসেন তালুকদার স্মৃতি ফুটবল একাডেমীর পক্ষে ১টি গোল করেন জাতীয় নারী ফুটবল দলের সাবেক স্ট্রাইকার কৃষ্ণা রাণী সরকার। এবং দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ময়মনসিংহের কলসিন্দুর নারী দলের আকলিমার গোলে সমতা ফেরান। খেলার উদ্বোধন করেন খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মাহাফুজুল আলম খান, গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মঞ্জুরুল মোর্শেদ, জাতীয় নারী ফুটবল দলের সাবেক কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন, সূতী ভিএম পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শরীরচর্চা শিক্ষক গোলাম রায়হান বাপন এবং গোপালপুর উপজেলা বিএনপির সেক্রেটারি কাজী লিয়াকত, হেমনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাম রোজ তালুকদার।
প্রমিলা ফুটবলের এই আকর্ষণীয় ম্যাচ উপভোগ করতে গোপালপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ২০ হাজার দর্শকের সমাগম ঘটে। দর্শকদের উচ্ছ্বাস ও উপস্থিতিতে মাঠজুড়ে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে বিজিবির পৃথক অভিযানে ৪ লাখ ৬০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় চার মাদক কারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) ৪ বিজিবির আওতাধীন টেকনাফের হোয়াইক্যং চেকপোস্ট ও উলুবনিয়া সীমান্তে পৃথক অভিযান চালানো হয়।
আটকরা হলেন- টেকনাফের হোয়াইক্যং কাটাখালির বক্কর আহমেদের ছেলে শাকিল (২২), মৃত কাদেরের ছেলে রাসেল (২৩), চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানার গোসাইলভাঙা গ্রামের মো. নুরুল ইসলামের ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম (৩১) এবং উখিয়ার ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মৃত সিদ্দিকের ছেলে খায়রুল আমিন (২৪)।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন উখিয়া ব্যাটালিয়ন ৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম। তিনি জানান, এসব অভিযানে ১৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা মূল্যের ৪ লাখ ৬০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারসহ চার মাদক কারবারিকে আটক করা হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, প্রথম অভিযানে একটি ডাবল কেবিন পিকআপ আটক করা হয়। গাড়িটি মৌলভীবাজার থেকে টেকনাফ হয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাচ্ছিল। রাত আনুমানিক ৮টার দিকে পিকআপটি হোয়াইক্যং বিজিবি চেকপোস্টে পৌঁছালে কর্তব্যরত বিজিবি সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে পিকআপের পেছনের সিট কভারের নিচে বিশেষ কায়দায় লুকানো ১ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ সময় একজনকে আটক করা হয়।
দ্বিতীয় অভিযানে রাত ৯টার দিকে পালংখালী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার হোয়াইক্যং উলুবনিয়া নামক স্থানে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অ্যাম্বুশ করে বিজিবির একটি টহল দল। এ সময় ৩ লাখ ৪০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। অভিযানে শাকিলসহ তিনজনকে আটক করা হয়।
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে সাংবাদিক আব্দুল মোতালিব ভূঁইয়ার ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে কর্মরত সাংবাদিকদের আয়োজনে উপজেলার বাদাঘাট বাজারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সাংবাদিকরা ছাড়াও স্থানীয় সামাজিক সংগঠনের নেতা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যা ও দোয়ারাবাজারে সাংবাদিক আব্দুল মোতালিব ভূঁইয়ার ওপর হামলার ঘটনা সাংবাদিক সমাজকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে।’ এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের উপযুক্ত শাস্তি এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান।
এতে বক্তব্য রাখেন কালের কণ্ঠ মাল্টিমিডিয়া তাহিরপুর প্রতিনিধি আবির হাসান-মানিক, দৈনিক খোলা কাগজের উপজেলা প্রতিনিধি রোকন উদ্দিন, দৈনিক মানবজমিনের সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি এমএ রাজ্জাক, দৈনিক ইত্তেফাকের তাহিরপুর উপজেলা প্রতিনিধি আলম সাব্বির সমাজসেবক ও সংগঠক আবুল হোসেন, বাদাঘাট বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ ও গণকল্যাণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি সারোয়ার ইবনে গিয়াস।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন দৈনিক সংবাদের উপজেলা প্রতিনিধি কামাল হোসেন রাফি, দৈনিক বাংলা তাহিরপুর প্রতিনিধি আবুল কাশেম, এনটিভি মাল্টিমিডিয়ার উপজেলা প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া, দৈনিক আলোর সকাল অনলাইন নিউজ পোর্টালের পরিচালক মো. আ. মান্নান, দৈনিক নিউজ বাংলা তাহিরপুর প্রতিনিধি মো. বাবুল মিয়া, দৈনিক এদিনের তাহিরপুর প্রতিনিধি সামায়ুন এবং দৈনিক হাওর বাংলার তাহিরপুর উপজেলা প্রতিনিধি আজহারুল ইসলাম সোহাগ প্রমুখ।