শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

সাংবা‌দিক‌রা দুর্বল ও অপ‌রিপক্ক: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

অ্যাসোসিয়েশন অব ফরমার বিসিএস (এফএ) অ্যাম্বাসেডর্স (এওফা) এর সদস্যদের নি‌য়ে জা‌তির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মু‌জিবুর রহমা‌নের সমা‌ধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
গোপালগঞ্জ প্রতি‌নি‌ধি
প্রকাশিত
গোপালগঞ্জ প্রতি‌নি‌ধি
প্রকাশিত : ২৯ অক্টোবর, ২০২২ ১৬:৪৬

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন (এমপি) ব‌লে‌ছেন, গত ২৬ তা‌রিখ প্রেসক্লা‌বে কলা‌মিস্ট‌দের এক‌টি অনুষ্ঠা‌নে আমি যে বক্তব‌্য দি‌য়ে‌ছি, ১৭‌টি গণমাধ‌্যম তা নি‌য়ে যে হেড লাইন ক‌রে‌ছে তার সা‌থে আমার বক্ত‌ব্যের কোনো ধর‌নের সম্পর্ক নাই। সেখা‌নে আমি না-কি আমে‌রিকাকে যুদ্ধবাজ ব‌লে‌ছি! ১৭‌টি গণমাধ‌্যমই মিথ‌্যা, বা‌নোয়াট ও কাল্প‌নিক তথ‌্য দি‌য়ে‌ছে।

আজ শনিবার দুপু‌রে সাবেক রাষ্ট্রদূতদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ফরমার বিসিএস (এফএ) অ্যাম্বাসেডর্স (এওফা) এর সদস্যদের নি‌য়ে জা‌তির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মু‌জিবুর রহমা‌নের সমা‌ধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ শে‌ষে সাংবা‌দিক‌দের কা‌ছে এসব কথা ব‌লেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

তি‌নি সংবা‌দিক‌দের দুর্বল ও অপ‌রিপক্ক উল্লেখ ক‌রে ব‌লেন, ‘আমাদের দে‌শে সাংবা‌দিকতা যারা ক‌রেন তাদের ম‌ধ্যে দুর্বলতা আছে। এদের প‌রিপক্কতা দরকার। সাংবা‌দিকরা যারা এটা ক‌রে‌ছেন তা‌দের জন‌্য এটা লজ্জার বিষয়। আর আপনাদের জন‌্য দুঃখের বিষয়। আপনাদের সহক‌র্মিরা এ ধর‌নের বা‌নোয়াট কথা ব‌লে।’

মন্ত্রী অভিযোগ করেন যে, ‘সাংবা‌দিকরা হয় বাংলা বো‌ঝেন না অথবা উদ্দেশ্যমূলকভা‌বে এ ধর‌নের মিথ‌্যা প্রচারণা ক‌রে‌ছেন। মিথ‌্যা প্রচারণার ফ‌লে যেটা অসু‌বিধা হ‌য়ে‌ছে তা হ‌লো, যুক্তরাষ্ট্র সরকার‌ ম‌নে কর‌বে আমরা তা‌দের শক্রু।’ বিষয়টি খুবই দুঃখজনক ও লজ্জাজনক উল্লেখ ক‌রে মন্ত্রী ব‌লেন, ‘এই জন‌্য সাংবা‌দিক‌দের গ‌বেষণা করা উচিত।’

এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জা‌তির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মু‌জিবুর রহমা‌নের সমা‌ধি‌তে সা‌বেক রাষ্ট্রদূত‌দের নি‌য়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ ক‌রে শ্রদ্ধা জানান। পরে তারা বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের শহীদ সদস্যদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।

এ সময় অ্যাম্বাসেডর-অ্যাট-লার্জ মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন ও পররাষ্ট্র সচিব (সিনিয়র সচিব) মাসুদ বিন মোমেন, অ্যাসোসিয়েশন অব ফরমার বিসিএস (এফএ) অ্যাম্বাসেডর্স (এওফা) এর প্রেসিডেন্ট শমসের মবিন চৌধুরী, সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল্লাহ আল হাসান এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাসহ গোপালগঞ্জ জেলা প‌রিষ‌দের নব নির্বা‌চিত চেয়ারম‌্যান মু‌ন্সি আতিয়ার রহমান, জেলা প্রশাসক শা‌হিদা সুলতানা, টু‌ঙ্গিপাড়া পৌরসভার মেয়র শেখ তোজা‌ম্মেল হক টুটুল উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

কৃষি হবে বাংলাদেশের বড় রপ্তানি পণ্য: কৃষিমন্ত্রী

কুমিল্লা টাউন হল মাঠে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী কারিগরি শিক্ষা ও উদ্ভাবনী মেলার দ্বিতীয় দিনে প্রধান অতিথি কৃষিমন্ত্রী হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াসিন। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

এ বছর বাংলাদেশকে পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়নি, আগামী বছরও পেঁয়াজ আমদানির প্রয়োজন হবে না বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াসিন।

তিনি বলেন, ‘দুঃখজনক বিষয়, একসময় আমাদের পেঁয়াজ আমদানি করতে হতো। এ বছর আমরা পেঁয়াজ আমদানি করিনি। আগামী বছরও আমাদের পেঁয়াজ আমদানি করার কোনো প্রয়োজন হবে না। সবকিছু ঠিক থাকলে কৃষি হবে বাংলাদেশের বড় রপ্তানি পণ্য।’

শনিবার (৩ অক্টোবর) কুমিল্লা টাউন হল মাঠে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী কারিগরি শিক্ষা ও উদ্ভাবনী মেলার দ্বিতীয় দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্য কৃষিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘এখনকার প্রজন্ম কৃষির প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছে। বিষয়টি অত্যন্ত ইতিবাচক। লেখাপড়া শেষ করে বাণিজ্যিক কৃষিতে তরুণদের অংশগ্রহণ দেশের অর্থনীতির জন্য বড় আশাব্যঞ্জক ঘটনা।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজি আক্তার। এ সময় সিসিএন শিক্ষা পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. তারিকুল ইসলাম চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

মিটার চুরি করে বিকাশে টাকা আদায়, সহযোগীসহ ‘মিটার সবুজ’ গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ের শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন কারখানা ও প্রতিষ্ঠান থেকে বৈদ্যুতিক মিটার চুরি করে বিকাশে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে। পুলিশের দাবি, মিটার চুরির পর চিরকুটে বিকাশ নম্বর রেখে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দর-কষাকষি করে টাকা আদায় করত চক্রটি। টাকা পাওয়ার পর আবার মিটার ফেরত দেওয়া হতো।

একাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি নজরে নেয় শিল্প পুলিশ। পরে অভিযান চালিয়ে চক্রটির মূল হোতা সবুজ মিয়া ওরফে ‘মিটার সবুজ’ (২৫) ও তার সহযোগী মারুফ মোল্লাকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এলাকার ঘোড়াপীর মাজারসংলগ্ন মানিকগঞ্জ বুক হাউসের সামনে অভিযান চালায় শিল্প পুলিশের একটি দল। এ সময় মোটরসাইকেলে থাকা সবুজ ও মারুফকে থামার সংকেত দেওয়া হলে তারা পালানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গেলে পুলিশ তাদের আটক করে।

এ সময় তাদের কাছ থেকে হেক্সিং ব্র্যান্ডের একটি পল্লী বিদ্যুতের মিটার, দুটি অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন ও একটি বাজাজ পালসার মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে শিল্প পুলিশ-১-এর প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া।

গ্রেপ্তার সবুজ মিয়া সিরাজগঞ্জের চৌহালী থানার পাথরাইল গ্রামের কাইয়ুম আলীর ছেলে। অপর আসামি মারুফ মোল্লা একই উপজেলার রেহাই পুকুরিয়া গ্রামের লিটন মোল্লার ছেলে।

শিল্প পুলিশ জানায়, গত কয়েক মাস ধরে সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ের বিভিন্ন কারখানা ও প্রতিষ্ঠানের বৈদ্যুতিক মিটার চুরি করে আসছিল চক্রটি। মিটার চুরির পর সেটি আশপাশের কোনো স্থানে লুকিয়ে রেখে পলিথিনে মোড়ানো চিরকুটে একটি বিকাশ নম্বর লিখে রেখে যেত তারা।

পরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ ওই নম্বরে যোগাযোগ করলে চক্রটির সদস্যরা মিটার ফেরতের বিনিময়ে টাকা দাবি করত। দর-কষাকষির মাধ্যমে বিকাশে টাকা নেওয়ার পর মিটার ফেরত দেওয়া হতো বলে পুলিশের দাবি।

শিল্প পুলিশ জানায়, গত ৫ আগস্ট রাত ২টা ২৪ মিনিটে ধামরাইয়ের ঢুলিভিটা এলাকায় দি একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের ১ নম্বর গেটের সামনে থেকে একটি পল্লী বিদ্যুতের মিটার চুরি হয়। এ ঘটনায় ধামরাই থানায় মামলা হলে শিল্প পুলিশ-১ ছায়াতদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও সোর্সের মাধ্যমে চক্রটির সদস্যদের শনাক্তে কাজ শুরু করে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সবুজ মিয়া শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৫০ থেকে ২০০টি মিটার এবং মারুফ মোল্লা ৬০ থেকে ৭০টি মিটার চুরির কথা স্বীকার করেছেন। তবে এসব তথ্য তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে।

পুলিশ আরও জানায়, সবুজ মিয়ার বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর ও কামারখন্দ, টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর ও মির্জাপুর থানায় চুরি, চাঁদাবাজি ও মাদকসহ ছয়টি মামলা রয়েছে। মারুফ মোল্লার বিরুদ্ধে আশুলিয়া, টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর ও মির্জাপুর, সিরাজগঞ্জের চৌহালী, বেলকুচি ও কামারখন্দ এবং মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া ও সিংগাইর থানায় চুরি, দস্যুতা, চাঁদাবাজি ও মাদকসহ ১০টি মামলা রয়েছে।

শিল্প পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুজনের দেওয়া তথ্য ও চুরির সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


নির্বাচিত

কোনো অন্যায়কে বিএনপি সরকার ছাড় দেবে না: প্রতিমন্ত্রী টুকু 

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, এমপি বলেছেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেখানেই অনিয়ম দেখছে, সেখানেই ব্যবস্থা নিচ্ছে। কোনো অন্যায়কে বিএনপি সরকার ছাড় দেবে না। যে অন্যায় করবে, তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ শনিবার (৩ অক্টোবর) বেলা ১১টায় টাঙ্গাইল পুলিশ লাইন্স মাঠে জেলা পুলিশ টাঙ্গাইল আয়োজিত ১ম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা নিয়ে আমরা কাজ করছি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কীভাবে আরও উন্নত করা যায়, মাদককে কীভাবে সমাজ থেকে দূর করা যায় এসব বিষয়ে কাজ চলছে। সবাই যাতে লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে এবং কোনোভাবেই মাদকের সঙ্গে যুক্ত না হয়, সে জন্য খেলাধুলাসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘কমিউনিটি পুলিশিংয়ে ইতোমধ্যে কমিটি করা হয়েছে। সকলে মিলে সম্মিলিতভাবে পরিস্থিতির উন্নতি করতে চাই। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সকলের অবস্থান থাকবে।’

এর আগে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘সকলে সম্মিলিতভাবে কাজ করলে মাদক নির্মূল করা সম্ভব। সরকার মাদকের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নিয়েছে। মাদক সেবন করলে মানুষ হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মাদক আমাদের দেশে উৎপাদিত হয় না। পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে পরিকল্পিতভাবে এগুলো ঢুকিয়ে দিয়ে দেশের যুবসমাজকে ধ্বংস করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মাদকের ব্যাপারে কোনো তদবির চলবে না। নিজ নিজ অবস্থান থেকে মানুষকে সচেতন করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। পুলিশ বাহিনীও তাদের সদস্যদের ব্যাপারে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেবে, যাতে কেউ মাদক-সম্পর্কিত কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে না পারে।’

তিনি বলেন, ‘আমরাও আমাদের দিক থেকে খোঁজখবর নিচ্ছি। সামাজিকভাবে এটিকে আন্দোলন হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা এটি গড়ে তুলতে সক্ষম হব।’

অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইল পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকারের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. সেলিম মিঞা, পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. রবিউল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আদিবুল ইসলাম, ডিএসবির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী শাহনেওয়াজ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল এইচ. এম. মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী, সহকারী পুলিশ সুপার এবিএম সিদ্দিক, সরকারি পুলিশ সুপার নিজাম উদ্দিনসহ সদর, দেলদুয়ার, মির্জাপুর, গোপালপুর, বাসাইল ও ধনবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান খান শফিক, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট আজিম উদ্দিন বিপ্লবসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারা।

খেলা পরিচালনা করেন প্রধান রেফারি আজগর আলী। সহকারী রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শওকত, মোস্তফা কামালসহ পাঁচজন।

কাবাডি প্রতিযোগিতা শেষে পুলিশ লাইনস্ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।


নির্বাচিত

মুক্তিযোদ্ধাদের মৃতদেহ দাফন ও সৎকারে ৯ কোটি ৪৯ লাখ টাকা বরাদ্দ

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মুক্তিযোদ্ধাদের মৃতদেহ সমাহিত, সৎকার ও পরিবহনের তাৎক্ষণিক ব্যয় নির্বাহের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট থেকে ৯ কোটি ৪৯ লাখ ৯৪ হাজার ৪০০ টাকা আর্থিক মঞ্জুরি দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের বাজেট অধিশাখা থেকে গত ২৯ সেপ্টেম্বর জারি করা এক আদেশে এ অর্থ বরাদ্দের কথা জানানো হয়। বরাদ্দের অর্থ দেশের বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের অনুকূলে ছাড় দেওয়া হবে।

আদেশে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পরিচালন বাজেটের বিশেষ কার্যক্রমের আওতায় যুদ্ধাহত ও অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা খাতের দাফন বাবদ অনুদান হিসেবে বরাদ্দকৃত ১৮ কোটি টাকা থেকে এই ৯ কোটি ৪৯ লাখ ৯৪ হাজার ৪০০ টাকা ব্যয় করা হবে।

সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা প্রশাসন নিজ নিজ জেলা বা উপজেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয় থেকে বরাদ্দের অর্থ উত্তোলন করবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে সারণি অনুযায়ী মোট বরাদ্দের অথরিটি পাঠাতে চিফ একাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসারকে অনুরোধ করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের আদেশে বলা হয়েছে, ছাড়কৃত অর্থ চলতি অর্থবছরের বাজেটের নির্ধারিত দাফন বাবদ অনুদান খাতে সমন্বিত হবে।

জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা যথাযথ বিলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট জেলা বা উপজেলা ট্রেজারি থেকে অর্থ উত্তোলন করবেন।

শর্ত অনুযায়ী, মুক্তিযোদ্ধার মৃতদেহ সৎকার, সমাহিত ও মৃতদেহ পরিবহন ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশে এ অর্থ ব্যয় করা যাবে না।

অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকারি আর্থিক বিধি-বিধান ও নিয়মাচার যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। কোনো অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্ট বিতরণকারী কর্তৃপক্ষকে দায়ী থাকতে হবে।

এ ছাড়া ৩০ জুন ২০২৭ তারিখের পর কোনো অর্থ অব্যয়িত থাকলে, তা সরকারি কোষাগারের নির্ধারিত খাতে জমা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে হবে।

মন্ত্রণালয়ের আদেশে দেশের ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসক ও সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে আদেশটি প্রকাশের জন্য সিস্টেম এনালিস্টকেও অনুরোধ করা হয়েছে।

আদেশে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (বাজেট) ডা. মু. আসাদুজ্জামান স্বাক্ষর করেন।


নির্বাচিত

যুদ্ধ-অস্থিতিশীলতায় জড়ানোর মতো সময় আমাদের নেই: তথ্যমন্ত্রী

ছবি: তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থ বলেছেন, ‘বাংলাদেশ কোনো যুদ্ধ, নিরাপত্তা ইস্যু, ভূখণ্ড দখল বা শোষণের বিষয়ে আগ্রহী নয়। দেশের উন্নয়ন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশই বাংলাদেশের প্রধান অগ্রাধিকার।’

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীতে পঞ্চম বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনে আয়োজিত এক সেশনে তিনি এসব কথা বলেন।

আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, ‘আমি অবাক হয়েছিলাম যে আপনারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নিয়ে কথা বলছেন না। কারণ বর্তমান বৈশ্বিক সংকট শুধু চীনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আমরা সবাই এখন বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি নিরাপত্তার ভুক্তভোগী।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্ব রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সমস্যাটি সহজে শেষ হওয়ার নয়। এর মূল বিষয় হলো একে অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতা এবং আমি চাই না তুমি ধনী হও-এমন একটি মানসিকতা।’

তিনি আরও বলেন, ‘১৯৮০ বা ১৯৯০-এর দশকে ভারত ও চীন প্রায় একই অবস্থানে ছিল। কিন্তু চীন কৃষি খাত থেকে উৎপাদনমুখী শিল্পে মনোযোগ দেয়, আর ভারত কৃষি থেকে সেবা খাতে চলে যায়। এর ফলে চীন অনেক বেশি এগিয়ে যায় এবং ভারত প্রতিযোগিতায় কিছুটা পিছিয়ে পড়ে।’

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বিশ্ব সম্প্রদায়ের একটি অংশ এবং আমরা স্থিতিশীলতা চাই, কারণ আমরা উন্নতি করতে চাই। আমেরিকা ও চীনের মতো দেশগুলো হয়তো ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্ব সামলাতে পারবে, কারণ তারা উৎপাদনের দিক থেকে অনেক এগিয়ে। কিন্তু আমরা ভোক্তাপর্যায়ে আছি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিদিনের চিন্তা হলো খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা ও সামাজিক নিরাপত্তা। যুদ্ধ বা অস্থিতিশীলতায় জড়ানোর মতো সময় আমাদের নেই। দিন শেষে আমরাই এসবের ভুক্তভোগী।’

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানি সংকটের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার ভাষ্য, ‘যে যুদ্ধের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো সম্পর্ক নেই, সেই যুদ্ধের প্রভাবেও দেশকে বেশি দামে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো যুদ্ধে জড়াতে চাই না। আমরা চাই চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ পরাশক্তিগুলো আমাদের উন্নতি ও স্থিতিশীলতার জন্য সহযোগিতা করুক।’

বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক শেকড়ের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষের সক্ষমতা রয়েছে এবং তারা কঠোর পরিশ্রম করতে প্রস্তুত। বাংলাদেশের প্রয়োজন স্থিতিশীলতা, যাতে মানুষ শান্তিতে কাজ করতে পারে এবং দেশের উন্নয়ন এগিয়ে নিতে পারে।’

‘নতুন করে গড়ে ওঠা এক বিশ্বে ক্ষমতা, প্রযুক্তি ও আস্থার পথচলা’ স্লোগানে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)।

সিজিএস আয়োজিত বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনে শতাধিক দেশের প্রায় ২০০ জন বক্তা, ৩০০ জন প্রতিনিধি এবং এক হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী অংশ নিয়েছেন। এতে সাবেক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, মন্ত্রী, কূটনীতিক, গবেষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, উদ্ভাবক ও তরুণ নেতৃত্ব অংশ নিয়েছেন। তিন দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক সম্মেলন কাল ৫ অক্টোবর শেষ হবে।


নির্বাচিত

আক্কেলপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৩

ছবি: আলমগীর হোসেন আলম (৪৮), তার স্ত্রী মাহবুবা খাতুন (৪০) এবং আতিয়ার রহমান সুমন।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জয়পুরহাট প্রতিনিধি

জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে বালু উত্তোলন ও মাদক কারবার নিয়ে বিরোধের জেরে বিএনপির এক নেতা ও তার স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত জিয়া পরিষদের এক নেতাও আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত ৮টার পর রুকিন্দীপুর ইউনিয়নের চক রোয়াইড গ্রামের মোড়ের আজাদুলের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

আহত ব্যক্তিরা হলেন রুকিন্দীপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি আলমগীর হোসেন আলম (৪৮), তার স্ত্রী মাহবুবা খাতুন (৪০) এবং অভিযুক্ত উপজেলা জিয়া পরিষদের নেতা আতিয়ার রহমান সুমন। তারা সবাই আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আলমগীর হোসেনের অভিযোগ, প্রায় এক মাস ধরে আতিয়ার রহমানের ছত্রছায়ায় গ্রামের একটি ফসলি জমি থেকে বালু উত্তোলন করে ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছিল। ট্রাক্টর চলাচলে গ্রামের রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তিনি গ্রামবাসীর পক্ষে প্রতিবাদ করেন। এ নিয়ে বিরোধের জেরে আতিয়ার তাকে ও তার স্ত্রীকে ছুরিকাঘাত করেন।

তবে আতিয়ার রহমান এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত নন। আলমগীর মাদক কারবারে জড়িত থাকায় প্রতিবাদ করায় তিনি হামলার শিকার হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বালু উত্তোলন নিয়ে বিরোধের বিষয়ে গ্রামবাসী থানায় অভিযোগ করেছিলেন। পরে পুলিশ বালুবাহী ট্রাক্টর আটকে দিলেও আবার তা চলাচল শুরু করে। এ নিয়ে উপজেলা বিএনপি নেতাদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এর আগেই শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রুকিন্দীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমিনুর ইসলাম ছোয়াত বলেন, ‘বালু উত্তোলন নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ চলছিল। শনিবার (৩ অক্টোবর) তাদের নিয়ে বৈঠকের কথা ছিল।’

আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান মাসুদ বলেন, ‘ছুরিকাঘাতের ঘটনা শুনেছেন। তবে এ ঘটনায় এখনো কেউ অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


নির্বাচিত

রাজবাড়ী জেলা বিএনপির অফিসে আগুন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মইনুল হক মৃধা, রাজবাড়ী

রাজবাড়ীতে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে রাতের আঁধারে কেরোসিন দিয়ে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) দিবাগত রাতে পৌর শহরের বিএনপি কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

আগুন লাগার খবর পেয়ে জেলা বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এ ঘটনায় নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।

বিএনপি নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, রাতের যেকোনো একসময় দুর্বৃত্তরা কার্যালয়ের প্রবেশপথের কেঁচিগেটের সামনে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ছাড়া কার্যালয়ের ভেতরেও কেরোসিন ছিটিয়ে রাখা হয়েছিল বলে তারা দাবি করেন।

জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব অধ্যক্ষ এবিএম মঞ্জুরুল আলম দুলাল বলেন, ‘জেলা বিএনপির কার্যালয়টি পরিকল্পিতভাবে পুড়িয়ে দেওয়ার জন্য একটি মহল এ ঘটনা ঘটিয়েছে। আমাদের ছেলেরা ও কেয়ারটেকার রাত ১টা পর্যন্ত কার্যালয়ে ছিলেন। তারা চলে যাওয়ার পরই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল পার্টি অফিসটি জ্বালিয়ে দেওয়া। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এ ব্যাপারে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।

জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রেজাউল করিম পিন্টু ও গাজী আহসান হাবিব বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের লোকজন সারাদেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির জন্য নানা ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। বিএনপি সরকারের সাত মাসের সফলতা ও অর্জন নস্যাৎ করার জন্য পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে আমরা মনে করি। ৫ আগস্টের পর দায়ের করা মামলাগুলোর প্রত্যেক আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাই। এ ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি করছি।’

জেলা বিএনপি কার্যালয়ের কেয়ারটেকার মো. আতর আলী শেখ বলেন, ‘আমি রাত ১টার দিকে কার্যালয়ের প্রতিটি তালা চেক করে বাড়িতে চলে যাই। তখন কাউকে দেখিনি। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আমার স্ত্রী এসে আমাকে জানান, কার্যালয়ের কেঁচিগেট পোড়া। এরপর আমি এসে ঘটনাটি দেখি এবং নেতা-কর্মীদের খবর দিই।’

রাজবাড়ী সদর থানার ওসি উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, ‘জেলা বিএনপি কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে আসি। এসে দেখি কেরোসিন দিয়ে আগুন লাগানো হয়েছে। যেই হোক না কেন, আমরা তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনব।’


নির্বাচিত

কমলগঞ্জে নদীর বাঁধ ভেঙে পানিবন্দি ৫ শতাধিক মানুষ

* সড়ক ও ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জায়েদ আহমেদ, মৌলভীবাজার

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় টানা ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে লাউয়াছড়ার প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের ভানুবিল ও কোনাগাঁও গ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে বাঁধ ভেঙে তীব্র বেগে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে। এতে দুই গ্রামের অন্তত ৩০টি বাড়িঘর এবং বিস্তীর্ণ ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পড়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত থেকে কমলগঞ্জ ও পার্শ্ববর্তী পাহাড়ি এলাকায় ভারি বৃষ্টিপাত শুরু হয়। এতে উজানের ঢল নেমে আদমপুর ইউনিয়নের লাউয়াছড়ায় তীব্র স্রোত ও পানির চাপ সৃষ্টি হয়।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে অতিরিক্ত পানির চাপে ভানুবিল ও কোনাগাঁও এলাকার মাঝামাঝি অংশের বাঁধটি ভেঙে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই পানি লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়ে অন্তত ৩০টি পরিবারে প্রবেশ করে।

এদিকে বন্যার পানিতে গ্রাম দুটির একমাত্র চলাচলের পাকা রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়েছে। কার্যত চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সেখানকার প্রায় পাঁচ শতাধিক বাসিন্দা। এ ছাড়া পানিতে তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ রোপা আমন ধানের ক্ষেত এবং কৃষকের মৌসুমি শাক-সবজি, ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকরা।

স্থানীয় বাসিন্দা শমসের মিয়া ও ইসমাইল হোসেন জানান, দুপুরের দিকে হঠাৎ বাঁধ ভেঙে দ্রুত পানি প্রবেশ করায় বাড়ির আসবাবপত্র ও মালামাল সরানোর সুযোগ মেলেনি। রাস্তা-ঘাট তলিয়ে গ্রাম বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং ধানের ক্ষেত সম্পূর্ণ পানির নিচে চলে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল আহমদ বলেন, ‘বাঁধ ভাঙার ফলে যাতায়াতে খুব সমস্যা হচ্ছে। বাড়িঘরেও পানি ঢুকে পড়েছে। খাবার ও বাচ্চাদের নিয়ে আমরা বিপাকে আছি।’

আরেক বাসিন্দা আজাদ মিয়া বলেন, ‘বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে পড়ায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশন ও বাঁধ মেরামতের ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, লাউয়াছড়া নদীর বাঁধটির কিছু অংশ দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। সময়মতো সংস্কার বা মেরামত না করায় অতিরিক্ত পানির চাপে ভেঙে গেছে। এতে একদিকে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার উপক্রম হয়েছে, অন্যদিকে নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে।

আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রুশন মিয়া বলেন, ‘পানিবন্দি মানুষের খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন জানান, টানা ভারি বৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলের কারণেই আকস্মিক বাঁধ ভেঙে এই বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে বৃষ্টি কমে আসায় পানি ধীরে ধীরে নামতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং পানি পুরোপুরি নেমে গেলে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নিয়ে সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হবে।’

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দ্বীপ তালুকদার বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দ্রুত বাঁধ মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে তার কাছে পাঠানোর জন্য ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।


নির্বাচিত

বীরাঙ্গনা ফুলমতির শেষ বিদায় লাল-সবুজের পতাকায়

ছবি: গাইবান্ধার নারী মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনা রাজকুমারী রবিদাস ফুলমতি।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাইবান্ধা প্রতিনিধি

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের নির্যাতনের শিকার গাইবান্ধার নারী মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনা রাজকুমারী রবিদাস ফুলমতি আর নেই। দীর্ঘদিন বার্ধক্য ও নানা শারীরিক জটিলতায় শয্যাশায়ী থাকার পর বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।

মুক্তিযুদ্ধের সময় নির্যাতনের শিকার হয়েও সাহস ও আত্মমর্যাদার সঙ্গে জীবন কাটিয়েছেন ফুলমতি। স্বাধীনতার ৪৫ বছর পর ২০১৬ সালে নারী মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনা হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পান তিনি।

সাদুল্লাপুর উপজেলা শহরের ভূমি অফিসের সামনে সড়কের পাশে সরকারি খাসজমিতে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন ফুলমতি। পরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে নির্মিত ‘বীর নিবাসে’ ওঠেন তিনি। জীবনের শেষ সময়টাও সেই বাড়িতেই কেটেছে তার।

স্বজনরা জানান, সাদুল্লাপুর উপজেলা সদরের উত্তরপাড়া গ্রামের ফুলমতি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। এর মধ্যে প্যারালাইসিস, ব্রেন স্ট্রোকসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় তার চলাফেরার সক্ষমতা কমে যায়। শেষ দিকে তিনি প্রায় পুরোপুরি শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। নিজ বাড়িতেই চলছিল তার চিকিৎসা। শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত অবনতি হলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর মারা যান তিনি।

ফুলমতির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন তার ছেলে মনিরাজ কুমার। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে মায়ের শারীরিক অবস্থা ভালো ছিলো না। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ও স্যালাইন দেওয়া হচ্ছিল। ধীরে ধীরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর তিনি মারা যান।’

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকাল ৩টায় নিজ বাড়িতে ফুলমতির শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগীরা ফুলমতিকে সাদুল্লাপুরের উত্তরপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়। সেখানে তার ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। তখন তার বয়স ছিল আনুমানিক ২৮ বছর।

স্বাধীনতার পর বহু মুক্তিযোদ্ধা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেলেও ফুলমতির স্বীকৃতি পেতে দীর্ঘ সময় লেগেছে।

জানা গেছে, অভাব-অনটনের সংসারে বড় ছেলে রতন কুমার ও নিরঞ্জন কুমার কখনও জুতা সেলাই, কখনও দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালিয়েছেন।

ফুলমতির মৃত্যুতে সাদুল্লাপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদ আজমী শোক প্রকাশ করে বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধে ফুলমতির আত্মত্যাগ ও নির্যাতনের ইতিহাস অত্যন্ত বেদনাদায়ক। স্বাধীনতার পর দীর্ঘদিন তিনি স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত ছিলেন। অনেক চেষ্টা ও আবেদনের পর ২০১৬ সালে তার স্বীকৃতি মেলে।’

এদিকে ফুলমতির মৃত্যুতে সাদুল্লাপুর উপজেলা ও জেলার মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মী, সাংবাদিক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শোক জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ফুলমতি শুধু একজন নারী নন, তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের জীবন্ত ইতিহাস। তার জীবনের নির্যাতন, সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও আত্মমর্যাদার ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা প্রয়োজন। তার স্মৃতি সংরক্ষণে সমাধিস্থলে একটি স্মৃতিফলক বা স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


নির্বাচিত

দুর্গাপূজাকে ঘিরে প্রতিমা ও মণ্ডপ সাজানোর ধুম

# নিরাপত্তায় ব্যাপক প্রস্তুতি
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

শরতের কাশফুল আর উৎসবের আমেজের মধ্যে চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে ব্যস্ততা বেড়েছে। উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। কোথাও প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে, কোথাও মণ্ডপ সাজানোর কাজে ব্যস্ত আয়োজকেরা। এর পাশাপাশি পূজামণ্ডপগুলোতে নেওয়া হচ্ছে নিরাপত্তাব্যবস্থার প্রস্তুতিও।

এবার বোয়ালখালী উপজেলায় ৯৭টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ১০টি স্থায়ী এবং ৮৭টি অস্থায়ী মণ্ডপ। স্থায়ী মণ্ডপগুলোতে পূজা-অর্চনা হলেও প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে না। অস্থায়ী মণ্ডবগুলোতে পূজা শেষে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে।

এদিকে পূজার আনুষ্ঠানিকতা নিয়েও চলছে প্রস্তুতি। পূর্ব শাকপুরা মাতৃমন্দিরের পূজারি বিপ্লব চক্রবর্তী বলেন, ১০ অক্টোবর মহালয়া শুরু হচ্ছে। এবার দেবী দুর্গার আগমন হবে ঘোটকে এবং গমন হবে নৌকায়।

উপজেলার আমুচিয়া মাস্টার বাজার এলাকার শ্রী শ্রী রামঠাকুর শিল্পালয়ে গিয়ে দেখা যায়, দুর্গাপ্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগরেরা। দুর্গার পাশাপাশি লক্ষ্মী, সরস্বতী, গণেশ ও কার্তিকের প্রতিমা তৈরির কাজও চলছে। মাটি, পাট, সুতা ও খড়সহ বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে প্রতিমা।

কারিগরেরা জানান, প্রতিমা তৈরির কাজ কয়েকটি ধাপে করতে হয়। প্রথমে কাঠ ও বাঁশ দিয়ে কাঠামো তৈরি করা হয়। এরপর খড় দিয়ে প্রতিমার অবয়ব তৈরি করে তার ওপর মাটি দেওয়া হয়। মাটি শুকানোর পর চলে নকশা, অলংকরণ ও রঙের কাজ। সবশেষে প্রতিমাকে পূজামণ্ডপে নেওয়ার উপযোগী করে তোলা হয়।

প্রতিমাশিল্পী শানু দেব বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও তারা দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন। এরই মধ্যে কাজ প্রায় অর্ধেক শেষ হয়েছে। বাইরের কাজ শেষ হলেও কারখানার কিছু কাজ এখনো বাকি রয়েছে।

শানু দেব বলেন, এ বছর তারা ১৮টি প্রতিমা তৈরির কাজ নিয়েছেন। বর্তমানে ছয়জন মিলে কাজ করছেন। পূজার সময় ঘনিয়ে আসায় কাজের চাপও বেড়েছে।

প্রতিমা তৈরির বিভিন্ন উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদের খরচও বেড়েছে বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, পাট ও মাটির দাম আগের তুলনায় বেড়েছে। তবে কাজের শুরুতে যতটা ব্যস্ততা ও চাপ থাকে, প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করে তা মণ্ডপে স্থাপন করার পর অন্যরকম আনন্দ তৈরি হয়।

প্রতিমা তৈরির পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে চলছে সাজসজ্জার কাজ। আমুচিয়া এলাকার নবারণ সাহিত্য পরিষদ পূজামণ্ডপে গিয়ে দেখা যায়, মণ্ডপসজ্জায় ব্যস্ত কয়েকজন। বাঁশ, কাপড়, রঙিন কাগজসহ বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে মণ্ডপের সাজসজ্জার কাজ চলছে।

সাজসজ্জার দায়িত্বে থাকা সাজু দেব বলেন, প্রায় তিন মাস আগে থেকে তাঁরা মণ্ডপ সাজানোর কাজ শুরু করেছেন। এখনো পুরো কাজ শেষ হয়নি। আগামী ১০ দিনের মধ্যে কাজ শেষ করার আশা করছেন তারা।

বোয়ালখালীর কয়েকটি পূজামণ্ডপে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগম হয়। এর মধ্যে বীণাপাণি ও দেবান পাঠাগার পূজামণ্ডপে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের উপস্থিতি থাকে বলে জানান শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান হাসান চৌধুরী।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, বোয়ালখালী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষক প্রলয় চৌধুরী মুক্তি বলেন, দুর্গাপূজা যাতে নির্বিঘ্ন ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়, সে জন্য থানা পুলিশের পাশাপাশি আনসার-ভিডিপির সদস্য ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরা দায়িত্ব পালন করবেন।

বোয়ালখালী থানার ওসি মোজাফফর হোসেন বলেন, বোয়ালখালীতে উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব পালিত হয়ে থাকে। এবার উপজেলায় ৯৭টি মণ্ডপে পূজা হবে। এর মধ্যে ১০টি স্থায়ী ও ৮৭টি অস্থায়ী।

ওসি বলেন, ৯৭টি পূজামণ্ডপে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পুলিশের পাশাপাশি আনসার ও ভিডিপির সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি এসআরবি টহল টিমও থাকবে। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকেও পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

পূজার দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে মণ্ডপগুলোর ব্যস্ততা। কারও হাতে প্রতিমা তৈরির শেষ কাজ, আবার কেউ ব্যস্ত মণ্ডপ সাজাতে।

এদিকে, শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি জানান : বাগেরহাটের শরণখোলায় এবার ২১টি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। আগামী ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ থেকে শুরু হতে যাওয়া এ উৎসবকে ঘিরে উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। প্রতিমা তৈরির কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে।

শরণখোলার লাকুড়তলার প্রতিমা কারিগর সমর পাইক বলেন, “প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ। এখন রং ও সাজসজ্জার কাজ শুরু করব। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সুন্দরভাবে প্রতিমা তৈরি করে ভক্তদের সামনে তুলে ধরাই আমাদের লক্ষ্য।"

শরণখোলা পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সভাপতি স্বপন কুমার নাগ বলেন, “এবার উপজেলার ২১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। পূজাকে ঘিরে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদ্‌যাপনে সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।"

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রেজোয়ান ইফতেকার বলেন, “শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যেবক্ষণ করা হবে। ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখে সবাইকে উৎসব উদ্‌যাপনের আহ্বান জানানো হচ্ছে।"


নির্বাচিত

সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের ফু-ওয়াং ক্লাবে এনবিআরের অভিযান

অ্যালকোহল পণ্যে শুল্ক-কর ফাঁকির অভিযোগে ফু-ওয়াংসহ ঢাকার ৪ প্রতিষ্ঠানে এনবিআর অভিযান চালিয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর নুরুল ইসলামের একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ঢাকার বিভিন্ন বার, রেস্টুরেন্ট ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে অ্যালকোহলজাত পণ্যের অবৈধ উৎস, শুল্ক-মূসক ও আয়কর ফাঁকি এবং অননুমোদিত গ্রাহকের কাছে সরবরাহের অভিযোগ অনুসন্ধানে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। শনিবার (৩ অক্টোবর) একযোগে চারটি প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি ও যাচাই-বাছাই শুরু করেছে এনবিআরের বিভিন্ন সংস্থা।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকার কয়েকটি বার, রেস্টুরেন্ট, ডিপ্লোম্যাটিক বন্ডেড ওয়্যারহাউস ও ডিউটি ফ্রি শপে অবৈধ উৎস থেকে অ্যালকোহল ও অ্যালকোহলজাত পণ্য সংগ্রহের অভিযোগ পাওয়া যায়। একই সঙ্গে এসব পণ্যের বিপরীতে প্রযোজ্য শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর (মূসক) ও আয়কর ফাঁকি এবং অননুমোদিত গ্রাহকের কাছে সরবরাহের অভিযোগও রয়েছে।

এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআরের আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়েছে।

অভিযানের জন্য কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর (সিআইআইডি) চারটি পৃথক দল গঠন করেছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) এসব দলের সঙ্গে এনবিআরের আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট, সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি), মূসক নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর এবং কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকা (উত্তর)-এর কর্মকর্তারা অভিযানে অংশ নেন।

অভিযানের অংশ হিসেবে চারটি প্রতিষ্ঠানে সরেজমিনে পরিদর্শন, তল্লাশি ও নথিপত্র যাচাই করা হচ্ছে। ক্ষেত্রবিশেষে সংশ্লিষ্ট পণ্য আটক করার কার্যক্রমও পরিচালনা করা হচ্ছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) অভিযান চালানো প্রতিষ্ঠানগুলো হলো­­- র’ ক্যানভাস রেস্টুরেন্ট, হাবিব হোটেল ইন্টারন্যাশনাল, মার্গারিটা লাউঞ্জ এবং ফু-ওয়াং বোলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড।

সূত্র বলছে, ফু-ওয়াং বোলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের মালিক শেখ নুরুল ইসলাম।

এনবিআর সূত্র জানায়, এসব প্রতিষ্ঠানে মজুত থাকা অ্যালকোহল ও অ্যালকোহলজাত পণ্যের পরিমাণ যাচাই করা হচ্ছে। একইসঙ্গে মজুত পণ্যের বৈধ উৎস, আমদানি বা ক্রয়ের কাগজপত্র, শুল্ক-মূসক ও অন্যান্য প্রযোজ্য কর পরিশোধ করা হয়েছে কিনা এবং পণ্যের বৈধতা যাচাই করা হচ্ছে।

এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে এসব পণ্য সংগ্রহ করেছে এবং আইন অনুযায়ী অনুমোদিত উৎস ও গ্রাহকের কাছে সরবরাহ করা হয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এনবিআরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযানে প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনও অনিয়ম বা কর ফাঁকির তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

অভিযান শেষে প্রাথমিকভাবে উদ্ঘাটিত তথ্য জানাতে শনিবার (৩ অক্টোবর) রাতে এনবিআরের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। রাত সাড়ে ১০টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নিচতলায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত বৃহস্পতিবার শুল্কমুক্ত মদ মজুতের অভিযোগে সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নুরুল ইসলামের চারটি গুদাম সিলগালা করা হয়।


নির্বাচিত

ফারাক্কা চুক্তি জিয়াউর রহমানের পথ অনুসরণ করে হবে: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

তেঁতুলিয়ার নদী এলাকা পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। ছবি : সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ফারাক্কা চুক্তি জিয়াউর রহমানের পথ অনুসরণ করা হবে বলে মন্তব্য করে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, ফারাক্কা চুক্তিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ৩০ বছর মেয়াদি এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রেক্ষাপটে নতুন করে চুক্তি নবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কারিগরি কমিটি কাজ করছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার ডাকবাংলোতে মহানন্দা নদী এলাকায় নোঙর রিভার ক্যাম্পের কার্যক্রমের উদ্বোধন ও নদী এলাকা পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

আন্তঃসীমান্ত নদীর পানির হিস্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ৫৪টি এবং মিয়ানমারের সঙ্গে ৩টি আন্তঃসীমান্ত নদী রয়েছে। আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোতে বাংলাদেশের পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে ফারাক্কা চুক্তি নবায়ন এবং আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোতে বাংলাদেশের পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নদী ও খাল উদ্ধারে কোনো ধরনের দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনা করা হবে না। দেশের খনন ও পুনরুদ্ধার করা নদী, খাল ও জলাশয় পুনরায় দখলের কোনো সুযোগ থাকবে না। নদী উদ্ধারে দলীয় পরিচয় বিবেচনা করা হবে না।

এর আগে মহানন্দা নদীর সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে নোঙর রিভার ক্যাম্পের পতাকা আয়োজকদের হাতে তুলে দিয়ে কার্যক্রমের উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রতিমন্ত্রী। পরে উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন।

জানা গেছে নোঙর বাংলাদেশের এ কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন জেলায় শেষ করে টেকনাফে গিয়ে শেষ হবে।

এ সময় পঞ্চগড়ে জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ মজিদ, তেঁতুলিয়ার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম আকাশ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু, নোঙর বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সুমন সামস, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম, সদস্য দিন মোহাম্মদ খান, সালাউদ্দীন প্রধান, নাসির খান মিন্টুসহ জেলা-উপজেলা বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ও পরিবেশকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

ডেঙ্গু প্রতিরোধে মাগুরা পৌরসভার বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাগুরা প্রতিনিধি

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী প্রতি শনিবার সারাদেশের মতো মাগুরায়ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও মশা নিধনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ।

শহরের একতা কাঁচা বাজার এলাকায় শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে এ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কার্যক্রম শুরু হয়। অভিযানকালে মশা নিধনে ফগার মেশিনের সাহায্যে ড্রেন ও আশপাশের নর্দমায় ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। একই সঙ্গে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কসংলগ্ন এই বাজারের রাস্তা ও এলাকার চারপাশ পরিষ্কার করা হয়।

অভিযানে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সদস্যরা এবং ‘বিডি ক্লিন’-এর ৬ জন স্বেচ্ছাসেবী সক্রিয়ভাবে এ কাজে অংশ নেন।

এ সময় অন্যান্যর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাবেক পৌর প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আব্দুল কাদের এবং পৌরসভার পরিছন্নতা বিভাগের প্রধান ইতি খাতুন।

পৌর কর্তৃপক্ষ জানায়, ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও পৌরবাসীকে সচেতন করতে এই ধরনের প্রতিরোধমূলক অভিযান অব্যাহত থাকবে।


নির্বাচিত

banner close