সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

ইউএনওর স্বামীকে ‘মারধর’ করলেন আ.লীগ নেতার ছেলে

সোনাতলা থানায় আটক শামীম হোসেন ও তার ছেলে আলিফ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
২৯ অক্টোবর, ২০২২ ২২:০৩
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২৯ অক্টোবর, ২০২২ ২১:৫১

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) স্বামীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক আওয়ামী লীগ নেতার ছেলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সোনাতলা সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুব আলমের ছেলে শামীম হোসেন ও তার ছেলে আলিফকে আটক করেছে থানা পুলিশ।

আজ শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সোনাতলা উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। পেশায় ব্যবসায়ী শামীম সোনাতলা পৌর এলাকার বাসিন্দা।

মারধরের শিকার ব্যক্তির নাম আল আমিন শিকদার। তিনি পেশায় সফটওয়্যার ডেভেলপার এবং সোনাতলার ইউএনও সাইদা পারভীনের স্বামী।

সোনাতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈকত হাসান জানান, উপজেলা পরিষদের কোয়ার্টার এলাকায় ব্যাডমিন্টন খেলার কোর্ট আছে। সেখানে অনেকেই ব্যাডমিন্টন খেলেন। সন্ধ্যার দিকে ইউএনও সাইদা পারভীনের স্বামী আল আমিন খেলার জন্য সেখানে যান। এ সময় আগে থেকেই শামীম ও তার ছেলে আলিফ ব্যাডমিন্টন খেলছিলেন। ইউএনওর গাড়িচালক খেলার কোর্টে গিয়ে তাদের চলে যেতে বলেন। এতে শামীম ক্ষিপ্ত হয়ে কটূ কথা বলেন ওই চালককে। পরে শামীমের সঙ্গে তর্কে জড়ান গাড়ি চালক।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে ওসি আরও বলেন, এ সময় ইউএনওর স্বামী তাদের ঝগড়া করতে নিষেধ করলে তার বুকে লাথি মারেন শামীম। পরে তার ছেলে আলিফও হামলা চালান আল আমিনের ওপর। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ শামীম ও তার ছেলে আলিফকে আটক করে। তারা থানা হাজতে আছেন।

এদিকে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেন শামীমের বাবা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মাহবুব আলম। তার দাবি, ইউএনওর স্বামীকে তার ছেলে মারধর করেননি। একটু ধাক্কাধাক্কি হয়েছে।

মাহবুব আলম বলেন, ইউএনওর স্বামী তো অপরিচিত মানুষ। কিন্তু আমার ছেলে-নাতিকে সবাই চেনেন। সন্ধ্যার আগে ইউএনওর বাসভবনের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় শামীমের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে ইউএনওর স্বামী উত্তেজিত হয়ে পড়েন। এ সময় ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। এর জেরে আমার ছেলে-নাতিকে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ।

তবে ইউএনও সাইদা পারভীন বলেন, সন্ধ্যার দিকে খেলার মাঠে কোনো কারণ ছাড়াই শামীম ও তার ছেলে আলিফ হামলা করেন আল আমিনের ওপর। সম্প্রতি ভারত থেকে তার আল আমিনের হার্টে অপারেশন করা হয়েছে। বুকের হাড়ে স্ক্রু বসানো আছে। আঘাতের কারণে ওই স্ক্রু ‘ডিস প্লেসড’ হয়ে গেছে। তবে তিনি এখন মোটামুটি সুস্থ আছেন।


 গায়ে-হলুদের অনুষ্ঠানে কনেকে চুমু, ‘প্রেমিক’ গ্রেপ্তার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় গায়ে-হলুদের অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথির সামনে কনেকে চুমু দেয়ায় ‘প্রেমিক’কে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে দিয়ে‌ছে স্থানীয়রা। এ ঘটনায় দরিদ্র পরিবারের বাবাহারা মেয়েটির বিয়ে ভেঙে গেছে।

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের বাসিন্দা ওই কিশোরী স্কুলে পড়ার সময় উজিরপুর উপজেলার ছত্তার হাওলাদারের ছেলে জিহাদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্কের পর জিহাদ হাওলাদার অন্যত্র বিয়ে করেন।

এদিকে স্থানীয় এক যুবকের সঙ্গে ওই কিশোরীর বিয়ে ঠিক হয়। ২৪ ফেব্রুয়ারি রাতে কনের বাড়িতে গায়ে-হলুদ দিতে আসে বর পক্ষের লোকজন। অনুষ্ঠান চলাকালে জিহাদ ওই বাড়িতে এসে উপস্থিত লোকজনের সামনে ওই কিশোরীকে চুমু দেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয়রা ‘প্রেমিক’ জিহাদকে ধরে মারধর করে ওই রাতেই আগৈলঝাড়া থানা পুলিশে সোপর্দ করে।

এদিকে এ ঘটনার পর বর পক্ষ বেঁকে বসে। তারা এই বিয়েতে রাজি নয় বলে মেয়ের পরিবারকে জানিয়ে দেয়।

এ ঘটনায় কনের মা বাদী হয়ে আগৈলঝাড়া থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ ওই ‘প্রেমিক’কে গ্রেপ্তার করে বরিশাল আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।

ওই কিশোরীর মা বলেন, ‘আমাদের জায়গা-জমি নেই। আমার স্বামী একজন দরিদ্র কৃষক ছিলেন। স্বামীর মৃত্যুর পর ৯ বছর ধরে অন্যের সাহায্যে এক ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে চারজনের সংসার কষ্টের মধ্যে চালিয়ে আসছি। এখন মেয়ের বিয়ে ভেঙে যাওয়ায় মহাবিপদে পড়েছি।’

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযুক্ত যুবক জিহাদকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানোর পর তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। আর বরপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ভেঙে যাওয়া বিয়ে পুনরায় আয়োজনের চেষ্টা করছি।’


নিখোঁজের দুই দিন পর পুকুরে মিলল শিশুর মরদেহ

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৭:০৮
রংপুর প্রতিনিধি

রংপুরের পীরগাছায় নিখোঁজের দুই দিন পর উম্মে হাবিবা (৭) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার সকালে উপজেলার চালুনিয়া বিলের একটি পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

হাবিবা উপজেলার চালুনিয়া পানাতিপারা গ্রামের আব্দুল হাকিমের মেয়ে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পীরগাছা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুশান্ত কুমার সরকার।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার সকাল ১০টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় উম্মে হাবিবা। এরপর সম্ভাব্য সব জায়গায় খুঁজেও তার সন্ধান পাননি পরিবারের লোকজন। সোমবার সকালে বাড়ির পাশের চালুনিয়া বিলের একটি পুকুরে শিশু উম্মে হাবিবার মরদেহ দেখতে পায় স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ওসি সুশান্ত কুমার সরকার বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

বিষয়:

পাবনায় বিদেশি অস্ত্রসহ ৫ যুবক গ্রেপ্তার

আপডেটেড ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৫:৫৮
পাবনা প্রতিনিধি

পাবনায় বিদেশি অস্ত্রসহ পাঁচ যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পাবনা সদর থানা পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তলসহ বেশকিছু ধারাল অস্ত্র জব্দ করা হয়।

সোমবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রওশন আলী।

এর আগে রোববার রাতে শহরের দক্ষিণ রামচন্দ্রপুরের বাংলাবাজার এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, পাবনা পৌর এলাকার দিলালপুর আফনান আহমেদ আবির (২০), শালগাড়িয়া শাপলা প্লাস্টিক গলি এলাকার ইসতিয়াক জামান নূর (২০), দক্ষিণ রামচন্দ্রপুর পলিথিন রোড এলাকার মিজানুর রহমান নাঈম (২০), আবু হুরায়রা জনি (২০) এবং শান্তিনগর এলাকার রাফসান আবির (২৪)।

ওসি বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাংলাবাজার পলিথিন মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে বিদেশি রিভলবার, দুই রাউন্ড গুলি, হাত কুড়াল, দুইটা টিপ চাকু জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের অধিকাংশ একাধিক মামলার আসামি। তারা শহরে প্রায় সময়ই বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ড সংঘটিত করে থাকে। প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা শেষে তাদের কারাগারে পাঠানো হবে।’

বিষয়:

ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে দণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদির মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৬:৫২
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত এক কয়েদির মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার সকালে তার মৃত্যু হয়। মৃত ওই কয়েদি ঝিনাইদহ জেলা শহরের পরবহাটি গ্রামের আতিয়ার লস্করের ছেলে মিলন লস্কর।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা কারাগারের জেলার মহিউদ্দিন হায়দার।

তিনি জানান, কারাগারেরর চিত্রা ৩নং ওয়ার্ডের কয়েদি ছিলেন মিলন। ফজরের নামাজ শেষে সকাল ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরও জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে গত ২ জানুয়ারি মিলনকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন আদালত। সেই থেকে কারাগারের চিত্রা ৩ নং ওয়ার্ডে রাখা হয়েছিল তাকে। হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

বিষয়:

২ সন্তানসহ সৎ খালাকে হত্যার দায়ে এক জনের মৃত্যুদণ্ড

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৫:৪৯
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি 

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে সৎ খালা ও তার দুই ছেলেকে হত্যার দায়ে আইয়ুব আলী নামে এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীকে আরও ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।

রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সিরাজগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ফজলে খোদা মো. নাজির এ আদেশ দেন।

সিরাজগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের স্টোনোগ্রাফার রাশিদুল ইসলাম প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে আইয়ুব আলী তার সৎ খালা রওশন আরার বাড়িতে যায়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেওয়া তাঁত শ্রমিক আইয়ুব আলী রওশন আরার কাছে টাকা ধার চায়। পরে ধার না পেয়ে গভীর রাতে রওশন আরার ঘরে থাকা চারটি ট্রাংক খুলে টাকা চুরির চেষ্টা করে সে। পরে রওশন আরা ঘুমের মধ্যে নড়ে উঠলে চুরির বিষয়টি বুঝতে পেরেছে ধারণা করে তার বুকে শিল পাথর দিয়ে আঘাত করে আইয়ুব। এরপর গলাটিপে তাকে হত্যা করে। এসময় রওশন আরার পাশে ঘুমিয়ে থাকা তার তিন বছরের শিশু মাহিন কান্নাকাটি শুরু করলে তাকেও গলাটিপে হত্যা করে আইয়ুব। তখন রওশন আরার অপর সন্তান জিহাদ জেগে উঠলে তাকেও গলাটিপে হত্যা করে ঘরের দরজা লাগিয়ে পালিয়ে যায় আইয়ুব। ঘটনার তিনদিন পর ১ অক্টোবর বিকেলে নিজ ঘর থেকে সুলতান আলীর স্ত্রী রওশন আরা, তার দুই শিশু সন্তান মাহিন ও জিহাদের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ওইদিন রাতেই নিহতের ভাই নুরুজ্জামান বাদী হয়ে বেলকুচি থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার পর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও বেলকুচি থানা পুলিশ চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডার মামলার রহস্য উদঘাটনে কাজ শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম রোববার (২ অক্টোবর) দিনগত রাত সোয়া ১২টার দিকে উল্লাপাড়ার নন্দিগাতি গ্রাম থেকে হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা আইয়ুব আলীকে গ্রেফতার করে। পরে তার দেওয়া স্বীকারোক্তি ও তথ্যের ভিত্তিতে আলামত উদ্ধার করা হয়। পরে আইয়ুব আলী আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলার তদন্ত শেষে আইয়ুব আলীকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। মোট ১৩ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামীর উপস্থিতিতে আজ আদালত এ রায় দেন। রায়ের পর আসামীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বিষয়:

২ সন্তানসহ মায়ের মরদেহ উদ্ধার

আপডেটেড ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৬:৫৬
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে বসতঘর থেকে শিশু ছেলে-মেয়েসহ প্রবাসীর স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার কেয়াইন ইউনিয়নের উত্তর ইসলামপুর গ্রামে নিজ বসতবাড়ি থেকে ওই তিন জনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

তারা হলেন, সৌদি আরব প্রবাসী আলী মিয়ার স্ত্রী সায়মা বেগম (৩৩), তার মেয়ে ছাইমুনা (১১) ও ছেলে তাওহীদ (৭)।

প্রাথমিক ধারণার ভিত্তিতে পুলিশ ও স্থানীয়রা বলছে, ঋণগ্রস্থ ছিল পরিবারটি। সেই চাপ সইতে না পেরে বিষ খাইয়ে ছেলে-মেয়েকে হত্যার পর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন ওই নারী।

আলী মিয়ার বড় বোন বলেন, ‘আমার ভাই ঋণগ্রস্থ ছিল। এ নিয়ে ভাবির ওপর চাপ ছিল। সেসব বিষয় নিয়ে মানসিক চাপ থেকে এ ঘটনা ঘটতে পারে।’

সিরাজদিখান সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান রিফাত জানান, ‘উদ্ধার তিন জনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।’


চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগ কমিটিতে সভাপতি-সম্পাদক পদ প্রত্যাশী ১৪০০ জন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটি। এরই মধ্যে গঠন প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। কমিটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আসতে আগ্রহীদের কাছ থেকে জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। এ দুটি পদে জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন ১৪০০ জন। তারা পদে আসতে নানাভাবে চেষ্টা তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন।

গত ১ ফেব্রুয়ারি নগর ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে পদপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে জীবনবৃত্তান্ত আহ্বান করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে জীবনবৃত্তান্ত গ্রহণ করা হয়। ১৬ ফেব্রুয়ারি ছিল শেষদিন। পরে সময় বাড়িয়ে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত করা হয়।

জানা গেছে, প্রায় দুই দশক ধরে নগর ছাত্রলীগ কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ এমইএস এবং সিটি কলেজ বলয়কেন্দ্রিক হয়ে পড়ে। এবারও নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে এই দুটি কলেজের ছাত্রদের আধিক্য বেশি। তবে এবার নতুন কমিটির শীর্ষ দুটি পদের একটি এই দুই কলেজের বলয়ের বাইরে যেতে পারে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবার ১৪০০টি জীবনবৃত্তান্ত জমা পড়লেও আলোচনায় আছে ১৫ থেকে ২০ জন। এদের মধ্যে থেকেই শীর্ষ পদে আসতে পারেন। তাদের বেশির ভাগই নগরের এমইএস, সিটি ও ইসলামিয়া কলেজকেন্দ্রিক ছাত্রলীগ নেতা। তবে এবার তিন কলেজকে ডিঙিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে চট্টগ্রাম কলেজ ও হাজী মুহাম্মদ সরকারি মহসীন কলেজ। ১৯৮২ সাল থেকে সাড়ে তিন দশক ধরে ছাত্রশিবিরের দখলে ছিল চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসীন কলেজ। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে শিবিরের দখলমুক্ত করে নগর ছাত্রলীগ। এরপর থেকে ছাত্রলীগের কার্যক্রম শক্তভাবে চলে আসছে। এ কারণে এ দুই কলেজকে প্রাধান্য দেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, নগর ছাত্রলীগের কমিটির জন্য পদপ্রত্যাশী নেতা-কর্মীরা মূলত দুটি বলয়ে বিভক্ত। তাদের একটি পক্ষ হচ্ছে প্রয়াত সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী। এই পক্ষ বর্তমানে মহিউদ্দিনপুত্র শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীর অনুসারী বলে নিজেদের পরিচয় দেন। অন্য পক্ষটি হলো নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলয়ের।

ছাত্রলীগের নতুন কমিটির পদ ভাগিয়ে নিতে নওফেল ও নাছির অনুসারীদের মধ্যে স্নায়ু লড়াই চলছে। নগর যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটির শীর্ষ পদ ভাগিয়ে নিয়েছেন নওফেল অনুসারীরা। ছাত্রলীগের কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকও কী নওফেল অনুসারীরা প্রাধান্য পাবে- তা এখন বেশি উচ্চারিত হচ্ছে।

চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি এবং নগর কমিটির সভাপতি পদপ্রত্যাশী মাহমুদুল করিম বলেন, ‘আমি সিভি জমা দিয়েছি। চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসিন কলেজ শিবিরমুক্ত করতে আমরা কি করেছি সেটা সবাই জানে।

আমাদের প্রত্যাশা, ত্যাগী ও কর্মঠ কর্মীদের মূল্যায়ন করা হবে।’

নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু বলেন, ‘নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের জানিয়েছি। তারা সবকিছু যাচাই-বাছাই করেই দ্রুত কমিটি ঘোষণা করবেন বলে আশা করি।’

নগর ছাত্রলীগের শীর্ষ পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, চান্দগাঁও থানা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. নূরুন নবী সাহেদ, ডবলমুরিং থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিব হায়দার, কোতোয়ালি থানা ছাত্রলীগের সভাপতি অনিন্দ্য দেব, চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল করিম, মহসিন কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পলাশ, মহসিন কলেজের মায়মুন উদ্দীন, ওমরগণি এমইএস কলেজ ছাত্রলীগের জাহিদুল ইসলাম, মোহাম্মদ হানিফ, সরকারি সিটি কলেজ ছাত্রলীগের আশীষ সরকার, মুহাম্মদ তাসিন, ইসলামিয়া কলেজ ছাত্রলীগের মীর মুহাম্মদ ইমতিয়াজ, শাহাদাত হোসেন হীরা, ইমন হোসেন, আজিজুর রহমান, মিজানুর রহমান, নগর ছাত্রলীগের উপ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রাশেদ চৌধুরী, উপ-ছাত্রবৃত্তিবিষয়ক সম্পাদক এস এম হুমায়ন কবির আজাদ, নগর ছাত্রলীগ নেতা ফাহাদ আনিস ও খালেকুজ্জামান, কলেজ ছাত্রলীগ নেতা বোরহান উদ্দিন প্রমুখ।

এই ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি এম এ আহাদ চৌধুরী রায়হান বলেন, চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের শীর্ষ পদে স্থান পেতে ১ হাজার ৪০০ বায়োডাটা জমা পড়েছে। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতারা যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেবেন কি করা যায়। কেন্দ্রের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সেটা সিদ্ধান্ত নেবেন।

২০১৩ সালের ৩০ অক্টোবর ইমরান আহমেদ ইমুকে সভাপতি ও নুরুল আজিম রনিকে সাধারণ সম্পাদক করে নগর ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। ২০১৮ সালের ১৯ এপ্রিল সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ করেন নুরুল আজিম রনি। সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীরকে।


বাংলাদেশের সীমান্তে ভাসছিল বিএসএফ সদস্যের মরদেহ

শনিবার সকালে ইছামতি নদীর চর থেকে বিএসএফ সদস্যর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে বিজিবি। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৮:৫১
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

সাতক্ষীরা দেবহাটা উপজেলার হাড়দ্দহায় ইছামতি নদীর চর থেকে এক ভারতীয় বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) সদস্যর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

শনিবার সকালে বিএসএফ সদস্যের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে বিজিবিকে খবর দেন স্থানীয়রা।

সাতক্ষীরার শাখরা বিওপি ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নায়েক সুবেদার আনিসুর রহমান জানান, নিহত বিএসএফ সদস্যের নাম মোহাম্মাদ রিয়াজ উদ্দীন (৩০)। তিনি ভারতের ৮৫ বিএসএফ ব্যাটেলিয়নের আওতাধীন সোবাহাম বিএসএফ ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত নদী ইছামতিতে টহলে বের হন। ওই সময় ঝড় ও বৃষ্টির কবলে পড়ে নৌকাটি উল্টে যায়। টহলে থাকা অন্য তিন সদস্য সাঁতার কেটে কুলে উঠতে পারলেও রিয়াজ ডুবে মারা যান। পরবর্তীতে ইছামতির বাংলাদেশ সীমান্তের পাড়ে মরদেহ ভাসতে থাকে। বিজিবি ও বিএসএফের যৌথ উদ্যোগে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে বিএসএফ সদস্যদের কাছে মরদেহ ফেরত দেওয়া হয়।

সাতক্ষীরা ১৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সানবির হাসান মজুমদারও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

বিষয়:

গজারিয়ায় অটোরিকশার ধাক্কায় নারী পথচারী নিহত

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৭:৩৮
গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় এক পথচারী নিহত হয়েছেন।

শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলা সড়কের গজারিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গজারিয়া ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) রিয়াদ হোসেন।

নিহতের নাম সীমা আক্তার (২৮)। তিনি গজারিয়া উপজেলার টেংগারচর ইউনিয়নের টেংগারচর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল গাফফার মিয়ার মেয়ে বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দ্রুত গতির একটি অটোরিকশা পথচারী সীমা আক্তারকে ধাক্কা দিলে তিনি গুরতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এসআই রিয়াদ বলেন, ‘মরদেহ বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। আমরা অটোরিকশাটি শনাক্তের চেষ্টা করছি।’


নারীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় শারমীন আক্তার (৩০) নামে এক নারীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার দুপুরে ঢাকা আরিচা মহাসড়কের সাটুরিয়ার ধানকোড়া ইউনিয়নে কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত শারমিন আক্তার সাটুরিয়ায় ধানকোড়া ইউনিয়নের বরুন্ডি এলাকার মো. মনোয়ার হোসেনের মেয়ে।

পুলিশ জানায়, দুপুর ১২টার দিকে সাটুরিয়া কৃষি ইনস্টিটিউটের পাশে শারমীন আক্তারের গলাকাটা মরদেহ দেখে পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। নিহতের গলায় ধারাল অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও পুলিশ জানায়।

সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম মোল্যা জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের জেরে তাকে জবাই করে হত্যা করা হতে পারে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

বিষয়:

মোংলায় ৯৫০ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে ডুবোচরে আটকা লাইটার জাহাজ

আপডেটেড ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৬:২৪
বাগেরহাট প্রতিনিধি

মোংলা বন্দরের হারবাড়িয়া এলাকায় ৯৫০ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে তলা ফেটে ডুবোচরে আটকা পড়েছে এমভি ইশরা মাহমুদ নামক একটি লাইটার জাহাজ।

জাহাজটি কয়লা বোঝাই করে শনিবার সকালে যশোরের নোয়াপাড়ায় যাওয়ার পথে মোংলার পশুর নদীর কানাইনগর এলাকায় এ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এসময় জাহাজটির চালক নৌযানটিকে নদীর তীরে উঠিয়ে দেয়ায় জাহাজটি পুরোপুরি ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষা পায়।

বাংলাদেশ লাইটার শ্রমিক অ্যাসোসিয়েশনের মোংলা শাখার সহ-সভাপতি মাইনুল হোসেন মিন্টু জানান, মোংলা বন্দরের হারবাড়িয়া-৬ নম্বর এলাকায় অবস্থানরত এমভি পারস নামক একটি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে ৯৫০ মেট্রিক টন কয়লা বোঝাই করে এমভি ইশরা মাহমুদ লাইটারটি। শনিবার সকালে লাইটারটি ছেড়ে যায় নোয়াপাড়ার উদ্দেশে। পশুর চ্যানেলের কানাইনগর এলাকায় ডুবোচরে আটকে তলা ফেঁটে যায় লাইটারটির। দ্রুত চালক নৌযানটিকে নদীর তীরে উঠিয়ে দেয়। এতে লাইটারটি ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষা পায়।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার ক্যাপটেন শাহীন মজিদ জানান, লাইটার জাহাজটি পশুর নদীর জাহাজ চলাচলের মূল চ্যানেলের বাইরে থাকায় অন্যান্য জাহাজ বা নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

বিষয়:

ভালো নেই মৃৎশিল্পের কারিগররা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
তাজুল ইসলাম, সারিয়াকান্দি (বগুড়া)

কালের বিবর্তনে আধুনিকতার ছোঁয়ায় দিন দিন ব্যবহার কমছে মাটির তৈরি তৈজসপত্রের। প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে মাটির তৈরি এসব জিনিসের বদলে বাজার দখল করছে প্লাস্টিক, অ্যালুমিনিয়াম, স্টিল ও সিরামিকসহ অন্যসব সামগ্রী। তাই প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে মাটির তৈরি অনেক পণ্যই হারিয়ে গেছে। কিন্তু মাটির তৈরি কিছু তৈজসপত্র এখনো পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। শহরবাসীর দালান-কোটা সাজাতে মাটির তৈরি নানা ফুলদানির কদর রয়েছে এখনো।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পৌরসভার যমুনা তীরবর্তী ধাপ এলাকার ওই পল্লীর গোপাল চন্দ্র পালের স্ত্রী শ্রীমতি সন্ধ্যা রানী ও অমিল চন্দ্র পালের উঠানজুড়ে রয়েছে হাঁড়ি-পাতিল, কড়াই, মাটির ব্যাংক, পিঠা ভাজার খাঁচ, দইয়ের বাটিসহ ছোট-বড় নানা রকমের পাত্র। একাধিক বয়স্ক নারী-পুরুষ কারিগররা তাদের নিজ হাতে মাটি দিয়ে তৈরি করে শিল্পকর্মগুলো খুব যত্নসহকারে রোদে শুকাতে দিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ তাতে রঙের কাজও করছেন। আর তাদের সাহায্য করছে পাড়ার ছোট ছোট বাচ্চারা। এ সময় কথা হয় গোপল চন্দ্র পালের সঙ্গে তিনি এখন আর আগের মতো কাজ করতে পারেন না। অল্প কাজ করতেই হাঁপিয়ে ওঠেন।

তিনি আরও বলেন, ২০ বছর আগেও এ উপজেলায় মৃৎশিল্পের দাপট ও কদর ছিল। তখন উপজেলার অনেক পরিবার মাটির জিনিসপত্র তৈরি করে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করত। ওই সময় গোটা উত্তরাঞ্চলে চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাটির তৈরি এসব তৈজসপত্র সরবরাহ করা হতো। তবে বর্তমানে এ উপজেলায় ধাপ এলাকার পাঁচ-সাত ঘর পরিবার মৃৎশিল্পের কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছে। আগের মতো চাহিদা আর পারিশ্রমিকের ন্যায্যমূল্য না থাকায় এ পেশার লোকজন অত্যন্ত দুঃখ-দুর্দশা আর হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এ পেশায় কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকায় অন্য পেশায় তেমন খাপ খাওয়াতে পারছেন না তারা। কম লাভ জেনেও শুধু পারিশ্রমিকের আসায় বাপ-দাদার পুরানো ঐতিহ্য ধরে রাখতে এখনো মাটি দিয়ে তৈরি করছেন বিভিন্ন ধরনের হাঁড়ি, সরা, কলস, বাসন, মুড়ি ভাজার খোলা, কোলা, ভাটি, পিঠা তৈরির খাঁজ ইত্যাদি।

তার স্ত্রী সন্ধ্যা রানী পাল বলেন, আগের তুলনায় মাটির হাঁড়ি-পাতিলের চাহিদা কম। কম তৈরি করছেন, বিক্রিও কম। সংসার চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে। এ কাজ করে রোজগারের টাকা বাঁচিয়ে তিনি তার এক কন্যাসন্তানকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করিয়েছেন। এখন অর্থের অভাবে পরবর্তী শিক্ষা শেষ করাতে পারবেন কি না তা নিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। সরকারি কিংবা স্থানীয় মেয়র-কাউন্সিলরদের কাছ থেকে কোনো সুযোগ-সুবিধা পান না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অমিল চন্দ্র পাল দৈনিক বাংলাকে বলেন, জন্ম থেকেই তিনি এ পেশায় জড়িত আছেন। বাপ-দাদার পেশাকে ধরে রাখতেই তারা এ পেশাকে আঁকড়ে রেখেছেন। তিনি বলেন, আগে কলাগাছের পাতা দিয়ে মাটির তৈরি তৈজসপত্র পোড়ানো হতো। কিন্তু এখন তা আর পাওয়া যায় না। কাঠের গুঁড়া দিয়ে তাদের পোড়ানোর কাজ করতে হয়। এতে খরচ বেশি পড়ে। তা ছাড়া যে মাটি এক হাজার টাকায় কিনত বর্তমানে সেই মাটি ও জ্বালানির দাম বেড়েছে কয়েকগুণ। শুধু বাড়েনি কুমোরদের পারিশ্রমিক। এখন তাদের টিকে থাকার আর কোনো রাস্তা নেই। এই কাজে হাড়ভাঙা খাটুনি অথচ আয় নামমাত্র। খরচ বাদ দিয়ে যে সামান্য আয় হয় তা দিয়ে খেয়েপরে বেঁচে আছেন। পরবর্তী বংশধরদের জন্য যে কিছু রেখে যাবেন, সে ব্যবস্থাও নেই তাদের। সন্তানরা এখন শিক্ষিত হয়ে এ পেশাকে পরিবর্তন করে জড়িয়ে যাচ্ছে অন্য পেশায়। তারপরও তারা তাদের এই পেশার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে মৃৎশিল্পকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে আছেন।

কথা হয় ইবুতি মোহন পালের স্ত্রী চায়নার সঙ্গে। তিনি বলেন, নিজের এলাকায় মৃৎশিল্প তৈরির মাটি না পাওয়ায় বগুড়ার মাটিডালি থেকে মাটি সংগ্রহ করতে প্রতি ট্রাকের খরচ হিসেবে আট হাজার টাকা দিতে হয়। তবে পণ্যের চাহিদা কম থাকায় এনজিও থেকে বেশি সুধে ঋণ নিয়ে তারা কোনোমতে নুনভাত খেয়ে বেঁচে আছেন।

শ্রী অমিল চন্দ্র পালের কলেজ পড়ুয়া ছাত্র উজ্জ্বল কুমার পাল বলেন, তিনি কাজীপুর সরকারি মুনসুর আলী কলেজের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শেষবর্ষের ছাত্র। তার বাবা-মা অনেক কষ্ট করে তার পড়াশোনার খরচ দিয়েছেন। লেখাপড়া শেষ করে বাপ-দাদার পেশাকে বাদ দিয়ে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে তিনি দেশ ও জাতির জন্য কাজ করতে চান।


কোটি টাকা আত্মসাৎ ঘটনার কূলকিনারা হয়নি ২৩ দিনেও

আপডেটেড ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৫:০০
রতন কান্তি দেবাশীষ, চট্টগ্রাম

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে ভুয়া বিল-ভাউচারে প্রায় কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় ২৩ দিনেও কোনো কূলকিনারা হয়নি। চিহ্নিত হয়নি টাকা আত্মসাৎকারীরা। এখনো হয়নি মামলা।

এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা জয়শ্রী মজুমদার রশ্মি বলেন, ‘আমাদের তদন্ত অব্যাহত আছে। তদন্ত শেষ হলেই বলা যাবে। এ বিষয়ে আমি কোনো কিছু বলতে পারব না।’

একই বিষয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের হিসাবরক্ষক ও তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব মো. আব্দুল্লাহ আল আসিফ বলেন, ‘তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। তদন্ত শেষ করতে আরও সময় লাগবে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের দপ্তর পাহাড়তলী থেকে পণ্য কেনার জন্য কোনো ধরনের টেন্ডার আহ্বান করা হয়নি। কেনাকাটা হয়নি কোনো পণ্য। কিন্তু পণ্য কেনাকাটা হয়েছে বলে ভুয়া বিল ভাউচার দাখিল করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দি কসমোপলিটন করপোরেশনের নামে গত ৩১ জানুয়ারি রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল থেকে ৮৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যাংক থেকে তুলে নিয়ে যায়। টেন্ডার ছাড়া ভুয়া বিল ভাউচার দিয়ে টাকা আত্মসাতের ঘটনাটি জানাজানির পর পূর্বাঞ্চল রেলে তোলপাড় শুরু হয়। এই ঘটনায় ১১ ফেব্রুয়ারি রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের হিসাব এবং অডিট শাখার ৭ কর্মকর্তা–কর্মচারীকে বরখাস্ত করা হয়।

বরখাস্ত হওয়া সাত কর্মকর্তা-কর্মচারী হলেন- রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের হিসাবরক্ষক মামুন হোসেন, মো. আবু নাছের, শিমুল বেগম, সৈয়দ সাইফুর রহমান, অডিটর পবন কুমার পালিত, জুনিয়র অডিটর ইকবাল মো. রেজাউল করিম ও অফিস সহায়ক মাকসুদুর রহমান।

পাশাপাশি ঘটনা তদন্তে ৮ ফেব্রুয়ারি চার সদস্যের কমিটি গঠন করেছিল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা জয়শ্রী মজুমদার রশ্মিকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়। এছাড়া হিসাবরক্ষক আব্দুল্লাহ আল আসিফকে সদস্যসচিব, সুগ্রীব চাকমা ও মো. জহিরুল ইসলামকে সদস্য করা হয়। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছিল।

একই সঙ্গে কমিটিকে বলা হয়েছিল, কসমোপলিটন করপোরেশনকে পরিশোধ করা বিলটি জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত করা প্রয়োজন। কীভাবে বিলটি পাস ও পরিশোধ করা হলো যাচাই-বাছাই করে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে বিষয়ে সুপারিশ করতে হবে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের অতিরিক্ত অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান হিসাব অধিকর্তা মো. সাইদুর রহমান সরকার বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। রিপোর্ট পেলে সব পরিষ্কর হবে। জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত অর্থবছরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স দি কসমোপলিটন করপোরেশনের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে রেলের বেশ কিছু সরঞ্জাম কেনা হয়। এর মধ্যে চারটি কাজের বিল তিন কোটি ৬২ লাখ টাকা কসমোপলিটনকে পরিশোধের জন্য হিসাব বিভাগকে চিঠি দেন প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক ফরিদ উদ্দীন। সে টাকা তুলে নেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে সমস্যা সৃষ্টি হয় এই টাকার বাইরে আরও ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে তুলে নেওয়া হয়। রেলওয়েকে কোনো পণ্য না দিয়ে এত টাকা নিয়ে যাওয়ায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

গত ৩১ জানুয়ারি ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করা হলেও ৮ ফেব্রুয়ারি বিষয়টি জানতে পেরেছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান হিসাব অধিকর্তার দপ্তর (এফএঅ্যান্ডসিএও)। এ কাজে রেলের হিসাব বিভাগ থেকে শুরু করে ব্যাংকের কর্মীরাও জড়িত থাকতে পারেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

অপরদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কসমোপলিটন করপোরেশনের স্বত্বাধিকারী নাবিল আহসান টাকা উত্তোলনের বিষয়টা অস্বীকার করে আসছেন।

তিনি বলেন, ‘মালামাল সরবরাহ বাবদ প্রতিষ্ঠানের প্রাপ্য টাকা গত ২৮ ডিসেম্বর চারটি চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। তবে ভুয়া বিল-ভাউচারে পাঁচ নম্বর চেকটি অর্থাৎ ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়। এই চেক কসমোপলিটন করপোরেশনের পক্ষে কেউ গ্রহণ করেননি। ওই চেকের টাকা রেলওেয়ের অর্থ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে আত্মসাৎ করা হয়েছে। এখানে আমাদের সংশ্লিষ্টতা নেই।’

বিষয়:

banner close