রোববার, ২ আগস্ট ২০২৬
১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

ইউএনওর স্বামীকে ‘মারধর’ করলেন আ.লীগ নেতার ছেলে

সোনাতলা থানায় আটক শামীম হোসেন ও তার ছেলে আলিফ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
২৯ অক্টোবর, ২০২২ ২২:০৩
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২৯ অক্টোবর, ২০২২ ২১:৫১

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) স্বামীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক আওয়ামী লীগ নেতার ছেলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সোনাতলা সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুব আলমের ছেলে শামীম হোসেন ও তার ছেলে আলিফকে আটক করেছে থানা পুলিশ।

আজ শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সোনাতলা উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। পেশায় ব্যবসায়ী শামীম সোনাতলা পৌর এলাকার বাসিন্দা।

মারধরের শিকার ব্যক্তির নাম আল আমিন শিকদার। তিনি পেশায় সফটওয়্যার ডেভেলপার এবং সোনাতলার ইউএনও সাইদা পারভীনের স্বামী।

সোনাতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈকত হাসান জানান, উপজেলা পরিষদের কোয়ার্টার এলাকায় ব্যাডমিন্টন খেলার কোর্ট আছে। সেখানে অনেকেই ব্যাডমিন্টন খেলেন। সন্ধ্যার দিকে ইউএনও সাইদা পারভীনের স্বামী আল আমিন খেলার জন্য সেখানে যান। এ সময় আগে থেকেই শামীম ও তার ছেলে আলিফ ব্যাডমিন্টন খেলছিলেন। ইউএনওর গাড়িচালক খেলার কোর্টে গিয়ে তাদের চলে যেতে বলেন। এতে শামীম ক্ষিপ্ত হয়ে কটূ কথা বলেন ওই চালককে। পরে শামীমের সঙ্গে তর্কে জড়ান গাড়ি চালক।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে ওসি আরও বলেন, এ সময় ইউএনওর স্বামী তাদের ঝগড়া করতে নিষেধ করলে তার বুকে লাথি মারেন শামীম। পরে তার ছেলে আলিফও হামলা চালান আল আমিনের ওপর। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ শামীম ও তার ছেলে আলিফকে আটক করে। তারা থানা হাজতে আছেন।

এদিকে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেন শামীমের বাবা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মাহবুব আলম। তার দাবি, ইউএনওর স্বামীকে তার ছেলে মারধর করেননি। একটু ধাক্কাধাক্কি হয়েছে।

মাহবুব আলম বলেন, ইউএনওর স্বামী তো অপরিচিত মানুষ। কিন্তু আমার ছেলে-নাতিকে সবাই চেনেন। সন্ধ্যার আগে ইউএনওর বাসভবনের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় শামীমের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে ইউএনওর স্বামী উত্তেজিত হয়ে পড়েন। এ সময় ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। এর জেরে আমার ছেলে-নাতিকে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ।

তবে ইউএনও সাইদা পারভীন বলেন, সন্ধ্যার দিকে খেলার মাঠে কোনো কারণ ছাড়াই শামীম ও তার ছেলে আলিফ হামলা করেন আল আমিনের ওপর। সম্প্রতি ভারত থেকে তার আল আমিনের হার্টে অপারেশন করা হয়েছে। বুকের হাড়ে স্ক্রু বসানো আছে। আঘাতের কারণে ওই স্ক্রু ‘ডিস প্লেসড’ হয়ে গেছে। তবে তিনি এখন মোটামুটি সুস্থ আছেন।


রূপপুরের চুল্লিতে জ্বালানি, বিদ্যুৎ পেতে বাড়ছে অপেক্ষা

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন আরও বিলম্বিত হচ্ছে। পারমাণবিক জ্বালানি লোড এবং প্রাথমিক কমিশনিং সংক্রান্ত পরীক্ষা শেষ হলেও বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) ‘বি-২ কমিশনিং লাইসেন্স’ না পাওয়া পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা যাবে না।

এর আগে চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল জ্বালানি লোডিং শুরুর পর আশা করা হয়েছিল আগস্টেই প্রথম ইউনিট থেকে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে। তবে সেই লক্ষ্য এখনই পূরণ হচ্ছে না। প্রকল্প কর্মকর্তারা জানান, বিদ্যুৎ উৎপাদনের আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ‘ক্রিটিকালিটি’ অর্জনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও বায়েরার চূড়ান্ত লাইসেন্সের ওপরই এখন সব নির্ভর করছে।

জটিল পরীক্ষা ও প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা: গত ১২ মে প্রথম ইউনিটের রিঅ্যাক্টর কোরে ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি বা পারমাণবিক জ্বালানি প্রবেশ করানোর কাজ শেষ হয়। এরপর শুরু হয়েছে কমিশনিং ও স্টার্টআপের সবচেয়ে সংবেদনশীল পর্যায়।

প্রকল্পের হিসাব অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ২,০৪৬টি এবং দ্বিতীয় ধাপে ৯০টি পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে দ্বিতীয় ধাপের শেষ পর্যায়ে আরও ১৮টি পরীক্ষা বাকি। এসব পরীক্ষায় যন্ত্রপাতির সচলতার পাশাপাশি চুল্লির চাপ ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, জরুরি নিরাপত্তাব্যবস্থা, বিদ্যুৎ সরবরাহ, কুলিং সিস্টেম এবং নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষাব্যবস্থার পারস্পরিক সমন্বয় যাচাই করা হচ্ছে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে প্রতিটি পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণ করে সন্তুষ্ট হতে হয়। কোনো ফলে অসংগতি থাকলে তা সংশোধনের পর পুনরায় পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক।

বিদ্যুৎ গ্রিডে যাওয়ার প্রক্রিয়া: চলমান পরীক্ষা সফল হলে এবং লাইসেন্স মিললে প্রথমে চুল্লিকে ‘ক্রিটিক্যাল’ অবস্থায় নেওয়া হবে। পারমাণবিক প্রকৌশলে ক্রিটিক্যালিটি হলো চুল্লিতে নিয়ন্ত্রিত ও স্বয়ংসম্পূর্ণ শৃঙ্খল বিক্রিয়া (Chain Reaction) শুরু হওয়া, যা একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান মাইলফলক।

ইউরেনিয়াম পরমাণুর বিভাজনে উৎপাদিত তাপ থেকে বাষ্প তৈরি হবে, যার চাপে ঘুরবে টারবাইন এবং জেনারেটর বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করবে।

উৎপাদন বাড়ানোর ধাপ: শুরুতে কম শক্তিতে রিঅ্যাক্টর চালিয়ে পরীক্ষা করা হবে। এরপর ক্ষমতা ১০-১২শতাংশ থেকে ধাপে ধাপে ৩৫-৪০শতাংশে নেওয়া হবে।

পরীক্ষামূলক সংযোগ: সব পরীক্ষা সফল হলে আগস্টের শেষ নাগাদ পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

ডিসেম্বরের লক্ষ্য বনাম বাণিজ্যিক উৎপাদন: সরকারি পরিকল্পনায় প্রথম ইউনিট থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে এক হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ পাওয়ার আশা করা হলেও বিশেষজ্ঞরা একে অতিরিক্ত উচ্চাভিলাষী মনে করছেন।

পরীক্ষামূলক পরিচালনায় চুল্লির ক্ষমতা বারবার বাড়ানো-কমানো এবং প্রয়োজনভেদে বন্ধ রেখে যাচাই করতে হয়। এতে ৭ থেকে ৮ মাস সময় লাগতে পারে। ফলে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক উৎপাদন ২০২৭ সালের প্রথম ভাগে (মার্চ বা এপ্রিলের দিকে) গড়াটাই স্বাভাবিক।

গ্রিডের প্রস্তুতি ও ‘স্পিনিং রিজার্ভ’ ঝুঁকি: বিদ্যুৎ গ্রহণের জন্য জাতীয় সঞ্চালন অবকাঠামো প্রস্তুত বলে জানিয়েছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি। তবে ১,২০০ মেগাওয়াটের বিশাল একটি পারমাণবিক ইউনিট আচমকা বন্ধ হয়ে গেলে গ্রিড ট্রিপ করার ঝুঁকি থাকে।

এই ঘাটতি সামলাতে তাৎক্ষণিক ব্যাকআপ সক্ষমতা বা ‘স্পিনিং রিজার্ভ’ প্রস্তুত রাখা অপরিহার্য। পাশাপাশি গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোকে স্বয়ংক্রিয় ফ্রিকোয়েন্সি নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় সচল রাখা প্রয়োজন, যা দেশে চলমান গ্যাস সংকটের কারণে পিবির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

প্রকল্পের আর্থিক চিত্র ও মেয়াদ বৃদ্ধি: ১২.৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এ প্রকল্পে ১,২০০ মেগাওয়াটের দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর বসানো হচ্ছে। ২০১৭ সালের নভেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু হওয়া এই প্রকল্পের মেয়াদ করোনা মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, বৈশ্বিক লেনদেন জটিলতা ও ডলার সংকটের কারণে বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।

বৈদেশিক মুদ্রায় চুক্তিমূল্য অপরিবর্তিত থাকলেও টাকার অবমূল্যায়নের ফলে প্রকল্প ব্যয় প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকায়। সময়মতো প্রথম ইউনিট চালু না হওয়ায় বছরে আনুমানিক ১০০ কোটি ডলারের জ্বালানি আমদানি সাশ্রয়ের সুযোগও পিছিয়ে গেছে।

বিদ্যুতের দাম ও জ্বালানি চুক্তি: বিদ্যুতের দাম: প্রথম ইউনিটের বিদ্যুতের দাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি। পরীক্ষামূলক উৎপাদন, পরিচালন ব্যয়, জ্বালানি ও ঋণ পরিশোধের হিসাব কষে পিডিবির সঙ্গে এনপিসিবিএলের বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি (PPA) হবে।

জ্বালানি সরবরাহ: রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ‘টিভিএল’ জ্বালানি সরবরাহ করছে। প্রথম ৩ বছরের জ্বালানি মূল চুক্তির অন্তর্ভুক্ত। এক দফা জ্বালানিতে কেন্দ্রটি প্রায় ১৮ মাস চলবে, যার পর এক-তৃতীয়াংশ জ্বালানি বদলাতে সর্বোচ্চ ২ মাস উৎপাদন বন্ধ রাখতে হবে।

রূপপুর প্রকল্পের পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাসান এ বিষয়ে বলেছেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের পর আমরা সফলভাবে প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি লোড করেছি এবং গুরুত্বপূর্ণ ৯০টি পরীক্ষা সম্পন্ন করেছি। এখন বায়েরা চূড়ান্ত পরিদর্শন শেষে লাইসেন্স দিলেই আমরা পরবর্তী ধাপে যেতে প্রস্তুত।

তিনি বলেন, ক্রিটিকালিটি অর্জনের পরও সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে না। আরও চার থেকে ছয় সপ্তাহ বিভিন্ন ধাপের পরীক্ষা ও প্রস্তুতি শেষে উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে। তবে প্রথম ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের একেবারে শেষপর্যায়ে রয়েছে। অন্যদিকে দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণকাজ ৭০ শতাংশের বেশি সম্পন্ন হয়েছে। দ্বিতীয় ইউনিটের কমিশনিংয়ের সময়সূচি প্রথম ইউনিটের তুলনায় প্রায় এক বছর পিছিয়ে থাকবে।

তবে বায়েরা এখনো জানায়নি, কবে নাগাদ বি-২ কমিশনিং লাইসেন্স দেওয়া হবে।

বায়েরার চেয়ারম্যান মো. মাহামুদুল হাসান বলেন, ‘এই পর্যায়ে লাইসেন্স দেওয়া অত্যন্ত জটিল একটি প্রক্রিয়া। প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং সন্তোষজনক ফলাফল নিশ্চিত হওয়ার পরই আমরা লাইসেন্স দেব।’

তিনি বলেন, প্রকল্প আগেই বিলম্বিত হলেও নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে কবে নাগাদ লাইসেন্স দেওয়া হবে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাননি।

রূপপুর প্রকল্পের সাবেক পরিচালক এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. শওকত আকবর বলেন, একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প সফলভাবে কমিশনিং সম্পন্ন করতে বাস্তবায়নকারী সংস্থা, পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, ঠিকাদার ও নকশা প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় অপরিহার্য।

তিনি বলেন, ‘পারমাণবিক প্রকল্পে প্রতিটি সংস্থাকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হয়। সঠিক সমন্বয় নিশ্চিত করতে পারলেই প্রকল্প সফলভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।’


নিখোঁজের ১০ দিন পর ট্রাভেল ব্যাগে মিলল কাস্টমস সিপাহীর ১৫ টুকরো লাশ

আল-আমিন, ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ)
নিহত কাস্টমস সিপাহী আবু রায়হান তালুকদার
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আল-আমিন, ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ)

নিখোঁজের দশ দিন পর বাড়ির পাশে পরিত্যক্ত পুকুর থেকে তিনটি ট্রাভেল ব্যাগে কাস্টমসের সিপাহী আবু রায়হান তালুকদারের লাশের ১৫ টুকরো উদ্বার করেছে পুলিশ।

রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে ফুলবাড়িয়া উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়াইতপুর উত্তর পাড়া গ্রামে নিজ বাড়ির পাশে দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত পুকুর থেকে উদ্ধারকৃত তিনটি ট্রাভেল ব্যাগে খন্ডিত মরদেহ পাওয়া যায়। সে নিখোঁজের তিন দিন পর থেকে তার বাড়ির কেয়ারটেকার রাজু ও তার বন্ধু জিতুল এলাকা ছেড়ে গাঢাকা দিয়েছেন। তারা দুজনেই মাদকাসক্ত।

পুলিশের ভাষ্য, পরিকল্পিতভাবে ৭ থেকে ৮ দিন আগে তাকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর ঘাতকরা তার হাত, পা, মস্তক, কোমড়সহ দেহ ১৫টি অংশ আলাদা করে। পরে তিনটি ট্রাভেল ব্যাগে ভরে বাড়ির পাশে নির্ঝন এলাকায় একটি পরিত্যক্ত পুকুরে ফেলে রাখে। লাশ উদ্ধারের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

সোয়াইতপুর গ্রামের মৃত আবু বকর সিদ্দিক তালুকদারের কনিষ্ঠ পুত্র আবু রায়হান তালুকদার (৪০)। সে বাংলদেশ কাস্টম হাউজ কমলাপুরে সিপাহী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গতকাল সকালে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রায়হানের বাড়িতে যায়। ঘটনা দশ দিন অতিবাহিত ও কেয়ারটেকার পলাতক থাকায় পুলিশের সন্দেহ বাড়ে। বাড়ির আশপাশে ঝোপঝাপড়া, পুকুর ও খাল বিলে খোঁজ নিতে বলেন স্বজনদের। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ফিরে আসার পথিমধ্যে স্থানীয়রা খবর দেয় বাড়ির পূর্ব পাশে একটি পরিত্যক্ত পুকুরে দুটি কালো ও একটি আকাশি রঙের তিনটি ট্রাভেল ব্যাগ ভাসতে দেখা যাচ্ছে। পুলিশ গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তা পুকুর থেকে ব্যাগ তিনটি উপরে উঠালে দুগর্ন্ধ ছড়ায়। খোলার পর ব্যাগের ভেতরে টুকরো টুকরো লাশের খন্ডিত অংশ দেখা যায়।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার সুত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৭ বছর আগে বাংলদেশ কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট দপ্তরে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে যোগদান করেন আবু রায়হান তালুকদার। পদোন্নতি পেয়ে সিপাহী হয়। বর্তমান কর্মরত কাস্টম হাউজ কমলাপুর। গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে নিজ কর্মস্থল থেকে বাড়িতে আসেন আবু রায়হান তালুকদার। বাড়ির কেয়ারটেকার রাজুকে নিয়ে রাতে নিজ ঘরে অবস্থান করছিলেন। পরের দিন শুক্রবার কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার উদ্যেশে বাড়ি থেকে নিয়ে যায় রাজু। দুই দিন পর সোমবার তার অফিসের এক সহকর্মী তার চাচাতো বোন প্রভাষক নাজমুন্নাহার বিউটি কে মোবাইল ফোনে জানান আবু রায়হান অফিসে আসেননি। তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটিও বন্ধ রয়েছে। এরপর থেকে আত্মীয় স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজি শুরু করেন। কোথাও সন্ধান না পেয়ে ২৭ জুলাই রাতে আবু রায়হানের বড় ভাই মো. নূরুল ইসলাম ছোট ভাই নিখোঁজ উল্লেখ করে ফুলবাড়িয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি)করেছেন। পরের দিন জিডির তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে তার কেয়ারটেকার রাজু ও তার বন্ধু জিতুল এলাকা থেকে গা ঢাকা দিয়েছেন। আবু রায়হান তালুকদারের বাড়ি থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূর পার্শ্ববর্তী রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের অনন্তপুর গ্রামের ফজলু মির্জার ছেলে কেয়ারটেকার রাজু। রাজুর বন্ধুদের তথ্যের ভিত্তিতে তার বাড়ির পাশে বাজুয়া নদী থেকে স্থানীয় ডুবুরি দিয়ে গত মঙ্গলবার দুপুরে নিহত রায়হানের বাসার চাবির ছড়া উদ্ধার করে পুলিশ। থানায় জিডি করার ৬ দিন পর গতকাল অর্ধগলিত বিখন্ডিত লাশে মিলল কস্টমসের সিপাহী আবু রায়হানের। ছেলের লাশ পাওয়ার খবরে অশীতিপর মা রাহেলা খাতুন ও স্বজনদের কান্নায় গ্রামের বাতাসে ভেসেছে বেদনার ক্ষত। পরিবারের সবাই বাকরুদ্ধ। কারও সন্তনা তারা মেনে নিতে পারছে না। তাদের প্রশ্ন কি এমন অপরাধ ছিল রায়হানের ? যে নির্মম ভাবে হত্যা করে শরীরের অংশ গুলো টুকরো টুকরো করা হলো ?

পরিবার ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে আরও জানাগেছে, ২০১৬ সালে মাঝামাঝি পাশ^বর্তী আছিম পাটুলী ইউনিয়নের পাটুলী গ্রামে সুরাইয়া আক্তার সাথীকে বিয়ে করেন আবু রায়হান। তাদের ঘরে এক কন্যা সন্তান হয়। গত ৫ বছর আগে সংসার ভেঙে যায়। ৮ বছরের কন্যা রিয়া মায়ের সাথে বসবাস করেন নানার বাড়িতে। ঢাকার কমলাপুরে চাকুরির সুবাদে আবু রায়হান সেখানে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। বয়োবৃদ্ধ মায়ের দেখভাল করতে প্রতি সপ্তাহে ছুটির দিনে বাড়ি চলে আসেন। মায়ের দেখাশুনা ও বাড়ির পাহাড়া দিতে পার্শ্ববর্তী অনন্তপুর গ্রামের দশম শ্রেণির ছাত্র রাজু (১৬) কে বাড়ির পরিচার্যক হিসেবে রাখেন। তাকে মাসিক বেতন ও লেখাপড়ার খরচও দিতেন। গত বৃহস্পতিবার বাড়িতে এসে রায়হান ও রাজু একই ঘরে থাকেন। কথাবার্তায় অন্যদিনের চাইতে একটু অসংলগ্নতা দেখতে পাওয়ার কথা জানান মেঝো ভাইয়ের স্ত্রী জোৎসনা বেগম। পরদিন শুক্রবার কর্মস্থলে যাওয়ার গাড়িতে উঠিয়ে দেওয়ার জন্য পরিচার্যক রাজু ও তার বন্ধু জিতুল বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে নিখোঁজ থাকে কাস্টমসের সিপাহী আবু রায়হান।

নিহতের ভাগ্নে জাহিদুল ইসলাম হৃদয় বলেছেন, রাজু ও জিতুল মিলে আমার মামা রায়হান কে অপহরণ করে হত্যা করেছে। তারা দু’জনেই মাদকাসক্ত। নিখোঁজ থাকার পর মামার ইসলামী ব্যাংকের একাউন্ট থেকে এটি এম কার্ডে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

বড় ভাই নুরুল ইসলাম তালুকদার জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতে আবু রায়হানকে বাড়িতে না পেয়ে রাজুকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানিয়েছে, অফিসের ফোনে জরুরি ঢাকায় যেতে তাকে কাহালগাঁও বাজারে পৌছে দিয়েছেন। তার কথা মধ্যেই ছিল রহস্যতা, কিন্তু বুঝতে পারিনি। আমার সহজ সরল ভাইকে কেন হত্যা করালো ওরা? রাজুর লেখাপড়াসহ সব খরচ দিত রায়হান, রাজু গ্রেপ্তার হলেই সব কিছু বের হয়ে আসবে।

ফুলবাড়িয়া থানার ওসি রাশেদুল হাসান জানান, ঘাতকরা আবু রায়হানকে হত্যার পর লাশ ১৫ টুকরো করে তিনটি ট্রাভেল ব্যাগের ভরে বাড়ির পাশে নির্ঝন এলাকায় একটি পরিত্যক্ত পুকুরে ফেলে রাখে। ধারনা করা হচ্ছে ৭ থেকে ৮ দিন আগে হত্যা করা হয়েছে। লাশের টুকরো গুলো একেবারে পচে গেছে। নিখোঁজের তিন দিন পর থানায় জিডি করেন। এরপর থেকে পুলিশ কাজ করছে। হত্যা কান্ডে জড়িতদের দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করা হবে।

ময়মনসিংহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাল আল মামুন জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে। মরদেহের সুরতহাল করা হয়েছে। সোমবার লাশের ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হবে। কাজ করা হচ্ছে আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে রহস্য উৎঘাটন করা হবে। বাড়ির কেয়ারটেকার বিষয়েও অনুসন্ধান করা হচ্ছে বলে পুলিশের এ কর্মকর্তা জানিয়েছে।


মৌসুমের শেষে সাপাহারের আমের বাজারে কোটি টাকার বেচাকেনা

* ঊর্ধ্বমুখী দামে হাসি ফিরেছে আমচাষিদের মুখে
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সবুজ হোসেন, নওগাঁ

মৌসুম প্রায় শেষের পথে হলেও নওগাঁর সাপাহারের ঐতিহ্যবাহী আমের হাটে এখনো ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড় কমেনি। বাজারে আমের সরবরাহ আগের তুলনায় কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। বর্তমানে প্রতিদিন এই বাজারে প্রায় ৫ থেকে ৭ কোটি টাকার আম কেনাবেচা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভোর থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে চাষিরা ব্যাটারিচালিত ভ্যান ও শ্যালোচালিত যানবাহনে ক্যারেট ভর্তি আম নিয়ে বাজারে আসছেন। তবে মৌসুমের শেষ দিকে আমের পরিমাণ কমে যাওয়ায় প্রতিটি চালান ঘিরেই ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে চলছে দামের তীব্র দর-কষাকষি।

এখন বাজারে মূলত ব্যানানা ম্যাংগো, আশ্বিনা, গৌড়মতি, কাটিমন, বারি-৪ এবং অল্প পরিমাণ আম্রপালি পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে আম্রপালির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। মানভেদে প্রতি মণ আম্রপালি ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ব্যানানা ম্যাংগোর দাম ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা, বারি-৪ চার থেকে আট হাজার টাকা, আশ্বিনা দুই থেকে তিন হাজার টাকা এবং গৌড়মতি ও কাটিমন তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।

স্থানীয় আমচাষিদের ভাষ্য, ‘মৌসুমের শুরুতে অতিরিক্ত গরমের কারণে অধিকাংশ আম নির্ধারিত সময়ের আগেই পেকে যায়। ফলে বাজারে একসঙ্গে প্রচুর আম ওঠায় দাম কমে যায় এবং অনেক কৃষক উৎপাদন খরচ তুলতেও হিমশিম খেয়েছেন। তবে এখন সরবরাহ কমে যাওয়ায় অবশিষ্ট আমের ভালো মূল্য মিলছে।’

আমচাষি জামাল হোসেন বলেন, ‘মৌসুমের শুরুতে বাজারমূল্য আশানুরূপ না থাকায় অনেক কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন। শেষ সময়ে এসে দাম বাড়লেও শুরুতে হওয়া লোকসান পুরোপুরি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি।’

আরেক চাষি লতিফ হোসেন জানান, তার আড়াই বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের আমের বাগান রয়েছে। মৌসুমের শুরুতে আম্রপালির ভালো দাম না পেলেও বর্তমানে বারি-৪ জাতের আম বিক্রি করে সন্তোষজনক মূল্য পাচ্ছেন।

সাপাহার আম ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন রিফাত বলেন, ‘বর্তমানে নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ ছাড়া দেশের অন্য কোথাও তেমন আম নেই। বাজারে আমের সরবরাহ আরও কমলে দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং এর সুফল পাচ্ছেন কৃষকরা।’

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনজুর রহমান বলেন, ‘বরেন্দ্র অঞ্চলের মাটির বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে নওগাঁর আমের স্বাদ ও গুণগত মান আলাদা। তাই কৃষকদের লেট ভ্যারাইটি আমের চাষে উৎসাহিত করতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যাতে মৌসুমের শেষভাগেও তারা লাভজনক দামে আম বিক্রি করতে পারেন।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, চলতি মৌসুমে নওগাঁ জেলায় ৩০ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৮৭ হাজার ২৩৫ টন। এ বছর আমকে কেন্দ্র করে জেলায় প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য হওয়ার আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।


মশার জন্মস্থান চিহিৃত করে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে

জেলা তথ্য অফিসের আরসিসিই সভায় জেলা প্রশাসক
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পিরোজপুর প্রতিনিধি

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা অভিযানকে আরও জোরদার করতে সরকারের সকল দপ্তরগুলোর প্রতি নির্দেশনা দিয়েছেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ। তিনি বলেন, ‘শুধু নিজের বাড়ি বা অফিস আঙিনা না, যার যার কাজের আওতাধীন জমিতে বা রাস্তায় অথবা কর্মপরিবেশে পানি জমে মশার জন্ম হতে পারে এমন সম্ভাব্য জায়গার জেলাব্যাপী পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন করে দ্রুত পরিচ্ছন্নতা শুরু করতে হবে।’

‎‎তিনি রোববার (২ আগস্ট) পিরোজপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের শহীদ আবদুর রাজ্জাক সাইফ মিজান স্মৃতি সভাকক্ষে ‘রিস্ক কমিউনিকেশন অ্যান্ড কমিউনিটি এনগেজমেন্ট’ সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এই নির্দেশনা দেন। ইউনিসেফের সহযোগিতায় ডেঙ্গু মোকাবিলায় তিন মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেলা তথ্য অফিস এই সভার আয়োজন করে।‎

‎জেলা তথ্য অফিসের উপপরিচালক পরীক্ষিৎ চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন, জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. মতিউর রহমান, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মাহমুদুর রজমান মামুন বক্তৃতা করেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, তথ্য অফিসার সাইফুদ্দিন আল মাদানি।

‎জেলা প্রশাসক বলেন, ‘জমে থাকা পানি সরিয়ে ফেলার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর। প্রয়োজনে তারা আওতাধীন কমিউনিটিকে সাথে নিয়ে এই কাজটি করবে। এ কাজে গাফিলতি করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ সরকারি জলাশয় বা পুকুরসহ যেকোনো হটস্পট চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘সারা জেলার তথ্য দিয়ে তালিকা তৈরিতে জেলা প্রশাসনকে সহায়তা করতে হবে। তালিকা তৈরিতে জেলাব্যাপী কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীদেরও সহযোগিতা কামনা করেন জেলা প্রশাসক। পাশাপাশি তিনি মশকনিধন কার্যক্রমকে আরও জোরদার করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেন।’

‎সভায় জেলার বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানসহ জেলা প্রেসক্লাবের সাংবাদিক ও জেলা তথ্য অফিসের পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির সহায়ক যুবক গ্রুপ বিডি ক্লিনের সমন্বয়ক অংশগ্রহণ করেন।

‎পিরোজপুর জেলায় গতকাল রোববার পর্যন্ত ১ হাজার ৭৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগি শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৫১২, ভান্ডারিয়ায় ১৯৫, নেছারাবাদে ১৮৭ জন।‎


সাবেক মন্ত্রী হারুনার রশিদ খান মুন্নুর স্মরণে সাটুরিয়ায় দোয়া মাহফিল

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বরাইদ ইউনিয়নের বড় পয়লা বায়তুন নূর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদসংলগ্ন প্রাঙ্গণে সাবেক মন্ত্রী, শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক ও বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মানিকগঞ্জ -৩ আসনের সাবেক এমপি এবং বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতার পিতা হারুনার রশিদ খান মুন্নুর ৯ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রোববার (২ আগস্ট) স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এতে সিঙ্গাপুর বিএনপি (মানিকগঞ্জ শাখার) সভাপতি ও সাটুরিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক মাহবুবুর রহমানের সার্বিক সহযোগিতায়, বরাইদ ইউনিয়ন বিএনপি ও এর অঙ্গসহযোগী সংগঠন ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাটুরিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রহমান, সাটুরিয়া উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি মো. বরকত মল্লিক, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আমীর হামজা, সদস্য সচিব ফরিদ হোসেন, সাটুরিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক সাদ্দাম হোসেনসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ এবং সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ‘মরহুম হারুনার রশিদ খান মুন্নু ছিলেন আদর্শ, সততা ও ত্যাগের রাজনীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। রাজনৈতিক জীবনে তিনি ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। দলকে সুসংগঠিত করার পাশাপাশি শিক্ষা বিস্তার, সামাজিক সম্প্রীতি ও মানবকল্যাণে তার অবদান আজও এলাকাবাসীর কাছে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয়। তিনি সবসময় সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গী ছিলেন এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে নিজের দায়িত্ব মনে করতেন। তাঁর কর্মময় জীবন, নেতৃত্বগুণ ও মানবিক মূল্যবোধ আগামী প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। তার দেখানো আদর্শ ও নীতিকে ধারণ করে দেশ, সমাজ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান বক্তারা।

পরে গোপালপুর হাফেজিয়া ফুরকানিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দুল্লাহ আল হেলালীর পরিচালনায় মরহুম হারুনার রশিদ খান মুন্নুর রুহের মাগফিরাত, দেশ ও জাতির শান্তি এবং সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সবার মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়।


খুলনার লবণচরায় দুই বিদেশি পিস্তলসহ ৩ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানার রায়পাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুটি বিদেশি পিস্তল, সাত রাউন্ড তাজা গুলি ও নগদ ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩০০ টাকাসহ কথিত শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রুপ ‘বি কোম্পানির’ তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৬, সিপিসি স্পেশাল কোম্পানি।

রোববার (২ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয় মো. ইলিয়াস সরদার (৪২), মো. সুজন (৩৮) ও মো. নান্না বেপারিকে (৫৭) ।

র‍্যাব জানায়, নান্না বেপারির বসতবাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ইলিয়াস ও সুজনের হেফাজত থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, সাত রাউন্ড গুলি এবং নগদ ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

র‍্যাবের দাবি, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে কেএমপি, পিরোজপুর ও বরগুনা জেলায় হত্যাচেষ্টা, মাদক ও চুরিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন এবং মামলা শেষে লবণচরা থানায় হস্তান্তর করা হবে।


কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশন লিজের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে প্রতিমন্ত্রী

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

কক্সবাজার আইকনিক রেলওয়ে স্টেশন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় (লিজের মাধ্যমে) পরিচালনার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে দুই দিনের সফরে কক্সবাজারে এসেছেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। সফরের অংশ হিসেবে তিনি কক্সবাজার রেলপথের বিভিন্ন স্টেশন ঘুরে দেখছেন এবং যাত্রীসেবা, নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত সুবিধা মূল্যায়ন করছেন।

গত শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে চকরিয়ায় তমা কনস্ট্রাকশনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা করা হলে এর কার্যকারিতা, যাত্রীসেবার মান এবং আর্থিক সম্ভাবনা কেমন হবে, সেটিই মূলত যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রগুলোও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘রেলপথ শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, পরিবেশ সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতে ভূমির অন্তত ২৫ শতাংশ বনাঞ্চল থাকা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে রেলপথ-সংলগ্ন এলাকায় সবুজায়ন কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।’

প্রতিমন্ত্রী জানান, দোহাজারী-কক্সবাজার ১০২ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণকালে প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার গাছ অপসারণ করা হয়েছিল। এর পরিবর্তে যেসব গাছ রোপণ করা হয়েছে, সেগুলোর বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করা হবে। একই সঙ্গে নতুন করে কোথায় বৃক্ষরোপণ করা যায়, তাও নির্ধারণ করা হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “চকরিয়াসহ দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের মানুষের যাতায়াত আরও সহজ করতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ‘মহানগর এক্সপ্রেস’ নামে আরও এক জোড়া ট্রেন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এটি চালু হলে চকরিয়ার যাত্রীরা সহজেই চট্টগ্রামে গিয়ে ঢাকাগামী ট্রেনের সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারবেন।”

নিরাপত্তা ও যাত্রীসেবার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘চকরিয়া, ডুলাহাজারা ও হারবাংসহ বিভিন্ন স্টেশনে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, সিসিটিভি এবং রেলওয়ে পুলিশের টহল জোরদার করা প্রয়োজন। এসব বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) সবুক্তগীন মাহমুদ, কক্সবাজার রেল প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) এরশাদুল হক এবং তমা কনস্ট্রাকশনের প্রকল্প পরিচালক বিমল সাহা।


ভোলায় মৃত শিক্ষকের ইনডেক্সে বেতন, জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

তজুমদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অফিস সহকারী ও উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মো. মহিউদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ইউসুফ হোসেন অনিক, ভোলা

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার একটি দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক ও উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার বিরুদ্ধে একই নামের এক মৃত শিক্ষকের ইনডেক্স নম্বর ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে দীর্ঘদিন সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, তিনি বিধিবহির্ভূতভাবে শিক্ষক পদে নিয়োগ পেয়েছেন। এ ঘটনায় মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের সুপার মো. নুরুজ্জামান। তবে অভিযুক্ত শিক্ষক সব অভিযোগ অস্বীকার করে এটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।

‎‎অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তজুমদ্দিন উপজেলার মোহাম্মদ ভেলা ওমরিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ১৯৯৪ সালের ১৩ মার্চ মো. মহিউদ্দিন নামে এক ব্যক্তি জুনিয়র শিক্ষক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। তার ইনডেক্স নম্বর ছিল ৩৬৪৭৭৬ এবং ব্যাংক হিসাব নম্বর ৪৬০৬। পরবর্তীতে ওই শিক্ষকের মৃত্যু হলে পদটি শূন্য হয়ে যায়।

‎‎মাদ্রাসা সুপারের অভিযোগ অনুযায়ী, তজুমদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অফিস সহকারী ও উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মো. মহিউদ্দিন (পিতা আছমত আলী মহাজন) ২০০৬ সালের ৭ অক্টোবর সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। তার নিজস্ব ইনডেক্স নম্বর ৬০২৭৮২ এবং ব্যাংক হিসাব নম্বর ৪৫৭৭। কিন্তু নামের মিল থাকার সুযোগে তিনি মৃত শিক্ষকের ইনডেক্স ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে সরকারি অর্থ উত্তোলনের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করে আসছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।‎

‎লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ২০০৫ সালে শিক্ষক নিবন্ধন ব্যবস্থা চালুর পরও তথ্য গোপন করে ২০০৬ সালে বিধিবহির্ভূতভাবে নিয়োগ নেওয়া হয়। পাশাপাশি সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হলেও জুনিয়র শিক্ষক পদের বেতন-ভাতা ভোগ করার অভিযোগও তোলা হয়েছে। অভিযোগকারী দাবি করেন, ২০০৭ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এমপিওসংক্রান্ত নথিতে অভিযুক্ত শিক্ষকের ইনডেক্স নম্বরের বিপরীতে মৃত শিক্ষকের ব্যাংক হিসাব নম্বর ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে।‎

‎তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আমি কোনো তথ্য গোপন করিনি। বেতন ইস্যুর দায়িত্ব মাদ্রাসা সুপার ও পরিচালনা কমিটির সভাপতির। তাদের অনুমোদন ছাড়া কোনো অর্থ উত্তোলন সম্ভব নয়।’

‎‎তিনি আরও দাবি করেন, ২০১৮ সালে বিষয়টির সমাধানের কথা বলে মাদ্রাসা সুপার তার কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা নিয়েছিলেন। পরে সেই টাকা ফেরত চাইলে তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলা শুরু হয়।

‎‎অন্যদিকে মাদ্রাসা সুপার মো. নুরুজ্জামান অর্থ গ্রহণের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘মাদ্রাসার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিষয়টি আমার নজরে আসে। বিভিন্ন কারণে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। বর্তমানে বিষয়টি লিখিতভাবে শিক্ষা বোর্ডকে জানানো হয়েছে।’

‎‎এ বিষয়ে তজুমদ্দিন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।’

‎‎জামায়াতে ইসলামীর ভোলা জেলা শাখার সেক্রেটারি কাজী মাওলানা হারুনুর রশিদ বলেন, ‘অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারির বিরুদ্ধে সাংগঠনিক তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনায় মাদ্রাসা সুপারের সম্পৃক্ততার অভিযোগও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।‎

‎ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিযোগের সত্যতা নিরূপণে প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা।


চাঁদপুরে কোস্ট গার্ডের মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ ও আহরণ বিষয়ক জনসচেতনতামূলক সভা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দেশের উপকূলীয় ও নদী তীরবর্তী অঞ্চলে জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি এসকল এলাকার জেলে ও স্থানীয় জনগণের কল্যাণে বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

রবিবার (০২ আগস্ট) বিকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

এরই ধারাবাহিকতায়, রবিবার (২ আগস্ট) সকাল ১১ টায় কোস্ট গার্ড স্টেশন চাঁদপুর কর্তৃক চাঁদপুরের মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদী সংলগ্ন এলাকায় মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ, অবৈধ মৎস্য আহরণ প্রতিরোধ এবং মৎস্যজীবীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

আলোচনা সভায় দেশের মৎস্য সম্পদের গুরুত্ব, অবৈধ ও নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার বন্ধ, প্রজনন মৌসুমে মাছ আহরণ থেকে বিরত থাকা, নদী ও জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং টেকসই মৎস্য আহরণ ব্যবস্থাপনার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এসময় স্থানীয় জেলেদের বিভিন্ন মতামত ও সমস্যার কথা শোনা হয় এবং মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণে কোস্ট গার্ড ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করা হয়।

উক্ত আলোচনা সভায় কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ডিএফও), উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, মৎস্য অধিদপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তা, স্থানীয় মৎস্যজীবী সমিতির প্রতিনিধি এবং জেলে সম্প্রদায়ের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।

তিনি আরও বলেন, দেশের মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ, অবৈধ মৎস্য আহরণ প্রতিরোধ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।


ডিএনসিসির প্রশাসক ও এমপি জাহাঙ্গীরের পরিদর্শনের সময় হামলা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর উত্তরখানে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর হওয়া হামলার স্থান পরিদর্শনে গিয়ে পুনরায় হামলার শিকার হয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান এবং ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন।

রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে উত্তরখানের রাজাবাড়ি এলাকার অস্থায়ী বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রে (এসটিএস) এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে এক মালিকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

ডিএনসিসির জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সকালে এসটিএসে কর্মরত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মীদের ওপর ‘নেপচুন অ্যাকসেসরিজ’ নামের একটি পোশাক কারখানার মালিকপক্ষের লোকজন অতর্কিত হামলা চালায়।

এতে ১৫ থেকে ২০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী আহত হন, যাদের মধ্যে গুরুতর চারজনকে উত্তরের কুয়েত–বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সকালে ঘটা এই ঘটনার কারণ জানতে ও এলাকাটি পর্যবেক্ষণ করতে বিকেলে ডিএনসিসি প্রশাসক, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পুলিশ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তির দাবি অনুযায়ী, প্রশাসক ও সংসদ সদস্য যখন সংশ্লিষ্টদের কাছে সকালে সংঘটিত হামলার জবাবদিহি চাচ্ছিলেন, তখন পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে কারখানার মালিকপক্ষের ভাড়াটে বাহিনী তাঁদের উপস্থিতিতেই পুনরায় হামলা চালায়।

পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং জড়িত তিনজনকে আটক করে। এই হামলার পর প্রশাসক ও সংসদ সদস্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দেখতে যান এবং এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।


নীলফামারীতে মদিনা ডায়াগনস্টিক ক্লিনিক এন্ড কনসালটেশনের ১০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের উদ্বোধন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাসির উদ্দিন শাহ মিলন, নীলফামারী

নীলফামারীতে মদিনা ডায়াগনস্টিক ক্লিনিক এন্ড কনসালটেশনের ১০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের শুভ উদ্বোধন হয়েছে।‌ রবিবার (২ আগষ্ট) নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের নিকটে নতুন এই হাসপাতালের উদ্বোধন করেন নীলফামারী-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. আলফারুক আব্দুল লতিফ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামিমা সুলতানা লিনা, অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট ডা. আতিয়ার রহমান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (অব.) ডা. মো. আব্দুল মজিদ, নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনি ও অবস্) ডা. মনিরুজ্জামান মনি, মদিনা ডায়াগনস্টিক ক্লিনিক এন্ড কনসালটেশনের মেডিকেল অফিসার ডা. জাইরিন তাবাচ্ছুমসহ আরো অনেকে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য আলফারুক আব্দুল লতিফ বলেন, “নীলফামারীর মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলোকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। মদিনা ডায়াগনস্টিক ক্লিনিক অ্যান্ড কনসালটেশনের নতুন এ হাসপাতাল নীলফামারীর মানুষের চিকিৎসাসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করি।”

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।‌ এসময় সংসদ সদস্য নিজেই হাসপাতালটি সফলতা কামনায় দোয়া পরিচালনা করেন।


জীর্ণ ভবনে চলছে এতিমদের শিক্ষা ঝুঁকিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা

ক্যাপশন লামা উপজেলার রুপসীপাড়া ইসলামিয়া এতিমখানার জরাজীর্ণ টিনের ঘরের একাংশ। ছবি : দৈনিক বাংলা।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নুর মোহাম্মদ মিন্টু, লামা (বান্দরবান)

বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি জনপদ ‘রুপসীপাড়া ইউনিয়ন’। এই ইউনিয়নে নিভৃতে দ্বীনি আলো ছড়াচ্ছে রুপসীপাড়া ইসলামিয়া এতিমখানা নামের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় এক জান্নাতি টুকরো, যেখান থেকে ভেসে আসে পবিত্র কুরআনের সুর। কিন্তু ভেতরের গল্পটা অনেক কষ্টের, বুক ফাটানো কান্না আর চরম অবহেলার। নিয়তির নির্মম পরিহাসে এখানে অসহায় ও নিরাশ্রয় শিশুরা সার্বক্ষণিক পড়ালেখা করছে। যাদের মাথার ওপর ছাদ বলতে এই জরাজীর্ণ টিনের ঘরটি। প্রতিদিন কেমলমতি ৪৫ জন চির-এতিম দরিদ্র শিশু শিক্ষার্থী লড়াই করছে বেঁচে থাকার ও মানুষ হওয়ার ন্যূনতম অধিকারের জন্য।

এছাড়া সীমানা প্রাচীর না থাকায় নিরাপত্তাহীন পড়ে আছে এসব কোমলমতি শিশুরা। গত ১৮ বছর স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের শরণাপন্ন হয়েও সংকটের কোনো সমাধান পায়নি মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। এই অবস্থায় এতিমদের শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত পাকা ভবনসহ অন্যান্য সংকট নিরসনে সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতার আহবান জানিয়েছেন অভিভাবক ও এলাকাবাসী।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রুপসীপাড়া ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষের দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস। এ ইউনিয়নে দ্বীনি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে উদ্যোগ নেন- পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল জলিল, স্থানীয় মুরুব্বী আবু বক্কর ছিদ্দিক ও আব্দুস ছত্তার ফরাজী। তারা ১৯৯১ সালের দিকে টিনের ছাউনি-টিনের বেড়ার দুই কক্ষ বিশিষ্ট এই এতিমখানা স্থাপন করেন। ১৯৯৩ সালে এতিমখানা সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক নিবন্ধনের পর ক্যাপিটেশন এন্ড গ্রান্ড প্রাপ্ত হয়। শুরুতে এতিমের সংখ্যা কম থাকলেও বর্তমানে ৪৫ জন শিশু অধ্যয়নরত আছে। এদের মধ্যে কারো মা নেই, কারো বাবা নেই, আবার কারো কারো মা-বাবা কেউ বেঁচে নেই।

এ এতিমখানায় ক্যাপিটেশন এন্ড গ্রান্ডর সুযোগ সুবিধা পায় মাত্র ১৮ জন, অন্যরা পাচ্ছে না এখনো কোন সরকারি সুবিধা। মাত্র ২ জন শিক্ষক নিয়ে চলছে হেফজ ও নূরানী শিক্ষা কার্যক্রম। সীমানা প্রাচীর না থাকায় এতিমখানাটি জায়গা বেদখলের পাশাপাশি নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে এতিমখানায় অধ্যয়নরত শিশুরা।

এ সময় শিক্ষার্থী হানজেলা, আলী হাছান ও সাইফুল এক সূরে বলেন, আমাদের এতিমখানাটির অবস্থা খুবই জরাজীর্ণ। টিনের বেড়া ছিদ্র হয়ে গেছে। রাতে ঘুমাতে ভয় লাগে, কারণ ছিদ্র দিয়ে সাপ ব্যাঙ ঢুকে পড়ে। আর বৃষ্টি হলে ত ঘুমাইতে পারি না। কখন সাপ ব্যাঙ বেশি ঢুকে আর। ছাউনির টিন ছিদ্র হওয়ায় বর্ষায় বৃষ্টির পানিও পড়ে। তাই আমরা সরকারের কাছে পাকা ভবন চাই, একটু নিশ্চিন্তে ঘুমাতে চাই।

৪৫ জনের মধ্যে মাত্র ১৮ জন ক্যাপিটেশন এন্ড গ্রান্ড সুবিধায় পেলেও বাকী ২৭ জনের দুই মুঠো অন্ন যোগাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। মাদরাসা পরিচালনা কমিটির। তাই পাঠদান স্বাভাবিক রাখতে একটি একাডেমিক ভবন ও বাকি ২৭ জন শিক্ষার্থীর ক্যাপিটেশন এন্ড গ্রান্ড খুবই প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

এতিমখানা পরিচালনা কমিটির আলী হোসেনসহ শিক্ষকরা জানান, আমরা বুক চাপা কষ্ট নিয়ে এই জরাজীর্ণ ঘরেই বাচ্চাদের দ্বীনি শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছি। সরকারি বা বেসরকারি বড় কোনো অনুদান ছাড়া এই অসহায় শিশুদের মুখে একটু হাসি ফোটানো আমাদের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না।

এতিমখানা পরিচালনা কমিটির সভাপতি শাখাওয়াতুল ইসলাম বলেন, ১৯৯১ সালের দিকে ইউনিয়ন সদরের তিন কিলোমিটারের মধ্যে কোনো মাদরাসা ছিল না। এ কারণে এলাকার স্বার্থে আমার বাবা আব্দুল জলিলসহ অন্য মুরুব্বীরা এই এতিমখানাটি গড়ে তুলেছিলেন। মাত্র ২ কক্ষের একটি টিনশেড ঘর দিয়ে যাত্রা শুরু হয়। প্রথম দিকে সমস্যা না হলেও মাদরাসা উন্নীত হওয়ার পর থেকে শিক্ষার্থী বৃদ্ধি পাওয়ায় আসনের চাহিদা বেড়েছে। গত ১৮ বছর ধরে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের দ্বারে দ্বারে গিয়েও এতিমখানার জন্য একটি পাকা ভবন বরাদ্দ পাইনি। তাই এতিমখানার ভবন, সীমানা প্রাচীর ও ২৭ শিশুর জন্য সমাজ সেবা অধিদপ্তর কর্তৃক ক্যাপিটেশন এন্ড গ্রান্ড লাভে এমপি রাজপুত্র সাচিংপ্রু জেরী, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলাসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।

এ বিষয়ে রুপসীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহা আলম জানান, এতিমখানায় দিন দিন শিক্ষার্থী বাড়লেও সুযোগ-সুবিধা বাড়ছে না। বরং দিন দিন নানামুখী সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে এটি। বিশেষ করে স্বল্প জায়গায় গাদাগাদি করে বসে ক্লাস করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। টিনের ছাউনি ও বেড়া জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। যে কোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই জরুরিভাবে এতিমখানাটির সীমানা প্রাচীরসহ একটি পাকা ভবন দরকার।


লালমনিরহাটে  ‘হাজি সমাবেশ’ ও উমরাহ বুকিং কার্যক্রমের উদ্বোধন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
​লালমনিরহাট প্রতিনিধি

পবিত্র হজ ও উমরার নতুন মৌসুমকে স্বাগত জানাতে লালমনিরহাটে উৎসবমুখর ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো এক অনন্য ‘হাজি সমাবেশ’। সোহেল রানা ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেল্স এবং সানফাইন ট্রাভেল্স ইন্টারন্যাশনাল (লাইসেন্স নং- ১২৪৩)-এর যৌথ উদ্যোগে রোববার (২ আগস্ট) আয়োজিত সমাবেশ থেকে হজ ও উমরাহ গমনেচ্ছু ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য শুভ বুকিং কার্যক্রমেরও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়।

​লালমনিরহাট জেলা পরিষদের পুরাতন মিলনায়তনে আয়োজিত এই জমকালো সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এ. কে. এম. মমিনুল হক।

​প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ. কে. এম. মমিনুল হক বলেন, ‘আল্লাহর ঘর তওয়াফ ও প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজা মোবারক জিয়ারত করা প্রতিটি সামর্থ্যবান মুসলমানের আজীবনের লালিত স্বপ্ন। পবিত্র এই সফর যেন হাজিদের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হয়, সেদিকে ট্রাভেল এজেন্সিগুলোকে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সাথে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।’

​সভাপতির বক্তব্যে সোহেল রানা ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ মো. সোহেল রানা বলেন, ​‘পবিত্র হজ ও উমরাহ পালন কোনো সাধারণ ভ্রমণ নয়, এটি এক পরম ইবাদত। আল্লাহর মেহমানদের সেবা দেওয়া আমাদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র দায়িত্ব। সুন্নাহ অনুযায়ী সঠিক নিয়ম-কানুন মেনে এবং হজযাত্রীদের সর্বোচ্চ আবাসন, যাতায়াত ও সার্বিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে আমাদের প্রতিষ্ঠান সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। হাজিদের মুখে হাঁসি ও সন্তুষ্টিই আমাদের সেরা অর্জন।’

​সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, সোহেল রানা ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেল্স লালমনিরহাট জেলার প্রতিনিধি ও কর্মসূচির আহ্বায়ক মো. আব্দুল আউয়াল (রফিক)। এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আনসার ও ভিডিপি ব্যাংক, লালমনিরহাট শাখার ব্যবস্থাপক খন্দকার সমু।

​অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে উপস্থিত হজ ও উমরাহ গমনেচ্ছুদের মাঝে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয় এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে নতুন মৌসুমের বুকিং গ্রহণ করা হয়। পরিশেষে দেশ, জাতি এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে এক আবেগঘন বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।


banner close