শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

আজমিরীগঞ্জ উপজেলা অ্যাসোসিয়েশনের সংবর্ধনা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২ এপ্রিল, ২০২৪ ১৯:৪৬

আজমিরীগঞ্জ উপজেলা অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আজমিরীগঞ্জ-বানিয়চংয়ের নব-নির্বাচিত এমপি ময়েজ উদ্দিন শরীফকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে এ উপলক্ষে এক ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। গত সোমবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের হল রুমে মাহফিলটি অনুষ্ঠিত হয়।

অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জয়ন্ত কুমার দেবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংবর্ধিত প্রধান অতিথি ময়েজ উদ্দিন শরীফ (এমপি)। তিনি বলেন, ‘ভাটির মানুষ আমারা ঐক্যবদ্ধ থাকলে অনেক কিছু করা সম্ভব।’ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ শত শত লোকের উপস্থিতি দেখে তিনি বলেন, ‘আমার আজমিরীগঞ্জকে আমি ঢাকায় দেখতে পাচ্ছি।’ তিনি সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে আজমিরীগঞ্জের উন্নয়ন ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করার আহবান জানান।

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার উন্নয়নের জন্য যে সকল প্রকল্প দেয় বা উন্নয়নের জন্য কোন খাতে কত টাকা দেয় সেটা দেখার অধিকার জনগণের আছে।’ তাই তিনি যত সরকারি অনুদান পাবেন সমস্ত কিছু অনলাইনে প্রকাশ করবেন। ইতি মধ্যে তিনি সেটা শুরু করে দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ জেলা অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান তরফদার এবং সাধারণ সম্পাদক সৈদয় শাহ এমরান।

অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি জয়ন্ত কুমার দেব বলেন, ‘মানুষ হিসেবে সমাজে আমাদের অনেক দায়বদ্ধতা আছে। এই দায়বদ্ধতা থেকেই সামাজিক সংগঠন করে। সেবামূলক কাজ, আর্তমানবতার সেবায় আমরা আমাদের সাধ্য মতো চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে শীতে দরিদ্র মানুষের সেবা দিয়ে থাকি, চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকি, শিক্ষায় সেবা দিয়ে থাকি। চক্ষু চিকিৎসায় আমরা ছানি অপারেশনসহ নানা রকম সেবা সারা বছরই দিয়ে থাকি। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এসব কাজ করতে করে যাচ্ছি।’ সংবর্ধনা সভায় এবং ইতফারে উপস্থিত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

সভায় উদ্বেধনী বক্তব্যে দেন সংগঠনে সহ-সভাপতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং সংবর্ধনা ও ইফতার মাহফিল বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক আলফাজ উদ্দিন চৌধুরী। অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. আব্দর রব।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব শোয়াইব আহমাদ খান ও সাইফুল হক চৌধুরী, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও চিকিৎসক সাখাওয়াত হাসান জীবন, বিশিষ্ট গাইনী চিকিৎসক ডাক্তার অমল কুমার রায়, অধ্যাপক ডা. শাহীন রেজা চৌধুরী, সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য নাজমুল হাসান, সংগঠনের সহ-সভাপতি মো. মুছা খান, হবিগঞ্জ এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি আব্দুল আওয়াল বারী ও জাহাঙ্গীর আলম ভূইয়া, সিলেট বিভাগ যোগাযোগ ও উন্নয়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কুতুব উদ্দিন সোহেল, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা খান মোহাম্মদ বাচ্চু। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহ-সভাপতি কৃষিবিদ নীল রতন দাস, অর্থ সম্পাদক বিভাস চক্রবর্তী সজল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম, সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. শাহীন মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আনিছুল ইসলাম জুয়েল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহ আলম, শিক্ষা ও ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মো. মারুফ হোসেন, ছাত্রনেতা ফাহিম চৌধুরী।

ইতফার মাহফিল শেষে সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা সংসদ সদস্য ময়েজ উদ্দিন শরীফকে সম্মাননা ক্রেস্ট এবং ঈদসামগ্রী উপহার তুলে দেন।


নির্বাচিত

এখন মানুষ সহযোগিতা করছে সময় গেলে জবাবদিহি চাইবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

‘এখন মানুষ সহযোগিতা করছে, সময় গেলে জবাবদিহি চাইবে’ বলে মন্তব্য করে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, ৫ মাস হয়েছে আমরা (বিএনপি) এসেছি। যখন এক-দেড় বছর যাবে, মানুষ আমাদের কাছে জবাবদিহিতা আশা করবে। এখন কিন্তু সাধারণ মানুষ আমাদেরকে প্রশ্ন করে না। এখন উনারা আমাদেরকে সহযোগিতা করছেন, কাজটা শুরু করার জন্য। কিন্তু সময় যেতে বেশিক্ষণ লাগে না।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার লামচরি জামে মসজিদ কমিটির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, আমরা সবাই আশা করেছিলাম, সরকারই থাকুক আমাদের দাবির প্রতি সবাই সম্মান দেবে। নির্বাচনের এক মাসের মাথায় আমরা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে কাজ শুরু করেছি। অনেকেই বলতে পারেন এটি দীর্ঘদিনের প্ল্যান ছিল। প্ল্যানতো অনেক কিছুই থাকে, স্বপ্ন অনেক কিছুই থাকে। কিন্তু বাস্তবায়নটা কোথায় আটকে আছে, সেটাকে ঠিক করে সেই কাজটাকে দৃশ্যমান করে নিয়ে আসা সেটাই আসল ব্যাপার। সেজন্য প্রধানমন্ত্রী লক্ষ্মীপুরবাসীর প্রতি খুবই আন্তরিকতা দেখিয়েছেন।

এ সময় বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক সাহাব উদ্দিন সাবু, লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ ইউছুফ, কমলনগর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ সামছুল আলম, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান, টুমচর ইসলামিয়া কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ হারুন আল মাদানি ও রামগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর হুমায়ুন কবির প্রমুখ।


নির্বাচিত

বাজারে অস্বস্তি বাড়াচ্ছে সবজি, বেশি কাঁচামরিচে

* মাসের ব্যবধানে দাম বেড়ে তিনগুণ * প্রতিটি সবজির কেজি শতকের ঘর ছুঁয়েছে * মাছ-মাংস আগের দামেই স্থিতিশীল
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

টানা বর্ষণ আর বৈরী আবহাওয়ার জেরে সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়েছে কাঁচা বাজারে। বাজারে সবচেয়ে বেশি অস্বস্তি ছড়াচ্ছে রান্নার অন্যতম প্রয়োজনীয় উপাদান কাঁচামরিচ। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যের দাম বেড়ে পৌঁছেছে প্রায় তিনগুণে।

রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত চার সপ্তাহ আগে যে কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, বর্তমানে সেই মরিচ কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ২৪০ টাকা পর্যন্ত।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর ব্যস্ততম কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল ও রায়সাহেব বাজার সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায়, মানভেদে কাঁচামরিচ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৪০ টাকার মধ্যে। অথচ গত সপ্তাহেও রাজধানীর বাজারগুলোতে মরিচের কেজি ছিল ১২০ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে দাম দ্বিগুণ হয়েছে, আর চার সপ্তাহের হিসাবে তা তিনগুণ ছাড়িয়েছে।

মরিচের সঙ্গে লাগামহীনভাবে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বেগুনের দামও। গত সপ্তাহে যে বেগুন ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছিল, চলতি সপ্তাহে তা একলাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫০ টাকায়।

কাঁচা বাজারের সার্বিক চিত্র পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, বাজারে দুয়েকটি পণ্য ছাড়া প্রায় প্রতিটি সবজির কেজি এখন শতকের ঘর ছুঁয়েছে বা তার ওপরে উঠে গেছে। বর্তমানে বাজারে উচ্ছে প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, পটোল ৮০, ঢ্যাঁড়স ১০০, ঝিঙা ১০০, চিচিঙ্গা ৮০-১০০, শসা ১২০-১৩০ এবং গাজর ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

গ্রীষ্মকালীন সবজির মধ্যে কাঁকরোল ৯০-১০০, এ ছাড়া পাকা টমেটো ১২০-১৪০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। লাউ বিক্রি হচ্ছে ৮০-৯০ টাকায়।

গত সপ্তাহের বাজারদরের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, এসব সবজির দাম কেজিপ্রতি গড়ে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে কাঁচা পেঁপে মিলছে কিছুটা কম দামেই, প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। এ ছাড়া মিষ্টি কুমড়া প্রতি পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকা, চাল কুমড়া ৬০-৮০ এবং কাঁচা কলা প্রতি হালি ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে সবজির বাজার অস্থিতিশীল থাকলেও মাংস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্য পণ্যের বাজার মোটামুটি আগের অবস্থাতেই রয়েছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, গরুর মাংস প্রতি কেজি ৮৫০ এবং খাসির মাংস ১২০০ টাকায় স্থির রয়েছে। পোলট্রি পণ্যের মধ্যে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ ও কক মুরগি ৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর নিত্যপ্রয়োজনীয় আলু প্রতি কেজি ৪০ এবং পেঁয়াজ মানভেদে ৫০-৬০ টাকা কেজিতে খুচরা বাজারে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

বাজারের এই ঊর্ধ্বমুখী দামে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। প্রতিদিনের মতো কারওয়ান বাজারে কেনাকাটা করতে আসা মধ্যবিত্ত ক্রেতা মো. রফিক আফসোস প্রকাশ করে জানালেন, বাজারে এলে কোনো না কোনো পণ্যের দাম বাড়ানো অবস্থায় পাওয়া যায়। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকাই কঠিন হয়ে পড়বে। বাজারে চড়া দামে কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে। তাও আবার সেগুলোর মান ভালো না।

‘কিছুদিন আগেও যেসব সবজি ৭০-৮০ টাকায় কিনেছি, সেগুলো এখন ১০০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। ভাজি করে খাওয়ার জন্য একটি বেগুন নিয়েছি, তার দামও ৪০ টাকা’— বলছিলেন রফিক।

একই হতাশার কথা জানালেন হাতিরপুল বাজারে কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী জসীম উদ্দীন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বললেন, ‘আমাদের মতো নির্দিষ্ট মানুষের আয়ের সঙ্গে বাজারের ব্যয়ের কোনো ভারসাম্য থাকছে না। প্রতিবার বাজারে এলেই হিসাব ও বাজেট এলোমেলো হয়ে যায়। প্রতিটি সবজির দাম যদি ১০০ টাকা ছাড়িয়ে যায়, তবে একটি সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার প্রতিদিন পাতে কী খাবে? সংসারের খরচ সামলাতে প্রতি সপ্তাহে আমাদের চাল, ডাল ও অন্যান্য খাদ্যপণ্যের বাজেট কাটছাঁট করে সবজি কেনার টাকা মেলাতে হচ্ছে।’

এদিকে কাঁচামরিচ ও সবজির এই অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির পেছনে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সরবরাহের ঘাটতিকে দায়ী করছেন খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা। রায়সাহেব বাজারে দীর্ঘদিন ধরে সবজি বিক্রি করছেন মো. মিলন।

পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে মিলন বলছিলেন, একটানা ভারি বৃষ্টির কারণে দেশের প্রধান প্রধান সবজি উৎপাদনকারী অঞ্চলের বহু ক্ষেতে পানি জমে গেছে। জমিতে দীর্ঘদিন পানি জমে থাকলে মরিচ ও সবজি গাছের শিকড় পচে যায়। আবার বৃষ্টিতে ফুলও ঝরে পড়ে। আবার অনেক অঞ্চল থেকে সবজি সংগ্রহ করাও সম্ভব হচ্ছে না বৃষ্টির কারণে। সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণেই বাজারে পণ্য কম আসছে এবং পাইকারিতেই দাম বেড়ে যাচ্ছে।

তবে বৃষ্টি কমে বাজারে নতুন সবজির সরবরাহ আবার স্বাভাবিক হলে সবজির দাম নিচে নেমে আসবে। আর যদি বৃষ্টি অব্যাহত থাকে, তবে আগামী কয়েকদিন দাম আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন এই বিক্রেতা।

বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শুধু বৃষ্টি বা আবহাওয়ার অজুহাত দিয়ে পণ্যের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়ানো হচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখা জরুরি। বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখার পাশাপাশি পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে নিয়মিত সরকারি তদারকি বাড়ানো দরকার।


নির্বাচিত

নতুন করে জ্বালানির দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই সরকারের: বাণিজ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে নতুন করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে দর কিছুটা বাড়লেও গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশে জ্বালানির দাম তুলনামূলক কম ছিল।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুরে সিলেট সদর উপজেলার লাক্কাতুরা চা-বাগান এলাকায় চা-শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে দিনব্যাপী বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা, পরিবার পরিকল্পনা ও শিশুস্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্পের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ভোক্তা অধিদপ্তর, দুদক ও বিটাকসহ ৫ সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন নিয়োগ

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে শুল্ক আরোপের বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নতুন করে শুল্ক আরোপের ফলে আগের পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির কোনো বাস্তব পরিবর্তন ঘটেনি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগের যে নীতি ছিল, দেশটির নিজস্ব আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ায় একই হারে শুল্ক বহাল থাকবে, তবে তা নতুন নিয়মে কার্যকর হবে। ফলে নতুন শুল্ক আরোপের প্রভাব বাস্তবে একই থাকছে।

অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ জেলা ও মহানগর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

বিনিয়োগনির্ভর উৎপাদন ও কর্মসংস্থানই বাংলাদেশের পরবর্তী প্রবৃদ্ধির চাবিকাঠি: অর্থ উপদেষ্টা

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের পরবর্তী প্রবৃদ্ধির ধাপে দেশীয় বাস্তবতা এবং পরিবর্তিত বৈশ্বিক ভূঅর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি বিনিয়োগনির্ভর উন্নয়ন মডেল অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স ২০২৬ (বিডিসি ২০২৬)-এর এক অধিবেশনে তিনি বলেন, ‘আমাদের এমন একটি মডেল অনুসরণ করতে হবে, যেখানে বিনিয়োগ উৎপাদনের পথ তৈরি করবে, উৎপাদন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, কর্মসংস্থান করের হার না বাড়িয়েই রাজস্ব বৃদ্ধি করবে এবং সেই রাজস্ব শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ব্যয় করা হবে।’

লন্ডনের এসওএএস ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের অর্থনীতির অধ্যাপক মুশতাক খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ওই অধিবেশনে ড. তিতুমীর সরকারের অর্থনৈতিক কৌশল তুলে ধরেন।

‘বাংলাদেশ অ্যান্ড এ চেঞ্জিং ওয়ার্ল্ড: আনচার্টেড টাইমস, ইমার্জিং অর্ডারস অ্যান্ড দ্য পলিটিক্স অব কেয়ার’ প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘সরকার ধাপে ধাপে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়িয়ে একটি গণতান্ত্রিক কল্যাণরাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে।’

তিনি জানান, অর্থনৈতিক ধাক্কার সময় ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী যাতে দারিদ্র্যের মধ্যে না পড়ে, সে জন্য সার্বজনীন জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সংস্কারের বিষয়ে ড. তিতুমীর বলেন, ‘দক্ষতা উন্নয়ন, নাগরিক শিক্ষা, উদ্ভাবন এবং তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত একটি জাতীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।’

সুশাসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সরকারের সংস্কার কর্মসূচির মূল ভিত্তি হলো বৈধতা, জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা। তার ভাষায়, যদি একটি সরকারের বৈধতা থাকে, তবে জবাবদিহিও থাকে। সেবাদান মানেই বৈধতা, সেবাদান মানেই জবাবদিহি এবং সেবাদান মানেই স্বচ্ছতা।’

ড. তিতুমীর বলেন, ‘বর্তমান সরকার একটি নাজুক আর্থিক পরিস্থিতি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। তবে সংসদে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় সরকারের ওপর রূপান্তরমূলক সংস্কার বাস্তবায়নের দায়িত্বও বেড়েছে।’

রাজস্ব আহরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘করের হার বাড়ানোর পরিবর্তে সরকার প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।’ তার মতে, দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত দুটি বিষয়—প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং দুর্নীতি, ভাড়া-অন্বেষণ (রেন্ট-সিকিং) ও কর অব্যাহতির মতো ‘ত্রুটির উপাদান’—এখন সরকারের বিশেষ নজরে রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘রাজস্ব ফাঁকফোকর কমানো এবং আইন প্রয়োগ জোরদারের ফলে ইতোমধ্যে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাচ্ছে।’ উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস উল্লেখযোগ্য রাজস্ব অবদান রেখেছে। রাজস্ব আদায় আরও শক্তিশালী করতে তিনটি টাস্কফোর্সও গঠন করা হয়েছে।

তবে কর ফাঁকি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে সরকার এখনও সক্ষম নয় বলে স্বীকার করেন ড. তিতুমীর। তিনি বলেন, ‘আমরা এখনও কর ফাঁকি মোকাবিলায় পুরোপুরি সক্ষম নই। এর জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে।’

আর্থিক খাত সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘খেলাপি ঋণ ও ব্যাংক পুনঃমূলধনীকরণসহ দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানে সরকার কাজ করছে। আমরা কোনো বিষয় আড়াল করছি না। সমস্যাগুলো সম্পর্কে আমরা অবগত এবং সেগুলো নিয়ে কাজ করছি।’

স্ট্যাচুটরি রেগুলেটরি অর্ডার (এসআরও) প্রসঙ্গে ড. তিতুমীর বলেন, “অতীতে এসআরওকে ‘নিলাম বাজারে’ পরিণত করা হয়েছিল, যেখানে প্রভাবশালীরা বিশেষ সুবিধা পেতেন। সরকার সেই সংস্কৃতি বন্ধে কাজ করছে।”

তিনি বলেন, ‘যদি আপনি প্রভাবশালী হন, তাহলে একটি এসআরও জারি করিয়ে সব ধরনের সুবিধা পেয়ে যেতেন। এসব ইচ্ছামাফিক কর-ছাড় আমরা পর্যালোচনা করছি এবং নিশ্চিত করছি যাতে এই এসআরও সংস্কৃতি আর না থাকে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কর আরোপ ও সরকারি অর্থ ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নির্বাহী বিভাগের পরিবর্তে সংসদের মাধ্যমেই হওয়া উচিত। কোথা থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হবে এবং কোথায় ব্যয় করা হবে, তা সার্বভৌম সংসদই নির্ধারণ করবে। এটিই সরকারের সংস্কারের মূল ভিত্তি।’

শিল্পায়নকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য উল্লেখ করে ড. তিতুমীর বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশে আবার শিল্পনীতি নিয়ে কার্যকর আলোচনা শুরু হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে শিল্পনীতি ফিরে এসেছে। উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণ—২০২৯ সালে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের আগে এসব বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে।’

সরকারের সংস্কার কর্মসূচি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করে ড. তিতুমীর বলেন, ‘চলতি অর্থবছরেই এর প্রাথমিক সুফল পাওয়া যাবে। আমরা আশা করছি, বাংলাদেশকে নিয়ে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তা বাস্তবায়ন করতে পারব।’

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের প্রসঙ্গে তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট ও আন্তর্জাতিক জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশকে প্রায় ৩ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিরিক্ত ব্যয় করতে হয়েছে, যদিও এসব সংকট সৃষ্টিতে দেশের কোনো ভূমিকা ছিল না।

তিনি বলেন, ‘যে সংকট আমাদের সৃষ্টি নয়, তার জন্যই আমাদের ৩ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষি ও ভোক্তাদের জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির চাপ থেকে সুরক্ষা দিতে সরকারকে আর্থিক ভারসাম্যও রক্ষা করতে হয়েছে।’


নির্বাচিত

হরিজন জনগোষ্ঠীর জন্য স্থায়ী আবাসন ও ৮০ শতাংশ কোটা দাবি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

হরিজন জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ ও স্থায়ী আবাসন নিশ্চিত, পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগে ৮০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণ এবং দীর্ঘদিন কর্মরত অস্থায়ী কর্মীদের স্থায়ী করাসহ ৭ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদ। শুক্রবার (২৪ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এসব দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে আয়োজকরা বলেন, স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পরও হরিজন জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, আবাসন ও সামাজিক মর্যাদার ক্ষেত্রে নানা বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার। অথচ দেশের পরিচ্ছন্নতা, জনস্বাস্থ্য ও নাগরিক সেবায় তাদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উন্নয়নের ধারায় এ জনগোষ্ঠীর সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।

তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন কর্মরত পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য নিরাপদ ও স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা এবং আউটসোর্সিং ব্যবস্থার কারণে সৃষ্ট চাকরির অনিশ্চয়তা দূর করা জরুরি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

সংগঠনটির দাবিগুলো হচ্ছে— হরিজন জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও স্থায়ী আবাসন নিশ্চিত করা, পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগে জাত হরিজন জনগোষ্ঠীর জন্য ৮০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণ, দীর্ঘদিন কর্মরত অস্থায়ী ও দৈনিকভিত্তিক কর্মীদের স্থায়ী করা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তায় বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া, কর্মক্ষেত্রে ন্যায্য মজুরি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা, সামাজিক বৈষম্য দূর করে সংবিধান প্রদত্ত সমঅধিকার বাস্তবায়ন এবং শিক্ষিত হরিজন জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারি চাকরিতে ১ শতাংশ কোটা সংরক্ষণ।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদের সভাপতি লেবু বাসফোর, মহাসচিব বিমল ডোম, সংগঠনের সাবেক সভাপতি কৃষ্ণলাল, উপদেষ্টা বাইজু লাল সরদার, সিনিয়র সহ-সভাপতি কৃষ্ণচরণ কুঞ্জমাল প্রমুখ।


নির্বাচিত

জুলাই শহীদ পরিবারের পাশে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আজাদ

* চাকরির ব্যবস্থা করলেন দুইজনের
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়) সংবাদদাতা

পঞ্চগড়-২ (বোদা-দেবীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের সুপারিশে জুলাই শহীদ পরিবারের আরও দুই সদস্য অফিস সহায়ক পদে চাকরি পেয়েছেন। একই সঙ্গে সরকারি সম্মানী (বেতন) থেকে জেলার ছয়টি জুলাই যোদ্ধা পরিবারের মধ্যে চারটি পরিবারকে প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছেন তিনি।

জানা গেছে, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সংসদ সদস্যের পরিদর্শন কক্ষে অফিস সহায়ক নিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হলে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যদের অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা দেন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তারই সুপারিশে বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলার সংসদ সদস্যের পরিদর্শন কক্ষে অফিস সহায়ক পদে জুলাই শহীদ পরিবারের দুই সদস্যকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আত্মত্যাগী পরিবারগুলোর প্রতি সম্মান জানানো এবং তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

ইতোমধ্যে বোদা উপজেলা পরিষদে সংসদ সদস্যের পরিদর্শন কক্ষে অফিস সহায়ক হিসেবে সাকোয়া ইউনিয়নের জুলাই শহীদ সুমনের বোন যোগদান করেছেন।

অন্যদিকে দেবীগঞ্জ উপজেলার সংসদ সদস্যের পরিদর্শন কক্ষে অফিস সহায়ক হিসেবে মারেয়া ইউনিয়নের জুলাই শহীদ আবু সাইদের ছেলে মামুন ইসলাম যোগদান করেছেন।

দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজীৎ শাহ বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপির নির্দেশনা ও সুপারিশে মারেয়া ইউনিয়নের জুলাই শহীদ আবু সাইদের ছেলে মামুন ইসলামকে অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’

এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থানে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত আর্থিক সহায়তা প্রদান করে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ একটি মানবিক উদ্যোগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, ‘আমরা ৭১ কে যেমন ধারণ করি, ঠিক তেমন ২৪ কেও ধারণ করি। অতএব সেই জায়গা থেকে আমি শপথ গ্রহণের পর সরকারিভাবে যা সম্মানী (বেতন) পাই তা থেকে জেলার ৬টি জুলাইযোদ্ধা পরিবারের মধ্যে ৪টা পরিবারকে প্রতি মাসে ৫ হাজার করে টাকা দেই এবং দুই পরিবারের দুই সদস্যকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অফিস সহায়ক পদে চাকরি দেয়ার নির্দেশনাও দিয়েছি।


নির্বাচিত

তিস্তা নদীর পানি বাড়ায় ডিমলায় বন্যা, খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে মানুষ

* পাঁচ শতাধিক পরিবার পানিবন্দির খবর জানেন না চেয়ারম্যান!
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি

উজানের ঢলে ও টানা বর্ষণে নীলফামারীর ডিমলায় দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে ওঠা-নামা করছে তিস্তা নদীর পানি। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেল ৩টায় এই পয়েন্টে পানির সমতল রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ০। যা বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচে। একইদিনের সকাল ৯টায় এই পয়েন্টে পানি ছিল বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার(৫১ দশমিক ৯৪) নিচে।

এর আগে বুধবার (২২ জুলাই) ভোর ৬ টায় এই পয়েন্টে বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার (৫২ দশমিক ১৪) নিচ দিয়ে পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করে প্রবাহিত হয়ে সকাল ৯টা পর্যন্ত তা অপরিবর্তিত থাকে। পরে দুপুর ১২টায় ৭ সেন্টিমিটার কমে এই পয়েন্টে ৭ সেন্টিমিটার(৫২ দশমিক ৮), সন্ধ্যা ৬টায় ১৭ সেন্টিমিটার(৫১ দশমিক ৯৮), রাত ৯টায় ২১ সেন্টিমিটার (৫১ দশমিক ৯৪) নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। এতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন নদী বেস্টিত এলাকার কয়েক শতাধিক পরিবার। পানির প্রবাহ ঠিক রাখতে ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।

উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের ছাতুনামা (কেল্লাপাড়া), ভেন্ডাবাড়ি এলাকায় পাঁচ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়লেও ইউনিয়নটির চেয়ারম্যান কিছুই জানেন না! তিনি এই প্রতিবেদককে তার ইউনিয়নে একটি পরিবারও পানিবন্দি নেই দাবি করলেও পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগে থাকা পরিবারগুলো বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের ভাষ্যমতে এলাকায় নদীর পানি প্রবেশ করে ঘরের মেঝে পর্যন্ত পানি উঠেছে। অনেকেই ঘর-বাড়ি ভেঙ্গে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।হুমকিতে রয়েছে আশ্রয়ন প্রকল্পসহ আরও দুই শতাধিক পরিবার। ভাঙনের কবলে পড়েছেন মসজিদ, মাদ্রাসা, ফসলি জমিসহ অর্ধশতাধিক পরিবার।

রাস্তা তলিয়ে গেছে পানিতে বন্যার পানিতে।

এতে করে পানিবন্দি হওয়া মানুষের খাবার, গবাদি পশুর খাবার, বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারি ব্যবস্থার মারাত্মক সংকট দেখা দিয়েছে।

ছাতুনামা (কেল্লা পাড়া) এলাকার বাসিন্দা হবিবর রহমান বলেন, এই এলাকার ৫ থেকে ৭ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছি।

ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান একবারও খোঁজ নিতে আসেননি। আর আমাদের চেয়ারম্যানতো জমিদার। তিনি ওইভাবে কোনো কিছু বলেননা ও কারো কাছে ছোট হন না। ঘরে পর্যন্ত পানি উঠেছে আমাদের। আশ্রয়ন কেন্দ্রসহ এখনো দুই শতাধিক পরিবার ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছেন। প্রতিটি মুহূর্ত আতঙ্কে কাটছে আমাদের।

অপর এক বাসিন্দা শুকুর আলী বলেন, ৫ থেকে ৭ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে রয়েছি। আমার ঘরেও পানি উঠেছিল তবে এখন ঘরে পানি নেই উঠানে নেমে গেছে। রাস্তাগুলো তলিয়ে গেছে একটি মসজিদ, একটি মাদ্রাসা ভেঙ্গে গেছে। চেয়ারম্যান খোঁজ নেয়নি বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। তবে নীলফামারী-১(ডোমার-ডিমলা) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার ও ইউনিয়নটির সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।

ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওযার্ডের ইউপি সদস্য লাভলু ইসলাম বলেন, প্রায় ৭ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে আছি। আমার ঘর থেকে পানি নেমে এখন উঠানে। অর্ধশতাধিক পরিবার বাড়ি-ঘর ভেঙ্গে বিভিন্ন উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। বন্যার পানির কারণে একটি মসজিদ, একটি মাদ্রাসাসহ প্রায় শতাধিক পরিবারের ঘর-বাড়ি ভেঙ্গেছে। আমাদের নিজের খাবার, গবাদি পশুর খাবার, বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্য সম্মত স্যানিটারি ব্যবস্থার মারাত্মক সঙ্কট দেখা দিয়েছে।এমপি ছাড়া কেউ খোঁজ-খবর নেননি আমাদের। এমনকি ইউপি চেয়ারম্যান দেখতে আসেননি। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছু লোক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভাঙনরোধে ৩ শতাধিক জিও ব্যাগ ফেলানোর কথা বললেও সেই কাজের শুরু এখনো চোখে পড়েনি।

ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান একরামুল হক বুধবার রাতে বলেন, আমার এলাকায় কোনো পরিবার পানিবন্দী নেই!পরে তাকে ছবি ও ভিডিও রযেছে জানালে তিনি বলেন, আমি সকালে বন্যার ত্রাণের চালের জন্য ডিমলা গিয়েছিলাম। এ পর্যন্ত বন্যা কবলিত মানুষদের জন্য ১৩ মেট্রিকটন চাল ও বিশটি শুকনো খাবারের প্যাকেজ পেয়েছি। প্যাকেজগুলো বিতরণ করেছি গতকাল!

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরি বলেন, পানি বাড়ার খবর আগাম পেয়ে জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যকর্মীসহ নদী বেস্টিত এলাকার মানুষের আগাম অবগত করা হয়েছিল। গত বুধবার ভোর থেকে পানি বাড়লেও ধীরে ধীরে পানি কমে রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টা পর্যন্ত ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। পরে বিকেল ৩টায় পানি আবারও বেড়ে এই পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার (৫২.০) নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।


নির্বাচিত

হরি নদীর নাব্য সংকটে ডোমরা বিল, পানিবন্দির শঙ্কায় কয়েকটি গ্রাম

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার খর্নিয়া ইউনিয়নের সর্ববৃহৎ ডোমরা বিলে চরম জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি নিষ্কাশিত হতে না পেরে স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে বিলসহ সংলগ্ন বিস্তৃত এলাকা তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রাত কাটাচ্ছেন স্থানীয় কৃষক ও মৎস্য চাষিরা।

ডুমুরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি ও মৎস্য সম্পদের বড় একটি অংশ নির্ভর করে ডোমরা বিলের ওপর। প্রতি বছর পলি জমে হরি নদীর নাব্য হ্রাস পাওয়া এবং সাময়িক খননের পর তা টেকসই না হওয়া এখানকার দীর্ঘদিনের সমস্যা।

সূত্রে জানা গেছে, হরি ভদ্র নদী সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে খনন করা হলেও খর্নিয়া থেকে পরবর্তী ৫-৬ কিলোমিটার অংশ পুনরায় পলিতে ভরাট হয়ে গেছে। ড্রেজার দিয়ে পলি তোলার কথা থাকলেও এক দেড় ঘণ্টা কাজ করে বাকি সময় বন্ধ থাকছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নদীর নাব্য কমে যাওয়ায় বিলে জমে থাকা পানি স্বাভাবিক গতিতে নামতে পারছে না।

বিল পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল হালিম সরদার জানান, হরি ভদ্র নদীর কয়েক কিলোমিটার পলি পড়ে ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে বিলের পানি নামতে পারছে না। দ্রুত কোনো ব্যবস্থা না নিলে খর্নিয়া, আঙ্গারদোহার, টিপনা, পাচপোতা ,পাচুড়িয়া,ভদ্রদিয়া, বাহাদুর পুর, বালিয়া খালী, বামন্দিয়া ও গোনালীসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়বে। একই সাথে শত শত মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে গিয়ে অপূরণীয় ক্ষতি হবে।

বিলের পানি সময়মতো না সরলে কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়বেন চাষিরা।

চিংড়িচাষি নজরুল ইসলাম ও ঘের মালিক আব্দুল হালিম জানান, বৃষ্টির পানি যেভাবে বিলে জমে আছে, তাতে ঘেরের পাড় ভেসে যাওয়া এখন সময়ের ব্যাপার। ঘের তলিয়ে গেলে আমাদের পুঁজি তো যাবেই, বিশাল ঋণের মুখে পড়তে হবে।

ইউপি সদস্য মোল্লা আবুল কাশেম ও বিল কমিটির সাধারণ সম্পাদক শেখ রবিউল ইসলাম জানান, এটি শুধু একক কোনো গ্রামের সমস্যা নয়; পুরো ইউনিয়নের কৃষি ও মৎস্য অর্থনীতি এর সাথে জড়িত। পলি অপসারণ করে হরি ভদ্র নদীর প্রবাহ সচল করা না গেলে আসন্ন মৌসুমে চাষাবাদ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে।

খর্নিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. মোসলেম আলী বলেন, ‘জলাবদ্ধতার বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছি। দ্রুততম সময়ে স্থানীয়দের স্বস্তি দিতে তাৎক্ষণিক কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, সে বিষয়ে আলোচনা চলছে।’

ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ সবিতা সরকার বলেন, ‘ডোমরা বিলের জলাবদ্ধতা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্বেগের বিষয়টি আমরা জেনেছি। পানি নিষ্কাশনের পথ সুগম করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সাথে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল কুমার সেন বলেন, ‘হরি নদীর যে অংশটিতে পলি জমে ভরাট হয়েছে, তা সরেজমিনে পরিদর্শন করে দ্রুত পলি অপসারণ ও নদী পুনঃখননের বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যাতে বিলের পানি দ্রুত নিষ্কাশিত হতে পারে।’


নির্বাচিত

৬০ বছরের চাকরি শেষ, মসজিদের খতিবকে বিদায় সংবর্ধনা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি 

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার গোপালনগর সিএন্ডবি বাজার বাইতুল সালাত জামে মসজিদের দীর্ঘ ৬০ বছরের খতিব মাওলানা মো. শামসুল হককে বিদায় সংবর্ধনা প্রদান করেছে মসজিদ কমিটি। শুক্রবার (২৪ জুলাই) জুমার নামাজ শেষে মসজিদ প্রাঙ্গণে মসজিদ কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তার দীর্ঘদিনের দ্বীনি খেদমতের স্বীকৃতিস্বরূপ একটি সম্মাননা ক্রেস্ট ও নগদ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ৩ নম্বর রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান সরকার, ৩ নম্বর রসুলপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. হানিফ ভূঁইয়া, কামাল ব্রিকসের স্বত্বাধিকারী হাজী কামাল উদ্দিন, বায়তুল্লাহ ইলেক্ট্রনিক্সের স্বত্বাধিকারী এম. এ. ইউনুস মিয়া বাবুল, ৩ নম্বর রসুলপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি কাজী হাসান আহমাদ, স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. বদিউল আলম বাদল, মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি আবুল বাশারসহ বাজারের ব্যবসায়ী, মুসল্লি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

বিদায়ী বক্তব্যে মাওলানা মো. শামসুল হক বলেন, ‘মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে তিনি টানা ৬০ বছর এই মসজিদে খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সুযোগ পেয়েছেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি এলাকার মানুষ ও মসজিদের মুসল্লিদের জন্য দোয়া করে যাবেন।’ বিদায় সংবর্ধনার এমন আন্তরিক আয়োজন তাকে আবেগাপ্লুত করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন এবং মসজিদ কমিটি, মুসল্লি ও এলাকাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি আবুল বাশার বলেন, ‘মাওলানা শামসুল হকের ছয় দশকের দ্বীনি খেদমত এই মসজিদ ও এলাকার জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তিনি শুধু একজন খতিব নন, বরং এলাকার ধর্মীয় ও নৈতিক পথপ্রদর্শক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার অবদান এলাকাবাসী শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।’

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে দেশ, জাতি ও এলাকার সার্বিক কল্যাণ এবং মাওলানা মো. শামসুল হকের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মুফতি হোসাইন আহমাদ।


নির্বাচিত

তিস্তা ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ইউএনওর ত্রাণ বিতরণ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের তিস্তা নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার। গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে তিনি পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং তাদের হাতে সরকারি ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন। একই সঙ্গে নদীভাঙনের ভয়াবহতা তুলে ধরে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নোহালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের চর নোহালী কাচারীপাড়া এলাকায় তিস্তার ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। নদীর পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও পানি কমতে শুরু করার পর থেকেই ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। গত কয়েক দিনে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে অন্তত ৮টি বসতবাড়ি এবং শত বিঘা আবাদি জমি। অনেক পরিবার শেষ সম্বলটুকু রক্ষায় ঘরবাড়ি খুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত আলহাজ মোত্তালিব বলেন, চোখের সামনে আমার বসতবাড়ি নদীতে চলে গেল। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকব জানি না। সরকারের কাছে স্থায়ী সমাধান চাই। সুরুজ মিয়া বলেন, ত্রাণ পেয়েছি, কিন্তু ভাঙন বন্ধ না হলে আমাদের বাঁচার কোনো উপায় থাকবে না। আনোয়ার হোসেন বলেন, ঘরবাড়ি, জমিজমা সব নদীতে চলে গেছে। এখন আমরা মানবেতর জীবন কাটাচ্ছি।

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তারের পাঠানো প্রতিবেদনের ভিত্তিতে রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন ২৩ জুলাই বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে জরুরি চিঠি পাঠিয়েছেন। ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, নোহালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের চর নোহালী কাচারীপাড়ায় ২২টি এবং ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে আরও ১৪টি পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এছাড়া চর বাগডহরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভাঙনরত নদীতীর থেকে মাত্র ১০০ মিটার দূরে রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বিদ্যালয়টিও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


নির্বাচিত

তেলের সংকটের গুজবে সাতক্ষীরার পেট্রোল পাম্পে উপচেপড়া ভিড়

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আবু সাঈদ, সাতক্ষীরা

জ্বালানি তেলের সংকটের গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর সাতক্ষীরার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দিনভর মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন তথ্যের প্রভাবে অনেকেই প্রয়োজনের আগেই জ্বালানি সংগ্রহে পাম্পে ছুটে আসেন। এতে জেলার বেশির ভাগ পাম্পে অস্বাভাবিক ভিড় সৃষ্টি হয়।

শহরের বাইপাস, পুরাতন সাতক্ষীরা, খুলনা রোডসহ বিভিন্ন এলাকার পেট্রোল পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি ও অটোরিকশার চালকেরা দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি নিচ্ছেন। অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেন, পরবর্তী সময়ে তেল পাওয়া না–ও যেতে পারে। তবে এমন আশঙ্কার পক্ষে কোনো সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি।

পরিস্থিতি বিবেচনায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিস মাঠে নামে। জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে শহরের বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে জানানো হয়, যমুনা, পদ্মা ও মেঘনা পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। জেলার সব পেট্রোল পাম্পে স্বাভাবিক নিয়মে সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। সাতক্ষীরা

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের প্রতি গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, অপ্রয়োজনীয়ভাবে জ্বালানি কিনতে গিয়ে পাম্পে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে স্বাভাবিক প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি সংগ্রহ করতে।

প্রশাসনের এই বার্তার পর বিকেলের দিকে কয়েকটি পাম্পে চাপ কিছুটা কমতে শুরু করলেও অনেক স্থানে এখনও ভিড় লক্ষ্য করা যায়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সঠিক তথ্য দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছালে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। উল্লেখ্য গুজবে কান না দেওয়ার জন্য গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ এর পক্ষ থেকে সাতক্ষীরার গণমাধ্যমকর্মীদের নিকট একটি প্রেস রিলিজ প্রেরণ করেন।


নির্বাচিত

বোয়ালখালীতে লোকালয়ে হাতির অবাধ বিচরণে বাড়ছে আতঙ্ক

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

রাত যত গভীর হয়, ততই বাড়ে আহমদুল হকের উৎকণ্ঠা। বয়স সত্তর ছুঁইছুঁই। অন্য সময় এ বয়সে মানুষ বিশ্রাম খোঁজেন, কিন্তু তিনি রাতভর জেগে থাকেন পাহারায়। ঘুম নয়, হাতে থাকে টর্চলাইট। কান খোলা, চোখ খোলা। কারণ, যে কোনো মুহূর্তে পাহাড় থেকে নেমে আসতে পারে বন্য হাতির পাল।

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নের মহৎবাড়ী এলাকার এই কৃষকের প্রায় এক লাখ টাকার শুকনা ধান রাখা আছে ঘরের সামনের উঠানে গোলাভরা ধান। সেই ধান রক্ষা করতেই প্রতিটি রাত কাটে উদ্বেগে।

ভোরের আলো ফোটার পরও স্বস্তি মেলে না। আহমদুল হক বলেন, ‘আজ ভোরেও আমার ঘরের সামনে দিয়ে হাতি চলে গেছে। প্রায় প্রতিদিনই নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে।

শুধু আহমদুল হক নন, গত দুই মাস ধরে একই আতঙ্কে দিন কাটছে ফতেরখীল, জৈষ্ঠ্যপুরা ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের। সন্ধ্যা নামলেই গ্রামজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে অজানা ভয়। আর ভোর হলে শোনা যায় নতুন কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর।

স্থানীয়দের ভাষ্য, এই সময়ের মধ্যে হাতির তাণ্ডবে অন্তত ৪৮০ শতক জমির ধানের বীজতলা নষ্ট হয়েছে। বহু কৃষকের বছরের পরিশ্রম মুহূর্তেই মাটিতে মিশে গেছে।

পল্লী চিকিৎসক লিটন বড়ুয়ার ধানের গোলা উল্টে দিয়ে ধান খেয়ে ও নষ্ট করেছে হাতির পাল। একইভাবে আরও অনেক কৃষকের ক্ষেত, ফসল ও সম্পদের ক্ষতি হয়েছে।

জৈষ্ঠ্যপুরা এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, সম্প্রতি গভীর রাতে হাতির দল তার বসতবাড়ির সীমানা প্রাচীর ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে। একই এলাকার জুনু মিয়ার ৪০ শতকের আখক্ষেত তছনছ করে দেয়।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের পটিয়া রেঞ্জের বন কর্মকর্তা এমদাদুল হক বলেন, বোয়ালখালী এলাকায় জনবল ও সক্ষমতা সীমিত। কর্মকর্তা কম থাকায় সব জায়গায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো কঠিন হচ্ছে। তবে নিয়মিত বন্য হাতি তাড়ানোর কাজ করা হচ্ছে। জৈষ্ঠ্যপুরা ও আশপাশের এলাকা হাতির স্বাভাবিক বিচরণভূমি হওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সোহেল রানা বলেন, লোকালয়ে হাতি প্রবেশের বিষয়টি তাদের জানা আছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এলিফ্যান্ট রেসকিউ টিম কাজ করবে। হাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা আবেদন করলে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।


নির্বাচিত

জলাবদ্ধতার কারণে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ৭ শিক্ষককে বদলি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে জলাবদ্ধতার কারণে সাত শিক্ষককে কক্সবাজার, সিলেট, বরগুনাসহ বিভিন্ন জেলায় বদলি করা হয়েছে। তারা সবাই ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্র ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাদেরকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ওএসডি করে। এরপর বিভিন্ন কলেজে বদলি করে সংযুক্ত করে। এক সঙ্গে এতো শিক্ষকের বদলি এই কলেজে আর হয়নি।

গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-২ শাখার উপসচিব আ. কুদদুস স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, আগামী ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে সাত শিক্ষককে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হতে হবে। কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ এ কে এম জহিরুল আলমকে চৌদ্দগ্রামের চিওড়া সরকারি কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে, গণিত বিভাগের অধ্যাপক আবদুল মালেককে কক্সবাজার সরকারি কলেজ, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কনক বড়ুয়াকে নোয়াখালীর হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজে, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ উল্লাহ মজুমদারকে লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ নূর উল্লাহকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর সরকারি কলেজ, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক আল-আমিনকে সিলেটের বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে ও ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসীনকে বরগুনা সরকারি কলেজে বদলি করা হয়।

এর মধ্যে উপাধ্যক্ষ এ কে এম জহিরুল আলম পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় ছিলেন না, তার ছেলে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। আবদুল মালেক কনিষ্ঠ অধ্যাপক, সিনিয়ররা দায়িত্ব না নেওয়ায় তাকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা করা হয়। কনক বড়ুয়া পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক। মোহাম্মদ মহসীন কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক।

গত শনিবার ১৮ জুলাই দুপুর দুইটায় কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী কলেজে যান। এই সময়ে তিনি কলেজে জলাবদ্ধতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তবে শিক্ষকদের দাবি, এই কলেজে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে পরীক্ষাকেন্দ্র আছে। সকালের বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা হয়। কিন্তু এই কেন্দ্রে কোনো পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল না। পরীক্ষা যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত ১৩ জুলাই সকালে অতিবৃষ্টির কারণে কলেজে জলাবদ্ধতা হয়। তখন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু ডিঙি নৌকা, ভ্যানগাড়ি এনে পরীক্ষার্থীদের বিবেক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে কলেজে পৌঁছান। কলেজের শিক্ষকরাও ছাত্রীদের এগিয়ে নেন কেন্দ্রে।


নির্বাচিত

banner close