আজমিরীগঞ্জ উপজেলা অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আজমিরীগঞ্জ-বানিয়চংয়ের নব-নির্বাচিত এমপি ময়েজ উদ্দিন শরীফকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে এ উপলক্ষে এক ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। গত সোমবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের হল রুমে মাহফিলটি অনুষ্ঠিত হয়।
অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জয়ন্ত কুমার দেবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংবর্ধিত প্রধান অতিথি ময়েজ উদ্দিন শরীফ (এমপি)। তিনি বলেন, ‘ভাটির মানুষ আমারা ঐক্যবদ্ধ থাকলে অনেক কিছু করা সম্ভব।’ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ শত শত লোকের উপস্থিতি দেখে তিনি বলেন, ‘আমার আজমিরীগঞ্জকে আমি ঢাকায় দেখতে পাচ্ছি।’ তিনি সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে আজমিরীগঞ্জের উন্নয়ন ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করার আহবান জানান।
তিনি আরও বলেন, ‘সরকার উন্নয়নের জন্য যে সকল প্রকল্প দেয় বা উন্নয়নের জন্য কোন খাতে কত টাকা দেয় সেটা দেখার অধিকার জনগণের আছে।’ তাই তিনি যত সরকারি অনুদান পাবেন সমস্ত কিছু অনলাইনে প্রকাশ করবেন। ইতি মধ্যে তিনি সেটা শুরু করে দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ জেলা অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান তরফদার এবং সাধারণ সম্পাদক সৈদয় শাহ এমরান।
অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি জয়ন্ত কুমার দেব বলেন, ‘মানুষ হিসেবে সমাজে আমাদের অনেক দায়বদ্ধতা আছে। এই দায়বদ্ধতা থেকেই সামাজিক সংগঠন করে। সেবামূলক কাজ, আর্তমানবতার সেবায় আমরা আমাদের সাধ্য মতো চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে শীতে দরিদ্র মানুষের সেবা দিয়ে থাকি, চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকি, শিক্ষায় সেবা দিয়ে থাকি। চক্ষু চিকিৎসায় আমরা ছানি অপারেশনসহ নানা রকম সেবা সারা বছরই দিয়ে থাকি। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এসব কাজ করতে করে যাচ্ছি।’ সংবর্ধনা সভায় এবং ইতফারে উপস্থিত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
সভায় উদ্বেধনী বক্তব্যে দেন সংগঠনে সহ-সভাপতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং সংবর্ধনা ও ইফতার মাহফিল বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক আলফাজ উদ্দিন চৌধুরী। অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. আব্দর রব।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব শোয়াইব আহমাদ খান ও সাইফুল হক চৌধুরী, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও চিকিৎসক সাখাওয়াত হাসান জীবন, বিশিষ্ট গাইনী চিকিৎসক ডাক্তার অমল কুমার রায়, অধ্যাপক ডা. শাহীন রেজা চৌধুরী, সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য নাজমুল হাসান, সংগঠনের সহ-সভাপতি মো. মুছা খান, হবিগঞ্জ এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি আব্দুল আওয়াল বারী ও জাহাঙ্গীর আলম ভূইয়া, সিলেট বিভাগ যোগাযোগ ও উন্নয়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কুতুব উদ্দিন সোহেল, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা খান মোহাম্মদ বাচ্চু। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহ-সভাপতি কৃষিবিদ নীল রতন দাস, অর্থ সম্পাদক বিভাস চক্রবর্তী সজল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম, সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. শাহীন মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আনিছুল ইসলাম জুয়েল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহ আলম, শিক্ষা ও ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মো. মারুফ হোসেন, ছাত্রনেতা ফাহিম চৌধুরী।
ইতফার মাহফিল শেষে সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা সংসদ সদস্য ময়েজ উদ্দিন শরীফকে সম্মাননা ক্রেস্ট এবং ঈদসামগ্রী উপহার তুলে দেন।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পসমূহের আর্থিক ও ভৌত অগ্রগতি পর্যালোচনার লক্ষ্যে বুধবার (২৯ জুলাই) তারিখে সংস্থার সম্মেলন কক্ষে এডিপি সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিএডিসি’র চেয়ারম্যান মোঃ আজিজুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে বিভিন্ন প্রকল্প পরিচালক, বিভাগ ও উইং প্রধানগণ সভায় অংশগ্রহণ করেন।
সভায় বিগত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাস্তবায়িত কার্যক্রমসমূহের আর্থিক ও ভৌত অগ্রগতি নিয়ে আলোচনায় তুলে ধরা হয় যে, কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থাসমূহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নে বিএডিসি শীর্ষ স্থান অর্জন করেছে।
এ প্রসঙ্গে বিএডিসি’র চেয়ারম্যান বলেন যে, কৃষি শব্দটির সঙ্গেই বিএডিসি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কৃষিক্ষেত্রে যেকোন পর্যায়ে সভা অনুষ্ঠিত হলে সেখানেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিএডিসি’র নামটি আলোচনায় উঠে আসে। এর অর্থ দাঁড়ায় কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে বিএডিসি’র প্রতি সরকারের গভীর বিশ্বাস ও আস্থা রয়েছে। বিএডিসি’র প্রতি সরকারের এই বিশ্বাস ও আস্থা এবং গৌরবময় ঐতিহ্য আমাদেরকে আরো সুচারুরূপে কার্যক্রম সম্পাদনের মাধ্যমে সমুন্নত রাখতে হবে। স্মার্ট ও আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনায় গতিশীলতা আনয়নে বিএডিসি’র কার্যক্রমের পরিধি আরো বিস্তৃতির ক্ষেত্রে সরকারের গভীর পরিকল্পনা রয়েছে মর্মে তিনি সভায় তুলে ধরেন।
বিএডিসি’র চেয়ারম্যান আরো বলেন যে, কৃষিক্ষেত্রে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারমূলক কাজ যেমন: গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন, আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশের অভ্যন্তরে কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী পাটবীজ উৎপাদন এবং বৃক্ষরোপণের মহাপরিকল্পনা প্রভৃতি বাস্তবায়নে সুনির্ধারিত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সকলকে অধিক দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে কর্মসম্পাদনেও নির্দেশনা প্রদান করেন।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) নতুন পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে মো. সাজ্জাদুর রহমানকে।
বুধবার (২৯ জুলাই) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখার এক প্রজ্ঞাপনে এ পদায়নের কথা জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন উপসচিব তোফায়েল আহমেদ।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) ডিআইজি পদে কর্মরত বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদুর রহমানকে কেএমপির পুলিশ কমিশনার হিসেবে বদলি পদায়ন করা হয়েছে।
জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে, গত ২১ জুলাই কেএমপির কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসানকে ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে বদলি করা হয়। তার স্থলাভিষিক্ত হলেন মো. সাজ্জাদুর রহমান।
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় কৃষিজমিতে ধান রোপণ করার সময় বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার সুখিয়া ইউনিয়নের চরপলাশ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শফিকুল ইসলাম (৪০) সুখিয়া ইউনিয়নের চরপলাশ গ্রামের সাদুরবাড়ি এলাকার রেজেক মিয়ার ছেলে।
সুখিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল হামিদ টিটু জানান, বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে নিজ জমিতে ধান রোপণ করছিলেন শফিকুল ইসলাম। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে হালকা বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত শুরু হলে অন্যরা বাড়িতে চলে গেলেও তিনি জমিতে ধান রোপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে বজ্রপাতে আক্রান্ত হন শফিকুল।
পরে বৃষ্টি থামলে স্থানীয়রা জমিতে গিয়ে তাকে পড়ে থাকতে দেখেন। বজ্রপাতে আক্রান্ত হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানান চেয়ারম্যান। পরে স্বজনরা তার মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান।
পাকুন্দিয়া থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
গাজীপুর মহানগরের চান্দনা চৌরাস্তার শাপলা ম্যানশনের তৃতীয় তলায় পূবালী ব্যাংক পিএলসির জয়দেবপুর শাখার আয়োজনে ক্যাশলেস জয়দেবপুরের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।
মূল প্রতিপাদ্য ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় কেনাকাটায় মোবাইল অ্যাপসের ব্যবহার এক দেশ এক QR লেনদেনে BANGLA QR ওই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পূবালী ব্যাংক পিএলসি জয়দেবপুর শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান মজুমদারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পূবালী ব্যাংক পিএলসির উপমহাব্যবস্থাপক ও গাজীপুর অঞ্চলের অঞ্চল প্রধান মোহাম্মদ আরিফুর রহমান।
বিশেষ অতিথি ছিলেন পূবালী ব্যাংক পিএলসির সহকারী মহাব্যবস্থাপক গাজীপুর অঞ্চলের মো. বিল্লাল হোসেন সেলিম, শাপল ম্যানশন দোকান মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রশিদ, সহসভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা প্রমুখ।
কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা মিঠামইনে পানিতে ডুবে আপন দুই ভাই-বোনের করুণ মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের খলাপাড়া গ্রামের পুরান বাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।
নিহতরা হলো খলাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রুবেল মিয়ার ৪ বছর বয়সি ছেলে রিবান মিয়া ও তার দেড় বছর বয়সি মেয়ে সাফা।
জানা গেছে, দুপুরে বাড়ির উঠোনে খেলার সময় ছোট বোন সাফা অসাবধানতাবশত বাড়ির পাশের একটি ডোবায় পড়ে যায়। বোনকে পানিতে হাবুডুবু খেতে দেখে তাকে বাঁচাতে বড় ভাই রিবান সঙ্গে সঙ্গে পানিতে ঝাঁপ দেয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, সাঁতার না জানার কারণে দুজনেই পানির নিচে তলিয়ে যায়।
অনেকক্ষণ শিশুদের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে ডোবার পানিতে তাদের দেহ ভেসে থাকতে দেখেন স্বজনরা। দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
বগুড়ার ধুনটে বালুবাহী ট্রাকের ধাক্কায় সোহেল রানা (২৫) নামের এক মোটরসাইকেলচালক নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৯ জুলাই) ধুনট-শেরপুর আঞ্চলিক সড়কের বথুয়াবাড়ি ব্রিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই রাব্বী হাসান (১৮) আহত হয়েছেন। নিহত সোহেল রানা শেরপুর উপজেলার মুন্সিপাড়া এলাকার বাবু মিয়ার ছেলে।
জানা যায়, উপজেলার রাঙামাটি গ্রামের সোহেল রানা শ্বশুর বাড়ি থেকে ছোট ভাই রাব্বীকে নিয়ে নিজ বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বথুয়াবাড়ি ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বেপরোয়া গতির একটি বালুবাহী ট্রাক চলন্ত মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়।
এ সময় সোহেল রানা ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আর নিহতের ছোট ভাই রাব্বী আহত হন। আহত রাব্বীকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকের কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহত সোহেল রানার মরদেহ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের হরিণা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী ফয়সাল মিয়াকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ফয়সাল মিয়া রূপগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ নবগ্রাম এলাকার সায়েদ আলী মিয়ার ছেলে।
পুলিশ জানায়, বুধবার (২৯ জুলাই) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রূপগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের হরিণা এলাকায় ফয়সাল মিয়ার গরুর খামারে অভিযান চালায়। এ সময় ফয়সাল মিয়ার মোটরসাইকেলে বেঁধে রাখা সিমেন্টের বস্তার ভেতর থেকে ৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করে। পরে উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য ও মোটরসাইকেলসহ ফয়সাল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে রূপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এএইচএম সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে নারায়ণগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে ৭৮০ কেজি উন্নত ‘কিউ’ জাতের আনারস পাঠিয়েছেন ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. মানিক সাহা। বুধবার দুপুর ১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ১০০টি কার্টনে মোট ৬২০ পিস আনারস বাংলাদেশে এসে পৌঁছায়। চট্টগ্রামে অবস্থিত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের সহকারী কনস্যুলার পঙ্কজ জ্যোতি দাস অনুষ্ঠানিকভাবে এই সৌজন্য উপহার গ্রহণ করেন।
আখাউড়া স্থলবন্দরের শূন্যরেখায় আয়োজিত এই উপহার হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ত্রিপুরা সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিনিধিদলে ছিলেন ত্রিপুরার কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের সচিব অপূর্ব রায়, পরিচালক ড. ফনি ভূষণ জমাতিয়া এবং উদ্যান ও মৃত্তিকা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কনসালটেন্ট ড. রাজীব ঘোষ। ত্রিপুরার কৃষি সচিব অপূর্ব রায় জানান, দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার উদ্দেশ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এই উপহার পাঠানো হয়েছে।
উদ্যান ও মৃত্তিকা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কনসালটেন্ট ড. রাজীব ঘোষ উপহার হিসেবে পাঠানো ফলের গুণমান সম্পর্কে বলেন, ‘কিউ জাতের আনারস আকারে বড় ও রসালো। এই সৌজন্য উপহারের মাধ্যমে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।’ উল্লেখ্য যে, এই সৌজন্য বিনিময়ের অংশ হিসেবে গত ৩০ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহার জন্য আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ৬০০ কেজি আম্রপালি ও হাঁড়িভাঙ্গা আম উপহার হিসেবে পাঠিয়েছিলেন। প্রতিবেশি দুই দেশের মধ্যে ফল বিনিময়ের এই রীতি পারস্পরিক বন্ধনকে আরও মজবুত করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।
মানিকগঞ্জ শহরে লাইসেন্স বনায়ন না করা এবং দায়িত্বরত চিকিৎসক না থাকাসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে তিনটি বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ১লাখ ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে মানিকগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকার ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সিভিল সার্জন ডাঃ আইভী ফেরদৌসের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার মোঃ মাসুদ আলী শাহরিয়ার এই জরিমানা করেন। একই সঙ্গে একটি ক্লিনিক ও একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার সীলগালা করে দেন।
অভিযানে নগর ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৪০ হাজার টাকা এবং শুশ্রুষা হেলথ কেয়ার সেন্টারকে ৮৫ হাজার টাকা জরিমানাসহ সীলগালা ও দারুস সালাম ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা ও সীলগালা করা হয়েছে।
সিভিল সার্জন ডাঃ আইভী ফেরদৌস জানান,লাইসেন্স নবায়ন না থাকা, ক্লিনিকে দায়িত্বরত চিকিৎসক না থাকাসহ প্যাথলজি ও ডায়াগনস্টিক বিভাগে বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জেলার স্বাস্থ্যখাতকে জনবান্ধব করে তুলতে এধরনের অভিযান চলমান থাকবে। যেসকল প্রতিষ্ঠান বিরুদ্ধে অভিযোগ বা অনিয়ম পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নাটোরের গুরুদাসপুরে জমি বিক্রির নামে টাকা নিয়ে জমি রেজিস্ট্রি না দেওয়া এবং টাকা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কৃষক লিটন সরকার।
বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে উপজেলার ধানুড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। এসময় কৃষক লিটন সরকার অভিযোগ করে বলেন, প্রায় দেড় বছর আগে ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ৪ শতক জমি ৪ লাখ টাকায় বিক্রির প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার কাছ থেকে ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা অগ্রিম বায়না নেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও জমি রেজিস্ট্রি করে দেননি। উল্টো টাকা ফেরত চাইলে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। নিজের কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত পাওয়ার আশায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা এবং গুরুদাসপুর থানার দ্বারস্থ হলেও কোনো প্রতিকার পাননি। এ অবস্থায় বাধ্য হয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আব্দুল কাদের কৃষকের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে কেন টাকা ফেরত দিচ্ছেন না, এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাক্ষাৎ করে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন।
গুরুদাসপুর থানার ওসি মনজুরুল আলম জানান, অভিযোগটি তদন্তের জন্য থানার একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রাষ্ট্রায়ত্ত ২৫টি পাটকলসহ ৪৪টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ব্যক্তি মালিকানায় হস্তান্তরের সরকারি সিদ্ধান্ত বাতিল ও বন্ধ থাকা ২৫টি পাটকল পুনরায় চালুসহ ১০ দফা বাস্তবায়নের জানিয়েছে পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক পরিষদ। বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
এতে লিখিত বক্তৃতায় সংগঠনের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট কুদরত-ই-খুদা বলেন, ২০২০ সালে লোকসানের অজুহাতে ২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধ করে দেওয়া হলে প্রায় ৯০ হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়ে। অথচ একই সময় দেশের বেসরকারি পাটকলগুলো লাভজনকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত মিলগুলোর লোকসানের জন্য প্রশাসনিক অদক্ষতা, বিজেএমসির দুর্নীতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং স্থানীয় ব্যবস্থাপনাকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে না দেওয়াকে দায়ী করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলসহ ৪৪টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ব্যক্তি মালিকানায় হস্তান্তরের উদ্যোগ দেশের শিল্প খাতের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। অতীতে বেসরকারিকরণ করা অধিকাংশ শিল্পপ্রতিষ্ঠান টেকসইভাবে পরিচালিত হয়নি; বরং এসব প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ নিয়ে ব্যাংক খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠান শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, ভাতা ও অন্যান্য অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব প্রতিষ্ঠান বেসরকারি খাতে হস্তান্তর করা হলে শ্রমিক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং করপোরেট পুঁজির আধিপত্য বাড়বে।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, পাটশিল্পের অবনতির পেছনে সরকারের অবহেলা, পরিকল্পনার অভাব ও দুর্নীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নীতিগত প্রভাবও দায়ী।
সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রীয় শিল্প-প্রতিষ্ঠানসমূহ বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের প্রতিবাদ এবং অবিলম্বে বন্ধকৃত রাষ্ট্রীয় পাটকল পুনরায় চালু করতে ১০ দফা দাবি ঘোষণা করা হয়।
ঘোষিত দাবির মধ্যে রয়েছে, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত বাতিল, ২৫টি পাটকল দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পুনরায় চালু, অনিয়ম ও দুর্নীতির জন্য দায়ীদের শাস্তি, বিজেএমসির প্রশাসনিক কাঠামো সংস্কার, স্থানীয় ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালীকরণ, পাটপণ্যের বহুমুখীকরণ ও নতুন বাজার সৃষ্টি, ম্যান্ডেটরি প্যাকেজিং অ্যাক্ট বাস্তবায়ন, রাষ্ট্রীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন এবং বন্ধ পাট ও চিনিকলের শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা দ্রুত পরিশোধ করা।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সুতপা বেদজ্ঞ, এস এ রশিদ, মাহবুবুর রহমান খোকন, রফিকুল হক খোকন, জনার্ধন দত্ত নান্টু প্রমুখ।
শিশুদের জন্য তৈরি খাদ্যে পোকাযুক্ত আটা ব্যবহার, বারবার ব্যবহৃত পোড়া তেলে ভাজা এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উৎপাদনের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে কুমিল্লায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের যৌথ অভিযানে। এ ঘটনায় দুটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার গর্জনখোলা ও নুরপুর এলাকায় শিশু খাদ্য প্রস্তুতকারী কারখানায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে দেখা যায়, মেয়াদবিহীন শিশু খাদ্য বিক্রি, পোকাযুক্ত আটা ব্যবহার করে খাদ্য প্রস্তুত, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য সংরক্ষণ এবং বহুবার ব্যবহৃত পোড়া তেলে শিশু খাদ্য ভাজার মতো গুরুতর অনিয়ম চলছে।
অভিযানের সময় বিশেষ কিটের মাধ্যমে সরেজমিনে তেলের মান পরীক্ষা করে পোড়া তেল ব্যবহারের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়।
এসব অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর বিভিন্ন ধারায় গর্জনখোলা এলাকার জাকির ফুড প্রডাক্টস-কে ৩৫ হাজার টাকা এবং নুরপুর এলাকার মনির ফুডে প্রডাক্টস-কে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। দুই প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম থেকে বিরত থাকার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. কাউছার মিয়া, নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. জুয়েল মিয়া, অফিস সহকারী ফরিদা ইয়াসমিন এবং নমুনা সংগ্রহকারী মো. সাকিব। অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করে কুমিল্লা জেলা পুলিশের একটি দল।
রাঙামাটিতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের নতুন ভবন নির্মাণকে জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন এই ভবন নির্মিত হলে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ভাষা সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি পর্যটন ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
রাঙামাটি গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, রাঙামাটি অফিস-কাম মাল্টিফাংশনাল ভবন নির্মাণ’ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৫ কোটি ৫৭ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। ২০২৫ থেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত তিন বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের আওতায় চারতলা প্রশাসনিক ভবন, আধুনিক অডিটোরিয়াম, সিনেপ্লেক্স, প্রশিক্ষণ কক্ষ, মিনি কনফারেন্স রুম, ডরমিটরি নির্মাণের পাশাপাশি সাবস্টেশন, জেনারেটর, সীমানা প্রাচীরসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। বর্তমানে মূল প্রশাসনিক ভবনের ছাদ ঢালাই কাজ চলমান রয়েছে এবং অডিটোরিয়াম অংশের ছাদ ঢালাই সম্পন্ন হয়েছে।
ইনস্টিটিউটের সঙ্গীত বিভাগের এক শিক্ষার্থী জানান, বর্তমানে অডিটোরিয়ামের অভাবে সংগীত প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করতে নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। নতুন ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হলে সংগীত চর্চার পরিধি আরও বিস্তৃত হবে।
নৃত্য বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘অডিটোরিয়াম না থাকায় নৃত্য প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন জাতীয় ও সাংস্কৃতিক দিবসের অনুষ্ঠান আয়োজন করতে জায়গার সংকট দেখা দেয়। নতুন ভবন চালু হলে এসব সমস্যা দূর হবে।’
সংগীত বিভাগের প্রশিক্ষক শেখর মল্লিক বলেন, ‘নতুন ভবন ও অডিটোরিয়াম যত দ্রুত নির্মাণ শেষ হবে, তত দ্রুত প্রশিক্ষণার্থীরা আধুনিক পরিবেশে প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পাবে।’
নৃত্য বিভাগের প্রশিক্ষক সুফলা তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, ‘শিল্পীদের জন্য একটি আধুনিক হলরুম ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র অত্যন্ত প্রয়োজন। ভবনটি দ্রুত সম্পন্ন হলে শুধু শিল্পীরাই নয়, পুরো রাঙামাটিবাসী এর সুফল ভোগ করবে।’
রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের পরিচালক জিতেন চাকমা বলেন, ‘১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইনস্টিটিউটটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি, ভাষা, ঐতিহ্য ও গবেষণার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। নতুন ভবন নির্মিত হলে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং রাঙামাটির অসাম্প্রদায়িক ও সংস্কৃতিমনস্ক পরিচয় আরও সমৃদ্ধ হবে।’ তিনি বলেন, ‘পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটকে বাংলাদেশের জাতিগত বৈচিত্র্যের অন্যতম অনন্য নিদর্শন হিসেবে দেশ-বিদেশে তুলে ধরা সম্ভব হবে। নতুন ভবন নির্মাণের মাধ্যমে জেলার দীর্ঘদিনের অডিটোরিয়াম সংকট অনেকটাই দূর হবে। এখানে প্রশিক্ষণ কক্ষ, মিনি কনফারেন্স রুম এবং দেশি-বিদেশি শিল্পীদের থাকার জন্য ডরমিটরির ব্যবস্থা থাকবে।’
রাঙামাটি গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শর্মি চাকমা বলেন, ‘সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে চারতলা প্রশাসনিক ভবন, অডিটোরিয়াম এবং একটি সিনেপ্লেক্স নির্মাণ করা হচ্ছে।’ তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ভাষা সংরক্ষণের পাশাপাশি রাঙামাটির পর্যটন ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নতুন মাত্রা যোগ হবে এবং জেলার সাংস্কৃতিক বিকাশে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’