আজমিরীগঞ্জ উপজেলা অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আজমিরীগঞ্জ-বানিয়চংয়ের নব-নির্বাচিত এমপি ময়েজ উদ্দিন শরীফকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে এ উপলক্ষে এক ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। গত সোমবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের হল রুমে মাহফিলটি অনুষ্ঠিত হয়।
অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জয়ন্ত কুমার দেবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংবর্ধিত প্রধান অতিথি ময়েজ উদ্দিন শরীফ (এমপি)। তিনি বলেন, ‘ভাটির মানুষ আমারা ঐক্যবদ্ধ থাকলে অনেক কিছু করা সম্ভব।’ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ শত শত লোকের উপস্থিতি দেখে তিনি বলেন, ‘আমার আজমিরীগঞ্জকে আমি ঢাকায় দেখতে পাচ্ছি।’ তিনি সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে আজমিরীগঞ্জের উন্নয়ন ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করার আহবান জানান।
তিনি আরও বলেন, ‘সরকার উন্নয়নের জন্য যে সকল প্রকল্প দেয় বা উন্নয়নের জন্য কোন খাতে কত টাকা দেয় সেটা দেখার অধিকার জনগণের আছে।’ তাই তিনি যত সরকারি অনুদান পাবেন সমস্ত কিছু অনলাইনে প্রকাশ করবেন। ইতি মধ্যে তিনি সেটা শুরু করে দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ জেলা অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান তরফদার এবং সাধারণ সম্পাদক সৈদয় শাহ এমরান।
অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি জয়ন্ত কুমার দেব বলেন, ‘মানুষ হিসেবে সমাজে আমাদের অনেক দায়বদ্ধতা আছে। এই দায়বদ্ধতা থেকেই সামাজিক সংগঠন করে। সেবামূলক কাজ, আর্তমানবতার সেবায় আমরা আমাদের সাধ্য মতো চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে শীতে দরিদ্র মানুষের সেবা দিয়ে থাকি, চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকি, শিক্ষায় সেবা দিয়ে থাকি। চক্ষু চিকিৎসায় আমরা ছানি অপারেশনসহ নানা রকম সেবা সারা বছরই দিয়ে থাকি। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এসব কাজ করতে করে যাচ্ছি।’ সংবর্ধনা সভায় এবং ইতফারে উপস্থিত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
সভায় উদ্বেধনী বক্তব্যে দেন সংগঠনে সহ-সভাপতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং সংবর্ধনা ও ইফতার মাহফিল বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক আলফাজ উদ্দিন চৌধুরী। অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. আব্দর রব।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব শোয়াইব আহমাদ খান ও সাইফুল হক চৌধুরী, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও চিকিৎসক সাখাওয়াত হাসান জীবন, বিশিষ্ট গাইনী চিকিৎসক ডাক্তার অমল কুমার রায়, অধ্যাপক ডা. শাহীন রেজা চৌধুরী, সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য নাজমুল হাসান, সংগঠনের সহ-সভাপতি মো. মুছা খান, হবিগঞ্জ এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি আব্দুল আওয়াল বারী ও জাহাঙ্গীর আলম ভূইয়া, সিলেট বিভাগ যোগাযোগ ও উন্নয়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কুতুব উদ্দিন সোহেল, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা খান মোহাম্মদ বাচ্চু। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহ-সভাপতি কৃষিবিদ নীল রতন দাস, অর্থ সম্পাদক বিভাস চক্রবর্তী সজল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম, সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. শাহীন মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আনিছুল ইসলাম জুয়েল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহ আলম, শিক্ষা ও ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মো. মারুফ হোসেন, ছাত্রনেতা ফাহিম চৌধুরী।
ইতফার মাহফিল শেষে সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা সংসদ সদস্য ময়েজ উদ্দিন শরীফকে সম্মাননা ক্রেস্ট এবং ঈদসামগ্রী উপহার তুলে দেন।
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার শরাফপুর ইউনিয়নের বানিয়াখালী মৎস্য অভয়াশ্রম সংলগ্ন মরা ভদ্রা নদীতে এখন প্রায়শই বড় সাইজের কার্প ও দেশীয় মাছ পাওয়া যাচ্ছে। সরকারের মৎস্য অভয়াশ্রম রক্ষা এবং নিয়মিত পোনা মাছ অবমুক্তকরণ কর্মসূচির সুফল সরাসরি পেতে শুরু করেছেন স্থানীয় সাধারণ জনগণ ও জেলেরা। দীর্ঘদিন পর নদীতে এমন বড় আকারের মাছের দেখা মেলায় স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক আনন্দ ও উদ্দীপনা বিরাজ করছে। মাছটি ধরেছেন গজেন্দ্রপুরের হান্নান গাজী।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এক সময়ের প্রমত্তা ভদ্রা নদী কালক্রমে ভরাট হয়ে ‘মরা ভদ্রা’য় পরিণত হলেও বানিয়াখালী এলাকায় মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে অভয়াশ্রম ঘোষণা করায় চিত্র বদলে গেছে। অভয়াশ্রমে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকা এবং নিরাপদ প্রজনন ক্ষেত্র তৈরি হওয়ায় চারপাশের উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের বংশবৃদ্ধি ঘটেছে বহুগুণ। রুই, কাতলা, মৃগেল, আইড়, চিতলসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির বড় বড় মাছ এখন ধরা পড়ছে স্থানীয় জেলেদের জালে। এতে স্থানীয়দের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি মৎস্যজীবীদের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ফিরছে।
এ বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মোঃ জিল্লুর রহমান রিগান বলেন: “বানিয়াখালী মৎস্য অভয়াশ্রমটি আমরা কঠোর নজরদারিতে রেখেছি। নিয়মিত পোনা অবমুক্তকরণ এবং অভয়াশ্রমের সঠিক ব্যবস্থাপনার কারণেই আজ মরা ভদ্রা নদীতে কার্প ও দেশীয় প্রজাতির মাছের এত চমৎকার প্রাচুর্য দেখা যাচ্ছে। মা মাছ রক্ষা ও পোনা নিধন বন্ধে স্থানীয় প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে। স্থানীয় জনগণ সচেতন হওয়ায় এই উদ্যোগ পুরোপুরি সফল হয়েছে।”
এ প্রসঙ্গে খুলনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ বদরুজ্জামান বলেন: “ডুমুরিয়ার বানিয়াখালীর এই সাফল্য প্রমাণ করে যে, সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ করলে মরা বা বদ্ধপ্রায় জলাশয় থেকেও বিপুল পরিমাণ মৎস্য উৎপাদন সম্ভব। আমরা পুরো জেলা জুড়েই প্রাকৃতিক জলাশয় সংস্কার এবং অভয়াশ্রমের পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছি, যাতে দেশীয় মাছের বিলুপ্তি রোধ করা যায় এবং সাধারণ মানুষ এর সুফল ভোগ করতে পারে।”
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ মান্নান গাজী ও রহিমা বেগম জানান, কয়েক বছর আগেও এই নদীতে আশানুরূপ মাছ পাওয়া যেত না। কিন্তু অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতি বছরই মাছের আকার ও সংখ্যা বাড়ছে। পরিবেশবিদদের মতে, বানিয়াখালী অভয়াশ্রমটি শুধু মাছের উৎপাদনই বাড়ায়নি, বরং মরা ভদ্রা নদীর জীববৈচিত্র্য রক্ষায়ও এক অনন্য ভূমিকা পালন করছে।
এ ব্যাপারে ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজ সবিতা সরকার বলেন: “বানিয়াখালী মৎস্য অভয়াশ্রমটি ডুমুরিয়ার মৎস্য সম্পদ রক্ষায় একটি রোল মডেল। নদী ও অভয়াশ্রমের সুরক্ষায় উপজেলা প্রশাসন সবসময় মৎস্য বিভাগকে সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে আসছে। বিশেষ করে নিষিদ্ধ সময়ে যেন কেউ অভয়াশ্রমে মাছ ধরতে না পারে, সেজন্য আমরা নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই ধারা বজায় রাখা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ দীর্ঘমেয়াদে এর সুফল পেতে পারেন।”
রাজধানীর কড়াইল বস্তিসহ দেশের ৫৮টি এলাকায় দরিদ্র মানুষের জন্য সরকারি ও বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে এক লাখ সাশ্রয়ী ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) প্রণীত ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান বা ড্যাপ অনুযায়ী এরই মধ্যে প্রকল্পের স্থান নির্বাচনও হয়ে গেছে। রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের।
মন্ত্রী জানান, গাজীপুরের টঙ্গীর দত্তপাড়ায় জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের ৯৮ একর জমিতে এবং দেশের রাজশাহী, দিনাজপুর, বরিশাল, খুলনা, কুষ্টিয়া, ময়মনসিংহ ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন পৌর এলাকার ৩৭টি বস্তিতে স্বল্প আয়ের মানুষের উন্নত আবাসন নিশ্চিত করতে প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর বাইরেও রাজশাহী, খুলনা ও চট্টগ্রামে চউকের জমিতে ভাড়াভিত্তিক এবং সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
সংসদের একই অধিবেশনে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নাজমুন নাহারের প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন জানান, পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩-এর শাস্তির মেয়াদ, জরিমানা এবং কারাদণ্ড সংক্রান্ত বিষয়গুলো স্টেকহোল্ডারদের মতামতের ভিত্তিতে সংশোধন করা হবে।
এদিকে, নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদার প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, বিগত বছরগুলোতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ভাতা দিতে রাজনৈতিক বিবেচনা ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এই অনিয়ম দূর করতে সারাদেশে প্রকৃত দুস্থদের তালিকাভুক্ত করা এবং ভুয়া সুবিধাভোগীদের বাদ দিতে একটি শুদ্ধি অভিযান ও ডাটাবেজ যাচাই-বাছাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার জন্য গত ১৯ এপ্রিল একটি পুনঃযাচাই-বাছাই কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
ভাতা বৃদ্ধির বিষয়ে ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিনের প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী জানান, দেশে প্রবীণ জনসংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি অর্থবছরে (২০২৫-২৬) ৬১ লাখ উপকারভোগী ৬৫০ টাকা হারে মাসিক ভাতা পাচ্ছেন, যার মোট বরাদ্দ চার হাজার সাতশ ৯১ কোটি ৩১ হাজার টাকা। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এই ভাতা বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে উপকারভোগীর সংখ্যা হবে ৬২ লাখ এবং বরাদ্দ থাকবে পাঁচ হাজার দুইশ ৩৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম রফিকুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আগামী অর্থবছরে ৩০ লাখ বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারীকে ৭০০ টাকা হারে মাসিক ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ভাতা ৯০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০০০ টাকা করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে ৩৮ লাখ উপকারভোগীর জন্য মোট ৪ হাজার ৫৮৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হবে।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সালমান ওমরের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরও জানান, দেশের ৪৪টি জেলার ৫৫টি উপজেলায় পাইলটিং হিসেবে এরইমধ্যে তিনটি পর্যায়ে ৬৯ হাজার তিনশ ৮৭ জন নারী প্রধানের নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ভাতা বিতরণ করা হয়েছে।
রংপুরের পীরগঞ্জে জামায়াতের এক এমপির (রংপুর-৬) বিরুদ্ধে টিআর, কাবিখা ও কাবিটার একাধিক প্রকল্পে ভাগনে-ভগ্নিপতি ও নিকট আত্মীয়কে সভাপতি বানিয়ে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে টেস্ট রিলিফ (টিআর) ৩০ লক্ষ, কাবিটার ২৫ লক্ষ টাকা ও কাবিখার ৪০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য সরকারের বিশেষ বরাদ্দ পেয়েছেন সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমীন। তার সংসদীয় আসনের বিভিন্ন এলাকায় টিআরের (নগদ অর্থ) ১৪টি, কাবিটার ১১টি ও কাবিখার ৫টিসহ মোট ৩০টি প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ বিভাজন করে তিনি প্রকল্প দাখিল করেন।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার ৯ নং সদর ইউনিয়নের তুলারামপুর গ্রামে এমপির বিশেষ বরাদ্দের দুটি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। কাবিখা প্রকল্পে-১০ টন খাদ্যশস্য বরাদ্দে বর্ণিত গ্রামে ইয়াকুব আলীর বাড়ির সামনে ওয়াক্তিয়া নামাজ ঘর উন্নয়ন ও মাঠে মাটি ভরাটকরণ প্রকল্প। এই প্রকল্পের সভাপতি করা হয়েছে এমপির চাচাতো বোনের স্বামী ভগ্নিপতি ইয়াকুব আলীকে।
অপর প্রকল্পটি একই গ্রামের উল্লেখিত ইয়াকুবের বাড়ি থেকে মুশফিকের বাড়ি যাওয়ার রাস্তা সলিংকরণ, ইয়াকুবের পুকুর পাড়ে গাইড ওয়াল নির্মাণ ও মাটি ভরাটকরণ। এ প্রকল্পের সভাপতি করা হয়েছে আগের প্রকল্পের সভাপতি ইয়াকুব আলীর ছেলে সালমান শরিফ শাওনকে। এই দুই প্রকল্পের সভাপতি পিতা-পুত্র। তারা দুজনই সম্পর্কে এমপির ভাগনে ও ভগ্নিপতি।
এছাড়া অন্যান্য প্রকল্পে নিকট আত্মীয়, দলীয় বিভিন্ন পদের নেতা-কর্মীদের সভাপতি করা হয়েছে। এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে সর্বত্র।
তুলারামপুর গ্রামের বাসিন্দা মুকুল মিয়া প্রশ্ন করেন, ওয়াক্তিয়া ঘরের জন্য একাধিক প্রকল্পে এমপি তার বোনজামাই, ভাগনেকে প্রকল্প সভাপতি করায় এর সঠিক বাস্তবায়ন কতটুকু হবে।
ওই গ্রামের মঞ্জু মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তুলারামপুর গ্রামে পুরনো জামে মসজিদ রয়েছে। যেখানে নিয়মিত শতাধিক মুসল্লি নামাজ আদায় করেন। মসজিদটির উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হলেও সেখানে কোনো বরাদ্দ না দিয়ে স্বজনপ্রীতি করে এমপি তার আত্মীয়-স্বজনদের প্রকল্প দিয়েছেন।
এ বিষয়ে প্রকল্প সভাপতি ইয়াকুব আলী বলেন, ‘প্রকল্পে কত টাকা বা কী বরাদ্দ আছে, সেটা আমি জানি না। অফিস থেকে কাজ করতে বলা হয়েছে, তাই কাজ করছি।’
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আব্দুল আজিজ বলেন, ‘অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘কাজ না করে টাকা তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে যদি প্রমাণিত হয়, তাহলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ ব্যাপারে জানতে মুঠোফোনে সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আপনার সঙ্গে পরে কথা হবে।’ এ কথা বলেই তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান অতিরিক্ত সচিব মো. মুহিদুল ইসলাম গত শনিবার (২৭ জুন) নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দর পরিদর্শন করেছেন।
এ সময় তিনি নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দর টার্মিনাল এলাকা, বিশ্বব্যাংক কর্তৃক নির্মাণাধীন নতুন টার্মিনাল ভবন, মাছ ঘাটের নির্মাণাধীন শেড, খানপুর অভ্যন্তরীণ কনটেইনারের নির্মাণাধীন টার্মিনাল, ড্রেজার বেইজ নারায়ণগঞ্জ, উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয়, ডিইপিটিসি এবং ড্রেজার বেইজ হতে শীতলক্ষ্যা নদীর শাহ্ সিমেন্ট ফ্যাক্টরির সম্মুখভাগ এলাকা হয়ে ধলেশ্বরী নদীর মুক্তারপুর ব্রিজ এলাকা পর্যন্ত নৌপথ পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালীন কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল) রকিবুল ইসলাম তালুকদার, পরিচালক, প্রশাসন ও মানবসম্পদ এবং অতিরিক্ত দায়িত্ব (বন্দর ও পরিবহন বিভাগ) মো. সাইফুল ইসলাম, প্রধান প্রকৌশলী (পুর) এ এইচ মো. ফরহাদ উজ্জামান ও নৌসওপ বিভাগের পরিচালক ক্যাপ্টেন মো. শাহজাহানসহ নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের সকল শাখার কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কুলাউড়া উপজেলা শাখার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন গত শনিবার (২৭ জুন) জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কুলাউড়া উপজেলা শাখার আহ্বায়ক ডা. অরুণাভ দে-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন মৌলভীবাজার-২ কুলাউড়া আসনের সংসদ সদস্য মো. শওকতুল ইসলাম।
সংগঠনের সদস্য সচিব অজয় দাস ও সুজিত দে-এর যৌথ সঞ্চালনায় সম্মেলনের উদ্বোধক ছিলেন জেলা শাখার সভাপতি আশু রঞ্জন দাস। অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মৃত্যুঞ্জয় ধর ভোলা।
প্রধান বক্তা ছিলেন জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদ মহিম দে। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ মৌলভীবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নকুল চন্দ্র দাস, কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন বাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সজল এবং বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ মৌলভীবাজার জেলা শাখার সহ-সভাপতি সৌম্য প্রদীপ ভট্টাচার্য, কুলাউড়া প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সুশীল সেনগুপ্ত, সাংবাদিক নাজমুল বারী সোহেল প্রমুখ।
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়াগামী নৌপথে ভুল বশত পদ্মার চরে আটকে পড়া ৯৯৯ ফোন পেয়ে লঞ্চে থাকা ৮৫ জন যাত্রী উদ্ধার করে নিরাপদে নিয়ে আসে দৌলতদিয়া নৌ পুলিশের একটি দল।
নৌপুলিশ জানায়, গত শনিবার (২৭ জুন) রাত পৌনে ৮টার দিকে দৌলতদিয়া লঞ্চ ঘাট থেকে ৮৫ জন যাত্রী নিয়ে এমভি বোয়ালি নামে একটি লঞ্চ পাটুরিয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলে পথিমধ্যে পদ্মা নদীর মাঝখানে কুশাহাটা নামক স্থানে যাত্রীসহ আটকা পরে যায়।
পরে ৯৯৯ মাধ্যমে নৌপুলিশকে সংবাদ দিলে দৌলতদিয়া এবং পাটুরিয়া নৌপুলিশ উদ্ধার করে অন্য আরেকটি লঞ্চ এমভি চিশতিয়াতে স্থানান্তর করে।
এসময় নৌপুলিশের সহায়তায় রাত সাড়ে ১১ টার দিকে নিরাপদে পাটুরিয়া লঞ্চ ঘাটে পৌঁছে দেয় যাত্রীদের। তবে এসময় হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় ধান কাটার কামলা সম্বোধন করে কথা বলাকে কেন্দ্র করে শ্যামল চন্দ্র মালী হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (২৮ জুন) দুপুরে শহরের জিরো পয়েন্টে ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নিহত পরিবারের সদস্যসহ হিন্দু নেতারা অংশ নেয়।
এসময় বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত অধিকার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শিপন কুমার রবিদাস, আইনবিষয়ক সম্পাদক এ্যাড. বাবুল রবিবাস, জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক উজ্জল কুমার দাস ও জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের উপদেষ্টা প্রহল্লাদ বাঁশফোর।
বক্তারা বলেন, গত ৬ জুন আক্কেলপুর উপজেলার কাশিড়া গ্রামের সড়কে ধান কাটার কামলা সম্বোধন করে কথা বলাকে কেন্দ্র করে শ্যামল চন্দ্র মালীর মাথায় গাছের ডাল দিয়ে আঘাত করেন ঢেকুঞ্চা বাউস্ত গ্রামের রেজাউল দেওয়ানের ছেলে হাসান আলী। পরে হাসপাতালে নিলে শ্যামল মারা যায়।
এ ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এদিকে, নিহতের পরিবার নিরাপত্তাসহ ঘটনার জড়িতদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবিতে পুলিশ সুপারের কাছে স্মারক লিপি দিয়েছে।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মাসব্যাপী ‘পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস’ ও ‘বৃক্ষরোপণ ২০২৬’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছে। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে পরিবেশগত স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি এবং সবুজায়ন বাড়ানোর লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসজুড়ে ২০টি ভিন্ন প্রজাতির ১০ হাজার চারা বিতরণ ও রোপণ করবে।
রোববার (২৮ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মতিনুর রহমান এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
এ সময় উপউপাচার্য ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এম. ইয়াকুব আলী; বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম; এবং জেলা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সদস্য সম্পাদক ও কর্মসূচির উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা জানান, মাসব্যাপী এই কর্মসূচিতে এবার ২০ প্রজাতির ১০,০০০ গাছ বিতরণ ও রোপণ করা হবে। আম, ব্ল্যাককারেন্ট, আমলকী, হরিতকী, পেয়ারা, কাঁঠাল, আটা, সফেদা ও জামসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হবে।
সুন্দরবনে চলমান তিন মাসের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধভাবে মাছ শিকারের সময় ট্রলারসহ তিন জেলেকে আটক করেছে বনবিভাগ। এ সময় তাদের ব্যবহৃত ট্রলার, মাছ ধরার জাল ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। পরে আটক জেলেদের বাগেরহাট আদালতে পাঠানো হয়েছে।
বনবিভাগ জানায়, শনিবার (২৭ জুন) সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের স্মার্ট টিম কটকা অভয়ারণ্যের বদরউদ্দিন খালে নিয়মিত টহলকালে একটি ট্রলারে কয়েকজন জেলেকে মাছ ধরতে দেখে। পরে অভিযান চালিয়ে তিন জেলেকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
আটক জেলেরা হলেন, শরণখোলা উপজেলার দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামের বাচ্চু হাওলাদার, মো. সবুর হাওলাদার এবং মালিয়া রাজাপুর গ্রামের মো. বেল্লাল হাওলাদার।
সারাদেশের ন্যায় ফরিদপুর সিভিল সার্জন অফিসের আয়োজনে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬ -এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২৮ জুন) ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাজহারুল ইসলাম।
সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম।
এ সময় জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. বজলুর রশিদ খান, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মো. আশিকুর রহমান, জেলা ইপিআই সুপারভাইজার মামুনুর রশিদ, স্বাস্থ্য পরিদর্শক (ইনচার্জ) এম. শামিম আজাদ, এমওডিসি সদর ডা. অনন্যা সাহা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথি বলেন, অভিভাবকদের নির্ধারিত কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর আহ্বান জানান।
পদ্মা নদীর অববাহিকায় মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার চরাঞ্চলে চলতি মৌসুমে চীনা বাদাম চাষে বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।
সরেজমিনে শিবচরের চরজানাজাত, কাঠালবাড়ী, মাদবরেরচর, হেরাতলা, সন্ন্যাসীরচর, নিলখী, শিরুয়াইল এলাকা সহ বেশ কয়েকটি চরাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে চীনা বাদাম চাষ হয়েছে।
বাদাম চাষিরা বলছেন, গতবার বন্যা-খড়া ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় বাদামের উৎপাদন ভালো না হওয়ায় লোকসানে পড়লেও এবার লোকসান কাটিয়ে তারা লাভের মুখ দেখতে পাবেন, সংসারে ফিরে আসবে স্বচ্ছলতা।
এদিকে ফসলের মাঠ থেকে বাদাম উত্তোলনে চলছে ধুমধাম, নারী-পুরুষ কৃষাণ-কৃষাণিরা রোদ-বৃষ্টির মাঝেও এখন তাদের উৎপাদিত ফসল ঘরে তুলতে ব্যস্ত, শেষ পর্যায়ে রয়েছে বাদাম ঘরে তোলা পালা। কৃষিবিভাগ ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে পদ্মার চরের উর্বর বেলে-দো’আঁশ মাটি ও পলিমাটি বাদাম চাষের জন্য বেশ উপযোগী এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এই মৌসুমে বাদামের বাম্পার ফলন হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবছর বাদামের ফলন দ্বিগুণের কাছাকাছি হয়েছে।
শিবচর উপজেলা কৃষি কর্মকতা মোঃ আলিমুজ্জামান জানান, চরাঞ্চলের উপযোগী মাটি, অনুকূল আবহাওয়া, পোকামাকড়ের আক্রমণ কম হওয়া, সঠিক পরিচর্যা, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার ও কৃষকদের কঠোর পরিশ্রমের কারণে চলতি মৌসুমে বাম্পার ফলনের মুখ দেখলো কৃষকেরা। তিনি আরও বলেন, প্রতিবছরই এই অঞ্চলে চীনা বাদাম চাষের জনপ্রিয়তা ও পরিধি বৃদ্ধি পাচ্ছে। চরজানাজাত এলাকার কৃষক মো. জালালউদ্দিন জানান, আমাদের পদ্মার চরের বাদামের গুণগত মান,স্বাদ, আকার যে কোনও এলাকার চাইতে উন্নত ও অনেক ভালো। তাই মাঠ থেকেই অনেক পাইকার ও ক্রেতারা তা খরিদ করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাচ্ছেন।
শিবচর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি অর্থ বছরে ৬৯০ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ হয়েছে এবং এর মধ্যে শুধু চরজানাজাত ইউনিয়নেই ১২০ হেক্টর জমি এর আওতায় ছিল। উৎপাদিত বাদামের বিক্রয় মূল্য সম্পর্কে কৃষক আ. হামিদ খাঁ বলেন, মানভেদে প্রতিমণ বাদাম ৬ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে, তবে সামনে দাম কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
নীলফামারী জেলা পরিষদের ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য ৮৪ কোটি ৮৫ লাখ ৯০ হাজার টাকার জনবান্ধব ও উন্নয়নমুখী বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। জেলার অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।
রোববার (২৮ জুন) দুপুরে জেলা পরিষদের হলরুমে অনুষ্ঠিত বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাড. মিজানুর রহমান চৌধুরী শামীম আনুষ্ঠানিকভাবে বাজেট উপস্থাপন করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আক্তার হোসেন শাহিন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ, সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা, জেলা জজ কোর্টের জিপি আবু মোহাম্মদ সোয়েম, জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফিরোজ হাসান, জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী মামুন উর রশিদসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
বাজেট ঘোষণা শেষে জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাড. মিজানুর রহমান চৌধুরী শামীম বলেন, ‘এই বাজেট জেলার সার্বিক ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, গ্রামীণ সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়ন, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে জেলার মানুষের প্রত্যাশা পূরণে জেলা পরিষদ কাজ করবে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করাই এ বাজেটের অন্যতম লক্ষ্য।’
জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঘোষিত বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে জেলার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের গতি আরও ত্বরান্বিত হবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চট্টগ্রামের বোয়ালখালী থানার নতুন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মোহাম্মদ মোজাফফর হোসেন। দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান থানার কর্মকর্তা ও সদস্যরা। একই অনুষ্ঠানে বিদায়ী ওসি মাহফুজুর রহমানকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
রোববার (২৮ জুন) বিকেলে বোয়ালখালী থানা ওসির কার্যালয়ে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে থানার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রশাসনিক বদলির অংশ হিসেবে ওসি মাহফুজুর রহমানকে অন্য কর্মস্থলে বদলি করা হয়েছে। তার স্থলাভিষিক্ত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মোহাম্মদ মোজাফফর হোসেন। অনুষ্ঠানে বিদায়ী ও নবাগত দুই কর্মকর্তার কর্মজীবনের সফলতা কামনা করা হয়।
উল্লেখ্য, মাহফুজুর রহমান গত বছরের ৭ ডিসেম্বর বোয়ালখালী থানায় যোগদান করেন এবং রোববার ছিল তার শেষ কর্মদিবস। প্রায় সাত মাস দায়িত্ব পালনের পর তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগ দিচ্ছেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই জুয়েল রানা, এসআই ফারুখ, এসআই আজম খানসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা।