বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

সজীব বনে বাণিজ্যিক জাহাজের হানা

বাণিজ্যিক জাহাজগুলো সুন্দরবনের পশুর নদী দিয়ে বঙ্গোপসাগর থেকে মোংলা বন্দরের দিকে এগোচ্ছে। এতে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বনের পরিবেশ। ফাইল ছবি
আপডেটেড
৩ এপ্রিল, ২০২৪ ০০:০১
আওয়াল শেখ, খুলনা ব্যুরো
প্রকাশিত
আওয়াল শেখ, খুলনা ব্যুরো
প্রকাশিত : ২ এপ্রিল, ২০২৪ ২৩:৫৯

বিশ্বের একক বৃহত্তম লবণাক্ত পানির বনভূমি সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে দুটি আন্তর্জাতিক নৌ যোগাযোগ পথ। সে পথে প্রতিদিন গড়ে ৩৪৫টি জাহাজ চলাচল করছে। যার কারণে বন্য পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

জীববৈচিত্র্যের এক বিশাল সমাহার সুন্দরবন। বন বিভাগের তথ্য মতে, সেখানে ৩৩৪ প্রজাতির উদ্ভিদ, ১৬৫ প্রজাতির শৈবাল, ১৩ প্রজাতির অর্কিড, ২৮৯ প্রজাতির স্থলজ প্রাণী, ৪২ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৩৫ প্রজাতির সরীসৃপ, ৮ প্রজাতির উভচর, বিভিন্ন প্রজাতির মাছসহ ২১৯ প্রজাতির জলজ প্রাণী ও ৩২০ প্রজাতির পাখি বসবাস করে। ১৯৯৭ সালের ৬ ডিসেম্বর ইউনেস্কো বিশ্বঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে এটিকে স্বীকৃতি দিয়েছে।

বন বিভাগ জানায়, ১৮৭৮ সাল থেকে সমগ্র সুন্দরবন এলাকাকে সংরক্ষিত বন হিসাবে ঘোষণা দেওয়া রয়েছে। পূর্ব অনুমতি ছাড়া নেওয়া কারও প্রবেশের অধিকার নেই। তবে সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে এই নৌপথ থাকলেও, জাহাজগুলোর কার্যক্রম বা অপরাধ নিয়ন্ত্রণের কোনো ক্ষমতা বন বিভাগের নেই। কারণ ওই দুটি আন্তর্জাতিক নৌপথ পৃথক আইন ও চুক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

জাহাজ চলাচলকারী এ দুটি আন্তর্জাতিক নৌপথের মধ্যে, একটি হল মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের (এমপিএ) পশুর নদীর চ্যানেল। অন্যটি হলো ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্যের জন্য ঢাকা-কলকতা নৌপথ।

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোংলা সমুদ্র বন্দরটি সুন্দরবনের পাশঘেঁষা পশুর নদীর তীরে অবস্থিত। যেটি বঙ্গোপসাগরের ১৩১ কিলোমিটার ভাটাতে কার্যক্রম চালায়। মোংলা বন্দরে বৈদেশিক জাহাজ যাতায়াতের জন্য সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে পশুর চ্যানেলের এই ১৩১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়।

এ ছাড়া বড় আকারের জাহাজগুলো বন্দরের ২৩ কিলোমিটার ভাটাতে সুন্দরবনের মধ্যে হাড়বাড়িয়া এলাকায় নোঙর করে পণ্য খালাস করে। ওই এলাকায়ও অবাধে যাতায়াতে রয়েছে ছোট আকারের লাইটার জাহাজের।

বন বিভাগের তথ্য মতে, মোংলা বন্দরের বাণিজ্যিক কাজে পশুর নদীর এই নৌপথে প্রতিদিন গড়ে দেশি-বিদেশি ২২৫টি বিভিন্ন আকারের জাহাজ চলাচল করে।

সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে আরেকটি বাণিজ্যক নৌপথ রয়েছে প্রায় ১০০ কিলোমিটারের। এই পথে পণ্য পরিবহনের জন্য জাহাজগুলো মোংলা বন্দর হয়ে সুন্দরবনের আরেক বৃহৎ নদী শিবসায় প্রবেশ করে। সেখান থেকে আড়ুয়া শিবসা, বজবজা, আড়পাঙ্গাসিয়া, কাচিকাটা ও কালিঞ্চি নদী পাড়ি দিয়ে ভারতের হেমনগরে প্রবেশ করে। সুন্দরবনের এই অংশ পাড়ি দিতে জাহাজগুলোর সময় লাগে ৭ থেকে ১২ ঘণ্টার মতো। খুলনার কয়রা উপজেলার আংটিহারা কাস্টমস চেক পোস্টে জাহাজগুলোর শুল্কসংক্রান্ত আনুষঙ্গিকতা শেষ করতে হয়। বন বিভাগের দেওয়া তথ্য মতে, এই নৌপথে প্রতিদিন গড়ে ১২০টি লাইটার জাহাজ চলাচল করে।

এই নৌপথের মধ্যে শিবসা নদীতে রয়েছে ডলফিনের অভয়ারণ্য রয়েছে। যার মধ্যে বাফার জোন ৫০৫ হেক্টর ও কোর জোন ১৬৫০ হেক্টর অভয়ারণ্য। সেখানে বিরল প্রজাতির গাঙ্গেয় ও ইরাবতি ডলফিনের বসবাস। অবাধে জাহাজ চলাচল, শব্দ ও পানিদূষণে হুমকির মুখে পড়বে এসব ডলফিন।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়কারী আইনজীবী মো. বাবুল হাওলাদার বলেন, ‘আমাদের সংবিধানের ১৮/ক ধারায় পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য সরকার দায়বদ্ধ। সেখানে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, প্রাকৃতিক সম্পদ, জীব-বৈচিত্র্য, জলাভূমি, বন ও বন্যপ্রাণীর সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধান রাষ্ট্র নিশ্চিত করবে।’

এই আইনজীবী বলেন, ২০১১ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সুন্দরবন ও বেঙ্গল টাইগার রক্ষায় বিষয়ে দুটি সমঝোতা স্মারক করেছিল। এই চুক্তি থাকায় বন রক্ষার স্বার্থে নৌপথ নিয়ে দুই দেশে বিকল্প সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে চুক্তির কোনো অগ্রগতি এখনো দেখা যায়নি। এটি সঠিকভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে সুন্দরবন পুনরুদ্ধার ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘সংরক্ষিত বনের মধ্যে নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রিত করা উচিত। কারণ প্রত্যেক বছর আমরা দেখতে পাচ্ছি সুন্দরবনের মধ্যে জাহাজ ডুবছে। অধিকাংশ জাহাজের সার্ভে সনদের মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেলেও, তা দিয়ে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলছে। অন্যদিকে বন বিভাগের ক্ষমতা না থাকায় জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছে না।’

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ (এমপিএ) ও বন বিভাগের (এফডি) কয়েকটি নথি থেকে পাওয়া গেছে, গত ১০ বছরে সুন্দরবনের মধ্যে ২৬টি বাণিজ্যিক জাহাজ ডুবেছে। এসব জাহাজের মধ্যে সার, সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল ক্লিংকার ও স্লাগ, পাথর ও কয়লা, ফার্নেস অয়েল ও তেল ছিল।

বনের মধ্যে ডুবে যাওয়া এসব জাহাজ উদ্ধারের প্রক্রিয়াও বেশ জটিল। নারায়ণগঞ্জ থেকে বিআইডব্লিউটিএর উদ্ধারকারী জাহাজ এনে এসব নৌযান উদ্ধারে প্রায় এক মাস সময় লেগে যায়। ততদিনে জোয়ার-ভাটার মাধ্যমে বিভিন্ন রাসায়নিক ছড়িয়ে পড়ে পানিতে। যদিও মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মীর এরশাদ আলী জানিয়েছেন, সম্প্রতি তারা নদী থেকে অয়েল স্পিল রিকভারি ভ্যাসেল ও সলিড ওয়েস্ট কালেকশন ভ্যাসেল সংগ্রহ করার উদ্যোগ নিয়েছেন।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিন প্রধান অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ হারুন চৌধুরী বলেন, জাহাজ ডুবে যাওয়ার ফলে বিভিন্ন জলজ জীব-বৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক প্রাণী মারা যায় বা তাদের প্রজনন ক্ষমতা কমে যায়। জলজ খাদ্য শৃঙ্খলেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। দূষিত পানি জোয়ারের সময় বনের মাটিতেও ছড়িয়ে পড়ে। ফলে নতুন করে চারা গজানোর ক্ষমতায় বিরূপ প্রভাব পড়ে।

তিনি বলেন, বনের পানির মধ্যে থাকা জলজ প্রাণী ও স্থলের বৃক্ষ সম্পদসহ সব কিছু মিলে একটি বাস্তুতন্ত্র তৈরি হয়। সেখানের একটির ক্ষতি হলে, সমগ্র বনের ওপর একটি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

এ ছাড়া জাহাজে চলাচলে নদীর ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে বলে জানান সুন্দরবন একাডেমির পরিচালক ফারুক আহমেদ। তিনি বলেন, চলাচলের সময়ে জাহাজের ঢেউয়ের কারণে কোথাও কোথাও নদীভাঙন ঘটে। সেই পলি পড়ে অনেক নদীর নাব্যও কমে যায়। যা জলজ পরিবেশের ওপর আঘাত হানে।

সুন্দরবনের এসব ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকারকে সুপারিশের পরিকল্পনা করেছে বন বিভাগ। বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো বলেন, আগে শ্যালা নদী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করত। ওই নদীটাও ডলফিনের অভয়ারণ্য। তবে একবার তেলবাহী জাহাজ ডুবে যাওয়ার ফলে বনের জীব-বৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকিতে পড়েছে। তখন ক্ষয়ক্ষতি নির্ণয় করে সরকারের কাছে নৌপথটি বন্ধের আবেদন করা হয়েছিল। বিকল্প একটি বন্ধ হয়ে যাওয়া নৌপথ খনন করে সরকারের পক্ষ থেকে শ্যালা নদীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, তবে বর্তমানে দুটি আন্তর্জাতিক রুটে জাহাজ চলাচল করছে। জাহাজ চলাচলে বনের কি পরিমাণ ক্ষতি হচ্ছে, তা নিয়ে একটি গবেষণা কার্যক্রম চলছে। এটি শেষ হলে বন্য পরিবেশ রক্ষায় কি কি করণীয়, সেই বিষয়গুলো নিয়ে সরকারের কাছে সুপারিশ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক গুরুত্ব থাকায় দুই রুটে হয়তো একেবারেই চলাচল বন্ধ করা যাবে না। তবে কি কি ভাবে বনের ক্ষতি কমানো যাবে, সেসব বিষয়কে প্রধান্য দিয়ে গবেষণাটি এগোচ্ছে।


নির্বাচিত

মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে কমলগঞ্জে চা-শ্রমিকদের বিক্ষোভ সমাবেশ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

জাতীয় সংসদে উত্থাপিত চা-শ্রমিকদের দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি অবিলম্বে কার্যকর, কুরমা চা-বাগানের বকেয়া মজুরিসহ সকল পাওনা পরিশোধ এবং শ্রম অধিদপ্তরের অবৈধ হস্তক্ষেপমুক্ত চা-শ্রমিক ইউনিয়নের অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন সাধারণ চা-শ্রমিকরা। বুধবার (২২ জুলাই) সকালে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার কুরমা চা-বাগানে ‘সাধারণ চা-শ্রমিক ও ছাত্র যুবরা’-এর ব্যানারে এক বিশাল ও উত্তাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বিক্ষুব্ধ বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ‘জাতীয় সংসদে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব উত্থাপন করেও পরবর্তীতে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। সরকারের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষোভ ও চরম হতাশায় চা শ্রমিকরা।’ দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির এই বাজারে বর্তমান স্বল্প মজুরিতে পরিবার চালানো একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়েছে। শিক্ষা, চিকিৎসা ও নিত্যপণ্যের খরচ মেটাতে গিয়ে অধিকাংশ শ্রমিক পরিবার ঋণের জালে জর্জরিত। চা-শিল্প দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হলেও এর পেছনে জড়িয়ে থাকা মূল কারিগররা আজও ন্যায্য মজুরি ও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত।

সমাবেশে উঠে আসে কুরমা চা-বাগানের মানবিক বিপর্যয়ের চিত্র। বক্তারা জানান, টানা চার সপ্তাহ ধরে কুরমা চা-বাগানের শ্রমিকদের মজুরি বন্ধ রয়েছে। ফলে শত শত শ্রমিক পরিবার চরম অনাহার ও মানবেতর জীবনযাপন করছে। সমাবেশ থেকে অবিলম্বে এই চার সপ্তাহের বকেয়া মজুরিসহ শ্রমিকদের সকল পাওনা পরিশোধের জোর দাবি জানানো হয়।

একই সাথে শ্রম অধিদপ্তরের কোনো প্রকার অবৈধ হস্তক্ষেপ ছাড়া চা-শ্রমিক ইউনিয়নের একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জোর দাবি তোলেন শ্রমিক নেতারা, যাতে তারা স্বাধীনভাবে নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচন করার গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পান।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন; চা-শ্রমিক নারী নেত্রী গীতা রানী কানু, ইউপি সদস্য নুরুল হক, শমশেরনগর চা-বাগানের শ্রমিক নেত্রী লছমি রানী রাজভর ও সুজিত পাশাসহ স্থানীয় ছাত্র-যুব নেতারা।

বক্তারা অনতিবিলম্বে সংসদে উত্থাপিত দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি কার্যকর, বকেয়া মজুরি পরিশোধ এবং শ্রমিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার বাস্তবায়নে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু ও জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


নির্বাচিত

বরেন্দ্রে আমন চাষে সেচের চাপ, বাড়তি খরচে দুশ্চিন্তায় কৃষক

* কম বৃষ্টিতে গভীর নলকূপেই ভরসা
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আব্দুর রব নাহিদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

বরেন্দ্র অঞ্চলের মাঠজুড়ে এখন আমন ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। কেউ জমি প্রস্তুত করছেন, আবার কেউ ব্যস্ত চারা রোপণে। আষাঢ় শেষ হয়ে শ্রাবণ শুরু হলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জে যে বৃষ্টিপাত হয়েছে তা আমন আবাদের জন্য পর্যান্ত নয় বলছেন কৃষকরা। ফলে আমন আবাদে কৃষকদের নির্ভরতা গভীর নলকূপের পানির ওপর। এতে বাড়ছে উৎপাদন খরচ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মহাডাঙ্গা এলাকা ও নাচোল উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, আমন আবাদ নিয়ে ব্যস্ত কৃষকরা। কোথাও জমি চাষের কাজ চলছে, কোথাও গভীর নলকূপের পানি দিয়ে জমিতে কাদা তৈরি করা হচ্ছে, আবার কোথাও শ্রমিকেরা সারিবদ্ধভাবে আমনের চারা রোপণ করছেন। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবার কয়েকদিন কিছুটা বৃষ্টি হয়েও তা আবাদের জন্য পর্যাপ্ত নয়, তাই আমন আবাদে শুরু থেকেই সেচের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে জমি প্রস্তুত ও চারা রোপণের খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

কৃষকেরা জানান, একসময় বরেন্দ্র অঞ্চলে আমন ধানের আবাদ পুরোপুরি বৃষ্টি নির্ভর ছিল। বর্ষার পানিতেই জমি প্রস্তুত হয়ে যেত এবং চারা রোপণের কাজ সম্পন্ন হতো। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় এখন গভীর নলকূপের পানি ছাড়া আমন চাষ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় বছরে জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসে গড় বৃষ্টিপাত ধারাবাহিকভাবে কমেছে। এর প্রভাব পড়ছে বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষিতে। বিশেষ করে আমনের মতো বৃষ্টিনির্ভর ফসল এখন ক্রমেই সেচনির্ভর হয়ে উঠছে।

নাচোল উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষক মনিরুল ইসলাম এবার ১০ বিঘা জমিতে আমনের আবাদ করছেন। তিনি জানান, এর মধ্যে ছয় বিঘা জমিতে পুরোপুরি সেচের পানি ব্যবহার করতে হয়েছে। বাকি চার বিঘা জমিতে কিছুটা বৃষ্টির পানি পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, প্রতি বিঘা জমিতে সেচ বাবদ প্রায় ৬২৫ টাকা, শ্রমিক খরচ প্রায় ৪ হাজার টাকা এবং চারা রোপণসহ অন্যান্য কাজে আরও প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকা ব্যয় হচ্ছে। এতে আগের তুলনায় উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে।

কৃষকরা বলছেন, সেচের খরচের পাশাপাশি শ্রমিকের মজুরি, সার, বীজ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের দামও বেড়েছে। কিন্তু ধানের দাম সেই অনুপাতে না বাড়ায় ধান চাষে লাভ কমে যাচ্ছে।

শাহিন আলী নামে আরেক কৃষক বলেন, ধান করতে যে খরচ তাতে খুব বেশি লাভ হয়না, সামান সমান, বা একটু বেশি থাকে। ওই বেশিটায় হ্যামার দিন মুজুরী বলতে পারেন। সারাবছর জমিতে কাজ করতে পারছি, লাভ বলতে এটায়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, এবার জেলায় ৫৩ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত আবাদ হয়েছে ২ হাজার ৪৯০ হেক্টর জমিতে।


নির্বাচিত

সড়কের পাশে পড়েছিল এস এ পরিবহনের চালকের মরদেহ

* পরিবারের দাবি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২২ জুলাই, ২০২৬ ১৯:২৭
রাকিবুল হাসান রোকেল, কিশোরগঞ্জ

কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে থেকে মানিক মিয়া (৩৮) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি, এটি কোনো সড়ক দুর্ঘটনা নয়; পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। বুধবার (২২ জুলাই) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বিন্নাটি ইউনিয়নের বিসিআইসি গোডাউনের সামনে থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত মানিক মিয়া ইটনা উপজেলার রায়টুটী ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হেকিমের ছেলে। তিনি ঢাকায় এসএ পরিবহনের গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চাকরির সুবাদে ঢাকায় থাকলেও নিয়মিত বাড়িতে যাতায়াত করতেন।

নিহতের বড় ভাই এমদাদুল হক শাহিন বলেন, ‘আমার ছোট ভাইয়ের আজ অফিসের কাজে রাজশাহী যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কীভাবে বা কী কারণে সে কিশোরগঞ্জে এলো, তা আমরা বুঝতে পারছি না। কিশোরগঞ্জে এলে আমাদের জানানোর কথা ছিল। সন্ধ্যায় তার অন্যান্য সহকর্মীরা অফিস থেকে গাড়ি নিয়ে বের হন। পরে সে কেন মোটরসাইকেলে করে কিশোরগঞ্জে এলো, বিষয়টি আমাদের কাছে রহস্যজনক মনে হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এটিকে সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে দেখছি না। আমাদের ধারণা, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।’

কটিয়াদী হাইওয়ে থানার ওসি এবিএম মেহেদী মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, রাতের কোনো একসময় অজ্ঞাত একটি গাড়ি তাকে চাপা দিয়ে চলে যায়। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি জানান, ঘটনাস্থল থেকে মানিকের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

রায়টুটী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন খান মিল্কী জানান, পুলিশের মাধ্যমে খবর পেয়ে নিহতের পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে যায়।


নির্বাচিত

ভাঙ্গায় বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়ির বেড়া ভাঙার অভিযোগ, নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহবুব পিয়াল, ফরিদপুর

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার বসতবাড়ির বেড়া ভেঙে জায়গা দখলের চেষ্টা এবং পরিবারসহ প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. লোকমান হোসেন (৭৫) ভাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়, ভাঙ্গা পৌরসভার রায়পাড়া সদরদী গ্রামের লোকমান হোসেনের সঙ্গে একই এলাকার কয়েকজনের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর আগে সরকারি আমিন দিয়ে জমি পরিমাপ করা হলেও তা সঠিক হয়নি দাবি করে তিনি পুনরায় পরিমাপের দাবি জানান। এরপর থেকেই অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে তার বসতবাড়ির টিনের বেড়া ভাঙচুর, জায়গা দখলের চেষ্টা এবং গাছপালা কাটার উদ্যোগ নেয় বলে অভিযোগ।

ভুক্তভোগীর দাবি, গত ১৬ জুলাই সকালে অভিযুক্তরা বাড়ির সামনে এসে প্রকাশ্যে হুমকি দেয় এবং ভবিষ্যতে জোরপূর্বক সম্পত্তি দখল ও বাধা দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এতে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।

লোকমান হোসেন বলেন, “দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি। আজ নিজ বাড়িতেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার ও পরিবারের নিরাপত্তা চাই।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত মমিন কাজী বলেন, বিরোধপূর্ণ জমি একাধিকবার সালিশ ও সরকারি আমিন দিয়ে পরিমাপ করা হয়েছে। সালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের প্রাপ্য জমির মধ্যে থাকা বেড়া সরানো না হওয়ায় তারা বেড়া ভেঙেছেন। কাউকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয় বলেও দাবি করেন তিনি।

ভাঙ্গা থানার পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


নির্বাচিত

৫ ও ১৫ আগষ্ট ঘিরে নজরদারী বাড়িয়েছে কেএমপি

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা প্রতিনিধি

আগামী ৫ ও ১৫ আগষ্টে নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল সমাবেশ রুখতে সর্তকতা অবলম্বন করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ। ইতোমধ্যেই ফেসবুকে উসকানি, মিছিল মিটিং, সমাবেশ কিংবা অর্থ জোগান দিয়েছেন-এমন ৬০জন প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ ও তার অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের একটি চাঞ্চল্যকর তালিকা তৈরী করেছে গোয়েন্দা সংস্থা। তবে ওই দুই দিবসে ঝটিকা মিছিল হওয়ার আশংকা থাকলেই নগরীতে নাশকতার কোনো আশঙ্কা নেই।

পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, সদ্য তৈরী করা তালিকা মহানগরীর ৮ থানাসহ সকল ফাঁড়ির কাছে দেওয়া হয়েছে। তালিকা অনুযায়ি তাদের গ্রেপ্তারেরও নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

সূত্রটি আরো জানায়, বিভাগীয় শহর চট্রগ্রাম ও খুলনা থেকে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে নামে ও বেনামে ভুয়া একাউন্টের মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এতে পুলিশ আরও কঠোর অবস্থানের রয়েছে বলে কেএমপি’র একটি সূত্র জানায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট সাবেক প্রধান মন্ত্রী ও কর্মকান্ড নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান। ফলে ওইদিন এই দলটি খুলনাসহ সারাদেশে প্রতিবাদ কর্মসূচি দিতে পারে। এছাড়া ১৫ আগষ্ট সাবেক রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদত বার্ষিকী। ফলে নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের জন্য দিবসটি গুরুত্বপূর্ণ।

কেএমপি’র অপরাধ বিভাগের একটি সূত্র জানায়, জুলাই ও আগষ্ট মাস জুড়ে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। নিষিদ্ধ সংগঠন নগরীতে যেন কোনো ধরনের তৎপরতা চালাতে না পারে সে জন্য কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

এ নামের তালিকাগুলো মহানগরীর আটটি থানা ও থানার অধিনে সকল ফাঁড়িতে দেওয়া হয়েছে।

সূত্রটি আরও জানায়, দেশের দুইটি বিভাগীয় শহর থেকে ভুয়া আইডির মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চলাচ্ছে সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা। তাদেরকে শনাক্ত করা গেছে। তারা উভয় খুলনার প্রোগ্রামগুলো চট্রগ্রাম থেকে এবং চট্রগ্রামেরগুলো খুলনা থেকে প্রচার করছেন। অতিদ্রুত তাদের গ্রেপ্তারের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করবে পুলিশ।

কেএমপি পুলিশ কামিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান বলেন, আগস্টের দুইটি দিবসে পুলিশ সতর্ক এবং ব্যাপক পস্তুতি নিয়েছে। এ দিবসগুলোকে কেন্দ্র করে নগরীতে চেকপোষ্টের সংখ্যা ও পুলিশের ডিউটি বাড়ানো হয়েছে।


নির্বাচিত

হাওরে ঘুরতে এসে নিখোঁজ পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের হাওরে বন্ধু ও সহকর্মীদের সঙ্গে হাওরে ঘুরতে এসে নিখোঁজের একদিন পর এক পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।

বুধবার (২২ জুলাই) বেলা ১২টার দিকে ইটনা উপজেলার বাদলা ইউনিয়নের বর্শিকুড়া-শেরপুর হাওরের বগাডুবি সেতুর নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বেলা আড়াইটার দিকে নিখোঁজ হন তিনি।

নিহত কাউসার ইসলাম পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বড়িপাশা গ্রামের আবদুর রব শিকদারের ছেলে। তিনি বে কোম্পানির উত্তরা শোরুমে ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

নিহতের বড় ভাই নজরুল ইসলাম জানান, গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে কাউসারসহ ৫৬ জনের একটি দল ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জের হাওরে ঘুরতে আসেন। তারা গাড়িযোগে ইটনা উপজেলার চৌগাংগা এলাকায় পৌঁছানোর পর নৌকাযোগে বগাডুবি সেতু এলাকায় যান। দুপুর আড়াইটার দিকে সেতু-সংলগ্ন ডুবে যাওয়া সড়কে কয়েকজন গোসল করতে নামেন। এ সময় একজনকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে কাউসার পানিতে তলিয়ে যান। পরে আশপাশে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। কাউসার ইসলাম সাঁতার জানতেন না বলেও জানান তিনি।

কাউসারের সহকর্মী মিজানুর রহমান জানান, গোসলের সময় তাদের আরেক সহকর্মী সাগর ইসলাম স্রোতে তলিয়ে যাচ্ছিলেন। তাকে উদ্ধারের জন্য কাউসারসহ কয়েকজন এগিয়ে যান। একপর্যায়ে উদ্ধারকারীরাও স্রোতে পড়ে যান। পরে সাগর ইসলামকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হলেও কাউসারকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

বাদলা পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) নঈমুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় ওইদিন অভিযান স্থগিত করা হয়। বুধবার (২২ জুলাই) সকালে আবারও উদ্ধার অভিযান শুরু হলে বেলা ১২টার দিকে বগাডুবি সেতুর নিচ থেকে কাউসার ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও জানান, নিহতের পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসেছেন। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।


নির্বাচিত

রাঙামাটিতে উদ্ধার হওয়া ৪৭টি মোবাইল ফোন মালিকদের হস্তান্তর

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিজয় ধর, রাঙামাটি 

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেলের সফল প্রচেষ্টায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় উদ্ধার করা হয়েছে হারিয়ে যাওয়া ৪৭টি মোবাইল ফোন।

উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোনগুলো গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রকৃত মালিকদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব। তিনি বলেন, ‘জনসেবার মান উন্নয়নে এবং অপরাধ দমনে প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিংকে আরও কার্যকর করতে জেলা পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’

পুলিশ সূত্র জানা গেছে, রাঙামাটি জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনগুলো তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শনাক্ত ও উদ্ধার করে জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেল।

অনুষ্ঠানে মোবাইল ফোন ফিরে পেয়ে ভুক্তভোগীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং পুলিশ সুপারসহ রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ইকবাল হোছাইন, সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং সেলের অন্যান্য সদস্যরা।

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশ জানিয়েছে, জনসেবায় সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থেকে প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিংয়ের মাধ্যমে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।


নির্বাচিত

বন্যায় ভেসে গেছে কৃষকের স্বপ্ন, আমন ধানে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

কয়েকদিন আগেও মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে ছিল ফসল ও সবজি ক্ষেতের সবুজ সমারোহ। আউশ ধান, আমনের বীজতলা আর মৌসুমি সবজির ফলন দেখে কৃষকের মুখে ছিল স্বস্তির হাসি। ব্যাংক ঋণ ও ধারদেনা করে ফলানো সেই ফসল ঘরে তুলে ঋণ শোধের পাশাপাশি পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন ছিল তাদের। তবে আকস্মিক বন্যা মুহূর্তেই সব স্বপ্ন তছনছ করে দিয়েছে।

বন্যার পানি নেমে গেলেও রেখে গেছে শুধুই কাদামাটিতে চাপা পড়ে থাকা কৃষকের ঘাম, শ্রম ও নিঃশ্বাসের নির্মম চিহ্ন। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন ক্ষতবিক্ষত জমি আর হতাশ কৃষকের দীর্ঘশ্বাস। তবুও বুকভরা কষ্ট চেপে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সংগ্রামে মাঠে নেমেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।

সাম্প্রতিক এ বন্যায় উপজেলার আউশ ধান, আমনের বীজতলা ও মৌসুমি সবজি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক জমিতে বানের সঙ্গে ভেসে আসা পলি ও বালু জমে থাকায় নতুন করে আবাদ শুরু করতে অতিরিক্ত খরচ গুণতে হচ্ছে। তবুও ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কেউ বীজতলা প্রস্তুত করছেন, কেউ জমি পরিষ্কার করছেন, আবার কেউবা রোপা আমনের জন্য জমি তৈরি করছেন। তাদের একটাই লক্ষ্য—আমন মৌসুমের মাধ্যমে অন্তত আউশের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া।
জানা গেছে, সাম্প্রতিক বন্যায় উপজেলায় প্রায় ৭০ হেক্টর আউশ ধানের জমি, ৩০ হেক্টর আমনের বীজতলা এবং ২৬ হেক্টর সবজি ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উপজেলার মখাবিল এলাকার টমেটো চাষি আব্দুর রহিম আকুতি জানিয়ে বলেন, ‘ঋণ করে দুই কিয়ার জমিতে টমেটো চাষ করেছিলাম। বানের পানিতে সব শেষ হয়ে গেছে। ঋণের টাকা কীভাবে পরিশোধ করব, সেই চিন্তায় রাতে ঘুম আসে না।’
পতনউষার ইউনিয়ন এলাকার কৃষক শাহাজাহান মিয়া বলেন, ‘আমাদের এলাকা সরাসরি নদীভাঙনের শিকার না হলেও নিচু হওয়ায় ধানের জমি তলিয়ে ছিল। এখন ফসল আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’

বীজতলা হারানো কৃষক রাজ্জাক মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, ‘বানের পানিতে আমার আমনের বীজতলা পুরো নষ্ট হয়ে গেছে। এখন কীভাবে রোপা আমনের আবাদ করব বুঝতে পারছি না।’

কৃষক জাহাঙ্গীর মিয়া ক্ষোভ ও কষ্টে বলেন, ‘ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে টমেটো চাষ করেছিলাম। এখন সংসার চালানো আর ঋণ শোধ করা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছি।’

এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার রায় জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলমান রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে যত দ্রুত সম্ভব ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে বীজ ও সারসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ বিতরণের ব্যবস্থা করা হবে।’

বন্যার আঘাতে স্বপ্ন চুরমার হলেও থেমে নেই কমলগঞ্জের কৃষকরা। ক্ষতি সামলে নতুন আশায় ও উদ্যমে আবারও মাঠে ফিরেছেন তারা।


নির্বাচিত

মাদারীপুরে কেমিক্যাল মিশ্রিত চাষের শিং বিক্রি হয় ‘দেশি মাছ’ নামে

* প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতারা, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাদারীপুর প্রতিনিধি

মাদারীপুরের বিভিন্ন মাছের বাজারে অতি মুনাফার লোভে এখন হরহামেশা কেমিক্যাল মিশ্রিত চাষ করা শিং মাছ হলুদ রঙের বানিয়ে দেশি শিং মাছ বলে বিক্রি করছেন কিছু অসাধু মাছ ব্যবসায়ী। এতে ক্যান্সার ও কিডনি ড্যামেজ হওয়াসহ দুরারোগ্য নানা জটিল রোগের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে মাদারীপুরের প্রসিদ্ধ ইটেরপুল মাছ বাজারে সরেজমিনে দেখা যায় ওই বাজারের বেশ কয়েকজন মাছ বিক্রেতা এই ধরনের শিং মাছ বিক্রি করছেন। এ ব্যাপারে ওই বাজারে খুচরা বিক্রেতা মো. শহীদ মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি ভিডিও সাক্ষাৎকারে তা অকপটে স্বীকার করে বলেন, ‘আমরা খুচরা মাছ বিক্রেতা, মাদারীপুরের বৃহত্তর মস্তফাপুর মাছের আড়ত থেকে এই শিং মাছসহ অন্যান্য মাছ পাইকারি ক্রয় করে এখানের বাজারে এনে খুচরা বিক্রি করি।’ তিনি আরও বলেন, ‘সেখানকার আড়তদাররা ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন আড়ত থেকে চাষ করা শিং মাছ প্লাস্টিকের ড্রামে করে মস্তফাপুর আড়তে এনে বিক্রি করেন, মূলত মস্তফাপুর আড়ত থেকেই মাছ হলুদ করার কেমিক্যাল ড্রামের পানির মধ্যে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং মাছগুলো ওই ড্রামের পানি খেয়েই হলুদ আকার ধারণ করে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক ক্রেতা বলেন, ‘চাষের শিং মাছের দাম কম, আর দেশি শিং মাছের দাম অনেক বেশি। তাই অসাধু মাছ বিক্রেতারা ক্রেতাদের ঠকিয়ে বেশি দামে বিক্রির জন্যই এমন অনৈতিক, বেআইনি ও কেমিক্যাল মিশ্রিত করে তা বিক্রি করছেন, যা স্বাস্থ্যের জন্য ভয়ানক ক্ষতিকর হবে নিঃসন্দেহে।’ তারা এ ব্যাপারে মাদারীপুর জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ভোক্তা অধিকার কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন।


নির্বাচিত

রেলের ইঞ্জিনের সংকটে কমেছে পণ্য সরবরাহ, যাত্রী খাতে বেড়েছে আয়

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

যাত্রী ও পণ্য পরিবহন সম্প্রসারণ, নতুন ট্রেন চালু, টিকিট বিক্রিতে ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির ফলে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে বাংলাদেশ রেলওয়ের রাজস্ব আয়। বিশেষ করে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যাত্রীভাড়া অপরিবর্তিত থাকা সত্ত্বেও আগের অর্থবছরের তুলনায় রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে আয়-ব্যয়ের ব্যবধানও কমেছে, যা রেলওয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির মোট রাজস্ব আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা। এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ আয় ছিল ১ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে রাজস্ব আয় বেড়েছে ২২১ কোটি টাকা। যদিও ইঞ্জিন সংকটের কারণে পণ্য পরিবহন খাতে আয় কমেছে প্রায় ৯ কোটি টাকা। গত রোববার বাংলাদেশ রেলওয়ের জনসংযোগ শাখার পরিচালক আনিসুর রহমান আয়-ব্যয়ের এ তথ্য প্রকাশ করেন।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, বর্তমান রেলওয়ে সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম এবং মহাপরিচালক আফজাল হোসেন দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আর্থিক সংস্কার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তাদের নেতৃত্বে বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত, নিয়মিত যাচাই-বাছাই ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক তদবির, অনিয়ম, ঘুষ এবং প্রভাবমুক্ত প্রশাসনিক পরিবেশ বজায় রাখার উদ্যোগ রেলওয়ের আর্থিক ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

তথ্যসূত্র বিশ্লেষণে জানা যায়, চলতি অর্থবছরের রাজস্ব বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় অবদান এসেছে যাত্রী পরিবহন খাত থেকে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে আয় বেড়েছে ২৫৬ কোটি টাকা। নতুন ট্রেন সংযোজন, যাত্রীসেবা সম্প্রসারণ, অনলাইন ও ডিজিটাল টিকিটিং ব্যবস্থা এবং যাত্রীসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে এ খাতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। অন্যদিকে ইঞ্জিন সংকটের কারণে মালামাল পরিবহন থেকে আয় কমেছে প্রায় ৯ কোটি টাকা। এ ছাড়া পরিবহন ও বাণিজ্যিক খাত, যার মধ্যে ভেন্ডিং লাইসেন্স এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক আয় অন্তর্ভুক্ত, সেখানেও রাজস্ব কমেছে প্রায় ২৫ কোটি টাকা। রেলসংশ্লিষ্টদের মতে, ইঞ্জিনের ঘাটতি দূর করা গেলে এবং মালবাহী ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব হলে এ খাতেও রাজস্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

এদিকে অন্যান্য কয়েকটি খাতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। ভূসম্পত্তি ব্যবস্থাপনা থেকে আয় বেড়েছে প্রায় ৩ কোটি টাকা এবং রেলওয়ের অপটিক্যাল ফাইবার লিজ থেকে আয় বেড়েছে প্রায় ১২ কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিচালন ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, পেনশন, রেলপথ ও রোলিং স্টকের রক্ষণাবেক্ষণ এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে চলতি অর্থবছরে আয়-ব্যয়ের অনুপাত দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৯১, যেখানে আগের অর্থবছরে এ অনুপাত ছিল ২ দশমিক ৯। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে আয়-ব্যয়ের ব্যবধান উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, যা ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও আর্থিক শৃঙ্খলা বৃদ্ধির প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতি বছর প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা পেনশন খাতে ব্যয় হয়, যা প্রকৃত পরিচালন ব্যয়ের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। কারণ এটি সরাসরি ট্রেন পরিচালনার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। এ ব্যয় বাদ দিলে পরিচালন ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ২ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকা এবং অপারেটিং রেশিও নেমে আসে ১ দশমিক ৪৩-এ। অর্থাৎ, পেনশন ব্যয় বাদ দিলে রেলের পরিচালন ব্যয় রাজস্ব আয়ের তুলনায় মাত্র ৪৩ শতাংশ বেশি থাকে। বাংলাদেশ রেলওয়ে একটি রাষ্ট্রীয় গণপরিবহন প্রতিষ্ঠান হওয়ায় যাত্রীভাড়া দীর্ঘদিন ধরে রেয়াতি হারে নির্ধারিত রয়েছে।

২০১৬ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত যাত্রীভাড়া বৃদ্ধি করা হয়নি। অথচ এই সময়ে রেলপথ ও ট্রেন রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয়, আমদানিনির্ভর যন্ত্রাংশের মূল্য, ডলারের বিনিময় হার, জ্বালানি তেলের দাম এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও পেনশন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত প্রায় এক দশক ধরে যাত্রীভাড়া অপরিবর্তিত থাকায় বর্তমান বাজারদর এবং অন্যান্য পরিবহন ব্যবস্থার ভাড়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যৌক্তিকভাবে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা হলে আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান আরও কমে আসবে। একই সঙ্গে সেবার মান উন্নয়ন ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ রেলওয়েকে আর লোকসানি প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখার সুযোগ থাকবে না বলেও তারা মনে করছেন।


নির্বাচিত

বিপৎসীমার ওপরে দেশের ৩ জেলায় নদীর পানি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের সামগ্রিক নদ-নদীর পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোণা—এই তিন জেলার তিনটি নির্দিষ্ট নদী স্টেশনে পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর পাশাপাশি আবহাওয়ার মেজাজ বুঝে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় দেশের চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে স্থানভেদে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের স্পষ্ট পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)। জলবায়ু ও আবহাওয়াগত এই পরিস্থিতির কারণে দেশের কয়েকটি উপকূলীয় ও নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা সৃষ্টি হওয়া এবং নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) এফএফডব্লিউসি থেকে প্রকাশিত দেশের সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি ও আবহাওয়া সংক্রান্ত এক বিশেষ নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে এই আশঙ্কাজনক তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত বুলেটিন অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) ও মারকুলি (সুনামগঞ্জ) পয়েন্টে এবং সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা (নেত্রকোণা) স্টেশনে পানি বিপজ্জনকভাবে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিগত ২৪ ঘণ্টায় অঞ্চলটির সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগামী একদিন পর্যন্ত বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে এবং পরবর্তী দুই দিন কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সিলেট ও সুনামগঞ্জের সুরমা-কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন বিভিন্ন নিচু এলাকাগুলোতে সাময়িকভাবে বা স্বল্পমেয়াদে তীব্র বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

এদিকে দেশের পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর অবস্থাও কিছুটা নাজুক রূপ নিচ্ছে। রাজশাহী বিভাগের আত্রাই নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগামী একদিন আরও কিছুটা বেড়ে পরবর্তী দুই দিনে কমতে শুরু করতে পারে; তবে এরই মাঝে নওগাঁ জেলার নদীসংলগ্ন বেশ কয়েকটি নিচু এলাকায় পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে সাময়িক আঞ্চলিক বন্যা দেখা দেওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

অপরদিকে চট্টগ্রাম বিভাগের মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি সাময়িকভাবে কিছুটা কমলেও আগামী দুই দিনে তা আবার অতি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে বান্দরবান, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার বেশ কয়েকটি নদীর পানি সতর্কসীমার খুব কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে এবং নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলগুলো সাময়িকভাবে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

অন্যদিকে উত্তর ও মধ্যঞ্চলের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে জানানো হয়েছে যে, তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি এখন কিছুটা কমতির দিকে থাকলেও ধরলা নদীর পানি অপরিবর্তিত বা স্থিতিশীল রয়েছে।

আবহাওয়া বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে যে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের নদী তীরবর্তী কিছু পয়েন্টে পানি সতর্কসীমা ছুঁইছুঁই অবস্থায় প্রবাহিত হতে পারে। তবে নেত্রকোণার সোমেশ্বরী নদীর পানি ইতোমধ্যে কমতে শুরু করায় এবং আগামী তিন দিন এই ধারা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা থাকায় জেলার সামগ্রিক বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির আশা করা হচ্ছে।

দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোর মধ্যে ব্রহ্মপুত্রের পানি স্থিতিশীল থাকলেও যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মার পানি সার্বিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার প্রভাবে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলগুলোতে পানি প্রবেশ করে প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।


নির্বাচিত

অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে শ্যামনগরে এমপি গাজী নজরুলের কুশপুত্তলিকা দাহ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচিত অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং তাঁর পদত্যাগের দাবিতে শ্যামনগরে উত্তাল বিক্ষোভ মিছিল ও কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) দুপুর ১২টায় শ্যামনগর বাসস্ট্যান্ড মোড়ে ‘শ্যামনগরের সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে স্থানীয় সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে শ্যামনগর বাসস্ট্যান্ড থেকে একটি বিশাল প্রতিবাদী বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সামনে এসে এক প্রতিবাদ সমাবেশে রূপ নেয়। এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে এলাকার সর্বস্তরের সাধারণ জনগণের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক ক্ষুব্ধ নারী সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা এই জনপ্রতিনিধির এমন অনৈতিক ও বিতর্কিত আচরণে তীব্র ক্ষোভ ও ধিক্কার প্রকাশ করেন। তাঁরা সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের অবিলম্বে সংসদ পদ থেকে পদত্যাগ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোরালো দাবি জানান। সমাবেশ চলাকালেই ক্ষুব্ধ জনতা সংসদ সদস্যের কুশপুত্তলিকা দাহ করে তাঁদের চরম প্রতিবাদ ব্যক্ত করেন।

বিক্ষোভকালে অংশগ্রহণকারীদের হাতে প্রতিবাদী ব্যানার, সুনির্দিষ্ট দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড এবং সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিতর্কিত ঘটনার ছবি সংবলিত নানা রকম ফেস্টুন দেখা যায়। সমাবেশে বক্তব্য রাখা সাধারণ প্রতিবাদকারীরা মন্তব্য করেন যে, একজন দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধির থেকে এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না এবং এটি পুরো এলাকার জন্য চরম লজ্জাজনক।

উল্লেখ্য, গত সোমবার (২০ জুলাই) রাতে এক তরুণীর সঙ্গে এমপি গাজী নজরুলের একটি আপত্তিকর ও অন্তরঙ্গ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর দেশজুড়ে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিনি ওই তরুণীকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করলেও, তাঁদের বিয়ের তথ্যাদি ও কাবিননামা নিয়ে নানাবিধ গুরুতর অসঙ্গতি জনসম্মুখে চলে এসেছে।


নির্বাচিত

রূপপুরের রুশ নাগরিক বহনকারী বাস ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত ১

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পাবনা প্রতিনিধি

নাটোরে বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের তালবাড়িয়া এলাকায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের রুশ কর্মীদের বহনকারী একটি মিনিবাস ও পণ্যবাহী ট্রাকের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত ও অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় ট্রাকের সহকারী ইমন (২২) প্রাণ হারান এবং আহতদের মধ্যে রূপপুর প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিকিমথ-এর আটজন রুশ নাগরিক রয়েছেন। নিহত ইমন নাটোর সদর উপজেলার খোলাবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে রূপপুরগামী মিনিবাসটির সঙ্গে নাটোর থেকে ঢাকাগামী ট্রাকটির সংঘর্ষ হলে ট্রাকের সামনের অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

দুর্ঘটনার পর গুরুদাসপুর ও বনপাড়া ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। গুরুদাসপুর ফায়ার সার্ভিসের সাব-অফিসার রুস্তম আলী বলেন, “আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে গুরুতর আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।” এই দুর্ঘটনার কারণে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হলেও প্রায় দুই ঘণ্টার প্রচেষ্টায় দুর্ঘটনাকবলিত যানগুলো সরিয়ে নিলে রাত ১১টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। আহত রুশ নাগরিকদের মধ্যে চারজন নারী রয়েছেন এবং আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।


নির্বাচিত

banner close