বিশ্বের একক বৃহত্তম লবণাক্ত পানির বনভূমি সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে দুটি আন্তর্জাতিক নৌ যোগাযোগ পথ। সে পথে প্রতিদিন গড়ে ৩৪৫টি জাহাজ চলাচল করছে। যার কারণে বন্য পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
জীববৈচিত্র্যের এক বিশাল সমাহার সুন্দরবন। বন বিভাগের তথ্য মতে, সেখানে ৩৩৪ প্রজাতির উদ্ভিদ, ১৬৫ প্রজাতির শৈবাল, ১৩ প্রজাতির অর্কিড, ২৮৯ প্রজাতির স্থলজ প্রাণী, ৪২ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৩৫ প্রজাতির সরীসৃপ, ৮ প্রজাতির উভচর, বিভিন্ন প্রজাতির মাছসহ ২১৯ প্রজাতির জলজ প্রাণী ও ৩২০ প্রজাতির পাখি বসবাস করে। ১৯৯৭ সালের ৬ ডিসেম্বর ইউনেস্কো বিশ্বঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে এটিকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
বন বিভাগ জানায়, ১৮৭৮ সাল থেকে সমগ্র সুন্দরবন এলাকাকে সংরক্ষিত বন হিসাবে ঘোষণা দেওয়া রয়েছে। পূর্ব অনুমতি ছাড়া নেওয়া কারও প্রবেশের অধিকার নেই। তবে সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে এই নৌপথ থাকলেও, জাহাজগুলোর কার্যক্রম বা অপরাধ নিয়ন্ত্রণের কোনো ক্ষমতা বন বিভাগের নেই। কারণ ওই দুটি আন্তর্জাতিক নৌপথ পৃথক আইন ও চুক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
জাহাজ চলাচলকারী এ দুটি আন্তর্জাতিক নৌপথের মধ্যে, একটি হল মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের (এমপিএ) পশুর নদীর চ্যানেল। অন্যটি হলো ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্যের জন্য ঢাকা-কলকতা নৌপথ।
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোংলা সমুদ্র বন্দরটি সুন্দরবনের পাশঘেঁষা পশুর নদীর তীরে অবস্থিত। যেটি বঙ্গোপসাগরের ১৩১ কিলোমিটার ভাটাতে কার্যক্রম চালায়। মোংলা বন্দরে বৈদেশিক জাহাজ যাতায়াতের জন্য সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে পশুর চ্যানেলের এই ১৩১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়।
এ ছাড়া বড় আকারের জাহাজগুলো বন্দরের ২৩ কিলোমিটার ভাটাতে সুন্দরবনের মধ্যে হাড়বাড়িয়া এলাকায় নোঙর করে পণ্য খালাস করে। ওই এলাকায়ও অবাধে যাতায়াতে রয়েছে ছোট আকারের লাইটার জাহাজের।
বন বিভাগের তথ্য মতে, মোংলা বন্দরের বাণিজ্যিক কাজে পশুর নদীর এই নৌপথে প্রতিদিন গড়ে দেশি-বিদেশি ২২৫টি বিভিন্ন আকারের জাহাজ চলাচল করে।
সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে আরেকটি বাণিজ্যক নৌপথ রয়েছে প্রায় ১০০ কিলোমিটারের। এই পথে পণ্য পরিবহনের জন্য জাহাজগুলো মোংলা বন্দর হয়ে সুন্দরবনের আরেক বৃহৎ নদী শিবসায় প্রবেশ করে। সেখান থেকে আড়ুয়া শিবসা, বজবজা, আড়পাঙ্গাসিয়া, কাচিকাটা ও কালিঞ্চি নদী পাড়ি দিয়ে ভারতের হেমনগরে প্রবেশ করে। সুন্দরবনের এই অংশ পাড়ি দিতে জাহাজগুলোর সময় লাগে ৭ থেকে ১২ ঘণ্টার মতো। খুলনার কয়রা উপজেলার আংটিহারা কাস্টমস চেক পোস্টে জাহাজগুলোর শুল্কসংক্রান্ত আনুষঙ্গিকতা শেষ করতে হয়। বন বিভাগের দেওয়া তথ্য মতে, এই নৌপথে প্রতিদিন গড়ে ১২০টি লাইটার জাহাজ চলাচল করে।
এই নৌপথের মধ্যে শিবসা নদীতে রয়েছে ডলফিনের অভয়ারণ্য রয়েছে। যার মধ্যে বাফার জোন ৫০৫ হেক্টর ও কোর জোন ১৬৫০ হেক্টর অভয়ারণ্য। সেখানে বিরল প্রজাতির গাঙ্গেয় ও ইরাবতি ডলফিনের বসবাস। অবাধে জাহাজ চলাচল, শব্দ ও পানিদূষণে হুমকির মুখে পড়বে এসব ডলফিন।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়কারী আইনজীবী মো. বাবুল হাওলাদার বলেন, ‘আমাদের সংবিধানের ১৮/ক ধারায় পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য সরকার দায়বদ্ধ। সেখানে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, প্রাকৃতিক সম্পদ, জীব-বৈচিত্র্য, জলাভূমি, বন ও বন্যপ্রাণীর সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধান রাষ্ট্র নিশ্চিত করবে।’
এই আইনজীবী বলেন, ২০১১ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সুন্দরবন ও বেঙ্গল টাইগার রক্ষায় বিষয়ে দুটি সমঝোতা স্মারক করেছিল। এই চুক্তি থাকায় বন রক্ষার স্বার্থে নৌপথ নিয়ে দুই দেশে বিকল্প সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে চুক্তির কোনো অগ্রগতি এখনো দেখা যায়নি। এটি সঠিকভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে সুন্দরবন পুনরুদ্ধার ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘সংরক্ষিত বনের মধ্যে নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রিত করা উচিত। কারণ প্রত্যেক বছর আমরা দেখতে পাচ্ছি সুন্দরবনের মধ্যে জাহাজ ডুবছে। অধিকাংশ জাহাজের সার্ভে সনদের মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেলেও, তা দিয়ে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলছে। অন্যদিকে বন বিভাগের ক্ষমতা না থাকায় জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছে না।’
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ (এমপিএ) ও বন বিভাগের (এফডি) কয়েকটি নথি থেকে পাওয়া গেছে, গত ১০ বছরে সুন্দরবনের মধ্যে ২৬টি বাণিজ্যিক জাহাজ ডুবেছে। এসব জাহাজের মধ্যে সার, সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল ক্লিংকার ও স্লাগ, পাথর ও কয়লা, ফার্নেস অয়েল ও তেল ছিল।
বনের মধ্যে ডুবে যাওয়া এসব জাহাজ উদ্ধারের প্রক্রিয়াও বেশ জটিল। নারায়ণগঞ্জ থেকে বিআইডব্লিউটিএর উদ্ধারকারী জাহাজ এনে এসব নৌযান উদ্ধারে প্রায় এক মাস সময় লেগে যায়। ততদিনে জোয়ার-ভাটার মাধ্যমে বিভিন্ন রাসায়নিক ছড়িয়ে পড়ে পানিতে। যদিও মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মীর এরশাদ আলী জানিয়েছেন, সম্প্রতি তারা নদী থেকে অয়েল স্পিল রিকভারি ভ্যাসেল ও সলিড ওয়েস্ট কালেকশন ভ্যাসেল সংগ্রহ করার উদ্যোগ নিয়েছেন।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিন প্রধান অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ হারুন চৌধুরী বলেন, জাহাজ ডুবে যাওয়ার ফলে বিভিন্ন জলজ জীব-বৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক প্রাণী মারা যায় বা তাদের প্রজনন ক্ষমতা কমে যায়। জলজ খাদ্য শৃঙ্খলেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। দূষিত পানি জোয়ারের সময় বনের মাটিতেও ছড়িয়ে পড়ে। ফলে নতুন করে চারা গজানোর ক্ষমতায় বিরূপ প্রভাব পড়ে।
তিনি বলেন, বনের পানির মধ্যে থাকা জলজ প্রাণী ও স্থলের বৃক্ষ সম্পদসহ সব কিছু মিলে একটি বাস্তুতন্ত্র তৈরি হয়। সেখানের একটির ক্ষতি হলে, সমগ্র বনের ওপর একটি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
এ ছাড়া জাহাজে চলাচলে নদীর ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে বলে জানান সুন্দরবন একাডেমির পরিচালক ফারুক আহমেদ। তিনি বলেন, চলাচলের সময়ে জাহাজের ঢেউয়ের কারণে কোথাও কোথাও নদীভাঙন ঘটে। সেই পলি পড়ে অনেক নদীর নাব্যও কমে যায়। যা জলজ পরিবেশের ওপর আঘাত হানে।
সুন্দরবনের এসব ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকারকে সুপারিশের পরিকল্পনা করেছে বন বিভাগ। বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো বলেন, আগে শ্যালা নদী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করত। ওই নদীটাও ডলফিনের অভয়ারণ্য। তবে একবার তেলবাহী জাহাজ ডুবে যাওয়ার ফলে বনের জীব-বৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকিতে পড়েছে। তখন ক্ষয়ক্ষতি নির্ণয় করে সরকারের কাছে নৌপথটি বন্ধের আবেদন করা হয়েছিল। বিকল্প একটি বন্ধ হয়ে যাওয়া নৌপথ খনন করে সরকারের পক্ষ থেকে শ্যালা নদীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, তবে বর্তমানে দুটি আন্তর্জাতিক রুটে জাহাজ চলাচল করছে। জাহাজ চলাচলে বনের কি পরিমাণ ক্ষতি হচ্ছে, তা নিয়ে একটি গবেষণা কার্যক্রম চলছে। এটি শেষ হলে বন্য পরিবেশ রক্ষায় কি কি করণীয়, সেই বিষয়গুলো নিয়ে সরকারের কাছে সুপারিশ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক গুরুত্ব থাকায় দুই রুটে হয়তো একেবারেই চলাচল বন্ধ করা যাবে না। তবে কি কি ভাবে বনের ক্ষতি কমানো যাবে, সেসব বিষয়কে প্রধান্য দিয়ে গবেষণাটি এগোচ্ছে।
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার আলমবিদিতর পাইকান এলাকায় আদালতের স্থিতিবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ অমান্য করে বড়াইবাড়ী দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণকাজ চালানোর অভিযোগ ওঠেছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, সহকারী জজ মোছা. স্বপ্না মুস্তারিন ২২৫/২৫ নম্বর দেওয়ানি মামলায় ১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে স্থিতিবস্থার আদেশ প্রদান করেন। আদেশে বলা হয়, মামলার রায় না হওয়া পর্যন্ত নালিশি জমির দখল, আকার ও ব্যবহার কোনোভাবেই পরিবর্তন করা যাবে না। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কেবল নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে; এর বাইরে কোনো নির্মাণ বা পরিবর্তনমূলক কাজ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
মামলার প্রক্রিয়া অনুযায়ী, আদালত ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে বিবাদী পক্ষকে ১৫ দিনের মধ্যে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা কেন দেওয়া হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেন। বাদীপক্ষের প্রার্থনা ও বিবাদীপক্ষের জবাব পর্যালোচনা শেষে আদালত ১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে স্থিতিবস্থার আদেশ দেন।
তবে বাদী আবু মো. জুলফিকার অভিযোগ করেন, আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ভবন নির্মাণকাজ চলমান ছিল। পরে বিষয়টি সংবাদপত্রে প্রকাশিত হলে নির্মাণকাজ বন্ধ করা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পরও কোর্টের অনুমতি ছাড়াই গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু করা হয়েছে, যা আদালত অবমাননার শামিল। তিনি বলেন, ‘আদালতের আদেশ স্বেচ্ছায় অমান্য করা হয়েছে। আমি আদালতের কাছে সুষ্ঠু বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
নির্মাণকাজ পরিচালনাকারী ঠিকাদারের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর জামান বলেন, ‘আমি ঠিকাদারকে বলেছি, যেহেতু কোর্টের নিষেধাজ্ঞা আছে, আপনারা কাজ বন্ধ রাখেন। কিন্তু ঠিকাদার নিজ উদ্যোগে কাজ করছে। কেন ঠিকাদার কোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নির্মাণকাজ চালাচ্ছে, সে বিষয়ে জবাব ঠিকাদারই দিতে পারবেন।’
রংপুর শিক্ষা নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী ইকবালের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে গঙ্গাচড়া উপজেলার উপপ্রকৌশলী আরিফ হোসেন বলেন, ‘আমরা কোর্টের কোনো নতুন নির্দেশ পাইনি। এখনো কোর্টের স্থগিতাদেশ আমাদের কাছে পৌঁছেনি।’
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সাঈদ মো. আরিফ মাহফুজ বলেন, ‘আমরা এখনো বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই। বিষয়টি দেখছি।’
এদিকে অনুসন্ধানে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ১৯৭২ সালের ৪১৯৫১ নম্বর দলিলের ভিত্তিতে জমির মালিকানা দাবি করা হলেও তল্লাশি শেষে কিশোরগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে জানানো হয়েছে, ওই দলিলের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অমান্য করে নির্মাণকাজ পরিচালনার বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন ওঠেছে।
নরসিংদীর রায়পুরায় রফিকুল ইসলাম সরকার (৫০) নামে এক ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার চরমধুয়া গ্রামের গাজিপুরা এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
রফিকুল ইসলাম চরমধুয়া গ্রামের হাজী মঙ্গল মিয়ার ছেলে। তার স্ত্রী মমতাজ বেগম স্থানীয় চরমধুয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (ইউপি সদস্য)।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে স্থানীয় বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন রফিকুল ইসলাম। গাজিপুরা এলাকায় পৌঁছালে ওৎ পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্তরা পেছন থেকে তাকে লক্ষ্য করে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।
পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ভাই মোস্তাকিম বলেন, ‘তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রিফাত ও নয়নদের সঙ্গে রফিকুল ইসলামের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জেরে তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হচ্ছিল।’ পরিকল্পিতভাবেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
রফিকুল ইসলামের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালে স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম শুরু হয়। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
রায়পুরা থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) প্রবীর চন্দ্র ঘোষ বলেন, ‘পারিবারিক বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
প্রবাস জীবন শেষে হেলিকপ্টারে করে নিজ গ্রামের মাটিতে পা রাখলেন জোড়গাছা মধ্যপাড়ার মরহুম জহুরুল ইসলাম নান্টু মন্ডলের ছোট ছেলে ও সিঙ্গাপুর প্রবাসী হাসানুর রহমানের ছোট ভাই সাবেক সেনা সদস্য হাসনাত আলী। ব্যতিক্রমী এই আগমনে গ্রামজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আনন্দ ও কৌতূহল। জোড়গাছা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দুপুর দেড়টায় হেলিকপ্টার অবতরণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই শত শত মানুষ ভিড় করেন নির্ধারিত স্থানে।
হাসনাত আলী জানান, মায়ের স্বপ্ন পূরণে এমন উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।
প্রবাসী ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন সিঙ্গাপুরে অবস্থানের পর ছুটিতে দেশে আসেন। সময় বাঁচানো ও বিশেষ প্রয়োজনে তিনি হেলিকপ্টারে গ্রামে আসেন বলে জানা গেছে। গ্রামের মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি।
স্থানীয়রা জানান, এর আগে গ্রামে কখনো হেলিকপ্টার অবতরণ না করায় এমন দৃশ্য দেখতে পেয়ে তারা উচ্ছ্বসিত। শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক সব বয়সের মানুষই হেলিকপ্টার দেখতে ভিড় করেন। অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন।
মুকুল হোসেন মাস্টার, তরুন, মানিক মিয়াসহ অনেকে জানান, এমন ব্যতিক্রমী ঘটনায় গ্রামটি নতুন করে ঐতিহাসিক পরিচিতি পেল। এই আগমন এলাকাবাসীর মাঝে আনন্দের পাশাপাশি অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করেছে।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত স্কুলছাত্র সাইফ হোসেনের (১৪) মৃত্যুর মধ্য দিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেল সপ্তম শ্রেণির তিন বন্ধু। গত রোববার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাইফের মৃত্যু হয়। এর আগে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) একই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায় তার দুই সহপাঠী রহমত উল্লাহ ও সাহাবী হোসেন। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে নিজ গ্রামের কবরস্থানে জানাজা শেষে সাইফকে দাফন করা হলে, পাশাপাশি কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত হয় তিন বন্ধু।
নিহতরা হলো—দৌলতপুর উপজেলার দৌলতখালী চৌহদ্দিপাড়া গ্রামের হেকমত উল্লাহর ছেলে রহমত উল্লাহ (১৪), আমিনুল ইসলামের ছেলে সাহাবী হোসেন (১৪) এবং জিয়ার আলীর ছেলে সাইফ হোসেন (১৪)। তারা সবাই দৌলতখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে তিন বন্ধু প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে দৌলতখালী মাদ্রাসা মোড়ে যায়। পড়াশোনা শেষে সকাল ৯টার দিকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে দৌলতখালী হাজীপাড়া এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে থাকা একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক রহমত ও সাহাবীকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত সাইফকে প্রথমে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতাল এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার রাতে তার মৃত্যু হয়।
একই গ্রামের, একই স্কুলের ও একই শ্রেণির তিন শিক্ষার্থীর এমন অকাল মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গত শনিবার বিকেলে রহমত ও সাহাবীর এবং গতকাল সোমবার সকালে সাইফের জানাজা শেষে দৌলতখালী চৌহদ্দিপাড়া মাঠ এলাকার কবরস্থানে তিন বন্ধুকে পাশাপাশি দাফন করা হয়। প্রিয় সন্তানদের হারিয়ে পরিবারগুলোতে চলছে হৃদয়বিদারক মাতম।
স্থানীয় বাসিন্দা হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের বাড়ির পাশেই ওই তিন শিক্ষার্থীর বাড়ি। তারা সবাই একই শ্রেণিতে পড়ত। এমন মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী আমাদের গ্রাম আগে কখনো হয়নি। নিহতদের পরিবারের পাশাপাশি পুরো এলাকায় শোকাহত।’
দৌলতপুর থানার ওসি আরিফুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনায় আহত তৃতীয় ছাত্র সাইফও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। দুর্ঘটনায় নিহত তিন কিশোরকে তাদের নিজ এলাকার কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।’
এদিকে গতকাল সোমবার সকালে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের আয়োজনে নিহত পরিবার গুলোকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন।
নাটোরের গুরুদাসপুরে বসতঘরে অগ্নিকাণ্ডে মা ও মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় দগ্ধ হয়েছেন দুজন। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ভোরে উপজেলার ঝাউপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া আগুনে পুড়ে গেছে মুদি দোকানসহ পাঁচটি ঘর, আসবাবপত্র এবং ১২টি ছাগল।
গুরুদাসপুর থানার ওসি শফিকুজ্জামান সরকার জানান, ঝাউপাড়া এলাকায় মোন্তার হোসেনের বসতবাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট প্রায় ১ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এর আগেই পুরো বসতভিটা ভস্মিভূত হওয়াসহ আগুনে পুড়ে মারা যান মোন্তার হোসেনের ছেলের রান্টু ইসলামের স্ত্রী আতিয়া এবং তাদের দেড় বছর বয়সি মেয়ে রওজা খাতুন। এ ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ হন মোন্তার হোসেনসহ তার স্ত্রী মর্জিনা বেগম। তাদের উদ্ধার করে উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে মর্জিনা বেগমকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট অথবা গোয়াল ঘরের মশার কয়েল থেকে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাহমিদা আফরোজ জানান, মা ও তার শিশুকন্যার মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। প্রাথমিকভাবে নিহতদেন দাফনসহ আনুসঙ্গিক খরচের জন্য ৪০ হাজার টাকা অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের সার্বিক সহায়তা করা হবে।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পায়রা বন্দরের নির্মাণাধীন ফোরলেন সেতুর ট্রাভেলার ফার্ম বা লোহার সাটার ভেঙে রাবনাবাদ নদীতে পড়ে রাসেল হাওলাদার (৩২) নামের ১ নির্মাণ শ্রমিক নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও অন্তত ১০ শ্রমিক। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় রঞ্জু ও রাকিবুল নামের দুই শ্রমিককে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল সেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল এগারোটায় সেতুর লালুয়া অংশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মৃত রাসেল টিয়াখালী ইউনিয়নের অঞ্জুপাড়া গ্রামের শাহ আলম হাওলাদারের ছেলে।
জানা যায়, সকালে ১০ থেকে ১৫ জন শ্রমিক সেতুর ওপরে লোহার সাটারের ওপর বসে রড বাঁধাইয়ের কাজ শুরু করে। বেলা সাড়ে দশটার দিকে হঠাৎ চেইন ছিড়ে শ্রমিকদের সহ সাটারটি নদীতে পড়ে যায়। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিক আহতদের উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাসেলকে মৃত ঘোষণা করে।
পায়রা বন্দরের সিক্সলেন সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত ১১৮০ মিটার দীর্ঘ এ সেতুটি নির্মাণ করছে চায়না রেলওয়ে ব্রিজ কনস্ট্রাকশন গ্রুপ (সিআরবিজি) ও চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্টিটিউশন করপোরেশন (সিসিইসিসি) নামের দুটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ২০২৪ সালের ১২ মার্চ এ সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা সরঞ্জামে অনেকটা ঘাটতি ছিল বলে জানায় শ্রমিকরা।
কলাপাড়া থানার ওসি মো. রবিউল ইসলাম বলেন, লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
সৌদি আরবের কফিলকে (মালিক) নিয়ে হেলিকপ্টারে চড়ে তাহিরপুর উপজেলা বালিজুরি ইউনিয়নের রাজ নগর গ্রামের নিজ বাড়িতে ফিরেছেন মাকসুদ আখঞ্জি নামে এক প্রবাসী। হেলিকপ্টার দেখতে স্থানীয় উৎসুক জনতা ভিড় করে। গত শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার রাজ নগর গ্রামের একটি প্রবাসীর বাড়ি সংলগ্ন মাঠে হেলিকপ্টারে এসে নামেন তারা। সৌদি আরবের ওই নাগরিকের নাম মিশাল আমি য়ামী। সৌদি প্রবাসী মাকসুদ আখঞ্জি রাজ নগর গ্রামের শাহ আলম আখঞ্জির ছেলে। তিনি ৫ বছর আগে সৌদি আরবের রিয়াদ শহরের গিয়েছিল।
প্রবাসী মাকসুদ আখঞ্জি জানান, কয়েক বছর ধরে সৌদি আরবের রিয়াদ শহরে মিশাল আমি য়ামী মালিকানাধীন একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন তিনি। চাকরির সুবাদে মালিকের (কফিল) সঙ্গে সুসম্পর্ক হয় তার। গত শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রিয়াদ থেকে বাংলাদেশ ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন তারা। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হেলিকপ্টার ভাড়া করে ঢাকা থেকে বালিজুরি আসেন।
এদিকে প্রবাসী মাকসুদের সঙ্গে তার সৌদি কফিলের গ্রামে আসার খবরে সকাল থেকেই উৎসুক মাকসুদের বাড়ির পাশে মাঠে ভিড় করে। সৌদি থেকে আসা নাগরিককে বরণ করতে নেওয়া হয় ব্যাপক প্রস্তুতি। নিরাপত্তার জন্য তাহিরপুর থানা পুলিশের একটি টিম দায়িত্বে নিয়োজিত থাকে। হেলিকপ্টার থেকে মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গে হই-হুল্লোড় শুরু হয়ে যায়। এ সময় মাকসুদ আখঞ্জির বাবা শাহ আলম সহ স্থানীয় লোকজন ফুলেল শুভেচ্ছা জানান সৌদি আরবের নাগরিক মিশাল আমি য়ামী কে।
স্থানীয় সমাজসেবক মশিউর রহমান বলেন, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা যেন মাকসুদ আখঞ্জি মতো তাদের কপিলের সাথে সুসম্পর্ক রাখেন। দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেন।
কপিল মিশাল আমি য়ামী বলেন, মাকসুদ অত্যন্ত ভালো ছেলে। আমি মাকসুদকে পছন্দ করি। মাকসুদ আমার সকল ব্যবসা-বাণিজ্য দেখাশোনা করে। আমি মাকসুদের মতো আরও শ্রমিক বাংলাদেশ থেকে নিতে চাই। প্রথমদিন এখানে এসে অনেক ভালো লেগেছে। আমার পছন্দের একটি দেশ বাংলাদেশ। এ সময় মাশাল্লাহ মাশাল্লাহ বাংলাদেশ বলে অনুভূতি প্রকাশ করেন তিনি।
প্রবাসী মাকসুদ আখঞ্জি বলেন, আমার কফিল (মালিক) একজন ভ্রমণপিপাসু মানুষ। তিনি বাংলাদেশ খুব পছন্দ করেন। কাজ করার সময় প্রায়ই বলতেন, আমি তোমার দেশে যাব। তাই তাকে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আমরা আগে থেকে চিন্তা করি তাকে নিয়ে হেলিকপ্টারে করে গ্রামে যাব। সে জন্য ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে করে চলে আসি। তিনি এক সপ্তাহ বাংলাদেশে থাকবেন। পরে একসঙ্গে আবার সৌদিতে চলে যাব।
দীর্ঘ ২০ বছর প্রবাসে কাটিয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হেলিকপ্টারে চড়ে নিজ গ্রামে ফিরলেন মাগুরার তিন প্রবাসী। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
গত শুক্রবার সকালে ঢাকা বিমানবন্দরে অবতরণের পর সেখান থেকেই সরাসরি হেলিকপ্টারে করে নিজ জেলা মাগুরায় পৌছান তারা। জেলা সদরের বুজরুক শ্রীকুন্ডী এম.এ. হামিদ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে হেলিকপ্টারটি অবতরণ করলে পরিবারসহ নামেন আপন দুই ভাই ও আপন ভাতিজা।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে উচ্চ পযার্য়ের তদন্ত কমিটি গঠনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে সুনামগঞ্জ জনউদ্যোগ। রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১ টায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পাবলিক লাইব্রেরির মিলনায়তে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
জনউদ্যোগের সদস্য কবি ও লেখক সুখেন্দু সেন’র সভাপতিত্বে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সদস্য ও সংস্কৃতিকর্মী জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ফসলরক্ষা বাঁধ কার্যক্রমে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে ব্যাপক অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে। ফসলরক্ষা বাঁধের প্রাক্কলন কর্মসূচি দৃশ্যমান ছিল না, যার ফলে অপ্রয়োজনীয় পিআইসি সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। পিআইসি গঠনে মাঠ প্রশাসনের গণশুনানী কার্যক্রম ছিলো অকার্যকর ও লোক দেখানো।
গত ১৫ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জ জেলার ১২টি উপজেলায় ১টি করে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হলেও ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত অধিকাংশ পিআইসির কাজে চরম ধীরগতি, অব্যবস্থাপনা ও নিম্নমানের কাজ পরিলক্ষিত হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ওয়ার্ক অর্ডার অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু হয়নি, পিআইসিগুলো কাজের নির্দেশনা পেয়েছে প্রায় দুই সপ্তাহ বিলম্বে।
চলতি অর্থবছরে ১৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে পিআইসি করা হয়েছে ৭০২টি। এসব পিআইসির মধ্যে অপ্রয়োজনীয় ও অক্ষত বাঁধও রয়েছে। এতে হাওরের জীববৈচিত্র্যের ক্ষতিসহ রাষ্ট্রিয় অর্থের অপচয় হচ্ছে। হাওরের কান্দা ও ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি কেটে নেওয়ায় আবাদি জমি, উর্বরতা ও গো-চারণ ভূমি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বাঁধ সংলগ্ন কৃষক ও সাধারণ মানুষ অধিকাংশ ক্ষেত্রে পিআইসির কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত নন, কারণ অধিকাংশ প্রকল্প এলাকায় কাজের বিবরণী সম্বলিত সাইনবোর্ড ও পরিদর্শন বই দৃশ্যমান নেই। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও উঠে এসেছে।
এসব অনিয়ম রোধে নেতৃবৃন্দ ১১টি প্রস্তাবনা তুলে ধরেন, সেগুলো হলো, ফসলরক্ষা বাঁধের প্রাক্কলন যথাসময়ে শুরু ও শেষ করে তা স্থানীয় জনগণ ও গণমাধ্যমকে জানানো, আগামী বছর কার্যকর ও স্বচ্ছ গণশুনানীর মাধ্যমে পিআইসি গঠন নিশ্চিত করা, ওয়ার্ক অর্ডার অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু ও শেষ করা, কাবিটা নীতিমালা অনুসারে প্রকৃত কৃষকদের দিয়ে পিআইসি গঠন এবং অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ করা, অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ রোধে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ভূমিকা জোরদার করা, গুরুত্বপূর্ণ ক্লোজারগুলো চিহ্নিত করে টেকসই কাজ নিশ্চিত করতে মনিটরিং জোরদার করা, সব পিআইসিতে কাজ শুরুর আগেই সাইনবোর্ড ও পরিদর্শন বই দৃশ্যমান রাখা, ‘কাবিটা নীতিমালা সংশোধনী ২০২৩’ এর পূর্ণাঙ্গ ও সফল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা, জরিপের মাধ্যমে যেখানে সম্ভব সেখানে সুইচ গেইট স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া, অপ্রয়োজনীয় ও অক্ষত বাঁধে প্রকল্প গ্রহণের বিষয়ে প্রকল্প এলাকার স্থানীয় জনগণ, কৃষক আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে দুদকের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন ও বন্যা সমস্যা নিরসনে পরিকল্পিত নদী খননের উদ্যোগ গ্রহণ করা।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জনউদ্যোগের সদস্য অ্যাড. মাহবুবুল হাছান শাহীন, বুরহান উদ্দিন, সদস্য সচিব সাইদুর রহমান আসাদসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্টনিক মিডিয়ার কর্মীবৃন্দ।
ফরিদপুরের কানাইপুর আখ সেন্টার সংলগ্ন একটি পুকুর তল্লাসি চালিয়ে বস্তা ও স্কচটেপে মোড়ানো অবস্থায় ৬টি আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি এবং ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী। এ সময় পুলিশ বিজিবি ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ফরিদপুর আর্মি ক্যাম্পে প্রেস বিফিং এ সব তথ্য জানান ১৫ আরই ব্যাটেলিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মিনহাজুল আবেদিন ।
প্রেস বিফিং এ জানানো হয়, ফরিদপুর সেনা ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর সোহেল আহমেদ এর নেতৃত্বে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) জেলার সদর উপজেলার কানাইপুর আখ সেন্টারের পাশে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক সংলগ্ন পুকুরে বেলা ১১ টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে অস্ত্রগুলো উদ্ধার হয়।
প্রেস বিফিং এ জানানো হয় নাশকতার উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করে পুকুরে অস্ত্র ও গোলাবারুদ ফেলে রাখা হয়েছে এমন খবরে অভিযান চালানো হয়। প্রথমে সেচযন্ত্র দিয়ে পুকুরের পানি সরানো হয়। পুকুরে অধিক পানি থাকায় পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও স্থানীয়দের সহায়তায় জাল টেনে পুকুর থেকে ৪টি প্যাকেট ও বস্তা থেকে অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয়।
এর মধ্যে ৪ টি বিদেশী পিস্তল, ২ টি সিঙ্গেল ব্যারেল পাইপ গান, ১৬ টি পিস্তলের গুলি, ২ টি কার্তুজ, ১শ' টি বিভিন্ন আকারের ধারালো অস্ত্র, ৮ টি চাইনিজ কুড়াল, শরকির ধারালো অংশ রয়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে নাশকতার উদ্দেশ্যে অস্ত্রগুলো রাখা হয়েছিল বলে ধারনা করা হচ্ছে।
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় সড়ক নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বিত্তিপাড়া বাজার থেকে রাজাপুর পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা পাকাকরণের কাজে ঠিকাদার প্রকাশ্যে দুই নম্বর ইট ও পোড়া মাটির মতো নিম্নমানের ইট ব্যবহার করছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
ঝিনাইদহ এলজিইডির দেওয়া তথ্য মতে, কাঁচেরকোল বাজার টু রাজাপুর ক্যানেল সড়কে দেড় কিলোমিটার এই রাস্তাটি পাকাকরণে খরচ হচ্ছে ১ কোটি ৫০ লাখ ৩১ হাজার ৩’শ ৮৬ টাকা। কাজটি নির্মাণের দায়িত্ব পায় মেসার্স ঝিনাইদহ বাজার নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে কাজটি স্থানীয় কৃষকদল নেতার ভাই ইলিয়াস আলী সাব-ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাস্তার ভিত্তি শক্ত না করেই তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। ব্যবহৃত ইটগুলো হাত দিয়েই ভেঙে যাচ্ছে, যা কোনোভাবেই টেকসই সড়ক নির্মাণের উপযোগী নয়। এতে করে সরকারি অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত টেকসই সড়কের স্বপ্নই থেকে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় আপেল মাহমুদ নামের এক যুবক অভিযোগ করেন, সাব-ঠিকাদার ইলিয়াস কৃষকদল নেতা ওসমান আলীর ভাই। সেই প্রভাবে নিম্নমানের কাজ করেও পার পেয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। কাজ নিম্নমানের হওয়ায় আমরা বাধা দিলে লোকজন নিয়ে আমাদের মারধর করা হয়।
স্থানীয় গ্রাম্য চিকিৎসক এস এম আকাম উদ্দিন অভিযোগ করেন, এই রাস্তা আমাদের বহু দিনের দাবি। কিন্তু যেভাবে নিম্নমানের ইট দিয়ে কাজ করা হচ্ছে, তাতে বর্ষা আসার আগেই রাস্তা ভেঙে যাবে। আমরা বাধা দিতে গেলে উল্টো আমাদের ওপর চড়াও হচ্ছে ঠিকাদারের লোকজন।
অনিয়মের ব্যাপারে সাব-ঠিকাদার ইলিয়াস আলী বলেন, রাস্তার কাজ সকল নিয়ম অনুযায়ী করা হচ্ছে। নিম্নমানের ইট দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মনোয়ার উদ্দিন বলেন, সড়ক নির্মাণে কোনো প্রকার অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না। যদি কোনো ঠিকাদার অনিয়ম করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সীতাকুণ্ড উপজেলার বার আউলিয়া এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ট্রাকের ধাক্কায় মো. আবু তাহের (৫৮) নামের এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার ২৫ দিন পার হলেও আটক হয়নি চালক । নিহত তাহের স্হানীয় একটি শিপইয়ার্ডে ফিটার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
এদিকে উপার্জনের একমাত্র ব্যক্তি নিহত হওয়ায় পরিবারের সদস্যদের অনাহারে অর্ধাহারে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে । ট্রাক মালিকের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবী করে থানা পুলিশের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে তাহেরের পরিবার।
পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ৭:০০ ঘটিকার সময় আবু তাহের স্হানীয় একটি শিপইয়ার্ড থেকে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে শীতলপুরস্থ রাজা কাসেম উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন ওয়ান ব্যাংকের সামনে মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন। এ সময় চট্টগ্রামমুখী লেনে ঢাকা মেট্রো-ট-২৪-৪০৯৪ নম্বরধারী একটি ট্রাক বেপরোয়া গতিতে এসে তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়।
আবু তাহের গুরুতর আহত হয়ে রাস্তায় ছিটকে পড়েন। স্থানীয় লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের রিপোর্টে তাকে "Brought Dead H/O RTA" (Road Traffic Accident) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ঘটনায় নিহতের জামাতা মো. নাজিম উদ্দীন বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনার সাথে জড়িত ঘাতক ট্রাকটি (ঢাকা মেট্রো-ট-২৪-৪০৯৪) জব্দ করেছে এবং একটি 'জব্দ তালিকা' প্রস্তুত করা হলে ও চালক এখনো পলাতক রয়েছেন।
মামলার ধারা হিসেবে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ১০৫ ধারা উল্লেখ করা হয়েছে।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো মহিনুল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, চালক পলাতকের কারণে ট্রাক মালিক আসছেনা চালককে আটকের জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে ।
নওগাঁর এক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে তাঁর শহরের বসতবাড়ী থেকে উচ্ছেদ করতে দীর্ঘ ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছেন এক স্বনামধন্য আইনজীবি। একের পর মামলা দিয়ে হাফিজুর রহমান নামের ঐ মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে নাস্তানাবুদ করা হচ্ছে অভিযোগ করে রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন। এ ছাড়াও তাঁর গ্রাম বগুড়া জেলার ছাতিয়ানগ্রামে দুটি পৃথক জমি ক্রয় করে সমুদয় মূল্য পরিশোধ করেও তাঁকে জমি রেজিষ্ট্রি করে দেয়া হয়নি। এতে তিনি সর্বশান্ত হয়ে পড়েছেন।
নানা রকম হুমকি ধামকি দিয়ে জীবন অতিষ্ট করে তোলা হয়েছে বলে তিনি আতঙ্কিত জীবন অতিবাহিত করছেন। তিনি জানান নওগাঁ শহরের উকিলপাড়া স্লুইচগেইট সংলগ্ন জনৈক ডাক্তার আলমগীর হোসেনের পুত্রের নিকট থেকে একটি বাসা ক্রয় করে পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। প্রতবেশী এ্যাডভোকেট আব্দুল গফুর তার এই ক্রয় দলিলের বিরুদ্ধে পেমশন মামলা করেন। এ ব্যাপারে তিনি কেন আইনী সুবিধা পাননি। প্রতিপক্ষ আইনজীবি হওয়ার কারনে নওগা এবং বগুড়া কোন আদলতেই তার পক্ষে আইনি সহযোগিতা দেয়ার জন্য আইনজীবি তার পক্ষে দাঁড়াইনি।
তিনি জানান এক পর্যায়ে জোরপূর্বক তাঁর বাসার এক অংশ ভেঙ্গে এবং দখল করে দেয়াল তোলা হয়েছে। এতে হাফিজুর রহমান ও তার পরিবার ঐ অংশে থাকা ল্যাট্টিন এবং টয়লেট ব্যাবহার করতে পারছেন না। দীর্ঘদিন স্ত্রী পুত্র কন্যাদের নিয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন।
তিনি জানান তিনি বাদী হয়ে নওগাঁ ১ম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে ২৫/০৩ শুন্য মামলা দায়ের করেন। হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে তা খারিজ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।
এর পর তার বিরুদ্ধে ৩৭৮৮/০৮ সিভিল রিভিশন মোকদ্দমায় তার পক্ষে ২ জন আইনজীবি নিযুক্ত থাকলেও তারা হাজির হননি।
তিনি তিলকপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ডিশ অপারেটিং ব্যাবসা করতেন৷ বিগত ছাত্রলীগের নেতার ছত্রচ্ছায়ায় পুরো ব্যবসা দখল করে নেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসকের নিকট এ ব্যাপারে অভিযোগ করে কেন সুবিচার পাননি। বরং এ সময় তাকে মেরে রক্তাক্ত করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। এসব ডিশ সংযোগ থেক তার পাওনা ৩০ লক্ষ টাকা তাকে পরিশোধ করা হয়নি। এতে তিনি মারাত্মকভাবে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
তিনি বলেন আমি একজন শুধু মুক্তিযোদ্ধা না মুক্তিযোদ্ধা পরিচালক। যে আকাংখায় মুক্তিযুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছি। তা হয়নি। এই আকাংখা বাসৃতবায়নের পথে অন্তরায় প্রশাসনের যারা দায়ী তাদের তিনি বিচার দাবী করেন। তিনি তাঁর উপর ঘটে যাওয়া অন্যায়ের বিচার না পওয়ায় দায়ী ডিসি,এসপি,ইউএনও বিচারকদের ফাঁসি দাবী করেছেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র ৫ দিন বাকী। এ নির্বাচনকে সামনে রেখে নরসিংদী জেলার সর্বত্র টার্গেট কিলিং এবং অবৈধ আগ্নিয়াস্ত্রের ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বেড়েই চলেছে। প্রতিনিয়ত জেলার কোথাও না কোথাও খুনের ঘটনা ঘটছে। এলাকার আধিপত্য বিস্তার, বালি মহল নিয়ে বিরোধ, রাজনৈকিতক এবং ব্যক্তিগত শক্রতাকে কেন্দ্র করে একের পর এক হত্যাকান্ড ঘটেই চলেছে। এতে করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে চরম উদ্বেগও আতংঙ্ক বিরাজ করছে। অপর দিকে প্রতিনিয়িত খুনের ঘটনা ঘটায় এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মধ্যে নিরাপত্তার অভাব এবং পাশা-পাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও গভীর শঙ্কা তৈরী করছে।
২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর থেকে ২০২৬ সালের ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৭ মাস ১১ দিনে বিভিন্ন কারনে নরসিংদী জেলার বিভিন্ন এলাকায় মোট ১৫৪ খুন হয়েছে। ফলে জেলার ৫টি নির্বাচনী এলাকায় প্রার্থী এবং সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে এবং পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অপরদিকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নরসিংদীতে অবৈধ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনশংঙ্খলা বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নির্বাচনে আগে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির আশঙ্কা বাড়ায় লুট হওয়া অস্ত্র উদ্বার ও অপরাধী চক্র দমনে জোর দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আগে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নরসিংদী জেলা কারাগার হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ সময় নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার উল্লাহ বাংলা টিমের ৯ সদস্যসহ সর্ব মোট ৮২৬ জন কারাবন্ধি পালিয়ে যায়। এ সময় কারাগার থেকে ৮৪টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৭ হাজারেরও বেশি গোলাবারুদ লুট হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পলাতক কারান্দিদের মধ্যে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পন গ্রেফতার মিলিয়ে এ পর্যন্ত ৬৪৪ জনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত ১৫১ জন পলাতক রয়েছে। পাশাপাশি লুট হওয়া অস্ত্রের মধ্যে ৫৯টি অস্ত্র উদ্ধার হলেও ২৬টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৫ হাজারেরও বেশী গোলাবারুদ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
গত ১০ ডিসেম্বর নরসিংদী সফরে আসেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব:) মো: জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। এ সময় তিনি বলেন নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকায় এখনো বিপুল পরিমাণ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে রয়েছে। বিশেষ করে রায়পুরা এলাকায় অস্ত্রের আধিপত্য বেশী। এগুলো উদ্ধার দ্রæত কম্বিং অপারেশন চালানো হবে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত পুলিশ একটি অস্ত্রও উদ্ধার করতে পারেনি।
নরসিংদী-৫ রায়পুরা আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল বলেন, রায়পুরাতে বিভিন্ন এলাকায় এখনো পর্যন্ত বহু সংখ্যক আগ্নেয়াস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে রয়েছে। নির্বাচন করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। তার পরও আল্লাহর উপর ভরষা রেখে সাহস নিয়ে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে আমরা অত্যন্ত সর্তক রয়েছি ইনশাল্লাহ। নরসিংদী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল-ফারুক বলেন, সাম্প্রতিক হত্যাকান্ডগুলো মূলত: বালি মহল, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, এলাকার আধিপত্য বিস্তার এবং মাদক নিয়ে নিজেদের মধ্যে স্বার্থের দ্বন্ধ হয়েছে। তবে নির্বাচনের আগে টার্গেট কিলিং নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশ কি ব্যবস্থা নিচ্ছে জানতে চাইলে পুলিশ সুপার বলেন, টার্গেট কিলিং প্রতিরোধ করা কঠিন হলেও পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। তবে বিচারহীনতা এবং দীর্ঘ শক্রতার কারনে অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, পুলিশ ও র্যাব এর পাশাপাশি ১৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। তারা নরসিংদী জেলার ৫টি আসনে কাজ করবে। এছাড়া জেলা কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া বন্দি এবং লুন্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।