মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২৮ মাঘ ১৪৩২
নবীনগর

সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের জায়গায় ঘর নির্মাণের পাঁয়তারা

ছবি: দৈনিক বাংলা
জামাল হোসেন পান্না, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
প্রকাশিত
জামাল হোসেন পান্না, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
প্রকাশিত : ২ এপ্রিল, ২০২৪ ২২:৩১

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন ওরফে জারু মিয়ার বিরুদ্ধে সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের জায়গা অনিয়মের মাধ্যমে দখলের অভিযোগ উঠেছে। নিজস্ব একাধিক বসার জায়গা থাকা সত্ত্বেও সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনেই একটি টিনশেড ঘর নির্মাণের মাধ্যমে জায়গাটি দখল করছেন তিনি।

জানা যায়, নবীনগর সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের ভিতরে রয়েছে দলিল লেখক সমিতির ভবন; কিন্তু তারপরও ২০১৭ সালের ২৪ ডিসেম্বর তৎকালীন দলিল লেখক সাধারণ সম্পাদক পদে থাকা মো. জহির উদ্দিন নবীনগর সাব-রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে জেলা রেজিস্ট্রার বরাবর আবেদন করেন নতুন আরেকটি বসার স্থান দেওয়ার জন্য। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন জেলা রেজিস্ট্রার শেখ মো. আনোয়ারুল হক সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের বাউন্ডারির ভিতর বসে কাজ করার অনুমতি দেন। তবে সেই অনুমতি প্রদানের চিঠিতে কোনো রকম স্থাপনা বা ঘর নির্মাণ করার অনুমতি ছিল না।

কিন্তু সে সময় আবেদনকারী মো. জহির উদ্দিন একটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করে জায়গাটি দখল করে ফেলেন এবং সেই ঘরে বসে তার দলিল লেখার কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের পরিবেশ ও সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার অভিযোগে সেই ঘরটি সরিয়ে নিতে বাধ্য হন জহির উদ্দিন। তবে ২০২৪ সালে পুনরায় আবারও সেই স্থানটিতে টিনশেড ঘর নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সড়ক থেকেই শোনা যাচ্ছে টুংটাং আওয়াজ। সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের ফটকের ভিতরে ঢুকতে দেখা যায় ৩-৪ জন লোক একটি বাউন্ডারির মধ্যে টিনের ঘর নির্মাণের কাজ করছেন। শ্রমিকদের ভাষ্য, গত ২ দিন ধরে তারা কাজ করছেন এই ঘর নির্মাণে। আর ঘর নির্মাণ স্থানে ফ্লোর পাকা টাইলস আগেই ছিল।

এ ব্যাপারে দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন ওরফে জারু মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগযোগ করলে তিনি বলেন, ঘরটি তোলার অনুমোদন রয়েছে। জেলা রেজিস্ট্রারই এই অনুমোদন দিয়েছে।

তবে কিসের ভিত্তিতে অনুমোদন দিয়েছে দলিল লেখক কার্যালয়ের নিজ আসনে কেন বসতে চান না এবং ২০১৭ সালে ঘরটি নির্মাণ করে আবার অপসারণের কারণ কি এসব প্রশ্নের বিষয়ে প্রতিবেদকের সঙ্গে কোনো কথা বলতে চান না বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

স্থাপনা নির্মাণের অনুমোদনের বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা রেজিস্ট্রার লুৎফুর কবির জানান, নবীনগর সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সামনে দলিল লেখক জহির উদ্দিনের ঘর নির্মাণের বিষয়টি জানতে পেরেছি। তবে আসলে পুরোপুরি বিষয়টি আমি জানি না। তাই নবীনগর সাব-রেজিস্ট্রারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এ বিষয়ে একটি রিপোর্ট দেওয়ার জন্য। বিষয়টিতে কোনো রকম অসঙ্গতি থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানভীর ফরহাদ শামীম বলেন, ‘বিষয়টি অবগত আছি। যদি উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার লিখিত উচ্ছেদের সহযোগিতা চান সে ক্ষেত্রে আমি সহযোগিতা করব।’


মাদারীপুরে মানবপাচার প্রতিরোধে কর্মশালা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাদারীপুর প্রতিনিধি

নিরাপদ অভিবাসনের লক্ষ্য নিয়ে মানবপাচার প্রতিরোধে ‘রাইটস যশোর’ এনজিও- মাদারীপুরের আয়োজনে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকালে ‘পার্টনারশীপ ও নেটওয়ার্কিং মিটিং উইথ রিলেভ্যান্ট স্টেকহোল্ডার’ সংক্রান্ত একটি কর্মশালা তাদের মাদারীপুরস্থ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

ওই এনজিও এর মাদারীপুর জেলার প্রোগ্রাম অফিসার বায়োজিদ মিয়ার পরিচালনা ও সঞ্চালনায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর জেলার শিশুবিষয়ক কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি)-এর প্রিন্সিপাল স,ম জাহাঙ্গীর আখতার, জাতীয় মহিলা সংস্থার মাদারীপুর সদর উপজেলা তথ্যসেবা কর্মকর্তা সুমা খানম, তথ্যসেবা সহকারী ফারজানা রুমকি, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, আইন সহায়তা কেন্দ্র (আসক) এর মাদারীপুর জেলা শাখার সভাপতি সাংবাদিক শরীফ মো. ফায়েজুল কবীর, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মশিউর রহমান পারভেজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. বদরুন নাহার কলি, মানবাধিকার প্রতিনিধি অ্যাড. এমদাদুল হক মিলন, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের জেলা শাখার সভাপতি শ্যামল চন্দ্র দে, জনশক্তি কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ ব্যুরো মাদারীপুর এর ডিইএমও মো. লিয়াকত আল স্বরণসহ অন্যান্য স্টেকহোল্ডার ও সদস্যরা।

কর্মশালায় উপস্থিত স্টেকহোল্ডাররা বক্তারা বলেন, ‘মানবপাচার একটি সামাজিক ব্যাধি এবং মাদারীপুর জেলায় এর আধিক্য অন্যান্য জেলার চাইতে অনেক বেশি। মানবপাচার প্রতিরোধে এর স্টেকহোল্ডারদের ব্যাপক ভূমিকা রাখা ও সাধারণ মানুষের সাথে সম্পৃক্ততা আরও বৃদ্ধি করা দরকার। অবৈধ পন্থায় জীবন হানির ঝুঁকি নিয়ে লিবিয়া হয়ে ইতালিসহ ইউরোপের অন্যান্য রাষ্ট্রে মাদারীপুরের মানুষেরই প্রবণতা বেশি দেখা যায়। এর থেকে পরিত্রাণের জন্য সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবার- টু-পরিবারের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে বৈধ অভিবাসনে উৎসাহী করে এবং অবৈধ পন্থায় বিদেশ গমনের অর্থনৈতিক, সামাজিক ক্ষতি, দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়া সহ প্রাণহানি ও মাফিয়াদের কর্তৃক অত্যাচার-নিপিড়নের বিষয়টি তাদের বোঝানোর কোনো বিকল্প নাই বলে একমত পোষণ করা হয়।


এনসিটি বিদেশিদের ইজারা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ইব্রাহিম খোকন আটক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল(এনসিটি) বিদেশিদের ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা পরিষদের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকনকে আটক করা হয়েছে। গত সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে নগরীর বন্দর এলাকা থেকে র‌্যাবের একটি দল তাকে আটক করে বলে জানায় পুলিশ।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) আমিনুর রশিদ জানান, র‌্যাবের একটি দল তাকে আটক করে বন্দর থানায় হস্তান্তর করেছে।

আটক ইব্রাহিম খোকন চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সমন্বয়ক। তিনি বিএনপিপন্থি বন্দর শ্রমিক দলের নেতা।

এদিকে ইব্রাহিম খোকনকে আটকের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। সংগঠনটির নেতারা অভিযোগ করেছেন, প্রশাসন শান্তিপূর্ণ সমাধানের পরিবর্তে শ্রমিক-কর্মচারীদের সাংঘর্ষিক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তারা পরিকল্পিতভাবে বন্দর পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার উসকানি দিচ্ছে।

স্কপভুক্ত সংগঠনগুলোর মধ্যে বিভাগীয় শ্রমিক দলের সভাপতি এএম নাজিম উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, জেলা টিইউসির সভাপতি তপন দত্ত, স্কপের জেলা সমন্বয়ক এস কে খোদা তোতন ও ইফতেখার কামাল খান, ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সভাপতি খোরশেদুল আলম, বিএফটিইউসির সভাপতি কাজী আনোয়ারুল হক হুনি, বিএলএফের সভাপতি নুরুল আবসার তৌহিদ, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের নেতা হেলাল উদ্দিন কবির ও বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জাহেদ উদ্দিন শাহিন এক যৌথ বিবৃতিতে ইব্রাহিম খোকনের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছেন।

উল্লেখ্য, এনসিটি সংযুক্ত আরব-আমিরাতের প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের’ ডাকে গত ৩১ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন ৮ ঘন্টা করে তিনদিন কর্মবিরতির পর ৩ ফেব্রুয়ারি ২৪ ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। ৪ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে তারা অনির্দিষ্টকালের কর্মসূচি শুরু করেন। এতে চট্টগ্রাম বন্দর পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে। সবধরনের অপারেশনাল কার্যক্রমের পাশাপাশি বন্দরে জাহাজ আসা-যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়।

এর মধ্যে আন্দোলনকারীদের নেতা ইব্রাহিম খোকন ও হুমায়ুন কবীরসহ ১৫ কর্মচারীকে বদলির আদেশ দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। এতে আন্দোলন আরও জোরদার হয়। এ অচলাবস্থার মধ্যে ৫ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন নৌপরিবহণ উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাখাওয়াত হোসেন। বৈঠকে শ্রমিক-কর্মচারীদের চার দফা দাবি নিয়ে উপদেষ্টার আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে কর্মবিরতি ৪৮ ঘণ্টার জন্য স্থগিত করা হয়। ৬ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে তারা কাজে যোগ দেন। কিন্তু সেদিনই ১৫ কর্মচারীর বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) তাদের সম্পদ অনুসন্ধানের জন্য চিঠি দেয়ায় আন্দোলনকারীরা আরও ক্ষুব্ধ হন। ৮ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে আবারও লাগাতার ধর্মঘট শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। এ অবস্থায় এনসিটি ইজারা দেওয়ার চুক্তি হবে না বলে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী ঘোষণা দেন।

এ ঘোষণার পর ধর্মঘট এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত করে শ্রমিক-কর্মচারীরা গত সোমবার সকাল থেকে কাজে যোগ দেন। কিন্তু এর মধ্যে পুলিশ পাঁচ কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করে। এ ছাড়া বদলি হওয়া ১৫ কর্মচারীর সরকারি বাসার বরাদ্দ বাতিল করে বন্দর কর্তৃপক্ষ।


সারিয়াকান্দিতে ট্রান্সফরমার চুরিতে দিশেহারা কৃষক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে একই রাতে চারটি বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার জোড়গাছা পূর্বপাড়া এলাকায়। ট্রান্সফরমারগুলো চুরি যাওয়ায় একাধিক সেচ পাম্প অচল হয়ে পড়েছে, ফলে ব্যাহত হচ্ছে বোরো ধানের সেচ কার্যক্রম।

সরেজমিনে জানা যায়, গত সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে সংঘবদ্ধ একটি চোরচক্র পরিকল্পিতভাবে সেচ পাম্পের জন্য স্থাপিত চারটি ট্রান্সফরমারের ভেতরের তামার কয়েল খুলে নিয়ে যায়। ভোরে কৃষকরা মাঠে গিয়ে সেচ পাম্প চালু করতে না পেরে বিষয়টি জানতে পারেন। এতে কয়েকশ বিঘা জমির ফসল ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষকরা জানান, বোরো মৌসুমে নিয়মিত সেচ না পেলে ধানের ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। ট্রান্সফরমার না থাকায় গভীর নলকূপ বন্ধ রয়েছে, ফলে কৃষকরা চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয় মহাসিন আলী প্রামাণিক জানান, ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় অফিসের লোকের সম্পৃক্ততার সম্ভবনা রয়েছে। কেননা প্রতি বছরই একই কায়দায় এ ঘটনা ঘটছে। এটি প্রশিক্ষিত ব‍্যক্তি ছাড়া এ কাজ সাধারণ লোকের পক্ষে সম্ভব নয়।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মুকুল হোসেন, রনক, ফজলুর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এ এলাকায় ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটছে। গত বছর শামীম নামের এক কৃষকের দুটি ট্রান্সফরমারের ভেতরের কোয়েল চুরি হয়েছিল। এ বছরও তাদের সাথে তার একটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। তবে একই রাতে একাধিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা এই প্রথম। নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে দায়ী করে দ্রুত নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন ও চোরচক্রকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।


হবিগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী গিয়াসউদ্দিন তাহেরীর শ্বশুরবাড়ির ঠিকানা নিয়ে বিতর্ক

গিয়াসউদ্দিন তাহেরী। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনের ইসলামী ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী মো. গিয়াসউদ্দিন তাহেরীকে নিয়ে তার শ্বশুরবাড়ির ঠিকানা সংক্রান্ত এক নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, নির্বাচনী সমর্থন পাওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি নির্বাচন কমিশনে তার শ্বশুরবাড়ির প্রকৃত ঠিকানা গোপন করে ভিন্ন একটি স্থানের নাম উল্লেখ করেছেন। স্থানীয়দের তথ্যমতে, তাহেরীর প্রকৃত শ্বশুরবাড়ি মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের কাশিপুর (বেঙ্গাডুবা) সাহেব বাড়িতে অবস্থিত হলেও তিনি তার নির্বাচনী হলফনামায় চুনারুঘাট উপজেলার কাশিপুর গ্রামকে শ্বশুরবাড়ির ঠিকানা হিসেবে দেখিয়েছেন। এই অসংগতির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মাধবপুর ও চুনারুঘাট এলাকার ভোটারদের মাঝে ব্যাপক মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

এই বিভ্রান্তি প্রসঙ্গে নোয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউল মোস্তফা সোহেল বলেন, “গিয়াসউদ্দিন তাহেরীর শ্বশুরবাড়ি আমার ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাশিপুর গ্রামে। কেন তিনি তার শ্বশুরবাড়ির ঠিকানা চুনারুঘাট লিখেছেন তা আমার বোধগম্য নয়।” একই এলাকার বাসিন্দা শাহিন মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গিয়াসউদ্দিন তাহেরী হুজুরের শ্বশুরবাড়ি আমাদের কাশিপুর (বেঙ্গাডুবা) সাহেব বাড়িতেই। এটা এলাকার সবাই জানে। কিন্তু তিনি কাগজপত্রে চুনারুঘাটের কাশিপুর দেখাইছেন, বিষয়টি দুঃখজনক।” অন্যদিকে চুনারুঘাট উপজেলার কাশিপুর এলাকার বাসিন্দা সালাম মিয়া বিষয়টির স্বচ্ছতা দাবি করে বলেন, “আমরা শুনেছি উনি নাকি কাগজে আমাদের কাশিপুর গ্রামের ঠিকানা লিখেছেন। কিন্তু উনার শ্বশুরবাড়ি এখানে এমন কোনও পরিচিতি বা প্রমাণ আমরা জানি না। বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া দরকার।”

একজন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের এমন তথ্য বিভ্রাট নিয়ে স্থানীয় আলেম ও পীর মাশায়েখদের মধ্যেও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সুন্নি নেতা পীর জোবায়ের কামাল এই বিষয়ে মন্তব্য করেন, “একজন আলেম বা পীর সাহেবের কাছ থেকে মানুষ সত্য আশা করে। শ্বশুরবাড়ির ঠিকানা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হলে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন ওঠে। ধর্মীয় পরিচয়ের মানুষের আরও সতর্ক হওয়া উচিত।” রতনপুর এলাকার ইমাম মাওলানা আবদুল আহাদ নৈতিকতার প্রশ্ন তুলে বলেন, “ইসলামে মিথ্যা বলা ও মিথ্যা তথ্য দেয়া বড় গুনাহ। ভোটের জন্য কেউ যদি পরিচয় বা ঠিকানা নিয়ে মিথ্যার আশ্রয় নেয়, তাহলে মানুষের আস্থা নষ্ট হয়।” উদ্ভূত এই অভিযোগের বিষয়ে গিয়াসউদ্দিন তাহেরীর কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।


আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে জামায়াত প্রার্থী আমির হামজাকে জরিমানা, অনাদায়ে কারাদণ্ড

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘনের দায়ে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আমির হামজাকে দুটি মামলায় মোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে ছয় দিনের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন অনুসন্ধান ও তদন্ত কমিটির সদস্য এবং যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মো. আব্দুল হাই এই আদেশ দেন। প্রতিটি মামলায় পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে তিন দিন করে মোট ছয় দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হলেও পরবর্তীতে আমির হামজার পক্ষে তার আইনজীবী জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেন।

আদালতের রায় অনুযায়ী, কুষ্টিয়ার ইবি থানার শান্তিডাঙ্গা গ্রামের রাশেদ আহমেদ গত ৮ ফেব্রুয়ারি আমির হামজার বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘনের দুটি অভিযোগ দায়ের করেন। কুষ্টিয়া মডেল থানার মজমপুর গেট, পাঁচ রাস্তার মোড় ও থানা মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায় যে, প্রার্থীর প্রচারণামূলক ব্যানারে মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা ও মুদ্রণের তারিখ উল্লেখ নেই, যা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সংক্ষিপ্ত আদালত চলাকালীন প্রার্থীর আইনজীবী তৌহিবুল ইসলাম তুহিন অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করেন।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় মামলার বাদী রাশেদ আহমেদ বলেন, “রায়ে আমি সন্তুষ্ট। তবে রায় এখনো পরিপূর্ণভাবে কার্যকর করা হয়নি। এসব ব্যানার, পোস্টার এখনো আছে। আমরা এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।” আদালতের পক্ষ থেকে প্রার্থীকে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থী আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এ উল্লিখিত বিধিনিষেধসমূহ যথাযথভাবে মেনে চলার কঠোর নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় আদালত এই দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।


গঙ্গাচড়ায় আদালতের নিষেধ না মেনে বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের অভিযোগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার আলমবিদিতর পাইকান এলাকায় আদালতের স্থিতিবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ অমান্য করে বড়াইবাড়ী দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণকাজ চালানোর অভিযোগ ওঠেছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, সহকারী জজ মোছা. স্বপ্না মুস্তারিন ২২৫/২৫ নম্বর দেওয়ানি মামলায় ১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে স্থিতিবস্থার আদেশ প্রদান করেন। আদেশে বলা হয়, মামলার রায় না হওয়া পর্যন্ত নালিশি জমির দখল, আকার ও ব্যবহার কোনোভাবেই পরিবর্তন করা যাবে না। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কেবল নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে; এর বাইরে কোনো নির্মাণ বা পরিবর্তনমূলক কাজ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।

মামলার প্রক্রিয়া অনুযায়ী, আদালত ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে বিবাদী পক্ষকে ১৫ দিনের মধ্যে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা কেন দেওয়া হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেন। বাদীপক্ষের প্রার্থনা ও বিবাদীপক্ষের জবাব পর্যালোচনা শেষে আদালত ১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে স্থিতিবস্থার আদেশ দেন।

তবে বাদী আবু মো. জুলফিকার অভিযোগ করেন, আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ভবন নির্মাণকাজ চলমান ছিল। পরে বিষয়টি সংবাদপত্রে প্রকাশিত হলে নির্মাণকাজ বন্ধ করা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পরও কোর্টের অনুমতি ছাড়াই গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু করা হয়েছে, যা আদালত অবমাননার শামিল। তিনি বলেন, ‘আদালতের আদেশ স্বেচ্ছায় অমান্য করা হয়েছে। আমি আদালতের কাছে সুষ্ঠু বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

নির্মাণকাজ পরিচালনাকারী ঠিকাদারের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর জামান বলেন, ‘আমি ঠিকাদারকে বলেছি, যেহেতু কোর্টের নিষেধাজ্ঞা আছে, আপনারা কাজ বন্ধ রাখেন। কিন্তু ঠিকাদার নিজ উদ্যোগে কাজ করছে। কেন ঠিকাদার কোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নির্মাণকাজ চালাচ্ছে, সে বিষয়ে জবাব ঠিকাদারই দিতে পারবেন।’

রংপুর শিক্ষা নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী ইকবালের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে গঙ্গাচড়া উপজেলার উপপ্রকৌশলী আরিফ হোসেন বলেন, ‘আমরা কোর্টের কোনো নতুন নির্দেশ পাইনি। এখনো কোর্টের স্থগিতাদেশ আমাদের কাছে পৌঁছেনি।’

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সাঈদ মো. আরিফ মাহফুজ বলেন, ‘আমরা এখনো বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই। বিষয়টি দেখছি।’

এদিকে অনুসন্ধানে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ১৯৭২ সালের ৪১৯৫১ নম্বর দলিলের ভিত্তিতে জমির মালিকানা দাবি করা হলেও তল্লাশি শেষে কিশোরগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে জানানো হয়েছে, ওই দলিলের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অমান্য করে নির্মাণকাজ পরিচালনার বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন ওঠেছে।


নরসিংদীতে ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নরসিংদী প্রতিনিধি

নরসিংদীর রায়পুরায় রফিকুল ইসলাম সরকার (৫০) নামে এক ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার চরমধুয়া গ্রামের গাজিপুরা এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

রফিকুল ইসলাম চরমধুয়া গ্রামের হাজী মঙ্গল মিয়ার ছেলে। তার স্ত্রী মমতাজ বেগম স্থানীয় চরমধুয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (ইউপি সদস্য)।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে স্থানীয় বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন রফিকুল ইসলাম। গাজিপুরা এলাকায় পৌঁছালে ওৎ পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্তরা পেছন থেকে তাকে লক্ষ্য করে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।

পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের ভাই মোস্তাকিম বলেন, ‘তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রিফাত ও নয়নদের সঙ্গে রফিকুল ইসলামের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জেরে তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হচ্ছিল।’ পরিকল্পিতভাবেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

রফিকুল ইসলামের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালে স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম শুরু হয়। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

রায়পুরা থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) প্রবীর চন্দ্র ঘোষ বলেন, ‘পারিবারিক বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


মায়ের ইচ্ছা পূরণে হেলিকপ্টারে করে গ্রামে প্রবাসী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি

প্রবাস জীবন শেষে হেলিকপ্টারে করে নিজ গ্রামের মাটিতে পা রাখলেন জোড়গাছা মধ‍্যপাড়ার মরহুম জহুরুল ইসলাম নান্টু মন্ডলের ছোট ছেলে ও সিঙ্গাপুর প্রবাসী হাসানুর রহমানের ছোট ভাই সাবেক সেনা সদস‍্য হাসনাত আলী। ব্যতিক্রমী এই আগমনে গ্রামজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আনন্দ ও কৌতূহল। জোড়গাছা উচ্চ বিদ‍্যালয় মাঠে দুপুর দেড়টায় হেলিকপ্টার অবতরণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই শত শত মানুষ ভিড় করেন নির্ধারিত স্থানে।

হাসনাত আলী জানান, মায়ের স্বপ্ন পূরণে এমন উদ‍্যোগ নিয়েছেন তিনি।

প্রবাসী ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন সিঙ্গাপুরে অবস্থানের পর ছুটিতে দেশে আসেন। সময় বাঁচানো ও বিশেষ প্রয়োজনে তিনি হেলিকপ্টারে গ্রামে আসেন বলে জানা গেছে। গ্রামের মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি।

স্থানীয়রা জানান, এর আগে গ্রামে কখনো হেলিকপ্টার অবতরণ না করায় এমন দৃশ্য দেখতে পেয়ে তারা উচ্ছ্বসিত। শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক সব বয়সের মানুষই হেলিকপ্টার দেখতে ভিড় করেন। অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন।

মুকুল হোসেন মাস্টার, তরুন, মানিক মিয়াসহ অনেকে জানান, এমন ব্যতিক্রমী ঘটনায় গ্রামটি নতুন করে ঐতিহাসিক পরিচিতি পেল। এই আগমন এলাকাবাসীর মাঝে আনন্দের পাশাপাশি অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করেছে।


দৌলতপুরে আহত সাইফও না ফেরার দেশে, শেষ শয়ানেও তিন বন্ধু পাশাপাশি

আপডেটেড ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২৩:০৬
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত স্কুলছাত্র সাইফ হোসেনের (১৪) মৃত্যুর মধ্য দিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেল সপ্তম শ্রেণির তিন বন্ধু। গত রোববার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাইফের মৃত্যু হয়। এর আগে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) একই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায় তার দুই সহপাঠী রহমত উল্লাহ ও সাহাবী হোসেন। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে নিজ গ্রামের কবরস্থানে জানাজা শেষে সাইফকে দাফন করা হলে, পাশাপাশি কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত হয় তিন বন্ধু।

নিহতরা হলো—দৌলতপুর উপজেলার দৌলতখালী চৌহদ্দিপাড়া গ্রামের হেকমত উল্লাহর ছেলে রহমত উল্লাহ (১৪), আমিনুল ইসলামের ছেলে সাহাবী হোসেন (১৪) এবং জিয়ার আলীর ছেলে সাইফ হোসেন (১৪)। তারা সবাই দৌলতখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে তিন বন্ধু প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে দৌলতখালী মাদ্রাসা মোড়ে যায়। পড়াশোনা শেষে সকাল ৯টার দিকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে দৌলতখালী হাজীপাড়া এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে থাকা একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক রহমত ও সাহাবীকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত সাইফকে প্রথমে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতাল এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার রাতে তার মৃত্যু হয়।

একই গ্রামের, একই স্কুলের ও একই শ্রেণির তিন শিক্ষার্থীর এমন অকাল মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গত শনিবার বিকেলে রহমত ও সাহাবীর এবং গতকাল সোমবার সকালে সাইফের জানাজা শেষে দৌলতখালী চৌহদ্দিপাড়া মাঠ এলাকার কবরস্থানে তিন বন্ধুকে পাশাপাশি দাফন করা হয়। প্রিয় সন্তানদের হারিয়ে পরিবারগুলোতে চলছে হৃদয়বিদারক মাতম।

স্থানীয় বাসিন্দা হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের বাড়ির পাশেই ওই তিন শিক্ষার্থীর বাড়ি। তারা সবাই একই শ্রেণিতে পড়ত। এমন মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী আমাদের গ্রাম আগে কখনো হয়নি। নিহতদের পরিবারের পাশাপাশি পুরো এলাকায় শোকাহত।’

দৌলতপুর থানার ওসি আরিফুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনায় আহত তৃতীয় ছাত্র সাইফও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। দুর্ঘটনায় নিহত তিন কিশোরকে তাদের নিজ এলাকার কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।’

এদিকে গতকাল সোমবার সকালে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের আয়োজনে নিহত পরিবার গুলোকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন।


গুরুদাসপুরে আগুনে পুড়ে মা-মেয়ের মৃত্যু, দগ্ধ আরও দুই

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাটোর প্রতিনিধি

নাটোরের গুরুদাসপুরে বসতঘরে অগ্নিকাণ্ডে মা ও মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় দগ্ধ হয়েছেন দুজন। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ভোরে উপজেলার ঝাউপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া আগুনে পুড়ে গেছে মুদি দোকানসহ পাঁচটি ঘর, আসবাবপত্র এবং ১২টি ছাগল।

গুরুদাসপুর থানার ওসি শফিকুজ্জামান সরকার জানান, ঝাউপাড়া এলাকায় মোন্তার হোসেনের বসতবাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট প্রায় ১ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এর আগেই পুরো বসতভিটা ভস্মিভূত হওয়াসহ আগুনে পুড়ে মারা যান মোন্তার হোসেনের ছেলের রান্টু ইসলামের স্ত্রী আতিয়া এবং তাদের দেড় বছর বয়সি মেয়ে রওজা খাতুন। এ ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ হন মোন্তার হোসেনসহ তার স্ত্রী মর্জিনা বেগম। তাদের উদ্ধার করে উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে মর্জিনা বেগমকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট অথবা গোয়াল ঘরের মশার কয়েল থেকে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাহমিদা আফরোজ জানান, মা ও তার শিশুকন্যার মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। প্রাথমিকভাবে নিহতদেন দাফনসহ আনুসঙ্গিক খরচের জন্য ৪০ হাজার টাকা অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের সার্বিক সহায়তা করা হবে।


পায়রা বন্দরে সেতুর সাটার ভেঙে নদীতে পড়ে নিহত ১, আহত ১০

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পায়রা বন্দরের নির্মাণাধীন ফোরলেন সেতুর ট্রাভেলার ফার্ম বা লোহার সাটার ভেঙে রাবনাবাদ নদীতে পড়ে রাসেল হাওলাদার (৩২) নামের ১ নির্মাণ শ্রমিক নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও অন্তত ১০ শ্রমিক। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় রঞ্জু ও রাকিবুল নামের দুই শ্রমিককে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল সেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল এগারোটায় সেতুর লালুয়া অংশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মৃত রাসেল টিয়াখালী ইউনিয়নের অঞ্জুপাড়া গ্রামের শাহ আলম হাওলাদারের ছেলে।

জানা যায়, সকালে ১০ থেকে ১৫ জন শ্রমিক সেতুর ওপরে লোহার সাটারের ওপর বসে রড বাঁধাইয়ের কাজ শুরু করে। বেলা সাড়ে দশটার দিকে হঠাৎ চেইন ছিড়ে শ্রমিকদের সহ সাটারটি নদীতে পড়ে যায়। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিক আহতদের উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাসেলকে মৃত ঘোষণা করে।

পায়রা বন্দরের সিক্সলেন সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত ১১৮০ মিটার দীর্ঘ এ সেতুটি নির্মাণ করছে চায়না রেলওয়ে ব্রিজ কনস্ট্রাকশন গ্রুপ (সিআরবিজি) ও চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্টিটিউশন করপোরেশন (সিসিইসিসি) নামের দুটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ২০২৪ সালের ১২ মার্চ এ সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা সরঞ্জামে অনেকটা ঘাটতি ছিল বলে জানায় শ্রমিকরা।

কলাপাড়া থানার ওসি মো. রবিউল ইসলাম বলেন, লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।


হেলিকপ্টারে চড়ে সৌদি কফিলকে নিয়ে গ্রামে ফিরলেন প্রবাসী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

সৌদি আরবের কফিলকে (মালিক) নিয়ে হেলিকপ্টারে চড়ে তাহিরপুর উপজেলা বালিজুরি ইউনিয়নের রাজ নগর গ্রামের নিজ বাড়িতে ফিরেছেন মাকসুদ আখঞ্জি নামে এক প্রবাসী। হেলিকপ্টার দেখতে স্থানীয় উৎসুক জনতা ভিড় করে। গত শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার রাজ নগর গ্রামের একটি প্রবাসীর বাড়ি সংলগ্ন মাঠে হেলিকপ্টারে এসে নামেন তারা। সৌদি আরবের ওই নাগরিকের নাম মিশাল আমি য়ামী। সৌদি প্রবাসী মাকসুদ আখঞ্জি রাজ নগর গ্রামের শাহ আলম আখঞ্জির ছেলে। তিনি ৫ বছর আগে সৌদি আরবের রিয়াদ শহরের গিয়েছিল।

প্রবাসী মাকসুদ আখঞ্জি জানান, কয়েক বছর ধরে সৌদি আরবের রিয়াদ শহরে মিশাল আমি য়ামী মালিকানাধীন একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন তিনি। চাকরির সুবাদে মালিকের (কফিল) সঙ্গে সুসম্পর্ক হয় তার। গত শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রিয়াদ থেকে বাংলাদেশ ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন তারা। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হেলিকপ্টার ভাড়া করে ঢাকা থেকে বালিজুরি আসেন।

এদিকে প্রবাসী মাকসুদের সঙ্গে তার সৌদি কফিলের গ্রামে আসার খবরে সকাল থেকেই উৎসুক মাকসুদের বাড়ির পাশে মাঠে ভিড় করে। সৌদি থেকে আসা নাগরিককে বরণ করতে নেওয়া হয় ব্যাপক প্রস্তুতি। নিরাপত্তার জন্য তাহিরপুর থানা পুলিশের একটি টিম দায়িত্বে নিয়োজিত থাকে। হেলিকপ্টার থেকে মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গে হই-হুল্লোড় শুরু হয়ে যায়। এ সময় মাকসুদ আখঞ্জির বাবা শাহ আলম সহ স্থানীয় লোকজন ফুলেল শুভেচ্ছা জানান সৌদি আরবের নাগরিক মিশাল আমি য়ামী কে।

স্থানীয় সমাজসেবক মশিউর রহমান বলেন, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা যেন মাকসুদ আখঞ্জি মতো তাদের কপিলের সাথে সুসম্পর্ক রাখেন। দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেন।

কপিল মিশাল আমি য়ামী বলেন, মাকসুদ অত্যন্ত ভালো ছেলে। আমি মাকসুদকে পছন্দ করি। মাকসুদ আমার সকল ব্যবসা-বাণিজ্য দেখাশোনা করে। আমি মাকসুদের মতো আরও শ্রমিক বাংলাদেশ থেকে নিতে চাই। প্রথমদিন এখানে এসে অনেক ভালো লেগেছে। আমার পছন্দের একটি দেশ বাংলাদেশ। এ সময় মাশাল্লাহ মাশাল্লাহ বাংলাদেশ বলে অনুভূতি প্রকাশ করেন তিনি।

প্রবাসী মাকসুদ আখঞ্জি বলেন, আমার কফিল (মালিক) একজন ভ্রমণপিপাসু মানুষ। তিনি বাংলাদেশ খুব পছন্দ করেন। কাজ করার সময় প্রায়ই বলতেন, আমি তোমার দেশে যাব। তাই তাকে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আমরা আগে থেকে চিন্তা করি তাকে নিয়ে হেলিকপ্টারে করে গ্রামে যাব। সে জন্য ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে করে চলে আসি। তিনি এক সপ্তাহ বাংলাদেশে থাকবেন। পরে একসঙ্গে আবার সৌদিতে চলে যাব।

দীর্ঘ ২০ বছর প্রবাসে কাটিয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হেলিকপ্টারে চড়ে নিজ গ্রামে ফিরলেন মাগুরার তিন প্রবাসী। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

গত শুক্রবার সকালে ঢাকা বিমানবন্দরে অবতরণের পর সেখান থেকেই সরাসরি হেলিকপ্টারে করে নিজ জেলা মাগুরায় পৌছান তারা। জেলা সদরের বুজরুক শ্রীকুন্ডী এম.এ. হামিদ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে হেলিকপ্টারটি অবতরণ করলে পরিবারসহ নামেন আপন দুই ভাই ও আপন ভাতিজা।


ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম, ক্ষতিগ্রস্ত হাওরের জীববৈচিত্র্য

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে উচ্চ পযার্য়ের তদন্ত কমিটি গঠনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে সুনামগঞ্জ জনউদ্যোগ। রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১ টায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পাবলিক লাইব্রেরির মিলনায়তে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

জনউদ্যোগের সদস্য কবি ও লেখক সুখেন্দু সেন’র সভাপতিত্বে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সদস্য ও সংস্কৃতিকর্মী জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ফসলরক্ষা বাঁধ কার্যক্রমে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে ব্যাপক অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে। ফসলরক্ষা বাঁধের প্রাক্কলন কর্মসূচি দৃশ্যমান ছিল না, যার ফলে অপ্রয়োজনীয় পিআইসি সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। পিআইসি গঠনে মাঠ প্রশাসনের গণশুনানী কার্যক্রম ছিলো অকার্যকর ও লোক দেখানো।

গত ১৫ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জ জেলার ১২টি উপজেলায় ১টি করে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হলেও ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত অধিকাংশ পিআইসির কাজে চরম ধীরগতি, অব্যবস্থাপনা ও নিম্নমানের কাজ পরিলক্ষিত হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ওয়ার্ক অর্ডার অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু হয়নি, পিআইসিগুলো কাজের নির্দেশনা পেয়েছে প্রায় দুই সপ্তাহ বিলম্বে।

চলতি অর্থবছরে ১৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে পিআইসি করা হয়েছে ৭০২টি। এসব পিআইসির মধ্যে অপ্রয়োজনীয় ও অক্ষত বাঁধও রয়েছে। এতে হাওরের জীববৈচিত্র্যের ক্ষতিসহ রাষ্ট্রিয় অর্থের অপচয় হচ্ছে। হাওরের কান্দা ও ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি কেটে নেওয়ায় আবাদি জমি, উর্বরতা ও গো-চারণ ভূমি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বাঁধ সংলগ্ন কৃষক ও সাধারণ মানুষ অধিকাংশ ক্ষেত্রে পিআইসির কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত নন, কারণ অধিকাংশ প্রকল্প এলাকায় কাজের বিবরণী সম্বলিত সাইনবোর্ড ও পরিদর্শন বই দৃশ্যমান নেই। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও উঠে এসেছে।

এসব অনিয়ম রোধে নেতৃবৃন্দ ১১টি প্রস্তাবনা তুলে ধরেন, সেগুলো হলো, ফসলরক্ষা বাঁধের প্রাক্কলন যথাসময়ে শুরু ও শেষ করে তা স্থানীয় জনগণ ও গণমাধ্যমকে জানানো, আগামী বছর কার্যকর ও স্বচ্ছ গণশুনানীর মাধ্যমে পিআইসি গঠন নিশ্চিত করা, ওয়ার্ক অর্ডার অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু ও শেষ করা, কাবিটা নীতিমালা অনুসারে প্রকৃত কৃষকদের দিয়ে পিআইসি গঠন এবং অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ করা, অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ রোধে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ভূমিকা জোরদার করা, গুরুত্বপূর্ণ ক্লোজারগুলো চিহ্নিত করে টেকসই কাজ নিশ্চিত করতে মনিটরিং জোরদার করা, সব পিআইসিতে কাজ শুরুর আগেই সাইনবোর্ড ও পরিদর্শন বই দৃশ্যমান রাখা, ‘কাবিটা নীতিমালা সংশোধনী ২০২৩’ এর পূর্ণাঙ্গ ও সফল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা, জরিপের মাধ্যমে যেখানে সম্ভব সেখানে সুইচ গেইট স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া, অপ্রয়োজনীয় ও অক্ষত বাঁধে প্রকল্প গ্রহণের বিষয়ে প্রকল্প এলাকার স্থানীয় জনগণ, কৃষক আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে দুদকের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন ও বন্যা সমস্যা নিরসনে পরিকল্পিত নদী খননের উদ্যোগ গ্রহণ করা।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জনউদ্যোগের সদস্য অ্যাড. মাহবুবুল হাছান শাহীন, বুরহান উদ্দিন, সদস্য সচিব সাইদুর রহমান আসাদসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্টনিক মিডিয়ার কর্মীবৃন্দ।


banner close