বান্দরবানের রুমা উপজেলায় সোনালী ব্যাংক লুটের পর ব্যাংকটির থানচি উপজেলা ও সেখানকার কৃষি ব্যাংকের শাখায় ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।
আজ বুধবার দুপুর ১টার দিকে থানচি বাজার ঘেরাও করে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা।
থানচি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অং প্রু ম্রো গণমাধ্যমকে বলেন, বেলা একটার দিকে থানচি সদরের শাহজাহানপুরের দিক থেকে তিনটি চাঁদের গাড়িতে করে সন্ত্রাসীরা গুলি করতে করতে বাজার এলাকায় প্রবেশ করে। এরপর থানচি উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন সোনালী ব্যাংক ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ভেতরে ঢুকে নগদ টাকা যা পেয়েছে তা নিয়ে চলে যায়। এরপর তারা আবার ওই তিন গাড়িতে করে শাহজাহানপুরের দিকে চলে।
সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আফজাল করিম গণমাধ্যমকে বলেন, সোনালী ব্যাংকের থানচি শাখায় হামলার খবর পেয়েছি। পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গেছে। তারা কাজ করছে।
গতকাল মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে ৭০-৮০ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী রুমা উপজেলা পরিষদ এলাকা ঘেরাও করে। তারা সোনালী ব্যাংকে গিয়ে পাহারারত পুলিশ ও আনসার সদস্যদের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নেয় এবং মারধর করতে থাকে। ব্যাংকে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। সেই সঙ্গে ব্যাংকের ম্যানেজারকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। মঙ্গলবার ব্যাংকের এ শাখার ভল্টে ১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ছিল। তবে সেই টাকা লুট হয়েছে কি না, এখনো জানা যায়নি।
বান্দরবানের পুলিশ সুপার সৈকত শাহীন জানান, স্থানীয়দের ধারণা এ ঘটনা নব্য বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন কুকিচিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) ঘটিয়ে থাকতে পারে।
ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত নয়টার দিকে রুমা উপজেলার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ওই সময় ৭০/৮০ জনের আধুনিক অস্ত্র সশস্ত্র সজ্জিত সশস্ত্র সদস্যরা রুমা সদরে উপজেলা পরিষদ এলাকায় অবস্থিত সোনালী ব্যাংকের গ্রীল ভেঙ্গে প্রবেশ করে। তারপর ব্যাংক ব্যবস্থাপক নেজাম উদ্দিনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ টাকা নিয়ে যায় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। তবে আনুমানিক দেড় থেকে দুই কোটি টাকা অনুমান করা হলেও কি পরিমাণ টাকা লুট হয়ে গেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ডাকাতির সময় ব্যাংকের নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের কাছ থেকে দশটি অস্ত্র ও ৩৮০ রাউন্ড গুলি ছিনিয়ে নেয়া হয়। ব্যাংকের অদূরে থাকা আনসার ব্যারেক থেকে চারটি অস্ত্র ও ৩৫টি গুলি ছিনিয়ে নেয়-সশস্ত্র এ সন্ত্রাসীরা। ওই সময় পুলিশ ও আনসারকে মারধর করে। ওই সময় ব্যাংকের লাগুয়া থাকা অফিসার কোয়ার্টারে অবস্থান করা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও বেশ কয়েকজন কর্মামচারী মারধরের শিকার হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীরা জানায়, এসময় উপজেলা মসজিদ ঘেরাও করে মসুল্লিদের মোবাইল ফোন ছিনতাই করে। সশস্ত্র সদস্য একটি অংশ উপজেলা পরিষদ এলাকায় ব্যাংক থেকে প্রায় একশ গজ দুরে আলমগীর চা দোকানের সামনে রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে প্রহরা দেয় সশস্ত্র সদস্যরা। তখন রুমা বাজার দিক থেকে আসা সাধারণ যাত্রী ও মোটরবাইকসহ যাত্রীদের আটকিয়ে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে লোকজন বেধরক পিটিয়েছে।
একইভাবে উপজেলা পরিষদের পশ্চিম দিকে সেগুন বাগান নিচে ছোট্ট কালভাটের পাশে রাস্তা গতিরোধ করে মোটরবাইক ও যাত্রীদের আটকিয়ে নগদ টাকা, মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান জিনিস যা থাকে সব ছিনিয়ে নিয়ে সবাইকে মারধর করে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। এঘটনার ভুক্তভোগীরা জানায় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে আধুনিক অস্ত্র ও মুখে কাপড় ঢাকা ছিল। তাই তাদের চেনা না গেলেও বাংলা ভাষা ব্যবহারের পাশাপাশি তাদের মধ্যে ফিশফিশে বম ভাষায় কথোপকথনের ভাষার সুর শুনতে পেরেছেন- অনেক ভুক্তভোগী ও মারধরের শিকার হওয়া লোকজন।
আর এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠেছে - কুকি চীন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) এর বিরুদ্ধে । তবে তাৎক্ষণিক কেএনএফ এর দায়িত্বশীল কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে এই ঘটনার পর সেনাবাহিনীর সদস্য ও পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে, এলাকায় আতংক বিরাজ করায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
অন্যদিকে একটি সূত্র জানায় ব্যাংকে টাকা সংরক্ষণ করা লোহার বাক্সের তালা খুলতে পারেনি। মূলত এ কারণে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মোঃ নেজাম উদ্দিনকে নিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার কোনো খোঁজ এখনো পাওয়া যায়নি।
বুধবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান বান্দরবান জেলা প্রশাসক শাহ মোজাহিদ উদ্দিন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার সৈকত শাহীন, পুলিশের চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত ডিআইজি মাহফুজুর রহমান, সোনালী ব্যাংক চট্টগ্রাম বিভাগের জিএম ও মুসা খান।
ঘটনার সঙ্গে পাহাড়ি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের জড়িতের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, নানা ইঙ্গিতে নামগুলো উঠে আসছে। তবে তদন্ত সাপেক্ষে বিষয়টি জানানো হবে।
ঘটনার পর থেকে ভেঙে পড়েছেন অপহৃত ব্যাংক ম্যানেজারের স্ত্রী বান্দরবান ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের সহকারী অধ্যাপক ইশফাত। ব্যাংক ম্যানেজার নিজাম উদ্দিনের বড় ভাই চট্টগ্রাম কর্ণফুলী থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মিজান উদ্দিন বলেন, আমি এখন রুমায় আছি। ভাইয়ের এখনও কোনো খবর পাইনি। পরিবার থেকে এখন আলাদাভাবে আইনগত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
তীব্র জ্বালানি সংকটে স্থবির হয়ে পড়েছে গাইবান্ধা জেলার স্বাভাবিক জনজীবন এবং যান চলাচল। জেলার সাতটি উপজেলার মোট ১৭টি ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় বর্তমানে সবকটি পাম্পই বন্ধ রয়েছে। সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে গাইবান্ধা পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান উজ্জ্বল এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জেলাজুড়ে প্রতিদিন প্রায় ৭ হাজার লিটার পেট্রোল, ৪ হাজার লিটার অকটেন এবং ৩২ হাজার লিটার ডিজেলের চাহিদা থাকলেও চাহিদার অর্ধেকেরও কম সরবরাহ আসার কারণে এই নজিরবিহীন সংকট তৈরি হয়েছে।
সংকট নিরসনে জেলা প্রশাসন ও পাম্প মালিকরা সোমবার দুপুর তিনটার দিকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে একটি জরুরি বৈঠকে বসেছেন। সেখানে সংকটের মূল কারণ এবং দ্রুত সমাধানের পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। দীর্ঘ তিনদিন ধরে এস এ কাদির অ্যান্ড সন্স ও রহমান ফিলিং স্টেশনের মতো প্রধান পাম্পগুলো বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ ও পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। পর্যাপ্ত তেল না থাকায় কোনো কোনো পাম্পে শুরুতে জনপ্রতি ১০০-২০০ টাকার সীমিত তেল বিক্রি করা হলেও বর্তমানে মজুদ শূন্য হয়ে পড়ায় সেগুলো পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি তেলের এই আকালকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে উত্তেজনা ও সহিংসতার ঘটনাও লক্ষ্য করা গেছে। শহরের দাড়িয়াপুর রোডে তেল না পেয়ে বিক্ষুব্ধ গ্রাহকদের হামলায় দুই পাম্প কর্মচারী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। অনেক গ্রাহক অভিযোগ করেছেন যে পাম্পে তেল না থাকলেও খোলা বাজারে প্রতি লিটার জ্বালানি ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে পাম্প মালিকদের দাবি, বাইরের জেলা থেকে মোটরসাইকেলের চাপ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্কিত হয়ে তেল মজুদের প্রবণতা এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।
ভুক্তভোগী চালক ও স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও তেল না পেয়ে চরম হতাশায় ভুগছেন। জেলাজুড়ে পরিবহন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হওয়ায় দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন তারা। পাম্প মালিকরা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে পাম্প চালু করা সম্ভব নয়, কারণ সীমিত সরবরাহ নিয়ে তেল বিক্রি করতে গেলে পুনরায় জনরোষ ও সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
ঈদুল ফিতরের টানা সাত দিনের লম্বা ছুটিতে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে চায়ের রাজধানী হিসেবে পরিচিত মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও আশপাশের এলাকা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভ্রমণপিপাসু মানুষের ভিড়ে জেলার প্রধান পর্যটন কেন্দ্রগুলো এখন উৎসবমুখর। দীর্ঘ মন্দা কাটিয়ে পর্যটন খাতের এই চাঙ্গাভাব স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।
শ্রীমঙ্গলের বিস্তৃত চা বাগান থেকে শুরু করে কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এবং বড়লেখার মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত সবখানেই এখন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। বিশেষ করে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, বাইক্কা বিল, হাকালুকি হাওর এবং হামহাম জলপ্রপাতের মতো প্রাকৃতিক স্থানগুলোতে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, স্থানীয় বাসিন্দা ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের সম্মিলিত উপস্থিতিতে এবারের ঈদ মৌসুম গত কয়েক বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
চট্টগ্রাম থেকে আসা পর্যটক জহির রায়হান বলেন, "এখানকার চা বাগানের সবুজ আর শান্ত পরিবেশই আমাদের বারবার টেনে আনে।" তবে ভিড় নিয়ে কিছুটা ভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আল আমিন। লাউয়াছড়া উদ্যানে আলাপকালে তিনি বলেন, "সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা জায়গার সঙ্গে বাস্তবের মিল থাকলেও, অতিরিক্ত ভিড় ও কিছু ক্ষেত্রে দুর্বল ব্যবস্থাপনা চোখে পড়েছে।"
অন্যদিকে, প্রথমবারের মতো মণিপুরী পল্লী ভ্রমণে আসা আলী হোসেন ও নাসরিন আক্তার দম্পতি মুগ্ধতা প্রকাশ করে বলেন, "মণিপুরী সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রা আমাদের দারুণ লেগেছে। এটি সাধারণ পর্যটন কেন্দ্র থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এবং আমরা সবখানে বেশ নিরাপদ বোধ করেছি।"
শ্রীমঙ্গলের ছোট রিসোর্টগুলো শতভাগ বুকিং থাকলেও বড় মানের হোটেল-রিসোর্টগুলোতে প্রায় ৭০ শতাংশ বুকিং রেকর্ড করা হয়েছে। টিলাগাঁও ইকো ভিলেজ-এর ব্যবস্থাপক মো. সোহেল আহমেদ জানান, দীর্ঘ মন্দার পর এই পর্যটক সমাগম তাদের জন্য বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে।
চামুং রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড ইকো ক্যাফের স্বত্বাধিকারী তাপস দাশ বলেন, "পর্যটকরা শুধু প্রধান স্পট নয়, বরং আদিবাসী গ্রাম এবং ব্যক্তিগত রিসোর্টগুলোর প্রতিও বেশ আগ্রহী।" তবে পর্যটন উদ্যোক্তা সেলিম আহমেদের মতে, রমজানের শেষে পর্যটক ফিরতে শুরু করলেও বড় রিসোর্টগুলোতে প্রত্যাশা অনুযায়ী শতভাগ বুকিং হয়নি।
ঈদের ছুটিতে শ্রীমঙ্গল শহরে তীব্র যানজট পর্যটকদের কিছুটা ভোগান্তিতে ফেলেছে। এ ছাড়া অনেক পর্যটক জেলায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় আরও বেশি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, সরকারি সুযোগ-সুবিধা বাড়লে পর্যটনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আরও উন্নতি ঘটবে।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের পাশাপাশি পর্যটন পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন জানিয়েছেন, ছুটির পুরো সময়জুড়ে পর্যটকদের নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
তেল সংকট, মূল্যবৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক চাপের বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, সামনে সময় আরও কঠিন হতে পারে এবং বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব দেশেও পড়ছে।
সোমবার সকালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নে নেহা নদী পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে এবং এর প্রভাবে তেলের দামসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বাড়তে পারে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তেল সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ লেগেছে, সেকারণে তেলের সরবরাহ কম। কিন্তু পাম্প ভাঙচুর করা সমীচিন নয়। মবকে আমরা কঠোর হস্তে দমন করব। গায়ের জোরে আইনের বাইরে কোনো কাজ করতে দেব না।’
রাজনৈতিক বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘একটি দলের নেতারা এবার বেহেশতে নিতে পারল না. আমরা কাজ করে বেহেশতে যাব। ধর্মকে ব্যবহার করা যায়না। এ দেশের ৯০ ভাগ মানুষ ধার্মিক। ধর্ম নিয়ে ব্যবসা পছন্দ করেনা৷ আমরা কাজ করতে এসেছি। কাজ করে যাব।’
কৃষি খাতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘গম ঝড়-বৃষ্টিতে পড়ে গেছে। আলু বৃষ্টিতে শুয়ে পড়েছে। আমাদের কৃষকের ভাগ্য এটাই। এসব সমস্যা আমরা বুঝি। নির্বাচনের আগে আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম কৃষি ঋণ মওকুফের। আমরা করে দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষকদের সাহায্য হবে এমন কাজগুলো করছেন। ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হয়েছে। সারা দেশে কয়েক কোটি মহিলাকে কার্ড দেয়া হবে। এটার মাধ্যমে তারা সহযোগিতা পাবে। আমাদের সব প্রজেক্ট গুলো সম্পন্ন করা হবে। গোটা দেশে ২০ হাজার খাল খনন করা হবে।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, বিএনপির নেতাকর্মী ও স্থানীয়রা।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ভিড় জমানো পর্যটকদের সাথে সরাসরি কথা বলে তাদের অভিজ্ঞতা শুনলেন মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব)।
গত রবিবার দিনব্যাপী তিনি দুই উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্পট পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি দেশ-বিদেশ থেকে আগত পর্যটক, দর্শনার্থী ও দূরপাল্লার গাড়ি চালকদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং তাদের সার্বিক নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধার খোঁজখবর নেন।
ভ্রমণে আসা পর্যটকরা এমপির এমন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন। ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থেকে আসা পর্যটক ইতি বড়ুয়া বলেন, ‘দেশের কোনো সংসদ সদস্যকে এভাবে সরাসরি পর্যটন স্পটে এসে দর্শনার্থীদের খোঁজ নিতে আগে কখনও দেখিনি। শ্রীমঙ্গলে এসে ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা হলো। তিনি নিজে এসে আমাদের সাথে কথা বলেছেন, এটি আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া।’
একই অনুভূতি প্রকাশ করেন কুমিল্লা থেকে আসা পর্যটক ইশরাত জাহান ইমা। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রথমবারের মতো শ্রীমঙ্গল ভ্রমণে এসেছি। বধ্যভূমি পরিদর্শনের সময় হঠাৎ এমপি সাহেব আমাদের কাছে এসে কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না জানতে চান। পরে আমরা পরিবারের সবাই তাঁর সাথে ছবি তুলেছি। এটি আমাদের ভ্রমণের অন্যতম একটি স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে।’
ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ সম্পর্কে সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব) বলেন, ‘শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ আমার নির্বাচনী এলাকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন অঞ্চল। এখানে ঈদের ছুটিতে সারা দেশ থেকে অসংখ্য মানুষ বেড়াতে আসেন। এলাকাবাসীর পাশাপাশি আগত অতিথিদের খোঁজ নেওয়াও আমার দায়িত্বের অংশ বলে আমি মনে করি।’
তিনি আরও জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বদা তৎপর রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে পর্যটকদের সহযোগিতায় স্থানীয় নেতা-কর্মীরা সুপেয় পানি বিতরণসহ অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ করছেন।
টুরিস্ট পুলিশ শ্রীমঙ্গল জোনের এসআই বাসু কান্তি জানান, ঈদ উপলক্ষে পর্যটন স্পটগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কয়েক গুণ জোরদার করা হয়েছে। পর্যটকরা যাতে নির্বিঘ্নে ও স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণ করতে পারেন, সেজন্য টুরিস্ট পুলিশ সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একজন জনপ্রতিনিধির এমন সরাসরি উপস্থিতি পর্যটকদের মধ্যে আস্থার সৃষ্টি করবে, যা দীর্ঘমেয়াদে এই অঞ্চলের পর্যটন শিল্পের বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
দেশের আকাশে বসন্তের হালকা অস্থিরতা। মেঘ-রোদ্দুরের খেলায় কোথাও স্বস্তি, কোথাও আবার বৃষ্টির মৃদু পূর্বাভাস। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের কয়েকটি অঞ্চলে দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
রোববার (২২ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় হঠাৎ দমকা হাওয়ার সঙ্গে বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টির দেখা মিলতে পারে। তবে দেশের বাকি অংশে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্কই থাকবে।
এই সময়টাতে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে, প্রায় ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত। রাতের বাতাসেও উষ্ণতার হালকা ছোঁয়া থাকবে।
এদিকে সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে নতুন করে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় একই ধরনের দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। অন্যত্র মেঘ-রোদের মিশেলে আবহাওয়া থাকবে শান্ত ও শুষ্ক।
সব মিলিয়ে, ঋতুর এই সন্ধিক্ষণে দেশের আবহাওয়ায় উষ্ণতার প্রবণতা কিছুটা বাড়লেও মাঝেমধ্যে বৃষ্টির স্পর্শ এনে দেবে স্বস্তির ক্ষণিক পরশ।
নাটোরের বড়াইগ্রামে বিয়ের আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হয়েছে। গায়েহলুদের দিন সকালে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন প্রকৌশলী জুলফিকার ইসলাম জিল্লু (২৯)। রোববার (২২ মার্চ) সকালে বড়াইগ্রাম উপজেলার গড়মাটি কলোনি এলাকায় নাটোর-পাবনা মহাসড়কে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত জুলফিকার পাবনার ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া নওদাপাড়া গ্রামের আনসারুল মুন্সির ছোট ছেলে। তার অকাল মৃত্যুতে বর ও কনে—উভয় পরিবারেই এখন চলছে শোকের মাতম।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রোববার (২২ মার্চ) সকালে জুলফিকারের নিজের গায়েহলুদের অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। অনুষ্ঠানের পায়েস রান্নার জন্য দুধ আনতে তিনি নিজেই গাড়ি চালিয়ে দাশুড়িয়া থেকে নাটোর যাচ্ছিলেন। পথে নাটোর হাইওয়ে গড়মাটি কলোনি রোডে তার ব্যক্তিগত গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে এবং পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী অন্তরা খাতুনের সঙ্গে তার বিয়ের কথা ছিল এবং আগের দিনই কনের গায়েহলুদ সম্পন্ন হয়েছিল।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। চণ্ডীপুর বড় ছয়ঘটি গ্রামে বিয়ের জন্য সাজানো প্যান্ডেল ডেকোরেটরের লোকজন ভেঙে নিয়ে যাচ্ছেন এবং বাড়িতে তালা ঝুলছে।
বনপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একটি আনন্দময় সামাজিক অনুষ্ঠান এভাবে শোকে পর্যবসিত হওয়ায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আওয়ামী লীগ সরকার ৩২ লাখ কোটি টাকা পাচার করেছে, যা দিয়ে দেশের সাতটি বাজেট করা যেত। এ কথা বলেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ বরগুনা -২ আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম মনি।
রোববার (২২ মার্চ) বেলা ১১টায় বরগুনার ক্রোক খাল ও শাখা খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
চীফ হুইপ বলেন, বরগুনায় একটি ইকোনমিক জোন স্থাপন করা গেলে এ অঞ্চলের আমূল পরিবর্তন সম্ভব। এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকার দক্ষ জনগোষ্ঠী গড়ে তুলতে চায়, যাতে দেশের মানুষ বিদেশে কাজ করেও দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারে। দেশের সম্পদ বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, বরগুনার সব খাল পর্যায়ক্রমে পুনঃখনন করা হবে। খাল খননের মাধ্যমে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। কৃষকরা এখন এক ফসলি জমিতে তিন ফসল ফলাতে পারবে, যা কৃষি উৎপাদন বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, এ অঞ্চলের যুবসমাজকে এমনভাবে গড়ে তোলা হবে যাতে তারা স্বাবলম্বী হয়ে দেশের উন্নয়নে নেতৃত্ব দিতে পারে।
এসময়ে অন্যান্যের মধ্যে বরগুনা-১ আসেনর সংসদ সদস্য মুহাম্মদ মাহমুদুলুল হোসাইন অলি উল্লাহ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল হান্নান প্রধান, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এসএম হুমায়ুন হাসান শাহিন, বিএনপি নেতা রেজাউল করিম বাবুল হাওলাদার, কেএম সফিকুজ্জামান মাহফুজ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
নৌ পরিবহন ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান খাল দখলকারীদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। রোববার ঝালকাঠির রাজাপুরে ৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩ দশমিক ৪১ কিলোমিটার দীর্ঘ তুলাতলা খাল খনন কাজের উদ্বোধনকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, খাল দখলকারীদের কেবল শক্তি প্রয়োগ নয়, বরং সামাজিকভাবে বয়কট এবং জনসচেতনতার মাধ্যমেই মোকাবিলা করা সম্ভব। দেশের প্রতিটি খাল উদ্ধার করে মানুষের ব্যবহারোপযোগী করার মাধ্যমে পূর্বের জীবন-জীবিকার ধারা ফিরিয়ে আনতে সরকার ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
খাল খনন প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন রাজিব আহসান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, খালের উপরিভাগ পরিষ্কার বা 'শেভ' নয়, বরং প্রকৃত খনন নিশ্চিত করতে হবে। কাজের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে তিনি স্থানীয় জনগণকে তদারকির আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ঝালকাঠি-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, খনন কাজ শেষে তা সঠিকভাবে হয়েছে কি না তা পরিমাপ করা হবে এবং কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক মোমিন উদ্দিনের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং এলজিইডির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এলজিইডি সূত্র জানায়, এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি কৃষি কাজ ও নৌ-যাতায়াতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। খনন কাজ সম্পন্ন হলে স্থানীয় কৃষকরা সেচ সুবিধা পাওয়ার পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা থেকেও মুক্তি পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
নেত্রকোনার মদনে বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে মঞ্জু মিয়া নামের ৬৫ বছর বয়সী এক কৃষক নিহত হয়েছেন। রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে উপজেলার মাঘান ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত মঞ্জু মিয়া ওই গ্রামের মৃত আলী হোসেনের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী শান্তু মিয়ার সঙ্গে বাড়ির সীমানা নিয়ে তার বিরোধ চলছিল, যা রোববার দুপুরে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র তর্ক-বিতর্ক ও পরবর্তীতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষের এক পর্যায়ে উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালালে মঞ্জু মিয়া গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। স্বজনরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের ছেলে সালেক মিয়া অভিযোগ করেছেন যে, প্রতিবেশী আমীর হোসেনসহ বেশ কয়েকজন মিলে তার বাবার ওপর হামলা চালিয়েছে, যার ফলে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) দেবাংশু দে জানিয়েছেন, মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে। এই ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। বর্তমানে এলাকায় এ নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সুনামগঞ্জে ঈদের আনন্দে ঘুরতে যাওয়ার পথে মোটর সাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সাথে ধাক্কা লেগে একজন নিহত ও দুইজন আহত হয়েছেন। রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে সুনামগঞ্জ- দিরাই সড়কের শান্তিগঞ্জ উপজেলার গাগলী এলাকায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
নিহতের নাম সাফিকুল ইসলাম (২৮), তিনি শান্তিগঞ্জ উপজেলার শিমুলবাক ইউনিয়ের মুক্তাখাই গ্রামের মৃত উকিল আলীর ছেলে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাফিকুল ইসলাম নামের তরুণ দুই বন্ধুকে নিয়ে শান্তিগঞ্জের নিজ গ্রাম থেকে মোটরসাইকেল করে তাহিরপুরের পর্যটন কেন্দ্র শিমুল বাগানে ঘুরতে যাওয়ার জন্য রওনা দিয়েছিল। পথে সুনামগঞ্জ-দিরাই সড়কের গাগলী এলাকায় এসে তাদের মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সাথে ধাক্কা লাগে। মোটরসাইকেলের সামনের অংশ ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। সফিকুলের হাড় ভেঙে গাছের ভেতরে ঢুকে যায়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাফিকুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন। এবং তার সাথে থাকা দুই বন্ধুর মধ্যে সাইদুল ইসলামের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয় এবং গুলজার আহমদকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক আমজাদ হোসেন বললেন, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তিনজনের মধ্যে হাসপাতালে আসার আগেই একজনের মৃত্যু হয়েছে। একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্য আরেকজনকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ অলি উল্যাহ বলেন, ' গাগলী এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় একজন নিহত ও দুই জন আহত হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কোন অভিযোগ পাওয়া যায় নি।
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর নির্মিত ভাসমান সেতু ধসে পড়ে পাঁচ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে নিজ নিজ এলাকায় জানাজা শেষে নিহত শিশুদের দাফন সম্পন্ন হয়। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা হারিয়েছেন প্রতিবেশীরা। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে দাফন ও অন্যান্য খরচের জন্য ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২১ মার্চ) বিকেলে পবিত্র ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেওয়ানগঞ্জ থানার সামনের ওই ভাসমান সেতুটিতে অতিরিক্ত মানুষের ভিড় তৈরি হয়েছিল। মানুষের ভার সহ্য করতে না পেরে হঠাৎ সেতুটি ভেঙে পড়লে অনেকেই নদীতে পড়ে যান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বড়রা সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও বেশ কয়েকজন শিশু নিখোঁজ হয়ে যায়।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে এবং দীর্ঘ তল্লাশির পর একে একে পাঁচ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত শিশুরা হলো ডাকাতিয়াপাড়া গ্রামের মায়ামনি ও মিহাদ, ঝালুরচর এলাকার আব্দুল মোতালেব ও খাদিজা এবং বেলতলি এলাকার আবির হোসেন। এই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জামালপুরের জেলা প্রশাসক মো. ইউসুপ আলী জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও ভূমি অফিসের সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটি দুর্ঘটনার নেপথ্য কারণ খতিয়ে দেখবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেছেন।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার এলাকায় ট্রেন ও বাসের ভয়াবহ সংঘর্ষে নিহত ১২ জনের মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সাদা কাফনে মোড়ানো মরদেহগুলো অশ্রুসিক্ত নয়নে গ্রহণ করে অ্যাম্বুলেন্সে করে বাড়ির পথে রওনা দেন স্বজনরা। শোকের মাতমে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
নিহতরা হলেন— নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার সালামত উল্লাহর ছেলে মো. বাবুল চৌধুরী (৫৩), সুধারাম থানার মো. সেলিমের ছেলে নজরুল ইসলাম রায়হান (৩৩), চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার মোমিনুল হকের ছেলে তাজুল ইসলাম (৬৮), লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার মো. সিরাজুল দৌলার মেয়ে সায়েদা (৯), ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পিন্টুর মেয়ে লাইজু আক্তার (২৬), খাদিজা আক্তার (৬) ও মরিয়ম আক্তার (৪), সদর উপজেলার মো. মোকতার বিশ্বাসের ছেলে মো. জোয়াদ বিশ্বাস (২০), মাগুরার মোহাম্মদপুর উপজেলার ওহাব শেখের ছেলে ফসিয়ার রহমান (২৬), চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার বিল্লাল হোসেনের ছেলে সোহেল রানা (৪৬), যশোরের চৌগাছা উপজেলার ফকির চাঁদ বিশ্বাসের ছেলে মো. সিরাজুল ইসলাম (৬২) এবং তার স্ত্রী কোহিনুর বেগম (৫৫)।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেক পরিবারকে প্রাথমিক ব্যয় নির্বাহের জন্য ২৫ হাজার টাকা এবং আহতদের জন্য ১৫ হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়েছে।
রেল কর্তৃপক্ষও নিহতদের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছে। রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ জানান, নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে এক লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। আহতদের চিকিৎসার সব ব্যয় সরকার বহন করবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে শনিবার (২১ মার্চ) রাত ২টা ৫৫ মিনিটে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নোয়াখালীগামী মামুন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী মেইল ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ১২ জন নিহত হন এবং আহত হন অন্তত ১৫ জন। আহতদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত প্রলম্বিত হলে বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর মেহেদীবাগের নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এই মন্তব্য করেন। একই সময়ে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ও করেন।
বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এটা কঠিন সময়, আমাদেরকে স্বীকারই করতে হবে। একে তো অর্থনীতির ভঙ্গুর অবস্থায় আমরা দায়িত্ব নিয়েছি। সাথে সাথে এই যে যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে, সেটার কারণে অর্থনীতির উপর বড় চাপ সৃষ্টি হয়েছে এবং এই যুদ্ধ যদি চলতে থাকে চাপটা আরো বাড়তে থাকবে। সেই ক্ষেত্রে আমাদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয়, বিশেষ করে জ্বালানি নিরাপত্তায় খুব সজাগ আছি। ইতোমধ্যে আমাদের জ্বালানি যে প্রকিউরমেন্ট—ভালো ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এখনো অব্যাহত আছে; যাতে জ্বালানির অভাবে মিল-কারখানা, পাওয়ার সেক্টর বাধাগ্রস্ত না হয়। সেটা এখনো মোটামুটি স্থিতিশীল আছে।’
আন্তর্জাতিক এই অস্থিরতা বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন যে, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে আর্থিক চাপ বাড়বে। তবে এখন পর্যন্ত সরকার এই সংকটের আঁচ সাধারণ মানুষের ওপর পড়তে দেয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি বাংলাদেশের হাতে নেই। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে দেশের অর্থনীতিতে চাপ বাড়বে। এখনও পর্যন্ত সরকার যুদ্ধের চাপ জনগণের ওপর পড়তে দেয়নি, তবে ভবিষ্যত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সবাইকে সংযমী হতে হবে।’
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে আলোকপাত করে তিনি জানান, সরকার বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের মাধ্যমে সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে সচেষ্ট রয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার ভিন্ন ভিন্ন উৎস বের করেছে। আলাদা উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ কার্যক্রম এখনও চলমান আছে। ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সরকার এই পরিস্থিতি সামাল দিতে চায়। এবারের ঈদে জ্বালানি নিয়ে সাধারণের ওপর কোনো চাপ পড়েনি। সবাই মুক্তভাবে ঈদ উদযাপন করেছে।’