শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

ঈদে ৫ দিন বন্ধ থাকবে বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রপ্তানি

ছবি: ইউএনবি
আপডেটেড
৩ এপ্রিল, ২০২৪ ১৫:২৮
ইউএনবি
প্রকাশিত
ইউএনবি
প্রকাশিত : ৩ এপ্রিল, ২০২৪ ১৪:৪০

পবিত্র ঈদুল ফিতর ও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বেনাপোল বন্দরে টানা ৫ দিন আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তবে এ সময় ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে পাসপোর্টধারী যাত্রীরা পারাপার অন্যান্য দিনের মতো স্বাভাবিক থাকবে।

বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লতা বলেন, আগামী মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) বিকাল থেকে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাবে। কাস্টমস ও বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজ নিজ বাড়িতে ঈদ উদযাপন করতে দেশের বাড়িতে যাবেন।

তিনি আরও বলেন, সরকার ঈদের ৩ দিন আগে পরে ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান চলাচল বন্ধ রাখায় বন্দর থেকে কোনো পণ্য খালাসও হবে না। অনেক আমদানিকারক ঈদের ছুটিতে পরিবার পরিজন নিয়ে দেশের বাড়িতে যাবেন। তারা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে না আসা পর্যন্ত কোনো পণ্যও খালাস নিবেন না।

দুই দেশের সিএন্ডএফ এজেন্ট ও বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ঈদের ছুটি শুরু হচ্ছে আগামী বুধবার থেকে শুক্রবার (১০, ১১, ১২ এপ্রিল), শনিবার (১৩ এপ্রিল) সাপ্তাহিক ছুটি, রবিবার (১৪ এপ্রিল) পহেলা বৈশাখের ছুটিসহ সব মিলিয়ে ৫ দিন বন্ধ থাকবে বেনাপোল বন্দর। সোমবার (১৫ এপ্রিল) থেকে পুনরায় বন্দর ও কাস্টমসের সব কার্যক্রম সচল হবে।

এদিকে টানা ছুটির কারণে সীমান্তের দুপাশের বন্দরে ট্রাকের জট আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা। বেনাপোলের মতোই পেট্রাপোল বন্দরেও ট্রাকের জট রয়েছে।

বেনাপোল চেকপোস্ট পুলিশ ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জান বিশ্বাস বলেন, ‘ঈদুল ফিতর ও সাপ্তাহিক ছুটির কারণে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলেও স্বাভাবিক থাকবে পাসপোর্ট যাত্রীদের যাতায়াত। এ সময় একটু বেশি ভিড় হয়ে থাকে। সে কারণে ইমিগ্রেশনে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে।’

বেনাপোল বন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) রেজাউল ইসলাম জানান, আগামী মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) বিকেল থেকে ঈদের ছুটিতে বন্দরের সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। ঈদের ছুটির মধ্যে বন্দরে যাতে কোনো ধরনের নাশকতামূলক বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে তার জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বন্দরের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী ও আনসার সদস্যরা দিনে ও রাতে বন্দর এলাকায় টহল দেবেন। পাশাপাশি বেনাপোল পোর্ট থানাকে বিষয়টি বলা হয়েছে। আগামী ১৫ এপ্রিল থকে যথারীতি এ বন্দরের সকল কার্যক্রম শুরু হবে।


নির্বাচিত

নওগাঁয় চালের বাজারে অস্থিরতা, সিন্ডিকেটের অভিযোগে ক্ষোভ

* সুগন্ধি চালের কেজিতে বেড়েছে ৮০ টাকা, নজরদারির দাবি
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৩১ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৪৫
সবুজ হোসেন, নওগাঁ

ধান চাল উৎপাদনে বরাবরই শীর্ষে উত্তরের জেলা নওগাঁ। এখানকার উৎপাদিত সুগন্ধি চালের বিশেষ কদর রয়েছে সারাদেশের খুচরা এবং পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে। এক মাসের ব্যবধানে চাল বাজারে দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। কেজিতে এবার ২-৪ টাকা নয় বেড়েছে ৮০ টাকা সুগন্ধি (আতপ) চালের দাম। শুধু তাই নয়, সুগন্ধীর পাশাপাশি বেড়েছে কাটারীসহ সব ধরনের সরু চালের দামও। দেশের বৃহত্তর চালের মোকাম নওগাঁয় ঠিক এমনই টালমাটাল চালের বাজার।

ক্রেতা এবং খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, বড় কিছু মিল আর প্রাইভেট কোম্পানিগুলোর মজুদ সিন্ডিকেটের কারনেই বাড়ছে চালের দাম। তবে মিল মালিক আর ব্যবসায়ী নেতাদের দাবী, সরকারীভাবে রপ্তানী আর হাটে ধানের বাড়তি দামের কারণেই উর্ধ্বমুখী চালের দাম। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার মনিটরিং এর কথা বললেও বাস্তবে দেখা মিলেনি কারোই।

নওগাঁ পৌর খুচরা চাল বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত ৩ সপ্তাহের ব্যবধানে সকল প্রকার সরু চালের দাম বেড়েছে কেজিতে ৩ থেকে ৪ টাকা পর্যন্ত। বাজারে মোট বিক্রির ৮০ শতাংশই হয় কাটারি চাল। শর্টার ও নন শর্টারসহ সব ধরনের কাটারিরর দাম কেজিতে বেড়েছে ৪ টাকা। ৭৬ টাকা কেজির চাল ৩ সপ্তাহের ব্যবধানে বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। স্বর্ণা-৫ জাতের চাল ২ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫১ টাকায়। বিআর-২৮ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি। কয়েকদিন আগেও যার দাম ছিল ৫৮ টাকা। তবে স্মরণ কালের সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে সুগন্ধি (আতপ) চাল। একমাস আগেও এই চাল বাজারে বিক্রি হচ্ছিল ১২০ টাকা কেজিতে। কিন্তু প্রতিদিনই বৃদ্ধি পেতে পেতে এখন সেই চাল বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়। অর্থাৎ কেজিতেই বেড়েছে ৮০ টাকা। চালের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধিতে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে সাধারণ ভোক্তাদের মাঝে। বাজারে চাল কিনতে এসে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

আতপ চাল কিনতে আসা ইসমাইল হোসেন বলেন, গ্রামের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য ১৩ কেজি আতপ চাল কিনতে এসেছিলাম। কিন্তু বাজারে এসে শুনি সেই চালের দাম বেড়েছে কেজিতে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। এভাবে হঠাৎ করেই দাম বেড়ে যাওয়াই চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

আব্দুর রহিম নামে আরেক ক্রেতা ৫ কেজি ভাতের চাল কিনতে এসেছিলেন তিনি। কিন্তু হঠাৎই দাম বৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন। বলেন, এভাবে দাম বাড়লে যারা দিন এনে দিন খান তাদের জন্য চাল কেনা কঠিন হয়ে পড়ছে।

নওগাঁ পৌর ক্ষুদ্র চাল বাজারের ব্যবসায়ী রহমত আলী বলেন, ৪০ বছর ধরে চালের ব্যবসা করে আসছি। আমার ব্যবসার জীবনে এতটা দাম বৃদ্ধি কখনও দেখিনি। বিশেষ করে আতপ চালের দাম এতটা বৃদ্ধির পিছনে যৌক্তিক কোন কারণ আছে বলে মনে হয়না। প্রতিদিনই ক্রেতাদের কাছ থেকে বাঁকা কথা শুনতে হচ্ছে আমাদের।

আরেক ব্যবসায়ী আনোয়ার অভিযোগ করে বলেন, কিছু বড় মিলার ও প্রাইভেট কোম্পানীর ব্যবসায়ী মৌসুমের শুরুতেই চাল কিনে মজুদ করেছেন। তারাই মূলত এখন বাজার নিয়ন্ত্রন করছেন।

ফারিহা ও শেখ রাইস মিলের মালিক শেখ ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘চালের ব্যবসা ধীরে ধীরে করপোরেট প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে। তারা যেভাবে দাম নির্ধারণ করছে, তার প্রভাব পুরো বাজারে পড়ছে। এতে ছোট ও মাঝারি মিল মালিকরা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারছেন না। বাজারে অবৈধ মজুত ও অতিরিক্ত মুনাফার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’

মফিক উদ্দিন অটোমেটিক রাইস মিলের মালিক তৌফিকুল ইসলাম জানান, সরকার কয়েক মাস ধরেই আতপ চাল রপ্তানীর অনুমতি দিয়ে রেখেছেন। দেশ থেকে এবার বড় পরিসরে আতপ রপ্তানী হচ্ছে। যার কারণেই আতপের দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। আর আতপের যোগান কমে যাওয়ায় চাপ বেড়েছে অন্যান্য সরু চালে। মানুষ আতপের চাহিদার অনেকটাই কাটারিসহ অন্যান্য সরু চাল দিয়ে মিটাচ্ছেন। যার কারনেই সরু ও আতপের দাম কিছুটা বেশি।

নওগাঁ চাউলকল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন, ‘চিনিগুড়া একটি বিশেষায়িত সুগন্ধি চাল। এর উৎপাদন সীমিত হলেও চাহিদা অনেক বেশি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যে হারে দাম বেড়েছে, তা স্বাভাবিক বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বাজারে কারা মূল্য নিয়ন্ত্রণ করছে, সেটি খতিয়ে দেখা দরকার। এছাড়া ধান বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলেই চালের উৎপাদন খরচ বেড়েছে। বর্তমানে হাটগুলোতে প্রতি মন কাটারি ১৮০০ আর আতপ কিনতে হচ্ছে ৩ হাজার ৭’শ টাকায়।

নওগাঁ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ফরহাদ খন্দকার বলেন, মূলত রপ্তানীর কারনেই দাম বেড়েছে কিছুটা। নওগাঁয় অটোমেটিক ও হাসকিং মিলিয়ে সাড়ে ৪’শ রাইস মিল রয়েছে। খাদ্য বিভাগ প্রতিনিয়তই মিলগুলোতে নজর রাখছে। অবৈধ মজুদ অনুসন্ধানে মাঠে খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা কাজ করছেন।


নির্বাচিত

হুমায়ুন হত্যায় জড়িত স্ত্রী, পেনশন থেকে খুনির অর্থ পরিশোধের পরিকল্পনা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

হুমায়ুন কবীর ছিলেন পুলিশের কনস্টেবল। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পরিবহন বিভাগে জলকামান চালাতেন। ২০২৫ সালের ২৮ এপ্রিল পুরান ঢাকার দয়াগঞ্জে নিজ বাড়ির সামনে থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। আর এ ঘটনায় জড়িত ছিলেন তারই স্ত্রী। তদন্ত শেষে ১১ জনকে আসামি করে এ বছরের মার্চে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন হত্যা মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার এসআই আওলাদ হুসাইন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, স্ত্রী সালমা বেগমের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক জানাজানি হওয়া এবং হুমায়ুনের কাছ থেকে একজন আত্মীয়ের ধার নেওয়া ১০ লাখ টাকা ফেরত না দেওয়া—এ দুই উদ্দেশ্যে খুন হন এই পুলিশ সদস্য। মাস দুয়েক ধরে চলে পরিকল্পনা। একাধিকবার খুনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। শেষে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে হুমায়ুনকে অচেতন করা হয়। গভীর রাতে হাত-পা বেঁধে রশি দিয়ে তাকে শ্বাসরোধে খুনের পর মরদেহ বাড়ির সামনে ফেলে দেওয়া হয়।

ঢাকা মহানগর হাকিম সারাহ ফারজানা হক গত ১ জুলাই অভিযোগপত্রটি আমলে নিয়েছেন। এখন অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচারের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

হুমায়ুনের স্ত্রী সালমা বেগম ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন—রাজীব হোসেন, মরিয়ম বেগম (মলি), পলি বেগম, কায়েস হাওলাদার, ফজলে রাব্বি শুভ, রাফি খান, আকাশ, আশিক, সজীব ও সাব্বির।

বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক আর আর্থিক লেনদেন থেকে হুমায়ুনকে খুন করা হয়। ১১ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। ৪ জন পলাতক। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।

আসামিদের মধ্যে আকাশ, আশিক, সজীব ও সাব্বির শুরু থেকেই পলাতক। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এ বিষয়ে আগামী ১৩ আগস্ট আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য রয়েছে।

সালমা, পলি ও রাফি কারাগারে আছেন। রাজীব, মলি, কায়েস ও শুভ জামিনে আছেন।

তদন্ত কর্মকর্তা আওলাদ হুসাইন বলেন, ‘এটি একটি চাঞ্চল্যকর হত্যার ঘটনা। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক আর আর্থিক লেনদেন থেকে হুমায়ুনকে খুন করা হয়। ১১ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।’

হুমায়ুন কবীর ও সালমা বেগমের বিয়ে হয়েছিল ২০১০ সালে। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, নিকটাত্মীয় হওয়ায় তাদের বাসায় প্রায়ই যাতায়াত করতেন রাজীব হোসেন। প্রায় বছরখানেক আগে রাজীবের সঙ্গে সালমার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে গত বছরের ২৫ এপ্রিল দুই পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে একটি সালিশ বৈঠক হয়। সালিশে সালমা ওই সম্পর্ক থেকে সরে আসার প্রতিশ্রুতি দেন।

ওই সালিশের তিন দিন পর ২০২৫ সালের ২৮ এপ্রিল সকালে দয়াগঞ্জে নিজের ভাড়া বাসার ফটকের সামনে থেকে হুমায়ুনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন হুমায়ুনের ছোট ভাই খোকন হাওলাদার যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, যাত্রাবাড়ীতে হুমায়ুনের ভাড়া বাসার ভবনের চারতলায় থাকেন মরিয়ম বেগম (মলি)। তিনি সালমা বেগমের আত্মীয়। তার স্বামী বাবুল মুন্সী প্রবাসে থাকেন। তিন-চার বছর আগে হুমায়ুনের কাছে ১০ লাখ টাকা ধার নিয়েছিলেন বাবুল। সেই টাকা ফেরত দেননি। সময়মতো টাকা ফেরত না দেওয়ায় তাদের মধ্যে বিরোধ হয়।

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, হুমায়ুন বেঁচে থাকলে একদিকে সালমা ও রাজীবের সম্পর্কে বাধা থাকত, অন্যদিকে মলির ধারের টাকা ফেরত দেওয়ার চাপ থাকত। এ কারণে পারস্পরিক যোগসাজশে হুমায়ুনকে চিরতরে সরিয়ে ফেলার ছক কষা হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, খুনের ঘটনার মাস দুয়েক আগে থেকে ভাড়াটে খুনি খোঁজা শুরু হয়। মলির মাধ্যমে পলি বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। পরে পলির ভাগনে কায়েস হাওলাদারের মাধ্যমে শুভ, আশিক, সজীব, রাফি, আকাশসহ কয়েকজনকে পরিকল্পনায় যুক্ত করা হয়।

একপর্যায়ে খুনের জন্য দা, রশি, গ্লাভসসহ নানা সরঞ্জাম সংগ্রহ করা হয়। কয়েকবার সুযোগ পেলেও তা সফল হয়নি। পরে হুমায়ুনের প্রতিদিনের চলাফেরা পর্যবেক্ষণ করে পরিকল্পনা বদলে ফেলা হয়। ভোরবেলায় বাসার সামনে মানুষ বেশি থাকে। তাই বাইরে নয়, বরং বাসার ভেতরেই খুন করার পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০২৫ সালের ২৭ এপ্রিল সালমা ও পলি স্থানীয় একটি ফার্মেসি থেকে ঘুমের ওষুধ কেনেন। এরপর রাত সাড়ে ১০টার দিকে হুমায়ুন বাসায় ফিরলে তার খাবারে সেই ওষুধ মিশিয়ে দেওয়া হয়। রাত গভীর হলে মলি, পলি, শুভ ও রাফি ওই বাসায় যান। তখন হুমায়ুন সম্পূর্ণ অচেতন ছিলেন। তার হাত-পা গামছা দিয়ে বেঁধে ফেলা হয়। রশি দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে কয়েকজন মিলে দুই পাশ থেকে টান দেন। সালমা তার স্বামীর পা চেপে ধরে রাখেন। হুমায়ুনের মৃত্যু নিশ্চিত হলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ঘর থেকে বেরিয়ে যান।

অভিযোগপত্রের বিবরণ অনুযায়ী, খুনের পর হাত-পায়ের বাঁধন খুলে হুমায়ুনের মরদেহ কাঁধে করে তিনতলা থেকে ভবনের নিচে নামিয়ে আনা হয়। বাইরে কোথাও নিয়ে সেটি ফেলে দিতে চেয়েছিলেন অভিযুক্ত ব্যক্তিরা। কিন্তু হুমায়ুনের বাসার সামনে একটি রিকশার গ্যারেজ তখনো খোলা ছিল। তাই মরদেহ বাইরে নেওয়া সম্ভব হয়নি। মরদেহটি বাসার সামনে গেটের কাছে ফেলে দেওয়া হয়।

এরপর আসামিরা হুমায়ুনের বাসায় বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে চলে যান। তদন্তে বলা হয়েছে, খুনের সঙ্গে সালমা নিজে জড়িত, এটা যাতে কেউ বুঝতে না পারে, সেজন্য এমনটা করা হয়েছিল।

হত্যাকাণ্ডের পর শুভ ও রাফিকে তাৎক্ষণিকভাবে পাঁচ হাজার টাকা দেওয়ার তথ্য পেয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। অভিযোগপত্রে বলা হয়, চুক্তি অনুযায়ী, বাকি টাকা হুমায়ুনের মৃত্যুর পর পাওয়া পেনশনের টাকা থেকে পরিশোধ করার কথা ছিল।

তবে আসামিদের পরিকল্পনা কাজে আসেনি। পুলিশের সন্দেহ হলে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হুমায়ুনকে খুন করার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা আওলাদ হুসাইন বলেন, ‘কয়েক দফা পরিকল্পনা বদলে হুমায়ুনকে খুন করা হয়েছিল। খুনের আগে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ওই বাসাতেই অবস্থান করছিলেন।’

মামলার বাদী খোকন হাওলাদারের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও নম্বরটি খোলা পাওয়া যায়নি।

আসামি সালমা বেগমের আইনজীবী কামাল হোসেন জানান, আদালতে অভিযোগপত্র জমা পড়েছে। আসামি সালমা কারাগারে আছেন। সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন আদালত।


নির্বাচিত

হাম-ডেঙ্গুর সংক্রমণে জনস্বাস্থ্যে বড় ধাক্কা

* হাম উপসর্গে মৃত্যু আরও ৪, মোট ৮৩৫ * উপসর্গ ১ লাখ ২৭ হাজার ৪১০ জনের * ডেঙ্গুতে ৩, এ পর্যন্ত ৫১ * আক্রান্ত ১৫১৫৩ 
ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশজুড়ে দ্বিমুখী সংক্রামক ব্যাধির আক্রমণ জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনাকে এক কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। একদিকে অতি-সংক্রামক ব্যাধি হামের অগোচরে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহতা, অন্যদিকে সময়ের আগেই ডেঙ্গুর অব্যাহত ঊর্ধ্বগতি—এই দুই রোগে রাজধানীসহ সারাদেশের হাসপাতালগুলোতে রোগীর ভিড় প্রতিনিয়ত বাড়ছে। গত কয়েক মাসের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, হামে শিশুদের প্রাণহানি যেমন উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে, তেমনি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দৈনিক ভর্তি ও মৃত্যুর মিছিল থামছেই না।

হাম পরিস্থিতি: দেশে এক দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৮৩৫ জনের মৃত্যু হলো। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ৭৩৯ জন মারা গেছে। আর হামে মারা গেছে ৯৬ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) জানিয়েছে, হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩২২ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এর পরেই আছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ১০৮ জন। এ ছাড়া রাজশাহীতে ৯১, ময়মনসিংহে ৭০, চট্টগ্রামে ৬১, বরিশালে ৪৪, খুলনায় ৩২ ও রংপুর বিভাগে ১১ জন মারা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া নিয়মিত পরিসংখ্যানে মৃতদের বয়সভিত্তিক তথ্য পাওয়া যায় না। রোগতত্ত্ববিদেরা বলছেন, হাম সব বয়সী মানুষের হতে পারে। তবে শিশুরাই এতে বেশি আক্রান্ত হয়।

সরকারের তথ্য বলছে, বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে নতুন করে ৮৭০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ দেখা গেল ১ লাখ ২৭ হাজার ৪১০ জনের। গত একদিনে ল্যাব পরীক্ষায় নতুন করে আরও ১৩৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত দেশে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৫ হাজার ৮৭৪ জন।

হাসপাতালে ভর্তির তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ১৮২ জন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৫৩ জন।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি: দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৬৩ জন রোগী।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন আক্রান্ত ৪৬৩ জনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৮৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ৬৯ জন, খুলনা বিভাগে ৬২ জন, বরিশাল বিভাগে ৬৭ জন, রাজশাহী বিভাগে ৩২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২১ জন, রংপুর বিভাগে ২০ জন এবং সিলেট বিভাগে তিন জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মারা যাওয়া তিনজনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে দুইজন এবং খুলনা বিভাগে একজন রয়েছেন।

চলতি বছরের এক জানুয়ারি থেকে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) পর্যন্ত দেশে মোট ১৫ হাজার ১৫৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৩ হাজার ৯৩১ জন। চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সর্বমোট ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। যার মধ্যে ঢাকা বিভাগেই সর্বোচ্চ ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানায়, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সর্বমোট এক হাজার ১৬৯ জন ডেঙ্গুরোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগেই ভর্তি আছেন ৪৩৮ জন রোগী।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম এবং ডেঙ্গুর জোড়া ধাক্কা সামলাতে অবিলম্বে স্থানীয় পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সামলাতে কেবল সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; পাশাপাশি পরিবার পর্যায় থেকে সচেতনতা তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। ডাবল সংক্রামক ব্যাধির এই আঘাত প্রতিরোধে সময়মতো চিকিৎসা ও সঠিক পদক্ষেপই পারে বড় বিপর্যয় থেকে দেশকে রক্ষা করতে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী মনে করেন, বর্তমানে হাম ও ডেঙ্গু একই সময়ে ছড়িয়ে পড়ায় মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছে। ফলে অনেক রোগী দেরিতে হাসপাতালে আসছেন। তার মতে, আতঙ্ক নয়, দ্রুত পরীক্ষা এবং সঠিক রোগ নির্ণয়ই এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।

আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন আরও কঠোর ভাষায় বলেছেন, প্রতি বছর ডেঙ্গুর সময় সাময়িক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয় না। শুধুমাত্র কীটনাশক ছিটিয়ে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। প্রয়োজন কার্যকর নগর ব্যবস্থাপনা, পর্যাপ্ত জনবল, বৈজ্ঞানিক লার্ভা নিয়ন্ত্রণ এবং সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা।

আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. কাজী আহমেদ জাকী সতর্ক করেছেন, বর্তমানে ডেন-৩ (DENV-3) সেরোটাইপের বিস্তার বাড়ছে। এই ধরনটি রোগীর মধ্যে দ্রুত ডেঙ্গু শক সিনড্রোম সৃষ্টি করতে পারে। অর্থাৎ কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে উঠতে পারে। তাই জ্বরকে অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই।

বিশিষ্ট শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, এডিস মশা পরিষ্কার জমে থাকা পানিতে ডিম পাড়ে। ফুলের টব, ছাদের কোণা, এসির ট্রে, পরিত্যক্ত টায়ার, প্লাস্টিকের পাত্র কিংবা পানির ড্রাম-এসবই এডিসের নিরাপদ প্রজননক্ষেত্র। সূর্যোদয়ের পরের দুই ঘণ্টা এবং সূর্যাস্তের আগের কয়েক ঘণ্টা এডিস সবচেয়ে সক্রিয় থাকে। ফলে ব্যক্তিগত সুরক্ষাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

ডেঙ্গুর পাশাপাশি চিকুনগুনিয়াও একই এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। যদিও চিকুনগুনিয়ায় মৃত্যুহার তুলনামূলক কম, তবে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র গিঁটের ব্যথা, কর্মক্ষমতা হ্রাস এবং অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ফলে একই মশা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দুটি রোগ প্রতিরোধ সম্ভব হলেও বাস্তবে সেই সমন্বিত উদ্যোগ এখনও দৃশ্যমান নয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বহুদিন ধরেই বলে আসছে, চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধে বিনিয়োগ সবচেয়ে কার্যকর। হামের ক্ষেত্রে শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করা এবং ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়ার ক্ষেত্রে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করাই সবচেয়ে কার্যকর কৌশল। জলবায়ু পরিবর্তন, অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ণ, অপরিকল্পিত নির্মাণ, প্লাস্টিক বর্জ্যের বিস্তার এবং জনঘনত্ব বৃদ্ধির কারণে ভবিষ্যতে এসব রোগের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।


নির্বাচিত

গণপরিবহনে যুক্ত হচ্ছে দেড় হাজার বৈদ্যুতিক বাস

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন চালুর লক্ষ্যে প্রায় দেড় হাজার বৈদ্যুতিক বাস কেনার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ জন্য রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) ও ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) কয়েকটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। প্রকল্পগুলোর পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদনসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়া এখনো চলমান। তবে আগামী ডিসেম্বর থেকেই দেশে ইলেকট্রিক বাস আসা শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রথম ধাপে মোট ২০০টি বাস সরবরাহ করা হবে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ৪৫ আসনের ১০০টি বৈদ্যুতিক বাস, চার্জিং স্টেশন ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো নির্মাণে ৪০০ কোটি টাকা এবং নারীদের জন্য ২৮ থেকে ৩২ আসনের ১০০টি বৈদ্যুতিক মিনিবাস, চার্জিং স্টেশন ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে ৪০০ কোটি টাকার দুটি পৃথক প্রস্তাব অর্থ বিভাগে পাঠানো হয়। পরে অর্থ বিভাগ অনুদানের পরিবর্তে ৮০০ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে দিতে সম্মতি দেয়।

এ বিষয়ে বিআরটিসি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা (অতিরিক্ত সচিব) সম্প্রতি বলেছেন, মোট ২০০ বৈদ্যুতিক বাস সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্থ বিভাগ এ প্রকল্পে ঋণ সহায়তার অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে। বাসগুলো পরিচালনার পরিকল্পনা নিয়ে এখনো কাজ চলছে। প্রাথমিকভাবে ঢাকা মহানগরীকে কেন্দ্র করেই এসব বাস পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। রুট, চার্জিং স্টেশনের অবস্থান এবং পরিচালনাসংক্রান্ত অন্য বিষয় নির্ধারণে একটি কমিটি কাজ করছে।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বায়ুদূষণ রোধে বাংলাদেশ ক্লিন এয়ার প্রজেক্টের (বিসিএপি) প্রথম ধাপের আওতায় ৪০০ বৈদ্যুতিক বাস কেনা হবে। বর্তমানে এ প্রকল্পের ডিপিপি সংশোধনের কাজ করছে ডিটিসিএ।

নারীবান্ধব গণপরিবহন চালুর অংশ হিসেবে বিআরটিসি ১০০টি বৈদ্যুতিক মিনিবাস কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। এ প্রকল্পে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে অর্থ বরাদ্দ চেয়েছে সংস্থাটি।

এ ছাড়া ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফান্ডের (ইডিসিএফ) অর্থায়নে ৩০০টি বৈদ্যুতিক এসি বাস এবং ২৫টি চার্জিং স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনে এ নিয়ে প্রাথমিক কাজ চলছে। চীনা অর্থায়নে আরও ৫০০টি বৈদ্যুতিক এসি বাস এবং ২৫টি চার্জিং স্টেশন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ১১ জুন পরিকল্পনা কমিশনের এক সভায় এ প্রকল্পের ব্যয় পুনর্বিবেচনা করে সংশোধিত প্রস্তাব দিতে বলা হয়েছে।

সরকারি অর্থায়নে একটি পাইলট প্রকল্পের আওতায় আরও ১২টি বৈদ্যুতিক বাস কেনা, চার্জিং স্টেশন স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বিআরটিসি।

সব মিলিয়ে ডিটিসিএ ও বিআরটিসির বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ৪১২টি বৈদ্যুতিক বাস সংগ্রহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশে পরিবেশবান্ধব গণপরিবহনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং নগরাঞ্চলে যানবাহনের কার্বন নিঃসরণ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

তবে গণপরিবহন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বিদ্যমান গণপরিবহনব্যবস্থার যৌক্তিকীকরণ ছাড়া এতগুলো নতুন বৈদ্যুতিক বাস চালু করলে সড়কে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। বাসগুলো কবে নাগাদ আসবে জানতে চাইলে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, অনুমোদিত হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে বাসগুলো আনা হবে। তবে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই প্রথম দফায় বৈদ্যুতিক বাস আনার পরিকল্পনা রয়েছে। শুরুতে ঢাকায় এসব বাস চালু করা হবে।

বেসরকারি খাতের তৎপরতা: সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতেও বৈদ্যুতিক বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি, অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সভা হয়েছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল ইসলাম বলেন, সরকারকে সহজ শর্তে ঋণ, নীতিগত সহায়তা ও প্রণোদনা দিয়ে বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করতে হবে। শুধু বিআরটিসির মাধ্যমে পরীক্ষামূলকভাবে বাস চালানোর পরিবর্তে শুরু থেকেই সরকারি ও বেসরকারি খাতকে সমান অংশীদার করা উচিত। কারণ, দীর্ঘ মেয়াদে যাত্রীসেবা, রক্ষণাবেক্ষণ ও পুরো ব্যবস্থাকে টেকসইভাবে পরিচালনার দায়িত্ব বেসরকারি অপারেটরদেরও নিতে হবে।

পরিবহন খাত থেকে বায়ুদূষণ কমাতে সড়ক পরিবহনের অন্তত ৩০ শতাংশ যানবাহন বিদ্যুৎ-চালিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ উদ্যোগে ইলেকট্রিক গাড়ির আমদানি শুল্ক কমানোসহ এ খাতে বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হবে।

বিভিন্ন দেশের কোম্পানির আগ্রহ: ইতোমধ্যে চীন, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, হংকংসহ বিভিন্ন দেশের বৈদ্যুতিক বাস নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে তাদের প্রস্তাব ও প্রযুক্তিগত উপস্থাপনা দিয়েছে। তবে কোন দেশ বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বাস কেনা হবে, সে বিষয়ে এখনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি ইলেকট্রিক বাসের সম্ভাব্য দাম দুই থেকে আড়াই কোটি টাকার মধ্যে হতে পারে। ব্যাটারির সক্ষমতাসহ বাসের বিভিন্ন কারিগরি বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে দাম কমবেশি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞের সতর্কতা: বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক শামসুল হক বলেন, বৈদ্যুতিক বাস চালুর আগে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে গণপরিবহনের শৃঙ্খলা ও বাস রুট রেশনালাইজেশনে। এসব ঠিক না করে শুধু বাস কিনলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না। পাশাপাশি বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের জন্যও একটি কার্যকর পরিবেশ তৈরি করতে হবে। চার্জিং অবকাঠামো, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা, ওয়ার্কশপ ও দক্ষ জনবল তৈরি করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদে সেবা দিতে হলে পুরো ব্যবস্থাপনাকে টেকসই করতে হবে। না হলে এসব দামি বাস পরে অচল হয়ে পড়ে থাকার ঝুঁকি রয়েছে।


নির্বাচিত

ভারতীয় আধার কার্ডে ‘সন্ত্রাসী’ ইমনের নাম আজহার খান, ব্যবহার করতেন বিদেশি সিম

গত বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে যশোর থেকে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পথে ইমনকে তিন সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম  

সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমন যোগাযোগ রক্ষায় ব্যবহার করতেন বিদেশি সিম ও মুঠোফোনের বিশেষ অ্যাপ। পাওয়া গেছে ভারতীয় আধার কার্ডও। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম।

গত বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে যশোর থেকে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পথে ইমনকে তিন সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ইমন পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে ১৫টি মামলা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘গত ১৩ জুন রাউজানের পাহাড়তলী এলাকায় আলোচিত যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে জড়িত সবাইকে শনাক্ত করে। ২২ জুলাই মাসুদ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত অন্যতম আসামি রাউজানের ইলিয়াস ওরফে ধামা ইলিয়াসকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই। গ্রেপ্তারের পর তার কাছ থেকে আমরা অনেক তথ্য পাই। তাদের সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক সম্পর্কে জানতে পারি।’ তিনি বলেন, সম্প্রতি ইন্টারনেট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ডিডিএনের মালিককে ফোন করে দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবি ও ভাঙচুরের ঘটনায়ও ইলিয়াসের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পায় পুলিশ। আর এসব তথ্যই ‘সন্ত্রাসী’ ইমনকে গ্রেপ্তারে পুলিশকে সহায়তা করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে এসপি মাসুদ আলম বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা নেটওয়ার্কের বাইরে অবস্থান করেন। সিম ব্যবহার করেন না। বিদেশি নম্বর, অ্যাপসের মাধ্যমে কথা বলেন। ডেভিড ইমনও সেটা করতেন। তিনি যখন দেখলেন তার ধরা পড়ার আশঙ্কা আছে, তখন তিনি বিদেশে থাকা গ্যাং লিডার সাজ্জাদ ওরফে বড় সাজ্জাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সাজ্জাদের পরামর্শে ইমন ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন বলে আমরা জানতে পারি। ইমন ভারতের আধার কার্ডও করিয়েছেন। সেখানে তার নাম আজহার খান।’

অবস্থান জানতে পেরে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় যাওয়ার সময় দাউদকান্দি এলাকায় ইমনকে আটক করার চেষ্টা করে পুলিশ, তবে সেই চেষ্টা সফল হয়নি। এসপি মাসুদ আলম বলেন, ‘আমরা তখন সফল হতে পারিনি। এরপর ঢাকায় তারা গাড়ি বদল করেন, এমনকি তাদের গাড়িচালক পর্যন্ত পরিবর্তন করে ফেলেন।

পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, ‘আমাদের কাছে খবর আসে ইমন খুলনার দিকে যাবেন। আমরা পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় চেকপোস্ট স্থাপন করি। মুন্সিগঞ্জের পুলিশ সহায়তা করে। কিন্তু আমাদের ব্যাড লাক, আমরা ওই সময়ও তাকে ধরতে পারিনি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা জানি যে তিনি খুলনায় যাবেন। খুলনা জেলা পুলিশের সহায়তায় রূপসার দিকেও আমরা একটা চেকপোস্টের ব্যবস্থা রেখেছিলাম। কিন্তু তারা বারবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন। হঠাৎ গোপালগঞ্জ থেকে নড়াইলের দিকে চলে যান। তখন রাত প্রায় সাড়ে তিনটার মতো বাজে। পরে নড়াইল থেকেও চলে যান তারা। শেষে ভোর পাঁচটার দিকে যশোর পুলিশের সহায়তায় ঝুমঝুমপুর এলাকায় আমরা ডেভিড ইমন ও তার আরও তিনজন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই।’

ডেভিড ইমন গ্রেপ্তারের পর বিষয়টি প্রচার হয়ে যাওয়ায় অপারেশনের পরবর্তী কার্যক্রমগুলো কঠিন হয়ে গিয়েছিল এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে পারেনি বলেও জানান তিনি।

মাসুদ জানান, যখন ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার অভিযান চলছিল, ঠিক একই সময়ে চট্টগ্রামের আরেক কুখ্যাত ও শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হান নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে অবস্থান করছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের আরেকটি টিম নোয়াখালীতে অবস্থান করছিল। টিভি স্ক্রলে যখন আসে ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন গ্রেপ্তার’, তখন আমাদের ওই টিম দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে। কিন্তু বাড়ির ছাদ থেকে লাফ দিয়ে তিনি পালিয়ে যান।’

এসপি মাসুদ আলম আরও জানান, ‘ডেভিড ইমনের ঝিকরগাছা হয়ে অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার কথা ছিল। কে সীমান্ত পার করবেন এবং ভারতে কে রিসিভ করবেন, সব ঠিক করা ছিল। এমনকি তার কাছে আধার কার্ড পাওয়া গেছে, যেটা ভারতে ব্যবহার করার কথা ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ইমনের বিরুদ্ধে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় করা মামলায় ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আরও তথ্য জানানো হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে এসপি বলেন, এখন পর্যন্ত ডেভিড ইমন ও তাঁর সহযোগীদের অপরাধ কর্মকাণ্ডের পেছনে কোনো রাজনৈতিক গডফাদারের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়নি। গত ৫ আগস্টের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা কিছুটা কম থাকার সুযোগে তারা বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত করেছেন। চট্টগ্রামে অপরাধ করে কেউ পার পাবেন না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার শেখ মো. সেলিম, সিরাজুল ইসলাম, জুনায়েদ কাওসার, মো. রাসেল ও কাজী মো. তারেক আজিজ প্রমুখ।


নির্বাচিত

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সব শ্রেণির মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে: নজরুল ইসলাম খান

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সভায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সমাজের সব শ্রেণির মানুষকে সম্পৃক্ত করে এ কর্মসূচিকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে। ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ সেলের সভাপতি নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘নারী, তরুণ প্রজন্ম, শিক্ষার্থী এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীসহ সমাজের সব শ্রেণির মানুষকে এতে সম্পৃক্ত করা জরুরি। স্থানীয় মাটি, জলবায়ু ও জীববৈচিত্র্য বিবেচনা করে সঠিক স্থানে উপযুক্ত দেশীয় প্রজাতির গাছ রোপণের পাশাপাশি চারার বেঁচে থাকার হার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সভায় তিনি এ কথা বলেন। সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত সেলের এটি ৪র্থ সভা।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘২০২৬ সালে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার মাধ্যমে মোট ৫ কোটি ১৪ লাখ ৮৮ হাজার ৯৩০টি চারা রোপণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্বভাবে উৎপাদিত চারা এবং নিজস্ব অর্থায়নে সংগৃহীত চারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৪৩ শতাংশ চারা রোপণ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পিছিয়ে থাকা মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোকে বর্ষা মৌসুমকে কাজে লাগিয়ে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে হবে।’

সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, “সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচি সফল করতে শুধু চারা রোপণ নয়, রোপণ-পরবর্তী নিয়মিত পরিচর্যা, সুরক্ষা এবং কার্যকর মনিটরিং নিশ্চিত করতে হবে।”

তিনি বলেন, “সরকারি ও বেসরকারি নার্সারির সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। ‘রাইট ট্রি, রাইট প্লেস’ নীতি অনুসরণ করে দেশীয় প্রজাতিকে অগ্রাধিকার প্রদান করা জরুরি।” অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক গাছ নারিকেল, তাল, খেজুর, সুপারি ইত্যাদি রোপণে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে জোর দেন তিনি।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে উপকূলীয় এলাকায় ২ কোটি বৃক্ষরোপণ করা হলে জানুয়ারি মাসের মধ্যে এ বছরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে।’

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ বলেন, ‘বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে নারী, তরুণ ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে সাড়ে তিন লাখের বেশি সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সারা দেশে নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা গড়ে তোলার লক্ষ্যে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।’

সভায় প্রতিটি রোপিত গাছের জিপিএস ভিত্তিক অবস্থান, প্রজাতি, রোপণের তারিখ, জিও-ট্যাগযুক্ত ছবি ও পরিচর্যার তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণের জন্য ‘ট্রি মনিটরিং অ্যাপ’ তৈরির অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়।

অ্যাপটির মাধ্যমে গাছের বেঁচে থাকার হার, প্রতিস্থাপনমূলক বৃক্ষরোপণ, জেলা ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক অগ্রগতি এবং রিয়েল-টাইম প্রতিবেদন জাতীয় ড্যাশবোর্ডে প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে।

সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) শামিমা বেগম, বৃক্ষরোপণ সেলের টেকনিক্যাল এক্সপার্ট অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

২৫ বিশ্ববিদ্যালয়ে ল্যাংগুয়েজ সেন্টার করবে ইউজিসি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বৈশ্বিক কর্মবাজারে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি, উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণ এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় শিক্ষা পরিবেশ গড়ে তুলতে দেশের ২৫টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আধুনিক ল্যাংগুয়েজ সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। এসব কেন্দ্রে জাপানিজ, কোরিয়ান, চাইনিজ, আরবি, ফ্রেঞ্চ, জার্মানসহ মোট আটটি আন্তর্জাতিক ভাষা শেখানো হবে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) অধ্যয়নরত বিদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এ তথ্য জানান।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘বর্তমান সরকার শিক্ষাব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সক্ষমতা বাড়াতে শিক্ষাক্রমে তৃতীয় ভাষা অন্তর্ভুক্তির পরিকল্পনা নিয়েছে। এর ফলে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত দক্ষ বিদেশি ভাষা শিক্ষকের ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ল্যাংগুয়েজ সেন্টারগুলো এ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিকভাবে চাহিদাসম্পন্ন ভাষায় দক্ষ করে তুলবে এবং দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করবে।’

তিনি বলেন, ‘চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার এ যুগে বহুভাষিক দক্ষতা আর অতিরিক্ত যোগ্যতা নয়, বরং অপরিহার্য সক্ষমতা। ভাষাশিক্ষা বাংলাদেশের তরুণদের আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, প্রযুক্তি, কূটনীতি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক কর্মবাজারে প্রবেশের পথ আরও সুগম করবে।’

অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ জানান, দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার রূপান্তর ও আন্তর্জাতিক মানোন্নয়নের লক্ষ্যে ইউজিসি পাঁচ বছর মেয়াদি একটি কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়ন করছে। এ পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার একটি আঞ্চলিক ‘এডুকেশন হাব’ হিসেবে গড়ে তোলা, যাতে বিদেশি শিক্ষার্থী, গবেষক ও শিক্ষকদের জন্য বাংলাদেশ একটি পছন্দের গন্তব্যে পরিণত হয়।

তিনি আরও জানান, বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি, ভিসা, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য প্রশাসনিক সেবা সহজ করতে পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ইউজিসির সমন্বয়ে একটি ‘ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক’ গঠন করা হবে। একই সঙ্গে দেশের পাঁচটি সরকারি ও পাঁচটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে মডেল এডুকেশন হাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক মানের আবাসন, মেডিকেল সেন্টার, শিক্ষার্থী সহায়তা, কাউন্সেলিং, ক্যারিয়ার সাপোর্ট এবং বহুসাংস্কৃতিক শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সেবার সম্প্রসারণ করা হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. ফজলুল হক ভূঁইয়া। সভাপতিত্ব করেন ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক। স্বাগত বক্তব্য দেন সহযোগী ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ।


নির্বাচিত

চাকরি পেলেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সেই শারমিন, জানালেন কৃতজ্ঞতা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিশেষ ব্যবস্থায় চাকরি পেয়েছেন সাতক্ষীরার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শারমিন আক্তার। রাজধানীর এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডে (ইডিসিএল) কনিষ্ঠ কর্মকর্তা পদে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আগামী ২ আগস্ট নতুন কর্মস্থলে যোগ দেবেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে শারমিন আক্তারের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।

নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন শারমিন। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তার ভাষ্য, এই চাকরি তার জন্য শুধু একটি কর্মসংস্থানের সুযোগ নয়, পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর একটি বড় সুযোগও তৈরি করেছে।

এর আগে গত ২৬ জুলাই সাতক্ষীরায় হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন শারমিন আক্তার। এ সময় তিনি নিজের পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে মন্ত্রীর কাছে একটি চাকরির আবেদন করেন। তার কথা শুনে তাকে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। কয়েক দিনের মধ্যেই সেই আশ্বাস বাস্তবায়িত হলো।

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পশ্চিম কৈখালী গ্রামে শারমিনের গ্রামের বাড়ি। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতার নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন তিনি।

নিয়োগপত্র পাওয়ার পর গণমাধ্যমের কাছে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে শারমিন বলেন, ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার অবস্থা জানার পর নিজ দায়িত্বে চাকরি দেওয়ার কথা বলেছিলেন। মন্ত্রী তার কথা রেখেছেন এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। এখন তিনি নিজের অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পারবেন।’

শারমিন বলেন, ‘আমার মতো একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের জন্য চাকরির সুযোগ তৈরি হওয়ায় তিনি অত্যন্ত আনন্দিত।’ এ জন্য প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। একই সঙ্গে যারা তার পাশে ছিলেন, তাদেরও ধন্যবাদ জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘শারমিন খুবই অসহায়। তার পরিবারে কর্মক্ষম কেউ নেই। পাশাপাশি তিনি উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেছেন। তার পরিবারের পরিস্থিতি জানার পর তাকে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তাকে ইডিসিএলে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘শারমিন ছয় মাস শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করবেন। এই সময় শেষ হলে তার চাকরি স্থায়ী হবে। তিনি শারমিনের জন্য সবার কাছে দোয়া চান, যাতে তিনি নতুন কর্মস্থলে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, ‘দেশের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পাশে থাকতে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের পাশাপাশি তাদের যোগ্যতা ও মেধা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে।’

সরকারের এ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বাড়বে বলেও জানান তিনি।


নির্বাচিত

আরপিএমসিএইচে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে: দুলু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, ‘রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (আরপিএমসিএইচ) সকলের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার দেশজুড়ে জনগণকে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।’

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় সভাপতিত্ব, বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিদর্শন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলার পর স্থানীয় সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।

তিনি বলেন, ‘সরকার স্বাস্থ্য খাতে পর্যাপ্তসংখ্যক ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের জন্য সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ করেছে। জনবল সংকট নিরসনের মাধ্যমে দেশের হাসপাতালগুলোর সেবার মান আরও উন্নত করা হবে।’

বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিটে বিদ্যমান ১০টি শয্যার সঙ্গে খুব শিগগিরই আরও ১০টি শয্যা যুক্ত করা হবে। এ ছাড়া কেবিনে ভর্তি রোগীদের সঙ্গে থাকা একজন করে অ্যাটেনডেন্টের জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থা করা হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘অ্যানেস্থেসিয়া সংকটের কারণে হাসপাতালে সার্বক্ষণিক অস্ত্রোপচার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এই সমস্যা সমাধান করে সার্বক্ষণিক অপারেশনের সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মরদেহ পরিবহনে বিদ্যমান সিন্ডিকেট নির্মূলের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সের তালিকার পাশাপাশি কিলোমিটারভিত্তিক ভাড়ার তালিকাও প্রস্তুত করা হবে। এ ছাড়া হাসপাতাল থেকে মরদেহ পরিবহনের সময় সিন্ডিকেটের হয়রানি থেকে জনগণকে মুক্ত করতে ইনভয়েসের মাধ্যমে বিল পরিশোধের একটি ব্যবস্থা চালু করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘হাসপাতাল, রোগী এবং সকলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খুব শিগগিরই সেখানে একটি পুলিশ কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হবে। এ ছাড়া আগামী সাত দিনের মধ্যে হাসপাতাল চত্বরজুড়ে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে রাতে কোনো অপরাধী হাসপাতাল এলাকায় প্রবেশ করতে না পারে।’

একই সাথে রংপুর সিটি করপোরেশনকে হাসপাতালের দেওয়াল ভেঙে নতুন প্রবেশপথ তৈরি, নিকটবর্তী অবৈধ স্থাপনা অপসারণ এবং হাসপাতালের ভেতরে ও আশেপাশে জলাবদ্ধতার সমস্যা সমাধানের জন্য ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে বলে জানান তিনি।

হাসপাতালে দালালচক্র নির্মূলের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে আরও জনবল নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে যাতে এই চক্র হাসপাতালে অনুপ্রবেশ করতে না পারে। হাসপাতালের প্রত্যেক কর্মচারীকে পরিচয়পত্র এবং নির্ধারিত পোশাক পরে তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।’

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সকল নাগরিকের জন্য স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রেজেকা সুলতানা ফেন্সী, বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম, আরপিএমসিএইচের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আশিকুর রহমান, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. শামসুজ্জামান সামু, জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


নির্বাচিত

পরিবর্তনের দাবি উঠলেই এ দেশের মানুষকে প্রাণ দিতে হয়েছে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের ইতিহাসে জনগণ যখনই পরিবর্তনের দাবি তুলেছে, তখনই তাদের প্রাণ দিতে হয়েছে। ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান—প্রতিটি পরিবর্তনের পেছনেই রয়েছে মানুষের আত্মত্যাগ। তাই শহীদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষা করতে হলে রাষ্ট্র ও সমাজে সত্যিকারের পরিবর্তন নিশ্চিত করতে হবে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর তথ্য ভবন মিলনায়তনে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন, আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং পিএসসির সদস্য ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস। অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিরা জুলাই শহীদ দিবস বিষয়ক প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন করেন এবং আলোকচিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, পরিবর্তন একটি চলমান ও অনিবার্য প্রক্রিয়া। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় প্রতিটি ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য জনগণকে জীবন দিতে হয়েছে। স্বাধীনতার পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পর যদি পরিবর্তনের দাবিতে আবারও তরুণদের রক্ত দিতে হয়, তবে তা আমাদের জন্য আত্মসমালোচনার বিষয়।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে দেশের তরুণরাই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাঁদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করেই একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, মানুষের চিন্তা-চেতনা, প্রশাসনিক সংস্কৃতি এবং রাষ্ট্র পরিচালনায়ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পরও তিনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে পুরোনো মানসিকতা ও পরিবর্তনবিমুখ প্রবণতা দেখতে পেয়েছেন। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে প্রশাসনকে আরও জনমুখী, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগ তখনই সার্থক হবে, যখন দেশের প্রতিটি মানুষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে সততা, দায়িত্বশীলতা ও দেশপ্রেমের সঙ্গে কাজ করবে। প্রতিশোধ নয়, জাতীয় ঐক্য, সুশাসন ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়ন সম্ভব।

সভাপতির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও অর্জনকে কেন্দ্র করে যেন কেউ কোনো ধরনের ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, সমাজে যখনই অন্যায় ও শোষণ বেড়েছে, তখনই জনগণ স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে ন্যায়, গণতন্ত্র ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রধান, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, গণমাধ্যমকর্মী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

খুলনায় মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে পরিবেশ ও প্রকৃতিরক্ষাসহ মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সুশীল সমাজের ভূমিকা শীর্ষক আলোচনা সভা বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) খুলনা বয়রাস্থ মেট্রো পুলিশ লাইন্স হাইস্কুলের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। খুলনা পরিবেশ অধিদপ্তর ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা জে জে এস যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অতিথিরা বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় বেশি করে বৃক্ষরোপণ এবং পরিচর্যা করতে হবে। সুন্দর পৃথিবী গড়তে আমাদের নগরায়ণের পাশাপাশি সবুজায়নের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। পরিবেশ রক্ষায় নিজে সচেতন হতে হবে, অন্যকে সচেতন করতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি সুস্থ ও সুন্দর পৃথিবী উপহার দিতে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই।’ তারা আরও বলেন, ‘নেশা জাতীয় দ্রব্য মানুষের স্বাভাবিক বিকাশের জন্য ক্ষতি তাই মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর) সুদর্শন কুমার রায়। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা জে জে এসের নির্বাহী পরিচালক মো. জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান আলোচক ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. হারুন-অর-রশীদ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোছা. মাহমুদা খাতুন, সমাজসেবক এমডি সহিদুল আলম, কাজী আমিনুল ইসলাম বাহার ও উজনের নির্বাহী পরিচালক

মনসুর আলম চৌধুরী। স্বাগত বক্তৃতা করেন মেট্রো পুলিশ লাইন্স হাইস্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক বৈদ্য নাথ দাশ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক অ্যাড. শেখ অলিউল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।


নির্বাচিত

বাগেরহাটে ৩ গরু চোরসহ ১১ গরু উদ্ধার

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাগেরহাট প্রতিনিধি

বাগেরহাটে গোয়েন্দা পুলিশের টিম অভিযান চালিয়ে গরু চোরের সিন্ডিকেটের তিন সদস্যসহ উদ্ধার করেছে ১১ গরু। এ সময় চোরাই করা গরু বহনকারী পিকআপ জব্দ করা হয়। প্রথমে আটককৃত ২ চোরের তথ্যানুযায়ী বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ভোরে খুলনা জেলার তেরখাদা উপজেলার কাটেংগা গ্রাম থেকে এই চোরাই গরুর সরদার আরিফ মোল্লাকে আটক করা হয়।

এ সময় আটক আরিফ মোল্লার বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় ১১টি গরু ও ১টি পিকআপ। আটকৃতরা খুলনা ও বাগেরহাটের রামপাল এলাকার বাসিন্দা বলে পুলিশ জানায়। ‎

‎বাগেরহাটের পুলিশ সুপার নাসের রিকাপদার এ দিন দুপুরে তার কার্যালয়ে ব্রিফিংকালে সাংবাদিকদের এসব তথ্য দেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘বাগেরহাটে সাম্প্রতিক সময়ে গরু চোরের ঘটনা বেড়েই চলেছে। এরপর পুলিশ নজরদারি করতে থাকে।

গরু চোরের ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হলে তার দেওয়া তথ্য মতে খুলনার তেরোখাদার থেকে আরিফ মোল্লাকে ১১ গরুসহ আটক করা হয়।’ আটককৃতরা হলেন- বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার দক্ষিণপাড়া এলাকার সুকুর শেখের ছেলে নাহিদ শেখ, ফকিরহাট উপজেলার আবু সাঈ শেশের ছেলে ইমরান শেখ ও খুলনা জেলার তেরখাদা উপজেলার কাটেংগা গ্রামের ধুনা মোল্লার ছেলে আরিফ মোল্লা।


নির্বাচিত

পাথরঘাটায় বালু উত্তোলনকালে ড্রেজারসহ ৫ জন আটক

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরগুনা প্রতিনিধি

বরগুনার পাথরঘাটায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকালে ১টি ড্রেজারসহ ৫ জন বালু উত্তোলনকারীকে আটক করেছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘বরগুনার পাথরঘাটা থানাধীন দুলাল ড্রকসংলগ্ন পাথরঘাটা খাল এলাকায় বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুর ১২টায় কোস্ট গার্ড স্টেশন পাথরঘাটা কর্তৃক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন ওই এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকালে ১টি ড্রেজারসহ ৫ জন বালু উত্তোলনকারীকে আটক করা হয়।’

‎জব্দকৃত ড্রেজার ও আটককৃত ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিআইডব্লিউটিএ বরগুনার নিকট হস্তান্তর করা হয়।

তিনি আরও বলেন, ‘বালুখেকোদের হাত থেকে নদী তীরবর্তী জনগণের ফসলি জমি এবং বসত-ভিটে রক্ষায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।’


নির্বাচিত

banner close