শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

ঈদে ৫ দিন বন্ধ থাকবে বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রপ্তানি

ছবি: ইউএনবি
আপডেটেড
৩ এপ্রিল, ২০২৪ ১৫:২৮
ইউএনবি
প্রকাশিত
ইউএনবি
প্রকাশিত : ৩ এপ্রিল, ২০২৪ ১৪:৪০

পবিত্র ঈদুল ফিতর ও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বেনাপোল বন্দরে টানা ৫ দিন আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তবে এ সময় ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে পাসপোর্টধারী যাত্রীরা পারাপার অন্যান্য দিনের মতো স্বাভাবিক থাকবে।

বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লতা বলেন, আগামী মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) বিকাল থেকে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাবে। কাস্টমস ও বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজ নিজ বাড়িতে ঈদ উদযাপন করতে দেশের বাড়িতে যাবেন।

তিনি আরও বলেন, সরকার ঈদের ৩ দিন আগে পরে ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান চলাচল বন্ধ রাখায় বন্দর থেকে কোনো পণ্য খালাসও হবে না। অনেক আমদানিকারক ঈদের ছুটিতে পরিবার পরিজন নিয়ে দেশের বাড়িতে যাবেন। তারা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে না আসা পর্যন্ত কোনো পণ্যও খালাস নিবেন না।

দুই দেশের সিএন্ডএফ এজেন্ট ও বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ঈদের ছুটি শুরু হচ্ছে আগামী বুধবার থেকে শুক্রবার (১০, ১১, ১২ এপ্রিল), শনিবার (১৩ এপ্রিল) সাপ্তাহিক ছুটি, রবিবার (১৪ এপ্রিল) পহেলা বৈশাখের ছুটিসহ সব মিলিয়ে ৫ দিন বন্ধ থাকবে বেনাপোল বন্দর। সোমবার (১৫ এপ্রিল) থেকে পুনরায় বন্দর ও কাস্টমসের সব কার্যক্রম সচল হবে।

এদিকে টানা ছুটির কারণে সীমান্তের দুপাশের বন্দরে ট্রাকের জট আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা। বেনাপোলের মতোই পেট্রাপোল বন্দরেও ট্রাকের জট রয়েছে।

বেনাপোল চেকপোস্ট পুলিশ ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জান বিশ্বাস বলেন, ‘ঈদুল ফিতর ও সাপ্তাহিক ছুটির কারণে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলেও স্বাভাবিক থাকবে পাসপোর্ট যাত্রীদের যাতায়াত। এ সময় একটু বেশি ভিড় হয়ে থাকে। সে কারণে ইমিগ্রেশনে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে।’

বেনাপোল বন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) রেজাউল ইসলাম জানান, আগামী মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) বিকেল থেকে ঈদের ছুটিতে বন্দরের সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। ঈদের ছুটির মধ্যে বন্দরে যাতে কোনো ধরনের নাশকতামূলক বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে তার জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বন্দরের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী ও আনসার সদস্যরা দিনে ও রাতে বন্দর এলাকায় টহল দেবেন। পাশাপাশি বেনাপোল পোর্ট থানাকে বিষয়টি বলা হয়েছে। আগামী ১৫ এপ্রিল থকে যথারীতি এ বন্দরের সকল কার্যক্রম শুরু হবে।


নির্বাচিত

মাদারীপুরের ঐতিহাসিক ‘শকুনী লেক’ বাঁচাতে সর্বাত্মক মানববন্ধন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাদারীপুর প্রতিনিধি

মাদারীপুরের কয়েক শতাব্দীর ঐতিহাসিক দৃষ্টিনন্দন বিশাল শকুনী লেক ও এর পরিবেশ বাঁচানোর দাবিতে এক সর্বাত্মক মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১০টায় ঐতিহাসিক শকুনি লেক পার্ক প্রাঙ্গণে "শকুনি বাঁচাও আন্দোলন"-এর আয়োজনে এই কর্মসূচি সম্পন্ন হয়।​মানববন্ধনে বক্তারা শকুনি লেকের পানি দূষণ বন্ধ করা, লেক ঘিরে এর চারপাশে গড়ে ওঠা ফুটপাত দখল ও হকারমুক্ত করে এর স্বাভাবিক সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানান।

কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা সর্বসম্মতিক্রমে ৪টি মূল দাবি ও লক্ষ্য তুলে ধরেন যা'র মধ্যে- লেকের চারপাশের সড়ক-ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং লেকে ভরাট বন্ধ রাখা, পলিথিনের ব্যবহার নিষিদ্ধ ও পরিহার করা, অপচনশীল প্লাষ্টিক দ্রব্য-বর্জ্য পানিতে ফেলা বন্ধ করা ও লেকের পাড়ে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ করে পুরো এলাকাকে আরও মনোরম ও সবুজ করে তোলার দাবি জানানো হয় ।​

উক্ত কর্মসূচিতে বীর মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ, জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি, বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি, সাংবাদিক, খেলোয়াড়, সাধারণ নাগরিক এবং শরীর চর্চার জন্য লেকের চারদিকের সড়কে নিয়মিত হাঁটাহাঁটি করা বিভিন্ন ক্লাবের সদস্যসহ সর্বস্তরের নারী-পুরুষ সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ করেন।

আয়োজকরা জানান, পরিবেশ রক্ষা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও মাদারীপুর সদর ২৫০ শয্যার হাসপাতালে রোগীদের গমনের সড়কে অবৈধভাবে গড় ওঠা কাঁচাবাজার, মাছবাজার, ফলের দোকান সহ অন্যান্য দোকান ও হকার উচ্ছেদে কার্যকরী স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়ার আহবান জানিয়ে সবার মুখে একই ধ্বনি উচ্চারিত হয়- শকুনি লেক মাদারীপুরবাসীর আবেগ ও ঐতিহ্যের প্রতীক, 'শকুনী লেক বাঁচাও, মাদারীপুর বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও'।

শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই গুরুত্বপূর্ণ লেক ও পর্যটন স্পটটি রক্ষাবেক্ষণে প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষ উদাসীন কেনো- তা জানতে চেয়ে মানববন্ধনে অংশগ্রহনকারীরা এই সমস্যা দ্রত সমাধানের অনুরোধ জানিয়েছেন। তা না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচী দিতে বাধ্য হবেন বলে উলেখ করা হয়।


নির্বাচিত

ফরিদপুরে জি এস সি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুরের নগরকান্দার গজারিয়া স্কুল মাঠে শুরু হয়েছে জিএসসি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট। গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে জমকালো অনুষ্ঠানে স্থানীয় কৃষ্ণারডাঙ্গী স্কুল মাঠে এ টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজওয়ানা আফরিন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন টুর্নামেন্ট আয়োজক কমিটির সভাপতি ও ফরিদপুর মোহামেডান স্পোটিং ক্লাবের সভাপতি হানিফ মন্ডল, খেতনামা শিক্ষাবিদ আব্দুস সাত্তার মন্ডল, ফরিদপুর জিলা ক্রীড়া সংস্থার এডহক কমিটির সদস্য আলী রেজওয়ান বিশ্বাস তরুন, জেলা যুবদলের সভাপতি রাজিব হোসেন।

উদ্বোধনী খেলায় গতবারের চ্যাম্পিয়ন গোপালগঞ্জের বামুন্দি সিকদার ফুটবল একাদশ ট্রাইবেকারে ৫-৩ গোলে রংপুর জেলার জয় ফুটবল একাদশকে পরাজিত করে। নির্ধারিত সময়ে ২-২ গোলে সমতা থাকায় খেলাটি ট্রাইবেকারে গড়ায়। দুদলে একাধিক বিদেশী খেলোয়ার অংশ নেয়।

গজারিয়া স্পোটিং এন্ড একাডেমীর আয়োজন নকআউট ভিত্তিক এ ফুটবল টুর্নামেন্টে দেশের বিভিন্ন জেলার ৮টি দল অংশ নেয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ন এ ফুটবল খেলাটি দেখতে সকাল থেকেই বিভিন্ন স্থান থেকে হাজারো দর্শক উপস্থিত হয় কৃষ্ণারডাঙ্গী স্কুল মাঠে।


নির্বাচিত

যশোরে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
যশোর প্রতিনিধি

যশোর পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে শহরের মনিহার পুরাতন খুলনা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সাততলাবিশিষ্ট আবাসিক ভবন নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল ১০টায় মনিহার সিনেমা হল সড়কসংলগ্ন এলাকায় এ নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

প্রকল্পের আওতায় সাততলা ভবনটিতে মোট ৪৮টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। এ ভবন নির্মাণের মাধ্যমে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য আবাসনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি তাঁদের পরিবারগুলোর জীবনযাত্রার মান উন্নয়নেও প্রকল্পটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা শহরকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁদের আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করা এবং জীবনমান উন্নয়নে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য পরিকল্পিত আবাসন গড়ে তোলা হলে তাঁরা ও তাঁদের পরিবার উপকৃত হবেন। নগর উন্নয়নের পাশাপাশি নগরের সেবায় নিয়োজিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

প্রকল্পটির প্যাকেজ নম্বর PD/Pori.Abahan/Jasore.W1.47। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), যশোরের বাস্তবায়নে ভবনটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজটি বাস্তবায়ন করছে মিম ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড, বনপাড়া, নাটোর।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে যশোর পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আবাসন সুবিধা সম্প্রসারিত হবে এবং তাঁদের জন্য উন্নত ও পরিকল্পিত জীবনযাপনের পরিবেশ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে।


নির্বাচিত

মিঠামইনে চোখের প্রাথমিক পরিচর্যা দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালা অনুষ্ঠিত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অষ্টগ্রাম-মিঠামইন (​কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা মিঠামইনে স্থানীয় পর্যায়ে চোখের চিকিৎসা সুবিধা পৌঁছানো এবং অন্ধত্ব প্রতিরোধের লক্ষ্যে “চোখের প্রাথমিক পরিচর্যা দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালা” অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) ​দৃষ্টি উন্নয়ন সংস্থা (ডাস), ঢাকার উদ্যোগে এবং 'Humanity Beyond Barriers (HBB) Inc, USA'-এর আর্থিক সহায়তায় দিনব্যাপী এই নন-রেসিডেনশিয়াল কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

দৃষ্টি উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আবদুল ওয়াদুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.আবদুল্লাহ-আল-শাফী।

​কর্মশালায় প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের চক্ষু বিশেষজ্ঞ এবং দৃষ্টি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. শাহীন রেজা চৌধুরী।

​অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ডা. মো. শাহীন রেজা চৌধুরী বলেন, দেশের সার্বিক অন্ধত্ব ও চক্ষু চিকিৎসার বর্তমান চিত্র অত্যন্ত সংকটজনক। বর্তমানে দেশে প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ মানুষ কোনো না কোনোভাবে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা বা অন্ধত্বের শিকার। এর মধ্যে শুধু ছানিজনিত সমস্যায় প্রায় ১০ লাখ রোগী অস্ত্রোপচারের অপেক্ষায় রয়েছেন এবং প্রতি বছর এই তালিকায় নতুন করে যুক্ত হচ্ছে ১ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি রোগী। এছাড়া দেশের ১৭ কোটি ৩০ লাখ মানুষের জন্য মাত্র ১,৫০০ থেকে ১,৬০০ জন চক্ষু বিশেষজ্ঞ রয়েছেন— অর্থাৎ প্রতি ১ লাখ ৪৪ হাজার মানুষের জন্য মাত্র ১ জন চিকিৎসক উপলব্ধ আছেন। নারী ও শিশুরা এই অন্ধত্ব ও দৃষ্টিত্রুটির শিকার বেশি হচ্ছে, যেখানে অন্ধ বা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের প্রায় ৫৫% নারী ও শিশু। হাওর অঞ্চলের মতো প্রত্যন্ত এলাকায় এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রাথমিক চক্ষু পরিচর্যা ও সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) SPECS 2030 লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত ২ কোটি মানুষকে চক্ষু সেবার আওতায় আনতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

​​কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ সনদ, ব্যাগ, ভিশন চার্ট, টর্চ লাইট, নেয়ার চার্টবুকসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ প্রদান করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের লেকচার, লাইভ ডেমো এবং প্র্যাকটিক্যাল সেশনের মাধ্যমে চোখে ছানি, গ্লুকোমা, সংক্রমণ শনাক্তকরণ ও প্রাথমিক চিকিৎসার নানাবিধ কৌশল আয়ত্ত করেন।


নির্বাচিত

গোপন ভিডিওর ভয় দেখিয়ে অনৈতিক প্রস্তাব, গ্রেপ্তার ২

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মিজানুর রহমান, পঞ্চগড়

পঞ্চগড় সদর উপজেলায় এক নারীর পোশাক পরিবর্তনের গোপন ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি এবং শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করার চেষ্টার অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আরও একজনকে আসামি করা হয়েছে। গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ভোরে পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়ন থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের বামনপাড়া এলাকার মো. রাসেল হক (২৬) ও ছলিয়াপাড়া এলাকার মো. বাবু হোসেন (২৭)। এ মামলায় আবেশ (২৫) নামের আরও একজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলায় বলা হয়, গত সোমবার (৫ অক্টোবর) রাত সোয়া ১১টার দিকে রাসেল হক হোয়াটসঅ্যাপে ওই নারীকে কল ও বার্তা পাঠিয়ে তাঁর পোশাক পরিবর্তনের গোপন ভিডিও ধারণ করা হয়েছে বলে জানান। একই সঙ্গে ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে সম্মানহানির হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, পরদিন মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে রাসেল ওই নারীকে ফোন করে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হলে গোপনে ধারণ করা ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।

অভিযোগ অনুযায়ী, বাবু হোসেনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন দিয়ে ওই নারীর গোপন ভিডিও ধারণ করা হয়েছিল। পরে ভিডিওটি আবেশের কম্পিউটারে সংরক্ষণ করা হয়। তিনজনের যোগসাজশে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ওই নারীকে মানসিক চাপে রাখা হচ্ছিল বলেও মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় পুলিশ রাসেল হক ও বাবু হোসেনকে গ্রেপ্তার করে এবং তাঁদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করে। পরে পঞ্চগড়ের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক এ এস এম সাজ্জাদ হোসেন তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পঞ্চগড় সদর থানার ওসি মোখলেছুর রহমান জানান, এ ঘটনায় করা মামলায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অপর আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।


নির্বাচিত

জয়পুরহাট সদরকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন কালাই উপজেলা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জয়পুরহাট প্রতিনিধি

জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬-এর ফাইনাল খেলায় জয়পুরহাট সদর উপজেলা একাদশকে ট্রাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে কালাই উপজেলা একাদশ। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই ফাইনালে ইতিহাস সৃষ্টি করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে কালাই উপজেলা। গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে জয়পুরহাট জেলা স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলার উদ্বোধন করেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী এমপি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, যুবসমাজকে মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। সরকার মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে খেলাধুলা বিকাশে বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ করা হবে। এছাড়া প্রত্যেক জেলায় স্পোর্টস পল্লী করা হবে। খেলাধুলা শুধু শরীর গঠনে নয়, পেশা হিসেবে বিকসিত হচ্ছে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, জেলা প্রশাসক আল মামুন মিয়া, পুলিশ সুপার শাহনাজ বেগম, জেলা পরিষদের প্রশাসক মাসুদ রানা প্রধান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব গোলজার হোসেন এবং যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল ওহাব।

‎জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা গৌতম সরকার বলেন, জেলার পাঁচ উপজেলা ও তিন পৌরসভাসহ মোট আটটি দল এতে অংশ করে। নক-আউট পদ্ধতিতে একটি করে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।

‎সরেজমিনে দেখা যায়, গ্যালারিতে তিল ধারণের জায়গা নেই। স্টেডিয়ামের চারপাশের বাড়ির ছাদ ও চিলেকোঠাতেও দর্শক। কেউ বাউন্ডারির গ্রিলের ওপর দাঁড়িয়ে খেলা দেখছেন। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে জয়পুরহাট স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ ঘিরে এমন দৃশ্য দেখা যায়। মাঠের খেলা দেখতে হাজারো দর্শকের উপস্থিতিতে স্টেডিয়াম ও আশপাশের এলাকা হয়ে ওঠে উৎসবমুখর। খেলার মাঠে মূল আকর্ষণ ছিল সদর উপজেলার পক্ষে তিন বিদেশি খেলোয়াড়। খেলাটি উপভোগ করতে আসেন হাজার হাজার দর্শক।

​খেলা শেষে জেলা প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থা যৌথ আয়োজনে আয়োজিত এই সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি এবং অন্যান্য পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় গৌরবময় এই বিজয়ে কালাই উপজেলা ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী এমপি।


নির্বাচিত

খুলনায় পুলিশ সদস্যদের রাতে একা চলাচল না করার নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো 

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার ঝুঁকি এড়াতে রাতের বেলা একা চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে খুলনা জেলা পুলিশ। দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুক্রবার রাতে জেলা বিশেষ শাখার (ডিএসবি) পুলিশ সুপার স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক চিঠির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সকল ইউনিটপ্রধানদের এই কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে জেলার রূপসা, তেরখাদা, দিঘলিয়া ও বটিয়াঘাটা থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও হামলার ঘটনা বিবেচনায় নিয়ে বিশেষ অভিযান বা নৈশকালীন যেকোনো দায়িত্ব পালনের সময় কোনো পুলিশ সদস্য যেন একা যাতায়াত না করেন, তা ইউনিটপ্রধানদের নিশ্চিত করতে হবে। সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখার এই নির্দেশনাটি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ, অপরাধ ও অপারেশন, ডিএসবি ও ট্রাফিক), সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), ট্রাফিক বিভাগ, রিজার্ভ অফিস ও কোর্ট পুলিশ পরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্ট সকল থানায় প্রেরণ করা হয়েছে।

খুলনার পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক জানান, গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রূপসা থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান সমাপ্ত করে ফেরার পথে ছিনতাইকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন এক পুলিশ কর্মকর্তা। ওই কর্মকর্তা সে সময় সাদা পোশাকে ছিলেন। সহকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যেই রাতে একা চলাচলের ওপর এই প্রাতিষ্ঠানিক কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে নগরীর খানজাহান আলী সড়কে খুলনা কলেজিয়েট স্কুলের সামনে হামলার শিকার হন ৪৩ বছর বয়সী পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলম। ছিনতাইকারীদের চাপাতির কোপে গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।


নির্বাচিত

মোদীর পতন দেখার অপেক্ষায় আছি: আসিফ নজরুল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রাজনৈতিক পতন দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। শনিবার দুপুর ১টা ২০ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি ভারতের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে এই অভিমত প্রকাশ করেন।

ভারতে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বিক্ষোভের প্রতি ইঙ্গিত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ড. আসিফ নজরুল লেখেন, ‘তেলাপোকাদের কামড়ে মোদী দিশেহারা। মনে হয় না টিকতে পারবে বেশিদিন।’

মোদীর প্রস্থান ঘটলে ভারতের সামগ্রিক সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আসবে কি না—সে বিষয়ে আলোকপাত করে তিনি লিখেছেন, ‘মোদীর পতন হলে কি তার দেশ বদলে যাবে? কিছুটা তো বদলাবেই। অন্তত: অন্ধ মুসলিমবিদ্বেষী রাজনীতি কিছুটা হলেও হোঁচট খাবে। আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে নি:সঙ্গ নাতা-নিয়াহুর (নেতানিয়াহু) একজন ঘনিষ্ঠ মিত্র কমবে। ভারতের সমাজে তীব্র বৈষম্য হয়তো কিছুটা কমবে।’

একই সঙ্গে উগ্র ধর্মীয় রাজনীতির কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সাবেক এই উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, ‘মোদী আর তাঁর রাজনীতির বলি হয়ে এ দেশের মানুষ নানাভাবে ভুক্তভোগী হয়েছিল। তারা ও তাদের পরিবার কিছুটা সান্ত্বনা পাবে।’

পোস্টের সমাপ্তিতে নিজের দৃঢ় প্রত্যাশা ব্যক্ত করে ড. আসিফ নজরুল লিখেছেন, ‘মোদীর পতন দেখার অপেক্ষায় আছি আরও অনেকের মতো আমিও।’


নির্বাচিত

জামালপুরে বাসচাপায় শাশুড়ি ও পুত্রবধূর মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জামালপুর প্রতিনিধি

জামালপুরের বকশীগঞ্জে একটি যাত্রীবাহী বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে শাশুড়ি ও তাঁর পুত্রবধূর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকালে ঢাকা-বকশীগঞ্জ মহাসড়কের নিলক্ষিয়া ঠাকুরপাড়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই পুলিশ দুর্ঘটনা কবলিত বাসটি জব্দ এবং চালকের সহকারীকে (হেলপার) আটক করতে পারলেও চালক পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

নিহতরা হলেন নিলক্ষিয়া ঠাকুরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা উফেজা বেগম এবং তাঁর ছেলের স্ত্রী ফরিদা বেগম। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে নিজ বাড়ির নিকটবর্তী মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন উফেজা বেগম ও ফরিদা বেগম। সে সময় খাগড়াছড়ি থেকে বকশীগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে আসা একটি দ্রুতগতির যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি তাঁদের ওপর উঠে যায়। এতে বাসের চাপায় ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়। একই পরিবারের দুই সদস্যের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় গভীর শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।

দুর্ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন জানান, হাইওয়ে পুলিশ ইতিমধ্যে ঘাতক বাসটি নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে এবং চালকের সহকারীকে আটক করেছে। পলাতক চালককে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে এবং এ বিষয়ে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


নির্বাচিত

স্কুলছাত্রী তাজমিনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে অটোরিকশা চালক: পুলিশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে ওই স্কুলছাত্রীকে হত্যা করেন সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক সুমন মিয়া। শনিবার সকালে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া।

নিহত জান্নাতুল তাজমিন (১৫) কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাদের আদি বাড়ি যশোর জেলায় হলেও বাবার চাকরির কারণে পরিবারসহ কুমিল্লার রেসকোর্স এলাকায় বসবাস করতেন তিনি। পুলিশ জানায়, গত ৮ অক্টোবর সকালে লালমাই উপজেলার ভোরালজগপুর গ্রামের ধানক্ষেতের পাশে এক কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে অবগত করেন। পরবর্তীতে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধারের পর নিহতের বাবা এসে তাজমিনের পরিচয় নিশ্চিত করেন। এ ঘটনায় লালমাই থানায় মামলা দায়েরের পর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও থানা পুলিশের একটি যৌথ দল প্রযুক্তিগত সহায়তায় চট্টগ্রাম থেকে অভিযুক্ত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত সুমন স্বীকার করেন, ঘটনার দিন পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডস্থ তিশা বাস কাউন্টারের সামনে থেকে রেসকোর্সের বাসায় যাওয়ার জন্য ৩০০ টাকা ভাড়ায় তাঁর অটোরিকশায় ওঠেন তাজমিন। তবে দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার নাম করে নূরজাহান হোটেলের সামনে দিয়ে ঘুরিয়ে চাঁদপুরমুখী সড়কের বিজরা বাজার এলাকার এক অন্ধকার ও ফাঁকা স্থানে নিয়ে যান চালক। গাড়িটি থামানোর পর স্থানটি চেনা নয় বুঝতে পেরে কিশোরীটি নেমে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে সুমন তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে ধরে। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ছাত্রীটি নিস্তেজ হয়ে পড়লে তাকে ধর্ষণ করা হয়।

পরবর্তীতে ধানক্ষেতে উপুড় করে ফেলে মাথায় পা দিয়ে চেপে ধরে তাজমিনের মৃত্যু নিশ্চিত করেন সুমন। হত্যার পর নিহতের ব্যাগ থেকে আইফোনটি হাতিয়ে নিয়ে ব্যাগটি জমিতে ফেলে দেন তিনি। এরপর পাশের একটি মসজিদের পুকুরে গোসল সেরে অন্য গাড়িতে ঝালমুড়ি বাজারে গিয়ে একটি জঙ্গলে ফোনটি লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রামে পালিয়ে যান। গ্রেপ্তারের পর সুমনের দেখানো স্থান থেকেই ভুক্তভোগীর ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করেছে পুলিশ।


নির্বাচিত

নতুন রূপে ফিরছে গ্রাম সরকার, অপরাধ দমন থেকে উন্নয়নেও নজর

* প্রতি ওয়ার্ডে প্রধান ও উপদেষ্টাসহ ১৭ জনের কাঠামো * কৃষক-শ্রমিক-শিক্ষকসহ ১৫ সদস্য রাখার প্রস্তাব * মেয়াদ পাঁচ বছর
প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ৯ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:৪৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

গ্রামের উন্নয়ন পরিকল্পনা, সরকারি সেবার তদারকি, স্থানীয় বিরোধ মীমাংসা থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন, মাদক, সন্ত্রাস ও চুরির মতো অপরাধ প্রতিরোধ—গ্রামীণ জীবনের নানা ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখার লক্ষ্য নিয়ে আবারও ফিরছে ‘গ্রাম সরকার’। ইউনিয়ন পরিষদের সহায়ক সংগঠন হিসেবে প্রতিটি ওয়ার্ডে এ সরকার গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এ জন্য তৈরি করা হয়েছে ‘গ্রাম সরকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া। প্রস্তাবিত কাঠামোয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পাশাপাশি কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, যুব প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে।

খসড়া অনুযায়ী, প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন গ্রাম সরকার প্রধান, একজন উপদেষ্টা ও ১৫ জন সদস্য থাকবেন। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য হবেন প্রধান এবং সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য থাকবেন উপদেষ্টা। গ্রাম সরকারের মেয়াদ হবে প্রথম সভা থেকে পাঁচ বছর। ইতোমধ্যে খসড়াটির বিষয়ে মতামত চেয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। তবে প্রস্তাবিত ব্যবস্থাটি চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত ও কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত এর বিধানগুলোকে প্রস্তাব হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।

গ্রামীণ প্রশাসনে নতুন কাঠামোর প্রস্তাব: গ্রাম সরকারকে ইউনিয়ন পরিষদের সহায়ক সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে খসড়ায়। এর কাজ শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন বা সরকারি কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; গ্রামীণ সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, জনসচেতনতা বাড়ানো এবং স্থানীয় সমস্যা চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার দায়িত্বও থাকবে।

প্রস্তাবিত আইনে গ্রাম সরকারকে একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। আইনের বিধান সাপেক্ষে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি অর্জন, অধিকারে রাখা এবং হস্তান্তরের ক্ষমতাও থাকবে এর। তবে এটি সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫২(১)-এ সংজ্ঞায়িত প্রশাসনিক একাংশ হিসেবে গণ্য হবে না।

প্রথমবার গ্রাম সরকার গঠনের তারিখ সরকার সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দিয়ে নির্ধারণ করবে। পরবর্তী সময়ে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে নতুন গ্রাম সরকার গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। কোনো গ্রাম সরকার বাতিল হলে বাতিলাদেশ জারির পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুনটি গঠন করতে হবে।

১৫ সদস্যে থাকবে নানা শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিত্ব: প্রস্তাবিত গ্রাম সরকারের সদস্য কাঠামোয় সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে দু’জন গণ্যমান্য ব্যক্তি বা সমাজসেবক, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর একজন পুরুষ ও একজন নারী সদস্য, দু’জন কৃষক, একজন নিকাহ রেজিস্ট্রার, একজন সমবায় সমিতির সদস্য, একজন পল্লী চিকিৎসক, একজন শিক্ষক, একজন ব্যবসায়ী, একজন পেশাজীবী, একজন শ্রমিক, একজন যুব প্রতিনিধি এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর একজন সদস্য রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে—সংশ্লিষ্ট এলাকায় এমন জনগোষ্ঠীর সদস্য থাকলে।

কোনো শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি পাওয়া না গেলে গণ্যমান্য ব্যক্তি বা সমাজসেবকের সংখ্যা বাড়িয়ে সেই ঘাটতি পূরণের বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে। সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ভোটার তালিকায় নাম থাকা ভোটারদের কমপক্ষে ১০ শতাংশের উপস্থিতিতে পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে হ্যাঁ-না ভোট গ্রহণের প্রস্তাব রয়েছে।

এ কাঠামোর মাধ্যমে স্থানীয় নেতৃত্বের পাশাপাশি কৃষি, শ্রম, শিক্ষা, ব্যবসা ও পেশাজীবী মহলের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে প্রতিনিধিত্ব কতটা কার্যকর হবে, সদস্য নির্বাচনের প্রক্রিয়া কীভাবে পরিচালিত হবে এবং বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের মতামত সিদ্ধান্ত গ্রহণে কতটা গুরুত্ব পাবে, তা নির্ভর করবে চূড়ান্ত আইন ও বাস্তবায়নব্যবস্থার ওপর।

অপরাধ প্রতিরোধে থাকবে সম্মিলিত উদ্যোগ: প্রস্তাবিত গ্রাম সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হবে গ্রাম পর্যায়ে অপরাধ প্রতিরোধে সামাজিক উদ্যোগ গড়ে তোলা। নারী ও শিশু নির্যাতন, সন্ত্রাস, চুরি, মাদক এবং বিভিন্ন ধরনের জুয়ার বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া, সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো এবং এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন ইউনিয়ন পরিষদে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে খসড়ায়।

স্থানীয় বিরোধ মীমাংসা ও গ্রামে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতেও উদ্যোগ নেবে গ্রাম সরকার। এ ক্ষেত্রে তাদের লিখিত সিদ্ধান্ত আইনানুগ কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করতে পারবে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ রয়েছে।

তবে অপরাধ প্রতিরোধের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে গ্রাম সরকারের ক্ষমতার সীমা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় এবং স্থানীয় বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ হবে। এসব দায়িত্ব যেন প্রচলিত আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পালন করা হয়, সে বিষয়টিও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিবেচনায় রাখতে হবে।

রাস্তা, কালভার্ট ও প্রকল্পের তদারকি: গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করবে গ্রাম সরকার। গ্রামের রাস্তা, কালভার্টসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর উন্নয়নে পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি ও আর্থিক বিষয় পর্যালোচনার দায়িত্ব থাকবে তাদের।

এতে স্থানীয় পর্যায়ে কোন এলাকার উন্নয়ন আগে প্রয়োজন, কোথায় সড়ক বা কালভার্ট সংস্কার জরুরি এবং কোন প্রকল্পে সমস্যা রয়েছে—এসব বিষয় চিহ্নিত করে ইউনিয়ন পরিষদকে জানানো সম্ভব হবে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইনগত দায়িত্ব ও আর্থিক বিধিবিধানই কার্যকর থাকবে।

শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিতেও নজর: প্রাথমিক ও গণশিক্ষার প্রসারে এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সহযোগিতা করবে গ্রাম সরকার। পরিবার পরিকল্পনা, পুষ্টি, টিকাদান ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা বাস্তবায়নেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সহায়তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

বিশুদ্ধ পানীয় জলের সরবরাহ এবং স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে সংগঠনটি। প্রয়োজনে নিজস্ব তত্ত্বাবধানেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকবে।

কৃষির ক্ষেত্রেও স্থানীয় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে গ্রাম সরকার। সার, উন্নতমানের বীজ ও কীটনাশকের সরবরাহ সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজ রাখা এবং সংকট দেখা দিলে ইউনিয়ন পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত জানানোর দায়িত্ব থাকবে। এ ছাড়া সমবায় সমিতি গঠন, ক্ষুদ্র শিল্প স্থাপন, হাঁস-মুরগির খামার, মাছ চাষ ও পশুপালনে গ্রামীণ জনগণকে উৎসাহিত করবে। বৃক্ষরোপণ, খাল খনন, পরিবেশ ও প্রাণী সংরক্ষণ এবং নারী, যুবক, প্রবীণ ও শিশুদের কল্যাণে বিভিন্ন কার্যক্রম নেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।

পাঁচ বছরের মেয়াদ, শপথ ও সদস্যপদের শর্ত: গ্রাম সরকার প্রধান, উপদেষ্টা ও সদস্যদের দায়িত্ব গ্রহণের আগে পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের সামনে শপথ নিতে হবে। গ্রাম সরকার গঠনের ৩০ দিনের মধ্যে শপথের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে কেউ সদস্য হতে পারবেন না। বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পরিত্যাগ বা হারানো, আদালত কর্তৃক অপ্রকৃতিস্থ ঘোষিত হওয়া কিংবা সংশ্লিষ্ট এলাকার বাইরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করার ক্ষেত্রেও সদস্যপদের অযোগ্যতা তৈরি হবে।

নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে আদালত কর্তৃক কমপক্ষে এক বছরের কারাদণ্ড হলে এবং মুক্তির পর পাঁচ বছর অতিবাহিত না হলে সদস্য হওয়া যাবে না। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়া বা থাকা কিংবা ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া ঋণ মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থায় অনাদায়ী থাকলেও সদস্য হওয়ার যোগ্যতা থাকবে না।

যথাযথ তদন্তের পর কোনো সদস্যকে অপসারণের বিধানও রাখা হয়েছে। যথোপযুক্ত কারণ ছাড়া পরপর তিনটি সভায় অনুপস্থিত থাকা, দায়িত্ব পালনে অক্ষমতা বা অস্বীকৃতি, অসদাচরণ, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে তার পদ হারানোর সুযোগ থাকবে।

তহবিল গঠন ও বাতিলের ক্ষমতা: প্রত্যেক গ্রাম সরকারের জন্য ‘গ্রাম সরকার তহবিল’ গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পাওয়া অর্থ এবং অন্যান্য উৎস থেকে আসা অর্থ এ তহবিলে জমা হবে। তবে তহবিল পরিচালনা, ব্যয় অনুমোদন ও হিসাব সংরক্ষণের বিস্তারিত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রাম সরকারের আর্থিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

খসড়া অনুযায়ী, জেলা প্রশাসক স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে, পরিদর্শনকারী কর্মকর্তার প্রতিবেদন বা কোনো ব্যক্তির আবেদনের ভিত্তিতে গ্রাম সরকারের কার্যক্রম তদন্তের জন্য কর্মকর্তা নিয়োগ করতে পারবেন। তদন্তে দায়িত্ব পালনে ধারাবাহিক ব্যর্থতা, প্রশাসনিক বা আর্থিক দায়িত্ব পালনে অক্ষমতা, জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে গ্রাম সরকার বাতিল করতে পারবেন জেলা প্রশাসক। তবে এ সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট গ্রাম সরকারকে কারণ দর্শানোর সুযোগ দিতে হবে।

গ্রাম সরকার বাতিল হলে নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের গঠিত এডহক কমিটি দায়িত্ব পালন করবে। গ্রাম সরকারের কার্যালয় ওয়ার্ডের মধ্যবর্তী স্থানে অথবা হাটবাজার কিংবা গ্রোথ সেন্টার এলাকায় স্থাপনের প্রস্তাবও রয়েছে।

পুরোনো ব্যবস্থা, নতুন প্রত্যাশা: সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ১৯৭০-এর দশকে গ্রাম সরকার নামে একটি স্থানীয় সরকারব্যবস্থা চালু হয়েছিল। পরে ২০০৩ সালে এ বিষয়ে আইন করা হয়। ওই আইনে প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন প্রধান, একজন উপদেষ্টা ও ১৩ জন সদস্য নিয়ে গ্রাম সরকার গঠনের বিধান ছিল। পরবর্তী সময়ে আইনটি বাতিল করা হয়।

পুরোনো ব্যবস্থার মতো নতুন খসড়াতেও গ্রামীণ উন্নয়ন, অপরাধ প্রতিরোধ, স্থানীয় বিরোধ মীমাংসা ও সরকারি কর্মসূচিতে সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এবার সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতিনিধিত্ব অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে গ্রাম সরকার পুনর্বহালের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। বিষয়টি পরবর্তী বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে রাখার কথা বলা হয়েছে।

নতুন গ্রাম সরকার কার্যকর হলে গ্রামের সমস্যা স্থানীয় পর্যায়ে চিহ্নিত করা, উন্নয়ন অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং সরকারি সেবার সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ বাড়ানোর একটি কাঠামো তৈরি হতে পারে। তবে এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে সদস্য নির্বাচন কতটা গ্রহণযোগ্য হয়, দায়িত্ব ও ক্ষমতার সীমা কতটা স্পষ্ট থাকে, আর্থিক জবাবদিহি কীভাবে নিশ্চিত করা হয় এবং ইউনিয়ন পরিষদ ও অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় কতটা কার্যকর হয়—এসব বিষয়ের ওপর।


নির্বাচিত

চাল, সবজি, ডিম, মাছ—সবকিছুতেই বাড়তি দাম

* তেলের সরবরাহ সংকটে বাড়তি ভোগান্তি * টমেটো ২৫০, শিম ১৬০ টাকা কেজি * সরু চালে বেড়েছে ২-৩ টাকা * ডজন ডিম ১৬৫ টাকা পর্যন্ত
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ছুটির দিনে পরিবারের জন্য বাজার করতে এসে হিসাব মেলাতে হিমশিম অবস্থা ক্রেতাদের। চালের দাম বেড়েছে, সবজির বাজারে চড়া দাম, ডিম-মুরগি কিনতেও গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। এর সঙ্গে সয়াবিন তেলের সরবরাহসংকট যুক্ত হওয়ায় নিত্যপণ্য কিনতে গিয়ে বাড়তি ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। বাজারে গিয়ে পছন্দের পণ্য কেনার চেয়ে এখন কোনটি বাদ দেওয়া যায়, সেই হিসাবই বড় হয়ে উঠেছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, নিউমার্কেট ও লালবাগসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে নিত্যপণ্যের এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

চালের দামেও বাড়তি চাপ: খুচরা বাজারে ব্র্যান্ডভেদে প্রতি কেজি মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৫-৭৬ টাকায়। ডায়মন্ড, মঞ্জুর ও সাগর ব্র্যান্ডের মিনিকেটের দাম ৭৪-৭৫ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল প্রায় ৭২ টাকা। রশিদ ব্র্যান্ডের মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকায়, আগের তুলনায় ২ টাকা বেশি। মোজাম্মেল ব্র্যান্ডের মিনিকেটের দাম কেজিতে ৭৬ টাকা।

সরু চালের আরেক ধরন নাজিরশাইল মানভেদে ৭০-৯৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গত এক থেকে দেড় সপ্তাহে এ চালের দামও কেজিতে ২-৩ টাকা বেড়েছে। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যানুযায়ী, পাইজাম, ব্রি-২৮ ও ব্রি-২৯ চালের দাম কেজিতে ৫৮-৬৫ টাকা। এক সপ্তাহে এসব চালের দাম বেড়েছে প্রায় ৩ টাকা। তবে মোটা চালের দাম ৫০-৫৫ টাকার মধ্যে রয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ধানের দাম বৃদ্ধি, মিলপর্যায়ে চালের মূল্যবৃদ্ধি এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। কারওয়ান বাজারের একটি পাইকারি দোকানের ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলে মিলপর্যায়ে চালের দাম কিছুটা বেড়েছে। কোথাও কোথাও বস্তাপ্রতি দাম বেড়েছে ৫০ টাকা পর্যন্ত।’

পাইকারি বিক্রেতাদের ভাষ্য, ডিজেলের দাম বাড়ার পর দিনাজপুর থেকে চাল আনতে ট্রাকপ্রতি প্রায় তিন হাজার টাকা এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আনতে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। অন্যান্য খরচও বেড়েছে। ফলে কেজিতে ৫০ পয়সা থেকে ১ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

কারওয়ান বাজারে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী হাসিবুল হাসান বলেন, ‘সেপ্টেম্বরের শুরুতে আটাশ চাল ৬০ টাকা কেজি দরে কিনেছিলেন। মাসের শেষ দিকে দাম ছিল ৬২ টাকা। এখন কিনতে হচ্ছে ৬৪ টাকায়। দোকানিরা পরিবহন ব্যয় ও মোকামে চালের দাম বৃদ্ধির কথা বলছেন।’

সবজির বাজারে টমেটো ২৫০, শিম ১৬০ টাকা: সবজির বাজারে ক্রেতাদের সবচেয়ে বেশি ভোগাচ্ছে টমেটো, শিম ও বেগুনের দাম। বাজারভেদে টমেটো বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২০০-২৫০ টাকায়। শিমের দাম ১৪০-১৬০ টাকা এবং বেগুনের দাম ১৫০ টাকা পর্যন্ত। আগাম শীতকালীন সবজি বাজারে এলেও উচ্চমূল্যের কারণে তা কিনতে বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে।

ফুলকপি প্রতি পিস ৭০ টাকা এবং মুলা কেজিপ্রতি ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বরবটি, ঝিঙা ও করলার দাম কেজিতে প্রায় ৮০ টাকা। লম্বা বেগুনের কেজি ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা এবং ঢ্যাঁড়স, পটল, কাঁকরোলসহ বিভিন্ন সবজি বিক্রি হচ্ছে ৭০-১২০ টাকায়। লাউ প্রতি পিস ৪০-৬০ টাকা ও কচুর মুখি ৮০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।

তুলনামূলক কম দামে মিলছে পেঁপে, কেজি ৩০ টাকা। সাধারণ শসার দাম ৫০-৬০ টাকা হলেও দেশি শসা কিনতে গুনতে হচ্ছে ৮০-১০০ টাকা। কয়েক সপ্তাহ আগে কেজিপ্রতি ২০০ টাকা পর্যন্ত ওঠা কাঁচামরিচের দাম কিছুটা কমেছে। সরবরাহ বাড়ায় এখন মানভেদে ১২০-১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজার করতে আসা আবু দাউদ বলেন, ‘দুটি ফুলকপি কিনেছি ১৪০ টাকায়। একটি লাউয়ের দাম পড়েছে ৫০ টাকা। এক পোয়া কাঁচামরিচ ৪০ টাকায়।’ তার ভাষায়, কয়েকটি সবজি কিনতেই অনেক টাকা চলে যাচ্ছে। বাজারে এসে কোনটি কিনবেন আর কোনটি বাদ দেবেন, সেই হিসাব করতে হচ্ছে।

ডিমের দামে ভিন্নতা, মুরগিও সস্তা নয়: ডিমের বাজারে একেক জায়গায় একেক দাম দেখা গেছে। কোনো বাজারে ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন ১৪০ টাকা, আবার অন্য বাজারে তা ১৫৫-১৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাড়া-মহল্লার দোকানে চারটি ডিম কিনতে ৫০-৫৫ টাকা লাগছে। ফলে বাজারভেদে একই পণ্য কিনতে ক্রেতাদের বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

মুরগির বাজারে ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৮০-২০০ টাকায়। সোনালি মুরগির দাম ৩১০-৩৪০ টাকা এবং দেশি মুরগির দাম প্রায় ৬০০ টাকা। বিক্রেতারা বলছেন, ব্রয়লার মুরগির দাম কয়েক সপ্তাহ ধরে ১৮০-২০০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে। এক সপ্তাহে দাম ১০ টাকা কমলেও পরের সপ্তাহে আবার বাড়ছে।

গরুর মাংসের দামেও স্বস্তি নেই। রাজধানীর বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়।

মাছের বাজারেও বাড়তি খরচ: মাছ কিনতে গিয়েও ক্রেতাদের বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। তেলাপিয়া বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২৫০-২৬০ টাকা, পাঙাশ ২২০-২৩০ টাকা এবং রুই-কাতলা ৩৮০-৪২০ টাকায়। মাঝারি আকারের রুই ৩০০-৩৫০ টাকা ও বড় রুই ৪৫০-৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাবদার দাম ৩৫০-৪০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা, মৃগেল ২৫০-৩০০ টাকা এবং চাষের কই ৩০০ টাকা।

আকার ও মানভেদে চিংড়ির দাম কেজিপ্রতি ১ হাজার ৩০০ টাকা। ট্যাংরা বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকা, ভেটকি ৪০০-৫৫০ টাকা, বাইম ৬০০-৮০০ টাকা এবং দেশি কই ৭০০-৮০০ টাকা কেজি দরে। চাষের শিং মাছের দাম ৩০০-৪৫০ টাকা। বোয়াল, শোল, রূপচাঁদা ও নদীর বেলে মাছের দামও আকার ও মানভেদে কেজিপ্রতি হাজার টাকা ছাড়াতে পারে।

কারওয়ান বাজারের মাছ বিক্রেতা রমিজ উদ্দিন বলেন, ‘শুক্রবার (৯ অক্টোবর) মাছের চাহিদা বেশি থাকায় কিছু মাছের দাম বাড়ে। সরবরাহের ওপর নির্ভর করে একই দিনেও দামের পরিবর্তন হতে পারে। বাজারভেদে কেজিপ্রতি ১০-২০ টাকার পার্থক্যও দেখা যায়।’

তেলের সরবরাহ সংকটে বাড়তি ভোগান্তি: নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের সঙ্গে সয়াবিন তেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় ক্রেতাদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে। দাম বাড়ানোর পরও বাজারে প্রয়োজনমতো তেল না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ফলে একদিকে বাড়তি দাম, অন্যদিকে পণ্য সংগ্রহের অনিশ্চয়তা—দুই দিক থেকেই চাপে পড়ছেন ক্রেতারা।

চাল, সবজি, ডিম, মাছ, মুরগি ও তেলের বাজারের চিত্র বলছে, সংসারের দৈনন্দিন ব্যয় সামলানো ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। বিশেষ করে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোকে খাবারের তালিকা ছোট করা কিংবা প্রয়োজনীয় পণ্য কেনার পরিমাণ কমানোর কথা ভাবতে হচ্ছে। ছুটির দিনের বাজারেও তাই স্বস্তির বদলে বাড়তি খরচের দুশ্চিন্তাই সঙ্গী হচ্ছে ক্রেতাদের।


নির্বাচিত

শরৎকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশে নানা আয়োজন

শিশু-কিশোরদের পরিবেশনা, শিল্পীদের গান আর শরৎকে ঘিরে নানা আয়োজন। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শরৎকে কেবল প্রকৃতির ঋতু হিসেবে নয়, মানুষের মিলন ও আনন্দের উপলক্ষ হিসেবেও দেখতে চায় সাংস্কৃতিক সংগঠন সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী। সুর, নৃত্য, আবৃত্তি আর রঙের আঁচড়ে সেই ভাবনারই প্রকাশ ঘটল সংগঠনটির ‘শরৎ উৎসব-১৪৩৩’-এ। শিশু-কিশোরদের পরিবেশনা, শিল্পীদের গান আর শরৎকে ঘিরে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পুরান ঢাকার সীমান্ত গ্রন্থাগার প্রাঙ্গণের সাহারা মঞ্চে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। সেখানে শৈশবের সাংস্কৃতিক আয়োজনের স্মৃতিচারণের পাশাপাশি উৎসবের মধ্য দিয়ে মানুষে মানুষে সংযোগ বাড়ানোর তাগিদ দেন অভিনেতা মামুনুর রশীদ।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টায় সরোদ বাদনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় উৎসব। যন্ত্রসংগীতশিল্পী শামীম জহিরের পরিবেশনার পর মঞ্চে আসে শিশুদের নানা পরিবেশনা। একক ও দলীয় সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি এবং আলোচনা পর্বে সাজানো ছিল দিনব্যাপী আয়োজন। উদ্বোধনী পর্ব শেষে শুরু হয় শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। ‘শরৎ ঋতু’ বিষয়ক এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় ১০০ শিশু-কিশোর। বিভিন্ন বিভাগে বিজয়ী ১২ জনকে দেওয়া হয় পুরস্কার।

উৎসবে স্বাগত বক্তব্য ও ঘোষণাপত্র পাঠ করেন সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী সুইট। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সহসভাপতি, লেখক, গবেষক ও নৃত্যশিল্পী অধ্যাপক নিগার চৌধুরী। আরও উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবক মোরশেদ আহমেদ চৌধুরী এবং স্থানীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিউর রহমান দুলু।

উৎসবের গানে গানে উঠে আসে ঋতুর আবহ ও সাংস্কৃতিক চর্চার বৈচিত্র্য। একক সংগীত পরিবেশন করেন মহাদেব ঘোষ, অনিমা রায়, ফেরদৌসী কাকলি, রত্না সরকার, মাহমুদুল হাসান, সঞ্জয় কবিরাজ, নবনীতা জাহিদ চৌধুরী অনন্যা, শ্রাবণী গুহ রায়, তামান্না নিগার তুলি, এস এম মেজবা ও শান্তা সরকার। একক আবৃত্তি পরিবেশন করেন নাইলা তারান্নুম চৌধুরী কাকলি ও বেলায়েত হোসেন।

দলীয় পরিবেশনায় অংশ নেয় শিশু-কিশোর সংগঠন সীমান্ত খেলাঘর আসর, গেণ্ডারিয়া কিশলয় কচি-কাঁচা মেলা, সুরবিহার ও শিল্পবৃত্ত। নৃত্য পরিবেশন করে নৃত্যফ, স্পন্দন, স্বপ্ন বিকাশ কলা কেন্দ্র ও অংশী। এ ছাড়া সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী, নির্ঝরিণী একাডেমি ও সুরনন্দনের শিল্পীরা দলীয় সংগীত পরিবেশন করেন।

‘শরৎ কথন’ পর্বে আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন অভিনেতা মামুনুর রশীদ। তার কথায় উঠে আসে শৈশবের সাংস্কৃতিক উৎসবের স্মৃতি এবং সমসাময়িক সময়ে মানুষের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হওয়ার আক্ষেপ। তিনি বলেন, ‘একসময় এ ধরনের উৎসবে সবাই একসঙ্গে মিলিত হতেন। সেই মিলনের আনন্দ ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক চর্চা থেকে মানুষ ক্রমেই দূরে সরে যাচ্ছে, যা অনভিপ্রেত।’

মামুনুর রশীদের মতে, উৎসব-অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষকে একত্র করা এবং সবার মনের কথা প্রকাশের সুযোগ তৈরি করা। আয়োজনের মধ্য দিয়ে যদি ঐক্যের সুর প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে একজন মানুষ সবার হয়ে উঠতে পারেন। অন্যথায় উৎসব মানুষকে এক করার বদলে বিভাজনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই ভিন্নতা ও বিভেদকে প্রাধান্য না দিয়ে একই চেতনা থেকে সম্মিলিতভাবে সাংস্কৃতিক আয়োজন করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

শিশু-কিশোরদের পরিবেশনায় মুগ্ধতার কথাও জানান এই অভিনেতা। তাদের গান, নাচ ও উপস্থাপনার মধ্যে তিনি খুঁজে পান নিজের শৈশবের সাংস্কৃতিক পরিবেশের স্মৃতি। তার অনুভূতিতে, উৎসবের আয়োজনে যেন এক টুকরো শরৎ এসে ধরা দিয়েছে।


নির্বাচিত

banner close