শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

সাভারে তেলের ট্যাংকার উল্টে অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু বেড়ে ৪

ইউএনবি
প্রকাশিত
ইউএনবি
প্রকাশিত : ৩ এপ্রিল, ২০২৪ ১৫:২০

সাভারের হেমায়েতপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে মঙ্গলবার সকালে তেলের ট্যাংকার উল্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪ জনে দাঁড়িয়েছে।

নিহতরা হলেন- বরগুনা জেলার আবেদ আলীর ছেলে ট্রাক চালকের সহকারী মো. সাকিব (১৫) ও ট্রাক চালক হেলাল হাওলাদার (১৫)।

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন তরিকুল ইসলাম জানান, শতভাগ দগ্ধ অবস্থায় সাকিব হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। রাত ১টা ২০ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

সাকিবের বড় ভাই মো. নাঈম জানান, সাকিব ৪ মাস আগে কাজ শুরু করেন।

তিনি আরও বলেন, ‘যতটুকু জেনেছি, তাদের ট্রাকে করে তরমুজ নিয়ে গাজীপুর কাঁচামালের আড়তে যাচ্ছিল। সংবাদ পাই সে আগুনে দগ্ধ হয়ে বার্ণ ইনস্টিটিউটে ভর্তি রয়েছে। পরে হাসপাতালে এসে দেখি তার গোটা শরীর পুড়ে গেছে।’

এদিকে শতভাগ দগ্ধ ট্রাক চালক হেলাল হাওলাদার (৩০) মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাসপাতালে মারা যান।

এর আগে মঙ্গলবার সকালে সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে তেলের ট্যাংকার উল্টে অগ্নিকাণ্ডে ট্রাকের হেলপার ইকবাল দগ্ধ হয়ে মারা যান। এ ঘটনায় আরও ৯ জন আহত হন।

আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে একটি প্রাইভেটকার, একটি সিমেন্টবোঝাই ট্রাক, একটি তরমুজবাহী ট্রাক ও একটি লরিতে।

আহত মিলন মোল্লা (২২), আল-আমিন (৩৫), নিরঞ্জন (৪৫), হেলাল (৩০), আবদুস সালাম (৩৫), সাকিব (১৫), মো. আল আমিন (২২), নজরুল ইসলাম (৪৫) ও মিমকে (১০) শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট নেওয়া হয়।

আহতদের মধ্যে নজরুল ইসলামকে হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি মারা যান।


নির্বাচিত

জুলাই শহীদ পরিবারের পাশে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আজাদ

* চাকরির ব্যবস্থা করলেন দুইজনের
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়) সংবাদদাতা

পঞ্চগড়-২ (বোদা-দেবীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের সুপারিশে জুলাই শহীদ পরিবারের আরও দুই সদস্য অফিস সহায়ক পদে চাকরি পেয়েছেন। একই সঙ্গে সরকারি সম্মানী (বেতন) থেকে জেলার ছয়টি জুলাই যোদ্ধা পরিবারের মধ্যে চারটি পরিবারকে প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছেন তিনি।

জানা গেছে, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সংসদ সদস্যের পরিদর্শন কক্ষে অফিস সহায়ক নিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হলে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যদের অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা দেন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তারই সুপারিশে বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলার সংসদ সদস্যের পরিদর্শন কক্ষে অফিস সহায়ক পদে জুলাই শহীদ পরিবারের দুই সদস্যকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আত্মত্যাগী পরিবারগুলোর প্রতি সম্মান জানানো এবং তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

ইতোমধ্যে বোদা উপজেলা পরিষদে সংসদ সদস্যের পরিদর্শন কক্ষে অফিস সহায়ক হিসেবে সাকোয়া ইউনিয়নের জুলাই শহীদ সুমনের বোন যোগদান করেছেন।

অন্যদিকে দেবীগঞ্জ উপজেলার সংসদ সদস্যের পরিদর্শন কক্ষে অফিস সহায়ক হিসেবে মারেয়া ইউনিয়নের জুলাই শহীদ আবু সাইদের ছেলে মামুন ইসলাম যোগদান করেছেন।

দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজীৎ শাহ বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপির নির্দেশনা ও সুপারিশে মারেয়া ইউনিয়নের জুলাই শহীদ আবু সাইদের ছেলে মামুন ইসলামকে অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’

এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থানে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত আর্থিক সহায়তা প্রদান করে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ একটি মানবিক উদ্যোগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, ‘আমরা ৭১ কে যেমন ধারণ করি, ঠিক তেমন ২৪ কেও ধারণ করি। অতএব সেই জায়গা থেকে আমি শপথ গ্রহণের পর সরকারিভাবে যা সম্মানী (বেতন) পাই তা থেকে জেলার ৬টি জুলাইযোদ্ধা পরিবারের মধ্যে ৪টা পরিবারকে প্রতি মাসে ৫ হাজার করে টাকা দেই এবং দুই পরিবারের দুই সদস্যকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অফিস সহায়ক পদে চাকরি দেয়ার নির্দেশনাও দিয়েছি।


নির্বাচিত

তিস্তা নদীর পানি বাড়ায় ডিমলায় বন্যা, খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে মানুষ

* পাঁচ শতাধিক পরিবার পানিবন্দির খবর জানেন না চেয়ারম্যান!
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি

উজানের ঢলে ও টানা বর্ষণে নীলফামারীর ডিমলায় দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে ওঠা-নামা করছে তিস্তা নদীর পানি। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেল ৩টায় এই পয়েন্টে পানির সমতল রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ০। যা বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচে। একইদিনের সকাল ৯টায় এই পয়েন্টে পানি ছিল বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার(৫১ দশমিক ৯৪) নিচে।

এর আগে বুধবার (২২ জুলাই) ভোর ৬ টায় এই পয়েন্টে বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার (৫২ দশমিক ১৪) নিচ দিয়ে পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করে প্রবাহিত হয়ে সকাল ৯টা পর্যন্ত তা অপরিবর্তিত থাকে। পরে দুপুর ১২টায় ৭ সেন্টিমিটার কমে এই পয়েন্টে ৭ সেন্টিমিটার(৫২ দশমিক ৮), সন্ধ্যা ৬টায় ১৭ সেন্টিমিটার(৫১ দশমিক ৯৮), রাত ৯টায় ২১ সেন্টিমিটার (৫১ দশমিক ৯৪) নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। এতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন নদী বেস্টিত এলাকার কয়েক শতাধিক পরিবার। পানির প্রবাহ ঠিক রাখতে ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।

উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের ছাতুনামা (কেল্লাপাড়া), ভেন্ডাবাড়ি এলাকায় পাঁচ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়লেও ইউনিয়নটির চেয়ারম্যান কিছুই জানেন না! তিনি এই প্রতিবেদককে তার ইউনিয়নে একটি পরিবারও পানিবন্দি নেই দাবি করলেও পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগে থাকা পরিবারগুলো বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের ভাষ্যমতে এলাকায় নদীর পানি প্রবেশ করে ঘরের মেঝে পর্যন্ত পানি উঠেছে। অনেকেই ঘর-বাড়ি ভেঙ্গে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।হুমকিতে রয়েছে আশ্রয়ন প্রকল্পসহ আরও দুই শতাধিক পরিবার। ভাঙনের কবলে পড়েছেন মসজিদ, মাদ্রাসা, ফসলি জমিসহ অর্ধশতাধিক পরিবার।

রাস্তা তলিয়ে গেছে পানিতে বন্যার পানিতে।

এতে করে পানিবন্দি হওয়া মানুষের খাবার, গবাদি পশুর খাবার, বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারি ব্যবস্থার মারাত্মক সংকট দেখা দিয়েছে।

ছাতুনামা (কেল্লা পাড়া) এলাকার বাসিন্দা হবিবর রহমান বলেন, এই এলাকার ৫ থেকে ৭ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছি।

ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান একবারও খোঁজ নিতে আসেননি। আর আমাদের চেয়ারম্যানতো জমিদার। তিনি ওইভাবে কোনো কিছু বলেননা ও কারো কাছে ছোট হন না। ঘরে পর্যন্ত পানি উঠেছে আমাদের। আশ্রয়ন কেন্দ্রসহ এখনো দুই শতাধিক পরিবার ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছেন। প্রতিটি মুহূর্ত আতঙ্কে কাটছে আমাদের।

অপর এক বাসিন্দা শুকুর আলী বলেন, ৫ থেকে ৭ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে রয়েছি। আমার ঘরেও পানি উঠেছিল তবে এখন ঘরে পানি নেই উঠানে নেমে গেছে। রাস্তাগুলো তলিয়ে গেছে একটি মসজিদ, একটি মাদ্রাসা ভেঙ্গে গেছে। চেয়ারম্যান খোঁজ নেয়নি বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। তবে নীলফামারী-১(ডোমার-ডিমলা) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার ও ইউনিয়নটির সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।

ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওযার্ডের ইউপি সদস্য লাভলু ইসলাম বলেন, প্রায় ৭ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে আছি। আমার ঘর থেকে পানি নেমে এখন উঠানে। অর্ধশতাধিক পরিবার বাড়ি-ঘর ভেঙ্গে বিভিন্ন উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। বন্যার পানির কারণে একটি মসজিদ, একটি মাদ্রাসাসহ প্রায় শতাধিক পরিবারের ঘর-বাড়ি ভেঙ্গেছে। আমাদের নিজের খাবার, গবাদি পশুর খাবার, বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্য সম্মত স্যানিটারি ব্যবস্থার মারাত্মক সঙ্কট দেখা দিয়েছে।এমপি ছাড়া কেউ খোঁজ-খবর নেননি আমাদের। এমনকি ইউপি চেয়ারম্যান দেখতে আসেননি। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছু লোক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভাঙনরোধে ৩ শতাধিক জিও ব্যাগ ফেলানোর কথা বললেও সেই কাজের শুরু এখনো চোখে পড়েনি।

ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান একরামুল হক বুধবার রাতে বলেন, আমার এলাকায় কোনো পরিবার পানিবন্দী নেই!পরে তাকে ছবি ও ভিডিও রযেছে জানালে তিনি বলেন, আমি সকালে বন্যার ত্রাণের চালের জন্য ডিমলা গিয়েছিলাম। এ পর্যন্ত বন্যা কবলিত মানুষদের জন্য ১৩ মেট্রিকটন চাল ও বিশটি শুকনো খাবারের প্যাকেজ পেয়েছি। প্যাকেজগুলো বিতরণ করেছি গতকাল!

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরি বলেন, পানি বাড়ার খবর আগাম পেয়ে জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যকর্মীসহ নদী বেস্টিত এলাকার মানুষের আগাম অবগত করা হয়েছিল। গত বুধবার ভোর থেকে পানি বাড়লেও ধীরে ধীরে পানি কমে রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টা পর্যন্ত ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। পরে বিকেল ৩টায় পানি আবারও বেড়ে এই পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার (৫২.০) নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।


নির্বাচিত

হরি নদীর নাব্য সংকটে ডোমরা বিল, পানিবন্দির শঙ্কায় কয়েকটি গ্রাম

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার খর্নিয়া ইউনিয়নের সর্ববৃহৎ ডোমরা বিলে চরম জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি নিষ্কাশিত হতে না পেরে স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে বিলসহ সংলগ্ন বিস্তৃত এলাকা তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রাত কাটাচ্ছেন স্থানীয় কৃষক ও মৎস্য চাষিরা।

ডুমুরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি ও মৎস্য সম্পদের বড় একটি অংশ নির্ভর করে ডোমরা বিলের ওপর। প্রতি বছর পলি জমে হরি নদীর নাব্য হ্রাস পাওয়া এবং সাময়িক খননের পর তা টেকসই না হওয়া এখানকার দীর্ঘদিনের সমস্যা।

সূত্রে জানা গেছে, হরি ভদ্র নদী সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে খনন করা হলেও খর্নিয়া থেকে পরবর্তী ৫-৬ কিলোমিটার অংশ পুনরায় পলিতে ভরাট হয়ে গেছে। ড্রেজার দিয়ে পলি তোলার কথা থাকলেও এক দেড় ঘণ্টা কাজ করে বাকি সময় বন্ধ থাকছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নদীর নাব্য কমে যাওয়ায় বিলে জমে থাকা পানি স্বাভাবিক গতিতে নামতে পারছে না।

বিল পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল হালিম সরদার জানান, হরি ভদ্র নদীর কয়েক কিলোমিটার পলি পড়ে ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে বিলের পানি নামতে পারছে না। দ্রুত কোনো ব্যবস্থা না নিলে খর্নিয়া, আঙ্গারদোহার, টিপনা, পাচপোতা ,পাচুড়িয়া,ভদ্রদিয়া, বাহাদুর পুর, বালিয়া খালী, বামন্দিয়া ও গোনালীসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়বে। একই সাথে শত শত মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে গিয়ে অপূরণীয় ক্ষতি হবে।

বিলের পানি সময়মতো না সরলে কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়বেন চাষিরা।

চিংড়িচাষি নজরুল ইসলাম ও ঘের মালিক আব্দুল হালিম জানান, বৃষ্টির পানি যেভাবে বিলে জমে আছে, তাতে ঘেরের পাড় ভেসে যাওয়া এখন সময়ের ব্যাপার। ঘের তলিয়ে গেলে আমাদের পুঁজি তো যাবেই, বিশাল ঋণের মুখে পড়তে হবে।

ইউপি সদস্য মোল্লা আবুল কাশেম ও বিল কমিটির সাধারণ সম্পাদক শেখ রবিউল ইসলাম জানান, এটি শুধু একক কোনো গ্রামের সমস্যা নয়; পুরো ইউনিয়নের কৃষি ও মৎস্য অর্থনীতি এর সাথে জড়িত। পলি অপসারণ করে হরি ভদ্র নদীর প্রবাহ সচল করা না গেলে আসন্ন মৌসুমে চাষাবাদ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে।

খর্নিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. মোসলেম আলী বলেন, ‘জলাবদ্ধতার বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছি। দ্রুততম সময়ে স্থানীয়দের স্বস্তি দিতে তাৎক্ষণিক কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, সে বিষয়ে আলোচনা চলছে।’

ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ সবিতা সরকার বলেন, ‘ডোমরা বিলের জলাবদ্ধতা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্বেগের বিষয়টি আমরা জেনেছি। পানি নিষ্কাশনের পথ সুগম করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সাথে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল কুমার সেন বলেন, ‘হরি নদীর যে অংশটিতে পলি জমে ভরাট হয়েছে, তা সরেজমিনে পরিদর্শন করে দ্রুত পলি অপসারণ ও নদী পুনঃখননের বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যাতে বিলের পানি দ্রুত নিষ্কাশিত হতে পারে।’


নির্বাচিত

৬০ বছরের চাকরি শেষ, মসজিদের খতিবকে বিদায় সংবর্ধনা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি 

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার গোপালনগর সিএন্ডবি বাজার বাইতুল সালাত জামে মসজিদের দীর্ঘ ৬০ বছরের খতিব মাওলানা মো. শামসুল হককে বিদায় সংবর্ধনা প্রদান করেছে মসজিদ কমিটি। শুক্রবার (২৪ জুলাই) জুমার নামাজ শেষে মসজিদ প্রাঙ্গণে মসজিদ কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তার দীর্ঘদিনের দ্বীনি খেদমতের স্বীকৃতিস্বরূপ একটি সম্মাননা ক্রেস্ট ও নগদ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ৩ নম্বর রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান সরকার, ৩ নম্বর রসুলপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. হানিফ ভূঁইয়া, কামাল ব্রিকসের স্বত্বাধিকারী হাজী কামাল উদ্দিন, বায়তুল্লাহ ইলেক্ট্রনিক্সের স্বত্বাধিকারী এম. এ. ইউনুস মিয়া বাবুল, ৩ নম্বর রসুলপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি কাজী হাসান আহমাদ, স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. বদিউল আলম বাদল, মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি আবুল বাশারসহ বাজারের ব্যবসায়ী, মুসল্লি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

বিদায়ী বক্তব্যে মাওলানা মো. শামসুল হক বলেন, ‘মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে তিনি টানা ৬০ বছর এই মসজিদে খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সুযোগ পেয়েছেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি এলাকার মানুষ ও মসজিদের মুসল্লিদের জন্য দোয়া করে যাবেন।’ বিদায় সংবর্ধনার এমন আন্তরিক আয়োজন তাকে আবেগাপ্লুত করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন এবং মসজিদ কমিটি, মুসল্লি ও এলাকাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি আবুল বাশার বলেন, ‘মাওলানা শামসুল হকের ছয় দশকের দ্বীনি খেদমত এই মসজিদ ও এলাকার জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তিনি শুধু একজন খতিব নন, বরং এলাকার ধর্মীয় ও নৈতিক পথপ্রদর্শক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার অবদান এলাকাবাসী শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।’

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে দেশ, জাতি ও এলাকার সার্বিক কল্যাণ এবং মাওলানা মো. শামসুল হকের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মুফতি হোসাইন আহমাদ।


নির্বাচিত

তিস্তা ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ইউএনওর ত্রাণ বিতরণ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের তিস্তা নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার। গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে তিনি পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং তাদের হাতে সরকারি ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন। একই সঙ্গে নদীভাঙনের ভয়াবহতা তুলে ধরে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নোহালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের চর নোহালী কাচারীপাড়া এলাকায় তিস্তার ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। নদীর পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও পানি কমতে শুরু করার পর থেকেই ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। গত কয়েক দিনে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে অন্তত ৮টি বসতবাড়ি এবং শত বিঘা আবাদি জমি। অনেক পরিবার শেষ সম্বলটুকু রক্ষায় ঘরবাড়ি খুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত আলহাজ মোত্তালিব বলেন, চোখের সামনে আমার বসতবাড়ি নদীতে চলে গেল। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকব জানি না। সরকারের কাছে স্থায়ী সমাধান চাই। সুরুজ মিয়া বলেন, ত্রাণ পেয়েছি, কিন্তু ভাঙন বন্ধ না হলে আমাদের বাঁচার কোনো উপায় থাকবে না। আনোয়ার হোসেন বলেন, ঘরবাড়ি, জমিজমা সব নদীতে চলে গেছে। এখন আমরা মানবেতর জীবন কাটাচ্ছি।

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তারের পাঠানো প্রতিবেদনের ভিত্তিতে রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন ২৩ জুলাই বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে জরুরি চিঠি পাঠিয়েছেন। ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, নোহালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের চর নোহালী কাচারীপাড়ায় ২২টি এবং ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে আরও ১৪টি পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এছাড়া চর বাগডহরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভাঙনরত নদীতীর থেকে মাত্র ১০০ মিটার দূরে রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বিদ্যালয়টিও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


নির্বাচিত

তেলের সংকটের গুজবে সাতক্ষীরার পেট্রোল পাম্পে উপচেপড়া ভিড়

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আবু সাঈদ, সাতক্ষীরা

জ্বালানি তেলের সংকটের গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর সাতক্ষীরার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দিনভর মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন তথ্যের প্রভাবে অনেকেই প্রয়োজনের আগেই জ্বালানি সংগ্রহে পাম্পে ছুটে আসেন। এতে জেলার বেশির ভাগ পাম্পে অস্বাভাবিক ভিড় সৃষ্টি হয়।

শহরের বাইপাস, পুরাতন সাতক্ষীরা, খুলনা রোডসহ বিভিন্ন এলাকার পেট্রোল পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি ও অটোরিকশার চালকেরা দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি নিচ্ছেন। অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেন, পরবর্তী সময়ে তেল পাওয়া না–ও যেতে পারে। তবে এমন আশঙ্কার পক্ষে কোনো সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি।

পরিস্থিতি বিবেচনায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিস মাঠে নামে। জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে শহরের বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে জানানো হয়, যমুনা, পদ্মা ও মেঘনা পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। জেলার সব পেট্রোল পাম্পে স্বাভাবিক নিয়মে সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। সাতক্ষীরা

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের প্রতি গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, অপ্রয়োজনীয়ভাবে জ্বালানি কিনতে গিয়ে পাম্পে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে স্বাভাবিক প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি সংগ্রহ করতে।

প্রশাসনের এই বার্তার পর বিকেলের দিকে কয়েকটি পাম্পে চাপ কিছুটা কমতে শুরু করলেও অনেক স্থানে এখনও ভিড় লক্ষ্য করা যায়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সঠিক তথ্য দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছালে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। উল্লেখ্য গুজবে কান না দেওয়ার জন্য গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ এর পক্ষ থেকে সাতক্ষীরার গণমাধ্যমকর্মীদের নিকট একটি প্রেস রিলিজ প্রেরণ করেন।


নির্বাচিত

বোয়ালখালীতে লোকালয়ে হাতির অবাধ বিচরণে বাড়ছে আতঙ্ক

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

রাত যত গভীর হয়, ততই বাড়ে আহমদুল হকের উৎকণ্ঠা। বয়স সত্তর ছুঁইছুঁই। অন্য সময় এ বয়সে মানুষ বিশ্রাম খোঁজেন, কিন্তু তিনি রাতভর জেগে থাকেন পাহারায়। ঘুম নয়, হাতে থাকে টর্চলাইট। কান খোলা, চোখ খোলা। কারণ, যে কোনো মুহূর্তে পাহাড় থেকে নেমে আসতে পারে বন্য হাতির পাল।

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নের মহৎবাড়ী এলাকার এই কৃষকের প্রায় এক লাখ টাকার শুকনা ধান রাখা আছে ঘরের সামনের উঠানে গোলাভরা ধান। সেই ধান রক্ষা করতেই প্রতিটি রাত কাটে উদ্বেগে।

ভোরের আলো ফোটার পরও স্বস্তি মেলে না। আহমদুল হক বলেন, ‘আজ ভোরেও আমার ঘরের সামনে দিয়ে হাতি চলে গেছে। প্রায় প্রতিদিনই নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে।

শুধু আহমদুল হক নন, গত দুই মাস ধরে একই আতঙ্কে দিন কাটছে ফতেরখীল, জৈষ্ঠ্যপুরা ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের। সন্ধ্যা নামলেই গ্রামজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে অজানা ভয়। আর ভোর হলে শোনা যায় নতুন কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর।

স্থানীয়দের ভাষ্য, এই সময়ের মধ্যে হাতির তাণ্ডবে অন্তত ৪৮০ শতক জমির ধানের বীজতলা নষ্ট হয়েছে। বহু কৃষকের বছরের পরিশ্রম মুহূর্তেই মাটিতে মিশে গেছে।

পল্লী চিকিৎসক লিটন বড়ুয়ার ধানের গোলা উল্টে দিয়ে ধান খেয়ে ও নষ্ট করেছে হাতির পাল। একইভাবে আরও অনেক কৃষকের ক্ষেত, ফসল ও সম্পদের ক্ষতি হয়েছে।

জৈষ্ঠ্যপুরা এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, সম্প্রতি গভীর রাতে হাতির দল তার বসতবাড়ির সীমানা প্রাচীর ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে। একই এলাকার জুনু মিয়ার ৪০ শতকের আখক্ষেত তছনছ করে দেয়।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের পটিয়া রেঞ্জের বন কর্মকর্তা এমদাদুল হক বলেন, বোয়ালখালী এলাকায় জনবল ও সক্ষমতা সীমিত। কর্মকর্তা কম থাকায় সব জায়গায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো কঠিন হচ্ছে। তবে নিয়মিত বন্য হাতি তাড়ানোর কাজ করা হচ্ছে। জৈষ্ঠ্যপুরা ও আশপাশের এলাকা হাতির স্বাভাবিক বিচরণভূমি হওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সোহেল রানা বলেন, লোকালয়ে হাতি প্রবেশের বিষয়টি তাদের জানা আছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এলিফ্যান্ট রেসকিউ টিম কাজ করবে। হাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা আবেদন করলে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।


নির্বাচিত

জলাবদ্ধতার কারণে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ৭ শিক্ষককে বদলি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে জলাবদ্ধতার কারণে সাত শিক্ষককে কক্সবাজার, সিলেট, বরগুনাসহ বিভিন্ন জেলায় বদলি করা হয়েছে। তারা সবাই ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্র ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাদেরকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ওএসডি করে। এরপর বিভিন্ন কলেজে বদলি করে সংযুক্ত করে। এক সঙ্গে এতো শিক্ষকের বদলি এই কলেজে আর হয়নি।

গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-২ শাখার উপসচিব আ. কুদদুস স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, আগামী ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে সাত শিক্ষককে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হতে হবে। কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ এ কে এম জহিরুল আলমকে চৌদ্দগ্রামের চিওড়া সরকারি কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে, গণিত বিভাগের অধ্যাপক আবদুল মালেককে কক্সবাজার সরকারি কলেজ, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কনক বড়ুয়াকে নোয়াখালীর হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজে, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ উল্লাহ মজুমদারকে লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ নূর উল্লাহকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর সরকারি কলেজ, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক আল-আমিনকে সিলেটের বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে ও ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসীনকে বরগুনা সরকারি কলেজে বদলি করা হয়।

এর মধ্যে উপাধ্যক্ষ এ কে এম জহিরুল আলম পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় ছিলেন না, তার ছেলে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। আবদুল মালেক কনিষ্ঠ অধ্যাপক, সিনিয়ররা দায়িত্ব না নেওয়ায় তাকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা করা হয়। কনক বড়ুয়া পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক। মোহাম্মদ মহসীন কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক।

গত শনিবার ১৮ জুলাই দুপুর দুইটায় কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী কলেজে যান। এই সময়ে তিনি কলেজে জলাবদ্ধতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তবে শিক্ষকদের দাবি, এই কলেজে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে পরীক্ষাকেন্দ্র আছে। সকালের বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা হয়। কিন্তু এই কেন্দ্রে কোনো পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল না। পরীক্ষা যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত ১৩ জুলাই সকালে অতিবৃষ্টির কারণে কলেজে জলাবদ্ধতা হয়। তখন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু ডিঙি নৌকা, ভ্যানগাড়ি এনে পরীক্ষার্থীদের বিবেক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে কলেজে পৌঁছান। কলেজের শিক্ষকরাও ছাত্রীদের এগিয়ে নেন কেন্দ্রে।


নির্বাচিত

হাসপাতালের সড়ক পার্কিংয়ে বাড়ছে চট্টগ্রাম নগরের যানজট

* সিডিএ চেয়ারম্যানের শেষ সতর্কবার্তা * পার্কিং নিশ্চিত না করলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা * নগরের বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন দলের অভিযান * রোগী-স্বজনের দুর্ভোগ কমাতে সমন্বিত উদ্যোগ
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রাম নগরের দীর্ঘদিনের অসহনীয় যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর অপর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থাকে চিহ্নিত করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। নগরের অধিকাংশ হাসপাতাল অনুমোদিত নকশা ও ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুসরণ না করে পার্কিং সুবিধা ছাড়াই বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর ফলে প্রতিদিন হাসপাতালগুলোর সামনে রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স, ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস, সিএনজি অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহন সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। এতে হাসপাতালসংলগ্ন সড়কগুলোতে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট, যার ভোগান্তি পোহাতে হয় হাজারো নগরবাসীকে।

এ পরিস্থিতির অবসানে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সিডিএ। সংস্থাটির চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, অবিলম্বে সব বেসরকারি হাসপাতালকে নিজস্ব স্থায়ী ও পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় কোনো ধরনের ছাড় না দিয়ে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি এটিকে হাসপাতালগুলোর প্রতি ‘শেষ সতর্কবার্তা’ বলেও উল্লেখ করেছেন। গত সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে নগরের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সিডিএর একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন দল নগরের রয়েল হাসপাতাল, মেডিকেল সেন্টার, সিএসসিআর হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল সরেজমিন পরিদর্শন করে। দলে উপস্থিত ছিলেন সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. সেলিম, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক মাহফুজুর রহমান, অথরাইজড অফিসার-১ কাজী কাদের নেওয়াজ এবং অথরাইজড অফিসার-২ মো. তানজীব হোসেন।

পরিদর্শনে হাসপাতালগুলোর পার্কিং ব্যবস্থা, যানবাহন চলাচল, রোগী ও স্বজনদের গাড়ি রাখার স্থান এবং সড়কের ওপর যানবাহন দখলের চিত্র নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। সিডিএর কর্মকর্তারা দেখতে পান, মেট্রোপলিটন হাসপাতালের পার্কিং ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে ভালো বলে অবহিত করা হয়েছে। অন্যদিকে সিএসসিআর হাসপাতাল, মেডিকেল সেন্টার ও রয়েল হাসপাতালের পার্কিং ব্যবস্থা অত্যন্ত অপ্রতুল। এসব হাসপাতালের সামনে নিয়মিত সড়কের ওপর গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনুমোদিত নকশা অনুসারে দ্রুত পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা গড়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়।

সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘নগরের প্রায় সব বেসরকারি হাসপাতালই সিডিএর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা লঙ্ঘন করে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অনেক হাসপাতাল অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী পার্কিং নির্মাণ না করেই রোগীসেবা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তারা নিজেরাও জানে কোন কোন আইন ভঙ্গ করেছে। এখন আর এসব অনিয়ম মেনে নেওয়ার সুযোগ নেই।’

তিনি বলেন, ‘আমি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে স্পষ্ট করে বলতে চাই, অবিলম্বে নিজস্ব উদ্যোগে পর্যাপ্ত ও স্থায়ী পার্কিং ব্যবস্থা গড়ে তুলুন। নামমাত্র বা আংশিক পার্কিং ব্যবস্থা করে দায় এড়ানোর চেষ্টা করবেন না। এটি আইওয়াশ ছাড়া কিছুই নয়। ভবিষ্যতে এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ আমরা হাসপাতালগুলোকে সতর্ক করেছি। এটিই তাদের প্রতি শেষ সতর্কবার্তা। পরবর্তী পরিদর্শনে হাসপাতালের আকার, রোগীর সংখ্যা ও প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা দৃশ্যমান না হলে কোনো অজুহাত শোনা হবে না। সরাসরি কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, ‘যানজট এখন শুধু একটি ট্রাফিক সমস্যা নয়; এটি নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবন, চিকিৎসাসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং অর্থনীতির ওপরও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। জরুরি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স পর্যন্ত হাসপাতালের সামনের যানজটে আটকে যাচ্ছে। অনেক রোগী সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে পারছেন না। এ ধরনের পরিস্থিতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

তিনি জানান, নগরের যানজট নিরসনে সিডিএ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম ওয়াসা, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) এবং অন্যান্য সেবা সংস্থা যৌথভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সব সংস্থা একসঙ্গে সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে যানজট কমাতে কাজ করবে।

বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘আমরা সবাই একমত হয়েছি যে, যেকোনো মূল্যে চট্টগ্রাম নগরের যানজট কমাতে হবে। নগরবাসীর দুর্ভোগ লাঘবের প্রশ্নে কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। নিয়মিত মনিটরিং চলবে। যারা আইন মানবে না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, চট্টগ্রামের বেশিরভাগ বেসরকারি হাসপাতাল ব্যস্ত সড়কের পাশে গড়ে উঠেছে। কিন্তু হাসপাতালগুলোর অনেকগুলোতেই রোগী ও দর্শনার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় পার্কিং ব্যবস্থা নেই। ফলে প্রতিদিন শত শত যানবাহন সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। বিশেষ করে পাঁচলাইশ, মেহেদীবাগ, জিইসি মোড়, প্রবর্তক মোড়, গোলপাহাড়, চকবাজার ও ওআর নিজাম রোড এলাকায় হাসপাতালকেন্দ্রিক যানজট এখন নিয়মিত চিত্রে পরিণত হয়েছে।


নির্বাচিত

সংযোগ সড়ক নেই কোটি টাকার ব্রিজে ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকোয় পারাপার

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফরিদপুর (পাবনা) প্রতিনিধি

পাবনার ফরিদপুর উপজেলায় প্রায় ১ কোটি ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি গার্ডার ব্রিজ দীর্ঘদিন ধরে কোনো কাজে আসছে না শুধু সংযোগ সড়ক না থাকায়। ব্রিজ নির্মাণ করা হলেও দুই পাশে এপ্রোচ সড়ক ও গার্ডওয়ালের কাজ শেষ হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে স্থানীয় হাজারো মানুষ প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হচ্ছেন।

উপজেলার বিএলবাড়ী ইউনিয়নের দেওভোগ-দহপাড়া গ্রামে দেখা যায়, ব্রিজটির পূর্ব পাশে দহপাড়া জামে মসজিদ এবং পশ্চিম পাশে দহপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও মুসল্লিসহ হাজারো মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন। তবে দৃষ্টিনন্দন এ ব্রিজটি দাঁড়িয়ে থাকলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় প্রতিদিনের দুর্ভোগ সঙ্গী করেই চলাচল করতে হচ্ছে তাদের।

জানা গেছে, স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় ১ কোটি ৬ লাখ ৩৮ হাজার ৯৫ টাকা ব্যয়ে ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। ২০২৩–২৪ অর্থবছরে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে ঠিকাদার কাজ শেষ করতে পারেননি। পরে সময় বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়সীমা দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত এপ্রোচ সড়কের কাজ সম্পূর্ণ হয়নি।

দহপাড়া গ্রামের আব্দুল মান্নান প্রামাণিক আক্ষেপ করে বলেন, ‘এক বছরের বেশি সময় ধরে ব্রিজটি এভাবে পড়ে আছে। কোনো সংযোগ সড়ক নেই। আমাদের বাঁশের সাঁকো দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হয়।

দহপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘প্রতিদিন কাদা ও ঝুঁকিপূর্ণ পথ পাড়ি দিয়ে মসজিদে আসতে হয়। বর্ষাকালে পা পিছলে পড়ে অনেকে আহত হন, কাপড় নষ্ট হয়। এত টাকা খরচ করে ব্রিজ বানিয়ে লাভটা কী হলো?’

দহপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান বলেন, বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার হতে তার খুব ভয় লাগে। অনেক সময় সাঁকো থেকে নিচে পড়ে বইখাতা ভিজে যায়, বাধ্য হয়ে তাকে বাড়ি ফিরে যেতে হয়।

শিক্ষক আব্দুল লতিফ বলেন, সরকারি অর্থ ব্যয়ে তৈরি হওয়া একটি স্থাপনা এভাবে অচল পড়ে থাকা সত্যি হতাশাজনক। তিনি দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণের জোর দাবি জানান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে বারবার উপজেলা প্রশাসন ও পিআইও কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলেও কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি।

তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি, কাজের বিলম্ব সাময়িক। ঠিকাদার তানভীর আহম্মেদ সাগর জানান, এলাকায় বালু সংকটের কারণে এতদিন কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছিল। আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে অবশিষ্ট কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।

ফরিদপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মানিকুজ্জামান বলেন, ‘ঠিকাদারকে সংযোগ সড়কের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য বারবার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। তিনি খুব শিগগিরই কাজ শেষ করার আশ্বাস দিয়েছেন।’

ফরিদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ইমামা বানীন বলেন, ‘ঠিকাদারকে এপ্রোচ সড়কসহ সব অসম্পূর্ণ কাজ দ্রুত শেষ করার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কাজ সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁর চূড়ান্ত বিল আটকে রাখা।


নির্বাচিত

কুমিল্লায় বাঙ্গরা উপজেলা প্রেস ক্লাবের কমিটি গঠন

* সভাপতি ইমরুল, সম্পাদক জাবেদ, সাংগঠনিক শিমুল
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

কুমিল্লার নবগঠিত বাঙ্গরা উপজেলার সাংবাদিকদের নিয়ে ‘বাঙ্গরা উপজেলা প্রেস ক্লাব’-এর নতুন কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে বাঙ্গরা উমালোচন উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত প্রেসক্লাবের এক সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে আগামী ২ বছরের জন্য ১৭ সদস্যবিশিষ্ট এ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

সভায় সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল সভাপতিত্ব করেন এবং অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন এম কে আই জাবেদ।

নবগঠিত ১৭ সদস্যের কমিটিতে সভাপতি পদে মো. জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল, সাধারণ সম্পাদক পদে এম কে আই জাবেদ এবং সাজ্জাদ হোসেন শিমুল সাংঠনিক সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

কমিটির অন্যান্য পদে দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন, সহ-সভাপতি: হাফেজ মোঃ নজরুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক: আবুল বাশার, কোষাধ্যক্ষ: মো. ওবায়দুল্লাহ, দপ্তর সম্পাদক: আলমগীর হোসেন, প্রচার সম্পাদক: সাইফুল সরকার, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক: মো. জুম্মান আলী, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক: সাইদুজ্জামান ভূঁইয়া, সমাজকল্যাণ সম্পাদক: মো. বিল্লাল হোসেন, ক্রীড়া সম্পাদক: আশিক মিয়া, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক: ফয়সাল আহমেদ। কার্যনির্বাহী সদস্য হলেন, আনোয়ার হোসেন, মো. সাখাওয়াত হোসেন, রনি আহমেদ এবং অলিউল্লাহ ভূঁইয়া।

এছাড়া কার্যনির্বাহী কমিটির পাশাপাশি প্রেস ক্লাবের সহযোগী সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন, আব্দুল আলীম, সুজন মুন্সী, রাশেদ মিয়া, শেখ এনামুল হক, ইকবাল হোসেন, শাওন ভূঁইয়া এবং মীর জাহিদ হাসান।
সাধারণ সভায় বক্তারা নতুন কমিটির সদস্যদের বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা চর্চার মাধ্যমে বাঙ্গরা উপজেলার উন্নয়ন ও স্থানীয় মানুষের অধিকার রক্ষায় বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।


নির্বাচিত

সরকার স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করেছে: ভূমিমন্ত্রী

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজশাহী প্রতিনিধি

ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, এমপি বলেছেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করেছে। স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারের পূর্ণ সহযোগিতা থাকবে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাজশাহী ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে ২২ থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী তিন থেকে আঠারো বছর বয়সী শিশু শিক্ষার্থীদের হৃদরোগ সনাক্তকরণ ও চিকিৎসা কার্যক্রমের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। চীনের ফুওয়াই ইউনান কার্ডিওভাসকুলার হাসপাতালের শিশু হৃদরোগ বিভাগ ও ঢাকা জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এর যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে রাজশাহী ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন।

চীনের সাথে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে ভূমিমন্ত্রী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শহীদ জিয়াউর রহমান চিনের সাথে বন্ধুত্বের সূচনা করেছিলেন এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের মাধ্যমে এই সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

অবকাঠামোগত উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে প্রধান অতিথি বলেন, কোর্ট-নাটোর রোড থেকে হার্ট ফাউন্ডেশনে আসার সংযোগ সড়কটি প্রশস্ত করার জন্য একটি বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। তিনি এ বিষয়ে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন ও আরডিএ-কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেন।

এসময় তিনি চীনের অত্যাধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে রাজশাহীতে বিশ্বমানের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রাজশাহী ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. আব্দুল মান্নান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চীনের ফুওয়াই ইউনান কার্ডিওভাসকুলার হসপিটালের ডেপুটি ডাইরেক্টর ইনচার্জ ও বিশেষজ্ঞ দলের টিম লিডার লু-জিয়াং, বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির, জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের বিভাগীয় প্রধান ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের আজীবন সদস্য প্রফেসর ডা. মো. আতাউল হক, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চীফ কনসালটেন্ট ও ডাইরেক্টর প্রফেসর ডা. মো. রইছ উদ্দিন, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের সহসভাপতি মো. হাসেন আলী ও মো. মাকসুদুল করিম সম্রাট। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চিকিৎসক, সমাজসেবক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।


নির্বাচিত

বাবার কোলে ফিরলো সৈয়দপুরে উদ্ধার হওয়া শিশু সুমাইয়া

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি

নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের উপজেলা সড়কের বটগাছের নিচ থেকে ঘুমন্ত অবস্থায় উদ্ধারকৃত শিশুটির পরিচয় পাওয়া গেছে। পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল ১০ টায় সৈয়দপুর থানা থেকে শিশুটিকে তার বাবা ও নানি এসে নিয়ে গেছে।

উদ্ধার শিশুটির নাম সুমাইয়া। বয়স চার বছর। তার বাবার নাম এরশাদ। পেশায় একজন ভিক্ষুক। তিনি বদরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে বসবাস করেন। গ্রামের বাড়ি বদরগঞ্জ উপজেলার ৭ নং গোপীনাথপুর ইউনিয়নে। শিশুটির মা তাকে ছেড়ে পালিয়ে গেছে।

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে দীর্ঘ সময় ধরে উপজেলা রোডে বটগাছের নিচে শিশুটিকে শুয়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী। তখন পাশেই উপজেলা প্রশাসনে খবর দিলে রাত ৮ টার দিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তাসহ অন্যান্য কয়েকজন কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।

তারা পুলিশ ও মিডিয়ার সামনে তাকে ঘুম থেকে ডেকে তোলে। জেগে উঠে অনেক অপরিচিত মানুষ দেখে একটু ভীত হলেও পরক্ষনেই স্বাভাবিক হয় শিশুটি। এসময় জিজ্ঞেস করলে সে নিজের নাম বাঘ বলে জানায়। মা নেই। গাড়িতে (ট্রেন) চড়ে এসেছে। বাবার নাম বা কোথায় থেকে আসছে তা বলতে পারছিল না। এমতাবস্থায় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার তত্বাবধানে শিশুটিকে রাখা হয়।

এরপর ফেসবুকসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচার এবং প্রশাসনিক ভাবে যোগাযোগ করা হয়। এর প্রেক্ষিতে বদরগঞ্জের একজন অনলাইন এক্টিভেস্ট এর মাধ্যমে জানতে পেরে রাতেই শিশুটির বাবা চলে আসে সৈয়দপুরে। গতকাল শুক্রবার সকালে থানা চত্বরে সুমাইয়াকে তার বাবার কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এসময় সৈয়দপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাব্বির হোসেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নুর মোহাম্মদ, থানার অফিসার ইনচার্জ রেজাউল করিম রেজা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

banner close