সাভারের হেমায়েতপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে মঙ্গলবার সকালে তেলের ট্যাংকার উল্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪ জনে দাঁড়িয়েছে।
নিহতরা হলেন- বরগুনা জেলার আবেদ আলীর ছেলে ট্রাক চালকের সহকারী মো. সাকিব (১৫) ও ট্রাক চালক হেলাল হাওলাদার (১৫)।
শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন তরিকুল ইসলাম জানান, শতভাগ দগ্ধ অবস্থায় সাকিব হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। রাত ১টা ২০ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
সাকিবের বড় ভাই মো. নাঈম জানান, সাকিব ৪ মাস আগে কাজ শুরু করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘যতটুকু জেনেছি, তাদের ট্রাকে করে তরমুজ নিয়ে গাজীপুর কাঁচামালের আড়তে যাচ্ছিল। সংবাদ পাই সে আগুনে দগ্ধ হয়ে বার্ণ ইনস্টিটিউটে ভর্তি রয়েছে। পরে হাসপাতালে এসে দেখি তার গোটা শরীর পুড়ে গেছে।’
এদিকে শতভাগ দগ্ধ ট্রাক চালক হেলাল হাওলাদার (৩০) মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাসপাতালে মারা যান।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে তেলের ট্যাংকার উল্টে অগ্নিকাণ্ডে ট্রাকের হেলপার ইকবাল দগ্ধ হয়ে মারা যান। এ ঘটনায় আরও ৯ জন আহত হন।
আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে একটি প্রাইভেটকার, একটি সিমেন্টবোঝাই ট্রাক, একটি তরমুজবাহী ট্রাক ও একটি লরিতে।
আহত মিলন মোল্লা (২২), আল-আমিন (৩৫), নিরঞ্জন (৪৫), হেলাল (৩০), আবদুস সালাম (৩৫), সাকিব (১৫), মো. আল আমিন (২২), নজরুল ইসলাম (৪৫) ও মিমকে (১০) শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট নেওয়া হয়।
আহতদের মধ্যে নজরুল ইসলামকে হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি মারা যান।
সুনামগঞ্জে বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতির জেলা শাখার উদ্যোগে জেলা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে নিবন্ধন অধিদপ্তরকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করার উদ্যোগের প্রতিবাদ জানিয়ে প্রায় দুই লক্ষাধিক দলিল লেখকের পেশাগত অধিকার, কর্মসংস্থান ও জীবিকা সুরক্ষায় সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় আয়োজিত এ সমাবেশে জেলা ও বিভিন্ন উপজেলা দলিল লেখক সমিতির নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি প্রদীপ পাল নিতাই। সঞ্চালনা করেন জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শাহাজুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা দলিল লেখক সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি বজলুর রশিদ চৌধুরী। এছাড়া সহসভাপতি শেখল ইসলাম ও নেজামুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হুদা, অর্থ সম্পাদক শহীদ সবওয়াত চৌধুরী এবং দপ্তর সম্পাদক আবুল্লা মিয়াসহ জেলা ও উপজেলার সমিতির নেতৃবৃন্দ।
বিভিন্ন উপজেলা থেকে উপস্থিত নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন ছাতক উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি কাজী আনোয়ার মিঠা, দোয়ারাবাজার উপজেলা সভাপতি আব্দুল হান্নান, জামালগঞ্জ উপজেলা সভাপতি মো. আলমগীর, জগন্নাথপুর উপজেলা সভাপতি বশির আহমদ, দিরাই উপজেলা প্রতিনিধি আবুল মতিন, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা প্রতিনিধি সুরুজামান, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাত্তারুল ইসলাম শায়েস্তা ও সদস্য সচিব নুরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন জেলা দলিল লেখক সমিতির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক নূরুল ঈমান। পরে গীতা পাঠ করেন দীপক কুমার দে।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহাজুল ইসলাম বলেন, ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বও একটি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের মাধ্যমে নিবন্ধন অধিদপ্তরকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেওয়ার উদ্যোগের বিষয়টি তারা জানতে পারেন। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ভূমি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে আইন মন্ত্রণালয়ের অধীন নিবন্ধন অধিদপ্তরকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের সিদ্ধান্তের কথা জানতে পেরে দলিল লেখকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে প্রদীপ পাল নিতাই বলেন, ২০০৭ সালেও একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তখন দলিল লেখকরা আন্দোলনে নামেন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রায় দুই লক্ষাধিক দলিল লেখকের কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কায় জনস্বার্থে হাইকোর্ট বিভাগে রিট মামলা করা হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রিট মামলাটির নম্বর ২৫১/২০০৮। ২০০৮ সালের ১৩ মার্চ শুনানি শেষে রিট নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নিবন্ধন অধিদপ্তরকে ভূমি মন্ত্রণালয়ে স্থানান্তরের কার্যক্রম স্থগিত রাখার আদেশ দেওয়া হয়েছিল। দলিল লেখকরা দীর্ঘদিন ধরে জনগণকে নিবন্ধনসংক্রান্ত সেবা দিয়ে আসছেন। জনস্বার্থ ও দলিল লেখকদের কর্মসংস্থানের বিষয়টি বিবেচনা করে এ উদ্যোগ পুনর্বিবেচনার দাবি জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, নিবন্ধন বিভাগকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত না করার দাবিতে গত ১২ আগস্ট নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শকের (আইজিআর) মাধ্যমে এবং সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।
বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ে প্রযুক্তিনির্ভর সুপেয় পানিতে স্বস্তি ফিরেছে লক্ষাধিক মানুষের। এক কলস সুপেয় পানির জন্য কয়েক কিলো উঁচুনিচু পাহাড়িপথ পাড়ি দিতে হতো। সেখানে জেলা পরিষদ ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পের মাধ্যমে এখন পাহাড়ের চূড়ায় বসবাসরতরা ঘরের কাছেই পাচ্ছেন নিরাপদ পানি।
একসময় পানি সংগ্রহ করা ছিল পাহাড়ের মানুষের জীবনের সবচেয়ে কঠিন সংগ্রামগুলোর একটি। পাহাড়ের চূড়ায় বসবাসকারী এসব পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর হাতের কাছে ছিল না নিরাপদ পানির কোনো উৎস। খাবার পানি, রান্না, গোসল কিংবা গৃহস্থালির নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহারের জন্য প্রতিদিন দুর্গম পাহাড়িপথ বেয়ে এক থেকে তিন কিলোমিটার পর্যন্ত পথ পাড়ি দিতে হতো তাদের। কোথাও কোথাও পানি সংগ্রহের জন্য পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নামতে হতো হাজার ফুট নিচে। সেখানে ঝিরি, ঝরনা কিংবা পাহাড়ি ছড়ার অনিরাপদ পানিই ছিল এসব দুর্গম জনপদে বসবাসকারী পাহাড়ি-বাঙালি মানুষের একমাত্র ভরসা। প্রতিদিনের এই পানির সংগ্রাম ছিল তাদের জীবনের এক নির্মম বাস্তবতা। যেখানে এক কলস নিরাপদ পানির জন্যও লড়াই করতে হতো দুর্গম পাহাড়িপথ আর প্রকৃতির প্রতিকূলতার সঙ্গে।
আবার বর্ষাকালে পাহাড়ি ছড়ায় পানি থাকলেও তা থাকত মাটি, কাদা ও ময়লায় ভরা। আর শুষ্ক মৌসুম এলেই পানির সংকট হয়ে উঠত আরও ভয়াবহ। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের দিনের বড় একটি অংশ ব্যয় হতো শুধু পানি সংগ্রহে। দুর্গম পাহাড়িপথ বেয়ে ভারী কলসি কাঁধে পানি বহন করতে গিয়ে শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি নিতে হতো নানা ঝুঁকিও।
বছরের পর বছর ধরে চলা সেই দুর্ভোগের চিত্র এখন বদলাতে শুরু করেছে বান্দরবানের প্রত্যন্ত পাহাড়ি জনপদে।
জেলা পরিষদ ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পের মাধ্যমে এখন পাহাড়ের চূড়ায় বসবাসরত মানুষও ঘরের কাছেই পাচ্ছেন নিরাপদ পানি। গভীর নলকূপ, গ্র্যাভিটি ফ্লো সিস্টেম (জিএফএস), রিংওয়েল, রেইন ওয়াটার হারভেস্টিংসহ বিভিন্ন প্রযুক্তির সমন্বয়ে দুর্গম এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে টেকসই পানি সরবরাহব্যবস্থা।
ফলে বান্দরবানের অন্তত ৫০টি প্রত্যন্ত পাহাড়ি পাড়ার লক্ষাধিক পিছিয়ে পড়া পাহাড়ি-বাঙালি জনগোষ্ঠীর জীবনে এসেছে স্বস্তি। দীর্ঘদিনের পানির কষ্ট ভুলে এখন তাদের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি।
সম্প্রতি সরেজমিনে বান্দরবান সদর উপজেলার কয়েকটি দুর্গম ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পাহাড়ের চূড়ায় বসবাসরত বিভিন্ন পাড়ার মানুষ এখন বাড়ির পাশেই স্থাপিত পানির কল থেকে সুপেয় পানি সংগ্রহের চিত্র। সেই পানি দিয়ে কেউ রান্নার কাজ সারছেন, কেউ গোসল করছেন, কাপড় ধুচ্ছেন কিংবা গৃহস্থালির অন্যান্য কাজে ব্যবহার করছেন। কোনো কোনো এলাকায় পানির সহজলভ্যতা বাড়ায় কৃষি ও সেচ কাজেও পানি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের ‘বিভিন্ন প্রযুক্তির মাধ্যমে সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পের’ আওতায় দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় গভীর নলকূপ, জিএফএস, রিংওয়েল ও রেইন ওয়াটার হারভেস্টিংসহ বিভিন্ন পানি সরবরাহব্যবস্থায় পাল্টে দিয়েছে কষ্ট ও সংকটের চিত্র।
স্থানীয়দের ভাষায়, এটি শুধু একটি পানি প্রকল্প নয়, এটি পাহাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের জীবনসংগ্রামে একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা।
জেলা শহর থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে পাহাড়ি গ্রাম টিএনটি মারমাপাড়া। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ৬০বছর বয়সি বৃদ্ধা মাচিং মারমা বাড়ির পাশের পানির কল থেকে গোসল ও কাপড় ধোয়া শেষে কলসিতে পানি নিয়ে ঘরে ফিরছেন। এক বছর আগেও এই দৃশ্য ছিল তার কাছে কল্পনার বাইরে।
তিনি বলেন, আগে খাবার পানি, গোসল কিংবা কাপড় ধোয়ার জন্য পাড়া থেকে প্রায় ৮০০ ফুট নিচে পাহাড়ি পথে যেতে হতো।’ এখন বাড়ির পাশেই পানি পাচ্ছেন তিনি।
বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ জানায়, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় বিএডিসি ও ডিপিএইচইর অর্থায়নে-‘স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের মাধ্যমে ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে জেলা পরিষদ ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের উদ্যোগে বিভিন্ন প্রযুক্তি মাধ্যমে সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পে ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বান্দরবানে ১২টি গ্র্যাভিটি ফ্লো সিস্টেম (জিএফএস) মেরামত, নতুন করে আরও ১০টি জিএফএস নির্মাণ, ৫৮৩টি রিংওয়েল নির্মাণ, ১৪০টি রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং সিস্টেম স্থাপন, ৫০টি গভীর নলকূপ নির্মাণ, পাড়াভিত্তিক পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ৫০টি প্রোডাকশন টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া স্যানিটেশন সুবিধা সম্প্রসারণে বিভিন্ন এলাকায় স্বাস্থ্যসম্মত ৩০টি টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে।
বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী সাইদুল ইসলাম জানান, স্থানীয় লোকজনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেলার অন্তত ৫০টি পাড়ায় নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে বলেন, ‘ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের কারণে বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সুপেয় পানি সরবরাহে একই ধরনের প্রযুক্তি সব জায়গায় ব্যবহার করা সম্ভব নয়। ভিন্ন ভিন্ন প্রযুক্তির ব্যবহার করতে হয়।’
ফলে সম্প্রতি, ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে জেলার দুর্গম এলাকায় পুরোনো গ্র্যাভিটি ফ্লো সিস্টেম মেরামতের পাশাপাশি নতুন জিএফএস, রিংওয়েল, রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং সিস্টেম, গভীর নলকূপ এবং পাড়াভিত্তিক পানি সরবরাহব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে।
জনবান্ধব জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান কেয়ার কর্মকাল নরসিংদীতে মাত্র ৫ মাস। এই সময়ে জেলার নান্দনিক ও সৃজনশীল উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য গর্বিত নরসিংদীবাসী। এক কথায় সাহস, সততা এবং কর্মযোগ্যতা দিয়ে নরসিংদীর মানুষের মনের মণিকোঠায় জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।
ইসরাত জাহান কেয়া তার স্বীয় কর্মপ্রতিভার বিচক্ষণ দিয়ে স্পর্শ করে চলেছেন প্রতিটি মানুষের মন। ইসরাত জাহান কেয়া মনে করেন, প্রতিটি মানুষ যদি তার স্বীয় কর্মকে সৃষ্টিশীলতা দিয়ে আন্তরিকতার সাথে সর্বোচ্চ নিপুণভাবে সম্পন্ন করেন তবে তা অবশ্যই প্রশংসিত হবে। এক প্রশ্নের উত্তরে ইসরাত জাহান কেয়া বলেন, ‘আমি অ্যাওয়ার্ড বা পুরস্কার প্রাপ্তির প্রত্যাশায় কোনো কাজ করি না। আমি আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব, নীতি এবং আদর্শের মধ্যে থেকে সর্বোচ্চ সৃজনশীলতা ও আন্তরিকতা দিয়ে করার চেষ্টা করি। এতে যদি কোনো প্রাপ্তি এসে যায় নিশ্চয়ই তা আমাকে প্রেরণা জোগায়।’
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিশ্বখ্যাত অন্ধ লেখিকা হেলেন কেলার আমাদের মতো সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন আমি অন্ধ, তোমরা যারা দেখতে পাও তাদের একটা কথা আমি বলে যেতে চাই, চোখ দুটোকে তোমরা এমনভাবে ব্যবহার করো যেন আগামীকালই তুমি অন্ধ হয়ে যাবে, আর দেখবে না। তোমার অপর সব ইন্দ্রিয়ের বেলায়ও এমন করেই ভাবতে শেখো।
সুরের আওয়াজ, পাখির গান, বাদ্যকারের বাজনা এমনভাবে শুনবে যেন কালই তুমি বধির হয়ে যাবে। প্রতিটি জিনিস এমনভাবে ছুঁয়ে দেখবে যেন সর্বশক্তি অবলুপ্ত হবে আগামীকালই। এভাবে নেবে ফুলের ঘ্রান, আর খাদ্যের স্বাদ, যেন আগামীকাল আর গন্ধ কিংবা স্বাদের অনুভূতি অবশিষ্ট থাকবে না। সব ইন্দ্রিয়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার করো, প্রকৃতির সৌন্দর্য পুরোপুরি উপভোগ করো। হেলেন কেলারের এই উক্তিগুলোর মতোই যদি যেকোনো কাজে ইচ্ছে শক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার করি, সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দিয়ে স্বীয় কর্মকে সম্পন্ন করা যায় নিশ্চয়ই প্রশংসিত হবে।’
ইসরাত জাহান কেয়া ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ উপজেলার শুভাঢ্যা গ্রামের এক সমভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। তার পিতার নাম মো. মাহাবুব আলী। পারিবারিক ঐতিহ্যগত কারণেই ইসরাত জাহান কেয়া জাতীয়তাবাদী আদর্শিক চেতনায় বড় হয়েছেন। ফলে তার সকল কাজে জাতীয়তাবাদী আদর্শিক চেতনা লক্ষ্য করা যায়। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন আত্মপ্রত্যয়ই ও স্বপ্নচারী নারী।
তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন। ইসরাত জাহান কেয়া ২৮তম ব্যাচে বাংলাদেশ সিভিল সাভির্সের প্রসাশন ক্যাডারে যোগদান করেন। জেলা প্রশাসক নরসিংদী হিসেবে পদায়ন হওয়ার আগে তিনি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
তিনি চলতি এ বছরের ৭ এপ্রিল নরসিংদীর ২২তম জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদান করেন। এ জেলায় তিনি দ্বিতীয় নারী জেলা প্রশাসক। ইসরাত জাহান কেয়া নরসিংদীতে যোগদানের পর থেকে যে সমস্ত কাজে নরসিংদী জেলার নান্দনিক সৃজনশীল উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য এখানকার মানুষের মনের মণিকোঠায় স্থান করে নিয়েছেন।
জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি বুধবার গণশুনানি করেন।
ঠাকুরগাঁও জেলা ও উপজেলার স্কাউটার ইউনিট লিডার ও রোভারদের নিয়ে সেইফ ফ্রম হার্ম সার্টিফিকেশন কোর্সের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ঠাকুরগাঁও প্রেস ক্লাবের আনিসুর হক বাবু মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কোর্সের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ স্কাউটস, দিনাজপুর অঞ্চলের কমিশনার আখতারুজ্জামান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ স্কাউটস, দিনাজপুর অঞ্চলের সহসভাপতি জালাল উদ্দিন, উপ-আঞ্চলিক কমিশনার আনজুমান আরা বেবি, উপ-আঞ্চলিক কমিশনার জাকিরুল হক চৌধুরী,রুহুল আমিন প্রকল্প পরিচালক কার্ব স্কাউটিং, বাংলাদেশ স্কাউটসের এআইএস বিভাগের উপপরিচালক আব্দুর রশিদ এবং বাংলাদেশ স্কাউটস, ইসরাত সুমাইয়া রিসোর্স পারসন, সেফ ফ্রম হার্ম, ঠাকুরগাঁও জেলা স্কাউটের সম্পাদক লুৎফর রহমান মিঠুসহ স্কাউটের ইউনিট লিডার ও রোভার সদস্যরা।
কোর্সে অংশগ্রহণকারীদের স্কাউটিং কার্যক্রমে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা, শিশু ও তরুণদের সুরক্ষা এবং ক্ষতিকর আচরণ প্রতিরোধসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
ডেঙ্গু সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের লক্ষ্যে পিরোজপুরে সরকারি খাল দখলমুক্তকরণ ও বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন ও পৌরসভা। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) পিরোজপুর পৌরসভার ২ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’ পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে পিরোজপুরের সব খাল পর্যায়ক্রমে অবৈধ দখলমুক্ত করার পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করার কথা জানান জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ।
কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে জেলা প্রশাসক বলেন, "পর্যায়ক্রমে শহরের সব সরকারি খাল অবৈধ দখলমুক্ত করা হবে এবং সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচ্ছন্নতা অভিযান আরও বেগবান করা হবে। এ কার্যক্রমে আমি পিরোজপুরবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা ও সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করছি।"
খাল ভরাট ও অবৈধ দখলদারদের সতর্ক করে ডিসি আবু সাঈদ কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "যারা অন্যায়ভাবে খাল ভরাট করেছেন, অবৈধ দখল করেছেন কিংবা খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন, তারা নিজ উদ্যোগে ও স্বেচ্ছায় তা সরিয়ে নিন। অন্যথায় সরকারি আইন ও বিধি অনুযায়ী খালগুলো দখলমুক্ত করা হবে এবং প্রয়োজনবোধে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"
নাগরিক সচেতনতার ওপর জোর দিয়ে তিনি আরও বলেন, "ডেঙ্গুর প্রকোপ কমাতে সাধারণ মানুষের সচেতন হওয়া সবচেয়ে বেশি জরুরি। নিজ বসতবাড়ি ও চারপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি জমে থাকা পানি সরিয়ে মশার প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস করতে হবে। যারা অবৈধভাবে পরিবেশ দূষণ করছেন, তারা নিজ দায়িত্বে তা বন্ধ না করলে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
অভিযানকালে স্থানীয় সরকার বিভাগের পিরোজপুরের উপ-পরিচালক ও পিরোজপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. মাহমুদুর রহমান মামুন, পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইফতেখারুল ইসলাম শামীমসহ জেলা, উপজেলা ও পৌর প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় জগবন্ধু মিষ্টির কারখানার চুলোর ধোঁয়ায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন প্রতিবেশী বল্লভ কর্মকারের পবিরবার। প্রায় ৪০ বছর ধরে এ কারখানাটির আগুনের তাপে এ্যাজমা ও চর্মসহ নানা রোগে ভুগছেন তারা। বিষয়টি ওই কারখানার মালিককে বেশ কয়েকবার অবহিত করলেও তিনি এর প্রতিকার করেননি। বর্তমানে প্রচুর পরিমাণে ধোঁয়ার কারণে ওই বসতঘরে বসবাস করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও সুরাহা পাননি তারা। সর্বশেষ গত ১৭ সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি আবেদন করেছেন অংলকার জুয়েলার্সের মালিক বল্লভ কর্মকারের ছেলে সৌরভ কর্মকার।
বল্লভ কর্মকারের স্ত্রী কাকলী কর্মকার বলেন, পরিবেশ বজায় রাখতে ঘনবসতি এলাকায় কোন কারখানা থাকতে পারেনা। চিংগুড়িয়া আবাসিক এলাকায় তাদের মিস্টি তৈরির কারখানা ছিল। কযেক দিন আগে এক ব্যাক্তি আদালতে মামলা দায়ের করে। আদালতের নির্দেশনায় কারখানাটি বন্ধ করে দেয়। কারখানার মালিককে বলছি উচু পাইপ দিয়ে কালো ধোঁয়া উপরের দিকে দিয়ে দেন যাতে কারখানার ধোঁয়া ঘরে প্রবেশ না করে। তাছাড়া গ্যাসের সিলিন্ডার দিয়ে মিস্টি তৈরি করতে পারে।
কারখানাটিতে বিকাল ৫টা থেকে মিস্টি তৈরি করতে শুরু করে রাত ১টা পর্যন্ত চলে। ধোঁয়ায় ঘরের দেয়াল কালো হয়ে গেছে। জামা কাপর নস্ট হয়ে যায়। পরিধান করার উপায় থাকে না। এছাড়া টিনের চালের সানসেটে পাইপ না দেয়ায় বর্ষাকালে পানি চুইয়ে দেয়ালে পলেস্তারা ক্ষয়ে ক্ষয়ে পড়ছে। এসব বিষয় নিয়ে একাধিকবার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নাজমুলের কাছে গিয়েছি তিনিও কোন সমাধান দিতে পারেনি। আমি উপজেলা প্রসাশনের কাছে জোর দাবি করছি। মানবিক দিক বিবেচনা করে মিস্টি তৈরির কারখানার ধোঁয়া থেকে বাচতে কার্যকরি প্রদক্ষেপ গ্রহন করে।
এ বিষয়ে জগবন্ধু মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের স্বত্ত্বাধিকারী চঞ্চল সাহা বলেন, তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা ও সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য ষড়যন্ত্র করছে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান বলেন, মিষ্টির দোকানীকে নোটিশ করে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব সামনে রেখে সারা বাংলাদেশের মন্দিরগুলোতে প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। দিনরাত পরিশ্রম করে কারিগররা তাদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় কাদামাটি, খড়, বাঁশ, সুতলি ও রঙতুলি দিয়ে তৈরি করছেন একেকটি প্রতিমা।
সারা বাংলাদেশে আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্যদিয়ে শুরু হচ্ছে শারদীয় দুর্গাপূজা। পূজার সূচি অনুয়ায়ী মহাপঞ্চমী হবে ১৬ অক্টোবর, মহাষষ্ঠী হবে ১৭ অক্টোবর, মহাসপ্তমী হবে ১৮ অক্টোবর, মহাষ্টমী হবে ১৯ অক্টোবর, মহানবমী ও সন্ধিপূজা হবে ১৯ অক্টোবর এবং বিজয়া দশমী হবে ২১ অক্টোবর।
দিনাজপুরের শহরের বিভিন্ন মন্দির ও মণ্ডপ প্রাঙ্গণে নানা আকার দেবী দুর্গার প্রতিমা বানানো হচ্ছে। জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এ বছর জেলার ১৩টি উপজেলার শহর এবং বিভিন্ন ইউনিয়নে এবার ১ হাজার ২৮৬টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।
গত বছরের তুলনায় এ বছর ১৬টি মণ্ডপ বেড়েছে। ফলে পূজার আয়োজন ঘিরে দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় উৎসাহ-উদ্দীপনাও বেড়েছে। এরই মধ্যে অধিকাংশ মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে ডেকোরেশন, আলোকসজ্জা ও মণ্ডপসজ্জার কাজও এগিয়ে চলছে।
দিনাজপুর শহরের বিভিন্ন মন্দির ও প্রতিমা তৈরির কারখানা ঘুরে দেখা গেছে, মন্দিরে কারিগররা ফুটিয়ে তুলছেন দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, গণেশ-কার্তিক ও অসুরের প্রতিমা। মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে মাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরির কাজ। ইতোমধ্যেই খড় আর কাদামাটি দিয়ে চলছে প্রতিমার শেষ পর্যায়ে কাজ। রঙ তুলি দিয়ে প্রতিমা সাজানো ছাড়াও প্রতিমা তৈরির পাশাপাশি মণ্ডপের সাজসজ্জায় চলছে বিশেষ প্রস্তুতি।
প্রতিমা শিল্পীরা কল্পনায় দেবীদুর্গার অনিন্দ্যসুন্দর রূপ দিতে সকাল থেকে শুরু করে দিনরাত চলছে তাদের পরিশ্রম।
প্রতিমা কারিগর জানান, একটি পূর্ণাঙ্গ দুর্গাপ্রতিমা তৈরিতে প্রায় দুই মাস বা তারও বেশি সময় প্রয়োজন হয়। মণ্ডপের আকার, প্রতিমার নকশা ও আয়োজকদের চাহিদার ওপর নির্ভর করে সময় কম-বেশি হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে এখন তাদের সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে।
প্রতিমা কারিগর নরেশ পাল বলেন, ‘দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরি আমাদের কাছে শুধু পেশা নয়, এটি শিল্প ও ঐতিহ্যের অংশ। একটি কাঠামোকে ধীরে ধীরে মাটি দিয়ে প্রতিমার রূপ দেওয়া এবং শেষ পর্যন্ত সেটিকে সুন্দর করে তোলা অনেক পরিশ্রমের কাজ। পূজার সময় ঘনিয়ে আসায় এখন দিন-রাত কাজ করতে হচ্ছে। তবে প্রতিমা তৈরির পর মানুষের আনন্দ দেখে আমাদের পরিশ্রম সার্থক মনে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা দীনেশ চন্দ্র রায় বলেন, দুর্গাপূজা শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি এখন সবার অংশগ্রহণে একটি সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ দেখে এখন থেকেই উৎসবের আমেজ অনুভূত হচ্ছে।
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা সুবীর চন্দ্র রায় বলেন, পূজার দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, মানুষের মধ্যে উৎসাহও তত বাড়ছে। প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আমরা চাই, উৎসবটি যেন আনন্দঘন পরিবেশে এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রেখে সম্পন্ন হয়।
জেলা পূজা উদযাপন কমিটির নির্বাহী সদস্য প্রদীপ ঘোষ বলেন, এবার জেলার ১৩টি উপজেলায় ১ হাজার ২৮৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। বিভিন্ন মণ্ডপে প্রস্তুতি চলছে। মণ্ডপসজ্জা, প্রতিমা তৈরি ও অন্যান্য কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার জন্য আয়োজকরা কাজ করছেন। একই সঙ্গে পূজার আয়োজন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। আমরা উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন করব। প্রতিটি মন্দিরে কমিটির পক্ষ থেকে নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবীরা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে।
নিরাপত্তা বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন বলেন,পূজাকে ঘিরে যাতে কেউ কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটাতে পারে সে জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে আমরা পূজা উদযাপন কমিটি ও সাংবাদিক সহ সংশ্লিষ্টদের সাথে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে মিটিং করব। দুর্গাপূজার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল রকম প্রস্তুতি থাকবে।
দেশের জ্বালানি খাতের ঘাটতি মিটিয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের পার্থক্য শূন্যে নামিয়ে আনার আশা প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুহিলপুরে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ থেকে বাণিজ্যিকভাবে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে তিনি এ আশা প্রকাশ করেন।
নতুন এই কূপ থেকে প্রতিদিন জাতীয় গ্রিডে ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খননের যে পরিকল্পনা নিয়েছে, তার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ২৯টি কূপ খনন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে আমরা বেশ কিছুদিন ধরে কষ্টের মধ্যে আছি। তবে স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল)। এর মধ্যে তিতাস ২৮ নম্বর কূপ থেকে ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।
এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উদ্যোগ ২০৩০ সাল নাগাদ চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে পার্থক্য দূর করতে সহায়তা করবে। এই কূপের গ্যাস মানুষের মাঝে স্বস্তি আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও জানান তিনি।
এ সময় অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আশা প্রকাশ করেন, গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে পার্থক্য শূন্যে নামিয়ে আনা হবে। এতে শিল্প, বিদ্যুৎ ও গৃহস্থালি খাত বর্তমানে যে সংকটে পড়েছে, তার একটি স্থায়ী সমাধান হবে।
এর আগে, গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর সদর উপজেলার সুহিলপুর এলাকায় তিতাস ২৮ নম্বর কূপের খননকাজ শুরু হয়ে শেষ হয় গত ২৭ মে। এরপর পরীক্ষামূলকভাবে কূপটি থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয় গত ১৯ জুন। ইতোমধ্যে কূপটি থেকে প্রায় ২০০ কোটি টাকা মূল্যের গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে।
২৮ নম্বর কূপের প্রকল্প পরিচালক জসিম উদ্দিন মুন্না জানান, কূপটির ওয়েলহেড শাট-ইন প্রেসার তিন হাজার ৬০০ পিএসআই এবং ফ্লোয়িং প্রেসার দুই হাজার ১০০ পিএসআই। দীর্ঘসময় কূপটি থেকে গ্যাস উত্তোলন করা যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিসিডিসির খননকৃত এই কূপের গভীরতা তিন হাজার ৬০১ মিটার। মূসক ও আয়করসহ এতে প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এখন প্রতিদিন ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস উত্তোলন করে তা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. জিয়াউল হক, বিজিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল জলিল প্রামানিক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ, পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ, জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
কুমিল্লার সানন্দা এলাকায় ১৩ বছরের কিশোর অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর এ ঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটের দিকে তাকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন, কোটবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মফিজউদ্দিন ভূঁইয়া।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলের ওই এলাকার একটি সিসিটিভি ফুটেজে অপ্রতিমের সঙ্গে একজনকে দেখা যায়। এর ভিত্তিতেই তাকে আটক করা হয়েছে।
সোয়া ৩টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিল কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে সানন্দা এলাকায় তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে বাড়ি থেকে হেঁটে বের হয় অপ্রতিম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও তাকে না পেয়ে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
অপ্রতিমের মা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম জানান, অপ্রতিমের সঙ্গে একটি আইফোন ছিল। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
তিনি বলেন, অপ্রতিম কোটবাড়ি এলাকা খুব ভালোভাবে চেনে এবং এখানেই বড় হয়েছে। সে একা চলাফেরা করতে পারে। তাই সাধারণভাবে পথ হারিয়ে তার নিখোঁজ হওয়ার কথা নয়।
অপ্রতিমের বাবা ফিরোজ শাহরিয়ার গণমাধ্যমকে বলেন, 'আমার ছেলেকে ফোনের জন্য হত্যা করা হয়েছে।'
কুমিল্লাতে অপ্রতিমের দাফনের পর মামলা করা হবে বলে জানান তিনি।
চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ডের অভিযানে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশে বহনকৃত বিপুল পরিমাণ ইউরিয়া সার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীসহ ১০ জন পাচারকারী আটক করা হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন ছেঁড়া দ্বীপসংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব গভীর সমুদ্র এলাকায় শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাত ১টায় কোস্ট গার্ড স্টেশন সেন্টমার্টিন কর্তৃক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চোরাচালানবিরোধী একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান চলাকালীন সন্দেহজনক ১টি বোটকে থামার সংকেত দিলে বোটটি সংকেত অমান্য করে পালানোর চেষ্টা করে। পরবর্তীতে আভিযানিক দল ধাওয়া করে বোটটিকে গভীর সমুদ্র থেকে আটক করতে সক্ষম হয়। ওই বোটে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা মূল্যের ২৪০ বস্তা (১২,০০০ কেজি) ইউরিয়া সার, ১৯০ বস্তা (৩৮০০ কেজি) রসুন ও ৯০ বস্তা (৪৫০০ কেজি) পেঁয়াজসহ বোটটি জব্দ করা হয়।
এ সময় বোটে থাকা ১ জন রোহিঙ্গাসহ মোট ১০ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়। জব্দকৃত আলামত এবং আটককৃত ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।
বিগত ১৭ বছর ধরে দেশের সামগ্রিক শিক্ষা কাঠামোকে সুপরিকল্পিতভাবে পঙ্গু ও বিপর্যস্ত করে জাতির মেরুদণ্ডকে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। শনিবার দুপুরে কেরানীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ প্রাঙ্গণে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত ‘এস.এস.সি কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রগতির বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা থেকে বাংলাদেশকে পিছিয়ে রাখার হীন লক্ষ্যেই এমন ক্ষতিকর ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছিল।
শিক্ষার গুণগত মান প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষাকে জাতির মেরুদণ্ড বলা হলেও বিগত বছরগুলোতে সেটিকে ভঙ্গুর প্লাস্টিকের মেরুদণ্ডে রূপান্তর করা হয়েছিল। এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যেখানে যথাযথ পরীক্ষা ছাড়া কিংবা খাতায় শুধু প্রশ্ন লিখে রেখেও ওপর মহলের নির্দেশে শিক্ষার্থীদের পাস করিয়ে দেওয়ার নজির দেখা গেছে। কৃত্রিমভাবে বেশি নম্বর দেওয়া কিংবা নিয়মবহির্ভূতভাবে উত্তীর্ণ করার মাধ্যমে ব্যক্তি বা জাতি কেউই লাভবান হতে পারে না। উচ্চশিক্ষার ভর্তি পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়া পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে অতীতের ছেলেখেলারই পরিণতি। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে মেধার নিরপেক্ষ মূল্যায়নের মাধ্যমে ফলাফল নির্ধারিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক।
নারী শিক্ষার প্রসারে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘নারী ক্ষমতায়নের প্রধান শর্ত শিক্ষা। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছাত্রীদের জন্য ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা চালু করেছিলেন। আর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন, আগামীতে বিএ এবং অনার্স পর্যন্ত ছাত্রীদের কোনো পড়াশোনার খরচ লাগবে না, সম্পূর্ণ অবৈতনিক করা হবে।’ একই সঙ্গে কৃতি শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করে উৎসাহিত করার এই আয়োজনকে তিনি একটি ‘দৃষ্টান্তমূলক কাজ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আজকের এই অর্জন তোমাদের জীবন অধ্যায়ের নতুন সূচনা। সততা, দায়িত্বশীলতা ও দেশপ্রেম নিয়ে তোমাদের আগামী দিনের বাংলাদেশের কাণ্ডারী হতে হবে।’ দলমত নির্বিশেষে ঢাকা-৩ আসনের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ ও সুন্দর পাঠদানের পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে ঢাকা-৩ আসন থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ এবং গোল্ডেন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট, সম্মাননা স্মারক ও আর্থিক বৃত্তির অর্থ তুলে দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষক, অভিভাবক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় যাত্রীবাহী বাস ও প্রাইভেটকারের মুখোমুখি সংঘর্ষে চালকসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত অপর এক আরোহীকে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মহাসড়কের জামালদি বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, শনিবার দুপুর ২টা ৩৮ মিনিটের দিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে গজারিয়া ফায়ার স্টেশনের দুটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
ফায়ার সার্ভিসের ভাষ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামগামী ‘নিউ বলেশ্বর’ পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ঢাকামুখী একটি প্রাইভেটকারের সংঘর্ষ হলে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। প্রাইভেটকারের আরোহীরা মহাসড়কসংলগ্ন মায়ামি রেস্টুরেন্টে খাওয়া-দাওয়া শেষে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। সংঘর্ষের তীব্রতায় প্রাইভেটকারের চালক ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। পরে উদ্ধারকর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আরও তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন—মজিবুর রহমান (৫৫), মোছা. শামীমা আক্তার (৪৫), সাবিহা চৌধুরী (৪৩) এবং প্রাইভেটকারের চালক সোহেল। চালক সোহেল ঢাকার গেন্ডারিয়া এলাকার বাসিন্দা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, প্রাইভেটকারটিতে চালকসহ মোট পাঁচজন আরোহী ছিলেন। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার তৎপরতা চালানো হয় এবং মরদেহ হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি পুলিশ খতিয়ে দেখছে।
নিখোঁজ হওয়ার পরদিন কুমিল্লার কোটবাড়ী এলাকা থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের সন্তান ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কের পাশের একটি ঝোপঝাড়পূর্ণ এলাকা থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।
মরদেহ উদ্ধারের সময় সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া এই কিশোরের মাথায় গুরুতর জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মাহমুদুল হাসান জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর তা সদর দক্ষিণ থানা পুলিশের হেফাজতে দেওয়া হবে এবং পুলিশ এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
এর আগে শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ী এলাকার নিজ বাসা থেকে পায়ে হেঁটে বের হওয়ার পর থেকে অপ্রতীমের আর কোনো সন্ধান মিলছিল না। ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
এদিকে সন্তান নিখোঁজ হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক আবেগঘন পোস্টে অপ্রতীমের মা ড. নাহিদা বেগম লিখেছিলেন, ‘আমার ছেলেকে আমি বিকেল ৩টা থেকে খুঁজে পাচ্ছি না। ওর নাম অপ্রতীম। বয়স ১৩, ক্লাস সেভেনে পড়ে। হারানোর সময় পরনের এই পাঞ্জাবিটা (নীল রঙের) ছিল গায়ে। আমার আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে গিয়ে আর ফিরে আসেনি। আপনারা যে যেখান থেকে পারেন সহায়তা করেন। আপনাদের কাছে হাত জোড় করছি আমার ছেলেকে বাঁচান। থানায় জানিয়েছি।’
তিনি সেখানে আরও উল্লেখ করেন, ‘নম্বর ট্র্যাক করে পাওয়া যায়নি। সম্ভবত ফোন ওর সঙ্গে নাই। ফেসবুক আইডি যে ফোনে সেটা বাসায় রেখে গেছে।’