সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪

দেশের দুই সীমান্তস্থানে বিএসএফের গুলি: নিহত ১, আহত ৩

আপডেটেড
৩ এপ্রিল, ২০২৪ ১৫:৪১
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ৩ এপ্রিল, ২০২৪ ১৫:৩৯

দেশের পৃথক দুটি সীমান্তস্থানে এক বাংলাদেশী ও তিনজন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে এক বাংলাদেশি নিহত ও অপর একজন আহত হয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোমস্তাপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চৌধুরী জুবায়ের আহমেদ।

অন্যদিকে যশোরের বেনাপোলের দৌলতপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে বাবু মিয়া (৩২) ও ডালিম হোসেন (৩২) নামে দুই বাংলাদেশি যুবক আহত হয়েছেন।

গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নে একজন নিহত হওয়ার ঘটনাটি ঘটে। নিহত সাইফুল ইসলাম (৩০) রাধানগর ইউনিয়নের মৃত হাসান আলীর ছেলে এবং আহত রাজু হলেন একই ইউনিয়নের ভোলার ছেলে।

গোমস্তাপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চৌধুরী জুবায়ের আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, বিএসএফ এর গুলিতে একজন নিহত ও একজন আহতের বিষয়ে শুনেছি। ঘটনা জানার পর আমাদের একটি টিম পাঠানো হয়েছিল। ঘটনাটি ভারতের অভ্যন্তরীণ। শুনেছি মরদেহ বিএসএফ নিয়ে গেছে।

অন্যদিকে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে যশোরের বেনাপোলের দৌলতপুর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ক্যাম্পের ওপারে ভারতে কালিয়ানী বিএসএফ ক্যাম্পের ওদিক থেকে গুলি আসলে বেনাপোল পোর্ট থানার দৌলতপুর গ্রামের বাবু মিয়া ও ডালিম হোসেন গুরুতর আহত হন। পরে বিজিবি সীমান্ত থেকে তাদের উদ্ধার করে তাদের হেফাজতে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

খুলনা ২১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ খুরশিদ আনোয়ার জানান, বাবু ও ডালিম নামে দুই বাংলাদেশি দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতে মাদক আনার জন্য যায়। এ সময় ভারতের কালিয়ানী বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা সীমান্তের ১৭/৭ এস এর ১৮২ আর পিলারের নিকটে ২৫ গজ ভারতের অভ্যন্তরে তাদের ওপর গুলি বর্ষণ করে। এতে ডালিম ও বাবুর পা ও চোখ ক্ষতবিক্ষত হয়। সীমান্তে টহলে থাকা বিজিবি সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে ক্যাম্পে এনে অবৈধ অনুপ্রবেশ আইনে আটক দেখিয়ে তাদের হেফাজতে রেখে চিকিৎসা দিচ্ছেন। সুস্থ হলে তাদের থানায় সোপর্দ করবেন বলে জানান তিনি।


চা বাগান থেকে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের একটি চা বাগানে গাছের সঙ্গে ফাঁস লাগা অবস্থায় এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার সকালে উপজেলার ফুলবাড়ি চা বাগান এলাকার ৮ নম্বর সেকশনে ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে কমলগঞ্জ থানা পুলিশ। প্রাণ হারানো যুবক ১৯ বছর বয়সী সজল বাউরি, যিনি ওই বাগানের চা শ্রমিক চুন্নু বাউরির ছেলে।

স্থানীয় একজন জানান, ‘রাতে মা-বাবার সঙ্গে ভাত নিয়ে সজল বাউরির ঝগড়া হয়। আমরা তাদের ঝগড়া শুনতে পাই। সকালে বাগানে গাছের সঙ্গে তার মরদেহ দেখে তার মা-বাবাকে জানাই। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। সে বাগানে শ্রমিকের কাজ করত।

সজল বাউরির বাবা চুন্নু বাউরী বলেন, ‘আমার সঙ্গে ও ছেলের মায়ের সঙ্গে গরম ভাত করে দেয়ার জন্য সন্ধ্যায় ঝগড়া হয়। সে ঠাণ্ডা ভাত খাবে না। পরে রাত ৮টার দিকে ঘর থেকে বের হয়ে যায়। আমরা ভাবছি হয়তো প্রতিবেশী কারও ঘরে রাতে থাকতে পারে। তাই আর খোঁজখবর নিইনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সকালে হঠাৎ শ্রমিকরা কাজে গেলে চা বাগানের ৮ নম্বর সেকশনে এলাকায় গাছের সঙ্গে ফাঁস লাগা অবস্থায় সজলের মরদেহ দেখতে পেয়ে আমাদের খবর দেয়। আমরা পুলিশকে বিষয়টা জানাই। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।’

কমলগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জিয়াউল বলেন, ‘বাগানের ৮ নম্বর সেকশন এলাকায় একটি গাছের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেয়া সজল বাউরির মরদেহ সকালে উদ্ধার করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মরদেহ ময়নাতদন্ত করার জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে।’


তীব্র গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা, বিপাকে খেটে খাওয়া মানুষ 

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মইনুল হক মৃধা, রাজবাড়ী

তীব্র গরমে যেন নাভিশ্বাস উঠছে! সারা দেশের মতোই দাবদাহে পুড়ছে রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ। গতকাল রোববার বিকাল সাড়ে ৩টায় এখানে তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। দাবদাহে আমের গুটি, ধানের শিষ ঝরে যাচ্ছে। সবজি খেতসহ সব ধরনের চাষ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছে কৃষক। হাসপাতালে শিশু রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এদিকে টানা দাবদাহে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। প্রচণ্ড গরমের সাধারণ ও কর্মজীবী মানুষের ভোগান্তি আর কষ্ট বেড়েছে। তবে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। তীব্র রোদের কারণে দিনমজুর, রিকশাচালক ও ভ্যানচালকরা কাজ করতে পারছেন না। এদিকে কাজ না করলে খাবার জুটবে না। তাই পেটের তাড়নায় প্রচণ্ড দাবদাহ উপেক্ষা করে কাজে বেরিয়েছেন অনেকে। প্রচণ্ড গরমে কয়েক দিন ধরেই হাট-বাজারে মানুষের সমাগম কম। অনেকেই ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছেন। ভ্যানচালক বাবু শেখ বলেন, ‘গরমে কাজ করতে না পেরে আয় কমে গেছে। আগে দিনে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় করা যেত। এখন প্রচণ্ড গরমের কারণে সারা দিনে ২০০ টাকা আয় করা মুশকিল হয়ে পড়েছে।’

গোয়ালন্দ পৌর এলাকার বিপেন রায়ের পাড়া এলাকার শারমিন আক্তার বলেন, ‘প্রচণ্ড গরম পড়েছে। বাচ্চা নিয়ে খুবই সমস্যায় আছি। ঘরের মধ্যে গরমে থাকা যায় না। আমার দুই সন্তান গত কয়েক দিন ধরে জ্বর-সর্দি ও কাশিতে ভুগছে। আজ গোয়ালন্দ হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে নিয়ে আসছি।’

গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. শরিফুল ইসলাম জানান, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের বেশিরভাগই গরমজনিত রোগে আক্রান্ত। তীব্র গরমে শিশুদের ডায়রিয়া, টাইফয়েড, শরীরে ঘাম বসে নিউমোনিয়া, ঠাণ্ডা, সর্দি, কাশি, জ্বর ও প্রস্রাবে সংক্রমণ দেখা দিচ্ছে। তিনি পরামর্শ দেন, প্রখর রোদে শিশুকে ঘরের বাইরে বের হতে দেওয়া যাবে না। টাটকা খাবার খাওয়াতে হবে এবং ফ্যানের নিচে রাখতে হবে। গোয়ালন্দ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, তীব্র তাপদাহের কারণে বোরো ধান, আমের গুটি ঝরে শুকিয়ে যাচ্ছে। আমগাছে পানি স্প্রে এবং বোরো ধানসহ সব ধরনের সবজিখেতে প্রতিদিনই সেচ দিতে এবং সেচের পানি ধরে রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন কৃষি কর্মকর্তারা।

গোয়ালন্দ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. খোকন উজ্জামান বলেন, ‘প্রচণ্ড দাবদাহের কারণে ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। আমাদের কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক গরমে করণীয় বিষয়ে কৃষকদেরকে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।’ গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সোস্যাল মিডিয়ায় জনসাধারণকে সতর্ক করা হচ্ছে এবং জনসাধারণকে আরো সতর্ক করতে মাইকিং করা হবে, তারা যেন অতি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বাহির না হয়। শরবত, পানি ও ফলমূল বেশি বেশি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’ এ ছাড়া স্ট্রোক, ডায়রিয়াসহ গরমজনিত রোগীদের চিকিৎসার জন্য উপজেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


৫ বছরেও চালু করা যায়নি সুন্দরবন টেক্সটাইল মিলস

আপডেটেড ২২ এপ্রিল, ২০২৪ ০৫:০৬
আবু সাঈদ, সাতক্ষীরা

৫ বছরেও চালু করা যায়নি সাতক্ষীরার একমাত্র ভারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান সুন্দরবন টেক্সটাইল মিল্স। ফলে নষ্ট হচ্ছে কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি। এ ছাড়া হতাশায় ভুগছেন চাকরি হারানো বিপুলসংখ্যক শ্রমিক। সব ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে মিলটি আবারও চালুর দাবি বাস্তবায়ন কমিটিসহ শ্রমিকদের। তবে কর্তৃপক্ষের দাবি, পিপিটির মাধ্যমে চালু করার চেষ্টা করা হচ্ছে মিলটি।

সুন্দরবন টেক্সটাইল মিল্স সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরার একমাত্র ভারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান এই মিলটি। ১৯৮৩ সালে সাতক্ষীরা শহর উপকণ্ঠের মাগুরা এলাকায় ৩০ একর জায়গায় স্থাপন করা হয় সুন্দরবন কেক্সটাইল মিলস। মিলটিতে একসময় দেড় হাজার শ্রমিক কাজ করতেন। মূল ইউনিট ও নীলকমল ইউনিটের আওতায় ৩৯ হাজারেরও বেশি টাকু ঘুরতো প্রতিনিয়ত। মিলের দুটি ইউনিটের সুতা উৎপাদন ক্ষমতা দৈনিক ১০ হাজার কেজি। তবে এর জৌলুস বেশি দিন থাকেনি। ক্রমাগত লোকসানের ফলে ২০০৭ সালে শ্রমিক-কর্মচারীদের বিদায় জানানো হয় গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে। পরে সার্ভিস চার্জ পদ্ধতিতে মিলটি চালু হয়। তাও টেকেনি বেশি দিন।

২০১৭ সালের শেষের দিকে মিলটি ভাড়ায় নেয় নারায়ণগঞ্জের ট্রেড লিংক লি.। লোকসান হতে থাকায় একবছর কয়েক মাস চালানোর পর ২০১৯ সালে আবারও বন্ধ ঘোষণা করা হয় মিলটি। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় মরিচা পড়ে নষ্ট হচ্ছে কয়েক কোটি টাকার যন্ত্রপাতি। প্রতিষ্ঠানটি দেখভালের জন্য বর্তমানে আটজন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োজিত আছেন। ৫ বছর মিলটি বন্ধ থাকায় বেকার জীবনযাপন করছেন এলাকার ৪০০ শ্রমিক। জেলার একমাত্র ভারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি অবিলম্বে চালু করতে সরকারি পৃষ্টপোষকতার দাবি শ্রমিকদের। এ বিষয়ে শ্রমিক রেজাউল হক রেজা বলেন, ‘আমি এখানে চাকরি করতাম। এখন সেটা বন্ধ হয়ে গেছে। মিলটা চালু হলে আমাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে।’

মিলটি চালুর দাবিতে কমিটি গঠন হয়েছে সম্প্রতি। পরিকল্পিতভাবে চালু করতে পারলে লাভবান হতে পারবেন কর্তৃপক্ষ- অভিমত শ্রমিক নেতাদের। এ বিষয়ে সুন্দরবন টেক্সটাইল মিলস চালু বাস্তবায়ন কমিটির দপ্তর সমন্বয়কারী শেখ শওকত আলী বলেন, ‘এই মিলের লাভ দিয়ে আমিন টেক্সটাইল মিল ও মাগুরা টেক্সটাইল মিল গঠিত হয়েছে। কিন্তু বিএনপি সরকারের ভ্রান্তনীতির কারণে আজ মিলটি দেউলিয়া হয়ে গেছে। সেসময় পাকিস্তানি তুলা আমদানি করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মিলটি। আমাদের দাবি, সরকার যেকোনোভাবে মিলটি চালু করুক।’

সুন্দরবন টেক্সটাইল মিলস চালু বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব মাগফুর রহমান বলেন, ‘সরকার লস দিয়ে মিল চালাবে না। পিপিপির মাধ্যমে বিটিএমসি ইতোমধ্যে তিনটি মিল চালু করেছে। ৩০ বছরের লিজে সেগুলো তারা চালাচ্ছে। তারা লাভবান হতে পারলে এই মিল চালু হতে পারবে না কেন।’ কমিটির আহ্বায়ক শেখ হারুন-উর-রশিদ বলেন, ‘সম্প্রতি মিলটি চালুর বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য আশরাফুজ্জামান আশু সংসদে জোরালো বক্তব্য রেখেছেন। মিলটি চালু না হলে একদিকে যেমন কয়েক কোটি টাকার যন্ত্রপাতি নষ্ট হবে, তেমনি আগে কর্মরত শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়বে।

চালুর বিষয়ে মিলটির বর্তমান ইনচার্জ শফিউল বাশার বলেন, ‘১৯৮০ সালে ২৯.৪৭ একর জায়গার ওপর এটি গড়ে ওঠে। ১৯৮৩ সালে এটি চালু হয়। দেড় হাজারেরও বেশি শ্রমিক একসময় কর্মরত ছিল। ১৯৯২ সালে মূল ইউনিটের বাইরে ‘নীলকমল’ নামে আরও একটি ইউনিট প্রস্তুত হয়। সুতা উৎপাদন থেকে থানকাপড় পর্যন্ত তৈরি হতো। তবে ক্রমাগত লোকসানের কারণে ২০০৭ সালে গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের কারণে শ্রমিক ও কর্মচারীদের বিদায় করা হয়। কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়ে যায় মিলটি দেখাশুনার জন্য। পরে সার্ভিস চার্জ পদ্ধতিতে মিলটি পরিচালিত হতো। তবে সেটাও বন্ধ হয়ে যায়। পরে ভাড়া পদ্ধতিতে চালানোর চেষ্টা চলে; কিন্তু বিদ্যুৎ সংকট ও মেশিনারিজ পুরোনো হওয়ায় ২০১৯ সাল থেকে আবারও বন্ধ হয়ে যায় মিলটি। আর চালানো সম্ভব হয়নি। আমি যতটুকু জানি, দূর অথবা অদূর ভবিষ্যতে পিপিপির (সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব) মাধ্যমে মিলটি চালানোর চিন্তা বিটিএমসির আছে।

তবে বাস্তবতার নিরিখে মিলটিকে চালানো সম্ভব নয় বিধায় টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট তৈরি করার চিন্তাও সরকারের মাথায় রয়েছে বলে জানান সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক হুমায়ুন করিব।

তিনি বলেন, ‘মিলটি বেশ আগে থেকে বন্ধ রয়েছে। বাস্তবতার নিরিখে ক্রমাগত লোকসান দিয়ে টেক্সটাইল মিলকে হয়তো আর চালু করা সম্ভব হবে না। আমরা চিন্তা করছি একটা ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট করা যায় কি না, যাতে শিক্ষার্থীরা এটা নিয়ে পড়ালেখা করতে পারে। আমি ডিসি সম্মেলনে এই প্রস্তাব দিয়েছি। বস্ত্র মন্ত্রণালয়ে এই প্রস্তাব দেওয়ার পরে তা তারা গ্রহণ করেছেন। তিন একর জায়গা লাগবে ইনস্টিটিউট করতে। বাকি জায়গা অন্যভাবে ব্যবহারের কথা ভাবছে মন্ত্রণালয়, যাতে ভিন্ন ধরনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যায়।’


উপজেলা নির্বাচন থেকে সরে গেলেন পলকের শ্যালক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাটোর প্রতিনিধি

নাটোরের সিংড়া উপজেলা পরিষদের নির্বাচন থেকে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী লুৎফুল হাবীব রুবেল। রুবেল ডাক টেলিযোগাযোগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের শ্যালক।

আজ রোববার নাটোরের গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে পাঠানো ভিডিও বার্তায় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন রুবেল।

ভিডিওতে নিজেকে ষড়যন্ত্রের শিকার দাবি করে লুৎফুল হাবীব রুবেল বলেন, ২০০২ সাল থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, ২০০৫ সালে সিংড়া গোল ই আফরোজ কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন, বর্তমানে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বরত। গত ৩ তারিখে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেন। ইউনিয়ন পরিষদেও পরপর তিনবার নির্বাচিত হন।

গত ৮ তারিখে উপজেলা পরিষদের নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেন। তারপর যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তার সঙ্গে তিনি জড়িত নন। তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে। তাকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে বিভিন্ন মহল সক্রিয় আছে।

রুবেল আরও বলেন, উপজেলা পরিষদের নির্বাচন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন যে, কোনো মন্ত্রী-সংসদ সদস্যের আত্মীয়-স্বজন নির্বাচন করতে পারবে না। তারই আলোকে এই ঘোষণার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এবং প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের নির্দেশনা অনুযায়ী মনোনয়নপত্রটি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন তিনি। অফিসিয়াল যে প্রক্রিয়াগুলো রয়েছে সেগুলো যত দ্রুত সম্ভব সম্পন্ন করবেন।

ভিডিও বার্তার বিষয়ে কথা বলতে লুৎফুল হাবীব রুবেলের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

সিংড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিংড়া পৌরসভার মেয়র মো. জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ভিডিওটি তাকেও পাঠানো হয়েছে এবং রুবেলের পক্ষের লোকজন ফোন দিয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের বিষয়টি তাকে জানিয়েছেন।


তীব্র গরমে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিদ্যুতের খুটিতে আগুন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২১ এপ্রিল, ২০২৪ ১৬:২৭
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

তীব্র দাবদাহে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের বিশ্বরোড মোড়ে একটি বিদ্যুৎতের খুটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

রোববার দুপুর ২টার দিকে খুটিতে আগুনের সুত্রপাত হয় বলে জানা যায়। সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে যায় আগুন। এতে ওই খুটিতে থাকা বিভিন্ন ইন্টানেট ও ডিস লাইন সংযোগের ক্যাবল পুড়ে যায়। কিছুটা ক্ষতিগ্রস্থ হয় বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনেরও। এছাড়াও বিদ্যুতের ওই খুটির নিচে থাকা আজিম আলী নামে এক তরমুজ বিক্রেতার দোকানের তরমুজও পুড়ে যায়।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট প্রায় ১০ মিনিটে চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে।

এদিকে আগুন নিয়ন্ত্রনে আসার ঘণ্টাখানের পর বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হলেও, লাইন পুড়ে যাওয়ায়, ওই এলাকার ইন্টারনেট ও ডিস সংযোগে সমস্যা দেখা দিয়েছে।চাঁপাইনবাবগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালাক শেখ মো. মাহবুবুল ইসলাম জানান, অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল, খবর পেয়ে আমরা দ্রুতই ঘটনাস্থলে গিয়ে তা নিয়ন্ত্রন করেছি। বড়ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।


মিয়ানমার নৌবাহিনীর গুলিতে বাংলাদেশি দুই জেলে আহত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদে মাছ শিকার করে ফেরার পথে মিয়ানমার নৌবাহিনীর গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বাংলাদেশি দুই জেলে।সেন্টমার্টিনের কাছাকাছি এলাকায় রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় আহত এক জেলেকে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হলেও আরেকজনকে গুরুতর অবস্থায় কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

টেকনাফ থানার ওসি মুহাম্মদ ওসমান গণি বলেন, ‘তাদের একজন টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ দক্ষিণ পাড়ার মোহাম্মদ ছিদ্দিকের ছেলে মোহাম্মদ ফারুক ও আরেকজন মাঝের ডেইল এলাকার মোহাম্মদ ইসমাইল।’

টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক প্রণয় রুদ্র বলেন, ‘আজ (রোববার) ১২টার দিকে দুইজন চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রথমে আমরা জানতে পারি তারা জেলে। একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে কক্সবাজার হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে ইসমাইল সামান্য আহত। তাকে টেকনাফে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। অন্যজন ফারুকের তিনটি গুলি লেগেছে ডান পায়ে ও বাম ঊরু এবং বাম হাতের আঙুলে।’

ট্রলারের মাঝি মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, ‘সেন্টমার্টিনের কাছাকাছি মাছ ধরা শেষে শাহপরীর দ্বীপ জেটি ঘাট দিয়ে ফিরছিলাম। এ সময় নাইক্ষ্যংদিয়া সংলগ্ন অংশে মিয়ানমার নৌবাহিনীর একটি জাহাজ আমাদের অতিক্রম করছিল। মিয়ানমার নৌবাহিনীর জাহাজ থেকে হঠাৎ আমাদের ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। এতে আমাদের দুই জেলে গুলিবিদ্ধ হয়। আমরা নাফ নদের বাংলাদেশের জলসীমায় ছিলাম এবং হাত উঁচু করে বাংলাদেশি পতাকা দেখিয়ে তাদের গুলি না করতে ইশারা করছিলাম। এরপরও তারা মানেনি; গুলি করতে থাকে।’

আহত জেলে মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, ‘এফবি মায়ের দোয়া ট্রলার নিয়ে গত চার দিন আগে ৯ জন মাঝিমাল্লা নিয়ে সাগরে মাছ ধরতে যাই। আজ (রোববার) ফেরার পথে সাগরে মিয়ানমারের অংশ অবস্থান নেয়া মিয়ানমারের নৌবাহিনীর একটি জাহাজ সংকেত দিয়ে তাদের দিকে যেতে বলে। ওটা মিয়ানমারের জলসীমা হওয়ায় তারা শাহপরীর দ্বীপের দিকে চলে আসতে থাকে। এ সময় পরপর গুলিবর্ষণ করে। এ ঘটনায় দুজন গুলিবিদ্ধ হন। অন্যরা অক্ষত আছে।’

বিষয়:

বেনাপোল দিয়ে পচনশীল পণ্য আমদানি প্রায় বন্ধ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাশেদুর রহমান রাশু, বেনাপোল (যশোর)

বেনাপোলের ওপারে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে উচ্চ পচনশীল পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে সিরিয়ালের নামে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রাক আটকে রাখা হয়। এ কারণে বেনাপোল দিয়ে পচনশীল পণ্য আমদানি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে আমদানিকারকরা এ বন্দর ছেড়ে চলে গেছে অন্য বন্দরে। বেনাপোল কাস্টমস হাউসে রাজস্ব আয়ে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। রাজস্ব আয়ের একটা বড় অংশ আসে পচনশীল পণ্য আমদানি থেকে।

ভারত থেকে পচনশীল পণ্যের একটা বড় অংশ আমদানি হয় বেনাপোল বন্দর দিয়ে। প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের ফল, মাছ, সবজি, ক্যাপসিকাম, কাঁচা মরিচসহ অন্যান্য পচনশীল পণ্য আমদানি হয় দুপুরের পরপরই। ফলে সন্ধ্যার আগেই এসব পণ্য খালাশ হয়ে চলে যায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। কিন্তু মাস খানেক ভারতীয় বন্দর কর্তৃপক্ষ সিরিয়ালের নামে পচনশীল পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে দুপুরের পর ২০ ট্রাক জেনারেল পণ্যের মাত্র ৫ ট্রাক পচনশীল পণ্যে রপ্তানি নিয়ম চালু করেছে। ফলে অধিকাংশ পচনশীল পণ্যচালান দিনের দিন প্রবেশ করতে না পেরে ওপারেই নষ্ট হচ্ছে। কোনো কোনো চালান সিরিয়াল পেয়ে রাতে প্রবেশের অনুমোতি পেলেও বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ রাতে কোনো পচনশীল পণ্য খালাশ না দেওয়ায় পরের দিন বন্দর থেকে ডেলিভারি দেওয়া হচ্ছে। ফলে অধিকাংশ পণ্য পচন ধরতে শুরু করে।

পচনশীল পণ্য আমদানিকারকদের দাবি, সকাল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত জেনারেল গুডস আমদানির অনুমতি দেওয়া হোক। শুধু পচনশীল পণ্যচালান আমদানির ক্ষেত্রে দুপুরের পর থেকে মাত্র ২-৩ ঘণ্টার জন্য একসঙ্গে সব পচনশীল পণ্যচালান আমদানির অনুমতি দিলে পচনশীল পণ্যচালান খুব দ্রুত সময়ে বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করতে পারবে। বাড়বে সরকারের রাজস্ব আয়। মাস খানেক আগেও এ বন্দর দিয়ে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ ট্রাক পচনশীল পণ্য আমদানি হতো। যা থেকে সরকার প্রতিদিন ১৮-২০ কোটি টাকার রাজস্ব আয় করছিল। ফলে বর্তমানে আমদানির সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫-১০ ট্রাকে। যদিও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড পচনশীলপণ্য দ্রুত খালাস ও নিষ্পত্তিকরণ বিধিমালা-২০২১ নামে একটি নতুন বিধিমালা জারি করে। যার আওতায় ৬৩ ধরনের পচনশীল পণ্যের শুল্কায়নসহ সব কর্মকাণ্ড দ্রুত শেষ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

চলতি বছরের ৩০ মার্চ ভারতীয় পেট্রাপোল কাস্টমসের সহকারী কমিশনার অনিল কুমার সিংহ স্বাক্ষরিত এক পত্র জারি করে পেট্রাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষের ম্যানেজারকে বলা হয়েছে। পচনশীল পণ্য দ্রুত রপ্তানির বিষয়টি সর্বাজ্ঞে প্রাধান্য দিতে হবে। এ আদেশ দ্রুত কার্যকর করতে বলা হলেও ভারতের পেট্রাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ তা করছেন না।

বেনাপোল আমদানিকারক সমিতির সভাপতি মহসিন মিলন জানান, পচনশীল পণ্য দ্রুত খালাশের নিয়ম থাকলেও ভারতের পেট্রাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ তা প্রতিপালন করছে না।

পচনশীল পণ্য দ্রুত আমদানিতে সিরিয়ালের নামে দীর্ঘসূত্রিতা প্রথা বাতিল করে আগের মতো আমদানির পণ্য দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের দাবি করেছে আমদানিকারকরা।

বেনাপোল বন্দর পরিচালক মো. রেজাউল করিম বলেন, সমস্যা সমাধানের জন্য ইতোমধ্যে পেট্রাপোল পোর্ট ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলেছি। ব্যবসায়ীদের সমস্যার কথা জানিয়েছি। অন্যান্য পণ্যের সঙ্গে পচনশীল পণ্যের গাড়ির সারাদিন বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে, সে অনুযায়ী সিরিয়াল মেইনটেন করতে তাকে আমি অনুরোধ করেছি।

বেনাপোল কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার মো. শাফায়েত হোসেন জানান, বেনাপোলের ওপারে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে সিরিয়ালের নামে পচনশীল পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য রপ্তানিতে বিলম্ব হচ্ছে। ফলে বেনাপোল বন্দরে আগের তুলনায় আমদানি কমে গেছে। বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি কমে যাওয়ায় রাজস্ব আদায়ও অনেক কমে গেছে।

বিষয়:

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে ৭ কোটি ৭৮ লাখ টাকা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলেছে সাত কোটি ৭৮ লাখ ৬৭ হাজারের বেশি টাকা। দিনভর গণনা শেষে কিশোরগঞ্জের আলোচিত মসজিদটিতে এ পরিমাণ অর্থ পাওয়ার কথা শনিবার রাত দুইটার দিকে জানান জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ।

তিনি আরও জানান, শনিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে মসজিদের ৯টি দানবাক্স খোলার পর টাকাগুলো প্রথমে বস্তুায় ভরে মসজিদের দ্বিতীয় তলার মেঝেতে ঢালা হয়। পরে দিনভর গণনা শেষে সাত কোটি ৭৮ লাখ ৬৭ হাজার ৫৩৭ টাকা পাওয়া যায়। এ ছাড়াও বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালংকার পাওয়া গেছে। জেলা শহরের ঐতিহাসিক মসজিদের ৯টি দানবাক্স প্রতি তিন মাস পরপর খোলা হয়। রমজানের কারণে এবার বাক্সগুলো খোলা হয়েছে চার মাস ১০ দিন পর।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক কাজী মহুয়া মমতাজের তত্ত্বাবধানে ডিসি মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ ও পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ রাসেল শেখের উপস্থিতিতে শনিবার সকালে দানবাক্সগুলো খোলা হয়। ৯টি দানবাক্স খুলে ২৭ বস্তা টাকা পাওয়া যায়।

দানবাক্সগুলো খোলার পর গণনা দেখতে মসজিদের আশপাশে ভিড় করেন উৎসুক মানুষ। তাদের মধ্যে অনেকে আসেন দূরদুরান্ত থেকে।

টাকা গণনা কাজে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ছাড়াও মাদ্রাসার ১১২ ছাত্র, ব্যাংকের ৭০ জন স্টাফ, মসজিদ কমিটির ৩৪ জন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১০ জন সদস্য অংশ নেন।

এর আগে ২০২৩ সালের ৯ ডিসেম্বর তিন মাস ২০ দিন পর দানবাক্সগুলো খোলা হয়েছিল। তখন ২৩টি বস্তায় ছয় কোটি ৩২ লাখ ৫১ হাজার ৪২৩ টাকা পাওয়া যায়।

ঐতিহাসিক এ মসজিদের দানবাক্সে একসঙ্গে এত টাকা পাওয়াটা তখন ছিল রেকর্ড। এবার সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

মসজিদে নগদ টাকা ছাড়াও নিয়মিত হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র দান করেন বিভিন্ন জেলা থেকে আসা অসংখ্য মানুষ। দানবাক্সে টাকার সঙ্গে থাকে বিভিন্ন ধরনের মূল্যবান অলংকারও।

পাগলা মসজিদ কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন ডিসি। আর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পৌরসভার মেয়র মো. পারভেজ মিয়া।

মেয়র পারভেজ মিয়া জানান, পাগলা মসজিদের দানের টাকায় আন্তর্জাতিক মানের একটি ইসলামি কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে। কমপ্লেক্সটি এশিয়া মহাদেশের মধ্যে অন্যতম স্থাপত্য হিসেবে বানানো হবে। এ জন্য আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৫ থেকে ১২০ কোটি টাকা। সেখানে একসঙ্গে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। ২০০ গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। এ ছাড়া একসঙ্গে পাঁচ হাজার নারীর নামাজের জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকবে।

মসজিদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বীর মুক্তিযোদ্ধা শওকত উদ্দিন ভূইয়া জানান, করোনাভাইরাস সংক্রমণের শুরুতে মসজিদে মুসল্লিদের চলাচল এবং নারীদের প্রবেশাধিকার বন্ধ থাকলেও দান অব্যাহত ছিল।

তিনি আরও জানান, পাগলা মসজিদ ও ইসলামি কমপ্লেক্সের খরচ চালিয়ে দানের বাকি টাকা ব্যাংকে জমা রাখা হয়। এ থেকে জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় অনুদান দেয়া হয়। অসহায় ও জটিল রোগে আক্রান্তদের সহায়তাও করা হয়। তা ছাড়া সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের করোনা ইউনিটে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবকদেরও এ দানের টাকা থেকে সহায়তা করা হয়েছে।

মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি খলিলুর রহমান জানান, প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এসে দান করে থাকেন এ মসজিদে। যারা দান করতে আসেন, তারা বলে থাকেন, এখানে দান করার পর তাদের আশা পূরণ হয়েছে। তাই এখানে দান করেন তারা।

জেলা শহরের হারুয়া এলাকায় নরসুন্দার তীরে প্রায় ১০ শতাংশ জমিতে পাগলা মসজিদ গড়ে ওঠে। বর্তমানে সেটি সম্প্রসারিত হয়ে ৩ একর ৮৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।


আজ ১২ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না না.গঞ্জের যে এলাকায়

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২১ এপ্রিল, ২০২৪ ১০:২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

গ্যাসের পাইপলাইনের জরুরি কাজের জন্য আজ রোববার টানা ১২ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায়।

গতকাল শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় তিতাস গ্যাস কোম্পানি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্যাস পাইপলাইনের জরুরি কাজের জন্য রোববার সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টা নারায়ণগঞ্জের নয়াপুর, কুতুবপুর, আড়াইহাজার রোড, মদনপুর থেকে লাঙ্গলবন্দ ব্রিজ, বন্দর, কাঁচপুর ও যাত্রামুড়া এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

এসব এলাকার আবাসিক, সিএনজিসহ সব গ্রাহকদের গ্যাস বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া ওই সময়ে আশপাশের এলাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করতে পারে।


সেন্টমার্টিনে ক্যাম্পেইন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নৌবাহিনীর জাহাজ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সেন্টমার্টিন দ্বীপে মেডিকেল ক্যাম্পেইন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ সমুদ্র জয়। শনিবার দিনব্যাপী এ পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও মেডিকেল ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়।

শনিবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দ্বীপের প্রায় এক হাজার রোগীর মধ্যে ২৩ হাজার ৭১৭ ইউনিট ওষুধ বিনা মূল্যে বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি জাহাজের নৌ সদস্যরা দ্বীপটিতে সুসজ্জিত দলে বিভক্ত হয়ে উত্তর-পূর্ব সৈকত থেকে এ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করে এবং সৈকত থেকে আনুমানিক ৩০০ কেজি বর্জ্য পদার্থ সংগ্রহ করে।

সেন্টমার্টিন দ্বীপে আগত ভ্রমণপ্রেমী পর্যটকদের কাছে পরিবেশ রক্ষায় করণীয় এবং দ্বীপবাসীর উদ্দেশে ব্যানার, ফেস্টুন ও প্লাকার্ডের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণবিষয়ক বিভিন্ন বার্তা তুলে ধরা হয়। সেন্টমার্টিন দ্বীপের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ দ্বীপটি রক্ষা করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে সেন্টমার্টিন দ্বীপের সাধারণ জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যায়।


গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে গ্রামে গ্রামে ঘুরছি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সামন্ত লাল সেন বলেছেন, ‘আমরা স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন করতেছি। গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে আমি গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়াচ্ছি। স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন করে দেশের সব প্রাইভেট হাসপাতালে রোগনির্ণয় পরীক্ষার ফি নির্ধারণ করা হবে।’

শনিবার দুপুরে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কাশিমপুর থানাধীন তেঁতুইবাড়ি এলাকায় শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতাল পরিদর্শনে এসে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘এ এলাকায় এত বড় একটা হাসপাতাল প্রধানমন্ত্রী মায়ের নামে। আমরা এটাকে আরও সচল করব যেন সাধারণ মানুষকে আরও ভালো সেবা দিতে পারি। এখানে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি আছে।’

সামন্ত লাল সেন বলেন, ‘গাজীপুরে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতালকে আরও সচল করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষকে আরও ভালো সেবা দিতে পারি। এ হাসপাতালে অত্যাধুনিক সব যন্ত্রপাতি রয়েছে।’

এই হাসপাতালে চিকিৎসা খরচ বেশি এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘এগুলো আমরা সমন্বয় করার চেষ্টা করব। আলোচনা করে এসব ঠিক করা হবে।’

ওই সময় উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী মোহাম্মদ নাজমুল হাসান পাপন, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক আবুল ফাতে মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাউছার আহমেদ, হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত মেডিকেল পরিচালক জে এম এইচ কাওসার আলম, প্রধান নার্সিং কর্মকর্তা রুযিতা মোহাম্মদ দান, সিভিল সার্জন মাহমুদা আক্তার, কালিয়াকৈর সহকারী কমিশনার (ভূমি) রজব বিশ্বাস, টঙ্গী সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) তামান্না জোতি, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (কোনাবাড়ী জোন) আমির হোসেন, কাশিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছানোয়ার জাহান প্রমুখ।

মন্ত্রী হাসপাতালের বিভিন্ন ফ্লোর, অফিস কক্ষ পরিদর্শন ও হাসপাতালের অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন।


শসার মণ ৮০ টাকা, খেতেই ফেলে দিচ্ছেন কৃষক

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে প্রতি মণ শসা বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকা দামে। শসার ন্যায্য দাম না পাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে চাষিদের। অনেকেই হতাশ হয়ে পড়েছেন আবার অনেক কৃষকই লোকসানের ভয়ে খেতের শসা খেতেই রেখে দিচ্ছেন।

শনিবার দুপুরে উপজেলার কয়েকটি গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, খেত থেকে শসা তুলছেন কৃষকরা। কেউ পাইকারি দামে প্রতি কেজি শসা দুই টাকা আড়াই টাকা দামে বিক্রি করছেন। কেউ শসা তুলে খেতেই ফেলে দিচ্ছেন, কেউবা খেত থেকে শসা তুলছেনই না।

উপজেলার অচিন্তপুর গ্রামের শসাচাষি আমিনুল হক শাহীন বলেন, ‘এবার ৪০ শতাংশ জমিতে শসার আবাদ করেছি। ফলনও ভালো হয়েছে। প্রথম দিকে ৮০-৯০ টাকা মণ বিক্রি করলেও এখন খেতেই যাই না। বর্তমানে ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। শসা বিক্রি করে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় শ্রমিকদের মজুরি দিয়ে শসা উত্তোলন করে কোনো লাভ নেই। খেতের মধ্যেই শসা লাউয়ের মতো বড় হচ্ছে, পচতেছে।’

মোবারকপুর গ্রামের চাষি আলী বলেন, ‘৩০ শতাংশ জমিতে শসা চাষ করেছি। ফলন দেখে খুশি হয়েছিলাম কিন্তু বর্তমানে শসা তুলে বাজারে নিয়ে গেলে বিক্রি হচ্ছে না। পরে ২ টাকা দরে এক পরিচিত পাইকারের কাছে ৯০-১০০ মণ বিক্রি করেছি। বাজারদরে হতাশ হয়ে পড়েছি। লাভ তো দূরের কথা খরচ তোলাই দায় হয়ে পড়েছে।’

ব্যবসায়ী মিন্টু মিয়া বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন কৃষকের কাছ থেকে শসা ১০০ টাকা মণ কিনে সিলেটে বিক্রি করি ২০০ টাকা মণ। বর্তমানে এক ট্রাক শসা পাঠাতে মণপ্রতি আড়তদারকে দিতে হয় ২০ টাকা, লেবার খরচ হয় ১৫ টাকা, বস্তা ক্রয় করতে হয় ২০ টাকায় এবং পাঠাতে ভাড়া লাগে ২২ হাজার টাকা। এই টাকা খরচ করে সিলেটে শসা পাঠালে এখন আর আমাদের লাভ হয় না, লোকসান গুণতে হচ্ছে।’

ইছুলিয়া গ্রামের ব্যবসায়ী আশরাফুল ইসলাম আশরাফ বলেন, ‘এখন শসার ব্যবসা করে আমরা লোকসানের মধ্যে আছি। আমাদের ২-৩ লাখ করে লস হচ্ছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিন জলি বলেন, রমজান মাসকে সামনে রেখে গৌরীপুরে কৃষকরা অধিক পরিমাণে শসা উৎপাদন করেছে এবং বাম্পার ফলন হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় বাজারে আমদানিও বেশি। তাই দাম দ্রুত কমে যাচ্ছে। এতে দাম কমে যাওয়ায় কৃষকদের লাভ কম হচ্ছে।


পাবনায় তাপমাত্রা ৪১.৬, হিটস্ট্রোকে একজনের মৃত্যু

আপডেটেড ২০ এপ্রিল, ২০২৪ ১৮:০৬
পাবনা প্রতিনিধি:

তীব্র দবদাহে পুড়ছে সারা দেশ। ৪১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা নিয়ে পুড়ছে পবনার ঈশ্বরদী শহর। অসনীয় গরমে অতিষ্ঠ জেলার জনজীবন। এটিই চলতি মৌসুমে পাবনা জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। তীব্র দাবদাহে পাবনা শহরে হিটস্ট্রোকে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার দুপুরে পাবনা শহরের রুপকথা রোডে একটি চায়ের দোকানে চা খাওয়ার সময় হিটস্ট্রোক করেন তিনি। এসময় আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত সুকুমার দাস (৬০) পাবনার শহরের শালগাড়িয়া জাকিরের মোড়ের বাসিন্দা।

ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের সহকারী পর্যবেক্ষক নাজমুল হক রঞ্জন জানান, কয়েকদিন ধরেই পাবনায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। আজকে রেকর্ড করা হয়েছে ৪১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস । এর আগে, এ বছর এতো তাপমাত্রা রেকর্ড হয়নি। ঈশ্বরদীসহ আশপাশের এলাকাজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বইছে। এ তাপমাত্রা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে জেলায় তীব্র গরমে মানুষের হাঁসফাঁস অবস্থা। তীব্র এই তাপপ্রবাহে সব থেকে সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন শ্রমজীবী মানুষ। জীবন-জীবিকার তাগিদে তীব্র রোদে কাজ করতে হচ্ছে খেটে খাওয়া মানুষদের। বাইরে বের হওয়ার সময় অনেকেই ছাতা নিয়ে বের হচ্ছেন।

বিষয়:

banner close