খুলনার রূপসায় একটি বেসরকারি জুট মিলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার বিকেলে রূপসার জাবুসা এলাকার সালাম জুট মিলে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
খুলনা ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বে থাকা মো. আব্দুল কাদির গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘বিকেল ৫টা ৩৮ মিনিটে আগুন লাগার সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কয়েকটি ধাপে মোট ১৬টি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’
আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ১৬টি ইউনিট। কয়েকটি ধাপে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো যায় বলে জানা গেছে। তবে প্রথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে কিছুই জানা যায়নি।
উদ্ভাবননির্ভর স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয়ে যশোরের কেশবপুরে হয়ে গেলো ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ও ১০ম জাতীয় বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড-২০২৬। দুই দিনের বিজ্ঞান মেলা বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলায় জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি যাদুঘরের তত্ত্বাবধান এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতা ছিল। গত বুধবার (৮ এপ্রিল) শুরু হওয়া এ মেলায় শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের ব্যাপক আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, সৃজনশীলতা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা গড়ে তুলতে এ ধরনের বিজ্ঞান মেলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে হলে আমাদের বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণার ওপর আরও জোর দিতে হবে।
বিশেষ অতিথি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শেখ ফিরোজ হোসেন বলেন, বিজ্ঞান শিক্ষা কেবল বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। এর ব্যবহারিক প্রয়োগ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের বাস্তব ধারণা থাকতে হবে। বিজ্ঞান মেলা শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শেখার সুযোগ সৃষ্টি করে এবং তাদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা ও অনুসন্ধিৎসা বৃদ্ধি করে।
মেলায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা নানা উদ্ভাবনী ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রকল্প প্রদর্শন করে দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। বিশেষভাবে আকর্ষণ করে স্মার্ট সিটি, সোলার পাওয়ার ভিলেজ, স্মার্ট হাইওয়ে লাইটিং, অ্যাকুয়া ভোল্ট এবং বাতাসের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রযুক্তি।
প্রতিযোগিতার ফলাফলে সিনিয়র গ্রুপে কেশবপুর সরকারি পাইলট উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আনিকা জামান প্রাপ্তি প্রথম, বুশরা ইবনাত দ্বিতীয় এবং কেশবপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের তমাল মল্লিক তৃতীয় স্থান অর্জন করে। একই কলেজের আরিয়ান জাহিন আরাফ ও অর্থী ঘোষ যথাক্রমে চতুর্থ ও পঞ্চম স্থান লাভ করে।
জুনিয়র গ্রুপে মঙ্গলকোট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জুবায়ের রহমান সায়িব প্রথম, কেশবপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সামিয়া নেওয়াজ দ্বিতীয় এবং মোহসিনা ইসলাম তৃতীয় স্থান অর্জন করে। একই বিদ্যালয়ের সাওদা নেওয়াজ ও নন্দিতা দাশ চতুর্থ ও পঞ্চম স্থান অধিকার করে।
এ ছাড়া বিজ্ঞান কুইজ প্রতিযোগিতায় সাগরদাঁড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রথম, মঙ্গলকোট মাধ্যমিক বিদ্যালয় দ্বিতীয় এবং কেশবপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় তৃতীয় স্থান লাভ করে।
একটি আধুনিক নিরাপদ ও উন্নত জনপদ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে ত্রিশালের টেকসই উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন জাতীয় সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন। বিশেষ করে অবহেলিত জনপদের যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং জননিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তিনটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের রূপরেখা প্রকাশ করেছেন তিনি।
ডা. লিটন জানান, একটি উন্নত জনপদ গড়ার পূর্বশর্ত হলো নিরাপদ যোগাযোগ এবং সুশৃঙ্খল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। সাধারণ মানুষের ভালোবাসার মর্যাদা রক্ষা করতেই তিনি প্রতিটি ইউনিয়নের অবকাঠামোগত উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় আসন্ন ৩টি অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ব্রহ্মপুত্র নদের তীরের অবহেলিত জনপদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতে ‘বালিপাড়া-চর মাদাখালী ব্রিজ’ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই ব্রিজটি নির্মিত হলে যোগাযোগ বিড়ম্বনা দূর হওয়ার পাশাপাশি ওই অঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র আমূল বদলে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি হবে চরাঞ্চলের মানুষের জন্য এক বড় মাইলফলক। এছাড়াও ধানীখোলা ও বৈলর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলের বর্তমান জীর্ণ দশা দূর করতে একটি আধুনিক ও প্রশস্ত সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই সেতুটি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও যাতায়াতে নতুন গতির সঞ্চার করবে এবং শিল্পায়নের পথ সুগম করবে। জনসংখ্যা ও ভৌগোলিক গুরুত্ব বিবেচনায় বালিপাড়ায় একটি স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা এখন সময়ের দাবি। জনমালের নিরাপত্তা ও দ্রুত আইনি সেবা নিশ্চিত করতে এই প্রকল্পটি ডা. লিটনের অগ্রাধিকার তালিকার শীর্ষে রয়েছে।
এমপি লিটন বলেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে প্রতিটি কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই আমার বড় সফলতা। আপনাদের দোয়া ও সমর্থন নিয়ে আমরা একটি আধুনিক, নিরাপদ ও উন্নত ত্রিশাল গড়ে তুলবো ইনশাআল্লাহ। এসব মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের খবরে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর মতে, এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে ত্রিশাল মডেল উপজেলা হিসেবে সারাদেশে সমাদৃত হবে।
দখল, দূষণ এবং খননের অভাবে মরা খালে পরিণ হয়ে গেছে ঝিনাইদহের নদ-নদীগুলো। জেলার নবগঙ্গা, চিত্রা, কুমার, ইছামতি, ডাকুয়া, কপোতাক্ষসহ বেশিরভাগ নদী এখন মৃতপ্রায়। এতে শুধু প্রাকৃতিক ভারসাম্যই নয়, হুমকির মুখে পড়েছে জীববৈচিত্র্য ও স্থানীয় অর্থনীতি। জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় নদীর এই অবস্থা।
জেলা শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত একসময়ের খরস্রোতা নবগঙ্গা নদী দিয়ে একসময় চলাচল করত বড় বড় নৌকা। সেই নদীতে এখন গরু চড়ে। নদীর তলদেশজুড়ে জমেছে ময়লা-আবর্জনা, বিভিন্ন স্থানে জেগে ওঠেছে চর। এসব চর দখল করে স্থানীয় প্রভাবশালীরা চাষাবাদ ও অন্য কাজে ব্যবহার করছেন।
একই চিত্র-চিত্রা, কুমার, গড়াই, ইছামতি, ও কপোতাক্ষহর ১২টি নদ-নদীর। কোথাও উৎসমুখে দেওয়া হয়েছে বাঁধ, কোথাও করা হয়েছে নদীর তীর দখল। এসব কারণে ক্রমাগত কমছে নদীর প্রশস্ততা ও গভীরতা। ফলে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে পানির প্রবাহ, কমে যাচ্ছে মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর আবাসস্থল।
ঝিনাইদহ খাজুরা এলাকার বাসিন্দা বীরেন হালদার বলেন, ‘একসময় এই নদীতে মাছ ধরে আমাদের জীবিকা চলত। এখন নদী ভরাট হয়ে গেছে, পানি নেই বললেই চলে। দ্রুত খনন না করলে নদী পুরোপুরি হারিয়ে যাবে।’
আরাপপুর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা রহিমা খাতুন বলেন, ‘আগে আমাদের এই নদীতে অনেক পানি থাকত। গা-গোসল, ধোয়া-কাচার কাজ করতাম, এখন একটুও পানি থাকে না।’
ঝিনাইদহ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, ‘নদী পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে প্রথমেই উৎসমুখে নির্মিত বাঁধ অপসারণ জরুরি। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে হলে উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। শুধু খনন করলেই হবে না, দখলমুক্ত ও দূষণ নিয়ন্ত্রণও নিশ্চিত করতে হবে।’
এ ব্যাপারে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ বলেন, ‘নদী দখলমুক্ত করতে পর্যায়ক্রমে অভিযান পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি নদীর প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।’
প্রশাসনের তথ্যানুযায়ী, ঝিনাইদহের ৬ উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ১২টি নদ-নদীর মোট আয়তন ১ হাজার ৬৪১ দশমিক ৭৫ হেক্টর। তবে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে এসব নদীর অস্তিত্ব পুরোপুরি বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
মামলার বাদী ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা মোঃ হোসেন (৪০), যিনি পেশায় একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক এবং বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি জানান, তার মেয়ে লামিয়া আক্তার স্থানীয় কুতুবা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একজন নিয়মিত ছাত্রী। মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে— মোঃ হৃদয় (২০), মোঃ রিপন (৩৫), মোঃ রাকিব (৩৬) এবং মনি বেগম (৫৫)-কে। তাদের সবার বাড়ি বোরহানউদ্দিন পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রধান অভিযুক্ত হৃদয় দীর্ঘদিন ধরে লামিয়াকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল এবং বিভিন্নভাবে তাকে উত্ত্যক্ত করত। বিষয়টি মেয়েটি তার পরিবারকে জানালে প্রথমে সামাজিক কারণে পরিবার বিষয়টি গোপন রাখে। পরে অভিযুক্তের পরিবারকে জানানো হলে তারা কোনো কার্যকর সমাধান না দিয়ে উল্টো মেয়েটির সঙ্গে হৃদয়ের বিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়, যা ভুক্তভোগীর পরিবার প্রত্যাখ্যান করে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২৮ মার্চ ২০২৬ তারিখ সকাল সাড়ে ৮টার দিকে লামিয়া প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়। সে যখন পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের খেয়াঘাট সড়কে পৌঁছায়, তখন পূর্বপরিকল্পিতভাবে অভিযুক্তরা তাকে জোরপূর্বক অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে অভিযুক্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদী তার এজাহারে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, অভিযুক্তরা তার মেয়েকে গুরুতর ক্ষতির সম্মুখীন করতে পারে। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত) এর ৭/৩০ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনার পর অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে অভিযুক্ত রিপনের স্ত্রী জানান, তার স্বামী, দেবর ও শাশুড়ি বাড়িতে নেই এবং তারা কোথায় অবস্থান করছেন সে সম্পর্কে তিনি অবগত নন।
এদিকে, ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “স্কুলে যাওয়া একটি মেয়ের সঙ্গে এমন ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
একজন শিক্ষক বলেন, “বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।”
এলাকার সচেতন মহল দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
সীতাকুণ্ডে এক কিশোর এগারো দিন ধরে নিখোঁজ। উপজেলার বাড়বকুণ্ড নতুনপাড়া হাসেম নগরের বাসিন্দা কিশোর সায়েম শাহেদ ভূঁইয়া (১৫) গত ১১ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। পরিবারের একমাত্র আদরের সন্তান নিখোঁজ হওয়ায় হতবাক হয়ে পড়েছেন তার বাবা আনোয়ার শাহদাত ভূঁইয়া ও মা শাহিনা আক্তার লিপি ।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ মার্চ ২০২৬, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক সাড়ে সাতটার দিকে শাহেদ বাড়ীর পাশেই মসজিদে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। কিন্তু সেই গিয়ে আর ফিরেনি শাহেদ । রাত গভীর হলেও ছেলে বাড়ি না ফেরায় উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন পরিবারের সদস্যরা। এরপর শুরু হয় খোঁজাখুঁজি—আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী, পরিচিত সব জায়গায় খোঁজ নিয়েও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।
পরদিন শাহেদের মা সীতাকুণ্ড মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৬১, তারিখ: ০১-০৪-২০২৬) করেন। কিন্তু ১১ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো খোঁজ না মেলায় পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক ও উৎকণ্ঠা।
নিখোঁজ শাহেদের মা শাহিনা আক্তার লিপি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলেটা কোথায় আছে জানি না… বেঁচে আছে কিনা তাও জানি না। প্রতিদিন দরজার দিকে তাকিয়ে থাকি—এই বুঝি ফিরে আসবে। কেউ যদি আমার ছেলেকে দেখে থাকেন, দয়া করে জানাবেন।
এদিকে এলাকাবাসীর মধ্যেও এ ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। দ্রুত শাহেদের সন্ধান পেতে প্রশাসনের সর্বোচ্চ সহায়তা কামনা করছেন তারা। নিখোঁজ শাহেদের পরিবারের হাসি আজ কান্নায় পরিণত হয়েছে সবাই এখন শুধু অপেক্ষায় রয়েছে “শাহেদ কখন ফিরবে ।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো মাহেনুল ইসলাম জানিয়েছেন , তার পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছে । পুলিশ চেষ্টা করে যাচ্ছে নিখোঁজ শাহেদের সন্ধানে ।
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় পরিত্যক্ত ঘর থেকে জবাই করা কয়েকটি ঘোড়া ও একটি জীবিত ঘোড়া উদ্ধারের ঘটনায় অবৈধ মাংস বিক্রেতা চক্রের প্রধান অভিযুক্ত রাজিব শিকদারকে আটক করেছে গজারিয়া থানা পুলিশ। এর আগে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) এই চক্রের আরও চার সদস্যকে আটক করা হয়েছিল।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে চারটায় উপজেলার গজারিয়া আনারপুরা বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। আটককৃত রাজিব শিকদার (৩৬) উপজেলার ভবেরচর ইউনিয়নের আনারপুরা গ্রামের মৃত বাবুল শিকদারের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত ৮ এপ্রিল ভোরে আনারপুরা গ্রামের একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে গরুর মাংস হিসেবে বিক্রির উদ্দেশ্যে জবাই করা কয়েকটি ঘোড়া ও একটি জীবিত ঘোড়া উদ্ধার করে স্থানীয়রা। সে সময় প্রধান অভিযুক্ত রাজিব ও তিতাসসহ কয়েকজন পিকআপ ভ্যানে করে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর চক্রের অন্য সদস্যরা পালিয়ে থাকলেও রাজিব এলাকায় ফিরে এসে আত্মগোপন করে। শুক্রবার বিকেলে আনারপুরা বাস স্ট্যান্ড এলাকা থেকে পুলিশ তাকে আটক করে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজিব মাদকাসক্ত এবং মূলত বন্ধুদের সাথে নেশা করার উদ্দেশ্যেই সে এলাকায় ফিরে এসেছিল।
এর আগে বৃহস্পতিবার গজারিয়া ও গাজীপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই চক্রের আরও চার সদস্যকে আটক করে পুলিশ। শুক্রবার বিকেলে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, আটককৃতরা হলো, মাদারীপুর জেলার কালকিনির রুবেল (৩৯), নওগাঁর সৌরভ (২১), গাজীপুরের টঙ্গীর সোহেল গাজী (২১) ও একই এলাকার ইয়াসিন আরাফাত (২১)। অপরাধীদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সেখানে মোট দশটি ঘোড়া ছিল যার মধ্যে নয়টি জবাই করা হয়েছিল এবং একটি অসুস্থ ঘোড়া জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
প্রধান অভিযুক্ত রাজিবের আটকের বিষয়ে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাসান আলী বলেন, "এই চক্রটি রাজিব ও তিতাসের নেতৃত্বে পরিচালিত হতো। রাজিব আটক হয়েছে এখন তিতাসকে আটকের চেষ্টা চলছে। আশা করছি দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে। রাজিবসহ এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট পাঁচজন আটক হলো।"
রাজবাড়ী গোয়ালন্দ পৌরসভা ৪ নং ওয়ার্ড ক্ষুদিরাম সরদার পাড়া এলাকার সুজিত মন্ডলের স্ত্রী স্বামী পরিত্যক্তা শিখা রানী (৪০) কে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে ছেলে গোবিন্দ ঘোষ (১৯)।
স্থানীয় ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দিবাগত রাত ৩ টার দিকে ছেলে গোবিন্দ ঘোষ (১৯) নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তার ঘুমন্ত মায়ের উপর দা দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। শিখা রানীর ডাক চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে গেলে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানেও তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
পারিবারিক সূত্রে আরও জানা যায়, ঘটনার সময় ভিকটিমের বাড়ির অন্যান্য লোকজন গোবিন্দ ঘোষ (১৯) কে ঘরের মধ্যে আটক রেখে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় খবর দিলে থানায় কর্মরত এস আই মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্স সহ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ১টি রক্ত মাখা দা, বিছানায় পড়ে থাকা মাথার চুল, রক্তমাখা বিছানার চাদর জব্দ করে আসামি গোবিন্দ ঘোষ (১৯) কে হেফাজতে নেন। আসামি গোবিন্দ এর আগেও নেশা করার টাকার জন্য মায়ের সাথে ঝগড়া করেতেন।
এ ব্যাপারে গোয়ালন্দ ঘাট থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আসামীকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
বরিশালে সংক্রামক রোগ হাম উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে বরিশাল বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ জনে।
স্বাস্থ্য বিভাগ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দুই শিশুর মৃত্যু হয়।
মৃতরা হলো,বানারীপাড়া উপজেলার চাখার ইউনিয়নের বাসিন্দা হাবিবুর রহমানের ৯ মাস বয়সী ছেলে রাকিব এবং মুলাদী উপজেলার কাজিরচর ইউনিয়নের বাসিন্দা রাজিবের মেয়ে সাদিয়া। তারা ৮ এপ্রিল দুপুরে হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় এবং শুক্রবার ভোরে প্রায় এক ঘণ্টার ব্যবধানে মারা যায়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে শেবাচিম হাসপাতালে ৯২ জন শিশু হাম উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩১ জন শিশু ভর্তি হয়েছে এবং একই সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২৮ জন। চলতি বছরের ১০ এপ্রিল সকাল পর্যন্ত মোট ৩৪১ জন শিশু এই রোগে চিকিৎসা নিয়েছে।
অন্যদিকে, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৭৫১ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৫৬৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হয়েছে ৭২ জন এবং সুস্থ হয়েছে ৬১ জন। একই সময়ে আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের।
স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, শিশুদের মধ্যে দ্রুত হারে হাম ছড়িয়ে পড়ছে, যা পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক করে তুলেছে। এ অবস্থায় শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। দেশের বিভিন্ন এলাকায়ও হামের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় জনস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। চলতি বছরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (রামেক)-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় এ পর্যন্ত ৫০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কে বিশ্বাস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, একই সময়ে নতুন করে ২৭ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন, অন্যদিকে চিকিৎসা শেষে ২৪ জন হাসপাতাল ছেড়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে এ ধরনের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩২ জনে। চলমান প্রাদুর্ভাবের মধ্যে এখন পর্যন্ত মোট ৪৭৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
সাম্প্রতিক এক সপ্তাহের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার চার শিশু মৃত্যুর আগে বুধবার তিনজন, মঙ্গলবার একজন, সোমবার দুইজন, রোববার দুইজন, শনিবার তিনজন এবং শুক্রবার একজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, আক্রান্তদের বড় অংশই শিশু হওয়ায় ঝুঁকির মাত্রা বেশি। জ্বর, ফুসকুড়ি, কাশি ও চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি, কারণ দেরি হলে জটিলতা বাড়ে এবং মৃত্যুঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান জোরদার, আক্রান্তদের আলাদা রাখা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন চিকিৎসকরা। তাদের সতর্কবার্তা, সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও গুরুতর রূপ নিতে পারে।
সোনালি মুরগির দাম ঈদের পর গত ২০ দিনে কেজিতে বেড়েছে প্রায় ১০০ টাকা। বছরের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ৫২ শতাংশ। পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়া ও সরবরাহ সংকটের কারণে দাম বাড়ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে খামারিদের দাবি, করপোরেট হাউসগুলোর কারসাজির পাশাপাশি বাচ্চা ও ফিডের দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচ দ্বিগুণ হয়েছে। অন্যদিকে সিন্ডিকেট ও বাজার তদারকির অভাবকে দায়ী করছেন ক্রেতারা।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় বাজারে সোনালি মুরগির দাম বেড়েছে ৫২ শতাংশ। আর গত এক মাসের ব্যবধানে বেড়েছে প্রায় ২৭ শতাংশ।
খামারিদের দাবি, বড় করপোরেট হাউসগুলোর কারসাজিতে উৎপাদন খরচ দ্বিগুণ হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে সরবরাহ ব্যবস্থায়। এতেই বাড়ছে দাম।
একজন খামারি বলেন, ‘ফিডের দাম তিন মাস, ছয় মাস পরপর দেখা যায় যে দুইশ–আড়াইশ টাকা করে বেড়ে যায়।’
বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুমন হাওলাদার বলেন, বড় বড় করপোরেট গ্রুপ যারা আছেন, তাদের কারসাজিতে আমাদের উৎপাদন খরচ দ্বিগুণ হয়েছে। এর বিপরীতে আমরা ন্যায্যমূল্য না পেয়ে খামার বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছি।
গত কয়েক দিনে খামারিদের কাছ থেকে ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে সোনালি মুরগি কিনছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি ও চাহিদা অনুযায়ী পণ্য না পাওয়ায় ৪০০ টাকার বেশিতে বিক্রি করতে হচ্ছে।
বাজারে সোনালি মুরগির সংকট ও মূল্যবৃদ্ধিতে সিন্ডিকেট এবং বাজার তদারকির অভাবকে দায়ী করছেন ক্রেতারা।
বিশ্লেষকদের মতে, ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং দুর্বল নজরদারির কারণে বাজার অস্থিতিশীল হয়েছে।
কালভার্টের নিচে খালের মধ্যে পড়া বস্তাটি কয়েকটি কুকুর নিয়ে টানাটানি করছিল। স্থানীয় কয়েকজন বস্তায় লাশ রয়েছে, এমন সন্দেহে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে দ্রুত বস্তাটি উঠিয়ে আনে খাল থেকে। সেটি খুলতেই বেরিয়ে এল টুকরা করে কাটা মানবদেহের আটটি খণ্ডাংশ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে কক্সবাজারের টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ কচ্ছপিয়া এলাকার হোছনী খালের একটি কালভার্টের নিচ থেকে লাশের খণ্ডিত অংশ ভর্তি ওই বস্তা উদ্ধার করে পুলিশ। নৃশংস কায়দায় হত্যার পর লাশ গুমের জন্য এভাবে বস্তাভর্তি করে খালে ফেলা হয়েছে বলে পুলিশ জানায়। এ ঘটনায় এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পাহাড়ঘেরা বাহারছড়া এলাকাটি মানব পাচারের রুট হয়েছে বলে পরিচিত। নানা প্রলোভনে বিভিন্ন এলাকার লোকজনকে এখানে ধরে এনে এখানকার পাহাড়ের আস্তানায় জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের একাধিক ঘটনা ঘটেছে এর আগে।
উদ্ধার করা মরদেহটি একজন পুরুষের বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। তবে নিহত ব্যক্তির পরিচয় জানা যায়নি। বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ি তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ (পরিদর্শক) দুর্জয় বিশ্বাস বলেন, উদ্ধার করা ছয় খণ্ড মরদেহ জোড়া লাগিয়ে লাশটি পুরুষের বলে শনাক্ত করা গেছে। তবে পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে দেহটি ছয় টুকরা করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, গত বুধবার রাতে কোথাও লোকটিকে হত্যার পর টুকরা টুকরা করে কেটে তারপর চালের সাদা বস্তায় ভরে খালের পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। যেন জোয়ারের পানিতে খণ্ডিত অংশগুলো সাগরে ভেসে যায়।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত খণ্ডিত মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা হয়নি। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে মানুষটিকে ছয় টুকরা করা হয়েছে। খণ্ডিত অংশগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় সন্ধ্যা পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার বিভিন্ন সড়কে খোলা ট্রাকে ইট ও বালু পরিবহনের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। উড়ন্ত বালু ও ধুলাবালির কারণে বাড়ছে দুর্ঘটনা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উপজেলার গ্রামীণ ও প্রধান সড়কগুলো দিয়ে কোনো ধরনের ঢাকনা ছাড়াই বালু ও ইটবোঝাই ট্রাক চলাচল করছে। ফলে এসব যানবাহনের পেছনে থাকা মোটরসাইকেল, অটোভ্যান ও অন্যান্য ছোট যানবাহনের চালক-যাত্রীদের পড়তে হচ্ছে চরম দুর্ভোগে। চলন্ত ট্রাক থেকে উড়ে আসা বালু চোখে-মুখে ঢুকে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করছে প্রতিনিয়ত। একইভাবে ঢাকনা ছাড়া ইট পরিবহনের কারণে অনেক সময় ইট পড়ে গিয়ে ঘটছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
ভুক্তভোগী মোটরসাইকেল চালক সোহেল মিয়া বলেন, ট্রাকের পেছনে পড়লে আর রক্ষা নেই। চোখে বালু ঢুকে কিছুই দেখা যায় না। হঠাৎ ব্রেক করতে হয়, এতে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
অটোভ্যান চালক আব্দুল করিম বলেন, আমরা যাত্রী নিয়ে চলাচল করি। কিন্তু বালুর ধুলায় যাত্রীরা ঠিকমতো বসতেই পারে না। সবাই বিরক্ত হয়, এতে আমাদের আয়ও কমে যাচ্ছে।
পথচারী রোজিনা বেগমের অভিযোগ, রাস্তা দিয়ে হাঁটা দায় হয়ে গেছে। বালু এসে কাপড় নোংরা করে দেয়, শ্বাস নিতেও কষ্ট হয়। ছোট বাচ্চাদের নিয়ে চলাচল করা খুবই কঠিন।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, খোলা ট্রাকে বালু ও ইট পরিবহন সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত এবং এটি সড়ক নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। দ্রুত প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কুমার মৃদুল দাস জানান, খোলা ট্রাকে বালু পরিবহনের ফলে বাতাসে ধুলার পরিমাণ বেড়ে যায়, যা দীর্ঘমেয়াদে শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন রোগের কারণ হতে পারে। তাই এসব ট্রাক বাধ্যতামূলকভাবে ঢেকে পরিবহন নিশ্চিত করা জরুরি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাগুফতা হক বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। খুব শিগগিরই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে খোলা ট্রাকে ইট-বালু পরিবহন বন্ধ করে যথাযথ নিয়ম মেনে পরিবহন নিশ্চিত করা হোক। অন্যথায় জনদুর্ভোগ আরও তীব্র আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
টাঙ্গাইলের বাসাইলে প্রায় ৫ হাজার মিটার খাল খননের উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার হাবলা ইউনিয়নের ভৈরপাড়া এলাকায় বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. আকলিমা বেগম এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ইপিজিজি কর্মসূচির আওতায় বংশাই নদীর শাখা থেকে আরোহা, জীবনশ্বর ছয়শত এবং সুন্দরী বাদখালী খাল ও কাশিল ইউনিয়নের বংশাই নদীর থেকে নাকাছিম, লাঙ্গুলিয়া, পিচুড়ী, স্থলবল্লা, বাথুলী বিল, করটিয়া পাড়ার খালগুলো এই প্রকল্পের আওতায় খনন করা হবে।
খালখনন কর্মসূচীর উদ্বোধনের সময় হাবলা ইউপি চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম, বাসাইল উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন আল জাহাঙ্গীর, সাবেক সভাপতি এনামুল করিম অটল, পৌর বিএনপির সভাপতি আকতারুজ্জামান তুহীনসহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।