বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে বসেছে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ও বিজিপি। দীর্ঘ পাঁচ মাস পর শুরু হওয়া বৈঠকে গুরুত্ব পাচ্ছে গত দুই মাসে সীমান্তের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি।
আজ রোববার সকাল পৌনে ১০ টার দিকে নাফ নদী সীমান্তে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপে বিজিবির নির্মিত ‘সাউদার্ন পয়েন্টের’ সম্মেলন কক্ষে দুদেশের প্রতিনিধিদলের মধ্যে এ বৈঠক শুরু হয়। এটি চলবে বিকেল পৌনে চারটা পর্যন্ত। তারপর গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলবেন বিজিবির কক্সবাজারের রামু সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল আজিজুর রউফ।
বিজিবি জানায়, শাহপরীর দ্বীপে সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল শেখ খালিদ মোহাম্মদ ইফতেখারের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল ও মিয়ানমার মংডুর ১ নম্বর বর্ডার গার্ড পুলিশ ব্রাঞ্চের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল কাও না ইয়ান শোয়ের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের প্রতিনিধিদলের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
৭ সদস্যের মিয়ানমারের প্রতিনিধি দলটি সকাল সাড়ে নয়টার দিকে টেকনাফে পৌঁছান। সেখানে তাদের স্বাগত জানান বিজিবির কর্মকর্তারা।
শনিবার বিজিবির টেকনাফ ২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শেখ খালিদ মোহাম্মদ ইফতেখার জানিয়েছেন, গেল আড়াই মাস ধরে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান গোলাগুলিকে কেন্দ্র করে সীমান্তে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এতে বাংলাদেশ সীমান্তের বাসিন্দারা আতঙ্কে রয়েছেন। সীমান্তের এ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় বসতে একাধিকবার বিজিপির কাছে চিঠি পাঠানো হলেও তাতে সাড়া মেলেনি। তবে নিয়মিত বৈঠক হিসেবে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপি বৈঠকে বসতে রাজি হয়েছে।
গত ১০ অক্টোবর পরিস্থিতি দেখতে সীমান্তে যান বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ। সীমান্ত পরিদর্শনের পাশাপাশি দেখেন বিজিবি কার্যক্রম। ওই সময় তিনি সাংবাদিকদের জানান, প্রতিবাদলিপি পাঠানোর পাশাপাশি বিজিপির সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।
বিজিবির মহাপরিচালক আরও জানিয়েছিলেন, সময় নির্ধারণ না হলেও পতাকা বৈঠকে সম্মত হয়েছে মিয়ানমার।
গত ১ জুন বিজিবি-বিজিপির সর্বশেষ পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় রাখাইনের মংডু টাউনশিপে। আঞ্চলিক পর্যায়ের ওই বৈঠকে চার বাংলাদেশি জেলেকে ফেরত দেয় মিয়ানমার।
সীমান্তে উত্তেজনার রেশ শুরু হয় চলতি বছরের আগস্টে। প্রথমে নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্তে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে দেশটির সেনাবাহিনী ও রাখাইন প্রদেশের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরকান আর্মির মধ্যে শুরু হয় ব্যাপক গোলাগুলি ও মর্টার শেল নিক্ষেপ। ২৮ আগস্ট মিয়ানমারে ছোড়া দুটি মর্টার শেল এসে পড়ে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে। তবে বিস্ফোরণ না হওয়ায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
সেপ্টেম্বরের শুরুতে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর যুদ্ধবিমান থেকে ছোড়া আরও দুটি মর্টার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এসে পড়ে। একইদিন বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষে উড়ে যায় মিয়ানমারের যুদ্ধ বিমান। যাতে সীমান্তের বাসিন্দাদের মধ্যে বাড়ে আতঙ্ক।
১৬ সেপ্টেম্বর আবারও বাংলাদেশে অভ্যন্তরে এসে পড়ে কয়েকটি মর্টার শেল। যার মধ্যে শূন্যরেখায় মর্টার শেল বিস্ফোরিত হয়ে মারা যায় এক রোহিঙ্গা শরণার্থী, আহত হন ৬ জন।
তুমব্রু সীমান্তে বন্ধ হতেই উখিয়ার পালংখালী সীমান্তে শুরু হয় গোলাগুলি ও গোলা বর্ষণ। নতুন করে আতঙ্ক শুরু হয় টেকনাফ সীমান্তে। সীমান্তে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে থেমে থেমে চলতে থাকে গোলাগুলি ও গোলা বর্ষণ।
সর্বশেষ গত ২৩ অক্টোবর নাইক্ষ্যংছড়ির চাকঢালা সীমান্তে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে নতুন করে শুরু হয় ব্যাপক গোলাগুলি। যা দুদিন থেমে থেমে অব্যাহত থাকে। সীমান্তে বার বার এমন কর্মকাণ্ডে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত ডেকে কয়েক দফায় কড়া প্রতিবাদ জানায় বাংলাদেশ।
জীবননগরে তেলপাম্পে বিশৃঙ্খলার অভিযোগে এক যুবককে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সাথে কাগজপত্র না থাকাসহ বিভিন্ন অপরাধে ৫ জনকে জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) বেলা ১১ টার দিকে জীবননগর ফিলিং স্টেশনে ওই অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জমির উদ্দিন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, সকালে জীবননগর ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালানো হয়। এসময় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে সিফাত হোসেন নামে এক যুবককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ টাকা জরিমানা করা করা হয়। এছাড়া একই অপরাধে ৪ জনকে ৪ হাজার টাকা ও সড়ক পরিবহন আইনে একজনকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সিফাত হোসেন ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার তৈলটুপি গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে। অর্থদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- জীবননগর পৌরসভার সিকান্দার আলী, বিপ্লব কর্মকার, তেতুলিয়া গ্রামের ইয়াসিন আলী, হরিয়াননগর গ্রামের মোশারফ হোসেন ও বাঁকা গ্রামের শাহিন উদ্দিন।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জমির উদ্দিন বলেন, নিয়মিত তদারকির অংশ হিসেবে সোমবার জীবননগর ফিলিং স্টেশনে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় তেল পাম্পে ফুয়েল কার্ড ব্যতীত লাইন ভঙ্গকরে জ্বালানি তেল সংগ্রহে চাপ সৃষ্টি করেন সিফাত। আইন প্রয়োগের বিষয়ে তাকে সতর্ক করে ফুয়েল কার্ডসহ লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি সংগ্রহের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি তা অমান্য করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও জনমনে ভীতির সৃষ্টি করেন। ওই অপরাধে তাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া কাগজপত্র না থাকাসহ বিভিন্ন অপরাধে ৫ জনকে জরিমানা করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনস্বার্থে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
কৃষিনির্ভর মেহেরপুরে হঠাৎ করে সবজির দামে নাভিশ্বাস অবস্থা হয়েছে ভোক্তাদের। বাজারে গিয়ে বাড়তি দামে হতাশ ক্রেতারা। ভোক্তাদের অভিযোগ, ব্যাবসায়ীরা কোনো অযুহাত পেলেই চলবে, তাহলেই দ্রব্য মূল্যের দাম বেড়ে যাবে। আর প্রশাসন শুধু নামেই বাজার মনিটরিংয়ের কথা বলে। এতে বাজারে দামে কোনো প্রভাব পড়ে না।
ব্যাবসায়ীদের দাবি কৃষকদের কাছ থেকে অধিক দামে সবজি কিনতে হচ্ছে তাদের। তাছাড়া তেল সংকটের কারনে পরিবহন খরচ বৃদ্ধির পাশাপাশি হাট ইজারা সব হিসেব করে তারা দাম বৃদ্ধিতে বাধ্য হচ্ছেন।
কৃষকরা বলছেন, সার বীজ থেকে শুরু করে সবকিছুর দাম বাড়তি। আর বতর্মানে চলছে তেল সংকট। সেচ দিতে গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। যার ফলে উৎপাদন খরচ বেড়েছে অনেক। তাই দাম বাড়াটাই স্বাভাবিক।
আর জেলা প্রশাসন বলছে, আমরা সর্বদা বাজার মনিটরিং করে যাচ্ছি। ব্যাবসায়ীরা যদি সিন্ডিকেট করে বাড়তি মুনাফা করতে চাই। তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) জেলার ঐতিহ্যবাহী বামন্দী বাজার ঘুরে দেখা যায়, ৬০ টাকা কেজির পটল আজ বিক্রি হচ্ছে ১০০টাকা করে, ৪০ টাকার বেগুন বিক্রি হচ্ছে বেগুন ১২০ টাকা করে,৪০ টাকা কেজি খিরা বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা করে, ৪৫ টাকার গাজর বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা করে, ৪৫ টাকার ঢেড়স বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা করে, তরকারি খাওয়া কাচ কলা ২৫ টাকা বেড়ে আজ বিক্রি হচ্ছে ৪০টাকা করে, ৬৫ টাকার বরবটি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা করে, ৫০ টাকার কচুর লতি বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকা করে, ৬০ টাকা কেজি দরের উস্তি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা করে, ৩০ টাকার পুইশাক বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা করে, ৩০ টাকার টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা করে, ৪০ টাকার ঝিঙে বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা করে, মুলা বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা করে, আর আলতাপাটি আলু বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা করে। আর প্রতি কেজি কাঠাল বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা করে।
সবজি ক্রেতা স্বপন আলী বলেন, বাজারে কোনো কিছু আর কেনার মতো নেই। যে বেগুন সপ্তাহ খানেক আগেও ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। আজ বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা করে। আর পটলের অবস্থা একই গত হাটে কিনেছি ৩০ টাকায়, আজ কিনছি ১শ টাকা করে।
আরেক ক্রেতা রাসেল আহমেদ বলেন, পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছে কম। আর তার অযুহাতে বাজারে বেড়েছে সব ধরনের সবজির দাম। বাজারে ৫০ টাকার নিচে কোন সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। পুইশাক তা বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। আমরা গরিব মানুষ খাব কি? এভাবে চলতে থাকলে মনে হচ্ছে না খেয়ে থাকতে হবে।
সবজি বিক্রেতা সামসুল হক বলেন, আমরা আড়তে গেলে দেখি সব সবজির দাম বাড়তি। তারা বলছে তেল সংকটের কারণে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। এখন আমরা যেমন দামে কিনব, তেমন দামেইতো বিক্রি করব।
আরেক সবজি বিক্রেতা নবীর আলী বলেন, গত হাটে যে পঠল কিনেছি ৩৫ টাকা করে। আজ সেই পটল পাইকারি কিনছি ৮৫ টাকা করে। যে বেগুন সপ্তাহ খানেক আগে বিক্রি করেছি ৪০ টাকা করে,আজ সেই বেগুন কিনছি ৯০ টাকা করে।
গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার আলী বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বদা বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে অনৈতিক সুবিধা নিলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আর্থিক সংকট থাকায় একসঙ্গে পাঁচটি শিশুর জন্ম হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালীশুরী ইউনিয়নের চাঁদকাঠি গ্রামের ২৩ বছর বয়সি লামিয়া বেগম। গত বছরের ৬ অক্টোবর বরিশালের একটি বেসরকারি হাসপাতালে জন্ম নেয় এই পাঁচ নবজাতক।
শুরুতে পরিবার ও এলাকায় আনন্দের ঢেউ বয়ে গেলেও সেই আনন্দ এখন রূপ নিয়েছে কষ্ট, অনিশ্চয়তা আর আর্থিক সংকটের ভারে চাপা এক সংগ্রামে।
শিশুদের কান্নায় প্রতিদিনই ঘুম ভাঙে লামিয়ার। ভোর হওয়ার আগেই শুরু হয় তার দিন। একে একে পাঁচ শিশুকে কোলে নেওয়া, খাওয়ানো, গোসল করানো, কাপড় বদলানো সবকিছু একসঙ্গে সামলাতে হয় তাকে। একজন চুপ করলে আরেকজন কাঁদে, একজন ঘুমালে অন্যজন জেগে ওঠে। যেন এই ঘরের সময় থেমে আছে শুধু মায়ের ক্লান্ত হাতের মধ্যে।
ক্লান্ত কণ্ঠে লামিয়া বেগম বলেন, ‘আমি আর নিজের জন্য কিছু ভাবতে পারি না। সারাদিন বাচ্চাদের নিয়েই থাকি। ঘুম-খাওয়ার সময়ও ঠিক নেই। কিন্তু সবচেয়ে বড় চিন্তা হলো খরচ। পাঁচটা বাচ্চাকে মানুষ করা খুব কঠিন হয়ে যাচ্ছে। যদি কেউ আমাদের পাশে দাঁড়াত, তাহলে হয়তো একটু স্বস্তিতে বাঁচতে পারতাম।’
শিশুদের বাবা মো. সোহেল হাওলাদার একজন ছোট মুদি দোকানদার। তার সীমিত আয়ে কোনোভাবে সংসার চললেও পাঁচ সন্তানের ভরণ-পোষণ এখন তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শিশুদের নানি শাহনাজ বেগম বলেন, ‘নাতি-নাতনি পাওয়ার আনন্দ আছে; কিন্তু সেই আনন্দ এখন কষ্টে পরিণত হয়েছে। ছোট দোকানের আয়ে কোনোভাবেই পাঁচ শিশুদের খরচ চালানো যাচ্ছে না। দুধ, কাপড়, ওষুধ সবকিছুতেই চাপ পড়ছে। আমরা সরকারের সহযোগিতা চাই।’
স্থানীয়রাও বলছেন, পরিবারটি এখন এক কঠিন বাস্তবতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। প্রয়োজনীয় সহায়তা না পেলে শিশুদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।
এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের ফিল্ড সুপারভাইজার হুমায়ন কবির জানান, সমাজসেবা অধিদপ্তরের সরাসরি এমন কোনো নির্দিষ্ট সহায়তা নেই, তবে বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের তহবিল থেকে অনুদান পাওয়া যেতে পারে। আবেদন করলে আমরা সহযোগিতা করব।
কুড়িগ্রাম-২২ বিজিবি বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলমান। এ বিষয়ে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে।
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার উত্তর ঝাউকুটি সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের অভিযোগে দুই বাংলাদেশী যুবককে আটক করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। রোববার (১২ এপ্রিল) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
কুড়িগ্রাম-২২ বিজিবি বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলমান। এ বিষয়ে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে।
আটক দুজন হলেন— নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের অষ্টমীর চর এলাকার বাগমারা গ্রামের সোলাইমান হোসেন এবং ভূরুঙ্গামারী উপজেলার দক্ষিণ বলদিয়া কুমারটারী গ্রামের মৃত আনোয়ার হোসেনের ছেলে সোহাগ মিয়া।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে উত্তর ঝাউকুটি সীমান্তের ১০৩৭ নম্বর আন্তর্জাতিক সীমানা পিলারের পাশ দিয়ে তারা ভারতের আসাম রাজ্যের ধুবরী জেলার টাকিমারী এলাকায় প্রবেশ করেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় বিএসএফ সদস্যরা তাদের আটক করে।
নারায়ণপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান দুই বাংলাদেশীকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম-২২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহবুব উল হক জানান, বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের ফেরত আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
পিরোজপুর সদর উপজেলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে খরিপ-১ মৌসুমে আউশ ধানের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে সদর উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে পিরোজপুর সদর উপজেলার শহীদ ওমর ফারুক মিলনায়তনে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাঈদ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, "বর্তমান সরকার কৃষি বান্ধব সরকার। এই সরকার কৃষিকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। বাংলাদেশ একটি ছোট দেশ হওয়া সত্ত্বেও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে পেরেছে মূলত কৃষকদের নিষ্ঠা এবং সরকারের সঠিক পরিকল্পনার কারণে।" এছাড়া তিনি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে কৃষক কার্ডসহ সরকারের নানামুখী পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন এবং কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের আহ্বান জানান।
পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এস এম সাইদুল ইসলাম কিসমত, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শওকত হোসেন এবং জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি শেখ আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মামুনুর রশিদ বলেন, "পিরোজপুর সদর উপজেলাকে কৃষি খাতে একটি আদর্শ উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন। কৃষকরা এই প্রণোদনাকে কাজে লাগিয়ে আরও নিষ্ঠার সাথে কাজ করবেন এবং আপনারা সবাই মিলে একটি সফল ও উন্নত কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলবেন বলে আমার বিশ্বাস।"
অনুষ্ঠানে আউশ ধানের আবাদ ও ফলন বৃদ্ধির লক্ষ্যে পিরোজপুর সদর উপজেলার তালিকাভুক্ত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে উচ্চফলনশীল আউশ ধানের বীজ এবং প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়। উপস্থিত কৃষি কর্মকর্তারা জানান, সঠিক সময়ে এই বীজ ও সার বিতরণের ফলে কৃষকরা উৎসাহিত হবেন এবং জেলায় আউশ ধানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এটি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। অনুষ্ঠানে কৃষি বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা ও স্থানীয় কৃষক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকার কেরানীগঞ্জে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রাইসুল ইসলাম ও তার বাবার ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলায় আসামি এহসানুর হক মাহিমকে (২২) এক দিনের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোববার ঢাকার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর আহমেদ এ নির্দেশ দিয়েছেন।
মাহিমকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত এক দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গত শুক্রবার মাহিমকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে কেরানীগঞ্জ থানা-পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শহিদুল ইসলাম পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ও রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানির জন্য আজ দিন ধার্য করেন।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৪৫ মিনিটে কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন কালিন্দী ইউনিয়নের মাদারীপুর সড়ক-২ এলাকায় জবি শিক্ষক ও তার বাবার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, জবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. রাইসুল ইসলামের বাড়ির সামনে দীর্ঘদিন ধরে আড্ডা ও মাদক সেবন করে আসছিলেন অভিযুক্ত মাহিম। বিষয়টিতে বাধা দিলে তিনি বিভিন্ন সময় শিক্ষক পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেন।
বৃহস্পতিবার শিক্ষক রাইসুল ইসলামের বাবা নজরুল ইসলাম (৬৭) অভিযুক্ত মাহিমকে আড্ডা দিতে নিষেধ করলে মাহিম ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে মাটিতে ফেলে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন। পরে লোহার রড দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করলে তা চোখের নিচে লেগে তিনি রক্তাক্ত জখম হন। এ সময় শিক্ষকের বাবার পকেট থেকে ৬ হাজার টাকার মতো নিয়ে যান মাহিম। শিক্ষক রাইসুল ইসলামের ওপরও তারা হামলা করেন।
এ সময় শিক্ষকের বাবা নজরুল ইসলামের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত মাহিম পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে উত্তেজিত জনতা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
এ ঘটনায় জবি শিক্ষক রাইসুল ইসলাম কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা করেন।
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ১৯ মামলার আসামি রফিকুল ইসলাম মাসুদ ওরফে ডাকাত মাইস্যাকে (৩৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরের দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কোম্পানীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বিমল কর্মকার।
এর আগে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার রংমালা বাজার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে শনিবার বিকেলে আসামিকে নোয়াখালী চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
গ্রেপ্তার মাইস্যা উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত জামাল উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) বিমল কর্মকারের নেতৃত্বে উপজেলার রংমালা বাজারে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে খুন, ডাকাতি, ডাকাতির প্রস্তুতি, অস্ত্র, ধর্ষণ ও চাঁদাবাজিসহ ১৯ মামলার আসামি মাইস্যা ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডাকাত মাইস্যা কোম্পানীগঞ্জ থানার একাধিক ডাকাতির মামলার সঙ্গে জড়িত বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বিমল কর্মকার আরও বলেন, গ্রেপ্তার আসামি ১৯ মামলার আসামি। তার বিরুদ্ধে একাধিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও ছিল। এছাড়া একটি মামলায় অপর আসামির ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতেও তার সম্পৃক্ততার কথা উঠে এসেছে।
সারাদেশে গত এক মাসে সড়কে ৫৭৬টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৫৩২ জন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ২ হাজার ২২১ জন। নিহতদের মধ্যে নারী ৬৬ জন এবং শিশু ৯৮ জন রয়েছেন। শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পাঠানো প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক মাসে ১৪টি নৌদুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত, ২৭ জন আহত এবং ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। একই সময়ে ৪৮টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ৬৭ জন নিহত এবং ২২৪ জন আহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনায় যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা যায়—মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ২০৪ জন, বাসের যাত্রী ৪৫ জন, ট্রাক-পিকআপ-ট্রাক্টরের আরোহী ২৮ জন, প্রাইভেট কার-মাইক্রোবাসের আরোহী ৪৬ জন, তিন চাকার যানবাহনের যাত্রী (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-লেগুনা) ৯৪ জন, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী (নসিমন-পাখিভ্যান-ভটভটি-টমটম-মাহিন্দ্র) ২৩ জন এবং সাইকেল আরোহী ১৩ জন নিহত হয়েছেন।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৭১টি জাতীয় মহাসড়কে, ২৬৪টি আঞ্চলিক সড়কে, ৭০টি গ্রামীণ সড়কে, ৬২টি শহরের সড়কে এবং ৯টি অন্যান্য স্থানে সংঘটিত হয়েছে। দুর্ঘটনাসমূহের মধ্যে ১৬৬টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২৩১টি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ৮৬টি পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দেওয়া, ৮২টি যানবাহনের পেছনে আঘাত এবং ১১টি অন্যান্য কারণে ঘটেছে।
দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা ১ হাজার ৮টি। এর মধ্যে বাস ১৩৩টি, ট্রাক ১২০টি, কাভার্ড ভ্যান ৩৭টি, পিকআপ ৪১টি, ট্রাক্টর ১৬টি, ট্রলি ৬টি, লরি ৭টি, ড্রাম ট্রাক ১৬টি, হ্যান্ড ট্রলি ৩টি, পর্যটন জিপ ২টি, মাইক্রোবাস ১৯টি, প্রাইভেটকার ৪২টি, অ্যাম্বুল্যান্স ২টি, পাজেরো জিপ ৮টি, মোটরসাইকেল ২৪৪টি, তিন চাকার যানবাহন ২০০টি (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-লেগুনা), স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ৬৫টি (নসিমন-পাখিভ্যান-ভটভটি-টমটম-মাহিন্দ্র), সাইকেল ১৫টি এবং অজ্ঞাত যানবাহন ৩২টি।
ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১২৬টি দুর্ঘটনায় ১৩৭ জন নিহত হয়েছেন। সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ২৭টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকায় ৪৬টি দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত এবং ৬৯ জন আহত হয়েছেন।
ভোলায় অবৈধভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের অভিযোগে এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট মোঃ আবুল কাশেম রাতে গনমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস রিলিজে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে কোস্ট গার্ড বেইস ভোলার একটি দল অভিযান পরিচালনা করে। এসময় ভোলা সদর থানাধীন খেয়াঘাট ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তিনি গত ৭ এপ্রিল দিনাজপুর জেলার বিরামপুর সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচারকারী চক্রের এক সদস্যের সহযোগিতায় আত্মগোপনের উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন।
আটক ব্যক্তির নাম আব্দুল মমিন (৩২)। তিনি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সোনামুড়া জেলার যাত্রাপুর থানার বাঁশপুকুর গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতার নাম বসার আলী।
পরবর্তীতে আটককৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে ভোলা সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট মোঃ আবুল কাশেম বলেন, দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটি’ (ইবিরিইউ)-এর কার্যনির্বাহী পরিষদ (২০২৬) গঠনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন দৈনিক বাংলার প্রতিনিধি মো. সাকিব আসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন দৈনিক আজকালের খবরের প্রতিনিধি রবিউল আলম।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সংগঠনের কার্যালয়ে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোটগ্রহণ শেষে একই দিন দুপুরে ফলাফল ঘোষণা করা হয় এবং নবনির্বাচিতদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়।
১১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান তুহিন (দৈনিক ভোরের ডাক), দপ্তর সম্পাদক শাহরীয়ার স্বাধীন (ফেস দ্যা পিপল), কোষাধ্যক্ষ সামিউল ইসলাম (দৈনিক জনবাণী), তথ্য ও প্রচার সম্পাদক মাশুক এলাহী (দৈনিক গণকণ্ঠ) এবং সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম (এশিয়ান টিভি)।
এছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মিজানুর রহমান (দৈনিক নবচেতনা), শিহাব উদ্দিন (দৈনিক তৃতীয় মাত্রা), মিনহাজুর রহমান মাহিম (দৈনিক আমাদের সময়) এবং মোসাদ্দেক হোসেন (দৈনিক আজকালের কণ্ঠ)।
নির্বাচন কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলাম। কমিশনার হিসেবে ছিলেন সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. ফকরুল ইসলাম ও অধ্যাপক ড. মো. খাইরুল ইসলাম। নির্বাচন পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান।
সাধারণ সম্পাদক রবিউল আলম বলেন, ‘সংগঠনের ঐক্য ও পেশাগত মান উন্নয়নে আমরা একসঙ্গে কাজ করবো এবং সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার থাকবো।’
নবনির্বাচিত সভাপতি মো. সাকিব আসলাম বলেন, ‘সকলের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতিদান দিতে আমরা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা চর্চায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবো।’
প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। সকল প্রার্থীর সহযোগিতায় একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হয়েছে।’
উপস্থিত উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী বলেন, ‘আমি একজন ইবিয়ান হিসেবে সাক্ষ্য দিতে পারি, এ যাবত কোনো সাংবাদিক ক্যাম্পাসে হলুদ সাংবাদিকতার চর্চা করেনি। দল-মত নির্বিশেষে সবাই বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করবে বলে প্রত্যাশা রাখছি।’
নবকমিটিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, ‘নবনির্বাচিত নেতৃত্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতার মানোন্নয়ন ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি আশাবাদী।’
এদিকে নবনির্বাচিত কমিটিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র আন্দোলন ও খেলাফত ছাত্র মজলিসের নেতৃবৃন্দ।
নবনির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ইতোমধ্যে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সাংবাদিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও অভিনন্দন জানানো হয়েছে।
দীর্ঘ ৬০ বছরের ঐতিহ্যবাহী ভোলা প্রেসক্লাবের নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। এতে সভাপতি পদে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির ভোলা জেলা প্রতিনিধি নজরুল হক অনু এবং সাধারণ সম্পাদক পদে সময় টিভির অ্যাসোসিয়েট সিনিয়র রিপোর্টার ও দৈনিক সমকালের জেলা প্রতিনিধি নাসির উদ্দীন লিটন নির্বাচিত হয়েছেন।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলে। পরে দুপুর ২টার দিকে ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. জামাল হোসেন।
নির্বাচনে মোট ৫টি পদে ১৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে সভাপতি পদে ৩ জন, সহসভাপতি পদে ৩ জন, সাধারণ সম্পাদক পদে ৬ জন, যুগ্ম সম্পাদক পদে ২ জন এবং কোষাধ্যক্ষ পদে ২ জন প্রার্থী ছিলেন। মোট ৪৬ জন ভোটারের মধ্যে ৪৫ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
অন্যান্য পদে নির্বাচিতরা হলেন—সহসভাপতি পদে দৈনিক মাতৃছায়ার প্রতিনিধি মো. সুলাইমান, যুগ্ম সম্পাদক পদে একাত্তর টিভির প্রতিনিধি মো. কামরুল ইসলাম এবং কোষাধ্যক্ষ পদে দৈনিক যায়যায়দিনের স্টাফ রিপোর্টার নুরে আলম ফয়জুল্লাহ। দপ্তর সম্পাদক পদে দেশ টিভির প্রতিনিধি ছোটন সাহা নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাহী সদস্য পদে দুইটির মধ্যে একটিতে মো. মোতাছিন বিল্লাহ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
তবে নির্বাহী কমিটির ১১টি পদের মধ্যে ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও পাঠাগার সম্পাদক পদে কোনো প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ না করায় পদগুলো শূন্য রয়েছে। এছাড়া নির্বাহী সদস্য পদের একটি পদে মনোনয়ন জমা দিলেও পরে তা প্রত্যাহার করায় সেটিও শূন্য থাকে।
নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ভোলা সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মো. জামাল হোসেন। কো-চেয়ারম্যান ছিলেন কলেজ শিক্ষক সমিতির জেলা সভাপতি মো. এনামুল হক এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ইয়ারুল আলম লিটন। নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. ইউছুফ, জেলা আইনজীবী সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তোয়াহা, সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. আরিফুর রহমান এবং সোনালী অতীত ক্লাবের সভাপতি খন্দকার আল আমিন।
নবনির্বাচিত সভাপতি নজরুল হক অনু ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন লিটন প্রতিক্রিয়ায় বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং ভোটাররা তাদের মূল্যবান ভোট দিয়ে আমাদের নির্বাচিত করেছেন। তারা প্রবীণ ও নবীন সাংবাদিকদের সমন্বয়ে প্রেসক্লাব পরিচালনা এবং স্থানীয় সাংবাদিকদের উন্নয়নে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অপরদিকে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. জামাল হোসেন ফলাফল ঘোষণার পর সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের সহযোগিতায় একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গাসহ সারাদেশে দীর্ঘদিনের সংস্কারহীন খাল ও জলাশয়গুলোর কারণে সৃষ্ট সেচ সংকট ও জলাবদ্ধতা নিরসনে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (এ্যানি)। শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছি ইউনিয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, যারা অবৈধভাবে খাল দখল করে জনজীবনে দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খাল খনন ও পুনরুদ্ধারে সরকার এখন 'জিরো টলারেন্স' নীতি অনুসরণ করবে।
এর আগে মন্ত্রী কোদাল দিয়ে মাটি কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল পুনঃখনন কাজের সূচনা করেন। ১ কোটি ৫১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হতে যাওয়া এই খালের তলদেশের গড় প্রস্থ ৭ মিটার এবং গড় গভীরতা ১.৫ মিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে এলাকার প্রায় ৫,২০০ কৃষক সরাসরি সেচ সুবিধা পাবেন এবং জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, অতীতে অনেক খাল ভরাট ও লিজ দেওয়ার ফলে প্রাকৃতিক পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে এবং কৃষি উৎপাদন সচল রাখতে হলে খাল পুনরুদ্ধারের কোনো বিকল্প নেই। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচিকে একটি 'যুগান্তকারী উদ্যোগ' হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দেশের উন্নয়ন ও কৃষি অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে কাজ করছে। কৃষিবান্ধব নীতির অংশ হিসেবে সরকার ইতোমধ্যে প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকার কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করেছে।
জলবায়ু পরিবর্তন ও পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী জানান, পরিবেশ রক্ষায় সরকার আগামী ৫ বছরে দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের বিশাল পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। খননকৃত খালের দুই তীরে বনায়ন করার পাশাপাশি সেখানে মাছ ও হাঁস চাষের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। এছাড়া স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের কথা চিন্তা করে খনন কাজে যন্ত্রের পাশাপাশি নারী ও পুরুষ শ্রমিকদের সম্পৃক্ত করা হবে। মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, খাল খনন কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি সহ্য করা হবে না।
আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পান্না আক্তারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী শাজাহান সিরাজ, জেলা প্রশাসক মিজ লুৎফন নাহার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুজ্জামান শরীফ এবং জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী অবসরপ্রাপ্ত এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের বর্ধিত হারে অবসর ভাতা ও কল্যাণ ভাতা দ্রুত প্রদানের দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন বিক্ষোভ মিছিল ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল ১০টায় নগরীর অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে অবসরপ্রাপ্ত এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারি কল্যাণ সমিতি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা বরিশাল জেলা কমিটি র উদ্যোগে আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা অংশ নেন। অনুষ্ঠিত সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ (অব.) সুভাষ চন্দ্র পাল। পরে সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বরিশাল সিটি কলেজ মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হয়।
পরে সেখানে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সংগঠনের জেলা সাধারণ সম্পাদক উপাধ্যক্ষ মো. আনোয়ারুল হক।
সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের মোট শিক্ষাব্যবস্থার প্রায় ৯৫ শতাংশ দায়িত্ব পালন করলেও বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক ও সামাজিক বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছেন। কর্মজীবনের পর অবসরকালীন সময়ে এসে তাদের জীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে পড়ছে।
তারা জানান, অবসর গ্রহণের পর ৪ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত অবসর ভাতা ও কল্যাণ ভাতা না পাওয়ায় বহু শিক্ষক-কর্মচারী মানবেতর জীবনযাপন করছেন। চিকিৎসা ও খাদ্যের অভাবে অনেকের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অমানবিক।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই সমস্যার সমাধানে তাদের একজন হিতাকাঙ্ক্ষী বিপ্লব কান্তি দাস ২০১৯ সালে মহামান্য হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করেন। এর প্রেক্ষিতে আদালত ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ তারিখে রায় প্রদান করেন। রায়ে বলা হয়, পূর্বের ৬ শতাংশের সঙ্গে অতিরিক্ত ৪ শতাংশসহ মোট ১০ শতাংশ কর্তনের ভিত্তিতে অবসরপ্রাপ্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বর্ধিত হারে অবসর ভাতা ও কল্যাণ ভাতা অবসর গ্রহণের ছয় মাসের মধ্যে প্রদান করতে হবে।
কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই রায় বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ করেন শিক্ষক নেতারা। তারা বলেন, হাইকোর্টের সুস্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় হাজার হাজার শিক্ষক-কর্মচারী তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, গত ২২ ডিসেম্বর তারিখে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে শিক্ষা উপদেষ্টার বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া ৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বরিশাল সফরকালে শিক্ষা মন্ত্রীর কাছে সরাসরি আবেদন জানানো হলে তিনি বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনার আশ্বাস দেন।
শিক্ষক নেতারা তাদের ৫ দফা দাবির মধ্যে উল্লেখ করেন, অবসর গ্রহণের ৬ মাসের মধ্যে অবসর ভাতা ও কল্যাণ ভাতা পরিশোধ।বিলম্ব হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জিপিএফের মতো আনুপাতিক হারে অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা প্রদান।সরকারি কর্মচারীদের ন্যায় উৎসব ভাতা, বৈশাখী ভাতা ও চিকিৎসা ভাতা প্রদান। অবসরপ্রাপ্তদের জন্য ন্যায়সংগত আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, আমরা জীবনের সেরা সময় শিক্ষার্থীদের জন্য উৎসর্গ করেছি। কিন্তু অবসরে এসে আমাদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। এটি শুধু আর্থিক নয়, এটি গভীর মানবিক সংকট।
সংগঠনের সভাপতি অধ্যক্ষ অব. সুভাষ চন্দ্র পাল বলেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জীবনের শেষ সময়টুকু সম্মানের সঙ্গে কাটানোর অধিকার রয়েছে। হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়ন হলে তাদের দুর্ভোগ অনেকটা লাঘব হবে।
সাধারণ সম্পাদক উপাধ্যক্ষ অব.আনোয়ারুল হক বলেন, আমরা সরকারের কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ করছি দ্রুত কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করে এই দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান করা হোক।
সংবাদ সম্মেলন শেষে নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তাদের ৫ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন,অধ্যক্ষ মো. মিজানুর রহমান সেলিম, অধ্যক্ষ আবুল কাশেম, আনিসুর রহমান, সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শাহে আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফারুক বিন ওয়াহিদ, সহ-সভাপতি মো. শাহে আলম, অধ্যক্ষ আনিসুর রহমানসহ বিভিন্ন উপজেলা ও মহানগরের নেতৃবৃন্দ। এছাড়া কর্মচারীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন রফিকুল ইসলাম বাবুল, এবং উপস্থিত ছিলেন আমিনুর রহমান খোকন, হারুন-অর-রশিদসহ বিভিন্ন উপজেলার প্রতিনিধিরা।