বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে বসেছে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ও বিজিপি। দীর্ঘ পাঁচ মাস পর শুরু হওয়া বৈঠকে গুরুত্ব পাচ্ছে গত দুই মাসে সীমান্তের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি।
আজ রোববার সকাল পৌনে ১০ টার দিকে নাফ নদী সীমান্তে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপে বিজিবির নির্মিত ‘সাউদার্ন পয়েন্টের’ সম্মেলন কক্ষে দুদেশের প্রতিনিধিদলের মধ্যে এ বৈঠক শুরু হয়। এটি চলবে বিকেল পৌনে চারটা পর্যন্ত। তারপর গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলবেন বিজিবির কক্সবাজারের রামু সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল আজিজুর রউফ।
বিজিবি জানায়, শাহপরীর দ্বীপে সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল শেখ খালিদ মোহাম্মদ ইফতেখারের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল ও মিয়ানমার মংডুর ১ নম্বর বর্ডার গার্ড পুলিশ ব্রাঞ্চের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল কাও না ইয়ান শোয়ের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের প্রতিনিধিদলের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
৭ সদস্যের মিয়ানমারের প্রতিনিধি দলটি সকাল সাড়ে নয়টার দিকে টেকনাফে পৌঁছান। সেখানে তাদের স্বাগত জানান বিজিবির কর্মকর্তারা।
শনিবার বিজিবির টেকনাফ ২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শেখ খালিদ মোহাম্মদ ইফতেখার জানিয়েছেন, গেল আড়াই মাস ধরে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান গোলাগুলিকে কেন্দ্র করে সীমান্তে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এতে বাংলাদেশ সীমান্তের বাসিন্দারা আতঙ্কে রয়েছেন। সীমান্তের এ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় বসতে একাধিকবার বিজিপির কাছে চিঠি পাঠানো হলেও তাতে সাড়া মেলেনি। তবে নিয়মিত বৈঠক হিসেবে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপি বৈঠকে বসতে রাজি হয়েছে।
গত ১০ অক্টোবর পরিস্থিতি দেখতে সীমান্তে যান বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ। সীমান্ত পরিদর্শনের পাশাপাশি দেখেন বিজিবি কার্যক্রম। ওই সময় তিনি সাংবাদিকদের জানান, প্রতিবাদলিপি পাঠানোর পাশাপাশি বিজিপির সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।
বিজিবির মহাপরিচালক আরও জানিয়েছিলেন, সময় নির্ধারণ না হলেও পতাকা বৈঠকে সম্মত হয়েছে মিয়ানমার।
গত ১ জুন বিজিবি-বিজিপির সর্বশেষ পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় রাখাইনের মংডু টাউনশিপে। আঞ্চলিক পর্যায়ের ওই বৈঠকে চার বাংলাদেশি জেলেকে ফেরত দেয় মিয়ানমার।
সীমান্তে উত্তেজনার রেশ শুরু হয় চলতি বছরের আগস্টে। প্রথমে নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্তে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে দেশটির সেনাবাহিনী ও রাখাইন প্রদেশের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরকান আর্মির মধ্যে শুরু হয় ব্যাপক গোলাগুলি ও মর্টার শেল নিক্ষেপ। ২৮ আগস্ট মিয়ানমারে ছোড়া দুটি মর্টার শেল এসে পড়ে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে। তবে বিস্ফোরণ না হওয়ায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
সেপ্টেম্বরের শুরুতে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর যুদ্ধবিমান থেকে ছোড়া আরও দুটি মর্টার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এসে পড়ে। একইদিন বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষে উড়ে যায় মিয়ানমারের যুদ্ধ বিমান। যাতে সীমান্তের বাসিন্দাদের মধ্যে বাড়ে আতঙ্ক।
১৬ সেপ্টেম্বর আবারও বাংলাদেশে অভ্যন্তরে এসে পড়ে কয়েকটি মর্টার শেল। যার মধ্যে শূন্যরেখায় মর্টার শেল বিস্ফোরিত হয়ে মারা যায় এক রোহিঙ্গা শরণার্থী, আহত হন ৬ জন।
তুমব্রু সীমান্তে বন্ধ হতেই উখিয়ার পালংখালী সীমান্তে শুরু হয় গোলাগুলি ও গোলা বর্ষণ। নতুন করে আতঙ্ক শুরু হয় টেকনাফ সীমান্তে। সীমান্তে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে থেমে থেমে চলতে থাকে গোলাগুলি ও গোলা বর্ষণ।
সর্বশেষ গত ২৩ অক্টোবর নাইক্ষ্যংছড়ির চাকঢালা সীমান্তে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে নতুন করে শুরু হয় ব্যাপক গোলাগুলি। যা দুদিন থেমে থেমে অব্যাহত থাকে। সীমান্তে বার বার এমন কর্মকাণ্ডে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত ডেকে কয়েক দফায় কড়া প্রতিবাদ জানায় বাংলাদেশ।
মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের মোল্লাবাজার সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিনেও সেতুর কাজ শেষ না হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের খাসমহল চৌরাস্তায় এ মানববন্ধন হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ধলেশ্বরী শাখা নদীর ওপর নির্মাণাধীন মোল্লাবাজার সেতুর কাজ ২০১৮ সালে শুরু হলেও প্রায় আট বছরেও তা শেষ হয়নি। একাধিকবার সময়সীমা বাড়ানো হলেও বাস্তবে কাজের অগ্রগতি অত্যন্ত ধীর। বর্তমানে প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হলেও মূল সেতুর গুরুত্বপূর্ণ অংশ এখনো বাকি রয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে নির্মাণকাজ প্রায় বন্ধ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৫২ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটি নির্মাণের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হওয়ায় সম্প্রতি ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। তবে নতুন করে কাজ কবে শুরু হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ইটভাটার মালিকদের ফেরি চলাচল, প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ, নকশাগত জটিলতা ও সমন্বয়হীনতার কারণে প্রকল্পটি বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নদীর মাঝখানে কাজ শুরু করলেও ইটবাহী ট্রলার চলাচলের কারণে তা বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
বক্তারা আরও বলেন, সেতুটি চালু হলে মুন্সিগঞ্জের চারটি উপজেলার মানুষের ঢাকায় যাতায়াত সহজ হবে। বর্তমানে বিকল্প সড়ক দিয়ে ঢাকায় যেতে প্রায় ৪২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয় এবং সময় লাগে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা। অথচ সেতুটি চালু হলে মাত্র ৩০ মিনিটেই ঢাকায় পৌঁছানো সম্ভব হবে।
এদিকে সেতুর কাজ শেষ না হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে ট্রলার ও দেশীয় ফেরিতে নদী পারাপার করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জনপ্রতি পাঁচ টাকা ও মোটরসাইকেল ২০ টাকা ভাড়ায় পারাপার করতে হচ্ছে। ফেরির জন্য ১৫ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলেও জানান তারা।
মানববন্ধন থেকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এ ছাড়া সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কেরানীগঞ্জ এলজিইডি কর্মকর্তার কাছেও স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
কর্মসূচিতে বক্তারা পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো, আগামী ছয় মাসের মধ্যে সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা, সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা, নতুন সময়সীমা নির্ধারণ ও প্রকাশ করা, কাজের গুণগত মান নিশ্চিতে মনিটরিং টিম গঠন এবং বিকল্প যাতায়াতব্যবস্থা নিরাপদ করা।
বক্তারা বলেন, সেতুটি চালু হলে যোগাযোগ, শিক্ষা ও স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। কিন্তু দীর্ঘসূত্রতার কারণে প্রকল্পটি ঝুলে থাকায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। তাই দ্রুত সেতুর কাজ সম্পন্নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত আইসিটি কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম, নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জমির হোসেন, সমাজসেবক সাহাব উদ্দিন বাদল, বালুচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজি মো. আওলাদ হোসেন, সমাজসেবক আব্দুল মতিন, মো. মোশারফ হোসেন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতারা, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সহস্রাধিক মানুষ।
ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী গৌরীপুর রেলওয়ে জংশন। ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯১৭ সালে ব্রহ্মপুত্রের পূর্বপাড়ে এটি গড়ে তোলা হয়। বর্তমানে জনবল সংকট, জরাজীর্ণ অবকাঠামো নিয়ে শতাব্দী প্রাচীন স্টেশনটির ভগ্নদশা। স্থানীয়দের দাবি, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও উন্নত অবকাঠামো দিয়ে এই পুরোনো স্টেশনটিকে অত্যাধুনিক করা হোক।
জানা গেছে, ব্যস্ততম এই জংশনে প্রতিদিন তিনটি আন্তনগর ট্রেন, দুটি কমিউটার, দুটি মেইল ও একটি লোকাল ট্রেন আসা-যাওয়া করে। জংশনে প্রতিদিন পাঁচ শতাধিক যাত্রী ট্রেনে ওঠানামা করে। তবে যাত্রীদের জন্য নেই কোনো বিশ্রামাগার। পুরো স্টেশনে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে ময়লা-আবর্জনা। সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাউনি দিয়ে গড়িয়ে পড়ে পানি। স্টেশনের একমাত্র ফুটওভারব্রিজটি বহুদিন ধরে জরাজীর্ণ ও ব্যবহারে অনুপযোগী হয়ে রয়েছে। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত দালানকোঠা, যাত্রীছাউনি, প্ল্যাটফর্ম, স্লিপার ও বিভিন্ন অবকাঠামোর মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে অনেক বছর আগে। ওয়েটিং রুমসহ টয়লেটগুলোর পানির সাপ্লাই লাইন বহুদিন ধরে নষ্ট হয়ে আছে। রেলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বারবার পরিদর্শন করে গেলেও অবকাঠামোর কাঙ্ক্ষিত সংস্কার হয়নি আজও।
ঢাকা থেকে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ পর্যন্ত হাওর এক্সপ্রেস ও মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস, চট্টগ্রাম থেকে জামালপুর পর্যন্ত বিজয় এক্সপ্রেস আন্তনগর ট্রেন, চট্টগ্রাম থেকে ময়মনসিংহ হয়ে যমুনা সেতুর পূর্ব পাড় পর্যন্ত নাসিরাবাদ নামে দুটি মেইল ট্রেন, ঢাকা থেকে জারিয়া-ঝাঞ্জাই পর্যন্ত বলাকা ও ঢাকা থেকে মোহনগঞ্জ পর্যন্ত মহুয়া কমিউটার ট্রেন গৌরীপুর জংশন হয়ে যাওয়া-আসা করে। এ ছাড়া ময়মনসিংহ থেকে জারিয়া পর্যন্ত একটি লোকাল ট্রেন এই জংশন হয়ে চারবার আপ-ডাউন করে। এত ব্যস্ত জংশন হওয়ার পরও এটির ভাগ্যে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি।
গৌরীপুর পৌর শহরের নতুন বাজার মহল্লার নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিদিন শত শত যাত্রী যাতায়াত করে এই স্টেশন হয়ে, অথচ বসার একটু জায়গা নেই, বৃষ্টিতে ছাউনি দিয়ে পানি পড়ে, যাত্রীরা চা-স্টলে বসে থাকেন ট্রেনের অপেক্ষায়। কেবল শুনি, স্টেশনের উন্নয়ন হবে, ৪০ বছর স্টেশনে কাটিয়ে দিলাম, কত সরকার এলো-গেল এই স্টেশনের উন্নয়ন আর হলো না।’
গৌরীপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘স্টেশনের অবকাঠামো ব্রিটিশ আমলের। স্টেশনে আলাদা ৯টি দপ্তরে ৩৫ জনের স্থলে জনবল আছে ২৪ জন। লাইন ছয়টির স্থলে তিনটি সচল আছে। বিশেষ করে ট্রেনের সিগন্যাল ও লাইন পরিবর্তনের জন্য স্টেশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে প্যানেল বোর্ডটি অনেক পুরোনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ। এটি প্রায়ই কাজ করে না। সিগন্যালম্যান তিনজনের স্থলে আছে একজন, নিরাপত্তাকর্মী নয়জনের স্থলে পাঁচজন, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ছয়জনের স্থলে আছে একজন।’ তিনি আরও বলেন, ‘স্টেশনের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সবকিছু অবহিত করা হয়েছে। তারা স্টেশনটি পরিদর্শনও করে গেছেন।’
গৌরীপুর রেলওয়ে জংশনের নিরাপত্তা বাহিনীর ইনচার্জ মো. মোরশেদ আলম বলেন, ‘জনবল সংকট থাকলেও আমরা ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা সেবা দিয়ে যাচ্ছি। এ ক্ষেত্রে সবার অতিরিক্ত ডিউটি করতে হচ্ছে।’
ময়মনসিংহ রেলওয়ের সিনিয়র সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে কিছু সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চাহিদা পাঠিয়েছি। আশা করছি, শিগগিরই বরাদ্দ পাব।’ গৌরীপুরে অত্যাধুনিক রিমডেলিং স্টেশন দাবিকে সময়োপযোগী ও যৌক্তিক উল্লেখ করে এ ক্ষেত্রে সরকারের সদিচ্ছাকে অগ্রাধিকার দেন তিনি।
মাদারীপুর সদরসহ শিবচর, রাজৈর, কালকিনি ও ডাসার এই পাঁচ উপজেলায় ১২ কেজি এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রিতে ব্যবসায়ীরা নয়ছয় করে ভোক্তাদের পকেট কাটছেন। ডিলার পর্যায়ে ওই গ্যাসের কোনো সংকট না থাকলেও খুচরা পর্যায়ে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করে অসাধু ব্যবসায়ীরা চড়া দামে তা বিক্রি করছেন।
সরেজমিনে মাদারীপুর সদরসহ জেলার উল্লিখিত উপজেলাগুলোতে খোঁজ করে এই চিত্র পরিলক্ষিত হয়েছে। বিশেষ করে শিবচর উপজেলার বিভিন্ন খুচরা দোকানে ১২ কেজির এলপিজি গ্যাস বিক্রি হচ্ছে ২,১০০ থেকে ২,২০০ টাকা পর্যন্ত। অসাধু ব্যবসায়ী বিক্রেতারা সাংবাদিক ও তাদের ক্যামেরা দেখলেই দোকান বন্ধ করে মুহূর্তেই হাওয়া হয়ে যান। আবার অনেকে সরকারের বেঁধে দেওয়া মূল্যের সাথে পরিবহন ও লেবার খরচ যোগ করে যৌক্তিক মূল্যেও এই গ্যাস বিক্রি করছেন। সিলিন্ডার গ্যাস চড়া দামে বিক্রির কারসাজিতে ক্রেতা- সাধারণের অনেকেরই এখন নাভিশ্বাস অবস্থা। বাধ্য হয়ে কোনো-কোনো পরিবার লাকড়ি-কাঠ পুড়িয়ে রান্নার কাজ সারছেন। তাতে গাছ উজার হওয়ার উপক্রম।
শিবচর উপজেলার কোথায়ও এই গ্যাস ২,১০০-২,২০০ টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে। সম্প্রতি সরকার ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারে ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে এই গ্যাস ১,৭২৮ টাকা মূল্য নির্ধারণ করে দিলেও সেই নির্ধারিত মূল্যে কোথাও মিলছে না এই গ্যাস।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে মাদারীপুর সদরের আইগ্যাস ডিস্ট্রিবিউটার মেসার্স হাওলাদার ট্রেডাসের্র স্বত্বাধিকারী মিজান, মেসার্স প্রমি এন্টারপ্রাইজের ডিলার হুমায়ুন তালকদার, মেসার্স সৈয়দ ট্রেডার্সের মালিক মনিরুল হক ১,৮৫০ ও ১,৯০০ টাকায় ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রি করছেন। সরকারের বেঁধে দেওয়া নিয়মের চাইতে বেশি দামে এ গ্যাস বিক্রির কারণ সম্পর্কে তারা বলেন, ‘পরিবহন খরচ ও লেবার কষ্ট যুক্ত হওয়ায় তারা ওই দামে তা বিক্রি করছেন।’
এ প্রসঙ্গে মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াদিয়া শাবাব জানান, আমাদের কাছে চড়া দামে ওই গ্যাস বিক্রির অভিযোগ এসেছে, অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার টেংড়াকান্দি বাজারে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে দুটি দোকান পুড়ে গেছে। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ভোরে উপজেলার চরাঞ্চলের ফুলছড়ি ইউনিয়নের টেংড়াকান্দি বাজারে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বাজারের ওবায়দুল ডাক্তারে ওষুধের দোকানে কে বা কারা আগুন দিলে মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা পাশের কাশেমের মনিহারি দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে যাওয়া আগেই মালামালসহ দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ওবায়দুল ডাক্তার জানান, তার দোকানে ১৫ লাখ টাকার ওষুধ ছিল, যা আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, পূর্বশত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে দোকানে আগুন দেওয়া হয়েছে।
ফুলছড়ি থানার ওসি দুরুল হোদা বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নওগাঁর লেখক, নওগাঁর বই প্রতিপাদ্যে নওগাঁ জেলার স্থানীয় লেখকদের বই নিয়ে দিনব্যাপী পথ বইমেলা বসল। স্থানীয় সংগঠন নওগাঁ সাহিত্য পরিষদের আয়োজনে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বেলা ১১ টায় শহরের মুক্তির মোড় জেলা পরিষদ পার্কগেটে বই মেলার উদ্বোধন করেন বরেণ্য কবি আতাউল হক সিদ্দিকী।
নওগাঁ সাহিত্য পরিষদের সভাপতি ড. আইয়ুব আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল নয়ন। প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ নওশাদ হাসান, বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুশফিকুর রহমান, জেলার সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক কর্মকর্তা তাইফুর রহমান, আবৃত্তি পরিষদের সভাপতি কায়েস উদ্দীন, কথাসাহিত্যিক বরেন্দ্র ফরিদ, সাংস্কৃতিক ঐকের সভাপতি কথাসাহিত্যিক মনোয়ার লিটন, জহির রায়হান চলচিত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক রহমান রায়হান, অধ্যক্ষ আরিফুর রহমান প্রমুখ।
এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন গল্পকার হারিব রতন, কবি রোকয়া শাকিলা, রবিউল মাহমুদ, রিমন মোরশেদ, আসলাম হোসেন, গুলজার রহমান সোহাগ হোসেন প্রমুখ।
মেলার আয়োজকরা জানান- বইমেলায় জেলার ৭০ জন লেখকের অন্তত দুই শতটি বই স্থান পেয়েছে। গল্প, কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ ও শিশুদের বই রয়েছে। এসব বইয়ের মূল্য ১০০ টাকা থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে।
নওগাঁ সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল নয়ন বলেন, বইমেলার উদ্দেশ্য হচ্ছে নতুন প্রজন্ম ও নওগাঁবাসীর কাছে নওগাঁর লেখকদের তুলেধরা এবং পরিচিত বাড়ানো। সেই সাথে তরুণ প্রজন্ম যে মোবাইল ও সামাজিক বিভিন্ন মাধ্যমে যেভাবে আসক্ত হয়ে পড়েছে তা থেকে বেরিয়ে এসে লেখালেখি ও শিল্প সাহিত্যে প্রতি উদ্বৃদ্ধ করণের লক্ষ্যই এ মেলার মূল লক্ষ্য।
সভাপতি ড. আইয়ুব আলী বলেন, বাংলা সাহিত্যের সূত্রপাত হয়েছিল নওগাঁর সোমপুর বিহার হতে চর্য়াপদের মাধ্যমে। তা নওগাঁর মানুষ অনেকেরই অজানা। এবং বর্তমান সময়েও এ জেলার অনেক লেখক আছে যাদের বই বিশ্ববিদ্যালয়ে সহায়ক বই হিসেবে পড়ানো হয়। নওগাঁয় শতাধীক কবি-সাহিত্যক প্রাবন্ধিক ও গবেষক রয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্য তাদের দেশব্যাপী পরিচিত করা।
বই মেলায় নওগাঁ জেলার ১১ টি উপজেলা থেকে আগত লেখকদের আগমনে এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। মেলা চলে সন্ধ ৬ টা পর্যন্ত।
উদ্ভাবননির্ভর স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয়ে যশোরের কেশবপুরে হয়ে গেলো ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ও ১০ম জাতীয় বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড-২০২৬। দুই দিনের বিজ্ঞান মেলা বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলায় জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি যাদুঘরের তত্ত্বাবধান এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতা ছিল। গত বুধবার (৮ এপ্রিল) শুরু হওয়া এ মেলায় শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের ব্যাপক আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, সৃজনশীলতা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা গড়ে তুলতে এ ধরনের বিজ্ঞান মেলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে হলে আমাদের বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণার ওপর আরও জোর দিতে হবে।
বিশেষ অতিথি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শেখ ফিরোজ হোসেন বলেন, বিজ্ঞান শিক্ষা কেবল বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। এর ব্যবহারিক প্রয়োগ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের বাস্তব ধারণা থাকতে হবে। বিজ্ঞান মেলা শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শেখার সুযোগ সৃষ্টি করে এবং তাদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা ও অনুসন্ধিৎসা বৃদ্ধি করে।
মেলায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা নানা উদ্ভাবনী ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রকল্প প্রদর্শন করে দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। বিশেষভাবে আকর্ষণ করে স্মার্ট সিটি, সোলার পাওয়ার ভিলেজ, স্মার্ট হাইওয়ে লাইটিং, অ্যাকুয়া ভোল্ট এবং বাতাসের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রযুক্তি।
প্রতিযোগিতার ফলাফলে সিনিয়র গ্রুপে কেশবপুর সরকারি পাইলট উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আনিকা জামান প্রাপ্তি প্রথম, বুশরা ইবনাত দ্বিতীয় এবং কেশবপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের তমাল মল্লিক তৃতীয় স্থান অর্জন করে। একই কলেজের আরিয়ান জাহিন আরাফ ও অর্থী ঘোষ যথাক্রমে চতুর্থ ও পঞ্চম স্থান লাভ করে।
জুনিয়র গ্রুপে মঙ্গলকোট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জুবায়ের রহমান সায়িব প্রথম, কেশবপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সামিয়া নেওয়াজ দ্বিতীয় এবং মোহসিনা ইসলাম তৃতীয় স্থান অর্জন করে। একই বিদ্যালয়ের সাওদা নেওয়াজ ও নন্দিতা দাশ চতুর্থ ও পঞ্চম স্থান অধিকার করে।
এ ছাড়া বিজ্ঞান কুইজ প্রতিযোগিতায় সাগরদাঁড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রথম, মঙ্গলকোট মাধ্যমিক বিদ্যালয় দ্বিতীয় এবং কেশবপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় তৃতীয় স্থান লাভ করে।
একটি আধুনিক নিরাপদ ও উন্নত জনপদ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে ত্রিশালের টেকসই উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন জাতীয় সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন। বিশেষ করে অবহেলিত জনপদের যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং জননিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তিনটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের রূপরেখা প্রকাশ করেছেন তিনি।
ডা. লিটন জানান, একটি উন্নত জনপদ গড়ার পূর্বশর্ত হলো নিরাপদ যোগাযোগ এবং সুশৃঙ্খল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। সাধারণ মানুষের ভালোবাসার মর্যাদা রক্ষা করতেই তিনি প্রতিটি ইউনিয়নের অবকাঠামোগত উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় আসন্ন ৩টি অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ব্রহ্মপুত্র নদের তীরের অবহেলিত জনপদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতে ‘বালিপাড়া-চর মাদাখালী ব্রিজ’ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই ব্রিজটি নির্মিত হলে যোগাযোগ বিড়ম্বনা দূর হওয়ার পাশাপাশি ওই অঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র আমূল বদলে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি হবে চরাঞ্চলের মানুষের জন্য এক বড় মাইলফলক। এছাড়াও ধানীখোলা ও বৈলর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলের বর্তমান জীর্ণ দশা দূর করতে একটি আধুনিক ও প্রশস্ত সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই সেতুটি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও যাতায়াতে নতুন গতির সঞ্চার করবে এবং শিল্পায়নের পথ সুগম করবে। জনসংখ্যা ও ভৌগোলিক গুরুত্ব বিবেচনায় বালিপাড়ায় একটি স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা এখন সময়ের দাবি। জনমালের নিরাপত্তা ও দ্রুত আইনি সেবা নিশ্চিত করতে এই প্রকল্পটি ডা. লিটনের অগ্রাধিকার তালিকার শীর্ষে রয়েছে।
এমপি লিটন বলেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে প্রতিটি কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই আমার বড় সফলতা। আপনাদের দোয়া ও সমর্থন নিয়ে আমরা একটি আধুনিক, নিরাপদ ও উন্নত ত্রিশাল গড়ে তুলবো ইনশাআল্লাহ। এসব মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের খবরে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর মতে, এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে ত্রিশাল মডেল উপজেলা হিসেবে সারাদেশে সমাদৃত হবে।
দখল, দূষণ এবং খননের অভাবে মরা খালে পরিণ হয়ে গেছে ঝিনাইদহের নদ-নদীগুলো। জেলার নবগঙ্গা, চিত্রা, কুমার, ইছামতি, ডাকুয়া, কপোতাক্ষসহ বেশিরভাগ নদী এখন মৃতপ্রায়। এতে শুধু প্রাকৃতিক ভারসাম্যই নয়, হুমকির মুখে পড়েছে জীববৈচিত্র্য ও স্থানীয় অর্থনীতি। জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় নদীর এই অবস্থা।
জেলা শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত একসময়ের খরস্রোতা নবগঙ্গা নদী দিয়ে একসময় চলাচল করত বড় বড় নৌকা। সেই নদীতে এখন গরু চড়ে। নদীর তলদেশজুড়ে জমেছে ময়লা-আবর্জনা, বিভিন্ন স্থানে জেগে ওঠেছে চর। এসব চর দখল করে স্থানীয় প্রভাবশালীরা চাষাবাদ ও অন্য কাজে ব্যবহার করছেন।
একই চিত্র-চিত্রা, কুমার, গড়াই, ইছামতি, ও কপোতাক্ষহর ১২টি নদ-নদীর। কোথাও উৎসমুখে দেওয়া হয়েছে বাঁধ, কোথাও করা হয়েছে নদীর তীর দখল। এসব কারণে ক্রমাগত কমছে নদীর প্রশস্ততা ও গভীরতা। ফলে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে পানির প্রবাহ, কমে যাচ্ছে মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর আবাসস্থল।
ঝিনাইদহ খাজুরা এলাকার বাসিন্দা বীরেন হালদার বলেন, ‘একসময় এই নদীতে মাছ ধরে আমাদের জীবিকা চলত। এখন নদী ভরাট হয়ে গেছে, পানি নেই বললেই চলে। দ্রুত খনন না করলে নদী পুরোপুরি হারিয়ে যাবে।’
আরাপপুর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা রহিমা খাতুন বলেন, ‘আগে আমাদের এই নদীতে অনেক পানি থাকত। গা-গোসল, ধোয়া-কাচার কাজ করতাম, এখন একটুও পানি থাকে না।’
ঝিনাইদহ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, ‘নদী পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে প্রথমেই উৎসমুখে নির্মিত বাঁধ অপসারণ জরুরি। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে হলে উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। শুধু খনন করলেই হবে না, দখলমুক্ত ও দূষণ নিয়ন্ত্রণও নিশ্চিত করতে হবে।’
এ ব্যাপারে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ বলেন, ‘নদী দখলমুক্ত করতে পর্যায়ক্রমে অভিযান পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি নদীর প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।’
প্রশাসনের তথ্যানুযায়ী, ঝিনাইদহের ৬ উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ১২টি নদ-নদীর মোট আয়তন ১ হাজার ৬৪১ দশমিক ৭৫ হেক্টর। তবে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে এসব নদীর অস্তিত্ব পুরোপুরি বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
মামলার বাদী ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা মোঃ হোসেন (৪০), যিনি পেশায় একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক এবং বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি জানান, তার মেয়ে লামিয়া আক্তার স্থানীয় কুতুবা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একজন নিয়মিত ছাত্রী। মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে— মোঃ হৃদয় (২০), মোঃ রিপন (৩৫), মোঃ রাকিব (৩৬) এবং মনি বেগম (৫৫)-কে। তাদের সবার বাড়ি বোরহানউদ্দিন পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রধান অভিযুক্ত হৃদয় দীর্ঘদিন ধরে লামিয়াকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল এবং বিভিন্নভাবে তাকে উত্ত্যক্ত করত। বিষয়টি মেয়েটি তার পরিবারকে জানালে প্রথমে সামাজিক কারণে পরিবার বিষয়টি গোপন রাখে। পরে অভিযুক্তের পরিবারকে জানানো হলে তারা কোনো কার্যকর সমাধান না দিয়ে উল্টো মেয়েটির সঙ্গে হৃদয়ের বিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়, যা ভুক্তভোগীর পরিবার প্রত্যাখ্যান করে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২৮ মার্চ ২০২৬ তারিখ সকাল সাড়ে ৮টার দিকে লামিয়া প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়। সে যখন পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের খেয়াঘাট সড়কে পৌঁছায়, তখন পূর্বপরিকল্পিতভাবে অভিযুক্তরা তাকে জোরপূর্বক অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে অভিযুক্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদী তার এজাহারে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, অভিযুক্তরা তার মেয়েকে গুরুতর ক্ষতির সম্মুখীন করতে পারে। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত) এর ৭/৩০ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনার পর অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে অভিযুক্ত রিপনের স্ত্রী জানান, তার স্বামী, দেবর ও শাশুড়ি বাড়িতে নেই এবং তারা কোথায় অবস্থান করছেন সে সম্পর্কে তিনি অবগত নন।
এদিকে, ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “স্কুলে যাওয়া একটি মেয়ের সঙ্গে এমন ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
একজন শিক্ষক বলেন, “বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।”
এলাকার সচেতন মহল দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
সীতাকুণ্ডে এক কিশোর এগারো দিন ধরে নিখোঁজ। উপজেলার বাড়বকুণ্ড নতুনপাড়া হাসেম নগরের বাসিন্দা কিশোর সায়েম শাহেদ ভূঁইয়া (১৫) গত ১১ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। পরিবারের একমাত্র আদরের সন্তান নিখোঁজ হওয়ায় হতবাক হয়ে পড়েছেন তার বাবা আনোয়ার শাহদাত ভূঁইয়া ও মা শাহিনা আক্তার লিপি ।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ মার্চ ২০২৬, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক সাড়ে সাতটার দিকে শাহেদ বাড়ীর পাশেই মসজিদে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। কিন্তু সেই গিয়ে আর ফিরেনি শাহেদ । রাত গভীর হলেও ছেলে বাড়ি না ফেরায় উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন পরিবারের সদস্যরা। এরপর শুরু হয় খোঁজাখুঁজি—আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী, পরিচিত সব জায়গায় খোঁজ নিয়েও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।
পরদিন শাহেদের মা সীতাকুণ্ড মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৬১, তারিখ: ০১-০৪-২০২৬) করেন। কিন্তু ১১ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো খোঁজ না মেলায় পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক ও উৎকণ্ঠা।
নিখোঁজ শাহেদের মা শাহিনা আক্তার লিপি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলেটা কোথায় আছে জানি না… বেঁচে আছে কিনা তাও জানি না। প্রতিদিন দরজার দিকে তাকিয়ে থাকি—এই বুঝি ফিরে আসবে। কেউ যদি আমার ছেলেকে দেখে থাকেন, দয়া করে জানাবেন।
এদিকে এলাকাবাসীর মধ্যেও এ ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। দ্রুত শাহেদের সন্ধান পেতে প্রশাসনের সর্বোচ্চ সহায়তা কামনা করছেন তারা। নিখোঁজ শাহেদের পরিবারের হাসি আজ কান্নায় পরিণত হয়েছে সবাই এখন শুধু অপেক্ষায় রয়েছে “শাহেদ কখন ফিরবে ।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো মাহেনুল ইসলাম জানিয়েছেন , তার পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছে । পুলিশ চেষ্টা করে যাচ্ছে নিখোঁজ শাহেদের সন্ধানে ।
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় পরিত্যক্ত ঘর থেকে জবাই করা কয়েকটি ঘোড়া ও একটি জীবিত ঘোড়া উদ্ধারের ঘটনায় অবৈধ মাংস বিক্রেতা চক্রের প্রধান অভিযুক্ত রাজিব শিকদারকে আটক করেছে গজারিয়া থানা পুলিশ। এর আগে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) এই চক্রের আরও চার সদস্যকে আটক করা হয়েছিল।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে চারটায় উপজেলার গজারিয়া আনারপুরা বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। আটককৃত রাজিব শিকদার (৩৬) উপজেলার ভবেরচর ইউনিয়নের আনারপুরা গ্রামের মৃত বাবুল শিকদারের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত ৮ এপ্রিল ভোরে আনারপুরা গ্রামের একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে গরুর মাংস হিসেবে বিক্রির উদ্দেশ্যে জবাই করা কয়েকটি ঘোড়া ও একটি জীবিত ঘোড়া উদ্ধার করে স্থানীয়রা। সে সময় প্রধান অভিযুক্ত রাজিব ও তিতাসসহ কয়েকজন পিকআপ ভ্যানে করে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর চক্রের অন্য সদস্যরা পালিয়ে থাকলেও রাজিব এলাকায় ফিরে এসে আত্মগোপন করে। শুক্রবার বিকেলে আনারপুরা বাস স্ট্যান্ড এলাকা থেকে পুলিশ তাকে আটক করে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজিব মাদকাসক্ত এবং মূলত বন্ধুদের সাথে নেশা করার উদ্দেশ্যেই সে এলাকায় ফিরে এসেছিল।
এর আগে বৃহস্পতিবার গজারিয়া ও গাজীপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই চক্রের আরও চার সদস্যকে আটক করে পুলিশ। শুক্রবার বিকেলে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, আটককৃতরা হলো, মাদারীপুর জেলার কালকিনির রুবেল (৩৯), নওগাঁর সৌরভ (২১), গাজীপুরের টঙ্গীর সোহেল গাজী (২১) ও একই এলাকার ইয়াসিন আরাফাত (২১)। অপরাধীদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সেখানে মোট দশটি ঘোড়া ছিল যার মধ্যে নয়টি জবাই করা হয়েছিল এবং একটি অসুস্থ ঘোড়া জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
প্রধান অভিযুক্ত রাজিবের আটকের বিষয়ে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাসান আলী বলেন, "এই চক্রটি রাজিব ও তিতাসের নেতৃত্বে পরিচালিত হতো। রাজিব আটক হয়েছে এখন তিতাসকে আটকের চেষ্টা চলছে। আশা করছি দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে। রাজিবসহ এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট পাঁচজন আটক হলো।"
রাজবাড়ী গোয়ালন্দ পৌরসভা ৪ নং ওয়ার্ড ক্ষুদিরাম সরদার পাড়া এলাকার সুজিত মন্ডলের স্ত্রী স্বামী পরিত্যক্তা শিখা রানী (৪০) কে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে ছেলে গোবিন্দ ঘোষ (১৯)।
স্থানীয় ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দিবাগত রাত ৩ টার দিকে ছেলে গোবিন্দ ঘোষ (১৯) নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তার ঘুমন্ত মায়ের উপর দা দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। শিখা রানীর ডাক চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে গেলে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানেও তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
পারিবারিক সূত্রে আরও জানা যায়, ঘটনার সময় ভিকটিমের বাড়ির অন্যান্য লোকজন গোবিন্দ ঘোষ (১৯) কে ঘরের মধ্যে আটক রেখে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় খবর দিলে থানায় কর্মরত এস আই মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্স সহ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ১টি রক্ত মাখা দা, বিছানায় পড়ে থাকা মাথার চুল, রক্তমাখা বিছানার চাদর জব্দ করে আসামি গোবিন্দ ঘোষ (১৯) কে হেফাজতে নেন। আসামি গোবিন্দ এর আগেও নেশা করার টাকার জন্য মায়ের সাথে ঝগড়া করেতেন।
এ ব্যাপারে গোয়ালন্দ ঘাট থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আসামীকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
বরিশালে সংক্রামক রোগ হাম উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে বরিশাল বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ জনে।
স্বাস্থ্য বিভাগ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দুই শিশুর মৃত্যু হয়।
মৃতরা হলো,বানারীপাড়া উপজেলার চাখার ইউনিয়নের বাসিন্দা হাবিবুর রহমানের ৯ মাস বয়সী ছেলে রাকিব এবং মুলাদী উপজেলার কাজিরচর ইউনিয়নের বাসিন্দা রাজিবের মেয়ে সাদিয়া। তারা ৮ এপ্রিল দুপুরে হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় এবং শুক্রবার ভোরে প্রায় এক ঘণ্টার ব্যবধানে মারা যায়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে শেবাচিম হাসপাতালে ৯২ জন শিশু হাম উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩১ জন শিশু ভর্তি হয়েছে এবং একই সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২৮ জন। চলতি বছরের ১০ এপ্রিল সকাল পর্যন্ত মোট ৩৪১ জন শিশু এই রোগে চিকিৎসা নিয়েছে।
অন্যদিকে, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৭৫১ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৫৬৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হয়েছে ৭২ জন এবং সুস্থ হয়েছে ৬১ জন। একই সময়ে আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের।
স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, শিশুদের মধ্যে দ্রুত হারে হাম ছড়িয়ে পড়ছে, যা পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক করে তুলেছে। এ অবস্থায় শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। দেশের বিভিন্ন এলাকায়ও হামের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় জনস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।