বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি ২০২৬
২৪ পৌষ ১৪৩২

অজপাড়াগাঁয়ে আলো ছড়াচ্ছে ‘মুক্তিযোদ্ধা স্কুল’

মুক্তিযোদ্ধা হেলাল-খসরু হাই স্কুল। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
৪ এপ্রিল, ২০২৪ ০০:০৮
জাহাঙ্গীর আলম, সুনামগঞ্জ
প্রকাশিত
জাহাঙ্গীর আলম, সুনামগঞ্জ
প্রকাশিত : ৪ এপ্রিল, ২০২৪ ০০:০৮

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামে অবস্থিত মুক্তিযোদ্ধা হেলাল-খসরু হাই স্কুল। তবে মুক্তিযোদ্ধা স্কুল নামেই এটি বেশি পরিচিত। প্রত্যন্ত এলাকায় অজ্ঞতার অন্ধকার দূর করতে শিক্ষার আলোকবর্তিকা নিয়ে এগিয়ে চলেছে দুই মুক্তিযোদ্ধার স্থাপিত এ স্কুলটি।

জানা যায়, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে পাকিস্তানের করাচির সেনানিবাস থেকে পালিয়ে আসেন বাঙ্গালি ক্যাপ্টেন এ এস হেলাল উদ্দিন। মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এমএজি আতাউল গণি ওসমানীর নির্দেশে ৫ নম্বর সেক্টরের সেলা সাব-সেক্টর বাঁশতলায় কমান্ডার হিসেবে যোগদান করেন। তিনি বীর-মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে ক্যাপ্টেন হেলাল নামেই পরিচিত ছিলেন। যুদ্ধকালীন ক্যাপ্টেন হেলালের বীরত্বগাথা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে গৌরবের সঙ্গে স্থান করে নিয়েছে।

যুদ্ধশেষে যুদ্ধদিনের সাথী বীর-মুক্তিযোদ্ধা বজলুল মজিদ চৌধরী খসরুকে নিয়ে রাস্তা-ঘাটবিহীন জনবিচ্ছিন, অবহেলিত এবং শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত এই জনপদে স্কুল তৈরির পরিকল্পনা করেন ক্যাপ্টেন হেলাল।

যেভাবে হলো স্কুলের সূচনা

বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরুর গ্রামের বাড়ি দোয়ারাবাজারের লক্ষ্মীপুর গ্রামে। তিনি ছিলেন এই গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। তার মা মজিদা খাতুন চৌধুরীর দানকৃত এক একর জায়গা এবং ক্যাপ্টেন হেলালের ৬ লাখ টাকা অর্থায়নে ১৯৯৬ সালে গড়ে তোলেন ক্যাপ্টেন হেলাল খসরু হাই স্কুল। প্রথমে ৪ কক্ষ বিশিষ্ট পাকা দেয়ালের টিনশেড স্কুল ঘর এবং আলাদা বাথরুম নির্মাণ করা হয়। শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও একই গ্রামের বিএ (সম্মান) পাস করা যুবক গুলজার আহমেদ প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব নেন। অদম্য ইচ্ছাশক্তি নিয়ে কাজে নামেন স্কুলে শিক্ষার্থী নিয়ে আসার।

তিনি তার সহকারী শিক্ষক প্রথমে মোস্তফা কামাল পরে আলী আকবর, আতাউর রহমানকে সাথে নিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে ৩৫ জন শিক্ষার্থী সংগ্রহ করেন। ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত এই স্কুলে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ২০০৪ সালে এটি মাধ্যমিক স্কুলের স্বীকৃতি লাভ করে এবং ২০১৯ সালে মাধ্যমিকপর্যায়ে এমপিওভুক্ত হয়।

স্কুলের সাফল্য

২০০৪ সালে ৫ জন শিক্ষার্থী এই স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে চারজন পরীক্ষার্থী কৃতিত্বের সঙ্গে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। পরবর্তীতে শত শত শিক্ষার্থী এই স্কুল থেকে এসএসসি পাস করে কলেজ হয়ে মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিং, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে অনেকেই বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি চাকরিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে কর্মরত রয়েছেন। সর্বশেষ ২০২৩ সালে ৭৮ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ৬৮ জন কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়। পাসের হার ৮৭ শতাংশ নিয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলার মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে। উপজেলা ও জেলাপর্যায়ে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, বিজ্ঞান ও গণিতে মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিকভাবে সাফল্য অর্জন করে চলেছে এই স্কুলটি। ২০২৪ সালে স্কুল থেকে ৯১ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।

স্কুলের বর্তমান অবস্থা

মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন হেলাল খসরু হাই স্কুল অর্থাৎ ‘মুক্তিযোদ্ধা স্কুল’ প্রতিষ্ঠা হওয়ায় আলোকিত হয়েছে পুরো লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন। এখন আশপাশের গ্রামে কোনো নিরক্ষর লোক খুঁজে পাওয়া কঠিন। প্রায় প্রতিটি ঘরে ঘরে চাকরিজীবী শিক্ষিত পরিবার। এক সময় স্কুল ড্রেস ভিজিয়ে, গায়ে কাদামাটি মেখে, নৌকায় করে, হেঁটে স্কুলে পৌঁছাতে হতো। এখন স্কুলকে কেন্দ্র করে সেখানকার রাস্তা-ঘাটেরও বেশ উন্নতি হয়েছে।

স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থী গণমাধ্যমকর্মী আল আমিন বলেন, ‘এই স্কুলের জন্য পুরো এলাকা আলোকিত হয়েছে। এ জন্য প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিসেবে স্কুলটির প্রতিষ্ঠাতা জাতির দুই শ্রেষ্ঠ সন্তানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। মুক্তিযোদ্ধা স্কুলের ছাত্র হিসেবে আমি গর্বিত।’

প্রধান শিক্ষক মো. ফারুক আহমদ বলেন, স্কুল পরিচালনার ক্ষেত্রে পরিচালনা পরিষদের যথেষ্ট আন্তরিকতা রয়েছে। স্কুলটির আরও অবকাঠামোগত উন্নয়ন দরকার। শিক্ষক সংকট দূর করা এবং নিরাপত্তার জন্য স্কুলের চতুর্দিকে সীমানা দেয়াল নির্মাণ জরুরি।
স্কুল পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মুনমুন চৌধুরী বলেন, শিক্ষক সংকট দূর হলে জেলার শ্রেষ্ঠ স্কুল হতে পারে এই স্কুল। আশা করছি এটি শিগগিরই স্কুল থেকে কলেজে উন্নীত হবে।

স্কুলের হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘দোয়ারাবাজারের প্রত্যন্ত জনপদে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে ১৯৯৬ সালে আমি এবং বীর-মুক্তিযোদ্ধা বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করি। বর্তমানে স্কুলের সাফল্য দেখে আমি আনন্দিত।’


যশোরে ঘুষের লাখ টাকাসহ প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আটক

ঘুষ নেওয়ার সময় আটক হন যশোরের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পেনশন ও বেতন সমতাকরণের নথি ছাড় করতে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার সময় যশোরের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলমকে হাতেনাতে আটক করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পরে তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৬১ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় যশোরে মামলা করা হয়েছে। সংস্থাটির সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দুদক সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগকারী মো. নূরুন্নবী লিখিতভাবে জানান, আশরাফুল আলম পেনশন ও বেতন সমতাকরণের নথি ছাড় করতে তার কাছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পায় দুদক।

সংস্থাটি বলছে, অভিযোগের বিষয়ে কমিশনের অনুমোদনে একটি ফাঁদ মামলা পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বুধবার (৭ জানুয়ারি) বেলা দেড়টার দিকে নিরপেক্ষ সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ঘুষের জন্য নির্ধারিত ১ লাখ ২০ হাজার টাকা অভিযোগকারীর জিম্মায় দেওয়া হয়।

পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে অভিযোগকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল আলমের কার্যালয়ে গিয়ে তাকে ঘুষের টাকা দেন। আসামি টাকা নিয়ে নিজের টেবিলের ড্রয়ারে রাখেন।

দুদক জানায়, ফাঁদের পরিকল্পনা অনুসারে ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে দুদকের দল অভিযান পরিচালনা করে। নিরপেক্ষ সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ওই টেবিলের ড্রয়ার থেকে ঘুষের ১ লাখ ২০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।


৩৫ জেলায় নিপাহ ভাইরাস, খেজুর রস পানে সতর্কতা

* চার জেলায় সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বেশি * আক্রান্তদের গড় মৃত্যুহার প্রায় ৭২% 
আপডেটেড ৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ০১:১৫
নিজস্ব প্রতিবেদক 

দেশের ৩৫ জেলায় নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে এবং এর বিস্তার ও সংক্রমণের ধরন উদ্বেগজনক হারে পরিবর্তন হচ্ছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইইডিসিআর। সংস্থাটি জানিয়েছে, গত বছর রেকর্ড করা চারটি কেসের সব কটিতেই ১০০ শতাংশ মৃত্যুর পাশাপাশি প্রথমবারের মতো একটি ‘অ-মৌসুমি কেস’ পাওয়া গেছে।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে আইইডিসিআরের মিলনায়তনে ‘নিপাহ ভাইরাসের বিস্তার ও ঝুঁকি বিষয়ে মতবিনিময়’ শীর্ষক সভায় উপস্থাপিত প্রবন্ধে সংস্থাটির বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা এ তথ্য জানান।

উপস্থাপিত প্রবন্ধে দেখা যায়, ২০২৫ সালে নওগাঁ, ভোলা, রাজবাড়ী ও নীলফামারী— এই চার জেলায় চারজন নিপাহ রোগী শনাক্ত হন এবং প্রত্যেকেই মৃত্যুবরণ করেন। এদের মধ্যে নওগাঁর ৮ বছরের এক শিশুর ঘটনাটি ছিল দেশে প্রথম ‘অ-মৌসুমি নিপাহ কেস’, যা শীতকাল ছাড়াই আগস্ট মাসে শনাক্ত হয়। ওই শিশুর সংক্রমণের উৎস ছিল বাদুড়ের আধা-খাওয়া ফল (কালোজাম, খেজুর, আম) খাওয়া, যা নিপাহ ছড়ানোর একটি নতুন ও এলার্মিং হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

নিপাহ ভাইরাসের ব্যাপক বিস্তার ঘটছে উল্লেখ করে বলা হয়, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৩৫টিতেই নিপাহ ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নওগাঁ ও লালমনিরহাটে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার তুলনামূলকভাবে বেশি। গত বছর শনাক্ত ৪ জনের সবাই মারা গেছেন (মৃত্যুর হার ১০০%)। গ্লোবালি নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্তদের গড় মৃত্যুহার প্রায় ৭২%।

প্রবন্ধে আরও বলা হয়, ঐতিহাসিকভাবে খেজুরের কাঁচা রসকে প্রধান উৎস মনে করা হলেও ২০২৫ সালে নওগাঁর কেস প্রমাণ করে, বাদুড়ের লালা বা মূত্রে দূষিত যে কোনো আধা-খাওয়া ফল সরাসরি খাওয়ার মাধ্যমেও সংক্রমণ ঘটতে পারে এবং সারা বছরই তা সম্ভব। মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ ঘটে উল্লেখ করে আরও বলা হয়, প্রায় ২৮% ক্ষেত্রে নিপাহ আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে সরাসরি অন্য ব্যক্তিতে সংক্রমণ ছড়ায়, যা স্বাস্থ্যকর্মী ও পরিবারের সদস্যদের জন্য উচ্চ ঝুঁকি তৈরি করে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরীন। এসময় তিনি বলেন, ‘২০২৫ সালের অ-মৌসুমি কেস এবং নতুন সংক্রমণ পথ আমাদের জন্য একটি বড় ওয়ার্নিং সিগন্যাল। নিপাহ এখন শুধু শীত বা খেজুরের রসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটা একটি সারা বছরের এবং বহুমুখী সংক্রমণের হুমকিতে পরিণত হচ্ছে।’

নিপাহ ভাইরাস জরিপ সমন্বয়কারী ডা. সৈয়দ মঈনুদ্দিন সাত্তার জানান, ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সভায় আরও জানানো হয়, গত বছর ২০২৪ সালে দেশে নিপাহ ভাইরাসে ৫ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং তাদের সবারই মৃত্যু হয়েছিল। ২০২৫ সালের তথ্য এবং নতুন সংক্রমণ পথের আবিষ্কার নিপাহ মোকাবিলায় বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও সতর্ক ও প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানাচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দেন।


এলপিজি সংকটে রিফিল হচ্ছে না ৪ কোটি ২৫ লাখ সিলিন্ডার

*  সারা দেশে এলপিজি সরবরাহ বন্ধের হুমকি * ৬ দফা দাবিতে সরকারকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক   

কারসাজি করে দাম বেশি নিয়ে এবার কমিশন বৃদ্ধি এবং বিইআরসির দাম ঘোষণা বন্ধসহ ৬ দফা দাবিতে সরকারকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি। দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) চরম সংকট চলছে বলে দাবি করে ব্যবসায়ীরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবি পূরণ না হলে সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য এলপিজি সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির নেতারা এই আলটিমেটাম দেন।

সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সভাপতি সেলিম খান জানান, বর্তমানে দেশে ২৭টি কোম্পানির প্রায় সাড়ে ৫ কোটি এলপিজি সিলিন্ডার বাজারজাত করা হয়েছে। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো, এর মধ্যে মাত্র ১ কোটি ২৫ লাখ সিলিন্ডারে গ্যাস রিফিল হচ্ছে। অন্য ৪ কোটি ২৫ লাখ সিলিন্ডারই বর্তমানে খালি পড়ে আছে।

গৃহস্থালি, শিল্প ও বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম (এলপি) গ্যাসের চলমান সংকট ও অব্যবস্থাপনা নিরসনের দাবিতে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

মানববন্ধনে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি সেলিম খান বলেন, দেশে বর্তমানে এলপি গ্যাসের চরম সংকট চলছে। এই পরিস্থিতিতে বিইআরসি পরিবেশকদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই নতুন মূল্য নির্ধারণ করায় কোম্পানি, পরিবেশক ও ভোক্তারা চরম বিপর্যয়ে পড়েছেন। সংকট নিরসনের পরিবর্তে মূল্য নিয়ে অযথা বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করেন, অনভিজ্ঞ ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযানের কারণে বাজারে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে, যা সংকটকে আরও তীব্র করছে এবং অনেক ব্যবসায়ীকে ব্যবসা বন্ধে বাধ্য করছে।

সেলিম খান বলেন, বিইআরসি মাসে একবার মূল্য ঘোষণা করলেও কোম্পানিগুলো একাধিকবার মূল্য সমন্বয় করে, যার পুরো দায় পরিবেশকদের বহন করতে হয়। এ সমস্যা সমাধানে স্থায়ী কমিটি গঠন এবং পরিবেশক ও রিটেইলার কমিশন বৃদ্ধির দাবি জানাচ্ছি।

সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশে বর্তমানে প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ সিলিন্ডার থাকলেও মাত্র ১ কোটি ২৫ লাখ সিলিন্ডার রিফিল হচ্ছে। চাহিদার তুলনায় ৬০ শতাংশ ঘাটতি থাকায় পরিবেশকদের অতিরিক্ত খরচ বাড়ছে, যার ফলে মূল্যবৃদ্ধি ঘটছে। অনেক কোম্পানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবেশকরা দেউলিয়া হওয়ার পথে। এ অবস্থায় নিষ্ক্রিয় সিলিন্ডারে ভর্তুকি ও নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারি হস্তক্ষেপ জরুরি বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা।

সমিতির সভাপতি হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিইআরসি যদি পরিবেশকদের সমন্বয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ না করে এবং প্রশাসনের হয়রানি ও জরিমানা বন্ধ না হয়, তবে ৮ জানুয়ারি থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সারাদেশে এলপি গ্যাস সরবরাহ ও বিপণন বন্ধ থাকবে।


নরসিংদীতে মুদি ব্যবসায়ীকে হত্যার ঘটনায় মানববন্ধন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নরসিংদী প্রতিনিধি

নরসিংদীর পলাশে মুদি ব্যবসায়ী মনি চক্রবর্তী (৪২) হত্যার ঘটনায় প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্ট। বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকালে নরসিংদী প্রেসক্লাবের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সদস্য, নিহত মনি চক্রবর্তীর স্বজন, এলাকাবাসীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধনে বক্তারা দ্রুত সময়ে মনি চক্রবর্তী হত্যাকারীদের চিহ্নিত করাসহ তাদের বিচারের এবং সকল ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার দাবি জানান। এ ছাড়া দ্রুত সময়ে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার না করলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন বক্তারা।

নরসিংদী পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি দীপক কুমার বর্মণ প্রিন্সের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, নরসিংদী পূজা উদযাপন ফ্রন্টের উপদেষ্টা দীপঙ্কর সাহা রানা, যুগ্ম আহ্বায়ক সঞ্জয় ধর, নরসিংদী শহর যুবদলের আহ্বায়ক মাহমুদ হোসেন চৌধুরী সুমন, অ্যাড. তুষার মিত্র, রায়পুরা উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক মিঠু বর্মণ, সদস্য সচিব সঞ্জয় সাহা, বেলাব উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক রাখাল চন্দ্র বিশ্বাস, সদস্য সচিব বাবুল বিশ্বাস প্রমুখ। এর আগে গত সোমবার রাতে নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে বাড়ি ফেরার পথে নরসিংদীর পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামে নিজ বাড়ির পাশে দুর্বৃত্তের গুলিতে খুন হয় মনি চক্রবর্তী।

পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল মামুন বলেন, এ হত্যার ঘটনায় নিহতের বাবা মদন চক্রবর্তী অজ্ঞাত পরিচয়ে আসামিদের নামে হত্যা মামলা দায়ের করেছে। এ ঘটনায় কয়েকজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাদের পরিচয় পরে প্রকাশ করা হবে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।


সিরাজগঞ্জে তাঁতিদের মধ্যে বিনা শুল্কে রং ও রাসায়নিক কেমিক্যাল বিতরণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

সিরাজগঞ্জ প্রাথমিক দুটি তাঁতি সমিতির মাঝে বিনা শুল্কে রং ও রাসায়নিক কেমিক্যাল বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকলে পৌর এলাকার মিরপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড বেসিক সেন্টারে এ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন খাঁন।

বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের আয়োজনে ও ভাঙ্গাবাড়ী ৩নং ইউনিয়ন তাঁত বোর্ডের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বাতেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সায়দাবাদ ইউনিয়নে ৩নং ওয়ার্ড ও বেলকুচি উপজেলার ভাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নে ২নং ওয়ার্ডের ১৬০ জন তাঁতিদের মাঝে এ রাসায়নিক কেমিক্যাল বিতরণ করা হয়। এ সময় সায়দাবাদ ইউনিয়নে ৩নং ওয়ার্ডের ১৩২ জনের মাঝে ১০,১৭,৫০০ কেজি ও ভাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নে ২নং ওয়ার্ডের ২৮ জনের তাঁতিদের মাঝে ৩,৮৫,০০০ কেজি রাসায়নিক কেমিক্যাল বিতরণ করা হয়।

বিতরণ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, তাঁত সমিতির ট্যাগ অফিসার (অপারেশন) মো. মনজুরুল ইসলাম, ট্যাগ অফিসার (রক্ষণাবেক্ষন) মো. সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের সহকারী ব্যবস্থাপক রবিউল ইসলাম, সমিতির কর্মকর্তা আরিফ বিল্লাহ আল মামুন প্রমুখ।

এদিকে বিনা শুল্কে তাঁত বোর্ডের রং ও রাসায়নিক কেমিক্যাল পেয়ে উচ্ছ্বসিত তাঁতিরা। তারা বলেন, সরকার তাঁতিদের দিকে এভাবে সু-নজর দিলে সিরাজগঞ্জে তাঁতশিল্প আবার প্রাণ ফিরে আসবে।


শীতের তীব্রতা বাড়ায় বিপাকে জনজীবন

নওগাঁয় ৬.৭ ডিগ্রি ও তেঁতুলিয়ায় ৭.৫ ডিগ্রি তাপমাত্রা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দেশজুড়ে জেঁকে বসেছে শীত। উত্তরের হিমেল হাওয়া আর ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে ভোরের সূর্য। হাড়কাঁপানো এই শীতে স্থবির হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যবস্থা। বুধবার (৭ জানুয়ারি) দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নওগাঁ ৬.৭ ডিগ্রিতে কেঁপেছে। এ ছাড়া পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উত্তরের হিম বাতাস ও বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় তীব্র ঠাণ্ডায় বিপর্যস্ত এই জনপদের জনজীবন। লোকজন কাজের জন্য বাইরে বের হতে পারছে না। ফলে তাদের আয় কমেছে। লোকজন খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। এ ছাড়া বেড়েছে ঠাণ্ডাজনিত রোগীর সংখ্যাও। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে বিস্তারিত;

নওগাঁ প্রতিনিধি: উত্তরের জেলা নওগাঁয় জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশার কারণে জনজীবনে চরম ভোগান্তি নেমে এসেছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় নওগাঁ জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমে এ জেলার সর্বনিম্ন।

স্থানীয়রা জানান, ভোর থেকেই চারপাশ ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। সঙ্গে উত্তর দিক থেকে বয়ে আসা হিমেল হাওয়ায় শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। গত ৫ দিন সূর্যের দেখা মিলছে না এ জেলায়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শীতের প্রকোপও বাড়তে থাকে। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন ছিন্নমূল মানুষ ও দিনমজুর শ্রেণির মানুষ।

রিকশাচালক সাজ্জাত হোসেন বলেন, ‘গত ৫ দিন সূর্যের দেখা নেই। আজ (বুধবার) শীত আরও বেশি। সকালে রাস্তায় যাত্রীই পাওয়া যাচ্ছে না। কুয়াশার কারণে পাঁচ হাত দূরের কিছুই দেখা যাচ্ছে না।’

সদর উপজেলার চকপ্রসাদ এলাকার বাসিন্দা রফিকুল আলম জানান, ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় শীত কয়েকগুণ বেশি অনুভূত হচ্ছে। আজ (বুধবার) সকাল থেকে শীত আরও বেড়েছে। মন না চাইলেও পেটের দায়ে কাজে বের হতে হচ্ছে।’

নওগাঁর বদলগাছী কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ‘বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় নওগাঁ জেলায় ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। আগেরদিন তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তাপমাত্রা আরও কমেছে। উত্তর দিক থেকে হিমেল হাওয়া অব্যাহত থাকলে শীত আরও বাড়তে পারে।

তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় প্রচণ্ড, শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত দুর্ভোগে পড়েছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকালে তেঁতুলিয়ায় ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি । এর আগে তাপমাত্রার কিছুটা পরিবর্তন হলে ১০ থেকে ১৫-তে ওঠানামা করছে।

পঞ্চগড়সহ কয়েকটি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে চলছে। এদিকে সারা দিন ঘন কুয়াশায় দুই দিনে পর সূর্যের দেখা মিলেছে।

এখনো শীতার্ত মানুষের মধ্যে প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র বিতরণ করতে তেমন চোখে পড়েননি। সরকারিভাবে যতটুকু বরাদ্দ পাওয়া গেছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ঠাণ্ডার কারণে সাধারণ মানুষ কাজকর্ম করতে পারছে না। ঘন কুয়াশা ও কনকনে ঠাণ্ডার প্রভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উত্তরের জেলা হিমালয়কন্যা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার জনজীবন।

চিকিৎসকদের মতে, শীতজনিত রোগে সবচেয়ে বেশি ভুগছে শিশু ও বয়স্করা। এদিকে ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলায় মহাসড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জীতেন্দ্রনাথ রায় জানান, বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকালে তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। যা গতকালের (মঙ্গলবার) তুলনায় ১ ডিগ্রি কম। এভাবে কমতে থাকলে আগামী কয়েকদিন শীতের প্রকোপ আরও বৃদ্ধি পাবে।

তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আফরোজ শাহীন খসরু জানান, সরকারিভাবে তেঁতুলিয়া উপজেলার জন্য যতটুকু শীতবস্ত্র বরাদ্দ পাওয়া গেছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। তাই তেঁতুলিয়া সরকারি -বেসরকারী এনজিওসহ বিভিন্ন সংস্থাকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

তেঁতুলিয়া হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শাকিল রহমান জানান, শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বাড়তি যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি গরম কাপড় ব্যবহার এবং শীতজনিত কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত তেঁতুলিয়া জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের

কাছে আসতে বলেন।

পঞ্চগড় জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসিফ আলী বলেন, ‘জেলায় শীতার্ত মানুষের জন্য ২১ হাজার ১৪০ পিস কম্বল বরাদ্দ পাওয়া গেছে, যা ইতোমধ্যে পাঁচটি উপজেলায় বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া বাড়তি শীতবস্ত্র চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’

তেঁতুলিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম জানান, তেঁতুলিয়া উপজেলা ৭টি ইউনিয়ন রয়েছে। সকল ইউপির চেয়ারম্যানের কাছে সরকারিভাবে কম্বল বিতরণ জন্যে প্রেরণ করা হয়েছে। তেঁতুলিয়া গ্রামের ছিন্নমূল অসহায় মানুষ প্রভাবশালী মানুষের নিকট শীতবস্ত্র পাওনার জন্যে ধন্না দিতেছে।

তেঁতুলিয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদ ইউপির প্যানেল চেয়ার ম্যান মনছুর আলী জানান, সরকারিভাবে পরিষদে মোট কম্বল পেয়েছি ২২৬টি কিন্তু জনসংখ্যার বিপরিতে খুবই কম।


ফরিদপুরে সাংবাদিকদের সাথে পুলিশ সুপারের মতবিনিময়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফরিদপুর প্রতিনিধি 

ফরিদপুর প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির সাথে মতবিনিময় সভা করেছেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. নজরুল ইসলাম।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে ফরিদপুর পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যদের হাতে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।

পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম বলেন, ‘জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সন্ত্রাস ও মাদক দমন এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি এ ক্ষেত্রে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফরিদপুরে পুলিশ প্রশাসন ও গণমাধ্যম একে-অপরের পরিপূরক। তাই জেলার সার্বিক উন্নয়ন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে।’ সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা অপরিহার্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, ‘অতীতের মতো ভবিষ্যতেও পুলিশের সকল ইতিবাচক ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে ফরিদপুর প্রেসক্লাব সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।’ তিনি পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে প্রেসক্লাবের সুসম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এ সময় ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়াল, সহসভাপতি শেখ মনির হোসেন, নুরুল ইসলাম আনজু, আশরাফুজ্জামান দুলালসহ নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. শামছুল আজম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. রায়হান গফুর, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আজমীর হোসেন, কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম, ট্রাফিক পরিদর্শক (টিআই) খোরশেদ আলমসহ পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


সাবেক উপদেষ্টা আসিফের বক্তব্যে এবার ফুঁসে উঠেছে মুরাদনগর

কায়কোবাদের পক্ষে ঝাড়ু মিছিল, কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক পাঁচবারের সংসদ সদস্য কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদকে ঋণখেলাপি এবং তুরস্কের নাগরিক বলা নিয়ে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিতর্কিত ও আপত্তিকর বক্তব্যের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে মুরাদনগর। বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলা সদরে ঝাড়ু হাতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিএনপি ও সর্বস্তরের জনরা।

বিকেলে মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির কার্যালয় থেকে ‘মুরাদনগরের সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে ঝাড়ু হাতে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি উপজেলা সদরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আল্লাহ চত্বরে গিয়ে এক সংক্ষিপ্ত কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশে রূপ নেয়।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া নিজের দুর্নীতি ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ড আড়াল করতেই জনপ্রিয় ও পরীক্ষিত নেতা কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। বক্তারা বলেন, কায়কোবাদ দীর্ঘদিন ধরে মুরাদনগরের মানুষের আস্থার প্রতীক, তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করতেই পরিকল্পিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘কায়কোবাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার মেনে নেওয়া হবে না। ষড়যন্ত্র অব্যাহত থাকলে আরও কঠোর আন্দোলনের পথে যেতে বাধ্য হব।’

বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট তৌহীদ আহমেদ বলেন, ‘একজন সম্মানিত জাতীয় নেতাকে নিয়ে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য রাজনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থি।’

সমাবেশ থেকে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কায়কোবাদের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো অপপ্রচার বা ষড়যন্ত্র চালানো হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধসহ বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

এ সময় বক্তারা অভিযোগ করেন, কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কায়কোবাদকে নিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এসব অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়।


চালককে হত্যা করে অটো ছিনতাই, তিন আসামি গ্রেপ্তার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভোলা প্রতিনিধি

ভোলার লালমোহনে অটোরিকশাচালক আবু বক্কর সিদ্দিক (৫১) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এ ঘটনায় জড়িত মূল আসামিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র ও একাধিক মোবাইল ফোন। বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে ভোলার পুলিশ সুপার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক প্রেস বিফ্রিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মো. ইব্রাহিম (৩৬), রাজা মিয়া (৩২) এবং কাজী তারেক (৩৫)। তারা সকলে শশিভূষণ থানা এলাকার বাসিন্দা এবং আন্তজেলা ডাকাতদলের সক্রিয় সদস্য। তাদের নামে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, ‘ঘটনার পর পুলিশের একটি চৌকস টিম তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত মূল আসামি ইব্রাহিমকে আটক করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাকু এবং ৪টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে যাত্রী সেজে আবু বক্কর সিদ্দিককে নির্জন এলাকায় নিয়ে হত্যা করে আসামিরা। হত্যার পর তার অটোরিকশাটি ছিনতাই করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এই কাজে তাদের সঙ্গে ৭ জন জড়িত ছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞেসাবাদে স্বীকার করেছে।

এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং ছিনতাইকৃত অটোরিকশাটি উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ, গত ৩০ ডিসেম্বর রাতে আবু বক্কর সিদ্দিক নামের এক অটোরিকশাচালককে কুপিয়ে হত্যা করে তার অটোরিকশাটি ছিনিয়ে নিয়ে দুর্বৃত্তরা।


বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে বাউবিতে শোকসভা অনুষ্ঠিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি)-এর প্রতিষ্ঠাতা চ্যান্সেলর ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে তার প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা ও গভীর সম্মান প্রদর্শনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে এক শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় সম্মেলন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অডিটোরিয়ামে এই শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। শোকসভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। সভায় উপাচার্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে তার দৃঢ় নেতৃত্ব, শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে দূরদর্শী ভূমিকা এবং বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় তার ঐতিহাসিক অবদান জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বাউবির সাবেক প্রো-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এ বাশার।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ডিনদের মধ্য থেকে সামাজিক বিজ্ঞান, মানবিক ও ভাষা স্কুলের অধ্যাপক তানভীর আহসান, শিক্ষকদের মধ্য থেকে কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন স্কুলের অধ্যাপক ড. মো. আবু তালেব, পরিচালকদের মধ্য থেকে মিডিয়া বিভাগের পরিচালক শরীফ মো. শাহাবুদ্দীন, কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে প্রশাসন বিভাগের যুগ্ম-পরিচালক মোহাম্মদ ছালাহ্উদ্দিন ভূঁইয়া ও কর্মচারীদের মধ্য থেকে মো. হুমায়ুন কবির বাদশা।

সঞ্চালনা করেন, বাউবির রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক আনিছুর রহমান। শোকসভাটি অত্যন্ত আবেগঘন ও প্রাঞ্জল ভাষায় উপস্থাপনা করেন বাউবির রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক মো. আনিছুর রহমান।

এ ছাড়া শোকসভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত এবং মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন সামাজিক বিজ্ঞান, মানবিক ও ভাষা স্কুলের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ছাইদুল হক।


দেশজুড়ে তীব্র শীতে কদর বেড়েছে গরম কাপড়ের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ঘন কুয়াশা ও হাড় কাঁপানো শীতে বেড়েছে পুরোনো গরম কাপড়ের কদর। এতে শহরের মার্কেট ও পুরোনো কাপড়ের ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোতে জমে উঠেছে বেচাকেনা। এবার গতবারের তুলনায় দাম কিছুটা বেশি, তবে তা মানুষের ক্রয়-ক্ষমতার মধ্যেই রয়েছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে বিস্তারিত

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান: সিরাজগঞ্জে ঘন কুয়াশা ও হাড় কাঁপানো শীতে বেড়েছে পুরোনো গরম কাপড়ের কদর। এতে শহরের হর্কাস মার্কেট ও পুরোনো কাপড়ের ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোতে জমে উঠেছে বেচাকেনা।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সিরাজগঞ্জ পৌর হর্কাস মার্কেট ও ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোতে ক্রেতারা তাদের চাহিদা অনুযায়ী নিজে যাচাই-বাছাই করে কিনে নিচ্ছেন গরম পোশাক। এসব দোকানে তরুণ ক্রেতা বেশি। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ভিড় করছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

ক্রেতারা জানান, শীতের শুরুতে কেনা পোশাক তীব্র শীতে কোনো কাজে লাগছে না। তাই তারা আবার গরম কাপড় কিনতে ছুটছেন। এ সুযোগে বিক্রেতারাও দাম হাঁকাচ্ছেন দ্বিগুণ। দু-তিন সপ্তাহ আগেও যে পোশাক ১৫০-২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, এখন তার দাম বেড়ে হয়েছে ৩০০-৩৫০ টাকা।

সিরাজগঞ্জ পৌর হকার্স মার্কেটের গরম কাপড়ের ক্রেতা আব্দুস সালাম। তিনি বলেন, ছেলে-মেয়ের জন্য শীতের জামা কিনতে এসেছি। তবে শীত বেশি হওয়ায় দাম একটু বেশি। ১৫ দিন আগে যে পোশাক ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর তার দাম ৬০০ টাকা হাঁকাচ্ছেন। পরে দামাদামি করে ৪৫০ টাকায় নিয়েছি।

শীতবস্ত্র কিনতে আসা রিকশাচালক সোলাইমান হোসেন বলেন, ‘শপিংমলে গেলে গরম কাপড়ের দাম কমপক্ষে দুই থেকে তিন হাজার টাকা লাগে। আর হর্কাস মার্কেট থেকে ৩০০ টাকায় বিদেশি পোশাক পাওয়া যায়। তাই তিনি এক হাজার টাকায় তার পরিবারের দুই সন্তান ও স্ত্রীর জন্য গরম পোশাক ক্রয় করেছেন।’

বিক্রেতা সাহেব আলী বলেন, ‘শীত এলেই পুরোনো গরম কাপড়ের কদর বাড়ে। এবার গতবারের তুলনায় দাম কিছুটা বেশি, তবে তা মানুষের ক্রয়-ক্ষমতার মধ্যেই রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সব বয়সি মানুষের শীতের পোশাক সোয়েটার ও জ্যাকেট আমরা বিক্রি করি। অপেক্ষাকৃত কম দামে একটি জ্যাকেট বা সোয়েটার ক্রেতার হাতে তুলে দিতে পারলে আমাদেরও ভালো লাগে। তা ছাড়া ক্রেতার শরীরে পোশাক যখন মানানসই হয়, তখন ক্রেতার মুখের হাসিই আমাদের মনে প্রশান্তি এনে দেয়।’

আরেক বিক্রেতা আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘বেশি বিক্রি হয় তরুণদের জ্যাকেট। যেসব নতুন জ্যাকেট বাজারে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি হয়, সেই একই পুরোনো পোশাক আমরা ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি করি।’ এ জন্য আমাদের তরুণ ক্রেতা বেশি। এসব পোশাক তারা চট্টগ্রাম থেকে কিনে আনেন। যা তাইওয়ান, কোরিয়া ও জাপান থেকে এ দেশে আসে বলে তিনি জানান।

সিরাজগঞ্জ পৌর হর্কাস মার্কেট মালিক সমিতির সভাপতি নাজিম উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এই সমিতির আওতায় ১৫০ জন সদস্য রয়েছে। তারা প্রত্যেকেই পুরোনো পোশাক বিক্রির সঙ্গে জড়িত। এবার পাঁচ থেকে ছয় কোটি টাকার পুরোনো কাপড় বিক্রি হবে তাদের আশা।’

এদিকে সিরাজগঞ্জ বাঘাবাড়ি আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল বলেন, ‘সিরাজগঞ্জে ঘন কুয়াশার সঙ্গে হিমেল হাওয়াও বইছে, যে কারণে শীতের তীব্রতা বেশি।’

লালমনিরহাট প্রতিনিধি জানান: লালমনিরহাটে তীব্র শীত, ঘন কুয়াশা আর কনকনে ঠাণ্ডায় বিপাকে মানুষ। বিশেষ করে দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ কষ্টে দিন পার করছেন। শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে পুরোনো গরম কাপড়ের বিক্রি।

শহর ও গ্রাম অঞ্চলে বিভিন্ন জায়গায় রাস্তার পাশে অস্থায়ী পুরোনো কাপড়ের দোকানগুলোতে সারা দিন ভিড় লেগেই থাকে। কম দামে ভালো মানের গরম কাপড় কিনতে পেরে সাধারণ মানুষ খুশি। পাশাপাশি দোকানগুলোতে বিক্রি বেড়ে গেছে।

সরেজমিন হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়নের তিস্তা সাধুর বাজার এলাকায় দেখা গেছে, একটি পুরোনো কাপড়ের দোকানে ভিড় করছেন দিনমজুর ও ভ্যানচালকরা। তারা শীত নিবারণের জন্য কম টাকা দিয়ে জ্যাকেট ও সোয়েটার কেনার চেষ্টা করছেন।

এদিকে, উষ্ণতা পেতে মানুষ ভিড় করছেন ফুটপাতের হকার ও পুরোনো গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে। কিনছেন সোয়েটার, জ্যাকেট, হুডি, ব্লেজার, শাল, কানটুপি ও হাত মোজা। পুরোনো কাপড় ব্যবসায়ীরা ঢাকা ও রংপুর থেকে পুরোনো কাপড়ের বান্ডিল (বেল) কিনে তিস্তার চর অঞ্চলে বিক্রি করেন। পুরোনো কাপড়ের দাম কম, তাই নিম্ন আয়ের মানুষ কম দামে কাপড় কিনছেন।

রিকশাচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘পুরাতন গরম কাপড়ের দোকানে এসেছি, তাই এই ঠাণ্ডায় একটি কম দামে জ্যাকেট কিনছি। জ্যাকেট পরে ভ্যান চালালে শীত বেশি লাগবে না।’ এ ছাড়া গাইবান্ধা, রংপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী, শেরপুর, জামালপুর, ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন জেলায় উষ্ণতা পেতে মানুষ ভিড় করছেন ফুটপাতের হকার ও পুরোনো গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে।


রামুতে বিপুল আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কক্সবাজার প্রতিনিধি

কক্সবাজারের রামু উপজেলায় সেনাবাহিনী ও থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে বিপুল আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় এক নারীকে আটক করা হয়েছে। আটক নারী জেসমিন সুলতানা রিয়া (২০)। বুধবার (৭ জানুয়ারি) চালানো অভিযানে উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের থোয়াইংগাকাটা সামারঘোনা আটক নারী জেসমিন সুলতানা রিয়ার বসতঘর থেকে এসব আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও সেনাবাহিনীর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই বসতঘরে বিপুল অস্ত্র মজুত রাখার খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথ অভিযান চালায়। অভিযানে একটি দেশীয় তৈরি এলজি, দুটি পিস্তল (পুরোনো জংধরা), ছয়টি বড় চাইনিজ রাইফেলের গুলি, ৪৯টি ছোট পিস্তলের গুলি, চারটি শটগানের ব্যবহৃত কার্তুজের খোসা, একটি বড় বন্দুকের বাটের অংশ বিশেষ, দুটি লম্বা ধারাল দা, একটি খেলনার পিস্তল, দুটি বাটন মোবাইল সেট, একটি কাটার উদ্ধার করা হয়। অভিযান খবর টের পেয়ে বসতঘরের অন্যান্য বাসিন্দা পালিয়ে গেলেও নুর আহম্মদের মেয়ে জেসমিন সুলতানা রিয়াকে আটক করতে সক্ষম হয় যৌথ বাহিনী।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধার করা অস্ত্রশস্ত্র ডাকাত নুরুল আবছার প্রকাশ ল্যাং আবছার, ডাকাত রহিম ও জেসমিন সুলতানা রিয়ার বলে জানা যায়।


চন্দ্রপাড়া দরবার শরিফের ওরসে লাখো মানুষের ঢল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফরিদপুর প্রতিনিধি

যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ওরছ পাক-এ-শাহ্ চন্দ্রপুরী। বুধবার (৭ জানুয়ারি) বাদ ফজর রওজা জিয়ারত ও আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী চন্দ্রপাড়া দরবার শরীফের বার্ষিক ওরছ উদযাপিত হয়।

মোনাজাতে দেশসহ বিশ্বের সকল মুসলিমের শান্তি ও কল্যাণ কামনা করা হয়। এদিন লাখ লাখ ভক্ত, আশেক-জাকের-মুরিদ ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা মোনাজাতে অংশ নেন। দরবার শরীফের গদীনশীন পীর শাহ্ সুফি সৈয়দ কামরুজ্জামান নক্শবন্দি মোজাদ্দেদী আল ওয়াসি মোনাজাত পরিচালনা করেন।

চন্দ্রপাড়া পাক দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা পীর জামানার মোজাদ্দেদ হজরত মাওলানা শাহ সুফী সৈয়দ আবুল ফজল সুলতান আহমদ চন্দ্রপুরী নক্শবন্দি-মোজাদ্দেদী (রহ.)-এর বেছালত উপলক্ষে অনুষ্ঠিত ওরছের আগের দিন থেকেই ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা দরবার শরীফে আসতে থাকেন। গত মঙ্গলবার বাদ জোহর থেকে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, মিলাদুন্নবী, মিলাদ-কিয়াম, জিকির-আজকার ও শরীয়ত-তরীকত সম্পর্কিত ওয়াজ-মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দরবার শরীফের ওলামায়ে কেরামরা ওয়াজ-নসিহত করেন।

ওরছে আগত ভক্তদের ইবাদত-বন্দেগির জন্য বিশাল ময়দান প্রস্তুত করা হয়। তাদের জন্য অজুখানা, খাবার মাঠ, পাকশালা ও প্রাথমিক চিকিৎসাকেন্দ্রের ব্যবস্থা করা হয়। এ ছাড়া যানবাহনের জন্য বিশাল মাঠজুড়ে কয়েকটি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়। আলোকসজ্জায় আলোকিত করা হয় পুরো দরবার শরীফ। সার্বিক নিরাপত্তায় জেলা প্রশাসন থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিয়োজিত ছিল।

উল্লেখ্য, চন্দ্রপাড়া পাক দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা হজরত শাহ্ সুফি সৈয়দ আবুল ফজল সুলতান আহমদ উপমহাদেশের প্রখ্যাত সুফী সাধক হজরত খাজা এনায়েতপুরী (রহ.)-এর নিকট বায়াত গ্রহণ করেন ও পরে খেলাফত প্রাপ্ত হন। তিনি ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আড়িয়াল খাঁ নদীর পাড়ে চন্দ্রপাড়া গ্রামে চন্দ্রপাড়া দরবার শরীফ প্রতিষ্ঠা করে তরীকায়ে নক্শবন্দিয়া মোজাদ্দেদীয়ার দাওয়াত প্রচার করতে থাকেন। এই সুফী সাধক ১৯৮৪ সালের ২৮ মার্চ নিজ দরবার শরীফে ওফাত করেন। বর্তমানে তার একমাত্র পুত্র শাহ্ সুফি সৈয়দ কামরুজ্জামান নক্শবন্দি মোজাদ্দেদী আল ওয়াসি দরবার শরীফ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন।


banner close