মিয়ানমার তাদের অভ্যন্তরে সংঘাতের জেরে বাংলাদেশে গোলাগুলি পড়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও মাদক পাচাররোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সঙ্গে একমত পোষণ করেছে মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি)।
আজ রোববার নাফনদ সংলগ্ন সীমান্তে কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপে অবকাশ যাপনকেন্দ্র ‘সাউদার্ন পয়েন্ট’র সম্মেলন কক্ষে বিজিবির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে বিজিপির প্রতিনিধিদল এ দুঃখ প্রকাশ করে। সকাল ১০টার দিকে শুরু হওয়া বৈঠক শেষ হয় বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে।
বৈঠকে বিজিবি-২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শেখ খালিদ ইফতেখারের নেতৃত্বে নয় সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল ও মিয়ানমারের মংডুর ১ নম্বর বর্ডার গার্ড পুলিশ ব্রাঞ্চের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল কাও না ইয়ান শোর নেতৃত্বে সাত সদস্যের প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।
গত আড়াই মাস ধরে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহীদের সংঘাত চলছে। সেই সংঘাতের গোলাগুলি একাধিকবার বাংলাদেশের ভূখণ্ডে পড়েছে এবং এতে প্রাণহানিও হয়েছে। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্তে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আতঙ্কে রয়েছেন বাংলাদেশ সীমান্তের বাসিন্দারা।
সীমান্তের এ পরিস্থিতিতে ঢাকায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে দফায় দফায় তলব করে প্রতিবাদ জানানো হয়। পাশাপাশি এ ধরনের ঘটনা বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলা হয়।
এ নিয়ে আলোচনায় বসতে একাধিকবার বিজিপির কাছেও চিঠি পাঠানো হয়। কিন্তু সাড়া মেলেনি। তবে নিয়মিত বৈঠক হিসেবে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপি বৈঠকে বসতে রাজি হয়।
গত ১০ অক্টোবর পরিস্থিতি দেখতে সীমান্তে আসেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ। সীমান্ত পরিদর্শনের পাশাপাশি তিনি বিজিবির কার্যক্রম দেখেন। ওই সময় তিনি সাংবাদিকদের জানান, প্রতিবাদলিপি পাঠানোর পাশাপাশি বিজিপির সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। সময় নির্ধারণ না হলেও পতাকা বৈঠকে সম্মত হয়েছে মিয়ানমার।
প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল শেখ খালিদ ইফতেখার।
তিনি জানান, আজকের বৈঠকে সীমান্তে মিয়ানমার থেকে গোলা পড়ে বাংলাদেশে হতাহতের ঘটনা, মাইন পুঁতে রাখার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। মিয়ানমারের কোনো নাগরিক যেন বাংলাদেশে আর অনুপ্রবেশ না করে এবং মাদকের চোরালান যেন বন্ধ হয় সেই দাবিও জানিয়েছি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে তাদের অভ্যন্তরীণ সংঘাতে কোনো ধরনের গোলা যেন বাংলাদেশে না পড়ে অথবা মাইন যেন আমাদের সীমান্তে পুঁতে রাখা না হয়, সে বিষয়ে তাদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
বিজিপির প্রতিনিধিদের বরাত দিয়ে বিজিবির এ কর্মকর্তা জানান, তারা এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে, যা এতদিন তাদের তরফ থেকে হয়নি। একই সঙ্গে সীমান্তে বসবাসরত সাধারণ বাসিন্দাদের জানমাল রক্ষায় উভয় দেশের সীমান্তরক্ষীরা একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিজিবির রামু সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল আজিজুর রউফও। তিনি জানান, এই বৈঠক নিয়মিত চলতে থাকবে। বৈঠক হলে দুই দেশের সীমান্তের নানা ঘটনার বিষয়ে আলোচনা সম্ভব হয়। সম্প্রতি মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতে বাংলাদেশের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি ভয়-আতঙ্কে ছিল বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম, তুমব্রু, দৌছড়ি, কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালী ও টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তের মানুষ। এসব বিষয়ে বৈঠকে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়।
তিনি আরও জানান, মিয়ানমারের নাগরিকের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও মাদক চোরালান ঠেকাতে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী একমত পোষণ করেছে। পাশাপাশি যে কোনো সীমান্ত সমস্যা সমাধানে নিয়মিত পতাকা বৈঠকের কথা বলা হয়েছে।
এর আগে গত ১ জুন বিজিবি-বিজিপির সর্বশেষ পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় রাখাইনের মংডু টাউনশিপে। আঞ্চলিক পর্যায়ের ওই বৈঠকে চার বাংলাদেশি জেলেকে ফেরত দেয় মিয়ানমার।
স্বনামধন্য কৃষি বিজ্ঞানী ড. মুহাম্মদ আতাউর রহমান বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) এর নতুন মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয় জারিকৃত আদেশ বলে তিনি বারি’র মহাপরিচালক (রুটিন দায়িত্ব) পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। এর আগে ড. মুহাম্মদ আতাউর রহমান বারি’র পরিচালক (গবেষণা) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ড. মুহাম্মদ আতাউর রহমান ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। এরপর তিনি নিয়মিতভাবে
ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও যোগাযোগ) পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত হন।
তিনি জাপানের কিউসু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৫ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও ওয়ার্কশপ যোগদানের উদ্দেশ্যে নেপাল, ভারত, ভূটান, জাপান, থাইল্যান্ড, অস্টেলিয়া ও মালেশিয়া ভ্রমণ করেছেন।
এছাড়াও দেশি বিদেশি বিভিন্ন সায়েন্টিফিক জার্নালে নিয়মিতভাবে বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ প্রকাশ করেন। ড. মুহাম্মদ আতাউর রহমান ১৯৬৭ সালে দিনাজপুর জেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। ব্যক্তিগত জীবনে ২ সন্তানের জনক।
দুর্নীতি প্রতিরোধে পারিবারিক ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে দুর্নীতিবিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা হয়েছে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলা পরিষদের পুরনো হলরুমে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি (দুপ্রক), নবীনগর উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতা হয়। এবারের বিতর্কের প্রতিপাদ্য ছিল— ‘দুর্নীতিবিরোধী মনোভাব সৃষ্টিতে পরিবারের ভূমিকাই মুখ্য’।
আয়োজকরা জানান, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সততা, নৈতিকতা ও দুর্নীতিবিরোধী চেতনা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রতিযোগিতায় লটারির মাধ্যমে পক্ষ ও বিপক্ষ দল নির্ধারণ করা হয়। এতে পক্ষে অংশগ্রহণ করে বিটঘর রাধানাথ উচ্চ বিদ্যালয় এবং বিপক্ষে অংশ নেয় নবীনগর ইচ্ছাময়ী পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এর আগে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে ক ও খ গ্রুপের বাছাই পর্ব হয়।
দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি (দুপ্রক), নবীনগর উপজেলা শাখার সভাপতি আবু কামাল খন্দকারের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন দুপ্রকারের উপজেলা শাখার সদস্যসচিব মোহাম্মদ হোসেন শান্তি।
শুরুতেই উপজেলা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল মামুন শিক্ষার্থীদের শপথবাক্য পাঠ করান। বিতর্ক প্রতিযোগিতায় মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম লিটন। বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কান্তি কুমার ভট্টাচার্য, মোশাররফ হোসেন ও আশিষ কুমার গুহ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আব্বাস উদ্দিন হেলাল।
বিতর্ক প্রতিযোগিতায় নবীনগর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিজয়ী হয়। পরে অতিথিরা বিজয়ীদের হাতে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি তুলে দেন।
কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলায় দিনব্যাপী কৃষি প্রযুক্তি মেলা শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) কৃষি প্রযুক্তি মেলায় প্রধান অতিথি ছিলেন যশোর অঞ্চল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ আলমগীর বিশ্বাস, বিশেষ অতিথি ছিলেন যশোর অঞ্চলে টেকসই কৃমি সাম্প্রসারণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ রবিউল ইসলাম। এতে আরোও ছিলেন ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রফিকুল ইসলাম, ভেড়ামারা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), ডা. গাজী আশিক বাহার, প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভেড়ামারা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাহমুদা সুলতানা, অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়া খামারবাড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপপরিচালক কৃষিবিদ ড. শওকত হোসেন ভূঁইয়া, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রাশেদ হাসান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ইমদাদুল হক বিশ্বাস প্রমুখ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা সুলতানা বলেন, সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই মেলা চলবে বুধবার পর্যন্ত। ৩ দিন ব্যাপী এই মেলায় সরকারি দপ্তর ছাড়াও কৃষি উদ্যোক্তাদের স্টল স্থান পেয়েছে। এসব স্টলে কৃষি ও কৃষকের ফসল উৎপাদনের জন্য আধুনিক সব প্রযুক্তি ছাড়াও কৃষকদের উৎপাদিত উন্নত ও হাইব্রীড জাতের নানা ফসল প্রদর্শন করা হয়েছে।
বেকার যুবদের কর্মসংস্থান ও তাদের দক্ষতা উন্নয়নে ঝিনাইদহে দিনব্যাপী চাকরি মেলা ও সেমিনার হয়েছে। ঝিনাইদহ টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের আয়োজনে দিনব্যাপী কলেজ ক্যাম্পাসে এ মেলা হয়। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ঝিনাইদহ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন। কলেজ অধ্যক্ষ আনিচুর রহমান মৃধা শৈলকুপা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী আল আলাউদ্দিন, সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মতিয়ার রহমানসহ অন্যরা ছিলেন।
আয়োজকরা জানান, দিনব্যাপী মেলায় বেসরকারি ও বিভিন্ন সংস্থার ২০টি স্টলে বেকার যুবদের জীবনবৃত্তান্ত গ্রহণ ও সরাসরি ভাইভা গ্রহণ করা হয়। চাহিদা অনুযায়ী যুবদের চাকরি দেওয়া হবে। এবার এই মেলা থেকে ২ শতাধিক যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের আশা।
এক সময় যে অফিসের নাম শুনলে সাধারণ মানুষের চোখে ভেসে উঠত দালালদের দৌরাত্ম্য আর নথিপত্রের পাহাড়! সেই ত্রিশাল উপজেলা ভূমি অফিস এখন বদলে যাওয়ার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। অনিয়ম আর পুরোনো সংস্কৃতি ভেঙে সেখানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। পরিবর্তনের এই কারিগর আর কেউ নন বর্তমান সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবুর রহমান। তার সাহসী ও জনবান্ধব পদক্ষেপের ফলে ত্রিশাল ভূমি অফিস এখন সাধারণ মানুষের কাছে এক আস্থার ঠিকানায় পরিণত হয়েছে।
তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে মধ্যস্বত্বভোগী ও দালালচক্রের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেন। তার কঠোর অবস্থানের কারণে অফিসের বারান্দা থেকে উধাও হয়েছে দালালদের আনাগোনা। এখন সেবাগ্রহীতারা কোনো মাধ্যম ছাড়া সরাসরি তার সঙ্গে কথা বলতে পারছেন। বিশেষ করে ই-নামজারি বা মিউটেশন প্রক্রিয়ায় তিনি যে গতি এনেছেন, তা উপজেলার মানুষের মাঝে ব্যাপক স্বস্তি তৈরি করেছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফাইল নিষ্পত্তি এখন এই অফিসের নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তিনি নিয়মিত আয়োজন করছেন ‘গণশুনানি’। এখানে কেবল অভাব-অভিযোগ শোনা হয় না, বরং আইনি জটিলতা নিরসনে তাৎক্ষণিক সমাধানও দেওয়া হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, এসিল্যান্ড নিজেই সাধারণ মানুষের পাশে বসে তাদের সমস্যার কথা শুনছেন। এই সরাসরি যোগাযোগব্যবস্থার ফলে অফিসের কর্মচারীদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে কাজের দায়বদ্ধতা। ফলে অনৈতিক লেনদেনের পথ পুরোপুরি রুদ্ধ হয়েছে। মাঠপর্যায়ে কঠোর অবস্থান ও জনস্বার্থ রক্ষা শুধু অফিস কক্ষেই সীমাবদ্ধ নয়। তার নেতৃত্বে গত কয়েক মাসে ব্রহ্মপুত্র নদ ও ফসলি জমি রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলন ও মাটি কাটার বিরুদ্ধে চালিয়ে একের পর এক ঝটিকা অভিযান। এছাড়া সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষায় নিত্যপণ্যের বাজার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন শৃঙ্খলা। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে আগে যেখানে একটি কাজের জন্য মাসের পর মাস ঘুরতে হতো, এখন সেখানে অত্যন্ত সম্মানের সাথে দ্রুত সেবা পাওয়া যাচ্ছে।
সাফল্যের এই ধারাবাহিকতা নিয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘প্রশাসন হচ্ছে জনগণের সেবক। আমার লক্ষ্য সরকারি সেবা নিতে এসে কোনো মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়। ভূমিসেবাকে শতভাগ স্বচ্ছ এবং দুর্নীতিমুক্ত করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুড়িং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কঠোর আন্দোলনে নেমেছে বন্দর শ্রমিক-কর্মচারীরা। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় সোমবার বিকেলে নগরীর আগ্রাবাদে বিশাল কালো পতাকা মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ থেকে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ আগামীকাল মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টা থেকে বন্দর এলাকায় সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে। মূলত বন্দরের স্বার্থ রক্ষা এবং শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যেই এই কঠোর কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সোমবার বিকেলে আগ্রাবাদ বাদামতলের আক্তারুজ্জামান সেন্টার চত্বরে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এস কে খোদা তোতন। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শ্রম সংস্কার কমিশনের সদস্য ও টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত অভিযোগ করেন, গত সাত মাস ধরে এনসিটি ইজারা না দেওয়ার পক্ষে যৌক্তিক দাবি উপস্থাপন করা হলেও অন্তর্বর্তী সরকার বা বন্দর কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টো শ্রমিকদের আন্দোলন নস্যাৎ করতে দমন-পীড়নের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি ১৬ জন শ্রমিককে স্ট্যান্ড রিলিজের মাধ্যমে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে, যা শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
সমাবেশে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা বদলি করে এই ন্যায়সঙ্গত আন্দোলন থামানো যাবে না। তারা অবিলম্বে ১৬ শ্রমিকের বদলি আদেশ প্রত্যাহার এবং এনসিটি ইজারার চুক্তি প্রক্রিয়া থেকে সরে আসার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান। অন্যথায় মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে সিমেন্স হোস্টেল ও ইসহাক ডিপো পয়েন্টে বন্দর অবরোধের মাধ্যমে সকল কার্যক্রম অচল করে দেওয়া হবে বলে তারা সতর্ক করেন। একই সাথে টানা তিন দিন সফলভাবে কর্মবিরতি পালন করায় সাধারণ শ্রমিকদের ধন্যবাদ জানান নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, এনসিটি ইজারা দেওয়া হলে জাতীয় এই সম্পদের ওপর দেশের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হবে এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়বে। সমাবেশে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল, বিএফটিইউসি এবং টিইউসিসহ বিভিন্ন সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত থেকে সংহতি প্রকাশ করেন। বন্দর সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মঙ্গলবারের এই অবরোধ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে আসতে পারে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ধরণের প্রভাব ফেলবে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় দৌলতদিয়া ৪ নম্বর ফেরিঘাটে অবস্থানরত ‘শাহ মখদুম’ নামের একটি ফেরিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। তবে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিটের দ্রুত তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় বড় ধরণের কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ফেরিটি ঘাটে অবস্থানকালে হঠাৎ এর সাইলেন্সার পাইপের ভেতর থেকে তীব্র বেগে আগুনের শিখা বের হতে দেখা যায়। দীর্ঘক্ষণ ধরে আগুন বের হতে থাকায় সেখানে উপস্থিত যাত্রী ও চালকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় দ্রুত ফেরিতে থাকা যানবাহনগুলোকে সরিয়ে নিরাপদ স্থানে বা পল্টুনে নেওয়া হয়। খবর পেয়ে গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নির্বাপণ কাজ শুরু করে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তা নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
ঘটনার বিষয়ে গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার আব্দুল বাসাত খান জানান, দৌলতদিয়া ৪ নম্বর ঘাটে শাহ মখদুম ফেরিতে আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ শুরু করে। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নেভানো সম্ভব হয়েছে। তবে অগ্নিকাণ্ডে ফেরিটির কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে জানান, ফেরির সাইলেন্সার পাইপের ময়লা পরিষ্কার করতে গিয়ে ধোঁয়া থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত উপস্থিতির কারণে বড় ধরণের বিপদ এড়ানো গেছে এবং ফেরিটি বড় কোনো ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং ফেরি চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। মূলত যান্ত্রিক কোনো বড় ত্রুটি নয়, বরং রক্ষণাবেক্ষণজনিত অসাবধানতা থেকেই এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জ জেলায় নির্বাচনী উত্তাপ ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলার মোট ৩৯৭টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৩৮৫টিকেই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বা ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অর্থাৎ জেলার মাত্র ১২টি কেন্দ্রকে সাধারণ তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ব্যাপক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আরিফ-উজ-জামান জানিয়েছেন, অধিকতর সতর্কতার অংশ হিসেবে ৩৮৫টি কেন্দ্রকে অতি গুরুত্বপূর্ণ তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাধারণ সদস্যদের পাশাপাশি অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হবে। একই সাথে প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রকে সার্বক্ষণিক সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিতে রাখা হবে এবং নির্বাচনী এলাকায় বিশৃঙ্খলা রুখতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা টহল দেবেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, ভোটকেন্দ্রে কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা বা বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না।
জেলার পাঁচটি উপজেলার মধ্যে যে ১২টি কেন্দ্রকে সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে সেগুলোর একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে টুঙ্গিপাড়া উপজেলার কেড়াইলকোপা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বাঘিয়ারঘাট স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং কোটালীপাড়া উপজেলার কুরপালা ও পুণ্যবতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। মুকসুদপুর উপজেলার মধ্যে প্রভাকরদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গাড়লগাতী কে. এম. উচ্চ বিদ্যালয় ও শিমুলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া কাশিয়ানী উপজেলার গিরিশচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় ও পিঙ্গুলিয়া ফাজিল মাদ্রাসা এবং গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স, বীণাপানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বীণাপানি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ভোটারদের আশ্বস্ত করে বলেন, নাগরিকরা যাতে কোনো প্রকার ভয়-ভীতি বা শঙ্কার সম্মুখীন না হয়ে সশরীরে কেন্দ্রে এসে তাঁদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন, সে জন্য প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরের পরিবেশ সুশৃঙ্খল রাখতে পুলিশ, আনসার ও অন্যান্য বাহিনীর সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। সাধারণ মানুষকে নিজ নিজ ভোটাধিকার প্রয়োগ করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রশাসনের এই কড়া নজরদারি ও ব্যবস্থাপনার মূল লক্ষ্য হলো জনগণের রায়ের সঠিক প্রতিফলন নিশ্চিত করা। মূলত একটি উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করতে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন এখন পুরোপুরি প্রস্তুত।
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে নিজ বসতঘর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী অনন্য গাঙ্গুলির (২৫) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার বাজার পাড়ার হাইস্কুল সড়কের নিজ বাড়ি থেকে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। অনন্য ২০২২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করে দেশজুড়ে আলোচিত হয়েছিলেন। এমন এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের আকস্মিক প্রয়াণে পরিবার ও সহপাঠীদের মাঝে গভীর শোক ও স্তব্ধতা বিরাজ করছে।
অনন্য গাঙ্গুলি কোটচাঁদপুর উপজেলার প্রদ্যুৎ কুমার গাঙ্গুলি ও রাধারানী ভট্টাচার্যের সন্তান। তাঁর বাবা প্রদ্যুৎ কুমার গাঙ্গুলি কোটচাঁদপুর মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের সাবেক প্রভাষক এবং মা রাধারানী কোটচাঁদপুর বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। দুই শিক্ষক দম্পতির সন্তান হিসেবে অনন্য নিজেও ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী ও মেধাবী, যার অকাল মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছেন না।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, অনন্য পড়াশোনার প্রয়োজনে ঢাকায় থাকতেন। গত শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে তিনি ঢাকা থেকে কোটচাঁদপুরে নিজের বাড়িতে ফেরেন। রাতে পরিবারের সবার সাথে স্বাভাবিকভাবেই খাবার খেয়ে তিনি তাঁর শোবার ঘরে ঘুমাতে যান। পরদিন সকালে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কক্ষের দরজা না খোলায় তাঁর মা রাধারানী ভট্টাচার্য অনন্যকে নাশতা খাওয়ার জন্য ডাকতে যান। ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে সন্দেহ হলে তিনি জানালার ফাঁক দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখতে পান, অনন্য সিলিং ফ্যানের সাথে ওড়নায় ঝুলছেন। তাঁর চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে আসেন এবং পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
সন্তানের এমন মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন মা রাধারানী ভট্টাচার্য। তিনি জানান, অনন্য বাড়ি ফেরার পর তাঁর আচরণে কোনো অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা যায়নি। এমনকি সাম্প্রতিক সময়ে কোনো বিষয় নিয়ে তাঁর মন খারাপ ছিল বলেও পরিবারের কেউ জানতেন না। কেন এমন ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে চরম ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কোটচাঁদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এনায়েত আলী খন্দকার সংবাদমাধ্যমকে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বজনদের সহায়তায় ঝুলন্ত অবস্থায় থাকা ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক সুরতহাল শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি আত্মহত্যা কি না বা এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। মেধাবী এই শিক্ষার্থীর প্রয়াণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
দেশের ১৮ কোটি লোকের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা কঠিন কাজ বলে মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, দেশের ১৮ কোটি মানুষের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা অনেক কঠিন কাজ। তবে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি বেশ ভালো।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতার বিষয়ে তিনি বলেন, যে সহিংসতার ঘটনা ঘটছে, সেগুলোর বেশিরভাগই নিজেদের দলের ভেতরে। কোনো অনুষ্ঠানে একজনকে দাওয়াত দিলে দুজন চলে আসে। তখন সিদ্ধান্তের অমিল হলে নিজেরাই লেগে যাচ্ছে। এজন্য জনসচেতনতা জরুরি।
প্রার্থীদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রতিদিনই প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দুয়েকটি আসনে ছোটখাটো লঙ্ঘন হচ্ছে না—তা নয়।
ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনের সময় ইন্টারনেট খোলা থাকবে। কেউ বন্ধ করলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব। গুজব বা মিথ্যা সংবাদ ছড়ানো থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আগে সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে লিখতে বা প্রশ্ন করতে পারতেন না। এখন যেভাবে প্রশ্ন করতে পারছেন, তখন তা সম্ভব ছিল না। বর্তমান সরকার মত প্রকাশের স্বাধীনতা দিয়েছে। তবে মিথ্যা নয়, সত্য সংবাদ পরিবেশন করতে হবে।
নারীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আপনারা এখানে যেভাবে নিরাপদ, নারীরাও ভোটকেন্দ্রে ঠিক সেভাবেই নিরাপদ থাকবেন।
এ সময় জঙ্গল সলিমপুরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত অনেককে আইনের আওতায় আনার কথাও জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। যেখানে যেরকম ব্যবস্থা নেওয়া দরকার সেখানে সেরকম নেওয়া হচ্ছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না। সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
রাজধানীতে অপারেশন ‘ডেভিল হান্ট ফেইজ-২’ এর আওতায় গত একদিনে ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।
গুলশান, সূত্রাপুর, মোহাম্মদপুর, খিলগাঁও, পল্টন, কলাবাগান, যাত্রাবাড়ী, কদমতলী ও হাতিরঝিল থানায় এই অভিযান চালানো হয়। এর মধ্যে গুলশান থানা একজন, সূত্রাপুর থানা চারজন, মোহাম্মদপুর থানা একজন, খিলগাঁও থানা তিনজন, পল্টন থানা পাঁচজন, কলাবাগান থানা একজন, যাত্রাবাড়ী সাতজন, কদমতলী থানা তিনজন ও হাতিরঝিল থানা একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
গুলশান থানার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় অপারেশন ডেভিল হান্ট এর অংশ হিসেবে দিনব্যাপী অভিযান পরিচালনা করে একজনকে গ্রেপ্তার করে। তার নাম মো. ইব্রাহিম।
অপরদিকে সূত্রাপুর থানার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় অপারেশন ডেভিল হান্ট এর অংশ হিসেবে দিনব্যাপী অভিযান পরিচালনা করে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরা হলো- রাব্বি হাসান, মাসুম ইফাদ, মুন শিকদার ও সাগর দে।
মোহাম্মদপুর থানা সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় অপারেশন ডেভিল হান্ট এর অংশ হিসেবে দিনব্যাপী অভিযান পরিচালনা করে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার নাম কবির হোসেন ওরফে হুমায়ুন কবির ওরফে হুমা।
খিলগাঁও থানা সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় অপারেশন ডেভিল হান্ট এর অংশ হিসেবে দিনব্যাপী অভিযানে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরা হলো- ফজলে রাব্বী, সাইদুল ইসলাম ও মাহতিন ইসলাম শাকিল।
পল্টন থানার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় অপারেশন ডেভিল হান্ট এর অংশ হিসেবে দিনব্যাপী অভিযানে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরা হলো- মো. বিল্লাল হোসেন, রকি মিয়া, ইয়াছিন মিয়া, মোহাম্মদ আলী ও ইসমাইল হোসেন।
কলাবাগান থানার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় অভিযান চালিয়ে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার নাম মো. সেলিম ওরফে রহিম।
যাত্রাবাড়ী থানার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এআর হলো- গোলাম রাব্বী, নাসির খান ওরফে নাসির, সাজ্জাদ, মো. জালাল, হাসান আলী ওরফে আলম, রানা প্রধান ও রেনু বেগম।
কদমতলী থানার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরা হলো মো. অভি, মো. সালেহ আহাম্মেদ ফয়সাল ও মো. রনি।
এছাড়া হাতিরঝিল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করে। তার নাম হাসিব। সবাইকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
পাবনার বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবায় বাধা সৃষ্টি ও রোগীদের হয়রানির অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরেন মায়িশা খান এই অভিযান পরিচালনা করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, আটককৃত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের নির্দিষ্ট কোম্পানির ওষুধ লিখতে চাপ প্রয়োগ করে আসছিলেন। এছাড়া তারা রোগী ও চিকিৎসকদের মাঝে ‘মিডলম্যান’ বা দালাল হিসেবে কাজ করে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে প্রত্যক্ষভাবে বিঘ্ন ঘটাচ্ছিলেন।
অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিকে বাংলাদেশ দণ্ডবিধি আইন, ১৮৬০ এর ২৯১ ধারায় মোট ১২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরেন মায়িশা খান জানান, "অভিযুক্তদের পারিবারিক ও আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে জরিমানার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হবে না মর্মে দুইজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে মুচলেকা প্রদান করেছেন। জনস্বার্থে এবং হাসপাতালের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, ভবিষ্যতে একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে জনহয়রানিমূলক যেকোনো উপদ্রব বন্ধে উপজেলা প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে।
অভিযান চলাকালীন বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তাহমিনা সুলতানা নিলা, এবং বেড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিতাই চন্দ্র সরকার উপস্থিত ছিলেন।
সারাদেশব্যাপী কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে মাগুরায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন জেলা প্রশাসন, মাগুরার কর্মচারীরা।
সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচির আয়োজন করেন জেলা প্রশাসন, মাগুরার কর্মচারীরা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বর্তমান দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির কারণে কর্মচারীরা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এই পরিস্থিতিতে অবিলম্বে বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সর্বনিম্ন বেতন ৩৫ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা নির্ধারণ করে বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। তারা আরও দাবি জানান, ২০১৫ সালের পে-স্কেলের গেজেটে হরণকৃত তিনটি টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল, বেতন জ্যেষ্ঠতা রক্ষা, পেনশন প্রবর্তন এবং গ্রাচুইটির হার ৯০ শতাংশের পরিবর্তে ১০০ শতাংশ নির্ধারণ করতে হবে।
বক্তারা বলেন, পে-কমিশন যে প্রস্তাব সরকারে প্রেরণ করেছে, তা নির্বাচন পূর্বেই গেজেট আকারে প্রকাশ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় কর্মচারীরা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মো. সাকির আহমেদ, অমৃত কুমার বিশ্বাস, মো. শফিকুল ইসলাম, যুধিষ্ঠির বিশ্বাস, মো. মাসুম রেজা ও মো. নবীর হোসেন।
বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই ৯ম পে-স্কেলের গেজেট জারি না হলে সারাদেশব্যাপী কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
মানববন্ধন চলাকালে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।