কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় স্মরণকালের বৃহত্তম ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উপমহাদেশের অন্যতম বৃহত্তম ও প্রাচীন ঈদগাহ শোলাকিয়ায় এবার অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৯৭তম ঈদুল ফিতরের জামাত। চমৎকার রৌদ্রজ্জ্বোল আবহাওয়া থাকায় ভোর থেকেই মুসল্লিদের ঢল নামে শোলাকিয়া ঈদগাহে। সকাল ১০ টায় জামাত শুরু হয়। জামাতে ইমামতি করেন কিশোরগঞ্জ আল জামিয়াতুল ইমদাদিয়া মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মাওলানা শোয়াইব বিন আব্দুর রউফ।
শোলাকিয়া ঈদগাহের রেওয়াজ অনুযায়ী জামাত শুরু হওয়ার আগে শটগানের গুলি ফুটিয়ে জামাত শুরু করা হয়। কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ শটগানের গুলি ফুটিয়ে জামাত শুরুর ঘোষণা দেন। সকাল সাড়ে ৯ টার মধ্যেই
শোলাকিয়া ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। এরপরও দলে দলে মুসল্লি আসতে থাকেন। মাঠের ভিতরে জায়গা না পেয়ে অসংখ্য মুসল্লি পাশের সড়ক, সেতু, বহুতল বিল্ডিংয়ের ছাদসহ অলি গলিতে নামাজ আদায় করেন। প্রায় চার লাখ মুসল্লি এবার শোলাকিয়ায় ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিবারের ন্যায় এবারও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসল্লিরা শোলাকিয়ায় এসেছেন। দূরের মুসল্লিরা ঈদের দু-একদিন আগেই এসে অবস্থান নেন শোলাকিয়া
ঈদগাহের মিম্বর, আশেপাশের বিভিন্ন মসজিদ, হোটেল এবং আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে। দূরের যারা ঈদগাহের মিম্বরে এসে অবস্থান নেন, তাদেরকে ঈদের আগেরদিন ইফতার ও রাতের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।
নামাজ শেষে দেশ ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা ও দেশের কল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিদের জন্য দোয়া করা হয়। দেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির জন্য মহান আল্লাহর দয়া কামনা করে মোনাজাত করা হয়।
শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ঈদজামাত অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে আগে থেকেই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রশাসন। নির্বিঘ্নে ঈদ জামাত সম্পন্ন করতে শোলাকিয়া ঈদগাহে চারস্তরের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ঈদ জামাত সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ড্রোন ক্যামেরা, বাইনোকুলারসহ পাঁচ প্লাটুন বিজিবি, র্যাব, দেড় হাজার পুলিশসহ অন্যান্য সংস্থার সদস্য মোতায়েন করা হয়। এ ছাড়াও ছয়টি ওয়াচ টাওয়ার এবং সিসি ক্যামেরা দ্বারা পুরো মাঠ মনিটরিং করা হয়। প্রতিটি মুসল্লিকে তল্লাশি করে মাঠে প্রবেশ করানো হয়।
অ্যাম্বুলেন্সসহ মেডিকেল টিম এবং ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট সার্বক্ষণিক মোতায়েন ছিল। বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটসহ পুলিশের কুইক রেসপন্স টিমও প্রস্তুত রাখা হয়। স্কাউটস সদস্যরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
দূরের মুসল্লিদের সুবিধার্থে ঈদের দিন ময়মনসিংহ টু কিশোরগঞ্জ ও ভৈরব-টু কিশোরগঞ্জ রুটে শোলাকিয়া এক্সপ্রেস নামে দুটি স্পেশাল ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়।
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. জিল্লুর রহমান, কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মাহমুদ পারভেজ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং মুসল্লিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
জেলা প্রশাসক জানান, এবার স্মরণকালের বৃহত্তম ঈদজামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে শোলাকিয়ায়।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৭ জুলাই ঈদুল ফিতরের দিন শোলাকিয়া ঈদগাহের কাছে আজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে পুলিশের চেকপোস্টে জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশের দুজন কনস্টেবল আনসারুল হক ও জহিরুল ইসলাম, স্থানীয় গৃহবধূ ঝর্ণা রাণী ভৌমিক ও আবির রহমান নামে এক জঙ্গি নিহত হন।
জঙ্গি হামলার পর থেকেই প্রতি বছর ঈদের দিন শোলাকিয়ায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
কুষ্টিয়া শহরের বাইপাস সড়কে গ্যাস সিলিন্ডারবাহী ট্রাক ও সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে চালকসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কুষ্টিয়া স্টোর তেল পাম্পের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন—খাজানগর এলাকার আশরাফুল (২৮), সিএনজি চালক জাকারিয়া, আমেনা খাতুন ও কমেলা খাতুন। অপর একজনের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শহরগামী সিএনজিটিকে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক সরাসরি ধাক্কা দিলে সিএনজিটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় আরও দুজনকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনাস্থলের পাশে থাকা দোকানদার রবিউল ইসলাম বলেন, “হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে বাইরে বের হয়ে দেখি সিএনজিটি একেবারে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেছে। যাত্রীদের কেউই নড়াচড়া করছিল না। স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করে।”
স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারী আব্দুল হালিম বলেন, “এই বাইপাস সড়কে প্রায়ই বেপরোয়া গতিতে ভারী যানবাহন চলাচল করে। এখানে গতিনিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি বাড়ানো না হলে এমন দুর্ঘটনা আরও ঘটবে।”
হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ পরিদর্শক মো: আবু ওবায়েদ বলেন, “দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহন দুটি জব্দ করা হয়েছে। তবে ট্রাকচালক পালিয়ে গেছে। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
নওগাঁ জেলা পুলিশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি শাখার উদ্যোগে হারিয়ে যাওয়া ১২৬টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। তিনি উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনগুলো মালিকদের হাতে তুলে দেন। হারানো ফোন ফিরে পেয়ে অনেকেই সন্তোষ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় আইসিটি শাখার একটি বিশেষ দল বিভিন্ন থানায় দায়ের করা সাধারণ ডায়েরির ভিত্তিতে তদন্ত চালায়। প্রযুক্তিগত সহায়তায় মোবাইল ফোনগুলো শনাক্ত করে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, “বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ব্যস্ততাসহ বিভিন্ন কারণে হারানো সকল মোবাইল পুলিশের পক্ষে উদ্ধার করা সম্ভব নয়। তবে নওগাঁ জেলা পুলিশ হারানো সকল মোবাইল উদ্ধারের জন্য সর্বদাই তৎপর রয়েছে এবং সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।”
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ডাকাতির ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদের নির্দেশে তাঁর ছোট ভাই রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও বিএনপি নেতাকর্মীরা দুই ডাকাতকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারী) রাতে মরদাসাদি গ্রাম থেকে তাদের আটক করা হয়। আটককৃত দুজন হলেন - মোহাম্মদ জাকারিয়া (৬০) ও মো. সোলায়মান (৪০)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেল চারটার দিকে আড়াইহাজার উপজেলার মাহমুদ ইউনিয়নের খিরদাসাদি গ্রামে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ওই সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী হাজী আব্দুর রব-এর বাড়িতে একদল ডাকাত হানা দেয়। প্রকাশ্যে দিবালোকে এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা বিষয়টি সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদকে অবহিত করে জানান, ডাকাতদের কয়েকজনকে তাঁরা চিনতে পেরেছেন। এরপর সাংসদের নির্দেশে তাঁর ভাই রাকিবুল ইসলাম রাকিব, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী ভূঁইয়া, থানা পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন রাতে ডাকাত কবলিত মরদাসাদি গ্রামে অভিযান চালান। ওই রাতে চালানো অভিযানে স্থানীয়রা দুই ডাকাতকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
আড়াইহাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রিপন কুমার জানান, ডাকাতির ঘটনায় কারা সরাসরি জড়িত এবং তাঁদের সহযোগীরা কারা—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, একটি দেশের স্বাধীন গণমাধ্যম না থাকলে গণতন্ত্র চলতে পারে না। তিনি বলেন, গণমাধ্যমের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছি। ওয়েজ বোর্ডকে যত দ্রুত সম্ভব সময়োপযোগী করা হবে।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বরিশাল শিল্পকলায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী আরও জানান, আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বেকারত্ব দূরীকরণে হাত দিয়েছি। পরিকল্পিতভাবে কর্মসংস্থানের ম্যাপিং করা হয়েছে। পাশাপাশি ফেব্রুয়ারির মধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচি শুরু হবে বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৪ কোটি ১০ লাখ পরিবার এ সুবিধার আওতায় আসবে।
সভায় স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
ভোলার বোরহানউদ্দিনে যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে।
রাত ১২টা ১মিনিটে প্রথম প্রহরে উপজেলা প্রশাসন চত্বরে শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শুরু হয়।
দিবসের প্রথম প্রহরে শহীদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রনজিৎ চন্দ্র দাস সহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ।
এরপর শ্রদ্ধা জানান, বোরহানউদ্দিন থানা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মুক্তিযোদ্ধা , জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি, বোরহানউদ্দিন প্রেসক্লাব, সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতাষ্ঠান সহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনগুলো।
এ সময় তারা ১মিনিট নীরবে দাঁড়িয়ে ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন এবং বাংলা ভাষার মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় তাঁদের অবদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন। এরপর উপজেলা প্রশাসন জামে মসজিদের ইমাম ভাষা শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করেন।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবসের অমর লগ্নে লক্ষ্মীপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী এ্যানি চৌধুরী। আজ শনিবার সকালে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বর্তমানে প্রচলিত ‘মব কালচার’ বা গণ-উন্মাদনার মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির প্রবণতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মন্ত্রী স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, একটি সমৃদ্ধ ও সুশৃঙ্খল বাংলাদেশ গড়ার পথে মব কালচার অন্যতম প্রধান বাধা। যারা এ ধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছেন, তাদের অনতিবিলম্বে এই পথ থেকে সরে আসার আহ্বান জানান তিনি। মন্ত্রী মনে করেন, দেশকে এগিয়ে নিতে হলে প্রতিটি নাগরিককে নিজস্ব অবস্থান থেকে অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।
বক্তব্য চলাকালে মন্ত্রী এ্যানি চৌধুরী দেশের প্রশাসনিক ও আইনি কাঠামোর ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, সরকারকে সহযোগিতা করা এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করাই এখন সবার প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। কেউ যদি আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়, তবে সেই অপকর্মের দায়ভার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই বহন করতে হবে। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থকে ঊর্ধ্বে না রাখার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশ এখন এক নতুন অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে শৃঙ্খলা বজায় রাখা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সচল রাখার প্রধান শর্ত।
সাম্প্রতিক সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটের ফলাফল পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া নিয়েও সাধারণ মানুষের বিভ্রান্তি দূর করার চেষ্টা করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হওয়ার ফলে তা ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে। পার্লামেন্টে এই সংক্রান্ত বিল উত্থাপনের বিষয়ে কোনো আইনি জটিলতা নেই বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। অন্যদিকে, যেসব ক্ষেত্রে ‘না’ ভোট এসেছে, সেখানে নিয়ম অনুযায়ী সংসদে আলোচনা হবে এবং নোট অব ডিসেন্ট বা ভিন্নমতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। আইনবিদদের সঠিক ব্যাখ্যার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি সাধারণ জনগণকে এই সাংবিধানিক প্রক্রিয়াগুলো সঠিকভাবে জানার ও বোঝার অনুরোধ করেন।
সবশেষে পানিসম্পদ মন্ত্রী রাজনৈতিক ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেও একটি ঐক্যের ডাক দেন। তিনি বলেন, ভিন্ন মতপথ থাকাটা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য, তবে সব ইস্যুতে কেবল বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা করার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। দেশকে স্থিতিশীল রাখা এবং সরকারের গঠনমূলক কাজে সহায়তা করা সকল রাজনৈতিক শক্তির নৈতিক দায়িত্ব। শ্রদ্ধা নিবেদনকালে মন্ত্রীর সঙ্গে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাবুদ্দিন সাবু, যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান, সদর ও পৌর বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ দল ও অঙ্গ সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। শহীদ মিনারের ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে দেশ গড়ার শপথ নেওয়ার মাধ্যমেই তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।
দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমে নজিরবিহীন গতি সঞ্চার করার মাধ্যমে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নবনিযুক্ত অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। গত শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রামের মেহেদীবাগে নিজ বাসভবনে বন্দর কর্তৃপক্ষ, কাস্টমস এবং বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন অংশীজন ও সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান। অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, বন্দরের প্রতিটি স্তরে বিদ্যমান সংকটগুলো সমাধান করা গেলে আমদানিকৃত পণ্যের ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমবে, যার সরাসরি সুফল পাবে দেশের সাধারণ ভোক্তা সমাজ।
বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী জানান, কাস্টমস থেকে শুরু করে পরিবহন শ্রমিক পর্যন্ত প্রতিটি স্টেকহোল্ডারের সমস্যাগুলো অত্যন্ত গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, বন্দরের অভ্যন্তরীণ জটিলতা ও পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতার কারণে ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হচ্ছে, যা শিল্প উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং বাজারে নিত্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী করছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান দেওয়া হয়েছে এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের প্রয়োজন এমন বিষয়গুলো আগামী কয়েক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসের কথা মাথায় রেখে অতিপ্রয়োজনীয় পণ্যগুলো দ্রুততম সময়ে খালাস করার ওপর তিনি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। অর্থমন্ত্রীর মতে, সরবরাহ ব্যবস্থা সচল থাকলে বাজারে কোনো পণ্যেরই বাড়তি দাম থাকার যৌক্তিকতা নেই।
চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম সহজীকরণের পাশাপাশি দেশের পুঁজিবাজার নিয়েও এক উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বিগত বছরগুলোতে শেয়ার বাজারের ওপর সাধারণ মানুষ যে চরম আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে, তা দূর করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ। অর্থমন্ত্রী কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, শেয়ার বাজার এখন থেকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালিত হবে এবং এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অস্বচ্ছতার সঙ্গে সরকার আপস করবে না। তিনি জানান, পুঁজিবাজারে একটি বড় ধরনের কাঠামোগত সংস্কারের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যা কার্যকর হলে এই খাতে এক বিশাল বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে।
অর্থমন্ত্রী আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, শেয়ার বাজারে এই শৃঙ্খলা ফিরে আসলে কেবল সাধারণ বিনিয়োগকারীরাই লাভবান হবেন না, বরং এটি দেশের সামগ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পায়নে বড় ধরনের পুঁজির জোগান দেবে। এর ফলে একদিকে যেমন কলকারখানার উৎপাদন ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। সামগ্রিকভাবে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে দ্রব্যমূল্য রাখা এই সরকারের মূল লক্ষ্য হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি তাঁর বক্তব্যে পুনর্ব্যক্ত করেন। মেহদীবাগের এই বৈঠকে বন্দর ও কাস্টমসের শীর্ষ কর্মকর্তারা ছাড়াও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন, যাঁরা অর্থমন্ত্রীর এই ত্বরিত উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।
অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আলোকসজ্জা করাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সচেতন মহল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। শোকের এই দিনে শহীদ মিনারকে উৎসবের আমেজে রঙিন আলোয় সাজানো শহীদদের আত্মদানকে অবজ্ঞা করার শামিল বলে অভিযোগ তুলেছেন অনেকে। স্থানীয় প্রশাসনের এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে গত রাত থেকেই ফেসবুকে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনার ঝড় বইছে।
অমর একুশের প্রথম প্রহরে বাউফলের পাবলিক মাঠ সংলগ্ন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তবে সবার নজর কাড়ে শহীদ মিনারের চারপাশের চাকচিক্যময় আলোকসজ্জা ও ঝাড়বাতি। সাধারণত ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা শহীদদের স্মরণে একটি শোকাবহ দিন হিসেবে পালিত হলেও, বাউফল প্রশাসনের এই ব্যতিক্রমী সজ্জাকে অনেকেই মেনে নিতে পারছেন না।
স্থানীয় সাংবাদিক শহিদুল হক ওরফে এমরান হাসান সোহেল তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন যে, ১৯৫২ সালের এই দিনে মায়ের ভাষার জন্য বাংলার বীর সন্তানরা রাজপথে রক্ত ঢেলে দিয়েছিলেন। জাতি যখন তাঁদের এই মহান আত্মত্যাগে শোকাভিভূত, তখন শহীদ মিনারকে ঝাড়বাতি দিয়ে রঙিন করে তোলা শহীদদের প্রতি এক ধরনের ব্যঙ্গ করার মতো ঘটনা। তিনি আক্ষেপ করে আরও বলেন যে, শোকের দিনে এমন আলোকসজ্জা তিনি তাঁর জীবনে কখনো দেখেননি এবং সেখানে উপস্থিত থেকেও স্থানীয় সংসদ সদস্য এর কোনো প্রতিবাদ না করায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।
বাউফল উপজেলা জিয়া মঞ্চের আহ্বায়ক মোহাম্মদ ফিরোজও এই আলোকসজ্জা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের উদাহরণ দিয়ে বলেন, রাজধানীর মূল বেদিতে যেখানে কোনো আলোকসজ্জা নেই এবং ভাবগাম্ভীর্য বজায় রাখা হয়েছে, সেখানে বাউফলে এমন রঙিন লাইটিংয়ের যৌক্তিকতা কোথায়? তাঁর এই স্ট্যাটাসের নিচে অসংখ্য নেটিজেন মন্তব্য করে প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে অপরিকল্পিত ও অমর্যাদাকর হিসেবে অভিহিত করেছেন।
সমালোচনার মুখে বাউফলের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ তাঁর দপ্তরের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি জানান যে, আলোকসজ্জা করার উদ্দেশ্য কোনো উৎসব পালন নয়, বরং রাতের অন্ধকারে পুষ্পস্তবক অর্পণের সময় দৃশ্যমানতা বাড়ানো বা আলো স্বল্পতা দূর করাই ছিল মূল লক্ষ্য। তিনি দাবি করেন, এই লাইটিংয়ে কেবল জাতীয় পতাকার লাল ও সবুজ রং ব্যবহার করা হয়েছে এবং অনেক জায়গায় আলপনা আঁকা হলে যদি দোষ না হয়, তবে জাতীয় পতাকার রঙে আলোকায়ন কোনোভাবেই বিতর্কিত হতে পারে না। তবে প্রশাসনের এই ব্যাখ্যার পরও স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ কাটেনি। অনেকের মতে, আলোকসজ্জার পরিবর্তে কেবল প্রয়োজনীয় আলোর ব্যবস্থা রাখা যেত, যা দিবসের মূল ভাবগাম্ভীর্য রক্ষা করতে সহায়ক হতো। সব মিলিয়ে একুশের প্রথম প্রহরে এই আলোকসজ্জার বিষয়টি বাউফলের জনমনে এখন প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের তীব্র বাধা ও হট্টগোলের কারণে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারেননি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। অভিযোগ উঠেছে, উত্তেজিত নেতাকর্মীরা এসময় রুমিন ফারহানার হাত থেকে পুষ্পস্তবক কেড়ে নিয়ে তা ছিঁড়ে ফেলেন এবং তাঁকে লক্ষ্য করে নানা স্লোগান দিতে থাকেন। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে সরাইল উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ভাষা শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে রাত পৌনে ১২টার দিকে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে পৌঁছান ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি যখন বেদীর সামনে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী সেখানে উপস্থিত হন। তাঁরা রুমিন ফারহানাকে উদ্দেশ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে শুরু করলে উভয় পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বাদানুবাদের এক পর্যায়ে উত্তেজিত বিএনপি কর্মীরা রুমিন ফারহানার আনা পুষ্পস্তবকটি টেনেহিঁচড়ে ছিঁড়ে ফেলেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হলে সেখানে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা দ্রুত হস্তক্ষেপ করেন। তবে উত্তেজনার মুখে শেষ পর্যন্ত আর শ্রদ্ধা নিবেদন করা সম্ভব হয়নি রুমিন ফারহানার পক্ষে। পরে নিজের অনুসারীদের পাহারায় তিনি দ্রুত শহীদ মিনার এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য হন। এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে এবং রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। নিজের নির্বাচনী এলাকায় নিজ দলেরই একটি অংশের কাছ থেকে এমন আচরণের শিকার হওয়ায় রুমিন ফারহানার সমর্থকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এ বিষয়ে সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবুবকর সরকার জানিয়েছেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাত ১২টা ১ মিনিটে যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শ্রদ্ধা নিবেদন সম্পন্ন করা হয়েছিল। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জনপ্রতিনিধিরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার শ্রদ্ধা নিবেদনকালে যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে, সেই বিষয়ে পুলিশকে প্রয়োজনীয় তদন্তের জন্য বলা হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। বর্তমানে সরাইল এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
যশোরের শার্শায় আল আমিন হোসেন নামে এক পল্লী চিকিৎসককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে শার্শা উপজেলার গাতিপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আল আমিন হোসেন একই গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, রাতে তারাবির নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে একদল দুর্বৃত্ত তার পথরোধ করে। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়। পরে আশপাশের লোকজন ছুটে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
শার্শা থানার ওসি শাহ-আলম বলেন, হত্যার কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।
বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে মিলন রহমান (১৬) নামে এক স্কুল শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে উপজেলার বুড়ইল গ্রামে এ হত্যার ঘটনা ঘটে। নিহত মিলন একই গ্রামের দিলবরের ছেলে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে মিলন স্থানীয় মসজিদে তারাবির নামাজ আদায় শেষে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় ৫ থেকে ৭টি মোটরসাইকেলে ১০ থেকে ১৫ জন দুর্বৃত্ত এসে তাকে ছরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা মিলনকে উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানকার চিকিৎসক মিলনকে মৃত ঘোষণা করেন।
নন্দীগ্রাম থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, কী ঘটনায় মিলনকে হত্যা করা হয়েছে তা এখনই বলতে পারছি না। এই ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
চুয়াডাঙ্গা জীবননগর উপজেলার উথলী ফার্মগেটের কাছে রেললাইনের ৬ ইঞ্চি অংশ ভেঙে ছিটকে পড়েছে। এ অবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে ট্রেন চলাচল করলে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেনটি উথলী ফার্মগেট অতিক্রম করার সময় লাইনের ৬ ইঞ্চি অংশ ভেঙে দূরে ছিটকে পড়ে।
ওই সময় দায়িত্বরত গেইটম্যান অচিন্ত্য সাহা জানান, বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্মকর্তাকে অবগত করা হয়েছে। তারা দ্রুতই এসে মেরামত করবে।
খবর পেয়ে মোবারকগঞ্জ প্রকৌশলী বিভাগ থেকে উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে ৪ সদস্যের একটি দল দুপুর সাড়ে ১২ টার সময় ঘটনাস্থলে এসে রেললাইনের মেরামত কাজ শুরু করেছে।
স্থানীয় গেইটম্যান মনিস কুমার শর্মা বলেন, সকাল পৌনে ১০ টার সময় খুলনা থেকে ছেড়ে আসা রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেন অতিক্রম করার পর রেল লাইনের কিছু অংশ ভেঙে দূরে চলে যায়। ট্রেন লাইনের ৬ ইঞ্চি অংশ ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি তৎক্ষণাৎ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানো হয়।
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় ইজিবাইকের ধাক্কায় তৃতীয় শ্রেণি পড়ুয়া মুবিন (৯) নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার কালাদহ ইউনিয়নের আয়েশার মোড় এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ওই শিশু কালাদহ গ্রামের বড়িল পাড়া এলাকার হায়দার আলীর ছেলে এবং স্থানীয় ক্বওমী মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র।
প্রতিবেশী শিমুল সরকার জানান, গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাড়ির পাশেই কেশরগঞ্জ টু পাটিরা সড়কে বাই সাইকেল চালানো শিখছিলেন শিশু মুবিন। হঠাৎ করে কেশরগঞ্জগামী একটি ইজিবাইকের সাথে দুর্ঘটনা শিকার হয়। এ সময় শিশুটির মাথার ওপর দিয়ে ইজিবাইকের চাকা উঠে পড়লে শিশুটি মারাত্মক আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করে।
ফুলবাড়িয়া থানার ওসি সাইফুল্লাহ সাইফ বলেন, শিশু মৃত্যুর ঘটনায় (ইউডি) অপমৃত্যু থানায় মামলা হয়েছে।