ঝালকাঠিতে আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুর পরিত্যক্ত বাসভবন ঘিরে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (৬ মে) দুপুরে জুলাই ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়া একদল শিক্ষার্থী বাসভবনের সামনে স্থাপিত টিনের বেড়া অপসারণ করে এবং প্রধান গেট কেটে উন্মুক্ত করে দেয়।
বিগত সরকার পতনের দিন ৫ আগস্ট বিকেলে বিক্ষুব্ধ জনতা আমুর ঝালকাঠির বাসভবনটি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। এরপর দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা ওই বাড়ির সামনে স্থানীয়রা ময়লা ফেলার জায়গা হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল।
তবে সম্প্রতি অজ্ঞাত ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বাড়িটির প্রধান ফটক টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে ফেলে। ফলে সেখানে ময়লা ফেলা এবং সাধারণ মানুষের প্রবেশ বন্ধ হয়ে যায়।
এ পরিস্থিতিতে গতকাল বুধবার দুপুরে শিক্ষার্থীদের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে টিনের বেড়া অপসারণ করে। একই সঙ্গে তারা ইলেকট্রিক কাটার মেশিন ব্যবহার করে প্রধান গেট কেটে ফেলে। পরে খুলে ফেলা ঢেউটিন তাৎক্ষণিকভাবে দরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়।
এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দাবি, পরিত্যক্ত স্থাপনাকে ঘিরে এ ধরনের অবরোধ সৃষ্টি করে জনসাধারণের স্বাভাবিক ব্যবহার ব্যাহত করা ঠিক নয়। তারা স্থানটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখার দাবি জানান।
এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ শিক্ষার্থীদের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দক্ষিণের অপরূপ সমুদ্রসৈকত খ্যাত পর্যটন নগরী সাগরকন্যা কুয়াকাটা এখন শুধু সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের দৃশ্য উপভোগ করার জন্যই নয়, নতুন নতুন মনোরম প্রাকৃতিক স্পটের কারণেও আলোচনায়। এরই মধ্যে ভ্রমণপিপাসুদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ নামে পরিচিত মনোরম প্রাকৃতিক স্পট। পাশাপাশি এর কাছেই অবস্থিত ‘লাল কাঁকড়ার দ্বীপ’ ও পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াচ্ছে। এই দুই স্থানকে ঘিরে আগ্রহ প্রকৃতিপ্রেমীদের।
কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ হিসেবে পরিচিত সবুজ বনভূমি, বিস্তীর্ণ তৃণভূমি, লেক ও সমুদ্রের ঢেউয়ের অপূর্ব সম্মিলনে গড়ে ওঠা এক অনন্য নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জায়গা। বিস্তীর্ণ সবুজ প্রান্তর, ছোট ছোট টিলা, নীল আকাশ ও নির্মল বাতাসের কারণে এক নৈসর্গিক আবহ বিরাজ করছে।
এখানে এসে পর্যটকরা সবুজ প্রকৃতির মাঝে সময় কাটানো, ছবি তোলা, পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘোরাঘুরি এবং নিরিবিলি পরিবেশ উপভোগ করার সুযোগ পাচ্ছেন। অনেক ভ্রমণপিপাসু এখানে তাঁবু টানিয়ে রাত কাটান। এখানকার অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ হলো—একই স্থান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত উপভোগ করার বিরল অভিজ্ঞতা।
ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক মৌরি ও বাপ্পা দম্পতি বলেন, ‘আমরা অনেক জায়গায় ঘুরেছি; কিন্তু এক জায়গা থেকে সূর্য ওঠা ও ডোবা দুটোই দেখা যায়—এমন দৃশ্য সত্যিই বিরল। এখানকার পরিবেশ খুবই শান্ত ও মনোরম।’
আরেক পর্যটক রাব্বানী বলেন, ‘মিনি সুইজারল্যান্ডে এসে মনে হচ্ছে প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে গেছি। এখানকার নীরবতা আর নির্মল বাতাস আলাদা এক শান্তি দেয়।’
স্থানীয় ট্যুর গাইড আবুল কালাম জানান, শুরুতে স্থানীয় কয়েকজন মিলে জায়গাটিকে ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ নামে ডাকতেন। পরে ভ্রমণব্লগার মি. লাক্সছু মোটরসাইকেলে করে কুয়াকাটার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ভিডিও ধারণ করেন। কাউয়ারচর ও গঙ্গামতির লেকসহ আশপাশের দৃশ্য তার ভিডিওতে ওঠে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই জায়গাটি দেশজুড়ে পরিচিতি পেতে শুরু করে।
মি. লাক্সছু বলেন, ‘প্রথম যখন এখানে আসি, জায়গাটি তেমন পরিচিত ছিল না। চারদিকে সবুজ গাছ, নীল আকাশ আর সাগরের শান্ত ঢেউ দেখে মনে হয়েছিল—এ যেন বাংলাদেশের ভেতর লুকিয়ে থাকা এক টুকরো সুইজারল্যান্ড। সেই ভাবনা থেকেই ব্লগে ‘‘মিনি সুইজারল্যান্ড’’ নামটি ব্যবহার করি।’
কুয়াকাটার আরেক আকর্ষণ ‘লাল কাঁকড়ার দ্বীপ’। সৈকতের বালুচরে হাজার হাজার লাল কাঁকড়ার দৌড়ে বেড়ানোর দৃশ্য পর্যটকদের কাছে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করেছে। আশপাশের সবুজ বনভূমি ও শান্ত পরিবেশ মিলিয়ে এলাকাটি ধীরে ধীরে ইকো-ট্যুরিজমের সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ ও লাল কাঁকড়ার দ্বীপকে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন করা গেলে কুয়াকাটায় পর্যটনের নতুন মাত্রা যোগ হবে। কুয়াকাটার মাস্টার প্লানে এই পর্যটন স্পট দুটিকে সম্পৃক্ত করুন।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আমরা কুয়াকাটাবাসীর’ সভাপতি ও মহিপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো হাফিজুর রহমান আকাশ বলেন, ‘সঠিক পরিকল্পনা ও পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই এলাকাকে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় ইকো-ট্যুরিজম স্পটে পরিণত করা সম্ভব। তবে পরিবেশ সংরক্ষণে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, পর্যটন ব্যবসায়ী মো. আনোয়ার হোসেন আনু বলেন, ‘এখানে পরিকল্পিতভাবে ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র গড়ে তোলা গেলে স্থানীয় অর্থনীতি যেমন চাঙা হবে, তেমনি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি স্থানীয় তরুণদের গাইড, নৌ-ট্যুর অপারেটর ও পর্যটনভিত্তিক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা গেলে এলাকার অর্থনীতি আরও শক্ত হবে।’
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু অসচেতন পর্যটকের কারণে এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সাউন্ড বক্স বাজানো, প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলা এবং ময়লা-আবর্জনায় দূষিত হচ্ছে এই নিরিবিলি প্রকৃতি।
কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেক বলেন, ‘এই এলাকাকে ঘিরে পর্যটনবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও পর্যটন স্পটগুলোর সড়ক যোগাযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।’
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো, কাউছার হামিদ বলেন, ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ ও আশপাশের এলাকাকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য পর্যটন প্রকল্পের প্রাথমিক পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। পর্যটন কুয়াকাটার মাস্টার প্লানের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।’
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন,সঠিক পরিকল্পনা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে পর্যটন নগরী সাগরকন্যা কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করতে পারে।
‘মাছ হবে দ্বিতীয় প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী সম্পদ’— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কার্পজাতীয় মাছের আধিক্য বাড়াতে মাছের পোনা অবমুক্ত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিত করতে হ্রদে মাছ আহরণ বন্ধে চলমান নিষেধাজ্ঞাকালে কর্মহীন হয়ে পড়া প্রায় ২৬ হাজার জেলে পরিবারের মাঝে বিশেষ ভিজিএফ চাল বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।
বুধবার (৬ মে) সকালে বিএফডিসির ফিশারি ঘাটে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মো. ইমাম উদ্দিন কবীরের সভাপতিত্বে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব দেলোয়ার হোসেন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আবু মোহাম্মদ সিদ্দিক আলম, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্র, রাঙামাটি পৌর প্রশাসক মো. মোবারক হোসেন খান এবং চট্টগ্রাম নৌপুলিশ ইউনিটের পুলিশ সুপার বি. এম. নুরুজ্জামান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
রাঙামাটি বিএফডিসির নিজস্ব হ্যাচারিতে উৎপাদিত প্রায় ৬০ মেট্রিক টন মাছের পোনা কাপ্তাই হ্রদে অবমুক্ত করা হবে, যা হ্রদের প্রাকৃতিক প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘কাপ্তাই হ্রদের নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে খুব শিগগিরই খনন কাজ শুরু করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘কাপ্তাই হ্রদ বাংলাদেশের ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ হ্রদের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নিষেধাজ্ঞাকালে সকল জেলেকে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘হ্রদে কোনো ধরনের ময়লা-আবর্জনা ফেলা যাবে না এবং এ বিষয়ে সকলকে সচেতন হতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দৃষ্টি রয়েছে এ অঞ্চলের মানুষের কল্যাণে।’
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মাছ আহরণ বন্ধ রাখা হয়, যাতে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও বৃদ্ধি নিশ্চিত হয়। এর ফলে ভবিষ্যতে জেলেরা অধিক মাছ আহরণ করতে পারবেন। পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞাকালে ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।’
তিনি জেলেদের প্রতি আহ্বান জানান, নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে যেন কোনো ধরনের অবৈধ মাছ শিকার না করা হয় এবং সবাই মিলে কাপ্তাই হ্রদের সম্পদ রক্ষায় সচেতন ভূমিকা পালন করা হয়।
রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে বাসার সামনে ব্যাটারিচালিত রিকশার নিচে পড়ে জান্নাতি (৫) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। বুধবার (৬ মে) বেলা ৩টার দিকে কামরাঙ্গীরচর সিলেটী বাজার ৭ নম্বর গলিতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। মুমূর্ষু অবস্থায় স্বজনেরা শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক বিকেল সোয়া ৪টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন।
কামরাঙ্গীরচর সিলেটী বাজার ৭ নম্বর গলিতে থাকে শিশু জান্নাতির পরিবার। নিহত শিশুর বাবা মো. মোস্তফা ইসলামবাগে দিনমজুরের কাজ করেন। মা লাভলী আক্তার অন্যের বাসায় কাজ করেন।
শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে আসা খালা নার্গিস আক্তার ও প্রতিবেশী আবদুস সালাম জানান, ঘটনার সময় বাসার সামনের গলিতে অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল জান্নাতি। তার মা বাসার ভেতরে ঘরের কাজ করছিলেন। তখন আরেক শিশু জান্নাতিকে অচেতন অবস্থায় কোলে করে বাসার ভেতর নিয়ে আসে। সে জানায়, গলিতে একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা জান্নাতির ওপর দিয়ে উঠিয়ে দিয়েছিল। রিকশাচালক পালিয়ে গেছে।
তারা আরও জানান, এ কথা জানার পর শিশুটিকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু চিকিৎসক পরীক্ষা–নিরীক্ষা করে মারা গেছে বলে জানান।
এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তের জন্য কামরাঙ্গীরচর থানায় জানানো হয়েছে।
অনলাইন ও ডিজিটাল গণমাধ্যম দ্রুত বিস্তৃত হওয়ায় সাংবাদিকতার জন্য সুস্পষ্ট নীতিমালা এবং আচরণবিধির (কোড অব কন্ডাক্ট) প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। একইসঙ্গে তথ্য কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের শেষ দিন বুধবার (৬ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. জাহেদ বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় সাংবাদিকতার পেশাগত মান ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে সরকার দ্রুত নীতিমালা ও রেগুলেটরি কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নিচ্ছে।
সাংবাদিকদের তথ্য প্রদানে রাজনৈতিক চাপের প্রশ্নে জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ডিসিদের সঙ্গে আলোচনায় রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়টি আসেনি। বরং মূলত ডিজিটাল মিডিয়ার বিস্তার এবং সেটি ঘিরে সৃষ্ট বাস্তবতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, খুব সহজে এখন অনলাইনভিত্তিক মিডিয়া চালু করা যাচ্ছে। সেখানে নীতিমালার একটা অভাব আছে। জেলা প্রশাসকদের পক্ষ থেকে প্রত্যাশা এসেছে যে সাংবাদিক হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট মানদণ্ড ও আচরণবিধি থাকা প্রয়োজন, যাতে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনে প্রশাসন ও গণমাধ্যম—উভয় পক্ষেরই সুবিধা হয়। এ কারণে তথ্য মন্ত্রণালয় সাংবাদিকতার জন্য একটি নীতিমালা ও কোড অব কন্ডাক্ট তৈরির বিষয়ে কাজ করছে এবং তা দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সরকারের তথ্যপ্রকাশ ও স্বচ্ছতা প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সরকার গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত এবং ভবিষ্যতেও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চায়। তাই তথ্য গোপনের প্রবণতা থেকে সরকার সরে আসবে বলেই তিনি মনে করেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, তথ্য গোপন করার যে প্রবণতা আগে দেখা গেছে, যুক্তি বলে এই সরকার সেটা করতে যাবে না।
সাংবাদিকদের তথ্যপ্রাপ্তির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা জানান, দীর্ঘদিন কার্যকর না থাকা তথ্য কমিশন দ্রুত পুনর্গঠন করা হবে। কমিশনকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হবে, যাতে তথ্যপ্রাপ্তি-সংক্রান্ত অভিযোগ ও সমস্যাগুলো কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা যায়।
গুজব ও অপতথ্য মোকাবিলায় সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন তথ্য উপদেষ্টা। এ নিয়ে তিনি জানান, ফ্যাক্ট-চেকিং কার্যক্রম জোরদার করতে ইতোমধ্যে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় জেলা পর্যায়ের তথ্য অবকাঠামোকে সমন্বিত করা হবে।
তিনি বলেন, জেলা পর্যায়ে সরকারের তথ্যসেবা কাঠামোকে নতুন ডিজিটাল বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তার মতে, বিদ্যমান তথ্যসেবা কাঠামো নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা করছে, তবে যেখানে ঘাটতি রয়েছে, সেখানে দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে সক্ষমতা বাড়ানো হবে।
ডা. জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, প্রশাসন, গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বয়ে দেশে আরও উন্মুক্ত ও কার্যকর তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করা সম্ভব।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতিদের সম্পর্কে অগ্রহণযোগ্য ভাষা ব্যবহার করে ভাবমূর্তি ‘ক্ষুণ্ন’ করায় হাইকোর্ট বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ইব্রাহীম আলম ভূঁইয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।
বুধবার (৬ মে) সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, হাইকোর্ট বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার (দেওয়ানি-১) ইব্রাহীম আলম ভূঁইয়া তার ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট, প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতিদের সম্পর্কে অগ্রহণযোগ্য ভাষা ব্যবহার করে তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন।
এছাড়াও তিনি ব্যক্তিস্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের কর্মচারীদের ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মিডিয়ার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান, প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতিদের নামে মিথ্যা ও অসত্য কুৎসা প্রচারের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন।
সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের বৈধ আদেশ পালন না করতে অন্যান্য কর্মচারীদের ইন্ধন দিয়ে অফিসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন, যা গুরুতর অসদাচরণ ও অফিস শৃঙ্খলা পরিপন্থি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অপরাধ বর্ণিত বিধির ৪(১) বিধি অনুযায়ী দণ্ডনীয়, যার সর্বোচ্চ শাস্তি চাকরি হতে বরখাস্তকরণ। বিধি অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (৬ মে) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিব উল্লাহ পিয়াসের আদালত এই আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক কামাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে তিন দিনের রিমান্ড শেষে আসামি সুদীপ চক্রবর্তীকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক কাজী ইকবাল হোসেন তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মধুসূদন দেব জামিন চেয়ে আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এই জামিনের বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে সুদীপ চক্রবর্তীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
প্রসঙ্গত, গত ২৬ এপ্রিল রাজধানীর উত্তর বাড্ডার নিজ বাসা থেকে মুনিরা মাহজাবিন মিমোর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় তার মরদেহের পাশ থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়। চিরকুটে লেখা ছিল, ‘সুদীপ স্যারকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে। হানি আর সুদীপ স্যার ভালো থাকো। স্যারের দেওয়া গিফটগুলো ফেরত দেওয়া...।’
এই ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে সুদীপ চক্রবর্তীকে আসামি করে বাড্ডা থানায় মামলা করা হয়। মামলার পর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। ২৭ এপ্রিল তাকে প্রথমবার আদালতে হাজির করা হলে জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়।
পরবর্তীতে গত রোববার আদালত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। রিমান্ড শেষে বুধবার (৬ মে) আবারও তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হলো।
নিজের দ্বিতীয় বিয়ের তথ্য জানালেন আলোচিত ইসলামী বক্তা মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানী। আজ বুধবার নিজের ফেসবুক পেজে পোস্ট দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ের তথ্য জানান তিনি।
রফিকুল ইসলাম মাদানী মারকাযু শাহাবুদ্দিন আল ইসলামী মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা মুহতামিম।
ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমি আমার আল্লাহকে ভয় করি... গোনাহ থেকে বেঁচে থাকতে চাই।
এই চাওয়াটাই আমাকে জীবনের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে—দ্বিতীয় বিয়ে। এই সমাজে কত মানুষ আছে, যারা বিবাহিত হয়েও হারাম সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে, গোপনে গোনাহ করে। আমি সেই পথের একজন হতে চাইনি। আমি চাইনি নিজেকে কোনো হোটেল, পার্ক কিংবা অন্ধকার কোনো পথে খুঁজে পাই।
আমি চেয়েছি হালালের মধ্যে থাকতে, আল্লাহর বিধানের মধ্যে থাকতে।
জানি, আমার এই সিদ্ধান্তে আমার প্রথম আহলিয়ার কষ্ট হয়েছে... হচ্ছে। এটা ভাবলেই আমার বুকটা ভেঙে যায়। তবুও আমি বিশ্বাস করি, এটি কোনো মানুষের বানানো নিয়ম নয়—এটি আমাদের সবার রবের বিধান।
তিনি যা হালাল করেছেন, সেটাকেই আঁকড়ে ধরতে চেয়েছি।
কিছুদিন ধরে আমি তাকে বুঝিয়েছি... অসংখ্য রাত আমি আল্লাহর কাছে কেঁদে দোয়া করেছি—যেন তাঁর মনটা নরম হয়, যেন তিনি বিষয়টি মেনে নিতে পারেন। কখনো মনে হয়েছে তিনি বুঝছেন, আবার হঠাৎই ভেঙে পড়েছেন, না বলে দিয়েছেন।
আপনাদের সবার কাছে দোয়া চাই—আল্লাহ তাআলা যেন আমার দুই পরিবারকে ধৈর্য দান করেন, তাদের অন্তরে প্রশান্তি দেন এবং এই বিষয়টি সহজভাবে মেনে নেওয়ার তাওফিক দেন।
ইনসাফ করা—এটাই সবচেয়ে বড় শর্ত।
আর আমি আল্লাহর কাছে মাথা নত করে দোয়া করি, যেন তিনি আমাকে সেই তাওফিক দেন। যেন আমি কারো হক নষ্ট না করি, কারো প্রতি জুলুম না করি। আর আমাকে এমন তাওফিক দিন, যেন আমি সত্যিই ইনসাফের সঙ্গে, তার সন্তুষ্টির জন্যই আমার সংসার পরিচালনা করতে পারি।’
হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন ২০ এপ্রিল থেকে ১০ মে ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী সকল শিশুকে এক ডোজ হাম-রুবেলা টিকা প্রদান করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ (বুধবার) খুলনা সিভিল সার্জন দপ্তরের সম্মেলনকক্ষে জেলা পর্যায়ের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতি খুলনা সিভিল সার্জন ডা. মোছাঃ মাহফুজা খাতুন বলেন, হামের বিরুদ্ধে হার্ড ইমিউনিটি অর্জনে গৃহভিত্তিক যাচাই জোরদার এবং শিশুদের টিকা গ্রহণে অভিভাবকদের সচেতন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, হামের টিকার পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় সব পক্ষকে সোচ্চার হতে হবে। হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন সফল করতে মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ সকলের প্রতি আহবান জানান তিনি।
স্বাগত বক্তৃতা করেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ মিজানুর রহমান। হাম-রুবেলা টিকা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেন বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার মেডিকেল অফিসার ডা. নাজমুর রহমান সজিব। সভায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা অংশ নেন।
উল্লেখ্য, খুলনা জেলার নয়টি উপজেলায় এক লাখ ৫৬ হাজার ৪২০ শিশুকে এক ডোজ হাম-রুবেলা টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রার ৮৯ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত এই ক্যাম্পেইন চলবে।
ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কে সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে ও সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ময়মনসিংহের ত্রিশালে এক বিশেষ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন।
আজ বুধবার (৬ মে) দুপুরে মহাসড়কের ব্যস্ততম দরিরামপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।অভিযানের নেতৃত্ব দেন ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকী। এ সময় ফুটপাত ও মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা বেশ কিছু অবৈধ স্থাপনা ও দোকানপাট গুঁড়িয়ে দিয়ে রাস্তা দখলমুক্ত করা হয়।অভিযানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমি মাহবুবুর রহমান, পৌরসভার সচিব নওশীন আহমেদ, ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনসুর আহাম্মদ। অভিযান শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকী জানান, মহাসড়কে পথচারী ও যানবাহন চলাচল ঝুঁকিমুক্ত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনস্বার্থে এবং সড়ক দুর্ঘটনা রোধে এই উচ্ছেদ অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। মহাসড়ক কোনোভাবেই দখল করতে দেওয়া হবে না।
কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে ধানের বাজারে ক্রেতা সংকট এবং সরকারি গুদামে ধান সংগ্রহের কঠিন শর্তের কারণে কৃষকেরা চরম বিপাকে পড়েছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়া ধান কোনোমতে ঘরে তুললেও তা বিক্রি করতে না পেরে এক নিদারুণ অর্থকষ্টে দিন কাটছে এই অঞ্চলের প্রান্তিক চাষিদের। ফলে বাধ্য হয়ে ন্যায্যমূল্য বিসর্জন দিয়ে তারা স্থানীয় দালালদের কাছে অত্যন্ত সস্তায় ধান বিক্রি করে দিচ্ছেন বলে এক গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে।
কৃষকদের সহায়তায় সরকার ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু করলেও এর সুফল সাধারণ চাষিদের দোরগোড়ায় পৌঁছাচ্ছে না। সরকারি গুদামে ধান দিতে গেলে আর্দ্রতা পরীক্ষা ও ব্যাংক হিসাবসহ নানাবিধ দাপ্তরিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাদের। অনেক ক্ষেত্রে গুদাম থেকে ধান ফেরত আনার বাড়তি পরিবহন খরচ জোগাতে না পেরে কৃষকেরা হতাশ হয়ে পড়ছেন। এই সুযোগে মধ্যস্বত্বভোগীরা মাত্র ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা মণে ধান কিনে নিচ্ছে এবং পরবর্তীতে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সেই ধানই সরকারি গুদামে সরবরাহ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ইটনা উপজেলা সদরের কৃষক সুলতান মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, “সরকারি গুদামে ধান দিতে গেলে নানা ঝামেলায় পড়তে হয়। ভালো ধান নিয়ে গেলেও বলা হয়, ধান ময়লা বা আর্দ্রতা বেশি। তাই বাধ্য হয়ে দালালের কাছে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।” সরকার প্রতি মণ ধানের মূল্য ১ হাজার ৪৪০ টাকা নির্ধারণ করলেও সাধারণ কৃষকের পকেটে তার সুফল যাচ্ছে না। কৃষক মহসিন মিয়া এ প্রসঙ্গে বলেন, “শ্রমিকের খরচ কাটা হয়, প্রতি মণে এক-দুই কেজি বেশি ধান নেওয়া হয়, দালালকেও দিতে হয়।” তাঁর মতে, সরকার সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করলে এই শোষণ বন্ধ হতো।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং ঋণের চাপের দ্বিমুখী সংকটে হাওরের জীবনযাত্রা এখন বিপর্যস্ত। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ধান শুকানো সম্ভব হচ্ছে না, ফলে আর্দ্রতা বেশি থাকায় সরকারি গুদাম তা গ্রহণ করছে না। ইটনা উপজেলার লাইমপাশা গ্রামের কৃষক তারু মিয়া বলেন, “একদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অন্যদিকে ঋণের চাপ-এই দুই সংকটে আমরা আরও বিপাকে পড়েছি।” ক্ষুদ্র কৃষকদের অভিযোগ, গুদামে ধান দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ও বড় কৃষকেরা বেশি সুবিধা পাচ্ছেন। ছিলনী গ্রামের কৃষক এমাদ মিয়া এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের মতো ছোট কৃষকেরা সুযোগই পাই না।”
প্রশাসনিক ও কৃষি কর্মকর্তারা এই সংকটের কথা স্বীকার করলেও সরকারি নীতিমালার বাইরে পদক্ষেপ নিতে অপরাগতা প্রকাশ করেছেন। ইটনা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বাবুল আকরাম জানান, “বেশি আর্দ্রতার ধান কেনা সম্ভব নয়। এতে সংরক্ষণে ঝুঁকি থাকে। সরকারি নির্দেশনার বাইরে আমাদের কিছু করার নেই।” উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিজয় কুমার হাওলাদার মনে করেন, ধান শুকাতে না পারাটাই বর্তমান পরিস্থিতির মূল অন্তরায়। ইটনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাখন চন্দ্র সূত্রধর আশ্বাস দিয়ে বলেন, “গুদামে হয়রানির অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কৃষি বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জেলায় এবার প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন অর্ধলাখ কৃষক। চাষিদের দাবি অনুযায়ী ক্ষতির আর্থিক মূল্য ৫০০ কোটি টাকারও বেশি। জেলায় ১২ লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের বিপরীতে সরকারি ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা মাত্র ১৮ হাজার ৩৩০ মেট্রিক টন, যা চাহিদার তুলনায় নগণ্য। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান বলেন, লটারির মাধ্যমে তালিকা করায় অনেক কৃষক বাদ পড়ছেন, যা অসন্তোষের কারণ হতে পারে। জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন এ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকে বলেন, “সরকার চায় কৃষকেরা যেন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হন। কৃষকদের হয়রানির অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার পতিসর এখন উৎসবমুখর। ২৫ বৈশাখকে সামনে রেখে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নেওয়া হয়েছে বর্ণাঢ্য আয়োজন।
পতিসরের ঐতিহাসিক কাচারি বাড়িতে চলছে শেষ মুহূর্তের সাজসজ্জা ও প্রস্তুতি। আগামী ৮ মে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে থাকবে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক আয়োজন এবং নাগর নদের তীরে গ্রামীণ মেলা।
আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, সকালে পতিসর কাছারিবাড়ি প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে কবির জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা করবেন দেশের খ্যাতিমান কবি ও সাহিত্যিকরা। অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গেরও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, দর্শনার্থীদের জন্য ৮ মে পতিসর কুঠিবাড়ি উন্মুক্ত থাকবে। দিনভর সেখানে দর্শনার্থীদের ভিড় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে কয়েক স্তরের ব্যবস্থা।
পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম জানান, জাতীয় পর্যায়ের এ আয়োজনকে ঘিরে পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। একাধিকবার পরিদর্শন করা হয়েছে অনুষ্ঠানস্থল। পুলিশ, ডিবি ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্বে থাকবেন।
আত্রাই-রাণীনগর আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. রেজাউল ইসলাম রেজু বলেন, পতিসরে এবারের জন্মবার্ষিকী আয়োজন স্মরণকালের অন্যতম সেরা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়েও প্রস্তুতি ও উৎসাহ রয়েছে।
সব মিলিয়ে রবীন্দ্র জন্মোৎসবকে ঘিরে পতিসর এখন পরিণত হয়েছে এক প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক মিলনমেলায়।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় অভ্যন্তরীণ বোরো ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার (৬ মে) দুপুরে উপজেলার ভানুগাছ খাদ্য গুদাম প্রাঙ্গণে ফিতা কেটে এ কার্যক্রমের সূচনা করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. দুরুদ আহমদ, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রুমি দেবসহ সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসহাবুজ্জামান শাওন, সাধারণ সম্পাদক আহমেদুজ্জামান আলম, ভানুগাছ খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিধান কান্তি রায়, শমশেরনগর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইসমাম ইবনে খতিব এবং মিল মালিক কানু চন্দ্র প্রমুখ।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রুমি দেব জানান, ভানুগাছ ও শমশেরনগর খাদ্য গুদামে বোরো ধান ৩৬ টাকা কেজি দরে মোট ৪৯১ টন এবং সিদ্ধ চাল ৪৯ টাকা কেজি দরে ২৩৫ টন সংগ্রহ করা হবে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে ইউএনও মো. আসাদুজ্জামান বলেন, প্রকৃত কৃষকরা যাতে তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পান, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন কাজ করছে।
ধান দিতে আসা এক স্থানীয় কৃষক জানান, বাজার দরের তুলনায় সরকারি মূল্য কিছুটা বেশি হওয়ায় তারা খুশি। তবে সংগ্রহ প্রক্রিয়া আরও সহজ ও হয়রানিমুক্ত করার দাবি জানান তিনি।