শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১০ আশ্বিন ১৪৩৩

ঈদের ছুটিতে সুন্দরবনে পর্যটকদের ঢল

ছবি: দৈনিক বাংলা
মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশিত
মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১২ এপ্রিল, ২০২৪ ১৬:৫১

ঈদের ছুটিতে সুন্দরবনে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। ঈদের দিন গতকাল ঈদের দিনের তুলনায় আজ শুক্রবার কয়েকগুণ বেশি পর্যটনের আগমন ঘটেছে সুন্দরবনে। ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে দেশের দূরদূরান্ত থেকে বন্ধু-বান্ধব ও পরিবারসহ সেখানে ছুটে যাচ্ছেন। আগামী ছুটির দিনগুলোতে আরও বেশি পর্যটক বাড়বে বিশ্বখ্যাত ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবনে। ঈদের দিন শুধু বনের করমজল পর্যটন স্পটে সহস্রাধিক লোক হলেও পরদি আড়াই হাজারের মত দর্শনার্থী ভ্রমণে যায়।

দেশের যেকোন জায়গা থেকে মোংলায় আসার পর মোংলা থেকে সবচেয়ে কাছাকাছি ও আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র করমজলেই ভিড় সবচেয়ে বেশি ভ্রমণপিয়াসীদের। এছাড়াও বনের হাড়বাড়ীয়া, কটকা, কচিখালী ও আন্ধারমানিকসহ অন্যান্য স্পষ্টে ঢল নেমেছে পর্যটকদের। এই ছুটিতে বড় বড় বিলাসবহুল লঞ্চে সুন্দরবন ভ্রমণ করছেন নানা দেশের নানা বয়সী পর্যটকেরা। সুন্দরবন ঘুরতে আসা রাজশাহীর শিক্ষার্থী শামসুননাহার ডারিন ও মিজানুর রহমান মিজু বলেন, এর আগে কখনও সুন্দরবনে আসা হয়নি, এবারই প্রথম এসেছি। না আসলে বুঝাই অসম্ভব সুন্দরবন আসলেই কতো সুন্দর। খুব ভাল লাগছে, বন্ধু-বান্ধব মিলে ভীষণ আনন্দ করছি।

সিলেটের মাদ্রাসা শিক্ষক হাফেজ মাওলানা মিজবাহ উদ্দীন ও গার্মেন্টস ব্যবসায়ী অলিপ গোলদার বলেন, সুন্দবনে এসে হরিণ, কুমির, বানর, কচ্ছপ দেখলাম। সুউচ্চ ওয়াচ টাওয়ারের উপর থেকে ছাতার মত বিস্তৃত বনের বিভিন্ন গাছপালা দেখে প্রাণ ভরে গেছে। কি সবুজ সজিব শীতল পরিবেশ, মনে হয় নির্মল এক অক্সিজেনের কারখানায় এসেছি।

ঢাকা থেকে পরিবারসহ মোস্তফা জামান তার পরিবার নিয়ে সুন্দরবন ভ্রমণে এসে বলেন, দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছি। কিন্তু সুন্দবনের মতো এতো আনন্দ উপভোগ করতে পরিবারকে আগে কখনও দেখিনি। যত দেখছি ততোই মন জুড়াচ্ছে, ভাবছি এতোদিনে কেন আসলাম না। আমি বলবো যারা সুন্দরবনে আসেননি তারা সুন্দরের সৌন্দর্য থেকে বঞ্চিত রয়ে গেছেন, যেমন আগে আমরাও ছিলাম।

কুয়েট শিক্ষার্থী আবির হোসেন বলেন, সুন্দরবনের যে বিশাল সম্পদ রয়েছে তার সুষ্ঠু ব্যবহার করা গেলে তাতে উপকূলের মানুষের মঙ্গল হবে, তাতে কোন সন্দেহ নেই। তবে ঘুরতে এসে বনবিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সর্বাত্মক সহায়তা প্রদাণের বিষয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের করমজল পর্যটন ও বন্যপ্রাণী পর্যটন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আজাদ কবির বলেন, সুন্দরবনের এবারের ঈদের ছুটিতে পর্যটকের আগমনের সংখ্যা বিগত সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। তাই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ছুটির দিনেও পর্যটকদের নিরলসভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তারা। এদিকে হঠাৎ এবারের ঈদে পর্যটকদের আগমন বিগত সময়ের চেয়ে বেশি হওয়ার কারণ হিসেবে টানা ৫দিনের ছুটি ও বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি শান্ত থাকার বিষয়টি বলে মনে করছেন বনবিভাগ।


নির্বাচিত

গভীর সমুদ্রে ইঞ্জিন বিকল হওয়া ফিশিং বোটসহ ৮ জেলেকে জীবিত উদ্ধার

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

সুন্দরবনের কোকিলমনি এলাকা থেকে গভীর সমুদ্রে ইঞ্জিন বিকল হয়ে ভাসতে থাকা ফিশিং বোটসহ আট জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুর এগারোটায় আট জন জেলেসহ একটি ফিশিং বোট মাছ ধরার সময় সুন্দরবনের কোকিলমনি থেকে ১১ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণে গভীর সমুদ্রে পৌঁছালে-এর ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে এবং বোটটি ভাসতে শুরু করে। এরপর গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকাল তিনটার দিকে বোটটি মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতায় আসলে এক জেলে বোটের মালিককে ফোন করে বিষয়টি জানান। বোট মালিক তাৎক্ষণিকভাবে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের কাছে সহায়তার আবেদন করেন।

এই তথ্যের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড স্টেশন কোকিলমনির একটি দল দ্রুত গভীর সমুদ্রে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে বিকল হওয়া বোট ও আট জেলেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে। উদ্ধারের পর জেলেদের প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় খাবার সরবরাহ করা হয়।

বর্তমানে বোটটিসহ উদ্ধারকৃত জেলেদের মালিকপক্ষের কাছে হস্তচান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, উপকূলীয় ও সমুদ্র এলাকায় শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের জরুরি উদ্ধার কার্যক্রমে তাদের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।


নির্বাচিত

জনবল সংকটে শ্রীমঙ্গল হাসপাতালে বন্ধ আলট্রাসনোগ্রাফি ও এক্স-রে

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জায়েদ আহমেদ, মৌলভীবাজার

কক্ষের ভেতরে ধুলো জমছে লাখ লাখ টাকা মূল্যের আধুনিক আলট্রাসনোগ্রাফি ও এক্স-রে যন্ত্রপাতিতে। অথচ বাইরে দাঁড়িয়ে অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন রোগীরা। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় লোকবলের অভাবে মাসের পর মাস ধরে বন্ধ রয়েছে মৌলিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা। ফলে উপজেলার চা-শ্রমিক, দিনমজুর ও প্রান্তিক আয়ের মানুষের বাড়তি অর্থ গুনে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে; অর্থাভাবে অনেকে আবার চিকিৎসাও করাতে পারছেন না।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৫০ শয্যার এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে আলট্রাসনোগ্রাফির দুটি সচল মেশিন থাকা সত্ত্বেও কোনো সনোলজিস্ট নেই। ফলে প্রায় তিন মাস ধরে আলট্রাসনোগ্রাফি কক্ষের তালা আর খোলেনি। অন্যদিকে, হাসপাতালে থাকা একমাত্র অ্যানালগ এক্স-রে মেশিনটিও গত জুন থেকে পুরোপুরি অচল। আগে বেসরকারি সংস্থা ‘ব্র্যাক’-এর একটি প্রকল্পের আওতায় একজন টেকনোলজিস্ট সেবা দিলেও প্রকল্পটির মেয়াদ শেষে আর কাউকে পদায়ন করা হয়নি। ফলে জরুরি এসব ডায়াগনস্টিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, চিকিৎসকের কক্ষ থেকে ব্যবস্থাপত্র নিয়ে রোগ নির্ণয় বিভাগে ছুটে গিয়েও খালি হাতে ফিরছেন সেবাগ্রহীতারা। কম খরচে পরীক্ষা করানোর ভরসায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা পড়ছেন চরম বিপাকে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ভুক্তভোগী জলিল মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারি হাসপাতালে আসি যাতে অল্প খরচে টেস্ট করাতে পারি। কিন্তু এখানে মেশিন বন্ধ থাকায় বাইরে ছুটতে হয়। টেস্টের খরচ ছাড়াও যাতায়াতে আলাদা টাকা নষ্ট হয়।

একই অভিজ্ঞতার কথা জানান মেহেরুন বেগম নামের আরেক স্থানীয় বাসিন্দা। তিনি বলেন, শ্রীমঙ্গলের বেশিরভাগ রোগীই দিনমজুর বা চা-বাগানের সীমিত আয়ের মানুষ। সরকারি যন্ত্র যদি পড়ে পচেই যায়, তবে আমাদের মতো গরিব মানুষের লাভ কী? যন্ত্রের চেয়ে আজ লোকবলের অভাবই আমাদের বড় রোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসমিন জানান, জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সনোলজিস্ট ও টেকনোলজিস্ট না থাকায় এবং মেশিনটি অ্যানালগ প্রযুক্তির হওয়ায় রোগীদের সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। হাসপাতালে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকায় সীমিত সামর্থ্য দিয়েই বাকি কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। শূন্যপদে জনবল নিয়োগ এবং একটি ডিজিটাল এক্স-রে মেশিনের চাহিদা জানিয়ে ইতোমধ্যেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন পাঠানো হয়েছে।

সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থার আধুনিকায়নে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও মাঠপর্যায়ে জনবলের সমন্বয়ের অভাবে সেই সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। দ্রুততম সময়ে শ্রীমঙ্গলে প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ ও টেকনোলজিস্ট পদায়নের দাবি স্থানীয়দের।


নির্বাচিত

জামালপুরকে হারিয়ে গোল্ডকাপের সেমিফাইনালে গজারিয়া স্পোর্টিং

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুরে বাখুন্ডা সুজন সংঘের আয়োজনে চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ স্মৃতি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর ২য় কোয়াটার ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উত্তেজনাপূর্ণ এ খেলায় জামালপুর স্পোর্টিং ক্লাবকে ১-০ গোলে হারিয়ে জয় পেয়েছে গজারিয়া স্পোর্টিং ক্লাব। গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ফরিদপুরের বাখুন্ডা মিনি স্টেডিয়ামে এ খেলা অনুষ্ঠিত হয়।

খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ।

টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক শাহ্ শফিকুল আলম (রানু মিয়া) -এর সভাপতিত্বে এ সময় ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ, ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়াল, ফরিদপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক তানভীর চৌধুরী রুবেল, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আরিফুজ্জামান অপু, মহানগর যুবদলের সভাপতি বেনজির আহমেদ তাবরীজ, জেলা সেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শাহরিয়ার হোসেন শিথিল, শহর বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. রেজাউল ইসলাম, কোতোয়ালি থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান চৌধুরী রঞ্জন, মামুনুর রশীদ বাবু, বাখুন্ডা সুজন সংঘের সিনিয়র সহ-সভাপতি নেভি হান্নান, ক্রীড়া সম্পাদক শাওন আহমেদ সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিপুলসংখ্যক ফুটবলপ্রেমী দর্শক উপস্থিত ছিলেন।

খেলায় গজারিয়া স্পোর্টিং ক্লাব ও জামালপুর স্পোর্টিং ক্লাব মুখোমুখি হয়। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় গজারিয়া স্পোর্টিং ক্লাব। নির্ধারিত সময়ের খেলায় ১টি গোল করে শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে গজারিয়া স্পোর্টিং ক্লাব। পরে আমন্ত্রিত অতিথিরা সেরা খেলোয়ার ও গোলদাতাকে পুরস্কৃত করেন।


নির্বাচিত

জনগণের অর্থে অনিয়ম নয়, সুফল পৌঁছে দেওয়াই লক্ষ্য: বিসিসিটি প্রধান 

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
​পিরোজপুর প্রতিনিধি

পিরোজপুর পৌর এলাকায় সুপেয় পানির তীব্র সংকট নিরসন, সৌরবিদ্যুৎ (সোলার) স্ট্রিট লাইট প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়ন এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‎গত ‎​বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে পিরোজপুর সদর পৌরসভা কার্যালয়ে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের (বিসিসিটি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সহ-সম্পাদক কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপু।

‎‎​মতবিনিময় সভায় বিসিসিটি-র ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপু বলেন, ‘পৌরবাসীকে শতভাগ নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলোর সঠিক বাস্তবায়ন তদারকি করতে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের অধীনস্থ কাজগুলো সরজমিনে পরিদর্শন করা হচ্ছে। ইতিপূর্বে পৌরসভায় ১১৩টি সোলার স্ট্রিট লাইট স্থাপনের প্রকল্প অনুমোদন পেলেও তা যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়নি। প্রকল্পটি পুনরায় চালু করে সোলার লাইটগুলোর সুফল যেন সাধারণ মানুষ পায়, সে ব্যাপারে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জনগণের আমানত নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অপচয় সহ্য করা হবে না’। ‎

‎​পৌর এলাকার সুপেয় পানির সংকট নিরসনে তিনি বলেন, উপকূলীয় এই অঞ্চলে পানির সমস্যা দূর করতে কম খরচে মানুষের দোরগোড়ায় পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার জন্য সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ হাতে নেওয়া হয়েছে। এ কাজে ফ্রান্স সরকারের অনুদান প্রকল্পসহ আন্তর্জাতিক যেকোনো সহযোগিতার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ‎

‎​জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় পরিবেশবান্ধব কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, নদী ও খাল পুনঃখনন করে সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক উপায়ে পানির প্রবাহ নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি জলবায়ু সচেতনতা বৃদ্ধিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

‎‎​মতবিনিময় সভায় পিরোজপুর পৌরসভার পৌর প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (ডিডিএলজি) মাহমুদুর রহমান মামুন, পৌরসভার অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ এবং জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

শিবচরে বাস দুর্ঘটনায় নিহত ৩, আহত ১৫

ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বাস। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মাদারীপুরের শিবচরে এক্সপ্রেসওয়েতে বিকল হয়ে থাকা একটি বাসে হানিফ পরিবহনের বাসের ধাক্কায় তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের শিবচরের বাখরেরকান্দি এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

স্থানীয়সূত্রে জানা গেছে, গোপালগঞ্জ থেকে দুপুরে যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয় পালকি পরিবহনের একটি বাস। মাঝপথে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের বাখরেরকান্দি এলাকায় পৌঁছালে বাসটির চাকা বিকল হয়ে যায়। এ সময় দ্রুতগতিতে আসা হানিফ পরিবহনের একটি বাস পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়।

খবর পেয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ভর্তি করেন। দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য ঢাকামুখী লেনে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে শিবচর হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিকেল ৫টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচএম ইবনে মিজান বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে উদ্ধার কাজের জন্য হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।


নির্বাচিত

৭ বছরের শিশুর আঙুল বিচ্ছিন্ন, কনস্টেবল দম্পতি গ্রেপ্তার

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাটোর প্রতিনিধি

নাটোরে বায়েজিদ বিন মাহমুদ নামে সাত বছরের এক শিশুর ডান হাতের শাহাদাত আঙুলের কেটে বিচ্ছিন্ন করার মামলায় পুলিশের এক কনস্টেবল ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে গ্রেপ্তারের পর কঠোর গোপনীয়তায় আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

এলাকাবাসী জানায়, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে নাটোর শহরের বড় হরিশপুর চেয়ারম্যান রোড এলাকায় ব্যাংক কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান মিলনের পরিবার এবং তাদের ভাড়াটিয়া পুলিশ সুপার কার্যালয়ে কর্মরত কনস্টেবল শাকিল হোসেন পারিবারিকভাবে পিকনিকের আয়োজন করে। সেখানে ওই কনস্টেবলের চার বছর বয়সি মেয়ের সঙ্গে বাড়ির মালিক মিলনের ছেলে বায়োজিদের ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে বিষয়টি পারিবারিকভাবে মীমাংসা করা হয়।

পরদিন বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দায়িত্ব পালন শেষে পুলিশ কনস্টেবল শাকিল বাসায় ফিরে শিশু বায়োজিতকে জোর করে তার বাসায় নিয়ে স্ত্রী নাছরিন সুলতানার সহযোগিতায় খাটের পায়ার ওপর হাত রেখে ধারালো বটি দিয়ে শিশুটির ডান হাতের শাহাদাত আঙুল বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। পরে বায়োজিদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে কনস্টেবল শাকিল পরিবারসহ পালিয়ে যায়। এরপর শিশু বায়োজিতকে প্রথমে নাটোর জেনারেল হাসপাতাল পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সদর থানার ওসি মনসুর রহমান জানান, মামলা দায়েরের পর কনস্টেবল শাকিল ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। শিশুদের কর্মকাণ্ড নিয়ে বড়দের প্রতিক্রিয়ার বিষয়টিকে পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। অন্যদিকে মৌখিকভাবে ওই কনস্টেবল অভিযোগ করে জানান, বায়োজিত তার মেয়েকে যৌন নিপীড়ন করেছে। তবে তার এই অভিযোগে সত্যতা মেলেনি। কোন মামলাও দায়ের হয়নি।


নির্বাচিত

হাঁসের পালকেই কর্মসংস্থান, রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনা

* আক্কেলপুরের হাঁসের পালক যাচ্ছে বিদেশেও
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাব্বিউল হাসান রমি, জয়পুরহাট

একসময় হাঁসের পালক ছিল মানুষের কাছে নিছক ফেলনা। হাঁসের পালক সংগ্রহ করে সাধারণত তা ফেলে দেওয়া হতো। সেই অবহেলিত পালকই এখন হয়ে উঠেছে সম্ভাবনাময় শিল্পের কাঁচামাল। জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুর বাজারে হাঁসের পালক সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে তৈরি করা হচ্ছে ডাউন বা পালকের তুলা। এই তুলা দিয়ে তৈরি হচ্ছে শীতের জ্যাকেট, কম্বল, পিলোসহ বিভিন্ন পণ্য। আর পালকের বড় অংশ দিয়ে তৈরি হচ্ছে ব্যাডমিন্টনের ফেদারের কক।

তিলকপুর বাজারে গড়ে ওঠা ‘শারাবাংলা ডাউন প্রোডাক্টস’ নামের প্রতিষ্ঠানটি দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মাসে গড়ে ২২ টন হাঁসের পালক সংগ্রহ করছে। প্রক্রিয়াজাত করা এসব পালক চীন, ভিয়েতনাম, তাইওয়ানসহ বিভিন্ন দেশে পাঠানো হচ্ছে।

উদ্যোক্তার ভাষ্য, বিদেশে এসব পণ্যের চাহিদা থাকায় ছোট পরিসরের এই উদ্যোগকে বড় শিল্পে রূপ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক উদ্যোক্তা মো. আলতাফ হোসেন জানান, বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ রয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মাসে গড়ে ২২ টন হাঁসের পালক সংগ্রহ করা হয়। পরে চীন থেকে আনা বিশেষায়িত মেশিনের মাধ্যমে পালক বাছাই, পরিষ্কার ও বিভিন্ন ধাপে প্রক্রিয়াজাত করে ডাউন বা পালকের তুলা তৈরি করা হয়।

তিনি বলেন, ২০১৪-১৫ সালে ছোট পরিসরে হাঁসের পালক নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। এ বিষয়ে অভিজ্ঞতা না থাকায় তখন কাঙ্ক্ষিত লাভ করতে পারেননি। পরে ২০১৫ সালে চীনে গিয়ে এ বিষয়ে পড়াশোনা করেন এবং এক বছর ইন্টার্নশিপ করেন। সেখানে হাঁসের পালক সংগ্রহ, বাছাই ও প্রক্রিয়াজাতকরণের বিষয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। দেশে ফিরে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ২০২২ সালে নতুনভাবে ব্যবসা শুরু করেন।

আলতাফ হোসেন বলেন, আগে মানুষ হাঁসের পালক ফেলে দিত। ব্যবসা শুরুর পর বিভিন্নভাবে প্রচার করে মানুষকে পালকের মূল্য সম্পর্কে জানানো হয়। এখন অনেকেই পালক ফেলে না দিয়ে সংগ্রহ করে রাখেন এবং বিক্রি করেন। সারাদেশে তাদের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০টি ভেন্ডার রয়েছে। শুরুতে পালক প্রক্রিয়াজাত করে বিদেশে পাঠাতে বেশ সময় লাগত। পরে চীন থেকে বিশেষায়িত মেশিন আনা হয়। এতে প্রক্রিয়াজাতকরণের মান ও সক্ষমতা বেড়েছে। বর্তমানে চীন, ভিয়েতনাম ও তাইওয়ানে পণ্য পাঠানো হচ্ছে। চীন, রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে এসব পণ্যের চাহিদা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

আলতাফ হোসেন বলেন, পুরো প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আরও ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। তখন এই পালকের তুলা দিয়ে দেশেই জ্যাকেট, পিলো ও কম্বল তৈরি করে বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হবে। শীতপ্রধান দেশগুলোতে এসব পণ্যের চাহিদা বেশি।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে গার্মেন্টস শিল্পের বড় বাজার রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা ও অবকাঠামো কাজে লাগিয়ে দেশে হাঁসের পালকের ডাউন দিয়ে জ্যাকেট, পিলো ও কম্বল তৈরি করে বিদেশে রপ্তানি করা গেলে এ খাত আরও সম্প্রসারিত হতে পারে। পাশাপাশি হাঁসের বড় পালক দিয়ে ব্যাডমিন্টনের ফেদারের কক তৈরি করা যায়। এসব পালক প্রক্রিয়াজাত করে ভারতে পাঠানো হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, কয়েক বছর আগেও হাঁসের পালক ফেলে দেওয়া হতো। এখন পালকের আর্থিক মূল্য তৈরি হওয়ায় গ্রামাঞ্চলের অনেকেই সেগুলো সংরক্ষণ করে বিক্রি করছেন। ফলে একদিকে বর্জ্য হিসেবে ফেলে দেওয়া একটি উপাদান অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হচ্ছে, অন্যদিকে হাঁস পালনের সঙ্গে জড়িত মানুষ অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন।

প্রথমে বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা পালক শুকিয়ে নেওয়া হয়। এরপর মেশিনের মাধ্যমে বাছাই ও পরিষ্কার করে বিভিন্ন ধাপে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী পালকের বিভিন্ন অংশ আলাদা করে ডাউন বা তুলা এবং ফেদার প্রস্তুত করা হয়।

প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে নারী-পুরুষ মিলিয়ে ১৬ জন কর্মী নিয়মিত কাজ করছেন। তাদের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দারাও রয়েছেন। ফলে হাঁসের পালককে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানের নারী কর্মী মিমি আক্তার বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে এখানে কাজ করছি। এখান থেকে যে বেতন পাই, তা দিয়ে সংসার চলছে। পাশাপাশি সন্তানদের লেখাপড়ার খরচও চালাতে পারছি।

পুরুষ কর্মী সোহেল রানা বলেন, সারাদেশ থেকে হাঁসের পালক সংগ্রহ করে এখানে আনা হয়। প্রথমে সেগুলো শুকানো হয়। এরপর মেশিনে দিয়ে প্রক্রিয়াজাত করে প্রয়োজনীয় অংশ আলাদা করা হয়। পরে আবার শুকিয়ে প্রস্তুত করা হয়। আমার বাবা আগে এই কাজ করতেন, পরে আমি তার সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করছি।

আক্কেলপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আমিরুল ইসলাম বলেন, প্রতিষ্ঠানটি সারাদেশ থেকে হাঁসের পালক সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াজাত করে চীন ও ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশে পাঠাচ্ছে। তাদের সারাদেশে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০টি ভেন্ডার রয়েছে। আগে মানুষ হাঁসের পালক ফেলে দিত। এখন তারা সেগুলো সংরক্ষণ করে বিক্রি করছেন।

তিনি আরও বলেন, হাঁসের পালককে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করার ফলে হাঁস পালনের সঙ্গে যুক্ত মানুষ অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন। একই সঙ্গে হাঁস পালনে আগ্রহও বাড়তে পারে। এ ধরনের উদ্যোগের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা রয়েছে।


নির্বাচিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫০০ কাবের অংশগ্রহণে ৬ষ্ঠ জেলা কাব ক্যাম্পুরী

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আব্দুর রব নাহিদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রায় ৫০০ কাবের অংশগ্রহণে শুরু হয়েছে ৬ষ্ঠ জেলা কাব ক্যাম্পুরী ২০২৬। পাঁচ দিনের এ আয়োজনে আনন্দ নিয়েই কাবরা শিখছে দলবদ্ধভাবে কাজ করা, দায়িত্ববোধ, সৃজনশীলতা, শৃঙ্খলা এবং প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার নানা কৌশল।

গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) থেকেই জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কাবরা আসতে শুরু করে নামোশংকরবাটি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের এক দিন আগেই তারা নিজেদের থাকার পরিসর তৈরি করে নেয়। তাঁবু স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির কাজও তারা নিজেরাই দলবদ্ধভাবে সম্পন্ন করে। এ প্রস্তুতি শুধু ক্যাম্পে থাকার ব্যবস্থা নয়, স্কাউটিং শিক্ষারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নিজেদের কাজ নিজেরা করার মাধ্যমে কাবরা শিখছে দায়িত্ব নেওয়া, একে অন্যকে সহযোগিতা করা এবং দলবদ্ধভাবে কাজ করা।

ক্যাম্পুরীর শুরু থেকেই কিছুটা বৈরী আবহাওয়া, বৃষ্টি ও অপরিচিত পরিবেশে কয়েক দিন অবস্থান তাদের শেখাচ্ছে পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার বাস্তব অভিজ্ঞতা। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হয় ৬ষ্ঠ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কাব ক্যাম্পুরী ২০২৬।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক আবু সালেহ মো. মুসা জঙ্গী। সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফ আফজাল রাজন। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ কে এম ওয়াসিম ফিরোজ, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মতিন, অতিরিক্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুর রাজ্জাক এবং বাংলাদেশ স্কাউটস রাজশাহী অঞ্চলের সহকারী পরিচালক জান্নাতুল ফেরদৌস। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা স্কাউটসের সম্পাদক মোহাম্মদ মারুফুল হক।

১২ ‘উৎসবে’ শেখা ও আনন্দ : কাবদের কাছে ক্যাম্পুরীর প্রতিটি চ্যালেঞ্জকে আকর্ষণীয় ও উপভোগ্য করে তুলতে প্রতিটি কার্যক্রমের নাম দেওয়া হয়েছে ‘উৎসব’। এবারের ক্যাম্পুরীতে রয়েছে মোট ১২টি উৎসব—‘সুস্থ থাকি’, ‘নিজের বাড়ি নিজে সাজাই’, ‘মেতে উঠি উল্লাসে’, ‘জ্ঞানের আলো’, ‘স্বপ্ন’, ‘বাঁচতে হলে জানতে হবে’, ‘রং এ ঢং এ সাজি’, ‘বন্ধু গড়ি’, ‘শান্তি ও সম্প্রীতি’, ‘সৃষ্টির উল্লাসে’, ‘গুপ্ত ধনের সন্ধানে’ ও ‘তাঁবু জলসা’।

এর মধ্যে উৎসব-২, ৪, ১০ ও ১২ প্রতিযোগিতামূলক। অন্য উৎসবগুলো অংশগ্রহণমূলক। কোথাও কাবরা নিজেদের সৃজনশীলতা প্রকাশ করছে, কোথাও জ্ঞান ও দক্ষতার চর্চা করছে। আবার কোনো আয়োজনে দলবদ্ধভাবে কাজ করে তৈরি করছে বন্ধুত্ব ও সম্প্রীতির বন্ধন।

আজ শনিবার মহা তাঁবু জলসা ও ক্যাম্প ফায়ারের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হবে পাঁচ দিনের এ আয়োজন । তবে, সমাপনী হলেও শেষ হচ্ছে না কাবদের একসঙ্গে থাকা। তারা সেদিন রাতে ভেন্যুতেই রাত্রিযাপন করবে। এরপর রবিবার ফিরে যাবে নিজ নিজ বিদ্যালয়ে পাঁচ দিনের স্মৃতি নিয়ে।


নির্বাচিত

মমেকে ডেঙ্গুর ভয়াবহ ছোবল, ২৪ দিনে ১৩ জনের মৃত্যু

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সারোয়ার জাহান জুয়েল, ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহে ডেঙ্গুর প্রকোপ দ্রুত বাড়ছে। পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে। চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৪ দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এ হাসপাতালে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ২৫১ জন।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে মমেক হাসপাতালের ডেঙ্গু সামারিতে প্রকাশিত তথ্য থেকে এ চিত্র পাওয়া গেছে।

হাসপাতালের তথ্যানুযায়ী, সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৪ দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নেওয়া ১ হাজার ২৫১ জনের মধ্যে ৮১৫ জন পুরুষ, ৩৭৫ জন নারী ও ৬১ জন শিশু। একই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সর্বশেষ মারা যাওয়া রোগী খেলন সরকার (৬৫)। তিনি ময়মনসিংহ নগরীর রামবাবু রোড এলাকার নরেন্দ্র সরকারের স্ত্রী। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গত ২১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিনি মমেক হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসা অবস্থায় ২৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় মমেক হাসপাতালে নতুন করে ৫৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ৭৬ জন ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।

বর্তমানে মমেক হাসপাতালে ১৩০ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৯২ জন পুরুষ, ৩৮ জন নারী ও ১০ জন শিশু।

হাসপাতালের পরিসংখ্যান আরও বলছে, চলতি বছরের শুরু থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মমেক হাসপাতালে মোট ২ হাজার ৭০৬ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এ সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২৩ জন।

ডেঙ্গুর এই ঊর্ধ্বমুখী পরিস্থিতিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। মমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মাইন উদ্দিন বলেন, ‘ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। ভর্তি রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন।’ পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।


নির্বাচিত

৯ লাখ টাকায় আপস, সেই কিশোর গেল সংশোধনাগারে

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক     

রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনে ফুটপাতে বিশ্রাম নেওয়ার সময় গাড়িচাপায় নির্মাণ শ্রমিক মেহেদী হাসান মীমের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার কিশোরকে সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার শিশু আদালত-৮-এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদির তাকে সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ওই কিশোরকে আদালতে হাজির করে গুলশান থানা-পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার এসআই মো. আরেফিন ইসলাম তাকে সংশোধনাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অন্যদিকে তার পক্ষে অ্যাডভোকেট মো. আলমগীর হোসেন জামিনের আবেদন করেন।

জামিন আবেদনে বলা হয়, এই কিশোর গাড়িতে ড্রাইভারের পাশের আসনে বসা ছিল। নিহত মেহেদী একজন শ্রবণ ও বাকপ্রতিবন্ধী ছিলেন। তাকে হর্ন বাজানো সত্ত্বেও দ্রুত সরে যেতে না পারায় দুর্ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ঘটে যায়।

আবেদনে আরও বলা হয়, স্থানীয়ভাবে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে কিশোরের পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষকে নগদ ৯ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়, মামলাটি তদন্তকালে ঘটনাস্থলসহ আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, ঘটনার পরপরই প্রাইভেটকারের ডান পাশের ড্রাইভিং সিটের দরজা খুলে কিশোরকে বের হতে দেখা যায়। তদন্তকালে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যাচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তাই মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে আটক রাখার আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাকে জামিন না দিয়ে সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মেহেদীর মৃত্যুর ঘটনায় তার বড় ভাই মোক্তাদীর ইসলাম বাদী হয়ে গত বুধবার রাজধানীর গুলশান থানায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলা করেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, বেপরোয়াভাবে প্রাইভেটকার চালিয়ে তার ভাইকে গাড়িচাপা দিয়ে গুরুতর আহত করেন এবং এতে তার মৃত্যু ঘটে। মামলার এজাহারে গাড়িচালক হিসেবে আকাশ মারক নামে একজনকে আসামি করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দ্রুতগতির একটি প্রাইভেটকার ফুটপাতে বসে থাকা মেহেদীকে চাপা দিয়ে দুটি ল্যাম্প পোস্টে ধাক্কা দেয়। পরে পথচারী ও নির্মাণ শ্রমিকরা গাড়িটি তুলে তাকে উদ্ধার করেন। পুলিশ তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওই কিশোরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।


নির্বাচিত

মাদক-জুয়া ঠেকাতে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটি

* নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য * নজরদারি ও সচেতনতার ওপর গুরুত্ব
ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কিশোর-তরুণদের মধ্যে মাদকাসক্তির ঝুঁকি এবং অনলাইন জুয়া ও বেটিংয়ের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদক ও জুয়া প্রতিরোধ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। শিক্ষার্থীদের মাদক ও জুয়ার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দূরে রাখা, সচেতনতা বাড়ানো এবং নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সল হাসান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদক ও জুয়া প্রতিরোধে কমিটি গঠন করা হবে। তবে কমিটি কবে নাগাদ গঠন করা হবে, সদস্য কাঠামো কী হবে এবং কমিটির সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব ও কার্যপরিধি কী থাকবে—এসব বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

মাদক নিয়ে আগের উদ্যোগ: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী সচেতনতা তৈরিতে অবশ্য এটি সরকারের প্রথম উদ্যোগ নয়। শিক্ষার্থীদের মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করতে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) বিভিন্ন সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী আলোচনা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে। ২০২৪ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় সংগীতের পর নিয়মিত মাদকবিরোধী সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। ২০২৫ সালেও মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদকের কুফল নিয়ে ডকুমেন্টারি ও থিম সং প্রদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এসব উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরা এবং মাদকবিরোধী সামাজিক সচেতনতা তৈরি করা। এবার কমিটি গঠনের মাধ্যমে এ ধরনের কার্যক্রমকে আরও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ও নিয়মিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

জুয়া নিয়ে নতুন বাস্তবতা: মাদক প্রতিরোধের পাশাপাশি এবার জুয়াকেও একই প্রতিরোধ কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে। বিশেষ করে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে অনলাইন জুয়া ও বেটিংয়ের সুযোগ সহজলভ্য হওয়ায় বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।

চলতি বছর জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬ কার্যকর হয়েছে। নতুন আইনে প্রচলিত জুয়ার পাশাপাশি অনলাইন জুয়া ও অনলাইন বেটিংকে অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে জুয়ার ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে প্রচার কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

আইনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জুয়ার কুফল সম্পর্কে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওপর দেওয়া হয়েছে। আর জুয়া প্রতিরোধে আইন প্রয়োগ, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও নীতিগত নির্দেশনার ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব রয়েছে।

নজরদারি ও সচেতনতার ওপর গুরুত্ব: নতুন কমিটি গঠনের ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদক ও জুয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা, শিক্ষার্থী-শিক্ষক-অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে শুধু কমিটি গঠন করলেই এ উদ্যোগ কার্যকর হবে না। নিয়মিত সভা ও কর্মসূচি, শিক্ষার্থীদের কাউন্সেলিং, অভিভাবকদের সম্পৃক্ততা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার সহযোগিতা নিশ্চিত করা জরুরি।

এখন কমিটিগুলোর সদস্য কাঠামো, দায়িত্ব, কার্যপরিধি এবং গঠনের সময়সীমা নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষা। এসব নির্দেশনা এবং মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের ওপরই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক এ উদ্যোগের কার্যকারিতা অনেকটা নির্ভর করবে।


নির্বাচিত

ককটেল ফাটিয়ে ভিডিও পাঠালেই মেলে অর্থ

* ককটেল ফাটালে ৫ হাজার, ভিডিও পাঠালে ১০ হাজার টাকা * নেটওয়ার্ক শনাক্তে পুলিশের নজরদারি * যাত্রাবাড়ী-কমলাপুরে গ্রেপ্তার * ভারতীয় নাগরিক রিমান্ডে
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীতে সাম্প্রতিক ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নাশকতার নতুন কৌশলের তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পুলিশের ভাষ্য, ককটেল বা হাতবোমা বিস্ফোরণের পর ঘটনার ভিডিও ধারণ করে নির্দিষ্ট হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠালে মাঠপর্যায়ের ব্যক্তিদের ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। এসব নির্দেশনা ভারতীয় নম্বর ব্যবহার করে খোলা হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট থেকে আসছে বলে তদন্তে তথ্য পেয়েছে ডিবি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সাম্প্রতিক নাশকতার ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং তাদের মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস বিশ্লেষণ করে যোগাযোগ ও অর্থ লেনদেনের এ পদ্ধতির তথ্য পাওয়া গেছে। তবে ভারতীয় নম্বর ব্যবহার করা হলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ভারত থেকে যোগাযোগ করছেন—এমনটি নিশ্চিত নয়। প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যবহারকারীর অবস্থান নিশ্চিত করতে আরও তথ্য যাচাই প্রয়োজন।

ভিডিও পাঠালেই অর্থ: ডিবির তথ্যানুযায়ী, নাশকতায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের শুধু ককটেল বিস্ফোরণ ঘটালেই হচ্ছে না; ঘটনার ভিডিও ধারণ করে নির্ধারিত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠাতে বলা হচ্ছে। ভিডিও পাওয়ার পর মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে অর্থ পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয় বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।

পুলিশের দাবি, নাশকতার কাজে একেকজনকে একেক ধরনের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। কেউ ককটেল বা হাতবোমা সরবরাহ করছে, কেউ বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে, আবার কেউ ভিডিও ধারণ ও যোগাযোগের দায়িত্ব পালন করছে। ককটেল তৈরির জন্যও আলাদা নেটওয়ার্ক থাকার তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা।

ডিবি জানিয়েছে, নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড ও রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় ককটেল তৈরির কথিত গোপন স্থাপনার সন্ধান পাওয়া গেছে। এসব স্থানে কারা বিস্ফোরক তৈরি করত এবং তাদের সঙ্গে নাশকতার অন্য অংশের যোগাযোগ কীভাবে ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

যাত্রাবাড়ীতে চারজন গ্রেপ্তার: গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে যাত্রাবাড়ী থানার সামনে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় রায়হান উদ্দিন, রাসেল খান, আলা উদ্দিন ও আবদুল্লাহ নামে চারজনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। ওই ঘটনায় এক অটোরিকশাচালক আহত হন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লালবাগ এলাকা থেকে চারটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। একই দিন দক্ষিণ দনিয়া কাঁচাবাজার এলাকা থেকেও ১০টি হাতবোমা উদ্ধারের দাবি করেছে পুলিশ।

ডিবির ভাষ্য, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনে রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ সংগঠনের পলাতক নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। জিজ্ঞাসাবাদে রায়হান যাত্রাবাড়ীতে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাব্বির হোসেনের নির্দেশনার কথা বলেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে এসব যোগাযোগের প্রকৃতি এবং নাশকতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্ত করে যাচাই করা হচ্ছে।

কমলাপুরেও ককটেল বিস্ফোরণ: ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে কমলাপুর রেলস্টেশনের দুই নম্বর প্ল্যাটফর্মে পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সাখাওয়াত হোসেন রায়হান ও মোহাম্মদ সানমুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। একই ঘটনায় আরও কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে ডিবি।

এর আগে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে বোমাবাজির ঘটনায় সালমান ইসলাম সাকিব ওরফে আসিফ নামে একজনকে মোটরসাইকেল ও ককটেলসহ গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

ভারতীয় নাগরিক রিমান্ডে: নাশকতার পরিকল্পনায় সম্পৃক্ততার সন্দেহে রবিউল ইসলাম নামে এক ভারতীয় নাগরিককে রাজধানীর উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবির রমনা জোনাল টিম। ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে গত বুধবার তাকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন আদালত।

ডিবির রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, রবিউল ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশে অবস্থান করছিলেন। তার পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্ম তারিখের অমিল রয়েছে এবং বাংলাদেশে আসার কারণ নিয়েও তিনি বিভিন্ন সময় ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন বলে পুলিশ দাবি করেছে। সাম্প্রতিক নাশকতায় তার সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তবে রবিউল আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের কাছে নাশকতায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

অন্যদিকে বাস পোড়ানো ও বোমাবাজির সমন্বয়ের অভিযোগে কক্সবাজার থেকে ডেমরা থানা মৎস্যজীবী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সবুজকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

ভারতীয় নম্বর মানেই ভারত থেকে যোগাযোগ নয়: তদন্তে ভারতীয় নম্বরের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেলেও এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীর অবস্থান নিশ্চিত করা যায় না বলে সতর্ক করেছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির। তার মতে, রোমিং সুবিধা বা ইন্টারনেট ব্যবহার করে বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকে এসব অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করা সম্ভব। ফলে নম্বরের দেশ কোডের ভিত্তিতে যোগাযোগকারী ব্যক্তি ভারতে অবস্থান করছেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে প্রযুক্তিগতভাবে আরও তথ্য যাচাই প্রয়োজন।

নেটওয়ার্ক শনাক্তে নজরদারি: ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগের পর রাজধানীর বিভিন্ন প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তল্লাশি ও নজরদারি বাড়িয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসানোর পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোন এবং ডিজিটাল যোগাযোগ বিশ্লেষণ করে নাশকতার নেটওয়ার্ক শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

ডিবির কর্মকর্তারা বলছেন, মাঠপর্যায়ের সদস্যদের পাশাপাশি অর্থদাতা, সমন্বয়কারী ও নির্দেশদাতাদের শনাক্ত করাই তদন্তের অন্যতম লক্ষ্য। নাশকতার সঙ্গে কার কী ভূমিকা ছিল, অর্থের উৎস কী এবং বিভিন্ন ব্যক্তির মধ্যে যোগাযোগ কীভাবে হয়েছে—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত গ্রেপ্তার ব্যক্তি বা সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে না। অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।


নির্বাচিত

বিশ্ব মেরিটাইম দিবস ২০২৬ উপলক্ষে সিইউবিতে আন্তর্জাতিক সেমিনার ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত

বিশ্ব মেরিটাইম দিবস ২০২৬ উপলক্ষে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (সিইউবি) শিপিং অ্যান্ড মেরিটাইম সায়েন্স (এসএমএস) বিভাগের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক সেমিনার, ‘ম্যাপ মেরিটাইম’ কুইজ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে দেশের মেরিটাইম খাতের অভিজ্ঞ পেশাজীবী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিশ্ব মেরিটাইম দিবস ২০২৬ উপলক্ষে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (সিইউবি) শিপিং অ্যান্ড মেরিটাইম সায়েন্স (এসএমএস) বিভাগের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক সেমিনার, ‘ম্যাপ মেরিটাইম’ কুইজ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

‘From Policy to Practice: Powering Maritime Excellence’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেশের মেরিটাইম খাতের অভিজ্ঞ পেশাজীবী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে মেরিটাইম খাতের নীতি, বাস্তব অভিজ্ঞতা, নিরাপত্তা, শিক্ষা, পেশাগত দক্ষতা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত। বিশ্ব মেরিটাইম দিবস উপলক্ষে এ আয়োজনের জন্য শিপিং অ্যান্ড মেরিটাইম সায়েন্স বিভাগকে তিনি অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান মেরিটাইম খাতে অবদান রাখতে দক্ষ, জ্ঞানসমৃদ্ধ ও দায়িত্বশীল গ্র্যাজুয়েট তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্য দেন সিইউবির উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক এ. এস. এম. সিরাজুল হক। তিনি পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক মেরিটাইম শিল্পের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করতে মেরিটাইম শিক্ষা, ব্যবহারিক জ্ঞান, উদ্ভাবন এবং শিল্প খাতভিত্তিক শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং মেরিটাইম খাত সম্পর্কে জ্ঞান আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান।

সেমিনারে বাংলাদেশের নৌপরিবহন অধিদপ্তরের নটিক্যাল সার্ভেয়ার অ্যান্ড এক্সামিনার ক্যাপ্টেন কাজী মুহাম্মদ আহসান মেরিটাইম নিরাপত্তা, জাহাজ পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রক বিধিবিধান অনুসরণের বিভিন্ন ব্যবহারিক দিক তুলে ধরেন। তিনি পেশাগত দক্ষতা, নিরাপত্তা সচেতনতা এবং আন্তর্জাতিক মেরিটাইম মান অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেন।

মার্কেন্টাইল শিপিং লাইনস লিমিটেডের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার (শিপিং অ্যান্ড চার্টারিং), মাস্টার মেরিনার (ইউ.কে.) ও এমএনআই (লন্ডন) ক্যাপ্টেন আমান উল্লাহ চৌধুরী শিপিং শিল্পের বাস্তবতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সঙ্গে পেশাগত অভিজ্ঞতার সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন। বৈশ্বিক শিপিং ও চার্টারিং শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী নিজেদের প্রস্তুত করতে তিনি শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেন।

ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম একাডেমির কমান্ড্যান্ট এবং দ্য নটিক্যাল ইনস্টিটিউট, ঢাকা ব্রাঞ্চের অনারারি সেক্রেটারি ক্যাপ্টেন সুব্রত কুমার সাহা, এএফএনআই মেরিটাইম শিক্ষা, পেশাগত উন্নয়ন, ধারাবাহিক শিক্ষা, নেতৃত্ব ও পেশাগত নৈতিকতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। সফল মেরিটাইম ক্যারিয়ারের জন্য শিক্ষার্থীদের শক্তিশালী কারিগরি ও পেশাগত দক্ষতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিইউবির শিপিং অ্যান্ড মেরিটাইম সায়েন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন মো. নাসির উদ্দিন। তিনি অতিথি ও বক্তাদের স্বাগত জানান এবং শিক্ষার্থীদের শিল্প খাতভিত্তিক মেরিটাইম শিক্ষা ও অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের সঙ্গে সরাসরি জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ তৈরিতে বিভাগের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিন, স্কুল অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রধান, রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, আমন্ত্রিত অতিথি এবং মেরিটাইম খাতের প্রতিনিধিরা।

আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘ম্যাপ মেরিটাইম’ কুইজ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী। প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সামুদ্রিক ভূগোল, সমুদ্রবন্দর, শিপিং ও মেরিটাইম বাণিজ্য, অভ্যন্তরীণ নৌপথ, নদীপথে পরিবহন এবং মেরিটাইমবিষয়ক জ্ঞানের ওপর শিক্ষার্থীরা তাদের দক্ষতা প্রদর্শন করেন।

প্রতিযোগিতায় সেরা পাঁচ প্রতিযোগীকে তাদের কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ সার্টিফিকেট অব অ্যাচিভমেন্ট ও স্মারক ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ ও গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে অতিথি ও বক্তাদের সিইউবির পক্ষ থেকে স্মারক ক্রেস্ট ও উপহার দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বিশ্ব মেরিটাইম দিবস ২০২৬ উদ্যাপন উপলক্ষে কেক কাটা হয়। এতে প্রধান অতিথি, বক্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশ নেন।

আয়োজকরা জানান, এ আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা অভিজ্ঞ মেরিটাইম পেশাজীবীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়, বাস্তব অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ধারণা লাভ এবং শিপিং ও মেরিটাইম শিল্পের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে জানার সুযোগ পেয়েছেন।


নির্বাচিত

banner close