মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬
২০ শ্রাবণ ১৪৩৩

ঈদের ছুটিতে সুন্দরবনে পর্যটকদের ঢল

ছবি: দৈনিক বাংলা
মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশিত
মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১২ এপ্রিল, ২০২৪ ১৬:৫১

ঈদের ছুটিতে সুন্দরবনে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। ঈদের দিন গতকাল ঈদের দিনের তুলনায় আজ শুক্রবার কয়েকগুণ বেশি পর্যটনের আগমন ঘটেছে সুন্দরবনে। ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে দেশের দূরদূরান্ত থেকে বন্ধু-বান্ধব ও পরিবারসহ সেখানে ছুটে যাচ্ছেন। আগামী ছুটির দিনগুলোতে আরও বেশি পর্যটক বাড়বে বিশ্বখ্যাত ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবনে। ঈদের দিন শুধু বনের করমজল পর্যটন স্পটে সহস্রাধিক লোক হলেও পরদি আড়াই হাজারের মত দর্শনার্থী ভ্রমণে যায়।

দেশের যেকোন জায়গা থেকে মোংলায় আসার পর মোংলা থেকে সবচেয়ে কাছাকাছি ও আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র করমজলেই ভিড় সবচেয়ে বেশি ভ্রমণপিয়াসীদের। এছাড়াও বনের হাড়বাড়ীয়া, কটকা, কচিখালী ও আন্ধারমানিকসহ অন্যান্য স্পষ্টে ঢল নেমেছে পর্যটকদের। এই ছুটিতে বড় বড় বিলাসবহুল লঞ্চে সুন্দরবন ভ্রমণ করছেন নানা দেশের নানা বয়সী পর্যটকেরা। সুন্দরবন ঘুরতে আসা রাজশাহীর শিক্ষার্থী শামসুননাহার ডারিন ও মিজানুর রহমান মিজু বলেন, এর আগে কখনও সুন্দরবনে আসা হয়নি, এবারই প্রথম এসেছি। না আসলে বুঝাই অসম্ভব সুন্দরবন আসলেই কতো সুন্দর। খুব ভাল লাগছে, বন্ধু-বান্ধব মিলে ভীষণ আনন্দ করছি।

সিলেটের মাদ্রাসা শিক্ষক হাফেজ মাওলানা মিজবাহ উদ্দীন ও গার্মেন্টস ব্যবসায়ী অলিপ গোলদার বলেন, সুন্দবনে এসে হরিণ, কুমির, বানর, কচ্ছপ দেখলাম। সুউচ্চ ওয়াচ টাওয়ারের উপর থেকে ছাতার মত বিস্তৃত বনের বিভিন্ন গাছপালা দেখে প্রাণ ভরে গেছে। কি সবুজ সজিব শীতল পরিবেশ, মনে হয় নির্মল এক অক্সিজেনের কারখানায় এসেছি।

ঢাকা থেকে পরিবারসহ মোস্তফা জামান তার পরিবার নিয়ে সুন্দরবন ভ্রমণে এসে বলেন, দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছি। কিন্তু সুন্দবনের মতো এতো আনন্দ উপভোগ করতে পরিবারকে আগে কখনও দেখিনি। যত দেখছি ততোই মন জুড়াচ্ছে, ভাবছি এতোদিনে কেন আসলাম না। আমি বলবো যারা সুন্দরবনে আসেননি তারা সুন্দরের সৌন্দর্য থেকে বঞ্চিত রয়ে গেছেন, যেমন আগে আমরাও ছিলাম।

কুয়েট শিক্ষার্থী আবির হোসেন বলেন, সুন্দরবনের যে বিশাল সম্পদ রয়েছে তার সুষ্ঠু ব্যবহার করা গেলে তাতে উপকূলের মানুষের মঙ্গল হবে, তাতে কোন সন্দেহ নেই। তবে ঘুরতে এসে বনবিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সর্বাত্মক সহায়তা প্রদাণের বিষয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের করমজল পর্যটন ও বন্যপ্রাণী পর্যটন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আজাদ কবির বলেন, সুন্দরবনের এবারের ঈদের ছুটিতে পর্যটকের আগমনের সংখ্যা বিগত সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। তাই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ছুটির দিনেও পর্যটকদের নিরলসভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তারা। এদিকে হঠাৎ এবারের ঈদে পর্যটকদের আগমন বিগত সময়ের চেয়ে বেশি হওয়ার কারণ হিসেবে টানা ৫দিনের ছুটি ও বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি শান্ত থাকার বিষয়টি বলে মনে করছেন বনবিভাগ।


খুলনায় নৌযান শুমারি বিষয়ক জেলা পর্যায়ে অবহিতকরণ সভা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

দেশের সমুদ্রগামী, উপকূলীয় এবং অভ্যন্তরীণ জলসীমানায় চলাচলকারী ইঞ্জিনচালিত সকল নৌযানের ডাটাবেইজ প্রবর্তনের লক্ষ্যে নৌপরিবহন অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) যৌথ উদ্যোগে দেশে প্রথমবারের মতো আগামী ২০ থেকে ২৯ আগস্ট সময়ে নৌযান শুমারি, ২০২৬ পরিচালিত হবে।

এ উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে নৌযান শুমারি উপলক্ষ্যে জেলা পর্যায়ে নৌযান সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত। নৌযান শুমারির এবারের প্রতিপাদ্য ‘নৌযান শুমারি সফল করি, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ি’।

প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক বলেন, সকল শুমারিতে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। শুমারির মাধ্যমে জেলে ও নৌ-শ্রমিকদের ঝুঁকি, চ্যালেঞ্জ ও বাস্তব পরিস্থিতি চিহ্নিত করা যাবে। দেশে প্রথমবারের মতো নৌযান শুমারি শুরু হতে যাচ্ছে। তাই নির্ভয়ে সঠিক তথ্য প্রদান করে দেশের এ গুরুত্বপূর্ণ কাজে সকলের সহযোগিতা করা প্রয়োজন।

খুলনা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিতান কুমার মন্ডলের সভাপতিত্বে অবহিতকরণ সভায় মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেলা পরিসংখ্যান দপ্তরের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো: আইয়ুব হোসেন। সভায় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, নৌপরিবহন মালিক গ্রুপ, ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন, নৌ-সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

নৌযান শুমারি, ২০২৬ এর উদ্দেশ্য নৌপরিবহন খাতে নৌযানের নিরাপত্তা, দুর্ঘটনা হ্রাস, নৌপরিবহন খাতে নিয়োজিত জনবলের জীবনমান এবং নৌপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি সমন্বিত ডাটাবেজ তৈরি করা। বাংলাদেশে সমুদ্রগামী, উপকূলীয় এবং অভ্যন্তরীণ জলসীমায় চলাচলকারী ইঞ্জিনচালিত সকল নৌযান বা ইঞ্জিনচালিত নয়, তবে অন্য কোন যন্ত্রচালিত নৌযান দ্বারা টেনে বা ধাক্কায় চালিত হয়, এরূপ নৌযানসমূহের ডাটাবেজ প্রণয়নের লক্ষ্যে নৌযান শুমারি পরিচালনা করা এবং নৌপরিবহন খাতের উন্নয়ন ও পরিকল্পনার জন্য প্রয়োজনীয় পরিসংখ্যানিক তথ্য নিশ্চিত করা।

নৌযান শুমারির গুরুত্ব হলো, সরকারি-বেসরকারি কোন দপ্তর/প্রতিষ্ঠানের নিকট অভ্যন্তরীণ নৌযানের কোন নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান না থাকা; নৌযানের নিরাপত্তা, দুর্ঘটনা হ্রাসে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, নৌপরিবহন খাতে নিয়োজিত মালিক ও শ্রমিকদের নির্ভুল ডাটাবেজ ব্যবহারের মাধ্যমে নৌদুর্ঘটনা পরবর্তী প্রকৃত ভুক্তভোগীদের দ্রুত শনাক্তকরণ এবং স্বচ্ছতার সাথে আর্থিক ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিতকরণ; নাবিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান; নৌপরিবহন ব্যবস্থার নীতি নির্ধারণ ও পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য একটি সমন্বিত ডাটাবেইজ তৈরি এবং শুমারির মাধ্যমে প্রস্তুতকৃত ডাটাবেইজ বিভিন্ন সংস্থা কর্তৃক ন্যাশনাল ডাটা হিসেবে ব্যবহার।


রাজৈর উপজেলা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাদারীপুর প্রতিনিধি

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কাজের উদ্বোধন করলেন রাজৈর-মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়া। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে বিদ্যালয়টির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রোখসানা খাইরুন নেছা।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ফজলুল হক, রাজৈর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও রাজৈর উপজেলা বিএনপি'র নেতা-কর্মী ও সমর্থকবৃন্দ। এসময় প্রধান অতিথি এমপি জাহান্দার আলী মিয়াকে স্কুল গভর্নিংবডি , শিক্ষকমন্ডলী ও ছাত্রীদের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছায় সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়টির শিক্ষক-ছাত্রী, অতিথিবৃন্দ ও গণ্যমান্য সহ সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে এমপি জাহান্দার আলী বলেন, 'শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড এবং শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতি মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে না"।

তিনি বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের প্রতি এই খাতে যে কোনো সময়ের চেয়ে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্ধ রাখার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ছাত্রীদের মনযোগ দিয়ে লেখাপড়া করে সুনাগরিক হিসাবে নিজেদের তৈরীর মাধ্যমে নিজ, পরিবার-সমাজ এবং দেশের সেবায় আগামীর নেতৃত্ব দেয়ার দিক নির্দেশনা দেন। এছাড়াও শিক্ষকমন্ডলীদেরকে যত্নসহকারে তাদের পাঠদানের আহবান জানান।


ভোক্তার অভিযানে নওগাঁর দুই অটো রাইস মিলকে জরিমানা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

সুগন্ধি আতপ চাল কেজি প্রতি ৯০ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনায় পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। এর অবৈধ মজুত, সরবরাহ, বস্তার গায়ে মিলগেট দর না লেখাসহ বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে নওগাঁয় অটো রাইস মিলগুলোতে অভিযান চালিয়েছে জেলা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

অভিযানে দুটি অটো রাইস মিলকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। গত সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত শহরের সাহাপুর এলাকায় অবস্থিত বেলকন অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিস লিমিটেড এবং নওগাঁ শহরের হাপানিয়া জবার মোড় এলাকায় অবস্থিত টিকে অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিস লিমিটেডে অভিযান পরিচালনা করা হয়। জেলা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রুবেল আহমেদ এ অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযানে চাল মজুতের সঠিক তথ্য দিতে না পারায় বেলকন অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে ২০ হাজার টাকা এবং একই কারণে টিকে অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযানের বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (এডি) রুবেল আহমেদ বলেন, কয়েকদিন ধরে সুগন্ধি আতপ চালের বাজার নিয়ন্ত্রণহীন। বাজারে অস্বাভাবিক চালের দাম লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা কিছুদিন আগে ১৩০-১৪০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন ২০০-২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সুগন্ধি আতপ চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমরা অভিযান পরিচালনা করছি। বেলকন এবং টিকে গ্রুপে অভিযান চালিয়ে দেখেছি সবকিছুই নিয়মের মধ্যে রয়েছে। খাদ্য অধিদপ্তরে নির্দেশনা রয়েছে চাল ১৫ দিনের বেশি রাখা যাবে না। বেলকন এবং টিকে গ্রুপ যে চালগুলো রেখেছে সেগুলো ১৫ দিনের বেশি কি না সে বিষয়ে তারা আমাদের সঠিক তথ্য দিতে পারেনি। এ কারণে দুটি মিলকে জরিমানা করা হয়েছে।

রুবেল আহমেদ আরও বলেন, বাজারে এখন সুগন্ধি ধানের দুষ্প্রাপ্রতা রয়েছে। এ ছাড়া ধানের দাম মণপ্রতি এখন চার হাজার টাকার উপরে। এ কারণে তারা মিলগেট প্রাইস দিচ্ছেন ২০০ টাকার কাছাকাছি। যার কারণে খুচরা বাজারে ২১০ থেকে ২২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যত দিন পর্যন্ত চালের দাম নিয়ন্ত্রণে না আসছে তত দিন আমাদের চালের মিল এবং বাজারে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।


এক পায়ে সাইকেল চালিয়ে জীবিকার লড়াইয়ে গোপী

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কার্ত্তিক দাস, নড়াইল

জন্ম থেকেই একটি পা অচল গোপী বিশ্বাসের (৩২)। হাঁটাচলা করতে হয় লাঠি ভর দিয়ে। ছোটোবেলা থেকে চেষ্টা করেছেন আত্মনির্ভরশীল হওয়ার। জীবনের নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এখন ইলেকট্রনিক পণ্য মেরামতের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি।

নড়াইল সদর উপজেলার মুলিয়া ইউনিয়নের কাজলা নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত পানতিতা গ্রামের বাসিন্দা গোপী। বাবা নিতাই বিশ্বাস ও মা কল্পনা বিশ্বাসের তিন সন্তানের মধ্যে তিনি সবার ছোট। গরিব পরিবারে জন্ম নেওয়ায় পড়াশোনার সুযোগ পাননি তিনি। তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করার পর পারিবারিক অবস্থার কারণে স্কুল ছাড়তে হয় তাকে।

ছোটোবেলায় এলাকার এক দোকানে সহকারী হিসেবে কাজ শেখা শুরু করেন গোপী। টর্চ লাইট, গ্যাস লাইটসহ নানা বৈদ্যুতিক জিনিসপত্র মেরামতের কাজ রপ্ত করেন তিনি। প্রায় ১৯ বছর ধরে এই পেশায় রয়েছেন। কিন্তু একটানা এই পেশায় টিকে থাকা সম্ভব হয়নি। আয় কম হওয়ায় মাঝে মাঝে ভ্যান চালানো, চা বিক্রি, এমনকি ওয়েল্ডিংয়ের কাজও করতে হয়েছে তাকে। তবে প্রতিবন্ধকতা থাকায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেগুলো দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।

শেষমেশ আবারও মেরামতের পেশায় ফিরেছেন তিনি। জেলা শহর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে মুলিয়া বাজারের দক্ষিণ পাশে, মুলিয়া-বাহিরগ্রাম সড়কের এক পাশে ছোট একটি একচালা দোকান বসিয়েছেন। টিনের ছাউনি থাকলেও চারপাশে কোনো বেড়া নেই। সেখানেই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বসে টর্চ লাইট, গ্যাস লাইট, এলইডি বাল্ব, স্প্রে মেশিন ও রাইস কুকারসহ নানা ইলেকট্রনিক সামগ্রী মেরামত করেন।

চার সদস্যের পরিবার গোপীর ঘাড়ে। স্ত্রী, এক শিশুপুত্র এবং এক কন্যাসন্তান নিয়ে তার সংসার। বড় মেয়েটি বর্তমানে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। প্রতিদিন কাজ করে আয় হয় মাত্র ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। ভালো দিন হলে ২০০-৩০০ টাকা পর্যন্ত ওঠে। কিন্তু বর্তমান বাজার দরে এই টাকায় সংসার চালানো সম্ভব নয়। মাঝে মাঝে ব্যাগে যন্ত্রপাতি ভরে এক পায়ে সাইকেল চালিয়ে পাশের তুলারামপুর হাটেও যান কাজের খোঁজে।

গোপী বিশ্বাস বলেন, ‘আজ একটু হলুদ কিনি, কাল একটু লবণ। ছেলেমেয়েকে মাছ খাওয়াতে পারি না। দেনা করে বাজার করতে হয়। তিন মাস পর প্রতিবন্ধী ভাতার কিছু টাকা পাই, তাও দেনা শোধে চলে যায়।’

অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিবন্ধী জীবনটাই যেন অভিশাপ। সংসার চালাব, না ছেলেমেয়েকে মানুষ করব—এই দুশ্চিন্তায় থাকি। সরকারের কাছে অনুরোধ, যেন আমাদের মতো মানুষদের পাশে দাঁড়ায়, আমাদের সন্তানরা মানুষ হতে পারে, সেই ব্যবস্থা করে। ওরা মানুষ হলে আমাদের কষ্টের কিছুটা হলেও সার্থকতা থাকবে।’

গোপীর কাজের প্রশংসা করেন স্থানীয়রাও। তারা জানান, তার মতো অভিজ্ঞ মেরামতকারীর কাজের ওপর অনেকেই নির্ভরশীল। তিনি না থাকলে এসব কাজের জন্য শহরে যেতে হতো, সময় ও অর্থ ব্যয় হতো বেশি।

গোপীর দোকানে লাইট মেরামত করতে আসা মিলন সরকার বলেন, ‘গোপীর কাজের মান ভালো হাওয়ায় তার নিকট আমরা ইলেকট্রনিক বিভিন্ন জিনিস মেরামত করতে আসি। তার কষ্ট দেখে খারাপ লাগে, কিন্তু আমরা নিজেরাও খুব বেশি কিছু করতে পারি না। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এই খুপড়ি ঘরে বসে ইলেকট্রনিক যন্ত্র মেরামত করে সংসার চালায় সে।’

কোড়গ্রামের বাসিন্দা বিকাশ রায় বলেন, ‘গোপী দীর্ঘদিন ধরে এই বাজারে কাজ করছে। ভালো মানুষ, ভালো কাজ করে। আমরা তার ওপর ভরসা করি। যদি সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে কেউ এই সংগ্রামী মানুষের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে হয়তো গোপীর মতো প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবন আরেকটু সহজ হয়ে উঠবে।’

মুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ অধিকারী বলেন, ‘গোপী বিশ্বাস একজন প্রতিবন্ধী হয়েও স্বাভাবিক মানুষের মতো সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। তার এই সংগ্রামী জীবন অন্যদের জন্য অনুকরণীয়। তার মতো অনেকে ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। কিন্তু তিনি কারো কাছে হাত পাতেন না। ছোট থেকেই কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন। ইতোমধ্য সে প্রতিবন্ধী ভাতার সুবিধাভোগী। তাকে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে যতটুকু পারা যায় সহযোগিতা করা হবে।’


শেরপুর-গাজীরখামার-নালিতাবাড়ী সড়কে বাড়ছে মানুষের দুর্ভোগ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি

শেরপুর সদর থেকে গাজীরখামার হয়ে নালিতাবাড়ী উপজেলার সংযোগ সড়কটির বেহাল অবস্থায় ভোগান্তিতে পড়েছেন লাখো মানুষ। প্রধান সড়কের তুলনায় প্রায় ১০ কিলোমিটার কম হওয়ায় সময় ও জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য প্রতিদিন হাজারো যানবাহন এই পথ ব্যবহার করলেও দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শেরপুর-নালিতাবাড়ী প্রধান সড়ক দিয়ে যেতে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হয়। বিপরীতে শেখহাটি ও গাজীরখামার হয়ে দূরত্ব মাত্র ২০ কিলোমিটার। এ কারণে যাত্রীবাহী বাস, সিএনজিচালিত ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল এবং পণ্যবাহী যানবাহনের বড় অংশ এই সড়ক ব্যবহার করে।

তবে সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে বড় বড় গর্ত ও গভীর খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। সাম্প্রতিক পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিতে সড়কের ক্ষতি বেড়েছে জ্যামিতিক হারে। ফলে ছোট-বড় দুর্ঘটনার পাশাপাশি গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া।

স্থানীয় বাসিন্দা হাফিজুর রহমান বলেন, শেখহাটি বাজার, চৈতনখিলা বটতলা বাজার ও গাজীরখামার বাজার এলাকায় সড়কের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। অনেক জায়গায় কার্পেটিং উঠে ইট ও খোয়া বের হয়ে এসেছে।

পরিবহনচালক রহিম মিয়া ও জুয়েল মিয়ার ভাষ্য, আগে শেরপুর থেকে নালিতাবাড়ী যেতে ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট লাগলেও এখন প্রায় এক ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় লাগছে। প্রতিদিন যানবাহনের চাকা, সাসপেনশনসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ায় পরিচালনা ব্যয়ও বেড়ে গেছে।

স্থানীয় দোকানদার জুয়েল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। দ্রুত সড়কটি সংস্কার না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে শেরপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খন্দকার মাহমুদুল আশরাফ বলেন, ‘রুরাল কানেক্টিভিটি ইমপ্রুভমেন্ট’ নামে একটি বড় প্রকল্প চালু হলে সড়কটি সেখানে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সরকারি অর্থায়নেও সড়কটির সংস্কারের জন্য প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’


বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানি 

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বেনাপোল প্রতিনিধি

দেশে অতিবৃষ্টির কারণে হঠাৎ কাঁচামরিচের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বাজার নিয়ন্ত্রণে ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানি শুরু। গত সোমবার (৩ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে একটি ভারতীয় ট্রাকে ৯ হাজার ২০০ কেজি কাঁচামরিচ বন্দরে প্রবেশ করে।

বন্দরের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর রাতেই আমদানিকৃত কাঁচামরিচের চালানটি ঢাকায় পাঠানো হয়। এ চালানের আমদানিকারক শিমু এন্টারপ্রাইজ এবং বন্দর থেকে খালাস কার্যক্রমে সহযোগিতা করে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট শিমু শিপিং লাইন্স।

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামিম হোসেন জানান, মরিচবাহী ট্রাক বন্দরে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে খালাসের ব্যবস্থা করা হয়। সীমান্তের ওপারে আরও কয়েক ট্রাক কাঁচামরিচ নিয়ে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে।যা আজ মঙ্গলবার বেনাপোল বন্দরের ঢোকার কথা রয়েছে।

মরিচ আমদানিকারক শাহাজান জানান, প্রতি কেজি কাঁচামরিচ আমদানিতে তার মোট খরচ হয়েছে প্রায় ১৩৫ টাকা। সামান্য লাভ রেখে বাজারে বিক্রি করা হবে। তিনি বলেন, আমদানি বাড়লে বাজারে মরিচের দাম কমে আসবে। তবে কাস্টমসের হয়রানি ও পণ্য ছাড়করণে জটিলতার কারণে রাজস্ব বেশি গুনতে হচ্ছে। এতে আমদানিকারকরা লোকসানের মুখে পড়ছেন এবং আমদানি খরচ বেড়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যে জানা যায়, সরকারের অনুমতি পাওয়ার পর ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ, বিশেষ করে নাসিক থেকে কাঁচামরিচ আমদানি শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে ৬৯ জন ব্যবসায়ী মোট ২৯ হাজার ৭১০ টন কাঁচামরিচ আমদানির অনুমতিপত্র (আইপি) পেয়েছেন এবং সোমবার (৩ আগস্ট) থেকেই আমদানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

এদিকে, বেনাপোল বন্দরের কাঁচাবাজারে সোমবার (৩ আগস্ট) প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ৩০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। বিক্রেতাদের আশা, আমদানি বাড়লে বাজারে দাম কিছুটা কমে আসবে।

আমদানি সংক্রান্ত কাগজপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রতি টন কাঁচামরিচের ঘোষিত আমদানি মূল্য ২৩ হাজার ৮৭৫ টাকা, অর্থাৎ প্রতি কেজির মূল্য প্রায় ২৪ টাকা। এর সঙ্গে সরকারকে কেজিপ্রতি প্রায় ৪৫ টাকা শুল্ক দিতে হচ্ছে। সে হিসাবে আমদানি ব্যয় কেজিপ্রতি প্রায় ৭৮ টাকা হওয়ার কথা। তবে আমদানিকারকদের দাবি, পরিবহন, কাস্টমস, বন্দর, খালাসসহ অন্যান্য খরচ যোগ হওয়ায় প্রকৃত ব্যয় আরও বেড়ে যাচ্ছে।

এদিকে, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে কাঁচামরিচের উচ্চমূল্যে সাধারণ ক্রেতারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। তারা বাজারে কার্যকর তদারকি বাড়ানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, দেশের বাজারে কাঁচামরিচের মূল্য বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় সরকার ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানির অনুমতি দিয়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এই আমদানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।


মাগুরায় ‘গানে গানে জুলাই’ শহীদদের স্মরণ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাগুরা প্রতিনিধি

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থানের বীরত্বগাথা, আত্মত্যাগ এবং নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নকে সংগীতের সুরে স্মরণ করতে মাগুরায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘গানে গানে জুলাই’ শীর্ষক বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

গত সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় মাগুরা জেলা অডিটোরিয়ামে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে এবং জেলা শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আব্দুল কাদেরের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোতাকাব্বীর আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক আলী আহমেদ, সিভিল সার্জন ডা. মো. শামীম কবিরসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সুধীজন।

অনুষ্ঠানে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে একক সংগীত, কবিতা আবৃত্তি এবং দেশাত্মবোধক সংগীত পরিবেশন করা হয়।

শিল্পীদের পরিবেশনায় উঠে আসে জুলাই আন্দোলনের চেতনা, আত্মত্যাগের ইতিহাস এবং বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়।

এ সময় বক্তারা বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁদের আদর্শ ও ত্যাগ নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করবে।

অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের আত্মার শান্তি কামনা করা হয়।

একই সঙ্গে তাদের আত্মত্যাগের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেন উপস্থিত অতিথি, শিল্পী ও দর্শকরা।


উত্তরবঙ্গের সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ বন্ধ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

সিরাজগঞ্জে ঢাকাগামী সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ফলে রাজধানীর সাথে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে সিরাজগঞ্জের শহীদ এম. মনসুর আলী স্টেশনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এর ফলে উত্তরবঙ্গ ও ঢাকার বিভিন্ন স্টেশনে বেশ কয়েকটি যাত্রীবাহী ট্রেন আটকা পড়েছে, যা রেলযাত্রীদের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যমুনা সেতু পশ্চিম সয়দাবাদ রেলস্টেশন মাস্টার মনিরুজ্জামান এই দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। ট্রেনটি মনসুর আলী স্টেশনে প্রবেশের পর হঠাৎ এর একটি বগি লাইন থেকে বিচ্যুত হয়। তবে প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

সিরাজগঞ্জ বাজার রেলওয়ে স্টেশন থানার ওসি খায়রুল ইসলাম তালুকদার জানিয়েছেন, একটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার পর থেকেই ঢাকার সাথে উত্তরবঙ্গের রেলপথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনটি দ্রুত উদ্ধারের জন্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শেষ না করা পর্যন্ত এই রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হওয়া সম্ভব নয় বলে জানানো হয়েছে। ওদিকে ট্রেন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারা যাত্রীদের স্টেশনে স্টেশনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।


বাজার নিয়ন্ত্রণে ভারত থেকে এলো ৯ টন কাঁচামরিচ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি

দেশের বাজারে কাঁচামরিচের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে ভারত থেকে আমদানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে ভারতের নাসিক থেকে ৯ হাজার ২০০ কেজি বা ৯ দশমিক ২ মেট্রিক টন কাঁচামরিচের প্রথম একটি চালান বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান শিমু এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে এই চালানটি দেশে এসেছে এবং দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষে রাতেই এটি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। কৃষি বিভাগ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগে মরিচের বাজারে অস্থিরতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কাঁচামরিচের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ইতোমধ্যে ৬৯ জন ব্যবসায়ীকে মোট ২৯ হাজার ৭১০ টন আমদানির অনুমতিপত্র (আইপি) দেওয়া হয়েছে। নাসিকসহ ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে আমদানিকৃত এই মরিচ দ্রুত বাজারে পৌঁছালে দাম সাধারণ মানুষের নাগালে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বর্তমানে বেনাপোলের স্থানীয় বাজারে কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরকারি কাগজপত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি টন মরিচের ঘোষিত আমদানি মূল্য প্রায় ২৩ হাজার ৮৭৫ টাকা, যার বিপরীতে কেজিপ্রতি ৪৪ থেকে ৪৫ টাকা শুল্ক পরিশোধ করতে হয়। যদিও কাগজপত্রে আমদানি ব্যয় কম দেখা যাচ্ছে, কিন্তু পরিবহন ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচের কারণে প্রকৃত ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজারে কাঁচামরিচের চড়া মূল্যের কারণে সাধারণ ক্রেতারা বিপাকে পড়েছেন এবং তারা নিয়মিত বাজার তদারকির মাধ্যমে মূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন।

কৃষি বিভাগের মতে, দেশের অতিবৃষ্টির কারণে উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এই আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আমদানির প্রবাহ বৃদ্ধি পেলে দেশের বড় বাজারগুলোতে মরিচের দাম দ্রুত হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।


চিকিৎসা ব্যয়ে ঋণের জালে আবদ্ধ ৮৯ শতাংশ পরিবার

* সহ-সংক্রমণে বাড়ছে ফুসফুসের তীব্র প্রদাহ ও মৃত্যুঝুঁকি * টিকার দুই ডোজ নেওয়া শিশুদের জটিলতা কম * দ্রুত সাড়াদানে মাঠে বিডিআরসিএস ও আইএফআরসির হাজারো স্বেচ্ছাসেবক
প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

হামে আক্রান্ত ১১ মাসের অসুস্থ মেয়েকে নিয়ে রংপুর থেকে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসেছেন হাজেরা খাতুন। চিকিৎসা করাতে গিয়ে এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে ৭০ হাজার টাকারও বেশি। সরকারি হাসপাতালে মূল চিকিৎসা নিখরচায় মিললেও ঢাকায় আসার অ্যাম্বুলেন্স ভাড়াই গেছে ২০ হাজার টাকা। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে খাবার, পরীক্ষা-নিরীক্ষা আর আনুষঙ্গিক খরচ। বিদেশে থাকা স্বামীও চলতি মাসে বেতন না পাওয়ায় আত্মীয়দের কাছ থেকে ধারদেনা করে চলছেন হাজেরা। কান্নাভেজা কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমরা এখন পুরোপুরি দিশেহারা।’

হাজেরা খাতুনের এই করুণ পরিণতি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সারা দেশে ছড়িয়ে পড়া হামের থাবায় আক্রান্ত পরিবারগুলোর ঘরে ঘরে এখন একই হাহাকার।

বাংলাদেশে হামে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে গিয়ে অধিকাংশ পরিবারই মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়ছে। চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে প্রতি ১০টি পরিবারের প্রায় ৯টি (৮৯ শতাংশ) ঋণ নিয়েছে। এ ছাড়া ৬১ শতাংশ পরিবার নিজেদের সঞ্চয় শেষ করে ফেলেছে এবং চিকিৎসা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাতে প্রতিটি পরিবারকে গড়ে ১৬ হাজার টাকা ব্যয় করতে হয়েছে।

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (বিডিআরসিএস) ও ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজের (আইএফআরসি) এক যৌথ জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে বিডিআরসিএস থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞাপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

জরিপে অংশ নেওয়া সব পরিবারই জানিয়েছে, তাদের আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন। এর মধ্যে ৩৫ শতাংশ পরিবার ওষুধকে সবচেয়ে জরুরি সহায়তা হিসেবে উল্লেখ করেছে। ৩৩ শতাংশ পরিবার পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি (ওয়াশ) সহায়তা এবং ২২ শতাংশ খাদ্য সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে। এ ছাড়া ৪ শতাংশ পরিবার চিকিৎসার খরচ মেটাতে সম্পদ বিক্রি করেছে এবং প্রায় ৩ শতাংশ অনুদানের ওপর নির্ভর করেছে।

বাংলাদেশের ১২টি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া হামে আক্রান্ত ২ হাজার ৭৪৬টি পরিবারের ওপর এই জরিপ পরিচালিত হয়। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ২ হাজার ৪০০টি পরিবারকে প্রতি পরিবার ১০ হাজার টাকা করে জরুরি নগদ সহায়তা দেওয়ার জন্য তাদের নির্বাচন এবং হামের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়নের উদ্দেশে এ জরিপ পরিচালিত হয়। নির্ধারিত ঝুঁকির মানদণ্ড অনুযায়ী ২ হাজার ৭৪৬টি পরিবারের মূল্যায়ন শেষে ২ হাজার ৪০০টি পরিবারকে সহায়তার জন্য নির্বাচন করা হয়।

জরিপে অংশ নেওয়া রোগীদের মধ্যে ৭৫ শতাংশের বয়স ছিল চার বছরের কম। ১৯ শতাংশের বয়স ৫ থেকে ১৭ বছর এবং ৬ শতাংশের বয়স ১৮ বছরের বেশি।

মূল্যায়নে আরও দেখা গেছে, চিকিৎসা ব্যয়ের পাশাপাশি আয় হারানোও অনেক পরিবারের জন্য বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। অসুস্থ শিশু বা পরিবারের সদস্যের পাশে হাসপাতালে দীর্ঘ সময় থাকতে গিয়ে অনেক অভিভাবক কাজ করতে পারেননি, এমনকি কেউ কেউ চাকরিও হারিয়েছেন।

জুন মাসে রংপুর থেকে ১১ মাস বয়সি মেয়েকে নিয়ে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসেন হাজেরা খাতুন। চিকিৎসার জন্য তাদের পরিবার ইতোমধ্যে ৭০ হাজার টাকার বেশি ব্যয় করেছে।

৯ মাসের কম বয়সি শিশুদের চরম ঝুঁকি

আইসিডিডিআর,বি এবং বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের যৌথ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এক উদ্বেগজনক চিত্র। প্রাদুর্ভাবে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে ৩-৮ মাস বয়সি শিশুরা—যাদের নিয়মিত টিকা নেওয়ার বয়স (৯ মাস) এখনও হয়নি। গবেষকরা খতিয়ে দেখছেন, কেন মায়েরা গর্ভাবস্থা বা বুকের দুধের মাধ্যমে সন্তানদের পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক অ্যান্টিবডি (Maternal Antibodies) দিতে পারছেন না। মা নিজে সঠিকভাবে টিকা না পেয়ে থাকলে বা পুষ্টিহীনতায় ভুগলে এই প্রতিরক্ষা দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়।

তবে স্বস্তির কথা হলো, ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসের ‘বি৩ জেনোটাইপ’ (B3 Genotype) রূপ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এটি প্রচলিত টিকাকে নিষ্ক্রিয় করেনি। দুই ডোজ টিকা নেওয়া শিশুদের মধ্যে মারাত্মক জটিলতার হার অনেক কম, যা প্রমাণ করে টিকাই প্রতিরোধের মূল হাতিয়ার।

নতুন আতঙ্ক: এডিনো ভাইরাস ও ‘সাদা ফুসফুস’

হাম পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে এডিনো ভাইরাসের সহ-সংক্রমণে (Co-infection)। শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সংকটজনক শিশুদের একটি বড় অংশের শরীরে এই ভাইরাস পাওয়া গেছে। সাধারণ সর্দি-কাশির জন্ম দেওয়া এডিনো ভাইরাস যখন হামে আক্রান্ত দুর্বল শরীরের সুযোগ নেয়, তখন তা ফুসফুসে তীব্র প্রদাহ তৈরি করে।

এতে ফুসফুসের বায়ুথলি তরল ও পুঁজ দিয়ে ভরে গিয়ে তৈরি হয় ‘সাদা ফুসফুস’ (White Lung) পরিস্থিতি। তখন সাধারণ অক্সিজেন বা ভেন্টিলেটর দিয়েও শিশুর শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি দেখে আন্তর্জাতিক সংস্থা সিডিসি-আটলান্টা উদ্বেগ প্রকাশ করে ঢাকায় প্রতিনিধিদল পাঠালেও, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নজরদারিতে এর ঘাটতি ছিল বলে অভিযোগ উঠছে।

৪৬ লাখ শিশু বাদ পড়ার প্রশাসনিক ভুল

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে অন্তত ১ লাখ ২২ হাজার সন্দেহভাজন রোগী চিহ্নিত হয়েছে এবং ৮০০-র বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গত মে মাসের জাতীয় হাম-রুবেলা (MR) ক্যাম্পেইনে পুরোনো জনমিতি ডেটা ব্যবহারের কারণে ভুল হিসাব তৈরি হয়েছিল। ১ কোটি ৮০ লাখের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও দেশে ওই বয়সি শিশু ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ। ফলে ভুল পরিকল্পনার খেসারত হিসেবে প্রায় ৪৬ লাখ শিশু টিকার বাইরে রয়ে গেছে, যা প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার প্রধান কারণ।

সংকট উত্তরণে ৩ জরুরি সুপারিশ

লক্ষ্যমাত্রার বাইরে থাকা ৪৬ লাখ শিশুকে অবিলম্বে চিহ্নিত করে টিকা প্রয়োগ করা। সরকারি ও বিভাগীয় হাসপাতালগুলোতে এডিনো ভাইরাস শনাক্তকরণের পিসিআর টেস্ট বিনামূল্যে সহজলভ্য করা। কাজ হারানো ও দেনাগ্রস্ত পরিবারগুলোর চিকিৎসাব্যয় বহন এবং খাদ্যাভাব দূর করতে জরুরি নগদ সহায়তা চালু করা।

বিডিআরসিএসের মহাসচিব ড. কবির এম. আশরাফ আলম জানান, জরিপে চিহ্নিত সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ২ হাজার ৪০০ পরিবারকে জরুরি সাড়াদানের অংশ হিসেবে প্রতি পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশে আইএফআরসির প্রতিনিধিদলের প্রধান আলবার্তো বোকানেগ্রা বিষয়টিকে একটি বড় জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, হামের প্রভাব হাসপাতালের চার দেয়ালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। এমন পরিস্থিতিতে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা ও দ্রুত মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের পাশাপাশি বিডিআরসিএস ও আইএফআরসি এক হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবক মাঠে নামিয়েছে। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সচেতনতা তৈরি, টিকাদান কেন্দ্র পরিচালনায় সহায়তা এবং দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণে মানুষকে উৎসাহিত করছেন।


১৫ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি শুরু, চলবে চার মাস

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারের ‘খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি’র আওতায় ১৫ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি শুরু হয়েছে। মাসে ৩০ কেজি করে চাল কিনতে পারবেন কার্ডধারী উপকারভোগী ব্যক্তিরা। গত শনিবার (১ আগস্ট) থেকে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে; চলবে আগামী চার মাস, অর্থাৎ ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। এরপর আবার বিক্রি করা হবে ২০২৭ সালের মার্চ ও এপ্রিল—এই দুই মাস। সোমবার (৩ আগস্ট) খাদ্য মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে তা জানা যায়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে মোট ৪৯৫টি উপজেলার ৫৫ লাখ কার্ডধারী উপকারভোগী সাশ্রয়ী মূল্যের এ চাল কিনতে পারবেন। এর মধ্যে ২৪৮ উপজেলার ২৫ লাখ ২৯ হাজার কার্ডধারী কিনতে পারবেন পুষ্টিচাল। আর ২৪৭ উপজেলার ২৯ লাখ ৭১ হাজার উপকারভোগী কিনতে পারবেন সাধারণ চাল।

একই সঙ্গে সারাদেশে ১ হাজার ১০৮টি কেন্দ্রের মাধ্যমে খোলাবাজারে বিক্রি (ওএমএস) কর্মসূচির আওতায় নিয়মিত চাল ও আটা বিক্রির কাজ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।

যে চাল ১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে, চার বছর আগে তা ১০ টাকা কেজি ছিল। ২০২২–২৩ অর্থবছর থেকে কেজিপ্রতি ৫ টাকা বাড়িয়ে ১৫ টাকা করা হয়। ডিলারদের কাছ থেকে তা কিনে নিয়ে আসতে হয় উপরকারভোগীদের।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশের খাদ্য মজুত অত্যন্ত সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে। ২ আগস্ট খাদ্য মজুতের পরিমাণ ২৩ লাখ ৪৯ হাজার ৩৮৫ টন। এর মধ্যে চাল ১৯ লাখ ৬৬ হাজার ১৪৮ টন এবং গম ২ লাখ ৮০ হাজার ১০ টন। এ ছাড়া ১ লাখ ৫২ হাজার ১০৯ টন ধান মজুত রয়েছে বর্তমানে।

২০১৬-১৭ অর্থবছর থেকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় ৫০ লাখ পরিবারকে মাথায় রেখে প্রথম ‘খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি’ চালু করা হয়। কর্মসূচি বাস্তবায়নে ইউনিয়ন পর্যায়ে বসবাসরত বিধবা, বয়স্ক, পরিবারপ্রধান নারী, নিম্ন আয়ের দুস্থ পরিবারপ্রধানদের অগ্রাধিকার রয়েছে।

খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে গ্রামাঞ্চলে। আর ওএমএস বাস্তবায়িত হচ্ছে শহরাঞ্চলে। সরকারের পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, প্রতিবছরের মার্চ ও এপ্রিল এবং আগস্ট, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর—এই ছয় মাস গরিব মানুষের আয় তুলনামূলক কম থাকে, আয়ের সুযোগ কম থাকে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ও ওএমএস—দুটোতেই বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিয়ে আসছে সরকার। গ্রামাঞ্চলের চালের ভর্তুকির পরিমাণ শহরাঞ্চল অর্থাৎ সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও জেলা সদরের ওএমএসের ভর্তুকির পরিমাণ থেকে সব সময় বেশি হয়।


কেরানীগঞ্জে মিলল আরও দুই ইয়াবা কারখানা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার কেরানীগঞ্জে আরও দুইটি ইয়াবা তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। কারখানা দুটি থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা তৈরির কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি জব্দের পাশাপাশি এক ক্যামিস্ট ও এক ডিলারকে গ্রেপ্তার করেছে বাহিনীটি। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ডিলার ফয়সাল ইসলাম মিঠু (৪২) এবং ডিলার-কাম-ক্যামিস্ট নাছির (৪৫)।

সোমবার (৩ আগস্ট) কেরানীগঞ্জের মদিনা মার্কেটে একটি কারখানার সামনে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান র‍্যাব-২-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান।

তিনি বলেন, গতকাল নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‍্যাব-২ জানতে পারে, রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানাধীন বসিলা হাউজিং এলাকায় একজন ইয়াবা ডিলার মোটরসাইকেলযোগে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা পরিবহনের উদ্দেশে অবস্থান করছে। পরে র‍্যাব-২-এর একটি আভিযানিক দল ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবা ডিলার ফয়সাল ইসলাম মিঠুকে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলসহ আটক করে এবং তার কাছ থেকে ১১ হাজার ৭৫৯ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে।

তিনি যোগ করেন, পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কেরানীগঞ্জে তার নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি ইয়াবা তৈরির কারখানার সন্ধান পাওয়া যায়। সেখান থেকে ইয়াবা তৈরির একটি মেশিন উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও জানান, আটককৃত ফয়সাল ইসলাম মিঠুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে র‍্যাব-২-এর আভিযানিক দল কেরানীগঞ্জের মদিনা মার্কেটে অভিযান চালিয়ে আরেকটি ইয়াবা তৈরির কারখানার সন্ধান পায়। সেখান থেকে ইয়াবা তৈরির কারখানার মালিক এবং ইয়াবা ডিলার-কাম-কেমিস্ট নাছিরকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি ইয়াবা তৈরির মেশিন, ১৭ কেজি ইয়াবা তৈরির কাঁচামাল এবং ১৯ হাজার ৫২০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়।

এক প্রশ্নের জবাবে র‍্যাবের এই কর্মকর্তা আরও জানান, আটককৃত নাছির নিজেই ইয়াবা তৈরি করে নিজেই ডিলার হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাজারজাত করে আসছিলেন। তিনি ১০ বছর ধরে এই কারখানা পরিচালনা করে আসছিলেন। ইয়াবা তৈরির কাঁচামাল তিনি চট্টগ্রাম থেকে সংগ্রহ করতেন।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে নাসির অনেকের নাম বলেছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে তা এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। ঢাকায় তাদের নেটওয়ার্ক অনেক বিস্তৃত।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন মধ্যচর দক্ষিণ বালুচর এলাকায় একটি ইয়াবা তৈরির কারখানার সন্ধান পায় র‍্যাব-১০। পরে অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৯৬৮ পিস ইয়াবা, বিভিন্ন ধরনের পাউডারসদৃশ কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি, পাঁচটি মোবাইল ফোন এবং একটি ওজন পরিমাপক যন্ত্রসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব।


নয় বছরের শিশুকে যৌন হয়রানি, জামায়াতের রুকন বহিষ্কার

পবা উপজেলার বড়গাছি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের রুকন ওমর ফারুক । ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজশাহী ব্যুরো

রাজশাহীর পবা উপজেলায় নয় বছর বয়সী এক শিশুকন্যাকে যৌন হয়রানির দায়ে গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দি জামায়াতে ইসলামীর এক রুকনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বড়গাছি ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আব্দুর রহমান মিলন। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ‘নৈতিক স্খলনের’ দায়ে তার বিরুদ্ধে এ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে তিনি।

তিনি আরও বলেন, অভিযোগ ওঠার পর দলীয়ভাবে ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তা দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত রোববার উপজেলা জামায়াতের সভায় ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। ওই সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ওমর ফারুককে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়।

উল্লেখ্য, বহিষ্কৃত ওই ব্যক্তির নাম ওমর ফারুক (৩৫)। তিনি উপজেলার পাকারমাথা গ্রামের বাসিন্দা এবং বড়গাছি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের রুকন ছিলেন। পেশায় তিনি গ্রাম্য চিকিৎসক। একটি ফার্মেসি পরিচালনার পাশাপাশি স্ত্রীকে নিয়ে নিজ বাড়িতে শিশুদের প্রাইভেট পড়াতেন। তার ভাই আবু বকর একই ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি। বর্তমানে ওমর ফারুক নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে করা মামলায় রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১২ জুলাই প্রতিদিনের মতো ওই শিশুকন্যা প্রাইভেট পড়তে যায়। অভিযোগ, একপর্যায়ে ওমর ফারুক কৌশলে অন্য শিক্ষার্থীদের বিদায় করে শিশুটিকে একা রেখে যৌন হয়রানি করেন। বাড়ি ফিরে শিশুটি কান্নাকাটি করতে করতে মায়ের কাছে ঘটনার বর্ণনা দেয়। পরে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এ ঘটনায় গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ওমর ফারুককে তার বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। পরে রাতে ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে পবা থানায় মামলা করেন। পরদিন শনিবার সকালে তাকে আদালতে পাঠানো হলে আদালত রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।


banner close