ঈদের ছুটিতে সুন্দরবনে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। ঈদের দিন গতকাল ঈদের দিনের তুলনায় আজ শুক্রবার কয়েকগুণ বেশি পর্যটনের আগমন ঘটেছে সুন্দরবনে। ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে দেশের দূরদূরান্ত থেকে বন্ধু-বান্ধব ও পরিবারসহ সেখানে ছুটে যাচ্ছেন। আগামী ছুটির দিনগুলোতে আরও বেশি পর্যটক বাড়বে বিশ্বখ্যাত ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবনে। ঈদের দিন শুধু বনের করমজল পর্যটন স্পটে সহস্রাধিক লোক হলেও পরদি আড়াই হাজারের মত দর্শনার্থী ভ্রমণে যায়।
দেশের যেকোন জায়গা থেকে মোংলায় আসার পর মোংলা থেকে সবচেয়ে কাছাকাছি ও আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র করমজলেই ভিড় সবচেয়ে বেশি ভ্রমণপিয়াসীদের। এছাড়াও বনের হাড়বাড়ীয়া, কটকা, কচিখালী ও আন্ধারমানিকসহ অন্যান্য স্পষ্টে ঢল নেমেছে পর্যটকদের। এই ছুটিতে বড় বড় বিলাসবহুল লঞ্চে সুন্দরবন ভ্রমণ করছেন নানা দেশের নানা বয়সী পর্যটকেরা। সুন্দরবন ঘুরতে আসা রাজশাহীর শিক্ষার্থী শামসুননাহার ডারিন ও মিজানুর রহমান মিজু বলেন, এর আগে কখনও সুন্দরবনে আসা হয়নি, এবারই প্রথম এসেছি। না আসলে বুঝাই অসম্ভব সুন্দরবন আসলেই কতো সুন্দর। খুব ভাল লাগছে, বন্ধু-বান্ধব মিলে ভীষণ আনন্দ করছি।
সিলেটের মাদ্রাসা শিক্ষক হাফেজ মাওলানা মিজবাহ উদ্দীন ও গার্মেন্টস ব্যবসায়ী অলিপ গোলদার বলেন, সুন্দবনে এসে হরিণ, কুমির, বানর, কচ্ছপ দেখলাম। সুউচ্চ ওয়াচ টাওয়ারের উপর থেকে ছাতার মত বিস্তৃত বনের বিভিন্ন গাছপালা দেখে প্রাণ ভরে গেছে। কি সবুজ সজিব শীতল পরিবেশ, মনে হয় নির্মল এক অক্সিজেনের কারখানায় এসেছি।
ঢাকা থেকে পরিবারসহ মোস্তফা জামান তার পরিবার নিয়ে সুন্দরবন ভ্রমণে এসে বলেন, দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছি। কিন্তু সুন্দবনের মতো এতো আনন্দ উপভোগ করতে পরিবারকে আগে কখনও দেখিনি। যত দেখছি ততোই মন জুড়াচ্ছে, ভাবছি এতোদিনে কেন আসলাম না। আমি বলবো যারা সুন্দরবনে আসেননি তারা সুন্দরের সৌন্দর্য থেকে বঞ্চিত রয়ে গেছেন, যেমন আগে আমরাও ছিলাম।
কুয়েট শিক্ষার্থী আবির হোসেন বলেন, সুন্দরবনের যে বিশাল সম্পদ রয়েছে তার সুষ্ঠু ব্যবহার করা গেলে তাতে উপকূলের মানুষের মঙ্গল হবে, তাতে কোন সন্দেহ নেই। তবে ঘুরতে এসে বনবিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সর্বাত্মক সহায়তা প্রদাণের বিষয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের করমজল পর্যটন ও বন্যপ্রাণী পর্যটন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আজাদ কবির বলেন, সুন্দরবনের এবারের ঈদের ছুটিতে পর্যটকের আগমনের সংখ্যা বিগত সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। তাই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ছুটির দিনেও পর্যটকদের নিরলসভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তারা। এদিকে হঠাৎ এবারের ঈদে পর্যটকদের আগমন বিগত সময়ের চেয়ে বেশি হওয়ার কারণ হিসেবে টানা ৫দিনের ছুটি ও বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি শান্ত থাকার বিষয়টি বলে মনে করছেন বনবিভাগ।
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে অভিযান চালিয়ে একটি কাভার্ড ভ্যানসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভারতীয় শাড়ি জব্দ করেছে সুনামগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (২৮ বিজিবি)। গত রোববার (৩০ আগস্ট) ভোরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শান্তিগঞ্জ এলাকায় এ যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে মালিকবিহীন একটি কাভার্ড ভ্যান এবং তার ভেতর থেকে ২,৬৮৪ পিস বিভিন্ন ধরনের উন্নত মানের ভারতীয় শাড়ি আটক করা হয়। জব্দ শাড়ি ও গাড়ির আনুমানিক বাজার মূল্য ৩ কোটি ৫৮ লাখ ১৯ হাজার টাকা। অভিযানে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান হৃদয়, ২৮ বিজিবির সহকারী পরিচালক মো. সেলিম রানা এবং ১০ জন বিজিবি সদস্য অংশগ্রহণ করেন।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ ২৮ বিজিবির অধিনায়ক জাকারিয়া কাদির জানান, ঊর্ধ্বতন সদর দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী সীমান্তে নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি চোরাই পথে অবৈধ ভারতীয় পণ্য প্রবেশ রোধে বিজিবির এই ধরনের অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।
জব্দ শাড়িগুলো প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে সুনামগঞ্জ শুল্ক কার্যালয়ে জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন অভিযোগ করে বলেছেন, ফ্যাসিস্টদের দোসররাই বর্তমান সরকারকে ব্যর্থ করতে দেশে নানা ধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে।
মন্ত্রী বলেন, তারা প্রথমে জ্বালানিসংকট তৈরি করে জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলতে চেয়েছিল। একটি নির্দিষ্ট চক্র সারা দিন এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে ঘুরে তেল সংগ্রহ করত। সরকারের কঠোর পদক্ষেপে মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে সেই সমস্যার সমাধান হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
এছাড়া সারের কৃত্রিম সংকট প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিগত বছরের তুলনায় পর্যাপ্ত সার মজুদ থাকলেও ফ্যাসিবাদের আমলের ডিলাররাই এই সংকট তৈরি করেছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে নতুন সারের ডিলার নিয়োগের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে এলএনজি আমদানিতে সমস্যা হলেও গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতি দূর করতে উচ্চমূল্যে এলএনজি কেনা হয়েছে এবং আগামী সপ্তাহের মধ্যে ৯ থেকে ১০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হবে বলে জানান তিনি।
বিদ্যুতের স্থায়ী সমাধানের জন্য সরকার বাড়ির ছাদে সোলার সিস্টেম ও অকৃষি জমিতে সোলার প্যানেল স্থাপনের তিন ও পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এ সময় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে 'হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিং সেন্টার' স্থাপন এবং ৪২ হাজার ৩৯০ জন নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম, সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবির, মঈনুল ইসলাম খান ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে অনুমোদনহীন ও বেশি দামে সার বিক্রি এবং মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক সংরক্ষণের অভিযোগে দুই ব্যবসায়ীকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় ১৭ বস্তা সার ও মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক জব্দ করা হয়। সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড চর মহিদাপুর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে কুদ্দুস ফকিরের ছেলে রুবেল ফকিরের মুদি দোকানে মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক পাওয়া যায়। এ অপরাধে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫১ ধারায় রুবেল ফকিরকে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দোকানে থাকা মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক জব্দ করা হয়।
অন্যদিকে রুবেল ফকিরের দোকানের পাশেই কুদ্দুস ফকিরের দোকানে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া এবং অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির প্রমাণ পাওয়া যায়। এ অপরাধে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৫ ধারায় কুদ্দুস ফকিরকে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে ২০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এ সময় তার দোকান থেকে ইউরিয়া ৪ বস্তা, ডিএপি ৯ বস্তা ও এমওপি ৪ বস্তাসহ মোট ১৭ বস্তা সার জব্দ করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুনতাসির হাসান খান। অভিযানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ রায়হানুল হায়দার, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ তাওহিদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ রায়হানুল হায়দার বলেন, ‘কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় নকল, ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক এবং বেশি দামে সার বিক্রির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। এতে কৃষকরা প্রতারিত হওয়া থেকে রক্ষা পাবেন।’
এ সময় ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুনতাসির হাসান খান বলেন, ‘অনুমোদন ছাড়া সার বিক্রি, অতিরিক্ত মূল্য আদায় এবং মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ আইনবিরোধী। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষায় জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে।’
অনলাইন জুয়া ও মাদক এবং বাল্যবিবাহসহ বিভিন্ন বিষয় প্রতিরোধকল্পে করণীয় শীর্ষক সেমিনার সোমবার (৩১ আগস্ট) খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন।
প্রধান অতিথি বলেন, ‘দেশে অনলাইন জুয়া ও মাদক এবং বাল্যবিবাহ সামাজিক ব্যাধি। এই সামাজিক ব্যাধিগুলো আমাদের উন্নয়নের অন্তরায়। তবে এই সামাজিক ব্যাধিগুলো কারও একার পক্ষে বা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে দূর করা সম্ভব নয়। সকলে মিলে এ ব্যাধিগুলোর বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে পারলে এদের প্রতিহত করা সম্ভব।’
খুলনা অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) আবু সায়েদ মো. মনজুর আলমের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) সিফাত মেহনাজ ও অতিরিক্ত রেঞ্জ ডিআইজি তোফায়েল আহমেদ।
সেমিনারে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলাম। এ বিষয়ের ওপর আলোচক ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. সেলিনা আহমেদ ও নড়াইল জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম।
সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপক জানান, সরকার আনলাইন জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬ পাস করেছে। এই আইনে আনলাইন বা দূরবর্তী জুয়া ও বেটিং পরিচালনায় সর্বোচ্চ পাঁচ থেতে সাত বছরের কারাদণ্ড, অনলাইন বেটিংয়ে সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। তিনি অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে বিভিন্ন কারিগরি বিষয় তুলে ধরেন।
সেনিমারে বিভাগের ১০ জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও এনজিও প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) নীলফামারী জেলা শাখার উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ ও চারাগাছ বিতরণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে শহরের শহীদ জিয়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের আহ্বায়ক প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন।
‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে আয়োজিত কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তুহিন বলেন, ‘শুধু গাছ লাগালেই হবে না, সেগুলোর পরিচর্যা ও সংরক্ষণও নিশ্চিত করতে হবে।’ বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ড্যাবের এই উদ্যোগ পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ সময় জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল পারভেজ, তুহিনের সহধর্মিণী তামান্না ইয়াসমিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জহুরুল আলম, চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুব-উর রহমান, ড্যাবের জেলা আহ্বায়ক ডা. সোহেলুর রহমান সোহেল, সদস্য সচিব ডা. রেদওয়ান জুবায়ের রিয়াদসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
ড্যাবের জেলা আহ্বায়ক ডা. সোহেলুর রহমান সোহেল জানান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নীলফামারী জেলা ড্যাবের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বৃক্ষরোপণ এবং মানুষের মাঝে চারাগাছ বিতরণ করা হবে। পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়ন বৃদ্ধির পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করাই এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শেষে শহীদ জিয়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের চারতলা ভিতবিশিষ্ট একতলা একাডেমিক ভবনের উদ্বোধন করেন প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন।
নাটোরের গুরুদাসপুরে নির্মাণের মাত্র তিন বছর পার না হতেই ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি পাকা স্কুল ভবন ভেঙে মাত্র ১ লাখ ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগের তির বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেনের দিকে। নিয়ম অনুযায়ী ভবন অপসারণের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়ার বিধান থাকলেও তা মানা হয়নি। ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে চারতলা ভিত্তির একতলা নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য এই চালু ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়। ভালো মানের একটি ভবন এত অল্প সময়ে ভেঙে ফেলার ঘটনায় স্থানীয়দের মনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নারী শিক্ষার প্রসারে ২০২০-২১ অর্থবছরে জাইকা (JICA) ও উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্পের (UDGDP) অর্থায়নে এলজিইডি ২২ লাখ ৩৪ হাজার ৫৫২ টাকা ব্যয়ে ভবনটি নির্মাণ করে। ২০২৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভবনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। কিন্তু চলতি বছরের জুন-জুলাইয়ে ভবনটি সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হয়। একই সঙ্গে একটি পুরোনো আধাপাকা ঘরও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
গত রোববার (৩০ আগস্ট) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জাইকার অর্থায়নে নির্মিত ভবনটির কোনো চিহ্ন নেই। ইট, রডসহ সব নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। শ্রেণিকক্ষের অভাবে এখন পাশের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কক্ষে মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে।
স্থানীয় অধিবাসীদের দাবি, ভবন ভাঙার সময় কোনো মাইকিং বা উন্মুক্ত দরপত্র ডাকা হয়নি। এত কম সময়ে সরকারি ভবন ভেঙে ফেলে বিক্রির টাকা কোথায় গেল, তা তদন্তের দাবি জানান তারা।
অভিযোগ স্বীকার করে প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘নতুন চারতলা ভবন নির্মাণের জন্য জায়গা দরকার ছিল। সময় কম থাকায় আগে অনুমোদন নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে সাবেক ম্যানেজিং কমিটির রেজুলেশন এবং দরদাতার মাধ্যমে ১ লাখ ১০ হাজার টাকায় মালামাল বিক্রি করা হয়েছে।’
সরকারি কোনো দপ্তরকে না জানিয়ে ভবন ভাঙায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ইউএনও ফাহমিদা আফরোজ বলেন, ‘সরকারি বিধিমালা না মেনে প্রধান শিক্ষক এটি করেছেন। তাকে কৈফিয়ত তলব করার প্রক্রিয়া চলছে।’
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম আক্তার বলেন, ‘আমাকে কিছুই জানানো হয়নি। প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।’
অ্যাডহক কমিটির বর্তমান সভাপতি রনি আহমেদ বলেন, ‘আমি নতুন দায়িত্ব পেয়েছি। বিক্রির টাকা বা হিসাব আমাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।’
স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজ বলেন, ‘তদন্ত করে অনিয়ম পাওয়া গেলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে ধরতে গিয়ে বোয়ালখালীতে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। একপর্যায়ে পুলিশের হাতকড়াসহ পালিয়ে যান গ্রেপ্তার হওয়া আসামি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন (২৮)। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে আবারও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্য, মামলার বাদীসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। আটক করা হয়েছে চরণদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদে নিয়োজিত এক গ্রাম পুলিশকে। গত রোববার (৩০ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে উপজেলার চরণদ্বীপ মসজিদ ঘাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উত্তর করলডেঙ্গা শিকদার বাড়ি এলাকার বাসিন্দা মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে আবদুল মান্নান নামে এক ব্যক্তি সিআর মামলা করেন। ওই মামলায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
রোববার (৩০ আগস্ট) রাতে ওই পরোয়ানা কার্যকরে অভিযান চালায় বোয়ালখালী থানা পুলিশ। অভিযানে মামলার বাদীও পুলিশের সঙ্গে ছিলেন। মহিউদ্দিনকে গ্রেপ্তারের পর নিয়ে যাওয়ার সময় একপর্যায়ে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এ সময় পুলিশের সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পুলিশের।
ধস্তাধস্তির মধ্যে পুলিশের হাতকড়াসহ পালিয়ে যান মহিউদ্দিন। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন- এসআই আবদুল হালিম (৪৮), এএসআই মাসুম বিল্লাহ (৩৫) ও কনস্টেবল হাসানুজ্জামান (৩২)। রাত সাড়ে ১২টার দিকে তারা বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. কৌশিক দাশ।
এ ঘটনায় মামলার বাদী আবদুল মান্নান (৫৫) ও মোক্তার হোসেন (৪০) আহত হয়েছেন।
পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় চরণদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদে নিয়োজিত গ্রাম পুলিশ জেবল হোসাইনকে (২৩) আটক করা হয়েছে।
বোয়ালখালী থানার ওসি মোজাফফর হোসেন বলেন, ‘আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে ধরতে গেলে পুলিশ সদস্যদের হাতে আঁচড় ও কামড় দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মহিউদ্দিনকে গ্রেপ্তার এবং তার আত্মীয় গ্রাম পুলিশ জেবল হোসাইনকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জামালপুরে আলোচিত দলবেধে ধর্ষণ মামলায় সাবেক ইউপি সদস্যসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আর চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ী হত্যার ঘটনায় বগুড়ায় দুইজনের মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে।
সোমবারের (৩১ আগস্ট) দুই মামলায় আদালতের এ রায়ে হত্যাকাণ্ড ও ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের ন্যায়বিচার পাওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।
জামালপুরে ধর্ষণ মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড: জামালপুরে আলোচিত দলবেধে ধর্ষণ মামলায় ইউপি সদস্যসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- জামালপুর সদর উপজেলার রশিদপুর ইউনিয়নের শংকর এলাকার রুহুল আমিনের ছেলে ছাত্তার আলী (৪২), শামছুল হকের ছেলে আব্দুল মালেক (৪৪) এবং নায়েব আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন (৩২)। তাদের মধ্যে ছাত্তার আলী রশিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফজলুল হক জানান, ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর রাতে জামালপুর সদর উপজেলার রশিদপুর ইউনিয়নের শংকরপুর ভাটিপাড়া এলাকায় এক গৃহবধূকে বাড়ি থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গণধর্ষণ করেন অভিযুক্তরা। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী একটি ধর্ষণ মামলা করেন।
দীর্ঘ শুনানি ও ১০ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিদের মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করেন। রায় ঘোষণার সময় তিন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
বগুড়ায় হত্যা মামলায় দুইজনের মৃত্যুদণ্ড: বগুড়ায় মুদি দোকানে চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ী রাকিবুল হাসান হৃদয়কে (২৮) কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে হত্যার দায়ে দুইজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত প্রত্যেক আসামিকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ পঞ্চম আদালতের বিচারক কৌশিক আহমেদ খোন্দকার এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- সাদ্দাম হোসেন স্বাধীন (২৩) ও রাব্বি (২৪)। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- আশিক (২২), মো. শাকিল (২৩) ও মতিন (২৫)।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ২০ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বগুড়া সদর উপজেলার কৈপাড়া এলাকায় হৃদয়ের মালিকানাধীন হৃদয় ভ্যারাইটি স্টোরে আসামিরা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তারা ধারালো অস্ত্র নিয়ে দোকানে ঢুকে রাকিবুল হাসান হৃদয় ও তার বাবা অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মামুনুর রশীদকে (৫৮) উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করেন।
পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাবা ও ছেলেকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসা অবস্থায় হৃদয়ের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের মা আয়েশা সিদ্দিকা বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। মামলায় সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ রায় দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট এস এম মাসুদুর রহমান স্বপন বলেন, ‘একটি তুচ্ছ ঘটনা ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে যুবককে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। সাক্ষীদের সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধীদের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ দৃষ্টান্তমূলক রায় দিয়েছেন।’
গ্যাস সংকটে প্রায় ১৮ মাস ধরে বন্ধ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ সার কারখানা দ্রুত চালুর দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে। এ সময় কারখানাকে ‘আশুগঞ্জ জিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড’ নামকরণসহ আধুনিকায়নের মাধ্যমে সচল করার দাবি জানানো হয়। সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আশুগঞ্জ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতুর টোলপ্লাজায় কারখানার শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন এই মানববন্ধনের আয়োজন করে।
কারখানা সূত্রে জানা গেছে, আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডে (এএফসিসিএল) দিনে অন্তত ১ হাজার ১৫০ টন ইউরিয়া উৎপাদনের সক্ষমতা আছে। গত বছরের ১ মার্চ থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে কারখানায় ইউরিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। গ্যাস সংকটের কারণে গত বছরের মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৮ মাস ধরে কারখানায় ইউরিয়া উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
এদিকে সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সদস্যরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আশুগঞ্জ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতুর টোলপ্লাজা এলাকায় জড়ো হন। এ সময় তাদের হাতে ব্যানার ফেস্টুন ও প্রচারপত্র ছিল। তাদের সঙ্গে আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপি, শ্রমিক দল, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), আশুগঞ্জ তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের ট্রেড ইউনিয়নের সদস্যরাসহ উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ সংহতি প্রকাশ করে মানববন্ধনে অংশ নেন। শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি বজলুর রশিদের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন সার কারখানার উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) তাজুল ইসলাম ভূঁইয়া, অফিসার্স ওয়েলফার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু কাউসার, সার কারখানা শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক সাদী মো. তানভীর রহমান, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. শাহজাহান ভূঁইয়া, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নোয়াব আলী মুন্সী, উপজেলা শ্রমিক শ্রমিক দলের আহ্বায়ক সুহেল পারভেজ, যুগ্ম আহ্বায়ক রাজিব পারভেজ, এনসিপির কেন্দ্রীয় নারী শক্তির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক জয়ন্তি বিশ্বাস, উপজেলা ট্রাক-মালিক সমিতির সভাপতি মো. মাহালম, সাধারণ সম্পাদক চপল খাঁ, আশুগঞ্জ তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের ট্রেড ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘গুণগত মানসম্পন্ন হওয়ায় আশুগঞ্জ সার কারখানার ইউরিয়ার চাহিদা বেশি। কারখানাটি চালু রাখতে পারলেই সরকার লাভ হবে। কিন্তু ২০১০ সালের পর থেকে একটি মহল বিদেশ থেকে সার আমদানির মাধ্যমে কমিশন বাণিজ্য করতে বছরের বেশির ভাগ সময় আশুগঞ্জ সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখে।
এতে কারখানাটি দিন দিন অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় সার কারখানাগুলো যান্ত্রিক ও আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গত বছরের ১ মার্চ থেকে কারখানা বন্ধ থাকার ফলে স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।’ অবিলম্বে গ্যাস সরবরাহের মাধ্যমে সার উৎপাদন চালু দাবি জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, ‘আমরা চাই সরকার আশুগঞ্জ সার কারখানাকে গ্যাস সাশ্রয়ী করার লক্ষ্যে আধুনিকায়নের মাধ্যমে সচল করুক অথবা একটি নতুন কারখানা স্থাপন করা হোক।’
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়ে অসন্তোষের জেরে পদপ্রাপ্ত ও পদবঞ্চিতদের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
আহতরা হলেন নবগঠিত কমিটির সভাপতি ওমর ফারুক মানিকের অনুসারী শাকিল ও প্রতাপ এবং পদবঞ্চিত পক্ষের তালহা জোবায়ের, মো. রায়হান ও বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারেক রহমান। আহতরা সবাই ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, গত রোববার (৩০ আগস্ট) কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে ওমর ফারুক মানিককে সভাপতি ও ফাতিন ইশরাককে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। কমিটি ঘোষণার পর থেকেই নতুন কমিটিতে পদ না পাওয়া নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। এ নিয়ে গত রোববার রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন মন্তব্য ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেখা যায়।
এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল সোমবার সকালে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী পদবঞ্চিত পক্ষের নেতাকর্মীরা কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। একপর্যায়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে পদপ্রাপ্ত ও পদবঞ্চিত দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
পদবঞ্চিত পক্ষের নেতা ও নতুন কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি পদপ্রার্থী ওমর ফারুক বলেন, ‘পদবঞ্চিতরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করছিলেন। এ সময় তাদের ওপর অযথা হামলা করা হয়। এতে আমাদের তিনজন আহত হয়েছেন। আমরা এসে দেখি আমাদের ছোট ভাইদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। এগিয়ে গেলে আমাদের ওপরও হামলা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘ছাত্রদল করে আমরা কোনো অন্যায় করিনি। অযোগ্যদের নেতৃত্বে এই কমিটি আমরা মানি না। ছাত্রদলকে ধ্বংস করার জন্যই এই কমিটি করা হয়েছে। হামলায় বহিরাগতরাও জড়িত ছিল। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নবগঠিত কমিটির সভাপতি ওমর ফারুক মানিক বলেন, ‘আমরা কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে অবস্থান করছিলাম। এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিল করছিলেন। আমার সঙ্গে থাকা কয়েকজন আজান হচ্ছে তাই মিছিল বন্ধ করতে বলেন তাদের। এ কথা বলায় তারা ভুল বুঝে আমাদের ওপর হামলা করেন। এতে আমার দুই কর্মী আহত হয়েছেন।’
কুমিল্লা মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি নাহিদুজ্জামান রানা বলেন, ‘ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে অসন্তোষ থেকেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরে তারা কলেজে অবস্থান করে পদপ্রাপ্ত ও পদবঞ্চিত দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের নিবৃত্ত করেন।’
তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন কমিটি না থাকায় অনেক যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি হয়েছে। আমরা বিষয়টি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে জানিয়েছি। কেন্দ্র থেকে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখার কথা জানানো হয়েছে।’
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুর রহমান বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ কলেজে অবস্থান নেয়। বর্তমানে কলেজের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।’
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে খুলনায় তিন মাস ধরে চলছে একের পর এক উদ্যোগ। পরিচ্ছন্নতা অভিযান, মশকনিধনে ফগিং ও হ্যান্ড স্প্রে, মাইকিং, লিফলেট বিতরণ, মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে অভিযান—চলছে সবই। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও বাড়ানো হয়েছে সচেতনতামূলক কার্যক্রম। কিন্তু এত উদ্যোগের পরও কমছে না ডেঙ্গু। বরং আগস্টের শেষ সপ্তাহে সংক্রমণের গতি আরও বেড়েছে। নতুন করে ২৮৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ফলে চলতি বছরে বিভাগে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৮৪৮ জনে।
স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৭৬০ জন ডেঙ্গুরোগী। চলতি বছর এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪ হাজার ৯৫৪ জন। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১১৪ জনকে অন্যত্র পাঠানো হয়েছে। নতুন কোনো মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে খুলনা বিভাগে মৃতের সংখ্যা ২০ জনে দাঁড়িয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসকের ভাষ্য, শুধু সড়ক-ড্রেন পরিষ্কার করলেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; বাড়ি ও আশপাশের জমে থাকা পানি ও ঝোপঝাড় পরিষ্কার রাখার দায়িত্বও নিতে হবে নগরবাসীকে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে নগরীর সোনাডাঙ্গা পিডব্লিউডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেসিসি প্রশাসক বলেন, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সরকারি নির্দেশনা মেনে তিন মাস আগে থেকেই কাজ শুরু করা হয়েছে। শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি নগরবাসীর মধ্যে সচেতনতা বাড়াতেও সর্বশক্তি নিয়োজিত করা হয়েছে। কিন্তু ডেঙ্গু সংক্রমণ কমাতে আশানুরূপ ফল আসছে না।
তিনি বলেন, নগরবাসীকে নিরাপদ রাখতে শুধু সড়ক ও ড্রেন পরিষ্কার করলেই হবে না। প্রত্যেকের বাড়ি ও আশপাশে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ঝোপঝাড় পরিষ্কার করার পাশাপাশি বদ্ধ পানি দ্রুত অপসারণ করতে হবে।
খুলনা মহানগরীতে ডেঙ্গু জ্বরের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া সংক্রমণ কমাতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে পিডব্লিউডি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ আলোচনা ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। এতে পিডব্লিউডি স্কুল ছাড়াও সোনাডাঙ্গা থানা এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে কেসিসি প্রশাসক শিক্ষার্থীদের নিজেদের বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ডেঙ্গু বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সপ্তাহে অন্তত এক দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ক্যাম্পাস পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্যোগ নিতে শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সচেতনতা ছড়িয়ে পড়লে ডেঙ্গু জ্বরের সংক্রমণ কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ডেঙ্গু বিষয়ে কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন কেসিসি প্রশাসক।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. লিয়াকত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম ছায়েদুর রহমান।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে কেসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মিউল ইসলাম, কনজারভেন্সি অফিসার মো. অহিদুজ্জামান খান, সমাজসেবক আসাদুজ্জামান মুরাদ, শেখ জামিরুল ইসলাম জামিল, কেসিসির সাবেক কাউন্সিলর রাবেয়া ফাহিদ হাসনাহেনাসহ শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
আবহাওয়াও কি ঝুঁকি বাড়াচ্ছে?
খুলনায় ডেঙ্গু বৃদ্ধির সম্ভাব্য কারণগুলোর মধ্যে অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা, উষ্ণতা এবং মৌসুমের অস্বাভাবিক পরিবর্তন বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। বৃষ্টির পানি বিভিন্ন স্থানে জমে থাকলে এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি হতে পারে। বৃষ্টির পর উষ্ণ ও আর্দ্র পরিবেশ মশার বংশবিস্তারের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. আহসান হাবীবের আশঙ্কা, বৃষ্টিপাতের ধরন ও বর্ষাকালের স্থায়িত্বে পরিবর্তন আসায় এবার ডেঙ্গুর মৌসুম দীর্ঘায়িত হতে পারে। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে প্রকোপ আরও বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
ডেঙ্গুর বর্তমান ধরনে জেনেটিক পরিবর্তন বা মিউটেশন এসেছে কি না, সেটিও গবেষণার বিষয় বলে মনে করেন তিনি। এ জন্য আগের ও বর্তমান ডেঙ্গু ভাইরাসের হোল জিনোম তুলনা করে গবেষণা প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
হাসপাতালেও বাড়ছে চাপ
রোগীর এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবাহ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো। খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে ডেঙ্গুর জন্য এখনো পৃথক ডেডিকেটেড ওয়ার্ড চালু হয়নি। মেডিসিন ওয়ার্ডের পুরুষ ও নারী বিভাগের নির্দিষ্ট অংশে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রোগীর চাপ বাড়লে ওয়ার্ডের বাইরের জায়গাতেও রোগী রাখতে হচ্ছে।
খুমেক হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. আখতারুজ্জামান জানিয়েছেন, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড তৈরি করা হয়নি। তবে ইমার্জেন্সি ওয়ার্ডের আইসিইউ-২-এর নিচে দুটি কক্ষ প্রস্তুত করা হয়েছে। সেগুলো চালু হলে কিছুটা চাপ কমতে পারে।
বেসরকারি হাসপাতালেও একই ধরনের চাপ রয়েছে। গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের ব্যবস্থাপক মো. হামিদুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, রোগীর চাপ বাড়ায় নির্ধারিত জায়গার পাশাপাশি ওয়ার্ডের বাইরেও রোগী রাখতে হচ্ছে।
খুলনা জেনারেল হাসপাতাল ২৫০ শয্যার হলেও পূর্ণাঙ্গ ২৫০ শয্যার সেবা এখনো চালু হয়নি। ফলে ডেঙ্গুর পাশাপাশি অন্যান্য রোগীরও শয্যা পেতে ভোগান্তি হচ্ছে।
হাসপাতালকেন্দ্রিক প্রস্তুতিও বাড়ছে
ডেঙ্গুরোগীর চাপ সামাল দিতে হাসপাতালকেন্দ্রিক কিছু উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। ১৭ আগস্ট কেসিসি, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও খুলনা মহানগর পুলিশের এক বৈঠকে হাসপাতালটিতে স্বেচ্ছাসেবী সেবা জোরদারের সিদ্ধান্ত হয়। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির খুলনা সিটি ইউনিটের ৫০ জন যুব সদস্যকে ডেঙ্গু রোগীদের সহায়তায় মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় স্যালাইন, ওষুধ ও ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট নিশ্চিত করার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
বাগেরহাটের ফকিরহাটেও ডেঙ্গু পরীক্ষার কিটের চাহিদা বেড়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কিট সংকট দেখা দেওয়ায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৮০০টি এনএস১ পরীক্ষার কিট দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৭ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং নতুন করে ১০ জন শনাক্ত হন।
চট্টগ্রামের দুটি ভিন্ন এলাকায় ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ঘটে যাওয়া জোড়া খুনের নেপথ্যে উঠে এসেছে চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তার ও পুরোনো শত্রুতার ভয়াবহ চিত্র। সাতকানিয়ায় গাছের গুঁড়ি ফেলে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে সিএমপির তালিকাভুক্ত এক নম্বর সন্ত্রাসী জাহেদুল ইসলামকে। আর চান্দগাঁওয়ে ফুটপাতে রিকশা-ভ্যান বসিয়ে চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় ধাক্কা ও চড়-ঘুষিতে প্রাণ গেছে ওয়ার্ড যুবদল নেতা ফজলুল আমিনের।
সাতকানিয়ার পুরানগড় ইউনিয়নের দক্ষিণ পুরানগড় গ্রামের গ্রামীণ সড়কটিতে গত রোববার (৩০ আগস্ট) রাতের আঁধারে মোটরসাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন জাহেদুল ইসলাম ওরফে ‘পিচ্চি জাহেদ’। ফরিদ সওদাগরের দোকানের সামনে হঠাৎ মোটরসাইকেলের হেডলাইটের আলোয় ভেসে ওঠে একটি বিশালাকার গাছের গুঁড়ি। মুহূর্তের মধ্যেই সেই মৃত্যুফাঁদে আটকে যান জাহেদ। পেছনে বসা বন্ধু ওয়াহিদ কিছু বুঝে ওঠার আগেই চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে ছয়-সাতজনের সশস্ত্র দল। মোটরসাইকেল থেকে ফেলে দিয়ে জাহেদকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে চলে যায় দুর্বৃত্তরা।
নিহত জাহেদুল ইসলাম চট্টগ্রাম নগর পুলিশের (সিএমপি) তালিকাভুক্ত অপরাধীদের একজন ছিলেন। সিএমপির তৈরি করা ৩৩০ জন তালিকাভুক্ত দুষ্কৃতকারীর তালিকায় এক নম্বর নামটিই ছিল তার। অবৈধ অস্ত্রের মহড়া, ইয়াবা কারবার, চাঁদাবাজি থেকে শুরু করে নগরে একাধিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। চলতি বছরের শুরুতেই নগরে তার প্রবেশ ও অবস্থানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। কিছুদিন আগে যৌথ বাহিনীর অভিযানে অস্ত্র ও মাদকসহ গ্রেপ্তার হলেও জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফেরেন তিনি।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জামিনের পর থেকেই পুরানগড় ও আশপাশের এলাকায় মাদক কারবারের নিয়ন্ত্রণ ও পুরোনো কোন্দল নতুন রূপ নেয়।
সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী জানান, প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে আঞ্চলিক অপরাধচক্রের অভ্যন্তরীণ পূর্বশত্রুতা উঠে এসেছে। জাহেদের ওপর নজর রাখছিল একটি প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠী। সুযোগ বুঝেই জনমানবহীন সড়কে এই হামলা চালানো হয়।
সাতকানিয়ার এই ঘটনার পরদিনই নগরের চান্দগাঁও এলাকার ওমর আলী মাতব্বর বাড়ি সড়কে প্রকাশ্যে আসে আরেক মৃত্যুর খবর। নগরের চান্দগাঁও এলাকার সড়কে রিকশা-ভ্যান বসিয়ে ফুটপাত দখলের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ গড়ে তুলেছিলেন স্থানীয় মো. শাহজাহান। কিন্তু বিএনপি ‘নেতা’ পরিচয়ধারী শাহজাহানের এই চাঁদাবাজি ও ভাসমান দোকান বসানোর তীব্র বিরোধিতা করে আসছিলেন পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফজলুল আমিন। সকালে হকার তোলাকে কেন্দ্র করে শাহজাহান ও ফজলুল আমিনের বাকবিতণ্ডা পৌঁছায় চরম পর্যায়ে। একপর্যায়ে শাহজাহান ও তার ছেলে সিফাতসহ সহযোগীরা ফজলুল আমিনকে লক্ষ্য করে চড়-ঘুষি মারেন এবং জোরে ধাক্কা দেন। আগে থেকেই হৃদরোগে ভুগতে থাকা ফজলুল আমিন সড়কেই লুটিয়ে পড়েন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।
চট্টগ্রাম নগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদ জানান, এটি দলীয় কোনো বিষয় নয়, ফুটপাত দখল ও স্থানীয় বিরোধের জেরে ঘটনাটি ঘটেছে। চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন বলেন, ‘শারীরিক আঘাতের কারণে নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা ময়নাতদন্তের পর স্পষ্ট হবে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত শাহজাহান ও তার অনুসারীরা পলাতক।
মাদারীপুরের কালকিনিতে চুরি হওয়া স্বর্ণালংকার ও নগদ ২ লাখ ৪০ হাজার টাকাসহ চোরাইকাজে ব্যবহৃত সরঞ্জামসহ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (৩১ আগস্ট) এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিষয়টি জানিয়েছে মাদারীপুর জেলা পুলিশ। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, কয়েকদিন পূর্বে কালকিনি থানার অন্তর্গত পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের ঝাউতলা এলাকায় একটি তিনতলা ফ্ল্যাটের ২য় তলায় দুর্ধর্ষ চুরি সংঘটিত হয়।
ফ্ল্যাটের বাসিন্দা জান্নাতুল হুসনার পরিবার এ পরিপ্রেক্ষিতে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে কালকিনি থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন, তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার ও সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তদন্ত শুরু করে এবং একপর্যায়ে সুজন সর্দার (৩৪) নামে একজন আসামিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে সক্ষম হয়।
ওই ঘটনায় অধিক জিজ্ঞাসাবাদে সুজন সর্দার চুরির ঘটনা স্বীকার করে সঙ্গী অপর আসামি কালিকিনি বাজারের বিসমিল্লাহ জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী এনামুল হক (৪৬) এর নাম বললে তাকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পরে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী এনামুল হকের জুয়েলারি দোকান থেকে স্বর্ণের গলার হার, কানের দুল, টিকলি, ব্রেসলেটসহ গলিত স্বর্ণের টুকরা উদ্ধার করা হয়। আটক আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি জহিরুল আলম।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী পুলিশ ডিপার্টমেন্টকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন।