কক্সবাজারের রামুতে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া ক্যাম্পের বাইরে বেড়াতে আসার অভিযোগে ৭১ জন রোহিঙ্গাকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার রাত ১২টার দিকে রামু থানার ওসি আবু তাহের দেওয়ান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আটক রোহিঙ্গাদের সবাই যুবক ও মধ্যবয়সী পুরুষ।
পুলিশ জানিয়েছে, দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত শহীদ এটিএম জাফর আলম আরাকান সড়কে ( কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক) রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের সামনে অস্থায়ী তল্লাশী চৌকি স্থাপন করে এ অভিযান চালানো হয়েছে।
ওসি আবু তাহের দেওয়ান বলেন, 'ঈদ উপলক্ষে আইন শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং নিরাপত্তায় পুলিশ নানাভাবে তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। এই তৎপরতার অংশ হিসেবে শুক্রবার দুপুরে রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের পুলিশের একটি অস্থায়ী তল্লাশী চৌকি স্থাপন করে। এক পর্যায়ে বিকাল পর্যন্ত টেকনাফ দিক থেকে আসা যাত্রীবাহী বাস, অটোরিকশা ও ইজিবাইকসহ বিভিন্ন যানবাহনে তল্লাশী করে ৭১ জন রোহিঙ্গা নাগরিককে আটক করা হয়।'
আটকদের দাবি, ঈদ উপলক্ষে তারা কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারি আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছিল।
তবে এ ব্যাপারে আটক এসব রোহিঙ্গারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের অনুমতির স্বপক্ষে কোন ধরণের কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।
ওসি বলেন, 'সন্ধ্যায় এসব রোহিঙ্গাদের রামু থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এরপর রাতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মোতাবেক আটক রোহিঙ্গাদের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং এলাকাস্থ শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার ( আরআরআরসি ) কার্যালয়ের অস্থায়ী ট্রানজিট ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হয়েছে।'
পরে সেখান থেকে এসব রোহিঙ্গাদের স্ব স্ব ক্যাম্পে ফেরত পাঠাতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে বলে জানান আবু তাহের দেওয়ান।
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় এক তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে ফুলদী নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। ওই ঘটনায় গ্রেপ্তার চারজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, পাওনা টাকা পরিশোধ এড়াতে ও সম্পর্ক আড়াল করতে ওই তরুণীকে তারা হত্যা করেন। গত রোববার (৩১ মে) মুন্সীগঞ্জ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গত শুক্রবার (২৯ মে) গজারিয়া উপজেলার বড় ভাটেরচর এলাকায় ফুলদী নদী থেকে ওই তরুণীর (১৯) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই দিন রাতে নিহতের বোন বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পরে ৩০ মে পিবিআই মুন্সীগঞ্জ মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চার আসামিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন আবু কালাম (৪৮), জামাল হোসেন (৪৪), রাসেল মিয়া (৪৪) ও আলামিন প্রধান (৫০)। তারা উপজেলার বড় ভাটেরচর এলাকার বাসিন্দা।
গত ২৯ মে গজারিয়ার ফুলদী নদী থেকে একটি অজ্ঞাতপরিচয় নারীর মরদেহ উদ্ধার করে গজারিয়া নৌপুলিশ। মরদেহে পচন ধরায় প্রথমে তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে পিবিআই মুন্সীগঞ্জের ক্রাইম সিন টিম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার পরিচয় নিশ্চিত করে।
পিবিআইয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নিহত তরুণী আসামি আবু কালামের কাছে ২৫ হাজার টাকা এবং রাসেল মিয়ার কাছে প্রায় ১০ হাজার টাকা পেতেন। এ ছাড়া জামাল হোসেনের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল। এক আত্মীয় তাদের সম্পর্কের বিষয়টি দেখে ফেলায় তা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। মূলত জামালের সম্মান ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা এবং পাওনা টাকা পরিশোধ এড়ানোর উদ্দেশে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ওই তরুণীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
পিবিআইয়ের দাবি, ঘটনার প্রায় ১৫ দিন আগে গজারিয়ার হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ এলাকার ভেতরে বসে গ্রেপ্তার চার আসামি হত্যার পরিকল্পনা করেন। ২৬ মে সন্ধ্যার পর কৌশলে তরুণীকে বড় ভাটেরচর এলাকার নদী তীরে ডেকে আনা হয়। পরে একটি নৌকায় করে নদীর ওপারে নির্জন চরের একটি ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে গিয়ে তাকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। এরপর তার সালোয়ার দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে লাশ গোপন করার উদ্দেশে ফুলদী নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।
পিবিআই মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আছমা আরা জাহান বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে ওই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। মামলার তদন্ত এখনো চলমান।
পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে যান চলাচল বেড়ে যাওয়ায় বৃদ্ধি পেয়েছে দুর্ঘটনার সংখ্যা। ঈদযাত্রার সাত দিনে (২৬ মে থেকে ১ জুন) দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে দুর্ঘটনায় ৯০ জন নিহত এবং ১৩৫ জন আহত হয়েছেন। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলার সড়কে এই প্রাণহানি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঈদ ঘিরে লাখো মানুষের বাড়ি ফেরা, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, মহাসড়কে মোটরসাইকেলের বাড়তি চলাচল এবং বছরব্যাপী সড়কে অব্যবস্থাপনা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
তারা আরো বলছেন, ঈদের সময় গণপরিবহন সংকট ও ভাড়া নৈরাজ্যের কারণে মানুষ বাধ্য হয়ে বিকল্প হিসেবে মোটরসাইকেলকে বেছে নিচ্ছেন। চালকদের পূর্ব–অভিজ্ঞতা না থাকা, বেপরোয়া গতিতে চালানো এবং ঈদের পরে প্রশাসনের নজরদারি শিথিল হওয়ার কারণে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে।
ঈদের ছুটিতে সড়কে নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ পরিবারের কাছে যাচ্ছিলেন। কেউ মোটরসাইকেলে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে বেরিয়েছিলেন। বাস–ট্রাক উল্টে কারও মৃত্যু হয়েছে। মোট ৩৫টি দুর্ঘটনায় এসব প্রাণহানি ঘটেছে। এ সময় আহত হয়েছেন আরও দেড় শতাধিক লোক। সোমবার (০১ জুন) এক দিনেই মৃত্যু হয়েছে ১১ জনের। এর আগের দিন রোববার (৩১ মে) প্রাণ গেছে ১২ জনের। আহত হয়েছেন অন্তত ৭৮ জন। ৩৫টি দুর্ঘটনার মধ্যে ১৭টিই ছিল মোটরসাইকেলের। যা মোট প্রাণহানির ৪১ শতাংশ।
চট্টগ্রাম: ফুটকছড়ি ও বাঁশখালীতে বাবা-ছেলেসহ চারজন মারা গেছেন। ফটিকছড়ি উপজেলায় বিআরটিসির একটি বাসচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা- ছেলে নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন মোহাম্মদ শাহজাহান এবং তার ছেলে আরিফ। এ দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
ফটিকছড়ি থানার ওসি রবিউল আলম জানান, সোমবার সকাল প্রায় ৯টা ৫০ মিনিটে উপজেলার বিবিরহাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন, ফলে ওই সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেন।
এছাড়া বাঁশখালী উপজেলায় মাছবোঝাই একটি পিকআপভ্যানের সঙ্গে অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন মারা গেছেন। এরা হলেন নোমান ইলাহি ও বাহাদুর আলম।
বাঁশখালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জামাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল সাতটার দিকে যাত্রীবাহী একটি অটোরিকশা চকরিয়ার মগনামা ঘাট থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাচ্ছিল। পথে বাঁশখালীর পিএবি সড়কের মনছুরিয়া বাজার এলাকায় মাছবোঝাই একটি পিকআপের সঙ্গে অটোরিকশাটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে বাহাদুর আলমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এছাড়া আহত হন আরও তিনজন। তাদের উদ্ধার করে প্রথমে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে পাঠানো হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে নোমান ইলাহির মৃত্যু হয়।
কুয়াকাটা (পটুয়াখালী): কুয়াকাটায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় শরীয়তপুরের এক কিশোর নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুইজন আহত হয়েছেন। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কুয়াকাটার মেরিন ড্রাইভ সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত জিসান শরীয়তপুর জেলার পালং থানার কাশাভোগ (কাশাপুর) গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর থেকে কয়েকজন বন্ধু মোটরসাইকেলে করে কুয়াকাটা ভ্রমণে আসেন। তারা কুয়াকাটার মেরিন ড্রাইভ সড়ক দিয়ে লেম্বুরবনের দিকে যাচ্ছিলেন। এসময় এক নারী রাস্তা পার হওয়ার সময় দুঘটনা ঘটে।
নাটোর : সিংড়া ও লালপুর উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক নারী ও তিন মোটরসাইকেল আরোহীসহ চারজন নিহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার ও রোববার রাতে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের সিংড়ার বন্দর আমতলা ব্রিজ এলাকায় বগুড়া থেকে আসা একটি মিনি ট্রাকের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পালসার মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলের দুই আরোহী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। গুরুতর আহত হন সাইফুল ইসলাম (২৬) নামে আরেকজন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সাইফুল নাটোর সদর উপজেলার আলাইপুর এলাকার তৈয়ব আলীর ছেলে। নিহত অন্য দুইজন হলেন— নাটোর সদর উপজেলার ইসলামবাড়ি গ্রামের মতালিব হোসেনের ছেলে মুক্তার হোসেন হীরা (২৬) এবং লালপুর উপজেলার সাধুপাড়া গ্রামের মাজেদুল ইসলামের ছেলে জীবন (১৮)।
এদিকে রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার কলম ইউনিয়নের পুন্ডরী গ্রামের একটি গ্রামীণ সড়কে বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় আসমা খাতুন (৪৫) নামে এক নারী নিহত হন। তিনি ওই গ্রামের আজিম উদ্দিনের মেয়ে।
জয়পুরহাট: ক্ষেতলালে ঈদ উপলক্ষে আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন। গতকাল উপজেলার নিশ্চিন্তা-চাঁনপাড়া আঞ্চলিক সড়কের খড়িকাটা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, কালাই উপজেলার সরাইল গ্রামের তাজুল ইসলাম খন্দকারের ছেলে ইমন সরকার (৩০) ও তার শ্যালক হারুঞ্জা গ্রামের সামছুল ইসলামের ছেলে ফেরদৌস হোসেন (১২)। আহত হয়েছেন ইমনের স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদ উপলক্ষে আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশে মোটরসাইকেলে করে রওনা হন ইমন সরকার, তার স্ত্রী ও শ্যালক ফেরদৌস। পথে খড়িকাটা এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে ছিঁটকে পড়ে যায়। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপ ভ্যানের চাকায় পিষ্ট হয়ে ইমন সরকার ও ফেরদৌস ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত হন ইমনের স্ত্রী।
স্থানীয়রা জানান, ধান কাটার মৌসুমে ওই আঞ্চলিক সড়কের বিভিন্ন স্থানে খড় ও ধান শুকানোর জন্য রাস্তার ওপর ছড়িয়ে রাখা হয়। সড়কে ছড়িয়ে থাকা খড়ের কারণে মোটরসাইকেলটি পিছলে নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
ক্ষেতলাল থানার ওসি মোক্তাদুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
ছুটির শেষ দিনে: ছুটির শেষ দিন গত রোববার দেশের একাধিক স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ঘটেছে। নেত্রকোনা সদর উপজেলার চল্লিশা এলাকায় বাসচাপায় ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের তিন যাত্রী নিহত হন। তাদের মধ্যে ছিলেন এক মা ও তার দুই মেয়ে। সাতক্ষীরার শ্যামনগরে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে এক তরুণী নিহত হন।
কুষ্টিয়ার মিরপুরে যাত্রীবাহী বাস ও সেনা সদস্যবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত এবং অন্তত ৩২ জন আহত হন। গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে বাস খাদে পড়ে এক নারী নিহত ও অন্তত ১০ জন আহত হন। চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে দুটি বাসের প্রতিযোগিতার মধ্যে পড়ে এক নাইটগার্ড নিহত হন। একই জেলার ফরিদগঞ্জে পিকআপ ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে এক কিশোর প্রাণ হারায়।
এদিকে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে অন্তত ৩০ জন আহত হন। যদিও এ ঘটনায় কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
বগুড়ার শেরপুরে মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাসের চাপায় ঘটনাস্থলে নিহত হন সাইকেলচালক আলহাজ উদ্দিন। বগুড়া-ঢাকা মহাসড়কের মির্জাপুর এলাকায় পদচারী–সেতুর পূর্ব পাশে সার্ভিস লেনে গতকাল দুপুরে ওই দুর্ঘটনা ঘটে।
সিলেটের ওসমানীনগরে দাঁড়িয়ে থাকা বাসে পেছন থেকে ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই চালক ও সহকারী নিহত হন। গত রোববার সকালে ওসমানীনগরের তাজপুর বাজারের পাশে এ ঘটনা ঘটে।
ঈদযাত্রার শুরুতেই ২৫ মে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে রডবোঝাই একটি ট্রাক উল্টে ১৫ শ্রমিক নিহত হন। ছুটির সময়ে এটিই ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। একই দিন বগুড়ার শাজাহানপুরে গ্রামের বাড়ি ফেরার পথে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ব্র্যাকের এক কর্মী ও তার চার বছরের মেয়ে নিহত হন। নওগাঁর পত্নীতলায় ডাম্প ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে ইজিবাইকের চালকসহ দুজনের মৃত্যু হয়।
২৬ মে কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে চালবোঝাই পিকআপের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে একই পরিবারের তিনজন নিহত হন। একই দিনে বরিশালের গৌরনদীতে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলে থাকা একই পরিবারের তিন সদস্য প্রাণ হারান। সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় বাসচাপায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত হন।
২৭ মে রাজধানীর নদ্দা নতুন বাজার এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি বাস সড়ক বিভাজক ভেঙে আরেকটি বাসে ধাক্কা দিলে ৪ জন নিহত ও ১০ জন আহত হন। একই রাতে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই চালক নিহত এবং দুই আরোহী আহত হন।
ঈদের দিনে ১৮ মৃত্যু: ঈদের দিন ২৮ মে বিভিন্ন জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটে। ১৮ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি এদিন আহত হন আরও ৩০ জন।
ঈদের দিন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বেদগ্রামে বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৫ জন নিহত এবং অন্তত ২০ জন আহত হন। দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে সিএনজিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় দুই শিশু নিহত হয়। নরসিংদীর শিবপুরে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে দুই তরুণের মৃত্যু হয়।
পটুয়াখালীর গলাচিপায় অটোরিকশার সঙ্গে ধাক্কা লেগে মোটরসাইকেলে থাকা দুই কিশোর নিহত হয়। বগুড়ার শেরপুরে তিন মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে দুই তরুণের মৃত্যু এবং চারজন আহত হন। টাঙ্গাইলের সখীপুরে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী
নিহত হন। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে বাস ও লেগুনার সংঘর্ষে চারজনের মৃত্যু হয় এবং কয়েকজন আহত হন।
২৯ মে ঝিনাইদহ শহরে ট্রাফিক পুলিশের তল্লাশিচৌকি দেখে পালাতে গিয়ে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হন। একই দিন বগুড়ার কাহালুতে দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন।
৩০ মে ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও পিকআপের সংঘর্ষে বাবা ও তার শিশুপুত্র নিহত হন। নরসিংদীর শিবপুরে প্রাইভেট কারের সঙ্গে সংঘর্ষে অটোরিকশার চালকসহ দুজন নিহত হন। এ ছাড়া আগের দিন মাধবদীতে বাসচাপায় নিহত হন এক মোটরসাইকেল আরোহী।
একই দিনে ঈশ্বরগঞ্জে মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে এক তরুণ নিহত হন। চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেল গাছে ধাক্কা দিলে দুই বন্ধু প্রাণ হারান।
দীর্ঘমেয়াদি ‘সেফটি কালচারে’ জোর: সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কেবল ঈদকেন্দ্রিক তোড়জোড় না করে দীর্ঘমেয়াদি ‘সেফটি কালচার’ বা নিরাপত্তাকে অভ্যাসে পরিণত করার ওপর জোর দিয়েছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান। তিনি মনে করেন, পুরো বছর সড়কে বিশৃঙ্খলা জিইয়ে রেখে ঈদের সময়ে সেটি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।
মো. হাদিউজ্জামান বলেন, সেফটি এমন নয় যে সারা বছর আপনি সড়কে উচ্ছৃঙ্খলতা, বিশৃঙ্খলা রাখবেন আর ঈদের সময় হুঁশিয়ারি দেবেন, রাতারাতি সব পরিবর্তন হয়ে যাবে— বিষয়টা এ রকম না। এটা একটা চর্চার বিষয়।
সড়কের ওপর থেকে চাপ কমাতে এবং মানুষের ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা বন্ধ করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রেলের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ দেন মো. হাদিউজ্জামান।
একের পর এক যান্ত্রিক ত্রুটি, অগ্নিকাণ্ড আর প্রযুক্তিগত নানা জটিলতায় জর্জরিত হয়ে সরকারের জন্য এক বিশাল লোকসানের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে হবিগঞ্জের মাধবপুরে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শাহজীবাজার বিদ্যুৎকেন্দ্রটি। ফলে আলোর এই প্রকল্পটি নিজেই রয়েছে অন্ধকারে।
দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পের একাধিক ইউনিট আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ থাকায় পূর্ণ ক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না। ফলে সরকারের সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ইতোমধ্যেই ৪০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রটির প্রধান দুটি ইউনিটের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় প্রতিদিন সরকারের সম্ভাব্য লোকসান হচ্ছে প্রায় ১৮ কোটি টাকা। দীর্ঘ ছয় বছরের অচলাবস্থা, উৎপাদন ঘাটতি এবং বারবার মেরামতের খরচের কারণে এই ক্ষতির পরিমাণ দিন দিন বেড়েই চলেছে।
১০০ মেগাওয়াট কেন্দ্রের অচলাবস্থা ও ৪ হাজার কোটির ক্ষতি ২০১৭ সালে প্রায় ৮৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে শাহজীবাজারে ১০০ মেগাওয়াট গ্যাস টারবাইন বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২০ সালে এটি চালু হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হয়নি। পরে যখন পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হয়, তখনই ঘটে বিপত্তি—ভেঙে যায় টারবাইনের ব্লেড। এরপর একাধিকবার মেরামত করা হলেও সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি। সর্বশেষ ২০২৪ সালের এপ্রিলে আবারও একই ত্রুটি দেখা দিলে কেন্দ্রটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ইউনিটটি নিয়মিত চালু থাকলে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি টাকার বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হতো। অথচ দুর্ভাগ্যজনকভাবে, গত ছয় বছরে এটি মাত্র ৬৭ দিন চালু ছিল। ফলে শুধু এই একটি ইউনিট থেকেই দেশের সম্ভাব্য ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা।
প্রকল্প ব্যবস্থাপক এ কে মফিজউদ্দিন আহমেদ জানান, প্রকল্পের মোট বিলের প্রায় ৭০ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ৬০০ কোটি টাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পরিশোধ করা হয়েছে। তবে কাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় বাকি ৯০ কোটি টাকা আটকে রাখা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই টারবাইনটি সফলভাবে ব্যবহৃত হলেও এখানে কেন বারবার সমস্যা হচ্ছে, তা বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা করে দেখছেন। তবে বর্তমানে মেরামতের কাজ চলছে এবং আগামী ২৭ জুনের মধ্যে ইউনিটটি পুনরায় চালু করে জাতীয় গ্রিডে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত করার আশা করা হচ্ছে।
৩৩০ মেগাওয়াট প্রকল্প: উদ্বোধনের আগেই বড় ধাক্কা এদিকে, প্রায় ২ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৩৩০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্রটির পরিস্থিতিও বেশ নাজুক। উদ্বোধনের আগেই এর একটি প্রধান ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে যায়। সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ২০২২ সালের মে মাসে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আরও দুটি ট্রান্সফরমার পুড়ে যায়। ফলে শুরুতেই থমকে যায় এর উৎপাদন কার্যক্রম।
বর্তমানে এই কেন্দ্রটির একটি মাত্র ইউনিট থেকে কোনোমতে ১০০ থেকে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে, যা দৈনিক প্রায় ৮ কোটি টাকার সাশ্রয় করছে। কিন্তু বাকি ইউনিটগুলো বন্ধ থাকায় প্রতিদিন আরও ১৬ কোটি টাকার নিশ্চিত সাশ্রয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দেশ। প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান জানান, গত এক মাস ধরে একটি ইউনিট সচল রাখা গেছে এবং বাকিগুলো চালুর চেষ্টা চলছে।
জাতীয় গ্রিডে চাপ বর্তমানে শাহজীবাজার বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট ৪৯০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার বিপরীতে ৩টি আংশিক চালু ইউনিট থেকে মাত্র ১৮৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত এই কেন্দ্রের সবগুলো ইউনিট পূর্ণ শক্তিতে সচল করা না গেলে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপর।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেছেন, দেশের গণমাধ্যম এখন সম্পূর্ণ স্বাধীন। এর প্রমাণ টেলিভিশনের স্ক্রিন ও পত্রিকার পাতাগুলো। তবে কিছু অনলাইন মিডিয়ায় মনের মাধুরী মিশিয়ে ফটোকার্ড বানানো হচ্ছে, রিলসের নামে খন্ডিত বক্তব্য ও ভিডিও প্রচার হচ্ছে। এতে কখনো কখনো ভুল বার্তা যায়। সমাজে বিশৃঙ্খলার সুযোগ তৈরি হয়। ভিউ প্রতিযোগিতার নামে এমন অপসাংবাদিকতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ঈদকে ঘিরে প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া গণমুখী উদ্যোগ সম্পর্কে অবহিত করতে সোমবার (০১ জুন) তার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান আতিকুর রহমান রুমন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, দেশে সুশাসন নিশ্চিত করতে সরকার আন্তরিক। মানুষ যাতে শান্তিতে বাস করতে পারে, সে ব্যাপারে সরকার আন্তরিক। দেশকে এগিয়ে নিতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, ‘আপনারা লক্ষ্য করেছেন, সারা দেশের মানুষ যখন ঈদের আনন্দে ছুটি কাটাচ্ছিলেন, তখনো কাজ করে যাচ্ছিলেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী। তিনি কিন্তু ছুটি কাটাননি। তার টিমের সঙ্গে যারা আছেন তারাও, অর্থাৎ আমরাও কিন্তু ঈদের ছুটির দিনগুলোতে, এমনকি ঈদের দিনেও কাজ করেছি।’
আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ঈদের পরের দিন নিজেই গাড়ি চালিয়ে ঢাকায় কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ঘুরে দেখেছেন। কোথায় পরিষ্কার হয়েছে, কোথায় হয়নি, কোথাও গাফিলতি হয়েছে কি না? এসব ঘুরে ঘুরে দেখেছেন। যেখানে অব্যবস্থাপনা পেয়েছেন, তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছেন এবং গাফিলতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নিয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘আমরা মানুষের সেবায় এভাবে রাতদিন কাজ করে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিনই প্রায় ১২-১৩ ঘণ্টা করে, এমনকি মাঝে মাঝে ১৬ ঘণ্টাও কাজ করে যাচ্ছেন।’
রুমন বলেন, দীর্ঘদিন পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে ঈদুল আজহা উদযাপন করেছেন। তবে এবারের ঈদের আনন্দের মধ্যেও আমাদের মনে ছিল এক ধরনের শূন্যতা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কেন্দ্র করে ঈদের নানা স্মৃতি আমাদের মনে পড়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার এস এ এম মাহফুজুর রহমান, উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ), প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক ও শাহারিয়ার পামির।
চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম। স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক মনোয়ারা বেগম এর কাছ থেকে সোমবার (০১ জুন) সকালে তিনি এই দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
এ উপলক্ষে চট্টগ্রাম ওয়াসার নব নির্মিত ভবনের ৩য় তলায় বোর্ড রুমে কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সদ্য সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ারা বেগমকে বিদায় এবং নবনিযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলমকে বরণ করে নেওয়া হয়।
চট্টগ্রাম ওয়াসার সচিব শাহেদা ফাতেমা চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রাম ওয়াসার বর্তমান ও সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রশাসন/ প্রকৌশল/অর্থ), বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক, প্রধান প্রকৌশলী, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং কর্মকর্তাগন উপস্থিত ছিলেন।
সুপ্রিম কোর্টের ‘বিজয় ৭১’ ভবন থেকে হাইকোর্ট বিভাগের এক কর্মচারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (০১ জুন) বিকেলে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। তার নাম মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন (৪৭)। তিনি হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের বেঞ্চে জমাদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি নেত্রকোণা।
সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ কর্মকর্তা মো. মজহারুল হক বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ভবনের ভেতরে একটি জানালার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় কামাল উদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিকেলে ভবনের এক নিরাপত্তাকর্মী মরদেহটি দেখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছেন। পরে শাহবাগ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে পাঠানো হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ কর্মকর্তা আরও বলেন, মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ বা পরিস্থিতি সম্পর্কে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই সঠিক কারণ জানা যাবে।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হবে। তদন্তে যা পাওয়া যাবে, তার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম নগরের ফয়’স লেক এলাকার একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে এক দম্পতির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (০১ জুন) বেলা ১১টার দিকে ‘রয়েল পার্ক’ নামের একটি হোটেলের কক্ষ থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়।
লাশ দুটি নগরের কোতোয়ালি এলাকার মোহাম্মদ রিপন (৪৭) এবং তার স্ত্রী সোনিয়া আক্তারের (৩০)। তাদের মধ্যে রিপনের লাশ সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এর পাশে খাটে শোয়ানো অবস্থায় পড়ে ছিল তার স্ত্রী সোনিয়ার লাশ।
পুলিশ ও হোটেল কর্তৃপক্ষ জানায়, গত রোববার (৩১ মে) বিকেলে হোটেলের চার তলার কক্ষটিতে ওঠেন ওই দম্পতি। রাত নয়টার দিকেও হোটেলের এক কর্মী ওই কক্ষে পানি পৌঁছে দিতে গিয়েছিলেন। ওই সময় ওই দম্পতি তাকে বলেন, সকাল সাতটায় যাতে তাদের ঘুম থেকে ডেকে দেওয়া হয়। এরপর সোমবার (০১ জুন) সকালে ঘুম থেকে ডাকতে গিয়ে হোটেলের ওই কর্মী দেখতে পান কক্ষের দরজা খোলা। ভেতরে একজনের লাশ ফ্যানে ঝুলছে এবং অন্যজনের লাশ খাটে শোয়ানো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। খাটে পড়ে থাকা সোনিয়ার মুখ দিয়ে ফেনা বের হচ্ছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, রিপন ও সোনিয়া দুজনেরই এটি দ্বিতীয় বিয়ে। বিষয়টি নিয়ে দুজনেই পারিবারিক নানা সমস্যায় ছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুজন আত্মহত্যা করেছেন। তবে দরজা খোলা থাকায় বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। লাশ দুটি সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নগরের আকবর শাহ থানার ওসি কামরুজ্জামান বলেন, ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আলামত সংগ্রহ করেছে। হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে ওই ফ্লোরে (চারতলায়) কোনো সিসিটিভি নেই। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন বিভিন্ন মার্কেটে দোকান বরাদ্দ, পরিচালনা ও টেন্ডার কার্যক্রমে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
সোমবার (০১ জুন) ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
আদেশে বলা হয়, ‘গোলাম কিবরিয়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৭-এর নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) এবং মার্কেট নির্মাণ সেলের নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের একটি স্মারকের পরিপ্রেক্ষিতে ডিএসসিসির বিভিন্ন কার্যক্রম, বিশেষ করে মার্কেটের দোকান বরাদ্দ ও পরিচালনাসংক্রান্ত বিষয়ে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে।’
তদন্তাধীন অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়। অভিযোগগুলোর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও বিভাগীয় কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে সব ধরনের দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
বরখাস্তকালীন সময়ে গোলাম কিবরিয়াকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সচিব দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত শেষে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে রেলক্রসিংয়ে দায়িত্বরত গেটম্যানের অনুপস্থিতি ও রেলগেট খোলা থাকার অভিযোগের মধ্যে একটি ট্রাক্টরের সঙ্গে আন্তনগর কালনী এক্সপ্রেস ট্রেনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ট্রাক্টরচালক আব্দুল কাইয়ুম টিটু (৩০) গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট গেটম্যানকে বরখাস্ত করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (১ জুন) সকাল ৯টার দিকে শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশনের পূর্ব পাশে ভাড়াউড়া চা-বাগান এলাকার ২৯০/৪ নম্বর পিলারসংলগ্ন রেলক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্ঘটনার সময় রেলগেট খোলা ছিল এবং দায়িত্বরত গেটম্যানের ই-৭৩ নম্বর কক্ষটি তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিল। ফলে ইস্পাহানি চা কোম্পানির একটি ট্রাক্টর রেললাইন পার হওয়ার সময় সিলেট থেকে ঢাকাগামী কালনী এক্সপ্রেসের মুখোমুখি পড়ে।
স্থানীয়রা জানান, সংঘর্ষের পর ট্রেনটি প্রায় ১০০ মিটার পর্যন্ত ট্রাক্টরটিকে টেনে নিয়ে যায়। এতে ট্রাক্টরটির ইঞ্জিন দুমড়ে-মুচড়ে কয়েকটি খণ্ডে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ট্রেন কাছাকাছি চলে আসার মুহূর্তে চালক ট্রাক্টর থেকে লাফিয়ে নামার চেষ্টা করলে তিনি মাথা, হাত ও পায়ে গুরুতর আঘাত পান।
আহত টিটু জেরিন চা-বাগানের বাসিন্দা আব্দুল হকের ছেলে। তিনি প্রতিদিনের মতো শ্রমিক আনার উদ্দেশ্যে ভাড়াউড়া চা-বাগানে যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনার পর তাঁকে প্রথমে বাগানের হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বাংলাদেশ রেলওয়ের সিনিয়র উপসহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম জানান, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে অস্থায়ী গেটম্যান ইমরুলকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে ওই গেটম্যান পলাতক রয়েছেন।
তিনি বলেন, ট্রাক্টরটি যদি রেললাইনের মাঝখানে আটকে যেত, তাহলে বড় ধরনের ট্রেন দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারত। সৌভাগ্যবশত বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটেনি।
জেরিন চা-বাগানের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) সেলিম রেজা বলেন, রেলগেটে গেটম্যান না থাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। সংঘর্ষে ট্রাক্টরটি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং চালক বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, দায়িত্বে অবহেলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
রূপগঞ্জের সীমান্তবর্তী গ্রাম মস্তুল ও ডেলনা এলাকায় পৈত্রিক সম্পত্তির ওপর গড়ে ওঠা ‘সবুজ বাংলা মৎস্য খামার’ নামে একটি মাছের খামারে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। দাবি করা চাঁদা না পেলে ওই খামারের মালিককে হত্যার হুমকি দিয়েছে চক্রটি। ওই ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম কাউসার।
ভুক্তভোগী খামারি কাউসারের অভিযোগ, রূপগঞ্জের সীমান্তবর্তী গ্রাম মন্তল ও ডেলনা এলাকায় তাদের পৈত্রিক সম্পত্তিতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ‘সবুজ বাংলা মৎস্য খামার’ নামে একটি মাছের খামার গড়ে তুলেছেন। কয়েক মাস আগে ওই এলাকার সন্ত্রাসী লাইছ উদ্দিনের ছেলে রাকিব ও দুলাল তার কাছে খামার পরিচালনার জন্য তার কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করেন। তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করলে ওই দুজন লোকজন নিয়ে এসে তার খামার থেকে জোর করে মাছ ধরে নিয়ে যায়। এরপর থেকেই খামার কার্যক্রমে বিভিন্ন সময় বাধাদান সহ কর্মচারীদের মারধোর এবং খামারে প্রবেশ করলে কাউসারকে হত্যা করে মাছের খাবার বানানো হবে, খামারে লাশ ডুবিয়ে দেয়া হবে বলে হুমকি দেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রাকিবের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, আমাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমরা কাউক হুমকি বা চাঁদা দাবি করিনি।
এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান বলেছেন, শহীদ জিয়ার আদর্শ ধারণ করতে অদম্য দেশপ্রেম থাকতে হবে। দেশ, দেশের জনগন ও দলের প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ত্যাগ ও পরীক্ষায় উত্তীর্ণরাই ছাত্রদল থেকে গড়ে উঠে বিএনপি’র রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেন। আজকের ছাত্ররাই একদিন বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে।
২৪’ এর জুলাই গণঅভ্যত্থানে চট্টগ্রামের ওয়াসিম আকরাম, মাগুরার মেহেদী হাসান রাব্বি, ঢাকার আরিফুর রহমান রাসেলসহ সারাদেশে ছাত্রদলের অন্তত ১৪৪জন শহীদ হয়ে প্রমাণ করেছে বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ছাত্রদল অতুলনীয় ভূমিকা রাখে। ছাত্রদলের দায়িত্ব এখনো শেষ হয়ে যায়নি।
শহীদ জিয়াউর রহমান বীরউত্তম এঁর হাতে গড়া দল বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনা করছে, তাই ছাত্রদলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধভাবে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। প্রতি ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। শহীদ জিয়ার স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে তাঁর সুযোগ্য উত্তরসূরী বিএনপি চেয়ারম্যান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে হবে।
খুলনা জেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। মহান স্বাধীনতার ঘোষক বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীরউত্তম এঁর ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার (০১ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় নগরীর কেডি ঘোষ রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ে রক্তদানের পূর্বে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান আরও বলেছেন, ৩০ মে জাতীয় ইতিহাসে এক বেদনাবিধুর দিন। ১৯৮১ সালের ৩০ মে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীরউত্তমকে দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে যখন দিশেহারা বাঙালি জাতি মুক্তির জন্য সংগ্রাম করছিল, তখন ২৫ শে মার্চের কালরাতে পাকিস্তান বাহিনীর বিরুদ্ধে জিয়াউর রহমান কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তিনিই ঐতিহাসিক স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তিনি নিজে রণাঙ্গনে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করেছেন এবং ‘জেড ফোর্স’ (ত ঋড়ৎপব) গঠন করে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন। একজন সেক্টর কমান্ডার এবং পরবর্তীতে একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তিনি সবসময় দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধিকারের পক্ষে অটল ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব (ভারপ্রাপ্ত) ও জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী। তিনি বলেন, খুলনা জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের কোনো স্তরে গ্রুপিং দেখতে চাই না। সকলকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিটি ইউনিট শক্তিশালী করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকলে সংগঠন দুর্বল হয়ে যায়, বিএনপি চেয়ারম্যান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়টি আমলে নিয়ে সারাবছরই ঘরগোছানোর কাজে গুরুত্বারোপ করেছেন। মনে রাখতে হবে, ফ্যাসিবাদের পতন হলেও ফ্যাসিষ্টদের মাথা চাড়া দিয়ে উঠার আশঙ্কা রয়েছে। একইভাবে মৌলবাদী গোষ্ঠির অপপ্রচার ও ভ্রান্ত রাজনীতির কারণে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হতেও পারে; সে জন্য ছাত্রদলতে ঐক্যবদ্ধভাবে সংগঠিত থাকতে হবে- দেশবিরোধী সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিতে। তবে শহীদ জিয়ার আদর্শ বাস্তবায়ন হবে।
খুলনা জেলা প্রশাসক এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী আরও বলেন, শহীদ জিয়া শুধু একজন সফল সৈনিকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক। ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে তিনি বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের ভিত্তি স্থাপন করেন। শহীদ জিয়ার জীবনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল তাঁর সর্বোচ্চ সততা ও দেশপ্রেম। একজন প্রেসিডেন্ট হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনা করেও তিনি সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত জীবন-যাপন করেছেন। আজকের এই দিনে দাঁড়িয়ে শুধু স্মৃতিচারণ করাই আমাদের একমাত্র দায়িত্ব নয়। শহীদ জিয়ার আদর্শ, সততা, ও সাহসিকতা বুকে ধারণ করে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তাঁর দেখানো পথ ধরে দেশের সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাওয়াটাই হবে তাঁর প্রতি আমাদের শ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধাঞ্জলি।
খুলনা জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক মোঃ আবু জাফরের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত জেলা বিএনপি’র সদস্য কেএম আশরাফুল আলম নান্নু, দাকোপ উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব আব্দুল মান্নান খান, চালনা পৌরসভার সাবেক আহবায়ক শেখ মোজাফফার হোসেন, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহবায়ক মো. মাকসুদ আলম, ইমতিয়াজ আলী সুজন, কাজী রিয়াজুল ইসলাম বাবু ও মোস্তাক আহমেদ, জেলা ছাত্রদলের সম্মানিত সদস্য বিএম সাজেদ হোসেন সজল, ইয়াসির আরাফাত, সাব্বির আলম বাবু, ছাত্রদল নেতা সোহান মোল্ল্যা, কাজী জাকারিয়া, সংগ্রাম মাদবর, রাতুল ঢালী, মেহেদী হাসান, আব্দুল্যাহ, বায়েজিদ বিশ্বাস, রাহাদ হোসেন, শুভ মোড়ল, মুক্তাদির, ওসমান গনি, তসলিম হাসান নাঈম, সিয়াম, সাইমন ও রাজ্জাক প্রমুখ।
পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন মানুষ। ঈদের ছুটি শেষ হওয়ায় রাজশাহী থেকে শুরু হয়েছে ফিরতি যাত্রা। রেলস্টেশন ও বাস টার্মিনালগুলোতে দেখা যাচ্ছে কর্মস্থলমুখী যাত্রীদের ভিড়। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাওয়ার জন্য সকাল থেকেই ট্রেন ও বাসে উঠছেন যাত্রীরা।
ফিরতি যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে রেলওয়ে ও পরিবহন কর্তৃপক্ষ বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। অতিরিক্ত নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।তবে যাত্রীদের চাপ বাড়লেও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো ভোগান্তির খবর পাওয়া যায়নি। রাজশাহী রেল স্টেশন ম্যানেজার জিয়াউল আহসান জানান, এবারের ঈদে ট্রেন চলাচলে কোনো ধরনের বড় শিডিউল বিপর্যয় বা দুর্ঘটনা ঘটেনি। গত ২৩ তারিখ থেকে শুরু হওয়া ঈদের বিশেষ ট্রেন চলাচলের এ কর্মসূচি আগামী ৩ তারিখে শেষ হতে যাচ্ছে।
যাত্রীদের চাপ সামলাতে বিশেষ কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে এবারের ঈদ যাত্রা বেশ সফল ও নিরাপদ হচ্ছে।
তিনি আরোও জানান এবারের ঈদে ট্রেনগুলো বেশ সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে যাতায়াত করেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১০ থেকে ২০ মিনিটের মতো সামান্য বিলম্ব হলেও, তা পরবর্তী সময়ে সমন্বয় (মেকআপ) করে নেওয়া হয়েছে। কোনো বড় ধরনের শিডিউল বিপর্যয় বা দুর্ঘটনা ছাড়াই জনগণ এবার ভালোভাবে ঈদ উদযাপন ও যাতায়াত করতে পেরেছেন।
প্রতি বছরের মতো এবারও রেলযাত্রায় যাত্রীদের ব্যাপক চাপ ছিল। এই চাপ এড়াতে ঈদের আগ পর্যন্ত ট্রেনগুলোর নিয়মিত ‘অফ ডে’ (সাপ্তাহিক ছুটি) বহাল রাখা হয়েছিল। এছাড়া ঈদের পর যাত্রীদের অতিরিক্ত ভিড় সামাল দিতে প্রতিটি ট্রেনে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রতিটি ট্রেনে একটি এসি এবং একটি শোভন চেয়ার কোচসহ মোট দুটি অতিরিক্ত গাড়ি বা কোচ যুক্ত করা হয়েছে। এই বাড়তি কোচগুলোর কারণেই ট্রেনের ধারণক্ষমতা বেড়েছে এবং যাত্রীদের চাপ সফলভাবে কভার করা সম্ভব হচ্ছে।
শুধুমাত্র সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ছাড়া সকাল থেকে সময়মতো ট্রেন ও বাস ছেড়ে যাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা।
সীতাকুণ্ডে সড়ক দুর্ঘটনায় ১ নারী নিহত হয়েছে আহত হয়েছে ২৫ জন । গত রবিবার রাত নয়টা চল্লিশে যাত্রীবাহী বাস, ডাম্প ট্রাক, মাইক্রোবাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মধ্যে চতুর্মুখী সংঘর্ষ হয় ।
গত রবিবার (৩১ মে) রাত নয়টা চল্লিশে সীতাকুণ্ড উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বাড়বকুণ্ড বাজার এলাকায় চট্টগ্রামমুখী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দূর্ঘটনায় নিহত নারীর নাম জারিয়া বেগম (৪৫)। তিনি উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের স্হানীয় মিয়ারজীপাড়া এলাকার জহুরুল আলমের স্ত্রী।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্হানীয় সূত্রে জানাগেছে, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামমুখী সৌদিয়া পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস দ্রুত গতিতে বাড়বকুণ্ড বাজার এলাকা অতিক্রমকালে মহাসড়কে ওঠা একটি যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এ সময় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা জারিয়া বেগম বাসের চাপায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
দুর্ঘটনার পর বাসটি মহাসড়কের মাঝখানে দাঁড়িয়ে যায় । সাথে সাথে একইমুখী একটি ডাম্প ট্রাক বাসটির পেছনে ধাক্কা দেয়। পরে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পূর্ব পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায়। ট্রাকটি রাস্তার পাশের মোহাম্মদীয়া বেকারির ভেতরে আংশিক ঢুকে পড়ে।
এতে বাস, মাইক্রোবাস ও অটোরিকশার যাত্রী, পথচারীসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছে । এই ঘটনায় ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘক্ষন যানযটের সৃষ্টি হয়।
বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম হক বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর সীতাকুণ্ড এবং কুমিরা ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে সীতাকুণ্ড সাস্হ্য কমপ্লেক্স সহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মহাসড়ক থেকে দুর্ঘটনাকবলিত বাস, মাইক্রোবাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ডাম্প ট্রাক সরিয়ে যান চলাচলে স্বাভাবিক করা হয়েছে। রাতেই পলাতক চালকদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে ।