বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
৩০ বৈশাখ ১৪৩৩

বিশ্বের দীর্ঘতম আলপনা আঁকা হচ্ছে হাওরের অলওয়েদার সড়কে

আপডেটেড
১৩ এপ্রিল, ২০২৪ ১৫:৫৪
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৩ এপ্রিল, ২০২৪ ১৫:৪৬

বাঙালির আবহমান ও সমৃদ্ধশালী সংস্কৃতিকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে আয়োজিত হচ্ছে ‘আল্পনায় বৈশাখ ১৪৩১' উৎসব। আলপনার রঙে রাঙানো হচ্ছে মিঠামইন-অষ্টগ্রাম হাওরের ১৪ কিলোমিটার সড়ক।

শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টায় কিশোরগঞ্জের মিঠামইন জিরোপয়েন্ট এলাকায় আলপনা আঁকার উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি আসাদুজ্জামান নূর এমপি।

নতুনরূপে সাঁজবে হাওর, সেই আনন্দে ভাসছে এই জনপদের বাসিন্দারা। মিঠামইন উপজেলার কুলাহানি গ্রামের বাসিন্দা তোফায়েল আহমেদ সাকিব বলেন, 'একটা সময় ছিল দাওয়াত করেও আমাদের বন্ধুদের হাওরে আনতে পারতাম না আর এখন যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল হওয়ায় হাওরে সারাবছরই শহরের মানুষের ভীড় লেগেই থাকে। সাকিব আরও বলেন, দীর্ঘ এই আলপনার ফলে হাওরে পর্যটকের ভীড় আরও বাড়বে সেইসাথে হাওরের এই সড়কটি গিনেজ বুক অফ ওয়ার্ল্ডে স্থান করে নিবে। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের এবং আনন্দের।'

অষ্টগ্রাম উপজেলার ভাতশালা গ্রামের বাসিন্দা আতিকুল ইসলাম বলেন, 'এক সময়ের অবহেলিত হাওর এখন সারাদেশের মানুষের পছন্দের জায়গা। হাওর এখন একটা সময়ে হাওরে বাড়ি বললে মানুষে অবজ্ঞা করতো, আর এখন সম্পর্ক গড়ে। আমার জন্মটা হাওরে হওয়ায় আমি গর্ববোধ করি।'

কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক বলেন, 'এক সময়ের অবহেলিত হাওর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার সুদৃষ্টিতে এবং ব্যাপক উন্নয়নের ফলে সারাদেশের মানুষের অত্যন্ত পছন্দের জায়গায় পরিণত হয়েছে। হাওরের বিভিন্ন এলাকায় সাবমার্সেবল সড়কসহ সারাবছর চলাচলের জন্য অলওয়েদার সড়ক নির্মিত হয়েছে। এই অলওয়েদার সড়কটি দেখতে আসেননি এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম।'

তিনি বলেন, 'আগে এই সড়কটির সৌন্দর্য কেবল দেশের মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকত এখন সেটি বিশ্ব দরবারে স্থান করে নিতে যাচ্ছে। বিষয়টি আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের এবং আনন্দের।'

সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, 'বিশ্বরেকর্ড গড়ার অদম্য এই প্রচেষ্টা দেশের ভাবমূর্তি উজ্জল করবে, সম্প্রীতির আরো সুদৃঢ় হবে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ গিনেজ বুক অফ ওয়ার্ল্ডে বিশ্বের সর্ববৃহৎ আলপনা'র স্বীকৃতি পাবে, কিশোরগঞ্জ হাওরাঞ্চল বিশ্ববাসীর নিকট নতুনভাবে পরিচিত হবে। পর্যটন শিল্প আরো বিকশিত হবে।'

কিশোরগঞ্জ হাওরাঞ্চলে বাঙালি লোকসংস্কৃতি তুলে ধরতে, এশিয়াটিক এক্সপেরিয়েনশিয়াল মার্কেটিং লিমিটেড, বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশনস লিমিটেড ও বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে মিঠামইন জিরোপয়েন্ট থেকে অষ্টগ্রাম জিরোপয়েন্ট পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার সড়কে ৬৫০জন শিল্পী সর্ববৃহৎ আল্পনা উৎসব 'আল্পনায় বৈশাখ ১৪৩১' শুরু করেছেন।

কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহমদ তৌফিকের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার প্রধান (ডিবি) হারুন অর রশিদ; কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ, জেলা পরিষদ প্রশাসক এড. জিল্লুর রহমান, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ, মিঠামইন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. এরশাদ মিয়া, বরেণ্য শিল্পী মো. মনিরুজ্জামান; বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের চিফ অপারেটিং অফিসার ও ডিরেক্টর মো. মহসিন হাবিব চৌধুরী ও বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশনস লিমিটেডের চিফ হিউম্যান রিসোর্স অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অফিসার মনজুলা মোরশেদ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।


অটিজম অভিশাপ নয়, প্রতিবন্ধিতার বিশেষ রূপ: নীলফামারী জেলা প্রশাসক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নীলফামারী প্রতিনিধি

‘অটিজম কোনো অভিশাপ নয়, বরং এটি প্রতিবন্ধিতার একটি বিশেষ রূপ। তাই অটিজম আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে হতাশ না হয়ে তাদের প্রতি পরিবার ও সমাজকে আরও যত্নশীল হতে হবে।’ বুধবার (১৩ মে) দুপুরে নীলফামারী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সভাকক্ষে ১৯তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান।

এদিন ‘অটিজম কোনো সীমাবদ্ধতা নয়—প্রতিটি জীবন মূল্যবান’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নীলফামারীতে ১৯তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস পালিত হয়েছে। জেলা প্রশাসন, জেলা সমাজসেবা কার্যালয় এবং প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা ও হুইলচেয়ার বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান।

অনুষ্ঠানে বক্তারা নীলফামারী জেলা শহরে অটিজম ও প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য একটি আধুনিক বিশেষায়িত বিদ্যালয় এবং কেয়ার সেন্টার প্রতিষ্ঠার জোর দাবি জানান।

জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নুসরাত ফামেতার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ। হাসপাতাল সমাজসেবা কর্মকর্তা নুর নাহার নূরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা হৃদয় হোসেন। এ ছাড়াও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আতিউর রহমান শেখ অটিজম বিষয়ে একটি তথ্যবহুল উপস্থাপনা প্রদান করেন।

আরও বক্তব্য দেন জেলা প্রতিবন্ধীবিষয়ক কর্মকর্তা শাহজাহান আলী, সাংবাদিক নুর আলম, হাজীগঞ্জ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাসুদা আক্তার মিনি এবং অভিভাবক প্রতিনিধি রেখা ইয়াসমিন।

আলোচনা সভার আগে জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বর থেকে একটি র‍্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। অনুষ্ঠান শেষে জেলা প্রশাসক প্রধান অতিথি হিসেবে ১০ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির হাতে উন্নতমানের হুইলচেয়ার তুলে দেন।


বগুড়ায় ৩০ কেজি ওজনের বিষ্ণুমূর্তি উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বগুড়া প্রতিনিধি

বগুড়ায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে প্রায় ৩০ কেজি ৭০০ গ্রাম ওজনের একটি মূল্যবান কষ্টি পাথরের বিষ্ণুমূর্তি উদ্ধার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১২) রাত ৯টার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলার গড়মহাস্থান দক্ষিণপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মূর্তিটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মূর্তিপাচার চক্রের দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তাররা হলেন- রফিকুল ইসলাম (৫৪), পিতা: মৃত আব্দুল হামিদ, গ্রাম: গড়মহাস্থান দক্ষিণপাড়া, শিবগঞ্জ। নাহিদুর রহমান (৩২), গ্রাম: নিশিন্দারা পশ্চিমপাড়া, বগুড়া সদর।

বুধবার (১৩ মে) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা গোয়েন্দা শাখার ওসি ইকবাল বাহার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি দল রফিকুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালায়। তল্লাশিকালে বাড়ি থেকে মূল্যবান কষ্টি পাথরের একটি মূর্তি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, উদ্ধার বিষ্ণুমূর্তির দৈর্ঘ্য ৩০ ইঞ্চি এবং প্রস্থ ১৪ ইঞ্চি। এর মোট ওজন ৩০ কেজি ৭০০ গ্রাম।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংগ্রহ করে বিদেশে পাচার করে আসছিল। উদ্ধারকৃত মূর্তিটি ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে সেখানে মজুত রাখা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ওসি আরও জানান, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে শিবগঞ্জ থানায় চোরাচালানবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী উদ্ধার মূর্তিটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হবে।


বিদেশে পালানো হলো না: গৃহবধূকে ব্ল্যাকমেইল করা সেই ‘খাদেম’ এখন পুলিশের খাঁচায়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় এক গৃহবধূকে ধর্ষণ এবং গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগে শাহ আজম প্রান্ত (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টায় ছিলেন।

গ্রেপ্তার শাহ আজম প্রান্ত উপজেলার পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়নের মহিষবের গ্রামের ‘বিশ্ব রাহে রাজ ভাণ্ডার দরবার শরিফের’ খাদেম। সম্পর্কে তিনি ভুক্তভোগী গৃহবধূর চাচাতো দেবর।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী দীর্ঘ দিন ধরে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। স্বামী প্রবাসে থাকায় তিনি শ্বশুরবাড়িতেই থাকতেন। এই সুযোগে দেবর প্রান্ত তাকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল।

গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর ‘থার্টিফার্স্ট নাইট’ উপলক্ষে বারবিকিউ পার্টির কথা বলে ওই গৃহবধূকে নিজের ঘরে ডেকে নেয় প্রান্ত। সেখানে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় এবং অত্যন্ত সুকৌশলে পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হয়।

ব্ল্যাকমেইল ও হুমকি: ধর্ষণের পর ঘটনাটি কাউকে না জানাতে বলে ও গৃহবধূকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় প্রান্ত। এমনকি ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে এবং সংসার ভেঙে যাওয়ার ভয় দেখিয়ে দীর্ঘদিন তাকে মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য করা হয়।

আইনিব্যবস্থা: অবশেষে নিরুপায় হয়ে গত মার্চ মাসে ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে পাকুন্দিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই প্রান্ত এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাকুন্দিয়া থানা পুলিশ জানতে পারে, অভিযুক্ত প্রান্ত বিদেশে পালানোর পরিকল্পনা করছেন। গত মঙ্গলবার রাতে বিমানবন্দর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।

পাকুন্দিয়া থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।


অটিজম সচেতনতা দিবসে পিরোজপুরে বর্ণাঢ্য র‌্যালি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
​পিরোজপুর প্রতিনিধি

‘অটিজম কোনো সীমাবদ্ধতা নয়—প্রতিটি জীবন মূল্যবান’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পিরোজপুরে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। বুধবার (১৩) সকালে পিরোজপুর জেলা প্রশাসন, জেলা সমাজসেবা কার্যালয় এবং প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে দিবসটি উদযাপিত হয়।

‎​দিবসটি উপলক্ষে সকালে পিরোজপুর সার্কিট হাউস থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে এসে শেষ হয়। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক-সাইফ মিজান স্মৃতি সভাকক্ষে এক আলোচনা সভা হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে স্থানীয় বিভিন্ন অটিস্টিক শিশু ও তাদের অভিভাবকরা অংশগ্রহণ করেন। শিশুদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি পুরো আয়োজনে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।

‎​পিরোজপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. ইকবাল কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আলাউদ্দীন ভূঞা জনী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. ইব্রাহিম খলিল এবং ডেইলি অবজারভার-এর পিরোজপুর প্রতিনিধি জিয়াউল আহসান।

‎​প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলাউদ্দীন ভূঞা জনী বলেন, ‘অটিস্টিক শিশুরা আমাদের সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তারা সমাজের বোঝা নয়, বরং সঠিক পরিচর্যা, বিশেষ শিক্ষা এবং সহমর্মিতা পেলে তারাও দেশের সম্পদে পরিণত হতে পারে। অটিজম কোনো রোগ নয়, এটি একটি বিশেষ অবস্থা যা আমাদের সম্মিলিত সচেতনতার মাধ্যমে মোকাবিলা করতে হবে।’

‎​অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মাসুম বিল্লাহ এবং গীতা পাঠ করেন অমল চন্দ্র রায়।

জেলা প্রতিবন্ধীবিষয়ক কর্মকর্তা প্রিয়ংবদা ভট্টাচার্যের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ব্র্যাক ডিস্ট্রিক্ট কো-অর্ডিনেটর মো. জাহিদুল ইসলাম এবং পজিটিভ পিরোজপুরের সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান।


কুমিল্লায় বিদেশি মদ ও ইয়াবাসহ আটক ২

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা (দক্ষিণ) প্রতিনিধি

কুমিল্লার বাঙ্গরা বাজার থানার হায়দরাবাদ উত্তর পাড়ায় পুলিশের এক বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানে বিদেশি মদ, ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে এক আসামি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. আল আমিন (৩৪), পিতা মো. আবু তাহের মিয়া। মো. হাবিবুর রহমান ওরফে হাবু মিয়া (৭০), পিতা মৃত তবদুল হোসেন। এই ঘটনায় পলাতক আসামি হিসেবে খায়ের মিয়াকে (৬৫) অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্ত সকলের বাড়িই বাঙ্গরা বাজার থানার হায়দরাবাদ এলাকায়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, একটি সাধারণ ডায়েরির সূত্র ধরে বাঙ্গরা বাজার থানার এসআই রিয়াজুল মোস্তফা ও এএসআই মো. আল আমিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল গত মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে হায়দরাবাদ উত্তর পাড়ায় অভিযান শুরু করে। এ সময় ওই এলাকার খায়ের মিয়ার বসতবাড়ি ঘেরাও করা হয়।

তল্লাশি চলাকালীন আসামি মো. আল আমিনের (৩৪) কাছ থেকে ২ বোতল বিদেশি মদ এবং মো. হাবিবুর রহমান ওরফে হাবু মিয়ার (৭০) কাছ থেকে ১২ পিস ইয়াবা ও একটি বাটন মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া পলাতক আসামি খায়ের মিয়ার ঘর থেকে আরও ৬ বোতল বিদেশি মদ ও মাদক বিক্রির নগদ ২৩ হাজার টাকা জব্দ করে পুলিশ। সব মিলিয়ে মোট ৮ বোতল (প্রায় ২.৭২৫ লিটার) বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়েছে।


সোনারগাঁয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যান্টিনে বিস্ফোরণ, ১২ জন দগ্ধ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যান্টিনে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ১২ জন কর্মকর্তা-কর্মী দগ্ধ হয়েছেন। দগ্ধদের উদ্ধার করে দ্রুত রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জেলার সোনারগাঁয়ে জেরা মেঘনাঘাট বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যান্টিনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন— নাজমুল শেখ, সাইফুল ইসলাম, রামিজুল, আমির, শঙ্কর, কাউসার, তুহিন শেখ, মনির হোসেন, আল-আমিন, ওসমান গনি, সুপ্রভাত ঘোষ ও বদরুল হায়দার।

হাসপাতাল ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, দুপুরে জেরা মেঘনাঘাট বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিজস্ব ক্যান্টিনে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বুফে খাবার খাচ্ছিলেন। এ সময় ক্যান্টিনের ভেতরে জমে থাকা গ্যাস থেকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে সেখানে থাকা ১২ জনের হাত, মুখ ও পা দগ্ধ হয়।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, দুপুরে দগ্ধ অবস্থায় ১২ জন হাসপাতালে এসেছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজনের শরীরের তিন থেকে পাঁচ শতাংশ এবং বাকি সাতজনের ১২ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত পুড়ে গেছে। দগ্ধদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

বার্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘এ ঘটনায় কেউ মারা না গেলেও দগ্ধদের ছয়জনের শরীর আশঙ্কাজনকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’ তিনি জানান, বর্তমানে একজন আইসিইউতে ও দুজন এইচডিইউতে চিকিৎসাধীন।

এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন এবং জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত দগ্ধদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে হাসপাতালে যান। এ সময় মন্ত্রীরা দগ্ধদের খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন। দ্রুত ও সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিতসহ এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দেন তারা। তারা জানান, আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিতে সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়ে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন বলেও জানান মন্ত্রী।

বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্যাস লিকেজের কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত করা হচ্ছে। বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।


বাবার পর না ফেরার দেশে মেয়েও

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনায় বাবা মীর কালামের (৩৫) পর মৃত্যু হয়েছে মেয়ে কথারও (৪)। জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সন্ধ্যায় শিশুটি মারা গেছে। এর আগে গত সোমবার মারা যান শিশুটির বাবা মীর কালাম।

ফতুল্লা গিরিধারা এলাকার গ্রাম বাংলা টাওয়ারের সামনের বাড়িতে গত রোববার সকাল ৭টার দিকে বিস্ফোরণের ওই ঘটনা ঘটে। এতে একই পরিবারের পাঁচজন দগ্ধ হন। দগ্ধরা হলেন- সবজি বিক্রেতা মীর কালাম (৩৫), তার স্ত্রী সায়মা (৩২), তাদের ছেলে মুন্না (১২), দুই মেয়ে কথা (৪) ও মুন্নি (৭)।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান বলেন, ‘ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ (বুধবার) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে শিশু কথা মারা গেছে। তার শ্বাসনালিসহ শরীরের ৫২ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। বর্তমানে সায়মা, মুন্না ও মুন্নি চিকিৎসাধীন আছে। তাদের মধ্যে সায়মার শরীরের ৬০ শতাংশ, মুন্নার ৩০ শতাংশ ও মুন্নির ৩৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাদের সবার অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক।’

গত রোববারের ওই বিস্ফোরণের পর দগ্ধ পাঁচজনকে হাসপাতালে নেওয়া প্রতিবেশী মো. হাসান জানান, সকাল ৭টার দিকে ওই বাসায় হঠাৎ বিস্ফোরণ হয়। শব্দ শোনে আশপাশের লোকজন গিয়ে দেখেন, ঘরের ভেতর আগুন জ্বলছে। তখন ভেতর থেকে তাদের পাঁচজনকে উদ্ধার করা হয়। সঙ্গে সঙ্গে নেওয়া হয় বার্ন ইনস্টিটিউটে। তিনি জানান, ধারণা করা হচ্ছে বাসার গ্যাস লিকেজ থেকে এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তাদের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফলের বালুকদিয়ে গ্রামে।


সান্তাহারে দেড় যুগ ধরে অবরুদ্ধ ৪০ পরিবার, মরদেহ বের করার জায়গাটুকুও নেই!

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি

বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহার পৌর শহরের বশিপুর এলাকায় দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে সংস্কার হয়নি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকীর্ণ সড়ক। দীর্ঘদিন সংস্কারহীন পড়ে থাকায় রাস্তাটি বর্তমানে চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে শিক্ষার্থী, রোগী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নিয়মিত পৌর কর পরিশোধ করলেও তারা ন্যূনতম নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

এই অবস্থায় দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এলাকাবাসী।

অবরুদ্ধ ৪০ পরিবার: অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৮ বছর আগে বশিপুর এলাকায় জনৈক এক ব্যক্তি সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করে বাড়ি নির্মাণের সময় চলাচলের পর্যাপ্ত রাস্তা রাখেননি। ফলে বর্তমানে ওই এলাকার প্রায় ৪০টি পরিবার কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন এলাকার শারীরিক প্রতিবন্ধীরা। রাস্তা সংকীর্ণ হওয়ায় তাদের হুইলচেয়ার বা স্বাভাবিক চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

মানবিক সংকট: এলাকাবাসী জানান, রোগীদের জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়া বা অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশের কোনো পথ নেই। এমনকি কোনো ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলে মরদেহ খাটিয়ায় করে নিয়ে যাওয়ার মতো ন্যূনতম জায়গাটুকুও নেই, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। বৃষ্টির দিনে কাদা ও জলমগ্ন অবস্থায় দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়।

এ বিষয়ে আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুমা বেগম বলেন, ‘আমরা অভিযোগটি পেয়েছি। সরেজমিনে এলাকাটি পরিদর্শন করে দ্রুত সমস্যা নিরসনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’


উন্নয়ন প্রচারে সহযোগিতা চাইলেন মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাদারীপুর প্রতিনিধি

সরকারের জনবান্ধব কর্মসূচি ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সাংবাদিকদের আরও জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার। বুধবার (১৩) বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।

জেলা তথ্য অফিসার দেলোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক। ব্রিফিংকালে তিনি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা এবং সংশ্লিষ্ট জেলা তথ্য অফিসের বিগত তিন মাসের কার্যক্রম তুলে ধরেন।

জেলা প্রশাসক তার বক্তব্যে বলেন, ‘বর্তমান সরকারের ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, কৃষক কার্ড ও কৃষিঋণ মওকুফের মতো জনবান্ধব কর্মসূচিগুলোর সুফল সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন করতে হবে। সাংবাদিকরা তাদের লেখনীর মাধ্যমে এসব উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরলে দেশের মানুষ উৎসাহিত হবে এবং প্রশাসনের কাজে গতিশীলতা আসবে।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জুয়েল আহম্মেদ ও মিল্লাত হোসেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া শাবাব, তথ্য কর্মকর্তা বেনজীর আহম্মেদ এবং জেলা ত্রাণ অফিসার প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা।

প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা মাদারীপুর জেলা শাখার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফ ফায়েজুল কবীর, সিনিয়র সাংবাদিক গাউস-উর-রহমান, মাদারীপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সাব্বির হোসাইন আজিজ, ডাসার প্রেসক্লাবের সভাপতি আতিকুর রহমান আজাদ এবং রাজৈর প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম স্থানীয় সাংবাদিক নেতারা।

বক্তারা সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের প্রচার-প্রসারণায় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে জেলা প্রশাসক উপস্থিত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানান।


কুলাউড়াকে উন্নয়নের মডেলে রূপান্তরের অঙ্গীকার এমপি শওকতুলের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য মো. শওকতুল ইসলাম বলেছেন, ‘আগামী ৫ বছরের মধ্যে কুলাউড়া উপজেলার রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন খাতে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোর তুলনায় কুলাউড়া কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত ছিল। সেই পিছিয়ে পড়া জনপদকে উন্নয়নের মূলধারায় ফিরিয়ে আনাই আমার প্রধান লক্ষ্য।’

বুধবার (১৩ মে) দুপুরে কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া এম এ আহাদ আধুনিক কলেজে আয়োজিত এক সংবর্ধনা ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। নারী শিক্ষার্থীদের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে এই সভার আয়োজন করা হয়।

শিক্ষা খাতে বিশেষ গুরুত্ব: শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এ সংসদ সদস্য বলেন, ‘কুলাউড়ার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ইতোমধ্যে ডিও লেটার (DO Letter) পাঠানো হয়েছে। বিশেষ করে পাইকপাড়া এম এ আহাদ আধুনিক কলেজে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে একটি চারতলাবিশিষ্ট নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হবে। এ ছাড়া পর্যায়ক্রমে কলেজের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ এবং বিজ্ঞান শাখা চালুর পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।’

উন্নয়ন ও রাজনৈতিক দর্শন: এমপি শওকতুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, ‘বিএনপি সরকার সবসময়ই উন্নয়নের রাজনীতিতে বিশ্বাসী এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তিনি স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।

পাইকপাড়া এম এ আহাদ কলেজের সভাপতি মেজর (অব.) মো. নুরুল মান্নান চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং প্রভাষক মো. আলাউদ্দিন কবিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সজল, লংলা আধুনিক ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আতাউর রহমান, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. নজমুল হোসেন এবং কলেজের অধ্যক্ষ মো. হানিফ, হাজীপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত বাচ্চু, হাজীপুর ইউনিয়নের সভাপতি মো. ইয়াকুব আলী, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান হেলাল এবং শরীফপুর ইউনিয়নের সভাপতি হারুন আহমেদ।

অনুষ্ঠান শেষে কলেজের শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে সংসদ সদস্যকে বিশেষ সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।


নারায়ণগঞ্জে ডোনাল্ড ট্রাম্প'র পর এবার দেখা মিলল 'নেতানিয়াহু'র

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

গোলাপি কালারের এলভিনো জাতের মহিষটির ওজন প্রায় ৭৬০ কেজির বেশি। চুলের মাঝে সিঁথির ভাঁজ, চোখের আকার ও উগ্র মেজাজের হওয়ায় নাম রাখা হয় ‘নেতানিয়াহু’। ছোট থেকে খাবার দিয়ে বড় করা রাখালদেরই মারতে তেড়ে আসে। স্বভাব চরিত্রের মিল থাকার কারণেই নাম ‘নেতানিয়াহু’। মহিষটি এখন জেলাজুড়ে আলোচনায়। ‘নেতানিয়াহু’র বেড়ে উঠা নারায়ণগঞ্জ বন্দর উপজেলার দাসেরগাঁও এসএস ক্যাটেল ফার্মে। এখানে আরও গরু–মহিষ আছে। সবগুলো গরু–মহিষই বিক্রির পথে।

এসএস ক্যাটেল ফার্মের কর্মচারীরা জানান, মাথায় অল্প চুল, মাঝে সিথির ভাঁজ, চোখের আকার আর উগ্র মেজাজের কারণে যুদ্ধবাজ ‘নেতানিয়াহু’ নামে রাখা হয় মহিষটি নাম। পরিবার, বন্ধুদের নিয়ে ও বিভিন্ন বয়সের মানুষ ফার্মে ছুঁটে আসে একনজর দেখতে ‘নেতানিয়াহু’কে। অনেকে দামও হাঁকছে। তবে এটা ইতোমধ্যে বিক্রি হওয়ার পথে। মহিষটিকে বিভিন্ন ধরনের খাদ্য মিশানো ঘাস, ভুট্টা ও ভুসি খেতে পছন্দ করলেও পাশাপাশি তাকে রাজকীয় খাবার এবং দুই বেলা গোসল করানো হয়। উগ্র মেজাজের হওয়ায় খামারের রাখালরা তার সাথে দুষ্টুমিও করে এবং নাম দেয় নেতানিয়াহু।’

দর্শনার্থীরা জানান, মহিষটির চুল, চোখের আকার ও বদ মেজাজে কারণেই ‘নেতানিয়াহু’ নামটির সাথে মিলে যায়।

এসএস এগ্রো ফার্মের ম্যানেজার মেহেদী হাসান জানান, এলভিনো জাতের এ মহিষটা। এটার লাইভ ওয়েট আছে ৭৬০ কেজির বেশি। মহিষটির মাথায় অল্প চুল, চোখের আকারে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর চেহারার সাথে মিল থাকা এবং স্বভাব চরিত্রের কারণেই তার নাম ‘নেতানিয়াহু’।


চিকিৎসক ও জনবল সংকটে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পঞ্চগড় প্রতিনিধি

সীমান্তবর্তী জেলা পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বর্তমানে তীব্র জনবল সংকটে জর্জরিত। চিকিৎসক থেকে শুরু করে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী—সব পর্যায়েই পদের তুলনায় লোকবল নগণ্য। ফলে সীমিত জনবল দিয়েই হিমশিম খেয়ে সেবা চালিয়ে নিতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।

চিকিৎসক ও টেকনিক্যাল পদের করুণ চিত্র: হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এখানে প্রথম শ্রেণির চিকিৎসকের মঞ্জুরীকৃত পদ ৪২টি। তবে কাগজে-কলমে ২০ জন পদায়িত থাকলেও শূন্য রয়েছে ২২টি পদ। সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে; যেখানে ১১ জনের জায়গায় কর্মরত আছেন মাত্র ১ জন। ১১ জনের কাজ একজনকে করতে হওয়ায় চিকিৎসা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক স্থবিরতা: তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের ২২টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১০ জন। দীর্ঘ দিন ধরে প্রধান সহকারীর পদটি শূন্য থাকায় প্রশাসনিক কাজে দেখা দিয়েছে চরম স্থবিরতা। অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর প্রেমানন্দ রায় জানান, ৬ জন অফিস সহায়কের স্থলে মাত্র ১ জন কর্মরত থাকায় দাপ্তরিক শৃঙ্খলা রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঝুঁকিতে রোগীদের পথ্য ও পরিচ্ছন্নতা: হাসপাতালটিতে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর সংকট এখন চরমে। কুক ও মশালচীর দুটি পদই দীর্ঘ দিন ধরে শূন্য। এতে রোগীদের খাবার সরবরাহ যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া ৫ জন ঝাড়ুদারের মধ্যে একজন প্রেষণে থাকায় হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। ৪ জন ওয়ার্ড বয়ের মধ্যে ২ জন এবং ২ জন আয়ার মধ্যে ১ জন প্রেষণে থাকায় জরুরি বিভাগের সেবার মান নিয়ে রোগীরা অসন্তোষ প্রকাশ করছেন।

বেতনহীন মানবেতর জীবন ও মাঠপর্যায়ের স্থবিরতা: জনবল সংকটের পাশাপাশি যোগ হয়েছে প্রশাসনিক জটিলতা। ইউএইচএফপিও’র জিপচালক এবং যক্ষ্মা ও কুষ্ঠ সহকারীর বেতন দীর্ঘ দিন ধরে বন্ধ থাকায় তারা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এর ফলে মাঠপর্যায়ে তদারকি ও ইপিআই কার্যক্রমসহ স্বাস্থ্য সহকারীদের নিয়মিত কাজগুলো মুখ থুবড়ে পড়ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. লুৎফুল কবীর বলেন, ‘প্রধান সহকারীসহ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো শূন্য থাকায় প্রশাসনিক ও চিকিৎসা সেবা দিতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। সরকারের ঘোষিত এক লাখ জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়ায় বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।’


স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও কাঁচা সড়ক, ভোগান্তিতে ভাঙ্গুড়ার ৩০ হাজার মানুষ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে। উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের বড়পুকুরিয়া থেকে ময়দান দিঘী বাজার পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার রাস্তাটি আজও কাঁচা। সামান্য বৃষ্টিতেই কর্দমাক্ত এই পথটি এখন ১০টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষের জন্য অভিশাপে পরিণত হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কটি ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর ও উল্লাপাড়া—এই তিন থানার সংযোগস্থলে অবস্থিত। প্রতিদিন বড়পুকুরিয়া, দুধবাড়িয়া, রমানাথপুরসহ অন্তত ১৫-১৬টি গ্রামের মানুষ এই পথে যাতায়াত করেন। বর্ষা মৌসুমে হাঁটু সমান কাদা আর জলাবদ্ধতায় ভ্যান, অটোরিকশা বা মোটরসাইকেল চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা। স্থানীয় দুধবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দাখিল মাদ্রাসা ও ময়দান দিঘী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সময়মতো ক্লাসে যেতে পারছে না। আশঙ্কাজনক কোনো রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া এই রাস্তায় প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

কৃষকদের লোকসান: চলনবিল অধ্যুষিত এই এলাকায় প্রচুর ধান ও সরিষা উৎপাদিত হয়। কিন্তু রাস্তার বেহাল দশার কারণে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে পারছেন না। এতে তারা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। স্থানীয় ভ্যানচালক ইন্তাজ বলেন, ‘কাদায় গাড়ি আটকে যায়, ফসল নিয়ে বাজারে যাওয়া যায় না। অসুস্থ রোগী ডাকলেও আমরা ভয়ে আসতে চাই না।’

আক্ষেপ ও জনক্ষোভ: ৯৫ বছর বয়সি বৃদ্ধ মো. গোলবার হোসেন মোল্লা আক্ষেপ করে বলেন, ‘বৃষ্টির সময় রাস্তায় হাঁটা যায় না। রাস্তার এই অবস্থার কথা শুনে ছেলে-মেয়ের বিয়ের সম্বন্ধ পর্যন্ত ভেঙে যায়। বহুবার বলেছি, কিন্তু কেউ কথা শোনেনি।’ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি মেহেদী হাসান বলেন, ‘এই ৩ কিলোমিটার রাস্তা পাকা হলে এলাকার মানুষের ভাগ্যের চাকা ঘুরে যাবে।’

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. ফেরদাউস জানান, নতুন কোনো প্রকল্প আসলে এই রাস্তাটি অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এটি এখনো কোনো প্রকল্পের অধীনে নেই। আমরা বিষয়টিকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেখছি।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান বলেন, ‘সড়কটির অবস্থা সত্যিই নাজুক। আমি স্থানীয় চেয়ারম্যান ও প্রকৌশলীর সাথে কথা বলেছি। এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দূর করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এলাকাবাসীর দাবি, প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি নয়, এবার দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে তাদের এই দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘব করা হোক।


banner close