রোববার, ২৮ জুন ২০২৬
১৪ আষাঢ় ১৪৩৩

বিশ্বের দীর্ঘতম আলপনা আঁকা হচ্ছে হাওরের অলওয়েদার সড়কে

আপডেটেড
১৩ এপ্রিল, ২০২৪ ১৫:৫৪
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৩ এপ্রিল, ২০২৪ ১৫:৪৬

বাঙালির আবহমান ও সমৃদ্ধশালী সংস্কৃতিকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে আয়োজিত হচ্ছে ‘আল্পনায় বৈশাখ ১৪৩১' উৎসব। আলপনার রঙে রাঙানো হচ্ছে মিঠামইন-অষ্টগ্রাম হাওরের ১৪ কিলোমিটার সড়ক।

শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টায় কিশোরগঞ্জের মিঠামইন জিরোপয়েন্ট এলাকায় আলপনা আঁকার উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি আসাদুজ্জামান নূর এমপি।

নতুনরূপে সাঁজবে হাওর, সেই আনন্দে ভাসছে এই জনপদের বাসিন্দারা। মিঠামইন উপজেলার কুলাহানি গ্রামের বাসিন্দা তোফায়েল আহমেদ সাকিব বলেন, 'একটা সময় ছিল দাওয়াত করেও আমাদের বন্ধুদের হাওরে আনতে পারতাম না আর এখন যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল হওয়ায় হাওরে সারাবছরই শহরের মানুষের ভীড় লেগেই থাকে। সাকিব আরও বলেন, দীর্ঘ এই আলপনার ফলে হাওরে পর্যটকের ভীড় আরও বাড়বে সেইসাথে হাওরের এই সড়কটি গিনেজ বুক অফ ওয়ার্ল্ডে স্থান করে নিবে। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের এবং আনন্দের।'

অষ্টগ্রাম উপজেলার ভাতশালা গ্রামের বাসিন্দা আতিকুল ইসলাম বলেন, 'এক সময়ের অবহেলিত হাওর এখন সারাদেশের মানুষের পছন্দের জায়গা। হাওর এখন একটা সময়ে হাওরে বাড়ি বললে মানুষে অবজ্ঞা করতো, আর এখন সম্পর্ক গড়ে। আমার জন্মটা হাওরে হওয়ায় আমি গর্ববোধ করি।'

কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক বলেন, 'এক সময়ের অবহেলিত হাওর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার সুদৃষ্টিতে এবং ব্যাপক উন্নয়নের ফলে সারাদেশের মানুষের অত্যন্ত পছন্দের জায়গায় পরিণত হয়েছে। হাওরের বিভিন্ন এলাকায় সাবমার্সেবল সড়কসহ সারাবছর চলাচলের জন্য অলওয়েদার সড়ক নির্মিত হয়েছে। এই অলওয়েদার সড়কটি দেখতে আসেননি এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম।'

তিনি বলেন, 'আগে এই সড়কটির সৌন্দর্য কেবল দেশের মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকত এখন সেটি বিশ্ব দরবারে স্থান করে নিতে যাচ্ছে। বিষয়টি আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের এবং আনন্দের।'

সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, 'বিশ্বরেকর্ড গড়ার অদম্য এই প্রচেষ্টা দেশের ভাবমূর্তি উজ্জল করবে, সম্প্রীতির আরো সুদৃঢ় হবে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ গিনেজ বুক অফ ওয়ার্ল্ডে বিশ্বের সর্ববৃহৎ আলপনা'র স্বীকৃতি পাবে, কিশোরগঞ্জ হাওরাঞ্চল বিশ্ববাসীর নিকট নতুনভাবে পরিচিত হবে। পর্যটন শিল্প আরো বিকশিত হবে।'

কিশোরগঞ্জ হাওরাঞ্চলে বাঙালি লোকসংস্কৃতি তুলে ধরতে, এশিয়াটিক এক্সপেরিয়েনশিয়াল মার্কেটিং লিমিটেড, বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশনস লিমিটেড ও বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে মিঠামইন জিরোপয়েন্ট থেকে অষ্টগ্রাম জিরোপয়েন্ট পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার সড়কে ৬৫০জন শিল্পী সর্ববৃহৎ আল্পনা উৎসব 'আল্পনায় বৈশাখ ১৪৩১' শুরু করেছেন।

কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহমদ তৌফিকের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার প্রধান (ডিবি) হারুন অর রশিদ; কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ, জেলা পরিষদ প্রশাসক এড. জিল্লুর রহমান, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ, মিঠামইন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. এরশাদ মিয়া, বরেণ্য শিল্পী মো. মনিরুজ্জামান; বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের চিফ অপারেটিং অফিসার ও ডিরেক্টর মো. মহসিন হাবিব চৌধুরী ও বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশনস লিমিটেডের চিফ হিউম্যান রিসোর্স অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অফিসার মনজুলা মোরশেদ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।


নির্বাচিত

যমুনার আগ্রাসনে হারাচ্ছে সিরাজগঞ্জ, আতঙ্কে নদীপাড়ের হাজারো মানুষ

* নদীগর্ভে শতাধিক ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি * স্থায়ী বাঁধ না হলে উদ্বাস্তু হবে নদীপাড়ের মানুষ
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গোলাম মোস্তফা রুবেল, সিরাজগঞ্জ

যমুনা যেন এবার শুধু মাটি নয়, মানুষের স্বপ্ন, স্মৃতি আর অস্তিত্বও গিলে খাচ্ছে। প্রতিদিন নদীর বুকে হারিয়ে যাচ্ছে একের পর এক বসতভিটা, ফসলি জমি, মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এমনকি পূর্বপুরুষদের কবরও। নদীর তীব্র স্রোতের সামনে অসহায় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে সিরাজগঞ্জের সদর, কাজিপুর ও চৌহালী উপজেলার হাজারো মানুষ।

জানা যায়, গত ২ সপ্তাহের টানা নদীভাঙনে শতাধিক বসতবাড়ি, মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল, দোকানপাট, অসংখ্য গাছপালা এবং শত শত বিঘা আবাদি জমি যমুনার গর্ভে বিলীন হয়েছে। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ছে। ঘর হারানোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে নদীপাড়ের মানুষের।

সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে কাজীপুর উপজেলার চরগিরিশ ইউনিয়নে। একসময় যেখানে ৫০০-৬০০ পরিবারের কোলাহলে মুখর ছিল পুরো চর, সেখানে এখন সর্বত্র ভাঙনের ক্ষতচিহ্ন। স্থানীয়দের ভাষ্য, মাত্র ২ সপ্তাহে অন্তত ৩০-৪০টি বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে। যেভাবে নদীতীর ভাঙছে, তাতে আরও শতাধিক পরিবার যেকোনো সময় গৃহহীন হয়ে পড়তে পারে।

একই চিত্র চৌহালী উপজেলার বাগুটিয়া ইউনিয়নের চরসলিমাবাদ, ভূতের মোড়, বিনানুই ও ভুসুরিয়া চরাঞ্চলেও। প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে চলমান ভাঙনে অন্তত ৪০-৫০টি বসতবাড়ি, মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল ও দোকানপাট নদীগর্ভে চলে গেছে। কৃষকের বছরের পর বছর পরিশ্রমে গড়ে ওঠা শত শত বিঘা ফসলি জমিও নিমিষেই বিলীন হচ্ছে যমুনার বুকে।

এদিকে ২০ জুন বিকালে সদর উপজেলার বাহুকা এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ তীররক্ষা বাঁধের প্রায় ৩০ মিটার অংশ নদীতে ধসে পড়েছে। সেখানে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চালাচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে স্থানীয়দের আশঙ্কা, পানি আরও বাড়লে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

ভাঙনের শিকার পরিবারগুলোর অনেকেই এখন আত্মীয়স্বজনের বাড়ি কিংবা অন্যের জমিতে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নিয়েছে। শুধু বসতভিটাই নয়, হারিয়ে যাচ্ছে মানুষের শেকড়, স্মৃতি, পূর্বপুরুষের কবরস্থান এবং জীবিকার একমাত্র অবলম্বন কৃষিজমি।

চরগিরিশ গ্রামের ভাঙনকবলিত বাসিন্দা আব্দুল মমিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘এই চরে বাবা-দাদার ভিটা ছিল। জীবনের সব সঞ্চয় দিয়ে ঘর তুলেছিলাম। কয়েক দিনের মধ্যেই সব নদীতে চলে গেল। এখন অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়েছি।’

রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘চোখের সামনে সবকিছু নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় যাব, কী খাব সেটাই সবচেয়ে বড় চিন্তা।’

চরসলিমাবাদের কোহিনুর খাতুন বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। যা ছিল সব নদী নিয়ে গেছে। সরকারি সহায়তা না পেলে খোলা আকাশের নিচেই থাকতে হবে।’

রেজাউল করিমের ভাষায়, নদী শুধু ঘরবাড়ি কেড়ে নেয়নি, আমাদের স্বপ্নও কেড়ে নিয়েছে। নিজের দেশেই আমরা যেন উদ্বাস্তু হয়ে গেছি। আমাদের পূর্বপুরুষদের কবর আর মসজিদও নদীতে চলে গেছে। এই কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।

ষাটোর্ধ্ব রশিদ মিয়ার অসহায় আর্তনাদ, জীবনে অনেক কষ্ট করেছি, কিন্তু এমন অসহায় কখনো লাগেনি। এখন কোথায় যাব, কিছুই বুঝতে পারছি না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর যমুনার ভাঙন চললেও কার্যকর ও স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারেনি পানি উন্নয়ন বোর্ড। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা আগে থেকেই চিহ্নিত থাকলেও সময়মতো প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ভাঙন শুরু হওয়ার পর জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা নদীর ভয়াল আগ্রাসন ঠেকাতে পারছে না। তাদের দাবি, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় টেকসই তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণ ছাড়া এই দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

চরগিরিশ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আল আমিন সরকার বলেন, ‘একসময় এই চরে অনেক পরিবারের বসবাস ছিল। আগের ভাঙনে প্রায় ১৫০টি পরিবার এলাকা ছেড়ে চলে গেছে। গত ২ সপ্তাহের ভাঙনে আরও অন্তত ৩০টি পরিবার গৃহহীন হয়েছে। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আরও শতাধিক পরিবার ভিটেমাটি হারাবে।’

যমুনার পানি বৃদ্ধির কারণে নদীতীরবর্তী অনেক এলাকায় ভাঙনের আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছে। নিচু এলাকার বিস্তীর্ণ কৃষিজমি ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও নৌকা ছাড়া চলাচলও অসম্ভব হয়ে পড়েছে।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে যমুনার পানি ৩ সেন্টিমিটার এবং কাজীপুর পয়েন্টে ৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১৪৮ সেন্টিমিটার এবং কাজীপুর পয়েন্টে ১৯৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

চৌহালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল আমিন জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে কাজ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘যমুনার পানি বৃদ্ধির কারণে সদর, কাজীপুর, শাহজাদপুর ও চৌহালীর কয়েকটি এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলে তীর সংরক্ষণের কাজ চলছে। একই সঙ্গে স্থায়ী সমাধানের প্রস্তাবও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।


নির্বাচিত

খুলনায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন অনুষ্ঠান রোববার (২৮ জুন) খুলনা খালিশপুর কলেজিয়েট গালর্স স্কুলের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

প্রধান অতিথি বলেন, প্রত্যেক শিশুর সুস্থ ও স্বাভাবিক বিকাশে মাতৃদুগ্ধের কোনো বিকল্প নেই। শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি ও দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষায় ভিটামিন ‘এ’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিরোধযোগ্য রোগ থেকে শিশুকে সুরক্ষিত রাখতে সময়মতো টিকা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, সরকার দেশের প্রতিটি শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সারাদেশে নিয়মিত ও প্রয়োজনে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করছে। আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাই একটি শক্তিশালী জাতি গড়ে তুলতে হলে শৈশব থেকেই শিশুদের সুস্বাস্থ্য ও সুরক্ষার ভিত্তি নিশ্চিত করতে হবে। ঠিক যেমন একটি মজবুত ভবন নির্মাণে শক্ত ভিত্তি অপরিহার্য, তেমনি উন্নত জাতি গঠনে সুস্থ ও নিরাপদ শৈশবের কোনো বিকল্প নেই।

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিভিল সার্জন ডা. মোছা. মাহফুজা খাতুন, কেসিসির সচিব মো: রেজা রশীদ, পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরের উপপরিচালক মো: আকিব উদ্দিন, স্বাস্থ্য দপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. অপর্ণা বিশ্বাস, কলেজিয়েট গালর্স স্কুলের অধ্যক্ষ মো: শহিদুল ইসলাম, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মীউল ইসলাম, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিভাগীয় সমন্বয়কারী ডা. মো: আরিফ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মহানগরীতে মোট এক লাখ আট হাজার নয়শত ৫২ জন শিশুকে ১টি করে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং ১টি করে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ৬-১১ মাস বয়সী শিশুর সংখ্যা ১২ হাজার তিন শত ৩৭ এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী শিশুর সংখ্যা ৯৬ হাজার ৬৫৫ জন। এবারে সিটি কর্পোরেশনের ৩১টি ওয়ার্ডে মোট এক হাজর চারশত ২০জন ভলেন্টিয়ার, ওয়ার্ড ভিক্তিক কেন্দ্র সংখ্যা ৫৮০টি, মোট কেন্দ্র সংখ্যা ৭১০ টি, মোবাইল কেন্দ্র ৮০টি, এনজিও পরিচালিত কেন্দ্র ৫০টি এবং ৬২ জন সুপারভাইজার কাজ করবে।


নির্বাচিত

নির্দেশনা উপেক্ষা করে নওগাঁয় রমরমা কোচিং বানিজ্য

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সবুজ হোসেন, নওগাঁ

সরকারি নীতিমালা ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা করে নওগাঁ সদর উপজেলার দুবলহাটী রাজা হরনাথ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে কোচিং বাণিজ্য পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তরা হলেন বিদ্যালয়ের গণিত বিষয়ের সহকারী (ভোকেশনাল) শিক্ষক ফিরোজ হোসেন এবং ট্রেড ইন্সট্রাক্টর আব্দুল জলিল।

বিগত বছরগুলোতে এসব শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তাঁদের পরিচালিত কোচিং সেন্টারে যে বিষয়গুলো পড়ানো হতো এবং কোচিংয়ের পরীক্ষায় যে ধরনের প্রশ্ন দেওয়া হতো, সেগুলোর সঙ্গে স্কুলের বার্ষিক ও অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার প্রশ্নের ব্যাপক মিল পাওয়া যেত। এ কারণে কোচিংয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় তুলনামূলক বেশি নম্বর অর্জন করত, আর কোচিংয়ের বাইরে থাকা শিক্ষার্থীরা বৈষম্যের শিকার হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয় শুরুর আগেই সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বিদ্যালয় মাঠের দক্ষিণ পাশে "লেবুর কোচিং সেন্টার" নামে পরিচিত একটি কোচিং সেন্টারে গণিত বিষয়ের ক্লাস নিচ্ছেন শিক্ষক ফিরোজ হোসেন। সেখানে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের প্রায় সবাই দুবলহাটী রাজা হরনাথ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

অন্যদিকে, একই বিদ্যালয়ের ট্রেড ইন্সট্রাক্টর আব্দুল জলিল নিজ বাসায় একাধিক শিক্ষককে নিয়ে কোচিং সেন্টার পরিচালনা করছেন। সেখানে ব্যাচভিত্তিক পাঠদান করা হয় এবং প্রতিটি ব্যাচে ১৫ থেকে ২০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে বলে জানা গেছে। এসব শিক্ষার্থীর বেশিরভাগই একই বিদ্যালয়ের।

স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীর অভিযোগ, শ্রেণিকক্ষের শিক্ষকদের কাছেই কোচিং করতে বাধ্য করা হয়। কোচিং না করলে পরীক্ষায় নম্বর কম দেওয়া কিংবা ফেল করিয়ে দেওয়ার আশঙ্কা থাকে বলে তারা দাবি করেন। এজন্য শিক্ষার্থীরা শ্রেণিভেদে প্রতি মাসে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত কোচিং ফি দিতে বাধ্য হচ্ছে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান থাকলেও অনেক শিক্ষক কোচিংয়ের প্রতিই বেশি মনোযোগী। এতে শ্রেণিকক্ষের স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কোচিং সেন্টারে গেলে শিক্ষক ফিরোজ হোসেন বলেন, তিনি বিদ্যালয়ে গিয়ে সবার সামনে কথা বলবেন। পরে বিদ্যালয়ে গিয়ে তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের এড়িয়ে চলে যান এবং কোনো মন্তব্য করেননি।

অন্যদিকে, শিক্ষক আব্দুল জলিল বলেন, আমি বিদ্যালয়ে কারিগরি বিভাগের শিক্ষক হলেও কোচিংয়ে সাধারণ বিভাগের শিক্ষার্থীদের গণিত পড়াই।" অতীতে প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাফর আলী শেখ বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কোচিং করানোর কোনো বিধান নেই। এটি নিয়মবহির্ভূত। অতীতে প্রশ্নফাঁসের কিছু ঘটনার পর আমরা এখন আর বিদ্যালয়ে প্রশ্ন তৈরি করি না, বাইরে থেকে প্রশ্ন সংগ্রহ করে পরীক্ষা নেওয়া হয়।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহাদৎ হোসেন বলেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকদের সিদ্ধান্তে বিদ্যালয়ের সময়ের বাইরে বিশেষ সহায়ক ক্লাসের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তবে কোচিং বাণিজ্যের কোনো বৈধ নিয়ম নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালে শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধে নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়, যা ২০১৯ সালে কার্যকর হয়। ওই নীতিমালা অনুযায়ী এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক কোচিং বাণিজ্যে জড়িত প্রমাণিত হলে এমপিও স্থগিত বা বাতিল, বেতন-ভাতা ও বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিত, পদাবনতি কিংবা চাকরি থেকে সাময়িক বা স্থায়ী বরখাস্তসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।


নির্বাচিত

মাগুরায় জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাগুরা প্রতিনিধি

সারা দেশের ন্যায় মাগুরায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬-এর শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার (২৮ জুন) মাগুরা পৌরসভা চত্বরে স্বাস্থ্য বিভাগ, মাগুরার আয়োজনে এবং মাগুরা পৌরসভার সহযোগিতায় এ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক (রুটিন দায়িত্ব), স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ও মাগুরা পৌরসভার প্রশাসক ইমতিয়াজ হোসেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) খায়রুল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেরুন্নাহার, মাগুরা পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মাসুদ হাসান খান কিজিল, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আফজাল হোসেন এবং সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিকিৎসক ডা. দেবপ্রিয়া সরকার।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাগুরার সিভিল সার্জন ডা. মো. শামীম কবির। সঞ্চালনায় ছিলেন সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ভিটামিন ‘এ’ শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, রাতকানা প্রতিরোধে সহায়তা করে এবং শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই নির্ধারিত বয়সের প্রতিটি শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

এবারের ক্যাম্পেইনে মাগুরা জেলায় মোট ৯৪১টি কেন্দ্রের মাধ্যমে লক্ষাধিক শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এর মধ্যে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের নীল রঙের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল প্রদান করা হচ্ছে।

সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলমান এ কর্মসূচি সফল করতে জেলার ১ হাজার ৯৯৯ জন মাঠকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক এবং ১১৭ জন সুপারভাইজার দায়িত্ব পালন করছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জেলার প্রতিটি যোগ্য শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে এবং অভিভাবকদের নিকটস্থ কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।


নির্বাচিত

সুবিপ্রবির স্থায়ী ক্যাম্পাস জেলা সদরের পাশে করার দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সুবিপ্রবি) স্থায়ী ক্যাম্পাস জেলা সদরের আশপাশে সকল উপজেলার জন্য সুবিধাজনক স্থানে নির্মাণের দাবিতে সুনামগঞ্জ শহরে সমাবেশ, গণমিছিল এবং জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। কর্মসূচিতে সদর উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। রোববার (২৮ জুন) শহর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে আন্দোলনকারীরা শহরের ঐতিহ্য জাদুঘর প্রাঙ্গণে সমবেত হন। পরে সেখানে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা সিপিবির সাবেক সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদারের সভাপতিত্বে এবং ‘সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস জেলা সদরে বাস্তবায়ন আন্দোলন’-এর সদস্য সচিব মুহাম্মদ মুনাজ্জির হোসেন সুজন ও যুগ্ম সদস্য সচিব রাজু আহমেদের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আকবর আলী, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক জুনেদ আহমদ, আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ মহিবুল ইসলাম, হাওর বাঁচাও আন্দোলন সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি ইয়াকুব বখত বহলুল, সহসভাপতি লেখক সুখেন্দু সেন, শিক্ষাবিদ যোগেশ্বর দাস, জেলা সুজনের সভাপতি নুরুল হক আফিন্দি, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের জেলা সভাপতি আবু নাছার আহমদ এবং জেলা ছাত্রদলের সভাপতি তারেক মিয়াসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে বক্তারা সদর উপজেলার যুগীরগাঁও মৌজার জে.এল. নং-১১৩-এর সরকারি খাসজমিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের প্রস্তাব তুলে ধরেন। তাদের দাবি, সেখানে প্রায় ২১৮ দশমিক ৫৯ একর সরকারি খাসজমি রয়েছে। ওই স্থানে বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ করা হলে জমি অধিগ্রহণে সরকারের বিপুল অর্থ সাশ্রয় হবে এবং জেলার সব উপজেলার শিক্ষার্থীদের জন্যও এটি হবে অধিকতর সুবিধাজনক।

সমাবেশ শেষে বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণে একটি গণমিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যায়। পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। আন্দোলনকারীরা দ্রুত সময়ের মধ্যে জেলা সদরের নিকটবর্তী উপযুক্ত স্থানে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের দাবি জানান।


নির্বাচিত

৩০ বছর ধরে গ্রামে গ্রামে হেঁটে মিষ্টি বিক্রি করেন সমীর চন্দ্র

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জয়পুরহাট প্রতিনিধি 

ভোরের আলো ফুটতেই দুধ জ্বাল দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন সমীর চন্দ্র ঘোষ। খাঁটি দুধে তৈরি করেন ক্ষীরসা, প্যারা সন্দেশ ও রসমালাই। এরপর কাঁধে ভার মিষ্টি ভর্তি পাত্র নিয়ে বেরিয়ে পড়েন গ্রামের পথে। দিনভর ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে জয়পুরহাট, বগুড়া ও নওগাঁ জেলার বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে নিজের হাতে তৈরি মিষ্টি বিক্রি করেন। এভাবেই কেটে গেছে তার জীবনের তিন দশক। রসমালাইয়ের অনন্য স্বাদ আর মানুষের ভালোবাসা তাকে দিয়েছে আলাদা পরিচিতি।

‎আক্কেলপুর পৌরশহরের হাস্তাবসন্তপুর ঘোষপাড়া মহল্লার বাসিন্দা সমীর চন্দ্র ঘোষের এই পেশা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া। তার বাবা-দাদাও একইভাবে গ্রামে গ্রামে ঘুরে মিষ্টি বিক্রি করতেন। তবে মিষ্টান্ন জগতে তাদের তেমন পরিচিতি না থাকলেও নিজের পরিশ্রম, সততা ও স্বাদের গুণে সমীর চন্দ্র অর্জন করেছেন বিশেষ সুনাম।

‎প্রতিদিন ভোরে মিষ্টি তৈরির কাজ শেষ করে তিনি বের হন। জয়পুরহাট নিজ জেলার পাশাপাশি বগুড়ার ও নওগাঁ জেলার বিভিন্ন গ্রামে নিয়মিত যান। সারাদিন হাঁটাহাঁটি শেষে প্রতিদিন প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকার মিষ্টি বিক্রি হয়। এই আয়েই চলে তার সংসার।

‎সমীর চন্দ্র ঘোষ বলেন, প্রায় ৩০ বছর ধরে এই কাজ করছি। এটি আমাদের বাপ-দাদার পেশা। অনেকেই অন্য কাজ করতে বলেন। কিন্তু এই পেশার প্রতি আমার ভালোবাসা আছে। সবচেয়ে বড় আনন্দ হলো, মানুষ আমার হাতে তৈরি মিষ্টি খুঁজে বেড়ায়। অনেকেই আমার রসমালাইয়ের জন্য অপেক্ষা করে থাকেন।

তিনি আরও বলেন, এখন বড় বড় মিষ্টির দোকান হয়েছে। তারপরও গ্রামের মানুষ আমার ওপর আস্থা রাখেন। খাঁটি দুধ দিয়ে নিজের হাতে মিষ্টি তৈরি করি বলেই হয়তো তারা এত ভালোবাসেন।

আক্কেলপুর উপজেলার ‎রুকিন্দীপুর গ্রামের বাসিন্দা জুয়েল রানা বলেন, সমীর বাবুর রসমালাইয়ের স্বাদ ছোটবেলা থেকেই খেয়ে আসছি। এখনো সেই আগের স্বাদ আছে। তিনি আমাদের গ্রামে আসার দিন অনেকেই অপেক্ষা করে থাকেন।

‎নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার বাসিন্দা সাথী রানী বলেন, বাজারের অনেক মিষ্টি খেয়েছি, কিন্তু সমীর দাদার রসমালাইয়ের মতো স্বাদ পাই না। তিনি এলে পরিবারের সবার জন্য মিষ্টি কিনি। আত্মীয়দের বাড়িতেও নিয়ে যাই।

‎বগুড়ার দুঁপচাচিয়া উপজেলা সদরের বাসিন্দা জহুরুল ইসলাম বলেন, সমীর চন্দ্র বহু বছর ধরে আমাদের এলাকায় আসছেন। তার মিষ্টির মান ভালো, দামও সবার নাগালের মধ্যে। তাই তিনি এলে আমরা মিষ্টি কিনতে ভিড় করি।

‎গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ফেরিওয়ালাদের সংখ্যা দিন দিন কমে আসছে। আধুনিক বিপণিব্যবস্থা ও বড় বড় মিষ্টির দোকানের ভিড়েও সমীর চন্দ্র ঘোষ এখনো কাঁধে মিষ্টির পাত্র তুলে হাঁটছেন গ্রাম থেকে গ্রামে। তার এই পথচলা শুধু জীবিকার সংগ্রাম নয়, বরং একটি পারিবারিক ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার নিরলস প্রচেষ্টা। তার হাতে তৈরি ক্ষীরসার মিষ্টি স্বাদের সঙ্গে মিশে আছে তিন দশকের পরিশ্রম, নিষ্ঠা এবং মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা।


নির্বাচিত

কুমিল্লার প্রথম নারী জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার

কুমিল্লার নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রোজী আক্তার। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মিজ রোজী আক্তার কুমিল্লার নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। রোববার (২৮ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলি ও পদায়নের আদেশ দেওয়া হয়।

একই প্রজ্ঞাপনে কুমিল্লার বর্তমান জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান-কে সিলেটের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

রোজী আক্তারের এ নিয়োগের মাধ্যমে তিনি কুমিল্লা জেলার ইতিহাসে প্রথম নারী জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছেন। তাঁর নিয়োগকে ঘিরে প্রশাসনিক অঙ্গনসহ জেলার বিভিন্ন মহলে ইতোমধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ও আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর তিনি কুমিল্লা জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সার্বিক প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

অন্যদিকে, বিদায়ী জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসানকে সিলেটে জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ায় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায় থেকে তাঁকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে।


নির্বাচিত

ডুমুরিয়ায় টিপনা কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসকের অবহেলায় ক্ষুব্ধ রোগীরা

ডুমুরিয়া উপজেলার টিপনা কমিউনিটি ক্লিনিক । ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার টিপনা কমিউনিটি ক্লিনিকের দায়িত্বরত চিকিৎসক সুকান্তর বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, দায়িত্ব অবহেলা এবং রোগীদের সাথে দুর্ব্যবহারসহ বিভিন্ন রকম অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারি এই চিকিৎসাকেন্দ্রটি নিয়মিত না খোলায় স্থানীয় দরিদ্র রোগীরা দিনের পর দিন চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

​দেখা যায়, ক্লিনিকের চারপাশ ও সামনের অংশ বন-জঙ্গলে ভরে গেছে। ক্লিনিকের পরিবেশ দেখে মনে হয় দীর্ঘদিন ধরে এখানে কোনো দাপ্তরিক কাজ বা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বালাই নেই। এমনকি নিয়মিত অফিস যে হয় না, তার স্পষ্ট ছাপ রয়েছে পুরো ভবন জুড়ে।

​ক্লিনিকে ওষুধ নিতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা ও টিপনা পশ্চিমপাড়া মসজিদের ইমাম শহিদুল সর্দার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ​"আমরা এখানে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সেবা পাচ্ছি না। সরকারিভাবে যে সমস্ত ওষুধ বিনামূল্যে দেওয়ার কথা, তা আমাদের না দিয়ে বাইরে থেকে কিনতে বলা হয়। এছাড়া চিকিৎসকের আচরণও সন্তোষজনক নয়। আমরা এর সঠিক প্রতিকার চাই।

​ক্লিনিকের জরাজীর্ণ অবস্থা এবং চিকিৎসকের অনুপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ জানান স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ এরশাদ সরদার। তিনি বলেন, "সুকান্ত ডাক্তার ক্লিনিক ঠিকমতন খোলেন না। ক্লিনিকের সামনে বন-জঙ্গলে ভরে গেছে, দেখে মনে হয় গতকালও কোনো অফিস হয় নাই। সরকারি একটা প্রতিষ্ঠান এভাবে অবহেলায় পড়ে থাকতে পারে না।

​চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যাওয়া ফারুক সরদার নামের আরেক রোগী সরাসরি চিকিৎসকের ফাঁকিবাজির চিত্র তুলে ধরে বলেন, উনি নিয়মিত অফিসে আসেন না। ক্লিনিকে রোগী বসিয়ে রেখে উনি পাশের চায়ের দোকানে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গল্প করেন। আমরা দূর-দূরান্ত থেকে এসে ডাক্তার না পেয়ে ফিরে যাই। এমন চিকিৎসকের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।

​অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক সুকান্তর কাছে মুঠোফোনে জানতে চাওয়া হলে তিনি প্রথমে সদুত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে তিনি নিজের গাফিলতি আড়াল করতে অজুহাত দেখিয়ে বলেন, ​"ক্লিনিক বন্ধ রাখার বিষয়টি সঠিক নয়। ডুমুরিয়ায় সরকারি বিভিন্ন মিটিং ও জরুরি দাপ্তরিক কাজের চাপ থাকার কারণে মাঝে মাঝে ক্লিনিকে বসতে একটু দেরি হয়।" তবে স্থানীয়রা তাঁর এই বক্তব্যকে স্রেফ 'তালবাহানা' বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

​এই চরম অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার ব্যাপারে ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা কাজল মল্লিক বলেন, ​ডুমুরিয়া উপজেলার খর্নিয়া ইউনিয়নের"টিপনা কমিউনিটি ক্লিনিকের চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো আমরা গুরুত্বের সাথে দেখছি। সরকারি চিকিৎসায় কোনো ধরনের গাফিলতি বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

​খুলনা সিভিল সার্জন তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে জানান, জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার সরকারি নির্দেশনায় কোনো প্রকার শিথিলতা বরদাশত করা হবে না। টিপনা কমিউনিটি ক্লিনিকের সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলোর প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। চিকিৎসকের দায়িত্বে অবহেলা ও কর্মস্থলে অনুপস্থিতির প্রমাণ মিললে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

​স্থানীয় সাধারণ মানুষ এ ক্লিনিকের পরিবেশ ফিরিয়ে আনা ও দায়িত্ববান চিকিৎসক পদায়নের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


নির্বাচিত

তুরাগ নদীতে ৭ লাশ ভাসার খবর ভিত্তিহীন: পুলিশ সদরদপ্তর 

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক 

ঢাকার তুরাগ নদীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সাত নেতা-কর্মীর লাশ ভাসার খবর ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। বাহিনীটি বলছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই তথ্য প্রচার করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে এই ধরনের কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

শনিবার (২৭ জুন) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ সদরদপ্তর এই অনুরোধ জানায়।

বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, একটি মহল এ ধরনের বিভ্রান্তি ছড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মনোবল নষ্ট করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। যারা এ ধরনের বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে তৎপর রয়েছে।

কেউ এ ধরনের অপপ্রচারে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

এই ধরনের মিথ্যা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।


নির্বাচিত

ফেনীতে যুবকের গলাকাটা ও নারীর হাত-পা বাঁধা দুই মরদেহ উদ্ধার

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফেনী প্রতিনিধি

ফেনীর ছাগলনাইয়ায় নিজ বাড়ির সামনে যোবায়ের হোসেন পারভেজ নামে এক যুবকের গলা ও হাতকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এদিকে ফুলগাজীতে এক কুয়েতপ্রবাসীর স্ত্রীর হাত-পা বেঁধে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

শনিবার (২৭ জুন) ছাগলনাইয়ায় ঘোপাল ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নিজকুঞ্জরা গ্রামে যোবায়ের হোসেন পারভেজকে হত্যা করা হয়। এ বিষয়ে নিহতের বাবা আবু তাহের বাদী হয়ে ছাগলনাইয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত পারভেজ ওয়ার্ড যুবলীগের কর্মী ছিলেন। অনেকেই বলছেন তিনি ঘোপাল ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

পারভেজের বাবা আবু তাহের দাবি করেন, প্রতিবেশী সাদেক মিয়ার ছেলে শাহাদাত হোসেন ও মামুনুর রশিদ মামুনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পারভেজের বিরোধ চলছিল। শুক্রবার (২৬ জুন) সন্ধ্যায় একটি দোকানে মোবাইল ফোন নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। ওই বিরোধের জেরেই পারভেজকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু তাহের এশিয়া পোস্টকে বলেন, নিহতের বাবা বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। পারভেজের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ২৫টি মামলা রয়েছে। কিছুদিন আগে তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তিনি যুবলীগের সমর্থক ছিলেন বলে জানতে পেরেছি।

ওসি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং নিহতের স্বজনদের অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এদিকে, ফেনীর ফুলগাজীতে এক কুয়েতপ্রবাসীর স্ত্রীকে হাত-পা বেঁধে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এই নৃশংস ঘটনার পর থেকে গোটা এলাকায় চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলার আমজাদহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ তালবাড়িয়া গ্রামের ইসমাইল মাস্টার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত গৃহবধূর নাম কাজল (৩৫)। তিনি তিন সন্তানের জননী এবং ওই বাড়ির কুয়েতপ্রবাসী নুরুল আমিনের স্ত্রী।

জানা গেছে, নিহত কাজলের তিন সন্তানের মধ্যে বড় ছেলে সিলোনীয়া মাদরাসা এবং মেজো ছেলে তালবাড়িয়া মাদরাসার বোর্ডিংয়ে থেকে পড়াশোনা করে। গত শুক্রবার রাতে কাজল তার মাত্র দুই বছর বয়সী ছোট সন্তানকে নিয়ে ঘরে একাই ছিলেন। গভীর রাতের কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা ঘরের উপরের টিনের চাল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে কাজলের হাত-পা বেঁধে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

খবর পেয়ে ফুলগাজী থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের লাশ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ফেনী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় শত শত মানুষ ওই বাড়িতে ভিড় জমান।

এ বিষয়ে ফুলগাজী থানার ওসি এম এম মিজানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং এর সাথে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।


নির্বাচিত

কোস্ট গার্ডের অভিযান: সুন্দরবনে দুলাভাই বাহিনীর প্রধানসহ আটক ২, নিহত ১

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মোংলা প্রতিনিধি

সুন্দরবনের গহীনে কোস্ট গার্ডের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধের পর কুখ্যাত ‘দুলাভাই বাহিনী’র প্রধানসহ দুই ডাকাতকে আটক করা হয়েছে। এ সময় বাহিনীর এক সদস্য নিহত হয়েছেন।

শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সুন্দরবনে সক্রিয় বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং বনজীবী, জেলে ও উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোস্ট গার্ড ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ পরিচালনা করছে। এরই অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, খুলনার কয়রা উপজেলার বনপাড়া সংলগ্ন সুন্দরবনের গহীনে কুখ্যাত ‘দুলাভাই বাহিনী’র সদস্যরা অবস্থান করছে।

এ তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৫ জুন বিকেল ৫টা থেকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা, স্টেশন কয়রা ও স্টেশন নলিয়ান যৌথভাবে টানা দুই দিন বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযান চলাকালে ডাকাতদের বহনকারী দুটি বোট শনাক্ত করে কোস্ট গার্ড সদস্যরা থামার সংকেত দেন। তবে সংকেত অমান্য করে ডাকাতরা কোস্ট গার্ডকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে কোস্ট গার্ডও পাল্টা গুলি চালায়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র গোলাগুলির সময় ডাকাতদের একটি বোটে আগুন ধরে যায় এবং অপর একটি বোট ডুবে যায়।

এ সময় কোস্ট গার্ড ২১৬ রাউন্ড তাজা গুলি ও একটি ব্ল্যাঙ্ক কার্টিজ ফায়ার করে।

বন্দুকযুদ্ধ শেষে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ‘দুলাভাই বাহিনী’র প্রধান রবিউল ইসলাম (৫০) এবং ডাকাত শওকত সরদারকে (৫৫) উদ্ধার করে আটক করা হয়। তাদের কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক শওকত সরদারকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে গুরুতর আহত রবিউল ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

অভিযান চলাকালে পালিয়ে যাওয়া অন্য ডাকাতদের ধরতে কোস্ট গার্ড ও বাংলাদেশ পুলিশ যৌথভাবে চিরুনি অভিযান শুরু করে।

এরই অংশ হিসেবে মঠবাড়িয়া পুলিশ ফাঁড়ির সামনে স্থানীয়দের সহায়তায় পরিচালিত অভিযানে হাতের আঙুলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ইসরাফিল হাওলাদার (২৬) নামে আরেক ডাকাতকে আটক করা হয়। পরে তাকে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

আটক রবিউল ইসলাম ও নিহত শওকত সরদার খুলনার কয়রা উপজেলার এবং ইসরাফিল হাওলাদার সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।

অভিযান শেষে সুন্দরবনের আরশিবসা নদীর বেসুখাল এলাকা থেকে ডাকাতদের ব্যবহৃত ৬টি একনলা বন্দুক, ৬৯ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৩ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, একটি দেশীয় অস্ত্র, একটি মোবাইল ফোন ও একটি হাতঘড়ি উদ্ধার করা হয়।

কোস্ট গার্ড জানায়, আটক ব্যক্তিদের উদ্ধার করা অস্ত্র-গোলাবারুদ এবং নিহত ডাকাতের মরদেহ পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা ও ময়নাতদন্তের জন্য কয়রা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করতে কোস্ট গার্ডের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।


নির্বাচিত

১৮ বছর ধরে গাছে শিকলবন্দি বনলতা হালদারের জীবন

 চিকিৎসা সহায়তার আকুতি পরিবারের
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাদারীপুর প্রতিনিধি

মাদারীপুর ডাসার উপজেলার নবগ্রাম এলাকায় বিচিত্রা হালদারের কন্যা পিতৃহীবনলতা হালদার মানসিক প্রতিবন্ধী হয়ে ১৮ বছর ধরে গাছের সাথে শিকলবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। ডাসার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিয়া সুলতানা ও নবগ্রামের শশিকর ইউনয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দুলাল তালুকদারে কাছ থেকে আলাদাভাবে জানা যায়, তার মানসিক প্রতিবন্ধী হয়ে যাবার বিষয়টি তাদের নজরে এলে যথাক্রমে সমাজসেবা অধিদপ্তর ও ইউনিয়ন কার্যালয় দপ্তর হতে তার জন্য প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ড চালু করা হয়েছে।

তারা আরও জানান, সরকারিভাবে তার সুচিকিৎসা সহায়তার জন্য উক্ত পরিবারের অভিভাবকদের সাথে আলাপ-আলোচনা করে আরও ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ঘটনার বিবরণে মানসিক প্রতিবন্ধী বনলতার বৃদ্ধা মা বিচিত্রা হালদার, তার দুই ভাই ও দুই বৌদি জানান, প্রায় ১৮ বছর আগে বনলতা সম্পূর্ণ সুস্থ্য ছিল, স্কুলে যেত, লেখাপড়া করত কিন্তু হঠাৎ করে পেটে প্রচণ্ড ব্যাথার জন্য ডাক্তারের স্মরণাপন্ন হলে তার পেটে অস্ত্রোপচার করা হয় এবং এতে সে অনেকটা সুস্থ্য হয়েও উঠলেও তার মধ্যে ক্রমান্বয়ে অস্বাভাবিক আচরণ পরিলক্ষিত হয়।

পরবর্তীতে সে মানসিক বিকারগ্রস্থ হয়ে পড়ে। প্রথম-প্রথম তাকে খোলামেলা রাখা হলেও পাগলামি বেড়ে যাওয়ায় পরে তাকে গাছের সাথে শিকলে আবদ্ধ করা হয়। সেই থেকে বনলতা হালদার দেড় যুগ তথা ১৮ বছর যাবৎ খোলা আকাশের নিচে রোদ-ঝড়-বৃষ্টির মধ্যেও শিকলবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। অসহায় ও গরিব পরিবারটির আশা সরকারিভাবে তাকে উন্নত চিকিৎসা করা হলে পিতৃহারা বনলতা সুস্থ্য হয়ে

আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সক্ষম হবে এবং পরিবারের সবার সীমাহীন কষ্ট, দুঃখ-দুর্দশা ঘুচে যাবে। এছাড়াও তারা সমাজের বিত্তবান সহ সবাইকে তার সুচিকিৎসায় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবার অনুরোধ করেছেন।


নির্বাচিত

বাগেরহাট হাসপাতালে আউটসোর্সিং নিয়োগে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাচ্চু মল্লিক, বাগেরহাট

বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে আউটসোর্সিং ভিত্তিতে জনবল নিয়োগকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব ও তদবির বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও চূড়ান্ত নিয়োগে মেধা ও যোগ্যতার পরিবর্তে সুপারিশ এবং প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন চাকরি প্রত্যাশী ও সংশ্লিষ্টরা।

‎জানা যায়, হাসপাতালের ৯৪ জন কর্মী সরবরাহের দায়িত্ব পেয়েছে ঢাকাভিত্তিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এইচআরডি অ্যান্ড ই এজেন্সি। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব সক্ষমতার চেয়ে প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় কাজটি লাভ করেছে। এ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সাবেক এক প্রভাবশালী সরকারি কর্মকর্তার প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

‎অভিযোগকারীদের দাবি, আবেদন গ্রহণ, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার মতো আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম সম্পন্ন হলেও চূড়ান্ত তালিকা তৈরিতে পরীক্ষার ফলাফলের যথাযথ মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। বরং ব্যক্তিগত সুপারিশ ও তদবিরকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

‎এ ছাড়া নতুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি পূর্ববর্তী সরকারের আমলে আউটসোর্সিং ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া প্রায় ৬৬ জন কর্মীকে বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত কর্মীদের মধ্যে চাকরি হারানোর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

‎হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে অভিযোগমুক্ত কর্মীদের বহাল রাখার পক্ষে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের একটি অংশ মত দিলেও এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মতপার্থক্য রয়েছে।

‎চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ, কিছু ব্যক্তি লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও পরবর্তীতে জীবনবৃত্তান্ত (বায়োডাটা) জমা দিয়ে নিয়োগ তালিকায় স্থান পেয়েছেন। অভিযোগটি সত্য হলে পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

‎‎নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের কয়েকজন আউটসোর্সিং কর্মী বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছি। আমাদের পরিবার এই আয়ের ওপর নির্ভরশীল। হঠাৎ করে চাকরি হারালে পরিবার নিয়ে সংকটে পড়তে হবে।’

‎তারা যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে বিদ্যমান কর্মীদের বহাল রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

‎এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, ‘আউটসোর্সিং নিয়োগ পরীক্ষায় যারা মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে উত্তীর্ণ হয়েছেন, তাদের যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে নিয়োগ নিশ্চিত করা উচিত। একই সঙ্গে পূর্বে কর্মরত যেসব কর্মীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই এবং যারা দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের যেন অযৌক্তিকভাবে বাদ না দেওয়া হয়, সে বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।’

‎তবে এ অভিযোগের বিষয়ে জানতে এইচআরডি অ্যান্ড ই এজেন্সির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

‎নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক ও চাকরিপ্রার্থীরা। তাদের মতে, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না হলে পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।


নির্বাচিত

banner close