শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪

ঝুঁকিমুক্ত পরিবহন ও নিরাপদ সড়ক চাই দাবিতে মানববন্ধন

পিরোজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত
পিরোজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৩ এপ্রিল, ২০২৪ ২৩:২৯

ঝুঁকিমুক্ত পরিবহন ও নিরাপদ সড়ক চাই দাবিতে পিরোজপুর সদর উপজেলার ৭ নং শংকরপাশা ইউনিয়নের শংকরপাশা ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন এর উদ্যোগে স্থানীয় জনসাধারণের সমন্বয়ে এবং ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও মেম্বারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১ টায় এক শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধন অনুষ্ঠানে শংকরপাশা ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক হাসান মোহাম্মদ পারভেজসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিকার চেয়ে মূল্যবান বক্তব্য প্রদান করেন। মানববন্ধনে ৭ নং শংকরপাশা ইউনিয়নের স্কুল গোলাম হায়দার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস ওহি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা স্বার্থে বলেন, অত্র প্রতিষ্ঠানে প্রায় চারশত থেকে পাঁচশত শিক্ষার্থী রয়েছে তারা প্রতিদিন স্কুলে আসা এবং যাওয়ার ক্ষেত্রে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার হন। ইতিপূর্বে তাদের সহপাঠী সড়ক দুর্ঘটনায় স্কুলের সম্মুখেই নিহত হয়েছিলেন। তাই তিনি সকল শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে স্কুলের সম্মুখে একটি ঢালাই স্পিড ব্রেকারের জোরালো আবেদন করেন।

আরও বক্তব্য প্রদান করেন মোঃ কাউসার হোসেন। তিনি এ সড়কের বারবার দুর্ঘটনার কারণসমূহ চিহ্নিত করাসহ অদক্ষ ড্রাইভার এবং রেজিস্ট্রেশনবিহীন গাড়ি, রাস্তার দুই ধারে ঝুঁকিপূর্ণ গাছ, বৈদ্যুতিক খুঁটি এবং যত্রতত্র ট্রাকে মাল লোড আন লোডসহ বিভিন্ন বিষয়ে উপস্থাপন করেন এবং প্রতিকারে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

মানববন্ধনের অন্যতম সমন্বয়কারী মোঃ শামসুদ্দোহা তিনি তার বক্তব্যে বলেন, গত ৮ মার্চ ২০২৪ ইংরেজি তারিখ সকাল ১১:৩০ ঘটিকার সময় একটি সড়ক দুর্ঘটনায় সাতজন প্রাণ হারিয়েছেন এবং বহু লোক আহত হয়েছেন। তিনি অল্পের জন্য বেঁচে গিয়েছেন। তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, এই সড়কটি ক্রমাগত একটি ভয়াবহ সড়কে পরিণত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, গত ৮ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১০ জন সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। প্রতিদিনই সড়ক দুর্ঘটনা এ রাস্তায় লেগেই থাকে। তাই তিনি দাবি করেন পিরোজপুর পুরাতন বাস স্ট্যান্ড থেকে টগড়া ফেরিঘাট পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে স্পিড ব্রেকার, ঝুঁকিপূর্ণ গাছ, ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুতের খুঁটি সমূহ দ্রুত অপসারণ করা একান্ত প্রয়োজন। এ বিষয়ে তিনি প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী সড়ক ও জনপদ, চেয়ারম্যান জেলা পরিষদ পিরোজপুর বনও বিদ্যুৎ বিভাগ পিরোজপুর এর দৃষ্টিআকর্ষণ কামনা করেন। তিনি আরো উল্লেখ করেন যে পিরোজপুর বাস স্ট্যান্ড থেকে টগরা ফেরিঘাট পর্যন্ত কমপক্ষে তিনজন ট্রাফিক থাকা একান্ত আবশ্যক। তাছাড়া পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে ভান্ডারিয়া মঠবাড়িয়া ও ইন্দুরকানির বাসগুলো অনৈতিকভাবে অবস্থান করে ছাড়ার নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে যাত্রা শুরু করায় তাদেরকে রাস্তায় নির্ধারিত স্পিডের দ্বিগুণ গতিতে চালিয়ে ফেরী ধরতে হয়।

এ কারণে নানান সড়ক দুর্ঘটনার সৃষ্টি হচ্ছে। এতে সাধারণ জনগণ তার পিতা-মাতা ও সন্তান হারাচ্ছেন যা মোটেই কাম্য নয়। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার এবং জেলা বাস মালিক সমিতির সুদৃষ্টি কামনা করেন। মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন স্থানীয় চেয়ারম্যান মো: তোফাজ্জেল হোসেন, মল্লিক স্বপন সভাপতি উপজেলা আওয়ামী লীগ পিরোজপুর। তিনি তার বক্তব্য একই দাবি দাওয়া সমূহ উল্লেখ করেন এবং জেলা প্রশাসক প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী সড়ক ও জনপথ চেয়ারম্যান জেলা পরিষদ বন বিভাগ নির্বাহী প্রকৌশলী বিদ্যুৎ এবং বাস মালিক সমিতির সকলের দৃষ্টি আকর্ষণপূর্বক সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিকারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেন।


‘নির্বাচনী প্রক্রিয়া ধ্বংস হলে তা জাতির জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে না’

ছবি: বাসস
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাসস

নির্বাচনী ব্যবস্থা গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি। নির্বাচনী প্রক্রিয়া ধ্বংস হয়ে গেলে তা জাতির জন্য কোন মঙ্গল বয়ে আনবে না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার বেগম রাশেদা সুলতানা।

আজ বৃহস্পতিবার নওগাঁ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও চেয়ারম্যান প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

ইসি রাশেদা বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন সবগুলো নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করার চেষ্টা করেছে। যাতে এই নির্বাচনগুলো সহিংসতা মুক্ত হয়। মানুষ যাতে ভোট কেন্দ্র এসে নির্বিঘ্নে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন।’

তিনি বলেন, ‘প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে উপজেলা নির্বাচন ভালো ভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সামনের নির্বাচনগুলোও আমরা আরও ভালোভাবে সম্পন্ন করতে চাই। যাতে সাধারণ মানুষ বলতে পারে এই নির্বাচন কমিশন ভালো নির্বাচন করতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন কোন ব্যাক্তিকে বিজয় করার লক্ষে কাজ করে না। প্রশাসনকেও সেভাবেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাদেরকে স্বাধীনভাবে কাজ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আমাদের একটাই উদ্দেশ্য নির্বাচন যাতে প্রশ্নবিদ্ধ না হয়। দেশে-বিদেশের সব জায়গায় যেন প্রশংসিত হয় বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে। নির্বাচন কমিশনের একটাই প্রত্যাশা নির্বাচন যেন কোন ব্যত্যায় না ঘটে। কালিমা লিপ্ত না হয়।’

প্রার্থীদের উদ্যেশ্যে তিনি বলেন, আচরণ বিধি মেনে প্রার্থীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রচার- প্রচারণা চালাতে হবে। বিনা কারণে একজন আরেকজনের প্রতিপক্ষ হয়ে আক্রমণ করে কথা বলা যাবে না। ভোটার যাতে ভোট কেন্দ্রে আসে সেই পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। কোন প্রার্থীর কোন অভিযোগ থাকলে কমিশনকে জানালে সাথে সাথে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

নওগাঁর জেলা প্রশাসক মো. গোলাম মওলার সভাপতিত্বে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় রাজশাহী বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার ইমতিয়াজ হোসেন, রাজশাহী বিভাগের অতিরিক্ত ডিআইজি বিজয় বসাক, নওগাঁর পুলিশ সুপার মুহাম্মদ রাশিদুল হক, রাজশাহীর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন বক্তৃতা করেন।


চট্টগ্রাম নগরীতে কোরবানির জন্য প্রস্তুত সাড়ে ৮ লাখ গবাদি পশু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৩ মে, ২০২৪ ১১:১২
ডেইজী মউদুদ, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে বিভিন্ন উপজেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকায় এবার কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে সাড়ে ৮ লাখ গবাদি পশু। বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ পশু লালন পালনে এগিয়ে আসায় গত ৯ বছরে পশু উৎপাদন বেড়েছে ৩ গুণ। ইতোমধ্যে বিভিন্ন খামারে পশু বেচাকেনাও শুরু হয়েছে। দেশব্যাপী চাহিদার তুলনায় ২২ লাখ কোরবানির পশু অতিরিক্ত থাকায় কোনো পশু আমদানির প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।

নগরীতে এ বছরে কোরবানি পশুর চাহিদা ৮ লাখ ৮৫ হাজার ৭৬৫টি। এর মাঝে ৫ লাখ ২৬ হাজার ৪৭৫টি গরু, ৭১ হাজার ৩৬৫ টি মহিষ, ১ লাখ ৯৫ হাজার ৭৮৩ ছাগল, ভেড়া ৫৮ হাজার ৬৯২ টি এবং অন্যান্য পশু ৮৮টি।

জেলায় ছোট-বড় বিভিন্ন খামারে কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে ৮ লাখ ৫২ হাজার ২৫৯টি গবাদি পশু। ফলে পশুর ঘাটতি রয়েছে ৩৩ হাজার ৪০৬টি। চাহিদার সঙ্গে জোগানের পার্থক্য এখন মাত্র ৩ শতাংশ। অথচ ২০১৫ সালে চট্টগ্রামে গবাদি পশুর উৎপাদন ছিল মাত্র ৩ লাখ ২০ হাজার। অর্থাৎ ৯ বছরে গবাদি পশুর উৎপাদন বেড়েছে ৩ গুণ।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. মো. রেয়াজুল হক এই প্রতিবেদককে বলেন, চট্টগ্রামে গবাদি পশুর খামার রয়েছে ১২ হাজারের ও বেশি। খামার ছাড়া ও ব্যক্তিপত পর্যায়ে পশু লালন পালন করায় কোরবানিতে বিদেশি পশুর ওপর নির্ভরশীলতা কমেছে। দেশে উৎপাদিত পশু দিয়েই কোরবানির চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে।

মূলত প্রতি বছর কিছু পশুর ঘাটতি থাকে। তখন অন্য জেলা থেকে পশু এনে চাহিদা পূরণ করা হয়। এ বছরও পার্শ্ববর্তী জেলা রাঙামাটি, খাগড়াঝড়ি এবং দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে পশু এনে সেই ঘাটতি পুশিয়ে নেওয়া হবে।

বর্তমানে খামারগুলোতে চলছে পশু মোটাতাজকরণ প্রক্রিয়া। বিদেশ থেকে পশু আমদানি বন্ধ থাকায় এবার পশুর দাম ভালো পাবেন বলে আশা করছেন খামারিরা। কোরবানির আগেই সব পশু বিক্রি করে দেবেন বলে তারা আশা করছেন।

উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মতিউর রহমান এই প্রতিবেদককে জানান, এ বছরে কোরবানি পশুর চাহিদা স্থানীয় উৎপাদন নিয়ে মেটানো হবে। খামারিদের সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ায় পশু উৎপাদন বেড়েছে।

গৃহিণী সালেহা খানম বলেন, ‘পশুর দাম অতিরিক্ত। সেই সাথে মাংস রান্না করার সরঞ্জামাদির দামও গত বছরের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি। আমরা মধ্যবিত্ত মানুষ। কোরবানি করতে পারব কি না এখনো বুঝতে পাচ্ছি না।’


ঘুষ ছাড়া মেলে না ড্রাগ লাইসেন্স

নেপথ্যে অফিস সহকারী আলমগীর ও সুমন
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২৩ মে, ২০২৪ ০৯:৫১
আবু সাঈদ, সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরা জেলার পাঁচ হাজার ফার্মেসির ড্রাগ লাইসেন্স রয়েছে। যার মধ্যে দুই হাজারের মতো লাইসেন্স নীতিমালা না মেনেই ইস্যু করা হয়েছে। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এসব লাইসেন্স অবৈধ উপায়ে ইস্যু করা হয়। বাংলাদেশ ক্যামিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্টস সমিতির সাতক্ষীরা অফিস সহকারী আলমগীর হোসেন বস্ ওরফে আলমগীর এবং কম্পিউটার অপারেটর সুমনের মাধ্যমে সাতক্ষীরা জেলার ড্রাগ সুপার ঘুষ নিয়ে এ কাজ করে থাকেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

নিয়মানুযায়ী কোনো ওষুধের দোকান তথা ফার্মেসি করার জন্য ড্রাগ লাইসেন্স প্রয়োজন হয়। আর এই ড্রাগ লাইসেন্স তিনিই পাবেন, যার ফার্মাসিস্টের প্রশিক্ষণ ও সনদ রয়েছে। দুই বছর মেয়াদি এ ড্রাগ লাইসেন্স ইস্যু করা হয়। এজন্য পৌরসভার মধ্যে তিন হাজার টাকা ও পৌরসভার বাইরে গ্রাম এলাকার জন্য এক হাজার পাঁচশ টাকা চালান কেটে জমা দিতে হয়। এরপর দুই বছর অন্তর এ লাইসেন্স নবায়ন করতে হয়।

ড্রাগ লাইসেন্স করার জন্য ফার্মাসিস্টের এই শর্তটি অনেকেই সঠিকভাবে পূরণ করেন না। অনেকেই ছয় মাস মেয়াদি ফার্মাসিস্ট কোর্স করে ড্রাগ লাইসেন্স সংগ্রহের পর অন্যকে দিয়ে ওষুধ ব্যবসা পরিচালনা করেন। আবার অনেকে ভিন্ন ফার্মেসিতে থেকেই নতুন ফার্মেসি খুলে রমরমা ওষুধ ব্যবসা চালিয়ে বনে গেছেন ডাক্তার।

আর এভাবেই সাতক্ষীরা ড্রাগ সুপারের কার্যালয়ে অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চলে মোটা অংকের ঘুষ বাণিজ্য। ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা ঘুষের বিনিময়ে হাজারের অধিক অবৈধ লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। আবার তাদের দাবি করা ঘুষ না দিলে সব শর্ত পূরণ করার পরও লাইসেন্স ইস্যু করতে গড়িমসি করা হয়। ড্রাগ লাইসেন্স পেতে ব্যাংক স্বচ্ছলতা সনদপত্র, লাইসেন্স ফি জমা দেয়ার ট্রেজারি চালান, দোকান ভাড়ার রশিদপত্র, ফার্মাসিস্টের অঙ্গীকারনামা ও পৌর/ইউনিয়নের ট্রেড লাইসেন্স জমা দিতে হয়। পাঁচ থেকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে নবায়ন করে দেওয়ার নিয়ম থাকলেও তাদের নির্দিষ্ট অংকের ঘুষ না দিলে বেগ পোহাতে হয় বছরের পর বছর।

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন সুন্দরবন ফার্মেসির মালিক আবু জাফর সিদ্দিক ড্রাগ লাইসেন্স করতে সাতক্ষীরা জেলা ড্রাগ সুপারের কার্যালয়ে গেলে কতিপয় ব্যক্তি ৩০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করে। পরবর্তীতে অফিস সহকারী আলমগীরের মাধ্যমে ২৫ হাজার টাকা ঘুষ দিয়েও মেলেনি লাইসেন্স।

আশাশুনির আনুলিয়া বাজারের রহমান ফার্মেসিতে ফার্মাসিস্ট নেই। ওই ফার্মেসির মালিক এক ফার্মাসিস্টকে দোকানের কর্মচারী দেখিয়ে ড্রাগ লাইসেন্সের জন্য অফিস সহকারী আলমগীর ও সুমনের মাধ্যমে ড্রাগ সুপারের কার্যালয়ে আবেদন করেন। পরে মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে ড্রাগ সুপার লাইসেন্স ইস্যু করেন।

এদিকে বেশিরভাগ ফার্মেসি টাকা দিয়ে লাইসেন্স নিলেও ভয় আর আতঙ্কে মুখ খুলতে চায় না। বাংলাদেশ ক্যামিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্টস সমিতির সাতক্ষীরা অফিসের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ড্রাগ সুপারের কার্যালয়ে ঘুষ লেনদেন দীর্ঘদিনের ব্যাপার। টাকা না দিলে এখানে মেলেনা ড্রাগ লাইসেন্স। আর এগুলো আলমগীর ও সুমনের মাধ্যমেই হয়।

এ ব্যাপারে মূল অভিযুক্ত আলমগীর হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘মানুষ কি এতটাই পাগল হয়ে গেছে যে এতগুলো টাকা দেবে লাইসেন্স করার জন্য, যা শুনছেন তা মিথ্যা।’

কম্পিউটার অপারেটর সুমন মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘এসব প্রতিবেদন বাদ দেন ভাই। আমি দেখা করবানে। দেখা হলে সব মিটে যাবেনে।’

সাতক্ষীরা জেলা ড্রাগ সুপার আবু হানিফ বলেন, ড্রাগ লাইসেন্স পেতে ও নবায়ন করতে সরকারি ফি ছাড়া কোনো টাকা নেওয়া হয় না। অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তার নাম ভাঙ্গিয়ে কে বা কারা টাকা নিয়ে থাকে তা তিনি জানেন না।


নিখোঁজ এমপি আনারের মরদেহ মিলল পশ্চিমবঙ্গে

আনোয়ারুল আজিম আনার। ফাইল ছবি
আপডেটেড ২২ মে, ২০২৪ ১১:২১
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভারতে গিয়ে নিখোঁজ বাংলাদেশের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে কলকাতার নিউটাউন থেকে।

ভারতীয় গণমাধ্যমে এ খবর দেওয়া হয়েছে। তবে তাকে হত্যা করা হয়েছে কি না সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

সীমান্ত এলাকা ঝিনাইদহ-৪ আসনের টানা তিনবারের সংসদ সদস্য (এমপি) ও কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন আনোয়ারুল আজীম আনার।

১৯ মে আনোয়ারুল আজীমের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আব্দুর রউফ বলেছিলেন, ‘১১ মে সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার চিকিৎসার জন্য ভারতে যান। কিন্তু এরপর ১৬ মে তার সঙ্গে শেষ কথা হয়েছে।’

বিষয়টি নিয়ে ১৯ মে ডিবি কার্যালয়েও যান আনোয়ারুল আজীমের মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন।

সেদিন তিনি বলেছিলেন, ‘তিনদিন ধরে আমার বাবাকে ফোনে পাচ্ছি না। তার মোবাইল ফোনটি মাঝে মাঝে খোলা পাই আবার মাঝে মাঝে বন্ধ পাই। পরে এই বিষয়ে আমি ডিবি প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি আমাকে বলেছেন বিষয়টি তিনি দেখছেন। পরে আজকে আমি ওনার কার্যালয়ে আসি। তিনি আমাদের সহযোগিতা করছেন। বাবাকে ফোনে না পাওয়ার কারণেই মূলত আমি ডিবি কার্যালয়ে এসেছি। আমি নিজেও ভারতে দ্রুত সময়ের মধ্যে যাব।’

এর আগে, গত ১১ মে চিকিৎসার জন্য ভারতে যান সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার। এরপর দুদিন পরিবার ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। ১৪ মে থেকে তার সঙ্গে সকল প্রকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তার ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরটিও বন্ধ থাকে।

বিষয়:

দ্বিতীয় ধাপে নির্বাচিত হলেন যারা

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সারা বাংলা ডেস্ক

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ১৫৬টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। ভোট গণনা শেষে রাতে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। সারা দেশের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর থেকে জানা যায়-

ফরিদপুর

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ফরিদপুরের নগরকান্দা ও সালথা উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নগরকান্দা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহসম্পাদক কাজী শাহ জামান বাবুল। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৭ হাজার ২০৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান সরদার পেয়েছেন ২৫ হাজার ২৩৭ ভোট।

অন্যদিকে সালথা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বর্তমান চেয়ারম্যান ওয়াদুদ মাতুব্বর বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৫৪৫ ভোট তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী মো. ওহিদুজ্জামান পেয়েছেন ৫ হাজার ৩৪২ ভোট।

নারায়ণগঞ্জ

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। ঘোড়া প্রতীকে তিনি পেয়েছেন এক লাখ ১৫ হাজার ২৫২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দোয়াত কলম প্রতীকের প্রার্থী মো. শাহজালাল মিয়া পেয়েছেন ১৩ হাজার ১৩২ ভোট।

বিজয়ী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য। তিনি কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান। অন্যদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. শাহজালাল মিয়া আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা ও আখাউড়ায় উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কসবা উপজেলায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ফুফাতো ভাই ছাইদুর রহমান ও আখাউড়ায় মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের সাবেক চেয়ারম্যান মনির হোসেন বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাাচিত হয়েছেন।

ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, কসবা উপজেলায় ছায়েদুর রহমান স্বপন কাপ-পিরিচ প্রতীকে ৮৬ হাজার ৬৯৮ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও কুটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সাবেক সহকারী একান্ত সচিব রাশেদুল কাউসার ভূইয়া আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৯৫৯ ভোট।

অন্যদিকে আখাউড়া উপজেলায় মনির হোসেন ঘোড়া প্রতীকে ২৮ হাজার ৩০৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৪ হাজার ৫৬৩ ভোট।

রাঙামাটি

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে রাঙামাটির রাজস্থলী, কাপ্তাই ও বিলাইছড়ি উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। রাজস্থলী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উবাচ মারমা আনারস প্রতীকে ৭ হাজার ৭৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. রিয়াজ উদ্দীন রানা দোয়াত কলম প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ১৮ ভোট।

অন্যদিকে কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. নাছির উদ্দিন দোয়াত কলম প্রতীকে ৭ হাজার ৩৬২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ৯৭৩ ভোট।

অপরদিকে বিলাইছড়ি উপজেলায় মোট ১৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫টি হেলিসর্টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। দুর্গম এলাকা হওয়ায় রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ফলাফল না আসায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কোনো ফলাফল ঘোষণা করেননি। তবে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) সমর্থিত দোয়াত কলম প্রতীকের বিরোত্তম তঞ্চঙ্গ্যা চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

লালমনিরহাট

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। দুই উপজেলায় মধ্যে আদিতমারী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ফারুক ইমরুল কায়েস ও কালীগঞ্জ উপজেলায় জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুজ্জামান আহমেদ বিজয়ী হয়েছেন।

রাত সাড়ে ৯টার দিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা লুৎফর কবির তাদেরকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন।

আদিতমারী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ফারুক ইমরুল কায়েস মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৩৩ হাজার ১৩৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৯ হাজার ১৮টি ভোট

কালীগঞ্জ উপজেলায় সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের ছেলে রাকিবুজ্জামান আহমেদ আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৪ হাজার ৩০৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তার চাচা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুজ্জামান আহমেদ ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৩৫০ ভোট।

পিরোজপুর

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দ্বিতীয় ধাপে পিরোজপুর জেলার দুই উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার পিরোজপুরের নেছারাবাদ ও কাউখালী উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের মোট ১২২টি ভোটকেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতিতে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

কাউখালী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. আবু সাঈদ মিঞা ও নেছারাবাদ উপজেলায় আব্দুল হক নির্বাচিত হয়েছেন। রাতে নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা সৈয়দ শফিকুল হক বেসরকারিভাবে তাদের বিজয়ী ঘোষণা করেন।

নেছারাবাদ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আব্দুল হক আনারস প্রতীকে ৩৮ হাজার ৬১২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এস এম মুইদুল ইসলাম মোটরসাইল প্রতীকে পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৫২০ ভোট।

অন্যদিকে কাউখালী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. আবু সাঈদ মিঞা ঘোড়া প্রতীকে ১১ হাজার ২৮৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার পল্টন কাপ-পিরিচ প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ২৯৪ ভোট।

ঝালকাঠি

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঝালকাঠি সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি খান আরিফুর রহমান। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৯৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দোয়াত কলম প্রতীকের প্রার্থী মো. সুলতান খান পেয়েছেন ২৫ হাজার ৯৭১ ভোট।

অন্যদিকে নলছিটি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. সালাউদ্দিন খান সেলিম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। মোটরসাইকেল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২৩ হাজার ৯৩৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মেয়র তছলিম উদ্দিন চৌধুরী আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৬ হাজার ৭৮৪ ভোট।

বাগেরহাট

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে বাগেরহাটে ফকিরহাট, মোল্লাহাট,ও চিতলমারী উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফকিরহাট উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন শেখ ওহিদুজ্জামান বাবু। মোটরসাইকেল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৬৫৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আনরস প্রতীকের প্রার্থী বর্তমানে উপজেলা চেয়ারম্যান স্বপন দাস পেয়েছেন ২৯ হাজার ৪৩৭ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৬২.৫০ শতাংশ।

চিতলমারী উপজেলার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন মো. আলমগীর হোসেন সিদ্দিকী। দোয়াত কলম প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৮৮৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অশোক কুমার বড়াল মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ২২ হাজার ৭৬৩ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৪৫.৭৫ শতাংশ।

অন্যদিকে মোল্লাহাট উপজেলার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহিনুর আলম ছানা। দোয়াত কলম প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২৯ হাজার ৯০২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা শেখ নাসির উদ্দীন আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৯৫৪ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৫৩.৭৭ শতাংশ। জেলায় গড় ভোট কাস্টিং হয়েছে ৫৪ শতাংশ।

যশোর

দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে যশোরের ঝিকরগাছা, শার্শা ও চৌগাছা উপজেলায় ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষে রাতে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন উপজেলাগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা।

চৌগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম হাবিবুর রহমান। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৫৬৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ড. মোস্তানিছুর রহমান পেয়েছেন ২৮ হাজার ৯৮০ ভোট।

নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুম্মিতা সাহা রাত সাড়ে ৯টায় এ ফলাফল ঘোষণা করেন।

ঝিকরগাছা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম। আনারস প্রতীকে মনিরুল ইসলাম পেয়েছেন ৪০ হাজার ৬৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সেলিম রেজা ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ১৮ হাজার ৪৪৩ ভোট।

অন্যদিকে শার্শা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. সোহরাব হোসেন দোয়াত কলম প্রতীক নিয়ে ৩৭ হাজার ৫৭০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. অহিদুজ্জামান আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১২ হাজার ২৯১ ভোট।

রাজশাহী

দ্বিতীয় ধাপে রাজশাহীর বাগমারা, দুর্গাপুর ও পুঠিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাগমারা উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন জাকিরুল ইসলাম সান্টু। তিনি ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৩২২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুর রাজ্জাক সরকার ওরফে আর্ট বাবু পেয়েছেন ৪ হাজার ৩২১ ভোট।

পুঠিয়া উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আবদুস সামাদ মোল্লা। তিনি আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৬ হাজার ৬৬৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আহসানুল হক মাসুদ ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ২৩ হাজার ৬৭৯ ভোট।

অন্যদিকে দুর্গাপুর উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন শরীফুজ্জামান শরীফ। তিনি মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৪২ হাজার ১১৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল মজিদ সরদার পেয়েছেন ২৭ হাজার ৩৩২ ভোট।

সাতক্ষীরা

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে সাতক্ষীরার আশাশুনি, তালা ও দেবহাটা উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আশাশুনি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি চিংড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৫১ হাজার ৬৬২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শাহনেওয়াজ ডালিম ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৫০ হাজার ৭০৭ ভোট।

অপরদিকে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলা নির্বাচনে মো. আল ফেরদাউস বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি হেলিকপ্টার প্রতীকে ২৬ হাজার ৩৭৭ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. মজিবুর রহমান মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ১৭ হাজার ১৫২ ভোট।

এ ছাড়া সাতক্ষীরার তালা উপজেলা নির্বাচনে ঘোষ সনৎ কুমার বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি কাপ পিরিচ প্রতীকে ৪৬ হাজার ৪৫৮ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সরদার মশিয়ার চিংড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৩২ হাজার ৪১৩ ভোট।

বিষয়:

একীভূত হচ্ছে খুলনার ৪৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ময়নাপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। সেখানে ৩ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদান করান ২ জন শিক্ষক। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২২ মে, ২০২৪ ১০:৩৭
আওয়াল শেখ, খুলনা

কম শিক্ষার্থী নিয়ে পাশাপাশি থাকা প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো একীভূত করার পরিকল্পনা করেছে সরকার। খুলনা জেলায় এমন ৪৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয় একীভূত করার জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করা হয়েছে।

খুলনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ অহিদুল আলম বলেন, ‘আমাদের জেলাতে মোট ১ হাজার ১৫৯টি বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৪৭টি বিদ্যালয়ে ৫০ জনের কম শিক্ষার্থী আছে। তবে পারিপার্শ্বিক বিবেচনায় ৪৬টি বিদ্যালয়কে একীভূত করার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।’

তবে একীভূত করার পর কোনো বিদ্যালয় বন্ধ হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পাশাপাশি থাকা দুটি বিদ্যালয়ের একটিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পাঠদান করা হবে। একইভাবে অন্যটিতে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির পাঠদান করা হবে। এটা ভাগাভাগি করে পাঠদান করানো হবে।’

৫০ জনের কম শিক্ষার্থী রয়েছে এমন কয়েকটি বিদ্যালয়ে পরিদর্শন করেছেন এই প্রতিবেদক। খুলনা শহর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে বিল খুলশী ও বিল ডাকাতিয়ার মাঝামাঝি প্রত্যন্ত ময়নাপুর গ্রামে রয়েছে ময়নাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সেখানে তিনজন শিক্ষার্থীকে পাঠদান করান দুজন শিক্ষক।

গত বছর জেলা শিক্ষা অফিস থেকে ওই বিদ্যালয়টির কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। তবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বিদ্যালয়টি সম্পূর্ণ বন্ধ করার ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি।

ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বপ্না রানী বলেন, বিদ্যালয়টিতে দিন দিন শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে আসেছে। কারণ এই বিলে কম পরিবারের বসবাস। এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী অনেক বিদ্যালয়ও রয়েছে।

ভালো অবকাঠামো না থাকায় শিক্ষার্থীরা সেখানে ভর্তি হতে চায় না জানিয়ে তিনি বলেন, এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৯১ সালে। ২০১৩ সালে সরকার বিদ্যালয়টিকে জাতীয়করণ করে। ২০১৫ সাল পর্যন্ত এখানে ৬০-৭০ জন শিক্ষার্থী লেখাপড়া করত। তবে পার্শ্ববর্তী আধা কিলোমিটারের মধ্যে আরেকটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। ২০১৫ সালে সেখানে দুইতলা পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়। যে কারণে স্থানীয় শিক্ষার্থীরা ওই বিদ্যালয়টিতে চলে যায়।

স্বপ্না রানী জানান, বিদ্যালয়টি থেকে গত ৫ বছরে পাস করে বের হয়েছে মাত্র ৩০ জন। আর ২০২২ সালে শিক্ষার্থী ছিল মাত্র একজন। ২০২৩ সালে আরও দুজন নতুন করে ভর্তি হওয়ায় বর্তমানে তিনজন শিক্ষার্থী রয়েছে। তারাও চলে যেতে পারে। কারণ দুর্বল অবকাঠামোর জন্য তাদের মায়েরাও এখানে পড়াতে চান না। ২০০৮ সালে সংসদ সদস্য নারায়ণ চন্দ্র চন্দ জেলা পরিষদের মাধ্যমে এখানে একটি আধাপাকা ভবন নির্মাণ করিয়ে দেন। পরে আর অবকাঠামো নির্মাণ হয়নি।

শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ অহিদুল আলম বলেন, এ ধরনের বিদ্যালয়গুলোতে শ্রেণিভিত্তিক পাঠদান ভাগাভাগি হলে আর শিক্ষার্থী সংকট হবে না। অর্থাৎ একটিতে কম শিক্ষার্থী বা অন্যটিতে বেশি শিক্ষার্থী এমন সমস্যা হবে না।

তিনি আরও বলেন, একীভূত হওয়ার ফলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতাও বাড়বে। ফলে শিক্ষার মান আরও ভালো হবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় উপপরিচালক মো. মোসলেম উদ্দিন বলেন, অল্প শিক্ষার্থী রয়েছে, তবে পাশাপাশি কোনো বিদ্যালয় নেই- এমন বিদ্যালয়গুলো যথারীতি চালু থাকবে। ঢালাওভাবে কিছু করা হচ্ছে না। স্থানীয় বাস্তবতা ও পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যালয়গুলো একীভূত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘সারা দেশে এ ধরনের ৩০০টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা করা হয়েছে। এটা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। নির্দেশনা এলে পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করা হবে।’


দ্বিতীয় ধাপে ৩০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে : সিইসি

রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দ্বিতীয় ধাপে ১৫৬ উপজেলায় নির্বাচনে ৩০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।

এর আগে মঙ্গলবার সকাল ৮টায় শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এবারের নির্বাচনে অধিকাংশ উপজেলার ভোটকেন্দ্রে ছিল ভোটার খরা। এ ছাড়া বিভিন্নস্থানে গুলিবর্ষণ, সংঘর্ষ ও প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আটকসহ কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্যে দিয়ে শেষ হয়েছে দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচন।

সারা দেশে ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল অনেক কম। এ নির্বাচনে ১৫৬টি উপজেলায় ১৩ হাজার ১৫৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০ হাজার কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১৬ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট কাস্টিং হয়েছে। দুপুর ১টায় নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব মো. জাহাংগীর আলম এ তথ্য জানান।

দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে রাজশাহী, রাজবাড়ী, লক্ষ্মীপুর, লালমনিরহাট, ফরিদপুর, কুমিল্লা, পটুয়াখালী, নেত্রকোণা, জামালপুরসহ অধিকাংশ জেলার উপজেলায় সারাদিন ভোটার উপস্থিতি দেখা গেছে। বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।

এদিকে, তৃতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচন উপলক্ষে ১১১টি উপজেলা সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় আগামী ২৯ মে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। গতকাল সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের চাহিদা মোতাবেক ১১১টি উপজেলা পরিষদের সাধারণ নির্বাচন উপলক্ষে ভোটগ্রহণের দিন অর্থাৎ ২৯ মে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হলো।

বিষয়:

শেষ হলো দ্বিতীয় ধাপের ভোট, চলছে গণনা

ফাইল ছবি
আপডেটেড ২১ মে, ২০২৪ ১৬:৪১
নিজস্ব প্রতিবেদক

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ১৫৬টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। এখন চলছে ভোট গণনার কাজ।

আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টায় শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

১৫৬টি উপজেলায় ১৩ হাজার ১৫৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০ হাজার কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১৬ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট কাস্টিং হয়েছে। দুপুর ১টার দিকে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব মো. জাহাংগীর আলম এ তথ্য জানান।

রাজশাহী, রাজবাড়ী, লক্ষ্মীপুর, লালমনিরহাট, ফরিদপুর, কুমিল্লা, পটুয়াখালী, নেত্রকোণা, জামালপুরসহ অধিকাংশ জেলার উপজেলায় সারা দিন ভোটার উপস্থিতি দেখা গেছে।

দুপুর ১টার দিকে সাংবাদিকদের দেওয়া এক বক্তব্যে ইসি সচিব বলেন, ‘সারা দেশে চলমান দ্বিতীয় ধাপের ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। ভোটকেন্দ্রের বাইরে ছোটখাটো দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। যার সংখ্যা মাত্র ১৮টি। এ ছাড়া বিচ্ছিন্নভাবে দুটি ঘটনা ঘটেছে। রাজবাড়ীতে একজন ভোটার ভোটকেন্দ্রে লাইনে দাঁড়ানো থাকা অবস্থায় সম্ভবত স্ট্রোক করেছেন। ৫৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। আর রাজশাহীতেও একজন আনসার ভিডিপি কর্মী স্ট্রোক করে মারা গেছেন। এসব মৃত্যুর সঙ্গে নির্বাচনী সহিংসতার কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই।’

উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী প্রথম ধাপে ১৩৯টি উপজেলায় ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে গত ৮ মে। আজ দ্বিতীয় ধাপে ১৫৬টি উপজেলার ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। এরপর তৃতীয় ধাপে ১১২টি উপজেলায় আগামী ২৯ মে এবং চতুর্থ ধাপে ৫৫টি উপজেলায় আগামী ৫ জুন ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ২২টি, দ্বিতীয় ধাপে ২৪টি, তৃতীয় ধাপে ২১টি ও চতুর্থ ধাপে ২টি উপজেলায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

এদিকে, তৃতীয় ধাপের নির্বাচন উপলক্ষে ১১১টি উপজেলা সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় আগামী ২৯ মে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। গতকাল সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের চাহিদা মোতাবেক ১১১টি উপজেলা পরিষদের সাধারণ নির্বাচন উপলকক্ষে ভোটগ্রহণের দিন অর্থাৎ ২৯ মে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হলো।

বিষয়:

সারা দেশে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে: ইসি সচিব

আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের উপজেলা নির্বাচনবিষয়ক ব্রিফ করেন ইসি সচিব জাহাংগীর আলম। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব জাহাংগীর আলম বলেছেন, সারা দেশে চলমান দ্বিতীয় ধাপের ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। সারা দেশে শান্তিপূর্ণ এবং সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে ভোটকেন্দ্রে স্ট্রোক করে দুজন মানুষ মারা গেছেন। তাদের এই মৃত্যু নির্বাচনী সহিংসতার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।

আজ মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে গণমাধ্যমকে তিনি এসব তথ্য জানান।

ইসি সচিব বলেন, ‘দুপুর পর্যন্ত নির্বাচনী কেন্দ্রগুলোতে বড় ধরনের কোনো নাশকতার খবর আমরা পাইনি। ভোট কেন্দ্রের বাইরে ছোটখাটো দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। যার সংখ্যা মাত্র ১৮টি। এ ছাড়া বিচ্ছিন্নভাবে দুটি ঘটনা ঘটেছে। রাজবাড়ীতে একজন ভোটার ভোটকেন্দ্রে লাইনে দাঁড়ানো থাকা অবস্থায় সম্ভবত স্ট্রোক করেছেন। ৫৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেছেন। আর রাজশাহীতেও একজন আনসার ভিডিপি কর্মী স্ট্রোক করে মারা গেন। এসব মৃত্যুর সঙ্গে নির্বাচনী সহিংসতার কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই। আমরা আশা করি বিকেল চারটা পর্যন্ত সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় প্রথম ধাপের চেয়ে দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে ভোটের হার আরও বাড়বে। সাধারণত গ্রামে ভোটারদের উপস্থিতি দুপুরের পর। আমরা প্রত্যাশা করছি সুন্দরভাবেই নির্বাচন সম্পন্ন হবে।’

তিনি আরও বলেন, সারা দেশে ১৫৬টি উপজেলায় ১৩ হাজর ১৫৫টি কেন্দ্রে ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল আটটা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। দুপুর বারোটা পর্যন্ত আমরা দশ হাজার কেন্দ্রের তথ্য পেয়েছি। তাতে দেখা গেছে প্রদত্ত ভোটের হার শতকরা ১৬.৯৪ শতাংশ। মানে প্রায় ১৭ শতাংশ ভোট পড়েছে।

উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে ১৫৬ উপজেলায় মোবাইল স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে বিজিবি মোতায়েন রয়েছে ৪৫৮ প্লাটুন। ভোটকেন্দ্রে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে ৪৭ হাজার ৮২৯ জন। এছাড়া স্ট্রাইকিং ও মোবাইল টিম হিসেবেও রয়েছে ১৯ হাজার ৫৭ জন পুলিশ সদস্য। দায়িত্ব পালন করেছেন এলিট ফোর্স র‍্যাব ২ হাজার ৭৬৮ জন ও আনসারের ১ লাখ ৯৩ হাজার ২৮৭ জন সদস্য।

বিষয়:

১২টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ১৭ শতাংশ: ইসি সচিব

মঙ্গলবার সাংবাদিকদের কাছে ব্রিফ করেন ইসি সচিব জাহাংগীর আলম। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সারা দেশে ১৫৬টি উপজেলায় চলছে ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। এই নির্বাচনে ১৩ হাজার ১৫৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০ হাজার কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১৬.৯ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ১৭ শতাংশ ভোট কাস্টিং হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার দুপুর ১টায় নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব জাহাংগীর আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, দ্বিতীয় ধাপের ১৫৬ উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে তিনটি পদে এক হাজার ৮২৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৬০৩ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬৯৩ জন এবং নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫৯৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

আবার এসব পদে ২২ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এরইমধ্যে বিজয়ী হয়েছেন। দুটি উপজেলায় তিনটি পদে সবাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় লাভ করেছেন।

বিষয়:

উপজেলা নির্বাচন: ২৯ মে সাধারণ ছুটি ঘোষণা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদের তৃতীয় ধাপের নির্বাচন উপলক্ষে ১১১টি উপজেলা সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় আগামী ২৯ মে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

গতকাল সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের চাহিদা মোতাবেক ১১১টি উপজেলা পরিষদের সাধারণ নির্বাচন উপলকক্ষে ভোটগ্রহণের দিন অর্থাৎ ২৯ মে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হলো।

এর আগে তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে ১১১ উপজেলায় সাধারণ ছুটি ঘোষণার জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে সম্প্রতি নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন। সংস্থাটি থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে এজন্য চিঠি পাঠানো হয়।

এতে বলা হয়, ২৯ মে ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদের ৩য় ধাপের নির্বাচন ১১১ উপজেলায় অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন উপলক্ষে ভোটগ্রহণের দিন অর্থাৎ ২৯ মে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা প্রয়োজন।

উপজেলা পরিষদের নির্বাচন উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় ভোটগ্রহণের দিন অর্থাৎ ২৯ মে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আদিষ্ট হয়ে অনুরোধ করা হলো।

বিষয়:

প্রথম ২ ঘণ্টায় ভোট পড়েছে ৮ শতাংশ: ইসি সচিব

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সারা দেশে ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ চলছে। ১৫৬টি উপজেলায় সকাল ৮টা থেকে ভোটের কার্যক্রম শুরু হয়েছে যা চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

ভোট শুরুর প্রথম দুই ঘণ্টায় সকাল ৮টা থেকে বেলা ১০টা পর্যন্ত সারা দেশে অঞ্চলভিত্তিক ৭-৮ শতাংশ ভোট পড়েছে।

আজ মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে ইলেকশন কমিশনের (ইসি) অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘এই ধাপের ১৫৬ উপজেলায় সকাল ৮টায় সুষ্ঠুভাবে ভোট শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার ঘটনা ঘটেনি। তবে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় এক আনসার সদস্য শারীরিক অসুস্থতায় হার্ট অ্যাটাক করে মারা গেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভোট শুরু হয়েছে মাত্র দুই ঘণ্টা হয়েছে। বিভিন্ন জেলার প্রাপ্ত তথ্যে একেক অঞ্চলে বিভিন্ন হারে ভোট পড়ছে। কোথাও বেশি কোথাও কম। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে এই হার আরও বাড়বে।’

১৫৬ উপজেলায় মোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১৩ হাজার ১৬টি। ভোট কক্ষ রয়েছে ৯১ হাজার ৫৮৯। অস্থায়ী ভোট কক্ষ রয়েছে আট হাজার ৮৪১টি। এই ধাপের মোট ভোটার তিন কোটি ৫২ লাখ চার হাজার ৭৪৮ জন। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন এক কোটি ৭৯ লাখ পাঁচ হাজার ৪৬৪ জন। নারী ভোটার রয়েছেন এক কোটি ৭২ লাখ ৯৯ হাজার ৪৭ জন ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ২৩৭ জন।

দেশের ৪৯৫টি উপজেলার মধ্যে চার ধাপে ৪৭৬টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। এর মধ্য কিছু উপজেলায় তফশিল ঘোষণায় মামলা জটিলতা ও বৈধ প্রার্থীর মৃত্যু ঘটনায় নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। ১৯টি উপজেলা পরিষদে নির্বাচনের সময় হয়নি, পরে সেসব পরিষদে ভোট নেওয়া হবে জানান সংস্থাটি।

বিষয়:

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন: দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ চলছে

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সারা দেশের ১৫৬টি উপজেলায় ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ চলছে। আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, যা চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

এই নির্বাচনে তিনটি পদে এক হাজার ৮২৪ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। চেয়ারম্যান পদে ৬০৩ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬৯৩ জন ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫৯৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।

এই ধাপে তিন পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন ২২ প্রার্থী। রাউজান ও কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলায় সকল পদেই প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

১৫৬ উপজেলায় মোট তিন কোটি ৫২ লাখ চার হাজার ৭৪৮ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। ভোটগ্রহণ করা হচ্ছে ১৩ হাজার ১৬টি কেন্দ্রের ৯১ হাজার ৫৮৯টি ভোটকক্ষে। ২৪ উপজেলায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে এবং ১৩২ উপজেলায় ব্যালট পেপারে ভোটগ্রহণ করা হচ্ছে।

ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় পুলিশ, আনসার ও গ্রাম পুলিশের ১৭ থেকে ২১ জনের ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া উপজেলা ভেদে দুই থেকে চার প্লাটুন বিজিবি নিয়োজিত রয়েছে। ১৬টি উপজেলায় নিয়োজিত করা হয়েছে অতিরিক্ত ফোর্স।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তিন লাখ ৫৩ হাজার ৭২০ জন সদস্য ভোটের দায়িত্বে মাঠে রয়েছেন। মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে বিজিবি ৪৫৮ প্লাটুন, ভোটকেন্দ্রে পুলিশ ৪৭ হাজার ৮২৯ জন, স্ট্রাইকিং ও মোবাইল টিম হিসেবে পুলিশ ১৯ হাজার ৫৭ জন, র‍্যাবের দুই হাজার ৭৬৮ জন ও আনসার সদস্য রয়েছেন এক লাখ ৯৩ হাজার ২৮৭ জন।

নির্বাচনী আচরণ বিধি প্রতিপালনের জন্য প্রতি তিন ইউনিয়নে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে। প্রতি উপজেলায় নির্বাচনী অপরাধ আমলে নিয়ে সংক্ষিপ্ত বিচারকাজের জন্য রয়েছেন একজন করে বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ভোটের নিরাপত্তায় ভোটগ্রহণের দু’দিন পর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।

দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বলেছেন, ‘আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করবে। ভোটাররাও আগের নির্বাচন যেহেতু শান্তিপূর্ণ হয়েছে, তাই দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে স্বাচ্ছন্দ্যে ভোট দিতে পারবেন।’

দেশের ৪৯৫টি উপজেলার মধ্যে ৪৭৬টি উপজেলায় চার ধাপে ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয় ইসি। গত ৮ মে প্রথম ধাপে ১৩৯টি উপজেলায় ভোট হয়েছে। অন্যগুলোতে আগামী ২৯ মে ও ৫ জুন ভোটগ্রহণ করা হবে। কয়েকটি উপজেলার মেয়াদ পূর্তি না হওয়ায় ভোটের তফসিল এখনো দেয়নি ইসি।

বিষয়:

banner close