শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
১৯ আষাঢ় ১৪৩৩

ঝুঁকিমুক্ত পরিবহন ও নিরাপদ সড়ক চাই দাবিতে মানববন্ধন

পিরোজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত
পিরোজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৩ এপ্রিল, ২০২৪ ২৩:২৯

ঝুঁকিমুক্ত পরিবহন ও নিরাপদ সড়ক চাই দাবিতে পিরোজপুর সদর উপজেলার ৭ নং শংকরপাশা ইউনিয়নের শংকরপাশা ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন এর উদ্যোগে স্থানীয় জনসাধারণের সমন্বয়ে এবং ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও মেম্বারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১ টায় এক শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধন অনুষ্ঠানে শংকরপাশা ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক হাসান মোহাম্মদ পারভেজসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিকার চেয়ে মূল্যবান বক্তব্য প্রদান করেন। মানববন্ধনে ৭ নং শংকরপাশা ইউনিয়নের স্কুল গোলাম হায়দার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস ওহি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা স্বার্থে বলেন, অত্র প্রতিষ্ঠানে প্রায় চারশত থেকে পাঁচশত শিক্ষার্থী রয়েছে তারা প্রতিদিন স্কুলে আসা এবং যাওয়ার ক্ষেত্রে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার হন। ইতিপূর্বে তাদের সহপাঠী সড়ক দুর্ঘটনায় স্কুলের সম্মুখেই নিহত হয়েছিলেন। তাই তিনি সকল শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে স্কুলের সম্মুখে একটি ঢালাই স্পিড ব্রেকারের জোরালো আবেদন করেন।

আরও বক্তব্য প্রদান করেন মোঃ কাউসার হোসেন। তিনি এ সড়কের বারবার দুর্ঘটনার কারণসমূহ চিহ্নিত করাসহ অদক্ষ ড্রাইভার এবং রেজিস্ট্রেশনবিহীন গাড়ি, রাস্তার দুই ধারে ঝুঁকিপূর্ণ গাছ, বৈদ্যুতিক খুঁটি এবং যত্রতত্র ট্রাকে মাল লোড আন লোডসহ বিভিন্ন বিষয়ে উপস্থাপন করেন এবং প্রতিকারে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

মানববন্ধনের অন্যতম সমন্বয়কারী মোঃ শামসুদ্দোহা তিনি তার বক্তব্যে বলেন, গত ৮ মার্চ ২০২৪ ইংরেজি তারিখ সকাল ১১:৩০ ঘটিকার সময় একটি সড়ক দুর্ঘটনায় সাতজন প্রাণ হারিয়েছেন এবং বহু লোক আহত হয়েছেন। তিনি অল্পের জন্য বেঁচে গিয়েছেন। তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, এই সড়কটি ক্রমাগত একটি ভয়াবহ সড়কে পরিণত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, গত ৮ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১০ জন সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। প্রতিদিনই সড়ক দুর্ঘটনা এ রাস্তায় লেগেই থাকে। তাই তিনি দাবি করেন পিরোজপুর পুরাতন বাস স্ট্যান্ড থেকে টগড়া ফেরিঘাট পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে স্পিড ব্রেকার, ঝুঁকিপূর্ণ গাছ, ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুতের খুঁটি সমূহ দ্রুত অপসারণ করা একান্ত প্রয়োজন। এ বিষয়ে তিনি প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী সড়ক ও জনপদ, চেয়ারম্যান জেলা পরিষদ পিরোজপুর বনও বিদ্যুৎ বিভাগ পিরোজপুর এর দৃষ্টিআকর্ষণ কামনা করেন। তিনি আরো উল্লেখ করেন যে পিরোজপুর বাস স্ট্যান্ড থেকে টগরা ফেরিঘাট পর্যন্ত কমপক্ষে তিনজন ট্রাফিক থাকা একান্ত আবশ্যক। তাছাড়া পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে ভান্ডারিয়া মঠবাড়িয়া ও ইন্দুরকানির বাসগুলো অনৈতিকভাবে অবস্থান করে ছাড়ার নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে যাত্রা শুরু করায় তাদেরকে রাস্তায় নির্ধারিত স্পিডের দ্বিগুণ গতিতে চালিয়ে ফেরী ধরতে হয়।

এ কারণে নানান সড়ক দুর্ঘটনার সৃষ্টি হচ্ছে। এতে সাধারণ জনগণ তার পিতা-মাতা ও সন্তান হারাচ্ছেন যা মোটেই কাম্য নয়। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার এবং জেলা বাস মালিক সমিতির সুদৃষ্টি কামনা করেন। মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন স্থানীয় চেয়ারম্যান মো: তোফাজ্জেল হোসেন, মল্লিক স্বপন সভাপতি উপজেলা আওয়ামী লীগ পিরোজপুর। তিনি তার বক্তব্য একই দাবি দাওয়া সমূহ উল্লেখ করেন এবং জেলা প্রশাসক প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী সড়ক ও জনপথ চেয়ারম্যান জেলা পরিষদ বন বিভাগ নির্বাহী প্রকৌশলী বিদ্যুৎ এবং বাস মালিক সমিতির সকলের দৃষ্টি আকর্ষণপূর্বক সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিকারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেন।


নির্বাচিত

নাটোরে টাকা ছিনতাইয়ের নাটক করে গ্রেপ্তার বিকাশ অফিসার

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাটোর প্রতিনিধি

নাটোরে জুয়া খেলার টাকা জোগাড় করতে সাড়ে তিন লাখ টাকা ছিনতাইয়ের নাটক করে গ্রেপ্তার হয়েছেন বিকাশের সেলস অফিসার স্বাধীন হোসেন। শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে সদর থানা চত্বরে এক বিফ্রিংয়ে এই তথ্য জানানো হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে শহরের স্টেশন বাজার এলাকা থেকে অভিযুক্ত স্বাধীনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলম জানান, গত পহেলা জুলাই বিভিন্ন এজেন্ট পয়েন্টে লেনদেনের জন্য বিকাশের সেলস অফিসার স্বাধীন হোসেনকে নগদ ২ লাখ টাকা এবং বিকাশ হিসাবের মাধ্যমে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার ব্যালেন্স দেয়া হয়। সেই টাকা নিয়ে গিয়ে পরে স্বাধীন হোসেন দাবি করেন, সদর উপজেলার নারায়ণপাড়া এলাকায় অজ্ঞাত কয়েকজন ব্যক্তি তার কাছ থেকে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়েছে।

এ ঘটনায় জেলা বিকাশ ডিস্ট্রিবিউশন হাউজের বিজনেস ম্যানেজার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর ঘটনার তদন্তে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন, বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে জানতে পারে, সেখানে কোনো ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেনি।

পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বাধীন হোসেন স্বীকার করেন, জুয়া খেলায় টাকা হারিয়ে আত্মসাতের ঘটনা গোপন করতেই তিনি নিজেই ছিনতাইয়ের মিথ্যা গল্প সাজিয়েছিলেন। আত্মসাৎ হওয়া অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি এ ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


নির্বাচিত

প্রযুক্তি উদ্ভাবনে শিক্ষিত ছেলে-মেয়েদের মেধা বিনিয়োগের আহ্বান মির্জা ফখরুলের

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

দেশকে প্রযুক্তিগত ভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে শিক্ষিত ছেলে মেয়েদের প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনে মেধা বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এমপি।

শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের মোলানী বাজার, চুনিহাড়ী পশ্চিমপাড়ায় সোলেমান আলীর নিজস্ব উদ্ভাবনী সোলার সেচ পাম্প দেখে মুগ্ধ হয়ে " প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, দেশীয় উদ্ভাবনকে কৃষির উন্নয়নে কাজে লাগাতে উদ্ভাবক মো. সলেমান আলীর মতো তৈরি ‘সলেমান সোলার সেচপাম্প’ সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিবে সরকার। এ জন্য শিক্ষিত ছেলে মেয়েদের প্রযুক্তিগতভাবে নতুন কিছু করতে এগিয়ে আসতে হবে।

মন্ত্রী বলেন আরও বলেন, দেশীয় প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্ভাবন কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। কৃষকদের সেচ ব্যয় কমানো এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সৌরশক্তিচালিত এ ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার কৃষিকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে কাজ করছে। নতুন নতুন উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা হলে দেশের কৃষি আরও সমৃদ্ধ হবে এবং কৃষকরাও সরাসরি উপকৃত হবেন।

অনুষ্ঠানে উদ্বোধনের আগে মন্ত্রী সোলার সেচপাম্পের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং উদ্ভাবক মো. সলেমান আলীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন বিশ্বাস সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কৃষক, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে টেকনাফ সীমান্তে বিজিবির কড়াকড়ি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কক্সবাজার প্রতিনিধি

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সামরিক জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘাত চলছে। সীমান্তের ওপারে বিমান হামলার পর কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সম্ভাব্য রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ও সীমান্তপথে চোরাচালান ঠেকাতে স্থল ও নৌ টহল বাড়ানোর পাশাপাশি ড্রোনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে টেকনাফ-২ বিজিবির লেফটেন্যান্ট ফুয়াদ রহমানের নেতৃত্বে টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যংপাড়া, বরইতলী ও জাদিমোড়া সীমান্ত এলাকায় বিজিবির বিশেষ টহল পরিচালিত হয়। একই সময়ে নাফ নদীতে নৌ টহল জোরদার করা হয়। এছাড়া টেকনাফ সদর থেকে শাহপরীর দ্বীপ ও হ্নীলা পর্যন্ত পুরো সীমান্তজুড়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে নতুন করে কোনো রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বা অবৈধ কর্মকাণ্ড ঘটতে না পারে।

এর আগে, গত বুধবার (১ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার পর মিয়ানমারের মংডু ও আশপাশের এলাকায় কয়েক দফা বিমান হামলার বিকট শব্দ টেকনাফ সীমান্ত পর্যন্ত ভেসে আসে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকেও আবার বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এতে সীমান্তবর্তী এলাকায় সাময়িক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই প্রথমে ভূমিকম্প হয়েছে; মনে করে ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন।

টেকনাফ ব্যাটালিয়নের (২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘সীমান্তের ওপারে বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ সৃষ্টি হলেও বাংলাদেশের সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।’

শাহপরীর দ্বীপের জালিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছৈয়দ আলম জানান, বুধবার রাতে কয়েকটি বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। গত বৃহস্পতিবার সকালেও একটি বিস্ফোরণের শব্দ হয়। পরে সীমান্তের ওপারে আগুনের লেলিহান শিখা দেখা যায়। এসব ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিরাপত্তার শঙ্কায় নাফ নদীতে অনেক জেলেও মাছ ধরতে যেতে সাহস পাচ্ছেন না।

এদিকে, একটি রোহিঙ্গা শিবিরের বাসিন্দা আজম উল্লাহ দাবি করেন, বুথিডং এলাকার চারলাইন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে মিয়ানমারের জান্তা বাহিনী বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে কয়েকটি রোহিঙ্গা গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এক শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষ্য, চলমান হামলার কারণে সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. অনীক চৌধুরী বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের বিকট শব্দ টেকনাফের সীমান্তবর্তী এলাকাতেও শোনা গেছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ছাড়া সীমান্তে অহেতুক ঘোরাঘুরি না করতে অনুরোধ করা হয়েছে। আর সীমান্তে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি, কোস্ট গার্ড ও স্থানীয় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

প্রসঙ্গত, টানা ১১ মাসের সংঘাতের পর ২০২৩ সালের ৮ ডিসেম্বর রাখাইন রাজ্যের মংডু, বুথিডং ও রাথেডং টাউনশিপসহ বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে মিয়ানমারের সরকারি বাহিনীকে হটিয়ে দেয় আরাকান আর্মি। বর্তমানে এসব এলাকার বিপরীতে বাংলাদেশের টেকনাফ, উখিয়া ও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা অবস্থিত। তবে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে আরাকান আর্মির অবস্থান লক্ষ্য করে মিয়ানমারের সরকারি বাহিনী নতুন করে বিমান ও স্থল হামলা শুরু করে। একই সময়ে রাখাইনের বিভিন্ন এলাকায় আরাকান আর্মির সঙ্গে কয়েকটি রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষও অব্যাহত রয়েছে। ফলে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।


নির্বাচিত

প্রতিবন্ধীদের জন্য ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বলেছেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সেবা সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রাপ্য সব ধরনের সেবা পর্যায়ক্রমে একটি ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’-এর আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অটিজম ও স্নায়ু বিকাশজনিত সমস্যাবিষয়ক সেল আয়োজিত প্রতিবন্ধীদের অধিকার ও সেবা সুরক্ষা বিষয়ক আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় ও বাস্তবায়ন কমিটির সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, এমপি এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকভাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার কাজ শুরু করা হবে। পাশাপাশি অন্তত ১০টি জেলা বা উপজেলায় পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব প্রকল্পের আওতায় শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সমন্বিতভাবে নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিদ্যমান সক্ষমতা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আরও বিকশিত করা হবে। তারা যে পণ্য উৎপাদন করবেন, সেগুলোর বাজারজাতকরণের ব্যবস্থাও করা হবে।

ফারজানা শারমীন বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে একই কমপ্লেক্সে একটি মাস্টার সার্ভিস সেন্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে, যাতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগ্রহীরা প্রশিক্ষণ নিতে পারেন। প্রশিক্ষণ শেষে তারা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষক হিসেবেও কাজ করার সুযোগ পাবেন।

তিনি জানান, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য পৃথক লিগ্যাল এইড কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে তারা বিভিন্ন আইনি জটিলতায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পান। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনকে আরও সহজ করা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের মানসিক ও সামাজিক চাপ কমিয়ে আনা।

তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে ১০টি পাইলট প্রকল্পে এমন ব্যবস্থা রাখা হবে, যাতে কোনো অভিভাবক সন্তানকে স্কুলে রেখে অপেক্ষার সময় আয়মূলক কাজে যুক্ত হতে পারেন। এ সময় শিশুদের চিকিৎসক, ফিজিওথেরাপিস্ট ও শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে রাখা হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এমন একটি পরিবর্তন আনতে চাই, যার মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দেশের মূলধারায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে এবং তাদেরকে দেশের সম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা যাবে।

তিনি প্রতিটি মন্ত্রণালয় থেকে একজন করে ফোকাল পয়েন্ট মনোনয়নের আহ্বান জানান। এতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় আরও কার্যকর হবে এবং কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সহজ হবে। ফারজানা শারমীন আশা প্রকাশ করেন, সরকারের এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবেন।


নির্বাচিত

নড়াইলে চোর সন্দেহে গাছে বেঁধে নির্যাতন, প্রতিবন্ধী যুবকের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নড়াইল প্রতিনিধি

বুধবার রাতে নড়াইল সদর উপজেলার গোবরা গ্রামের মালো পাড়ায় গরু চোর সন্দেহে আনোয়ার হোসেন (৩২) নামে এক মানষিক প্রতিবন্ধী যুবককে গাছে বেধে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে সে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। আনায়ার হোসেন নড়াইল সদর উপজেলার বাসগ্রাম গ্রামের মৃত কাওছার মোল্যার ছেলে।

এই নারকীয় হত্যার বিচারের দাবিতে বৃহস্পতিবার (২ জুন) বিকেলে বাসগ্রাম বাজার এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। মানববন্ধনে এলাকার কয়েকশ মানুষ অংশ নেয়। এ ঘটনায় সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলার এজাহার ও পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, আনোয়ার মানসিক প্রতিবন্ধী। গত ২৪ জুন সকালে তিনি বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফেরেননি। পরদিন সকালে পরিবারের সদস্যরা নড়াইল জেলা হাসপাতালে গিয়ে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন দেখতে পান।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, উপজেলার গোবরা মালোপাড়া এলাকার প্রসেনজিৎ বিশ্বাস, সৌরভ বিশ্বাস, অপূর্ব বিশ্বাস, আকাশ বিশ্বাস ও হৃদয় বিশ্বাসসহ কয়েকজন আনোয়ারকে চুরির অভিযোগে ধরে নিয়ে যান। পরে তাকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাতভর মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে আনোয়ার মারা যান। নিহতের ময়নাতদন্ত শেষ হলে তার মরদেহ সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের বাঁশগ্রামে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা এলাকা ছাড়া। মামলার প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে নাম থাকা প্রসেনজিৎ বিশ্বাসের মা ছায়া রানী (ছদ্মনাম) দাবি করেন, আনোয়ার একটি ভ্যানের কাছে গিয়ে শিকল ধরে টানাটানি করছিল। তার ছেলে চোর বলে চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন সেখানে জড়ো হন। কে বা কারা তাকে মারধর করেছেন, তা তিনি জানেন না। তার দাবি করেন, তার ছেলে আনোয়ারকে হাসপাতালে ভর্তি করে।

সদর থানার ওসি অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, এক যুবককে মারধরের ঘটনার মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রুপান্তরিত হবে। এছাড়া মামলার আসামিদের ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


নির্বাচিত

মাদারীপুরে কোটি টাকার নকল সিগারেট জব্দ, আটক ৩

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাদারীপুর প্রতিনিধি

মাদারীপুর সদর উপজেলার মোবারকদি এলাকা থেকে ১ কোটি ১৯ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ১১০ কার্টনে প্যাকেটিং ১১ লক্ষ নকল সিগারেট ও নকল ব্যান্ডরোল সহ একটি কাভার্ড ভ্যান জব্দ ও কাভার্ডভ্যানের চালকসহ ৩ জন-কে আটক করেছে মাদারীপুর জেলা পুলিশ।

গত বুধবার (১ জুলাই) সন্ধ্যায় প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( ক্রাইম এন্ড অবস্) ফারিহা রফিক ভাবনা এ তথ্য তুলে ধরেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম আজাদ সহ অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, বুধবার ভোর রাত আনুমানিক ৪টার দিকে সদর মডেল থানার মোবাইল টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর উপজেলার মোবারকদি এলাকায় একটি সন্দেহভাজন কাভার্ড ভ্যান থামিয়ে তল্লাশি চালায়। এ সময় কাভার্ড ভ্যান থেকে ১১০ কার্টনে প্রায় ১১ লাখ শলাকা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নকল সিগারেট সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার মানসে নকল ব্যান্ডরোল সহ উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত নকল সিগারেটের বাজারমূল্য প্রায় ৬৬ লাখ টাকা।

এছাড়া এসব সিগারেটের মাধ্যমে সরকারকে প্রায় ৫৪ লাখ টাকার রাজস্ব (ট্যাক্স) ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। অভিযান পরিচালনায় নেতৃত্ব দেন সদর থানার এসআই জিয়াউর রহমান, এসআই আলমগীর হোসেন ও এএসআই মনোয়ারসহ মোবাইল টিমের অন্যান্য সদস্যরা।

আটকৃতদের মধ্যে মো. নাদিম মিয়া (২৭) কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচরের লোকমানখাঁরকান্দি গ্রামে বাসিন্দা, সোহেলরানা ওরফে বুলবুল আহমেদ (৪৫) রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার কাঠালবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং তিনি ‘জামিল গ্রুপ অফ কোম্পানীর’ রিজিওনাল ম্যানেজার (এ/পি), এছাড়া মো. আতাহার মিয়া (৬২) এর বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার ব্রাম্মনদি গ্রামে।

তাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান।


নির্বাচিত

অভিযানের পরও বন্ধ হয়নি বর্জ্য ফেলা, স্থায়ী ডাম্পিং ব্যবস্থার দাবি স্থানীয়দের

* মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় সেতুর নিচে ময়লার স্তূপ * নদী-পরিবেশ দূষণে বাড়ছে উদ্বেগ
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকা মোগরাপাড়া চৌরাস্তা। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের এই সংযোগস্থলের মারিখালী নদীর ওপর নির্মিত সেতুর নিচে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে উঠেছে ময়লার স্তূপ। এ যেন ময়লার ভাগাড়। অবাধে ময়লা-আবর্জনা ফেলার ফলে বর্তমানে দুর্গন্ধে এই রাস্তার পাশ দিয়ে হেঁটে চলা দায় হয়ে পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দা এবং প্রতিদিন চলাচলকারী হাজারো মানুষ অভিযোগ। দুর্গন্ধ, পরিবেশ দূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন তারা। দ্রুত ময়লা অপসারণের দাবি জানান পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

এদিকে পরিবেশ রক্ষায় নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও স্থানীয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে স্বারকলিপি দেওয়া হয়েছে বলে জানান পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটি কতৃপক্ষ। এদিকে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন স্থানীয়দের সহযোগিতায় গত ১৮ জুন ওই এলাকায় পরিদর্শন গিয়ে ময়লা অপসারন করেন। এবং ওই এলাকায় ময়লা না ফেলার নির্দেশ দেন। কিন্ত প্রশাননের এ নির্দেশ কেউই মানছেন না। বরং ময়লা ফেলা আরো বেড়ে চলছে। প্রশাসন বলছে, মূল সমস্যা আমাদের ময়লা ফেলার জায়গা নেই, আমরা জায়গা দেখে এর স্থায়ী সমাধানে আমরা কাজ করছি।

জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁয়ে ব্যস্ততম এলাকা মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা বাজার সংলগ্ন মারীখালি সেতু। এ সেতুর নিচেই দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় এলাকাবাসী ও বাজারের লোকজন ময়লা ফেলে যেন ভাগাড়ে পরিনত করে। সেতুর নিচের মোগড়াপাড়া চৌরাস্তার পাশ জুড়ে জমে আছে ময়লার স্তূপ। পচনশীল এসব ময়লা থেকে নির্গত তীব্র দুর্গন্ধ আশপাশের পরিবেশকে অসহনীয় করে তুলেছে। এ সেতুর নিচ দিয়ে যানবাহন ও লোকজনের চলাচলের জন্য ইউর্টান রয়েছে। এ পথে প্রতিনিয়ত অনেক পথচারী ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের আরোহীকে নাকে রুমাল কিংবা হাত চেপে এলাকা পার হতে দেখা যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের পর দিন বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রলি, ভ্যান ও ছোট যানবাহনে করে এখানে ময়লা এনে ফেলা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি না থাকায় ময়লার পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। এতে একদিকে যেমন পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে জনস্বাস্থ্যের জন্যও তৈরি হচ্ছে মারাত্মক ঝুঁকি।

মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা বাজারের ব্যবসায়ী কামাল হোসেন, রমজান হাসান, বিল্লাল হোসেন বলেন, বর্তমানে এ এলাকায় ময়লায় দুর্গন্ধে এলাকায় থাকা যায় না। ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করার জন্য কর্তৃপক্ষের সুনজর দেওয়া দরকার। তাদের এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা আশরাফুল আলম বলেন, মোগরাপাড়া চৌরাস্তা দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে। কিন্তু ময়লার দুর্গন্ধের কারণে এখানে কয়েক মিনিট দাঁড়ানোও কঠিন। বৃষ্টি হলে ময়লার পানি আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। তখন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। নদীর পানিও দূষিত হচ্ছে।

পথচারীদের অনেকেই বলেন, জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথের পাশে এমন বর্জ্যের স্তূপ অত্যন্ত দৃষ্টিকটু। এটি শুধু পরিবেশ দূষণই নয়, সোনারগাঁওয়ের ভাবমূর্তিকেও ক্ষুন্ন করছে। দ্রুত ময়লা অপসারণ এবং স্থায়ী ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির সভাপতি মোহাম্মদ হোসাইন জানান, এ এলাকায় যেন ময়লা ফেলার প্রতিযোগিতা চলে। প্রতিদিনই ব্যাপকহারে ময়লা ফেলা হয়। সামান্য বৃষ্টিতেই ময়লার পাশে পানি জমে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এতে মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ছে। ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

তিনি আরো বলেন, খোলা জায়গায় এভাবে ময়লা ফেলা পরিবেশ সংরক্ষণের নীতিমালার পরিপন্থী। দ্রুত ময়লা অপসারণের পাশাপাশি একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। এ প্রতিকারে আমরা বিভিন্ন সময় স্থানীয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে স্বারকলিপি দেই। এছাড়া ময়লার গন্ধে দূষণ রোধে মানুষকে সচেতন করার লক্ষ্যে ময়লার ভাগাড়ের পাশে সাইনবোর্ড ও ব্যানার ফেস্টুন টানানো হয়।

সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত বলেন, মোগরাপাড়া চৌরাস্তা সোনারগাঁও উপজেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান। সেখানে ময়লার স্তুপ তৈরি হওয়া সত্যিই দুঃখজনক। সমস্যাটি সমাধানে আমরা কাজ করছি। আমরা ইতিপূর্বে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে কিছু ময়লা অপসারণ করা হয় এবং এ এলাকায় ময়লা না ফেলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে আমরা করছি। মূল সমস্যা আমাদের ময়লা ফেলার জায়গা নেই, আমরা জায়গা দেখছি। এ কাজ করতে একটি বড় ধরনের প্রকল্প করে নিতে হবে। আমরা প্রস্তাবনা পাঠাবো। একটু সময় লাগবে। আবারো অভিযান করবো। সমস্যাটির স্থায়ী সমাধানে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, তিন ধাপে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে। প্রথম ধাপে বর্তমান ময়লার স্তূপ সম্পূর্ণ অপসারণ ও এলাকা পরিষ্কার করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে সেখানে যাতে আর কেউ ময়লা ফেলতে না পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তৃতীয় ধাপে উপজেলার জন্য একটি নির্ধারিত ও পরিবেশসম্মত স্থায়ী ডাম্পিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে। পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য সোনারগাঁ গড়ে তুলতে উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।


নির্বাচিত

সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যহত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২ জুলাই, ২০২৬ ২০:২০
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) শিক্ষকদের ভেতরে রেখে একাডেমিক ভবনের বাইরে তালা দিয়ে দিনভর বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে। এসময় তাদের গেটে মুলা ঝুঁলিয়ে রাখতে দেখা যায়। হাসপাতাল চালু ও মেডিকেল কলেজে শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণের দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলনের ১১ তম দিনে বৃহস্পতিবার (জুলাই) বেলা ১১টা থেকে এই কর্মসূচি পালন করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

এর আগে সকালে মেডিকেল কলেজের নোটিশ বোর্ড ও বিশ্ব বিদ্যালয়ের পেইজে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বুধবারের সভার কার্যবিবরণি প্রচার হলে শিক্ষার্থীররা আরও বিক্ষুব্ধ হয়। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এটি ‘ফেইক’ দাবি করে স্বাস্থ্য মন্ত্রীকে সরাসরি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলার দাবি জানানো হয়।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, এর আগেও একইভাবে আমাদের আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নেবার জন্য নানাভাবে ধামাচাপা দেবার চেষ্টা হয়েছে। এবারও তাই হচ্ছে। কোন ধরণের বিভ্রান্তিতে নিজেদের যুক্ত না করার জন্য তাদেরকে সমর্থনকারী স্থানীয় জনসাধারণসহ সকলের প্রতি অনুরোধ জানান শিক্ষার্থী সংগঠকরা।

মেডিকেলের অধ্যক্ষ ডা. মোস্তাক আহমদ বললেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গে কলেজের পক্ষ থেকে করা দীর্ঘ বৈঠকে সকল সমস্যা তুলে ধরা হয়। এসময় শিক্ষার্থীদের প্রায় সকল দাবি যেমন শিক্ষক নিয়োগ দুই দফায় নয়জন প্রদান করা হয়। দুয়েক দিনের মধ্যে হাসপাতালের পরিচালক নিয়োগ এবং ছয় সপ্তাহের মধে হাসপাতালে বহি:বিভাগ এবং অক্টোবর থেকে অন্ত:বিভাগ চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের জন্য আরও একটি বাস দেবারও সিদ্ধান্ত জানানো হয়। কিন্তু শিক্ষার্থীরা এটি মানতে নারাজ। তারা তিন সপ্তাহের মধ্যে আউটডোর এবং ছয় সপ্তাহের মধ্যে ইনডোর চালু চায়। এছাড়া স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে সরাসরি এসব ‘রোড ম্যাপ’ জানতে চায় তারা। আমাদের অনুরোধ ছিল সবকিছুই প্রশাসনিক নিয়ম কানুনের মধ্যে চলে, তারা এটি শুনতে নারাজ। তারা শিক্ষকদের তালাবদ্ধ রেখে ভালো করেনি বলে মন্তব্য করেন অধ্যক্ষ।

বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে রোড ম্যাপ বাস্তবায়নে লিখিতভাবে সুনিষ্টি কোন ধরণের আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত আমরা ক্লাসে ফিরে যাব না। দাবি দাওয়া বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলমান থাকবে।


নির্বাচিত

বেহাল দশায় চন্দনবাইশা-বগুড়া সড়ক, চরম ভোগান্তিতে হাজার হাজার মানুষ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি

বগুড়া জেলা শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চন্দনবাইশা-বগুড়ার ১৯ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের বেহাল দশায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো মানুষ। প্রতিনিয়ত বালুবাহী ড্রাম ট্রাকের অতিরিক্ত বোঝাইয়ের চাপে সড়কের কার্পেটিং উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। গত কয়েক বছরে ভারিবর্ষণে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তে পানি জমে সড়কটি এখন রীতিমতো যেন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, ভারী যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও সড়কটি দ্রুত সংস্কার না করা হলে আসন্ন বর্ষায় সড়কটি সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়বে এবং দুর্ঘটনা আরও বাড়বে।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার চর ও বীর এলাকার চন্দনবাইশা, কাজলা, কর্নিবাড়ী, কুতুবপুর,কামালপুর ইউনিয়নে ১৩টি পয়েন্টে বিট ও মোটা বালু বিক্রয় চলছে। সেসব এলাকার উত্তোলণকৃত বালু ড্রাম ট্রাকে করে নিজ জেলা ও বিভিন্ন জেলায় নিয়ে যাওয়া হয়। অতিরিক্ত বোজাই বহণকারি ড্রাম ট্রাকে রাস্তায় ছোট-বড় অসংখ্য গর্তে সৃষ্টি হয়েছে। চন্দনবাইশা থেকে বগুড়া পর্যন্ত সড়কটি জেলা শহরে যাতায়াতের অন্যতম সড়ক হওয়ায় প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সিএনজি চালিত থ্রি-হুইলার, ভ্যান, রিকশা, মোটরসাইকেলসহ হাজারো মানুষ চলাচল করে।

সাম্প্রতিক সময়ে রৌহদহ, কড়িতলা, জোড়গাছা অংশে বালুবাহী ড্রাম ট্রাকের চলাচল বেড়ে যাওয়ায় সড়কের বিভিন্ন স্থানের কার্পেটিং ভেঙে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে প্রতিনিয়তই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। ভাঙাচোরা ও গর্তযুক্ত সড়কে হেঁটে চলাচল করাও এখন দুষ্কর হয়ে পড়েছে।

২০২৩ সালে সড়কটির সংস্কার কাজ শেষ হয়। কিন্তু কয়েক মাস না যেতেই বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দেয়। পরে আবার মেরামত করা হলেও অল্পদিনের মাথায় সড়কটি আবারও নষ্ট হয়ে যায়। বালুবাহী ড্রাম ট্রাক চলাচলের ফলে রাস্তার ধুলো ময়লা ঘরের ভিতর ঢুকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে রান্না করা খাবার, শয়ন ঘরের চাল ও বেড়ার টিন। রাতে ড্রাম ট্রাকের হর্ণের শব্দে ঘুম ভেঙ্গে যাচ্ছে। কোমলমতি শিশুদের শব্দ দূষণে মস্তিস্কের ক্ষতি হচ্ছে। রোগীদের জন্য আরও কষ্টকর হয়ে ওঠে।

ঘুঘুমারী গ্রামের কুদরত-ই-খুদা চাঁন বলেন, “বালুবাহী ট্রাকের কারণে সড়কটির যে অবস্থা, তাতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়তে হয় রোগী ও তাদের স্বজনদের। চরের ৫টি ইউনিয়নের মানুষ জেলা হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা-যাওয়া করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

অটোরিকশা চালক হাসেম আলী বলেন, এই রাস্তা দিয়ে যাত্রী তুলতে গেলে প্রতিদিনই গাড়ির ঝাঁকুনিতে যান্ত্রিক ত্রুটি হয়। মাঝেমধ্যে গর্তের কারণে গাড়ি থেকে যাত্রী পড়ে গিয়েও দুর্ঘটনা ঘটছে। শেখপাড়া গ্রামের সোহান শেখ অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বারবার অবহিত করা হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

জোড়গাছা গ্রামের তাজুল ইসলাম জানান, অতিরিক্ত বোঝাই বহনাকারী যানবহনের কারণে জোড়গাছার সোনাপুর, পূর্বপাড়া, মধ্যপাড়া ও পশ্চিমপাপড়া এলাকার সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঈদুল আযহার কয়েকদিন আগে ভেলাবাড়ী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স (পশ্চিমপাড়া) এর সামনে সড়কে গরু বোঝাই ভটভটি উল্টে গিয়ে একজনের পা ভেঙে গরুতর আহত হয়। এছাড়া প্রতিনিয়ত সেখানে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।

ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও ৭নং ওয়ার্ড সদস্য এবং চাঁদের আলো গ্রুপ অব কোম্পানির নির্বাহী পরিচালক মহিদুল হাসান জানান, চন্দনবাশা-চেলোপাড়াগামী সড়কটি অতি পুরাতন হলেও এই সড়কে টেকসই সংস্কার হয়না। সড়কের কোথাও কোনো স্থানে ছোট-ছোট গর্ত হওয়ার সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট দপ্তর যদি সেটি সংস্কার করেন তাহলে বড় সড়কে গর্তের সৃষ্টি হতো না সরকারের অর্থেরও অপচয় কম হতো, কোনো দুর্ঘটনাও ঘটত না।

এ ব্যাপারে সারিয়াকান্দি উপজেলা প্রকৌশলী তুহিন সরকার বলেন, এ ধরনের ভারী যানবাহন, বিশেষ করে বালুবাহী ড্রাম ট্রাক চলাচলের জন্য আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সড়কটি দ্রুত পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।


নির্বাচিত

খুলনার পাইকগাছায় বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় অসহায়, স্বল্প আয়ের ও চিকিৎসা সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা ও ছানি অপারেশন চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ক্যাম্পে প্রায় তিন হাজার রোগীর চোখ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয় এবং পাঁচ শতাধিক রোগীকে ছানি অপারেশনের জন্য বাছাই করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ৮টা থেকে পাইকগাছা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে রোটারি ক্লাব অব মিডটাউনের উদ্যোগে এবং বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল ও ফ্রেড হলোস ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় দিনব্যাপী এই চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রোটারি ক্লাব অব মিডটাউনের সভাপতি রোটারিয়ান সোহাগ মিনা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক, খুলনা জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব ও জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী বলেন, অত্যাধুনিক চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত অসহায় ও স্বল্প আয়ের মানুষের পাশে দাঁড়ানোই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, এটি শুধুমাত্র চিকিৎসা সেবা নয়, বরং মানবতার সেবা। রোটারি ক্লাব ও চিকিৎসকরা তাদের মেধা ও দক্ষতাকে মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই মানবতার সেবা ও মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের চিকিৎসা সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যেই তিনি নিজ নির্বাচনি এলাকায় এসে এ ধরনের সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

চিকিৎসা ক্যাম্পে বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা প্রায় তিন হাজার রোগীর চক্ষু পরীক্ষা করেন। এর মধ্যে পাঁচ শতাধিক রোগীকে ছানি অপারেশনের জন্য নির্বাচিত করা হয়। এছাড়া অন্যান্য রোগীদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপত্র, ওষুধ ও চশমা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. আব্দুল মজিদ, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম শামীম কবির, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফুল আলম নান্নু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম এনামুল হক, জেলা বিএনপির সদস্য শাহাদাৎ হোসেন ডাবলু, জিএম রফিকুল হাসান ও বদরুদ্দোজা বাবলু প্রমুখ।


নির্বাচিত

পাঁচ বছরে সাড়ে ৭ লাখ চারা রোপণের লক্ষ্যে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

গাছ বাড়লে বাড়বে মৌমাছি, বাড়বে ফসলের ফলন : বিএআরআই মহাপরিচালক
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাজীপুর প্রতিনিধি

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএআরআই)-এর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ে বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি-২০২৬ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। এ বছর এ বিষয়ে বিএআরআই এর থিম শ্লোগান ‘জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে লড়াই, অভিযোজনই হোক কৃষি বিজ্ঞানীদের শ্রেষ্ঠ্ সাফল্য।

একজাতীয় গাছ না লাগিয়ে প্রকৃতিতে কার্যকর ও শোভাবর্ধনকারী বিভিন্ন প্রজাতির মিশ্র উদ্ভিদ, মসলা ও ঔষধি এবং ফলদ গাছের বিভিন্ন চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন বিএআরআই-এর সম্মানিত মহাপরিচালক কৃষিবিদ ড. মো. মন্জুরুল কাদির এবং উদ্বোধন পরবর্তী বক্তব্যে ড. কাদির বলেন, বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে কার্বন ক্রেডিট অর্জন এবং মৌমাছির আবাসন সৃষ্টি করে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করা বর্তমান সরকারের একটি অত্যন্ত দূরদর্শী ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ।

তিনি বলেন, মৌমাছির আবাসন সৃষ্টির ফলে কৃষকরা মধু ও মোম আহরণ করে অতিরিক্ত অর্থনৈতিক সুবিধাও লাভ করতে পারেন। এছাড়া একই সাথে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা করবে এবং কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে লাভবান করে। অন্যদিকে এ উদ্যোগের ফলে বিভিন্ন প্রজাতির ফুল ও ফলদ গাছ বৃদ্ধি পেয়ে মৌমাছির আদর্শ আবাসন সমৃদ্ধ করবে। এতে মৌমাছিরা গাছ থেকে মধু সংগ্রহের পাশাপাশি ফুলে ফুলে ঘুরে পরাগায়ন নিশ্চিত করবে এবং বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ফসল, বিশেষ করে ফল, সবজি, মসলা ও তেলবীজ পরাগায়নের জন্য মৌমাছির ওপর নির্ভরশীল। তাই গাছপালা বাড়লে মৌমাছির সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, যা পরোক্ষভাবে ফসলের ফলন ২০শতাংশ থেকে বহুগুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও যোগাযোগ) ড. রেশমা সুলতানা, পরিচালক (গবেষণা উইং) ড. ফারুক আহমেদ, পরিচালক (উদ্যানতত্ব গবেষণা কেন্দ্র) ড. কাউছার উদ্দিন আহম্মেদ, পরিচালক (কন্দাল ফসল গবেষণা কেন্দ্র) ড. নির্মল কুমার দত্ত, পরিচালক (পরিকল্পনা ও মূল্যায়ন উইং) ড. হাবিব মোহাম্মদ নাসের, পরিচালক (সেবা ও সরবরাহ উইং) ড. মো. মোশারফ হোসেন মোল্লা প্রমূখ।

উল্লেখ্য, এ বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির আওতায় বিএআরআই এর উদ্যোগে সারাদেশের ছয়টি কেন্দ্র, আঞ্চলিক কেন্দ্র ও স্টেশনসহ বিভিন্ন উপ-কেন্দ্রসমূহ ও তার আওতাধীন এলাকায় পাঁচ বছরে পর্যায়ক্রমে সাড়ে সাত লাখ এবং সুচনা বছরে প্রায় ১.৩৩ লাখ বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, মসলা ও ঔষধি এবং শোভাবর্ধনকারী গাছ উৎপাদন, সংগ্রহ, বিতরণ, রোপণ ও পরিচর্যা করা হবে।


নির্বাচিত

গঙ্গাচড়ায় সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে এইচএসসি, আলিম ও বিএম পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার চারটি কেন্দ্রে ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি), আলিম ও কারিগরি (বিএম) শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরীক্ষা চলাকালে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় পরীক্ষা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চারটি কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ হাজার ২৩৫ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ হাজার ১৯৫ জন এবং অনুপস্থিত ছিল ৪০ জন। কেন্দ্রভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, গঙ্গাচড়া সরকারি কলেজ কেন্দ্রে মোট ৩৪২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৩৭ জন উপস্থিত ছিল এবং ৫ জন অনুপস্থিত। গঙ্গাচড়া মহিলা কলেজ কেন্দ্রে ৪৭৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৫৬ জন উপস্থিত এবং ২২ জন অনুপস্থিত ছিল। কারিগরি (বিএম) কেন্দ্রের ২২১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২১৯ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়, অনুপস্থিত ছিল ২ জন। অপরদিকে হাজী দেলোয়ার হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে আলিম পরীক্ষার্থী ছিল ১৯৪ জন। এর মধ্যে ১৮৩ জন উপস্থিত এবং ১১ জন অনুপস্থিত ছিল।

পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত রাখতে প্রতিটি কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে পরীক্ষার্থী ছাড়া অন্য ব্যক্তিদের প্রবেশে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারার আওতায় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কেন্দ্রগুলোতে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেন।

পরীক্ষা চলাকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় বলেন, প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির ফলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরীক্ষার স্বচ্ছতা, শৃঙ্খলা ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রথম দিনের পরীক্ষা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও স্বস্তি বিরাজ করছে। আগামী পরীক্ষাগুলোও একইভাবে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।


নির্বাচিত

শ্রীপুরের ৩ হাজার কৃষক পেল আমনের বীজ ও সার

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় খরিফ-২ মৌসুমে আমন ধানের আবাদ সম্প্রসারণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৩ হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মধ্যে বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (১ জুলাই) সকালে উপজেলা অডিটোরিয়ামে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে এ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ ভুঞা। প্রধান অতিথি ছিলেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডা. এস. এম. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বন্যা স্বাগত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান, শ্রীপুর ইউসিসিএর সভাপতি এস. এম. মাহফুল হাসান হান্নান, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা উপস্থিত ছিলেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, সরকারি কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ৩ হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের প্রত্যেককে ৫ কেজি আমন ধানের বীজ, ১০ কেজি ডিএপি সার এবং ১০ কেজি এমওপি সার দেওয়া হয়েছে। উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে আমনের আবাদ বাড়ানো এবং কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহিত করাই এ কর্মসূচির লক্ষ্য।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ডা. এস. এম. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা টেকসই রাখতে কৃষিকে আরও আধুনিক, বিজ্ঞানভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তুলতে হবে। নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে পারলে উৎপাদন যেমন বাড়বে, তেমনি কৃষকদের আয়ও বৃদ্ধি পাবে।

তিনি বলেন, কৃষিকাজে যেকোনো সমস্যায় কৃষকদের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিতে হবে। কৃষি বিভাগ সব সময় কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।

অনুষ্ঠান শেষে সরকারি কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের হাতে বীজ ও সারের প্যাকেজ তুলে দেওয়া হয়।


নির্বাচিত

banner close