বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬
২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

কুকি চিনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও দৌরাত্ম্য নির্মূল করা হবে: বিজিবি মহাপরিচালক

ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৪ এপ্রিল, ২০২৪ ০০:০৪

পাহাড়ের সশস্ত্র গোষ্ঠী কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে যৌথবাহিনীর অভিযান চলছে এবং তাদের দৌরাত্ম্য ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নির্মূল করা হবে বলে জানিয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।

গতকাল শনিবার বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে দুর্গম পার্বত্য সীমান্ত পরিদর্শন করেন বিজিবি মহাপরিচালক। ভারতের মিজোরাম সীমান্ত সংলগ্ন প্যারাছড়া ও উলুছড়ি বিওপি পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজিবিপ্রধান বলেন, ‘কেএনএফের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে যৌথবাহিনীর অভিযান চলছে। বিজিবিসহ অন্যান্য বাহিনী সার্বিকভাবে অভিযানে অংশ নিচ্ছে।’

নানা প্রতিকূলতার মধ্যে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করায় বিজিবি সদস্যদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে দেশপ্রেম ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনাও প্রদান করেন তিনি।

বিজিবি সেনাদের ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিজিবি সদস্যদের দায়িত্ব পালনের কারণেই দেশবাসী নিরাপদে থাকতে পারে।’

জেনারেল আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এর আগে সকালে রাঙামাটি সেক্টর সদর দপ্তর পরিদর্শন করেন। সকল পর্যায়ের বিজিবি সদস্যদের দরবার গ্রহণ করেন। দরবারে রাঙামাটি সেক্টরের আওতাধীন ব্যাটালিয়ন ও বিওপিতে কর্মরত সকল পর্যায়ের বিজিবি সদস্য ভিটিসির মাধ্যমে সংযুক্ত ছিলেন।

বিজিবি মহাপরিচালক বিওপি পরিদর্শনকালে বিজিবি সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (জিএস শাখা), অতিরিক্ত মহাপরিচালক (বিএসবি), বিজিবির চট্টগ্রাম রিজিয়ন কমান্ডার, রাঙামাটি সেক্টর কমান্ডার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাটালিয়নের অধিনায়কসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


সওজের প্রধান প্রকৌশলী হলেন মনিরুজ্জামান

মো. মনিরুজ্জামান।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের (সওজ) প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. মনিরুজ্জামান। এই পদায়নের মধ্য দিয়ে তিনি সৈয়দ মঈনুল হাসানের স্থলাভিষিক্ত হলেন।

বুধবার (১২ আগস্ট) এ নিয়োগ সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।

মনিরুজ্জামান সওজের ১৮তম ব্যাচের কর্মকর্তা এবং পরিকল্পনা ও রক্ষণাবেক্ষণ উইংয়ের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

এর আগে, গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন নিয়োগ-১ শাখা থেকে এক প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) (গ্রেড-৩) সৈয়দ মঈনুল হাসানকে পরবর্তী পদায়নের জন্য (স্ব-বেতনে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।


সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান হলেন ‘মিফতাহ সিদ্দিকী’

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১২ আগস্ট, ২০২৬ ২০:২২
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকীকে সিলেট পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (সিলেট ওয়াসা) বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের পানি সরবরাহ-২ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর ধারা ৭(১) অনুযায়ী মিফতাহ সিদ্দিকীকে সিলেট ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে তিন বছরের জন্য নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মোছা. আক্তারুন নেছা স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনটি গত রোববার (৯ আগস্ট) তারিখে জারি করা হয়। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিয়োগের পর আগামী তিন বছর সিলেট ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মিফতাহ সিদ্দিকী। সিলেট নগরীর পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, নাগরিকদের জন্য নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং ওয়াসার সামগ্রিক সেবার মানোন্নয়নে তিনি নেতৃত্ব দেবেন।

মিফতাহ সিদ্দিকী বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সিলেটের বিভিন্ন জনসম্পৃক্ত কর্মকাণ্ডেও তিনি সক্রিয়। সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার মধ্য দিয়ে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সেবা খাতের নেতৃত্বে যুক্ত হলেন তিনি।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নতুন নেতৃত্বে সিলেট ওয়াসার কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং নগরবাসীর পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশনসংক্রান্ত সেবার পরিধি ও মান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।


চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ডের অভিযান, মায়ানমারে পাচারকালে সিমেন্টসহ ৩ পাচারকারী আটক

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নোয়াখালীর হাতিয়া মৌলভী চর সংলগ্ন মেঘনা নদীতে বুধবার (১২ আগস্ট) রাত ৩ টায় কোস্ট গার্ড স্টেশন হাতিয়া কর্তৃক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বুধবার (১২ আগস্ট) বিকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, অভিযান চলাকালীন উক্ত এলাকায় সন্দেহজনক ১ টি স্টিল বডি ট্রলারে তল্লাশি চালিয়ে অবৈধভাবে মায়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে বহনকৃত প্রায় ৬ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের ১ হাজার ৩৬০ বস্তা সিমেন্ট ও পাচারকাজে ব্যবহৃত স্টিল বডি ট্রলারসহ তিনজন পাচারকারীকে আটক করা হয়।

জব্দকৃত মালামাল, পাচারকাজে ব্যবহৃত ট্রলার ও আটককৃত পাচারকারীদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।


ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় ঢাকায় ৪৪৫টি ‘নিরাপদ আশ্রয়স্থল’ চিহ্নিত

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাম্প্রতিক সময়ে এশিয়ায় একাধিক শক্তিশালী ভূমিকম্প এবং দেশে ঘনঘন মৃদু কম্পনের প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মোট ৪৪৫টি ‘নিরাপদ আশ্রয়স্থল’ চিহ্নিত করা হয়েছে।

জাতীয় সংসদে বিষয়টি জানিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ২৫৬টি এবং উত্তর সিটিতে ১৮৯টি স্থানকে ভূমিকম্পে সাময়িক আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এর পাশাপাশি জরুরি উদ্ধারকাজ ও সহায়তা নিশ্চিত করতে ১ লাখ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবকের একটি সমন্বিত ডাটাবেজ তৈরির কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকা অঞ্চলে ৬ থেকে ৭.৫ মাত্রার কোনো শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানলে দুর্বল অবকাঠামোর কারণে কয়েক লাখ মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। বুয়েটের অধ্যাপক ও ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ মেহেদী আহমেদ আনসারী জানান, ১৫০ থেকে ২০০ বছরের ভূমিকম্প চক্র অনুযায়ী বাংলাদেশে আবারও একটি বড় ধরনের কম্পনের সম্ভাবনা রয়েছে। অতীতে ১৮৬৯ সালের কাছাড়, ১৮৮৫ সালের বেঙ্গল, ১৯১৮ সালের শ্রীমঙ্গল এবং ১৯৩০ সালের ধুবড়ির ভূমিকম্পগুলোর ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি জানান, দীর্ঘদিন বড় কোনো দুর্যোগ না হওয়ায় এই ঝুঁকি আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

চিহ্নিত ৪৪৫টি আশ্রয়স্থলের সুনির্দিষ্ট তালিকা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। তবে সরকারের দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস পরিকল্পনা ও ফায়ার সার্ভিসের নির্দেশিকা অনুযায়ী মূলত নিচের স্থানগুলোকে সম্ভাব্য আশ্রয়স্থল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে:

* উন্মুক্ত খেলার মাঠ: এলাকাভিত্তিক সরকারি বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বড় খোলা মাঠ।

* পাবলিক পার্ক: গাছপালা ঘেরা বড় উন্মুক্ত উদ্যান বা পার্ক।

* শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট কিংবা বড় সরকারি স্কুল ও কলেজের বিশাল মাঠ।

* বিস্তীর্ণ খালি জায়গা: বহুতল ভবন বা ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো থেকে দূরবর্তী যেকোনো ফাঁকা স্থান।


সহনশীল ও টেকসই নগরী গড়তে কেসিসি―র নতুন উদ্যোগ

* জলবায়ু বাস্তুচ্যুতদের জন্য সমন্বিত কৌশলপত্র হস্তান্তর * বাস্তুচ্যুতি জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে : কেসিসি প্রশাসক
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

‘খুলনা মহানগরীতে জলবায়ু-জনিত অভ্যন্তরীণ স্থানচ্যুতি ব্যবস্থাপনার কৌশল’ শীর্ষক একটি সমন্বিত কৌশল পত্র খুলনা সিটি করপোরেশনের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে নগর ভবনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জুর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে কৌশলপত্রটি হস্তান্তর করেন কারিতাস-খুলনা অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক আলবিনো নাথ। কেসিসির সহযোগিতায় ‘দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন (ডিআরআর এন্ড সিসিএ)’ প্রকল্পের আওতায কারিতাস-খুলনা অঞ্চল এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

খুলনা মহানগরীতে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে বাস্তুচ্যুত ও অভিবাসী জনগোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উদ্যোগ গ্রহণের লক্ষে এই কৌশল পত্রটি প্রণয়ন করা হয়েছে। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট (আইডিএম) এবং কারিতাস বাংলাদেশ যৌথভাবে কৌশলপত্রটি প্রণয়ন করেছে। কৌশলপত্রটি প্রণয়নে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম এবং কমিউনিটিভিত্তিক বিভিন্ন নেটওয়ার্কের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও মতামত গ্রহণ করা হয়েছে।

কৌশলপত্র হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় কেসিসি প্রশাসক কারিতাস কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে বাস্তুচ্যুতি জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে এবং জীবিকার তাগিদে তারা মহানগর ও মহানগর সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় মানবেতর জীবন যাপন করছে। উদ্বাস্তু এ সকল জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে কেসিসির পরিকল্পনা গ্রহণের ক্ষেত্রে এ কৌশলপত্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগে বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য পর্যাপ্ত ও উপযুক্ত আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সাথে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, সেবা প্রদান এবং সম্পদ বরাদ্দ আরও সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের জন্য জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর একটি সমন্বিত ও নির্ভরযোগ্য ডাটাবেজ প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপরও তিনি জোর দেন।

প্রণীত কৌশলপত্র খুলনা সিটি করপোরেশনের ভবিষ্যৎ নগর পরিকল্পনা, সেবাপ্রদান, সমন্বয় এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠী সংক্রান্ত নীতি ও উদ্যোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়। একই সঙ্গে এটি সরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, এনজিও, সুশীল সমাজ এবং কমিউনিটি প্রতিনিধিদের মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, সহনশীল ও টেকসই নগর উন্নয়ন নিশ্চিত করার একটি কাঠামো প্রদান করবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য নিরাপদ আশ্রয়, প্রয়োজনীয় নগর সেবা, জীবিকার সুযোগ, সামাজিক সুরা এবং উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে সমান ও ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের যৌথ অঙ্গীকার আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

অনুষ্ঠানে নগর সেবাদান ও উন্নয়ন কার্যক্রমে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে কেসিসির ভূমিকা তুলে ধরে বক্তৃতা করেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, জলবায়ু অভিবাসী কৌশলপত্র প্রণয়নের যাত্রা, বিভিন্ন ধাপ এবং অংশীজনদের পরামর্শ ও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের প্রক্রিয়া তুলে ধরে বক্তৃতা করেন কুয়েটের ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল হোসাইন, কেসিসির পরিকল্পনা কাঠামোর সঙ্গে কৌশলপত্রের উদ্দেশ্য ও প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরে বক্তৃতা করেন কেসিসির চিফ প্লানিং অফিসার আবির-উল-জব্বার এবং জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ ও বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়াতে কারিতাস বাংলাদেশের অঙ্গীকার তুলে ধরে বক্তৃতা করেন কারিতাস-খুলনা অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক আলবিনো নাথ। ইউনিসেফ, এ্যাডামস, এ্যাডব, ওয়ার্ল্ড ভিশন, নবলোক, জেজেএস, ব্রাক, রূপান্তর, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, উত্তরণ, সুশীলন-সহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, কেসিসির ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।


ঝালকাঠির শিক্ষা প্রকৌশল দপ্তরে টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
হাসনাইন তালুকদার দিবস, ঝালকাঠি

শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগ ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার ২ কোটি ১৫ লাখ টাকার টেন্ডার মূল্যায়ন নিয়ে সহকারী প্রকৌশলী খায়রুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

অর্থের বিনিময়ে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যে আগের দরপত্র কার্যক্রম বাতিল করে পুনঃ দরপত্র আহবান করায় এই অভিযোগটি প্রকাশ্যে উঠে এসেছে।

জেলা শিক্ষা প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানা যায় পরিচালন বাজেটের আওতায় ৭০১৬ প্রকল্পের খোলা দরপত্র পদ্ধতি (ওটিএম) প্রক্রিয়ায় গত ১৭ জুন দুটি পৃথক দরপত্র আহবান করা হয়। এরমধ্যে কাঠালিয়া উপজেলার চেচরীরামপুর বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মানে ২ কোটি ১৫ লাখ ৭২ হাজার টাকার টেন্ডার আহ্বান করা হয়।

অপর দিকে একই প্যাকেজে নলছিটি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের সিমানা প্রাচীর ও বালু ভড়াটে ৩ কোটি ৮৮ লাখ ২৮ হাজার টাকা টেন্ডার আহবান করা হয়। এ টেন্ডার মূল্যায়নের কাজ চলমান। এতে কাঠালিয়ার কাজে ৪ জন এবং নলছিটির কাজে মোট ৩২ জন ঠিকাদার অংশ নেয়।

শিক্ষা প্রকৌশল দফতর থেকে দেয়া তথ্য বলছে, কাঠালিয়া এবং নলছিটির টেন্ডার কাজে বিগত পাঁচ অর্থবছরে নির্মাণ কাজে গড়ে বার্ষিক লেনদেন থাকতে হবে ৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা। যা হাল অর্থবছরে না থাকায় রি-টেন্ডার করা হয়েছে।

কিন্তু দুটো কাজেই অংশ নেয়া ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আরএম ট্রেডিং দৈনিক বাংলাকে জানিয়েছে, 'তারা তাদের লাইসেন্সের পক্ষে কক্সবাজারে সেনাবাহীনির বিশেষ আশ্রয়ন প্রকল্পের ৩৬ কোটি টাকার কার্য সম্পাদন করেছে। ঐ কাজের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) কাজ সম্পাদন সনদপত্রে ৩৬ কোটি ২৫ লাখ টাকার কাজ সফল ভাবে গত ২০২৩ সনের ৩০ এপ্রিল তারিখে সম্পাদনের কথা উল্লেখ করেছে। ঐ টাকার মধ্যে ভ্যাট ও আয়কর বাবাদ মোট ৪ কোটি ৫৩ লাখ ১২ হাজার ৫শত টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে বলেও সনদপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।'

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আরএম ট্রেডিং এর প্রতিনিধি মো. সুমন অভিযোগ করে বলেন, 'এই কাজ সম্পাদন সনদপত্রেই পেমেন্ট সার্টিফিকেটের বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। আমাদের লাইসেন্স রেসপনসিভ করেও সহকারী প্রকৌশলী খায়রুল ইসলাম অন্য প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতে পেমেন্ট সার্টিফিকেটের অযুহাতে রিটেন্ডার দিয়ে পূর্বের টেন্ডার বাতিল করেন।'

এই টেন্ডার প্রকৃয়া থেকে আমাদের বাতিল করতে পারলে নলছিটির মূল্যায়নে রাখা কাজ থেকেও আমাদের ননরেসপনসিভ করতে সুবিধা হয়। এমনটাই অভিযোগ আরএম ট্রেডিং ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান প্রতিনিধি মো. সুমনের।

এ অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঝালকাঠি শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগের সহকারি প্রকৌশলী খায়রুল ইসলাম বলেন, আমরা আরএম ট্রেডার্সের কাজ সম্পাদনের সনদপত্রটি যাচাই বাছাই করে লাইসেন্স ননরেসপন্সিভ করেছি।

পেমেন্ট সার্টিফিকেটের সকল তথ্য কাজ শেষ করার সনদপত্রে উল্লেখ থাকলেও ননরেসপন্সিভ করা যায় কিনা জানতে চাইলে শিক্ষা প্রকৌশল দফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী স্নেহলতা রায় দৈনিক বাংলাকে বলেন, 'পিপিআর এর নির্দেশনা অনুযায়ি পৃথক পেমেন্ট সার্টিফিকেট দিতে না পারায় ননরেসপন্সিভ করা হয়েছে।


দৌলতপুরে ২০ লাখ শলাকা নকল সিগারেট জব্দ

অবৈধ সিগারেট তৈরির কারখানা । ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে অবৈধভাবে পরিচালিত একটি নকল সিগারেট কারখানায় অভিযান চালিয়ে ২ কোটি টাকা মূল্যের প্রায় ২০ লাখ শলাকা নকল সিগারেট জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় সিগারেট তৈরির বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল ও বিভিন্ন সরঞ্জামও জব্দ করা হয়।

বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত যৌথ অভিযানে উপজেলার সদর ইউনিয়নের গড়বাড়িয়া গ্রামের হাবিব মাস্টারের ফার্মের গোডাউনের ভেতরে গড়ে তোলা অবৈধ সিগারেট তৈরির কারখানাটির সন্ধান পায়।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রদীপ কুমার দাস জানান, ‘নেভি, ডার্বি ও রয়েল’ ব্র্যান্ডের প্রায় ২০ লাখ শলাকা নকল সিগারেটসহ উৎপাদনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা সিগারেটের মূল্য আনুমানিক ২ কোটি টাকা।

গোডাউনের মালিক হাবিব মাস্টার জানান, তিনি জয়রামপুর এলাকার শাকিল ও বৈদ্যনাথতলা এলাকার লিওন হোসেন নামের দুই ব্যক্তির কাছে মাসিক ৪০ হাজার টাকা ভাড়ায় গোডাউনটি ভাড়া দিয়েছিলেন। সেখানে নকল সিগারেট তৈরির কার্যক্রম চলছিল এ বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না বলে দাবি করেন।

এর আগে গত ৯ মে র‍্যাব-১২ কুষ্টিয়া ও কাস্টমস বিভাগের যৌথ অভিযানে একই কারখানায় অভিযান চালানো হয়। ওই অভিযানে পাঁচটি নকল সিগারেট তৈরির মেশিন এবং প্রায় ১ লাখ শলাকা নকল সিগারেট জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে কারখানাটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছিল।

তবে কিছুদিনের মধ্যেই কারখানাটি পুনরায় চালু করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রদীপ কুমার দাস বলেন, আগের অভিযানের পর কারখানাটি সিলগালা করা হলেও পরবর্তীতে মালিকপক্ষ আদালতে মামলা করে সেটি পুনরায় চালু করেছে।

দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমান জানান, উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে নকল সিগারেট ও সিগারেট তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করার ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে।


মৌলভীবাজারে ব্রিজের রেলিং ভেঙে তেলবাহী ট্রাক ছড়ায়, চালক নিহত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় ধামাইপার ব্রিজের রেলিং ভেঙে তেলবাহী একটি ট্রাক নিচের ছড়ায় পড়ে চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ট্রাকের হেলপার গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে উপজেলার ধামাইপার ব্রিজে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে তেল নিয়ে ট্রাকটি সিলেটের দিকে যাচ্ছিল। সকালে ধামাইপার ব্রিজে পৌঁছালে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্রিজের রেলিং ভেঙে নিচের ছড়ায় পড়ে যায়। এতে ট্রাকের চালক ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

দুর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্রিজের রেলিং ভাঙা এবং নিচে ট্রাকটি পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় গুরুতর আহত হেলপারকে উদ্ধার করে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।

খবর পেয়ে রাজনগর ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার আলী হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। পরে মৌলভীবাজার ও ফেঞ্চুগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের সদস্যরা উদ্ধার অভিযানে যোগ দেন। ট্রাকটি অনেক নিচে পড়ে যাওয়ায় রেকার ভ্যান ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সহায়তায় যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। একপর্যায়ে ট্রাক থেকে চালকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মৌলভীবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সাকারিয়া বলেন, ‘ট্রাকটি অনেক নিচে পড়ে যাওয়ায় উদ্ধারকাজে রেকার ভ্যানের প্রয়োজন হয়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় চালককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ট্রাকে চালক ও হেলপার ছিলেন।’

রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী বলেন, ‘ট্রাকে চালক ও হেলপারসহ দুজন ছিলেন। চালক নিহত হয়েছেন এবং হেলপারকে স্থানীয়রা হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’


খুলনায় যুবদলকর্মীকে গুলি করে হত্যা

খুলনার রূপসা থানা । ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

খুলনার রূপসা উপজেলার শ্রীরামপুরে ফখরুল শেখ (৩২) নামে এক যুবদলকর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) রাত ১টার দিকে রূপসা ব্রিকস নামক ইট ভাটায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত ফখরুল উপজেলার নৈহাটি গ্রামের মমিন উদ্দিনের ছেলে ও যুবদল নেতা ফরহাদ হোসেনের ছোট ভাই।

স্থানীয়রা জানায়, নিহতের ভাই ফরহাদ ও শরিফুল রূপসা ব্রিকস ইটভাটা পরিচালনা করে আসছে। ফখরুল প্রতিদিনের মতো ইটভাটা ও মাছের ঘের দেখাশোনার জন্য গত মঙ্গলবার রাতে ওই ভাটায় যায়।

এর আগে ওইদিন বিকেলে ভাটার নাইট গার্ড তৈয়বের সাথে ফখরুলের বাগবিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে তৈয়ব রাতে ডিউটিতে অনুপস্থিত ছিলেন। এ অবস্থায় ভাটায় অবস্থানকালে রাতে ভাটার অফিস রুমের পাশে একদল অস্ত্রধারী ফখরুলের ওপর গুলি চালায়। একটি গুলি লাগে ঘাড়ে। আরেকটি ডান চোয়ালের নিচ দিয়ে মাথায় প্রবেশ করে। তবে কারা এবং কী কারণে ফখরুলকে হত্যা করেছে, তা পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত করে বলতে পারেনি।

এদিকে ঘটনার পরপরই খবর পেয়ে তার ভাই ফরহাদসহ আরও তিনভাই ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুলিবিদ্ধ ফখরুলকে উদ্ধার করে রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বুধবার সকালে মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই ফরহাদ বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

ফরহাদ জানায়, আমার ভাই ফখরুল রূপসা কলেজের সাবেক ছাত্রনেতা এবং বর্তমানে যুবদলেরকর্মী হিসেবে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আমার ভাটার ক্যানেলে ও মাছ চাষ করত। রাতে ওর মেয়ের ওষুধ কেনার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। রাস্তায় ওর সাথে দেখা হলে আমাকে জানায় ওষুধ নিয়ে ভাটা থেকে ঘুরে বাড়ি ফেরবে।

রূপসা থানা ওসি আব্দুর রাজ্জাক মীর বলেন, ‘রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। লাশের সুরতহালে দেখা যায় তার শরীরে দুটি গুলি লেগেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রাতেই তার ভাই ফরহাদ বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছে।’


দেশের ৩ জেলায় নতুন পুলিশ সুপারকে পদায়ন

জসীম উদ্দিন, ওমর ফারুক ও আমিনুল ইসলাম। সংগৃহীত ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের ৩টি জেলায় নতুন পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে ৩ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এই ৩ জেলার বর্তমান পুলিশ সুপারসহ আরও দুই কর্মকর্তাকে হাইওয়ে পুলিশ ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে (এপিবিএন) বদলি করা হয়েছে।

বুধবার (১২ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তৌছিফ আহমেদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলি ও পদায়নের আদেশ দেওয়া হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিনকে গাজীপুর জেলার নতুন পুলিশ সুপার করা হয়েছে। পুলিশ স্টাফ কলেজের সরকার ওমর ফারুককে খুলনা জেলার পুলিশ সুপার এবং সিলেট ডিআইজি রেঞ্জ কার্যালয়ের পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলামকে কুষ্টিয়া জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, গাজীপুরের বর্তমান পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দিনকে হাইওয়ে পুলিশে বদলি করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীকেও হাইওয়ে পুলিশে পদায়ন করা হয়েছে।

এ ছাড়া খুলনা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে (এপিবিএন) বদলি করা হয়েছে।


মৌলভীবাজারে ব্রিজের রেলিং ভেঙে খাদে তেলবাহী ট্রাক, চালক নিহত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজেশ ভৌমিক, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় ধামাইপার ব্রিজের রেলিং ভেঙে তেলবাহী একটি ট্রাক নিচের ছড়ায় পড়ে চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ট্রাকের হেলপার গুরুতর আহত হয়েছেন।

বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে উপজেলার ধামাইপার ব্রিজে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে তেল নিয়ে ট্রাকটি সিলেটের দিকে যাচ্ছিল। সকালে ধামাইপার ব্রিজে পৌঁছালে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্রিজের রেলিং ভেঙে নিচের ছড়ায় পড়ে যায়। এতে ট্রাকের চালক ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

দুর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্রিজের রেলিং ভাঙা এবং নিচে ট্রাকটি পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় গুরুতর আহত হেলপারকে উদ্ধার করে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।

খবর পেয়ে রাজনগর ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার আলী হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। পরে মৌলভীবাজার ও ফেঞ্চুগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের সদস্যরা উদ্ধার অভিযানে যোগ দেন। ট্রাকটি অনেক নিচে পড়ে যাওয়ায় রেকার ভ্যান ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সহায়তায় যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। একপর্যায়ে ট্রাক থেকে চালকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মৌলভীবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সাকারিয়া বলেন, ‘ট্রাকটি অনেক নিচে পড়ে যাওয়ায় উদ্ধারকাজে রেকার ভ্যানের প্রয়োজন হয়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় চালককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ট্রাকে চালক ও হেলপার ছিলেন।’

রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী বলেন, ট্রাকে চালক ও হেলপারসহ দুজন ছিলেন। চালক নিহত হয়েছেন এবং হেলপারকে স্থানীয়রা হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


সিলেটে বাসা থেকে স্বামী-স্ত্রী ও গৃহকর্মীর মরদেহ উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিলেট প্রতিনিধি

সিলেট মহানগরীর একটি আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে স্বামী-স্ত্রী ও গৃহপরিচারিকাসহ তিন ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে নগরীর রায়নগর মিতালি আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর ভবনে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে এই ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করছে এবং এর ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, ওই বাসার বাসিন্দা হাজী আব্দুস সত্তার মিয়া এলাকায় মুরুব্বি হিসেবে অত্যন্ত পরিচিত ছিলেন। নিহতদের মধ্যে সত্তার মিয়া ছাড়াও রয়েছেন তার স্ত্রী এবং তাদের একজন গৃহপরিচারিকা। ঘটনার পরপরই পুলিশ প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং রহস্য উদঘাটনে কাজ শুরু করেন।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশের তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও নিহতদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

একইভাবে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মঈনুল জাকির এই বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানান, “স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে এ ধরনের একটি খবর শুনেছি। পুলিশ ঘটনাস্থলে যাচ্ছে। এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।” পুলিশ বর্তমানে মরদেহগুলো উদ্ধার করে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কাজ চালাচ্ছে এবং হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে।


ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবিতে অবরোধ, এক ঘণ্টা পর রেল চলাচল স্বাভাবিক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার মশাখালী রেলওয়ে স্টেশনে আন্তনগর যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনের স্থায়ী যাত্রাবিরতির দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের অবস্থান কর্মসূচির কারণে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ৭টা ২০ মিনিটের দিকে গফরগাঁও স্টেশন থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে মশাখালী এলাকায় জামালপুর থেকে ঢাকাগামী ট্রেনটি আটকে দেওয়া হয়। এতে দীর্ঘ সময় ওই রুটে ট্রেন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলেও প্রায় দেড় ঘণ্টা পর আন্দোলনকারীদের সরিয়ে নেওয়া হলে পুনরায় চলাচল স্বাভাবিক হয়।

ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আকতার হোসেন ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, “মশাখালী স্টেশনে যমুনা ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা গত ১০ থেকে ১২ দিন ধরে আন্দোলন করছেন। আজ সকাল থেকে তারা ট্রেনটি আটকে রেখেছিলেন। পরে আন্দোলনকারীদের বুঝিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।” পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর ট্রেনটি ছেড়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেওয়ার পর সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে ট্রেনটি ছেড়ে যায়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হয়েছে।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, নবগঠিত দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার মানুষের যাতায়াতের জন্য মশাখালী স্টেশনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এখানে আন্তনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি সময়ের দাবি। আন্দোলনের অংশ হিসেবে এদিন সকালে রেললাইনে লাল কাপড় টাঙিয়ে তারা ট্রেনটি থামিয়ে দেন। তবে মশাখালী রেলস্টেশনের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ৩০ জুলাই থেকে চলমান এই আন্দোলনের কারণে সাধারণ যাত্রীদের নিয়মিত চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয়রা।


banner close