রং আর তুলির আঁচড়ে বর্ণিল হয়েছে কিশোরগঞ্জের হাওর। অলওয়েদার সড়কের ১৪ কিলোমিটারজুড়ে আঁকা হয়েছে আলপনা। এর মধ্য দিয়ে অলওয়েদার সড়কের পর আরেকটি নতুন রেকর্ড হলো এ জনপদে।
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু করে হাওরের আরেক উপজেলা অষ্টগ্রামের জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত ‘আলপনায় বৈশাখ ১৪৩১’ নামের ১৪ কিলোমিটারব্যাপী আলপনা আঁকা হয়েছে।
আয়োজকদের দাবি, এটি বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ আলপনা। একে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্থান দেয়ার প্রয়াস চালানো হবে।
মিঠামইন জিরো পয়েন্টে রোববার সকাল ১০টার দিকে তুলির শেষ আঁচড় দিয়ে আলপনা আঁকার সমাপ্তি ঘোষণা করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
ওই সময় হাওরের উন্নয়নের রূপকার হিসেবে পরিচিত কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জিল্লুর রহমান, বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমানসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাওরে যেভাবে পর্যটকরা আসেন, গিনেস ওয়ার্ল্ড বুকে যখন ১৪ কিলোমিটার আলপনা স্থান করে নিতে পারবে, তখন আন্তর্জাতিকভাবে স্থানটি আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হবে। এই বিশ্বরেকর্ড গড়ার মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি নববর্ষ উদযাপন ১ বৈশাখকে তুলে ধরতে পারছি।
‘যেভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা আমাদের মঙ্গল শোভাযাত্রা এখন ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ ডকুমেন্টে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, একই রকমভাবে আজ গিনেস ওয়ার্ল্ড বুকেও নতুন একটি রেকর্ড করতে যাচ্ছি ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ আলপনা অংকনের মধ্য দিয়ে। এ অবস্থায় বিদেশি পর্যটকরাও হাওরে আসার জন্য আগ্রহী হবে।’
সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক বলেন, ‘একসময় হাওর ছিল অবহেলিত। মানুষকে দাওয়াত দিয়েও হাওরে আনা যেত না। আর এখন সারা বাংলাদেশ থেকেই মানুষ হাওরের উন্নয়ন দেখতে আসে।’
আলপনা উদ্বোধন শেষে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের এমপি রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিককে নিয়ে মোটরসাইকেলে পুরো সড়ক ঘুরে বেড়ান ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বৈচিত্র্যময় সব উৎসব উদযাপনে বাংলালিংক গভীরভাবে দায়বদ্ধ। দেশের সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক উৎসব পহেলা বৈশাখ এ সকল উৎসবের মাঝে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
‘বাংলালিংকের এই আয়োজন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও দেশীয় উৎসবকে তুলে ধরার একটি প্রয়াস।’
বার্জার ও এশিয়াটিকের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ১৪ কিলোমিটারজুড়ে আলপনা আঁকার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলালিংক। ৬৫০ জন শিল্পী অংকনে অংশ নেন।
এর আগে গত শুক্রবার বিকেলে কিশোরগঞ্জের হাওরের মিঠামইন উপজেলার অলওয়েদার সড়কের জিরো পয়েন্টে এই আলপনা অংকনকাজের উদ্বোধন করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এমপি আসাদুজ্জামান নূর।
মেহেরপুর সদর উপজেলার রাজনগর গ্রামে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুরে উপজেলার রাজনগর গ্রামের ঘোড়ামারা পাড়ায় মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে মেহেরপুর সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি হুমায়ুন কবির জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে কয়েকদিন আগেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মরদেহটি অর্ধগলিত অবস্থায় থাকায় এখনো তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাজশাহীতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, জাতির কাছে আজীবন ঘৃণিত হয়ে থাকবে স্বাধীনতার বিরোধিতাকারীরা। মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার বিরোধিতাকারীদের প্রতি মানুষের ঘৃণা বিশ্বজুড়ে হিটলারের প্রতি যে ঘৃণা রয়েছে, তার মতোই থাকবে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল ৬টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের সময় তিনি এ কথা বলেন। এ সময় মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার বিরোধিতাকারীদের প্রতি মানুষের ঘৃণা বিশ্বজুড়ে হিটলারের প্রতি যে ঘৃণা রয়েছে, তার মতোই থাকবে।
বর্তমান সরকারের লক্ষ্য তুলে ধরে ভূমিমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেছে। এখন দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার দিকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এ স্বাধীনতাকে আরো উচ্চতায় নেয়ার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়ার বিষয়টিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে, তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান।
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জেলা মুক্তিযোদ্ধা স্টেডিয়ামে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় সংগীতের সঙ্গে পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার বজলুর রশীদ। পরে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে কুচকাওয়াজ শুরু হয়।
কুচকাওয়াজ শেষে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়ে ডিসপ্লে প্রদর্শন করে। পরে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, পুলিশ কমিশনার, ডিআইজিসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে সকাল ৮টায় মহানগর বিএনপির কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে স্বাধীনতা দিবস পালন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। এছাড়া পবা-মোহনপুর আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশাসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পৌর মালিকানাধীন দোকানের তালা খুলে না দেওয়ায় ওসিসহ-এসআইসহ ৮ পুলিশ সদস্যকে মারধর করেছে যুব জামায়াত নেতারা। এ ঘটনায় ৮ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৫ মার্চ) রাত ১০টার দিকে পলাশবাড়ী থানায় এ ঘটনা ঘটে। পরে উপ-পরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমিন বাদী হয়ে পলাশবাড়ি থানায় ৮ জামায়াত নেতাসহ অজ্ঞানামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
পলাশবাড়ী-গোবিন্দগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রশিদুল বারী সাংবাদিকদের জানান, যুব জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক মাহমুদুল হাসান পলাশের নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পলাশবাড়ী থানায় প্রবেশ করেন। তারা থানার ওসি সারোয়ারে আলমকে বিবাদমান একটি দোকান তালাবদ্ধ করতে বলেন। তিনি রাজি না হলে পলাশ ও তার লোকজন পুলিশের ওপর চড়াও হন। পরে মারধর করেন। এতে আহত হন ওসিসহ ও এসআইসহ ৮ পুলিশ সদস্য।
পুলিশ সুপার বলেন, পৌরসভার মালিকানাধীন কালিবাড়ি বাজারে একটি দোকানের তালা লাগানোকে কেন্দ্র করে বিক্ষুদ্ধ যুব জামায়াত নেতারা পলাশবাড়ী থানায় ঢুকে ওসি সরোয়ারে আলম, এসআই রুহুল আমীনসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে মারধর করেন।
খবর পেয়ে পলাশবাড়ী থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি শান্ত হয়। বিষয়টি শুনে পলাশবাড়ী উপজেলা জামায়াতের আমির আবু বক্কর সিদ্দিক থানায় এসে পৌঁছান।
আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, সিসিটিভির ফুটেজ দেখে দলীয় কেউ জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপনারা মামলা করতে পারেন।
পলাশবাড়ি থানার ওসি সরোয়ার আলম জানান, অভিযুক্ত ৮ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে এসআই রুহুল আমিন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। শীঘ্রই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যথাযোগ্য মর্যাদা, উৎসাহ-উদ্দীপনা, ভাবগাম্ভীর্য এবং নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ভোলার বোরহানউদ্দিনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করে।
দিনের সূচনা হয় সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে। এরপর উপজেলা কেন্দ্রীয় শহিদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়। উপজেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, পুলিশ প্রশাসন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ পর্যায়ক্রমে শহিদ বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে বোরহানউদ্দিন সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে জাতীয় সঙ্গীতের সাথে সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে পুলিশ, আনসার-ভিডিপি, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রী এবং স্কাউট, গার্লস গাইড অংশগ্রহণ করে। কুচকাওয়াজ শেষে মনোজ্ঞ ডিসপ্লে প্রদর্শন করা হয়, যা উপস্থিত দর্শকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মন তার বক্তব্যে বলেন, “স্বাধীনতা দিবস আমাদের জাতির গৌরবের প্রতীক। এই দিনের চেতনা ধারণ করে দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।”
পরে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, স্বাধীনতার তাৎপর্য এবং বর্তমান প্রজন্মের দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আমিন মিয়া এবং যুদ্ধকালীন ট্রুপস কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আচমত আলী মিঞা বক্তব্য রাখেন। বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হলে ইতিহাসকে জানতে ও চর্চা করতে হবে।
দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রচনা, চিত্রাঙ্কন ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এছাড়া স্থানীয় মসজিদ, মন্দির ও অন্যান্য উপাসনালয়ে দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।
বিকেলে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে বোরহানউদ্দিন সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীগোষ্ঠী দেশাত্মবোধক গান, নৃত্য ও আবৃত্তি পরিবেশনের মাধ্যমে উৎসবের আমেজকে আরও বর্ণিল করে তুলবে। সবমিলিয়ে, বোরহানউদ্দিনে মহান স্বাধীনতা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে, যা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নতুন করে সবার মাঝে জাগ্রত করেছে।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৪ জনে দাঁড়িয়েছে। তলিয়ে যাওয়া বাসটি উদ্ধার করা হয়েছে।
হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল থেকে ১৬ জনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আরও ৫টি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ২টি মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সূত্র জানায়, বাসটি নদীর ৮০ থেকে ৯০ ফুট গভীরে তলিয়ে যায়। একপর্যায়ে বাসটি পন্টুনের নিচে আটকে যায়। উদ্ধারকারী জাহাজ বাসটি ধীরে ধীরে ওপরে তুলে আনে।
বাসটিতে ৫০ জনের মতো যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে দুর্ঘটনার সময় তাৎক্ষণিক ১১ জনের মতো যাত্রী বাস থেকে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হন। ঘটনার পরপর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নদীতে পড়ে যাওয়া বাসটি উদ্ধারে জোরালো অভিযান শুরু করে কর্তৃপক্ষ।
নিহতরা হলেন—
১) রেহেনা আক্তার (৬১), স্বামী: মৃত ইসমাঈল হোসেন খান, গ্রাম-ভবানীপুর, লালমিয়া সড়ক, রাজবাড়ী পৌরসভা।
২) মর্জিনা খাতুন (৫৬), স্বামী: মো. আবু বক্কর সিদ্দিক, গ্রাম-মজমপুর, ওয়ার্ড-১৮, কুষ্টিয়া পৌরসভা।
৩) রাজীব বিশ্বাস (২৮), পিতা: হিমাংশু বিশ্বাস, গ্রাম-খাগড়বাড়ীয়া, কুষ্টিয়া সদর।
৪) জহুরা অন্তি (২৭), পিতা: মৃত ডা. আবদুল আলীম, গ্রাম-সজ্জনকান্দা, রাজবাড়ী পৌরসভা।
৫) কাজী সাইফ (৩০), পিতা: কাজী মুকুল, গ্রাম-সজ্জনকান্দা, রাজবাড়ী পৌরসভা।
৬) মর্জিনা আক্তার (৩২), স্বামী: রেজাউল করিম, গ্রাম-চর বারকিপাড়া, ছোট ভাকলা, গোয়ালন্দ।
৭) ইস্রাফিল (৩), পিতা: দেলোয়ার হোসেন, গ্রাম-ধুশুন্দু, সমাজপুর, খোকসা, কুষ্টিয়া।
৮) সাফিয়া আক্তার রিন্থি (১২), পিতা: রেজাউল করিম, গ্রাম-চর বারকিপাড়া, ছোট ভাকলা, গোয়ালন্দ।
৯) ফাইজ শাহানূর (১১), পিতা: বিল্লাল হোসেন, গ্রাম-ভবানীপুর, বোয়ালিয়া, কালুখালী।
১০) তাজবিদ (৭), পিতা: কেবিএম মুসাব্বির, গ্রাম-সজ্জনকান্দা, রাজবাড়ী পৌরসভা।
১১) আরমান খান (৩১), পিতা: আরব খান, গ্রাম-পশ্চিম খালখোলা, বালিয়াকান্দি (বাস চালক)।
১২) নাজমিরা ওরফে জেসমিন (৩০), স্বামী: আব্দুল আজিজ, গ্রাম-বেলগাছি, মদেন্দ্রপুর, কালুখালী।
১৩) লিমা আক্তার (২৬), পিতা: সোবাহান মন্ডল, গ্রাম-রামচন্দ্রপুর, মিজানপুর, রাজবাড়ী সদর।
১৪) জোস্ন্যা (৩৫), স্বামী: মান্নান মন্ডল, গ্রাম-বড় চর বেনিনগর, মিজানপুর, রাজবাড়ী সদর।
১৫) মুক্তা খানম (৩৮), স্বামী: মৃত জাহাঙ্গীর আলম, পিতা: সিদ্দিকুর রহমান, গ্রাম-নোয়াধা, আমতলী, কোটালীপাড়া, গোপালগঞ্জ।
১৬) নাছিমা (৪০), স্বামী: মৃত নূর ইসলাম, গ্রাম-মথুয়ারাই, পলাশবাড়ী, পার্বতীপুর, দিনাজপুর।
১৭) আয়েশা আক্তার সুমা (৩০), স্বামী: নুরুজ্জামান, গ্রাম-বাগধুনিয়া পালপাড়া, আশুলিয়া, ঢাকা।
১৮) সোহা আক্তার (১১), পিতা: সোহেল মোল্লা, রাজবাড়ী পৌরসভা।
১৯) আয়েশা সিদ্দিকা (১৩), পিতা: গিয়াসউদ্দিন রিপন, গ্রাম-সমসপুর, খোকসা, কুষ্টিয়া।
২০) আরমান (৭ মাস), পিতা: নুরুজ্জামান, গ্রাম-খন্দকবাড়িয়া, কাচেরকোল, শৈলকুপা, ঝিনাইদহ।
২১) আব্দুর রহমান (৬), পিতা: আব্দুল আজিজ, গ্রাম-মহেন্দ্রপুর, রতনদিয়া, কালুখালী।
২২) সাবিত হাসান (৮), পিতা: শরিফুল ইসলাম, গ্রাম-আগমারাই, দাদশি, রাজবাড়ী সদর।
২৩) আহনাফ তাহমিদ খান (২৫), পিতা: ইসমাইল হোসেন খান, গ্রাম-ভবানীপুর, রাজবাড়ী সদর।
নিহত আরেকজনের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ঢাকাগামী চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভোর পৌনে ৬টার দিকে উপজেলার ফৌজদারহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের একজন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের পাওয়ার কার ও পরবর্তীতে তার সঙ্গে লাগোয়া শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত একটি বগিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কুমিরা স্টেশনে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে আছে।
রেলওয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, আগুন লাগছে মূলত পাওয়ার কারে। সেখান থেকে আরেকটা বগিতে ছড়িয়ে পড়েছিল। কিন্তু তার আগে ওই বগিতে লোকজন বের হয়ে পড়ে এবং লাগেজগুলোও বের করে ফেলা হয়। আগুনে কেউ হতাহত হয়নি। বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে আছে। ক্ষতিগ্রস্ত বগিগুলো আলাদা করে ফেলা হয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে পাওয়ার কার পাঠানো হচ্ছে। এটি জোড়া লাগিয়ে ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশ্য রওনা করবে।
তিনি আরও বলেন, অগ্নিকাণ্ডের সময় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী লেনে ট্রেন চলাচল কিছুটা ব্যাহত হয়। তবে কোনো ট্রেনের শিডিউল বাতিল হয়নি। বর্তমানে মোটামুটি স্বাভাবিক হচ্ছে।
১৯৭১ সালে ৯ মাস যুদ্ধ করে একটি স্বাধীন দেশ পেয়েছি। এই স্বাধীনতা অর্জনের জন্য ৩০ লাখ মানুষকে প্রাণ দিতে হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সেই সময়ের নির্যাতনের স্মৃতি এখনো মনে পড়লে এখনো গা শিউরে ওঠে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ধারণ করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। বুধবার (২৫ মার্চ) সকালে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ ভূঁইয়ারবাগ এলাকায় বিদ্যানিকেতন হাইস্কুলে ‘বন্ধুসভা মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড-২০২৬’ অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধারা এ কথাগুলো বলেন। প্রথম আলো বন্ধুসভা এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
মুক্তিযুদ্ধের আলোয় জাগ্রত তরুণ্য’ স্লোগান নিয়ে নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, চেতনা ও মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে মার্চজুড়ে দেশব্যাপী মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াডের আয়োজন করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার সবার জন্য অনলাইন কুইজ প্রতিযোগিতা এবং প্রথম আলোর ওয়েব পেইজ ও বন্ধুসভার ফেসবুক পেজে প্রতিদিন কুইজ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
প্রথম আলো নারায়ণগঞ্জ বন্ধুসভার সভাপতি সাব্বির আল ফাহাদের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক ইমরান নাজিরের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি হালিম আজাদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলার সাবেক সভানেত্রী লক্ষ্মী চক্রবর্তী, নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবদুস সালাম, বিদ্যানিকেতন হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক উত্তম কুমার সাহা প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রথম আলো বন্ধুসভা জাতীয় পরিচালনা পর্ষদের মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক আশফাকুজ্জামান।
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণা করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা হালিম আজাদ। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে বর্বরোচিত হামলার পর ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে মানুষ প্রাণ বাঁচাতে বক্তাবলী ইউনিয়নে আশ্রয় নেন। তিনি তখন দশম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। তিনি ও তার সহযোদ্ধারা গ্রামের মুরব্বিদের নিয়ে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও খাবারের ব্যবস্থা করেন এবং গুরুতর আহত ব্যক্তিদের নৌকায় করে মুন্সীগঞ্জে পাঠান।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে হালিম আজাদ বলেন, ‘তোমরা নৈতিক আদর্শবান শিক্ষায় শিক্ষিত হবে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানবে নিজেকে বেগবান করবে। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ধারণ করে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।’
রফিউর রাব্বি বলেন, ‘আমাদের চিন্তাচেতনার বেড়ে ওঠার সব কিছু ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ। আমাদের রাষ্ট্রক্ষমতায় যারা থাকেন, তারা ইতিহাসকে তাদের পক্ষে নেওয়ার জন্য ইতিহাস বদলে দিতে চান, যার ফলে রাষ্ট্র বদলের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের ইতিহাসও বদলে যেতে থাকে।’ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে হবে, মুক্তিযুদ্ধের বই পড়তে হবে। মুক্তিযুদ্ধের গ্রন্থগুলোর পাঠের মধ্যে দিয়ে তোমরা ইতিহাসকে জানবে। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের হাজার বছরের ইতিহাসের একটি গৌরবগাথা।’
মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ উল্লেখ করে লক্ষ্মী চক্রবর্তী বলেন, ‘তরুণ বয়সে পারিবারিক চেতনার মধ্যে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি। ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ এবং দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমরা একটি স্বাধীন দেশ পেয়েছি। মুক্তিযুদ্ধের সেই সময়ের নির্যাতনের স্মৃতি এখনো মনে পড়লে এখনো গা শিউরে উঠে।’
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতায় মোট ৮০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। প্রাথমিক বাছাই শেষে ৫ জন শিক্ষার্থীকে বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। প্রথম হয়েছে সজীব দাস, দ্বিতীয় সায়লা আক্তার, তৃতীয় উম্মে হানি অনি, চতুর্থ তরিকুল ইসলাম এবং পঞ্চম হয়েছে ওমেরা তাসমির রিদা। তারা সবাই বিদ্যানিকেতন হাইস্কুলের শিক্ষার্থী।
পরে বিজয়ীদের হাতে মুক্তিযুদ্ধের গল্পের বই উপহার দেওয়া হয়। এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলো নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি মজিবুল হক, নারায়ণগঞ্জ বন্ধুসভার সহসভাপতি জহিরুল ইসলাম, সাবেক সহসভাপতি সোহেল হাওলাদার, প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক হাসান আল ইমরান, সদস্য বোরহান উদ্দিন, ইউসুফ কবির, আমির খান সাব্বির, সাকিব, গাজী ওমর ফারুক, জাহিদ মিয়াজী ও জিসান।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় ক্যান্সার, কিডনি রোগসহ বিভিন্ন দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত অসহায় মানুষের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে থেকে পাওয়া আর্থিক অনুদান বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) দুপুরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা প্রায় ২০০ জন অসুস্থ ও অসচ্ছল মানুষের মাঝে ১০ লাখ টাকার অনুদানের চেক তুলে দেন।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সার, কিডনি রোগ, লিভার সিরোসিস, পক্ষাঘাত ও হৃদরোগের মতো ব্যয়বহুল রোগে ভুগছিলেন। আর্থিক সংকটের কারণে তাদের অনেকেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে পারছিলেন না। এসব রোগীর চিকিৎসা সহায়তায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে পাওয়া ১০ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের অসহায় মানুষের পাশে সবসময় আছেন। কেউ যেন অর্থের অভাবে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্যেই এই সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এই অনুদান আপনাদের চিকিৎসার পথে কিছুটা হলেও সহায়ক হবে।
তিনি আরও বলেন, দৌলতপুর উপজেলার সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ চলমান থাকবে।
চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিন্দ গুহসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
মাদারীপুর সদর উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের সৈয়দ বাড়ি হাফেজিয়া মাদ্রাসা-সংলগ্ন বিশালাকার আলগী দিঘি কালের সাক্ষী হয়ে আজও টিকে আছে, যা আলগী কাজীবাড়ি দিঘি নামেও পরিচিত।
বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ এনায়েত হোসেনের কাছে এ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, দিঘিটি প্রায় চারশত বছর আগে ষোড়শ শতাব্দীর দিকে এটা গায়েবীভাবে তৈরি হয়েছিল এবং এ দিঘির পাশে একটি গায়েবী মসজিদও তৈরি হয়। সেখানে স্থানীয়রাসহ দূর-দূরান্ত থেকে আগত অনেক দর্শনার্থী মানত হিসেবে টাকা-পয়সা, হাস-মুরগি, ফলফলাদি, ছাগল ইত্যাদি দান করে থাকেন। সেখানকার বাসিন্দাদের অনেকই বলেন, কে বা কারা কখন এই দিঘিটি খনন করেছেন তার কোনো তথ্য আমাদের কাছে জানা নেই। তারা ধারণা করছেন মোঘল সম্রাটের আমলেও দিঘিটি খনন হয়ে থাকতে পারে। কথিত আছে, ওই এলাকার বিবাহ-শাদী থেকে শুরু করে কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে রান্না-বান্না ও আপ্যায়ন কাজে ডেগ, করাই, থালা-বাসুন ইত্যাদির প্রয়োজন হলে এলাকাবাসী দীঘির মালিকের কাছে তা চাইলে তারা সেগুলো দিঘির তীরে গায়েবীভাবে পেয়ে যেতেন। যদিও এর কোনো ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যায়নি।
দিঘিটির সম্পর্কে একই এলাকার সৈয়দ এনামুল হাসান সোহাগ বলেন, ‘এটা প্রায় ৫-৬ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং কোথাও এর গভীরতা ৩০-৪০ ফুটের মতো।’ তিনি আরও বলেন, ‘দিঘিতে রয়েছে প্রচুর দেশীয় প্রজাতির মিঠাপানির মাছ।’
অত্র এলাকার চারপাশের শত শত পরিবার এখানে দৈনন্দিন গৃহস্থালি কাজকর্ম সম্পাদনসহ গোসলের কাজ সারতেন; কিন্তু বর্তমানে তা আর সম্ভব হচ্ছে না। এখন দিঘিটিতে তেমন নাব্যতা নেই, যথাযথ সংরক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে দিঘিটি তার জৌলুস হারিয়ে ময়লা-আবর্জনা ও কচুরিপানার স্তূপে ঢেকে গিয়ে মানুষের ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।’ সেখানকার বাসিন্দারা সরকারিভাবে দিঘিটির সংরক্ষণ, খনন, সংস্কার ও পরিচর্যার মাধ্যমে এটিকে মাদারীপুরের একটি ঐতিহ্যবাহী দর্শনীয় পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। উল্লখ্য, দিঘিটি পরিদর্শনে এখনো দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা আগমন করে থাকেন।
ঈদ উৎসবে বিনোদন পিপাসুদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে নরসিংদীর ড্রিম হলিডে পার্কসহ জেলার বিনোদন কেন্দ্রগুলো। সকাল থেকেই শিশু থেকে বৃদ্ধ, সব বয়সের মানুষের উপচেপড়া ভিড়ে মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে বিনোদন কেন্দ্রগুলো। ঈদের আমেজকে রাঙ্গিয়ে দিয়ে ও বিনোদনপ্রেমীদের আকৃষ্ট করতে পার্ককে সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে।
রাজধানী ঢাকার কাছাকাছি শহরের কোল ঘেষে নরসিংদীর পাঁচদোনায় অবস্থিত ড্রিম হলিডে পার্কে ঈদকে কেন্দ্র করে দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখর হয়ে ওঠেছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ এখানে ঘুরতে আসছে। কিড্স জোন, বুলেট ট্রেন, স্কাই ট্রেন, এয়ার বাইসাইকেল, সোয়ান বোট, ওয়াটার বোট, রোলার কোস্টার, ক্রেজি রিভার, লেজি রিভার, স্পিডবোট, আদর্শ গ্রামসহ আন্তর্জাতিক মানের বিভিন্ন রাইডের পাশাপাশি ওয়াটার পার্কে ডিজে গানের তালে নেচে নেচে দর্শনার্থীরা ঈদ আনন্দে মেতে উঠেছে।
এ বছর ড্রিম হলিডে পার্কের, সি ওয়াল্ড, সুনামীর ঢেউ আর রোমাঞ্জকর ভৌতিক পরিবেশে নজর কাড়ছে ড্রিম রিভার ক্যাব। বড়দের পাশাপাশি বিভিন্ন রাইডে শিশুদের উপস্থিতিও ছিল বেশ। এছাড়া ভূতের বাড়ি শিশুদের পছন্দের জায়গা করে নিয়েছে।
ড্রিম হলিডে পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রবীর কুমার সাহা জানিয়েছে, দর্শনার্থীদের চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে পার্কে নতুন নতুন রাইড সংযোজন করা হয়েছে। এখন আর ভ্রমনপিপাসুদের বিদেশে ভ্রমণ করতে যেতে হবে না। বিদেশি দর্শনার্থীরা ও পার্কে ঘুরতে আসছে। সকলের নিরাপত্তায় নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবীদের পাশাপাশি আনসার বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছে বলে জানান ড্রিম হলিডে পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
ঈদে জেলার প্রতিটি বিনোদন কেন্দ্রে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিনোদন প্রেমীরা ভীড় জমিয়েছে। ভ্রমণ পিপাসুদের বিদেশ ভ্রমণ পরিহার করে দেশের বিনোদন কেন্দ্রগুলো উপভোগ করার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। এতে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি দেশীয় পর্যটনের বিকাশ হবে।
মাগুরা ট্রাক টার্মিনালের সামনে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে যানবাহনে অভিযান চালিয়ে র্যাব-৬ এর একটি টিম একটি পিকআপ ভ্যানে ২০ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারিকে আটক করেছে।
এরা হলেন ঝিনাইদাহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার নগর বাথান গ্রামের অহিদুল ইসলাম (৩৪) ও গোবিন্দপুর হালদারপাড়া এলাকার আরিফুল লস্কর (২৫)।
বুধবার (২৫ মার্চ) ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৬ ঝিনাইদহ ক্যাম্পের সিনিয়র এএসপি আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
শিলাবৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় বোরো ধান ও ভুট্টার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গত মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকেল ও রাতে জেলার বিভিন্ন স্থানে এ দুর্যোগে কৃষকের মাঠের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে জেলার মিঠামইন, ইটনা, অষ্টগ্রাম, নিকলী, পাকুন্দিয়া, হোসেনপুর, কুলিয়ারচর ও ভৈরব উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়।
স্থানীয় কৃষক ও কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ের তাণ্ডবে হাজার হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মিঠামইন উপজেলার ঢাকী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান বলেন, তিনি ৩০ একর জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছেন। এর মধ্যে ২০ একরের বেশি জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার ভাষ্য, শুধু তার ইউনিয়নেই কৃষকের ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে।
ইটনা উপজেলা সদরের হাজারীকান্দা গ্রামের কৃষক রইছ উদ্দিন বলেন, তিনি ১১ একর জমিতে ভুট্টা এবং ৩ একর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছেন। এতে তার খরচ হয়েছে ৪ লাখ টাকারও বেশি। তিনি আশা করেছিলেন, অন্তত ১০ লাখ টাকার ফসল পাবেন। কিন্তু শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে এখন খরচও উঠবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কায় আছেন।
ইটনার বলদা হাওরের কৃষক শামীম আহমেদ বলেন, ‘শিলাবৃষ্টিতে আমি শেষ হয়ে গেছি। এখন পরিবার-পরিজন নিয়ে কীভাবে চলব, তা ভেবে অস্থির লাগছে।’
কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতি এলাকার কৃষক রোমান আলী শাহ বলেন, ‘মাত্র ১০ মিনিটের বৃষ্টি আর ঝড়েই সব শেষ হয়ে গেছে। কিছুতেই মনকে বোঝাতে পারছি না।’
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা জানান, বোরো ধানের শীষ বের হতে শুরু করেছে মাত্র। এমন সময় শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় ধানগাছ নুয়ে পড়েছে, শীষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অনেক জমিতে ফসল মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। এতে ফলন নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, শিলাবৃষ্টি ও কালবৈশাখীতে মিঠামইনে ২ হাজার ৫০০ হেক্টর, ইটনায় ৯৮৬ হেক্টর, অষ্টগ্রামে ১৪০ হেক্টর, নিকলীতে ১০০ হেক্টর, পাকুন্দিয়ায় ১২০ হেক্টর, হোসেনপুরে ১০ হেক্টর, কুলিয়ারচরে ৬ হেক্টর এবং ভৈরবে ২ হেক্টরসহ মোট ৩ হাজার ৮৬৪ হেক্টর বোরো জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কৃষকদের দাবি, বোরো ধান ও ভুট্টাসহ প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি।
কিশোরগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান বলেন, ‘এ বছর জেলায় মোট ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে দুর্যোগে ৩ হাজার ৮৬৪ হেক্টর জমির বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার শাহজাহানপুরে নির্মাণাধীন একটি ব্রিজ পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সেসময় তিনি ১৫ দিনের মধ্যে ব্রিজের অ্যাপ্রোচ (সংযোগ) সড়কের কাজ সম্পন্ন করে ব্রিজটি জনসাধারণ ও যানবাহন চলাচলের উপযোগী করার নির্দেশ দেন। এ লক্ষ্যে সাত সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক এবং ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ব্রিজের মূল অবকাঠামো নির্মাণ সম্পন্ন হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটি অচল অবস্থায় পড়ে আছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানার পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যৌথভাবে তাকে পরিদর্শনের নির্দেশ দেন, যাতে দ্রুত জনগণের ভোগান্তি দূর করা যায়।
তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয় থেকে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং আশা করা হচ্ছে, দ্রুত সময়ের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন করে ব্রিজটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশিদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলাম বুলবুল, স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, এলজিইডির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (প্রশাসন) মো. ওয়াহিদুজ্জামানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।