আজ সোমবার ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রথম ধাপের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার উপ-সচিব মো. আতিয়ার রহমান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রথম ধাপের তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ১৫ এপ্রিল, মনোনয়নপত্র বাছাই ১৭ এপ্রিল, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল ১৮ থেকে ২০ এপ্রিল, আপিল নিষ্পত্তি ২১ এপ্রিল, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২২ এপ্রিল, প্রতীক বরাদ্দ ২৩ এপ্রিল এবং ১৫২ উপজেলায় ভোটগ্রহণ হবে আগামী ৮ মে।
ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম জানান, মনোনয়নপত্র অনলাইনেই দাখিল করতে হবে। জামানতের টাকাও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে জমা দিতে পারবেন প্রার্থীরা। কাজেই সম্পূর্ণ সিস্টেমটাই অনলাইনে হবে।
এ ধাপের নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের নিয়োগ করা হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল আবেদন নিষ্পত্তি করবেন আপিল কর্তৃপক্ষ হিসেবে জেলা প্রশাসক।
দ্বিতীয় ধাপের তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ২১ এপ্রিল, মনোনয়নপত্র বাছাই ২৩ এপ্রিল, আপিল গ্রহণ ২৪ থেকে ২৬ এপ্রিল, আপিল নিষ্পত্তি ২৭ থেকে ২৯ এপ্রিল, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ৩০ এপ্রিল, প্রতীক বরাদ্দ প্রতীক বরাদ্দ ২ মে। আর ১৬১ উপজেলায় ভোটগ্রহণ হবে ২১ মে।
এ ধাপের নির্বাচনে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকদের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ভোটারের সংখ্যা পাঁচ লাখের বেশি যেখানে সেখানে একাধিক সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকবেন।
মোট চার ধাপের উপজেলা নির্বাচনের পরবর্তী দুই ধাপের ভোট আগামী ২৯ মে ও ৫ জুন অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানা গেছে।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোঃ শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানির সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) এর ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) মন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ভাইস চ্যান্সেলর চুয়েট এর শিক্ষা, গবেষণা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পানি সম্পদ খাতে চুয়েট-এর বিভিন্ন কার্যক্রম বিষয়ে মন্ত্রীকে অবহিত করেন। মতবিনিময়কালে আগামী দিনে পারস্পরিক সহযোগিতায় এগিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একমত পোষণ করা হয়। বিশেষ করে, চুয়েট এর ওয়াটার রিসোর্সেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাথে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে কোলাবোরেশান গড়ে তোলা, বিভাগের উন্নয়ন, গ্র্যাজুয়েটদের ক্যারিয়ার প্রভৃতি বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
ফুলবাড়িয়া ও ত্রিশাল উপজেলার সীমান্তবর্তী পোড়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন একটি ডোবা থেকে আ. সালাম নামে এক বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে পুলিশ। ফুলবাড়িয়া উপজেলা আছিম পাটুলী ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডের খামখালি গ্রামের মৃত হযরত আলীর ছেলে আ. সালাম (৬০)।
জানা গেছে, মঠবাড়ি ইউনিয়নের পোড়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন ডোবায় অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ দেখে স্থানীয়রা পুলিশ খবর দেয়। গত দুই দিন আগে আঃ সালাম আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। লাশের শরীরের একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
ত্রিশাল থানার এস আই রুবেল খান জানিয়েছেন, লাশের শরীরের একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এঘটনায় হত্যা মামলা পক্রিয়াধীন।
আছিম পাটুলী ইউনিয়নের পরিষদের চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস জানিয়েছেন, খামখালি গ্রামের বৃদ্ধ আ. সালাম দুই দিন আগে ত্রিশাল উপজেলায় তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল। দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী পোড়াবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন ডোবায় তার লাশ পাওয়াগেছে।
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রংমহল সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ১৫ কেজি ভারতীয় গাঁজা উদ্ধার করেছে ৪৭ বিজিবি। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ভোরে এ অভিযান পরিচালনা করা হয় এবং বিকেলে তা গণমাধ্যম কর্মিদের প্রেস লিফটের মাধ্যমে জানানো হয়।
৪৭ বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তের ১৩৭/২-এস পিলার থেকে আনুমানিক ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে রংমহল নামক স্থানে বিজিবির একটি চৌকস টহল দল অভিযান পরিচালনা করে।
এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ১৫ কেজি ভারতীয় গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার করা গাঁজার আনুমানিক সিজার মূল্য ৫২ হাজার ৫০০ টাকা। পরে উদ্ধার করা মাদকদ্রব্য গাংনী থানায় জমা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আবারও সামরিক অভিযান জোরদার করার হুমকি দিয়েছে ইরান। অগ্রিম হামলার প্রস্তুতি নিয়েছে দেশটি। ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা এগিয়ে না গেলে ইরান ‘‘পুরোপুরি আক্রমণাত্মক’’ সামরিক অবস্থানে যাবে।’ ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘কূটনৈতিকভাবে সমাধান না হলে যুক্তরাষ্ট্রের নৌঅবরোধ ভাঙতে ইরান ‘‘সময়মতো ও নির্ভুল’’ সামরিক হামলা চালাতে প্রস্তুত।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে জুনে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল। ১৭ জুন সই হওয়া ওই সমঝোতায় ৬০ দিনের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর কথা ছিল।
গত সোমবার (১৭ আগস্ট) সেই সময়সীমা শেষ হয়েছে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে দুই পক্ষের মতবিরোধ এখনো কাটেনি। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।
ইরানের দাবি, সমঝোতা স্মারকের একটি ধারা অনুযায়ী হরমুজ প্রণালী পরিচালনার অধিকার তাদের রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য এই ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করেছে। এরপর হরমুজ দিয়ে চলাচলকারী কয়েকটি জাহাজকে লক্ষ্য করে ইরান হামলা চালায়। ইরানের দাবি, এসব জাহাজ অনুমোদনহীন পথে চলাচল করছিল।
জুলাইয়ের শুরুতে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, জুনের চুক্তি আর কার্যকর নেই। ইরানের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘ভবিষ্যতে আলোচনায় বসার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে সমঝোতা স্মারকের সব শর্ত পূরণ করতে হবে। এর মধ্যেও কূটনৈতিক যোগাযোগের একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।’
মার্কিন প্রশাসন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসির সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ করেছে বলে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়, সাবেক মার্কিন গোয়েন্দাপ্রধান তুলসি গ্যাবার্ড আইআরজিসির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা একজন ইরাকি কুর্দি নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন। ওই মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে আইআরজিসির কমান্ডার জেনারেল আহমাদ ভাহিদির কাছে মার্কিন বার্তা পৌঁছানো হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
ফক্স নিউজ পরে জানায়, ট্রাম্পও ওই যোগাযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্বেগ ছিল, আলোচনায় থাকা ইরানি কর্মকর্তারা আসলে আইআরজিসির অবস্থান কতটা প্রতিনিধিত্ব করছেন।
তবে ট্রাম্পের জামাতা ও বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার বলেন, ‘ইরান সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সক্রিয় হতে পারে। হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যেও আলাদা আলোচনা চলছে।’ ইরানের দাবি, প্রণালী পরিচালনা নিয়ে দুই দেশ একটি সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবে ওমান যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা অংশীদার।
এ নিয়ে ট্রাম্প ওমানকে হুমকি দিয়েছেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ওমান যদি হরমুজ নিয়ে কোনোভাবে বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির ওপর হামলা চালাতে পারে। যুদ্ধের কারণে ইরানের অর্থনীতিতে বড় চাপ তৈরি হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগেই দেশটি উচ্চমূল্যস্ফীতি, দুর্বল মুদ্রা, জ্বালানি সংকট ও দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ছিল।
যুদ্ধের পর অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাণিজ্য ও উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এখন পুনর্গঠনের বাড়তি খরচও বহন করতে হচ্ছে দেশটিকে। ইরানের কয়েকজন কর্মকর্তা আশঙ্কা করছেন, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ালে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে। এর ফলে দেশে নতুন করে বিক্ষোভ তৈরি হতে পারে এবং সরকারের ওপর চাপ বাড়তে পারে।
হরমুজ প্রণালীতে ফের জাহাজে হামলা
হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার সময় আবারও একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা হয়েছে। এ ঘটনায় জাহাজের একজন নাবিক আহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে ৬০ দিনের সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরপরই এই হামলার ঘটনা ঘটল। গতকাল মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, একটি নিক্ষিপ্ত বস্তুর আঘাতে জাহাজটির ইঞ্জিনকক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
হামলার আগে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ইরানের সামরিক কর্মকর্তারা। ইরানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাঘারি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালী দিয়ে যেসব জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করবে, তাদের জাহাজের কাঠামোয় ‘‘বেশ কয়েকটি সুন্দর ছিদ্র’’ তৈরি হবে।’
হরমুজ প্রণালী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উত্তেজনা এমন সময়ে বাড়ল, যখন দুই দেশের মধ্যে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার সমঝোতার মেয়াদ গত সোমবার শেষ হয়েছে। নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক সমঝোতা ছাড়াই ওই সময়সীমা শেষ হয়েছে।
হরমুজ দিয়ে তেল পরিবহন কমেছে
যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হতো। ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে এই জলপথ। বিক্ষিপ্ত হামলার কারণে তেলবাহী জাহাজ চলাচলও প্রায় থমকে গেছে।
জাহাজ চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্যানুযায়ী, রোববার মাত্র তিনটি জাহাজ হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করেছে। হরমুজ প্রণালীর বিকল্প পথে তেল পরিবহনের চেষ্টা এবং বিশ্ব অর্থনীতির মানিয়ে নেওয়ার কারণে এখন পর্যন্ত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে ওঠেনি।
বাব আল-মান্দাবেও কমেছে জাহাজ চলাচল
হরমুজের পাশাপাশি বাব আল-মান্দাব প্রণালীতেও জাহাজ চলাচল কমেছে। রয়টার্সের তথ্যানুযায়ী, গত সপ্তাহান্তে পণ্যবাহী ৪৯টি জাহাজ এই জলপথ দিয়ে চলাচল করেছে। আগের সপ্তাহে এ সংখ্যা ছিল ৫৫।
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা থানা পরিদর্শন করেন জেলার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো: আশরাফুল আলম। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) পরিদর্শনকালে পুলিশ সুপার থানার বিভিন্ন শেরেস্তার দাপ্তরিক কার্যক্রম ও রেজিস্টারসমূহ তদারকি করেন। তিনি থানার সকল অফিসার, ফোর্স এবং গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মনোবল বৃদ্ধি, কর্মক্ষেত্রে উৎসাহ প্রদান ও কাজের গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
এসময় তিনি বলেন, প্রতিটি পুলিশ সদস্যকে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করতে হবে। জনবান্ধব পুলিশিং প্রতিষ্ঠা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। জনগণের আস্থা অর্জন এবং পুলিশি সেবা আরও কার্যকর ও জনমুখী করতে থানাভিত্তিক বিট পুলিশিং জোরদার, দ্রুত সাড়া দেওয়ার মানসিকতা এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো: শাহীনুর চৌধুরী, অফিসার ইনচার্জ, পাটকেলঘাটা থানার ওসি সফিকুল ইসলামসহ থানায় কর্মরত বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যবৃন্দ।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ঢাকায় নারীদের জন্য রাষ্ট্রীয় সড়ক পরিবহন সংস্থা বিআরটিসির উদ্যোগে চালু করেছে গোলাপী বাস। এ সেবার আওতায় বিআরটিসির একটি দ্বিতল ও একটি একতলা বাস চলাচল করবে। এরই অংশ হিসেবে বগুড়া ও চট্রগ্রামেও চলু হয়েছে এ সেবা। বগুড়া ও চট্রগ্রাম থেকে প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর তুলে ধরা হলো;
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামেও চালু হল গোলাপী বাস। নারীদের স্বস্তিদায়ক যাতায়াতে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে নগরীর কালুরঘাট এলাকায় এ সেবা উদ্বোধন করা হয়। এদিনই ঢাকায় নারীদের জন্য একই সেবা চালু করেছে রাষ্ট্রীয় সড়ক পরিবহন সংস্থা বিআরটিসি। এ সেবার আওতায় বিআরটিসির একটি দ্বিতল ও একটি একতলা বাস চলবে। কালুরঘাট থেকে পতেঙ্গা রুটে চলাচলকারী দ্বিতল বাসটি ৭৫ আসনের, আর একতলা বাসের আসন ৪৫টি।
কালুরঘাট থেকে কাপ্তাই রাস্তার মাথা, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, দুই নম্বর গেট, জিইসি, লালখান বাজার, টাইগার পাস মোড়, দেওয়ান হাট, চৌমুহনী, আগ্রাবাদ, বারেক বিল্ডিং মোড়, ফ্রি পোর্ট, কাঠগড় হয়ে পতেঙ্গা পর্যন্ত চলবে এ গোলাপী বাস। সর্বনিম্ন ১০টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৬৮ টাকা পর্যন্ত ভাড়া দিয়ে এই বাসে চলাচল করতে পারবেন যাত্রীরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ বলেন, এই বাস সার্ভিস নারীদের জন্য বিরাট একটা সুযোগ। কারণ একটা বাসে ওঠা নারীর পক্ষে সম্ভব না। সুতরাং নতুন করে যে সিস্টেম চালু হয়েছে, এটা নারীদের জন্য নিরাপদ আর তারা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, নারী মা-বোনদের জন্য ঐতিহাসিক দিন। চট্টগ্রামে প্রচুর পরিমাণে শিল্প কারখানা আছে। এসব শিল্প কারখানায় আমাদের মা-বোনরা কাজ করেন। উদ্বোধনী যাত্রার এক নারী যাত্রী বলেন, এই বাস সার্ভিস চালু হওয়াতে খুব ভাল হল। এখন আর নিরাপত্তা নিয়ে টেনশনের থাকতে হবে না।
বগুড়া প্রতিনিধি জানান: বগুড়ায় চালু হলো বিআরটিসির বিশেষ মহিলা বাস সার্ভিস। জেলায় সড়কে নারীদের জন্য বিশেষ কোনো বাস সার্ভিস এবারই প্রথম। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বগুড়াতেও বিআরটিসির বিশেষ মহিলা বাস সার্ভিস এর উদ্বোধন করা হয়। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) উদ্যোগে শুধু নারী যাত্রীদের জন্য দুটি বাস চলাচল উদ্বোধন করেন বগুড়া-৬ সদর আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা।
উদ্বোধন শেষে বাসটি ডিপো থেকে তিনমাথা রেলগেট এলাকার সরকারি আজিজুল হক কলেজের সামনে পর্যন্ত, সেখান থেকে ঘুরিয়ে আবার ডিপোতে এসে উদ্বোধনী কার্যক্রম শেষ হয়। বাসের ড্রাইভার নারী, কন্ডাক্টর নারী, সহকারীও নারী আর যাত্রীরাও নারী।
সকালে বিআরটিসির ট্রেনিং গ্রাউন্ড চত্বরে সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা ও আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতিতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।
বিআরটিসি বগুড়া বাস ডিপোর ম্যানেজার শাহিনুল ইসলাম বলেন, আপাতত মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে শেরপুর-মাটিডালি এবং মোকামতলা-বনানী রুটে দুটি বাস দিয়ে আমরা যাত্রা শুরু করেছি।
বিআরটিসির মহিলা প্রশিক্ষক সুবর্ণা খাতুন জানান, বিআরএসপি প্রজেক্টের মাধ্যমে সার্কুলার দিয়ে প্রায় ৫০০ জনের মধ্য থেকে বাছাই করে দক্ষ প্রশিক্ষক ও চালক তৈরি করা হয়েছে। বগুড়াতেও বাস সংখ্যা বাড়ানো হলে সার্ভিস দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত ও দক্ষ নারী চালক আমাদের প্রস্তুত আছে।
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় নতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেছেন হাসনাত জাহান খান। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন কর্মস্থলে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
জানাগেছে, তিনি এর আগে ফেনী জেলার পরশুরাম উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এছাড়া তিনি পরিকল্পনা বিভাগে সিনিয়র সহকারী সচিব এবং রাঙামাটি পার্বত্য জেলার বিলাইছড়ি উপজেলার প্রথম নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। যোগদানকালে তিনি উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন, জনসেবা নিশ্চিতকরণ ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
গাজীপুরের কালীগঞ্জে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নবনির্মিত ভবনের শুভ উদ্বোধন, শিক্ষার্থীদের বিতর্ক ও পাঠচক্র, পুরস্কার বিতরণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, চারা বিতরণ এবং মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) উপজেলার তুমুলিয়া এলাকার সেন্ট মেরিস গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের নবনির্মিত ভবন উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে কালীগঞ্জ রাজা রাজেন্দ্র নারায়ণ (আর.আর.এন) সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের নবনির্মিত ভবনও উদ্বোধন করা হয়।
সেন্ট মেরিস গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.টি.এম. কামরুল ইসলাম। প্রধান অতিথি ছিলেন গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ.কে.এম. ফজলুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি ছিলেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সেন্ট মেরিস গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সিস্টার বীনা স্ত্রীষ্টিনা রোজারিও। শিক্ষক তানজিনা শহিদুল্লাহ, দীপা গমেজ ও পূর্ণিমা রোজারিও অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। স্কাউট দলের সালাম ও নৃত্যের মাধ্যমে অতিথিদের বরণ করে নেওয়া হয়।
দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতর্ক প্রতিযোগিতা, পাঠচক্র ও বই পড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী ও ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে শিক্ষার্থীরা নজরুল সংগীত, কবিতা আবৃত্তি ও ক্ষুদ্র নাটিকা পরিবেশন করে।
শেষ পর্বে বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) রাকিবুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী নাজিব হাসান, রেভা. উদার আলবিন গমেজ, কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির মাস্টার, সহকারী কমিশনার মো. আরিফ হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল-আমিনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যমকর্মীরা।
গত কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণে ও যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায় ভয়াবহ নদীভাঙন শুরু হয়েছে। উপজেলার বাচামারা ইউনিয়নের বাকসাইষ্টা, চরভারেঙ্গা, সুবুদদিয়া, চরবাচামারা, জিয়নপুর ইউনিয়নের আমতলী হাট, আমতলী ফেদু সেক উচ্চবিদ্যালয়, আমতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আবু ডাংগা, বড়টিয়া, বৈন্যা এলাকায় প্রায় ৩০০টি বসতবাড়ি, তিন শতাধিক দোকানসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীভাঙনের হুমকিতে রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা বিএনপি নেতা ও আমতলী হাটের ইজারদার আশরাফ আলী জানান, যমুনা নদীর একটি শাখা নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে গত কয়েক দিন ধরে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে বৈন্যা গ্রামের অন্তত ১০ থেকে ১২টি পরিবারের বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভিটেমাটি হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত জিয়নপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহসভাপতি ছায়েদুর রহমান বলেন, ‘নদীভাঙনে আমরা দিশেহারা। চোখের সামনে বাপ-দাদার শেষ স্মৃতিটুকু রক্ষা করতে পারছি না।
সাবেক মেম্বারের স্ত্রী ছকিনা বেগম বলেন, ‘পরিবার নিয়ে কোথায় যাব, কী করব—কিছুই বুঝতে পারছি না।’ নদীভাঙন রোধে দ্রুত জিওব্যাগ ফেলে বৈন্যা গ্রামের মানুষ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো রক্ষা করার দাবি জানিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম বলেন, ‘জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধ করা না হলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আমতলী হাট, ফেদু সেক উচ্চবিদ্যালয় ও আমতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বৈন্যা গ্রামের বহু পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়তে পারে।’
স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাবেক ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান হবি বলেন, ‘প্রায় ৫০০ ফুট এলাকায় জিওব্যাগ ফেলা হলে প্রায় ২০০ পরিবারকে নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব। এতে আমতলী হাট ও দুটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও রক্ষা পাবে। নদী থেকে মাত্র প্রায় ২০০ গজ দূরে থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুটির দিকে যেভাবে ভাঙন এগোচ্ছে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সেগুলো নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
সংরক্ষিত ইউপি সদস্য সুফিয়া বেগম বলেন, ‘আর কয়েক দিন এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে আমার বাড়িঘরও নদীভাঙনের মুখে পড়বে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাটবাজার ও বসতভিটাসহ সবকিছু রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’
জিয়নপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতোয়ার রহমান জানান, নদীভাঙনের ভয়াবহ পরিস্থিতি সম্পর্কে উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলে সাময়িক প্রতিরোধের পাশাপাশি পরবর্তীতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানানো হয়েছে। বিষয়টি মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীরকেও অবহিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিলভিয়া স্নিগ্ধা বলেন, ‘বিষয়টি আমি অবগত আছি। জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীকে বিষয়টি মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
নদীপাড়ের মানুষের দাবি, দ্রুত জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর পাশাপাশি স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। তা না হলে গুরুত্বপূর্ণ হাট-বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও শত শত পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দক্ষিণে ব্রহ্মপুত্র নদ। উত্তরে দেওয়ানগঞ্জের বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের খুঠারচর, সরদারপাড়া, কুতুবেরচর, পূর্ববাহাদুরাবাদ, নাজিরপুর ও ঝালরচর। গ্রামগুলোর অন্তত ৫হাজার একর জমি বর্ষা থেকে শরতের শেষ অব্দি সময় দীর্ঘদিন থেকে জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত থাকে। জমিগুলোতে বছরের শুষ্ক মৌসুমে শুধুমাত্র রবি মৌসুমে ফসলের চাষ হয়। শরৎ হেমন্তে ঘরে তোলা খরিপ-২ মৌসুমে রোপা আমন বা অন্য ফসলের চাষ হয় না। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কয়েক হাজার কৃষক।
জলাবদ্ধতার চলমান এই দুরাবস্থা দূর করে জমিগুলোকে বছরে দুই বা ততোধিক ফসল চাষের আওতায় আনতে খালের মতো নালা কেটে প্রবাহের পথ বের করে পানি অপসারণের উদ্যোগ নিলেন স্থানীয় উপজেলা প্রসাশন। আনুষ্ঠানিক ভাবে খুঠারচরের কাছে পোল্যাকান্দি এলাকায় ব্রহ্মপুত্রের বামতীরে নালা কাটার কাজ উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ জহুরুল হোসেন।
স্থানীয়রা জানায়, বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের খুঠারচর, সরদারপাড়া, পূর্ববাহাদুরাবাদ, নাজিরপুর ও ঝালরচরের বিস্তির্ণ অঞ্চল বর্ষা মৌসুম থেকে শরৎ পর্যন্ত পানিতে ডুকে থাকে। এ জমিগুলোতে বছরে রবি বা বোরো মৌসুমে একটি ফসলের চাষ হয়। শরৎ হেমন্তের ফসল খরিপ-২ মৌসুমে রোপা আমন বা অন্য ফসলের চাষ হয় না অধিকাংশ জমিগুলোতে। জলাবদ্ধতার কারণে সে সময় অনাবাদি হয়ে পড়ে থাকে জমিগুলো। এতে প্রতিবছর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শত শত চাষি। তবে জমিগুলোর মাটি বেলে দো-আঁশ প্রকৃতির। মাটির গুণ বিচারে খরিপ-২ বা রোপা আমন মৌসুমে এখানে অল্প ব্যয়ে অধিক ফসল উৎপাদনের কথা।
উপজেলা পরিষদ সূত্র জানায়, নালার দৈর্ঘ্য হবে ২৫০ মিটার ও প্রস্থ হবে ১০ ফুট এবং গভীরতা হবে ৫ ফুট। লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ের জলাবদ্ধতা দূরীকরণের নালা কাটা কাজটির অর্থ জোগান দেবে উপজেলা প্রশাসনের এডিবি প্রকল্প থেকে। কাজটি সম্পন্ন করতে সময় লাগবে তিন থেকে চার দিন। সূত্রটি আরো জানায়, স্বল্প ব্যয়ে কঠিন কাজের সহজ সমাধানের প্রয়াস এটি।
জলাবদ্ধতা নিরসনে নালা কাটার কাজ উদ্বোধনকালে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ সাদা, সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ হাবীব পলিন, উপজেলা প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ খবিরুজ্জামান খান, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আল মামুন, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ছাইম উদ্দিন, বাহাদুরাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান শাজাহান মিয়া, বাহাদুরাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আনম মুছা আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা প্রমূখ।
খুঠারচর গ্রামের বাসিন্দা নান্ডা মিয়া জানান, এ জমিগুলো বছরে একটি ফসলের চাষ হয়ে আসছে। বর্ষার শেষে খরিপ-২ মৌসুমে রোপা আমন বা অন্য ফলের চাষ এখানে হয় না। জলাবদ্ধ জমির পাশের জমিগুলোতে খরিপ-২ মৌসুমে রোপা আমনসহ মৌসুমী সবজীর চাষ হয়। এতে কৃষকেরা ব্যাপক লাভবান হয়। জলাবদ্ধতা নিরসন হলে অর্ধপতিত জমিগুলো থেকে কৃষকের ব্যাপক লাভবান হবেন। উপজেলা প্রশাসনের জলাবদ্ধতা দূরীকরণের এই উদ্যোগে এ অঞ্চলের চাষিরা খুবই আনন্দিত।
সরদার পাড়া গ্রামের বাসিন্দা জমসেদ আলীর ভাষ্য, জলাবদ্ধতার কারণে সরদার পাড়া গ্রামের শতাধিক চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা বছরে শুধুমাত্র একটিমাত্র ফসলের চাষ করে থাকেন। তাতে সংসার চলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। নালা কেটে পানি নিষ্কাসন করা হলে জমিগুলোতে খরিপ-২ মৌসুমে রোপা আমনসহ মৌসুমী সবজীর চাষ হবে। এতে অনেক উপকৃত হবে তারা। তিনি ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগে খুব খুর্শি।
বাহাদুরবাদ গ্রামের চাষি হাবিবুর রহমান বলেন, সরদারপাড়া হয়ে উত্তরে ঝালরচর পর্যন্ত কয়েক হাজার একর জমি প্রতিবছর বর্ষা থেকে শরৎকাল অব্দি পানিতে নিমজ্জিত থাকে। এ জমিগুলোতে রোপা আমন চাষ হয় না। উপজেলা প্রশাসন খালের মতো নালা কেটে এই জমিগুলোর পানি নিষ্কাসনের কাজ শুরু করেছে। এতে আমার মতো শত শত চাষি উপকৃত হবেন। ওই জমিতে গুলোতে বছর দুই বা ততোধিক ফসল চাষ করা যাবে।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ সাদা বলেন, বাহাদুরাবাদের জলাবদ্ধ জমি থেকে পানি নিষ্কাসন করা হলে ওই জমিগুলোতে বছরে দুই বা ততোধিক ফসলের চাষ হবে। উপকৃত হবে কয়েক শত কৃষক। ওই অঞ্চলের অর্ধপতিত জমির জলাবদ্ধতা দূরীকরণের প্রকল্প শুরু করাতে এ অঞ্চলের চাষিরা খুব আনন্দিত।
কথা হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ জহুরুল হোসেনের সাথে। তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা দূর করে জমিগুলোকে সারা বছর ফসল চাষের উপযোগী করা যায়, হঠাৎ এই ধারণা মাথায় আসে। ধারণা অনুযায়ী আজ তার উদ্বোধন করা হয়েছে। এতে অন্তত পাঁচ হাজার একর জমি সারা বছর ফসল চাষের আওতায় আসবে। এতে এ অঞ্চলের শত শত চাষে উপকৃত হবেন।
‘রুপালী মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬-এর সমাপনী দিনে যশোরের কেশবপুরে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, মূল্যায়ন ও সমাপনী অনুষ্ঠান মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাসের সঞ্চালনায় ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) কাজী মো. মেশকাতুল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, প্রেসক্লাব কেশবপুরের সভাপতি ওয়াজেদ খান ডবলু, কেশবপুর নিউজ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনার রশীদ বুলবুল এবং উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আনজু মনোয়ারা বেগম।
সভাপতির বক্তব্যে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) কাজী মো. মেশকাতুল ইসলাম বলেন, ‘মৎস্যসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন। জলাশয়, নদী-খাল ও অন্যান্য প্রাকৃতিক জলাধারের পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি দেশীয় মাছের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র সংরক্ষণে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মকে মৎস্যসম্পদ রক্ষা ও জলাশয়ের পরিবেশ সংরক্ষণে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
প্রেসক্লাব কেশবপুরের সভাপতি ওয়াজেদ খান ডবলু বলেন, ‘মৎস্যসম্পদ দেশের অর্থনীতি ও মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি এ খাত বিপুল মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছে।’
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাস বলেন, ‘মৎস্যসম্পদ শুধু আমাদের খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে না, এটি দেশের অর্থনীতি ও মানুষের জীবিকার সঙ্গেও সরাসরি সম্পৃক্ত। মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।’
আলোচনা শেষে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন গ্রুপে বিজয়ীদের মাঝে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর সীমান্তে পৃথক অভিযান চালিয়ে প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ ভারতীয় অবৈধ কারেন্ট জাল, চায়না জাল ও গাঁজা জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। জব্দ করা মালামাল ও মাদকদ্রব্যের মোট আনুমানিক সিজার মূল্য ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৩২ হাজার ৫০০ টাকা।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গত ১৬ আগস্ট রাত ১০টার দিকে কুষ্টিয়া দৌলতপুর সিমান্তের চিলমারি ইউনিয়নের চরচিলমারী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় পদ্মা নদীতে বিজিবির একটি টহল দল দেশীয় নৌকা ও স্পিডবোটযোগে অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় অবৈধ কারেন্ট জাল ও চায়না জাল জব্দ করে।
পরে কুষ্টিয়ার মৎস্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে জব্দ করা ভারতীয় ৫ হাজার ৫০ কেজি কারেন্ট জাল এবং চায়না জাল ৪ হাজার ৮৪৫ কেজি ব্যাটালিয়ন সদরে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। যার সিজার মূল্য ৫ কোটি ৭৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
এদিকে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত ১টা ৫০ মিনিটের দিকে মেহেরপুরের গাংনী সিমান্তের রংমহল বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার করে বিজিবি। সীমান্ত পিলার ১৩৭/২-এস থেকে প্রায় ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে রংমহল এলাকায় মালিকবিহীন অবস্থায় সিজার মূল্য ৫২ হাজার ৫০০ টাকার গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানিয়েছে, সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ, মাদকদ্রব্যের অনুপ্রবেশ রোধ এবং অবৈধভাবে মৎস্য আহরণ প্রতিহত করতে তাদের অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
৬৬ বছরে পদার্পণ করেছে দেশের কৃষি শিক্ষার আঁতুড়ঘর বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)। এ উপলক্ষে আনন্দ র্যালি, বৃক্ষরোপণ ও মাছের পোনা অবমুক্তকরণসহ নানা বর্ণাঢ্য কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া আনন্দ র্যালির উদ্বোধন করেন। র্যালিটি প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে বোটানিক্যাল গার্ডেনের সামনে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলিপ্যাডে গিয়ে শেষ হয়। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন।
র্যালি শেষে হেলিপ্যাডে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে কবুতর ও বেলুন উড্ডয়নের মাধ্যমে দিবসটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়।
প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন কমিটির উদ্যোগে হেলিপ্যাডসংলগ্ন এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। আবাসিক হলগুলোতে বৃক্ষরোপণের জন্য হল প্রাধ্যক্ষদের হাতে চারা গাছও তুলে দেওয়া হয়।
বাকৃবির ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হকের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। এ সময় রেজিস্ট্রার ড. মো. হেলাল উদ্দীন, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম, বাকৃবি সোনালি দলের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. হাম্মাদুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলম ভূঁঞাসহ বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া তার ভাষণে ১৯৫২, ১৯৬৯, ১৯৭১, ১৯৯০ এবং ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তন ও সংস্কারের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি জানান, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে বিশ্বপরিসরে একটি মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৬১,৬৯৯ জন অ্যালামনাই দেশ-বিদেশে প্রশাসন, গবেষণা, শিক্ষা এবং শান্তিরক্ষা মিশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অবদান রাখছেন।
তিনি আরও জানান, বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা অ্যালামনাইদের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করতে বিশ্ববিদ্যালয় শিগগিরই একটি অফিসিয়াল অ্যালামনাই পোর্টাল চালু করবে। এ সময় তিনি সততা, একাগ্রতা ও নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জনকে আরও সমৃদ্ধ করার আহ্বান জানান।