শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রথম ধাপে উপজেলা নির্বাচন: আজ মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিন

ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৫ এপ্রিল, ২০২৪ ০০:০২

আজ সোমবার ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রথম ধাপের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার উপ-সচিব মো. আতিয়ার রহমান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রথম ধাপের তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ১৫ এপ্রিল, মনোনয়নপত্র বাছাই ১৭ এপ্রিল, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল ১৮ থেকে ২০ এপ্রিল, আপিল নিষ্পত্তি ২১ এপ্রিল, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২২ এপ্রিল, প্রতীক বরাদ্দ ২৩ এপ্রিল এবং ১৫২ উপজেলায় ভোটগ্রহণ হবে আগামী ৮ মে।

ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম জানান, মনোনয়নপত্র অনলাইনেই দাখিল করতে হবে। জামানতের টাকাও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে জমা দিতে পারবেন প্রার্থীরা। কাজেই সম্পূর্ণ সিস্টেমটাই অনলাইনে হবে।

এ ধাপের নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের নিয়োগ করা হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল আবেদন নিষ্পত্তি করবেন আপিল কর্তৃপক্ষ হিসেবে জেলা প্রশাসক।

দ্বিতীয় ধাপের তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ২১ এপ্রিল, মনোনয়নপত্র বাছাই ২৩ এপ্রিল, আপিল গ্রহণ ২৪ থেকে ২৬ এপ্রিল, আপিল নিষ্পত্তি ২৭ থেকে ২৯ এপ্রিল, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ৩০ এপ্রিল, প্রতীক বরাদ্দ প্রতীক বরাদ্দ ২ মে। আর ১৬১ উপজেলায় ভোটগ্রহণ হবে ২১ মে।

এ ধাপের নির্বাচনে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকদের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ভোটারের সংখ্যা পাঁচ লাখের বেশি যেখানে সেখানে একাধিক সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকবেন।

মোট চার ধাপের উপজেলা নির্বাচনের পরবর্তী দুই ধাপের ভোট আগামী ২৯ মে ও ৫ জুন অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানা গেছে।


নির্বাচিত

দাবানলের তীব্র ঝুঁকিতে ব্রিটেন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

খরা ও দাবদাহে দাবানলের তীব্র ঝুঁকিতে ব্রিটেন। এ পরিস্থিতিতে ডিসপোজেবল বা এককালীন ব্যবহারযোগ্য বারবিকিউ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। যুক্তরাজ্যের ব্যবসা, উদ্ভাবন, বিজ্ঞান ও বাণিজ্য দপ্তর (ডিবিআইএসটি) জানিয়েছে, গ্রীষ্মের মাসগুলোতে দেশজুড়ে বেশ কয়েকটি ভয়াবহ দাবানলের কারণ হয়েছে এসব বারবিকিউ।

চলতি সপ্তাহে রেকর্ড তাপমাত্রার প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সভাপতিত্বে এক জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে জনসাধারণকে খোলা জায়গায় আগুন না জ্বালানোর এবং সিগারেট সতর্কতার সঙ্গে ফেলে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দেশ এখন ‘বারুদের স্তূপের মতো’ অবস্থায় রয়েছে আর ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসে দমকল বাহিনীর কর্মীরা একের পর এক অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলা চালিয়ে যাচ্ছেন। শুক্রবার ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে একাধিক দাবানল মোকাবিলা করেছে অগ্নিনির্বাপণ দল। একই দিন লাখো মানুষের মোবাইল ফোনে জরুরি সতর্কবার্তাও পাঠানো হয়।

প্রয়োজন হলে দেশের অন্য এলাকাতেও আরও সামরিক সদস্য মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন অ্যান্ডি বার্নহাম। দাবানল মোকাবিলায় জরুরি দলগুলোকে সহায়তা করতে এখন পর্যন্ত ২০০ জন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠান এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন বলতে এখন এখানে ঠিক এমনটাই বোঝায়।’ তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাজ্যকে একাধিক দাবানলের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের এটিকে অনিবার্য বলে মেনে নেওয়া উচিত নয়, আর আমি তা মেনে নিচ্ছিও না।’এ ছাড়া বিবিসিকে দেওয়া আলাদা এক সাক্ষাৎকারে বার্নহাম বলেন, বর্তমানে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসজুড়ে সক্রিয় দাবানলের সংখ্যা ৩৭টি, যার মধ্যে চারটিই বেশ বড়।

ন্যাশনাল ফায়ার চিফস কাউন্সিলের (এনএফসিসি) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে মোট ১ হাজার ১৭টি দাবানল নথিভুক্ত হয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ইংল্যান্ড ও ওয়েলসজুড়ে ‘দাবানলের ঝুঁকি খুব বেশি’—এমন সতর্কতা জানিয়ে মোবাইল ফোনে জরুরি বার্তা পাঠানো হয়। বার্তায় বাসিন্দা, জমির মালিক ও দর্শনার্থীদের এমন কোনো কর্মকাণ্ড না করার অনুরোধ জানানো হয়, যাতে আগুন লাগতে পারে। এর মধ্যে ডিসপোজেবল বারবিকিউ, ফায়ারপিট, বাগানের বর্জ্য পোড়ানোর চুল্লি ও আতশবাজিও রয়েছে।

ডিবিআইএসটি প্রকাশিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ডিসপোজেবল বারবিকিউকে ‘নিরাপদ পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা যায় না’। তাই এ মুহূর্তে গ্রেট ব্রিটেনে দোকানে কিংবা অনলাইনে—কোথাও এসব পণ্য বিক্রির জন্য রাখা উচিত নয়।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়, এই নিষেধাজ্ঞা ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসে কার্যকর হবে। তবে উত্তর আয়ারল্যান্ড এর আওতাভুক্ত নয়।

২০২৩ সালে অগ্নিনির্বাপণ বিভাগের প্রধানদের সঙ্গে ব্রিটিশ রিটেইল কনসোর্টিয়ামের সমঝোতার ভিত্তিতে এরই মধ্যে স্বেচ্ছায় এসব পণ্যের বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছিল অনেক বড় খুচরা বিক্রেতা ও সুপারমার্কেট।

একবার ব্যবহারযোগ্য গ্রিল নিষিদ্ধ করার দাবিতে প্রচার চালানো ইয়র্ক ও নর্থ ইয়র্কশায়ারের নির্বাচিত লেবার মেয়র ডেভিড স্কেইথ প্রধানমন্ত্রীকে এই নিষেধাজ্ঞা স্থায়ী করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা জানি, ডিসপোজেবল বারবিকিউ কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। এগুলো নিষিদ্ধ করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং দীর্ঘদিনের দাবি। আমি আশা করি, এটি দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞায় পরিণত হবে।’

দাবানল ছড়িয়ে পড়া মোকাবিলায় ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহৃত অগ্নিনির্বাপণ বিমানের মতো বিমান ব্যবহারের পরিকল্পনা কমিশন করার কথাও জানিয়েছেন বার্নহাম। দাবানল ছড়িয়ে পড়ার বিরুদ্ধে লড়াই করা অগ্নিনির্বাপণ বাহিনীগুলোর জন্য জরুরি আর্থিক সহায়তার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

বার্নহাম বলেন, ‘দেশজুড়ে আমাদের যে ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিস রয়েছে, এসব পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সেটি যথাযথভাবে প্রস্তুত নয়। এসব আগুন নেভানোর জন্য আমাদের যে সক্ষমতা থাকা উচিত, তা নেই।’

২০২৫ সালে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে প্রায় ১ হাজার দাবানলের ঘটনা সামলাতে হয়েছে দমকলকর্মীদের। সে সময় সতর্কবার্তায় বলা হয়েছিল, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দাবানলের ঝুঁকি ও তীব্রতা বাড়ছে।


নির্বাচিত

খালেদা জিয়ার জন্মদিনে দেশজুড়ে দোয়া মাহফিল

ময়মনসিংহ জেলায় শনিবার (১৫ আগস্ট) সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে তার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

শনিবার (১৫ আগস্ট)ছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন। ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরে জন্ম নেওয়া এই নেত্রীর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে দলীয় কার্যালয় ও মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এদিকে, খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচি জানানো হয়।

ছাত্রদলের ঘোষণা অনুযায়ী, ১৫ আগস্ট দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা ও মহানগরে খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন অর্থাৎ আজ রোববার সারাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একই কর্মসূচি পালন করবে ছাত্রদল।

খালেদা জিয়ার পারিবারিক নাম ছিল খালেদা খানম এবং ডাকনাম পুতুল। তার বাবা ইস্কান্দার মজুমদারের বাড়ি ফেনীতে হলেও শৈশবের একটি সময় তিনি জলপাইগুড়িতে আত্মীয়ের বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করেন। পরে পরিবারসহ দিনাজপুরে বসবাস শুরু করেন। সেখানে মিশনারি স্কুল ও দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন তিনি।

১৯৬০ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। ১৯৮১ সালে চট্টগ্রামে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর বিএনপির নেতৃত্বে আসেন খালেদা জিয়া। এরপর ধীরে ধীরে দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেন তিনি।

তার নেতৃত্বে ১৯৮৩ সালে বিএনপি কয়েকটি রাজনৈতিক দলকে নিয়ে জোট গঠন করে তৎকালীন এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে। দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে তিনি ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিতি পান।

এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হলে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন খালেদা জিয়া। পরবর্তী সময়ে আরও দুই দফায় সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

রাজনৈতিক জীবনের শেষ পর্যায়ে মামলা, কারাবাস ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে দীর্ঘ সময় নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয় তাকে। ওয়ান-ইলেভেনের পর সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ও তিনি কারাবন্দি ছিলেন। পরে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতির মামলায় তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এরপর দীর্ঘদিন বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন খালেদা জিয়া। দেশে ও বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৩০ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বিএনপির চেয়ারপারসনের দায়িত্বে ছিলেন।

নেতাকর্মীদের মধ্যে তাকে স্মরণ এবং তার রাজনৈতিক ভূমিকা তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার জন্মদিন উদযাপনের সংবাদ পাঠিয়েছে দৈনিক বাংলার ব্যুরো, জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি। পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো;

এইচ এম মোজাহিদুল ইসলাম নান্নু, পটুয়াখালী থেকে জানান : নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পটুয়াখালীতে বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আপসহীন দেশনেত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন পালন করা হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে শনিবার (১৫ আগস্ট)সকালে জেলা বিএনপির উদ্যোগে দলীয় কার্যালয়ে পবিত্র কোরআন খতম ও দোয়া-মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। এতে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদ প্রশাসক স্নেহাংশু সরকার কুট্টি, জেলা বিএনপির অন্যতম নেতা ও সাবেক পৌর মেয়র মোশতাক আহমেদ পিনু, পৌর বিএনপির সভাপতি মো. কামাল হোসেন, জেলা বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মশিউর রহমান মিলনসহ জেলা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

এ সময় নেতৃবৃন্দ প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা ও দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের কথা স্মরণ করেন।

এছাড়াও বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল এবং মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। দিনব্যাপী এসব কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা প্রয়াত নেত্রীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

মাগুরা প্রতিনিধি জানান : বিএনপির সাবেক চেয়ারম্যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে মাগুরা জেলা বিএনপির উদ্যোগ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট)বাদ আছর মাগুরা ভায়না মোড়স্ত জেলা বিএনপি অফিসে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। জেলা বিএনপির আহবায়ক আলী আহমেদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ মনোয়ার হোসেন খান। এ সময় জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের একসাথে নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সবার শেষে দোয়া মাহফিলে অনুষ্ঠিত হয়।

ফেনী প্রতিনিধি জানান: সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে ফেনীতে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল সহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট)দুপুরে ফেনী কেন্দ্রীয় বড় জামে মসজিদে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিনে তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়।

এ সময় ফেনী জেলা বিএনপির আহবায়ক শেখ ফরিদ বাহার, সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলালসহ বিএনপি ও তার অঙ্গ সহযোগী সংগঠনে অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় মুসল্লীগণ উপস্থিত ছিলেন।

অপরদিকে, ফেনীর সোনাগাজীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট)দুপুরে সোনাগাজী পৌরসভা মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ক্রীড়াবিদ ও বাফুফের মাঠ পরিচালক তাজওয়ার আউয়াল।

সোনাগাজী উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব খুরশিদ আলম ভূঞার সঞ্চালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, সোনাগাজী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সৈয়দ আলম ভূঞা, সোনাগাজী পৌর বিএনপির আহবায়ক মঞ্জুর হোসেন বাবর, সদস্য সচিব নিজাম উদ্দিন, বিএনপি নেতা আলগমীর হোসেন চৌধূরী, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, মঙ্গলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দাউদুল ইসলাম মিনার, সোনাগাজী পৌর যুবদলের আহবায়ক ইকবাল হোসেন ও সদস্য সচিব মাকসুদুর রহমান রাসেল হামিদি প্রমূখ।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান এবং তাদের কনিষ্ঠ সন্তান আরাফাত রহমান কোকোর আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত পরিচালনা করেন সোনাগাজী ইসলামিয়া কামিল মাদরাসার সহকারি অধ্যাপক মাও. আবুল কাসেম। পরে উপজেলার শতাধিক ক্লাবের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

ইবি প্রতিনিধি জানান : সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপার্সন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট)বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম ও খতিব আশরাফ উদ্দীন খান।

দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান, উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. শাহীনুজ্জামান, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম, জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. ফারুকুজ্জামান খান, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম এবং ইউট্যাবের সেক্রেটারি অধ্যাপক ড. মো. রশিদুজ্জামান।

এছাড়া ছাত্রদল ইবি শাখার আহ্বায়ক মাসুদ রুমি মিথুন, সদস্য সচিব রাফিজ আহমেদ ও সাবেক আহ্বায়ক শাহেদ আহমেদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা দোয়া মাহফিলে অংশ নেন।

দোয়া মাহফিলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আজ ৮২তম জন্মদিন। তার পুরো জীবনটাই বাংলাদেশের মানুষ এবং গণতন্ত্রের জন্য তিনি উৎসর্গ করেছেন। স্বাধীনতার পর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তিনি বিগত সরকারের দ্বারা নিপীড়িত, নির্যাতিত ও নিষ্পেষিত হয়েছেন। আমরা মন খুলে এই মহান ব্যক্তির জন্য মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে দোয়া করব। আল্লাহ যেন তাকে জান্নাত নসিব করেন।’

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি জানান : ময়মনসিংহ জেলায় শনিবার (১৫ আগস্ট)সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে তার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ময়মনসিংহ মহানগর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসমূহের উদ্যোগে এই দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

শনিবার (১৫ আগস্ট)দুপুর ২ টায় ময়মনসিংহ নগরীর হরিকিশোর রায় রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় এ কর্মসূচি পালিত হয়।

এ সময় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের পর প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় মোনাজাতে দলীয় নেতাকর্মীরা অংশগ্রহন করেন।

এ কর্মসূচিতে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (বিভাগীয়) ও ময়মনসিংহ সদর আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের (মসিক) প্রশাসক রুকুনোজ্জামান রোকন, মহানগর বিএনপির আহবায়ক অধ্যপক একেএম শফিকুল ইসলাম, যুগ্ম-আহবায়ক অধ্যাপক শেখ আমজাদ আলী, কাজী রানা, এডভোকেট এম.এ হান্নান খান, মহানগর যুবদলের সভাপতি মোজাম্মেল হক টুটু ও সাধারণ সম্পাদক জোবায়ের হোসেন শাকিল, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আমিনুল ইসলাম ফয়সাল, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব একেএম মাহাবুবুল আলম, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আজিজুল হাকিম আজিজ, মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি গোবিন্দ রায়, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাকিব হোসেন প্রমুখ সহ অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

দোয়া মাহফিল শেষে মহানগরী এবং সদর উপজেলার প্রতিটি মসজিদে দিবসটি উপলক্ষে দোয়া মাহফিল আয়োজন করতে দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেন মসিক প্রশাসক রুকুনোজ্জামান রোকন।

এ সময় আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ এমপি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশকে সুখী ও সমৃদ্ধশালী হিসাবে গড়ে তুলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চাই।

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান : সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে বিএনপির উদ্যোগে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট)দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের পুরাতন কোর্ট জামে মসজিদে এ মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীনের সভাপতিত্বে দোয়া মাহফিলে জেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী, জেলা যুবদলের আহবায়ক খন্দকার রাশেদুল আলম রাশেদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক তরিকুল ইসলাম ঝলক সহ বিএনপি এবং সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। মিলাদ মাহফিল শেষে খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি জানান : মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন পালিত হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট)দুপুরে উপজেলা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ট্রাফিক চত্বরে এ উপলক্ষে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

জেলা বিএনপির অন্যতম সদস্য এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মৈমুর আলী মৃধার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট খাঁন রোকন উজ্জামান।

এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির অন্যতম সদস্য, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মতিউর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক অ্যাড. মনিরুল ইসলাম মুকুল, সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক কাজী সালিমা হক মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এস এম ইউনুচ আলী, সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম টুকু, সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক মহিদুল ইসলাম, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম তারা, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম মিল্টনসহ বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. এম এম রইস উদ্দিনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভা শেষে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনা এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি জানান : প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন ১৫ আগস্ট। এ উপলক্ষে পটুয়াখালীর বাউফলে দোয়া-মিলাদ, র‍্যালি ও খাবার বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

খালেদা জিয়া প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের স্ত্রী। তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মা। শনিবার (১৫ আগস্ট)দুপুর ১২টার দিকে বাউফল হাইস্কুল এলাকায় অবস্থিত বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কার্যালয়ে দোয়া-মিলাদের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা হয়।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বাউফল উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সামুয়েল আহমেদ লেনিন, পটুয়াখালী জেলা আমরা জুলাই যোদ্ধা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আজগর সুজন, উপজেলা বিএনপির সদস্য তরিকুল ইসলাম মোস্তফা, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মিরাজুল ইসলাম, সাবেক স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আসাদ, বাউফল সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রিয়াজসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

দোয়া-মিলাদে খালেদা জিয়ার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পরে নেতাকর্মীরা র‍্যালিতে অংশ নেন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ করেন।

কর্মসূচির আয়োজক ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সামুয়েল আহমেদ লেনিন বলেছেন আজ মরহুম দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী। জন্মদিন বলতে সাধারণত আনন্দ, উল্লাস ও উৎসবের কথা বোঝায়। কিন্তু দেশনেত্রী খালেদা জিয়া আজ আমাদের মাঝে নেই এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখ ও কষ্টের। তিনি তার কর্ম ও অবদানের মাধ্যমে সবসময় বাংলাদেশের জনগণের মণিকোঠায় স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। ভবিষ্যতেও তার স্মরণে এ ধরনের কর্মসূচি পালন করা হবে।

স্বাধীনতার পর ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএনপি গঠন করেন জিয়াউর রহমান। ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর বিএনপির হাল ধরেন খালেদা জিয়া।

১৯৮৩ সালে তার নেতৃত্বে বিএনপি সাতদলীয় জোট গঠন করে এরশাদবিরোধী আন্দোলন শুরু করে। ১৯৯১ সালে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। পরে আরও দুই দফায় প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন তিনি।

নানা শারীরিক জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়া মারা যান। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন ছিলেন।

নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি জানান :

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে বেগম খালেদা জিয়া'র ৮২ তম জন্মদিন যথাযথভাবে উদযাপন করেছেন নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন। এ উপলক্ষে মিলাদ, দোয়া মাহফিল,আলোচনা সভা ও এতিমদের মাঝে খাবার বিতরণ করেছে। শনিবার (১৫ আগস্ট)দুপুর ২ টার দিকে নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি সমাজ কল্যাণ এবং মহিলা শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেনের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহ সহ সভাপতি আলহাজ্ব মো. আতিকুর রহমান রাজা।

এ সময় উপজেলা বিএনপি'র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. তরিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেনের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন-উপজেলা বিএনপি নেতা ইউনুস আলী, নজরুল ইসলাম ফতে চেয়ারম্যান সহ অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি জানান : সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে ময়মনসিংহের ভালুকায় দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট)ভালুকা বাসস্ট্যান্ডে বিএনপির নিজস্ব কার্যালয়ে উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভালুকা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ফখরউদ্দিন আহমেদ বাচ্চু।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফখরউদ্দিন আহমেদ বাচ্চু বলেন, খালেদা জিয়া বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের একজন আপসহীন নেত্রী। তিনি জীবনের দীর্ঘ সময় দেশের মানুষের অধিকার আদায় এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার রাজনৈতিক আদর্শ ও গণতন্ত্রের প্রতি অবিচল অবস্থান বিএনপির নেতাকর্মীদের অনুপ্রেরণা জোগাবে।

সভায় ভালুকা পৌর বিএনপির সভাপতি আলহাজ হাতেম খান ও রুবেল খান, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মজিবুর রহমান মজু, অ্যাডভোকেট উসমান গনি মল্লিক মাখন এবং শাখাওয়াত হোসেন পাঠান বক্তব্য দেন।

এছাড়া বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সভায় বক্তব্য দেন। বক্তারা খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা এবং দেশের মানুষের জন্য তার অবদানের কথা স্মরণ করেন।

আলোচনা সভা শেষে খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এতে বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে তার স্মরণে দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। কর্মসূচিতে তার রাজনৈতিক জীবন ও গণতন্ত্রের জন্য তার ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দসহ দলের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তবে উপস্থিতির সুনির্দিষ্ট সংখ্যা সম্পর্কে আয়োজকদের পক্ষ থেকে কোনো তথ্য দেয়া হয়নি।

খালেদা জিয়া বিএনপির চেয়ারপারসন ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের সংগঠন প্রতিবছর নানা কর্মসূচি পালন করে থাকে। এর অংশ হিসেবে ভালুকায় উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এ দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

খুলনা ব্যুরো জানান : দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন (এমইউজে) খুলনার আয়োজনে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল ১৫ আগস্ট বেলা সাড়ে ১১টায় খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবির বালু মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আতিয়ার পারভেজ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক হাসান আহমেদ মোল্লা।

অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আবু তৈয়ব, খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী মোতাহার রহমান বাবু, খুলনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম, সহসভাপতি মো. সোহরাব হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক বেল্লাল হোসেন সজল, এমইউজের কোষাধ্যক্ষ এ এইচ এম শামীমুজ্জামান, সাবেক বিএনপি নেতা হুমায়ুন কবির বাবুল, দৈনিক জন্মভূমির নির্বাহী সম্পাদক সরদার আবু তাহের, খুলনা প্রতিদিনের সম্পাদক সোহাগ দেওয়ান, এমইউজে সদস্য ফকির শহিদুল ইসলাম, রাজু আহমেদ, খাইরুল আলম, নুরুল আমিন নুর, রামিম চৌধুরী, শেখ বদর উদ্দিন, মাসুদ আল হাসান, মো. বি রহমান মাসুদ, উম্মে উমামা রাত্রি, আহসানুল আমীন, সাইফুল ইসলাম, রাজু খা, মো. বজলুর রহমান, সালাউদ্দিন আহমেদ শাওন, জাহিদুল ইসলাম, ফরহাদ হোসেন সজীব ও মো. আশিক।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন নাদিরা আক্তার, মো. জিল্লুর রহমান, শামীম হোসেন, তৌহিদুল ইসলাম রিংকু, মো. শামীম হোসেন খান, আব্দুল্লাহ আল মুহাইমিন, মোহাম্মদ আল মাহমুদ শাওন, আব্দুল হালিম, আহমেদ হোসাইন, ফরহাদ হোসেন, শাহরিয়ার শাফিন, এইচ এম সাগর, মো. আরিফ হোসেন, এম রোমানিয়া, আরিফ হোসেন, আসিফ আমিন, মোহাম্মদ এম এ সাদী প্রমুখ।

আলোচনা শেষে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন খুলনা প্রেসক্লাবের ইমাম মাওলানা ইউসুফ হাবিব।

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি জানান : বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে পৌর যুবদল।

শনিবার (১৫ আগস্ট)সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার মসজিদে খালেদা জিয়ার মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

একই সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্যোগে বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি পালন করা হয়।

সকাল ১০টার দিকে কালিয়াকৈর উপজেলা চত্বরে পৌর যুবদলের উদ্যোগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়। পৌর যুবদলের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা ঝাড়ু, কোদালসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে উপজেলা চত্বর, আশপাশের সড়ক ও ড্রেন পরিষ্কার করেন। এ সময় আগাছা ও ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করা হয়।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাজি রিয়াজ উদ্দিন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন অর রশিদ, পৌর যুবদলের সদস্য সচিব আমজাদ হোসেন, ৬ নম্বর ওয়ার্ড পৌর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক বাদশা মিয়াসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

পৌর যুবদলের সদস্য সচিব আমজাদ হোসেন বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে আমরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির আয়োজন করেছি। এর মূল উদ্দেশ্য ডেঙ্গু প্রতিরোধ একটি পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা। আমাদের চারপাশ পরিষ্কার রাখলে ডেঙ্গুর প্রজননস্থল কমবে মানুষ সুস্থভাবে জীবনযাপন করতে পারবে। ভবিষ্যতেও মানুষের কল্যাণে এ ধরনের জনসচেতনতামূলক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’

পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাজি রিয়াজ উদ্দিন বলেন, “পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি নেওয়ায় বিএনপির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের সাধুবাদ জানাই। বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আমরা চাই, এ ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে কালিয়াকৈরকে আরও সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন করে গড়ে তোলা হোক।”

পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন অর রশিদ বলেন, ‘খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে কালিয়াকৈরের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে দলীয়ভাবে মিলাদ ও দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করা হচ্ছে।’

কর্মসূচিতে পৌর যুবদল,সহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।


নির্বাচিত

কুষ্টিয়ায় গণঅধিকার পরিষদ-জামায়াতের সংঘর্ষ, এমপির গাড়ি ভাঙচুর, আহত-২০

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাব্বির আল নাফিজ, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়া শহরের ছয় রাস্তার মোড়ে গণঅধিকার পরিষদ ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে মাগরিবের আজানের সময় জামায়াতের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে গণঅধিকার পরিষদের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল হক নূর ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদকে নিয়ে সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার বক্তব্যের প্রতিবাদে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শহরের ছয় রাস্তার মোড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু করেন গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা। সমাবেশ থেকে আমির হামজাকে বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চাওয়ার ১২ ঘণ্টার সময়সীমা দেওয়া হয়।

সমাবেশ শেষ হওয়ার সময় পুলিশি প্রটোকলে নিজ বাসায় ফিরছিলেন সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা। তাঁর গাড়িবহর ছয় রাস্তার মোড়ে পৌঁছালে সেখানে আগে থেকে অবস্থান করা মুফতি আমির হামজা সমর্থকরা ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের শরিফুল ইসলাম বলেন, গাড়িবহরটি সমাবেশস্থলের কাছাকাছি পৌঁছালে একটি গাড়ি থেকে কয়েকজন লাঠি হাতে নেমে আসেন। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতি শুরু হয়। পরে তা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে রূপ নেয়। একপর্যায়ে ছয় রাস্তার মোড়ের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে পড়ে।

প্রায় এক ঘণ্টা ধরে কয়েক দফায় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। এ সময় সংসদ সদস্যের গাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।

পরে মাগরিবের আজানের সময় আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, লাঠিসোঁটা নিয়ে একদল জামায়াতের নেতাকর্মী গণঅধিকার পরিষদের কার্যালয়ের দিকে গিয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালান। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

গণঅধিকার পরিষদের কুষ্টিয়া জেলা সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক অভিযোগ করে বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ সমাবেশ করছিলাম। আমাদের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল হক নূরকে নিয়ে মুফতি আমির হামজার বক্তব্যের প্রতিবাদেই এই কর্মসূচি ছিল। সমাপনী বক্তব্যের সময় এমপির গাড়িবহর সেখানে আসে। এ সময় কয়েকজন জামায়াত কর্মী তাঁদের সামনে এসে উসকানিমূলক কথাবার্তা বলেন এবং তাঁরাই প্রথম হামলা চালান বলে দাবি করেন তিনি।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার মুখপাত্র নাজমুল হোসাইন। তিনি বলেন, গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা এমপির গাড়িতে অতর্কিত হামলা চালিয়েছেন। এতে গাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি ১০ থেকে ১২ জন আহত হয়েছেন।

ঘটনাস্থলে থাকা এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, প্রথমে সমাবেশস্থলের সামনে উত্তেজনা তৈরি হয়। কয়েকজন লাঠি হাতে এগিয়ে আসার পর দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং একে অপরকে লক্ষ্য করে ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়।

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী রাকিব হাসান বলেন, এমপির গাড়িবহর ছয় রাস্তার মোড়ে পৌঁছানোর পরই উত্তেজনা বাড়তে থাকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।

স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল বলেন, প্রথম দফার সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও পরে আবার লোকজন জড়ো হয়। মাগরিবের আজানের সময় লাঠিসোঁটা হাতে কয়েকজন গণঅধিকার পরিষদের কার্যালয়ের দিকে গিয়ে হামলা চালায়।

ঘটনার পর ছয় রাস্তার মোড় ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ বলেন, বিকেল থেকেই ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন ছিল। এমপির গাড়িবহর ছয় রাস্তার মোড়ে পৌঁছানোর পর দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।


নির্বাচিত

রাজশাহীতে টিউবওয়েল ও সেলাই মেশিন বিতরণ

মাস্তুল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে টিউবওয়েল বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজশাহী ব্যুরো

দেশ ও দেশের বাইরে নিরবচ্ছিন্নভাবে মানুষের সেবায় কাজ করে যাওয়ায় মাস্তুল ফাউন্ডেশনের প্রশংসা করেছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। তিনি সংগঠনটির বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। শনিবার (১৫ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজশাহী মহানগরীর হজের মোড়ে মাস্তুল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে টিউবওয়েল বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, মাস্তুল ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম শুধু টিউবওয়েল বা সেলাই মেশিন বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে সংগঠনটি বিভিন্ন সেবা নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ায়। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও তাদের ভূমিকা রয়েছে। গাজা ও ফিলিস্তিনে নির্যাতিত মুসলিমদের জন্য সংগঠনটি খাদ্য, ওষুধ ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।

রাজশাহীতে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে মাস্তুল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে মন্ত্রী স্থানীয় দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও স্বেচ্ছাসেবকদের স্বচ্ছতার সঙ্গে ত্রাণসামগ্রী বিতরণের নির্দেশ দেন।

নিজের কারাবন্দি জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, কারাগারে থাকাকালে তিনি পানির কষ্ট অনুভব করেছেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই সবসময় মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সচেষ্ট থাকেন। তিনি আরও বলেন, সৎ, দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরিচালনায় মাস্তুল ফাউন্ডেশন সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। রাজশাহীর শান্তি ও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ভূমিমন্ত্রী এলাকার উন্নয়ন ও সেবামূলক কাজে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে মাস্তুল ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব মোহাম্মদ আকমল হোসেন আজাদ, রাজশাহী লায়ন্স ক্লাবের সভাপতি মো. ইফতিয়ার মাহমুদ বাবুসহ সংগঠনটির কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠান শেষে প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করতে মাস্তুল ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ২২টি টিউবওয়েল ও একটি সেলাই মেশিন উপকারভোগীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।


নির্বাচিত

সরকারি জায়গা দখল করে মিনি ওভারপাস, শেষ পর্যন্ত উচ্ছেদ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
তরিকুল ইসলাম তরুন, কুমিল্লা দক্ষিণ

কুমিল্লা জজকোর্ট রোডের ফৌজদারী মোড়ের উত্তর পাশে শিল্পী আসিফ আকবরের বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় সিটি করপোরেশনের ড্রেন ও সড়কের জায়গা দখল করে ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য লেন ও মিনি ওভারপাস তৈরির অভিযোগ উঠেছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি সংকুচিত হয়ে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।

গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ভোরে হাঁটতে বের হয়ে বিষয়টি দেখতে পান সাংবাদিক তরিকুল ইসলাম তরুন। পরে তিনি ঘটনাটির ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করলে মুহূর্তের মধ্যে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে। নগরবাসীর মধ্যেও এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

অভিযোগ রয়েছে, একটি বাড়ির গেট দিয়ে সরাসরি বড় সড়কে গাড়ি ওঠানামার সুবিধার্থে গোপনে সিটি করপোরেশনের ড্রেন ও সড়কের অংশ দখল করে প্রায় ১২ ফুট দৈর্ঘ্য ও ২০ ফুট প্রস্থের জায়গাজুড়ে একটি লেন/মিনি ওভারপাস তৈরি করা হয়। এতে সড়কের চলাচলযোগ্য অংশ সংকুচিত হয়ে পড়ে।

বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর কুমিল্লা সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে আমলে নেয়। পরে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপুর নির্দেশে ঘটনাস্থলে লোক পাঠানো হয় এবং বেকু দিয়ে নির্মিত স্থাপনাটি ভেঙে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, “সিটি করপোরেশনের রাস্তা দখল করে কেউ রাখতে পারবে না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত ড্রেনের জায়গা ব্যবহার করে ধীরে ধীরে ব্যক্তিগত স্থাপনার পরিধি বাড়ানো হচ্ছিল। একপর্যায়ে সেই অংশ সড়কের দিকে চলে আসায় যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়ে।

জজকোর্ট এলাকার সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন আদালতের বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী, শিক্ষার্থী, পথচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ সড়ক দিয়ে চলাচল করেন। ফলে সড়কের জায়গা সংকুচিত হলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।

এলাকাবাসীর প্রশ্ন, সরকারি সড়ক ও ড্রেনের জায়গা ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য এ ধরনের স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ কীভাবে তৈরি হলো। তারা ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের দখল না হয়, সেজন্য নিয়মিত নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে নির্মাণ করা অংশটি দ্রুত ভেঙে দেওয়ায় নগরবাসীর মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে সিটি করপোরেশনের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন।


নির্বাচিত

রাউজানে আলোকিত সংঘের উদ্যোগে হতদরিদ্রদের মাঝে অটোরিকশা প্রদান

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় উরকিরচর ইউনিয়নের মইশকরম গ্রামের আলোকিত সংঘের উদ্যোগে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) উদযাপন উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির প্রথম দিবসে প্রায় ২০০ জন কসমেটিক খতনা, নাক, কর্ণছেদন ও, কৃতি শিক্ষার্থীদে সংবর্ধনা এবং ২টি পরিবারে অটোরিকশা প্রদান করা হয়।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে স্থানীয় দরবারে কামালিয়া মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আবু জাহেদ মুনছুর। সংগঠনের সাবেক সাধারাণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন বাপ্পার সঞ্চালনায় এতে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো. রেজাউল করিম। প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, রাউজানের সাধারণ সম্পাদক কাজী শফিউল আজম আল কাদেরী।

এতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, আলাউদ্দিন, মুবিনুল হক, সি. সদস্য মো. এরশাদ, রাসেল। উপস্থিত ছিলেন ইনডিপেনডেন্ট টিভি চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান আলমগির সবুজ ও স্টাফ রিপোর্টার মোহাম্মদ এহসানুল কবির।

আরও উপস্থিত ছিলেন রেজিস্ট্রার, শিশু স্বাস্থ্য বিভাগ বিজিসি ট্রাস্ট মেডিকেল কলেজ ডা. জাহেদ কামাল, উরকিরচর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আরমান হোসাইন, জাহেদুল ইসলাম, রবিউল হোসেন খোকন সেকান্দর সুমন, আলি আজম, আলিম উদ্দিন আশিক, সাংবাদিক মোহাম্মদ জাহেদুল আলম, এম রমজান আলী, তৈয়ব চৌধুরী, সাংবাদিক আনিসুর রহমান।

সংগঠনের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন, সিনিয়র সহসভাপতি নুরউদ্দিন রকি, সহসভাপতি সাকিবুল আলম, সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মারুফ, ও সদস্যদের মধ্যে মো. মহসিন হাসান হৃদয়, রবিন, ইরফান, মো. আবু সাঈদ, ওসমান, তনিম, ফাহিম, ইফতি, রাফি, নেছার, তারেক, মুহিব, সাঈম, আরাফ, মাহিম, জিসান প্রমুখ।


নির্বাচিত

ফেনীতে তীব্র গ্যাস সংকটে বাসাবাড়িতে ভোগান্তি, অচল ফিলিং স্টেশন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০

ফেনীতে গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ফেনী শহর ও উপজেলাগুলোতে প্রতিদিন ভোর ৬টায় গ্যাস চলে যায়, গভীর রাতে আসে। এতে রান্না-বান্না ও সিএনজিচালিত গাড়িগুলো গ্যাস না পাওয়ায় ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। গ্রাহকরা বাসাবাড়িতে বিকল্প হিসেবে গ্যাস সিলিন্ডার, মাটির চুলা ও ইলেকট্রিক চুলা দিয়ে রান্না করতে হচ্ছে। আবার কোনো কোনো এলাকায় নামমাত্র গ্যাস রয়েছে তা দিয়ে রান্না করতে পারছে না তারা।

গ্যাস না থাকায় ফেনী শহরের লালপুল এলাকার স্টার লাইন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গত বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ১১টা থেকে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এ রকম সমস্যা ফেনীর সকল সিএনজি স্টেশনে। সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর।

পিকাপচালক মোহাম্মদ মানিক বলেন, ‘চট্টগ্রাম থেকে ১৪০০ টাকার গ্যাস নিয়ে নোয়াখালীর উদ্দেশে রওনা হই। পথে গ্যাস শেষ হয়ে যায়। স্টার লাইন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস না পেয়ে নোয়াখালীর একটি পাম্পে রাত ২টা থেকে অপেক্ষা করে সকাল ৮টায় ৫০০ টাকার গ্যাস পাই। ওই গ্যাস নিয়ে ফেনী স্টার লাইন সিএনজি ফিলিং স্টেশন পর্যন্ত এসে অপেক্ষা করছি গ্যাস পেলে চট্টগ্রাম রওনা দেব।’

ফেনী স্টার লাইন সিএনজি ফিলিং স্টেশনের সহকারী ম্যানেজার মোরশেদ আলম বলেন, ‘গত বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ১১টা থেকে শুক্রবার পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।’ বাহাত্তর ঘণ্টা পর গ্যাস চালুর সম্ভাবনা রয়েছে বলে ফেনী বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। সিএনজিচালিত অটোরিকশাগুলো গ্যাসের জন্য এসে ঘুরে যাচ্ছে। আমরা স্টাফরা বসে রয়েছি।

পশ্চিম সোনাপুর এলাকার গৃহবধূ জান্নাতুল নাঈম জান্নাত জানান, ভোর ৬টায় গ্যাস চলে গেলে আসে রাত ১টায়। আমরা অনেক ভোগান্তিতে আছি। মাটির চুলায় রান্না করতে হয়। সিলিন্ডারও ব্যবহার করতে হয়। গ্যাসের সমস্যা দ্রুত সমাধান করার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ করছি।

একই এলাকার বাসিন্দা প্রবাসী মো. নাঈম জানান, গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে সিলিন্ডার ব্যবহার করতে হচ্ছে। তারও দাম বেশির কারণে বিকল্প হিসেবে মাটির চুলা ব্যবহার করতে হচ্ছে। গ্যাসের সমস্যা সমাধানে সরকার যেন ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

ফেনীর শিল্প উদ্যোক্তা ও সিএনজি ফিলিং স্টেশনের মালিক মো. জাফর উদ্দিন বলেন, ‘গ্যাস সংকটের কারণে আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানে হাজার হাজার লোক কর্মরত আছেন। জনজীবনে প্রতিনিয়ত এটার প্রভাব বিস্তার হচ্ছে এবং একটা অস্থিরতা কাজ করছে। অতি দ্রুত সংকট নিরসনের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাই।’

ফেনী বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের উপমহাব্যবস্থাপক মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলায় গ্যাসের চাহিদা রয়েছে আটাশ থেকে ত্রিশ মিলিয়ন ঘনফুট। তার বিপরীতে সরবরাহ পাচ্ছি চৌদ্দ থেকে পনের মিলিয়ন ঘনফুট। এ গ্যাস গ্রাহকদের সরবরাহ করছি, তাই গ্রাহকরা চাপ কম পাচ্ছেন। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছি। আশা করছি শীঘ্রই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

গ্যাসের সংকট সমাধানে সরকার দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এমনটি আশা সকলের।


নির্বাচিত

প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল অনুষ্ঠান চলাকালে কেশবপুরে ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ১

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি

১৫ আগস্ট উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠান চলাকালে যশোরের কেশবপুরে প্রকাশ্যে ককটেল বিস্ফোরণে জুয়েল (৩৫) নামে এক মোটর শ্রমিক আহত হয়েছেন। শনিবার (১৫ আগস্ট) বেলা পৌনে ১১টার দিকে কেশবপুর পৌর শহরের যশোর-সাতক্ষীরা সড়কের মধ্যকুল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত জুয়েল মধ্যকুল গ্রামের ব্যবসায়ী খানের ছেলে। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একই সময়ে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্স চলছিল।

অনুষ্ঠান চলাকালে পৌর শহরের একটি ফিলিং স্টেশনের উত্তর পাশে জেলেপাড়া সড়কের মুখে বিকট শব্দে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে।

এতে পথচারী জুয়েলের পায়ে স্প্লিন্টার লেগে গুরুতর জখম হন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ আরও দুটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করেছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেছেন, ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে নাশকতার উদ্দেশে শুক্রবার রাতে মধ্যকুল এলাকায় মজিবুর রহমান মুজিবের একটি মৎস্য খামারে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা গোপন বৈঠক করেন।

তাদের দাবি, কেশবপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিক মোড়ল এবং সাবেক কাউন্সিলর কামাল খানের নেতৃত্বে ১৫-২০ জন এতে অংশ নেন।

বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলেও আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তারা।

কেশবপুর থানার ওসি রোকসানা খাতুন বলেন, ‘গত রাতে মধ্যকুল গ্রামের একটি মৎস্য ঘেরে আওয়ামী লীগ নেতাদের বৈঠকের বিষয়টি এলাকাবাসী পুলিশকে জানিয়েছিল। বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক জাহিদুল ইসলাম জানান, জুয়েলের পায়ে মারাত্মক জখম হয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ওসি রোকসানা খাতুন বলেন, ‘বিস্ফোরণের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে এবং আহত জুয়েলের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।

ঘটনাস্থল থেকে দুটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।’


নির্বাচিত

ডোমরা বিলের জলাবদ্ধতায় ডুবেছে হাজারো বিঘা জমি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
​ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার খর্নিয়া ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ডোমরা বিল থেকে কোনোভাবেই মিলছে না পানি নিষ্কাশনের পথ। দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেছে ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা। পানি না সরায় মারাত্মক চরম অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় কৃষক ও মৎস্য চাষিরা।

​​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডোমরা বিলের পানি আটকে থাকার কারণে খর্নিয়া ইউনিয়নের—

​টিপনা,​ আংগাদহ, ​পাঁচপোতা, ​পাঁচুড়িয়া, ​ভদ্রদিয়া, বাহাদুরপুর,​গোনালী ও ​বামুন্দিয়াসহ আশপাশের প্রায় সবকটি গ্রামের হাজার হাজার বিঘা রোপা আমন, সবজি ক্ষেত এবং শত শত মাছের ঘের এখন পানির নিচে। ঘের ভেসে গিয়ে বিপুল পরিমাণ মাছ বের হয়ে গেছে, যা স্থানীয় চাষিদের লক্ষ লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

​স্থানীয় প্রতিনিধি ও প্রশাসন‌ ​ইউপি সদস্য আব্দুল হালিম বলেন, ‘পানি নামার কোনো পথ অবশিষ্ট নেই। কালভার্ট ও নর্দমাগুলো পলি পড়ে এবং জায়গায় জায়গায় অবরুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় বিলের পানি সরছে না। কৃষকদের চোখের সামনে সব স্বপ্ন পানিতে ভেসে যাচ্ছে। দ্রুত টেকসই পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না করলে পুরো এলাকার অর্থনীতি ভেঙে পড়বে।’

​ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতা মোল্লা আবুল কাশেম বলেন, ‘এটি কোনো স্বাভাবিক দুর্যোগ নয়, সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও অনিয়ন্ত্রিত বাঁধের কারণে আজ এ কৃত্রিম জলাবদ্ধতা। রাজনৈতিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে অনতিবিলম্বে সরকারিভাবে ড্রেনেজ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করতে হবে, তা না হলে হাজার হাজার কৃষক নিঃস্ব হয়ে যাবে।’

​খর্নিয়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসক (চেয়ারম্যান) মোসলেম আলী বলেন, ‘ডোমরা বিলের পানি নিষ্কাশনের আকস্মিক এ জটিলতা নিয়ে আমরা অত্যন্ত চিন্তিত। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে পানি বের করার রুটগুলো পরিদর্শনের কাজ চলছে। দ্রুত সাময়িক নালা কেটে পানি সরানোর ব্যবস্থা করা হবে।’

​ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ সবিতা সরকার বলেন, ‘ডুমুরিয়া খর্নিয়ার ডোমরা বিলের জলাবদ্ধতার খবর আমরা পেয়েছি এবং স্থানীয়দের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কৃত্রিম কোনো বাধা থাকলে তা উচ্ছেদ করে দ্রুত পানি অপসারণের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

​দ্রুত পদক্ষেপের দাবি ​বিশাল এ বিলের পানি না সরলে শুধু বর্তমান মেয়াদের ফসল ও মাছই নষ্ট হবে না, সামনে শীতকালীন সবজি চাষেও দেখা দেবে চরম বিপর্যয়। ফলে অনতিবিলম্বে এস্কেভেটর (ভেকু) দিয়ে নিষ্কাশন নালা পুনঃখনন এবং টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।


নির্বাচিত

কমলগঞ্জে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে দিশেহারা পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের অধীনে বিদ্যুতের তীব্র লোডশেডিং এবং ‘অস্বাভাবিক’ ভূতুড়ে বিলে চরম অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৮ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় এই অসহনীয় গরমে যেমন জনজীবন অতিষ্ঠ, তেমনি ব্যবসা-বাণিজ্যে নেমে এসেছে স্থবিরতা। এর ওপর আবার ব্যবহারের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি বিল আসায় চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে গোটা উপজেলায়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পল্লী বিদ্যুতের মিটার রিডাররা সরেজমিনে বাড়ি বাড়ি না গিয়ে অফিসে বসে মনগড়া রিডিং বসিয়ে বিল প্রস্তুত করছেন। নিয়মিত রিডিং না দেওয়ায় হঠাৎ একসাথে কয়েক মাসের বিল জমলে ইউনিটের ধাপ (স্ল্যাব) পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে। ফলে গ্রাহকদের ওপর বাড়তি বিলের ডিজিটাল বোঝা চাপছে। এসব ভূতুড়ে বিল সংশোধনের জন্য জোনাল অফিসে দিনের পর দিন ধরণা দিয়েও প্রতিকার মিলছে না, উল্টো ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

উপজেলার ভানুগাছ, মুন্সিবাজার, পতনঊষার, আলীনগর ও মাধবপুরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে একই চিত্র দেখা গেছে। ব্যবসায়ী জোসেফ আলী জানান, তার দোকানে সাধারণত ৫০০-৬০০ টাকা বিল এলেও জুন মাসে তা লাফিয়ে ৪,৮০০ টাকায় পৌঁছায়। পরে অফিসে যোগাযোগ করলে তা কমিয়ে ১,৮০০ টাকা করা হয়। একইভাবে ব্যবসায়ী আব্দুল কাইয়ুম স্বাভাবিক ২,৫০০ টাকার বিল এবার এসেছে ৫,০০০ টাকা। জাহিদুর রহমান ও সাহেল মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, ‘এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে এক ঘণ্টা থাকে না। কাজের ব্যাঘাত ঘটলেও শ্রমিকদের নিয়মিত হাজিরা দিতে হচ্ছে, যার ফলে প্রতিদিন লোকসান গুণতে হচ্ছে।’

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের আওতাধীন ৩টি সাব-স্টেশনের অধীনে বর্তমানে ৭৫ হাজার ২০৪ জন গ্রাহক রয়েছেন, যার মধ্যে ২২টি চা-বাগান ও বেশ কিছু ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত।

ঘন ঘন লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়ে কমলগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) রঞ্জন কুমার ঘোষ বলেন, ‘চাহিদার তুলনায় আমরা পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। আমাদের দিনের বেলায় ১৭ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ১১ মেগাওয়াট এবং রাতে ২১ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ১৩ থেকে ১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। সার্বিকভাবে ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ বিদ্যুৎ কম পাওয়ায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।’ তবে ভূতুড়ে বিলের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন, গরমে বিদ্যুতের ব্যবহার বেশি হওয়ায় বিল কিছুটা বেড়েছে।


নির্বাচিত

লাইব্রেরিমুখী হচ্ছে চবি শিক্ষার্থীরা

ছীব: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চবি প্রতিনিধি

চাকসু নির্বাচনের পর শিক্ষার্থীদের যাতায়াত বেড়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে। গ্রন্থাগারের অবকাঠামোগত সংস্কার ও পড়াশোনার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করায় হঠাৎ করেই বেড়েছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি।

লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষের তথ্য ও সরেজমিনে দেখা গেছে, চাকসু নির্বাচনের আগের তুলনায় বর্তমানে প্রায় দ্বিগুণ বেশি শিক্ষার্থী প্রতিদিন পাঠাগারে যাতায়াত করছেন।

লাইব্রেরির রেজিস্ট্রারের সাথে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে সবমিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৬-৭শ শিক্ষার্থীর যাতায়াত হচ্ছে লাইব্রেরিতে। এর মধ্যে কিছু শিক্ষার্থী নাম এন্ট্রি না করে উন্মুক্ত স্থানে বই নিয়ে পড়াশোনা করতে আসে। চাকসু নির্বাচনের আগে আগত শিক্ষার্থীদের সংখ্যা প্রায় অর্ধেক ছিল।

চাকসু নির্বাচনের পর লাইব্রেরিতে শিক্ষার্থীদের বই নিয়ে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়েছে যেটি আগে ছিল না। শিক্ষার্থীরা বই নিয়ে প্রবেশ করতে না পারার কারণে লাইব্রেরিতে যেতে চাইত না। এখন সেটি শিথিল করা হয়েছে। এ ছাড়া লাইব্রেরিতে আসন সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে।

চাকসুর পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া বিষয়ক সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ বলেন, "চাকসু নির্বাচনের পর আমরা লাইব্রেরি নিয়ে কাজ করেছি, শিক্ষার্থীরা আগে বই নিয়ে প্রবেশ করতে পারত না, আমরা বই নিয়ে প্রবেশ করার ব্যবস্থা করেছি। এ ছাড়া নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য আমরা কাজ করেছি।

তিনি আরো বলেন, "লাইব্রেরিতে উন্মুক্তভাবে পড়াশোনার জন্য আমরা দুটি যায়গার স্থান তৈরি করে দিয়েছি। এ ছাড়া দ্বিতীয় তলায় প্রায় ৬০ টি আসন বৃদ্ধি করেছি।"

​১৯৬৬ সালে সামান্য পরিসরে মাত্র ৩০০ বই নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারটি এখন ৫৬ হাজার ৭০০ বর্গফুটের সুবিশাল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। শিক্ষার্থীদের তথ্যপ্রযুক্তিগত সেবা দিতে এখানে যুক্ত রয়েছে আধুনিক সাইবার সেন্টার, ১২টি কম্পিউটার ও কেন্দ্রীয় সার্ভার।

​দেশি-বিদেশি ৪ লক্ষাধিক বই ও জার্নালের পাশাপাশি গ্রন্থাগারটির ‘দুষ্প্রাপ্য ও পান্ডুলিপি শাখা’ রয়েছে।

সেখানে তানপত্র, তুনট কাগজ ও বাঁশের ওপর বাংলা, সংস্কৃত, পালি, আরবি, ফার্সি ও উর্দু ভাষায় লেখা ৫৬৫টি প্রাচীন পাণ্ডুলিপি এবং ১৮৭২ থেকে ১৯৫৩ সালের সাড়ে তিন হাজার পুরোনো সাময়িকী রয়েছে, যার অনেকটাই অন্য কোনো গ্রন্থাগারে মেলানো দায়।

লাইব্রেরির দুষ্প্রাপ্য শাখার কর্মকর্তা বাবর আলী সরকার বলেন, "লাইব্রেরিতে আগের তুলনায় শিক্ষার্থীদের যাতায়ত বেড়েছে, পর্যাপ্ত বই এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ থাকলে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত আরো বাড়বে।"


নির্বাচিত

শিক্ষা-গবেষণা-শিল্পের মেলবন্ধনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে খুকৃবি

* তিন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে খুকৃবির সমঝোতা * দক্ষ, মানবিক ও উদ্ভাবনী কৃষিবিদ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে : উপাচার্য
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

কৃষি শিক্ষা ও গবেষণার সঙ্গে শিল্পখাতের বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয়, শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতে যৌথভাবে গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন-২০২৬ শনিবার (১৫ আগস্ট) বেলা ১১টায় খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। শিক্ষার্থীরা জ্ঞান, দক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করে দেশের কৃষি ও জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য প্রফেসর ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম। অনুষ্ঠানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ আসাদুজ্জামান সরকার।

এ সময় খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. শামীম আহমেদ কামাল উদ্দিন খান, রেজিস্ট্রার মোঃ রেজাউল ইসলাম, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য, ফুলতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, এসিআই মোটরস, লাল তীর ও বায়ার ক্রপ সায়েন্সের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার কৃষিবিদ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর নির্মিত একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ এবং নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। বিভিন্ন অনুষদের ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড’প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে দুইজন নবীন শিক্ষার্থী এবং ডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত একজন শিক্ষার্থী তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন।

কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি কৃষি। কৃষির বহুমাত্রিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে আরও এগিয়ে নিতে হবে। তিনি জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়ন, কৃষি কার্ড, খাল খনন, শিক্ষার ডিজিটালাইজেশন এবং উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে আলোকপাত করেন। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষি ও প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যকে গুরুত্ব দিয়ে জ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সময়কে হেলাফেলা নয়, কাজে লাগাতে হবে:

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম নবীন শিক্ষার্থীদের খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের যোদ্ধাদের স্মরণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তাদের অবদানের কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

তিনি খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও নবনিযুক্ত উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও ল্যাব সুবিধার উন্নয়নে নেওয়া পদক্ষেপেরও প্রশংসা করেন তিনি।

নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রফেসর ড. রেজাউল করিম বলেন, জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ সময়। সময়কে কোনোভাবেই হেলাফেলা করে নষ্ট করা যাবে না। সময়ের যথাযথ ব্যবহার করে জ্ঞান, দক্ষতা ও সৃজনশীলতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে হবে। তিনি কৃষির গুরুত্ব এবং টেকসই উন্নয়নে কৃষিবিদদের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন।

দক্ষ, মানবিক ও দায়িত্বশীল কৃষিবিদ হতে হবে:

প্রধান পৃষ্ঠপোষকের বক্তব্যে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকার নবীন শিক্ষার্থীদের আন্তরিক স্বাগতম ও উষ্ণ অভিনন্দন জানান।

তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। পাশাপাশি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১, ১৯৯০ এবং ২০২৪ সালের গণআন্দোলন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক ও অধিকার আদায়ের আন্দোলনে আত্মদানকারী সকল শহীদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন।

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, বাংলাদেশের কৃষিকে জলবায়ু-সহিষ্ণু ও টেকসই করতে নতুন প্রযুক্তি, গবেষণা ও উদ্ভাবনের বিকল্প নেই।

নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “দক্ষতা, মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা, জ্ঞান-বিজ্ঞানে অগ্রগতি ও সৃজনশীলতাকে ধারণ করে তোমাদের এগিয়ে যেতে হবে। তোমরা হবে মানবিক, দক্ষ, সৎ, উদ্ভাবনী ও দায়িত্বশীল কৃষিবিদ। দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দারিদ্র্য বিমোচনে তোমাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।’

ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতায় তিন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক: অনুষ্ঠানে কৃষি শিক্ষা, গবেষণা, প্রযুক্তি ও শিল্প খাতের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এসিআই মোটরস, লাল তীর এবং বায়ার ক্রপ সায়েন্সের প্রতিনিধিদের মধ্যে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়।


নির্বাচিত

মাগুরায় নৃত্যাঙ্গণের সপ্তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাগুরা প্রতিনিধি

“শব্দ যেখানে থেমে যায়, নৃত্য সেখানে কথা বলে”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে নৃত্যাঙ্গন মাগুরার সপ্তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে।

এ উপলক্ষে গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় মাগুরা জেলা অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা ও নৃত্যানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

নৃত্যাঙ্গন মাগুরার প্রধান উপদেষ্টা ও মাগুরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মাগুরার জেলা প্রশাসক মোতাকাববীর আহমেদ।

বিশেষ অতিথি ছিলেন মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, জেলা কালচারাল অফিসার পার্থ প্রতীম দাস এবং জেলা জাসাসের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আ ন ম কাজী সিরাজ উদ্দিন মিহির।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন শিল্পী হুমায়ুন ইবনে বাবর ও নৃত্যাঙ্গন মাগুরার স্বত্বাধিকারী অপরাজিতা ইয়াসমিন মৌসুমি।

আলোচনা সভা শেষে নৃত্যাঙ্গন মাগুরার প্রতিশ্রুতিশীল শিল্পীরা বিভিন্ন গানের সঙ্গে সৃজনশীল নৃত্য পরিবেশন করেন। মনোমুগ্ধকর এই আয়োজন উপভোগ করতে মাগুরার নানা শ্রেণী পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন ।


নির্বাচিত

banner close