আজ সোমবার ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রথম ধাপের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার উপ-সচিব মো. আতিয়ার রহমান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রথম ধাপের তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ১৫ এপ্রিল, মনোনয়নপত্র বাছাই ১৭ এপ্রিল, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল ১৮ থেকে ২০ এপ্রিল, আপিল নিষ্পত্তি ২১ এপ্রিল, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২২ এপ্রিল, প্রতীক বরাদ্দ ২৩ এপ্রিল এবং ১৫২ উপজেলায় ভোটগ্রহণ হবে আগামী ৮ মে।
ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম জানান, মনোনয়নপত্র অনলাইনেই দাখিল করতে হবে। জামানতের টাকাও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে জমা দিতে পারবেন প্রার্থীরা। কাজেই সম্পূর্ণ সিস্টেমটাই অনলাইনে হবে।
এ ধাপের নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের নিয়োগ করা হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল আবেদন নিষ্পত্তি করবেন আপিল কর্তৃপক্ষ হিসেবে জেলা প্রশাসক।
দ্বিতীয় ধাপের তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ২১ এপ্রিল, মনোনয়নপত্র বাছাই ২৩ এপ্রিল, আপিল গ্রহণ ২৪ থেকে ২৬ এপ্রিল, আপিল নিষ্পত্তি ২৭ থেকে ২৯ এপ্রিল, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ৩০ এপ্রিল, প্রতীক বরাদ্দ প্রতীক বরাদ্দ ২ মে। আর ১৬১ উপজেলায় ভোটগ্রহণ হবে ২১ মে।
এ ধাপের নির্বাচনে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকদের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ভোটারের সংখ্যা পাঁচ লাখের বেশি যেখানে সেখানে একাধিক সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকবেন।
মোট চার ধাপের উপজেলা নির্বাচনের পরবর্তী দুই ধাপের ভোট আগামী ২৯ মে ও ৫ জুন অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জামালপুর ইউনিটের বিশেষ সাধারণ সভা ও কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে মাহবুবুর রহমান জিলানী সহ-সভাপতি এবং খায়রুল ইসলাম লিয়ন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স মিলনায়তনে আয়োজিত বিশেষ সাধারণ সভায় বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জামালপুর ইউনিটের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: সিরাজুল হকের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন আজীবন সদস্য ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শামীম আহমেদ, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফিরোজ মিয়া, মাহবুবুর রহমান জিলানী, খায়রুর ইসলাম লিয়ন, রেড ক্রিসেন্টের ইউনিট অফিসার জীবন কুমার বিশ্বাস প্রমুখ।
দ্বিতীয় অধিবেশনে বিনা প্রতিদন্দ্বিতায় মাহবুবুর রহমান জিলানী ও খায়রুল ইসলাম লিয়ন সাধারণ সম্পাদকসহ ৭ সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে নিলুফার চৌধুরী মনি এমপি, সাবেক যুব প্রধান জিয়াউল হক জিয়া, মোঃ সাইদ- বিন- আনোয়ার সজীব, সাবেক যুব প্রধান মোঃ ইকরামুল হক লিটন, ও সাবেক যুব প্রধান সাইফুল আলম খান লিপন সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জামালপুর ইউনিটের নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট ফজলুল হক এই কমিটি ঘোষণা করেন। আগামী দুই বছর এই কমিটি দায়িত্ব পালন করবে। এ সময় রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জামালপুর ইউনিটের আজীবন সদস্য, সিনিয়র আরসিওআইসহ গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধ, মশা নিধন ও একটি পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিন মাসের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা (অ্যাকশন প্ল্যান) ঘোষণা করেছে পিরোজপুর জেলা প্রশাসন। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে পিরোজপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে শুরু করে পিরোজপুর পৌরসভা, গণপূর্ত বিভাগ (পিডব্লিউডি) কার্যালয় সড়ক হয়ে সিও অফিস মোড় পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশের অবৈধ দখল, পাকা বা সেমিপাকা ভবন ও অবৈধ পার্কিং অপসারণের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) পিরোজপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শনের মাধ্যমে কর্মসূচির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন পিরোজপুর জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ।
জেলা প্রশাসক বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্ন পিরোজপুর বিনির্মাণে জেলা প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। হাসপাতালসহ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করা হয়েছে। আগামী তিন মাসের জন্য একটি বিশেষ অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে সমাজের সব শ্রেণী-পেশার মানুষকে যুক্ত করে দায়িত্ব বণ্টন করা হবে।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক সদর হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে শুরু করে পিরোজপুর পৌরসভা ও গণপূর্ত বিভাগের চারপাশ হয়ে সিও অফিস মোড় পর্যন্ত পথ স্বশরীরে ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ড্রেন ও জমে থাকা নোংরা পানি নিষ্কাশনের নির্দেশনা দেন এবং ফুটপাত ও রাস্তার পাশে দোকানগুলোর যত্রতত্র সাইনবোর্ড বসিয়ে পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটানো দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের বিষয়ে জেলা প্রশাসক কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকারি জায়গায় যদি বিল্ডিং বা সেমিপাকা ভবন এক ইঞ্চিও থাকে, তবে কাউকেই কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। সরকারের এক ইঞ্চি জায়গাও কারও অবৈধ দখলে রাখতে দেওয়া হবে না। অতিদ্রুত পরিমাপ করে ফুটপাত ও রাস্তার পাশের এসব পাকা ও সেমিপাকা ভবন, অবৈধ দোকানপাট, সাইনবোর্ড উচ্ছেদ এবং যানবাহন সরিয়ে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
শহরের পরিবেশ রক্ষা ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সাধারণ নাগরিকদের সহযোগিতা চেয়ে তিনি আরও বলেন, একটি পরিচ্ছন্ন শহর গড়তে জনগণের সচেতনতা জরুরি। সাধারণ মানুষকে আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা নিজ নিজ বাড়ি ও আঙিনা পরিষ্কার রাখুন। আর সরকারি জায়গায় বা রাস্তার পাশে কারও কোনো বিল্ডিং, সেমিপাকা দোকান বা অবৈধ স্থাপনা থাকলে তা নিজ দায়িত্বে সরিয়ে নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।
পরিদর্শন ও তদারকিকালে পিরোজপুর স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক (ডিডিএলজি) ও পিরোজপুর পৌরসভার প্রশাসক মাহমুদুর রহমান মামুন, পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইফতেখারুল ইসলাম শামীম, ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
কুষ্টিয়ার মিরপুরে নাশকতা মামলায় আটক এক আসামিকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিতে তদবির করতে গিয়ে জামায়াতের এক নেতা ও বিএনপির দুই কর্মীসহ আটজনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত ২ টার দিকে মিরপুর থানা পুলিশ তাদের আটক করে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন চিথলিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের আমির সিরাজুল ইসলাম (৪৫), জামায়াত সমর্থক মারুফ (২১), বাশার (৩৫), মফিজুল প্রামাণিক (৪০), জাহাঙ্গীর হোসেন (৪০), বাদল প্রামাণিক (৫০), বিএনপি নেতা মেহেরুল ইসলাম (৪৫) এবং বিএনপি সমর্থক শহীদুল ইসলাম (৫৩)।
পুলিশ জানায় , শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে চিথলিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওয়ার্ড কৃষক লীগের সভাপতি হাফিজুর রহমান হাফিজকে নাশকতা মামলায় আটক করা হয়। পরে তাকে মিরপুর থানায় নেওয়া হয়।
হাফিজুর রহমানকে আটকের খবর পেয়ে রাত দুইটার দিকে চিথলিয়া ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের আমির সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে কয়েকজন থানায় আসেন। তারা হাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য পুলিশের কাছে তদবির ও চাপ দিতে থাকেন।
এসময় তাদের নিষেধ করা হলেও তারা বারবার নাশকতা মামলার আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য তদবির করতে থাকেন। একপর্যায়ে সিরাজুল ইসলামসহ আটজনকে আটক করা হয়।
মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, নিষেধ করার পরও তারা নাশকতা মামলার আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য বারবার তদবির করছিলেন। একপর্যায়ে তাদের আটক করা হয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়। এরপর উভয় দলের নেতাদের জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামের নান্নু মিয়া ইসলামী গণগ্রন্থাগারের উদ্যোগে বইপাঠ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গ্রন্থাগারের সভাপতি আবু সাঈদ সালেহীর সভাপতিত্বে এবং সদস্য খাইরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অষ্টগ্রাম উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি নজরুল ইসলাম সাগর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পেশাদার সাংবাদিক ফোরাম কিশোরগঞ্জ জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক আমিনুল হক নজরুল।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে গ্রন্থাগারের পরিচালনা পরিষদ, উপদেষ্টা পরিষদ ও পাঠক ফোরামের সদস্যরা এবং স্থানীয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
ওই প্রতিযোগিতায় মোট ২১ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে বিজয়ী ৯ জনকে পুরস্কার ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন এবং বই পড়ার প্রতি শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেন।
ফেনীতে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গুর সংক্রমণ। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসেই জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে ৬শ’ ছাড়িয়েছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ৪০৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন। অপরদিকে গত বছরের তুলনায় এবার ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা তিনগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন জেলাবাসী।
স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য মতে, জেলায় গত ৯ মাসে মোট ৬৫২ জনের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। গত বছর ২০২৫ সালে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২০১ জন।
ফেনী সিভিল সার্জন কার্যালয় জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৬২ ডেঙ্গু পরীক্ষা হলে ২৪ জনের ডেঙ্গু পজিটিভ এসেছে।
জেলায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু আক্রান্তের ঘটনা ঘটেছে ফেনী সদর উপজেলায়। মোট ৬৫২ জন আক্রান্তের মধ্যে ৪৭৭ জনই এই উপজেলার । বাকি সব অন্যান্য উপজেলায়।
চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে জেলার হাসপাতালগুলোতে ৪৭১জন ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা ছাড়পত্র প্রাপ্ত রোগীর সংখ্যা ৪৩০ জন। বর্তমানে জেলার হাসপাতালগুলোতে ৪১ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছেন, জেলায় ডেঙ্গুর কিট মজুদ আছে ৬৬৯২ টি। এর মধ্যে ফেনী সদর উপজেলায়- ৫৩৭৭, দাগনভূঞা- ৩৮, সোনাগাজী- ৬৪, ছাগলনাইয়া-৮৩২, পরশুরাম- ৩৪১ ও ফুলগাজী উপজেলায়-৪০টি।
ফেনী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: মোবারক হোসেন দুলাল বলেন, এখনতো ডেঙ্গুর বিগ সিজন। ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে যারা ভর্তি হয়েছেন, তাদের মধ্যে প্রায় ভালো হয়ে গেছেন। আমাদের হাসপাতালে ডেঙ্গুতে কোন মৃত্যু নেই। আতংক হওয়ার কিছুই নেই। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, বাড়ির আশপাশের আঙ্গিনা পরিষ্কার রাখতে হবে। খাল-বিল পরিষ্কার রাখতে হবে এবং মশারি ব্যবহার করতে হবে। মানুষ সতর্ক না হলে এ রোগ প্রতিরোধ করা যাবে না। দিন দিন আরও বাড়বে। তাই সতর্ক হওয়ার কোন বিকল্প নেই।
ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ফেনী জেলায় বর্তমানে ৪১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন। ২০২৬ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ৬৫২ জন ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা আমরা দিয়েছি।
আমাদের ফেনী জেলায় পর্যাপ্ত পরিমাণ ডেঙ্গুর কিট মজুদ আছে। আমাদের চিকিৎসকগণ এবং আমাদের টিমসমূহ জেনারেল হসপিটাল এবং উপজেলা হসপিটালগুলোতে সার্বক্ষণিকভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। ইনশাআল্লাহ, আমরা আশা করি যে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারব।
শিক্ষার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত জোর দিয়েছেন। শিক্ষার ক্ষেত্রে পার্বত্য অঞ্চল অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে অনেক পিছিয়ে। তাই পার্বত্যাঞ্চলের শিক্ষার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছেন। আমরা সেই বরাদ্দকে কাজে লাগাতে চাই বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে রাঙামাটিতে অনুষ্ঠিত শহিদ হালিম-লিয়াকত স্মৃতি বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
দীপেন দেওয়ান এমপি আরো বলেন, অতীতের সরকার শিক্ষার বরাদ্দের নামে লুটপাট করেছে। শিক্ষার উন্নয়নের ক্ষেত্রে যাতে দুর্নীতি না হয় সে ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করবো। এক্ষেত্রে কোন আপস করবো না। শিক্ষার ক্ষেত্রে সার্বিক সহযোগিতা থাকবে। সৃজনশীল শিক্ষার প্রসারে শহিদ হালিম-লিয়াকত স্মৃতি সংসদ যে উদ্যোগ নিয়েছে তার ভুয়ষী প্রশংসা করেন।
শহিদ হালিম লিয়াকত স্মৃতি সংসদ রাঙামাটি জেলা আয়োজিত আলোচনা সভা, সনদ ও পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠান শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন শহিদ হালিম-লিয়াকত স্মৃতি সংসদ রাঙামাটি জেলার উপদেষ্টা মাওলানা আনোয়ারুল মোস্তফা হেজাজী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সাবেক পৌর মেয়র সাইফুল ইসলাম চৌধুরী, শহিদ হালিম-লিয়াকত স্মৃতি সংসদের সাবেক কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মোঃ আখতার হোসেন চৌধুরী, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ ফাউন্ডেশনের পরিচালক ইয়াছিন রানা সোহেল, সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট জামাল হোসেন ও রাঙামাটি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কবির আলম প্রমুখ। শহিদ হালিম-লিয়াকত স্মৃতি সংসদ রাঙামাটি জেলা সমন্বয়ক হাফেজ তানজিলুর রহমানের সভাপতিত্বে এতে প্রধান বক্তা ছিলেন কেন্দ্রীয় পরিচালক নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ খোবাইব। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শিক্ষক মোঃ হাসান ও ইসমাঈল হোসেন মুন্না। এছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শহিদ আবদুল আলী একাডেমির সহকারী শিক্ষক মোঃ আলমগীর, তৈয়বিয়া আইডিয়াল স্কুলের উপাধ্যক্ষ মোঃ মনসুর আলী , শহিদ হালিম লিয়াকত স্মৃতি সংসদ রাঙামাটি জেলার উপদেষ্টা মোঃ আলী খান ও মোঃ শহিদুল ইসলাম।
আলোচনা সভা শেষে শতাধিক শিক্ষার্থীর হাতে বৃত্তির অর্থ, সনদ ও ক্রেস্ট তুলে দেয়া হয়।
সুন্দরবনকে বাঁচিয়ে রাখতে ক্ষতিকর সবকিছু অপসারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, আগামীতে সুন্দরবন এলাকায় গড়ে ওঠা শিল্পকারখানাগুলোও তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গা সোলার পার্কে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) ও বিকাশের যৌথ বনায়ন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু সুন্দরবন নয়, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সারা পৃথিবীর জন্যই বৃক্ষায়ন প্রয়োজন। বাংলাদেশ পৃথিবীর একটি অংশ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার মানুষের জন্য কাজ করছে। এ কাজে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফান্ড ও সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে। এসব অর্থ ও উদ্যোগ যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে দেশের মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, পরিবেশ রক্ষায় প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে প্রতিটি স্কুল-কলেজকে পলিথিন ও প্লাস্টিক দূষণমুক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে। এ বিষয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকসহ সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। বক্তব্য দেন খুলনা ওয়াসার চেয়ারম্যান মো. মনিরুজ্জামান মনি, কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাজিব আহমেদ, বিকাশের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও রেগুলেটরি এবং করপোরেট অ্যাফেয়ার্স বিভাগের প্রধান হুমায়ুন কবির এবং খুলনার বন সংরক্ষক মো. ইমরান আহমেদ।
অনুষ্ঠান শেষে সোনাডাঙ্গা সোলার পার্কে বৃক্ষরোপণ করা হয়। বিকাশ কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রধানমন্ত্রীর ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় এ বনায়ন কর্মসূচির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার আলামপুর ইউনিয়নের খয়েরপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আব্দুল হালিম (৬৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে খয়েরপুর গ্রামে মান্নান ও ইউসুফ মেম্বার গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় আব্দুল হালিমকে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।নিহতের মরদেহ বর্তমানে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
নিহত আব্দুল হালিম খয়েরপুর গ্রামের মৃত কলম সর্দারের ছেলে। তিনি ইউসুফ মেম্বারের পক্ষের বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ইকবাল হোসেন বলেন, আব্দুল হালিম নামের এক ব্যক্তি মারা গেছেন। আরেকজন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। আহত ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মান্নান ও ইউসুফ মেম্বার গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। গত তিন দিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। এর মধ্যে কয়েকজনকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনাও ঘটে বলে স্থানীয়দের দাবি। এরই জেরে শনিবার সকালে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহত আব্দুল হালিমকে হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মান্নান গ্রুপের বকুল নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয়রা জানান, মসজিদের ব্যাটারি চুরিকে কেন্দ্র করে আলামপুর ইউনিয়নের রাজাপুর খয়েরপুর এলাকায় মান্নান মেম্বার ও বকুল এবং ইউসুফ মেম্বার ও মেহেদী সমর্থকদের মধ্যে বেশ কয়েকদিন ধরে দফায় দফায় হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা চলছিলো। ভোরবেলায় চাপাইগাছি বিলের পাশে দুই গ্রুপ সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়ার জন্য জড়ো হয়। সেই ঘটনাস্থলে যাওয়ার জন্য হালিম বাড়ি থেকে বের হলে পথিমধ্যে মান্নান মেম্বার সমর্থকের নজরুলের বাড়ির ছাদ থেকে ফালা ছুড়ে মারলে হালিমের গলায় লাগে।
নিহত আব্দুল হালিমের ছেলে হাবিবুর রহমান বলেন, কয়েকদিন আগে তাঁদের লোকজনকে পরিকল্পিতভাবে মারধর করে গুরুতর আহত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা হয়ে যাওয়ায় তাঁদের মধ্যে আর কোনো বিরোধ ছিল না ।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি তাঁদের এক ব্যক্তি আলমপুর থেকে ভ্যানে করে আসার সময় কয়েকজন তাঁকে মারধরের হুমকি দেন। তাঁর অভিযোগ, বকুলের নির্দেশে খালেক, মান্নান, সাগর, শফি, রনি ও জনিসহ কয়েকজন এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পরে তাঁর বাবা আব্দুল হালিমকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়।
এদিকে পুলিশ জানায়, ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।এলাকাটি দুই থানার সীমান্তবর্তী হয় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কুষ্টিয়া মডেল থানা ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানা পুলিশসহ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে এসআরবি টিমও রয়েছে।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ জাকির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এই ঘটনায় একজন আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ বলেন, সামাজিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জের বিসিক শিল্পনগরীতে নিরাপদ খাদ্য আইনে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের অভিযানে তিনটি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার পুরো অর্থ তাৎক্ষণিক আদায় করা হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সিনিয়র জুডিসিয়িয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট (বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত) ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. এমরান এবং জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলাম তালুকদার উপস্থিত ছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, বিসিক শিল্পনগরীতে অবস্থিত এম এম খান ফুডসকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি, দই ও দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণের দায়ে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
এ ছাড়া এশিয়া ব্রেড অ্যান্ড বিস্কুট ফ্যাক্টরিকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন এবং মোড়কে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার দায়ে ৩ লাখ টাকা এবং আজহার ফুড প্রোডাক্টস অ্যান্ড বিস্কুট ফ্যাক্টরিকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বনরুটি ও অন্যান্য খাদ্যপণ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিক্রির দায়ে আরও ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিক আদায় করা হয়েছে।
অভিযানে সুগন্ধা ফুড প্রোডাক্টস, গাংচিল রেস্তোরা, কাচ্চি ভাই, হোটেল খাওয়া-দাওয়া, তাজ রেস্টুরেন্ট ও মাটির হাড়ি রেস্তোরাসহ বিভিন্ন খাদ্য প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন করা হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম দূর করতে সংশ্লিষ্টদের মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
অভিযানে জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর শংকর চন্দ্র পাল, জেলা পুলিশ, এসআরবি ও আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যরা সহযোগিতা করেন।
"সুশিক্ষায় গড়ি দেশ, সবার বাংলাদেশ এবং বৃক্ষরোপণে সাজায় দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।" এই প্রতিপাদকে সামনে রেখে মাগুরা সদর উপজেলার বুজরুক শ্রীকুন্ডী মহাবিদ্যালয়ে ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ, বৃক্ষরোপণ ও উপহার সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী এ আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে আনন্দ র্যালি ও নবীন শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন করা হয়। পরে শিক্ষার্থীদের মাঝে কলেজ ব্যাগ, ক্যাপ, টি-শার্টসহ বিভিন্ন উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এরপর পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠ, জাতীয় সংগীত পরিবেশন, জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং শপথ বাক্য পাঠ অনুষ্ঠিত হয়।
পরে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন ঔষধি প্রজাতির বৃক্ষের চারা বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে অতিথি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মহাবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নেওয়াজ হালিমা আরলী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বুজরুক শ্রীকুন্ডী মহাবিদ্যালয়ের সভাপতি প্রকৌশলী মোঃ মঞ্জুরুল কবীর।
উৎসব উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও ৯ নম্বর চাউলিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ রেজাউল করিমের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ পল্লব কুমার দে।
এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন মহাবিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ডাঃ খলিলুর রহমান, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সরকার হারুন অর রশিদ, মাগুরা জেলা পরিষদের প্রশাসকের সহধর্মিণী সামসুন নাহার এবং যশোর শিক্ষা বোর্ডের সিনিয়র সিস্টেম এনালিস্ট প্রকৌশলী মোঃ জাহাঙ্গীর কবির। এছাড়া অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট নেওয়াজ হালিমা আরলী বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান অর্জন করলেই হবে না; নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে ভবিষ্যতের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে বৃক্ষরোপণ ও গাছের পরিচর্যায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে প্রকৌশলী মোঃ মঞ্জুরুল কবীরের অর্থায়নে বুজরুক শ্রীকুন্ডী মহাবিদ্যালয়ে স্থাপিত স্যানিটারি প্যাড ভেন্ডিং মেশিন উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি অ্যাডভোকেট নেওয়াজ হালিমা আরলী।
পঞ্চগড়ের বোদায় ক্রীড়াঙ্গনের হারানো সোনালী অতীত ফিরিয়ে আনার প্রত্যয়ে আয়োজিত খেলায় মাঠে নেমে অংশ নিয়েছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব ফরহাদ হোসেন আজাদ। বোদা উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত এ খেলায় তাঁর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী, খেলোয়াড় ও তরুণদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।
ক্রীড়াঙ্গনে প্রাণের স্পন্দন ফিরিয়ে আনা এবং নতুন প্রজন্মকে মাঠমুখী করতে প্রতিমন্ত্রী নিজেই খেলায় অংশ নেন। মাঠে তাঁর এমন সরাসরি অংশগ্রহণ উপস্থিত খেলোয়াড় ও ক্রীড়ানুরাগীদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ সৃষ্টি করে। শুধু আনুষ্ঠানিক উপস্থিতি নয়, খেলায় অংশ নিয়ে তিনি ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও তুলে ধরেন।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, একসময় বোদা অঞ্চলের মাঠগুলোতে বিভিন্ন খেলাধুলাকে ঘিরে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। স্থানীয় পর্যায় থেকে উঠে এসেছেন অনেক কৃতি খেলোয়াড়। সময়ের পরিবর্তনে মাঠকেন্দ্রিক সেই প্রাণচাঞ্চল্য অনেকটাই কমে এলেও নিয়মিত আয়োজনের মাধ্যমে পুরোনো সেই পরিবেশ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
খেলায় প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের সঙ্গে অংশ নেন বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম, বোদা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দিলরেজা ফেরদৌস চিন্ময়, সাংগঠনিক সম্পাদক মারুফ অনু এবং বোদা উপজেলার ক্রীড়াঙ্গনের একসময়ের কৃতি খেলোয়াড়রা।
একই মাঠে বর্তমান ও সাবেক খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে তৈরি হয় ভিন্নরকম আবহ। পুরোনো দিনের ক্রীড়াঙ্গনের স্মৃতিচারণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। মাঠে উপস্থিত ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যেও এ আয়োজন ঘিরে ছিল ব্যাপক আগ্রহ।
স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা মনে করেন, নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজনের পাশাপাশি স্থানীয় মাঠগুলোকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা গেলে তরুণদের মধ্যে ক্রীড়ার প্রতি আগ্রহ আরও বাড়বে। একই সঙ্গে বিভিন্ন বয়সের খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হলে স্থানীয় পর্যায়ে নতুন প্রতিভা বিকাশের পথও সুগম হবে।
ক্রীড়া শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, তরুণদের শৃঙ্খলা, দলগত চেতনা ও সুস্থ প্রতিযোগিতার মানসিকতা গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই মাঠকেন্দ্রিক কার্যক্রম বাড়ানোর মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন ক্রীড়াসংশ্লিষ্টরা।
বোদা উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার এমন উদ্যোগে একদিকে যেমন পুরোনো ক্রীড়াঙ্গনের স্মৃতি ফিরে এসেছে, অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তৈরি হয়েছে মাঠে ফেরার অনুপ্রেরণা। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত অব্যাহত থাকলে বোদার ক্রীড়াঙ্গনে আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরবে এবং একসময়ের গৌরবময় ক্রীড়া ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের হাত ধরে এগিয়ে যাবে।
দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলায় প্রথমবার পরীক্ষামূলকভাবে ভিয়েতনাম জাতের ব্ল্যাক রাইস বা কালো ধান চাষ করা হয়েছে। উপজেলার ১ নম্বর নাফানগর ইউনিয়নের দিঘড়ী গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা রকিবুল হক নিজ উদ্যোগে এই চাষাবাদ করেছেন। কম পরিচর্যা ও খরচে ভালো ফলনের সম্ভাবনায় স্থানীয় কৃষকদের মাঝেও এই ধান চাষের আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
অনলাইনে ব্ল্যাক রাইস সম্পর্কে জানার পর রকিবুল হক এর চাষে উদ্বুদ্ধ হন। প্রাথমিকভাবে ৫৫০ টাকা দিয়ে এক কেজি চাল কিনে তা খেয়ে দেখার পর তিনি চাষের সিদ্ধান্ত নেন। পরবর্তীতে অনলাইন থেকে ১ হাজার ১৫০ টাকায় দুই কেজি বীজ সংগ্রহ করে বীজতলায় চারা তৈরি করেন।
পরিবারের কাছ থেকে পৈতৃক জমিতে চাষের অনুমতি না পেয়ে তিনি ২৪ হাজার টাকায় ৩৩ শতক জমি ইজারা নেন। গত ৯ জুলাই সেই জমিতে তিনি ব্ল্যাক রাইসের চারা রোপণ করেন। আগামী ১০ থেকে ১২ অক্টোবর এই ধান কাটার সময় নির্ধারিত রয়েছে।
রকিবুল হকের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্ল্যাক রাইস চাষে সাধারণ ধানের তুলনায় অতিরিক্ত সার, সেচ কিংবা আলাদা কোনো বিশেষ পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। ৩৩ শতক জমি থেকে তিনি ১৮ থেকে ২০ মণ ধান পাওয়ার আশা করছেন। বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি ব্ল্যাক রাইস প্রায় ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সেই হিসেবে উৎপাদনের অন্যান্য খরচ বাদ না দিয়ে কাঙ্ক্ষিত ফলন ও বাজারদর পেলে প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার টাকার ধান বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ব্ল্যাক রাইস অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্থোসায়ানিন, ফাইবার এবং আয়রনসমৃদ্ধ একটি পুষ্টিকর খাদ্য। উচ্চ পুষ্টিগুণের কারণে বিশ্বজুড়ে একে 'সুপারফুড' বলা হয়ে থাকে। ডায়াবেটিস, স্নায়ুরোগ ও বার্ধক্য প্রতিরোধে এই চালের উপকারিতার কথা বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। শৌখিন ক্রেতা এবং চাইনিজ রেস্তোরাঁগুলোতে এই চালের বিশেষ কদর রয়েছে।
ধান কাটার আগেই খেত দেখতে স্থানীয়রা ভিড় জমাচ্ছেন এবং অনেকে আগাম বীজ সংগ্রহের জন্য রকিবুলের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। শম্ভু রায় ও জুয়েলের মতো স্থানীয় কৃষকরা জানান, ধানের ভালো ফলন ও সুন্দর লতা দেখে তারাও আগামীতে এই ধান চাষে আগ্রহী হয়েছেন।
শুরুতে ইন্টারনেটের প্রভাবে ছেলের এই উদ্যোগকে 'পাগলামি' ভেবেছিলেন রকিবুলের বাবা আমিনুল হক। যে কারণে তিনি পৈতৃক জমি দিতে অস্বীকৃতি জানান। তবে বর্তমানে খেতের সন্তোষজনক অবস্থা দেখে তিনি নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেছেন। আমিনুল হক জানান, ছেলের সফল উদ্যোগ দেখে আগামীতে তাকে যেকোনো সহযোগিতা করতে তিনি প্রস্তুত রয়েছেন।
বোচাগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নয়ন কুমার সাহা বলেন, পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ এই ধানের চাল উৎপাদন ও দেশব্যাপী বিস্তার লাভ করলে তা দেশের কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মারুফ হাসান জানান, বোচাগঞ্জে এই প্রথম ব্ল্যাক রাইস চাষ হয়েছে। সঠিক উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করা গেলে এটি কৃষকদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক একটি ফসল হতে পারে। প্রশাসন এই উদ্যোক্তার সফলতার দিকে তাকিয়ে রয়েছে।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের চৌমুহনী গ্রিড উপকেন্দ্রে ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের প্রধান সোর্স ব্রেকার বিস্ফোরণে বিকল হয়ে পড়ায় জেলা শহর মাইজদীসহ পার্শ্ববর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে মারাত্মক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে আকস্মিক এ বিস্ফোরণের পর ব্রেকারে আগুন ধরে যায়, যার ফলে চৌমুহনী থেকে মাইজদী উপকেন্দ্রে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) নোয়াখালী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা শহর মাইজদীতে পিডিবির আওতাধীন এলাকায় স্বাভাবিক সময়ে বিদ্যুতের মোট চাহিদা ২২ থেকে ২৫ মেগাওয়াট। তবে মূল সোর্স ব্রেকারটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিকল্প ব্যবস্থায় রিং সার্কিটের মাধ্যমে মাত্র ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। অর্ধেকেরও বেশি ঘাটতি থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত যন্ত্রপাতি পুরোপুরি মেরামত না হওয়া পর্যন্ত শহরজুড়ে রোটেশন পদ্ধতিতে অর্থাৎ এক ঘণ্টা পরপর এলাকাভিত্তিক পালাক্রমে বিদ্যুৎ রেশনিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে রাতভর চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।
বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিষয়ে পিডিবি নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাবিবুল বাহার জানান, সোর্স ব্রেকারের পোল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বিকল্প উপায়ে জেলা শহরে সীমিত আকারে বিদ্যুৎ চালু রাখা হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক করতে প্রকৌশলীরা রাত থেকেই নিরবচ্ছিন্ন মেরামতের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। বৃষ্টির কারণে কাজে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটলেও শনিবার বিকেলের মধ্যে নতুন ব্রেকার স্থাপন সম্পন্ন করে সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।