শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬
২২ শ্রাবণ ১৪৩৩

সর্বকনিষ্ঠ বীরপ্রতীক শহীদুলের পরিবারের নেই স্থায়ী নিবাস

ছবিতে সর্ব বামে (বৃত্তে) সর্বকনিষ্ঠ বীরপ্রতীক শহীদুল।
আপডেটেড
১৭ এপ্রিল, ২০২৪ ০৫:৩১
মো. রুবেল আহমেদ, গোপালপুর (টাঙ্গাইল)
প্রকাশিত
মো. রুবেল আহমেদ, গোপালপুর (টাঙ্গাইল)
প্রকাশিত : ১৭ এপ্রিল, ২০২৪ ০৫:৩১

‘রাজাকার-আলবদর থাকে আজ রাজপ্রাসাদে, আমি শহীদুল ইসলাম বীরপ্রতীক থাকি একটা কুইড়াঘরে (কুঁড়েঘরে) তার কারণ কী?’ ক্ষোভে ২০০৩ সালে ধারণ করা এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে এমনটাই বলেছিলেন দেশের সর্বকনিষ্ঠ বীরপ্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা, টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার সূতী গ্রামের হেলাল উদ্দিনের ছেলে শহীদুল ইসলাম। অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারে জন্ম হলেও অনেক সাহসী ও বুদ্ধিমান ছিলেন। তাই তো দেশকে হানাদার মুক্ত করতে ১২ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন কাদেরিয়া বাহিনীর কমান্ডার আনোয়ার হোসেন পাহাড়ির অধীনে।

কিন্তু আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, দেশের সর্বকনিষ্ঠ বীরপ্রতীক শহীদুল ইসলাম লালুর পরিবারের নেই স্থায়ী নিবাস, সন্তানদের জন্য নেই চাকরির ব্যবস্থা। তিনি কুলির কাজ ও খাবার হোটেলের কাজ করে অনেক কষ্টে কাটিয়েছেন জীবনের অধিকাংশ সময়।

দৈনিক বাংলার অনুসন্ধানে জানা যায়, বাংলাদেশের সর্বকনিষ্ঠ বীরপ্রতীকের পরিবার বসবাস করছেন ঢাকার মিরপুর মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন প্রকল্পের সরকারি জমিতে। প্রথম সন্তান মুক্তা বেগম (৩৫) পেশায় গৃহিণী, স্বামীর বাড়ি রাজশাহীর নাটোরে। দ্বিতীয় সন্তান আক্তার হোসেন (৩২) পেশায় গাড়িচালক, তৃতীয় সন্তান সোহাগ হোসেন (২৭) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সদ্য গ্র্যাজুয়েশন শেষ করেছেন। চতুর্থ সন্তান শিখা আক্তার (২০) ঢাকার একটি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ভারতে ট্রেনিং চলাকালে সর্বকনিষ্ঠ হওয়ায় সহযোদ্ধারা তাকে লালু তার চেয়ে বয়সে বড় শ্যামলকে ভুলু নামে ডাকতে শুরু করেন। দেশে ফিরলে তার বুদ্ধিমত্তায় একাধিকবার মুক্তিযোদ্ধারা প্রাণে বাঁচেন। কাদেরিয়া বাহিনীর কমান্ডারের নির্দেশে, চতুর শহীদুল ইসলাম ছদ্মবেশ ধারণ করেন। কৌশলে এক রাজাকারের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে গোপালপুর থানা কম্পাউন্ডের, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বাংকারে ঢুকে পড়েন। তার কৌশল ও দুঃসাহসিক গ্রেনেড হামলায় একাধিক বাংকার ধ্বংস করলে গোপালপুর থানা হানাদার মুক্ত হয়। স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার তাকে বীরপ্রতীক উপাধি দেয়। রাইফেলের সমান উচ্চতা হওয়ায় ভারতে প্রশিক্ষণ চলাকালে তাকে স্টেনগান চালনা ও গ্রেনেড ছোড়ার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কাদেরিয়া বাহিনী ১৯৭২ সালের ২৪ জানুয়ারি টাঙ্গাইলের বিন্দুবাসিনী বালক উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অস্ত্র সমর্পণ করা হয়। স্টেনগান জমা দানকালে অত্যন্ত সাহসী ১২ বছরের কিশোর শহীদুলের বীরত্বের কথা শুনে, মুগ্ধ হয়ে তাকে কোলে তুলে নেন স্বয়ং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ছবিটি সামরিক ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। যখন সহযোদ্ধাদের কাছ থেকে লালুর বাংকার ধ্বংসের কথা শুনলেন তখন বঙ্গবন্ধু তাকে আদর করে কোলে তুলে নিয়ে বলেছিলেন, ‘বীর বিচ্ছু’।

শৈশবে শহীদুল ইসলামের বাবা-মা, মুক্তিযুদ্ধের সময় এক ভাই-এক বোনের মৃত্যু হয়। দরিদ্রতায় উপায়ান্তর না দেখে মুক্তিযুদ্ধের পর ২ ভাইকে রেখে জীবিকার তাগিদে বাড়ি ছাড়া হন তিনি। ঢাকার সোয়ারিঘাটে বালু টানা, ঠেলা গাড়ি চালানো, রাজমিস্ত্রীর হেলপারের কাজ, শেষে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে কুলির কাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে কুলির কাজ শেষে হোটেলে কাজ শুরু করেন। যাযাবর অবস্থায় বিয়েও করেন, এক কন্যা ও এক পুত্র জন্ম নেওয়া সেই সংসার স্থায়ী হয়নি। পরবর্তীতে কুমিল্লায় হোটেলে কাজ করা অবস্থায় সহকর্মীকে জীবনের সব ঘটনা খুলে বলেন। ২ সন্তানকে নিয়ে ওই সহকর্মীর সঙ্গে মুন্সীগঞ্জের বিক্রমপুর চলে যান। ১৯৯৬ সালে সেই সহকর্মীর নিকটাত্মীয় মালা বেগমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এই দম্পতির পুত্রসন্তান সোহাগ হোসেনের জন্মের পর সংসারে অভাব-অনটন দেখা দেয়। ঢাকার পোস্তগোলায় এসে নিজের খাবার হোটেল চালু করার কিছুদিনের মধ্যেই, ১৯৯৮ সালে জটিল কিডনি রোগে আক্রান্তের কথা জানতে পারেন। কোনো উপায় না পেয়ে, কাদেরিয়া বাহিনীর প্রধান বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর ঢাকার বাসার ঠিকানা জোগাড় করে দেখা করেন। পরিচয় পাওয়ার পর আবেগাপ্লুত বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বুকে জড়িয়ে নেন। তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করান, উপস্থিত সহযোদ্ধাদের নির্দেশ দেন তার কাগজপত্র সংগ্রহ করতে। কাদেরিয়া বাহিনীর যোদ্ধা বীরপ্রতীক আবদুল্লাহকে নির্দেশ দেন, ঢাকার মিরপুর মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন প্রকল্পে শহীদুলের পরিবারের জন্য জায়গা দিতে। সে অনুযায়ী তার পরিবারের ঠাঁই হয় সেখানে। চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থ হন শহীদুল ইসলাম। কাগজপত্র সংগ্রহের পর জানতে পারেন তিনি বীরপ্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা‌, তিনিই সর্বকনিষ্ঠ বীরপ্রতীক। ডাক পড়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে ৩০ হাজার টাকা অনুদান প্রদানের সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে অন্য দুই ভাই তাকে খুঁজে পায়। কিছুদিন পর জন্ম হয় আরেক কন্যা শিখার।

অসুস্থতার কারণে শেষ সময়ে কোনো কাজকর্ম করতে পারেননি, শুভাকাঙ্ক্ষীদের অর্থে চলেছে চিকিৎসা ও পরিবারের খরচ। ২০০৯ সালে ২৫ মে অসুস্থ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে তাকে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

বীরপ্রতীক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী মালা বেগম দৈনিক বাংলাকে বলেন, আমার স্বামীর জীবদ্দশায় ভাতাপ্রাপ্ত ছিলেন না, তাই শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহায়তায় চিকিৎসা করাতে হয়েছে। তার মৃত্যুর পর ৪ সন্তানকে অনেক কষ্টে লালন-পালন করি, এরপর মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে গেলে ২০১৪ সালে ২ হাজার টাকা ভাতা চালু হয়। মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন প্রকল্পের সরকারি জমিতে একাধিক রুম বানিয়ে ভাড়ার টাকায় সন্তানদের বড় করি। সন্তানদের শিক্ষিত করেছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমার দাবি তিনি যেন সন্তানদের জন্য উপযুক্ত চাকরি ও আমাদের স্থায়ী নিবাসের ব্যবস্থা করে দেন।

তিনি আরও বলেন, ‘নিজ এলাকার মানুষের থেকে তার তেমন মূল্যায়ন পায়নি, এই ক্ষোভে তিনি মৃত্যুর আগে কখনো গোপালপুর যাননি। তবে সন্তানদের নিয়ে আমি একাধিকবার গোপালপুর গিয়েছিলাম।’

সর্বকনিষ্ঠ বীরপ্রতীকের সন্তান সোহাগ হোসেন বলেন, ‘মানুষের মৌলিক চাহিদার একটি বাসস্থান। আমরা বিশেষ পরিবারের সন্তান হলেও ঢাকার মিরপুরে সরকারি জমিতে বসবাস করছি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি স্থায়ী বাসস্থান ও আমাদের জন্য উপযুক্ত চাকরির ব্যবস্থা যেন উনি করেন।’ তবে নিয়মিত সরকারি রেশন ও ভাতা পাচ্ছেন বলেও জানান তারা।

গোপালপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদ্য সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা সমরেন্দ্রনাথ সরকার বিমল বলেন, সূতী মীরপাড়ায় গোপালপুরের একমাত্র বীরপ্রতীক শহীদুল ইসলামের জন্ম হলেও, এখানে তার বাড়িঘর নেই। তার পরিবার এখানে এসে কিছু চাননি, তাই বীর নিবাসসহ অন্যান্য সুবিধাদি পাননি। তার পরিবার বীরপ্রতীক ভাতা পাচ্ছেন।

গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বীরনিবাস তৈরি করে দেওয়ার একটি প্রকল্প চলমান আছে। গোপালপুরে জীবিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ৬২টি বীরনিবাস নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে এবং ৬টি নির্মাণাধীন রয়েছে। তাকে আবেদন করে রাখতে বলেন। পরের অর্থবছরে আবার যদি বরাদ্দ আসে তবে হয়তো এগুলো পাঠাতে পারব। আমার যতদূর জানা আছে বর্তমান যারা বীর মুক্তিযোদ্ধা জীবিত অবস্থায় আছেন প্রাথমিকভাবে তাদের এটা দিচ্ছে। এখন পর্যন্ত ওয়ারিশ হিসাবে যারা আছেন, তারা পেয়েছেন বলে আমার জানা নেই। তারপরও পর্যাপ্ত তথ্য পেলে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি লিখতে পারব।’


নির্বাচিত

রাষ্ট্রবিরোধী গোপন তৎপরতায় জবির ৬৮ শিক্ষকের সংশ্লিষ্টতা তদন্তে কমিটি

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

গণমাধ্যমে প্রকাশিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ৬৮ জন শিক্ষক রাষ্ট্রবিরোধী গোপন তৎপরতায় জড়িত থাকার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

অফিস আদেশে বলা হয়, ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. নাছির আহমদকে আহ্বায়ক এবং রেজিস্ট্রার দপ্তরের সেকশন অফিসার (গ্রেড-২) আবুল মালেককে সদস্য সচিব করে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জামির হোসেন এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেজবাহ-উল আলম সওদাগর।

অফিস আদেশে আরও বলা হয়েছে, আগামী ১৩ আগস্টের মধ্যে কমিটিকে অভিযোগে উল্লিখিত শিক্ষকদের রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ যাচাই, সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিতকরণ, করণীয় নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। এ ছাড়া গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে উল্লিখিত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আন্দোলন দমন এবং শিক্ষার্থীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তদন্তের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, উপাচার্যের নির্দেশক্রমে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, এ তদন্ত কমিটি অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অভিযোগগুলো প্রমাণিত বা অপ্রমাণিত- কোনোটিই চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়।


নির্বাচিত

সিন্ডিকেট ভেঙে নতুন সমীকরণে লবণ অর্থনীতি

* কক্সবাজারে দেড়শ কোটিরও বেশি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে আধুনিক লবণ রিফাইনারি হাব ও গবেষণা ইনস্টিটিউট * মাটি দিয়ে পিরোজপুরের ঘরে ঘরে লবণ উৎপাদন * তৈরি হবে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৭ আগস্ট, ২০২৬ ০০:৩০
বিশেষ প্রতিবেদক

একদিকে পিরোজপুরের ডুবি গ্রামের মেঠোপথে পরম যত্নে মাটি থেকে ‘নুন’ ছেঁকে আনার অর্ধশতকের ঐতিহ্যবাহী জীবনসংগ্রাম; অন্যদিকে কক্সবাজারের নীল জলরাশি ঘেঁষে আধুনিক প্রযুক্তির মেগা রিফাইনারি স্থাপনের কর্মযজ্ঞ। উপকূলীয় লবণ চাষিদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলা পরিশ্রমে গত বছর দেশে রেকর্ড ২৪ লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি লবণ উৎপাদিত হয়েছে। অথচ মধ্যস্বত্বভোগী, ফড়িয়া ও সুবিধাভোগী আমদানিকারক সিন্ডিকেটের রক্তচক্ষুতে এই বিপুল সম্ভাবনা এতদিন থমকে ছিল। অবশেষে সেই কালো ছায়া সরিয়ে দেশের মাঠে উৎপাদিত রুপালি লবণেই নতুন করে আঁকা হচ্ছে জাতীয় অর্থনীতির মানচিত্র।

সমুদ্রের লোনা পানি শুকিয়ে লবণ তৈরির গল্প বাংলায় নতুন নয়। কিন্তু এই শিল্পকে ঘিরে অদৃশ্য সিন্ডিকেটের কারসাজি, ঐতিহ্যবাহী মাটি-লবণের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই এবং বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনের সুবাতাস কোনো রূপকথার চেয়ে কম নয়। কক্সবাজার থেকে পিরোজপুর, আর লাওসের পটাশিয়াম খনি থেকে উপকূলীয় টেকসই প্রযুক্তি—লবণ খাতে বয়ে আনছে অভাবনীয় পরিবর্তনের হাওয়া।

পিরোজপুরের মাটি-লবণের ইতিহাস :

সমুদ্রের পানি ছাড়াও যে ভেজা মাটি থেকে খাঁটি লবণ ছেঁকে আনা সম্ভব, পিরোজপুরের ডুবি গ্রামে না গেলে তা বিশ্বাস করা কঠিন। এই অভিনব পদ্ধতির উদ্ভাবন কোনো বাণিজ্যিক চিন্তা থেকে হয়নি; এর নেপথ্যে রয়েছে ক্ষুধা ও দুর্ভিক্ষের এক করুণ ইতিহাস।

১৯৭৪ সালের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের সময় চারদিকে যখন হাহাকার, ঠিক তখনই দেশজুড়ে দেখা দেয় লবণের তীব্র সংকট। সেই সংকটকালে ছারছীনার একটি লবণ পরিশোধন কারখানার আশপাশে পড়ে থাকা লবণমিশ্রিত মাটি কুড়িয়ে এনে প্রথম লবণ ছেঁকে বের করার চেষ্টা করেন স্থানীয় এক বাসিন্দা। নিছক বেঁচে থাকার সেই তাগিদ আজ পাঁচ দশক পর রূপ নিয়েছে আস্ত একটি গ্রামের মূল জীবিকায়।

বর্তমানে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চল থেকে লবণমিশ্রিত মাটি কিনে এনে পিরোজপুরের ঘরে ঘরে গড়ে উঠেছে ছোট ছোট উৎপাদন কেন্দ্র। কঠোর শারীরিক পরিশ্রম ও রসায়নের মূলনীতির এক অনন্য মিশ্রণ এই উৎপাদন প্রক্রিয়া।

মাটি-পানির দ্রবণ: চট্টগ্রাম থেকে আনা লবণাক্ত মাটি প্রথমে বড় চৌবাচ্চা বা ট্যাংকে পানির সাথে মেশানো হয়।

থিতানো ও ছাঁকন: থিতিয়ে আসা লবণাক্ত পানি আলাদা করে নেওয়া হয়।

বাষ্পীভবন: আলাদা করা দ্রবণ টানা ৬-৭ ঘণ্টা বড় উনুনে জ্বাল দেওয়া হয়, যতক্ষণ না পানি উবে গিয়ে পাত্রের নিচে স্ফটিক লবণের স্তর জমে।

প্রক্রিয়াজাতকরণ: ঝুড়িতে রেখে পানি ঝরানোর পর

আয়োডিন মিশিয়ে তা বাজারে বিক্রির উপযোগী করা হয়।

ভোর ৪টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আগুনের উত্তাপে এই হাড়ভাঙা খাটুনি চললেও প্রাপ্তির খাতাটি বড়ই করুণ। প্রতি কেজি লবণ উৎপাদনে একজন শ্রমিক পান মাত্র দেড় টাকা (১.৫০ টাকা) মজুরি। জীবনযাত্রার ব্যয় আকাশচুম্বী হলেও এই গ্রামের মানুষগুলো আঁকড়ে ধরে আছেন অভাবের দিনে জন্ম নেওয়া এই শিল্পকে।

সিন্ডিকেটের কালো থাবা ও কক্সবাজারের রিফাইনারি হাব:

পিরোজপুরের প্রান্তিক শ্রমিকরা যখন দেড় টাকার মজুরিতে ঘাম ঝরাচ্ছেন, তখন জাতীয় পর্যায়ে লবণ খাতকে গ্রাস করে রেখেছিল এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট। প্রান্তিক চাষিদের শ্রমে রেকর্ড ২৪.৩৭ লাখ মেট্রিক টন ভোজ্য লবণ উৎপাদন হলেও সংকট তৈরি করা হতো ‘শিল্প লবণ’ নিয়ে।

ওষুধ, টেক্সটাইল ও চামড়া শিল্পের জন্য প্রয়োজন উচ্চমানের বিশুদ্ধ পরিশোধিত শিল্প লবণ। দেশে আধুনিক রিফাইনারি হাব না থাকার সুযোগে একশ্রেণির অসাধু আমদানিকারক ‘বন্ডেড ওয়্যারহাউস’ সুবিধার অপব্যবহার করে শিল্প লবণের নামে শুল্কমুক্ত সুবিধায় ভোজ্য লবণ এনে খোলা বাজারে বিক্রি করত। এতে রাষ্ট্র যেমন হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাত, তেমনি ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হতেন দেশি চাষিরা।

২৮ বছরের অবসান ও বিসিকের মেগা প্রকল্প:

এই শোষণের অবসান ঘটাতে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) হাতে নিয়েছে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। কক্সবাজারের চৌফলদণ্ডীতে ১৫৪ থেকে ১৯৪ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় ৩০ একর জমির ওপর নির্মিত হচ্ছে একটি আধুনিক লবণ রিফাইনারি হাব ও গবেষণা ইনস্টিটিউট।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মেগা রিফাইনারি চালু হলে লবণ খাতে সরাসরি দালালমুক্ত পরিবেশে কেনাবেচার সুযোগ তৈরি হবে, যেখানে চাষিরা প্রতি মণে অন্তত ৩৩৭ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ন্যায্যমূল্য পাবেন। শিল্প লবণের জন্য বিদেশ নির্ভরতা শূন্যে নামবে, ফলে বছরে হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা বা ডলার সাশ্রয় হবে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত উচ্চমানের পরিশোধিত লবণ বৈশ্বিক বাজারে রপ্তানির পথ খুলবে। আধুনিক অবকাঠামোকে ঘিরে ১০ হাজার চাষিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে।

ব্লু ইকোনমিতে চমক: একই মাঠে লবণ ও ‘আর্টিমিয়া’ চাষ

কক্সবাজারের উপকূলে শুধুই রিফাইনারি হাব নয়, সমুদ্রভিত্তিক অর্থনীতি বা ‘ব্লু ইকোনমি’তে এক বৈজ্ঞানিক বিপ্লব ঘটিয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেসের গবেষকরা। অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে এবং মৎস্য অধিদপ্তরের ‘সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ প্রজেক্ট’-এর অর্থায়নে একদল গবেষক দেশে প্রথমবারের মতো উদ্ভাবন করেছেন আর্টিমিয়া ও লবণের সমন্বিত চাষ পদ্ধতি।

আর্টিমিয়া কী ও কেন এটি সোনালী সুযোগ?

আর্টিমিয়া হলো অতি ক্ষুদ্র শৈবালভোজী এক প্রকার জলজ প্রাণী, যা সামুদ্রিক হ্যাচারিতে মাছ ও চিংড়ির পোনার জন্য ‘উচ্চমানের জীবন্ত খাবার’ (Live Feed) হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয় করে ৪০-৫০ টন আর্টিমিয়া আমদানি করতে হতো।

চবির গবেষকরা কক্সবাজারের চৌফলদণ্ডীতে গবেষণা চালিয়ে দেখিয়েছেন, একই মাঠে সঠিক লবণাক্ততা বজায় রেখে একই সাথে লবণ ও আর্টিমিয়া চাষ সম্ভব।

এর চমকপ্রদ সুবিধাগুলো হলো- আর্টিমিয়া প্রাকৃতিক ‘ফিল্টার ফিডার’ হিসেবে পানির বর্জ্য খেয়ে ফেলে। ফলে এই পানি থেকে উৎপাদিত লবণের স্ফটিক হয় অনেক বেশি পরিষ্কার ও বিশুদ্ধ।

কৃষকরা লবণ বিক্রির পাশাপাশি দামি আর্টিমিয়া ও এর ডিম (সিস্ট) বিক্রি করে দ্বিগুণ আয় করতে পারবেন। উপকূলীয় নারীরা সহজেই এটি সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে অংশ নিতে পারছেন। দেশের ৭০০ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলীয় অঞ্চলের লবণমাঠে এই প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিলে মৎস্য খাতের আর্টিমিয়া আমদানিনির্ভরতা পুরোপুরি দূর হবে।

বৈশ্বিক শিক্ষা: লাওস-ভিয়েতনাম পটাশিয়াম প্রকল্প

ভোজ্য ও শিল্প লবণের পাশাপাশি কৃষিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক সারের জন্য ‘পটাশিয়াম লবণ’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বড় উদাহরণ তৈরি করেছে ভিয়েতনাম ও লাওস। ভিয়েতনামের রাষ্ট্রীয় সংস্থা ‘ভিনাকেম’ লাওসের খাম্মুয়ান প্রদেশে বিশাল পটাশিয়াম খনি ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রকল্প চালু করতে যাচ্ছে। এই উদ্যোগ আমাদের শেখায়—লবণ কেবল উপকূলীয় মেঠোপথের বাণিজ্য নয়; আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও প্রযুক্তির মেলবন্ধন ঘটানো গেলে এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির পরাক্রমশালী নিয়ামক হতে পারে।

পিরোজপুরের ডুবি গ্রামের মাটি থেকে বাঁচার তাগিদে শুরু হওয়া আদিম লড়াই, কক্সবাজারের আধুনিক বিসিক রিফাইনারি হাব আর সমুদ্রের জলে ভেসে থাকা চবি গবেষকদের আর্টিমিয়া—সবগুলো বিন্দু এক সুতোয় গাঁথলে এটি স্পষ্ট যে, বাংলাদেশ লবণ খাতে আর পিছিয়ে নেই।

মাটি নিংড়ানো শ্রমিকের ঘাম, আধুনিক রিফাইনারি অবকাঠামো আর সুনীল অর্থনীতির বৈজ্ঞানিক গবেষণার মেলবন্ধনে রচিত হচ্ছে এক স্বাবলম্বী বাংলাদেশের গল্প। সিন্ডিকেটের অশুভ ছায়া চিরতরে বিদায় করে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বজায় রাখতে পারলে, বাংলাদেশ শুধু নিজের চাহিদা মেটাবে না; বরং বিশ্বে উচ্চমানের লবণ ও সামুদ্রিক উপাদান রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।

এ প্রসঙ্গে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব মো. ওবায়দুল রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ লবণ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। কোনো অজুহাতে খাবার লবণ আমদানি করতে দেওয়া হবে না। চাষিদের টিকিয়ে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। দেশের ভেতরে পর্যাপ্ত লবণ থাকা সত্ত্বেও অসাধু সিন্ডিকেটের আমদানি করার অপচেষ্টা রোধে এবং প্রান্তিক লবণচাষিদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার কঠোর অবস্থানের কথাও জানান তিনি।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) সাবেক চেয়ারম্যান মো. সাইফুর রহমান মনে করেন, লবণ শুধু একটি কৃষিপণ্য নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প উপাদান।

তিনি জানান, সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ে জাতীয় লবণনীতি চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। পাশাপাশি লবণ উৎপাদনকে আধুনিকায়ন করা, অভ্যন্তরীণ বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং সড়ক পরিবহন দুর্ঘটনা রোধে লবণ পরিবহনে আধুনিক ঢাকনা ও প্যাকেজিং ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান বলেন, ‘কক্সবাজারের পুরো অর্থনীতি লবণের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। চাষিদের টিকিয়ে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। প্রশাসন এ শিল্পে স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা আনতে সচেষ্ট।’

স্থানীয় পর্যায়ের অর্থনীতিতে লবণের অবদান তুলে ধরে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য থামিয়ে চাষিদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও পরামর্শ দেন তিনি।

সম্প্রতি ঢাকার গুলশানে আয়োজিত এক জাতীয় পরামর্শ সভায় বিশেষজ্ঞরা বলেন, ‘লবণের জাতীয় উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হলে কৃষক ও শ্রমিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও চিকিৎসার সুব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। দেশে প্রায় ৪০ হাজার কৃষক পরিবার এবং ৫৫ হাজার দক্ষ শ্রমিক সরাসরি লবণ উৎপাদনে যুক্ত। এ ছাড়া ৫ লাখেরও বেশি শ্রমিক এই খাতের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত। তাই এই খাতের পেশাগত স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশের উন্নয়ন আবশ্যক।

চকরিয়ার প্রবীণ লবণচাষি নুরুল ইসলাম বলেন, ‘লবণ তুলি আমরা, কিন্তু দাম ঠিক করে শহরের অফিসে বসে থাকা মধ্যস্বত্বভোগীরা। নিজস্ব সংরক্ষণাগার ও সরকারি নজরদারি থাকলে আমরা ঘামের সঠিক দাম পাব।’


নির্বাচিত

জুলাইয়ে সড়কে ঝরল ৪১৬ প্রাণ, বেশি মৃত্যু মোটরসাইকেলে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ছুটি, কর্মব্যস্ততা কিংবা প্রাত্যহিক যাতায়াত—সব মিলিয়ে দেশের সড়কগুলো যেন একেকটি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। গেল জুলাই মাসে সারাদেশে ৪৫৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪১৬ জন। এর মধ্যে ৫৪ জন নারী ও শিশু রয়েছে। একই সময়ে আহত হয়েছেন আরও ৬২৯ জন। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা ‘রোড সেফটি ফাউন্ডেশন’ বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই মর্মান্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

জুলাই মাসে সারাদেশে ৪৫৮টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪১৬ জন এবং আহত হয়েছেন ৬২৯ জন। নিহতদের মধ্যে ৫৪ জন নারী ও শিশু রয়েছে। বিভাগের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ১৩৩টি দুর্ঘটনা ও ১২৫ জন নিহতের ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে (২৯.০৩শতাংশ)।

এছাড়া মহাসড়কে ৩৬.৮৯শতাংশ এবং আঞ্চলিক সড়কে ৩৩.৮৪শতাংশ দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। যানবাহনের ধরন অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল মোটরসাইকেল; ১৫৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যা মোট নিহতের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি। পাশাপাশি, রাস্তা পারাপার বা হাঁটার সময় ১০৬ জন পথচারী নিহত হয়েছেন।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসের দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে মোটরসাইকেলে। ১৫৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৮ জন মারা গেছেন, যা মোট নিহতের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ (৩৩.১৭শতাংশ)। বিশেষ করে তরুণদের বেপরোয়া গতি এবং ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতা এর অন্যতম বড় কারণ।

নিহতদের পেশাগত পরিচয়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের নাম উঠে এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে হৃদয়বিদারক হলো শিক্ষার্থীদের প্রাণহানি। জুলাই মাসে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫৩ জন শিক্ষার্থী সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন।

জুলাই মাসের এই সড়ক দুর্ঘটনায় সমাজের বিভিন্ন পেশা ও স্তরের মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে শিক্ষার্থীদের ওপর; দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫৩ জন শিক্ষার্থী সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন।

নিহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় রয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ২৩ জন নেতাকর্মী, ১৬ জন এনজিওকর্মী, ১৭ জন বিক্রয় প্রতিনিধি (রিপ্রেজেন্টেটিভ), ১৪ জন ব্যাংক ও বীমা কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ২৭ জন স্থানীয় ব্যবসায়ী।

পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৭ জন শিক্ষক, ৩ জন সাংবাদিক, ২ জন চিকিৎসক, ২ জন প্রকৌশলী, ৩ জন আইনজীবী, ১ জন পুলিশ সদস্য এবং ১ জন বিজিবি সদস্য। এর বাইরেও কৃষি শ্রমিক, পোশাক শ্রমিক, মসজিদের ইমাম-খাদেম এবং নানা বয়সের সাধারণ মানুষ এই মৃত্যুমিছিলে সামিল হয়েছেন। এছাড়া পুলিশ, বিজিবি, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী ও সংবাদকর্মীরাও সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে জাতীয় মহাসড়কগুলোয় (৩৬.৮৯শতাংশ), এর পরেই রয়েছে আঞ্চলিক সড়ক (৩৩.৮৪শতাংশ)। দুর্ঘটনার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে—বেপরোয়া গতি, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা ও ক্লান্তি, মহাসড়কে স্বল্পগতির অবৈধ যানবাহন চলাচল এবং দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা।

সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে সংস্থাটি ১২ দফা সুপারিশ পেশ করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল পুনর্গঠন করে কঠোর নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন। বিআরটিএ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহনের জন্য পৃথক সার্ভিস রোড নির্মাণ এবং ফিটনেসবিহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন পুরোপুরি বন্ধ করা এবং চালকদের নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা, পর্যাপ্ত বেতন ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা।

সড়কের এই রক্তক্ষয়ী চিত্র কেবল কিছু সংখ্যা নয়; এর পেছনে রয়েছে শত শত ভেঙে পড়া পরিবার ও প্রিয়জন হারানোর আর্তনাদ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল নিয়ম বা সুপারিশ কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে সরকারের কঠোর রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং সাধারণ মানুষের সচেতনতাই পারে এই মৃত্যুমিছিল রোধ করতে।


নির্বাচিত

শিকলমুক্ত গণতান্ত্রিক দেশ গড়তে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করতে চায় সরকার: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, দেশে বারবার জনগণের অধিকার ও সৃষ্টিশীল ক্ষমতাকে শিকলবদ্ধ করার অপচেষ্টা রোধে একটি স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করতে চায় সরকার, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ কোনোদিন জাতিকে শিকল পরাতে না পারে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘শিকল ভাঙার জুলাই’ প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন তথ্য অধিদপ্তর (পিআইডি) এই প্রকাশনা প্রকাশ করে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশের বয়স ৫৫ বছরের বেশি হয়ে গেলেও বারবার জনগণের কণ্ঠ ও অধিকারকে শিকলে বাঁধা হয়েছে। এই প্রতিবন্ধকতার শিকল ভাঙতে বারবার আমাদের রক্ত দিতে হয়েছে, প্রাণ বিসর্জন দিতে হয়েছে এবং দেশের স্বাভাবিক সমৃদ্ধির প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে। পৃথিবীর যে দেশগুলো ধারাবাহিক সমৃদ্ধি বজায় রাখতে পেরেছে, তারাই আজ বিশ্বে অন্যতম প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়েছে।’

অতীতের আন্দোলনগুলোর সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গুণগত পার্থক্যের কথা তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘অতীতে বিভিন্ন আন্দোলন কেবল অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া ও গণঅভ্যুত্থানেই শেষ হতো, পরে লক্ষ্যহীনভাবে হারিয়ে গিয়ে আবার নতুন কোনো ফ্যাসিবাদের পথ সুগম হতো। কিন্তু এবার আমরা যখন ফ্যাসিবাদের শিকল ভাঙার গান গেয়েছি, তখনই দেশ গড়ার পরিকল্পনা করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘রক্ত ও প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত এই অর্জনকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে পুরোনো ব্যবস্থা দিয়ে সম্ভব নয়, সে কারণেই আমরা রাষ্ট্র কাঠামো ও রাজনীতি মেরামতের কথা বলেছি।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অতীতের কোনো রাজনৈতিক আন্দোলনে লড়াইয়ের আগেই সুনির্দিষ্ট রূপরেখা ছিল না। এমনকি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়েও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তহীনতার একপর্যায়ে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর বাঙালি অফিসার মেজর জিয়াউর রহমানকে এসে ঐতিহাসিক স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে হয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো— শিকল ভাঙার পর আমরা কী করব, তা আমাদের নেতা তারেক রহমান ৩১ দফার মাধ্যমে আগেই নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন এবং সরকার সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে চলছে।

ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ১৭ বছরের লড়াইয়ের কথা স্মরণ করে অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘বিগত দেড় দশকের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং জুলাই যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই দেশ আজ গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরেছে, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটে নির্বাচিত এই সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করতে পেরেছে। আমাদের নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণেই এই গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা সম্ভব হয়েছে।’

তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীর শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. শাহ আলম বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির প্রাক্কালে সেই স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ করা হয়েছে। এতে ফ্যাসিবাদের সময় জেল-জুলুম, অত্যাচার ও আয়নাঘরের ভয় উপেক্ষা করে যারা রাজপথে ছিলেন, তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। ফলে এই সংকলনটি সময়ের একটি স্বচ্ছ আয়না হিসেবে দীর্ঘকাল পাঠক ও গবেষকদের পথ দেখাবে।’

তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ জানান, বিগত ১৭ বছর ধরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে যারা সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন, একাধিক মামলা ও কারাবরণ করেছেন, মূলত তাদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ও স্মৃতি নিয়েই এই বিশেষ বইটি প্রকাশ করা হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে আন্দোলনকারী ও দায়িত্বশীলদের অবদানকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতেই তথ্য অধিদপ্তরের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।


নির্বাচিত

জুলাই শহিদদের কবরের টাকা মেরে খেয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, জুলাই শহীদদের কবর পাকা করতে দুই লাখ টাকা করে বরাদ্দ করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার, তারা সেই টাকাও মেরে খেয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার পরিকল্পিতভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তর গঠন করেনি। ফলে বিএনপি সরকার আসার পর এই অধিদপ্তর গঠন করে কাজ করতে বেগ পেতে হচ্ছে। দলীয় পরিচয়ের কারণে অনেক জুলাই যোদ্ধাকে গেজেটভুক্ত করেনি অন্তর্বর্তী সরকার। আমরা তাদেরকে গেজেটভুক্ত করার জন্য কাজ করছি।

ইশরাক হোসেন বলেন, জুলাই শহীদদের কবর পাকা করতে দুই লাখ টাকা করে বরাদ্দ করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু আমি গিয়ে দেখি কবরের কোনো চিহ্নও নেই। তারা কবরের টাকা মেরে খেয়েছে। এমন অনেক তথ্য আমাদের কাছে আছে, যা প্রকাশ করলে তারা মুখ লুকানোর জায়গা পাবে না।

প্রতিমন্ত্রী ইশরাক বলেন, একমাত্র বিএনপির গণহত্যা বা দেশের বিরুদ্ধে অবস্থানের কোনো ইতিহাস নেই। বিরোধী দলের ইতিহাস কলঙ্কিত বলেই তারা মুছে ফেলতে চায়। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ তা কখনো ভুলবে না।

তিনি বলেন, গতকালের অনুষ্ঠান বানচাল করতে একজন সংসদ সদস্যের নেতৃত্বে মব চালানো হয়। দ্বিমত থাকলে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে সভ্যভাবে তারা প্রতিবাদ জানাতে পারতেন। কিন্তু যেকোনো অজুহাতে তাদের কাল গোলযোগ করার পরিকল্পনা ছিল। তাদের এই আচরণে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সামনে আমাদের সম্মানহানি হয়েছে।


নির্বাচিত

দেশে প্রথম সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান: পরিবেশমন্ত্রী

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে প্রথম সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেছেন, আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা, খাল খনন কর্মসূচি এবং ব্যাপক বৃক্ষরোপণ অভিযানের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে শিখিয়েছিলেন কীভাবে প্রকৃতিকে ভালোবেসে স্বনির্ভর দেশ গড়ে তোলা যায়।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর উত্তরার নওয়াব হাবিবউল্লাহ স্কুল অ্যান্ড কলেজ চত্বরে ঢাকা-১৮ আসনে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, ‘প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে গাজীপুরের শালনায় নিজ হাতে মেহগনির চারা রোপণ করে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযানকে জনগণের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে দিয়েছিলেন। তিনিই ১৯৯৪ সালে জাতীয় বৃক্ষমেলার সূচনা করেন।’ প্রতিটি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, তরুণ এবং যুব সংগঠনকে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ ও নিয়মিত পরিচর্যার আহ্বান জানান তিনি।

সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে ২০৩৫ সালের মধ্যে দেশের বৃক্ষাচ্ছাদন ২৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারিত সময়ের আগেই অর্জন করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, ‘একটি গাছ শুধু অক্সিজেনই দেয় না, এটি আমাদের পরিবেশ রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি প্রতিটি চারার যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে।’ বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের বিষয়ে সবাইকে গুরুত্ব দিতে আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি গাছ টিকিয়ে রাখতে না পারি, তবে আমাদের জীবনও হুমকির মুখে পড়ে যাবে।’ তাই ঢাকা-১৮ আসনের মাঠে-ঘাটে, আনাচে-কানাচে বৃক্ষরোপণ করা হবে বলে ঘোষণা দেন তিনি।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি, বিএনপি ও এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিক এবং সাধারণ মানুষ এতে অংশগ্রহণ করেন।


নির্বাচিত

উটপাখি-এমুর বিরল ডিম দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড়

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

জীবিত পাখির মধ্যে সবচেয়ে বড় ডিম দেয় উটপাখি এ তথ্য অনেকেরই জানা। তবে বাস্তবে সেই বিশাল ডিম কাছ থেকে দেখার সুযোগ খুব কম মানুষেরই হয়। একইভাবে অস্ট্রেলিয়ার উড়তে-অক্ষম পাখি এমুর সবুজাভ-নীল রঙের ডিমও সচরাচর চোখে পড়ে না। সম্প্রতি মৌলভীবাজারের একটি বার্ড পার্কে উটপাখি ও এমু—দুই প্রজাতির পাখির ডিম দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শন করা হচ্ছে, যা দেখতে ভিড় করছেন নানা বয়সের মানুষ।

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের আজমেরু গ্রামে অবস্থিত বার্ড পার্ক অ্যান্ড ইকো ভিলেজে সম্প্রতি উটপাখির দুটি ও এমুর একটি ডিম সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা হয়েছে। দর্শনার্থীরা ডিমগুলো কাছ থেকে দেখার পাশাপাশি হাতে নিয়েও পর্যবেক্ষণের সুযোগ পাচ্ছেন। উটপাখির ধূসর রঙের একটি ডিমের ওজন প্রায় দেড় কেজি। অন্যদিকে এমুর সবুজাভ-নীলচে ডিমটিও আকারে বেশ বড় হওয়ায় সবার দৃষ্টি কাড়ছে।

পার্কে বর্তমানে দুটি উটপাখি ও দুটি এমু পৃথক খাঁচায় রাখা হয়েছে। দর্শনার্থীরা কাছে গেলে পাখিগুলো ধীরগতিতে চলাফেরা করে।

বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, উটপাখি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ও ভারী জীবিত পাখি। পূর্ণবয়স্ক একটি উটপাখির উচ্চতা প্রায় ৮-১০ ফুট এবং ওজন ৬৩-১৪৫ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। তবে ঘণ্টায় প্রায় ৭০ কিলোমিটার বেগে দৌড়াতে সক্ষম। একটি উটপাখির ডিমের ওজন দেড় কেজিরও বেশি হতে পারে, যা প্রায় ২৪টি মুরগির ডিমের সমান।

অন্যদিকে এমু পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম জীবিত পাখি। অস্ট্রেলিয়ার এ উড়তে অক্ষম পাখির উচ্চতা সাধারণত ৫-৬ ফুট এবং ওজন ৪০-৬০ কেজি পর্যন্ত হয়। এমু ঘণ্টায় প্রায় ৫০ কিলোমিটার গতিতে দৌড়াতে পারে। স্ত্রী এমু গাঢ় সবুজ বা নীলাভ-সবুজ রঙের বড় আকারের ডিম পাড়ে, যার ওজন সাধারণত ৫০০-৬০০ গ্রাম। উটপাখির ক্ষেত্রে স্ত্রী ও পুরুষ উভয়েই ডিমে তা দিলেও এমুর ক্ষেত্রে ডিমে তা দেওয়া এবং বাচ্চা লালনের দায়িত্ব মূলত পুরুষ পাখিই পালন করে।

বার্ড পার্ক অ্যান্ড ইকো ভিলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের উদ্যানে উটপাখি ও এমু ছাড়াও দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির পাখি, ময়ূর, টার্কি, ব্ল্যাক সোয়ান, চিত্রা হরিণ, রাজহাঁস, চীনাহাঁস, রঙিন মাছ, কৃত্রিম ঝরনা, বার্ড লার্নিং সেন্টার, কিডস জোন ও ইলিউশন মিউজিয়াম রয়েছে। ফলে প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণীপ্রেমীদের জন্য এটি একটি আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহেদ আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘ভবিষ্যতে এসব ডিম থেকে বাচ্চা ফুটবে বলে তারা আশাবাদী। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য ডিমগুলো সংরক্ষণ করে প্রদর্শনের ব্যবস্থাও রাখা হবে।’


নির্বাচিত

এআই নজরদারিতে নওগাঁর স্বর্ণ ছিনতাই রহস্য উদ্ঘাটন

* ছিনতাইকারি মাইক্রোবাসসহ গ্রেপ্তার ১
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁ জেলা পুলিশের স্থাপন করা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) সংযুক্ত সিসিটিভি ক্যামেরার সহায়তায় আলোচিত স্বর্ণ ছিনতাই মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে।

প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং আন্তঃজেলা সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে যশোর থেকে ছিনতাই চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত কালো রঙের একটি মাইক্রোবাস। গত বুধবার (৫ আগস্ট) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

পুলিশ জানায়, গত ৩০ জুলাই রাতে নওগাঁ শহরের তাজের মোড়ে স্বর্ণ ব্যবসায়ী সুভাষ পালের পথরোধ করে সংঘবদ্ধ একটি চক্র তার কাছে থাকা স্বর্ণ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম সদর থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখাকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

পাশাপাশি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বের হওয়ার পথগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে ব্যাপক যানবাহন তল্লাশি শুরু হয়।

এ ঘটনায় নওগাঁ সদর মডেল থানায় মামলা হওয়ার পর পুলিশ সুপারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা শাখার ইনচার্জ হাসিবের নেতৃত্বে শুরু হয় প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত। তদন্তে জেলা পুলিশের সদ্য স্থাপিত এআইসংযুক্ত সিসিটিভি ক্যামেরাগুলোর ফুটেজ, ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন জেলার টোল প্লাজার তথ্য পর্যালোচনা করে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটি শনাক্ত করা হয়। তদন্তকারীরা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চলাচলের রুটও নির্ধারণ করতে সক্ষম হন।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘তদন্তের সূত্র ধরে গত সোমবার থেকে টানা বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। যশোর জেলা পুলিশের সহযোগিতায় যশোরের কোতোয়ালি এলাকা থেকে চক্রের অন্যতম সদস্য ও মাইক্রোবাসচালক জামাল হোসেন ফুলনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই অভিযানে জব্দ করা হয় ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত কালো রঙের মাইক্রোবাসটি।’

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জামাল জানায়, চার সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে এ ছিনতাই সংঘটিত করে। তিনি জানান, স্বর্ণ ব্যবসায়ী সুভাষ পাল ঢাকা কল্যাণপুর থেকে শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসে নওগাঁর উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পর থেকেই তারা একটি কালো মাইক্রোবাসে করে বাসটিকে অনুসরণ করতে থাকে। বগুড়া হয়ে নওগাঁ পৌঁছানোর পর সুভাষ পাল বাস থেকে নামতেই তাজের মোড়ে তার হাতে থাকা ব্যাগ থেকে আনুমানিক ১৪ ভরি স্বর্ণ ছিনিয়ে নেয় চক্রটি।


নির্বাচিত

ভূঞাপুরে খাল খননে সাশ্রয়, ৪৩ লাখ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৬ আগস্ট, ২০২৬ ২০:৪৬
ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি 

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ৪টি খাল খননের কাজ শেষ করে বরাদ্দের অব্যবহৃত ৪২ লাখ ৭৭ হাজার ৩৩৭ টাকা সাশ্রয় করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন। টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টুর সার্বক্ষণিক তদারকির কারণে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহারের ফলে বরাদ্দের মোটা অঙ্কের এই অর্থ বেঁচে যায় বলে জানান কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে খাল পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ফলদার পাঁচতেরিল্ল্যা, গোবিন্দাসীর খুপিবাড়ী ও অলোয়ার ভারই এলাকায় ৩ হাজার ১৯৫ মিটার খাল পুনঃখননের জন্য ৯০ লাখ ১৬ হাজার ২৬৭ টাকা বরাদ্দ আসে। তার মধ্যে প্রায় ২৮শ মিটার খাল খনন সম্পন্ন করা হয়েছে। এতে খরচ বাদে ৪২ লাখ ৭৭ হাজার ৩৩৭ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেয় উপজেলা প্রশাসন।

স্থানীয় স্কুল শিক্ষক আব্দুল লতিফ তালুকদার বলেন, ‘খাল পুনঃখনন কর্মসূচি প্রকল্প বাস্তবায়নের পর উদ্বৃত্ত নগদ টাকা কোষাগারে ফেরত দেওয়ার ঘটনা বিরল। খাল খননের মাধ্যমে গ্রামীণ জনপদের কৃষিজমিতে সেচ ব্যবস্থা উন্নত হবে, জলাবদ্ধতা কমবে এবং বর্ষার পানি নিষ্কাশন সহজ হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রেও প্রকল্পটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব হাসান বলেন, ‘টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টুর সার্বিক সহযোগিতায় খাল পুনঃখনন কর্মসূচি কাজের সঠিক পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে এবং সরকারি বরাদ্দের নির্ধারিত বাজেট থেকে সাশ্রয়ী হওয়ায় অবশিষ্ট অর্থ রাষ্ট্রীয় তহবিলেই ফেরত দেওয়া হয়েছে।’

টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু বলেন, ‘ভূঞাপুরে বিভিন্ন এলাকায় ৪টি খাল পুনঃখনন কর্মসূচি কাজে শতভাগ স্বচ্ছতা ও সঠিক তদারকির মাধ্যমে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে এবং নির্ধারিত বরাদ্দের অর্থ থেকে সাশ্রয়ী হওয়ায় অবশিষ্ট টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।


নির্বাচিত

লিবিয়া হয়ে ইতালি যাওয়ার পথে শিবচরের যুবকের মৃত্যু

* দালালচক্রের বিরুদ্ধে পরিবারের অভিযোগ
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার এক তরুণ ইতালি যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দেশ ছেড়েছিলেন। পরিবারের ভাগ্য বদলানোর সেই স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত থেমে গেছে লিবিয়ায়। দালালচক্রের প্রতারণা, জিম্মি করে নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগের মধ্যেই প্রাণ হারিয়েছেন ২৫ বছর বয়সি ইকবাল মাদবর। তার মৃত্যুর খবরে পরিবার ও পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

গত বুধবার (৫ আগস্ট) গভীর রাতে শিবচর উপজেলার দক্ষিণ বহেরাতলা ইউনিয়নের সরকারেরচর গ্রামের নিজ বাড়িতে ইকবালের মৃত্যুর খবর পৌঁছায়। নিহত ইকবাল মাদবর ওই গ্রামের মোতালেব মাদবরের ছেলে।

জানা যায়, কয়েক মাস আগে শিবচর উপজেলার বাঁশকান্দি ইউনিয়নের ছলেনামা গ্রামের কয়েকজন দালালের মাধ্যমে ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন ইকবাল। পরিবারের দাবি, প্রথমে ২০-২২ লাখ টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া হয়ে নিরাপদে ইতালি পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর তাকে একটি সশস্ত্র চক্রের হাতে জিম্মি করা হয়।

পরিবারের অভিযোগ, জিম্মি অবস্থায় ইকবালকে মুক্ত করা এবং ইতালিতে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে কয়েক দফায় অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। প্রথমে তাকে ছাড়িয়ে আনার জন্য কয়েক লাখ টাকা নেওয়া হয়। পরে আবার ইতালিতে পাঠানোর কথা বলে আরও টাকা দাবি করা হয়। নিরুপায় হয়ে পরিবার ধাপে ধাপে প্রায় ১৫ লাখ টাকা পরিশোধ করে। কিন্তু এরপরও তাকে মুক্তি দেওয়া হয়নি।

স্বজনদের আরও অভিযোগ, টাকা আদায়ের জন্য ইকবালের ওপর অমানবিক শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো। ভিডিও কলে পরিবারের সদস্যদের সেই নির্যাতনের দৃশ্য দেখিয়ে আরও ২২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। দীর্ঘদিনের নির্যাতনে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে গত বুধবার তার মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছায়।

ইকবালের মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে সরকারেরচর গ্রামে শোকের মাতম শুরু হয়।

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম ইবনে মিজান বলেন, ‘অবৈধভাবে বিদেশ গমন ব্যক্তি, পরিবার ও দেশের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। মানবপাচার ও অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসন জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দালাল চক্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে সর্বদা সচেষ্ট। নিরাপদ, বৈধ ও মর্যাদাপূর্ণ অভিবাসন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, গণমাধ্যম, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।’

এদিকে, এ ঘটনায় জড়িত দালালচক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত, দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।


নির্বাচিত

নানা আয়োজনে দেশজুড়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

যথাযোগ্য মর্যাদা, গভীর শ্রদ্ধা ও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে গত বুধবার দেশজুড়ে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ পালিত হয়েছে। জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সংবর্ধনা, আলোচনা সভা, র‌্যালি ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

বিভিন্ন কর্মসূচিতে বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন ও গণহত্যার বিচারের জোরালো দাবি জানান। দৈনিক বাংলার ব্যুরো, জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর তুলে ধরা হলো;

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান:

বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেছেন, আজও স্বৈরাচারের দোসররা দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে। যারা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চায়, তারা প্রকৃতপক্ষে ফ্যাসিবাদেরই সুবিধা করে দিচ্ছে। তাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া সব গণতন্ত্রকামী ও ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। গত বুধবার বিকালে টাঙ্গাইল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ‘জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক শরীফা হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক (সানু), ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) টাঙ্গাইল জেলা শাখার আহ্বায়ক ডা. এম এ মতিনসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা।

প্রতিমন্ত্রী টুকু বলেন, জুলাই কারও একার নয়, জুলাই বাংলাদেশের সব মানুষের। বিনা কারণে, বিনা অজুহাতে, বিনা ইস্যুতে যদি দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে তার সুবিধা পাবে স্বৈরাচারের দোসর ও ফ্যাসিবাদের অনুসারীরা। তারা আমাদের মধ্যে বিভক্তি দেখতে চায়। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তারা প্রকৃতপক্ষে ফ্যাসিবাদেরই সুবিধা করে দিচ্ছে। এই বিষয়টি সবাইকে মনে রাখতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা বৈষম্য ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন, তাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

বিএনপির ভূমিকার কথা তুলে ধরে টুকু বলেন, বিএনপি কখনো গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে যায়নি। ১৯৭১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিএনপি নেতৃত্ব দিয়েছে। বিএনপি জনগণের দল, জনগণকে সঙ্গে নিয়েই পথ চলে।

তিনি বলেন, এই ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের দীর্ঘ ১৭ বছরে ইলিয়াস আলী থেকে শুরু করে অসংখ্য মানুষ গুম হয়েছেন। আর ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সবচেয়ে বেশি শহীদ হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, জুলাইয়ের চেতনা ছিল একটি গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা আমাদের সবার। সেই প্রত্যাশা পূরণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

সরকারের কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাত্র সাড়ে পাঁচ মাস আগে একটি বিধ্বস্ত অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। বাজেট পাস হয়েছে, কাজ শুরু হয়েছে। জনগণ যে প্রত্যাশা নিয়ে বিএনপিকে নির্বাচিত করেছে, ইনশাআল্লাহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সেই প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হবেন।

জুলাই যোদ্ধাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা কর্মসংস্থানের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। আমার অবস্থান থেকে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব। এছাড়া আমি টাঙ্গাইলের নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে বলতে চাই, সরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত কার্ডধারী প্রত্যেক জুলাই যোদ্ধার বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেব।

তিনি আরও বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই চেতনাকে বুকে ধারণ করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব যাতে কোনোভাবেই অন্যের হাতে ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

এর আগে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। আহত জুলাই যোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্য এবং উপস্থিত অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে জেলার ১২টি উপজেলার ৩০ জন জুলাই যোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য রাখেন। পরে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

এর আগে সকালে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে টাঙ্গাইলে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচির সূচনা হয়। দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসন বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করে।

খুলনা ব্যুরো জানান : খুলনায় যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষ্যে সকালে শিববাড়ি জুলাই শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাইযোদ্ধারা, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা ও মহানগর ইউনিট, খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল, খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারী, বিভাগীয় কমিশনার মো: আবদুল্লাহ হারুন, রেঞ্জ ডিআইজি মো: মোস্তাফিজুর রহমান, পুলিশ কমিশনার মো. সাজ্জাদুর রহমান, কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, কেডিএ চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল আলম, ওয়াসার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, পুলিশ সুপার, জেলা পরিষদ, সরকারি বিভিন্ন দপ্তর, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ। পরে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি এবং নগরীর বসুপাড়া কবরস্থানে জুলাই শহিদ শেখ সাকিব রায়হানের কবর জিয়ারত করা হয়।

এ উপলক্ষ্যে খুলনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জুলাই শহিদ পরিবার, আহত এবং জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারী।

সভায় প্রধান অতিথি বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া যোদ্ধারা ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের মাধ্যমে দেশকে গণতন্ত্র ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে নেওয়ার অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন। বৈষম্যহীন, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে তারা এ গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করেছিলেন। যুবসমাজ জাতি গঠনের অন্যতম চালিকাশক্তি। তাদের ইতিবাচক ভূমিকার মাধ্যমে দেশকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। তিনি আরও বলেন, কোনো বিষয়ে অভিযোগ থাকলে তা সংশোধনের চেষ্টা করা হবে। তবে কেউ যদি অন্যায় বা অনৈতিক কর্মান্ডে জড়িত থাকেন, তাহলে তাকে আইনের আওতায় এনে জবাবদিহির ব্যবস্থা করা হবে। তিনি সকল স্তরের দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, দায়িত্ব পালনে গাফিলতি করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত। সভায় পুলিশ কমিশনার মো. সাজ্জাদুর রহমান, রেঞ্জ ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, ওয়াসার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, শহীদ শেখ মো. সাকিব রায়হানের পিতা শেখ আজিজুর রহমান, মাথা নূরনাহার, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত, নিহত পরিবারের সদস্যগণ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ও রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

শিববাড়ি মোড়, শহীদ হাদিস পার্ক, ময়লাপোতা মোড়, জোড়াগেট, গল্লামারী খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন, রূপসা মোড়, নতুন রাস্তা, গুরুত্বপূর্ণ স্থানসহ খুলনা সিটি করপোরেশনের মিনিপোলগুলোতে জুলাই আন্দোলনের ওপর বস্তুনিষ্ঠ ও নৈর্ব্যত্তিক দুর্লভ আলোকচিত্র/প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। বাদ যোহর মসজিদসমূহে বিশেষ মোনাজাত এবং মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে শহিদদের আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগিতা, প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে বিকালে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে প্রীতি ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। শহিদ হাদিস পার্ক ও শিবাবাড়ি মোড়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক সরবরাহকৃত চলচ্চিত্র বা প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলার সরকারি-বেসরকরি-স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার জাদুঘরসমূহ বিনা টিকিটে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা এবং সরকারি-বেসরকারি বিনোদনমূলক স্থান শিশুদের জন্য উন্মুত্ত রাখা ও বিনা টিকিটে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়। দুপুরে সকল সরকারি হাসপাতাল, জেলখানা, শিশু পরিবার, শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র, প্রতিবন্ধী কল্যাণ কেন্দ্র, ডে-কেয়ার, শিশু বিকাশ কেন্দ্র ও ভবঘুরে প্রতিষ্ঠানসমূহে প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়। দিনব্যাপী শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপসমূহ জাতীয় পতাকাসহ বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন ও রঙিন নিশানা দ্বারা সজ্জিত করা হয়। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রচনা, আবৃত্তি, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আলোকসজ্জা এবং গ্রাফিতি অঙ্কন করা হয়।

খুকৃবিতে নানা আয়োজনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপিত :

খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুকৃবি) অস্থায়ী ক্যাম্পাস-১-এ যথাযোগ্য মর্যাদা ও নানা আয়োজনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপিত হয়েছে।

গত বুধবার সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে অস্থায়ী ক্যাম্পাস-১-এ জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচির সূচনা হয়। পরে সকাল ৯টায় রচনা প্রতিযোগিতা, সকাল ১০টায় জুলাই স্মৃতি স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং সকাল ১১টায় কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাস-১-এর পার্শ্ববর্তী মসজিদ ও এতিমখানায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া মাহফিল এবং মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।

বিকেল ৩টায় অস্থায়ী ক্যাম্পাস-১-এর অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকার। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ট্রেজারার প্রফেসর ড. শামীম আহামেদ কামাল উদ্দিন খান, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) রেজাউল ইসলাম, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চোখ হারানো জুলাই যোদ্ধা হাসিব রহমান অভিকসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

মাহবুব পিয়াল, ফরিদপুর থেকে জানান : ফরিদপুর শহরের ঝিলটুলিস্থ ‘স্বপ্ন ছোঁয়া কমিউনিটি সেন্টারে’ ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ- ড্যাব ফরিদপুর জেলা শাখার উদ্যোগে ৩৬শে জুলাই স্মরণসভা ও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি-এর সৌজন্যে ‘ডেঙ্গু জ্বরের ব্যবস্থাপনা’ (Management of Dengue Fever) বিষয়ক সায়েন্টিফিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। ড্যাব ফরিদপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান (শামীম)-এর সভাপতিত্বে এবং ডা. এ.এফ.এম.কামাল এর সঞ্চালনায় গত বুধবার রাত ৯ টায় জাঁকজমকপূর্ণ এই অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়।

‘৩৬ জুলাই এর শক্তি, প্রেরণার অঙ্গীকার, স্বাস্থ্যসেবায় আমাদের পথচলা’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল ডেঙ্গুরোগের চিকিৎসা ও সচেতনতাবিষয়ক সায়েন্টিফিক সেমিনার। সেমিনারে ‘কী-নোট স্পিকার’ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা উপস্থাপন করেন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপালও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. খান মো. আরিফ।

তিনি ডেঙ্গুজ্বরের আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি এবং এর সঠিক ও সময়োপযোগী রোগ নির্ণয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার উপস্থাপিত নির্দেশিকা ও স্লাইড অনুযায়ী, ডেঙ্গুরোগীর সঠিক রোগ নির্ণয়, শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং রোগীর সমস্যাভেদে চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানে ‘কর্পোরেট স্পিকার’ হিসেবে বক্তব্য রাখেন বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্র্যান্ড এক্সিকিউটিভ রাফসান বিনতে আশরাফ। সেমিনারে ফরিদপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে কর্মরত প্রায় দেড় শতাধিক ডাক্তার অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিত চিকিৎসকগণের সাথে ডেঙ্গু পরিস্থিতির বর্তমান রূপ ও চিকিৎসকদের করণীয় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করা হয়।

এর পর ঐতিহাসিক ‘৩৬ জুলাই উপলক্ষে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ -ড্যাব ফরিদপুর জেলা শাখার আয়োজনে স্মরণসভায় বক্তব্য রাখেন সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান, অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান শামীম, ডা. তানসিভ জুবায়ের নাদিম, ডা. আলী আকবর হালদার, ডা. মৃধা মো. শাহিনুজ্জামান, ডা. নুরুল ইসলাম রানা, ডা. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, ডা. এনামুল হক, ডা. সাকি খান, ডা. আল আমিন সারোয়ার, ডা. নিসাত চৌধুরী ও ডা. তানজিল আবির ।আলোচনা সভায় বক্তারা বিগত ১৭ বছর ধরে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ সরকারের অমানবিক ও নানামুখী নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরেন। ড্যাব নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘ কর্মজীবনে স্বৈরাচারী শাসনের কারণে পেশাগত ক্ষেত্রে তারা চরম বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। পরে জুলাই শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

এছাড়াও ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজে আলোচনা সভা : জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন উপলক্ষে ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বুধবার বেলা ১১টায় সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ ক্যাম্পাসে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর কাজী নুরে আলম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে এবং হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. শামসুর রহমানের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এসএম আবদুল হালিম।

এসময় কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মো. ওবায়দুর রহমান, শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক মো. শাহিনুর ইসলাম, অর্থনীতি বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর নুরুল ইসলাম খান, ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক রাশিদুল ইসলাম, রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল হক, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি পারভেজ খান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাহিম, সিনিয়র সহ-সভাপতি এম মামুনুর রহমান সহ অনেকেই বক্তব্য রাখেন। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে জুলাই যোদ্ধাদের আত্মার মাত্রা কামনায় দোয়া ও দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এছাড়া জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।

এর আগে সকাল ১০ টায় ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান করেন কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

পরে আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য, ছাত্র নেতৃবৃন্দ পক্ষ থেকে বক্তব্য, জুলাই যোদ্ধাদের পক্ষ থেকে বক্তব্য, শিক্ষকবৃন্দের মধ্য হতে বক্তব্য, অতিথিদের বক্তব্য এবং সভাপতির সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি জানান: গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পুর্তি উপলক্ষে ঝিনাইদহে গণসমাবেশ করেছে ১১ দলীয় ঐক্য জোট। গত বুধবার বিকেলে শহরের পায়রা চত্বরে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর আব্দুল আলীমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঝিনাইদহ জেলা আমীর আলী আজম মো. আবুবকর।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা সেক্রেটারি আব্দুল আওয়াল, সহকারী সেক্রেটারি তাজুল ইসলাম, সদর উপজেলা আমীর ড.হাবিবুর রহমান, হরিনাকুন্ডু উপজেলা আমীর বাবুল হোসেন, শৈলকূপা উপজেলা আমীর মতিউর রহমান, শহর আমীর অ্যাডভোকেট ইসমাইল হোসেন, গান্না ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ড. মনোয়ার হোসেন, এনসিপির জেলা সদস্য সচিব সামছিল আরেফিন কায়সার, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা সভাপতি সাইদুর রহমান প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই সনদ কার্যকর এবং জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের নেতাকর্মী, সমর্থকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি জানান: দিবসটি উপলক্ষে কেশবপুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা, বিভিন্ন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ এবং জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। গত বুধবার উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. মোক্তার আলী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাজী মো. মেশকাতুল ইসলাম, কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রোকসানা খাতুন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মো. আব্দুর রাজ্জাক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেশবপুর উপজেলা নায়েবে আমির মো. সাঈদুর রহমান সাঈদ, এনসিপির আহ্বায়ক সম্রাট হোসেন এবং জুলাই যোদ্ধা মেরাজ হোসেন ও মাশরাফি। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য এবং সুধীজন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। জনগণের অধিকার, ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা এই আন্দোলনের মূল প্রেরণা। তারা তরুণ প্রজন্মকে দেশপ্রেম, মানবিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক চর্চা সমুন্নত রেখে দেশ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. মোক্তার আলী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান জনগণের অধিকার, আত্মমর্যাদা ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। শহীদদের আত্মত্যাগ ও আহতদের অবদান জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তিনি নতুন প্রজন্মের কাছে এ ইতিহাস তুলে ধরতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে পারস্পরিক সহনশীলতা, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং জনগণের কল্যাণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের মূল শিক্ষা হলো জনগণের অধিকার, ন্যায়বিচার ও সুশাসনের প্রতি অঙ্গীকার। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্ম যাতে ইতিহাস সম্পর্কে সঠিক ধারণা লাভ করতে পারে, সে লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করছে। তিনি শিক্ষার্থী ও তরুণদের শৃঙ্খলা, মানবিকতা ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রেখে দেশ গঠনে আত্মনিয়োগের আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথিদের বক্তব্যে আইনের শাসন, জবাবদিহিতা, সেবামুখী প্রশাসন, সামাজিক সম্প্রীতি, গুজব প্রতিরোধ, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা জনগণের অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ন্যায়, ইনসাফ, সততা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে একটি বৈষম্যহীন, মানবিক বাংলাদেশ গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

জুলাই যোদ্ধা মেরাজ হোসেন ও মাশরাফি তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি ও আত্মত্যাগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করবে। তারা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে দেশের কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অবদান রাখা জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। অতিথি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, ‘জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্য বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেম, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মানবাধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয় আরও সুদৃঢ় হবে।

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি জানান: মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন পালন করা হয়েছে। গত বুধবার উপজেলা পরিষদের হল রুমে দিবস উপলক্ষে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রণয় বিশ্বাস, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু মাসুদ, থানার ওসি জহিরুল ইসলাম মুন্না, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সজল, সাবেক আহ্বায়ক রেদওয়ান খান, উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মোঃ আব্দুল মুন্তাজিম প্রমুখ। পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক আতিকুল ইসলামের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক শাহ আলম সরকার, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুরাইয়া রহমান ইতি, জমিয়ত ইসলামের সাধারন সম্পাদক মাওঃ নেজাম উদ্দিন, উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব গিয়াস মোল্লা, উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক শাহ সুলতান আহমদ টিপু, সদস্য সচিব মো. সাইফুর রহমান, যুগ্ন আহবায়ক মাসুদ রানা, কুলাউড়া কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক মৌসুম সরকার, জাসাস উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সালমান হোসেন, কুলাউড়া কলেজ ছাত্রদলের আহব্বায়ক হাবিবুর রহমান টিপু, যুগ্ন আহবায়ক শামীম আহমদ, যুগ্ম আহবায়ক সাইদুর রহমান নিশান, সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মেহেদী হাসান খান, জুলাই যোদ্ধা শেখ বদরুল হোসেন রানা, ছায়েম আহমদ, লিংকন আহমদ প্রমুখ।

পরে কুলাউড়া শিশু একাডেমির আয়োজনে উপজেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মো. আবুল বাসারের সঞ্চালনায় শিশু কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

কুলাউড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ঃ ঐতিহাসিক ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে কুলাউড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে রচনা, আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। প্রতিযোগিতা শেষে প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল মতিনের সভাপতিত্বে এবং সহকারী শিক্ষক রামকৃষ্ণ চক্রবর্তীর উপস্থাপনায় বিদ্যালয়ের হল রুমে আলোচনা সভায় অংশ নেন সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. জসিম উদ্দিন সহ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক -শিক্ষিকা বৃন্দ।

পরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণ ছাত্রীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল মতিন। সভাশেষে সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা মোঃ ছদরুল আলমের পরিচালনায় শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে অনুষ্ঠিত হয় দোয়া মাহফিল।

কুলাউড়ার অগ্রণী উচ্চ বিদ্যালয়ঃ অগ্রণী উচ্চ বিদ্যালয়ে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস দিবস পালন করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রচনা, কবিতা আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পাশাপাশি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় প্রধান শিক্ষক মো. মন্তাজ আলীর সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র শিক্ষক এরশাদ হোসাইন, ফণীভূষণ চন্দ, সঞ্জয় দেবনাথ, শফিকুল ইসলাম জুয়েল, নূর ইসলাম, জয়রাজ উল্ল্যা, মীরা শর্মা, আবুল কাশেম, নজরুল ইসলাম, অজয় মালাকার, সাজু, সুস্মিতা গোয়ালা।

সিনিয়র শিক্ষিকা আফিয়া বেগমের সার্বিক তত্ত্বাবধানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মারজান, তাসনিমা আহমেদ, সাবিহা জুমায়রা আল সফর।

সভায় বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম এবং নতুন প্রজন্মের দায়িত্ব ও করণীয় বিষয়ে আলোকপাত করেন। পরে রচনা, কবিতা আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি জানান: মৌলভীবাজারেও পালিত হয়েছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’। দিবসটি উপলক্ষে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা বর্ণাঢ্য কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।

কর্মসূচির শুরুতে সকালে মৌলভীবাজারস্থ ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে’ পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল সহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পুলিশ প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রতিনিধি এবং সাধারণ জনগণ উপস্থিত থেকে বীর শহীদদের আত্নার মাগফিরাত কামনা করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ‘জুলাই যোদ্ধা’ ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের এক সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এক তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও বীর শহীদদের অবদানের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি জানান: ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করেছে সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপি র অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে। এ উপলক্ষে বুধবার সারাদিনব্যাপী শহরে বর্ণাঢ্য গণমিছিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

গণমিছিলটি জেলা বিএনপির কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরে জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ আবদুল গফুর সরকারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শাহীন আখতার শাহীনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা (৩০৭) আসনের এমপি বিলকিস ইসলাম।

বিশেষ অতিথি ছিলেন, বিএনপি নেতা আলহাজ শওকত চৌধুরী,জুলাই আন্দোলনের শহীদ সাজ্জাদের পিতা বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সহ সভাপতি কাজী একরামুল হক, শফিকুল ইসলাম জনি, জিয়াউল হক জিয়া, সি. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এরশাদ হোসেন পাপ্পু, শামসুল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন প্রামাণিক,এম এ পারভেজ লিটন, মনোয়ার হোসেন মন্টু, প্রচার সম্পাদক আবু সরকার, উপজেলা বিএনপি সভাপতি হাফিজুল ইসলাম হাফিজ, সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান কার্জন,

বিএনপি নেতা জুয়েল চৌধুরী, আনিসুল হক চৌধুরীসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

বক্তারা এসময় বলেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার,দেশপ্রেম ও সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। এমপি বিলকিস ইসলাম বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধকে আরও শক্তিশালী করার প্রেরণা দেয়। দেশ গঠনে তরুণ সমাজকে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে হবে। সভা শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁদের আত্মত্যাগের আদর্শে বৈষম্যহীন,গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

সাঁথিয়া(পাবনা) প্রতিনিধি জানান: পাবনার সাঁথিয়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন উপলক্ষে বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে বুধবার বিকেলে গণর‌্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।র‌্যালিটি উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

র‌্যালি শেষে জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামের সামনে সাঁথিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি কেএম মাহবুব মোর্শেদ জ্যোতির সভাপতিত্বে এবং পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-১আসনের বিএনপি মনোনিত প্রার্থী ও সাঁথিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ভিপি শামসুর রহমান। ।

আরোও বক্তব্য দেন,উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ফজলুল বারী সান্টু,সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলী,হারুন অর রশিদ মজনু, ইদ্রিস আলী মুন্সি, পৌর বিএনপির সাংঠনিক সম্পাদক আশিক ইকবাল রাসেল,সাবেক আহবায়ক সিরাজুল ইসলাম বন্দে,সাবেক যুগ্ম আহবায়ক আবুল কালাম আজাদ, শামসুজ্জামান নান্নু, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক ইলিয়াস আহম্মেদ বিপ্লব, ধোপাদহ ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক কামুরুজ্জামান সেলিম, বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।

রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি জানান: ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে রাউজানে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এই সভায় সরকারি কর্মকর্তা ছাড়াও জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সুধীজন অংশগ্রহণ করেন। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস. এম. রাহাতুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুম কবির, রাউজান থানার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাদ কামাল, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জয়িতা বসু, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন ফাহিম, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মিন্টু বড়ুয়া, উপজেলা মাধ্যমিক সুপারভাইজার সজল চন্দ্র চন্দ, রাউজান প্রেস ক্লাবের সভাপতি কাজী সরোয়ার খান মনজু এবং উরকিরচর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরমান হোসাইন। সভায় বক্তারা বলেন, ২৪ শের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থান দিবস গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, জনগণের অধিকার এবং দেশ গঠনে নাগরিক দায়বদ্ধতার চেতনাকে সন্মুন্নত রেখে নতুন বাংলাদেশকে এই প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার উপর গুরুত্বারোপ করেন। দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, ঐক্য ও উন্নয়নের সকলে একযোগে কাজ করে নতুন বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার আহ্বান জানান।

মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি জানান: কুমিল্লার মুরাদনগরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের রুহের মাগফিরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনায় দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত বুধবার সকালে উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে উপজেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক আহমেদ বাদশার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জন।

এ সময় বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া, নজরুল ইসলাম, আমজাদ আলী তসু ও শহীদুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক খাইরুল হাসান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাজিম উদ্দিন, নবীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হেদায়েত হোসেন, ধামঘর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন এবং জুলাই যোদ্ধা মীর জাহিদ হাসান সম্রাট ও নাহিদুল ইসলাম নাঈম।

বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী যোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং শহীদদের রুহের মাগফিরাত ও আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। একই সঙ্গে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর-বাঙ্গরা) আসনের ছয়বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ্ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের আশু সুস্থতা কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।

অঅনুষ্ঠান দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন উপজেলা হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির হাফেজ আমিনুল ইসলাম।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সদস্য কামাল মাস্টার, জাসাসের আহ্বায়ক আবুবকর, কুমিল্লা উত্তর জেলা কৃষক দলের সদস্য আলাউদ্দিন, উপজেলা যুবদলের সদস্য মাসুম মুন্সী, বিএনপি নেতা ওমর ফারুক সোহাগ, ওমর আলী, ইকবাল হোসেন, নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বিল্লাল হোসেনসহ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

​সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি জানান: ​ঐতিহাসিক ৩৬ জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপন উপলক্ষে সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আলোচনা এবং শহীদদের স্মরণে এক দোয়া মাহফিল করেছে ‘চাঁদের আলো গ্রুপ ’।

​বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেলে চাঁদের আলো গ্রুপের প্রধান কার্যালয় জোড়গাছা মধ্যপাড়ায় হলরুমে এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

গ্রুপের আঞ্চলিক শাখা ব্যবস্থাপক মনজুরুল হকের সভাপতিত্বে ও এরিয়া ম্যানেজার জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, চাঁদের আলো গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক মো. মহিদুল হাসান

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, "জুলাই গণঅভ্যুত্থান শুধু ক্ষমতার রদবদল নয়, বরং এটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার এক অভূতপূর্ব জাগরণ। এই নতুন বাংলাদেশে ন্যায়বিচার, সাম্য ও বাকস্বাধীনতা রক্ষায় ‘চাঁদের আলো’-র মতো সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।’

​উক্ত মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমিতির আর.এম.ও মনজুরুল হক, এরিয়া ম্যানেজার হেলাল উদ্দিন। এছাড়া ‘চাঁদের আলো সমিতির’ শাখা ব্যবস্থাপক ও ফিল্ড অফিসার উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে আহত বীরদের দ্রুত সুস্থতা ও শহীদ পরিবারগুলোর যথাযথ মূল্যায়নের দাবি জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

ভৈরব ( কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান: ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে পরাজিত শক্তিরা দেশে-বিদেশে ষড়যন্ত্র করে দেশের বর্তমান সরকারকে নানাভাবে বাধাগ্রস্ত করছে। তারা যাচ্ছে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের নির্বিচারে গুলি করে হত্যার বিচারের জন্য সরকার কাজ করছে তাই সেই বিচার কার্যকে বাধাগ্রস্ত করতেই ষড়যন্ত্র করছে। গত বুধবার বিকালে ভৈরব শহরের স্থানীয় একটি কমিউনিটি সেন্টারে উপজেলা ও পৌর বিএনপির আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে তার বক্তব্যে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ সরকারের পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।

এসময় তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে দেশে ছাত্র-জনতা জুলাই আন্দোলন না হলে দেশে থেকে ফ্যাস্টিট সরকারের পতন হতো। এই আন্দোলনের মাধ্যমেই দেশের জনগণ তাদের ভোটের অধিকার ফিরে পেয়েছেন। আমরা জনগণের সেই অধিকার ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছি। তাই বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাস্টিট হাসিনার নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বিচারে ছোড়া গুলিতে নিহত শহিদদের বিচার বাংলার মাটিতেই হবে। তাই আমাদের দলীয় নেতৃবৃন্দসহ সমাজের সকল সুশীল ও সাংবাদিকদের সচেতন থাকতে হবে। কারণ বর্তমান সরকারকে ব্যর্থ করতেই পরাজিতরা দেশে বিদেশে ষড়যন্ত্রের লিপ্ত রয়েছে।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি হাজী মো.শাহিন, সাধারণ সম্পাদক মো. মুজিবুর রহমান ও স্থানীয় জুলাই যোদ্ধাগণসহ দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সিংগাইর(মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান: জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জুলাই স্মৃতি স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বধুবার সকাল সকাল ১০ টার দিকে উপজেলার তালেবপুর ইউনিয়নে অবস্থিত জুলাই শহীদ তুহিন স্মৃতি স্তম্ভে এবং ধল্লা ইউনিয়নে অবস্হিত জুলাই শহিদ সাদ মুরাদ স্মৃতি স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী অফিসার খায়রুন্নাহার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. হাবেল উদ্দিন, সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)মো.মাজহারুল ইসলামসহ জুলাই যোদ্ধা সংসদ উপজেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ ও জুলাই শহীদদের পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাগণ। পরে বেলা ১১টার দিকে এ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা নির্বাহী অফিসার খায়রুন্নাহারের সভাপতিত্বে জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. হাবেল উদ্দিন, সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মো.মাজহারুল ইসলাম, কৃষি কর্মকর্তা মো.কিশোর আহমেদ, সিংগাইর পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম গোলাম রাব্বানী, জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মো. আলাউদ্দিন, জেলা খেলাফত মজলিসের সহ-সভাপতি আশরাফ আলী, উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. সফিউদ্দিনসহ জুলাই যোদ্ধা পরিবারের সদস্য প্রশাসনের কর্মকর্তা, কর্মচারি ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

কটিয়াদীতে তিতাসের পাইপলাইনে অবৈধ সংযোগ, ৫ কোটি টাকা ক্ষতির মামলা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাকিবুল হাসান রোকেল, কিশোরগঞ্জ

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে তিতাস গ্যাসের মূল পাইপলাইনে অবৈধ সংযোগ নেওয়ার ঘটনায় মাজহারুল ইসলাম মিলন নামের এক ইউপি সদস্যের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী ওই ইউপি সদস্যের ছত্রচ্ছায়া এবং তিতাস গ্যাসের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে অবৈধ গ্যাস সংযোগের একটি চক্র গড়ে ওঠে। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাজহারুল ইসলাম মিলন। অন্যদিকে প্রশাসনের দাবি, তদন্তে স্থানীয় একটি চক্রের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় গত ৩ আগস্ট রাতে দুজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১০ জনকে আসামি করে ৫ কোটি ৪০ লাখ টাকার ক্ষতির অভিযোগ তুলে মামলা দায়ের করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে সুনামগঞ্জের ছাতক থেকে দেলোয়ার হোসেনসহ কয়েকজন কাজিরচরে একটি চুনাপাথরের কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুরো প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করেন মসূয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মাজহারুল ইসলাম মিলন। তার সহযোগিতায় জমি ভাড়া, শ্রমিকদের থাকার ব্যবস্থা এবং কারখানার কার্যক্রম শুরু হয়।

সূত্রটি জানায়, কারখানার শ্রমিকদের একটি অংশ স্থানীয় খোকন মিয়ার বাড়িতে থাকতেন। সেই থাকার ব্যবস্থাও করে দেন ইউপি সদস্য মিলন।

তবে তিতাস-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ মামলায় উল্লেখিত অঙ্কের চেয়ে অনেক বেশি। একই সঙ্গে দুটি জমির মালিকের সঙ্গে কারখানা কর্তৃপক্ষের চুক্তি থাকলেও মামলায় একজনের নাম রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রহস্যজনকভাবে মামলা থেকে বাদ পড়েছে ইউপি সদস্য মাজহারুল ইসলাম মিলন ও তার ফুফাতো ভাই সুলতান উদ্দিনের নাম।

স্থানীয়রা জানান, কারখানার মালিকদের সঙ্গে প্রথম চুক্তিটি করেছিলেন কাজিরচর গ্রামের সুলতান উদ্দিন। পরে তার মাধ্যমে আরেকটি চুক্তি করেন তার চাচাতো ভাই সুমন মিয়া। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার বাজনা মহাল এলাকার দেলোয়ার হোসেনকে। অপর আসামি করা হয়েছে কাজিরচর গ্রামের সুমন মিয়াকে। তবে প্রথম চুক্তিকারী সুলতান উদ্দিনের নাম মামলায় নেই।

স্থানীয়দের দাবি, যেসব জমির নিচ দিয়ে অবৈধ গ্যাসলাইন নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে মাজহারুল ইসলাম মিলন, সুলতান উদ্দিন ও সুমন মিয়ার জমিও রয়েছে। তাদের দাবি, জমির মালিকদের অজান্তে বা অনুমতি ছাড়া এভাবে মাটি খুঁড়ে গ্যাসলাইন স্থাপন করা সম্ভব নয়। তাই তারা বিষয়টি জানতেন এবং নীরব ভূমিকা পালন করেছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চুনাপাথরের কারখানার আড়ালে তিতাসের মূল পাইপলাইনে ছিদ্র করে অবৈধ গ্যাস সংযোগ নেওয়া হয়। প্রায় দেড় মাস আগে পাইপলাইনে লিকেজ দেখা দিলেও তা গোপন রেখে মেরামতের চেষ্টা করা হয়। তাদের দাবি, তিতাস গ্যাসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে লিকেজ ভয়াবহ আকার ধারণ করলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

পরে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করলেও এখনো পুরোপুরি লিকেজ বন্ধ করতে পারেনি। যারা রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট করেছে, তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।’

স্থানীয় বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, ‘আমরা জানতাম এখানে একটি চুনাপাথরের কারখানা হচ্ছে। রাতের অন্ধকারে কাজ হওয়ায় কেউ বিস্তারিত বুঝতে পারেনি। পরে বর্ষায় নদীতে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বুদবুদ আকারে গ্যাস বের হতে দেখে এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়। বিষয়টি তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে তারা কাজ শুরু করে। তবে এখনো পুরোপুরি লিকেজ বন্ধ হয়নি। প্রায় দেড় মাস আগে লিকেজের ঘটনা ঘটলেও গত ১৫ দিন ধরে আরও বেশি গ্যাস বের হচ্ছে।’

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মাজহারুল ইসলাম মিলন বলেন, ‘জমির মালিকেরাই কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তি করেছেন। এ ঘটনায় আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’

মসূয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি আগে কিছু জানতাম না। কয়েকদিন আগে বিষয়টি জানতে পারি। তবে এই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মাজহারুল ইসলাম মিলনও আমাকে কিছু জানাননি। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করি। তার নির্দেশে প্রয়োজনীয় চুক্তিপত্র প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। কারখানাটির কোনো ট্রেড লাইসেন্সও নেওয়া হয়নি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দলের কেউ জড়িত থাকলেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিতাস গ্যাসের কিশোরগঞ্জ জোনাল অফিসের ম্যানেজার মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘লিকেজের খবর পাওয়ার পরই মেরামতের কাজ শুরু করা হয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তিতাসের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কটিয়াদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাবনী আক্তার তারানা বলেন, ‘তদন্তে স্থানীয় একটি চক্রের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

কটিয়াদী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলার পর অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


নির্বাচিত

হোগলপাতিয়ায় অবৈধ ড্রেজারের আগ্রাসন, নিঃস্ব অর্ধশত পরিবার

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাদারীপুর প্রতিনিধি

মাদারীপুরে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে নদীর তীরবর্তী তলদেশ থেকে বালু ও মাটি কেটে নেয়ায় প্রায় অর্ধশত পরিবার তাদের ভিটেমাটি, বাড়িঘর ও ফসলি জমি হারিয়ে এখন নিঃস্ব প্রায়। অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে রাতের আধারে বালু ও মাটি কেটে নেয়া হচ্ছে- এমন তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের হোগলপাতিয়া ও চরহোগলপাতিয়ার আড়িয়ালখাঁ নদীর তীরবর্তী দুর্গম এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শন ও তথ্য সংগ্রহকালে এমন দৃশ্য বাস্তবে দেখা গেছে।

সেখানকার ভুক্তভোগী অনেকগুলো পরিবার জানান, বছরের বেশিরভাগ সময় রাত ৮টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত দুই-তিনটি ইঞ্জিনচালিত ড্রেজার লাগিয়ে বালু-মাটি কেটে নিচ্ছে প্রভাবশালী মহল। প্রশাসন ও মানুষের চোখে ধোঁকা দিতে দিনের বেলায় উক্ত ড্রেজার মেশিন ও বালুমাটি টানা বোটগুলো অন্যত্র সরিয়ে রাখা হয়। কে বা কারা এগুলো কেটে নিচ্ছে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সেখানকার ভূক্তভোগীরা বলেন, ‘আমাদের ঘাড়ে কয়টি মাথা যে, আমরা ক্ষমতাবান ও প্রভাবশালী এসব অবৈধ ড্রেজার মালিকদের নাম বলে দিয়ে স্ত্রী-সন্তান ও পরিবার নিয়ে এখানে বসবাস করতে পারব? বরং নাম বলে দিলে আমাদের জীবনটা পর্যন্ত চলে যেতে পারে, আমাদের মেরে ফেলতে পারে’।

তারা আরও বলেন, প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হয় দুই-তিনটি ড্রেজার দিয়ে মাটি ও বালু কাটার কাজ এবং সেগুলো রাতের আঁধারেই ২৫/৩০টি ছোট-বড় ইঞ্জিনচালিত ট্রলার দিয়ে মাদারীপুর সদর সহ বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে গিয়ে বিক্রি করা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন জানান, চরহোগলপাতিয়ার চৌকিদার মাসুদ হাওলাদার, তার ভাই তৈয়ব হাওলাদার সহ পার্শ্ববর্তী মুজাম সরদার ও তাদের সাঙ্গ-পাঙ্গদের নেতৃত্বে এই ড্রেজার পরিচালিত হয়, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলেই পাওয়া যাবে ড্রেজারমালিক গডফাদারদের পরিচয়।

ইতিমধ্যে অনেকের ঘরবাড়ি বহুবার ভাঙ্গণের মুখে পড়াসহ ফসলি জমি, কলাবাগান, আপেলকূল বাগান, সব্জির বাগান সহ দামী সব গাছপালা নদীগর্ভে চলে গেছে। ভিটামাটি হারিয়ে অনেকে অন্যত্র বাড়ীঘর বানিয়ে বসবাস করছেন। ভুক্তভোগীদের মধ্যে আ. ছোবহান তালুকদার, ইউনুছ হাওলাদার, কুতুব আকন, এনামুল আকন, মোসলেম হাওলাদর, শহীদুল আকন সহ অন্যান্যরা জানান, এর আগেও তারা বিষয়টি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ প্রশাসনকে জানিয়েছে কিন্তু প্রতিকার পায়নি। তারা আরও বলেন, অবৈধ এসব ড্রেজার কার্যক্রম বন্ধ না হলে যে কোনো সময় তাদের বর্তমান বাড়ীঘর সহ বাকী জমিজমাগুলোও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

এহেন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে মাদারীপুর জেলা প্রশাসক মিস মর্জিনা আক্তারের কাছে একাধিক সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘বিষয়টি তাদের নজরেও এসেছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং এতদসংক্রান্ত মানবিক এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির ব্যাপারে আইননানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে’। তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সহ সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দ ও সচেতন মহলকে তাকে সহযোগিতার অনুরোধ জানান।


নির্বাচিত

banner close