‘রাজাকার-আলবদর থাকে আজ রাজপ্রাসাদে, আমি শহীদুল ইসলাম বীরপ্রতীক থাকি একটা কুইড়াঘরে (কুঁড়েঘরে) তার কারণ কী?’ ক্ষোভে ২০০৩ সালে ধারণ করা এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে এমনটাই বলেছিলেন দেশের সর্বকনিষ্ঠ বীরপ্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা, টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার সূতী গ্রামের হেলাল উদ্দিনের ছেলে শহীদুল ইসলাম। অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারে জন্ম হলেও অনেক সাহসী ও বুদ্ধিমান ছিলেন। তাই তো দেশকে হানাদার মুক্ত করতে ১২ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন কাদেরিয়া বাহিনীর কমান্ডার আনোয়ার হোসেন পাহাড়ির অধীনে।
কিন্তু আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, দেশের সর্বকনিষ্ঠ বীরপ্রতীক শহীদুল ইসলাম লালুর পরিবারের নেই স্থায়ী নিবাস, সন্তানদের জন্য নেই চাকরির ব্যবস্থা। তিনি কুলির কাজ ও খাবার হোটেলের কাজ করে অনেক কষ্টে কাটিয়েছেন জীবনের অধিকাংশ সময়।
দৈনিক বাংলার অনুসন্ধানে জানা যায়, বাংলাদেশের সর্বকনিষ্ঠ বীরপ্রতীকের পরিবার বসবাস করছেন ঢাকার মিরপুর মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন প্রকল্পের সরকারি জমিতে। প্রথম সন্তান মুক্তা বেগম (৩৫) পেশায় গৃহিণী, স্বামীর বাড়ি রাজশাহীর নাটোরে। দ্বিতীয় সন্তান আক্তার হোসেন (৩২) পেশায় গাড়িচালক, তৃতীয় সন্তান সোহাগ হোসেন (২৭) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সদ্য গ্র্যাজুয়েশন শেষ করেছেন। চতুর্থ সন্তান শিখা আক্তার (২০) ঢাকার একটি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ভারতে ট্রেনিং চলাকালে সর্বকনিষ্ঠ হওয়ায় সহযোদ্ধারা তাকে লালু তার চেয়ে বয়সে বড় শ্যামলকে ভুলু নামে ডাকতে শুরু করেন। দেশে ফিরলে তার বুদ্ধিমত্তায় একাধিকবার মুক্তিযোদ্ধারা প্রাণে বাঁচেন। কাদেরিয়া বাহিনীর কমান্ডারের নির্দেশে, চতুর শহীদুল ইসলাম ছদ্মবেশ ধারণ করেন। কৌশলে এক রাজাকারের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে গোপালপুর থানা কম্পাউন্ডের, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বাংকারে ঢুকে পড়েন। তার কৌশল ও দুঃসাহসিক গ্রেনেড হামলায় একাধিক বাংকার ধ্বংস করলে গোপালপুর থানা হানাদার মুক্ত হয়। স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার তাকে বীরপ্রতীক উপাধি দেয়। রাইফেলের সমান উচ্চতা হওয়ায় ভারতে প্রশিক্ষণ চলাকালে তাকে স্টেনগান চালনা ও গ্রেনেড ছোড়ার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কাদেরিয়া বাহিনী ১৯৭২ সালের ২৪ জানুয়ারি টাঙ্গাইলের বিন্দুবাসিনী বালক উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অস্ত্র সমর্পণ করা হয়। স্টেনগান জমা দানকালে অত্যন্ত সাহসী ১২ বছরের কিশোর শহীদুলের বীরত্বের কথা শুনে, মুগ্ধ হয়ে তাকে কোলে তুলে নেন স্বয়ং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ছবিটি সামরিক ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। যখন সহযোদ্ধাদের কাছ থেকে লালুর বাংকার ধ্বংসের কথা শুনলেন তখন বঙ্গবন্ধু তাকে আদর করে কোলে তুলে নিয়ে বলেছিলেন, ‘বীর বিচ্ছু’।
শৈশবে শহীদুল ইসলামের বাবা-মা, মুক্তিযুদ্ধের সময় এক ভাই-এক বোনের মৃত্যু হয়। দরিদ্রতায় উপায়ান্তর না দেখে মুক্তিযুদ্ধের পর ২ ভাইকে রেখে জীবিকার তাগিদে বাড়ি ছাড়া হন তিনি। ঢাকার সোয়ারিঘাটে বালু টানা, ঠেলা গাড়ি চালানো, রাজমিস্ত্রীর হেলপারের কাজ, শেষে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে কুলির কাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে কুলির কাজ শেষে হোটেলে কাজ শুরু করেন। যাযাবর অবস্থায় বিয়েও করেন, এক কন্যা ও এক পুত্র জন্ম নেওয়া সেই সংসার স্থায়ী হয়নি। পরবর্তীতে কুমিল্লায় হোটেলে কাজ করা অবস্থায় সহকর্মীকে জীবনের সব ঘটনা খুলে বলেন। ২ সন্তানকে নিয়ে ওই সহকর্মীর সঙ্গে মুন্সীগঞ্জের বিক্রমপুর চলে যান। ১৯৯৬ সালে সেই সহকর্মীর নিকটাত্মীয় মালা বেগমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এই দম্পতির পুত্রসন্তান সোহাগ হোসেনের জন্মের পর সংসারে অভাব-অনটন দেখা দেয়। ঢাকার পোস্তগোলায় এসে নিজের খাবার হোটেল চালু করার কিছুদিনের মধ্যেই, ১৯৯৮ সালে জটিল কিডনি রোগে আক্রান্তের কথা জানতে পারেন। কোনো উপায় না পেয়ে, কাদেরিয়া বাহিনীর প্রধান বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর ঢাকার বাসার ঠিকানা জোগাড় করে দেখা করেন। পরিচয় পাওয়ার পর আবেগাপ্লুত বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বুকে জড়িয়ে নেন। তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করান, উপস্থিত সহযোদ্ধাদের নির্দেশ দেন তার কাগজপত্র সংগ্রহ করতে। কাদেরিয়া বাহিনীর যোদ্ধা বীরপ্রতীক আবদুল্লাহকে নির্দেশ দেন, ঢাকার মিরপুর মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন প্রকল্পে শহীদুলের পরিবারের জন্য জায়গা দিতে। সে অনুযায়ী তার পরিবারের ঠাঁই হয় সেখানে। চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থ হন শহীদুল ইসলাম। কাগজপত্র সংগ্রহের পর জানতে পারেন তিনি বীরপ্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা, তিনিই সর্বকনিষ্ঠ বীরপ্রতীক। ডাক পড়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে ৩০ হাজার টাকা অনুদান প্রদানের সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে অন্য দুই ভাই তাকে খুঁজে পায়। কিছুদিন পর জন্ম হয় আরেক কন্যা শিখার।
অসুস্থতার কারণে শেষ সময়ে কোনো কাজকর্ম করতে পারেননি, শুভাকাঙ্ক্ষীদের অর্থে চলেছে চিকিৎসা ও পরিবারের খরচ। ২০০৯ সালে ২৫ মে অসুস্থ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে তাকে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।
বীরপ্রতীক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী মালা বেগম দৈনিক বাংলাকে বলেন, আমার স্বামীর জীবদ্দশায় ভাতাপ্রাপ্ত ছিলেন না, তাই শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহায়তায় চিকিৎসা করাতে হয়েছে। তার মৃত্যুর পর ৪ সন্তানকে অনেক কষ্টে লালন-পালন করি, এরপর মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে গেলে ২০১৪ সালে ২ হাজার টাকা ভাতা চালু হয়। মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন প্রকল্পের সরকারি জমিতে একাধিক রুম বানিয়ে ভাড়ার টাকায় সন্তানদের বড় করি। সন্তানদের শিক্ষিত করেছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমার দাবি তিনি যেন সন্তানদের জন্য উপযুক্ত চাকরি ও আমাদের স্থায়ী নিবাসের ব্যবস্থা করে দেন।
তিনি আরও বলেন, ‘নিজ এলাকার মানুষের থেকে তার তেমন মূল্যায়ন পায়নি, এই ক্ষোভে তিনি মৃত্যুর আগে কখনো গোপালপুর যাননি। তবে সন্তানদের নিয়ে আমি একাধিকবার গোপালপুর গিয়েছিলাম।’
সর্বকনিষ্ঠ বীরপ্রতীকের সন্তান সোহাগ হোসেন বলেন, ‘মানুষের মৌলিক চাহিদার একটি বাসস্থান। আমরা বিশেষ পরিবারের সন্তান হলেও ঢাকার মিরপুরে সরকারি জমিতে বসবাস করছি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি স্থায়ী বাসস্থান ও আমাদের জন্য উপযুক্ত চাকরির ব্যবস্থা যেন উনি করেন।’ তবে নিয়মিত সরকারি রেশন ও ভাতা পাচ্ছেন বলেও জানান তারা।
গোপালপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদ্য সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা সমরেন্দ্রনাথ সরকার বিমল বলেন, সূতী মীরপাড়ায় গোপালপুরের একমাত্র বীরপ্রতীক শহীদুল ইসলামের জন্ম হলেও, এখানে তার বাড়িঘর নেই। তার পরিবার এখানে এসে কিছু চাননি, তাই বীর নিবাসসহ অন্যান্য সুবিধাদি পাননি। তার পরিবার বীরপ্রতীক ভাতা পাচ্ছেন।
গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বীরনিবাস তৈরি করে দেওয়ার একটি প্রকল্প চলমান আছে। গোপালপুরে জীবিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ৬২টি বীরনিবাস নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে এবং ৬টি নির্মাণাধীন রয়েছে। তাকে আবেদন করে রাখতে বলেন। পরের অর্থবছরে আবার যদি বরাদ্দ আসে তবে হয়তো এগুলো পাঠাতে পারব। আমার যতদূর জানা আছে বর্তমান যারা বীর মুক্তিযোদ্ধা জীবিত অবস্থায় আছেন প্রাথমিকভাবে তাদের এটা দিচ্ছে। এখন পর্যন্ত ওয়ারিশ হিসাবে যারা আছেন, তারা পেয়েছেন বলে আমার জানা নেই। তারপরও পর্যাপ্ত তথ্য পেলে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি লিখতে পারব।’
বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে অভিহিত করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, এ দেশে বসবাসরত সকল ধর্মের মানুষ সমান অধিকারের অংশীদার। তিনি জোর দিয়ে বলেন, একটি শান্তিময় ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তোলার দায়িত্ব আমাদের সবার। শুক্রবার সকালে কুমিল্লায় শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপন-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে ধর্মের মূল চেতনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, পৃথিবীর কোনো ধর্মই অন্যায় বা অশুভ শক্তিকে সমর্থন করে না। মানবকল্যাণ, ন্যায় এবং শান্তিপূণ সহাবস্থানই সব ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা। তিনি উল্লেখ করেন যে, সমাজের মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা সম্ভব হলেই রাষ্ট্র প্রকৃত উন্নতির দেখা পাবে। মন্ত্রী বর্তমান প্রজন্মের দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে বলেন, “আমাদের পূর্বসূরিরা আমাদের জন্য একটি সুন্দর দেশ রেখে গেছেন। তাই আগামী প্রজন্মের জন্য আরও উন্নত, মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলা বর্তমান প্রজন্মের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।”
মন্ত্রী আরও বিশ্বাস করেন যে, দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী সবসময় ন্যায় ও কল্যাণের পক্ষেই অবস্থান করে। এই সচেতন নাগরিকরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো অপশক্তিই সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারবে না। তাই তিনি অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে এক কাতারে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপন কমিটি, কুমিল্লার আহ্বায়ক শ্রী শ্যামল কৃষ্ণ সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু এবং জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার। অনুষ্ঠানে জন্মাষ্টমী উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দসহ বিপুল সংখ্যক ভক্ত ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভার আনুষ্ঠানিকতা শেষে কৃষিমন্ত্রী শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রায় সরাসরি অংশগ্রহণ করেন।
ফেনীর মুহুরীগঞ্জে দাঁড়িয়ে থাকা কাভার্ড ভ্যানের পেছনে ইউনিক পরিবহনের বাসের ধাক্কায় চালক হেলপারসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন।
শুক্রবার (০৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ছাগলনাইয়া উপজেলার দৌলতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ফাজিলপুর হাইওয়ে থানার সেকেন্ড অফিসার এস আই আবু নোমান জানান, চট্টগ্রামমুখী লেনে একটি কাভার্ড ভ্যান বিকল হয়ে পড়ে। পরে একটি লং ভেহিক্যালের সঙ্গে কাভার্ড ভ্যানটি বেঁধে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। এ সময় পেছন থেকে দ্রুতগতিতে আসা ইউনিক পরিবহনের একটি বাস কাভার্ড ভ্যানটিকে ধাক্কা দেয়।
এতে ঘটনাস্থলেই কাভার্ড ভ্যানের চালক ও হেলপার এবং ইউনিক বাসের চালক নিহত হন। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
আহত একজনকে উদ্ধার করে ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ফাজিলপুর হাইওয়ে পুলিশ নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত তিনটি গাড়ি জব্দ করা হয়েছে।
দেশে শিশু নিখোঁজের ঘটনা উদ্বেগজনকহারে বাড়ছে। চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশুর নিখোঁজের ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে কিংবা তারা নিজেরাই পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে। তবে এখনো ২ হাজার ৩৮ শিশুর সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ শিশুদের এই সংখ্যা মোট জিডির প্রায় ১৩ শতাংশ। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স। সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশে ১৫ হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ হওয়ার খবর প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ এ বিবৃতি দেয়।
পুলিশ বলছে, শুধু নিখোঁজের সংখ্যা প্রকাশ করা হলে শিশু নিখোঁজের পুরো চিত্র সামনে আসে না। কারণ, নিখোঁজ হওয়ার পর কতজন উদ্ধার হয়েছে, কতজন পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে এবং কতজন এখনো নিখোঁজ—এসব তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ। গণমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনে পরবর্তী পরিস্থিতির তথ্য না থাকায় জনমনে বিভ্রান্তি তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি পরিষ্কার করতে সংশ্লিষ্ট থানাগুলোর মাধ্যমে তথ্য যাচাই-বাছাই করা হয়েছে।
পুলিশের যাচাই করা তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সি শিশু নিখোঁজের ঘটনায় ৪৭৪টি জিডি হয়েছে। এসব ঘটনায় ৪০৬ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে বা তারা পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছে ৬৮ শিশু।
অন্যদিকে, ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সি শিশু-কিশোরদের নিখোঁজের ঘটনা অনেক বেশি। এ বয়সি শিশুদের নিখোঁজের ঘটনায় সাত মাসে ১৫ হাজার ২৪৩টি জিডি হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ২৭৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে কিংবা তারা পরিবারের কাছে ফিরেছে। এখনো সন্ধান পাওয়া যায়নি ১ হাজার ৯৭০ জনের।
ছোটদের হারিয়ে যাওয়ার কারণ ভিন্ন: পুলিশের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বয়সভেদে শিশু নিখোঁজের কারণেও পার্থক্য রয়েছে। শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সি শিশুরা সাধারণত নিজের সিদ্ধান্তে বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার চেয়ে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে হারিয়ে যায়।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অপরিচিত স্থানে ঘুরতে গিয়ে পথ হারানো তাদের নিখোঁজ হওয়ার অন্যতম কারণ। অনেক ছোট শিশু পরিবারের সদস্যদের নাম, ঠিকানা বা মোবাইল নম্বর বলতে পারে না। ফলে কোনো কারণে পরিবারের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে তাদের খুঁজে বের করতে সময় লাগে। আবার একা বাড়ি ফেরার সময় পথ ভুল করে অন্যত্র চলে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে।
এ ছাড়া জনবহুল এলাকা, বাজার, মেলা, পার্ক কিংবা ভ্রমণস্থলে শিশুদের ওপর পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকলেও তারা হারিয়ে যেতে পারে। এসব ঘটনায় অনেক শিশুকে পরে বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
কিশোর-কিশোরীদের নিখোঁজের পেছনে অভিমান: ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সি শিশু-কিশোরদের নিখোঁজের ঘটনা তুলনামূলকভাবে বেশি। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এ বয়সি শিশুদের নিখোঁজ হওয়ার পেছনে পারিবারিক ও ব্যক্তিগত নানা কারণ কাজ করে।
অভিমান, পড়ালেখার চাপ, পারিবারিক কলহ ও অশান্তি, স্বাধীনভাবে জীবনযাপনের আকাঙ্ক্ষা এবং বন্ধু বা সহপাঠীদের প্রভাব তাদের বাড়ি ছাড়ার অন্যতম কারণ। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কোনো বিষয়ে মনোমালিন্য বা বকাঝকার পর অনেক কিশোর-কিশোরী অভিমান করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। পরে তারা পরিচিতজন, বন্ধু বা অন্য কারও সঙ্গে অবস্থান করে।
পুলিশ জানিয়েছে, অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ার পর লজ্জা বা ভয়ের কারণেও কেউ কেউ পরিবারের কাছ থেকে দূরে থাকে। আবার পরিবারের কাছ থেকে অর্থ বা অন্য কোনো সুবিধা নেওয়ার চেষ্টাও কিছু ক্ষেত্রে নিখোঁজের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৈশোর এমন একটি সময় যখন সন্তানদের মধ্যে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। একই সময়ে পরিবার ও সন্তানের মধ্যে যোগাযোগের ঘাটতি, অতিরিক্ত শাসন, পড়াশোনার চাপ কিংবা বন্ধুমহলের প্রভাব তাদের আচরণে পরিবর্তন আনতে পারে। ফলে কোনো সমস্যা তৈরি হলে অনেক কিশোর-কিশোরী পরিবারের সঙ্গে আলোচনা না করে হঠাৎ বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
এখনো নিখোঁজ ২ হাজার ৩৮ শিশু: পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, সাত মাসে নিখোঁজ হওয়া ১৫ হাজার ৭১৭ শিশুর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে বা তারা পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে। তবে ২ হাজার ৩৮ শিশুর এখনো সন্ধান মেলেনি।
নিখোঁজদের মধ্যে শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সি ৬৮ শিশু এবং ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী ১ হাজার ৯৭০ শিশু এখনো নিখোঁজ রয়েছে। অর্থাৎ এখনো সন্ধান না পাওয়া শিশুদের বড় অংশই কিশোর-কিশোরী।
পুলিশ বলছে, কোনো শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত থানায় জিডি করা এবং শিশুটির ছবি, পোশাক, শারীরিক বর্ণনা, মোবাইল নম্বর, বন্ধু বা পরিচিতজনের তথ্যসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া হলে অনুসন্ধান কার্যক্রম সহজ হয়।
অনলাইন জিডিতে বাড়ছে নিখোঁজের তথ্য: পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স জানিয়েছে, পুলিশি সেবা সহজীকরণের অংশ হিসেবে অনলাইন জিডি চালু হওয়ার পর নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এখন থানায় সরাসরি যাওয়ার পাশাপাশি অনলাইনেও জিডি করার সুযোগ থাকায় নিখোঁজের তথ্য পুলিশের কাছে দ্রুত পৌঁছাচ্ছে।
পুলিশের পরিসংখ্যানেও এর প্রতিফলন দেখা যায়। ২০২৩ সালে নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডি হয়েছিল ১৭ হাজার ৮০৮টি। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা কিছুটা কমে দাঁড়ায় ১৬ হাজার ৪১৪টিতে। তবে ২০২৫ সালে নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডি বেড়ে ২২ হাজার ৫৫০টিতে পৌঁছায়।
পুলিশের মতে, অনলাইন জিডির সুযোগ চালু হওয়ায় আগে যেসব ঘটনা থানায় নথিভুক্ত হতো না, সেগুলোরও অনেকগুলো এখন পুলিশের তথ্যভান্ডারে যুক্ত হচ্ছে। ফলে জিডির সংখ্যা বাড়ার একটি কারণ হিসেবে অনলাইন সেবার সম্প্রসারণকেও বিবেচনা করা হচ্ছে।
সচেতনতার ওপর জোর: শিশু নিখোঁজের ঘটনা কমাতে পরিবারের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজেরও ভূমিকা রয়েছে। ছোট শিশুদের বাইরে যাওয়ার সময় তাদের সঙ্গে পরিচয় ও যোগাযোগের তথ্য সংরক্ষণ করা, জনবহুল স্থানে অভিভাবকের সরাসরি নজরদারি রাখা এবং শিশুদের পরিবারের সদস্যদের নাম, ঠিকানা ও জরুরি যোগাযোগ নম্বর শেখানো জরুরি।
অন্যদিকে, কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে শুধু শাসন নয়, তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ। পড়াশোনা, বন্ধু, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা ব্যক্তিগত সমস্যা নিয়ে তারা যাতে পরিবারের সঙ্গে সহজে কথা বলতে পারে, সে পরিবেশ তৈরি করতে হবে। কোনো বিষয়ে অভিমান বা পারিবারিক বিরোধ তৈরি হলে তা দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়াও প্রয়োজন।
পুলিশের দেওয়া পরিসংখ্যান বলছে, নিখোঁজ শিশুদের বড় একটি অংশ শেষ পর্যন্ত উদ্ধার হয়ে পরিবারের কাছে ফিরে আসে। তবে এখনো দুই হাজারের বেশি শিশুর সন্ধান না পাওয়া উদ্বেগের বিষয়। তাই শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর দেরি না করে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে পুলিশ।
জয়পুরহাটে ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ স্ত্রীকে ও অনলাইনে জুয়া খেলার অভিযোগে স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে জয়পুরহাট জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় স্বামীর কাছ থেকে একটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, জয়পুরহাট পৌরসভার পূর্ব ধানমন্ডি এলাকার রিনা আক্তার (২১) ও তার স্বামী মো. পাপ্পু (৩৫)। গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে পূর্ব ধানমন্ডি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও অনলাইন জুয়াবিরোধী বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ডিবির একটি দল। এ সময় পাপ্পুর বসতবাড়ির সামনে থেকে মাদক বিক্রির অভিযোগে রিনা আক্তারকে আটক করা হয়। পরে তার কাছ থেকে ১০১ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।
অন্যদিকে একই অভিযানে অনলাইনে জুয়া খেলার অভিযোগে রিনা আক্তারের স্বামী পাপ্পুকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে একটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে।
অভিযানে ডিবির এসআই মো. শাখাওয়াত হোসেন, এসআই মো. আব্দুল্লাহ আল নোমান, এএসআই মো. সাজেদুর রহমান, এএসআই মো. আসাদুজ্জামান, এএসআই মো. সোহেল রানা ও কনস্টেবল রাকিবুল ইসলাম এবং পারভেজ অংশ নেন।
জয়পুরহাট জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃত দুইজনের বিরুদ্ধে পৃথক আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় লোকাল গভর্নমেন্ট কোভিড-১৯ রেসপন্স এন্ড রিকভারি প্রজেক্ট (এলজিসিআরআরপি) প্রকল্পের আওতায় গ্রীন বিল্ডিং এর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ১৮নং ওয়ার্ডের শহীদ জিয়া শিশু পার্ক এর সামনে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন প্রধান অতিথি হিসেবে গ্রীন বিল্ডিং এর ফলক উন্মেচন করে নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন করেন। ৩ হাজার ৭৫.৪২ বর্গফুট আয়তনে এ গ্রীন বিল্ডিংটি নির্মিত হচ্ছে। উদ্বোধন শেষে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন সোনাদিঘী জামে মসজিদের পেশ ইমাম ক্বারী মোঃ মামুনুর রশীদ।
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের বাস্তবায়নে এ ভবনটি নির্মাণে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ কোটি ১৯ লাখ ৫৪ হাজার ৩শ ৪৪টাকা। ৫ তলা ফাউন্ডেশনে ২য় তলা বিশিষ্ট গ্রীন বিল্ডিং এর নিচতলায় দোকান ঘর থাকবে। ২য় তলায় হলরুম/কমিউনিটি স্পেস ও ব্রেস্ট ফিডিং কর্ণার থাকবে।
প্রকৌশল বিভাগ হতে প্রাপ্ত তথ্য মতে, পরিবেশ বান্ধব হলোব্লক দিয়ে এ বিল্ডিংটি নির্মিত হবে। নিজস্ব সোলার প্যানেল ব্যবহৃত উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে আলোকায়নের ব্যবস্থা করা হবে। উত্তরাঞ্চলে এটিই প্রথম বিল্ডিং। এ বিল্ডিংটিতে বিশেষায়িত গ্লাস ব্যবহৃত করা হবে যা তাপরোধী। বিল্ডিংটির রুফটফে তাপরোধী রংঙের কোটিং ব্যবহৃত হবে। যা বিল্ডিংটিকে শীতল রাখতে সহায়তা করবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের জন্য টয়লেট ও লিফটের ব্যবস্থা রাখা হবে। এই ভবনের সম্মুখ অংশে ভার্টিক্যাল গার্ডেনিং করা হবে। যা বিল্ডিংটিকে পরিবেশ বান্ধব রাখতে সহায়তা করবে।
উদ্বোধনকালে রাসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকের, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আহমদ আল মঈন পরাগ, নির্বাহী প্রকৌশলী (উন্নয়ন) মোঃ মাহমুদুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী পরিকল্পনা জসীম উদ্দিন আরজু,
নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) এবিএম আসাদুজ্জামান সুইট, সহকারী প্রকৌশলী মোঃ শাহেদুজ্জামান জীবন, শাহ মখদুম থানা বিএনপির সদস্য সচিব নাসিম খান, ১৭নং পূর্ব ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মেহের আলী, ১৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোঃ বাবু, যুবনেতা তৌফিক আব্দুল্লাহ সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
জামালপুর জেলা প্রশাসনের সাথে টানা ২ ঘণ্টা বৈঠকের পর জেলা প্রশাসনের আশ্বাসে দীর্ঘ ৯ ঘণ্টা পরে বাস ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছে জামালপুর জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতি ও বিভিন্ন পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। ইতোমধ্যে জামালপুর থেকে সারাদেশের সাথে বাস চলাচল শুরু হয়েছে।
জানা যায়, গত ৩১ আগস্ট রাতে জামালপুর সদর উপজেলার লাহেরীকান্দা এলাকায় রাজিব পরিবহনের একটি বাসের সাথে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে ৪ জনের মৃত্যু হয় এ সময় আহত হয় অন্তত ১৬ জন। এ ছাড়া জামালপুর-ময়মনসিংহ-ঢাকা রুটে রাজিব পরিবহনের বেপোরোয়া গাড়ি চালানোর ফলে প্রায় সময়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। বারবার প্রশাসনকে অভিযোগ করেও এর কোনো প্রতিকার না পেয়ে গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকালে জামালপুর সদর উপজেলার নান্দিনা এলাকায় রাজিব পরিবহনের রোড পারমিট বাতিল ও বাস চলাচল বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ঢাকা ও জামালপুরগামী রাজিব পরিবহনের দুটি বাস থামিয়ে যাত্রীদের নামিয়ে দেন। পরে নান্দিনা পূর্ববাজার খেলার মাঠে নিয়ে বাস দুটিতে ভাঙচুর করা হয়।
ঘটনার পর ওই সড়কে রাজিব পরিবহনের শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টা থেকে জামালপুর বাস পরিবহন মালিক সমিতি ও শ্রমিক সংগঠন জামালপুর থেকে ঢাকাসহ সারাদেশে বাস চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেয়। এতে করে সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
এ ব্যাপারে জামালপুর বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শুভ জানান, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ও বাস চলাচল নির্বিঘ্ন করতে পরিবহন মালিক শ্রমিকদের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসনকে ১১টি দাবি জানানো হয়েছে। দাবি পূরণের আশ্বাসে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। এখন থেকে বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
কুমিল্লার বরুড়ায় ধর্ষণের পর ৯ বছরের শিশু নাদিয়া সুলতানা ইমুকে হত্যার ঘটনায় আসামি মো. জসিম উদ্দিনকে (২২) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আব্দুল হান্নান এ রায় দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী জয়নাল আবেদীন মাজহারী।
দণ্ডপ্রাপ্ত জসিম কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার ভাউকসার ইউনিয়নের গজারীয়া পূর্ব কলনীপাড়া গ্রামের মনোহর আলীর ছেলে। শিশু নাদিয়া সুলতানা ইমু একই গ্রামের মনজুমা বেগমের মেয়ে।
জানা গেছে, ইমু স্থানীয় একটি মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ত। পরীক্ষা শেষে সে পাশের গ্রামের খালার বাড়ি পূর্ব গজারিয়াতে বেড়াতে আসে। ২০২২ সালের ১৪ ডিসেম্বর বিকেল থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। সন্দেহ হওয়ায় প্রতিবেশী জসিমকে আটক করে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে নেওয়া হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যমতে, পাশের বাঁশঝাড় থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
আইনজীবী জয়নাল আবেদীন মাজহারী বলেন, শিশু ইমুকে বাড়ির পাশের নির্জন স্থানের বাঁশঝাড়ে নিয়ে যায় জসিম। এ সময় তাকে ধর্ষণের পর শিশু ইমু এ ঘটনা সবাইকে বলে দেওয়ার ভয় দেখালে জসিম গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শিশুটিকে হত্যা করে মরদেহ বাঁশঝাড়ে ফেলে রাখেন। পরে বরুড়া থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করলে জসিম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।’
শিশু নাদিয়া সুলতানা ইমুর মা মনজুমা বেগম বলেন, আমার মেয়েকে জসিম নিষ্ঠুরভাবে দম বন্ধ করিয়ে হত্যা করেছে। ইমু আমার দুই মেয়ের মধ্যে বড় ছিল। আমার কলিজার ধনকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় আমরা আসামির মৃত্যুদণ্ড চেয়েছি। সে আমার মেয়েকে যেভাবে হত্যা করেছে আমিও তার মৃত্যু চাই। আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে। তার সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আমরা হাইকোর্টে আবেদন করব।
পিরোজপুর সদর উপজেলার কদমতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবদুস ছালাম শেখের নিঃশর্ত মুক্তি ও সাজানো মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় কদমতলা বাজারে ইউনিয়ন বিএনপি, সহযোগী সংগঠন ও স্থানীয় সাধারণ মানুষের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
কদমতলা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস শেখের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে স্থানীয় নেতা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বক্তব্য প্রদান করেন।
বিএনপি নেতা ও ইউপি সদস্য মো. রিয়াজ হোসেন উজ্জ্বল বলেন, আবদুল ছালাম শেখ একজন ত্যাগী নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। অবিলম্বে এই সাজানো মামলা প্রত্যাহার ও তার মুক্তি দেওয়া না হলে আমরা রাজপথে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হব।
বিএনপি নেতা মো. ফারুক শেখ বলেন, আমরা বহু ত্যাগ স্বীকার করে আজকের অবস্থানে এসেছি। কিন্তু জামায়াতের কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রের কারণে আজ আমাদের ত্যাগী নেতা আবদুস ছালাম শেখকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। অনতিবিলম্বে এই মিথ্যা নাটক বন্ধ করে তাকে মুক্তি দিন।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন দুর্গাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালিকিন তপন, কদমতলা ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মুকুল শেখ, ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জাহিদ শেখ, ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইদ্রিস মোল্লা, কদমতলা বাজার কমিটির সভাপতি মহসিন মোল্লা এবং নারী প্রতিনিধি সুমি আক্তার।
মানববন্ধনে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহর থানাধীন নিজ বাসা থেকে মোহাম্মদ ছায়েদুর রহমান (৫৫) নামে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে থানার উত্তর আগ্রাবাদ রমনা আবাসিক এলাকার নিজ বাড়ি থেকে ওই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা, তিনি ‘আত্মহত্যা’ করে থাকতে পারেন।
ছায়েদুর রহমান বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক পদে চট্টগ্রামে কর্মরত ছিলেন। তিনি তিন কন্যাসন্তানের জনক। তাদের মধ্যে দুজন ডাক্তার ও একজন প্রকৌশলী। গত বুধবার রাতে মোহাম্মদ ছায়েদুর রহমান বাসায় একা ছিলেন। ঘটনার সময় তার স্ত্রী নাতিকে নিয়ে ডাক্তার দেখাতে গিয়েছিলেন।
হালিশহর থানার ওসি জয়নাল আবেদিন মণ্ডল জানান, বাসায় উনি একা ছিলেন। ভবনটির দ্বিতীয় তলায় একটি কক্ষ থেকে ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় উনার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এখন পর্যন্ত যতটুকু বুঝা যাচ্ছে, উনি আত্মহত্যা করেছেন। কী কারণে, সেটা এখনো আমরা জানতে পারিনি। জানার চেষ্টা করছি।
নিহতের এক সহকর্মী বলেন, ‘মোহাম্মদ ছায়েদুর রহমান বেশ হাসিখুশি মানুষ ছিলেন। উনার সাথে সবার সম্পর্ক ভালো। গতকালও সন্ধ্যা পর্যন্ত উনি ব্যাংকে সবার সাথে একটা মিটিংয়ে ছিলেন।’
পুলিশ জানায়, মৃত ছায়েদুর রহমানের দুই মেয়ে ডাক্তার, আরেক মেয়ে ইঞ্জিনিয়ার। তাদের দুজন ঢাকায় থাকেন। একজন চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে প্র্যাকটিস করেন। এ নিয়ে উনি বেশ প্রাউড ফিল করতেন। যতটুকু জেনেছি, রাতে উনি স্ত্রীকে ফোন করে তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরতে বলেছিলেন। এরপর উনার স্ত্রী বাসায় ফিরে উনাকে এ অবস্থায় দেখতে পান।
রমনা আবাসিক এলাকার যে বাড়িটি থেকে মোহাম্মদ ছায়েদুর রহমানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, সেই বাড়িটি তার নিজের
নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের শ্রীপুর বালী গ্রামে এক মেধাবী শিক্ষার্থীকে প্রলোভন, তথ্য গোপন ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করে বিয়েতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। বিয়ের পর যৌতুকের দাবিতে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগও করেছে তার পরিবার। এতে মেডিকেলে ভর্তি হয়ে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন অনিশ্চয়তায় পড়েছে বলে দাবি স্বজনদের।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, একই গ্রামের সুন্দর মিয়া ও আবু তাহেরের যোগসাজশে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ওই শিক্ষার্থীকে বিয়েতে রাজি করানো হয়। ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের ২০ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় কাজী আ. আউয়ালের মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন হয়। সুন্দর মিয়া ও আবু তাহের এতে সাক্ষী ছিলেন বলেও পরিবারের দাবি। কাবিননামায় দেনমোহর ১০ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়।
পরিবারের আরও অভিযোগ, বিয়ের সময় পরিচয় ও ঠিকানাসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা হয় এবং তাদের অজ্ঞাতসারে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। বিয়ের পর যৌতুকের জন্য চাপ এবং মারধরসহ নির্যাতনের শিকার হন ওই শিক্ষার্থী।
স্বজনদের দাবি, তিনি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু বিয়ের ঘটনা ও মানসিক চাপের কারণে শেষ পর্যন্ত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি।
এ ঘটনায় মামলা চলমান রয়েছে বলে পরিবার জানিয়েছে। মেয়ের নিরাপত্তা, পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন তার বাবা। অভিযুক্ত সুন্দর মিয়া ও আবু তাহেরের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনতে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি।
তিনি বলেন, ‘শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান পরিচালনা করে পাহাড়ের সশস্ত্র তৎপরতা ও সংঘাতের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, কৃষি, পর্যটন ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।’
গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকিসংক্রান্ত বিশেষ সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে রাত সাড়ে ৮টা থেকে রাজনৈতিক নেতারা, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্যরা, জেলা প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন প্রতিমন্ত্রী।
পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন পরিকল্পনায় পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে মীর হেলাল বলেন, ‘পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ ধ্বংস করে কোনো উন্নয়ন করা হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অক্ষুণ্ণ রেখে প্রকৃতির সঙ্গে সমন্বয় করে উন্নয়ন করতে হবে। অবকাঠামো উন্নয়ন হোক কিংবা পর্যটন বিকাশ, সবকিছুই পরিবেশ অক্ষত রেখে করতে হবে।’
রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় রাঙামাটির সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার, রাঙামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক, পুলিশ সুপার মো. আব্দুর রকিবসহ জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে মনোয়ার হোসেন নামের এক ইউপি সদস্যকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে শরিফুল ইসলাম সুমন নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পৌর এলাকার বটতলী বাজারে এ ঘটনা ঘটে। আহত মনোয়ার হোসেন উপজেলার তুলসীগঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের দুই নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মনোয়ার হোসেনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি জয়পুরহাট থেকে বেগুন বিক্রি করে ক্ষেতলালের দিকে ফিরছিলেন। বটতলী বাজারে পৌঁছালে তাকে পথরোধ করে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয় বলে তার অভিযোগ। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। এ হামলায় তার ডান পাশের কাঁধ, গলা ও হাতে জখম হয়েছে। এর মধ্যে কাঁধের ক্ষতস্থানে কয়েকটি সেলাই দিতে হয়েছে।
মনোয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ‘জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে।’
এ ঘটনায় তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান। তার দাবি, এর আগেও তাকে দুটি মামলায় আসামি করা হয়েছিল এবং তিনি বর্তমানে সেসব মামলায় জামিনে রয়েছেন। তিনি এ বিষয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা চান।
অভিযোগের বিষয়ে শরিফুল ইসলাম সুমনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন ধরেননি। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
ক্ষেতলাল থানার ওসি মুক্তারুল আলম বলেন, ‘ইউপি সদস্যকে ছুরিকাঘাতের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে খবর পাওয়া গেছে। আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনি লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় জুয়ার আসরে অভিযান চালিয়ে নগদ টাকাসহ ১৩ জুয়াড়িকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আটককৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের মাহার বাজারসংলগ্ন এলাকার একটি পরিত্যক্ত ঘরে অভিযান চালিয়ে জুয়া খেলারত অবস্থায় তাস ও নগদ অর্থসহ তাদেরকে আটক করে পুলিশ।
আটক ব্যক্তিরা হলেন, উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের শিবরাপুর গ্রামের ইমান আলী মণ্ডলের ছেলে মো. শহীদুল্লাহ (৬০), বিষ্ণরামপুর গ্রামের হযরত আলীর ছেলে সুলতান আলী, একই গ্রামের মো. বাবুল হোসেন (৪৫) মো. সিরাজুল ইসলাম (৪৮) মো. জাকির হোসেন (২৮) মো. রুহুল আমীন (৩৭) মো. ইউনুছ আলী (৬৫ তোতা মিয়া (৪৫) মো. তালেব আলী (৪৮) হাবিবুর রহমান (৪০) মজনু (৫৫) শহীদুল্লাহ (৪৬) ও সুরুজ আলী (৫৬)।
অপরদিকে পৃথক অভিযানে এস আই লিটন এদিন পৌর এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে অভিযান চালিয়ে জনৈক এনামুলের মুদি দোকানের সামনে থেকে কুখ্যাত মাদক সম্রাট ও একাধিক মাদক মামলার আসামি মনিরুজ্জামান ওরফে চশমা মনিরকে ১৫ পিস ইয়াবাসহ আটক করেন।
এছাড়াও থানা পুলিশ মেহেদী হাসান নামে আরেক তরুণকে মাদক সেবনরত অবস্থায় আটক করে তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের আওতায় এনে এক মাসের সাজাপূর্বক তাকে কারাগারে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
ফুলবাড়িয়া থানার ওসি রাশেদুল হাসান বলেন, বিশেষ অভিযানে নগদ অর্থসহ ১৩ জুয়াড়ি ও ৬টি মাদক মামলার আসামীকে ইয়াবাসহ আরেকজনকে মাদকসেবনরত অবস্থায় এবং পরোয়ানাভুক্ত ৩ জনসহ মোট ১৮জনকে আটক করা হয়। আটককৃতদেরকে আদালতে সোর্পদ করা হয়েছে। অপরাধ দমনে আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।