‘রাজাকার-আলবদর থাকে আজ রাজপ্রাসাদে, আমি শহীদুল ইসলাম বীরপ্রতীক থাকি একটা কুইড়াঘরে (কুঁড়েঘরে) তার কারণ কী?’ ক্ষোভে ২০০৩ সালে ধারণ করা এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে এমনটাই বলেছিলেন দেশের সর্বকনিষ্ঠ বীরপ্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা, টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার সূতী গ্রামের হেলাল উদ্দিনের ছেলে শহীদুল ইসলাম। অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারে জন্ম হলেও অনেক সাহসী ও বুদ্ধিমান ছিলেন। তাই তো দেশকে হানাদার মুক্ত করতে ১২ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন কাদেরিয়া বাহিনীর কমান্ডার আনোয়ার হোসেন পাহাড়ির অধীনে।
কিন্তু আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, দেশের সর্বকনিষ্ঠ বীরপ্রতীক শহীদুল ইসলাম লালুর পরিবারের নেই স্থায়ী নিবাস, সন্তানদের জন্য নেই চাকরির ব্যবস্থা। তিনি কুলির কাজ ও খাবার হোটেলের কাজ করে অনেক কষ্টে কাটিয়েছেন জীবনের অধিকাংশ সময়।
দৈনিক বাংলার অনুসন্ধানে জানা যায়, বাংলাদেশের সর্বকনিষ্ঠ বীরপ্রতীকের পরিবার বসবাস করছেন ঢাকার মিরপুর মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন প্রকল্পের সরকারি জমিতে। প্রথম সন্তান মুক্তা বেগম (৩৫) পেশায় গৃহিণী, স্বামীর বাড়ি রাজশাহীর নাটোরে। দ্বিতীয় সন্তান আক্তার হোসেন (৩২) পেশায় গাড়িচালক, তৃতীয় সন্তান সোহাগ হোসেন (২৭) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সদ্য গ্র্যাজুয়েশন শেষ করেছেন। চতুর্থ সন্তান শিখা আক্তার (২০) ঢাকার একটি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ভারতে ট্রেনিং চলাকালে সর্বকনিষ্ঠ হওয়ায় সহযোদ্ধারা তাকে লালু তার চেয়ে বয়সে বড় শ্যামলকে ভুলু নামে ডাকতে শুরু করেন। দেশে ফিরলে তার বুদ্ধিমত্তায় একাধিকবার মুক্তিযোদ্ধারা প্রাণে বাঁচেন। কাদেরিয়া বাহিনীর কমান্ডারের নির্দেশে, চতুর শহীদুল ইসলাম ছদ্মবেশ ধারণ করেন। কৌশলে এক রাজাকারের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে গোপালপুর থানা কম্পাউন্ডের, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বাংকারে ঢুকে পড়েন। তার কৌশল ও দুঃসাহসিক গ্রেনেড হামলায় একাধিক বাংকার ধ্বংস করলে গোপালপুর থানা হানাদার মুক্ত হয়। স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার তাকে বীরপ্রতীক উপাধি দেয়। রাইফেলের সমান উচ্চতা হওয়ায় ভারতে প্রশিক্ষণ চলাকালে তাকে স্টেনগান চালনা ও গ্রেনেড ছোড়ার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কাদেরিয়া বাহিনী ১৯৭২ সালের ২৪ জানুয়ারি টাঙ্গাইলের বিন্দুবাসিনী বালক উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অস্ত্র সমর্পণ করা হয়। স্টেনগান জমা দানকালে অত্যন্ত সাহসী ১২ বছরের কিশোর শহীদুলের বীরত্বের কথা শুনে, মুগ্ধ হয়ে তাকে কোলে তুলে নেন স্বয়ং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ছবিটি সামরিক ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। যখন সহযোদ্ধাদের কাছ থেকে লালুর বাংকার ধ্বংসের কথা শুনলেন তখন বঙ্গবন্ধু তাকে আদর করে কোলে তুলে নিয়ে বলেছিলেন, ‘বীর বিচ্ছু’।
শৈশবে শহীদুল ইসলামের বাবা-মা, মুক্তিযুদ্ধের সময় এক ভাই-এক বোনের মৃত্যু হয়। দরিদ্রতায় উপায়ান্তর না দেখে মুক্তিযুদ্ধের পর ২ ভাইকে রেখে জীবিকার তাগিদে বাড়ি ছাড়া হন তিনি। ঢাকার সোয়ারিঘাটে বালু টানা, ঠেলা গাড়ি চালানো, রাজমিস্ত্রীর হেলপারের কাজ, শেষে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে কুলির কাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে কুলির কাজ শেষে হোটেলে কাজ শুরু করেন। যাযাবর অবস্থায় বিয়েও করেন, এক কন্যা ও এক পুত্র জন্ম নেওয়া সেই সংসার স্থায়ী হয়নি। পরবর্তীতে কুমিল্লায় হোটেলে কাজ করা অবস্থায় সহকর্মীকে জীবনের সব ঘটনা খুলে বলেন। ২ সন্তানকে নিয়ে ওই সহকর্মীর সঙ্গে মুন্সীগঞ্জের বিক্রমপুর চলে যান। ১৯৯৬ সালে সেই সহকর্মীর নিকটাত্মীয় মালা বেগমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এই দম্পতির পুত্রসন্তান সোহাগ হোসেনের জন্মের পর সংসারে অভাব-অনটন দেখা দেয়। ঢাকার পোস্তগোলায় এসে নিজের খাবার হোটেল চালু করার কিছুদিনের মধ্যেই, ১৯৯৮ সালে জটিল কিডনি রোগে আক্রান্তের কথা জানতে পারেন। কোনো উপায় না পেয়ে, কাদেরিয়া বাহিনীর প্রধান বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর ঢাকার বাসার ঠিকানা জোগাড় করে দেখা করেন। পরিচয় পাওয়ার পর আবেগাপ্লুত বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বুকে জড়িয়ে নেন। তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করান, উপস্থিত সহযোদ্ধাদের নির্দেশ দেন তার কাগজপত্র সংগ্রহ করতে। কাদেরিয়া বাহিনীর যোদ্ধা বীরপ্রতীক আবদুল্লাহকে নির্দেশ দেন, ঢাকার মিরপুর মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন প্রকল্পে শহীদুলের পরিবারের জন্য জায়গা দিতে। সে অনুযায়ী তার পরিবারের ঠাঁই হয় সেখানে। চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থ হন শহীদুল ইসলাম। কাগজপত্র সংগ্রহের পর জানতে পারেন তিনি বীরপ্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা, তিনিই সর্বকনিষ্ঠ বীরপ্রতীক। ডাক পড়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে ৩০ হাজার টাকা অনুদান প্রদানের সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে অন্য দুই ভাই তাকে খুঁজে পায়। কিছুদিন পর জন্ম হয় আরেক কন্যা শিখার।
অসুস্থতার কারণে শেষ সময়ে কোনো কাজকর্ম করতে পারেননি, শুভাকাঙ্ক্ষীদের অর্থে চলেছে চিকিৎসা ও পরিবারের খরচ। ২০০৯ সালে ২৫ মে অসুস্থ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে তাকে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।
বীরপ্রতীক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী মালা বেগম দৈনিক বাংলাকে বলেন, আমার স্বামীর জীবদ্দশায় ভাতাপ্রাপ্ত ছিলেন না, তাই শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহায়তায় চিকিৎসা করাতে হয়েছে। তার মৃত্যুর পর ৪ সন্তানকে অনেক কষ্টে লালন-পালন করি, এরপর মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে গেলে ২০১৪ সালে ২ হাজার টাকা ভাতা চালু হয়। মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন প্রকল্পের সরকারি জমিতে একাধিক রুম বানিয়ে ভাড়ার টাকায় সন্তানদের বড় করি। সন্তানদের শিক্ষিত করেছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমার দাবি তিনি যেন সন্তানদের জন্য উপযুক্ত চাকরি ও আমাদের স্থায়ী নিবাসের ব্যবস্থা করে দেন।
তিনি আরও বলেন, ‘নিজ এলাকার মানুষের থেকে তার তেমন মূল্যায়ন পায়নি, এই ক্ষোভে তিনি মৃত্যুর আগে কখনো গোপালপুর যাননি। তবে সন্তানদের নিয়ে আমি একাধিকবার গোপালপুর গিয়েছিলাম।’
সর্বকনিষ্ঠ বীরপ্রতীকের সন্তান সোহাগ হোসেন বলেন, ‘মানুষের মৌলিক চাহিদার একটি বাসস্থান। আমরা বিশেষ পরিবারের সন্তান হলেও ঢাকার মিরপুরে সরকারি জমিতে বসবাস করছি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি স্থায়ী বাসস্থান ও আমাদের জন্য উপযুক্ত চাকরির ব্যবস্থা যেন উনি করেন।’ তবে নিয়মিত সরকারি রেশন ও ভাতা পাচ্ছেন বলেও জানান তারা।
গোপালপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদ্য সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা সমরেন্দ্রনাথ সরকার বিমল বলেন, সূতী মীরপাড়ায় গোপালপুরের একমাত্র বীরপ্রতীক শহীদুল ইসলামের জন্ম হলেও, এখানে তার বাড়িঘর নেই। তার পরিবার এখানে এসে কিছু চাননি, তাই বীর নিবাসসহ অন্যান্য সুবিধাদি পাননি। তার পরিবার বীরপ্রতীক ভাতা পাচ্ছেন।
গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বীরনিবাস তৈরি করে দেওয়ার একটি প্রকল্প চলমান আছে। গোপালপুরে জীবিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ৬২টি বীরনিবাস নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে এবং ৬টি নির্মাণাধীন রয়েছে। তাকে আবেদন করে রাখতে বলেন। পরের অর্থবছরে আবার যদি বরাদ্দ আসে তবে হয়তো এগুলো পাঠাতে পারব। আমার যতদূর জানা আছে বর্তমান যারা বীর মুক্তিযোদ্ধা জীবিত অবস্থায় আছেন প্রাথমিকভাবে তাদের এটা দিচ্ছে। এখন পর্যন্ত ওয়ারিশ হিসাবে যারা আছেন, তারা পেয়েছেন বলে আমার জানা নেই। তারপরও পর্যাপ্ত তথ্য পেলে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি লিখতে পারব।’
বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, হানিফ এন্টারপ্রাইজের চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কফিল উদ্দিন আর নেই। ভারতের দিল্লির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার (৩১ মে) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
দেশের পরিবহন খাতের পরিচিত এই ব্যক্তিত্বের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মো. জোবায়ের মাসুদ।
কফিল উদ্দিনের আকস্মিক মৃত্যুতে দেশের পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর এই চলে যাওয়ায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি কফিল উদ্দিন আহমেদ, কার্যকরী সভাপতি এম এ বাতেন এবং মহাসচিব মো. সাইফুল আলম গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
এক যৌথ বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করার পাশাপাশি তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
মেহেরপুরের সদর উপজেলার চকশ্যামনগর গ্রামের মাঠের ৪টি এবং মুজিবনগর উপজেলার মোনাখালি মাঠ থেকে ৩ টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারের কয়েল চুরি হয়েছে।
এতে করে এই দুই উপজেলার প্রায় ৫০০ বিঘা জমির সেচকাজ বন্ধ হয়ে গেছে। গেল রাতের কোন এক সময় এ চুরির ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, চকশ্যামনগর মাঠে মেহেরপুর সদর ফিডারের আওতায় চারটি এবং একই মাঠের মুজিবনগর উপজেলার মোনাখালী অংশে বটতলা সংলগ্ন মুজিবনগর ফিডারের আওতায় আরো তিনটি ট্রান্সফর্মারের কয়েল চুরি হয়েছে।
রাতের আধারে অজ্ঞাত চোরেরা বৈদ্যুতিক পোল থেকে ট্রান্সফরমার খুলে ফেলে। ট্রান্সফরমারের উপরের কভার ভেঙ্গে ভেতরে থাকা কয়েল নিয়ে যায়।
এতে প্রায় ৫শতাধিক বিঘা জমির সেচ কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। পল্লী বিদ্যুত সমিতির নিয়মানুযায়ী ট্রান্সফরমার চুরি হলে নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপনের সব খরচ গ্রাহককে বহন করতে হবে।এতে চরম বিপাকে পড়েছেন সেচ পাম্প মালিকগণ।
মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুত সমিতির সদর সার্কেলের ডিজিএম শ্যামল কুমার মল্লিক জানান, এ বিষয়ে কৃষকদের সচেতন করা হচ্ছে। এছাড়া নিয়ম তান্ত্রিক উপায়ে আবেদন করলে নতুন ট্রান্সফর্মার লাগানো সম্ভব।
আর এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে চোর চক্রকে ধরার কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় হালিমা আক্তার (১৯) নামের এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনার রহস্য উন্মোচন করেছে পিবিআই মুন্সীগঞ্জ। পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ এবং সামাজিক মর্যাদাহানির আশঙ্কায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন: আবু কালাম (৪৮), জামাল হোসেন (৪৪), রাসেল মিয়া (৪৪) এবং আল আমিন প্রধান (৫০)। তারা সবাই গজারিয়ার বড় ভাটেরচর এলাকার বাসিন্দা।
গত শুক্রবার (২৯ মে) সকালে গজারিয়ার ফুলদী নদী থেকে হালিমা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। মরদেহটি পচন ধরায় প্রাথমিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পিবিআই মুন্সীগঞ্জের একটি ক্রাইম সিন টিম তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ভিকটিমের পরিচয় শনাক্ত করে। নিহত হালিমা গজারিয়ার হোসেন্দী ইউনিয়নের জামালদী গ্রামের মহাসিন বেপারীর মেয়ে। এ ঘটনায় ভিকটিমের বোন হোসনেয়ারা আক্তার বৃষ্টি বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম হালিমা অভিযুক্ত আবু কালামের কাছে ২৫ হাজার টাকা এবং রাসেলের কাছে ১০ হাজার টাকা পেতেন। এছাড়াও অভিযুক্ত জামালের সাথে হালিমার শারীরিক সম্পর্ক ছিল। তাদের অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি জামালের এক আত্মীয় দেখে ফেলেছিলেন। এই বিষয়টি ফাঁস হয়ে এলাকায় সামাজিক সম্মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় অভিযুক্তরা হালিমাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন।
রবিবার বিকেলে মুন্সীগঞ্জের কোর্ট ইন্সপেক্টর সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং আমলী আদালত-৫ এর বিজ্ঞ বিচারক জিনিয়া ইসলামের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
রবিবার সন্ধ্যায় প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পিবিআই মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসমা আরা জাহান জানান, ঘটনার ১৫ দিন আগেই অভিযুক্তরা হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে হালিমাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২৬ মে সন্ধ্যায় কৌশলে হালিমাকে বড় ভাটেরচর নদীর তীরে ডেকে আনা হয়। পরে নৌকায় করে নদীর ওপারে একটি ভুট্টা ক্ষেতের মাঝখানে নিয়ে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়। একপর্যায়ে হালিমার পরনের প্যান্ট দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। আসামিরা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।
পবিত্র ঈদুল আজহার টানা ছুটিতে উপচে পড়া পর্যটকের ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠেছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে অবস্থিত দেশের অন্যতম প্রধান চিরসবুজ বন 'লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান'। ঈদের দিন থেকে শুরু করে আজ রবিবার (৩১ মে) পর্যন্ত মাত্র চার দিনে উদ্যানটিতে রেকর্ডসংখ্যক পর্যটকের সমাগম ঘটেছে। এর মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের রাজস্ব আদায় করেছে বন বিভাগ।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার ঈদের দিন থেকে আজ রবিবার পর্যন্ত চার দিনে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে মোট ৪ হাজার ১৮১ জন পর্যটক ভ্রমণ করেছেন। এর মধ্যে ২৭ জন বিদেশি পর্যটকও ছিলেন। পর্যটকদের প্রবেশ টিকিট বাবদ সরকারের মোট রাজস্ব আয় হয়েছে ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৮৫২ টাকা, যা এই স্বল্প সময়ে অন্যতম একটি রেকর্ড।
যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দূর করতে এবং প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে ঈদের ছুটিতে হাজারো মানুষ ছুটে এসেছেন এই চিরসবুজ বনে। তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের ভিড়ে মুখরিত ছিল পুরো উদ্যান এলাকা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঈদের দিন থেকেই লাউয়াছড়ায় পর্যটকদের সমাগম ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে। বনের ভেতরের সুউচ্চ গাছপালা, চারপাশের সবুজ প্রকৃতি আর বন্যপ্রাণীর অবাধ বিচরণ দেখতে উদ্যানের ভেতরে ভিড় জমান দর্শনার্থীরা। বিশেষ করে বনের বানর, বিরল প্রজাতির উল্লুক আর চশমা পরা হনুমানের দেখা পেয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েন নানা বয়সী মানুষ।
উদ্যান কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতি বছরই ঈদের ছুটিতে লাউয়াছড়ায় মানুষের ঢল নামে। তবে এবার পর্যটকদের নিরাপত্তা ও বনের পরিবেশ রক্ষায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। ঈদের শুরুর দিকে পর্যটকের দেখা কিছুটা কম পাওয়া গেলেও, সময়ের সাথে সাথে তা অনেকাংশেই বেড়েছে। আজ রবিবার ছুটির শেষ দিন পর্যন্ত পর্যটকদের এই আনন্দঘন ও উপচে পড়া উপস্থিতি বজায় ছিল।
মেহেরপুরের সদর উপজেলার চকশ্যামনগর গ্রামের মাঠের ৪টি এবং মুজিবনগর উপজেলার মোনাখালি মাঠ থেকে ৩ টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারের কয়েল চুরি হয়েছে।
এতে করে এই দুই উপজেলার প্রায় ৫০০ বিঘা জমির সেচকাজ বন্ধ হয়ে গেছে। গেল রাতের কোন এক সময় এ চুরির ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, চকশ্যামনগর মাঠে মেহেরপুর সদর ফিডারের আওতায় চারটি এবং একই মাঠের মুজিবনগর উপজেলার মোনাখালী অংশে বটতলা সংলগ্ন মুজিবনগর ফিডারের আওতায় আরো তিনটি ট্রান্সফর্মারের কয়েল চুরি হয়েছে।
রাতের আধারে অজ্ঞাত চোরেরা বৈদ্যুতিক পোল থেকে ট্রান্সফরমার খুলে ফেলে। ট্রান্সফরমারের উপরের কভার ভেঙ্গে ভেতরে থাকা কয়েল নিয়ে যায়।
এতে প্রায় ৫শতাধিক বিঘা জমির সেচ কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। পল্লী বিদ্যুত সমিতির নিয়মানুযায়ী ট্রান্সফরমার চুরি হলে নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপনের সব খরচ গ্রাহককে বহন করতে হবে।এতে চরম বিপাকে পড়েছেন সেচ পাম্প মালিকগণ।
মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুত সমিতির সদর সার্কেলের ডিজিএম শ্যামল কুমার মল্লিক জানান, এ বিষয়ে কৃষকদের সচেতন করা হচ্ছে। এছাড়া নিয়ম তান্ত্রিক উপায়ে আবেদন করলে নতুন ট্রান্সফর্মার লাগানো সম্ভব।
আর এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে চোর চক্রকে ধরার কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে গৃহবধুর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত গৃহবধুর নাম তৃষা (২১)। নিহতের স্বজনদের দাবি, তাকে পারিবারিক কলহে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখে তার স্বামী ও তার পরিবার। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছে।
রোববার দুপুরে উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের ভাদুড়িকান্দা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। নিহত তৃষা ওই এলাকার মৃত নুরুল ইসলামের মেয়ে।
অভিযুক্ত পরিবারের দাবি, তৃষার বোনকে আনতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে গতকাল রোববার সকালে শ্বশুরের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধের সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে তৃষা নিজ ঘরে গলায় ফাঁস দেয়। দুপুর ১২টা থেকে ১টার মধ্যে পরিবারের সদস্যরা তৃষাকে ঘরের চালার কাঠের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে স্বামী সোহাগ ও স্বজনরা তাকে নামিয়ে আনলে তিনি আর জীবিত ছিলেন না।
ঘটনার পর খবর পেয়ে সোনারগাঁ তালতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত তৃষার মামা জামাল হোসেনের দাবি, ৬ বছর আগে সোহাগের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তাদের সংসারে সন্তান হয়নি। এ নিয়ে পরিবারে মধ্যে বিবাদ তৈরি হয়। গতকাল রোববার ঝগড়ার এক পর্যায়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখে। তবে আত্মহত্যার কোন চিহ্ন নাই। ঘটনার পর স্বামী পালিয়ে যায়।
সোনারগাঁ তালতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সেলিম হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
যে জাতি তার গর্বিত সন্তানদের স্বীকৃতি দিতে জানে না, সে জাতি কখনো উন্নতি করতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন ভূমি মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আমাদেরকে অহংকারী না হয়ে বিনয়ী হতে শিক্ষা দেয়। ভাষা শহীদদের স্মরণে প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণের মাধ্যমে রাজশাহী কলেজ তাদের যে স্বীকৃতি দিয়েছিল, তা একটি ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত।
আজ রবিবার (৩১ মে) রাজশাহী কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘রাজশাহী কলেজ অ্যালামনাই ও কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজশাহী কলেজ ও রাজশাহী কলেজ এইচএসসি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, "শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দৃষ্টি রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে জ্ঞান অর্জন করে এই মেধাবীরাই আগামী দিনে দেশ পরিচালনা করবে।"
রাজশাহী কলেজের ঐতিহ্যবাহী মাঠের কথা স্মরণ করে তিনি আরও বলেন, "এখান থেকে অনেক জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড় তৈরি হয়েছে। প্রয়োজনে এই মাঠটি সংস্কার করে আরও সুন্দর ও আধুনিক করার ব্যবস্থা করা হবে। যারা রাজশাহী কলেজে পড়ালেখা করেছেন, তারা সত্যিই সৌভাগ্যবান। রাজশাহী কলেজসহ সমগ্র রাজশাহীকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আমাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।"
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. ইব্রাহিম আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ এরশাদ আলী ঈশা, রাজশাহী কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর আবু ইউনুছ আলী,রাজশাহী কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক,প্রফেসর ড. মোঃ হাবিবুর রহমান,রাজশাহী কলেজ এইচএসসি অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের সভাপতি চৌধুরী সাইদুর রহমান কোয়েল, রাজশাহী কলেজ এইচএসসি অ্যালামনাই এসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক ডাঃ তাহাসিনা শামীম তাসু প্রমূখ।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া মোট ৩৪২ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে মেডিকেল কলেজ, ৮১ জন, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট, রুয়েট, কুয়েট, চুয়েট) ৬৬ জন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ২০ জন,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১১ জন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ৯ জন, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫৫ জন।
সংবর্ধনা প্রদান ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগত অতিথি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আনন্দঘন পরিবেশে এক ফটোসেশনে মিলিত হন।
নৌপথে যাতায়াতকারী জনগণের নিরাপত্তা ও ভোগান্তি নিরসনে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান। তিনি বলেছেন, দেশের কোনো অঞ্চলের নাগরিক যেন নৌপথে ভোগান্তির শিকার না হন, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে এবং নৌযান চলাচল ও ঘাট ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রোববার (৩১ মে) বিকেল ৩টার দিকে আকস্মিক সফরে ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঈদ ও ছুটিকে কেন্দ্র করে যেসব নৌপথে যাত্রীচাপ বেশি থাকে, সেসব এলাকার পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে চাঁদপুর, বরিশাল, মজুচৌধুরীঘাট, ইলিশাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাট পরিদর্শন করা হয়েছে। এছাড়া হাতিয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন নৌপথ ও ঘাটের সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “আমাদের দায়িত্ব হলো মানুষকে নিরাপদে তাদের প্রিয়জনের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং ছুটি শেষে নিরাপদে কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনা। আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করছি। ঘাটগুলো পরিদর্শনের সময় ছোটখাটো কিছু ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতা আমাদের নজরে আসে। সেগুলো দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।”
মো. রাজিব আহসান আরও বলেন, জনগণের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক নৌযাত্রা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাত্রীসেবা উন্নয়ন, নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং ঘাট ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নের মাধ্যমে নৌখাতে সেবার মান আরও উন্নত করা হবে।
ভোলার ইলিশা নদী বন্দরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইলিশা নদী বন্দরকে একটি আধুনিক, দৃষ্টিনন্দন ও কার্যকর নদী বন্দর হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সেবার মানোন্নয়নে কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে।
অবৈধ নৌযান নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে সরকারি নিবন্ধনবিহীন নৌযানগুলোকে চিহ্নিত করতে দেশব্যাপী শুমারি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। নৌযানের ইঞ্জিনের ধারণক্ষমতা ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় এনে সেগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে। শুমারি কার্যক্রম সম্পন্ন হলে অবৈধ নৌযানের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও জানান, যেসব রুটে যাত্রীসংখ্যা ও পরিবহন চাহিদা বেশি, সেখানে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে নতুন জাহাজ ও নৌযান সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের সামর্থ্য অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যাতে যাত্রীদের যাতায়াতে কোনো ধরনের সমস্যা না হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন আরিফ আহমেদ মোস্তফা, ডা. শামীম রহমান এবং শহিদুল্লাহ কাওছারসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তাদের উপস্থিতিতে ঘাটের সার্বিক অবস্থা পরিদর্শন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী।
সফর শেষে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, নৌপথে যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সরকারের চলমান উদ্যোগগুলো ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।
ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার ২নং মুন্সীরহাট ইউনিয়নের গতিয়া খাল থেকে সিলোনিয়া খাল পর্যন্ত দুই কিলোমিটার খাল পুনঃখনন কাজের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।
রবিবার (৩১ মে) দুপুরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ইজিপিপি কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সী রফিকুল আলম মজনু।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকল্পটির মাধ্যমে গতিয়া খাল থেকে সিলোনিয়া খাল পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হবে। প্রকল্পের প্রস্থ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫-৪৫ ফুট। খাল খননে প্রায় ৫১ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। খাল পুনঃখনন সম্পন্ন হলে এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া বর্ষা মৌসুমে বন্যা ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমিয়ে স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হবে।
পরে সংসদ সদস্য মুন্সী রফিকুল আলম মজনু স্থানীয় নোয়াপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গাছের চারা রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহরিয়া ইসলাম, উপজেলা ভুমি কর্মকর্তা সোহেলী নওশীন প্রত্যাশা, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ফখরুল আলম স্বপন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজীব আহম্মেদ, মুন্সি হাট ইউনিয়নের প্রশাসক ও গতিয়া খাল খনন প্রকল্পের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং এলাকার বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণ শেষে ট্রলার থেকে পানিতে পড়ে নিখোঁজ হওয়া তামিম (১৫) নামের এক কিশোরের মরদেহ ২৪ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (৩০ মে) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের শ্রীপুর বাজারের উত্তর পাশে পাটলাই নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত তামিম সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলা-এর গোল্লা গ্রামের মজিবুর মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তামিম তার পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের সঙ্গে প্রায় ৫০-৬০ জনের একটি পর্যটক দলের সদস্য হিসেবে ‘মা-বাবার দোয়া’ নামের একটি নৌযানে করে টাঙ্গুয়ার হাওর ও টেকেরঘাট ভ্রমণে আসেন। ভ্রমণ শেষে ফেরার পথে অসাবধানতাবশত তিনি ট্রলার থেকে পাটলাই নদীতে পড়ে যান। এরপর তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। দীর্ঘ সময় অনুসন্ধান চালানোর পর রবিবার (৩১ মে) তামিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিখোঁজের খবর পাওয়ার পর পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধারকাজে অংশ নেন। টানা অনুসন্ধানের একপর্যায়ে কিশোর তামিমের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
ঈদুল আযহার আনন্দ উদযাপন শেষে রাজধানী ও তার আশপাশের এলাকায় কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন লাখো মানুষ। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌপথ পাড়ি দিয়ে মানুষ তাদের গন্তব্য যাচ্ছে।
রবিবার (৩১ মে) সকাল থেকেই দৌলতদিয়া ঘাটে দুর দুরান্ত থেকে মানুষ যাত্রীবাহী বাস, মাইক্রোবাস, মাহিন্দ্র, মোটরসাইকেল যোগে ঘাটে এসে লঞ্চ ও ফেরিতে নদী পাড়ি দিচ্ছে। আবার অনেক বিভিন্ন জেলা থেকে সরাসরি পরিবহন যোগে নদী পারি দিয়ে কর্মস্থলে ফিরছে। এতেকরে ঘাট এলাকায় যানবাহনের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। তবে ছোট গাড়ির মধ্যে মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাসের সংখ্যা ছিল চোখে পড়ার মতো।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ঘাট এলাকায় সকল প্রস্তুতি গ্রহন করেছে ঘাট কর্তৃপক্ষ। ঘাটে আসা প্রতিটি বাসে থাকা যাত্রীদের নামিয়ে ফাঁকা বাস ফেরিতে উঠছে। তবে প্রতিটি ঘাটেই নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করছে নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, আনসা সদস্য সহ ঘাট-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থা।
মেহেরপুর থেকে আসা গাজীপুরগামী যাত্রী মাহফুজুর রহমান বলেন, ঈদের আগে যেমন দীর্ঘ অপেক্ষা বা যানজটের মুখে পড়তে হয়নি, তেমনি ফেরার পথেও কোন ভোগান্তি হয়নি। এবারের ঈদযাত্রা ছিল স্বস্তির।
ঘাটে আসা আরেক যাত্রী ছালমা আক্তার বলেন, ঈদের দীর্ঘ ছুটি শেষে আজ মাদারীপুর থেকে বাসযোগে ঘাটে এসে সরাসরি ফেরিতে উঠেছি। তবে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, যানবাহনে ভাড়া তুলনামূলক ভাড়া একটু বাড়তি।
এদিকে ঢাকা সহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এখনো নদী পাড়ি দিয়ে বাড়ি ফিরছে মানুষ।
লঞ্চঘাটে ঢাকা থেকে আসা যাত্রী আঃ কাদের বলেন, আমি ঢাকায় ব্যবসা করি। ঈদের মধ্যে বাড়ি যেতে পারিনি, গরু কোরবানি ঢাকাতেই দিয়েছি এখন মাংস নিয়ে গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়া যাচ্ছি।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার সহকারী মহা ব্যবস্থাপক মো. সালাহউদ্দিন জানান, ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা ঢাকামুখী মানুষ ও যানবাহনের চাপ কিছুটা বেড়েছে। তবে দৌলতদিয়া প্রান্তে কোন ভোগান্তি নেই। বর্তমানে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ছোট-বড় ১৫টি ফেরি ও ২০টি লঞ্চ যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে চলাচল করছে।
নাটোর-৩ সিংড়া আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনু এমপির হস্তক্ষেপে নাটোরের সিংড়া উপজেলার কলম ইউনিয়নের পুন্ডরি গ্রামে আবাদি জমিতে পুকুর খনন বন্ধ করা হয়। পরে উপজেলা প্রশাসন পুকুর খননের অপরাধে জমির মালিক হামিদ মণ্ডলকে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ধারা ১৫ অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।
সিংড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত আনজুম রোববার দুপুরে অভিযান পরিচালনা করে এ জরিমানা করেন।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার গভীর রাত থেকে ধানী জমিতে অসাধু ভেকু ব্যবসায়ী আরিফুল ও আলী হাসানের যোগসাজশে পুকুর খনন শুরু করা হয়।
পরে স্থানীয়রা বিষয়টি গণমাধ্যম ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম আনুকে জানালে তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশনা দেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের তৎপরতারও প্রশংসা জানানো হয়।
মাগুরায় আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের একজন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৫টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে মোটরসাইকেল চুরি প্রতিরোধ এবং চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন (পিপিএম-সেবা)-এর নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যাপস), খন্দকার খায়রুল হাসান (পিপিএম-সেবা)-এর নেতৃত্বে মাগুরা সদর থানা পুলিশ ও সিসিআইসি’র যৌথ একটি দল শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে সদর উপজেলার লক্ষীকান্দর গ্রামের একটি মুরগির খামারে অভিযান চালায়।
অভিযানে আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের সদস্য মো. পলাশ (৩৬)কে গ্রেফতার করা হয়। তিনি মাগুরা পৌরসভার মীরপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় মোটরসাইকেল মেকানিক। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে খামারের একটি টিনশেড ঘরে অভিযান চালিয়ে ৫টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করে পুলিশ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, সংঘবদ্ধ এই চক্রের আরও কয়েকজন সদস্য বিভিন্ন জেলায় সক্রিয় রয়েছে। তারা মোটরসাইকেল চুরি, লক পরিবর্তন, ক্রেতা সংগ্রহ এবং চোরাই মোটরসাইকেল সরবরাহের কাজে জড়িত। গ্রেফতারকৃত পলাশ চক্রের অন্যান্য সদস্যদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন, যা যাচাই-বাছাই করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক সদস্যদের গ্রেফতার এবং চক্রটির সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক শনাক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মাগুরা জেলা পুলিশ জানায়, জেলার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। খুন, ডাকাতি, মাদক, অনলাইন প্রতারণা ও চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধারের পাশাপাশি হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও সাফল্য অর্জন করেছে পুলিশ।
এছাড়া সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং দাঙ্গা-হাঙ্গামা প্রতিরোধে জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করছে মাগুরা জেলা পুলিশ।
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে অপরাধ দমনে সাধারণ জনগণকে সচেতন থাকার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।