রোববার, ৩১ মে ২০২৬
১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সর্বকনিষ্ঠ বীরপ্রতীক শহীদুলের পরিবারের নেই স্থায়ী নিবাস

ছবিতে সর্ব বামে (বৃত্তে) সর্বকনিষ্ঠ বীরপ্রতীক শহীদুল।
আপডেটেড
১৭ এপ্রিল, ২০২৪ ০৫:৩১
মো. রুবেল আহমেদ, গোপালপুর (টাঙ্গাইল)
প্রকাশিত
মো. রুবেল আহমেদ, গোপালপুর (টাঙ্গাইল)
প্রকাশিত : ১৭ এপ্রিল, ২০২৪ ০৫:৩১

‘রাজাকার-আলবদর থাকে আজ রাজপ্রাসাদে, আমি শহীদুল ইসলাম বীরপ্রতীক থাকি একটা কুইড়াঘরে (কুঁড়েঘরে) তার কারণ কী?’ ক্ষোভে ২০০৩ সালে ধারণ করা এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে এমনটাই বলেছিলেন দেশের সর্বকনিষ্ঠ বীরপ্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা, টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার সূতী গ্রামের হেলাল উদ্দিনের ছেলে শহীদুল ইসলাম। অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারে জন্ম হলেও অনেক সাহসী ও বুদ্ধিমান ছিলেন। তাই তো দেশকে হানাদার মুক্ত করতে ১২ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন কাদেরিয়া বাহিনীর কমান্ডার আনোয়ার হোসেন পাহাড়ির অধীনে।

কিন্তু আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, দেশের সর্বকনিষ্ঠ বীরপ্রতীক শহীদুল ইসলাম লালুর পরিবারের নেই স্থায়ী নিবাস, সন্তানদের জন্য নেই চাকরির ব্যবস্থা। তিনি কুলির কাজ ও খাবার হোটেলের কাজ করে অনেক কষ্টে কাটিয়েছেন জীবনের অধিকাংশ সময়।

দৈনিক বাংলার অনুসন্ধানে জানা যায়, বাংলাদেশের সর্বকনিষ্ঠ বীরপ্রতীকের পরিবার বসবাস করছেন ঢাকার মিরপুর মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন প্রকল্পের সরকারি জমিতে। প্রথম সন্তান মুক্তা বেগম (৩৫) পেশায় গৃহিণী, স্বামীর বাড়ি রাজশাহীর নাটোরে। দ্বিতীয় সন্তান আক্তার হোসেন (৩২) পেশায় গাড়িচালক, তৃতীয় সন্তান সোহাগ হোসেন (২৭) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সদ্য গ্র্যাজুয়েশন শেষ করেছেন। চতুর্থ সন্তান শিখা আক্তার (২০) ঢাকার একটি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ভারতে ট্রেনিং চলাকালে সর্বকনিষ্ঠ হওয়ায় সহযোদ্ধারা তাকে লালু তার চেয়ে বয়সে বড় শ্যামলকে ভুলু নামে ডাকতে শুরু করেন। দেশে ফিরলে তার বুদ্ধিমত্তায় একাধিকবার মুক্তিযোদ্ধারা প্রাণে বাঁচেন। কাদেরিয়া বাহিনীর কমান্ডারের নির্দেশে, চতুর শহীদুল ইসলাম ছদ্মবেশ ধারণ করেন। কৌশলে এক রাজাকারের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে গোপালপুর থানা কম্পাউন্ডের, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বাংকারে ঢুকে পড়েন। তার কৌশল ও দুঃসাহসিক গ্রেনেড হামলায় একাধিক বাংকার ধ্বংস করলে গোপালপুর থানা হানাদার মুক্ত হয়। স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার তাকে বীরপ্রতীক উপাধি দেয়। রাইফেলের সমান উচ্চতা হওয়ায় ভারতে প্রশিক্ষণ চলাকালে তাকে স্টেনগান চালনা ও গ্রেনেড ছোড়ার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কাদেরিয়া বাহিনী ১৯৭২ সালের ২৪ জানুয়ারি টাঙ্গাইলের বিন্দুবাসিনী বালক উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অস্ত্র সমর্পণ করা হয়। স্টেনগান জমা দানকালে অত্যন্ত সাহসী ১২ বছরের কিশোর শহীদুলের বীরত্বের কথা শুনে, মুগ্ধ হয়ে তাকে কোলে তুলে নেন স্বয়ং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ছবিটি সামরিক ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। যখন সহযোদ্ধাদের কাছ থেকে লালুর বাংকার ধ্বংসের কথা শুনলেন তখন বঙ্গবন্ধু তাকে আদর করে কোলে তুলে নিয়ে বলেছিলেন, ‘বীর বিচ্ছু’।

শৈশবে শহীদুল ইসলামের বাবা-মা, মুক্তিযুদ্ধের সময় এক ভাই-এক বোনের মৃত্যু হয়। দরিদ্রতায় উপায়ান্তর না দেখে মুক্তিযুদ্ধের পর ২ ভাইকে রেখে জীবিকার তাগিদে বাড়ি ছাড়া হন তিনি। ঢাকার সোয়ারিঘাটে বালু টানা, ঠেলা গাড়ি চালানো, রাজমিস্ত্রীর হেলপারের কাজ, শেষে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে কুলির কাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে কুলির কাজ শেষে হোটেলে কাজ শুরু করেন। যাযাবর অবস্থায় বিয়েও করেন, এক কন্যা ও এক পুত্র জন্ম নেওয়া সেই সংসার স্থায়ী হয়নি। পরবর্তীতে কুমিল্লায় হোটেলে কাজ করা অবস্থায় সহকর্মীকে জীবনের সব ঘটনা খুলে বলেন। ২ সন্তানকে নিয়ে ওই সহকর্মীর সঙ্গে মুন্সীগঞ্জের বিক্রমপুর চলে যান। ১৯৯৬ সালে সেই সহকর্মীর নিকটাত্মীয় মালা বেগমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এই দম্পতির পুত্রসন্তান সোহাগ হোসেনের জন্মের পর সংসারে অভাব-অনটন দেখা দেয়। ঢাকার পোস্তগোলায় এসে নিজের খাবার হোটেল চালু করার কিছুদিনের মধ্যেই, ১৯৯৮ সালে জটিল কিডনি রোগে আক্রান্তের কথা জানতে পারেন। কোনো উপায় না পেয়ে, কাদেরিয়া বাহিনীর প্রধান বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর ঢাকার বাসার ঠিকানা জোগাড় করে দেখা করেন। পরিচয় পাওয়ার পর আবেগাপ্লুত বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বুকে জড়িয়ে নেন। তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করান, উপস্থিত সহযোদ্ধাদের নির্দেশ দেন তার কাগজপত্র সংগ্রহ করতে। কাদেরিয়া বাহিনীর যোদ্ধা বীরপ্রতীক আবদুল্লাহকে নির্দেশ দেন, ঢাকার মিরপুর মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন প্রকল্পে শহীদুলের পরিবারের জন্য জায়গা দিতে। সে অনুযায়ী তার পরিবারের ঠাঁই হয় সেখানে। চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থ হন শহীদুল ইসলাম। কাগজপত্র সংগ্রহের পর জানতে পারেন তিনি বীরপ্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা‌, তিনিই সর্বকনিষ্ঠ বীরপ্রতীক। ডাক পড়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে ৩০ হাজার টাকা অনুদান প্রদানের সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে অন্য দুই ভাই তাকে খুঁজে পায়। কিছুদিন পর জন্ম হয় আরেক কন্যা শিখার।

অসুস্থতার কারণে শেষ সময়ে কোনো কাজকর্ম করতে পারেননি, শুভাকাঙ্ক্ষীদের অর্থে চলেছে চিকিৎসা ও পরিবারের খরচ। ২০০৯ সালে ২৫ মে অসুস্থ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে তাকে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

বীরপ্রতীক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী মালা বেগম দৈনিক বাংলাকে বলেন, আমার স্বামীর জীবদ্দশায় ভাতাপ্রাপ্ত ছিলেন না, তাই শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহায়তায় চিকিৎসা করাতে হয়েছে। তার মৃত্যুর পর ৪ সন্তানকে অনেক কষ্টে লালন-পালন করি, এরপর মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে গেলে ২০১৪ সালে ২ হাজার টাকা ভাতা চালু হয়। মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন প্রকল্পের সরকারি জমিতে একাধিক রুম বানিয়ে ভাড়ার টাকায় সন্তানদের বড় করি। সন্তানদের শিক্ষিত করেছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমার দাবি তিনি যেন সন্তানদের জন্য উপযুক্ত চাকরি ও আমাদের স্থায়ী নিবাসের ব্যবস্থা করে দেন।

তিনি আরও বলেন, ‘নিজ এলাকার মানুষের থেকে তার তেমন মূল্যায়ন পায়নি, এই ক্ষোভে তিনি মৃত্যুর আগে কখনো গোপালপুর যাননি। তবে সন্তানদের নিয়ে আমি একাধিকবার গোপালপুর গিয়েছিলাম।’

সর্বকনিষ্ঠ বীরপ্রতীকের সন্তান সোহাগ হোসেন বলেন, ‘মানুষের মৌলিক চাহিদার একটি বাসস্থান। আমরা বিশেষ পরিবারের সন্তান হলেও ঢাকার মিরপুরে সরকারি জমিতে বসবাস করছি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি স্থায়ী বাসস্থান ও আমাদের জন্য উপযুক্ত চাকরির ব্যবস্থা যেন উনি করেন।’ তবে নিয়মিত সরকারি রেশন ও ভাতা পাচ্ছেন বলেও জানান তারা।

গোপালপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদ্য সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা সমরেন্দ্রনাথ সরকার বিমল বলেন, সূতী মীরপাড়ায় গোপালপুরের একমাত্র বীরপ্রতীক শহীদুল ইসলামের জন্ম হলেও, এখানে তার বাড়িঘর নেই। তার পরিবার এখানে এসে কিছু চাননি, তাই বীর নিবাসসহ অন্যান্য সুবিধাদি পাননি। তার পরিবার বীরপ্রতীক ভাতা পাচ্ছেন।

গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বীরনিবাস তৈরি করে দেওয়ার একটি প্রকল্প চলমান আছে। গোপালপুরে জীবিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ৬২টি বীরনিবাস নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে এবং ৬টি নির্মাণাধীন রয়েছে। তাকে আবেদন করে রাখতে বলেন। পরের অর্থবছরে আবার যদি বরাদ্দ আসে তবে হয়তো এগুলো পাঠাতে পারব। আমার যতদূর জানা আছে বর্তমান যারা বীর মুক্তিযোদ্ধা জীবিত অবস্থায় আছেন প্রাথমিকভাবে তাদের এটা দিচ্ছে। এখন পর্যন্ত ওয়ারিশ হিসাবে যারা আছেন, তারা পেয়েছেন বলে আমার জানা নেই। তারপরও পর্যাপ্ত তথ্য পেলে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি লিখতে পারব।’


তারেক রহমান প্রমাণ করেছেন জনগণ যা বলবে সেটি হবে আইন: প্রকৌশলী শাহরিন

আপডেটেড ৩১ মে, ২০২৬ ১৫:৫৬
নাসির উদ্দিন শাহ মিলন, নীলফাামারী

ইঞ্জিনিয়ার অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের (এ্যাব) এর আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন বলেছেন,'আগে দেশে আওয়ামী লীগ যা বলত সেটাই ছিল আইন। কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রমাণ করছেন দেশের জনগণ যেটা বলবে, যেটা চাইবে সেটাই হবে আইন।'

রবিবার (৩১ মে) দুপুরে নীলফামারী জেলা পরিষদের উদ্যোগে পরিষদ চত্বরে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বগুড়ার মানুষ, দিনাজপুরের মানুষ যেটা বোঝে সেটা আমরা বৃহত্তর রংপুরের মানুষ বুঝি না। অবুঝ আমরা এখনো আছি। দেখি ভবিষ্যতে পরিবর্তন হয় কি না। সে আশায় থাকবো আমরা।
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যদি আমাদের দলের লোকদের আনতে পারি, তাহলে সেখানে আমরা যে কোন মন্ত্রীর কাছ থেকে কাজ আদায় করে নিতে পারবো। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর কাছেও আমি বলতে পারব এই লোকটি আমাদের এটি দিতে হবে। সেই অধিকারটা নীলফামারীর জনগণকে প্রতিষ্ঠা করার আহ্বান জানান তিনি।

ওই অনুষ্ঠানে প্রকৌশলী তুহিন জেলা পরিষদের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের রাজস্ব বরাদ্দের অর্থে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তির চেক, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থে বাইসাইকেল, হুইল চেয়ার, সিলিং ফ্যান, টিউবওয়েল সহ নানা খেলার সামগ্রী বিতরণ করেন।
এতে জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাড. মিজানুর রহমান চৌধুরী শামীমের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে তুহিনের সহধর্মিণী তামান্না ইয়াসমিন উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে জেলা পরিষদ চত্বরে বৃক্ষরোপণ করেন প্রধান অতিথি। এরপর জেলা পরিষদের আধুনিক ডাক বাংলো নির্মাণ কাজের উদ্বোধন শেষে জেলা পরিষদ স্কুল এন্ড কলেজের জন্য প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করেন তিনি।

এসময় জেলা বিএনপির আহবায়ক মীর সেলিম ফারুক, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল পারভেজ, যুগ্ম আহ্বায়ক রেয়াজুল ইসলাম কালু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জহুরুল আলম, জেলা জজ কোর্টের জিপি আবু মো. সোয়েম, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রাহেদুল ইসলাম দোলন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী আখতারুজ্জামান জুয়েল, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান মাহবুব, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আল মাসুদ চৌধুরী সহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।


‘পুলিশের চাকরি ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস’ বলা সেই ওসি প্রত্যাহার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নেত্রকোনা প্রতিনিধি

পুলিশের কার্যক্রম নিয়ে বির্তক বক্তব্যের একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় নেত্রকোনার কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হাশেম নামের সেই ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

রোববার (৩১ মে) ওসি আবুল হাশেমকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ অফিসে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে পুলিশ।

অডিও রেকর্ডে থানার পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে আবুল হাশেমকে বলতে শোনা যায়, ‘পুলিশের চাকরি ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস। আমরা কেউ কাউকে ঠকাব না। সবাই মিলেমিশে থাকব। ধরেন দুই হাজার টাকা আমি খরচ করলাম, এই টাকা তো আমার বাড়ির টাকা না, বেতনের টাকাও না। আপনারা একটা অভিযোগ দিলেন এক হাজার টাকা, আরেকটা খারিজ কইরা ফেললেন এক হাজার টাকা, ওইটা দিয়েই কিন্তু আমি পাড়ি দিয়া দিলাম। তাইলে আমার তো রিস্ক নাই, নো টেনশন, খুব রিলাক্সে আছি।’

ওই রেকর্ডে ওসিকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘পুলিশের যে চাকরিটা, এটা ওয়ান কাউন্ড অব বিজনেস। সবাই কিন্তু এই বিজনেসের সাথে জড়িত না। আমরা কিন্তু একজন আরেকজনরে সেইফে রাখছি। সবাই সমন্বয় করে চলতে হবে। ওসির মাথায় কিন্তু কাঁঠাল ভেঙে খাইতে পারবেন না। সর্বোপরি আমি আপনাদের ঠকাব না, আমি কি বাড়ি থেকে টাকা এনে খরচ করতাছি, না জমি বেইচ্যা আইন্যা আপনাদের চালাইতেছি। সবাই যেন ভালো থাকতে পারি। যার যে–ই অধিকার, সে যেন সেটা পায়। আমার যারা কনস্টেবল আছে তারা যেন যেটা পাওয়ার, সেটা পায়, তারা যেন বঞ্চিত না হয়। হক মারা আমি পছন্দ করি না। কারণ, যারা হক মারে, রাসুল তারে সাফায়েত করবে না। এটাই কিন্তু ফাইনাল কথা। কেউ চালাকি করবেন না। বর্তমান মিডিয়া অনেক এগিয়ে আছে।’


এ বিষয়ে ওসি মো. আবুল হাশেম দাবি করেছেন, অডিওতে থাকা কণ্ঠ তার নয়। কীভাবে এমন একটি রেকর্ড তার নামে প্রচার করা হচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন বলেও জানিয়েছেন।

জেলা পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘অডিওটি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে ওসি আবুল হাশেমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


অবৈধভাবে দর্শনা সীমান্ত অতিক্রমকালে নারী ও শিশুসহ আটক ১০

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার বারাদি সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের সময় নারী ও শিশুসহ ১০ জনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

রোববার (৩১ মে) ভোর ৫টা ১৫ মিনিটের দিকে চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবি'র উপজেলার বারাদি সীমান্ত ফাড়ির নিয়মিত টহল দল সীমান্ত এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে তাদের আটক করে।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ২ জন পুরুষ, ৩ জন নারী এবং ৫ জন শিশু রয়েছে। তারা অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবির পরিচালক ও অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পারাপার প্রতিরোধে বিজিবির নিয়মিত অভিযান ও টহল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরো জানান, আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ চলমান রয়েছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের অভিযোগে তাদের দর্শনা থানায় সোপর্দ করা হবে।


বোয়ালখালীতে ১০ ফুট লম্বা বার্মিজ প্রজাতির অজগর উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার চরণদ্বীপ ইউনিয়নের একটি বাড়ির লাকড়ি রাখার ঘর থেকে ১০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি বার্মিজ প্রজাতির অজগর উদ্ধার করা হয়েছে।

রবিবার (৩১ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার চরণদ্বীপ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নুর বক্স কন্ট্রাক্টরের বাড়ির মো. আজমের ঘরে সাপটির দেখা মেলে। খবর পেয়ে ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড স্নেক রেস্কিউ টিম ইন বাংলাদেশের সদস্য আমির হোসাইন শাওন ঘটনাস্থলে গিয়ে অজগরটি উদ্ধার করেন।

তিনি জানান, মো. আজমের পরিবারের সদস্যরা রান্নার জন্য লাকড়ি আনতে গিয়ে লাকড়ির ঘরে সাপটি দেখতে পান। পরে তারা বিষয়টি স্থানীয়দের জানালে উদ্ধারকারী দলকে খবর দেওয়া হয়।

আমির হোসাইন শাওন বলেন, “সম্ভবত খাদ্যের সন্ধানে সাপটি লোকালয়ে চলে এসেছে। উদ্ধার হওয়া বার্মিজ প্রজাতির অজগরটির ওজন প্রায় ১২ কেজি এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ ফুট।”

উদ্ধারের পর অজগরটিকে নিরাপদে পাহাড়ি জঙ্গলে অবমুক্ত করা হয়েছে।


মঠবাড়িয়ায় একদিনে জোড়া খুন, নিখোঁজ আরো এক ব্যবসায়ী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মঠবাড়ীয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় একই দিনে দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ওই এলাকা থেকে এক ব্যবসায়ী নিখোঁজ রয়েছেন। জোড়া হত্যাকাণ্ড ও নিখোঁজের ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

নিহতরা হলেন উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া গ্রামের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সাগর হাওলাদার (৪০) ও আবদুর রশিদ বেপারী (৪৫)। নিখোঁজ ব্যক্তি একই এলাকার ব্যবসায়ী ইউসুফ পেয়াদা (৪৫)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোটরসাইকেল চালক সাগর হাওলাদার শনিবার (৩০ মে) বিকেলে ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালানোর উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। গভীর রাতে পরিবারের সদস্যরা বাড়ির পেছনে তার মরদেহ দেখতে পান। অন্যদিকে কৃষক আবদুর রশিদ বেপারী রাত ১১টার দিকে একটি ফোন পেয়ে বাড়ি থেকে বের হন। রোববার (৩১) সকালে নেহালিয়া এলাকার একটি মাদ্রাসা সংলগ্ন মক্তবখানার বারান্দা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এদিকে একই রাতে ব্যবসায়ী ইউসুফ পেয়াদা নিখোঁজ হন। পরিবারের দাবি, বিকেলে স্ত্রীর সঙ্গে তার শেষবার মোবাইলে কথা হয়েছিল। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। স্থানীয়রা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

মঠবাড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পার্থ চক্রবর্তী (পিপিএম) বলেন, মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে নিখোঁজ ব্যবসায়ীকে উদ্ধারে এবং জোড়া খুনের রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।


ভৈরবে ক্ষতিগ্রস্থ ৭২৪ কৃষককের মাঝে বিনামূল্যে চাল ও টাকা বিতরণ করলেন প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম

আপডেটেড ৩১ মে, ২০২৬ ১৪:৩৩
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ক্ষতিগ্রস্থ ৭২৪ জন কৃষককে নগদ অর্থ ও চাল ও বিতরণ করছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মোঃ শরীফুল আলম।

উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের আয়োজনে রবিবার (৩১ মে) বেলা ১২টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে নগদ অর্থ ও চাল বিতরণ করা হয়েছে।

বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার কেএম মামুনুর রশীদ। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি অফিসার মোঃ রফিকুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মাহমুদ ভূইঁয়া, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আরিফুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি হাজী মো.শাহিন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ মুজিবুর রহমান প্রমূখ।

এবার বোরো মৌসুমে উজানের পানি ও অতি বৃষ্টিতে হাওর অঞ্চলের ভৈরবের জোয়ান শাহী হাওরের কৃষকের ফসল পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে সেসব ক্ষতিগ্রস্ত ৭শ ২৪ জন কৃষককে তিন মাস ১৫ কেজি চাল ও নগদ ৩ হাজার করে টাকা বিতরণ করা হয়। উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ কৃষককে মানবিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোঃ শরীফুল আলম তার বক্তব্যে বলেন, আমাদের সরকার কৃষিবান্ধব সরকার। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এবার ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদেরকে মানবিক সহায়তায় ৭শ২৪ জন কৃষককে ৩ মাস ১৫ কেজি চাল ও নগদ ৩ হাজার টাকা প্রদান করা হবে। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এদেশে খেটে খাওয়া শ্রমজীবি মানুষের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মানবিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।


মানিকগঞ্জে পৃথক ঘটনায় মা-ছেলেসহ ডাকাত সর্দারকে কুপিয়ে হত্যা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

পারিবারিক কলহ ও পূর্বশত্রুতার জেরে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর ও সদর উপজেলায় পৃথক ঘটনায় মা-ছেলেসহ ডাকাত সর্দারকে কুপিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার (৩০ মে) দিবাগত রাতে দৌলতপুর উপজেলার চরাঞ্চল বাঁচামারা ইউনিয়নের কাচারিপাড়া এবং মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার পুটাইল ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর এলাকায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, দৌলতপুর উপজেলার চরাঞ্চল বাঁচামারা ইউনিয়নের কাচারিপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুস সালামের স্ত্রী আমিনা বেগম (৩০) ও তার দেড় বছরের শিশু পুত্র আসলাম হোসেন এবং মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার পুটাইল কৃষ্ণনগর এলাকায় মুনছের আলীর ছেলে সজিব হোসেন (২৮)।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কলহের জেরে শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঘরে ঢুকে আব্দুস সালামের স্ত্রী আমিনা বেগম ও দেড় বছরের শিশু পুত্র আসলামকে হাতুরি দিয়ে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র কুপিয়ে হত্যা করে আব্দুস সালামের ছোট ভাই ইউসুফ আলী। এরপর রাতে ১০টার দিকে আব্দুস সালাম বাড়িতে পৌছানো মাত্রই ছোট ভাই ইউসুফ আলী ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় আব্দুস সালামকে উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে স্থানীয়রা। খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে ছুঁটে যান স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও থানা পুলিশ।

অপরদিকে পূর্ব বিরোধের জেরে শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার পুটাইল ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর এলাকায় নিজ বাড়িতে ঘরের ভিতরে সজিব হোসেন (২৮) নামের ডাকাতি ও মাদক মামলার আসামী কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা ও একটি ডাকাত দলের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিল। সম্প্রতি নিহত সজিব হোসেনের নেতৃত্বে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বালিয়াবিল এলাকার কৃষক চাঁন মিয়ার বাড়িতে ডাকাতি করতে গিয়ে ৪জন ডাকাত সদস্য জনতার হাতে আটক হয়। ওই ঘটনা ও মামলার পর আত্মোগোপনে চলে যায় সজিব হোসেন।

দৌলতপুর থানার ওসি স্বপন কুমার সরকার বলেন, খবর পেয়ে রাতেই নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আটকে পুলিশ কাজ করছে এবং হত্যাকান্ডে ব্যহৃত ধারালো অস্ত্রসহ আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

মানিকগঞ্জ সদর থানার ওসি মো.ইকরাম হোসেন বলেন, খবর পেয়ে নিহতদের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এবিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।


বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ, ৫ দিন পর পদ্মায় মিলল মেহেদির মরদেহ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় পদ্মা নদী থেকে নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ দিন পর মো. মেহেদি হাসান (৩১) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার গাওগোয়াইন গ্রামের মো. ফয়েজ উদ্দিন মালিথার ছেলে। শনিবার (৩০ মে) বিকেল ৩টার দিকে মাওয়া পুরাতন ফেরিঘাট সংলগ্ন পদ্মা নদীতে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করে মাওয়া নৌ পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা। দীর্ঘ সময় পানিতে থাকায় মরদেহটিতে পচন ধরেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মেহেদি হাসান ঢাকায় কর্মরত ছিলেন। পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে গত ২৫ মে তিনি রাজধানী থেকে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। ওই দিন রাতে পরিবারের সঙ্গে তাঁর সর্বশেষ কথা হয়। সে সময় তিনি জানিয়েছিলেন যে, তিনি আরিচা ফেরিঘাট এলাকায় অবস্থান করছেন। এরপর থেকেই তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং পরিবারের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। নিখোঁজের পাঁচ দিন পর তাঁর মরদেহটি মাওয়া এলাকায় পদ্মা নদীতে ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন।

মাওয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ইলিয়াস জানান, নিহতের পকেটে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। মরদেহ উদ্ধারের পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করেন। পুলিশ আরও জানায়, উদ্ধারকৃত মরদেহে প্রাথমিকভাবে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে দীর্ঘ সময় পানিতে থাকার কারণে শরীরে পচন ধরায় অন্য কোনো চিহ্ন থাকলেও তা স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

মরদেহটি বর্তমানে ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এটি কোনো দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো রহস্যজনক ঘটনা, তা খতিয়ে দেখতে প্রয়োজনীয় তদন্ত শুরু করেছে নৌ পুলিশ। প্রতিবেদন সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে বাড়ি যাওয়ার পথে এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে মেহেদি হাসানের পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের একমাত্র ছেলের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত বিদায়ে স্বজনদের মাঝে আহাজারি চলছে। ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।


পারিবারিক কলহের জেরে দেবরের হাতে ভাবি, ভাতিজা খুন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জালাল উদ্দিন ভিকু, দৌলতপুর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার যমুনা নদীর তীরবর্তী বাঁচামারা কাঁচারিপাড়া গ্রামে পারিবারিক কলহের জের ধরে পাষণ্ড দেবর ইউসুফ আলী হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে বড় ভাইয়ের স্ত্রী আমেনা আক্তার (৩০) ও শিশু ভাতিজা আসলাম (২) কে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় বড় ভাই কাপড় ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম দৌলতপুর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এই নির্মম ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘাতক ইউসুফ আলী পলাতক রয়েছেন।

গতকাল শনিবার রাত ১০টার দিকে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বাঁচামারা ইউনিয়নের কাচারি পাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বাঁচামারা কাচারীপাড়া গ্রামের সুলতান মোল্লার ছেলে ইউসুফ আলী (৪০)বেকার জীবন যাপন করছে বড় ভাই বাঁচামারা বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম তাকে হাত খরচ বাবদ টাকা পয়সা দিয়ে চালাতেন। ইউসুফ আলী বিয়ে করার পর ৪-৫ বছর যাবত ঢাকায় থাকেন। ঈদের মধ্যে ইউসুফ আলী বাড়িতে আসে আসার পর থেকেই বড় ভাই সালামের সাথে আবার পারিবারিক কলহ শুরু হয়।

প্রতিদিনের মতো আব্দুস সালাম দুপুরের খানা খেয়ে বাচামারা বাজারে তার কাপড়ের দোকানে চলে যায়। দোকান থেকে আসতে রাত হওয়ায় এই সুযোগে পাষণ্ড ইউসুফ আলী হাতুড়ি দিয়ে ভাবি আমেনা আক্তার ও ভাতিজা আসলাম কে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। বড় ভাই সালাম দোকান বন্ধ করে বাড়িতে এসে স্ত্রী ও শিশু সন্তানকে ডাকাডাকি করার সময় ওত পেতে থাকা ঘাতক ইউসুফ আলী হাতুড়ি দিয়ে বড় ভাই সালামের উপর আক্রমণ করে।

এসময় সালামের চিৎকার কান্নাকাটি শব্দে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে দুই জনের মৃতদেহ ঘরের খাটে উপর পড়ে থাকতে দেখতে পায়। গুরুতর আহত অবস্থায় সালাম কে উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এ ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরে দৌলতপুর থানা পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে দৌলতপুর থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি স্বপন কুমার সরকার জানান, হত্যার ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ফোর্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করি। লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের জের ধরে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত ঘাতক ইউসুফ আলী কে গ্রেপ্তারের সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।


কাল থেকে সুন্দরবনে প্রবেশাধিকার বন্ধ, বাড়ছে জীবিকার শঙ্কা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

জলজ প্রাণী, মাছ ও বন্যপ্রাণীর প্রজনন মৌসুমকে নিরাপদ রাখতে আগামীকাল ১ জুন থেকে টানা তিন মাসের জন্য সুন্দরবনে প্রবেশাধিকার বন্ধ হচ্ছে। এ সময় মাছ ধরা, মধু সংগ্রহ, পর্যটনসহ সব ধরনের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। বনবিভাগের এ সিদ্ধান্তে সুন্দরবননির্ভর হাজারো জেলে, মৌয়াল ও বনজীবীর মধ্যে জীবিকা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছরের মতো এবারও ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। এরই মধ্যে নতুন পাস বা অনুমতিপত্র প্রদান বন্ধ করা হয়েছে এবং বন এলাকায় অবস্থানরতদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বননির্ভর মানুষজন জানান, তিন মাস বন বন্ধ থাকায় তাদের আয়-রোজগারের প্রধান উৎস বন্ধ হয়ে যায়। ফলে অনেক পরিবারকে ঋণ করে সংসার চালাতে হয়। তারা নিষেধাজ্ঞার সময়ে খাদ্য সহায়তা ও বিশেষ প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন।

সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, বন ও বন্যপ্রাণীর প্রজনন ও সংরক্ষণের স্বার্থে এ নিষেধাজ্ঞা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে কাউকে সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।

বনবিভাগ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত জেলে পরিবারগুলোর জন্য খাদ্য সহায়তা ও প্রণোদনার একটি প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।


৩ জেলায় বজ্রবৃষ্টির আভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা জারি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর রোববার (৩১ মে) নোয়াখালী, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলে প্রতিকূল আবহাওয়ার আশঙ্কায় সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোতে সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে। এসব এলাকায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া অফিসের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে, "নোয়াখালী, চট্টগ্রাম কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তরপশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একইসঙ্গে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।"

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ওই অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে নম্বর সতর্ক সংকেত অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের সারা দেশের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ সন্ধ্যার মধ্যে চট্টগ্রাম সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং দেশের অন্যান্য বিভাগগুলোর দুই-এক স্থানে অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। তবে দেশের বাকি অংশে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা কম থাকলেও চট্টগ্রাম সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় ভারী বর্ষণের সতর্কবার্তা রয়েছে। এই সময়ে সারা দেশে দিন রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।


সিংগাইরে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি

বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে মানিকগঞ্জের সিংগাইরে আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা বিএনপির অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে শনিবার (৩০ মে) দুপুরে পৌর শহরের দেওয়ান কমপ্লেক্স এই আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আফরোজা খানম রিতা গ্রুপের নেতাকর্মীরা।
দিনটি উপলক্ষে বাদ জোহর কোরআন খানির আয়োজন করা হয়। কোরআন খানি শেষে তালেবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাইয়ের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মাহাবুবুর রহমান মিঠু।
পরে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন মাওলানা নাজমুল হক। দোয়ায় বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা, সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রয়াত শহীদ জিয়াউর রহমান, সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়া, ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর আত্মার মাগফিরাত ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দীর্ঘায়ু কামনাসহ দেশ ও জাতীর কল্যাণে দোয়া করা হয়।
এসময় জেলা কৃষক দলের সহ-সভাপতি মো: মহসিন, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক আওলাদ হোসেন (এজিএস), আওলাদ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাজেদুল আলম স্বাধীন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক ইস্তাফুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক আওয়াল শরীফ খোকন, প্রচার সম্পাদক ইলিয়াছ হোসেন, পৌর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি সায়েদ আলী, জিন্নত আলী, যুগ্ম-সম্পাদক রিপন উদ্দিন, যুগ্ম-সম্পাদক আতাউর রহমান আতা, ইমরান খান, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমান আকুল,
উপজেলা কৃষকদলের সিনিয়র সভাপতি বিপ্লব দেওয়ান, সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম, পৌর কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক জাহাবুল হক, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক কামাল হোসেন, জাকির হোসেন বেলায়েত, জামশা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুল হক, ধল্লা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবু তাহের মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন, জামির্তা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, সায়েস্তা ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক শরীফ হোসেন মৃধা, বায়রা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি দেওয়ান সোহেল, যুগ্ম-সম্পাদক মোশারফ হোসেন, তালেবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তারা মিয়া, বলধারা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ লিয়াকত আলী, উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক সাইদুর রহমান সাগর, থানা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক সাকিল, পৌর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক রাসেল ও কলেজ ছাত্রদল নেতা শাহিলসহ উপজেলা, পৌর ও বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপি, কৃষকদল, যুবদল, স্বেচ্চাসেবকদল এবং ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


দুর্নীতি করব না, কাউকে করতে দেব না: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী 

আপডেটেড ৩০ মে, ২০২৬ ২৩:১০
বাসাইল(টাঙ্গাইল)প্রতিনিধি

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান বলেছেন, ‘ইউনিয়নের চেয়ারম্যানেরা, আপনারা কোন দল করেন আমি জানতে চাই না। কিন্তু আপনাদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড যেন জনগণের উপকারে আসে। আপনাদের পকেট যেন ভারি না হয়। তাহলে কিন্তু জেলে যেতে হবে, পরিষ্কার বলে দিচ্ছি। আপনারা যেন উন্নয়নের নামে লুটপাটে ব্যস্ত না হয়ে যান। ওই দিন শেষ হয়ে গেছে। এটা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার দল। আমাদের নেতা তারেক রহমানের দলে এখানে লুটপাটের কোনো সুযোগ নেই, দুর্নীতির কোনো সুযোগ নেই। দুর্নীতি করব না, দুর্নীতি কাউকে করতে দেব না। পরিষ্কার কথা বলতে চাই।’

শনিবার (৩০ মে) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের বাসাইলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘অল্প কিছুদিনের মধ্যেই স্থানীয় নির্বাচন আসবে। পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচন। আমি আপনাদের মাধ্যমে জানাতে চাই, আর সিলমারার নির্বাচন হবে না। সংসদ নির্বাচনে সেটা প্রমাণ হয়েছে। আমাকে কি সিল মেরে এমপি বানিয়েছেন? না ভোটে? আমাকে ভোটে বানিয়েছেন। অতএব, স্থানীয় সরকার নির্বাচনও ভোটে হবে। কোনো সিল হবে না। তাই আপনাদের বলব, ভালো লোকদের নির্বাচিত করবেন। কোনো রকমের হুমকি-ধামকির নির্বাচন হবে না। আপনারা ভালো মানুষকে প্রত্যেকটি জায়গায় নির্বাচিত করবেন।’

তিনি বলেন, ‘দুর্ভিক্ষপীড়িত বাংলাদেশকে সাড়ে তিন বছরের মাথায় স্বনির্ভর বাংলাদেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে দাঁড় করিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। দুর্ভিক্ষপীড়িত বাংলাদেশকে এমন সমৃদ্ধ করেছিলেন যে বাংলাদেশ থেকে চাল রপ্তানি শুরু হয়েছিল। তিনি বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে এমন সম্মানিত জাতি ও রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন যে, তাকে চীন বীরোচিত সম্মান দিয়ে চীনে নিয়ে গিয়েছিল। চীন থেকে তিনি একা ফিরে আসেননি, স্বীকৃতি নিয়ে ফিরে এসেছিলেন।’

মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, ‘বাংলাদেশ যখন দুর্ভিক্ষপীড়িত ছিল, মানুষ এবং কুকুর একসঙ্গে যখন খাবার খেত, মানুষ মারা গেলে কলাপাতা দিয়ে দাফন করা হতো, কাফনের কাপড় পাওয়া যেত না, সেই দুর্ভিক্ষপীড়িত বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশে রূপান্তরিত করার জন্য তিনি কোরিয়াতে লোক পাঠিয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পকে সমৃদ্ধ করেছিলেন। তিনি বাংলাদেশের ইরির আবাদ এনেছিলেন। এক বিঘা (৫৬ শতাংশ) জমিতে, প্রতি শতাংশ জমিতে এক মণ ধান উৎপাদনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করেছিলেন।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমানের সরকার আজ দেশের শাসক নয়, দেশের সেবক হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছে। দেশের সেবক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিদ্যুতের চরম সংকটের সময় প্রধানমন্ত্রী তার দপ্তরে এসি চালাননি, এসি চালাতে দেননি। আমাদের দপ্তরেও এসি চালাইনি, এসি চালাতে দেননি।’

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম মিয়া, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন আল জাহাঙ্গীর, সাবেক সভাপতি এনামুল করিম অটল, সাধারণ সম্পাদক নূরনবী আবু হায়াত খান নবু, সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সোহরাব হোসেন, বাসাইল পৌর বিএনপির সভাপতি আক্তারুজ্জামান তুহিন, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ পিন্টুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।


banner close