সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬
১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

সর্বকনিষ্ঠ বীরপ্রতীক শহীদুলের পরিবারের নেই স্থায়ী নিবাস

ছবিতে সর্ব বামে (বৃত্তে) সর্বকনিষ্ঠ বীরপ্রতীক শহীদুল।
আপডেটেড
১৭ এপ্রিল, ২০২৪ ০৫:৩১
মো. রুবেল আহমেদ, গোপালপুর (টাঙ্গাইল)
প্রকাশিত
মো. রুবেল আহমেদ, গোপালপুর (টাঙ্গাইল)
প্রকাশিত : ১৭ এপ্রিল, ২০২৪ ০৫:৩১

‘রাজাকার-আলবদর থাকে আজ রাজপ্রাসাদে, আমি শহীদুল ইসলাম বীরপ্রতীক থাকি একটা কুইড়াঘরে (কুঁড়েঘরে) তার কারণ কী?’ ক্ষোভে ২০০৩ সালে ধারণ করা এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে এমনটাই বলেছিলেন দেশের সর্বকনিষ্ঠ বীরপ্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা, টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার সূতী গ্রামের হেলাল উদ্দিনের ছেলে শহীদুল ইসলাম। অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারে জন্ম হলেও অনেক সাহসী ও বুদ্ধিমান ছিলেন। তাই তো দেশকে হানাদার মুক্ত করতে ১২ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন কাদেরিয়া বাহিনীর কমান্ডার আনোয়ার হোসেন পাহাড়ির অধীনে।

কিন্তু আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, দেশের সর্বকনিষ্ঠ বীরপ্রতীক শহীদুল ইসলাম লালুর পরিবারের নেই স্থায়ী নিবাস, সন্তানদের জন্য নেই চাকরির ব্যবস্থা। তিনি কুলির কাজ ও খাবার হোটেলের কাজ করে অনেক কষ্টে কাটিয়েছেন জীবনের অধিকাংশ সময়।

দৈনিক বাংলার অনুসন্ধানে জানা যায়, বাংলাদেশের সর্বকনিষ্ঠ বীরপ্রতীকের পরিবার বসবাস করছেন ঢাকার মিরপুর মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন প্রকল্পের সরকারি জমিতে। প্রথম সন্তান মুক্তা বেগম (৩৫) পেশায় গৃহিণী, স্বামীর বাড়ি রাজশাহীর নাটোরে। দ্বিতীয় সন্তান আক্তার হোসেন (৩২) পেশায় গাড়িচালক, তৃতীয় সন্তান সোহাগ হোসেন (২৭) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সদ্য গ্র্যাজুয়েশন শেষ করেছেন। চতুর্থ সন্তান শিখা আক্তার (২০) ঢাকার একটি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ভারতে ট্রেনিং চলাকালে সর্বকনিষ্ঠ হওয়ায় সহযোদ্ধারা তাকে লালু তার চেয়ে বয়সে বড় শ্যামলকে ভুলু নামে ডাকতে শুরু করেন। দেশে ফিরলে তার বুদ্ধিমত্তায় একাধিকবার মুক্তিযোদ্ধারা প্রাণে বাঁচেন। কাদেরিয়া বাহিনীর কমান্ডারের নির্দেশে, চতুর শহীদুল ইসলাম ছদ্মবেশ ধারণ করেন। কৌশলে এক রাজাকারের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে গোপালপুর থানা কম্পাউন্ডের, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বাংকারে ঢুকে পড়েন। তার কৌশল ও দুঃসাহসিক গ্রেনেড হামলায় একাধিক বাংকার ধ্বংস করলে গোপালপুর থানা হানাদার মুক্ত হয়। স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার তাকে বীরপ্রতীক উপাধি দেয়। রাইফেলের সমান উচ্চতা হওয়ায় ভারতে প্রশিক্ষণ চলাকালে তাকে স্টেনগান চালনা ও গ্রেনেড ছোড়ার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কাদেরিয়া বাহিনী ১৯৭২ সালের ২৪ জানুয়ারি টাঙ্গাইলের বিন্দুবাসিনী বালক উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অস্ত্র সমর্পণ করা হয়। স্টেনগান জমা দানকালে অত্যন্ত সাহসী ১২ বছরের কিশোর শহীদুলের বীরত্বের কথা শুনে, মুগ্ধ হয়ে তাকে কোলে তুলে নেন স্বয়ং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ছবিটি সামরিক ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। যখন সহযোদ্ধাদের কাছ থেকে লালুর বাংকার ধ্বংসের কথা শুনলেন তখন বঙ্গবন্ধু তাকে আদর করে কোলে তুলে নিয়ে বলেছিলেন, ‘বীর বিচ্ছু’।

শৈশবে শহীদুল ইসলামের বাবা-মা, মুক্তিযুদ্ধের সময় এক ভাই-এক বোনের মৃত্যু হয়। দরিদ্রতায় উপায়ান্তর না দেখে মুক্তিযুদ্ধের পর ২ ভাইকে রেখে জীবিকার তাগিদে বাড়ি ছাড়া হন তিনি। ঢাকার সোয়ারিঘাটে বালু টানা, ঠেলা গাড়ি চালানো, রাজমিস্ত্রীর হেলপারের কাজ, শেষে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে কুলির কাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে কুলির কাজ শেষে হোটেলে কাজ শুরু করেন। যাযাবর অবস্থায় বিয়েও করেন, এক কন্যা ও এক পুত্র জন্ম নেওয়া সেই সংসার স্থায়ী হয়নি। পরবর্তীতে কুমিল্লায় হোটেলে কাজ করা অবস্থায় সহকর্মীকে জীবনের সব ঘটনা খুলে বলেন। ২ সন্তানকে নিয়ে ওই সহকর্মীর সঙ্গে মুন্সীগঞ্জের বিক্রমপুর চলে যান। ১৯৯৬ সালে সেই সহকর্মীর নিকটাত্মীয় মালা বেগমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এই দম্পতির পুত্রসন্তান সোহাগ হোসেনের জন্মের পর সংসারে অভাব-অনটন দেখা দেয়। ঢাকার পোস্তগোলায় এসে নিজের খাবার হোটেল চালু করার কিছুদিনের মধ্যেই, ১৯৯৮ সালে জটিল কিডনি রোগে আক্রান্তের কথা জানতে পারেন। কোনো উপায় না পেয়ে, কাদেরিয়া বাহিনীর প্রধান বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর ঢাকার বাসার ঠিকানা জোগাড় করে দেখা করেন। পরিচয় পাওয়ার পর আবেগাপ্লুত বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বুকে জড়িয়ে নেন। তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করান, উপস্থিত সহযোদ্ধাদের নির্দেশ দেন তার কাগজপত্র সংগ্রহ করতে। কাদেরিয়া বাহিনীর যোদ্ধা বীরপ্রতীক আবদুল্লাহকে নির্দেশ দেন, ঢাকার মিরপুর মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন প্রকল্পে শহীদুলের পরিবারের জন্য জায়গা দিতে। সে অনুযায়ী তার পরিবারের ঠাঁই হয় সেখানে। চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থ হন শহীদুল ইসলাম। কাগজপত্র সংগ্রহের পর জানতে পারেন তিনি বীরপ্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা‌, তিনিই সর্বকনিষ্ঠ বীরপ্রতীক। ডাক পড়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে ৩০ হাজার টাকা অনুদান প্রদানের সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে অন্য দুই ভাই তাকে খুঁজে পায়। কিছুদিন পর জন্ম হয় আরেক কন্যা শিখার।

অসুস্থতার কারণে শেষ সময়ে কোনো কাজকর্ম করতে পারেননি, শুভাকাঙ্ক্ষীদের অর্থে চলেছে চিকিৎসা ও পরিবারের খরচ। ২০০৯ সালে ২৫ মে অসুস্থ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে তাকে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

বীরপ্রতীক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী মালা বেগম দৈনিক বাংলাকে বলেন, আমার স্বামীর জীবদ্দশায় ভাতাপ্রাপ্ত ছিলেন না, তাই শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহায়তায় চিকিৎসা করাতে হয়েছে। তার মৃত্যুর পর ৪ সন্তানকে অনেক কষ্টে লালন-পালন করি, এরপর মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে গেলে ২০১৪ সালে ২ হাজার টাকা ভাতা চালু হয়। মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন প্রকল্পের সরকারি জমিতে একাধিক রুম বানিয়ে ভাড়ার টাকায় সন্তানদের বড় করি। সন্তানদের শিক্ষিত করেছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমার দাবি তিনি যেন সন্তানদের জন্য উপযুক্ত চাকরি ও আমাদের স্থায়ী নিবাসের ব্যবস্থা করে দেন।

তিনি আরও বলেন, ‘নিজ এলাকার মানুষের থেকে তার তেমন মূল্যায়ন পায়নি, এই ক্ষোভে তিনি মৃত্যুর আগে কখনো গোপালপুর যাননি। তবে সন্তানদের নিয়ে আমি একাধিকবার গোপালপুর গিয়েছিলাম।’

সর্বকনিষ্ঠ বীরপ্রতীকের সন্তান সোহাগ হোসেন বলেন, ‘মানুষের মৌলিক চাহিদার একটি বাসস্থান। আমরা বিশেষ পরিবারের সন্তান হলেও ঢাকার মিরপুরে সরকারি জমিতে বসবাস করছি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি স্থায়ী বাসস্থান ও আমাদের জন্য উপযুক্ত চাকরির ব্যবস্থা যেন উনি করেন।’ তবে নিয়মিত সরকারি রেশন ও ভাতা পাচ্ছেন বলেও জানান তারা।

গোপালপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদ্য সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা সমরেন্দ্রনাথ সরকার বিমল বলেন, সূতী মীরপাড়ায় গোপালপুরের একমাত্র বীরপ্রতীক শহীদুল ইসলামের জন্ম হলেও, এখানে তার বাড়িঘর নেই। তার পরিবার এখানে এসে কিছু চাননি, তাই বীর নিবাসসহ অন্যান্য সুবিধাদি পাননি। তার পরিবার বীরপ্রতীক ভাতা পাচ্ছেন।

গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বীরনিবাস তৈরি করে দেওয়ার একটি প্রকল্প চলমান আছে। গোপালপুরে জীবিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ৬২টি বীরনিবাস নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে এবং ৬টি নির্মাণাধীন রয়েছে। তাকে আবেদন করে রাখতে বলেন। পরের অর্থবছরে আবার যদি বরাদ্দ আসে তবে হয়তো এগুলো পাঠাতে পারব। আমার যতদূর জানা আছে বর্তমান যারা বীর মুক্তিযোদ্ধা জীবিত অবস্থায় আছেন প্রাথমিকভাবে তাদের এটা দিচ্ছে। এখন পর্যন্ত ওয়ারিশ হিসাবে যারা আছেন, তারা পেয়েছেন বলে আমার জানা নেই। তারপরও পর্যাপ্ত তথ্য পেলে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি লিখতে পারব।’


নির্বাচিত

খুলনা ও কুমিল্লায় দুই শিক্ষার্থী নিখোঁজ

* উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দুই পরিবার, অনুসন্ধানে পুলিশ
প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ৩ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:৫৮
খুলনা ও কুমিল্লা প্রতিনিধি

দেশে দুটি স্থানে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছে দুই শিক্ষার্থী। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) শেষ বর্ষের এক ছাত্র এবং কুমিল্লার এক দশম শ্রেণির ছাত্র হঠাৎ নিখোঁজ হওয়ায় চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে তাদের পরিবার ও সহপাঠীরা। দুটি ঘটনাই ঘটেছে চলতি মাসের শুরুর দিকে। ঘটনা দুটিতে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় জিডি ও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং অনুসন্ধানে নেমেছে পুলিশ।

কুয়েট ক্যাম্পাস থেকে ছাত্র নিখোঁজ: খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) শিল্প ও উৎপাদন প্রকৌশল (IEM) বিভাগের ২০২০ ব্যাচের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. তাসরীব আহমেদ মাহিন (রোল ১০১১০১৫) গত রোববার (২ আগস্ট) থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্র জানায়, রোববার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় হল থেকে বের হওয়ার পর মাহিন আর ফিরে আসেননি। দীর্ঘ সময় কোনো সন্ধান না পেয়ে সহপাঠীরা বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করেন। মাহিনের বাবা মো. মোখলেছুর রহমান ক্যাম্পাসে এসে খোঁজাখুঁজি করছেন। তিনি জানান, মাহিন পারিবারিক কিছু কারণে কিছুদিন ধরে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ছিলেন।

কুয়েটের পরিচালক (ছাত্রকল্যাণ) প্রফেসর ড. মো. হাসান আলী জানান, এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, নিখোঁজ শিক্ষার্থীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ থাকলেও ট্র্যাকিংয়ে বারবার তার অবস্থান বা লোকেশন পরিবর্তন হতে দেখা যাচ্ছে।

তথ্য সহায়তার অনুরোধ: কোনো সহৃদয় ব্যক্তি মাহিনের (ফোন: ০১৮১০-৫১৯২৩৯) সন্ধান পেলে পরিচালক, ছাত্রকল্যাণ (০১৬৪৩-৭৬৩৩২৫) অথবা তার পিতার (০১৭১২-২৭৬৬৯৮) নম্বরে যোগাযোগের জন্য কুয়েট জনসংযোগ বিভাগ থেকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

কুমিল্লায় দশম শ্রেণির ছাত্র নিখোঁজ: কুমিল্লার সদর উপজেলার বদরপুর এলাকা থেকে গত শনিবার বিকেলে কোচিংয়ে যাওয়ার কথা বলে বের হয়ে নিখোঁজ হয়েছে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাহসিন মজুমদার (১৬)।

তাহসিনের পরিবার জানায়, শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার মায়ের ফোনে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে কল দিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। পরবর্তীতে রাত দেড়টার দিকে আবারও কল করে তাহসিনের সঙ্গে কথা বলতে দিলে সে আকুতি জানিয়ে বলে—তাকে মারধর করা হচ্ছে। এরপরই সংযোগটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

এ ঘটনায় তাহসিনের বাবা মো. শাহাদাত হোসেন মজুমদার কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা ও স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে তাহসিনকে দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশের আশ্বাস ও উদ্ধার তৎপরতা

দুটি ঘটনার পরই সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের অবস্থান শনাক্ত করতে প্রযুক্তিগত সহায়তা নেওয়া হচ্ছে এবং তাদের সশরীরে নিরাপদে উদ্ধারে আইনগত পদক্ষেপ জোরদার করা হয়েছে।


নির্বাচিত

ববিসাসের আয়োজনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান আলোকচিত্র প্রদর্শনী

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ববি প্রতিনিধি

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (ববিসাস) আয়োজনে জুলাইয়ের প্রথম স্বাধীন ক্যাম্পাস: গণমাধ্যমের চোখে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোরে আলোচিত্র প্রদর্শনী হয়।

প্রদর্শনীতে মোট ৩৬টি আলোকচিত্র স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে ৩০টি ছিল জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন মুহূর্তের আলোকচিত্র এবং বাকি ৬টিতে জুলাই আন্দোলন চলাকালে ববিসাস সদস্যদের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন প্রদর্শন করা হয়। আলোকচিত্রগুলোয় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বরিশালের ছাত্র-জনতা ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংগ্রাম, প্রতিরোধ ও আন্দোলনের বিভিন্ন মুহূর্ত ফুটে উঠেছে। প্রদর্শনীটি দুপুর ১২টায় উদ্বোধনের পর রাত ৯টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত ছিল।

আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম খসরু।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সহযোগী অধ্যাপক ড. আব্দুল আলিম বছির, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মো. মেহেদী হাসান সোহাগ, বরিশাল জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আজাদ আলাউদ্দীন, প্রথম আলোর বরিশাল ফটো সাংবাদিক মো. সাইয়ান।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ বলেন, ‘বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির আয়োজিত জুলাই অভ্যুত্থানভিত্তিক অনুষ্ঠানটি ছিল অত্যন্ত সুন্দর ও স্মৃতিময়। জুলাইয়ের লুকিয়ে থাকা স্মৃতিগুলো সুন্দরভাবে তুলে ধরেছে এই আয়োজনে। জুলাইয়ের যোদ্ধাদের ত্যাগ আমরা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করব। এমন চমৎকার আয়োজনের জন্য সমিতির সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। ভবিষ্যতেও তারা এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখবে এই প্রত্যাশা রইল।

বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম খসরু বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে জোরদার করা এবং তৎকালীন ফ্যাসিবাদী সরকারের ছাত্র-জনতার ওপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তোলা। এই সংগ্রামের স্মৃতি ধরে রাখতে সাংবাদিক সমিতির নেওয়া উদ্যোগ প্রশংসনীয়, এ জন্য তাদের প্রতি আমাদের আন্তরিক ধন্যবাদ।’

ববিসাস সভাপতি মো. রবিউল ইসলাম উদ্বোধন শেষে অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমরা সত্যি খুবিহ আনন্দিত এমন একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করতে পেরেছি। আগামীতেও সাংবাদিক সমিতি এমন আয়োজন করবে সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি।’

এ ছাড়া প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনের নেতারা, সাংবাদিক সমিতির নেতারা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা কর্মচারীরা।


নির্বাচিত

স্বাস্থ্যসেবায় কারও গাফিলতি সহ্য করা হবে না: এমপি জাহান্দার আলী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাদারীপুর প্রতিনিধি 

মাদারীপুর সদর ২৫০ শয্যার হাসপাতাল পরিদর্শন করলেন সদর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়া। সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে তিনি মাদারীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শরীফুল আবেদীন কমলকে সাথে নিয়ে ওই হাসপাতালটি পরিদর্শনে যান। তাকে অভিনন্দন জানান আরএমও ডা. অখিল সরকারসহ হাসপাতালটির কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

এ সময় তিনি সবাইকে সতর্ক করে বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবায় কারও কোনো গাফিলতি সহ্য করা হবে না।’

তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডের নারী-পুরুষ রোগীদের সাথে কথা বলেন এবং তাদের চিকিৎসা সেবার খোঁজখবর নিয়ে হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রোগীদের সেবার মান বৃদ্ধির জন্য তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অধিক তৎপর হওয়ার নির্দেশনা দেন। তিনি সরকারি ওষুধ রোগীদের মাঝে শতভাগ বিতরণ নিশ্চিতের আহ্বানের পাশাপাশি হাসপাতালের মূল্যবান যন্ত্রাংশ রক্ষণাবেক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। পরে তিনি হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিট, এক্স-রে বিভাগ, ডায়রিয়া ইউনিট, শিশু ওয়ার্ড, গাইনি ওয়ার্ড, হাম ও ডেঙ্গু রোগের বিশেষ কর্ণার পরিদর্শন শেষে কর্তব্যরত ডাক্তার, নার্স ও আবাসিক মেডিকেল অফিসারসহ (আরএমও) কর্মচারীদের পেশাগত দায়িত্বে আরও অধিক তৎপর হওয়ার নির্দেশনা দেন।


নির্বাচিত

কিশোরগঞ্জে অবৈধ গ্যাস সংযোগে গড়ে ওঠা কারখানা উচ্ছেদ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে তিতাস গ্যাসের প্রধান সঞ্চালন পাইপলাইন থেকে অবৈধ সংযোগ নিয়ে গড়ে তোলা একটি চুনাপাথর কারখানায় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে কারখানার তিনটি চুল্লি ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং সেখানে মজুত থাকা চুনাপাথর জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরা পলাতক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার মসূয়া ইউনিয়নের কাজীরচর গ্রামে সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাবনী আক্তার তারানার নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

উপজেলা প্রশাসন জানায়, আড়িয়াল খাঁ নদের তলদেশ দিয়ে যাওয়া তিতাস গ্যাসের উচ্চচাপের প্রধান সঞ্চালন পাইপলাইন থেকে অবৈধভাবে একটি চুনাপাথর কারখানায় গ্যাস সংযোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় পাইপলাইনে লিকেজ সৃষ্টি হলে গ্যাস নির্গমন শুরু হয়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে কারখানাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পাওয়া যায়নি।

অভিযান শেষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাবনী আক্তার তারানা বলেন, অবৈধভাবে একটি চুনাপাথর কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। যদিও কারখানাটি চালু করা সম্ভব হয়নি। সেখানে তিনটি চুল্লি নির্মাণ এবং চুনাপাথর মজুত করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল তিতাসের পাইপলাইন থেকে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ নিয়ে কারখানা চালানো। কিন্তু সংযোগ নেওয়ার সময়ই দুর্ঘটনা ঘটে এবং পাইপলাইন থেকে গ্যাস বের হতে শুরু করে।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যাতে কারখানাটি আর চালু করা না যায়, সে জন্য চুল্লিগুলো সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হয়েছে। জব্দ করা চুনাপাথর ও চুল্লির ইট স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের জিম্মায় রাখা হয়েছে। সরকারি বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লাবনী আক্তার তারানা আরও বলেন, তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ পাইপলাইনের লিকেজ বন্ধে কাজ করছে। এ ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজনের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। জমির মালিক অবৈধভাবে কারখানা স্থাপনের জন্য অনানুষ্ঠানিকভাবে জমি ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছিলেন। তবে পুরো কার্যক্রমের কোনো বৈধ অনুমোদন বা লাইসেন্স ছিল না। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

মসূয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক বলেন, কারখানাটি স্থাপনের আগে তার কাছ থেকে কোনো ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া হয়নি কিংবা তাকে অবহিত করা হয়নি। গ্যাস লিকেজের ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পারেন এটি একটি অবৈধ কারখানা। স্থানীয়ভাবে যারা এ ঘটনায় জড়িত, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

সরেজমিনে দেখা যায়, নরসিংদী থেকে কিশোরগঞ্জে গ্যাস সরবরাহের প্রধান উচ্চচাপের পাইপলাইন থেকে এখনো গ্যাস নির্গত হচ্ছে। প্রথম দিকে পানিতে বুদবুদ দেখে স্থানীয়রা বিষয়টিকে স্বাভাবিক মনে করলেও পরে বুদবুদের পরিমাণ বেড়ে গেলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় কয়েকজন বিষয়টি তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে জানালে তদন্তে অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিষয়টি সামনে আসে।

তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক ধারণা, উচ্চচাপের পাইপলাইন থেকে চুরি করে নদীর পাশের নবনির্মিত চুনাপাথর কারখানায় গ্যাস সংযোগ নেওয়ার সময়ই পাইপলাইনে লিকেজ সৃষ্টি হয়েছে। লিকেজ বন্ধে তাদের কাজ চলমান রয়েছে।

উচ্ছেদ অভিযানে উপস্থিত ছিলেন তিতাস গ্যাসের ময়মনসিংহ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক (আঞ্চলিক অপারেশন) প্রকৌ.সুমেধ মনি চাকমা, ব্যবস্থাপক (অপারেশন এন্ড মেইনটেনেন্স)মো. শামীম হোসেন, কিশোরগঞ্জ জোনাল অফিসের ম্যানেজার মো. মোশাররফ হোসেন।


নির্বাচিত

৩৫ বিজিবির অভিযানে কুড়িগ্রামে ভারতীয় মদ ও ইয়াবাসহ আটক ১

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জামালপুর প্রতিনিধি

জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটেলিয়ান সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ভারতীয় মদ ও ইয়াবাসহ একজনকে আটক করেছে। সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে কুড়িগ্রামের রৌমারি উপজেলার সিএনজি স্টেশন এলাকা থেকে ১ হাজার ৯৭৫ পিস ভারতীয় ইয়াবাসহ মো, নাসির নামে একজনকে আটক করে বিজিবি। এ সময় মো, রাসেল ও মো, শাকিল নামে দুজন পালিয়ে যায়। এর আগে রোববার রাতে বালিয়ামারি সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ৫৮ বোতল ভারতীয় মদ আটক করে বিজিবি। তবে এ সময় কাউকে আটক করতে পারেনি।

আটক নাসির (৪৫) কুড়িগ্রামের রৌমারি উপজেলার খাটিয়ামারি গ্রামের মৃত মো. মনিরুজ্জামানের ছেলে।

বিজিবি জানায়, সীমান্তে চোরাচালান বন্ধ ও মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা নিতে মাদকসহ আসামিকে রৌমারি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।


নির্বাচিত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঝগড়া থামাতে গিয়ে আহত পুলিশের ৪ সদস্য

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

বাঞ্ছারামপুরে ঝগড়া থামাতে গিয়ে পুলিশ সদস্যের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত রোববার (২ আগস্ট) গভীর রাতে উপজেলার ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়নের মাছিমনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন বাঞ্ছারামপুর থানার পুলিশ কনস্টেবল ফরহাদ, এমদাদুল হক, সাইফুল আলম ও হোসনে মোবারক। ঘটনার পর আহত পুলিশ সদস্যরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।

পুলিশ জানায়, সম্প্রতি উপজেলার ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়নের মাছিমনগর গ্রামে হযরত শাহ রাহাত আলী (র.) এর বার্ষিক ওরশ শুরু হয়। ওরশে স্থানীয় মনির নামে এক ব্যক্তি তার দোকানের জন্য রাজন মিয়ার কাছ থেকে জেনারেটরের বিদ্যুৎ সংযোগ ভাড়া নেন। গত রোববার রাতে বিল পরিশোধ নিয়ে মনির ও রাজন মিয়ার মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এ নিয়ে মনির পুলিশের ওপর ক্ষুব্ধ হয়। পরে সে তার লোকজন নিয়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। এতে ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়।

থানার ওসি মোহাম্মদ ইয়াছিন জানান, পুলিশের উপর হামলা ও আহতের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রীয়াধীন রয়েছে। অভিযুক্ত মনিরসহ জড়িতদের আটক করতে চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।


নির্বাচিত

নওগাঁয় পেশাদার ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁ সরকারি কলেজের এক শিক্ষার্থীর টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় মো. আব্দুল আহাদ (২০) নামে এক পেশাদার ছিনতাইকারীকে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আহাদ নওগাঁ শহরের চকদেব (মাস্টারপাড়া) এলাকার আবুল কালাম আজাদের ছেলে।

সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে জেলা পুলিশের মিডিয়া গ্রুপে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেল ৫টার পর ভুক্তভোগী নওগাঁ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম ও তার বন্ধু তানভীর জেলা পরিষদ পার্কে ঘুরতে যান। এ সময় কয়েকজন ছিনতাইকারী তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে মানিব্যাগ থেকে টাকা ছিনিয়ে নেয়।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম মান্দা উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামের আব্দুল করিম এর ছেলে। তিনি এবং তার বন্ধু তানভীর নওগাঁ শহরের ডিগ্রি মোড় এলাকার একটি ছাত্রাবাসে থাকেন।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ সুপার জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশকে ভুক্তভোগীর সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনার তদন্ত এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন।

জেলা পুলিশের পাঠানো ওই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়- ঘটনার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও ভুক্তভোগীরা প্রথমে থানায় কোনো অভিযোগ করেননি। পরে পুলিশ সুপার তাদের মামলা করার পরামর্শ দেন এবং ডিবিকে আসামি শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের নির্দেশনা দেন।

ডিবি পুলিশ পার্ক এলাকার তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ, সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই শেষে ঘটনার সঙ্গে জড়িত মো. আব্দুল আহাদ নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে একই ধরনের আরও তিনটি মামলা রয়েছে। ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত আহাদের সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে জেলার ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর বলে জানান তিনি।


নির্বাচিত

রুমার দুর্গম পাহাড়ে স্বাস্থ্যসেবা, আলো ছড়ালো মেডিকেল ক্যাম্প

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রুমা (বান্দরবান) প্রতিনিধি

বান্দরবানের রুমা উপজেলার অত্যন্ত দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা এবং বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন সংক্রামক ও ঋতুভিত্তিক রোগের ঝুঁকি বিবেচনায় দিনব্যাপী একটি বিশেষ মেডিকেল আউটরিচ ক্যাম্প হয়েছে। এতে পাহাড়ের গহিন এলাকার মোট ৪৬৫ জন নারী, শিশু ও সাধারণ মানুষ নানা ধরনের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা সহায়তা পেয়েছেন।

সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহ আল হাসান তার কার্যালয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

তিনি জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও উন্নয়ন সংস্থা ‘গ্রিন হিল’-এর যৌথ উদ্যোগে এবং Momentum Integrated Health Resilience (MIHR) প্রজেক্টের সামগ্রিক সহায়তায় এ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। গত শুক্রবার গ্যালেংগ্যা ইউনিয়নের কুরাং বাজার এলাকায় দিনব্যাপী এ ক্যাম্পটি স্থাপন করা হয়েছিল।

ডা. আব্দুল্লাহ আল হাসান আরও তথ্য দেন যে, গত রোববার সকাল থেকে রেমাক্রী প্রাংসা ৩নং ওয়ার্ডের চরম দুর্গম বাশিরাম পাড়া ও হাস্তরাং পাড়ায় একটি পৃথক মেডিকেল টিম পাঠানো হয়েছে। তারা সেখানে হামের টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।

তাদের একটি টিম এখনো রেমাক্রী প্রাংসা ইউনিয়নের দুর্গম এলাকাগুলোতে অবস্থান করছে। পাহাড়ি পথ ধরে এই মেডিকেল টিমটি লোকালয়ে ফিরে এলে সেখানে মোট কতজনকে হামসহ অন্যান্য টিকা ও চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানা যাবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সার্বিক দিকনির্দেশনা ও নিবিড় তত্ত্বাবধানে এ কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় দুর্গম জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা, মাতৃস্বাস্থ্য, টিকাদান ও রোগ নির্ণয় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ বর্ষা মৌসুমে ঘরের কাছেই এমন প্রয়োজনীয় সেবা পেয়ে স্থানীয় অধিবাসীরা অত্যন্ত আনন্দিত। তারা এই জনকল্যাণমূলক উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন এবং পাহাড়ের এই বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে ভবিষ্যতেও যেন নিয়মিত এমন আউটরিচ ক্যাম্প আয়োজন করা হয় তার জোর দাবি জানিয়েছেন।


নির্বাচিত

মাগুরায় গ্যাস সিলিন্ডারে আগুন লাগিয়ে এক ব্যক্তির আত্মহত্যা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাগুরা প্রতিনিধি

মাগুরায় বাসার ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডারে আগুন লাগিয়ে কামরুল হাসান শিবলু (৪৫) নামে এক ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছে। গতকাল

সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে নয়টার দিকে মাগুরা শহরের ভায়না টিটিসি পাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডারে আগুন লাগিয়ে এই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে।

মৃত কামরুল হাসান শিবলু একই এলাকার মৃত আকবর মুন্সির ছেলে। সে বাসের টিকিট বিক্রি করতো ভায়না মোড়ে।

মৃতের ছেলে পাভেল মুন্সি জানায়, পারিবারিক কলহের জেরে সকালে নিজ ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ করে গ্যাস সিলিন্ডারে আগুন লাগিয়ে আমার বাবা এই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে।

মাগুরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার রুহুল আমিন জানান, সকাল ১০টার দিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে জানালার গ্রিল কেটে ঘরের ভিতর প্রবেশ করে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

মাগুরা সদর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


নির্বাচিত

নারায়ণগঞ্জে জেলের জালে মিলল লুট হওয়া পুলিশের শর্টগান

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে একটি পুকুরে মাছ ধরতে গিয়ে জেলের জালে উঠে এসেছে পুলিশের একটি শর্টগান। সোমবার (আগস্ট) সকালে উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের সিংগারপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্রটি উদ্ধার করে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, রেজাউল নামের এক ব্যক্তির পুকুরে জেলেরা জাল ফেলে মাছ ধরার সময় হঠাৎ একটি শর্টগান জালে আটকা পড়ে। বিষয়টি জানানো হলে আড়াইহাজার থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অস্ত্রটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।

আড়াইহাজার থানার অস্ত্র রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা এসআই শফিউল ইসলাম অস্ত্রের রেজিস্টার যাচাই করে নিশ্চিত করেন, উদ্ধার হওয়া শর্টগানটি আড়াইহাজার থানা-পুলিশের এবং এর বাট নম্বর ৬৫১।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় আড়াইহাজার থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রগুলোর মধ্যে এটি একটি। অস্ত্রটি কীভাবে পুকুরে পৌঁছেছে এবং এতদিন সেখানে পড়ে ছিলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।’


নির্বাচিত

ক্ষেতলালে ডায়াবেটিক হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জয়পুরহাট প্রতিনিধি

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল ডায়াবেটিক সমিতির নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় ক্ষেতলাল পৌরসভার কাচারী বাজার ও থানাসংলগ্ন এলাকায় সামসুল হোদা তালুকদারের দান করা ২০ শতাংশ জমির ওপর এ সমিতির নতুন ভবনের ভিত্তি স্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উদ্বোধন করেন জয়পুরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মাসুদ রানাপ্রধান।

অনুষ্ঠানে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন হিন্দা শাহী মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুস সালাম। মোনাজাত শেষে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ উচ্চারণের মাধ্যমে ভবন নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি।

জানা যায়, জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ও ব্যক্তিগত অনুদান এবং জয়পুরহাট জেলা পরিষদের অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও ফলক উন্মোচনের পর জেলা পরিষদের প্রশাসক সমিতির পুরোনো ভবন পরিদর্শন করেন এবং সেখানে নিজে ডায়াবেটিস পরীক্ষা করার জন্য রক্তের নমুনা প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী সরকার মোহাম্মদ রায়হান ও সহকারী প্রকৌশলী মুশফিকুর রহমান। ক্ষেতলাল সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুর রউফ এবং ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুক্তারুল আলম।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন জয়পুরহাট জেলা কৃষকদলের সদস্য সচিব মঞ্জুর-এ-মওলা পলাশ, জয়পুরহাট জেলা বিএনপির সদস্য ও ক্ষেতলাল বিএম কলেজের অধ্যক্ষ আলী হাসান মুক্তার, ক্ষেতলাল উপজেলা বিএনপির সভাপতি খালেদুল মাসুদ আঞ্জুমান, পৌর বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল আলিম, সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক নাফেউল হাদি মিঠু প্রমুখ।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত হাসপাতাল ভবনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় জনবল, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে। হাসপাতালটি চালু হলে ক্ষেতলালের স্বাস্থ্যসেবায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে এবং দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ জনদাবি বাস্তবে রূপ নেবে।


নির্বাচিত

কুমিল্লায় বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা

বর্ষার বৃষ্টিপাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুমিল্লায় উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে ডেঙ্গুরোগীর সংখ্যা। গত জুলাই মাসে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৪৯৪ জন। আর আগস্ট মাসের প্রথম দুই দিনেই নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ১১৫ জন। পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলার দাউদকান্দি উপজেলাকে ডেঙ্গুর হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে শুধু দাউদকান্দি উপজেলাতেই ১৮২ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। চলতি মাসের প্রথম দুই দিনেই সেখানে আরও ২১ জনের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। উপজেলার সবজিকান্দি, নাগেরকান্দি ও সাহাপাড়া গ্রামে আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় এসব এলাকায় নজরদারি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

এদিকে, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত ২৩৬ জন রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। চিকিৎসকদের আশঙ্কা, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়তে পারে।

চান্দিনা উপজেলার বাসিন্দা সালমা আক্তার ও তার মেয়ে সামিয়া আক্তার বর্তমানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তারা জানান, প্রথমে সালমা আক্তারের জ্বর আসে। কয়েকদিন পর তার মেয়েও জ্বরে আক্রান্ত হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় জানা যায়, মা-মেয়ে দুজনই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।

অপরদিকে, কুমিল্লা নগরীর একটি প্রতিষ্ঠানে নাইট শিফটে কর্মরত আলী নেওয়াজ ভূঁইয়া গত শুক্রবার থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বাসার পাশের ড্রেন ও কর্মস্থলে মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ থাকতে হয়। এরপরই জ্বরে আক্রান্ত হই।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মোহাম্মদ শাজাহান বলেন, দিন দিন ডেঙ্গুরোগীর সংখ্যা বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে। পর্যাপ্ত ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাসাবাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং জ্বর দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।


নির্বাচিত

পর্যটকের মর্মান্তিক মৃত্যুর জেরে কক্সবাজারে প্যারাসেইলিং কার্যক্রম বন্ধ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কক্সবাজার প্রতিনিধি 

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে প্যারাসেইলিং করার সময় এক পর্যটকের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনায় এই রোমাঞ্চকর বিনোদনমূলক কার্যক্রমটি সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সৈকতের কোনো পয়েন্টেই আর প্যারাসেইলিং করা যাবে না বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। রবিবার দুপুরে দরিয়ানগর প্যারাসেইলিং পয়েন্টে এক বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ায় ‘ফ্রাই এয়ার সি স্পোর্টস’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে এবং সেখান থেকে প্যারাসেইলিংয়ের প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুর রহমান সায়েমের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে ৫-৬টি স্পিডবোটের ইঞ্জিন, বিভিন্ন যন্ত্রাংশ এবং বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়। উল্লেখ্য, গত শনিবার বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে প্যারাসেইলিং করার সময় ছিটকে পড়ে শৌভিক রয় নামের এক পর্যটকের মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর থেকেই সৈকতে এ ধরনের বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ডের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পর্যটকদের অভিযোগ, যথাযথ আবহাওয়ার ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং সরঞ্জামের নিয়মিত পরীক্ষা ছাড়াই এসকল ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল।

নিহত পর্যটকের বোন এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রেক্ষিতে রবিবার সন্ধ্যায় কক্সবাজার সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। শৌভিক রয়ের মৃত্যুর পর থেকে সাধারণ পর্যটকদের মাঝে ব্যাপক আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ বিষয়ে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন যে, মেরিন ড্রাইভের পার্শ্ববর্তী এসকল প্যারাসেইলিং পয়েন্টের কোনো বৈধ প্রশাসনিক অনুমোদন ছিল না। পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ইতোমধ্যে মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন সকল প্যারাসেইলিং কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সুরক্ষা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।


নির্বাচিত

banner close