শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
১২ আষাঢ় ১৪৩৩

কাউন্টারে নেই বাসের টিকিট, বাইরে মিলছে দ্বিগুণ দামে

ফাইল ছবি
 মীর আনোয়ার আলী, রংপুর
প্রকাশিত
 মীর আনোয়ার আলী, রংপুর
প্রকাশিত : ১৭ এপ্রিল, ২০২৪ ১১:৫১

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমন মিয়া ঈদের ছুটি শেষে ক্যাম্পাসে ফিরবেন। তাই বাসের টিকিটের জন্য সকাল থেকে ঘুরছেন রংপুরে কামারপাড়া ঢাকা কোচ স্ট্যান্ডে। সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেও কোনো টিকিট কাটতে পারেনি। যেখানে গিয়েছেন, সেখানে টিকিটের সংকট দেখানো হয়েছে। বিকেল ৩টার দিকে কাউন্টারের বাইরে এক হাজার ৫০০ টাকায় একটি টিকিট সংগ্রহ হলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়েন।

কামারপাড়া ঢাকা কোচ স্ট্যান্ডে কথা হয় সুমন মিয়ার সঙ্গে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘এমনি সময় ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায় ঢাকায় যাই। আজ দেড় হাজার টাকায় টিকিট কিনতে হলো। ক্লাস পরীক্ষা আছে তাই বাধ্য হয়ে দ্বিগুণ দামে টিকিট কিনলাম। তাও কাউন্টারের বাইরে হাতে হাতে। টিকিট সব সিন্ডিকেটের হাতে চলে গেছে। আমার মতো যাত্রীরা নিরুপায়।’

ঢাকার পোশাক কর্মী মেনহাজুল ইসলাম বলেন, ‘কামারপাড়ার অলিতে-গলিতে দ্বিগুণ দামে টিকিট পাওয়া যাচ্ছে, কিন্তু কাউন্টারে কোনো টিকিট নেই। আপনি এখানে একটু ঘোরাঘুরি করে দেখবেন বাইরে যারা টিকিট বিক্রি করছেন, তারা আপনাকে কোনা গলির চিপায় ডেকে নিয়ে টিকিট দেবেন। এসব দেখার কেউ নেই। ঈদে পরিবার নিয়ে বাড়ি আসতে ও ঢাকা যাইতে সব টাকা শ্যাষ। অথচ এসব দেখার কেউ নেই।’

শুধু বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সুমন মিয়া ও পোশাককর্মী মেনহাজুল ইসলামেই এমন আক্ষেপ নয়; ঈদ ও বৈশাখী ছুটি শেষে ঢাকার কর্মস্থলে ফের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ কাউন্টারে গিয়ে টিকিট না পেয়ে এমন আক্ষেপ করছেন। কাউন্টারগুলোতে টিকিট না পাওয়া গেলেও বাইরে বেশি দামে টিকিট পাওয়া যাচ্ছে। এসব নিয়ন্ত্রণ করছে স্থানীয় একটি কালোবাজারি চক্রসহ বাস মালিক ও শ্রমিকের অভিযোগ যাত্রীদের।

রংপুরে ঢাকার কোচ স্ট্যান্ড কামারপাড়া, মড়ার্ন মোড়, পাগলাপীর ও রংপুর রেলওয়ে স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, যাত্রীরা টিকিটের জন্য উদ্বিগ্ন হয়ে ঘোরাঘুরি করছেন। কাউন্ডারে টিকিট না পেয়ে অনেকে হতাশায় পড়েছেন। অনেকে নির্দিষ্ট সময়ে কর্মস্থলে ফেরা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন।

অন্তত ২০ জন ঢাকাগামী যাত্রীর সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, ট্রেনের টিকিট এখন আলাদিনের চেরাগ পাওয়ার মতো; কিন্তু বাসের টিকিটও যে এমন হবে তারা বুঝতে পারেননি। অনলাইনে ৭ দিন আগের পর্যন্ত কোনো টিকিট নেই। কাউন্টারে গেলে টিকিট নেই, টিকিট নেই বলছে কর্তৃপক্ষ; কিন্তু কাউন্টারের বাইরে দ্বিগুণের বেশি টাকা দিলে টিকিট হাজির হচ্ছে। টিকিট কাউন্টারের লোকজন মিলে এসব কালোবাজারী সিন্ডিকেট তৈরি করেছে।

কামারপাড়ার এনা কাউন্টারের সামনে কথা হয় হারাগাছের একরামুল হকের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘কাউন্টারে টিকিট নেই। টিকিট না পেলে ঢাকায় যাব কি করে। আগামীকাল বুধবার অফিস ধরতে না পারলে চাকরি থাকবে না। তাই যেকোনো মূল্যেই আজ একটি টিকিট জোগাড় করতে হবে। একটি বাসের টিকিট আমার জীবিকার ওপর প্রভাব ফেলেছে।’

জানতে চাইলে এনা ট্রান্সপোর্টের ব্যবস্থাপক রেজাউল করিম রতন বলেন, ‘ঈদে যাত্রীদের চাপ খুব। আর টিকিট আগেই অনেকে অনলাইনে বুকিং করে রেখেছেন, এই কারণে টিকিটের সংকট দেখা দিয়েছে। বাড়তি দামে আমরা টিকিট বিক্রি করছি না।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনা ও শ্যামলী পরিবহনের কয়েকজন সুপারভাইজার জানান, কামারপাড়া বাসস্ট্যান্ডে প্রায় সব কোচের টিকিট সংকট থাকবে ঈদপরবর্তী ১০ দিন পর্যন্ত। এর কারণ স্থানীয় কিছু যুবকদের একটি সিন্ডিকেট আগে থেকেই জনপ্রতি ৬০ থেকে ৭০টি করে টিকিট নামে-বেনামে কিনে রেখেছেন। সেগুলোই এখন চড়া দামে বিক্রি করছেন। এখানে পরিবহন মালিক বা স্টাফদের করার কিছু নেই। বর্তমানে কাউন্টার থেকে যারা টিকিট সংগ্রহ করছেন তারা অধিকাংশ গাড়ির স্টাফ না হলে কাউন্টারের পরিচিত লোক।

মোটরশ্রমিক ফেডারেশন রংপুর মডার্ন শাখার সভাপতি হাবিব বলেন, ‘আগামী শনি-রোববার পর্যন্ত যাত্রীর খুব চাপ থাকবে। আমাদের ভাড়া বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই। বহিরাগত কিছু লোক ভাড়া বেশি নিয়েছিল, প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়েছে।’

বিষয়:

নির্বাচিত

বেনাপোল বন্দরে কাগজপত্র বিহীন পণ্যবাহী ভারতীয় ট্রাক জব্দ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২৬ জুন, ২০২৬ ১৮:৩৯
বেনাপোল প্রতিনিধি


যশোরের বেনাপোল বন্দরে কাগজ পত্র বিহীন একটি খোলবাহী পণ্য চালানের ভারতীয় ট্রাক জব্দ করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাত ৯ টার দিকে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্যের ভিত্তিতে বন্দরের ৩১ নাম্বার শে ইয়ার্ড থেকে কাস্টমস এ পণ্যবাহী ট্রাকটি জব্দ করে।

কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, যশোরের ঝিকরগাছার আমদানিকারক মেসার্স আরাফ এন্টারপ্রাইজের নামে সরিষার খৈলবাহী ট্রাক (নং- WB-25K-8415) গত ২৩ জুন রাত প্রায় ৯টায় বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। পরে ২৫ জুন ট্রাকটি ৩৫ নম্বর শেডে খালাসের জন্য যাওয়ার তথ্য দেখিয়ে বের হয়। অভিযোগ উঠেছে, ট্রাকটিতে থাকা অবৈধ পণ্য ৩১ নাম্বার ইয়াডে ঢোকার আগেই অবৈধভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়।

এরপর বিকেল প্রায় ৪টার দিকে ট্রাকটি বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই বন্দরের ৩১ নম্বর ইয়ার্ড (ফলের মাঠ) এলাকায় প্রবেশ করলে বন্দর ট্রাকটি আটকায়। পরে কাস্টমসকে অবহিত করলে বেনাপোল কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার অটল গোস্বামীর উপস্থিতিতে ট্রাকটি তল্লাশি করা হয়। এ সময় ট্রাক থেকে ১৪০ বস্তা খৈল ও ৫০টি খালি বস্তা জব্দ করা হয়। জব্দকৃত পণ্যের মোট ওজন ৭ হাজার ১৫৭ কেজি এবং খৈলের নীট ওজন ৬ হাজার ৯১৩ কেজি পাওয়া যায়।

বেনাপোল কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার অটল গোস্বামী জানান, ঘোষণাপত্র অনুযায়ী ট্রাকটিতে ১০ টন ৯০ কেজি পণ্য থাকার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে পাওয়া গেছে ৬ টন ৯১৩ কেজি। ফলে ঘোষিত পরিমাণের তুলনায় ৩ হাজার ১৭৭ কেজি খৈলের ঘাটতি পাওয়া গেছে। ধারনা করা হচ্ছে খালি ৫০ বস্তায় অন্যকোন পন্য ছিল। যা সেডে ঢোকার আগে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে পণ্য পাচারের সাথে জড়িত চক্রটি কৌশল করে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট হিসেবে মেসার্স প্রত্যয় ইন্টারন্যাশনাল নাম ব্যবহার করেছে জানা গেছে। তবে সিঅ্যান্ডএফের পক্ষ থেকে তাদের নাম ব্যবহার করার প্রতিবাদ জানিয়ে লিখিতভাবে কাস্টমস, বন্দর ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এ্যাসোসিয়েশনকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পত্র দিয়ে অবগত করেছেন।

সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী হাফিজুর রহমান হ্যাপি এক আবেদনে দাবি করেন, তার প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে কে বা কারা এ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। ট্রাকটি কিংবা পণ্যচালান গ্রহণে তাদের কোনো কর্মকর্তা, কর্মচারী বা প্রতিনিধি জড়িত ছিলেন না। প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তাদের প্রতিষ্ঠানকে যেন হয়রানি করা না হয়, সে অনুরোধও জানান তিনি।

এ বিষয়ে বেনাপোল স্থলবন্দরের ৩১ নম্বর শেডের দায়িত্বরত কর্মকর্তা খলিলুর রহমান বলেন, মিথ্যা ঘোষণায় আমদানিকৃত পণ্যচালান সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে কাস্টমসকে অবহিত করা হয়। পরে কাস্টমস ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে চালানটি জব্দ করা হয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে কাস্টমস, বন্দর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তদন্ত শুরু করেছে। পাশাপাশি এ ঘটনায় কোনো চোরাচালান চক্র জড়িত আছে কি না, তাও অনুসন্ধান করছে কর্তৃপক্ষ।


নির্বাচিত

আধুনিকতার ভিড়ে ডুমুরিয়া থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়ি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা)

আধুনিক ও যান্ত্রিক যানবাহনের দাপটে খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়ি। একসময় উপজেলার গ্রামীণ জনপদে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল এই গাড়ি। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে আজ তা প্রায় বিলুপ্তির পথে। এখন উপজেলার দু-একটি এলাকায় মাঝেমধ্যে ঘোড়ার গাড়ি দেখা গেলেও তা যেন কেবলই অতীতের স্মৃতি বহন করছে।

ইতিহাস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রাচীনকালে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে শুরু করে রাজকীয় যাতায়াত এবং পরবর্তী সময়ে গ্রাম বাংলার কৃষি কাজে ঘোড়ার গাড়ি ছিল মানুষের নিত্যসঙ্গী। মাঠ থেকে ফসল ঘরে তোলা, হাটে-বাজারে পণ্য নেওয়া কিংবা দূর-দূরান্তে যাত্রী পরিবহনে এই গাড়ির জুড়ি ছিল না। একসময় এই ঘোড়ার গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন উপজেলার অনেক পরিবার, অর্জন করেছিলেন আর্থিক সচ্ছলতাও। কিন্তু বর্তমানে ইঞ্জিনচালিত নসিমন, করিমন, ইজিবাইক ও থ্রি-হুইলারের সহজলভ্যতার কারণে ঐতিহ্যবাহী এই বাহনটি তার অস্তিত্ব হারাতে বসেছে।

পাশাপাশি, বর্তমান সময়ে ঘোড়া লালন-পালনের খরচও আকাশচুম্বী। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আগের মতো চারণভূমি বা পর্যাপ্ত ঘাস না থাকায় ঘোড়াকে বাঁচিয়ে রাখাই এখন মালিকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরাজি সাজিয়াড়া গ্রামের ঘোড়ার গাড়ি চালক মোঃ লতিফ শেখ, হাফিজুর‌ রহমান শেখ বলেন, "বাপ-দাদার আমল থেকে এই পেশায় আছি। একসময় ঘোড়ার গাড়ি দিয়ে সংসার খুব ভালোভাবেই চলতো। মাঠের ধান, পাট, সবজি হাটে নিয়ে যেতাম। এখন সব জায়গায় পাকা রাস্তা আর ইঞ্জিন গাড়ি হওয়ায় আমাদের কেউ ডাকে না। তার ওপর ঘোড়ার খাবারের দাম অনেক বেড়ে গেছে। এলাকায় আগের মতো ঘাস পাওয়া যায় না, মাঠ-ঘাট সব ভরাট হয়ে গেছে। ঘোড়া বাঁচিয়ে রাখাই এখন কঠিন, তাই বাধ্য হয়ে অনেকেই এই পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন।"

ডুমুরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মোঃ আশরাফুল কবির বলেন: "ঘোড়ার গাড়ি এই অঞ্চলের একটি প্রাচীন ঐতিহ্য। তবে নগরায়ণ ও যান্ত্রিকীকরণের ফলে এটি সংকুচিত হয়ে আসছে। উপজেলায় এখন হাতে গোনা কয়েকটি ঘোড়ার গাড়ি রয়েছে। প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পক্ষ থেকে আমরা এই ঘোড়াগুলোর চিকিৎসাসেবা ও ভ্যাকসিনের বিষয়টি নিয়মিত দেখাশোনা করি। যদি কোনো খামারি বা মালিক ঘোড়া পালনে সমস্যায় পড়েন, তবে আমাদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা সবসময় প্রদান করা হবে।"

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোঃ শরিফুল ইসলাম বলেন: "কালের বিবর্তনে গ্রামীণ ঐতিহ্যের অনেক কিছুই হারিয়ে যাচ্ছে, ঘোড়ার গাড়ি তার মধ্যে একটি। যান্ত্রিক পরিবহনের যুগে এর অর্থনৈতিক উপযোগিতা কমলেও, পর্যটন বা বিশেষ উৎসব-পার্বণে এর একটি ভিন্ন আবেদন রয়েছে। ঘোড়া পালনকারীদের টিকিয়ে রাখতে এবং এই ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকারি যেকোনো সুযোগ-সুবিধা বা প্রণোদনার ক্ষেত্রে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।"

ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ সবিতা সরকার বলেন: "ঘোড়ার গাড়ি আমাদের আবহমান বাংলার সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। ডুমুরিয়া থেকেও এটি ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে, যা সত্যি বেদনার। আমরা চাই না এই ঐতিহ্য পুরোপুরি হারিয়ে যাক। ঘোড়ার গাড়ির সাথে জড়িত যেসব পরিবার এখনো এই পেশা আঁকড়ে ধরে আছেন, তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং বিকল্প কর্মসংস্থান বা এই পেশাকে টিকিয়ে রাখার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খোঁজখবর নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।"

ঐতিহ্যের অন্তিম প্রহর স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার বিশেষ উদ্যোগ না থাকলে আগামী প্রজন্মের কাছে ঘোড়ার গাড়ি কেবলই রূপকথার গল্প বা আলোকচিত্রের ফ্রেমে বন্দি একটি বিষয়ে পরিণত হবে। গ্রামীণ এই ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন উপজেলার বাসিন্দারা।


নির্বাচিত

মেহেরপুরে গাংনী সীমান্তে ৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা বিএসএফের

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাংনী (মেহেরপুর) প্রতিনিধি

মেহেরপুরের গাংনী সীমান্তে আবারো তিনজনকে পুশইনের চেষ্টা করেছে বিএসএফ। শুক্রবার (২৬ জুন) ভোরে উপজেলার কাথুলী ইউনিয়নের রাধাগোবিন্দপুর ধলা সীমান্তে সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ দুজনকে পুশইনের চেষ্টা করলে বিজিবি ও স্থানীয়দের মুখে বিএসএফ তাদের ফেরত নেয়।

ধলা বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার হাবিলদার শিশির কুমার সরকার বলেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার করিমপুর থানার বুড়িপোতা বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা গেট খুলে তিনজনকে পুশইনের চেষ্টা করে।

বিজিবি ও গ্রামবাসীর সতর্ক অবস্থানের কারণে তারা বাংলাদেশের প্রবেশ করতে পারেনি।পরে বিজিবি এবং বিএসএফের মধ্যে আলোচনার পর ওই তিনজনকে ফেরত নেয় বিএসএফ।

বিজিবি ও গ্রামবাসীর প্রতিরোধের মুখে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়।


নির্বাচিত

ঢাকা-বেনাপোল ও নড়াইল মহাসড়ক সরু হওয়ায় বাড়ছে দুর্ঘটনা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কার্ত্তিক দাস, নড়াইল

তিন বছর আগে পদ্মা ও মধুমতি নদীর ওপর সেতু নির্মিত হয়েছে। দেশের মেগা প্রকল্পে নির্মিত সেতুর দুটির ওপর দিয়ে যানবাহনও চলাচল শুরু হয়েছে। সড়ক চালুর পর ঢাকা-কোলকাতা ভায়া নড়াইল-যশোর-বেনাপোল মহাসড়কে যানবাহনের প্রচন্ড চাপও বেড়েছে। ভাঙ্গা থেকে বেনাপোল পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় মাত্রাতিরুক্ত সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে,গত তিন বছরে এই মহাসড়কে ৭৫টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে । এতে ৪৫ জন নিহত এবং ১৫২ জন আহত হয়েছেন। খানাখন্দে ভরা সড়কটিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে আশেপাশের কয়েকটি জেলার কয়েক লাখ মানুষকে। যাত্রী সাধারণের ভোগান্তির শেষ নেই। দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই দুই মেগা প্রকল্পের পূর্ণ সুফল পেতে ভাটিয়াপাড়া-বেনাপোল অংশটি দ্রুত প্রশস্ত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা এবং বাস মালিক ও শ্রমিকরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা থেকে ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে পার হওয়ার পরমোকছেদপুর, ভাটিয়াপাড়া-নড়াইল-যশোর ভায়া বেনাপোল সড়কের প্রায় ১২০ কিলোমিটার অংশ অত্যন্ত সরু। এই সরু সড়কেই এখন দিন-রাত চলছে তীব্র যানজট ও প্রতিযোগিতা। যানবাহনগুলো ক্রসিং কিংবা ওভারটেকিং করার সময় সড়কের পাশে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় চাকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে বা অন্য গাড়ির ওপর আছড়ে পড়ছে।

ফলে একদিকে যেমন বাড়ছে প্রাণহানি, অন্যদিকে পঙ্গুত্ববরণ করছেন অনেকে। স্থানীয় পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মতে, এই ১২০ কিলোমিটার সড়ক অবিলম্বে চার লেনে বা পর্যাপ্ত প্রশস্ত না করলে দুর্ঘটনা কমানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং স্থানীয় সূত্র জানায়, পদ্মা ও মধুমতি সেতু চালুর পর ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ২৭ জুন পর্যন্ত (গত তিন বছরে) নড়াইল-বেনাপোল মহাসড়কে ছোট-বড় মোট ৭৫টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। স্পটেই কিংবা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ৪৫ জন। আর গুরুতর আহত হয়ে ১৫০ জন পঙ্গু হাসপাতালের শয্যায় কিংবা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবেশদ্বার বেনাপোল স্থলবন্দরের সঙ্গে রাজধানীর সরাসরি ও দ্রুত যোগাযোগের স্বার্থে এই সড়কটি দ্রুত সংস্কার ও প্রশস্ত করা এখন সময়ের দাবি।

পরিবহনচালক সুজন শিকদার বলেন,ওভারটেকিং কিংবা ক্রসিংয়ের সময় সড়কের পাশে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। অনেক ক্ষেত্রে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যাচ্ছে অথবা অন্য গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়াচ্ছে। সড়কটির এই অংশ চার লেনে উন্নীত না করা হলে দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব হবে না।

নড়াইল জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সাংধারণ সম্পাদক মো.আলী হাসান বলেন, পদ্মা ও মধুমতি সেতুর কারণে আমাদের যাতায়াত অনেক সহজ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাস্তা অত্যন্ত সরু হওয়ায় সেই সুযোগ-সুবিধা অনেকটাই নষ্ট হচ্ছে। প্রতিনিয়ত পথচারিরা ভোগান্তিতে পড়েন, রাস্তায় চলাচলকারি জনগণ ও আমাদের শ্রমিক ও যাত্রীরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। আমরা অবিলম্বে এই রাস্তা প্রশস্ত করার জোর দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ নড়াইলের নির্বাহী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম জানান, নড়াইল জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক হলো ঢাকা-বেনাপোল ভায়া ভাটিয়াপাড়া-নড়াইল সড়কটি। বর্তমানে এটি মাত্র ২৪ ফিট চওড়া।

তিনি বলেন, হঠাৎ করে ব্যস্ততা ও যানবাহনের চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। সাময়িক সুরক্ষার জন্য আমরা সড়ক সংলগ্ন পর্যাপ্ত সাইন-সিগন্যাল ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থার আয়োজন করেছি। তবে আশার কথা হলো, চলতি বছরের শেষের দিকেই আমরা এই সড়কটি স্থায়ীভাবে প্রশস্ত করণের কাজ শুরু করতে পারব।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকা-মাওয়া-নড়াইল-বেনাপোল জাতীয় মহাসড়কের কালনা এলাকায় মধুমতি নদীতে দেশের প্রথম ছয় লেনের ‘মধুমতি সেতু’ উদ্বোধন করা হয়।

এরপর থেকেই ঢাকা, যশোর, বেনাপোল, কলকাতা, সাতক্ষীরা, খুলনা, মাগুরা,ঝিনাইদহ,কুষ্টিয়াসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে যাত্রীবাহী পরিবহণ, পণ্যবাহী ট্রাকসহ শত শত যানবাহন নড়াইল রুট ব্যবহার করছে। কিন্তু সেতুর সংযোগ সড়কগুলো আধুনিক ও প্রশস্ত হলেও ভেতরের মূল সড়কটি আগের মতোই সরু রয়ে গেছে।


নির্বাচিত

কুমিল্লার বেরিবাঁধে চুরি হলো দুই শতাধিক সোলার লাইট, দুর্ভোগে লক্ষাধিক মানুষ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা

কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার পাঁচথুবী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী গোলাবাড়ি থেকে টিক্কারচর পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়কে স্থাপিত দুই শতাধিক সোলার লাইট চুরির অভিযোগ উঠেছে। ফলে রাতের বেলায় অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি, আর চরম দুর্ভোগে পড়েছেন লক্ষাধিক মানুষ।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে আদর্শ সদর উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে গোমতী নদীর বেরিবাঁধ এলাকায় প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা হয় প্রায় পাঁচ শতাধিক সোলার লাইট। গোলাবাড়ি থেকে টিক্কারচর হয়ে পালপাড়া পর্যন্ত বিস্তৃত এই সড়কে আলোর ব্যবস্থা হওয়ায় রাতের বেলায় নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচলের সুযোগ পান পাঁচথুবী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মানুষ।

কিন্তু সময়ের ব্যবধানে একের পর এক সোলার লাইট চুরি হয়ে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্বৃত্তরা ধাপে ধাপে প্রায় দুই শতাধিক সোলার লাইট খুলে নিয়ে গেছে। কোথাও শুধু লাইট, আবার কোথাও খুঁটিসহ পুরো স্থাপনাই তুলে নেওয়া হয়েছে। ফলে সন্ধ্যা নামতেই সড়কের বড় একটি অংশ ঘুটঘুটে অন্ধকারে ঢেকে যায়।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, সোলার লাইট চালু থাকাকালে রাতের যাতায়াত ছিল নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক। কিন্তু এখন অন্ধকারের সুযোগে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির আশঙ্কা বেড়ে গেছে। বিশেষ করে নারী, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষেরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন।

জালুয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, ৫ আগস্টের পর সোলার লাইটগুলো বেশি চুরি হয়েছে। তখন তদারকি কম থাকায় চোরেরা সুযোগ পেয়েছে।

সুবর্ণপুর গ্রামের প্রবাসী ব্যবসায়ী সোহেল অভিযোগ করেন, “গোমতীর উত্তর পাশের বেরিবাঁধ দিয়ে মাদক ব্যবসা নির্বিঘ্নে চালানোর জন্যই পরিকল্পিতভাবে সোলার লাইটগুলো চুরি করা হয়েছে। কোথাও শুধু লাইট, কোথাও আবার পুরো খুঁটিসহ নিয়ে গেছে।

কুমিল্লা মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী হোসনেয়ারা আক্তার বলেন, সন্ধ্যার পর এই সড়ক দিয়ে বাড়ি ফিরতে খুব ভয় লাগে। আগে আলো থাকায় সমস্যা হতো না, এখন চারদিকে অন্ধকার।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও দাবি, ভ্রাম্যমাণ মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের একটি চক্র এসব চুরির সঙ্গে জড়িত।

পাঁচথুবী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কাজী তানভীর আহম্মেদ রাহুল বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে দুর্বৃত্তরা লাইটগুলো চুরি করেছে। মাদকের টাকা জোগাড় করতেই ভ্রাম্যমাণ মাদকসেবীরা এসব সোলার লাইট খুলে বিক্রি করেছে বলে আমরা ধারণা করছি।

তিনি জানান, সম্প্রতি এলাকাবাসী এক চোরকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে। জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত চুরি হওয়া সোলার লাইট উদ্ধার, ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত এবং নতুন লাইট স্থাপনের দাবি জানান তিনি।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। এখন অবগত হয়েছি। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

চুরি হওয়া সোলার লাইট উদ্ধার এবং দ্রুত পুনঃস্থাপনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, জনগণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটিকে দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা জরুরি।


নির্বাচিত

চবিতে সিন্ডিকেট সভার বাইরে কর্মকর্তাকে পদোন্নতি

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শামীম ভূইয়া, চবি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) সিন্ডিকেট সভার এজেন্ডা ও পদোন্নতি বোর্ডের সুপারিশের বাইরে একজন সেকশন অফিসারকে সহকারী রেজিস্ট্রার পদে পদোন্নতি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোপনীয় শাখায় কর্মরত। পদোন্নতির সময় তিনি ওশানোগ্রাফি বিভাগে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

সম্প্রতি পদোন্নতি সংক্রান্ত নির্বাচনি বোর্ডের কার্যবিবরণী, সিন্ডিকেট সভার এজেন্ডা ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের নথি পর্যালোচনা করে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

নথি অনুযায়ী, ১৯ ফেব্রুয়ারি সেকশন অফিসার থেকে সহকারী রেজিস্ট্রার পদে পদোন্নতির জন্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনি বোর্ডের সভায় ৬৩ জন প্রার্থী অংশ নেন। তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা এবং লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার ফলাফল মূল্যায়ন করে ৪৯ জন কর্মকর্তাকে পদোন্নতির জন্য সুপারিশ করা হয়।

তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনি বোর্ড সভায় সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন এবং বর্তমান রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। তবে কার্যবিবরণীতে সুপারিশপ্রাপ্ত ৪৯ জনের তালিকায় মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইনের নাম ছিল না।

এর দুই দিন পর, ২১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬৬তম সিন্ডিকেট সভার ৩১ নম্বর এজেন্ডায় ওই ৪৯ কর্মকর্তার পদোন্নতির প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয় এবং সিন্ডিকেট তা অনুমোদন করে। এজেন্ডাভুক্ত তালিকাতেও মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইনের নাম ছিল না।

কিন্তু সিন্ডিকেট সভা শেষ হওয়ার প্রায় ১০-১৫ দিন পর প্রকাশিত সিদ্ধান্তপত্রে দেখা যায়, পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সংখ্যা ৪৯ থেকে বেড়ে ৫০ জন হয়ে গেছে। সেখানে পূর্বের তালিকায় ৭ নম্বর স্থানে নতুন করে মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইনের নাম যুক্ত করা হয়। ফলে তালিকার পরবর্তী কর্মকর্তাদের ক্রমিক নম্বরও পরিবর্তিত হয়।

পদোন্নতি হয়েছে কিনা জানতে চাইলে মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন বলেন, “আমি পদোন্নতির জন্য পরীক্ষা দিয়েছি, পাশ করেছি, আমার পদোন্নতি হয়েছে। এর বাইরে আমি কিছু জানি না। এমনিতে আমি স্ট্রোকের রোগী।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “তিনি একজন যোগ্য কর্মকর্তা। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায়ও ভালো করেছেন। ভুলক্রমে নির্বাচনি বোর্ডের কার্যবিবরণী থেকে তার নাম বাদ পড়ে যায়। পরে সিন্ডিকেট সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে তাকে সিদ্ধান্তে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।”

সিন্ডিকেট সদস্য মোহাম্মদ আলী বলেন, “সিন্ডিকেটের এজেন্ডার বাইরে কাউকে সিদ্ধান্তে অন্তর্ভুক্ত করা নীতিবহির্ভূত। তবে দেলোয়ার হোসাইনের বিষয়ে তৎকালীন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) আমাকে জানিয়েছিলেন যে তার প্রয়োজনীয় সব যোগ্যতা ছিল এবং ভুলক্রমে নাম বাদ পড়েছে। সে কারণে পরে আমি আর আপত্তি করিনি।”

তবে চ্যান্সেলর মনোনীত সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, “সিন্ডিকেটের এজেন্ডার বাইরে কাউকে সিদ্ধান্তে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আমি অবগত নই। এমন কিছু হয়ে থাকলে আগামী সিন্ডিকেট সভায় আমি বিষয়টি অবশ্যই উত্থাপন করব।”

এ বিষয়ে তৎকালীন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান বলেন, “দেলোয়ার হোসাইনের পদোন্নতির সব যোগ্যতা ছিল। পরীক্ষায়ও ভালো করেছে। সম্ভবত টাইপিংজনিত ভুলে তার নাম বাদ পড়ে যায়। পরে বিষয়টি নজরে আসলে অধিকাংশ সিন্ডিকেট সদস্যের সম্মতি নিয়ে তাকে পদোন্নতির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।”

তবে এ ধরনের পদক্ষেপকে নিয়মবহির্ভূত ও অযৌক্তিক বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মো. হেলাল উদ্দিন নিজামী। তিনি বলেন, “নির্বাচনি বোর্ডকে পাশ কাটিয়ে সিন্ডিকেট এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। যদিও সিন্ডিকেটের কিছু অন্তর্নিহিত ক্ষমতা রয়েছে, সেই ক্ষমতারও সীমারেখা আছে। এখানে সেই সীমারেখা অতিক্রম করা হয়েছে বলে আমি মনে করি।”

তিনি বলেন, “সিন্ডিকেট সভার বাইরে কাউকে পদোন্নতি দেওয়া হলে তা সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তাছাড়া নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা না হলে সেখানে অসৎ উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে সন্দেহ তৈরি হয়।”

মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন কার্যক্রম নিষিদ্ধ চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক। এর আগে তিনি ফতেহপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি, চট্টগ্রাম আইন কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি এবং হাটহাজারী থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।


নির্বাচিত

জয়পুরহাটে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস পালিত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জয়পুরহাট প্রতিনিধি

২৬ জুন মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী দিবস-২০২৬ উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জয়পুরহাট জেলা কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে জয়পুরহাটে মাদকবিরোধী বন্ধন,বর্ণাঢ্য র‍্যালী, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল ১০ টায় শহরের রামদেও বাজলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গন থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালী বের করে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ উপলক্ষে যদি বন্ধন, আলোচনা সভা ও পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাইমেনা শারমীন এর সভাপতিত্বে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জয়পুরহাট জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক শাকিল আহমেদ এর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বিপুল কুমার, জেলা পরিষদের প্রশাসক মোঃ মাসুদ রানা প্রধান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব-উন-নবী, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ গোলজার হোসেন, জয়পুরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ্যাড.আব্দুল মোমেন ফকির, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এ্যাড.শাহিনুর রহমান শাহিন,জিপি এ্যাডঃ ছালামত হোসেন, ২০ বিজিবি জয়পুরহাট ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,সামাজিক সংগঠন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি মাদকের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

অনুষ্ঠান শেষে মাদকবিরোধী বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এ সময় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, সুধীজন এবং বিভিন্ন দপ্তর প্রধান উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

পদ্মায় বালু উত্তোলন নিয়ে সংঘর্ষ, পাবনায় বিএনপি কর্মী নিহত

নিহত মঞ্জু শেখ। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পাবনা প্রতিনিধি

পাবনার পদ্মা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে মঞ্জু শেখ (৩৫) নামে এক বিএনপি কর্মী নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে সুজানগর ও পাবনা সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী চরতারাপুর ও ভাঁড়ারা ইউনিয়নের জোতকাকুরিয়া কলাবাগান পদ্মার চর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মঞ্জু শেখ উপজেলার আড়িয়া গোহাইলবাড়ি এলাকার দারোগ শেখের ছেলে। তিনি সুজানগর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শেখ আব্দুর রউফ ও চরতারাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি শেখ রহমত আলীর ভাতিজা। মঞ্জু শেখ সক্রিয় বিএনপি কর্মী ছিলেন বলে দলীয় সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চরতারাপুরের জোতকাকুড়িয়ার কলাবাগান এলাকার পদ্মার চরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন নিয়ে স্থানীয় দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চলছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালেও ওই এলাকায় উভয় পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে দুই গ্রুপের লোকজন চরে বালুর পরিস্থিতি দেখতে গেলে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় প্রতিপক্ষের গুলিতে ঘটনাস্থলেই মঞ্জু শেখের মৃত্যু হয়।

হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে সুজানগর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শেখ আব্দুর রউফ বলেন, "চরতারাপুর ও ভাঁড়ারা এলাকার কিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও বালু খেকোরা পদ্মার চর থেকে অবৈধভাবে বালু তুলতে গিয়েছিল। আমার ভাতিজাসহ স্থানীয়রা এতে বাঁধা দিতে গেলে সন্ত্রাসীরা নির্বিচারে গুলি চালিয়ে মঞ্জুকে হত্যা করে। সে আমাদের দলের একজন একনিষ্ঠ কর্মী ছিল। আমরা অবিলম্বে এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।"

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনুর রহমান জানান, বালু উত্তোলন ও আধিপত্য বিস্তারের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিতে একজন নিহত হয়েছেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ওই এলাকার পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং এর সাথে জড়িতদের আটকে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।


নির্বাচিত

ত্রিশালে সুতিয়া নদী ও পুকুরে পোনামাছ অবমুক্ত করলেন ডা. লিটন এমপি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের ত্রিশালে সুতিয়া নদী ও বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক পুকুরে ২৮৬ কেজি কার্পজাতীয় পোনামাছ অবমুক্ত করেছেন ত্রিশাল আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন।

সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসের আয়োজনে মুক্ত জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই পোনামাছ অবমুক্তকরণের পাশাপাশি ৪টি প্রদর্শনী পুকুরের মৎস্য চাষিদের মাঝে উপকরণও বিতরণ করা হয়।

শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই পোনামাছ অবমুক্ত করেন এবং চাষিদের হাতে মৎস্য উপকরণ তুলে দেন ডা. লিটন এমপি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকী এবং সঞ্চালনা করেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সামসুজ্জামান মাসুম।

এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আরাফাত উদ্দিন আহম্মেদ। ত্রিশাল প্রেস ক্লাবের সভাপতি খোরশিদুল আলম মুজিব প্রমুখ।


নির্বাচিত

৬ লেন মহাসড়কের দাবিতে তিন কিলোমিটার জুড়ে মানববন্ধন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২৬ জুন, ২০২৬ ১৭:৩৯
বরিশাল ব্যুরো

ছয়লেন মহাসড়কের দাবিতে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের গৌরনদী উপজেলার ভূরঘাটা বাসটার্মিনাল থেকে ইল্লা বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার মহাসড়কজুড়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এসময় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়। বিক্ষোভে এলাকাবাসীর সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে অবরোধের ফলে আটকে পরা যানবাহনের চালক, স্টাফ ও যাত্রীরাও অংশগ্রহণ করেন।

শুক্রবার (২৬ জুন) বাদ জুম্মা গৌরনদীর খাঞ্জাপুর ইউনিয়নবাসীর ব্যানারে নিরাপদ সড়ক চাই, জীবন বাঁচাতে ভাঙা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ছয়লেন মহাসড়ক চাই শ্লোগানকে সামনে রেখে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। কর্মসূচিতে জুম্মার নামাজের পর মহাসড়কের পাশের বিভিন্ন মসজিদের মুসুল্লীগণ স্ব-স্ব এলাকায় মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন।

এছাড়াও কর্মসূচিতে বরিশালের গৌরনদী ও উজিরপুর উপজেলা এবং মাদারীপুরের কালকিনিসহ বিভিন্ন উপজেলার সচেতন জনগন স্বর্তস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। এসময় মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছয়লেন মহাসড়কের পক্ষে বিভিন্ন যৌক্তিক দাবি সম্বলিত ফেস্টুন ও প্লাকাট শোভা পায়।

প্রায় দুইঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন চলাকালীন মহাসড়ক দিয়ে বরিশালের প্রবেশদ্বার গৌরনদীর ভূরঘাটা বাস টার্মিনালে আলোচনা সভায় অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তারা গত ২৩ জুন মহাসড়কের গৌরনদীর খাঞ্জাপুরের বটতলা এলাকায় মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত কুয়েত প্রবাসী সোহেল ফকিরের (২৪) হত্যাকারী ঘাতক পরিবহনের চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।

অনুষ্ঠিত সভায় সংগঠক কাজী সুজন তার বক্তব্যে বলেন, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কটি দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সাথে রাজধানী ঢাকার যোগাযোগের প্রধান ধমনী। পদ্মা সেতু চালুর পর এই মহাসড়কে যানবাহনের চাঁপ বহুগুণ বেড়ে গেছে। ফলে বর্তমানের দুই লেনের সরু এই মহাসড়কটি এখন আর পর্যাপ্ত নয়।

তিনি জনগুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কটি দ্রুত ছয়লেনে উন্নত করার দাবি জানিয়ে আরও বলেন, মহাসড়কের ভাঙা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত সড়কটি ছয়লেনে উন্নতি করা হলে তীব্র যানজট নিরসন, সময় সাশ্রয় ও দুর্ঘটনা কমে আসবে। কারণ পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর দক্ষিণাঞ্চলের ২১টি জেলার মানুষ অত্যন্ত কম সময়ে তাদের গন্তব্যে যাতায়াত করতে পারছেন। কিন্তু ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের সরু রাস্তার কারণে ফেরিঘাটের আগের যানজট এখন মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে যেমন- ভাঙ্গা, টেকেরহাট, মোস্তফাপুর, ভুরঘাটা, গৌরনদী, টরকী, বাটাজোরসহ বিভিন্নস্থানে এসে স্থানান্তরিত হয়েছে। রাস্তাটি ছয়লেনে উন্নীত হলে যানবাহনের গতি বাড়ার পাশাপাশি যাতায়াতের সময় নাটকীয়ভাবে কমে আসবে।

খাঞ্জাপুর এলাকার যুব প্রতিনিধি আতিক মৃধা বলেন, বর্তমান দুই লেনের সরু রাস্তায় ছোট-বড় সবধরনের গাড়ি একইসাথে চলাচল করছে। দূরপাল্লার দ্রুতগতির বাসের পাশাপাশি নসিমন, করিমন, ইজিবাইকের মতো ধীরগতির স্থানীয় যানবাহন একই লেনে চলাচল করায় প্রতিনিয়ত ভয়াবহ মুখোমুখি সংঘর্ষ বা ওভারটেকিংয়ের কারণে দুর্ঘটনা লেগেই রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ছয়লেনের মহাসড়ক নির্মিত হলে ধীর ও দ্রুতগতির যানবাহনের জন্য আলাদা লেনের (সার্ভিস লেন) ব্যবস্থা থাকবে, যা সড়ক দুর্ঘটনা প্রায় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনবে।

সমাজ সেবক মো. পান্নু মৃধা বলেন, বরিশাল বিভাগে প্রচুর পরিমাণে কৃষিপণ্য, মাছ এবং পোল্ট্রি উৎপাদিত হয়। সড়ক সরু ও যানজট থাকার কারণে এই পচনশীল পণ্যগুলো সময়মতো ঢাকায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পরে। ছয়লেন মহাসড়ক হলে কৃষকরা তাদের পণ্যের সঠিক মূল্য পাবেন। পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর ও মোংলা বন্দরের পণ্য পরিবহন আরও দ্রুত ও সহজ হবে। তেমনি দক্ষিণাঞ্চলে নতুন নতুন শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

চাকরিজীবী ফেরদাউস হোসেন সোহাগ বলেন, দেশের সর্বদক্ষিণের কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত, গুঠিয়া মসজিদ, দুর্গাসাগর দীঘি বা ভাসমান পেয়ারা বাজারের মতো অসংখ্য পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে বরিশাল অঞ্চলে। শুধুমাত্র যাতায়াত ব্যবস্থা আরামদায়ক এবং যানজটমুক্ত না হওয়ায় অনেক পর্যটকই এই অঞ্চলে ভ্রমণ করতে চায় না। যেকারণে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ভাঙা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত সরু মহাসড়কটি ছয়লেন হলে পর্যটনখাতে এক বিশাল বিপ্লব ঘটবে।

খাঞ্জাপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য ছোটন হাওলাদার বলেন, শুধু দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্যই নয়, বরং সামগ্রিক জাতীয় অর্থনীতিকে আরও গতিশীল এবং নিরাপদ করতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কটি চারলেনের মূল সড়ক ও দুই পাশে দুটি সার্ভিস লেনসহ মোট ছয়লেনে রূপান্তর করা এখন সময়ের দাবি।

অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন-সমাজ সেবক এমারাত সরদার, জুয়েল হাওলাদার, মাইনুল ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দরা।

বক্তারা অনতিবিলম্বে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ভাঙা থেকে সাগরকন্যা কুয়াকাটা পর্যন্ত দুইলেনের সরু মহাসড়ক ছয়লেনে উন্নতি করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অনতিবিলম্বে তাদের এ দাবি পূরণ না হলে ভবিষ্যতে বড়ধরনের আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও উল্লেখ করেন। সবশেষে ভূরঘাটা বাসস্ট্যান্ডের মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়।

প্রায় আধাঘন্টাব্যাপী মহাসড়ক অবরোধের কারণে মহাসড়কের উভয়পাশে শত শত যানবাহন আটকা পরে। এসময় বিক্ষোভে এলাকাবাসীর সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে অবরোধের ফলে আটকে পরা যানবাহনের চালক, স্টাফ ও যাত্রীরা অংশগ্রহণ করে অনতিবিলম্বে ছয়লেন মহাসড়ক নির্মানের দাবি বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


নির্বাচিত

সারা দেশে ১০ দিন টানা ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস, চার বিভাগে ভারী বর্ষণের সতর্কতা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আগামী ১০ দিন ঝড় ও বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে আভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। এই সময়ে বিশেষ করে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে বজ্রপাতসহ মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। শুক্রবার সকালে আবহাওয়া দপ্তরের দেওয়া পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার বিশেষ পূর্বাভাসে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, মৌসুমি বায়ু বর্তমানে বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের অন্যান্য অংশে এটি দুর্বল থেকে মাঝারি পর্যায়ে বিরাজ করছে। এর পাশাপাশি একটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এমন আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে শনিবার সকালের মধ্যে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় চার বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সাথে দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

এদিকে বৃষ্টির সম্ভাবনার মাঝেও রাজশাহী ও নীলফামারী জেলাসহ খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু তাপপ্রবাহ আরও কিছুকাল অব্যাহত থাকতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পরবর্তী কয়েক দিনে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস-বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী সপ্তাহের শুরুর দিকে অর্থাৎ সোমবার ও মঙ্গলবার থেকে রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টির তীব্রতা আরও বাড়তে পারে এবং মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে যে, পরবর্তী বর্ধিত পাঁচ দিনেও বৃষ্টিপাতের এই ধারা বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।


নির্বাচিত

লক্ষ্মীপুরে মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা ও তার তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন পরিবারের আরও এক সদস্য। পরে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে এক যুবককে গণপিটুনি দিলে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন মা শাহিনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), মেজো মেয়ে ইকরা আক্তার (১৭) ও ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)। এ ছাড়া গণপিটুনিতে অভিযুক্ত ঘাতক অন্তর মজুমদারও মারা গেছেন।

নোয়াখালীর সুবর্ণচর এলাকার কার্তিক মজুমদারের ছেলে। মরদেহ রায়পুর ও লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।

ঘটনার পর উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে ইটপাটকেলের আঘাতে পুলিশের অন্তত ছয় থেকে সাতজন সদস্য আহত হয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত শাহীনুর বেগমের মূল বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। কয়েক বছর আগে তার স্বামী মো. কামাল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যাওয়ার পর থেকে তিনি তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে রায়পুরের ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঘাতক যুবক আচমকা ঘরে ঢুকে মা ও তিন মেয়েকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে জখম করে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলেই মা শাহিনুর ও ছোট মেয়ে শিফা মারা যান। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর বড় মেয়ে সায়মাকেও মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় বাসিন্দারা ঘাতক যুবক অন্তর মজুমদারকে ধরে গণপিটুনি দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বাহারুল আলম বলেন, ‘হাসপাতালে ৫ জনকে আহত অবস্থায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে দুই মেয়ে ও তাদের মা মারা গেছেন। তার এক মেয়েকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ করা হয়। পরে সেও মারা যায়। এ ছাড়া অভিযুক্ত একজনকে গণপিটুনি দিয়ে আহত করা হয়। তার মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। সদর হাসপাতালে সেও মারা গেছে।’

এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) আবু তারেক বলেন, ‘মা-মেয়েসহ চারজন নিহত হয়েছে। ঘটনার মূল কারণ এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না তা উদঘাটনে পুলিশের তদন্ত শুরু হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’


নির্বাচিত

বর্ষার শুরুতেই ডেঙ্গু সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী, বাড়ছে মৃত্যু

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে বর্ষা মৌসুমের শুরুতে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও মৃত্যু ঊর্ধ্বমুখী। রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি মাসে মৃত্যুসংখ্যা দাঁড়াল ৮ জনে। এর মধ্যে চলতি সপ্তাহেই মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের। এর আগে গত মে মাসে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছিল একজনের। আর জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে মারা গেছেন ১৩ জন। এ ছাড়া নতুন করে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে আরও ১৯৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে ৫ হাজার ৫১৫ জনে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ও পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় (২৪ জুন সকাল আটটা থেকে ২৫ জুন সকাল আটটা) নতুন করে আক্রান্ত ১৯৮ জনের মধ্যে ১২৬ জন পুরুষ এবং ৭২ জন নারী। এর মধ্যে সর্বোচ্চসংখ্যক রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায়, যার সংখ্যা ৩১ জন। এ ছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) ২৬ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৮ জন এবং বরিশাল বিভাগে ৩১ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে যে একজনের মৃত্যু হয়েছে তিনি ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা এবং ৩১ থেকে ৩৫ বছর বয়সি একজন পুরুষ ছিলেন।

চলতি বছরের এক জানুয়ারি থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত দেশের হাসপাতালগুলোতে সর্বমোট পাঁচ হাজার ৫১৫ জন ডেঙ্গুরোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ রোগীর সংখ্যা তিন হাজার ৪২৯ জন (৬২.২ শতাংশ) এবং নারী রোগী দুই হাজার ৮৫ জন (৩৭.৮ শতাংশ)।

বিভাগভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ এক হাজার ৪৮৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন বরিশাল বিভাগে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এক হাজার ৩৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগে। এ ছাড়া ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন মিলে মোট এক হাজার ৩৮৮ জন (ডিএনসিসি ৪৬৮ জন ও ডিএসসিসি ৭৭৭ জন) এবং ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৬৯৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

চলতি বছরে এ পর্যন্ত মৃত ১৩ জনের মধ্যে আটজন পুরুষ এবং পাঁচজন নারী। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ও বরিশাল বিভাগে; উভয় অঞ্চলেই তিনজন করে মোট ছয়জন মারা গেছেন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম ও খুলনায় দুইজন করে এবং ঢাকা (সিটি করপোরেশনের বাইরে), ডিএনসিসি ও ময়মনসিংহে একজন করে রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ ইকবাল বলছেন, ‘বর্ষা মৌসুমে মশার প্রজনন বেশি থাকে। পাশাপাশি বর্ষাকাল প্রলম্বিত হলে বেড়ে যায় ডেঙ্গুর ঝুঁকি। এ বছর বৃষ্টি বেশি হচ্ছে, ডেঙ্গুর ঝুঁকিও বেশি থাকবে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তি, সামাজ ও রাষ্ট্রকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এর ব্যত্যয় হলে বাড়বে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা।’

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নবজাতক বিভাগের অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার দে বলেছেন, ‘রোগের ধরন পাল্টাচ্ছে। নানা রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে। আগে জ্বর এলে তিন থেকে সাত দিন পর্যন্ত সাধারণ জ্বরের চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ ছিল। এখন এই অবস্থা নেই। অনেক রোগীকে লক্ষণ দেখে প্রথম দিনেই ডেঙ্গুর পরীক্ষা করাতে দিতে হয়। এখনকার পরিস্থিতি বিবেচনা করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।’

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে সরকার অনুমোদিত হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হবে। কোনোভাবেই নিজে নিজে বা দালালদের মাধ্যমে নিবন্ধনহীন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া যাবে না।’

তবে আতঙ্কিত না হয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কাজ করার কথা জানালেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ ইকবাল। তিনি বলেছেন, ‘প্রথমত, মশা পরিষ্কার পানিতে ডিম পাড়ে। প্রত্যেকের বাসায় যত ধরনের পানির পাত্র আছে, তা পরিষ্কার রাখতে হবে। ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করতে হবে অথবা অন্য কোনো ব্যবস্থা নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকারকে মশা ও লার্ভা ধ্বংস করতে কার্যকর রাসায়নিক নিয়মিতভাবে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করতে হবে। তৃতীয়ত, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে সরকার অনুমোদিত হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হবে। কোনোভাবেই নিজে নিজে বা দালালদের মাধ্যমে নিবন্ধনহীন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া যাবে না।’


নির্বাচিত

banner close