ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমন মিয়া ঈদের ছুটি শেষে ক্যাম্পাসে ফিরবেন। তাই বাসের টিকিটের জন্য সকাল থেকে ঘুরছেন রংপুরে কামারপাড়া ঢাকা কোচ স্ট্যান্ডে। সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেও কোনো টিকিট কাটতে পারেনি। যেখানে গিয়েছেন, সেখানে টিকিটের সংকট দেখানো হয়েছে। বিকেল ৩টার দিকে কাউন্টারের বাইরে এক হাজার ৫০০ টাকায় একটি টিকিট সংগ্রহ হলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়েন।
কামারপাড়া ঢাকা কোচ স্ট্যান্ডে কথা হয় সুমন মিয়ার সঙ্গে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘এমনি সময় ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায় ঢাকায় যাই। আজ দেড় হাজার টাকায় টিকিট কিনতে হলো। ক্লাস পরীক্ষা আছে তাই বাধ্য হয়ে দ্বিগুণ দামে টিকিট কিনলাম। তাও কাউন্টারের বাইরে হাতে হাতে। টিকিট সব সিন্ডিকেটের হাতে চলে গেছে। আমার মতো যাত্রীরা নিরুপায়।’
ঢাকার পোশাক কর্মী মেনহাজুল ইসলাম বলেন, ‘কামারপাড়ার অলিতে-গলিতে দ্বিগুণ দামে টিকিট পাওয়া যাচ্ছে, কিন্তু কাউন্টারে কোনো টিকিট নেই। আপনি এখানে একটু ঘোরাঘুরি করে দেখবেন বাইরে যারা টিকিট বিক্রি করছেন, তারা আপনাকে কোনা গলির চিপায় ডেকে নিয়ে টিকিট দেবেন। এসব দেখার কেউ নেই। ঈদে পরিবার নিয়ে বাড়ি আসতে ও ঢাকা যাইতে সব টাকা শ্যাষ। অথচ এসব দেখার কেউ নেই।’
শুধু বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সুমন মিয়া ও পোশাককর্মী মেনহাজুল ইসলামেই এমন আক্ষেপ নয়; ঈদ ও বৈশাখী ছুটি শেষে ঢাকার কর্মস্থলে ফের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ কাউন্টারে গিয়ে টিকিট না পেয়ে এমন আক্ষেপ করছেন। কাউন্টারগুলোতে টিকিট না পাওয়া গেলেও বাইরে বেশি দামে টিকিট পাওয়া যাচ্ছে। এসব নিয়ন্ত্রণ করছে স্থানীয় একটি কালোবাজারি চক্রসহ বাস মালিক ও শ্রমিকের অভিযোগ যাত্রীদের।
রংপুরে ঢাকার কোচ স্ট্যান্ড কামারপাড়া, মড়ার্ন মোড়, পাগলাপীর ও রংপুর রেলওয়ে স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, যাত্রীরা টিকিটের জন্য উদ্বিগ্ন হয়ে ঘোরাঘুরি করছেন। কাউন্ডারে টিকিট না পেয়ে অনেকে হতাশায় পড়েছেন। অনেকে নির্দিষ্ট সময়ে কর্মস্থলে ফেরা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন।
অন্তত ২০ জন ঢাকাগামী যাত্রীর সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, ট্রেনের টিকিট এখন আলাদিনের চেরাগ পাওয়ার মতো; কিন্তু বাসের টিকিটও যে এমন হবে তারা বুঝতে পারেননি। অনলাইনে ৭ দিন আগের পর্যন্ত কোনো টিকিট নেই। কাউন্টারে গেলে টিকিট নেই, টিকিট নেই বলছে কর্তৃপক্ষ; কিন্তু কাউন্টারের বাইরে দ্বিগুণের বেশি টাকা দিলে টিকিট হাজির হচ্ছে। টিকিট কাউন্টারের লোকজন মিলে এসব কালোবাজারী সিন্ডিকেট তৈরি করেছে।
কামারপাড়ার এনা কাউন্টারের সামনে কথা হয় হারাগাছের একরামুল হকের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘কাউন্টারে টিকিট নেই। টিকিট না পেলে ঢাকায় যাব কি করে। আগামীকাল বুধবার অফিস ধরতে না পারলে চাকরি থাকবে না। তাই যেকোনো মূল্যেই আজ একটি টিকিট জোগাড় করতে হবে। একটি বাসের টিকিট আমার জীবিকার ওপর প্রভাব ফেলেছে।’
জানতে চাইলে এনা ট্রান্সপোর্টের ব্যবস্থাপক রেজাউল করিম রতন বলেন, ‘ঈদে যাত্রীদের চাপ খুব। আর টিকিট আগেই অনেকে অনলাইনে বুকিং করে রেখেছেন, এই কারণে টিকিটের সংকট দেখা দিয়েছে। বাড়তি দামে আমরা টিকিট বিক্রি করছি না।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনা ও শ্যামলী পরিবহনের কয়েকজন সুপারভাইজার জানান, কামারপাড়া বাসস্ট্যান্ডে প্রায় সব কোচের টিকিট সংকট থাকবে ঈদপরবর্তী ১০ দিন পর্যন্ত। এর কারণ স্থানীয় কিছু যুবকদের একটি সিন্ডিকেট আগে থেকেই জনপ্রতি ৬০ থেকে ৭০টি করে টিকিট নামে-বেনামে কিনে রেখেছেন। সেগুলোই এখন চড়া দামে বিক্রি করছেন। এখানে পরিবহন মালিক বা স্টাফদের করার কিছু নেই। বর্তমানে কাউন্টার থেকে যারা টিকিট সংগ্রহ করছেন তারা অধিকাংশ গাড়ির স্টাফ না হলে কাউন্টারের পরিচিত লোক।
মোটরশ্রমিক ফেডারেশন রংপুর মডার্ন শাখার সভাপতি হাবিব বলেন, ‘আগামী শনি-রোববার পর্যন্ত যাত্রীর খুব চাপ থাকবে। আমাদের ভাড়া বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই। বহিরাগত কিছু লোক ভাড়া বেশি নিয়েছিল, প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়েছে।’
হাম সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই দেশে আবারও ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে শুরু করেছে। বর্ষা পুরোপুরি জেঁকে বসার আগেই সারাদেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে এডিস মশাবাহিত এই রোগের প্রকোপ; এক দিনেই মৃত্যু হয়েছে সর্বোচ্চ ৫ জনের। এর আগে এক দিনে সর্বোচ্চ দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছিল।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, মে মাসের তুলনায় কেবল জুন মাসেই ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে বেড়েছে প্রায় চার গুণ; আর এবার এডিসের মূল নিশানা হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশের তরুণ প্রজন্ম। এদিকে ডেঙ্গুর এই তীব্রতার মাঝেই দেশের স্বাস্থ্য খাতে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে শিশুদের হামের সংক্রমণ। গত সাড়ে তিন মাসে হাম ও এর উপসর্গে ৭১৬টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে, যার একটি বড় অংশের মৃত্যুর জন্য দায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের টিকাদানের ঘাটতি। একই সাথে দুই সংক্রামক ব্যাধির এই জোড়া আক্রমণে সারাদেশের জনস্বাস্থ্য এখন চরম ঝুঁকিতে।
সোমবার (২৯ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নতুন করে ৫ জনের মধ্যে ২ জন মারা গেছেন চট্টগ্রাম বিভাগে। ১ জন করে মৃত্যু হয়ে ময়মনসিংহ বিভাগে এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায়। তাদের মধ্যে এক কিশোরীসহ ৩ জন নারী। অপর দুজন পুরুষ।
এসময় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ১২৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গুরোগীর সংখ্যা ৫ হাজার ৯২৪। তাদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ১০০ জনসহ সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৫ হাজার ৪৫৫ জন। চলতি মাসে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গুরোগীর সংখ্যা ২ হাজার ৭২৭।
বিভাগভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শেষ ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৭ জন রয়েছেন বরিশালে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ২৮, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ১৭, উত্তর সিটিতে ১৬, খুলনায় ১৪, রাজশাহীতে ৮ এবং ময়মনসিংহে ও ঢাকা মহানগরের বাইরে ২ জন করে রয়েছেন।
উল্লেখ্য, সাধারণত বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি দেখা যায় বর্ষা মৌসুমে। বিশেষ করে জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত। বৃষ্টির পানিতে জমে থাকা ছোট ছোট জলাধার এডিস মশার প্রজননের জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় অস্বাভাবিক আবহাওয়া, দীর্ঘ উষ্ণ সময় ও দ্রুত নগরায়ণের কারণে ডেঙ্গুর মৌসুমি ধারা বদলে যাচ্ছে। এখন সংক্রমণ আগেভাগে শুরু হয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে।
জুনেই ভয়াবহ লাফ: অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত ডেঙ্গু পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে ছিল। আগের মাসগুলোতে যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৩০০ থেকে ৭০০-এর ঘরে সীমাবদ্ধ ছিল, সেখানে কেবল জুন মাসেই রেকর্ড ২ হাজার ৭২৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং ১৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। অর্থাৎ, আগের মাসগুলোর গড় হিসাবের তুলনায় কেবল জুনেই আক্রান্তের সংখ্যা চার গুণ বেড়েছে।
সব মিলিয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত দেশজুড়ে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫ হাজার ৯২৪ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫ হাজার ৪৫৫ জন। আর চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ জনে।
আক্রান্ত ও মৃত্যুতে এগিয়ে পুরুষ, ঝুঁকিতে তরুণরা: সামগ্রিক মৃত্যু ও আক্রান্তের হারে নারীদের তুলনায় পুরুষদের সংখ্যা কিছুটা বেশি। মোট আক্রান্তের ৬২ দশমিক ১ শতাংশ পুরুষ ও ৩৭ দশমিক ৯ শতাংশ নারী। অন্যদিকে, মোট মৃত্যুর ৫৫ দশমিক ৬ শতাংশ পুরুষ এবং ৪৪ দশমিক ৪ শতাংশ নারী।
বয়সভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এবারের ডেঙ্গু সংক্রমণে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন তরুণ ও যুবকেরা। বিশেষ করে ১৬ থেকে ২০ বছর বয়সিরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন, যার সংখ্যা ৮০০ জন। এর পরেই রয়েছে ২১ থেকে ২৫ বছর বয়সি (৭৫৯ জন) এবং ২৬ থেকে ৩০ বছর বয়সিরা (৭৩২ জন)।
হামের উপসর্গে মৃত্যু বেড়ে ৭১৬, রোববার সকাল আটটা থেকে সোমবার (২৯ জুন) সকাল আটটা পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গে আরও চার শিশু মারা গেছে। এ নিয়ে প্রায় সাড়ে ৩ মাসে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেল ৭১৬ শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে আরও ১ হাজার ১৪৫ শিশু। এর মধ্যে হামে আক্রান্ত হয়েছে ১৪১ শিশু। আর হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৪ শিশু। এ নিয়ে প্রায় সাড়ে ৩ মাসে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হলো ১ লাখ ১২ হাজার ৬২ শিশু।
হামের উপসর্গে যে চার শিশু মারা গেছে, তাদের মধ্যে দুজনের মৃত্যু ঢাকায়। সিলেটে এক ও ময়মনসিংহে এক শিশু মারা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ১ লাখ ২১১ শিশুর, আর হাম শনাক্ত হয়েছে ১১ হাজার ৮৫১ শিশুর। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৩ হাজার ৮০৬ শিশু। আর হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৮০ হাজার ১৯৩ শিশু।
গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৬২ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আর সুস্থ হয়েছে ১ হাজার ৪১ শিশু।
এদিকে, দেশে হামে মৃত্যু শিশুদের ৯২ শতাংশই হাম-রুবেলার (এমআর) কোনো টিকা পায়নি বলে জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের হাম-রুবেলাবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা।
তারা বলছেন, শিশুদের মধ্যে হাম প্রতিরোধক্ষমতার ঘাটতি এবং টিকাদান কার্যক্রমে নজরদারির দুর্বলতার কারণে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। মারা যাওয়া শিশুদের ২৬ শতাংশের বয়স ছিল ৯ মাসের নিচে, অর্থাৎ টিকা নেয়ার নির্ধারিত বয়সের আগেই তারা প্রাণ হারিয়েছে।
নরসিংদীর রায়পুরায় নিখোঁজের চার দিন পরে তাসকিয়া নামে (৭) বছরের এক কন্যাশিশুর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এদিকে, ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় মেলায় ঘুরতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া আট বছর বয়সি শিশু শাহাদাত বেপারীর লাশ তিন দিন পর আড়িয়াল খাঁ নদের পাড়ের একটি কাশবন থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে রায়পুরার পাড়াতলী ইউনিয়নের বালুয়াকান্দি মাঠ থেকে তাসকিয়ার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। তাসকিয়া পাড়াতলী ইউনিয়নের মধ্যনগর গ্রামের মামুন মিয়ার মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে নিখোঁজ হয় তাসকিয়া। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান পায়নি তার পরিবার। এ বিষয়ে রায়পুরা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন তার পরিবার। সোমবার (২৯ জুন) সকালে বালুয়াকান্দি চরে একটি অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পায় স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে তাসকিয়ার পরিবার মরদেহ শনাক্ত করে। পুলিশকে খবর দিলে তারা এসে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
রায়পুরা থানার ওসি মুজিবুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে। তথ্য উপাত্ত সংগ্রহসহ জড়িতদের চিহ্নিত করতে কাজ করছে পুলিশ। আশা করছি দ্রুতই এই শিশুর মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।
মেলায় ঘুরতে গিয়ে নিখোঁজ শিশুর লাশ মিলল কাশবনে
এদিকে, ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় মেলায় ঘুরতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া আট বছর বয়সি শিশু শাহাদাত বেপারীর লাশ তিন দিন পর আড়িয়াল খাঁ নদের পাড়ের একটি কাশবন থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৯ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে সদরপুর উপজেলার চর নাছিরপুর ইউনিয়নের একটি কাশবন থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
শাহাদাত উপজেলার মধ্য চন্দ্রপাড়া গ্রামের রশিদ বেপারীর ছেলে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার মহররম উপলক্ষে চন্দ্রপাড়া দরবার-সংলগ্ন ট্রলারঘাটে আয়োজিত মেলায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে নিখোঁজ হয় শাহাদাত।
পরে স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি ও মাইকিং করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।
অভিযোগ রয়েছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজন এক দোলনা কর্মী ঘটনার তিন দিন পর শাহাদাতের বোন রওশনারার মোবাইল ফোনে কল করে লাশের অবস্থান জানিয়ে পালিয়ে যায়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ওই ফোনকলের ভিত্তিতে তারা আড়িয়াল খাঁ নদের পাড়ের কাশবনে গিয়ে শাহাদাতের লাশ শনাক্ত করেন। পরে খবর পেয়ে সদরপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে।
ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মেলায় থাকা দোলনার মালিকসহ পাঁচ কর্মচারীকে আটক করে মারধর করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের নিজেদের হেফাজতে নেয়। পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) মো. রেজওয়ান দীপু এবং সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আল মামুন শাহ।
ওসি বলেন, ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং পলাতক মূল সন্দেহভাজনকে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে। তদন্তের স্বার্থে সব দিক গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ শেখ শাহরিয়ারের বাবা আব্দুল মতিনের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রথম স্ত্রীর অনুমতি না নিয়ে এবং ছেলের নামে পাওয়া বেসরকারিভাবে বিভিন্ন অনুদানের অর্থে বিয়ে করেছেন আব্দুল মতিন। তবে তার দাবি, নিজের উপার্জনের অর্থেই এবং প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নিয়ে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন।
জানা যায়, ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের কুমড়াশসন গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুল মতিন ও মমতাজ বেগম ২০০৪ সালের ৭ নভেম্বর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। গত বছরের ১৮ জুলাই ঢাকার মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অংশ নিয়ে গুলিবিদ্ধ হন তাদের একমাত্রা ছেলে শাহরিয়ার। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ জুলাই তার মৃত্যু হয়। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পরিবারটি যখন শোকগ্রস্ত, ঠিক তখনই এই দ্বিতীয় বিয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হলো।
স্থানীয় সূত্র ও স্বজনদের দাবি, গত ২৯ মে মোহাম্মদ আব্দুল মতিন সাত লাখ টাকা কাবিন এবং প্রায় সোয়া পাঁচ লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কার দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে সম্পন্ন করেন।
শহীদ শাহরিয়ারের মা মমতাজ বেগম বলেন, সন্তান হারানোর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই আমার স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। আমি কখনই এই বিয়ের অনুমতি দেইনি। সোয়া পাঁচ লাখ টাকার গহনা কেনার মতো আর্থিক সক্ষমতা তার ছিল না। শহীদ ছেলের নামে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পাওয়া অনুদানের অর্থই এ বিয়ে করেছেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার স্বামী শহীদ ছেলের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন জায়গা থেকে অর্থ সংগ্রহ করছেন। এমনকি স্বাক্ষর জাল করে শহীদ পরিবারের জন্য ঘোষিত এককালীন ৩০ লাখ টাকার সরকারি সহায়তা তোলারও চেষ্টা করেছিলেন, যা পরে ব্যর্থ হয়।
মমতাজ বেগম বলেন, আমি ২২ বছর সংসার করেছি। দুই স্ত্রী নিয়ে সংসার চালানোর সামর্থ্য তার নেই। এখন আমার একটাই চাওয়া- আমার মেয়েটা যেন নিরাপদে বড় হতে পারে এবং এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হোক।
অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে মোহাম্মদ আব্দুল মতিন বলেন, আমার মায়ের অনুরোধ এবং বংশ রক্ষার প্রয়োজন থেকেই আমি দ্বিতীয় বিয়ে করেছি। প্রথম স্ত্রীকে জানিয়েই সব করা হয়েছে, এখন তিনি তা অস্বীকার করছেন।
নিজেকে ‘আলফা গ্রুপ’ এর মতিঝিল শাখার সেলস ম্যানেজার দাবি করে তিনি বলেন, নিজের আয়ে বিয়ে করার সক্ষমতা তার রয়েছে এবং ছেলের অনুদানের টাকা ব্যবহারের অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। তবে তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রীর পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি হননি।
এদিকে ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জুলাইযোদ্ধা রুহুল আমিন রিপন বলেন, একজন জুলাই শহীদের বাবার কাছ থেকে এমন আচরণ কেউ প্রত্যাশা করে না। আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী আল নূর আয়াস বলেন, বিষয়টি শুনেছি। একজন শহীদের বাবার এমন সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া কঠিন। তাদের একটি মেয়েও রয়েছে। চাইলে সেই সন্তানকে নিয়েই তিনি সংসার চালিয়ে যেতে পারতেন।
কক্সবাজারের টেকনাফ সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যাওয়া একটি বাংলাদেশি ট্রলারসহ পাঁচ রোহিঙ্গা জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)। গত রোববার (২৮ জুন) সকালে ছেড়া দ্বীপসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
অপহৃত জেলেরা হলেন মোহাম্মদ আইয়ুব (২৪), মোহাম্মদ আজিমুল্লাহ (৩০), সালাম নুর(৩১), আয়ুব আলী (৩৭) এবং ছৈয়দ হোসেন (২৫)। তারা সবাই উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা( ইউএনও) এসএম অনীক চৌধুরী।
স্থানীয় জেলেরা জানান, রোববার (২৮ জুন) দুপুরে প্রতিদিনের মতো টেকনাফের কায়ুকখালী ঘাট থেকে সাবরাং ইউনিয়নের আলীর ডেইল গ্রামের বাসিন্দা আলী আহমদের মালিকানাধীন একটি ট্রলার মাছ ধরার উদ্দেশে সাগরে যান জেলেরা। পরে ট্রলারটি ছেড়া দ্বীপসংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে আরাকান আর্মির সদস্যরা ধাওয়া দিয়ে সেটি আটক করে।
এরপর ট্রলারসহ পাঁচ জেলেকে নিয়ে যান তারা। এসময় আশপাশে থাকা আরো কয়েকটি মাছ ধরার ট্রলার দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে নিরাপদে ফিরে আসে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম অনীক চৌধুরী বলেন, সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী জলসীমার ভেতরে ঢুকে যাওয়ায় আরাকান আর্মি একটি ট্রলারসহ পাঁচ জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়েছি। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তারা সবাই রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা। আটক জেলেদের বিষয়ে বিজিবির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে।
একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (২৯ জুন) রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোকবার্তায় মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানানো হয়।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের চিত্রকলা, পাপেট শিল্প, নাটক ও শিশুতোষ অনুষ্ঠান নির্মাণের অন্যতম প্রধান পথিকৃৎ ছিলেন মুস্তাফা মনোয়ার। তার মৃত্যু দেশের শিল্প ও সংস্কৃতি অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
তিনি বলেন, দেশীয় সংস্কৃতির বিকাশ, শিশুদের জন্য সুস্থ বিনোদন ও সৃজনশীলতা চর্চায় তার অনন্য অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
এদিকে, শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যু দেশের শিল্প ও সংস্কৃতি অঙ্গনে এক বিরাট শূন্যতা সৃষ্টি করেছে, যা সহজে পূরণ করা সম্ভব নয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতি তার অবদানকে সর্বদা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। একইসঙ্গে তার কাজ ও আদর্শ আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মরহুমের আত্মার চিরশান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
সোমবার (২৯ জুন) রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন মুস্তাফা মনোয়ার (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইনি ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯০।
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার রানীশিমুল ইউনিয়নের খারামোরা সীমান্ত এলাকায় মানবপাচারকারী চক্রের মাধ্যমে দুইজনকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করানোর চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সোমবার (২৯ জুন) সকালে ঝিনাইগাতী উপজেলার তাওয়াকুচা বিজিবি ক্যাম্পের আওতাধীন সীমান্ত দিয়ে মানবপাচারকারীরা ওই দুইজন বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। পরবর্তীতে তাওয়াকুচা ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার হাবিলদার মুস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা সকাল ৯টা ২০ মিনিটে সীমান্ত পিলার ১০৯৭-এর পাশ দিয়ে তাদের আবার ভারতের দিকে ফেরত পাঠায়।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, মানবপাচারকারীদের মাধ্যমে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করা ওই দুই ব্যক্তির পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিজেদের যশোরের বাসিন্দা বলে দাবি করলেও কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেনি।
তাওয়াকুচা বিজিবি ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার হাবিলদার মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, সোমবার (২৯ জুন) সকালে সীমান্ত এলাকায় দুইজনকে পাওয়া যায়। আমরা তাদের ভারতের সীমানায় রেখে এসেছি। বর্তমানে তারা ১০৯৭ নম্বর পিলারের পাশে অবস্থান করছে। সীমান্তে মানবপাচারসহ সব ধরনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে আমরা সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছি।
ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি)র অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নুরুল আমিন বায়েজীদ জানান, বিজিবির টহল দলের তাৎক্ষণিক সতর্ক অবস্থান গ্রহণ এবং সীমান্তবর্তী স্থানীয় জনগণের সহযোগিতার ফলে তাদের অনুপ্রবেশের প্রচেষ্টা সফল হয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সংশ্লিষ্ট এলাকায় নজরদারি ও টহল আরও জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও দায়িত্বশীলভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।
শরীয়তপুর জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় একটি চক্রের বিরুদ্ধে ওঠা নানা অনিয়ম, দুর্নীতি আর টাকা হরিলুটের অভিযোগে থমকে গেছে গুরুত্বপূর্ণ শরীয়তপুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের নির্মাণকাজ।
কাগজে-কলমে অবকাঠামো দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা লোপাট, ৫ ইঞ্চির গাছের দাম ৫৬ হাজার টাকা ধরা এবং ক্ষতিপূরণের চেক তুলতে লাখ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার মতো চাঞ্চল্যকর সব তথ্য উঠে এসেছে এই প্রকল্পের পেছনে।
টাকার ঘাটতিতে থমকে আছে প্রকল্প: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার সঙ্গে চট্টগ্রাম অঞ্চলের সহজ যোগাযোগ নিশ্চিত করতে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৮৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই মহাসড়কটি প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেয় সরকার। এর মধ্যে ৪ ফেনের জন্য জমি অধিগ্রহণ বাবদ ৪৩০ কোটি এবং ২ লেনের সড়ক নির্মাণে বাকি ৪৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
২০২১ সালের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও জমি জটিলতায় প্রকল্পের অগ্রগতি মাত্র ১৫ শতাংশ। ইতোমধ্যে বরাদ্দের সব টাকা শেষ হয়ে গেলেও জমি অধিগ্রহণ হয়েছে মাত্র ৫১ শতাংশ (৯৫.৮৫ হেক্টরের মধ্যে ৪৯ হেক্টর)। এখন কাজ চালু করতে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) আরও ৪১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব পাঠিয়েছে মন্ত্রণালয়ে।
দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিনব কৌশল: সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা গেছে, সরকারের স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ আইন ২০১৭-এর তোয়াক্কা না করে অভিনব সব উপায়ে টাকা লুটের উৎসব চলেছে এই প্রকল্পে।
অস্তিত্বহীন ভবনের লাখ লাখ টাকা বিল: জমি অধিগ্রহণের নকশা বা ভিডিওতে যা নেই, তারও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। ভেদরগঞ্জের চরতারবুনিয়া মৌজায় শফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির একতলা ভবনের ওপর কাগজের কলমে ‘দোতলার একাংশ’ দেখিয়ে অন্তত ২০ লাখ টাকা অতিরিক্ত বিল দেওয়া হয়েছে।
গাছের অবিশ্বাস্য মূল্য: ভেদরগঞ্জের পাপরাইল এলাকায় জয়নাল খাঁর বাগানের ৫.৮ ইঞ্চি মোটা একেকটি গাছের মূল্য ধরা হয়েছে ৫৬ হাজার টাকা! অবাস্তব আকৃতির ও অস্তিত্বহীন ২০০টি গাছের জন্য ২৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষতিপূরণ প্রস্তুত করা হয়েছে।
আইন ভেঙে নিজেরাই আপিল নিষ্পত্তি: নিয়ম অনুযায়ী, তালিকায় বাদ পড়া কোনো স্থাপনার আপত্তি থাকলে তা বিভাগীয় কমিশনারের নিষ্পত্তি করার কথা। কিন্তু এলএ শাখা নিজেরাই প্রায় ১২০টি আপত্তি নিষ্পত্তি করে কোটি কোটি টাকা ছাড় করেছে। চরকাশাভোগ এলাকার শাহিদা বেগম নামের এক নারীকে প্রথমে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হলেও পরে জেলা প্রশাসনের শুনানিতে ৪৫ লাখ ৮১ হাজার টাকা দেওয়া হয়। অথচ বর্তমানে সেখানে কোনো ঘরের অস্তিত্বই নেই।
চেক তুলতেও দিতে হয় মোটা অঙ্কের ঘুষ: ক্ষতিপূরণের টাকা তুলতে গিয়ে জেলা প্রশাসনের এলএ শাখার সার্ভেয়ার ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঘুষ দিতে বাধ্য হয়েছেন সাধারণ মানুষ।
দক্ষিণ মধ্যপাড়া এলাকার মনোয়ারা বেগম ও আব্দুল মালেক দম্পতি জানান, তাদের একটি টিনের ঘরের ১৬ লাখ টাকার চেক তুলতে আড়াই লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে।
একই এলাকার নান্নু সরদার ২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পেলেও ভ্যাটের কথা বলে তার কাছ থেকে মোট টাকার ৬ শতাংশ (প্রায় ১৬ লাখ টাকা) কেটে নিয়েছেন এলএ শাখার সার্ভেয়াররা।
যা বলছেন দায়িত্বশীলরা: সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ নাবিল হোসেনের দাবি, মূল ডিপিপিতে (DPP) জমি অধিগ্রহণের টাকা কম ধরা হয়েছিল। জমি বুঝে না পাওয়ায় ঠিকাদার কাজ করতে পারেননি। তবে মাঠপর্যায়ের কোনো অনিয়ম এখন প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাসুদুল আলম দাবি করেন, এসব অনিয়ম আগের কর্মকর্তাদের সময়ে ঘটেছে। বর্তমান জেলা প্রশাসক মিজ তাহসিনা বেগম বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর এলএ শাখা ঢেলে সাজিয়েছি এবং অনেককে বদলি করেছি। আমার জানামতে এখন কেউ পারসেন্টেজ নিচ্ছেন না। সুনির্দিষ্ট প্রমাণসহ অভিযোগ দিলে কাউকে বিন্দু পরিমাণ ছাড় দেওয়া হবে না।’
নড়াইলে দলবল নিয়ে ‘মব’ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু রায়হানকে তাঁর অফিস কক্ষের ভেতরে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। গত রোববার (২৮ জুন) বিকেলে সদর উপজেলা পরিষদের নতুন ভবনে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় লাঞ্ছিত মৎস্য কর্মকর্তা নিজেই বাদী হয়ে ওই দিন রাতে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অভিযুক্ত যুবকের নাম মো. জিসানুর রহমান ওরফে জিসান। তিনি নড়াইল সদর উপজেলার যদুনাথপুর গ্রামের মো. টিপু সুলতানের ছেলে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক যুবক জানান, জিসান এক সময় ছাত্রদলের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তবে বর্তমানে তিনি ওই দলের সাথে জড়িত কি না, তা জানা নেই।
সদর থানায় মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলা পরিষদের নতুন ভবনের তৃতীয় তলায় মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়। অভিযুক্ত জিসান প্রায়শই অফিসে এসে বিভিন্ন গোপনীয় তথ্যাদি দাবি করতেন। অফিসের গোপনীয় তথ্য প্রদানে অস্বীকৃতি জানালে তিনি প্রায়ই অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতেন।
গত রোববার (২৮ জুন) অফিস চলাকালীন বিকেল ৩টার দিকে জিসান ৪/৫ জনকে সাথে নিয়ে মৎস্য কর্মকর্তার অফিসে চড়াও হন। সেখানে তিনি নড়াইল জেলার সকল সুবিধাভোগী সদস্যদের প্রদর্শনীর তালিকা দাবি করেন। নিয়মবহির্ভূতভাবে এই তালিকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে জিসান ও তার সহযোগীরা মৎস্য কর্মকর্তাকে গালিগালাজ ও মারধর করেন। এ সময় তারা অফিসের সরকারি ডেস্কটপ ও মনিটর ভাঙচুর করে ক্ষতিসাধন করেন।
যোগাযোগ করা হলে মো. জিসানুর রহমান তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, আমরা গ্রামের কৃষকদের নিয়ে কাজ করি। তাদের বিভিন্ন সুবিধা-অসুবিধার কারণে প্রায়ই উপজেলা পরিষদে যেতে হয়। কিন্তু মৎস্য কর্মকর্তার কাছে গেলে তিনি কোনো তথ্য দিতে চান না এবং আমাদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। তিনি রাজনৈতিক দলের প্রভাব দেখান, যার প্রমাণ আমার মুঠোফোনে রেকর্ড করা আছে।
জিসান আরও অভিযোগ করেন, আমি ঘটনার সময় ভিডিও করতে গেলে মৎস্য কর্মকর্তা আমার হাত থেকে ফোন কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলেন। এরপর অফিসের কয়েকজন স্টাফসহ তিনি আমাকে মারধর করেন। তিনি কেমন মানুষ, তা অফিসের কর্মচারীদের জিজ্ঞেস করলেই জানতে পারবেন।
এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু রায়হান বলেন, জিসান প্রায়ই অফিসে এসে ঝামেলা করেন এবং বিভিন্ন প্রদর্শনীর বরাদ্দ দেওয়ার জন্য অনৈতিক দাবি জানান। যেকোনো বরাদ্দ একটি কমিটির মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হয়, এককভাবে কোনো বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষমতা আমার নেই। এই বিষয়টি একাধিকবার বুঝিয়ে বলার পরও তিনি দলবল নিয়ে অফিসে এসে ভাঙচুর চালিয়েছেন এবং আমাকে লাঞ্ছিত করেছেন। বাধ্য হয়ে আমি থানায় মামলা করেছি।
নড়াইল সদর থানার ওসি অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, ঘটনাটি জানার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে ঘটনার সাথে জড়িতরা ততক্ষণে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। মৎস্য কর্মকর্তা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
কিশোরগঞ্জ জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১০টি পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা প্রশাসন। মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে নিহতদের প্রত্যেক পরিবারের মাঝে ৫ লক্ষ টাকা করে সর্বমোট ৫০ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শোকার্ত পরিবারগুলোর হাতে এই সহায়তার চেক তুলে দেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এরশাদুল আহমেদ।
চেক বিতরণ শেষে উপস্থিতির উদ্দেশ্যে জেলা প্রশাসক তার বক্তব্যে প্রাপ্ত অর্থের সঠিক ও উৎপাদনশীল সদ্ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি পরিবারগুলোকে কেবল অনুদানের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার আহ্বান জানান।
এই অর্থ অপচয় না করে ফলমূল চাষাবাদ, গবাদি পশু পালন, নারীদের সৃজনশীল কারুশিল্প চর্চা এবং লভ্যাংশভিত্তিক নিরাপদ বিনিয়োগে কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন তিনি। সেই সাথে কর্মদক্ষতা ও আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারের বিভিন্ন যথাযথ প্রশিক্ষণ গ্রহণে সকলকে বিশেষভাবে উদ্বুদ্ধ করেন।
কুমিল্লায় স্কুলছাত্র ইথান আহমেদ গুলিবিদ্ধের আলোচিত ঘটনায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, ছয় রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধারসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে জেলা পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গত বুধবার (২৪ জুন) রাত থেকে কাটাবিল এলাকায় মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ‘অপু গ্রুপ’ ও ‘সাব্বির গ্রুপ’-এর মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে দুই পক্ষের মধ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষ ও গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এ সময় রফিক উদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ও পথচারী ইথান আহমেদ গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়।
ঘটনার পরপরই কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের সরাসরি নির্দেশনায় অপরাধীদের গ্রেফতার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান শুরু হয়। জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে ঘটনার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই কোতোয়ালি থানা এলাকা থেকে মূল অভিযুক্ত জামসেদ হোসেন শ্রাবণ (২২), পিতা- জামাল হোসেনকে একটি বিদেশি পিস্তল ও ছয় রাউন্ড তাজা গুলিসহ গ্রেফতার করা হয়।
পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন— আসিফ (২৬), পিতা- মৃত শাহজাহান মিয়া; আশিক (৩৫), পিতা- মৃত সুলতান; এবং ইমন (১৯), পিতা- ইকবাল। গ্রেফতারকৃতদের সকলের বাড়ি কুমিল্লা কোতোয়ালি থানা এলাকায়।
এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার বলেন, "সমাজের নিরাপত্তা বিঘ্নকারী এবং মাদক ও অস্ত্রের সঙ্গে জড়িত কোনো অপরাধীকে কুমিল্লার মাটিতে ছাড় দেওয়া হবে না। স্কুলছাত্র ইথানের ওপর যারা গুলি চালিয়েছে, তাদের দ্রুততম সময়ে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। অস্ত্র ও মাদক নির্মূলে জেলা পুলিশের কঠোর অবস্থান এবং চিরুনি অভিযান অব্যাহত থাকবে।"
জেলা পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতার এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পিরোজপুরের হুলারহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিশেষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) দুপুর ২:০০ টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরাধীন ‘লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (লেইস)’ প্রজেক্টের আওতায় এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন। তিনি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন বলেন, "জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য ও সবুজ পৃথিবী গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই পরিবেশ সচেতন হতে হবে এবং বাড়িতে অন্তত একটি করে গাছ লাগাতে হবে।" তিনি আরও বলেন, "নিজেকে মাদকমুক্ত রাখতে হবে এবং মোবাইল গেমসের আসক্তি থেকে দূরে থাকতে হবে।"
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুম বিল্লাহর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষিকা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ম্যানেজিং কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বিদ্যালয়ের চারপাশের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। এতে শিক্ষার্থীরা জলবায়ু সচেতনতা বিষয়ক বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার প্রদর্শন করে।
আয়োজকরা জানান, এই প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং গাছ লাগানোর প্রয়োজনীয়তা ছড়িয়ে দেওয়াই মূল লক্ষ্য। অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
সাতক্ষীরার সুন্দরবন সংলগ্ন একটি ব্যস্ত বাজারের হার্ডওয়্যার দোকানের ভেতর থেকে একটি বিশাল আকৃতির অজগর সাপ উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। সোমবার (২৯ জুন) সকাল সাড়ে নয়টায় শ্যামনগর উপজেলার নীলডুমুর বাজার থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় বনবিভাগ ও কমিউনিটি পেট্রোলিং গ্রুপের (সিপিজি) সদস্যরা যৌথ অভিযান চালিয়ে সাপটি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন।
নীলডুমুর বাজারের সংশ্লিষ্ট হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী হারুন ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, প্রতিদিনের মতো সকালে দোকান খোলার পরপরই ভেতরে একটি বড় অজগর সাপ কুণ্ডলী পাকিয়ে থাকতে দেখে তিনি ভয়ে চিৎকার করে ওঠেন। তাঁর চিৎকার শুনে মুহূর্তের মধ্যে আশেপাশের অন্যান্য ব্যবসায়ী ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরবর্তীতে বাজারের লোকজন সাপটিকে ঘিরে রেখে দ্রুত বনবিভাগকে খবর দিলে বনকর্মীরা সিপিজি সদস্য ও স্থানীয়দের সাথে নিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অজগরটি খাঁচাবন্দি করতে সক্ষম হন।
বাজারের স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, নীলডুমুরের মতো একটি জনবহুল ও ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় এত বড় অজগর সাপ এর আগে কখনো দেখা যায়নি। সাপটি ঠিক কীভাবে রাতের আঁধারে দোকানের ভেতরে প্রবেশ করেছে তা নিশ্চিত হওয়া না গেলেও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের ধারণা, তীব্র তাপদাহ ও সুন্দরবনের আশপাশের বনাঞ্চল বা ঝোপঝাড়ে খাদ্যসংকট দেখা দেওয়ায় খাবারের সন্ধানে এটি লোকালয়ে চলে এসেছিল।
নীলডুমুর বনবিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইরফান উদ্দিন সাপটির শারীরিক অবস্থা নিশ্চিত করে জানান, উদ্ধার করা অজগরটি সম্পূর্ণ সুস্থ ও অক্ষত রয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ শেষে এটিকে আজই নিরাপদে সুন্দরবনের গভীর ও উপযোগী প্রাকৃতিক আবাসস্থলে অবমুক্ত করা হবে। এর পাশাপাশি তিনি সাধারণ মানুষকে বন্যপ্রাণী লোকালয়ে চলে এলে আতঙ্কিত না হয়ে কিংবা নিজেরা আইন হাতে তুলে নিয়ে প্রাণীর ক্ষতি না করে, দ্রুততম সময়ে বনবিভাগকে খবর দেওয়ার জন্য বিশেষ আহ্বান জানান।
আকস্মিক এই ঘটনায় বাজারের ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মধ্যে কিছু সময়ের জন্য তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করলেও বনবিভাগের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে আসে।
বাগেরহাটের যুবসমাজকে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের সঙ্গে সংযুক্ত করে কর্মসংস্থান ও টেকসই জীবিকার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে দক্ষতা উন্নয়ন মেলা ।
সোমবার (২৯জুন) সকালে বাগেরহাট সদর উপজেলা হলরুমে বাঁধন মানব উন্নয়ন সংস্থা অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের সহযোগিতায় এবং অ্যাক্টিভিস্টা বাগেরহাট ও অ্যাক্টিভিস্টা রামপালের আয়োজনে এ মেলার আয়োজনে করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিস আতিয়া খাতুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তন্ময় দত্ত, বাগেরহাট টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শংকর কুমার সরকার, বাগেরহাট মেরিন টেকনোলজির অধ্যক্ষ মো. মাজাহারুল হাসান খান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. সোহেল পারভেজ, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মফিজুর রহমান, শহর
সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা নাজমুছ সাকিব, বাগেরহাট প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হেদায়েত হোসেন লিটন এবং সহ-সভাপতি এস এম রাজসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
আয়োজকরা জানান, বাগেরহাট জেলার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যুবক-যুবতী তথ্যের অভাব, আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দুর্বল যোগাযোগের কারণে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে (TVET) অংশগ্রহণ করতে পারেন না। এ বাস্তবতা বিবেচনায় তাদের প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সম্পর্কে সচেতন করতে এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
মেলায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, সমাজসেবা অধিদপ্তর, সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মেরিন একাডেমি এবং মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর পৃথক বুথ স্থাপন করে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কোর্স, ভর্তি প্রক্রিয়া, যোগ্যতা, প্রশিক্ষণের সময়কাল এবং প্রশিক্ষণ-পরবর্তী কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করে। পাশাপাশি বাঁধন মানব উন্নয়ন সংস্থার নিবন্ধন বুথ থেকে আগ্রহী যুবকদের নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা হয় এবং কিউআর কোডের মাধ্যমে সহজে নিবন্ধনের সুযোগ রাখা হয়।
বক্তারা বলেন, দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে যুবসমাজকে কর্মমুখী করে গড়ে তুলতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে যুবদের দক্ষতা বৃদ্ধি,কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং আত্মনির্ভরশীল সমাজ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।