মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

কাউন্টারে নেই বাসের টিকিট, বাইরে মিলছে দ্বিগুণ দামে

ফাইল ছবি
 মীর আনোয়ার আলী, রংপুর
প্রকাশিত
 মীর আনোয়ার আলী, রংপুর
প্রকাশিত : ১৭ এপ্রিল, ২০২৪ ১১:৫১

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমন মিয়া ঈদের ছুটি শেষে ক্যাম্পাসে ফিরবেন। তাই বাসের টিকিটের জন্য সকাল থেকে ঘুরছেন রংপুরে কামারপাড়া ঢাকা কোচ স্ট্যান্ডে। সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেও কোনো টিকিট কাটতে পারেনি। যেখানে গিয়েছেন, সেখানে টিকিটের সংকট দেখানো হয়েছে। বিকেল ৩টার দিকে কাউন্টারের বাইরে এক হাজার ৫০০ টাকায় একটি টিকিট সংগ্রহ হলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়েন।

কামারপাড়া ঢাকা কোচ স্ট্যান্ডে কথা হয় সুমন মিয়ার সঙ্গে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘এমনি সময় ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায় ঢাকায় যাই। আজ দেড় হাজার টাকায় টিকিট কিনতে হলো। ক্লাস পরীক্ষা আছে তাই বাধ্য হয়ে দ্বিগুণ দামে টিকিট কিনলাম। তাও কাউন্টারের বাইরে হাতে হাতে। টিকিট সব সিন্ডিকেটের হাতে চলে গেছে। আমার মতো যাত্রীরা নিরুপায়।’

ঢাকার পোশাক কর্মী মেনহাজুল ইসলাম বলেন, ‘কামারপাড়ার অলিতে-গলিতে দ্বিগুণ দামে টিকিট পাওয়া যাচ্ছে, কিন্তু কাউন্টারে কোনো টিকিট নেই। আপনি এখানে একটু ঘোরাঘুরি করে দেখবেন বাইরে যারা টিকিট বিক্রি করছেন, তারা আপনাকে কোনা গলির চিপায় ডেকে নিয়ে টিকিট দেবেন। এসব দেখার কেউ নেই। ঈদে পরিবার নিয়ে বাড়ি আসতে ও ঢাকা যাইতে সব টাকা শ্যাষ। অথচ এসব দেখার কেউ নেই।’

শুধু বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সুমন মিয়া ও পোশাককর্মী মেনহাজুল ইসলামেই এমন আক্ষেপ নয়; ঈদ ও বৈশাখী ছুটি শেষে ঢাকার কর্মস্থলে ফের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ কাউন্টারে গিয়ে টিকিট না পেয়ে এমন আক্ষেপ করছেন। কাউন্টারগুলোতে টিকিট না পাওয়া গেলেও বাইরে বেশি দামে টিকিট পাওয়া যাচ্ছে। এসব নিয়ন্ত্রণ করছে স্থানীয় একটি কালোবাজারি চক্রসহ বাস মালিক ও শ্রমিকের অভিযোগ যাত্রীদের।

রংপুরে ঢাকার কোচ স্ট্যান্ড কামারপাড়া, মড়ার্ন মোড়, পাগলাপীর ও রংপুর রেলওয়ে স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, যাত্রীরা টিকিটের জন্য উদ্বিগ্ন হয়ে ঘোরাঘুরি করছেন। কাউন্ডারে টিকিট না পেয়ে অনেকে হতাশায় পড়েছেন। অনেকে নির্দিষ্ট সময়ে কর্মস্থলে ফেরা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন।

অন্তত ২০ জন ঢাকাগামী যাত্রীর সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, ট্রেনের টিকিট এখন আলাদিনের চেরাগ পাওয়ার মতো; কিন্তু বাসের টিকিটও যে এমন হবে তারা বুঝতে পারেননি। অনলাইনে ৭ দিন আগের পর্যন্ত কোনো টিকিট নেই। কাউন্টারে গেলে টিকিট নেই, টিকিট নেই বলছে কর্তৃপক্ষ; কিন্তু কাউন্টারের বাইরে দ্বিগুণের বেশি টাকা দিলে টিকিট হাজির হচ্ছে। টিকিট কাউন্টারের লোকজন মিলে এসব কালোবাজারী সিন্ডিকেট তৈরি করেছে।

কামারপাড়ার এনা কাউন্টারের সামনে কথা হয় হারাগাছের একরামুল হকের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘কাউন্টারে টিকিট নেই। টিকিট না পেলে ঢাকায় যাব কি করে। আগামীকাল বুধবার অফিস ধরতে না পারলে চাকরি থাকবে না। তাই যেকোনো মূল্যেই আজ একটি টিকিট জোগাড় করতে হবে। একটি বাসের টিকিট আমার জীবিকার ওপর প্রভাব ফেলেছে।’

জানতে চাইলে এনা ট্রান্সপোর্টের ব্যবস্থাপক রেজাউল করিম রতন বলেন, ‘ঈদে যাত্রীদের চাপ খুব। আর টিকিট আগেই অনেকে অনলাইনে বুকিং করে রেখেছেন, এই কারণে টিকিটের সংকট দেখা দিয়েছে। বাড়তি দামে আমরা টিকিট বিক্রি করছি না।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনা ও শ্যামলী পরিবহনের কয়েকজন সুপারভাইজার জানান, কামারপাড়া বাসস্ট্যান্ডে প্রায় সব কোচের টিকিট সংকট থাকবে ঈদপরবর্তী ১০ দিন পর্যন্ত। এর কারণ স্থানীয় কিছু যুবকদের একটি সিন্ডিকেট আগে থেকেই জনপ্রতি ৬০ থেকে ৭০টি করে টিকিট নামে-বেনামে কিনে রেখেছেন। সেগুলোই এখন চড়া দামে বিক্রি করছেন। এখানে পরিবহন মালিক বা স্টাফদের করার কিছু নেই। বর্তমানে কাউন্টার থেকে যারা টিকিট সংগ্রহ করছেন তারা অধিকাংশ গাড়ির স্টাফ না হলে কাউন্টারের পরিচিত লোক।

মোটরশ্রমিক ফেডারেশন রংপুর মডার্ন শাখার সভাপতি হাবিব বলেন, ‘আগামী শনি-রোববার পর্যন্ত যাত্রীর খুব চাপ থাকবে। আমাদের ভাড়া বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই। বহিরাগত কিছু লোক ভাড়া বেশি নিয়েছিল, প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়েছে।’

বিষয়:

নির্বাচিত

রাজশাহীতে পদ্মায় নৌকাডুবি, ছয়জনকে জীবিত উদ্ধার

* বাবা-ছেলে নিখোঁজ
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 রাজশাহী ব্যুরো

রাজশাহীর পদ্মা নদীতে ইঞ্জিনচালিত একটি নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ছয়জন যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বাবা ও ছেলে নিখোঁজ রয়েছেন। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পদ্মা নদীর মাঝামাঝি স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন- মো. আফছার আলী এবং তার ছেলে মো. জিয়ারুল হক। তাদের বাড়ি শ্যামপুর বালুরঘাট কাটাখালী থানা এলাকায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে রাজশাহীর চর মাজারদিয়া এলাকা থেকে ৮ জন যাত্রী এবং ঝাউগাছ বোঝাই করে ইঞ্জিনচালিত একটি নৌকা লালন শাহ মুক্তমঞ্চের উদ্দেশে রওনা দেয়। নৌকাটি মাঝ নদীতে পৌঁছালে অতিরিক্ত ঢেউয়ের কবলে পড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পানিতে তলিয়ে যায়।

নৌকাটি ডুবতে দেখে পদ্মা গার্ডেন এলাকায় নদীর তীরে অপেক্ষমাণ অন্যান্য নৌকার মাঝি এবং স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা দ্রুত উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। তাদের তাৎক্ষণিক সহায়তায় পানিতে হাবুডুবু খেতে থাকা ৮ যাত্রীর মধ্যে ৬ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে মুহূর্তের মধ্যেই নদীর স্রোতে তলিয়ে যান আফছার আলী ও তার ছেলে জিয়ারুল।

ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিখোঁজ বাবা-ছেলের এবং নৌকার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পদ্মা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে তাদের উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছেন।


নির্বাচিত

জয়নব-উম্মে কুলসুমের নতুন জীবনের পথে অর্থই বাধা

* যমজকে বাঁচাতে সহায়তার আবেদন পরিবারের
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে জন্ম নেওয়া জোড়া লাগা যমজ কন্যাশিশু জয়নব ও উম্মে কুলসুমের নতুন জীবনের স্বপ্ন এখন দারিদ্র্যের জালে আটকে গেছে। বুক থেকে পেট পর্যন্ত একসঙ্গে যুক্ত এই দুই শিশুকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আলাদা করার সম্ভাবনা দেখছেন চিকিৎসকরা। তবে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসার ব্যয় বহনের সামর্থ্য না থাকায় নির্ধারিত সময়েও তাদের ঢাকায় নেওয়া সম্ভব হয়নি। অসচ্ছল পরিবারটি এখন সরকারি সহায়তা ও সমাজের বিত্তবান মানুষের সহযোগিতার অপেক্ষায় দিন গুণছে।

দূর থেকে দেখলে মনে হবে সাধারণ দুই কন্যাশিশু। কিন্তু কাছে গেলেই চোখ আটকে যায়—বুক থেকে পেট পর্যন্ত একসঙ্গে জোড়া লাগানো যমজ বোন জয়নব ও উম্মে কুলসুম। জন্মের পর থেকেই তাদের প্রতিটি নিশ্বাস, প্রতিটি নড়াচড়া যেন একে অপরের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে। একজন কাঁদলে অন্যজনও কেঁদে ওঠে, একজন নড়লে অন্যজনও ব্যথায় কুঁকড়ে যায়।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের বিলগাথুয়া গ্রামের বাসিন্দা নাহিদ হাসান ও সানজিদা আক্তার দম্পতির ঘরে গত ৪ মে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্ম হয় এই বিরল যমজ শিশুর।

পরিবারের সদস্যরা জানান, চিকিৎসকরা আশা দিয়েছেন অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশু দুটিকে আলাদা করা সম্ভব হতে পারে। তবে তার আগে প্রয়োজন একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং নিয়মিত চিকিৎসা। জন্মের তিন মাস পর আবার ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও চরম আর্থিক সংকটের কারণে এখনো সেখানে যেতে পারেনি পরিবারটি।

শিশুদের বাবা নাহিদ হাসান একসময় রাজধানীতে পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। বর্তমানে তিনি স্থানীয় একটি দোকানে কর্মচারী হিসেবে কর্মরত। মাসে মাত্র ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা আয়ে কোনোমতে সংসার চালাতে হয় তাকে। এরই মধ্যে শিশুদের দুধ, ওষুধ ও চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে ঋণের বোঝাও বেড়েছে।

মা সানজিদা আক্তার বলেন, ‘ওদের আলাদাভাবে কোলে নেওয়া যায় না। একজন একটু নড়লেই অন্যজন কষ্ট পায়। চিকিৎসার জন্য নিয়মিত ঢাকায় যেতে হবে; কিন্তু যাতায়াত ও পরীক্ষার খরচ জোগানোর সামর্থ্য আমাদের নেই।’

স্থানীয় চিকিৎসকদের মতে, জোড়া লাগা যমজ শিশু জন্ম নেওয়া অত্যন্ত বিরল একটি জন্মগত অবস্থা। আধুনিক চিকিৎসায় সফল অস্ত্রোপচারের সম্ভাবনা থাকলেও এর জন্য দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি, অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদল এবং উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রয়োজন।

দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন বলেন, ‘চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত পরবর্তী চিকিৎসা শুরু করা জরুরি। যথা সময়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে থাকলে শিশু দুটির চিকিৎসার সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হবে।’

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিন্দ্য গুহ জানান, ‘শিশু দুটির চিকিৎসায় উপজেলা সমাজসেবা দপ্তরের মাধ্যমে দ্রুত আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়েও আমরা কাজ করছি।’

দারিদ্র্যের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করা এই পরিবারের এখন একটাই স্বপ্ন—জয়নব ও উম্মে কুলসুম একদিন আলাদা দুটি স্বাভাবিক জীবন পাবে। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের সহযোগিতাই হতে পারে তাদের নতুন জীবনের সবচেয়ে বড় আশার আলো।


নির্বাচিত

অষ্টগ্রামে ‘দুর্নীতিবিরোধী বিতর্ক’ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
​অষ্টগ্রাম (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারুণ্যের ঐক্য, গড়বে আগামীর শুদ্ধতা’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘দুর্নীতিবিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ-২০২৬’। দুর্নীতি দমন কমিশন, জেলা কার্যালয়, কিশোরগঞ্জ ও উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি, অষ্টগ্রামের আয়োজনে ও সহযোগিতায় এই কর্মসূচি পালিত হয়।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে অষ্টগ্রাম বালিকা উচ্চবিদ্যালয় মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও মডারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহ মোহাম্মদ মহিবুল্লাহ।

​অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশন, কিশোরগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ সোহেল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রুকুনুজ্জামান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. শাহজাহান সিরাজ, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আশরাফ আলী, সহকারী প্রোগ্রামার আনোয়ার পারভেজ, একাডেমিক সুপারভাইজার আবদুল লতিফ।

​উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মো. আনোয়ার উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম সাগর।

​বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের দুর্নীতিবিরোধী চেতনায় উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি সততা ও নিষ্ঠার সাথে দেশ গড়ার আহ্বান জানান বক্তারা। অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।


নির্বাচিত

কামারখাল পরিষ্কারে এক সপ্তাহের মধ্যে দৃশ্যমান কাজ হবে: সুনামগঞ্জ পৌর প্রশাসক

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জ পৌর শহরের কালীবাড়ি এলাকায় সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের পেছনে কামারখাল দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনায় ভরে থাকায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। খালের বিভিন্ন অংশে ময়লা জমে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে খালের পাশের স্থানটি অনেকে মূত্র ত্যাগের জায়গা হিসেবে ব্যবহার করায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। এতে এলাকাজুড়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কামারখালের বিভিন্ন অংশে দীর্ঘদিনের জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পড়ে রয়েছে। কোথাও কোথাও পানিপ্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। খালের পাশে ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। পাশাপাশি খালের পাড়ে পথচারীদের মূত্র ত্যাগের কারণে পরিবেশ আরও নোংরা হয়ে উঠেছে। এতে মশা-মাছির উপদ্রবও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে কামারখাল পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক ও পৌরসভার প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ সময় তারা খালের বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন এবং দ্রুত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক করার বিষয়ে আলোচনা করেন।

পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, ‘আমরা প্রতিদিনই এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করি। এখানে আমাদের ঐতিহ্যবাহী একটি পুরোনো খাল রয়েছে। মানুষ যথেচ্ছভাবে এখানে ময়লা ফেলছে। এতে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। আমার কাছে মনে হচ্ছে, এটি রোগ-জীবাণুর একটি উৎস হয়ে উঠেছে।’

সুনামগঞ্জ জনউদ্যোগের নেতারা বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমরা প্রশাসনকে পৌর নাগরিকদের সমস্যাগুলো লিখিত ও মৌখিকভাবে জানিয়েছি। সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পৌর প্রশাসন এ বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। আমরা সাধুবাদ জানাই। তা ছাড়া খালের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য ওয়াকওয়ে নির্মাণ এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। আমরা আশা করি, জেলা প্রশাসন ও পৌর প্রশাসন এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। পাশাপাশি পৌরসভার ড্রেন সমস্যার সমাধান, নিয়মিত ডাস্টবিন পরিষ্কার, ফুটপাত দখলমুক্ত করা, যানজট নিরসন, ল্যাম্পপোস্টের বাতিগুলো নিয়মিত সচল রাখাসহ আরও যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো নিয়েও কাজ করবেন।’

পরিদর্শনকালে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মতিউর রহমান এবং পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম কয়েস উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

মানিকগঞ্জে স্কুলছাত্র সোহান হত্যায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আজিজুল হাকিম, মানিকগঞ্জ

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার স্কুলছাত্র সোহান মিয়া হত্যা মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অন্য একটি ধারায় তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

মৃঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এসকেএম তোফায়েল হোসেন একজন আসামির উপস্থিতে এই রায় প্রদান করেন। মামলার অপর শিশু আসামির বিচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

দণ্ডিতরা হলেন, হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার দক্ষিণ দেওগাঁও এলাকার হারুন অর রশিদের ছেলে আউয়াল মিয়া এবং বরিশাল সদর উপজেলার সারসী এলাকার নুরু মুন্সির ছেলে সাগর মুন্সি।

নিহত সোহান মিয়া সিংগাইর উপজেলার ফোর্ডনগর মোল্লাপাড়া এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে। সে স্থানীয় বিআরসি উচ্চবিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

এজহারপত্রে জানান, ২০২১ সালের ১৯ জুলাই দুপুরে হ্যালোবাইক চালাতে গিয়ে নিখোঁজ হয় স্কুলছাত্র সোহান মিয়া। এরপর বিকেলে খাসেরচর-ধল্লা বাজারের মধ্যবর্তী রাস্তার পাশ থেকে সোহান মিয়ার গলা কাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে এ ঘটনায় নিহতের মা লাইলী বেগম বাদি হয়ে সিংগাইর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এরপর পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করেন।

সিংগাইর থানার তদন্তকারী অফিসার ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আবুল কালাম তদন্ত শেষে তিনজনকে অভিযুক্ত করে ২০২১ সালের ৩০ জুলাই আদালতে চার্জশিট দালিখ করেন। এরপর মামলায় উভয়পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক ও ১৯ জনের সাক্ষগ্রহণ শেষে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে আসামি আউয়াল মিয়ার উপস্থিতিতে মামলায় পৃথক দুটি ধারায় আউয়াল মিয়া ও সাগর মুন্সিকে মৃত্যুদণ্ড একই সঙ্গে প্রত্যেক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়া মামলার অপর একটি ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অনাদায়ে আরও দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আফম নূরতার আলম বাহার সন্তোষ প্রকাশ করলেও আসামি পক্ষের আইনজীবীদের কোনো মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।


নির্বাচিত

সেচ সংকটে নিয়ামতপুরের বোরো আবাদ নিয়ে শঙ্কা

* ক্ষতির মুখে কৃষক, দ্রুত তদন্তের দাবি
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার চন্দননগর ইউনিয়নের চিনোড়া মৌজায় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) দুটি গভীর নলকূপ (এসটিডব্লিউ) প্রকল্পকে ঘিরে প্রায় এক দশক ধরে চলমান বিরোধে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন হাজারো কৃষক। স্থানীয়দের অভিযোগ, একই এলাকায় দুটি সেচ প্রকল্প চালুর পর থেকেই সৃষ্টি হয়েছে জটিলতা। এর প্রভাব পড়ছে কৃষি উৎপাদনে। সময়মতো সেচ না পাওয়ায় অনেক জমিতে ব্যাহত হচ্ছে ইরি-বোরো ধানের আবাদ। দ্রুত তদন্ত করে বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা।

বরেন্দ্র অধ্যুষিত নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার প্রত্যন্ত চিনোড়া গ্রামের অধিকাংশ মানুষের জীবন-জীবিকা কৃষিকে ঘিরেই। কিন্তু এই অঞ্চলে শুষ্ক মৌসুমে কৃষিকাজ পুরোপুরি নির্ভর করে বিএমডিএর গভীর নলকূপের সেচের ওপর।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. অলিউল্লাহ ২০০৯ সালে সব ধরনের সরকারি অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চিনোড়া মৌজায় একটি গভীর নলকূপ স্থাপন করেন এবং নিয়মিত সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। তবে তার অভিযোগ, ২০১৯ সালে একই এলাকায় বিদ্যমান সেচ স্কিমের নির্ধারিত দূরত্বের বিধিমালা অনুসরণ না করেই আরেকটি গভীর নলকূপ স্থাপন করেন সাধন বর্মন নামের আরেক ব্যক্তি। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। সামনেই ইরি-বোরো মৌসুম। সময়মতো সেচ নিশ্চিত না হলে ক্ষতির মুখে পড়বে হাজারো কৃষক, কমে যেতে পারে কৃষি উৎপাদনও। তাই নতুন মৌসুম শুরুর আগেই সরেজমিন তদন্ত করে দীর্ঘদিনের এই বিরোধের স্থায়ী সমাধান এবং নিরবচ্ছিন্ন সেচসেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকার কৃষকরা।

ভুক্তভোগী কৃষক মো. অলিউল্লাহ বলেন, এ নিয়ে একাধিকবার উপজেলা সেচ কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করলেও কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বিরোধে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে একপর্যায়ে নিজের সেচ কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছি। দ্রুত বিষয়টির সুরাহার দাবি জানাচ্ছি।

এদিকে স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, দুই পক্ষের বিরোধের খেসারত দিতে হচ্ছে তাদের। প্রয়োজনের সময় পর্যাপ্ত সেচ না পাওয়ায় অনেক জমি অনাবাদি থেকে যাচ্ছে, আবার কোথাও ব্যাহত হচ্ছে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন।

রেজাউল করিম ও আরিফুজ্জামান নামের স্থানীয় দুই কৃষক বলেন, আসন্ন ইরি-বোরো মৌসুমকে সামনে রেখে নতুন করে দেখা দিয়েছে দুশ্চিন্তা। দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিধিমালা অনুযায়ী বৈধ ও অবৈধ প্রকল্প যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

অভিযুক্ত সাধন বর্তন বলেন, নিয়ম মেনেই নলকূপ স্থাপন করেছি। নিজের বাড়ির ভিতরে নলকূপ স্থাপন করার বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো সুনিদিষ্ট উত্তর দিতে পারেননি।

বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) নিয়ামতপুর জোনের সহকারী প্রকৌশলী মো. তারিক আজিজ বলেন, কোনো ধরনের বিরোধ নয় বিধিমালা অনুযায়ী পরিচালিত বৈধ সেচ প্রকল্প থেকেই যেন ন্যায্যমূল্যে নিরবচ্ছিন্ন সেচসেবা নিশ্চিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিয়ামতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. মুর্শিদা খাতুন বলেন, যদি কোনো সেচ প্রকল্প বিধিমালা লঙ্ঘন করে অনুমোদন পেয়ে থাকে, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে বিধি অনুযায়ী অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগ পেয়েছি বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


নির্বাচিত

প্রশাসনিক কাজের ফাঁকেও চিকিৎসা দিচ্ছেন বোদার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মিজানুর রহমান, পঞ্চগড়

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোঃ লুৎফুল কবির প্রশাসনিক কাজের ফাঁকেও নিরলসভাবে চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন। তার কাছে চিকিৎসা পেয়ে বেজায় খুসি রোগীরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ লুৎফুল কবির এর প্রশাসনিক চেম্বারে সারিবদ্ধভাবে পুরুষ ও মহিলা দেখা যায় তারা চিকিৎসার উদ্দেশ্যে দাঁড়িয়ে রয়েছেন, এবং একজন একজন করে চিকিৎসা সেবা নিয়ে বের হচ্ছেন। দিনের বেলা ইনডোরের চিকিৎসা সেবা দেন আরএমও ডাঃ জাহিদ হাসান। ডা. মোঃ লুৎফুল কবির রাতে নিয়মিত ইনডোরের রোগী দেখেন। তিনি দিনের বেলাও প্রশাসনিক চেম্বারে রোগী দেখেন। আউটডোরের টিকিট কেটে চিকিৎসা সেবা নেন রোগীরা।

কয়েকজন রোগীর সাথে কথা বললে জানা যায় ২৪ ঘণ্টায় জরুরি সেবা চালু রয়েছে তারপরও জরুরি সেবা চিকিৎসা না নিয়ে পছন্দের চিকিৎসক ডাঃ মোঃ লুৎফুল কবির এর কাছে পরামর্শ ও চিকিৎসা নিতে ছুটে আসি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ লুৎফুল কবির এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, বোদা উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসার মান উন্নত করার জন্য প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকি, তারা ভালো চিকিৎসা পাওয়ার কারণে পরবর্তীতে চিকিৎসা ও পরামর্শ নিতে আসে আমার কাছে।


নির্বাচিত

রাবিপ্রবির নতুন প্রো-ভিসি চবি অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাঙামাটি প্রতিনিধি

রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্র বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) যোগদান করেছেন।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী রাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে নবনিযুক্ত প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলামকে ফুল দিয়ে স্বাগত ও অভিনন্দন জানান।

এ ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য শিক্ষক, প্রক্টর, হল প্রভোস্ট, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন এবং ফুলের তোড়া দিয়ে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর মহোদয়কে অভিনন্দন জানান।

এ সময় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজগুলো সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে সহযোগিতা কামনা করেন এবং রাবিপ্রবির সার্বিক বিষয়াদি অবহিত হন।

তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক সমৃদ্ধি ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করার আশা ব্যক্ত করেন। অতঃপর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেন।

প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সমুদ্র বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট’ থেকে ‘মেরিন বায়োডাইভার্সিটি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট’ বিষয়ে গবেষণা করে ২০১২ ‍সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ১৯৯৭ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সমুদ্র বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট’ এর ‘সমুদ্র বিজ্ঞান’ (মেরিন সায়েন্স) বিভাগ থেকে এম.এস.সি (স্নাতকোত্তর) এবং ১৯৯৬ সালে বি.এস.সি (সম্মান) সম্পন্ন করেন।

তিনি ২০০৪ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সমুদ্র বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট’ এ লেকচারার হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে শিক্ষকতা পেশায় নিযুক্ত হন।

গত সোমবার (২৭ জুলাই) রাতে রাবিপ্রবির চ্যান্সেলর ও রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন সহকারী সচিব মো. শাহ আলম সিরাজ।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে ‘রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০১’-এর ১২ (১) ধারা অনুযায়ী অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলামকে প্রো-ভিসি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি চ্যান্সেলরের আদেশে ৫ শর্তে প্রো-ভিসি পদে দায়িত্ব পালন করবেন। আগামী চার বছরের জন্য তাকে এই দায়িত্বে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।


নির্বাচিত

ঝালকাঠিতে ওয়ালটন থেকে সুরক্ষা সহায়তা পেল মৃত পরিবার

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
হাসনাইন তালুকদার দিবস, ঝালকাঠি

ঝালকাঠিতে ওয়ালটনের কিস্তি ক্রেতা সুরক্ষা কার্ডধারী পশ্চিম ঝালকাঠি এলাকার মৃত ইমরান হোসেনের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সুবিধা প্রদান করেছে দেশের সর্বৃবহৎ ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক্স ও প্রযুক্তি পণ্য বিক্রয় এবং সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘ওয়ালটন প্লাজা’। গত সোমবার বিকালে ঝালকাঠি সদর ব্রাঞ্চে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত ইমরান হোসেনের স্ত্রী রুবীনা আক্তারের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেন অনুষ্ঠানের আমন্ত্রিত অতিথি স্যংঙ্গুইন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা মো. শাহীন খলিফা, ওয়ালটনের ডিভিশনাল ক্রেডিট ম্যানেজার মো. আবু রায়হান ও পিরোজপুর জেলার রিজিওনাল ক্রেডিট ম্যানেজার মো. আরাফাত হোসেন।

এ সময় ওয়ালটন প্লাজা ঝালকাঠি সদর ব্রাঞ্চের ম্যনেজার মো. সাজ্জাদুর রহমান এবং কাউখালী ব্রাঞ্চের ম্যানেজার ইয়ামিন আহম্মেদসহ প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য স্টাফ ও নিহতের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।

ওয়ালটন প্লাজা থেকে দেয়া তথ্য বলছে, পশ্চিম ঝালকাঠি গাউসুল আজম সড়ক এলাকার ২৪ বছর বয়সি ইমরান হোসেন ওয়ালটন প্লাজা থেকে গত বছরের ২০ নভেম্বর ৩১ হাজার টাকা মূল্যের একটি ফ্রিজ কিস্তিতে ক্রয় কোম্পানির কিস্তি সুরক্ষা কার্ড গ্রহণ করেন।

প্রথমে সাড়ে ৬ হাজার টাকা ডাউনপেমেন্ট দিয়ে পরবর্তীতে নিয়ম অনুযায়ী সাত মাস কিস্তি পরিশোধ করে শেষ কিস্তিসহ সাড়ে ৬ হাজার টাকা বকেয়া রেখে চলতি বছরের ২১ জুন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন ইমরান হোসেন।

তবে মৃত ইমরান কোম্পানির কিস্তি সুরক্ষা কার্ডধারী হওয়ায় তার পরিবারকে গুনতে হয়নি বকেয়া টাকা। মৃত গ্রাহকের পরিবারদের সমুদয় বকেয়া কিস্তির টাকা মওকুফ করে আরও ৪৩ হাজার ২৪৫ টাকা নগদ দেওয়া হয় কিস্তি সুরক্ষা কার্ডধারী পরিবারটিকে।

ওয়ালটন প্লাজা থেকে কিস্তি সুরক্ষার আর্থিক সুবিধা পাওয়া রুবিনা আক্তার বলেন, ‘স্বামীর মৃত্যুর পর এই পাওয়া তার খেটে খাওয়া জীবনের জন্য অনেক বড় ঘটনা।’

ওয়ালটনের ডিভিশনাল ক্রেডিট ম্যানেজার মো. আবু রায়হান বলেন, ‘এই সুরক্ষা নীতির আওতায় দেশের যেকোনো ওয়ালটন প্লাজা থেকে কিস্তিতে পণ্য ক্রয়কারীদের কিস্তি সুরক্ষা কার্ড প্রদান করা হয়। ক্রয়কৃত পণ্যমূল্যের ভিত্তিতে কিস্তি চলমান থাকা অবস্থায় ক্রেতার মৃত্যু হলে ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ এবং তার পরিবারের কোনো সদস্য মৃত্যুবরণ করলে ২৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা ছাড়াও সুরক্ষা কার্ডধারীর মৃত্যুকালীন সময়ে সংশ্লিষ্ট পণ্যের অনাদায়ী কিস্তির টাকাও মওকুফ করে দিচ্ছে।


নির্বাচিত

খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভিসি অধ্যাপক আসাদুজ্জামান সরকার

খুকৃবির নতুন ভিসি অধ্যাপক আসাদুজ্জামান সরকার। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা প্রতিনিধি

খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুকৃবি) নতুন ভিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি সম্প্রসারণ শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকার।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের অনুমোদনক্রমে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১৫-এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকারকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, তিনি যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর অথবা অবসর গ্রহণের তারিখ যেটি আগে হবে, সে সময় পর্যন্ত উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করবেন।

এ ছাড়া তিনি বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা পাবেন এবং বিধি অনুযায়ী পদসংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তাঁকে সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রয়োজন হলে রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।

জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে পৃথক প্রজ্ঞাপনে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক উপাচার্য ড. মো. নাজমুল আহসানকে অব্যাহতি দেওয়ার তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবরের প্রজ্ঞাপনের (ঙ) নম্বর শর্তানুসারে এবং খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১৫ এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী তাকে উক্ত পদ হতে অব্যাহতি দেওয়া হলো। একইসঙ্গে তাকে তার মূল পদ—খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক হিসেবে পুনরায় যোগদানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।


নির্বাচিত

দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি ও সমন্বয়ে পিরোজপুরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২৮ জুলাই, ২০২৬ ১৬:০১
​পিরোজপুর প্রতিনিধি

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে পিরোজপুরে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‎​সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ১০:০০ ঘটিকায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ‘শহীদ আব্দুর রাজ্জাক-সাইফ মিজান স্মৃতি’ সভাকক্ষে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

‎​সভায় সভাপতিত্ব করেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাঈদ।

‎​সভায় জেলার সার্বিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম পূর্বপ্রস্তুতি, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার জনগণকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তর, সাইক্লোন শেল্টার বা আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর ব্যবহারোপযোগিতা নিশ্চিতকরণ, পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুত ও সুষম বণ্টন এবং জরুরি সেবার প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। একই সাথে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধার কার্যক্রম দ্রুত ও মসৃণ করতে সকল দপ্তরের মধ্যে নিবিড় সমন্বয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়।

‎​সভাপতি ও জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, "দুর্যোগের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার কোনো বিকল্প নেই।" তিনি দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির আওতাধীন সকল দপ্তরকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন।

‎​সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকবৃন্দ, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানগণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিবৃন্দ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রতিনিধিসহ জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সম্মানিত সদস্যবৃন্দ।

‎​সভায় উপস্থিত সকল সদস্য জনগণের জানমাল রক্ষায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ, তথ্য আদান-প্রদান ব্যবস্থা সচল রাখা এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিটি দপ্তরকে সর্বদা সজাগ ও প্রস্তুত থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন


নির্বাচিত

সমন্বিত প্রচেষ্টায় নিরাপদ ও বাসযোগ্য খুলনা নগরী গড়ে তোলা হবে: কেসিসি প্রশাসক মঞ্জু

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা প্রতিনিধি

বাংলাদেশ সোসাইটি অফ মেডিসিন এবং খুলনা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের উদ্যোগে ‘ডেঙ্গুর বর্তমান পরিস্থিতি ও হালনাগাদ ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক সেমিনার মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

প্রধান অতিথি বলেন, সর্বশক্তি নিয়োগ করে সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য খুলনা মহানগরী গড়ে তোলা হবে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে রোগীদের ব্যবস্থাপত্র প্রদান, প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ এবং মশক নিধন কার্যক্রম ইতোমধ্যে জোরদার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের জন্য প্রতিদিন দুই দফায় কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য, কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে রোগীর সংখ্যা কমিয়ে আনা, যাতে হাসপাতালে রোগীর চাপ কম থাকে।

জলাবদ্ধতা নিরসনের বিষয়টিকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে প্রশাসক বলেন, এ সমস্যা সমাধানে আমরা ধারাবাহিকভাবে কাজ করছি এবং ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছি। ডেঙ্গু মোকাবিলায় আগামীকাল থেকে নতুন উদ্যমে এবং দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বাংলাদেশ সোসাইটি অফ মেডিসিন খুলনা শাখার আহবায়ক প্রফেসর ডা. পরিতোশ কুমার রায়ের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. গোলাম মাসুদ, মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক ডা. কাজী আইনুল ইসলাম, খুলনা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সৈয়দ আমানুল ইসলাম ও হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সুজাত আহমেদ। স্বাগত বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ সোসাইটি অফ মেডিসিন খুলনা শাখার সদস্য সচিব ও সহযোগী অধ্যাপক (মেডিসিন) ডা. শেখ মোয়াজ্জেম হোসেন।

ডেঙ্গু বিষয়ক কী-নোট পেপার উপস্থাপন করেন খুলনা মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক (মেডিসিন) ডা. মো: নজরুল ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো: নাজমুল কবির ও ডা. মোহাম্মদ কবীর উল ইসলাম। ধন্যবাদ জানান অপসোনিন ফার্মা লি. এর ডেপুটি সেলস ম্যানেজার অসিম কুমার ভৌমিক।


নির্বাচিত

নির্দোষ হয়েও আমি অপরাধী: আদালত চত্বরে আইভী

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
এম এস ডালিম, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় দায়ের করা পুলিশের গাড়ি বহরে হামলার মামলায় আদালতে হাজিরা দিয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হুদা চৌধুরীর আদালতে তিনি হাজিরা দেন।

আদালতে হাজিরা শেষে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, নির্দোষ হয়েও আমি অপরাধী। নারায়ণগঞ্জে আমি সব সময় প্রতিবাদ করেছি হত্যা, অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে- আর আজকে আমি-ই কী অপরাধী? এটার বিচারে আমার আল্লাহ আছেন, নারায়ণগঞ্জবাসী আছেন- তারা দেখবেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কোট পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সালাম বলেন, সদর থানার একটি মামলায় সেলিনা হায়াৎ আইভীর হাজিরার নির্ধারিত তারিখ ছিল। সেই মামলায় তিনি আজ আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। এই মামলায় তিনি ইতোমধ্যে জামিনে রয়েছেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন বলেন, পুলিশের গাড়ি বহরে করা হামলার মামলায় ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী হাইকোর্ট থেকে ইতিমধ্যে জামিন পেলে তা চেম্বার কোর্টে যায়। সেখানে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের আপিল বিভাগে জামিনের রুল নিষ্পত্তি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আজকে ওনার হাজিরা ছিল। যেহেতু উনি দীর্ঘদিন কারাবাসী ছিলেন, শারীরিক অসুস্থ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক দিক বিবেচনা করে আসামির পরিবর্তে আইনজীবী হাজিরা প্রদান করবে এই মর্মে গত তারিখে আদালতে দরখাস্ত দাখিল করা হয়। আজ শুনানি শেষে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আমাদের সেই আবেদন মঞ্জুর করেছেন। ফলে আগামীতে আসামির পরিবর্তে তার আইনজীবীরা হাজিরা প্রদান করবে। যতদিন পর্যন্ত মামলাটি বিচারের জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতে না নেওয়া হয় ততদিন পর্যন্ত আসামির পরিবর্তে আইনজীবীরা হাজিরা প্রদান করতে পারবে।

এর আগে গত বছরের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগের নিজ বাসা থেকে আইভীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়ি বহরে হামলা হয়। সেই ঘটনায় মামলা হলে আইভীকে আসামি করা হয়।

পরে তাঁকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ঘটনায় হওয়া তিনটি হত্যা মামলা ও দুটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে দফায় দফায় মোট ১২টি মামলায় আইভীকে গ্রেফতার দেখানো হয়। আর এসব মামলায় তিনি দীর্ঘদিন কারাভোগ করার পর গত ৩ জুন তিনি জামিনে কারামুক্ত হন।


নির্বাচিত

banner close